Feeds:
Posts
Comments

Archive for February, 2014

সকালবেলা ৫৭


সকালবেলা ৫৭

লিখিত ভাবেই বিজ্ঞজনেরা বলতে শুরু করেছেন ভারত ভাগ ঠিক ছিল কি ছিলনা। বাংলাদেশের বেশ কিছু জ্ঞানী মানুষ যাদের মা বাপ বা দাদারা ৪৭ সালে ভারত ছেড়ে পাকিস্তান এসেছেন। তরুণ প্রজন্মের বেশ কিছু বন্ধু ওই মোহাজেরদের অনুসারী। এরা মনে করেন ভারত ভাগ ভুল ছিল।
আমার ভারত ত্যাগী বন্ধুরা ৪৭ সালে কেন পাকিস্তান এসেছিলেন? সে বিষয়টা তাদের স্পষ্ট করা দরকার। কি এমন পরিস্থিতি ছিল যে তাদের বা তাদের বাপ দাদাদের ভারত ত্যাগ করতে হয়েছিল। যাঁরা স্কুলের ছাত্র হিসাবে এসেছিলেন তাঁরা এখানে মোহাজের হিসাবে সরকারের নানা ধরনের সুবিধা নিয়েছেন। উচ্চ শিক্ষিত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে সম্মানের সাথে শিক্ষকতা করছেন। ইতোমধ্যে বেশ নাম ধাম কামিয়েছেন। জাতিকে বুদ্ধি পরামর্শ দিচ্ছেন। ভারত থেকে পদ্মভূষণ সম্মাননা আনছেন। বাংলাদেশর একুশে , স্বাধীনতা ও একাডেমী পদক আর তাদের ভাল লাগছেনা । কিছু জ্ঞান পাপী আছেন,যাঁরা নিজেদের অবস্থান কখনই খোলাসা করে বলেন না। এরা একেবারেই সুবিধাবাদী। ৭১এ কোলকাতা বা অন্য জায়গায় গিয়ে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে ছিলেন। কেউ কেউ ভারত সরকার বা মুজিব নগর সরকারের ভাতা নিয়েছেন। ১৬ই ডিসেম্বরের পর বাংলাদেশে ফিরে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা আদায় করেছেন। এদের এখন বাড়ি গাড়ি ধন সম্পদ আছে। সাথে আছে নানা ধরনের পদক। সুযোগ পেলে এরা এখনও ভারতে পালিয়ে যায়। আবার সুযোগ পেলে বীর হয়ে বাংলাদেশে ফিরে এসে নানা বাহানা তৈরি করে।
৪৭ এর আগে ভারতে মুসলমানদের অবস্থা কেন ছিল তার উপর বহু বই আছে। তরয়ণ সমাজ সে গুলো পড়েনা। মা বাপের কাছ থেকেও জানতে চায়না। মা বাপকে সাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ মনে করে। আজকের যে বাংলাদেশ তরুণরা দেখছে তা যে তাদের বাপ দাদারা প্রতিষ্ঠা করেছে তা এখন আর স্বীকার করতে চায়না। তরুণদের ভিতর আরেকটি বিষয় লক্ষ্য করেছি,তা হলো মুসলমানদের কথা বললেই সাম্প্রদায়িক বলে গালাগাল দেয়া হয়। মানে নিজের স্বার্থের কথা বললেই সাম্প্রদায়িক। এমন কি ইতিহাসের সত্য উপাদান উল্লেখ করলেও সাম্প্রদায়িক বলা হয়। তাহলে আমাদের নতুনরা কাদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করছে?
পশ্চিম বাংলায় মুসলমানের সংখ্যা ৩০ ভাগের মতো। কিন্তু সরকারী চাকুরীতে মুসলমানদের অবস্থান এক ভাগেরও নীচে। সারা ভারতে মুসলমানের সংখ্যা ২০ ভাগের মতো । কিন্তু সরকারী চাকুরীতে মুসলমানদের অবস্থান নাই বললেই চলে। বাংলাদেশে হিন্দুদের সংখ্যা ১০ ভাগের ও কম। চাকুরীতে তাদের অবস্থান ২০ ভাগের বেশী। বাংলাদেশে ৫ লাখের মতো ভারতীয় চাকুরী করে। এরা বছরে তিন বিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশী অর্থ ভারতে পাঠায়।
যদি ৪৭ সালের ভারত ভাগ ভুল হয়ে থাকে তাহলেতো স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্বই থাকেনা। ৭১ সালেতো আমাদের ভারত ভুক্ত হয় যাওয়ার কথা। কিন্তি ভারত চক্ষু লজ্জায় এ কাজটি করেনি বা বিশ্ব মতামতের কথা ভেবে এ পথে এগোয়নি। বাংলাদশ নাম মাত্র স্বাধীন থাকাতে ভারতের লাভ সীমাহীন। বিগত ৪৩ বছরে ভারত বাংলাদেশ থেকে যে সুযোগ সুবিধা বা মুনাফা পেয়েছে তা ২৩ বছরে পায়নি। আমিতো মনে করি ভারতপন্থী বুদ্ধিজীবীরা চাইলেও ভারত বাংলাদেশকে তার মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করবেনা। তাতে তার ঝামেলা বাড়বে। ভারতের সীমাহীন শোষণের পরেও স্বাধীন বাংলাদেশের যে অগ্রগতি হয়েছে তা ভারতভুক্ত পশ্চিম বাংলার তা হয়নি।
সিকিমকে ভারতপন্থীরাই সংসদে আইন পাশ করিয়ে ভারতভুক্ত করেছে। বাংলাদেশের ভারতপন্থীরা কোন পথে যেতে চান তা এখনও স্পষ্ট হয়নি।

Advertisements

Read Full Post »

সকালবেলা ৫৬


সকালবেলা ৫৬
আমি আড্ডা দিতে বা মারতে ভালবাসি। যতদূর মনে পড়ে হাই স্কুলে উঠার পর থেকে আড্ডা দিয়ে আসছি। সে সময়ের আড্ডার বন্ধুরা এখন তেমন কেউ আর নাই। দুয়েকজন আছে যারা মনে করে তারা বুড়া হয়ে গেছে। আরও কয়েকজন আছে যারা আড্ডাবাজ নয়। এখন আমার প্রধান কাজ ,জীবিকা অর্থে নয়, তিন চার ঘন্টা করে আড্ডা মারা। মারা শব্দটা ব্যবহার করলাম। মনে হয় দেয়ার চেয়ে মারাটা বেশী কার্যকর। ভাষার বিষয়টা ভাষাবিদরা ঠিক করবেন।
ভাষার ব্যাপারে আমি একেবারেই দূর্বল। কেন কি হয়,কিভাবে এসব বুঝে শুনে লিখিনা। পড়েছি বাণিজ্য। হয়ত বাবার ইচ্ছা ছিল বড় কোন সওদাগরী ফার্মে চাকুরী করবো। আমার বাপদাদারা সবাই সওদাগর ছিলেন। আমাদের বাড়িতে ইংরেজী বিদ্যা প্রবেশ করেছে ১৯০০ সালে। জানিনা, কি কারণে আমি খবরের কাগজে ঢুকে পড়েছি। তাও আবার পাকিস্তান অবজারভারে। ইংরেজী কাগজে। আগেই বলেছি বাংলা ইংরেজী কোন ভাষাই আমি জানিনা। আপনারা ভাবছেন,আমি রসিকতা করছি। না, এক বিন্দুও না। দুরু দুরু বুকে অবজারভারে কাজ শুরু করলাম ১৯৬১ সালের অক্টোবরে। পদবী ছিল নবীশ বাণিজ্য রিপোর্টার। মাসে একশ’টাকা হাত খরচ বা পকেট এলাউন্স।
তুলারাম কলেজের অধ্যাপক শামসুল হুদা সাহেব ছিলেন অবজারভারের বাণিজ্য পাতার সম্পাদক। আমি তাঁর সহকারী। তিনি ছিলেন খুবই মিষ্টি মানুষ। আমি নিজেকে সহকারী না ভেবে তাঁর ছাত্র ভাবতাম। তাঁর ফুট ফরমায়েশ শুনাই ছিল আমার কাজ। সেভাবেই আমি বাণিজ্য রিপোর্টার হিসাবে গড়ে উঠি। এভাবেই আমার সাংবাদিকতায় হাতে খড়ি ও যাত্রা শুরু। সেই থেকে এখনও এর সাথে আছি।
শুরু করেছিলাম আড্ডার কথা বলবো বলে। খবরের কাগজের লোকেরা এমনিতেই একটা আড্ডাবাজ, কম আর বেশী। আমি একটু বেশী। এখনও প্রতিদিন প্রেসক্লাবে না গেলে ভাত হজম হয়না। রোজ তিন ঘন্টা করে আড্ডা মারা। আড্ডার প্রধান সাথী আবু জাফর পান্না, কেজি মোস্তফা(গীতিকার), জামান ও জাকারিয়া পিন্টু। ক্লাবের সবাই মোটামুটি জানেন আমাদের এই গ্রুপের কথা। পিন্টু আর জামান আমার জগন্নাথ কলেজ জীবনের বন্ধু। পিন্টুর সাথে তখনই পরিচয় হয়েছে। জামানের সাথে পরে।
কবিতাপত্রের কারণে ক্লাব কবিদের সবার সাথেই আমার সু সম্পর্ক। কেজি মোস্তফা কবিতাপত্রের সম্পাদনা করেন। আমি সাংগঠনিক বিষয় দেখাশুনা করি।
শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন বেলা এগারটা/বারোটার দিকে ক্লাবে গিয়ে পৌঁছি। তার আগে সেলফোনের মাধ্যমে খবর নিই পান্নার। তিনি কোথায় আছেন। রোজ যখানে বসি সেখানেই গিয়ে বসি। বাকি বন্ধুরা আস্তে আস্তে সবাই জড়ো হয়। চা কফি চলে। মেইন লাউঞ্জে ধুমপান চলেনা। এ জন্যে বারান্দায় যেতে হয়। সেখানে আমরা তিনজনে মানে আমি ,কেজি ও পান্না একটি সিগারেট টানি। চা তিনজনে দুই কাপ। দেড়টার দিকে দুপুরের খাবার খেতে ক্যান্টনে যাই। আমি আর পান্না দুজনে মিলে একটি খাবার। প্রায় নিয়মিত সাথে থাকে জামান, পিন্টু ও জনুভাই( পাকিস্তানের জংয়ের সংবাদদাতা)। আবার লাউঞ্জে গিয়ে চা কফির পালা। তারপরে বেলা আড়াইটার দিকে আবার বারান্দায়। তখন বেশ কয়েক জন কবিবন্ধুও থাকেন।

Read Full Post »

সকালবেলা ৫৫


সকালবেলা ৫৫

আমার কাছে জীবন মানে সময়। প্রাণ দেহ চালনের যন্ত্র বা ক্রিয়া। আর রূহ হচ্ছে এক ধরনের নুর বা জ্যোতি যা শুধু মানুষকে দেয়া হয়েছে। তাই মানুষ নবী রাসুল ,অলি আউলিয়া, পীর দরবেশ, দার্শনিক, বিজ্ঞানী,কবি লেখক হয়। রূহই মানুষকে সাধারন অবস্থা থেকে উন্নত স্তরে নিয়ে যায়। যে রূহ বিচলিত বা অশান্ত থাকে সে রূহ দুনিয়া ভোগ করে। উন্নত রূহ বা আত্মা জগতে থেকেও মূলের অনুসন্ধান করতে থাকে। খোদার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে। যেমন মনসুর হাল্লাজ , মাওলানা রুমী হাফিজ, সা’দী, সিরাজী, খৈয়াম,গালিব,ইকবাল,রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল। যে নিজেকে চিনতে পেরেছে সেই খোদাকে চিনেছে। খোদার ভিতর মানুষ থাকে আর মানুষের ভিতর খোদা থাকে। এটা একটা অবিরাম ধারা। এ ধারাতেই মানুষ জ্যোতির্ময়(নুর) হয়।
আমরা যারা অতি সাধারন মানুষ আমাদের জীবন হচ্ছে সময়ের সমষ্টি। প্রাণ হচ্ছে একটি যন্ত্র। আল্লাহপাক নিজেই বলেছেন, দেখতে মানুষের মতো হলেই সবাই মানুষ নয়। আসল মানুষ জগতে খোদার প্রতিনিধিত্ব করে। তিনি যেভাবে চেয়েছেন সেভাবে জগতকে পরিচালনা করতে চায়।
আমি জানিনা আমি মানুষের কোন স্তরে অবস্থান করি। আমার জীবনটা যদি সময়ই হয়ে থাকে তাহলে আমি শুধুমাত্র একটি প্রাণী। মানুষ হয়ে উঠতে পারিনি। আর হবো কিনা জানিনা।
আপনারা সবাই নিশ্চয়ই জানেন মনসুর হাল্লাজ দাবী করেছিলেন, ‘আমিই সত্য’( আনা আল হক )। তখনকার খলিফা এবং তাঁর পারিষদ দল শরীয়তের আদালতকে সাথে নিয়ে মনসুরকে ধর্মদ্রোহী ঘোষণা করে মনসুরকে হত্যা করেছিলেন। জেলে বন্দী থাকা অবস্থায় বন্ধু বান্ধবকে মনসুরকে বুঝিয়েছিল তাঁর দাবী প্রত্যাহার করে নিতে। তিনি রাজী হননি। মনসুর বলেছিলেন, এ দন্ড আমার নয়,মাটির পুতুলের, যা আমি নই। আমিতো এই দেহত্যাগ করে আমার স্রষ্টার কাছে ফিরে যেতে চাই। সত্যতো বেশীদিন সত্যকে ছাড়া থাকতে পারেনা। আমিতো সব সময় সত্যের সাথেই আছি আর সত্য আমার সাথে আছে । আমার প্রভুই আমাকে সত্য শিখিয়ে দেন । জগত আর এই দেহ আমার কাছে সত্য নয়। আমি আনন্দিত যে আমি খুব তাড়াতাড়ি আমার ভালবাসার কাছে ফিরে যাচ্ছি।
আমি এরশাদ মজুমদার মনসুরকে ভালবাসি। কিন্তু মনসুরের মতো এক বিন্দুও হতে পারিনি। আমি চাই খোদা আমাকে গ্রহন করে নিবেন। আমি অপেক্ষা করে বসে আছি। আমিও বুঝতে পেরেছি এই জগত ও দেহ আমাকে সত্য ও ভালবাসা থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। কঠিন এক পর্দা আমাকে আলো থেকে জুদা করে রেখেছে।

Read Full Post »

সকালবেলা ৫৪


সকালবেলা ৫৪

জানিনা কোনটা ভাল আর কোনটা মন্দ । কোন দিকটা ভাল আর কোন দিকটা ভাল নয়। কোন দিকে যাবো? উত্তর দক্ষিণ পূর্ব পশ্চিম ? কালামে পাকে আল্লাহপাক বলেছেন, জগতে যারা ভাল কাজ করবে তাদের আমলনামা ডান হাতে দেওয়া হবে। আমার সে ভাগ্য হবে কিনা জানিনা। নিজের বিচারেই আমি একজন আসামী। খোদার বিচারতো পরের কথা। এখন আমার বয়স ৭৩। এখন বুঝতে পেরেছি খোদার বিচারে আমার কি হালত হবে। কিন্তু যদি ২৫ বছর বয়সে বুঝতাম তাহলে হয়ত মুক্তির পথ খুঁজে পেতাম। তখন লোকে বলতো বামপন্থী। সমাজ রাস্ট্র কেউই বামপন্থা পছন্দ করতোনা।
এ যাবত যত সরকার দেখেছি সব গুলোই ছিল ডানপন্থী। এখনও দেখছি ডানপন্থী সরকার। এসব ডানপন্থীরা হলো মানবতা বিরোধী, শোষণের পক্ষে, বিনা বিচারেই মানুষ হত্যা করে, বিচারের নামে প্রহসন করে। আইউব খান, ইয়াহিয়া খান যা করেছে স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার গুলোও তাই করেছে। আমি আমার মনের মতো একটি সরকারও দেখিনি। এখন দেখছি, রাস্ট্র দিন দিন অত্যাচারী হয়ে উঠছে। সরকার আর রাস্ট্রের ভিতর ফারাক দিন দিন ঘুছে যাচ্ছে। বাংলাদেশে এখন রাস্ট্র আর সরকারের ভিতর কোন ফারাক নেই।
যখন কোরআন কিতাব ভাল করে পড়িনি তখন মনে হতো সমাজতন্ত্র বা কমিউনিজম মানুষের মুক্তির একমাত্র পথ। এখন বুঝি সে পথ সঠিক পথ নয়। পাকিস্তান ইসলাম ও কোরআনের বড় ক্ষতি করেছে। এক সময় বুঝতে পারলাম কিছু রাজনীতিকের কাছে মুসলমানিত্ব, ইসলাম ও মুসলীম লীগ ছিল মানুষ ঠকাবার একটা কৌশল মাত্র। এখনও সেই ধারা কম বেশী জারী আছে। একদল ইসলামের বিরোধিতা করে রাজনীতি করছে, আরেক দল ইসলামের পক্ষে থেকে রাজনীতি করছে। এদের কেউই ইসলাম বা কোরআন কি তা জানেনা। এদের কাছে ইসলামের পোষাকটাই সবচেয়ে বড়। কোরআনের রূহ বা আত্মা কি তা বিশ্ববাসী এখনও জানেনা। কমিউনিজমের পতনের পর আমেরিকা ও তার বন্ধুরা ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। হয়ত বুঝে বা না বুঝে এ যুদ্ধ করছে। বাংলাদেশেও, যেখানে ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমান , ইসলাম বিপদের সম্মুখীন।
আমি এখন জীবনের এক মহাক্রান্তি লগ্নে এসে দাঁড়িয়েছি। আমার অন্তর জগতে এক বিরাট লড়াই চলছে। ভাবি আমার এ জীবনের কি প্রয়োজন ছিল ? খোদা কি কারণে, কি প্রয়োজনে তাঁর নৈকট্য থেকে দূরে সরিয়ে দিয়ে এ জগতে পাঠালেন ? আমি না এলে জগতের কি ক্ষতি বা উপকার হতো? খোদার কি উদ্দেশ্য রয়েছে আমার জগতে আসার পিছনে? এসব প্রশ্ন প্রতিদিন আমাকে ক্লান্ত করে তুলেছে। কিন্তু কোন উত্তর কোন মহল থেকে আজও আমি পাইনি। রূহ প্রত্যাহৃত হওয়ার আগে জানতে পারবো কিনা জানিনা। ভেবে ভেবে কান্না পায়, তাহলে আমিও কি সাধারন কোন প্রাণীর মতো। খেয়ে দেয়া বেঁচে থাকবো, তারপর একদিন চলে যাবো। আহ্ কি অধমের জীবন ?

Read Full Post »

সকালবেলা ৫৩


সকালবেলা ৫৩

আমি ইতিহাসের ছাত্র নই। পড়েছি বাণিজ্য বাবার নির্দেশে। কিন্তু কর্ম শুরু করেছি সাংবাদিক হিসাবে ১৯৬১ সালে পাকিস্তান অবজারভারে। সম্পাদক ছিলেন দার্শনিক আবদুস সালাম । এ রকম জ্ঞানী সম্পাদক এ দেশে আর জন্ম নিবে কিনা আমার সন্দেহ আছে। বাংগালীদের নানা রকম সমস্যা আছে। মতের বিরুদ্ধে গেলেই গালাগাল শুরু করে। প্রত্যেক বাংগালীই নিজে যা ভাবে তাকে সত্যি মনে করে।
৭২ এ কোলকাতায় দেখেছি ঘরে ঘরে বংগবন্ধুর ছবি একজন নতুন দেবতা হিসাবে। নর রূপে নারায়ন। মানুষের রূপে স্বয়ং ঈস্বর।(reincarnation of God). তখন পশ্চিম বাংলার বাংগালীদের বিশ্বাস ছিল অখন্ড বংগদেশ আবার প্রতিষ্ঠিত হবে। দুই বাংলা এক হয়ে যাবে। এটা ছিল তাদের আবেগ তাড়িত মনের অবস্থা। ভিসা লাগবেনা, নিজেদের ফেলে যাওয়া বাড়ি বা ঘরে ফিরে আসবে। দিল্লীর মনে কি ইচ্ছা তা জানার সুযোগ কখনই বাংগালীদের হয়নি। তারা সুভাষ বসুকে কংগ্রেসের সভাপতি মেনে নেয়নি। তাঁর সশস্ত্র বিপ্লবকে সমর্থন করেনি।
৪৭ সালেই দিল্লী পাকিস্তান ভাংগার কাজ শুরু করেছে। মনে রাখতে হবে পাকিস্তান না থাকা বা পাকিস্তানকে ভেংগে দেয়াটা দিল্লীর জাতীয় স্বার্থ। সুযোগ এসেছে ১৯৭১ সালে। ২৩ বছর ধরে দিল্লী এ নিয়ে কাজ করেছে।
৪৭ সালে অখন্ড স্বাধীন বংগদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল বাংগালী মুসলমানেরা। কিন্তু দিল্লী রাজী হয়নি। তাঁরা বলেছিলেন,কোলকাতা ছাড়া ভারতের স্বাধীনতার কোন দাম নেই। তখন মুসলমান বাংগালীরা পাকিস্তানের সাথে যোগ দিলো। দীর্ঘকাল হিন্দু জমিদারদের দ্বারা অত্যাচারিত হয়ে তারা মুসলমান হয়ে উঠেছিল। ২৩ বছরের মাথায় তারা বাংগালী হওয়ার জন্যে উঠে পড়ে লাগলো। ভারতও এ ধরনের একটা সুযোগের আশায় অপেক্ষা করছিলো। এমন সুবর্ণ সুযোগ ভারত বা দিল্লী লুফে নিলো।
পশ্চিম বাংলার বাংগালী হিন্দুরা অবাংগালী ভিন্নভাষীদের অধীনে সুখেই স্বাধীনতা ভোগ করছে। বাংগালী মুসলমান কখনই শোষণকে বরদাশত করেনি। মোগলদের বিরুদ্ধে তারা বিদ্রোহ করেছে। ইমরেজদের বিরুদ্ধে সবার আগে অস্ত্র হাতে নিয়েছে। মুসলমানিত্বের নামে বা ইসলামের নামে ইসলামাবাদের শোষণকে তারা গ্রহণ করেনি। বিষয়টাকে আলোচনা করে সুরাহা করা যেতো। বংগবন্ধু তা চেয়েছিলেন। কিন্তু ইসলামাবাদ শান্তি ও সমঝোতার পথে না গিয়ে শক্তি প্রয়োগের পথে গিয়ে ভারতের হাতে বিরাট সুযোগ এনে দিয়েছে। ইসলামাবাদ শক্তি প্রয়োগ না করলে বাংগালী মুসলমান অস্ত্র হাতে তুলে নিতোনা, এমন কি চাইলেও।
মুম্বাইতে নির্মিত গুন্ডে মুভিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে খাট করে দেখা হয়েছে। শুরুতেই বলেছি বাংগালী মুসলমানের ইতিহাস রচনার কোন ইতিহাস নেই। সত্যি কথা বলতে কি বাংগালীদের তেমন কোন ইতিহাসও নেই। আবেগের বশেই বলে আমরা হাজার বছরের বাংগালী, আমাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ জাতি আর নেই, ভাষার জন্যে পৃথিবীতে আমরাই প্রাণ দিয়েছি। বাইরের বিজয়ীরা এসে এই ভুখন্ডকে শাসন করেছে। বাংগালীরা কখনই স্বাধীনভাবে দেশ পরিচালনা করেনি। ৭১ সালের পূর্ব পর্যন্ত এ অঞ্চল শাসন করেছে অবাংগালী মুসলমান ও হিন্দুরা। শুধুমাত্র মুসলমানিত্বের কারণে ৪৭ সালে পাকিস্তানের সাথে যোগ দিয়েছিল। আবার ৭১ সালে আবার মুসলমানিত্বের শ্লোগান ত্যাগ করে বাংগালী হওয়ার জন্যে জীবন দিয়েছে। গুন্ডে মুভিতে বলা হয়েছে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের ফলে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে বা বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। আবেগ বাদ দিয়ে যদি দলিল দস্তাবেজের ভিত্তিতে কথা বলতে হয় তাহলে অবশ্যই বলতে হবে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ না হলে বাংলাদেশ কখন স্বাধীন হতো তা কেবল ভাগ্যই বলতে পারে। ভারতীয় দলিল দস্তাবেজ পরীক্ষা করলেই দেখা যাবে ৭১ এর যুদ্ধ ছিল পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে নয়। নিজেরা যুদ্ধ করে ৯ মাসে দেশ স্বাধীন করতে পারতোনা এ সত্যটা বাংগালী মুসলমান মানতে রাজী নয় শুধুমাত্র আবেগের কারণে। ভারত চায় বাংলাদেশ একটা পুরো বাংগালীর দেশ হয়ে যাক। বাংলাদেশের বেশ কিছু রাজনৈতিক দলও চায়। দেশের সাধারন মানুষ এ রাজনীতিটা এখনও বুঝে উঠতে পারেনি। ঢাকা যদি মুসলমানিত্ব বা ইসলামকে একটু দমন করতে পারে তাহলে দিল্লীর সাথে ঢাকার মনো জগতের দূরত্ব আর থাকেনা।
৪৭ সালে যাদের বাপ দাদারা ভারত ছেড়ে পূর্ব পাকিস্তানে এসেছিলেন এখন তারা দিল্লীর কাছে থেকে পদ্মভূষন পদবী নিয়ে গৌরবান্বিত বোধ করছেন। তারাই বলছেন ৪৭ সালের ভারত ভাগ ভুল ছিল। পাকিস্তান সৃষ্টি ভুল ছিল। তারাই বলছেন, বিশ্ব বাংগালী এক হও। তারাই বলছেন, বাংলাদশ একটি ভাষা ভিত্তিক রাস্ট্র। ভাষার কারণেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে।

Read Full Post »

সকালবেলা ৫২


সকালবেলা ৫২

আজ সকালের ভাবনা নিয়ে ভাবছি। কিছুই ঠিক করতে পারছিনা কি লিখবো। বন্ধুরা বলেছে,প্রতিদিন সকালেই ভাবতে হবে এমন ফতোয়া কে দিয়েছে। ভাবনা না থাকলে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে থাকো,শরীরের উপকার হবে। বন্ধুদের সাথে আমি একমত নই। মানুষকে ভাবতেই তৈরি করা হয়েছে। ভাবতে তাকে হবেই। যিনি জ্ঞানী,দার্শনিক, কবি সাহিত্যিক তাঁকেতো ভাবতেই হবে। লিখতে হবে। আমি সে ক্যাটাগরিতে পড়িনা । আমি বুঝতে পারিনা আমি কোন ক্যাটাগরিতে পড়ি।
দিন মুজুরকে ভাবতে দিনের কাজ নিয়ে । কাজ করে কিছু মুজুরী পেতে হবে। তা দিয়ে চাল ডাল কিনতে হবে। এর বেশী আর কিছু নয়। চাকুরীজীবীকে কর্মস্থলে যেতে হবে। ঝাড়ুদারকে ঝাড়ু হাতে বের হতে হবে রাস্তা সাফাই করার জন্যে। বড় সাহেবকেও অফিসে যেতে হবে। স্ত্রীর বায়না রক্ষা করার জন্যে বড় রকমের ঘুষ খেতে হবে। বাংলাদেশে একটি ঠিকানা নেই যেখানে ঘুষ নেই।
আমার এখন চিন্তা করার বা ভাবার স্বাধীনতা রহিত হয়েছে। রাস্ট্র বা সরকার আমার উপর ক্ষ্যাপে যেতে পারে এই ভয়ে বা আশংকায় আমার প্রিয়জনেরা বলেছে সকল প্রকার চিন্তা ভাবনা ত্যাগ করতে। আমি বললাম,তোমাদের এ কাজ খোদা বিরোধী। এমন নির্দেশ তোমরা দিতে পারোনা। আমি হচ্ছি আশরাফুল মাখলুকাত। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ। খোদা আমাকে ভালবেসে সৃষ্টি করেছেন ভাবার জন্যে। আমি হয়ত নবী রাসুল, অলি আউলিয়া হতে পারিনি। হয়ত দার্শনিক,বিজ্ঞানী হতে পারিনি। আমার প্রভু সে দয়া আমার প্রতি করেন নি। প্রভুর হাতে কুদরতি কলম ও কালাম আছে। তাঁর একটি কলম আমার হাতে তুলে দিয়েছেন। আমিতো বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই লিখছি। চিন্তা করছি। তিনিইতো আমাকে এ ক্ষমতা দিয়েছেন।
প্রিয়জন বললো, রাস্ট্র আর সরকারের হাত থেকে আগে নিজেকে রক্ষা করো। আমি বললাম,দেখি আমার মালিক আমার জন্যে কি নির্দেশ রেখেছেন। যদি সরকার খেলাফত ,রাজা বাদশাহদের ভয় করলে জগতে কখনই সত্য বিকশিত হতোনা। খোদাতো সবার কলম আর মুখ দিয়ে সত্য প্রচার করেন না। শুধু বাছাই করা লোকেরাই খোদার কথা বলেন।
আমিতো কিছুই না । আমি খুবই নগন্য একজন সংসার দাস। সমাজের দাস, রাস্ট্রের দাস,ক্ষমতাবানদের দাস, সুখের দাস। আমি দাসের তস্য দাস।
প্রিয়জনদের বললাম, তোমরা আমার মুখে আর কলমে লাগাম দিতে পারো। কিন্তু অন্তরে কেমন করে লাগাম দিবে। আমি আমার প্রভুর কাছে নালিশ করছি তোমাদের বিরুদ্ধে, এ রাস্ট্রের ও সরকারের বিরুদ্ধে। আমাকে মুক্ত করো সকল বন্ধন থেকে। আমাকে দেহ থেকে মুক্তি দাও। তোমার রুহকে তুমি প্রত্যাহার করো, না হয় আমাকে শক্তি দাও রুহকে রক্ষা করার জন্যে।

Read Full Post »

সকালবেলা ৫১


সকালবেলা ৫১

লখনৌ থেকে গালিবের এক বন্ধু একটি মৃত্যু সংবাদ পাঠিয়ে শোক প্রকাশ করার জন্যে অনুরোধ জানিয়েছিল। উত্তরে গালিব বলেছিলেন,যিনি কখনই মরবেন না তাঁকেই শোক প্রকাশ করতে বলো। আমিতো আজ আছি কাল নাই। জীবন এবং মরণ যাঁর অধীনে তিনিই শোক প্রকাশের জন্যে যোগ্য ও উপযুক্ত। অমন করে কথা বলার মতো আমার যোগ্যতা বা শক্তি কোনটাই নাই। কবিতাপত্রের সম্পাদক প্রখ্যাত গীতিকার ও কবি কেজি ভাই অনুরোধ জানিয়েছেন প্রখ্যাত কবি ফজল শাহাবুদ্দিনের স্মরণে কিছু লেখার জন্যে। আমি সংগে সংগেই রাজী হয়ে যাই। আমার জীবনে সবচেয়ে বড় সংকট না বলতে না পারা। এটা একটা বড় দোষও বটে। ফলে আমি নিয়মিতই নানা সমস্যায় থাকি। বহু ওয়াদা বংগ করতে হয়। লোকের গাল মন্দ শুনতে হয় । এভাবেই আমার সময় কাটে।
জীবন আর মৃত্যু সম্পর্কে আমার চিন্তা চেতনা সাধারনের চেয়ে একটু আলাদা। আরবী ইন্তিকাল শব্দের অর্থ স্থান পরিবর্তন। মানে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়া। এর মানে রুহ বা আত্মার কোন মরণ নাই। এটা চিরন্তন। আলমে আরওয়াঁ নামে রুহের জগত আছে। সেখান থেকেই খোদার নির্দেশেই রুহ মানব দেহে আসে নির্ধারিত সময়ের জন্যে। আবার সময় হলে দেহত্যাগ করে চলে যায়। এই চলে যাওয়াকে আমরা বলে থাকি মৃত্যু।
আল্লাহর রাসুল(সা) বলেছেন মানুষ মৃত্যুর মাধ্যমে জাগ্রত হয়। জগতের পর্দা সরে গেলে মানুষ অদৃশ্য জগত দেখতে পারে। খোদা হচ্ছেন জন্ম এবং মৃত্যুর স্রষ্টা। আদম তৈরির পর তিনি সেই মাটির দেহে রুহ ফুকিয়া দিলেন। তারপরেই মাটির পুতুল মানুষ হলো। এটা হলো কোরআনের বক্তব্য। বিজ্ঞান অন্য কথা বলে। আমার এ লেখা বিজ্ঞানের প্রতিনিধিত্ব করছেনা। আল্লাহর রাসুল(সা) পরমজ্ঞানের কারণে অদৃশ্য জগতের খবর পেতেন তাঁর প্রেমিকের কাছ থেকে।
জগতের শ্রেষ্ঠতম মরমী কবি মাওলানা রুমী বলেছেন তিনি দুই জগতই দেখেছেন। ফলে তিনি এক জগতেই বাস করেন। সত্য জানা হয়ে গেলে মানুষের কাছে আর দুই জগত থাকেনা। জগতের প্রথম শহীদ কবি আল্লাহ প্রেমিক মনসুর হাল্লাজ সত্য জেনেছেন বলেই মৃত্যুকে আলিংগন করেছেন। শরীয়তী বা খলিফার আদালত তাঁকে মৃত্যুদন্ড দিলেও তিনি জগতবাসী তাঁকে এখনও জগতের প্রধানতম মরমী কবি ও খোদা প্রেমিক মনে করে।
একই ভাবে মহামতি দার্শনিক সক্রেটিস সত্যকে জানার ফলে শাসকের সাথে হাত মিলাননি। তিনি জীবনকে রক্ষা করতে পারতেন। কিন্তু করেন নি। কারণ ,তিনি জেনে গেছেন সত্যের কোন মরণ নেই। সত্য থেকে পালিয়ে যাওয়া যায়না।
রবীন্দ্রনাথ জীবন ও মরণ নিয়ে একবার বলেছেন,মরণরে তুহুঁ মম শ্যাম সমান। আরেকবার বলেছেন,মরিতে চাহিনা আমি এ সুন্দর ভুবনে। রবীন্দ্রনাথ জমিদার ও ব্যবসায়ী ছিলেন। ফলে তিনি গালিব রুমী হাফিজ সা’দী বা খৈয়ামের মতো হতে পারেননি। নিরক্ষর লালন ছিলেন অদৃশ্য জগত জানার সাধক। তাই তিনি বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ মরমী কবি।
কবি ফজল শাহাবুদ্দিনের সাথে আমার প্রথম পরিচয় হয় ১৯৫৯ সালে পুরাতন অবজারভার অফিসে। তখন অবজারভার ছিল বাংলা বাজার সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের পাশে। আমি তখনও ছাত্র। মাহবুবুল হক সাহেবের কারণে আমি নিয়মিত সেখানে যেতাম। তখন পল্লীবার্তা নামের সাপ্তাহিক কাগজের সম্পাদনা করতেন কাজী মোহাম্মদ ইদ্রিস সাহেব। তাঁরই কারণে সেখানে কবি সাহিত্যিকদের আড্ডা হতো।প্ল্লীবার্তা পরে পুর্বদেশ হয়ে যায়। সাপ্তাহিক হিসাবে খুবই নাম করেছিল। ফজল সাহেব বয়সে আমার বড়। তাই আমি তাঁকে ফজল ভাই বলতাম। সে সময়ে তিনি বেশ ক্ষ্যাপাটে লোক ছিলেন। কাউকে সহজে পাত্তা দিতেন না। তাঁর সাথে খাতির ছিল কবি আবদুল গণি হাজারীর সাথে। হাজারী সাহেব অবজারভারের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন। তিনি পিইএন পুরস্কার পেয়েছিলেন। তখন লায়লা সামাদ অবজারভারের মহিলা পাতা দেখতেন।
পরবর্তীকালে ফজল ভাইয়ের সাথে আমার সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ট হয়। তখন তাঁর ক্ষ্যাপাটে ভাব অনেকটা মানে ৯০ ভাগ কমে গিয়েছিল। জীবনের শেষাংশে তিনি নিয়মিত প্রেসক্লাবে আসতেন। অনেক নবীন ও তরুণ কবি তাঁর সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন। আমার একটি কবিতার বই ফজল ভাইকে উত্‍সর্গ করেছি। কবি হিসাবে তিনি জাতীয় পর্যায়ের ছিলেন। মন হৃদয় দুটোই ছিল মোমের মতো।

Read Full Post »

Older Posts »