Feeds:
Posts
Comments

Archive for September, 2011


বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত প্রায়ই সব নদী এসেছে ভারত চীন ও নেপাল থেকে। প্রাকৃতিক এই নদী গুলো তিনটি দেশকে মায়ার বন্ধনে বেঁধে রেখেছে। কিন্তু এই তিন দেশের সরকার ও রাজনৈতিক দল গুলোকে তেমন মায়ার বন্ধনে বাঁধতে পারেনি। চীনের সরকার ও রাজনৈতিক দলের সাথে ভারতের তেমন সুসম্পর্ক নেই। চীন ভারত সম্পর্ক দিনের আলোর মতো  স্পস্ট ও পরিস্কার। সবাই জানে এই দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক কি রকম। ভারতের সাথে চীনের সীমান্ত বিরোধ সহ আরও বিরাট সমস্যা রয়েছে। এক সময়ের রাশিয়াপন্থী ভারত রাতারাতি মার্কিনপন্থী হয়ে গেছে। উদ্দেশ্য চীনকে মোকাবিলা করা। ১৯৬২ সালের চীন ভারত যুদ্ধের আগে ভারতবাসীর শ্লোগান ছিল ‘চীনি-ভারত ভাই ভাই’।  ৬২ সালের যুদ্ধের পর এখন সম্পর্ক শীতল। কিন্তু চীন বড় ও শক্তিশালী দেশ বলে ভারত চীনকে তেমন ঘাটাতে চায়না।চীন ভারত সম্পর্ক এখনও ৬২ সালের পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়নি। ভারত চীনের বহু জায়গা দখল করে রেখেছে। চীন ইংরেজদের তৈরী করা সীমান্ত রেখা মানেনা। আর ভারত ইংরেজদের দেয়া মানচিত্র নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে চায়।

এইতে ক’দিন আগেই চীনের রাস্ট্রদূত জাতীয় প্রেসক্লাবের এক আলোচনা সভায় বলেছেন, চীন আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি চায়। ভারতও নাকি তা চায়। তবে ভারতের কানেক্টিভিটি হলো নেপাল ভুটান আর বাংলাদেশকে নিয়ে। ছিনের কানেক্টিভিটি হলো মায়ানমার ও চীন সহ। চীনের রাস্ট্রদূত আরও বলেছেন বাংলাদেশের করিডোর বা ট্রানজিট ভারত কর্তৃক ‘শান্তিপূর্ণ’ কাজে ব্যবহার করতে হবে। শান্তিপূর্ণ কথাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।  এ ছাড়াও রাস্ট্রদূত আরও বলেছেন যে, ভৌগলিকভাবে বাংলাদেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। চীন কেন এ সব কথা বলেছে তা বাংলাদেশের মানুষকে বুঝতে হবে। চলমান বাংলাদেশ সরকার ও ক্ষমতাসীন দল ভারতের পরম বন্ধু। ভারতের নেতারা এই বন্ধুত্বের কথা প্রায়ই বলে থাকেন। সোজা কথা হলো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে ভারতের সকল ধরণের স্বার্থ রক্ষা হয়। সুতরাং ভারত নিজের স্বার্থেই আওয়ামী লীগ বা এ জাতীয় রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় দেখতে চাইবে। এমন কি এরশাদ ক্ষমতায় থাকলেও ভারত খুশী হয়। ভারত নিজের স্বার্থেই এসব করে থাকে। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে ভারতীয় নেতারা দেশ প্রেমিক ও খাঁটি জাতীয়তাবাদী। তারা সত্যিকারেই একশ’ভাগ ভারতপন্থী।

বাংলাদেশের দূর্ভাগ্য হলো এদেশে খাঁটি বাংলাদেশপন্থী দল ও নেতা পাওয়া যাচ্ছেনা। এখানে কেউ বাংগালী , আর কেউ বাংলাদেশী। আওয়ামী লীগ নিজেকে আদর্শগত ভাবে বাংগালী মনে করে। বাংলাদেশী মনে করেনা। দেশে বিদেশে নানা গোস্ঠি আছে যারা নিজেদের বিশ্ব বাংগালী মনে করে। এর মানে হলো দেশ বা রাস্ট্র বিহীন ৩০ কোটি বিশ্ব বাংগালী। বিশ্ব বাংগালী শ্লোগানটি ভারতীয় বাংগালীদের শ্লোগান। তার সাথে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশের কিছু হিন্দু ও মুসলমান। এরা নিজেদের বাংলাদেশী মনে করেনা। যদিও এদের সবার পাসপোর্টে লেখা রয়েছে জাতীয়তা বাংলাদেশী। তারা বাংলাদেশী, কারণ তাদের একটি স্বাধীন দেশ, রাস্ট্র, পতাকা ও জাতীয় সংগীত রয়েছে। শুধু বাংগালী যারা তাদের কোন স্বাধীন দেশ নেই। পশ্চিম বাংলার হিন্দু বা মুসলমানরা সবাই ভারতীয়। ইংরেজদের দেয়া মানচিত্র নিয়ে ভারত পাকিস্তান বাংলাদেশ নেপাল ভুটান সবাইকে শাসিয়ে যাচ্ছে। চীন ছাড়া বাকি সব প্রতিবেশী ভারতের ভয়ে অস্থির থাকে। ভারত চাপ সৃস্টি করে, চোখ রাংগিয়ে ক্ষমতা দিখিয়ে প্রতিবেশীদের অনুগত রাখতে চায়। শ্রীলংকাকে কয়েক যুগ অশান্ত করে রেখেছিল। তামিল বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহ করেছে ভারত। ভারতের সাথে হাত মিলিয়েছিল জাতিসংগ, পুরো পশ্চিমা জগত। চীনের সাথে গভীর বন্ধুত্ব প্রতিস্ঠা করে শ্রীলংকা সবার চোখ রাংগানিকে সামাল দিয়েছে। ভারতের কূটনীতি সম্পর্কে আমি আমার এর আগের লেখায় স্পস্ট করে কিছু কথা বলতে চেয়েছি। বারতের কূটনীতির মূলমন্ত্র হাজার বছরের পুরাণো চাণক্যনীতি। এই নীতিতে কোন ন্যায়নীতি বা মানবতা নেই। এই নীতিতে কোন ধরনের বন্ধুত্বের ব্যাপার নেই। লক্ষ্য একটাই, তা হলো  আইনী বেআইনী যেমন করেই হোক ভারতের স্বার্থ রক্ষা করা। ভারত তার স্বার্থ রক্ষা করবে এতে কারো আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু আমরা বাংলাদেশ কি আমাদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারছি বা পারবো? যে জাতি মনো জগতে নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে শক্তিশালী নয় সে জাতি কখনই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবেনা। ছিনারা ৬০ সাল থেকেই আমেরিকাকে পেপার টাইগার বা কাগুজে বাঘ বলে প্রচার করে আসছে। এখন সত্যিই আমেরিকা কাগুজে বাঘে পরিণত হতে চলেছে। চীন আমেরিক বিশ্ব ব্যান্ক আই এম এফ সহ আন্তর্জাতিক বা আমেরিকার তাবেদার কারো সাহযোগিতা না নিয়েই নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে। চীন জনগণের রাস্ট্রে পরিণত হয়েছে ১৯৪৯ সালে। আমরা মুসলমান হিসাবে স্বাধীন হয়েছি ১৯৪৭ সালে। ভাইয়ে ভাইয়ে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করে আবার স্বাধিন হয়েছি ১৯৭১ সালে। ভারতের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পাকিস্তান ভাংগার, সেটা ভারত পূরন করেছে ১৯৭১ সালে। ভারতের সহযোগিতা না পেলে আমরা নয় মাসে স্বাধীন হতে পারতাম না। তবে আমরা স্বাধীন হতামই। চলমান সরকারের আমলে ভারত বাংলাদেশের জানের জান। ভারত সরকার নিজেই বলে বাংলাদেশে এখন তাদের বন্ধু সরকার আছে। ভারতের মিডিয়াও জানে হাসিনা সরকার তাদের জানের জান। বংবন্ধুর কন্যাও ব্যক্তিগত ভাবে মনে করেন দিল্লী তাঁর এক নম্বর বন্ধু। ১৯৭১ সালে ভারত বাংলাদেশের জন্যে যে অর্থ ও শক্তি খরচ করেছে তার হাজার গুণ সে আদায় করে নিয়েছে বিগত ৪০ বছরে। দিল্লী এ সুযোগ চিরদিনের জন্যে পেতে চায়। তাই সে নানা চুক্তি করে সুযোগ আদায়ের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করতে চায়।

পাকিস্তানের সাথে ভারতের পানি সমস্যা বহু আগেই সমাধান হয়েছে। বিশ্ব ব্যান্ক এ সমস্যা সমাধানে অর্থ সহ অন্যান্য সহযোগিতা দিয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ও পরিবেশ অন্য রকম। পাকিস্তান আনবিক শক্তি সম্পন্ন দেশ। পাকিস্তানের দরদী বন্ধু গণচীন। এইতো ক’দিন আগেই চীন বলেছে, পাকিস্তানের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে চীন সম্মান করে। পাকিস্তানের চরম বিপদে চীন তার পাশে থাকবে। আমেরিকা যেকোন সময়ে পাকিস্তানে হামলা চালাতে পারে এই আশংকাতেই চীন ওসব কথা বলেছে। আগেই বলেছি ভারত আমাদের চলমান হাসিনা সরকারের জানের জান। তাই আমরা ভারতের নানা আবদারের কথা শুনতে পাই। আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ বলেছেন, আমরা একই ঐতিহ্যের দেশ। দিল্লীও একথা বলে। শুধু পাকিস্তান চীন শ্রীলংকা নেপাল এ কথা বলেনা। নেপাল হিন্দু রাস্ট্র বা দেশ হয়েও ভারতের প্রতিবেশী হিসাবে শান্তিতে নেই। আওয়ামী লীগ মনেই করে বাংলাদেশ মুসলীম ঐতিহ্যের দেশ নয়। তাই জিন্নাহ সাহেবের দ্বিজাতি তত্ব ভুল। জিন্নাহ সাহেবতো ভারতে দুই জাতির কথা বলেছেন ধর্মীয় কারণে। ভারতে আসলে জাতি কৃস্টি ও ধর্মীয় ভাবে বহুজাতির দেশ। কিন্তু কংগ্রেস ও বিজেপি এক জাতি তত্ব হিন্দুত্বের দোহাই  দিয়ে ভারতকে একদেশ হিসাবে রাখতে চেয়েছিল। হিন্দুত্ব ছাড়া ভারতের এক রাস্ট্র বা এক দেশ থাকার আর কোন কারণ বা উপাদান নেই। ভারতের উত্তর আর দক্ষিণে আজও কোন মিল নেই। এমন কি ধর্মীয় ভাবেও। ভারতের দক্ষিণে রাবণকে জাতীয় বীর হিসাবে সম্মান করা হয়। উত্তরে আর্যপুত্র রাম হচ্ছেন দেবতা ও রাজা। ভুমিপুত্র ও রাজা রাবণকে ষড়যন্ত্র করে পরাজিত করেই রাম দেবতায় পরিণত হয়েছে। রাবণকে করা হয়েছে অসুর। একই ভাবে বাংলার স্থানীয় রাজা মহিষকে দেবী দূর্গা পরাজিত করে অসুর আখ্যা দিয়েছে। একই ভাবে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজ উদ দৌলাকে পরাজিত করে নানা কল্প কাহিনী প্রচার করেছে হিন্দু ও ইংরেজ লেখকরা। ওই বছরই শোভা বাজারের মহারাজার বাড়িতে দুর্গোত্সবে ক্লাইভকে প্রধান অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ জানিয়ে মদোত্‍সব পালন করা হয়। অতীতে  দূর্গা পূজা কখনই সার্বজনীন ছিলনা। দুর্গা ছিলেন  বাংলার একজন গৃহদেবী। মোঘল আমলেই দূর্গাপূজাকে সার্বজনীন করা হয়। ইংরেজ আমলের আগে দূর্গার গায়ের রং কালোই ছিল। শুধু ইংরেজদের বা ক্লাইভকে খুশী করার দেবীর গায়ের রং ফর্সা করা হয়। ভারত আজও শাসিত হচ্ছে আর্য ব্রাহ্মণ দ্বারা। কালে ভদ্রে দক্ষিণের দুয়েকজন ব্রাহ্মণও সুযোগ পান। শিব বা আর্যপুত্র না  হয়েও আর্য  দ্রাবিড় বা অনার্যের সমঝোতার ভিত্তিতে একজন গুরুত্বপূর্ণ দেবতা হিসাবে সম্মানিত। বাংলাভাষী হিন্দুরা দূর্গাকে সবচেয়ে বড় দেবী হিসাবে পুজা করে থাকে। দক্ষিণ ও উত্তর ভারতের আর কোথাও দূর্গা পূজা তেমন ভাবে হয়না।ভারত কখনও একদেশ বা এক রাস্ট্র ছিলনা। ভারতের বহু ভাষা ও বহু জাতির ভিতর কখনও সমঝোতা বা সম্মিলন ছিলনা। ভারত বলে নামটাও বেশীদিনের পুরাণো নয়। এক সময় নাম ছিল আর্যাবর্ত ও দাক্ষিণাত্য। উত্তর ছিল আর্যদের দখলে। আর দাক্ষিণাত্য ছিল ভুমিপুত্র বা স্থানীয় শাসকদের দখলে। মোঘলরাই ভারত বা হিন্দুস্তানকে একটি দেশ বা রাস্ট্রে পরিণত করেছে। ইংরেজরা মোঘলদের রেখে যাওয়া ভৌগলিক এলাকাকেই একটি দেশ হিসাবে শাসন করেছে। ইংরেজরা বিদায় নেবার সময় প্রশ্ন উঠলো তারা কার কাছে ক্ষমতা দিয়ে যাবে। ১৭৫৭ সাল থেকে ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ১০০ বছর মুসলমানরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে মুসলমানরা প্রতিরোধ যুদ্ধ ও লড়াই করেছে। ওই পুরো সময়টা হিন্দু রাজা মহারাজা কবি বুদ্ধিজীবীরা দলবেঁধে ইংরেজ শাসনকে সমর্থন করে অভিনন্দন জানিয়েছে। ইংরেজ শাসনকে ভগবানের আশীর্বাদ বলে অভিহিত করেছে। কবি ও বাদশাহ বাহাদুর শাহের পতনের পর বৃটেনের রাণী আনিস্ঠানিকভাবে সরাসরি ভারত শাসনের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বৃটিশ সরকারের শাসন স্থায়ী ছিল ৯০ বছর। মুসলমানরা কখনই একটি খন্ডিত ভারত হিসাবে চিন্তা করেনি। একটি ভারতেই মুসলমানরা হিন্দুদের সাথে এক রাজনৈতিক জাতি হিসাবে বাঁচতে চেয়েছিল। কিন্তু ইংরেজ প্রতিস্ঠিত কংগ্রেস শুরু থেকেই মুসলমানদের অধিকার অস্বীকার করে এসেছে। অখন্ডিত ভারতে মুসলমানদের অবস্থা ও অধিকার কি হবে তা কংগ্রেস নেতারা কখনই সু স্পস্ট করতে পারেনি। বলা যেতে পারে তারা মুসলমানদের বিশেষ কোন মর্যাদা দিতে রাজী হয়নি। ফলে মুসলমানরা নিজেদের দাবী দাওয়া নিয়ে কথা বলার জন্যে ১৯০৬ সালে ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলীম লীগ প্রতিস্ঠা করে। অখন্ড ভারতে বাংলার মুসলমানরা ছিল সবচেয়ে বেশী নিস্ঠুর ভাবে শোষিত। বাংগালী মুসলমানের জন্যে স্বাধীনতা ছিল অপরিহার্য। পাকিস্তান না হলেও বাংগালী মুসলমানরা বাংলাদেশকে স্বাধীন করতোই। সেটা ৪৭ সালেই প্রমানিত হয়েছে। অখন্ড বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ করার ব্যাপারে বিরোধিতা করেছেন গান্ধী, নেহেরু ও প্যাটেল। নেহেরু ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের ঘোর বিরোধী। যদি নেহেরুজী বিরোধীতা না করতেন তাহলে ৪৭ সালেই স্বাধীন অখন্ড বাংলাদেশ প্রতিস্ঠিত হতো। পশ্চিম বাংলার হিন্দু নেতারা চেয়েছিলেন দিল্লীর অধীনে স্বাধীনতা। বাংগালী মুসলমানের সাথে স্বাধীন থাকার চাইতে তারা  দিল্লীর অবাংগালীর অধীনে স্বাধীন থাকাকে অধিকতর কল্যাণময় মনে করেছেন।

শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের সাথে অর্থনৈতিক কারণে বনিবনা না হওয়াতে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে এ অঞ্চলের মুসলমানরা পূর্ব পাকিস্তান বা পূর্ববংগকে স্বাধীন দেশ হিসাবে প্রতিস্ঠা করে। এখন বাংলাদেশের নাগরিকদের পরিচয় হচ্ছে বাংলাদেশী। ভারত বা হিন্দুস্তানের  বাংগালীরা ভারতীয় বাংগালী হিসাবে পরিচিত।  কংগ্রেস নেতারা হিন্দু ভারত বা হিন্দুস্তান প্রতিস্ঠার জেদ না ধরলে ভারত এখন অখন্ড ভারতই থাকতো। অথচ কিছু বাংলাদেশের কিছু জ্ঞানপাপী বলে বেড়ান মুসলমানরা দ্বিজাতি তত্ব দিয়ে ভারতকে ভাগ করেছে। তারা ইতিহাসকে বিকৃত করে হিন্দুস্তানের পক্ষে কথা বলে বা দালালী করে। ভারতের দর্শন নিয়ে এর আগেও আমি একটি কলাম লিখেছি। আজকের কলামেও অনেক পুরাণো কথার পুণরাবৃত্তি করেছি। এর আগেও স্থল সীমান্ত বিরোধ , পানির হিস্যা বন্টন, ব্যবসা বাণিজ্য, সীমান্ত হত্যা ও মুদ্র বিরোধ নিয়ে অনেক কথা বলেছি। বার বার বলছি কারণ বিষয় বা তথ্যগুলো আপনাদের মনে থাকেনা। ভারতের সাথে আমাদের নানা ধরণের বিরোধ রয়েছে। সীমান্ত হত্যা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু ভারত বলছে এসব হত্যা নয়। এ গুলো সাধারন মৃত্যু। আজ পর্যন্ত ভারত সীমান্ত হত্যার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি। ভারত জোর তালপট্টি দখল করে রেখেছে। বাংলাদেশের সমুদ্র সীমায় জোর করে ঢুকে পড়ছে। বাংলাদেশের সীমাকে নিজেদের সীমা বলে দাবী করে চলেছে। এ নিয়ে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে হয়েছে। ভারত এখন অবাধে বাংলাদেশের স্থল ও জল বন্দর ব্যবহার করতে শুরু করেছে। এ তথ্য গুলো

পেশ করলাম শুধুমাত্র ভারত ও এর নীতি বুঝার জন্যে। তিস্তার পানি নিয়ে ভারত যে চাণক্যনীতি নিয়েছে তার সাথে বাংলাদেশ কখনই পারবেনা। চলমান সরকারতো ভারতের বন্ধু সরকার। তাই এখন ভারতের আবদার অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশী। এ সরকারের আমলেই ভারত সবকিছু আদায় করে নিতে চায়, কিন্তু কিছুই দিতে চায়না। চুক্তি করেও তা বাস্তবায়ন করতে চায়না। ৭২ সাল থেকে ভারত বাংলাদেশ অনেক চুক্তি হয়েছে, কিন্তু ভারত তা বাস্তবায়ন করেনি। মুজিব ইন্দিরা চুক্তি আজও বাস্তবায়ন হয়নি। বেরুবাড়ি নিয়ে গেছে, কিন্তু দহগ্রাম আংগরপোতা ফেরত দেয়নি। দেবার কোন লক্ষন দেখা যাচ্ছেনা। ভারত অনায়াসে চুক্তি করে, পরে মামলা করে, না হয় বলে পার্লামেন্টে পাশ করতে হবে। তিস্তার পানি বন্টন নিয়ে নাটক আপনারা দেখতে শুরু করেছেন। মমতা বাণার্জি এখন বলছেন, তিস্তার পানি বন্টনের ব্যাপারে সিকিমের সাথে কথা বলতে হবে। এ নিয়ে বাংলাদেশের ভারতবন্ধু সরকার নিয়মিত অসত্য ভাষন দিয়ে যাচ্ছে। বারত ফেণী নদীর পানি জোর করে তুলে নিচ্ছে। বাংলাদেশ কিছুই বলছেনা। ফেণী নদী বাংলাদেশের নিজস্ব নদী। টিপাই মুখে বাঁধ দেয়ার কাজ ভারত চালু রেখেছে, কিন্তু মিথ্যা ভাষন দিয়ে বাংলাদেশকে বোকা বানাচ্ছে। মিথ্যা কথা বলে ভারত ফারাক্কা বাঁধ চালু করেছে। যে পরিমাণ পানি বাংলাদেশকে দেয়ার কথা তা কখনই দেয়নি। দিল্লী বলে বাংলাদেশকে ৪৬টি পণ্য অবাধে প্রবেশ করতে দেয়া হবে। কিন্তু ভারতীয় ব্যবসায়ীরা তাতে বাধা দান করে। এতকিছু দেখেও বাংলাদেশের মানুষ  ভারতকে কেমন করে বন্ধু হিসবে ভাববে তা বুঝতে পারছিনা। ভারত এখন প্রতিবেশীদের বন্ধুত্বকে গুরুত্ব দেয়না। তার বন্ধু এখন আমেরিকা ইজরায়েল রাশিয়া ও ইউরোপ। এমন কি ভারত গোপনে অনেক বেঈমান মুসলমান নামধারী দেশের সাথে বন্ধুত্ব রক্ষা করে চলেছে।

ভৌগলিক ভাবে বাংলাদেশ অত্র অঞ্চলে একটা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এই সুযোগ দেশের কল্যাণে ব্যবহার করার মতো মেধা সম্পন্ন কোন সরকার আজও আমরা পাইনি। মানসিকভাবে বাংলাদেশের সরকার , মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবীরা খুবই দূর্বল। নিজের স্বার্থের কথাও আমাদের দেশের সরকার আমলা মিডিয়া  ও বুদ্ধিজীবীরা ভাল করে বলতে পারেনা। আমাদের রাজনীতিকরাও এ ব্যাপারে শক্ত অবস্থানে নেই। এমন কি মায়ানমারের সাথেও আমরা সঠিক ন্যায্য সমঝোতা বা দর কষাকষি করতে পারিনা। ফলে প্রতিবেশীরা মনে করে বাংলাদেশকে বোকা বানানো বা দেশের নেতাদের বাগিয়ে নেওয়া খুবই সহজ। আমাদের বিদেশমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে চিত্‍কার বলেছেন ৪০ বছরে কোন সরকার ভারতের সাথে সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারেনি। শুধু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই সমস্যা সমাধানের জন্যে এগিয়ে যায়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে। এ ব্যাপারে দেশের মানুষই ভাল জানেন ও বলতে পারবেন।

লেখক: কবি ও সাংবাদিক

ershadmz40@yahoo.com

Advertisements

Read Full Post »


পশ্চিমা বিশ্বের তথকথিত ব্যক্তি স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, ধর্মীয় বোধ বিশ্বকে এক অনাচারের গ্রহে পরিণত করেছে। ওখানে নারী পুরুষের সমকামীতার আইন পাশ হচ্ছে ব্যক্তি স্বাধীনতার নামে। ধর্মীয় বিধি বিধান মানা না মানা ব্যক্তিগত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আমেরিকান সৈন্যরা বিশ্বব্যাপী যৌনাচার ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে। সেনা বাহিনীতে সমকামীতার স্বীকৃতি দেয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ভ্যাটিকানের বিশ্ব ক্যাথলিকদের ধর্মীয় নেতা পোপের বিরুদ্ধে দরখাস্ত পড়েছে অনাচার বা  যৌনাচারের জন্যে। জগতের সকল প্রাণীর যৌন জীবন আছে। প্রশ্ন হলো মানুষ এবং পশুর যৌন জীবন এক নয়। মানুষকে আল্লাহপাক আশরাফুল মাখলুকাত বা শ্রেষ্ঠ সৃস্টি হিসাবে স্বীকৃতি বা মনোনীত করেছেন। মানুষকে জগতের খেলাফত দান করেছেন। সকল সৃস্টির উপর মানুষের মর্যাদা ও কর্তৃত্ব দান করেছেন। পশ্চিমের মানুষেরা কোন ধর্মগ্রন্থকে এখন আর মানেনা। নবী ঈসা(আ) বা নবী মুসা(আ) কাউকেই তারা সম্মান করেনা।তারা ব্যক্তি স্বাধীনতার নামে নবীদের বিরুদ্ধে কথা বলে। পশুর মতো তাদের যৌন জীবন প্রকাশ্য। সাম্প্রতিক সময়ে ভ্যাটিকানের সম্মানিত পোপ এবং বিশ্বব্যাপী তাঁর  প্রতি নিধিদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার যৌন কেলেংকারীর অভিযোগ রয়েছে।

ফেরাউনদের পরিবারে নাকি ভাই বোনে বিয়ে হতো। তখন এ ব্যাপারে আল্লাতায়ালার নিষেধাজ্ঞা জারী হয়ে গেছে। তবুও তারা অভিজাত্যের কারণে এ কাজটা করতো। চলমান পশ্চিমা  বিশ্বে পিতা কন্যাকে বা ভাই বোনকে ধর্ষন করছে এ রকম খবর মাঝে মাঝেই আমরা মিডিয়ার বদৌলতে পেয়ে থাকি। এছাড়া জোর করে নারী ধর্ষনের কাহিনী আমরা প্রায় প্রতিদিনই পেয়ে থাকি। এইতো ক’দিন আগে আইএমএফ এর সাবেক প্রধান স্ট্রস কানের বিরুদ্ধে জগত কাঁপানো ধর্ষনের খবর পেয়েছি। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্লিন্টনের বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউজ ইন্টার্ণিকে যৌন হয়রানির খবরে জগত কেঁপে উঠেছিল। ফ্রান্সের সারকোজি আর রোমের বারলুসকানির বিরুদ্ধে নিয়মিত যৌন কেলেংকারীর খবর পাওয়া যায়। ইংল্যান্ডের রাজ পরিবার যৌন কেলেংকারীর খবরে চ্যাম্পিয়ন হতে চলেছে। রাজ পরিবারের এ ধরনের কেলেংকারী কয়েকশ’ বছরের পুরাণো। পশ্চিমারা এখন আর তাদের নবী রাসুলদের তেমন মানেনা। এমন কি তাদের ধর্মীয় কিতাব গুলোর কোন গুরুত্ব তাদের কাছে নেই। পশ্চিমা দেশ গুলোর শিক্ষা ব্যবস্থায় এখন ধর্মের কোন গুরুত্ব নেই। স্কুল কলেজ বিশ্ব বিদ্যালয়ের সিলেবাস থেকে ধর্ম নির্বাসনে চলে গেছে। ফলে  পরিবার সমাজ ও রাস্ট্রীয় ব্যবস্থায় মূল্যবোধের অকল্পনীয় পতন ঘটেছে।

ব্যভিচার অনাচার ও মূল্যবোধের পতনের জোয়ার আমাদের দেশে এসে পৌঁছেছে নানা মাধ্যমে। আমাদের স্কুল কলেজেও এখন ধর্মীয় শিক্ষার তেমন কোন গুরুত্ব নেই। খবরের কাগজ গুলোতে নারী নির্যাতন ও ধর্ষনের  প্রতিদিনই প্রকাশিত হচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর বিখ্যাত স্কুলের শিক্ষকের ব্যভিচারের খবর বিরাট প্রতিক্রিয়া সৃস্টি করেছে। জেলা শহর গুলোতেও এসব ঘটনা ঘটছে।কিছুদিন আগেও ইভটিজিং এর ঘটনা মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। এখনও ছিটেফোটা খবর আসছে। বাসর রাতে স্বামী স্ত্রীর উলংগ ছবি তুলে বাজারে প্রচার করছে। স্কুল ছাত্ররা বান্ধবীর উলংগ ছবি তুলে প্রচার করছে। ভার্সিটির বান্ধবী বাথরুমের ছবি তুলে বন্ধুদের দেখাচ্ছে। সবই হচ্ছে নৈতিকতার পতন। রাস্ট্র সমাজ বিচারালয় বা শিক্ষলয়ে নৈতিকতার গুরুত্ব আর নেই। এসব হচ্ছে যৌন ব্যভিচারের বিষয়। ঘুস খাওয়া এখন আর কোন গোপন বিষয় নয়। একেবারেই প্রকাশ্য হয়ে  পড়েছে। সরকার প্রধান থেকে চৌকিদার পর্যন্ত সকলেই ঘুষ খাচ্ছে। ঘুস দিয়ে একজনের সম্পদ জমি জমা আরেক জনের নামে লিখে দিচ্ছে। ঘুষ দিয়ে ক্ষমতাবানরা বিচারের রায় কিনে নিচ্ছে।

জগতের কোন ধর্মই এসব অবৈধ কাজকে বৈধ করেনি। বাইবেল তৌরাত জবুর বা কোরাণে পতিত জাতি ও স্বৈরশাসকদের কাহিনী বার বর্ণনা করা হয়েছে।  অতীতে যেমন প্রাকৃতিক বিভিন্ন ধরণের দুর্যোগ বিভিন্ন জাতি ও জনপদকে ধ্বংস করেছে ,এখনও পৃথিবীতে বড় বড় প্রকৃতিক দুর্যোগ হচ্ছে। যে প্রকৃতি  মানুষ সহ সকল প্রাণীর সেবা করছে সেই প্রকৃতিই মানুষের উপর প্রতিশোধ নিচ্ছে । কিন্তু কেন? কারণ মানুষের অনাচার ব্যভিচার অত্যা্চার সহ্য করতে পারছেনা। আমেরিকার মতো মহা শক্তিশালী দেশকে প্রকৃতিক দুর্যোগ কাবু করে ফেলেছে। চলমান বিশ্বে সবচেয়ে বড় ব্যভিচারী দেশ হলো আমেরিকা।। তারাই আইন পাশ করে সমকামীতাকে বৈধতা দিচ্ছে। ক’দিন আগে ভ্যাটিকানের পোপ বলেছেন তিনি সমকামীতা সমর্থন করেন না।পবিত্র কালামে পাকের সুরা আরাফের ৮০ থেকে ৮৪ আয়াতে লুত (আ ) সদোম ও গোমোরাহ নগরীর কথা বর্ণনা করা হয়েছে। সদোমবাসীরা ছিল সমকামী। তারা তাদের নবীর কথা অমান্য করে বিভিন্ন ধরণের ব্যভিচারে লিপ্ত ছিল। নবী লুত তাদেরকে জগন্য ব্যভিচার থেকে বিরত হওয়ার আহবান জানিয়ে ব্যর্থ হন। আল্লাহপাক তখন সদোম নগরীকে ধ্বংস করে দেন। বাইবেল ও আদি পুস্তকে( ওল্ড টেস্টামেন্ট ) এর বিশদ বর্ণনা রয়েছে। সদোম নগরীর কথা এখন ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতত্ববিদরাও বিশ্বাস করেন। খনন করে নগরীর ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে।

ছামুদ জাতিকে আল্লাহপাক ভুমিকম্প দিয়ে ধ্বংস করেছেন। তারা খোদার অবাধ্য হয়েছে এবং সালেহ নির্দেশ পালন করেনি। ফলে ভুমিকম্প দিয়ে আল্লাহপাক তাদের শাস্তি দেন। এভাবেই আল্লাহপাক গজব পাঠিয়ে আদ সামুদ, নুহনবী ও লুত নবীর কওমকে ধ্বংস করেন। জগতে এ রকম গজব এখনও পতিত হচ্ছে। কিন্তু তা বুঝার জন্যে মানুষের কোন হুঁশ নেই। আমেরিকায় ইতোমধ্যে অনেক বন্যা ও ঝড় সংগঠিত হয়েছে। তবুও তারা ধর্মের দিকে মনোনিবেশ করতে পারেনি। যদিও নৈতিকতার বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আমেরিকার শাসক গণ ফেরাউন নমরুদের মতো ব্যবহার করছে। আমেরিকার বুদ্ধিজীবীরাই এখন বলতে শুরু করেছেন, আমেরিকার পতন শুরু হয়ে গেছে। কোন জাতি অবাধ্য হলে এবং নবী রাসুলদের অমান্য করলে আল্লাহপাক সেই জাতিকে ধ্বংস করে নতুন জাতির বিকাশ ঘটান। জাপানের মতো ধনী দেশকেও সুনামী  ও ভুমিকম্প পাঠিয়ে হুঁশিয়ার করা হচ্ছে। পাকিস্তানেও বছর দুয়েক আগে খুব বড় ধরনের ভুমিকম্প হয়ে গেছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও নানা ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংগঠিত হচ্ছে।

এইতো ক”দিন আগে বাংলাদেশ নেপাল ভারত ভুটানে ভুমিকম্পে বিরাট ক্ষতি হয়েছে। শ’খানেক মানুষ মারা গেছে। ভুমিকম্পের উত্‍পত্তি স্থল ছিল সিকিম। বাংলাদেশে এই ভুমিকম্পের স্থায়িত্ব ছিল এক মিনিট চল্লিশ সেকেন্ড। এতক্ষন স্থায়ী ভুমিকম্প বিগত ৬০/৭০ বছরে হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন ৭/৮ রিক্টার স্কেলে ভুমিকম্প হলে শুধু রাজধানী ঢাকাতেই ৭০ হাজার বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে যাবে। তারা বলেছেন, বাংলাদেশ স্থায়ীভাবে ভুমিকম্প ঝুঁকির ভিতর রয়েছে। আমি নিজেই অনুভব করছি, বাংলাদেশ অনাচার অত্যাচার ও ব্যভিচারে এখন জর্জরিত। সমাজের উপরতলার মানুষগণ ও শাসকরা নিজেদের আইনের উর্ধে বলে মনে করেন। বিচারালয়ের প্রতিটি ইটে ন্যায় বিচারহীন মানুষের কান্নার আওয়াজ শোনা যায়। রাস্ট্রের তথকথিত আইনের অত্যাচারে মানবতা বুটের নীচে চলে গেছে। বাংলাদেশে প্রতিটি মূহুর্তে মানবতা অপমানিত ও লাঞ্চিত। নাগরিকরা অধিকার হারা। রাস্ট্র নিজের নাগরিকদেরই শত্রু মনে করছে। এতো গেল রাস্ট্র বনাম নাগরিক অধিকারের কথা।

আগেও বলেছি ,এখন আবার বলছি। দেশে ব্যভিচার আগের চেয়ে হাজার গুন বেড়ে গেছে। মেয়েরা বেপর্দায় বুক ফুলিয়ে সর্বত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে। স্কুল কলেজে বোরখা বা হিজাব ব্যবহার না করার নোটিশ জারী হচ্ছে মাঝে মধ্যে। নারী স্বাধীনতা অধিকারের নামে মেয়েরা ব্যভিচারী হয়ে উঠেছে। আদালত গুলোতে নারী অধিকারের নামে  হাজার হাজার মিথ্যা মামলা হচ্ছে। মেয়েরা কথায় কথায় তালাক দিচ্ছে। ন্যায় ও সত্যের পক্ষে না থেকে মিডিয়া নারীদের পক্ষে অন্ধভাবে জনমত তৈরী করার চেস্টা করছে। নারী অধিকার ও স্বাধীনতার আইন গুলোর অপ প্রয়োগ প্রতিদিন। তবে একথাও সত্য যে অশিক্ষা ও অজ্ঞতার কারনে এক শ্রেণীর মানুষরূপী অমানুষ নারীদের উপর সীমাহীন অত্যাচার করছে। সবই হচ্ছে সমাজ ও রাস্ট্রের উপরতলার পচনের জন্যে। এ পচন খুবই মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। বাংলাদেশ একটি গরীব দেশ,তার উপরে নেতারা পাপাচারে লিপ্ত। সমাজের এ রকম অবনতি এর আগে আমরা কখনই দেখিনি। বাংলাদেশ এখন সর্বদিক থেকে দ্রুত অবনতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

আল কোরাণের সুরা আরাফের ১৮২ ও ১৮৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহপাক বলছেন, যারা আমার আয়াত ( বাণী, নিদর্শন, চিহ্ন ) প্রত্যাখ্যান করে তাদের আমি ধীরে ধীরে ধ্বংস করি, ফলে তারা বুঝতে পারেনা। আমি তাদের সময় দিই, আমার কৌশল অত্যন্ত বলিষ্ঠ। ১৭৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহপাক বলছেন, অনেক জীন ও মানুষকে আমি সৃস্টি করেছি জাহান্নামের জন্যে। তাদের মন আছে, কিন্তু বুঝেনা । চোখ আছে  দেখেনা, কান আছে শুনতে পায়না। তারা পশুর মতো, না না পশুর চেয়েও অধম। তারাই ছন্নছাড়া। অহংকার শয়তানের আকিদা(২:৩৪)। অহংকারীদের অন্তর সীল করা (৪০:৩৫)। আল্লাহ অহংকারীদের ভালবাসেন না (১৬:২৩ )। আমি এখন পাঠক সমাজের প্রতি আহবান জানাবো, আপনারা বাংলাদেশের চলমান অবস্থার কথা ভাবুন। আমরা আল্লাহর আইন বা ন্যায়নীতি কতটা পালন করছি। অবাধ্য জাতিকে আল্লাহপাক শাস্তি দিবেন এ কথা সব মুসলমানই বিশ্বাস করেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে আমরা বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ শুরু করি। বিদেশী সাহায্য কি রকম পাওয়া যাবে তা নিয়ে হিসাব নিকাশ কষতে শুরু করি। কখনই ভাবিনা আমরা ও আমাদের নেতারা পাপাচারে ডুবে আছি। কে কারা বা কোন দল ক্ষমতায় আসবে তা নিয়ে দলনেতা, বুদ্ধিজীবী হালুয়া মাখন প্রত্যাশীরা ব্যস্ত। দেশের জন্যে  সত্যই  কে বা কারা ভাবছে তা আমি দেখতে পাচ্ছিনা। শুধু রাজনৈতিক কারণে আমরা কাউকে না কাউকে পরোক্ষা বা প্রত্যক্ষভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু নৈতিকতার বিষয়টা নিয়ে কে ভাববে? নৈতিকতা পূণ: প্রতিস্ঠা করার জন্যে জাতির বিবেকবান মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে। রোজার দিনে কোটি কোটি লোক রোজা রাখে। শুক্রবার মসজিদ গুলো কানায় কানায় ভর্তি হয়ে যায়। বড় বড় ইসলামিক দল আছে। দেশের ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমান বলে পরিচিত। তাহলে দেশের এমন দুরবস্থা কেন? ঈমানহীন নামের মুসলমান হাজার কোটি থাকলেইবা কি লাভ? মুসলমানদের ঈমানে গোলমাল আছে বলেই বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের আজ এই করুণ অবস্থা।

মুসলমানদের কল্যাণের জন্যে পাকিস্তান প্রতিস্ঠা করে ৬৫ বছরেও পাকিস্তানের মুসলমানদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি। পাকিস্তানী শাসকরা কয়েক যুগ ধরে আমেরিকার তাবেদারী করেও তাদের অত্যাচার থেকে রক্ষা পায়নি। এখনতো পাকিস্তানের আরও বড় বিপদ। ভারত আর আমেরিকা আমাদের এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তোলার জন্যে হাত মিলিয়েছে। ভারত মনে করে আমেরিকার বন্ধুত্ব তাকে আঞ্চলিক নেতা বানাবে। ভারতের আঞ্চলিক নেতা হওয়ার পথে প্রধান বাধা চীন। ৪০ বছরেও আমাদের বাংলাদেশ দারিদ্র অশিক্ষা থেকে মুক্তিলাভ করতে পারিনি। ৪০ বছরে আমরা না হলাম বাংগালী, না হলাম মুসলমান। ভারতের বিজেপি নেতরা মনে করেন আমরা ৭১ সালে বাংগালী হওয়ার জন্যে পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়েছি। এখন আবার মুসলমান হওয়ার চেস্টা করছি কেন? এমন কি ভারতের বিশ্বস্ত বন্ধু আওয়ামী লীগও সংবিধানে ইসলামের পক্ষে সাফাই গাইছে। বাংলাদেশের মুসলমানদের ঈমানের সমস্যা দেখা দিয়েছে। ভারতীয় মুসলমানরা নিপীড়িত ও নির্যাতিত। পাকিস্তান ভারতের ২৫ কোটি  মুসলমানের জন্যে কিছুই করতে পারেনি। বাংলাদেশ কাশ্মীরী মুসলমানদের পক্ষে একটি কথাও বলতে পারেনা।

মনে হতে পারে ব্যভিচার পাপাচার অনাচারের কথা বলতে গিয়ে রাজনীতির কথায় এলাম কেন। ব্যভিচার পাপাচার থাকলে কোন রাস্ট্র বা দেশ কখনই উন্নতি লাভ করতে পারবেনা। ব্যভিচারীদের দ্বারা কোন দেশ বা রাস্ট্রই পরিচালিত হতে পারেনা। আগেই বলেছি শুধু নামের মুসলমান দ্বারা ইসলামের কোন কল্যাণ হতে পারেনা। কোন দেশ ধনী হয়েছে বা সে দেশের নাগরিকদের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি হলেই সে দেশটি উন্নতদেশ বলা যাবেনা। তাহলেতো কালামে পাকে আল্লা্তায়ালা বিভিন্ন জাতির পতনের কথা উল্লেখ করতেন না। স্বৈরশাসক ফেরাউন নমরুদ ও সাদ্দাদের কথা উল্লেখ করতেন না। কি কি কারণে সে সব জাতি বা স্বৈরশাসকদের পতন হয়েছে তাও আমাদের সুস্পস্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন। আরব বিশ্বে স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে গণ আন্দোলন শুরু হয়েছে। হয়ত সেখানে পশ্চিমী ঢংয়ের গনতন্ত্র চালু হবে। মানুষ ভোট দিতে শিখবে। নির্বাচিত সংসদ প্রতিস্ঠিত হবে। কিন্তু নৈতিকতা কি প্রতিস্ঠিত হবে? আমাদের এই পৃথিবীতে কয়েকশ’কাটি মানুষ মজলুমে পরিণত হয়েছে। জালেমের সংখ্যা তেমন বেশী নয়। কিন্তু তারা দেশ ও রাস্ট্র ক্ষমতা দখল করে আছে। আল্লাহপাক বলেছেন, মজলুমের কান্নায় তাঁর আরশ কেঁপে উঠে। তিনি মজলুমের চোখের পানিতে জালেমের গদীতে আগুন লাগান। কিন্তু জালেমরা তা বুঝতে পারেনা। পতন পরাজয়ের হাজারো ইতিহাস পাঠ করেও জালেমদের শিক্ষা হয়না। আল্লাহপাক বলেছেন, কোন জাতি নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের উদ্যোগ না নিলে তিনি তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করেন না।

জাগতিক হিসাবে আমেরিক এখন বিশ্বের একমাত্র নেতা। সারা পৃথিবীকে অশান্ত করে তুলেছে আমেরিকা। কথায় দেশ দখল করে ফেলে। বিশ্ববাসীর মতামতকে উপেক্ষা করে ইজারায়েলকে সমর্থন করে খোদ ইজরায়েলে যখন মানুষ দলে দলে রাস্তায় নেমেছে জায়নবাদীদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে। কালামে পাকে খোদা নিজেই বলেছেন, তিনি মানুষকে জগতে স্বাধীন করে সৃস্টি করেছেন। আল্লাহর আইন প্রতিস্ঠা করার জন্যেই মানুষকে জগতে সার্বভৌম করা হয়েছে। মানুষকে ন্যায় অন্যায় শিক্ষা দিয়েছেন। জগত শাসনের জন্যে আইন জারী করেছেন। মানুষকে বিবেক দিয়েছেন ভাল মন্দ বুঝার জন্যে। জালেমের বিরুদ্ধে লড়াই করার নির্দেশ দিয়েছেন। জালেমের পতন অবশ্যম্ভাবী। খোদ আমেরিকার স্বাধীনচেতা কর্পোরেট অর্থনীতি বিরোধী বুদ্ধিজীবীরা বলতে শুরু করেছেন আমেরিকার পতন আর বেশী দূরে নয়। খুব বেশী হলে আর ৫০ বছরের মধ্যাই আমেরিকার চলমান নেতৃত্ব খতম হয়ে যাবে। আমারিকার জুলুমাতের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

আমেরিকার জুলুমাতের ছায়া আমাদের দেশেও পড়েছে। বাংলাদেশের মজলুম হয়ে পড়েছে ব্যভিচার পাপাচার ও অনাচার সহ্য করে। আমেরিকার জালেমদের বন্ধুরা এখন বিভিন্ন দেশে ক্ষমতা দখল করে বসেছে। গণ জাগরন না হলে এ দেশের ও মানুষের মুক্তি হবেনা। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে ভুমিকম্প অবশ্যই হবে। আমরা নিশ্চিন্ন হয়ে যাবো। দেশের মানচিত্র পরিবর্তন হয়ে যাবে ভুমিকম্প সুনামীর কারণে। শুরুতেই তাই সদোম ও গোমোরাহর কথা বলেছি। সদোমের আশে পাশে কোথাও এখন প্রাণের ছোঁয়া নেই। সমগ্র এলাকা এখনও সালফারে ঢেকে আছে। তাই বলছি, আসুন বিবেকবান সব মানুষ একত্র হয়ে নৈতিকতা প্রতিস্ঠা করি। আল্লাপাকের গজব থেকে এই মজলুম জাতিকে রক্ষা করি।( নয়া দিগন্ত, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০১১)

লেখক: কবি ও সাংবাদিক

ershadmz40@yahoo.com

Read Full Post »


ভারতের প্রথম প্রধান মন্ত্রী পন্ডিত জওহার লাল নেহেরু মহাভারতের স্বপ্ন দেখতেন। তাঁর স্বপ্নটা ছিল একেবারেই কল্লনা প্রসূত। তিনি মনে করতেন প্রাচীন ভারত মানে কম্বোজ (আফগানিস্তান) থেকে কম্পুচিয়া ( কম্বোডিয়া ) পর্যন্ত। কাশ্মীরী ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান হিসাবে পন্ডিতজী মনে করতেন ভারত ব্রাহ্মণদের সম্পদ।তবে তিনি একটি সত্যকথা তাঁর স্মৃতিকথায় উল্লেখ করেছেন। তা হলো প্রাচীন ভারতীয়রা ইতিহাস রচনা করতে জানতো না। সেজন্যে প্রাচীন ভারতীয়দের ভিতর বড় কোন ইতি্াসবিদের নাম শোনা যায়না। বিদেশ থেকে আগত আর্যরাই ভারতকে অনার্য মুক্ত করেছে। শিব, মহাদেব, রাবণ ও মহীষাসুর ছিলেন অনার্য দেবতা ও রাজা মহারাজা। কিছুটা সমঝোতা, কিছুটা দমন করেই আর্যরা সারা ভারত খল করে নেয়। হিন্দু বাংগালীদের মহাপ্রিয় ও সম্মানিত দেবী দূর্গা একজন শ্বেতবর্ণ সুন্দরী আর্যদেবী। বড় বড় আর্য দেবতারা জোট গঠন করে তাঁকে নেত্রী হিসাবে বরণ করেন এবং অনার্য দেবতা ও রাজা মহারাজাদের দমন করার ক্ষমতা দান করেন। আর্যরা স্থানীয় ভুমিপুত্রদের অসুর মনে করতেন। যেমন তাঁরা বহিরাগত মুসলমানদের ম্লেচ্ছ বা যবন মনে করতেন। প্রখ্যাত গবেষক  ভগবান  গিদওয়ানী তাঁর ‘ রিটার্ণ অব দি এ্যারিয়ানস’ বইতে  লিখেছেন হাজার  পাঁচেক বছর আগে  আর্যদের মুল বসত ছিল মহাভারত। আর্যরা বেরিয়েছিল বিশ্ব বিজয়ে পাঁচ হাজার বছর আগে। তারপর তাঁরা মাতৃভুমি ভারতে  ফিরে এসেছেন তিন হাজার বছর আগে। এসব হলো ভগবান গিদওয়ানীর নিজস্ব গবেষণা। গিদওয়ানী সাহেব ‘সোর্ড অব টিপু সুলতান’ লিখে খুবই নাম করেছিলেন। এটা পরে টিভি সিরিয়াল হয়েছিল। গিদওয়ানী সাহেব এখন বোধ হয়  ভারতের বিজেপির সদস্য। তিনিও মহাভারত নামক এক দেশের স্বপ্ন দেখেন।

ইরানের রেজা শাহ পাহলভী নিজেকে আরিয়া মেহের বা আর্য সূর্য  মনে করতেন।আরিয়া মানে আর্য। আর মেহের মানে সূর্য। তিনি ধুমধাম করে আর্য পাহলভীদের আড়াই বছর পালন করেছিলেন। নানা দেশের রাজা মহারাজা বাদশাহ ও রাস্ট্র নায়করা মেহমান হয়েছিলেন ওই অনুস্ঠানের। ইরানীরাও নিজেদের আসল আদি আর্য মনে করে। জার্মানরাও নিজেদের আর্য মনে করে। তারা এখনও বলে ইরানীরা তাদের কাজিন। ভারতের রূপকথা ও ইতিহাস বলে খ্যাত মীথ রামায়ন মহাভারত গীতা ও সংহিতা গুলোতে আর্য আইন ও বিজয়ের গাঁথা বর্ণিত হয়েছে। হাজার বছরের বিবর্তনে ভারতীয়রা কবি শ্রুতিধর লেখকদের ওই সব বইকে ধর্মগ্রন্থ বলে মনে করে। আর্য বলে পরিচিত ও দাবীদার বিজয়ীরা নিজেদের ব্রাহ্মণ হিসাবে জাহির করেছে। তারাই ধর্ম যাজক ও শাসক। হাজার বছরের পুরাণো এইসব কাহিনী এখন আর পরিবর্তন বা শোধরাবার কোন উপায় নেই। এসব বিশ্বাসে পরিণত হয়েছে। আর্যরা স্থানীয় রাজা বা ভুমিপুত্র রাবণকে অসুর বা রাক্ষস বলে প্রচার করেছে। মহিষাসুরকেও অসুর হিসাবে আখ্যায়িত করেছে। বাংগালী হিন্দুদের মহাদেবী দূর্গা মহিষাসুরকে পরিজিত করেছেন। অনার্য, দ্রাবিড় বা স্থানীয় রাজাদের পরিজিত করে তারা অসুর বলে আখ্যায়িত করেছে।

ভারতত্ব নামে একটি গবেষণা বই লিখে গেছেন মহাজ্ঞানী আলবিরুণী। আলবিরুণীর আসল নাম আবু রায়হান মুহম্মদ বিন আহমদ আলবিরুনী। তিনি ভারত বিষয়ে মূল বইটি লিখেছেন আরবী ভাষায়। মূল আরবী থেকে এই মূল্যবান বইটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আবু মহামেদ হাবিবুল্লাহ। বিরুণী মানে বহিরাগত। ১৯৭৩ সালে মহাজ্ঞানী আলবিরুণীর জন্ম হাজার বর্ষ পালিত হয়েছে। ভারততত্বই হলো ভারত বিষয়ে বিদেশী ভাষায় প্রথম বই। এই বইটি সারা বিশ্বব্যাপী ভারত বিষয়ক আকর গ্রন্থ হিসাবে বিবেচিত। একই সময়ের আরেকজন মহাজ্ঞানীর নাম এখানে উল্লেখ করার লোভ সামলাতে পারছিনা। তিনি হচ্ছেন বেখারার প্রখ্যাত দার্শনিক ও বিজ্ঞানী শেখ বু আলী ইবনে সিনাহ। সিনাহ বয়সে বিরুণীর ছোট ছিলেন। দুজনের ভিতর পত্রালাপ ছিল। ভারতত্বে আলবিরুণী ভারতীয়দের হিন্দুদের অজ্ঞানতা ও মুর্খতার বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন। এমন কি হিন্দুরা বিজ্ঞান জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশ্বাস করতোনা। রসায়নশাস্ত্রকে তারা  যাদুবিদ্যা মনে করতো।

ভারতীয়রা আজও কুসংস্কারে বিশ্বাস করে। তারা কবিদের রচিত কাব্যকে তাদের ধর্মগ্রন্থের মর্যাদা দিয়েছে। তারা আনবিক বোমা বানায়, বিজ্ঞান শাস্ত্রের সর্বোচ্চ শিখরে উঠার চেস্টা করছে। এই ভারতীয়রাই আবার অমানবিক বর্ণবাদে বিশ্বাস করে। ৩০ কোটি হিন্দুকে তারা মানুষের মর্যাদা না দিয়ে অচ্যুত বানিয়ে রেখেছে। ৩০ কোটি মুসলমানকে তারা আজও বিদেশী মনে করে। ভারতের দক্ষিণকে  ব্রাহ্মণরা অচ্যুত মনে করতো। দিক্ষণের মানুষরা হাজার বছর লড়াই করে নিজেদের মানবিক মর্যাদা প্রতিস্ঠা করেছে। দক্ষিণের মানুষরা রাজা রাবণকে বীর মনে করেন। সেই রাবণকে উত্তরের আর্যরা রাক্ষস অসুর ইত্যাদি নামে অপমান করে। চাণক্যের শঠতাকে আধুনিক ভারত কূটনীতি হিসাবে চর্চা করে। ইংরেজদের মেকিয়াভেলীকে তারা  চাণক্যের আধুনিক সংস্করন মনে করে। বিদেশনীতির ক্ষেত্রে ভারত চাণক্য ও মেকিয়াভেলীর নীতি অনুসরণ করে এখনও। ভারতের বিদেশনীতির নির্ধারক হচ্ছে চাণক্যপুরী। রাজনীতিকরা কি বললো তাতে কিছু আসে যায়না। বেশ কয়েক বছর আগে আমি পশ্চিম বাংলার মূখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বাবুর সাক্ষাত্কার নিয়েছিলাম। পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা তুললে তিনি নরম ভাষায় বললেন, দেখো, এ বিষয়টা নিয়ে কথা বলছে ঢাকা আর দিল্লী। আমরা তেমন কিছুই জানিনা। তাছাড়া আমাদের নিজেদেরও পানির প্রয়োজন। উল্লেখ্য যে, ভারতে নদী ও পানি ব্যবস্থাপনা নাকি রাজ্য বা প্রদেশের বিষয়। ফলে মমতা বাণার্জী না করে দেয়ায় দিল্লী  কোন নদী নিয়েই কথা বলতে পারেনি। এখন শোনা যাচ্ছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতার সাথে কথা বলতে যাবেন। এবার আপনারাই বলুন, এটা ভারতের কূটনীতি কিনা? ভারতের এমন কূটনীতিকে সমর্থন বা সহযোগিতা করার জন্যে লোকের কোন অভাব নেই। মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধের চেতনা ও প্রতিবেশীর বন্ধুত্বের দোহাই দিয়ে ভারতের পক্ষে কথা বলার লেকের অভাব নেই। একজন অচেনা অজানা আধা বিদেশী  লোককে সরকার দায়িত্ব দিয়েছেন ভারতের সাথে বাংলাদেশের স্বার্থের বিনিময়ে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে তোলার জন্যে। এই লোকটি হলেন আন্তর্জাতিক জ্ঞানী গুণী আমলা গওহর রিজভী। তাঁর বাড়ি কোথায় কেউ জানেনা। শোনা যায়,আমাদের প্রধানমন্ত্রী তাঁর বিদ্বান পুত্র  শেখ জয় হাসিনা ওয়াজেদের অনুরোধে এই রিজভী সাহেবকে ধার এনেছেন ভারত বাংলাদেশ সমস্যা সমাধানের জন্যে। রিজভী সাহেব এ ব্যাপারে সত্যিই খুবই যোগ্যলোক। তিনি ফোর্ড ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি হিসাবে দিল্লীতে ছিলেন বেশ কয়েক বছর। সেখানে তিনি ভারতের বুদ্ধিজীবীদের মাঝে কাজ করেছেন। বেশ কয়েক মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন বুদ্ধিজীবীদের জন্যে। আন্তর্জাতিক বাজারে তিনি এখন সাউথ এশিয়ান কনফ্লিক্ট  রেজুলিউশান এক্সপার্ট হিসাবে চিহ্নিত। তবে তিনি মুরুব্বীর নির্দেশে যে কোন দেশে যেতে পারেন যেকোন পদবী নিয়ে। ভারত ও মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের মর্জি মোতাবেক তিনি এখন বাংলাদেশে মন্ত্রীর মর্যাদায় কাজ করছেন। কাজ শেষ হয়ে গেলে নিজদেশে বা অন্যকোন দেশে এসাইনমেন্ট নিয়ে চলে যাবেন।

পেছনের কথা গুলো তুলে ধরলাম আপনাদের সুবিধার্থে। ভারতের সাথে প্রtiবেশী হিসাবে থাকতে হলে বা বাঁচতে হলে ভারতের মনোজগত কি জানতে হবে। আর্য হিসাবে ভারত ইরাণ ও জার্মানীর চাচাতো বা খালাতো ভাই। ইরাণের সাথে ভারতের এখনও গভীর ব্যবসায়িক সম্পর্ক আছে। ভারতের অগ্নি উপাসক বা জরথস্ত্রুর আদর্শে বিশ্বাসীরা অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রেখে চলেছে। অগ্নি উপাসকদের বিশ্ব হেড কোয়ার্টার হচ্ছে মোম্বাই। ভারতের বিখ্যাত টাটা পরিবারও পার্সি। ইরাণ এদের উত্‍পত্তি স্থল হলেও এখন ইরাণে পার্সিদের কোন স্থান নেই। একইভাবে বাহাইদের উত্‍পত্তি স্থলও ছিল ইরাণ। এখন ইরাণে কোন বাহাই নেই। তারা তাদের সদর দফতর ইজরায়েলে স্থানান্তর করেছে। একই ভাবে ভারতের সাথে ইজরায়েলের সুসম্পর্ক রয়েছে ১৯৪৭ সাল থেকে। ভারতই ইজরায়েলকে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে। যে ইজরায়েলের সাথে বাংলাদেশ সহ মুসলীম বিশ্বের কোন সম্পর্ক নেই। চলমান ফিলিস্তিন ও ইজরায়েল সম্পর্কের তাকিয়ে দেখুন। ভারতের সাথে ইজরায়েলের সু সম্পর্ক থাকার কারণে ফিলিস্তিন তার কাছ থেকে তেমন জোরালো সমর্থন পায়না।মুসলীম বিশ্বের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে হলে বা জানতে হলে বুঝতে হবে মুসলমানদেরকে বিশ্বের কোন দেশ কিভাবে দেখছে। এমন কি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ভিতরও স্বার্থ জড়িত নানা ধরনের দ্বন্ধ বিরাজ করছে। যেমন সউদী আরব ও ইরাণের সম্পর্ক তেমন ভাল নয়। সউদী সরকার সব সময় আমেরিকার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলছে। সউদী সরকারের সাথে ভারতেরও সুসম্পর্ক রয়েছে। আমরা মুসলমান মিসকীন হিসাবে দান সাদাকা পেয়ে থাকি। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের সাথে ভারত সহ তার মিত্রদের  সুসম্পর্ক থাকার প্রধান কারণ এই সরকার বাংলাদেশকে মুসলমানদের দেশ মনে করেনা। তাই বার বার প্রশ্ন উঠে আমরা বাংগালী না বাংলাদেশী, আমরা মুসলমান না বাংগালী। আওয়ামী লীগ ও তার দেশী ও বিদেশী মিত্ররা বাংলাদেশকে শুধুই সেকুলার বাংগালীদের দেশ হিসাবে দেখতে চায়। আওয়ামী লীগ মনে করে বা আওয়ামী লীগের আদর্শ হলো ধর্ম একটা ব্যক্তিগত ব্যাপার। এর সাথে রাস্ট্র বা সরকারের কোন যোগাযোগ থাকতে পারেনা। ভারতও বাংলাদেশকে একটা ধর্মহীন(সেকুলার) দেশ বা রাস্ট্র হিসাবে দেখতে চায়। ভারত নিজেও সেকুলারিজমের জামা গায়ে দিয়ে বছরে এক হাজারটা দাংগা  সংগঠিত করে। ‘মওত কা সওদাগর’ নামে বহুল পরিচিত ভারতের নরেন্দ্র মোদী আগামী দিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে চান। তিনি বিজেপি’র একজন ডাক সাইটে নেতা। তিনি মুসলমানদের রক্তে হোলি খেলেন। গুজরাটের মুসলীম নিধন যজ্ঞের কথা আপনারা নিশ্চয়ই ভুলে যান।

আমাদের দেশের কিছু বুদ্ধিজীবী নরেন্দ্র মোদীদের দাংগার প্রতিবাদ করাটাকেও সাম্প্রদায়িকতা মনে করেন। তাই তারা ভারতের দাংগার কখনই প্রতিবাদ করেনা। এইতো  মাস খানেক আগে বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত একটি পাক্ষিক ম্যাগাজিন উপমহাদেশের দাংগার ইতিহাস সম্পর্কে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে দাংগার জন্যে মুসলমানরাই দায়ী। আরও কিছু বুদ্ধিজীবী বা রাজনীতিক আছেন যাঁরা মনে করেন পাকিস্তান প্রতিস্ঠিত হয়েছে সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে। জিন্নাহর সাম্প্রদায়িক দ্বিজাতি তত্বের কারণে পাকিস্তান সৃস্টি হয়েছে। এ চিন্তাধারায় বিশ্বাস করেন তাঁরা অখন্ড ভারতে বিশ্বাস করেন। ক’দিন আগে আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ বলেছেন, বাংলাদেশ ভারত একই ঐতিহ্যের একটি দেশ ছিল। আওয়ামী লীগের বর্তমান চিন্তাধারার দিক থেকে বিচার বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে সৈয়দ আশরাফ ঠিক কথাই বলেছেন। তাহলে প্রশ্ন উঠে বংগবন্ধু বা সৈয়দ নজরুল সাহেব কি পাকিস্তান আন্দোলন করে কি ভুল করেছিলেন। অথবা বলতে হবে, বর্তমান আওয়ামী লীগের আদর্শ আর বংগবন্ধুর আওয়ামী লীগের আদর্শ এক নয়। এমন কি আওয়ামী মুসলীম লীগ প্রতিস্ঠাও ভুল ছিল।আরও প্রশ্ন উঠে আওয়ামী লীগ ও ভারতের রাজনৈতিক আদর্শ এক হলো কেমন করে? এসব উত্তর কি  তা দেশের জনগণই ঠিক করবেন। আমি শুধু প্রশ্নগুলো তুলে ধরলাম। আমার চিন্তাধারা ভুল কি শুদ্ধ তা নির্ধারন করার দায়িত্বও আমি দেশবাসীর উপর ছেড়ে দিলাম।

বাংলাদেশের কাছে ভারত বন্দর রাস্তাঘাট ব্যবসা বাণিজ্য চায় এটা কোন নতুন বিষয় নয়। প্রতি বছর আইনী ও বেআইনী ভাবে ভারত বাংলাদেশের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করে। বিনিময়ে বাংলাদেশ ৫শ’ কোটি টাকার ব্যবসাও পায়না। ভারতের সরকার এক কথা বলে আর চাণক্যনীতিতে বিশ্বাসীরা আরেক কথা বলে। ভারত কিছু  চাইলেই আমরা বন্ধু বিবেচনায় সংগে সংগে তা দিয়ে দিই। যেমন বংগবন্ধু  এক কথায় বেরুবাড়ি দিয়ে দিয়েছেন, বিনিময়ে তিনি বিঘা করিডোর আজও আমরা পাইনি, ফলে দহগ্রাম ও আংগরপোতায় আমাদের সার্বভৌমত্ব প্রতিস্ঠিত হয়নি।। ভারত ৪৮ সালে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের সুযোগ চেয়েছিল। সেই থেকে ভারতের এই প্রচেস্টা অব্যাহত ছিল। এখন শুধু বন্দর নয় , করিডোর ট্রানজিট ও  বাংলাদেশের জমি জমা বাড়িঘর নিয়ে নিচ্ছে। আমরা যদি একটু স্বাধীন নীতি গ্রহন করতে যাই তখনি পার্বত্য চট্টগ্রামে গোলযোগ শুরু হয়ে যায়। পাহাড়িদের বাংলাদেশের বিরুদ্ধে উসকানী দেয়া হয়। বিদ্রোহীদের নেতা সন্তু লারমাকে বীর হিসাবে সম্মানিত করা হয়। কারণ, সন্তু পাহাড়ে বসবাসকারী সমতল ভুমির মানুষদের ও  বাংলাদেশের সেনা বাহিনীকে হত্যা করে। সন্তু এখন আবার বিদ্রোহ করার হুমকি দিয়েছে।

পাকিস্তান সৃস্টির পর থেকে ভারত তার বিরুদ্ধে লেগে আছে। নেহেরুজীর স্বপ্নের মহাভারতের ভিতর একটি মুসলমান দেশ এটা ভারত কখনও মেনে নিতে পারেনি। ইতোমধ্যে ছোট খাট অনেক গুলে যুদ্ধ করেছে ভারত পাকিস্তানের সাথে। ভারত নিজদেশের মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ লিপ্ত আছে বিগত ৬৫ বছর। দখল করে নিয়েছে হায়দ্রাবাদ, গোয়া দমন দিউ। কাশ্মীরের একাংশ দখল করে রেখেছে। গণভোট দেয়ার কথা রাজী হয়েও গণভোট দেয়নি। প্রতিবেশী দেশ সিকিম দখল করে নিয়েছে সিকিম কংগ্রেসকে দিয়ে। সিকিমের সংসদ আইন পাশ করে ভারতের সাথে যোগ দিয়েছে। ১৭৫৭ সাল থেকেই ভারতের হিন্দুরা ইংরেজকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। হিন্দু নেতারা মনে করতেন মুসলমান  আর খৃস্টানের ভিতর কোন ফারাক নেই। মুসলমান শাসক আর হিন্দু শাসকের তফাত্‍ কোথায়? তাই তাঁরা  চোখ বন্ধ করে ইংরেজদের সমর্থন দিয়েছেন। ১৮৮৫ সালে ইংরেজ সাহেবরাই কংগ্রেস গঠণ করে দিয়েছেন। ইংরেজরা শুরু থেকেই মুসলমানদের বিশ্বাস করতে পারেনি। তাই তারা কংগ্রেস প্রতিস্ঠা করেছিল ভারতবাসীর কথা শোনার জন্যে। শুরুতে মুসলমানরাতো কংগ্রেসের সাথেই ছিল। জিন্নাহ সাহেবও কংগ্রেসের নেতা ছিলেন। কিন্তু গান্ধীজী, নেহেরুজী ও প্যাটেলজী মুসলমানদের অধিকার নিয়ে কোন কথা বলতেই নারাজ ছিলেন। তাঁরা বলতেন আমরা সবাই ভারতবাসী। এখানে হিন্দু মুসলমানের বিষয়টা গৌন। মুসলমানেরা যখন দেখলো কংগ্রেসে থেকে তাদের দাবী দাওয়া শুনাবার বা আদায় করার কোন সুযোগ নেই তখনি তাঁরা ১৯০৬ সালে  মুসলীম লীগ প্রতিস্ঠা করেন। বহু আলাপ আলোচনা দেন দরবার হয়েছে। কিন্তু মুসলমানদের কথা শুনতে কখনই রাজী হয়নি। ফলে মুসলমানরা বাধ্য হয়ে পাকিস্তান প্রতিস্ঠার দাবী তোলে ১৯৪০ সালে। ১৯৪৭ সালে স্বাধীন অখন্ড বাংলাদেশ প্রতিস্ঠার দাবীও কংগ্রেস নেতারা মানতে রাজী হননি। এখন বাংগালীদের জন্যে দিল্লীর কান্নাকাটি দেখলে অবাক হওয়া ছাড়া কোন গত্যান্তর থাকেনা। সারা ভারতবাসীর লিংগুয়াফ্রাঁকা বা সাধারন ভাষা হচ্ছে হিন্দী। এই হিন্দী ভাষাটাও তৈরী করেছে মুসলমানরা। এটা প্রায় উর্দুর মতোই ।এখন ভারতীয়রা হিন্দীতে প্রচুর সংস্কৃত শব্দের প্রবেশ ঘটিয়েছে।  শুধু স্ক্রীফট বা হরফ গুলো নিয়েছে দেব নাগরী থেকে। ভারতের বহু অঞ্চলে এখনও উর্ধুতে কথা বলে সাধারন মানুষ। এদিকে দিল্লী বাংলাদেশের মানুষকে পশ্চিম বাংলার মতো বাংগালী বানাবার জন্য  বছরে দেড়-দুই হাজার কোটি টাকা খরচ করে। যা আমাদের সংস্কৃতি নয় তার প্রচারের জন্যে মোবাইল ফোন কোম্পানী ও বহুজাতিক কোম্পানী গুলোকে ব্যবহার করছে। সোজা কথায় বলা যায় দিল্লীর মিশন হচ্ছে তাদের পছন্দমতো বাংগালী বানানো। উপমহাদেশে  মুসলমানরা যদি অচ্যুত হিসাবে বাস করে তাহলে দিল্লীর কোন আপত্তি নেই।

চীনের সাথে ১৯৬২ সালে ভারতের যুদ্ধ হয়। সে যুদ্ধে ভারত হেরে যায়। এক সময় শ্লোগান ছিল‘ চীনী-ভারত ভাই ভাই’। এখন আর সেই শ্লোগান নেই। এখন চীনের সাথে ভারতের সীমান্ত বিরোধ লেগেই আছে। ভারত চীনের বহু অঞ্চল দখল করেছে। অপরদিকে আমেরিকা ভারতকে চীনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার জন্যে যাবতীয় সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সেদিন কি আর আছে? আমেরিকার নিজেরই এখন সেই শক্তি নেই। ভারত চীনকে শায়েস্তা করবে এ ধরনের চিন্তা স্বপ্ন অলীক। চীনকে না পারলেও ভারত আশে পাশের প্রতিবেশী দেশগুলোকে অনুগত করে রাখতে চায়। নেপালে যাবতীয় বিবাদ বিসম্বাদ লাগিয়ে রেখেছে। ভুটানের কোন কথা বলার ক্ষমতা নেই। রাবনের দেশ( যদিও রাবণও একজন হিন্দু) শ্রীলংকাকে অস্থির করে রেখেছে বিগত ৪০ বছর ধরে। এসব হলো ভারতের আগ্রাসী নীতির দর্শন। তার নীতি হলো চাণক্য নীতি। যাকে যেমন করে পারো পরাভুত করো বা অনুগত করো। বাংলাদেশের শাসক গোস্ঠি এ বিষয়ে ওয়াকিব হাল নয় বলেই যত সমস্যা।

লেখক: কবি ও সাংবাদিক

ershadmz40@yahoo.com

Read Full Post »


টুপি পাগড়ী বা যে কোন ধরনের হেডগিয়ার নিয়ে আমাদের আদালতে হাজির হওয়া যাবে কিনা এই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাকিস্তান আমলেও এ বিষয়ে একটি ঘটনা বা গল্প শুনেছি। পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের তুখোড় সদস্য মৌলভী( তখন সম্মানার্থে এই পদবী ব্যবহার করা হতো) ফরিদ আহমদ সদ্য পবিত্র হজ্বব্রত পালন করে আদালতে হাজির হয়েছিলেন। তখন মাননীয়  আদালত নাকি বলেছিলেন, ‘ মিস্টার ফরিদ, উই ডু নট সি ইউ’। এরপর মৌলভী ফরিদ নাকি দু:ক প্রকাশ করে মাথার টুপি খুলে নিয়েছিলেন। সম্প্রতি আমাদের মাননীয় আদালত এ রকম একটি নির্দেশ দিয়েছেন  টুপি পরা একজন ডাক্তারকে। নির্দেশ দিয়েছেন আদালতকে সম্মান করতে। আমি নিজেও মনে করি নিয়ম কানুন বিধি মেনে আদালতকে  মান্য করা উচিত। এর আগেও আমি এ ধরনের বিষয়ে একটি নিবন্ধ লিখেছিলাম দৈনিক নয়া দিগন্তে। তখন বিষয়টা ছিল, সাবেক প্রধান বিচারপতি জনাব খায়েরুল হক সাহেবের একটি মন্তব্য নিয়ে। একদিন খবরের কাগজে দেখলাম, তিনি বলেছেন, ‘ আমরা  আদালতের সিঁড়ি বেয়ে উঠার সময় ইয়া আদলু ইয়া আদলয় বলতে বলতে উঠি’। আদলু শব্দটি আরবী এবং মহান আল্লাহর নাম। মহান গুন বাচক শব্দটি এখন আল্লাহপাকের নামের সাথে ব্যবহার করে লাভ নেই। কারণ, আমরা যাকে বা যাদের ভয়  করি তাদের সবার আগেই এই গুণ বাচক শব্দ ব্যবহার করি। যেমন আমাদের মহান সেনাবাহিনী, এ রকম আরও বহু কিছুর আগে আমরা লিখি ও বলি মহান অমুক। আল্লাহপাক নিজেই একজন বিচারক। বিচারদিনে তিনি মানব জাতির বিচার করবেন। তিনি ন্যায় বিচারের তাগিদ দিয়েছেন। সমস্যা হলো আমাদের আদালত ও সম্মানিত বিচারকগণ আল্লাহর আদালতের বিচারক নন। এখানে সবকিছুই বৃটিশ আইন মোতাবেক চলে। তাঁরা শপথ গ্রহণ করেন দেশের সংবিধানের বিধান মোতাবেক। বৃটিশ শাসন আমল থেকেই এই নিয়মে দেশ ও আদালত চলছে। সুতরাং কেউ যদি এমন আদালতের বিচারক হয়ে ইয়া আদলু ইয়া আদলু জপ বা জিকির করেন তা নিজের সাথেই এক ধরনের ভাঁওতাবাজি। নিজের সাথেই প্রতারনা। কিন্তু কি করা যাবে। এতেতো বিচারক বা আদালতের কোন দোষ নেই।

বৃটিশ আমলেই নিয়ম করা হয়েছে বিচারকরা কি পরবেন, কি ভাবে চলবেন। সাথে সাথে আমাদের উকিল ব্যারিস্টার সাহেবরাও বৃটিশ সাহেবদের বেঁধে দেয়া নিয়ম মেনে চলেন। কখনও ভাবেননি দেশটা স্বাধীন হয়ে যাবার পর পুরাণো অনেক নিয়মের আর প্রয়োজন নেই। সুপ্রিম কোর্ট বার সমিতি আর আদালত একমত হলেই অনেকগুলো নিয়ম বাদ দেয়া যেতো। কারণ ওগুলো কোন আইন বা বিধান নয়। এক ধরনের সংস্কৃতি। বৃটিশ  সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা লর্ড টাইটেল বা মর্যাদা পেয়ে থাকেন। ওখানে ইয়োর লর্ড বলা একটা নিয়ম। কারণ তাঁরা সত্যিকারেই লর্ড। আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের ইয়োর অনার বললেই চলে। শুনেছি ভারতেও নিয়ম বদলানো হয়েছে। ওখানেও শুধু ইয়োর অনার বললেই চলে। বাংলাদেশে চলেনা। কারণ এখানে পুরাণো নিয়ম ও সংস্কৃতি এখনও জারি আছে। তাই মাথা নেয়াতে হয়। টুপি পরা নিষেধ। কারণ লর্ড সাহেবদের সমুখে অন্য কেউ হেড গিয়ার বা টুপি পরতে পারবেনা। বৃটিশ লর্ড সাহেবরা মনে করেন এতে তাঁদের অবমাননা করা হয়। রাজা বা বাদশাহর সামনেও মাথা নোয়াতে হয়। তবে মুসলমান বাদশাহদের সমুখে টুপি বা পাগড়ী পরতে কোন বাধা নেই। কিন্তু মাথা নোয়ানোটা ইসলাম সম্মত নয়। একমাত্র আল্লাহপাক ছাড়া জগতে আর কারো সমুখে মাথা নোয়ানের হুকুম নেই। একথাটা আমাদের সম্মানিত বিচারপতিরাও জানেন। তাঁদের ভিতর অনেকেই ব্যক্তিগত জীবনে ইসলাম মেনে জীবন যাপন করেন।

প্রসংগিক কিনা জানিনা, তুবুও এখানে সম্মানিত বিচারক ভাইদের বলতে চাই , আপনারা ইদানিং সুয়োমটো বা স্বপ্রণোদিত হয়ে সমাজের কল্যাণের জন্য অনেক কাজ করছেন। আল্লাহপাক নিশ্চয়ই আপনাদের ভাল কাজের জন্য পুরস্কৃত করবেন। আমি নিজেও আপনাদের জন্য দোয়া করি। বৃটেন , আমেরিকা ভারতের অনেক সম্মানিত বিচারক নিয়মিত মদ্যপান করেন। সেটা তাদের দেশের সংস্কৃতি। তাদের ধর্মেও হয়ত নিষেধ নয়। আমাদের সংস্কৃতি ও ধর্মে মদ্যপান নিষিদ্ধ। তবুও নানা অজুহাতে বড় বড় বুদ্ধিজিবী নামজাদা মানুষেরা ক্লাবে হোটেলে গিয়ে মদ্যপান করেন। অনেকে নিজের বাসাতেও এ ব্যবস্থা রেখেছেন। কারণ তাঁরা সবাই সমাজের উপরতলার মানুষ। মদ্যপান নাকি তাঁদের সামাজিক মর্যাদা। বড় মাপের বুদ্ধিজীবী ও ধনীদের বাড়িতে চার পাঁচটা করে ড্রয়িং থাকে। একটাতে বাপজান (ড্যাডি, পাপা ) আড্ডা দেন। বাকি ড্রয়িং রুম গুলোতে ছেলে মেয়ে বেগম সাহেব বন্ধু বন্ধব নিয়ে আড্ডা মারেন। কোন রুমে কি হচ্ছে কেউ জানেনা। আধুনিক সভ্যতায় নাকি কেউ কারো প্রাইভেসীতে নাক গলানো নিষেধ। এসব ধনী পরিবারের ৫/৬টা করে গাড়ি থাকে। সবাই স্বাধীন। কে কোথায় যাচ্ছে কেউ জানেনা। ছেলে মেয়েরা  রাত বিরাতে বাড়ি ফিরে। মাতাল থাকলে দারোয়ান, ড্রাইভার বা সিকিউরিটিরা ধরাধরি করে বেডরুমে পৌঁছে দেয়। আমাদের দেশের ৯০ ভাগ বুদ্ধিজীবীরা এসব ধনীর চামচা মোসাহেব, খাদেম, বন্ধু হয়ে জীবন যাপন করেন।

আমাদের সরকারি উচ্চ ও নিম্ন পদস্থ কর্তা ও কর্মচারীরা ৯৫ ভাগ ঘুষ বা উপরি টকায় জীবন যাপন করেন। দু:খের বিষয় এসব নোংরামো এখন শিক্ষা বিভাগ বিচরালয়গুলোতেও প্রবেশ করেছে। আমরা যাদের মহান সেনাবাহিনী বলি তাদেরও  বেদনাদায়ক বদনাম শুনেছি ১/১১র সরকারের আমলে। সে সময়ে তাঁরা বিচারালয়েও হস্তক্ষেপ করেছেন। ১/১১র সরকার কেন এবং কি কারণে প্রতিস্ঠিত হয়েছিল এখন সেসব গোপন কথা বেরিয়ে আসছে। দুই প্রধান রাজনীতিক বা নেত্রী সে সময় কি করেছিলেন তা ধীরে ধীরে জন সাধারন জানতে পারছে। ১/১১র সরকার নিয়ে আজ আর কোন কথা লিখতে চাইনা। ওই সরকারের আমলেই আমি বেশ কয়েকটি কলাম লিখেছি। সে সময়ে আমার বন্ধুরা আমাকে নিতুত্‍সাহিত করেছিলেন আমার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে। সুযোগ পেয়ে একটা কথা আজ আমি আমার পাঠকদের বলে রাখতে চাই সেটা হলো, পরিবার সমাজ ও জগতের কঠন বন্ধনে থেকেও আমি সত্যকথা বলতে চেস্টা করেছি। সত্য জীবন যাপন করতে চেস্টা করেছি। আমার ত্রুটি ও গুণাহ গুলো সম্পর্কেও আমি সচেতন।

আজকের মূল বিষয়ে আবার ফিরে এলাম। আদালতের আচার ব্যবহার সংস্কৃতি নিয়ে কথা বলা শুরু করেছিলাম।প্রচলিত আদালত সংস্কৃতি বিধান ও নিয়মাবলী পরিবর্তনের জন্যে এ পর্যন্ত আইনজীবী বা বিচারক কেউ কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। ইসলামী বিচার ব্যবস্থা প্রতিস্ঠিত হয়েছে দেড় হাজার আগে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ও বৃটিশ সরকার এ দেশটা দখল করে রেখেছিল ১৯০ বছর। ৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট বৃটিশরা এ দেশ ছেড়ে চলে যায়। এই ১৯০ বছরই এদেশের মানুষ ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, লাখ লাখ মানুষ জীবনদান করেছেন। কিন্তু অফিস আদালতে এখনও ইংরেজের রেখে যাও বহু অপ্রয়োজনীয় সংস্কৃতি রেখে গেছে। তারা ভাষা, পোষাক, হাবভাব ও আইন কানুন রেখে গেছে। ৪৭ সালের পরে ৬৫ বছর পার হয়ে গেছে। উপ মহাদেশের তিনটি দেশেই ইংরেজদের রেখে যাওয়া অপ্রয়োজনীয় বহু নিয়ম কানুন, সংস্কৃতি ও বিধান রয়ে গেছে। আমাদের ব্যর্থতা হলো আমরা ফালতু বিষয় গুলো ফেলে দেবার বা বাতিল করে দেয়ার প্রয়োজনীয়তা কখনই অনুভব করিনি। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরও ফালতু বিষয় গুলো ফেলে দেয়ার প্রয়োজন মনে করিনি। আদালত, আইনজীবী, সংসদ ও  রাজনীতিকরা এ ব্যাপারে কখনই কোন উদ্যোগ গ্রহন করেননি। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো তাঁরা সবাই কথায় কথায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস বিকৃতির কথা বলে চলেছেন। স্বাধীন জাতি হিসাবে নিজেদের ঐতিহ্যকে জীবন ও রাস্ট্রের সকল স্তরে প্রতিস্ঠা করার কোন উদ্যোগ গ্রহন করেননি। এ রকম বেহুঁশ জাতির স্বাধীনতা বেশীদিন টিকে থাকেনা। নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার  মানে কখনই স্পস্ট হয়না। আদালতে মাথা নোয়ানো শিরকের পর্যায়ে পড়ে। মাথার পাগড়ী বা টুপি বা হেড গিয়ার মুসলমানদের ঐতিহ্য ও পরিচিতির চিহ্ন। বেদনার কথা হলো আদালত এ দুটো কাজ করতে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের বাধ্য করেন। এতে সম্মানিত বিচারপতিদের কোন দোষ বা অপরাধ আমি দেখিনা। কারণ , এটা আদালতের সংস্কৃতি বা বিধান। বহু কাল ধরে চলে আসছে। প্রশ্ন হলো ইংরেজরা এ দেশ দখল করার আগে বিচার ব্যবস্থা ছিল কিনা। উত্তর হলো ছিল। বিচার ব্যবস্থার ইতিহাস হাজার হাজার বছরের। আলকোরাণে যাঁরা বিশ্বাস করেন তাঁরা জানেন জগতে বিচার ব্যবস্থা, ন্যায়ানুবর্তিতা, মানবতা সৃস্টির যাত্রা শুরু থেকেই জারী রয়েছে। ন্যায় বিচারের কথা আমরা প্রাচীন সব ধর্ম গ্রন্থেই দেখতে পাই। ইসলাম জগতে সুস্পস্ট বিচার ব্যবস্থার কথা বলেছে। তার বিস্তারিত লিপিবদ্ধ কিতাব জগতের কাছে আছে। ন্যায় বিচার সম্পর্কে রাসুলের( সা) বহু বানী বা হাদিস আমাদের কাছে আছে। বিষয়টা আমাদের বিচারপতিরাও জানেন। মেগল বা নবাবী আমলে দেওয়ানী বা ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থা ছিল। বিচারক ছিলেন ও উকিলও ছিলেন। তাঁদের পোষাক বিধি, আচার আচরন বিধি ছিল। শরীয়া আইন এখনও বহু মুসলমান দেশে জারী আছে। জগত বিখ্যাত ফকীহরা প্রচলিত শরীয়া আইন নিয়ে নিয়মিত গবেষণা করছেন ও নিয়মিত সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন। জগতে মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই, একথা সকল ধর্ম ও দর্শন বলে এসেছে। মানবকল্যান মূলক ধর্মের এসব নির্দেশ অমান্য করে নিজেকে মহাশক্তিশালী ও খোদা বলে দাবী করেছে ফিরাউনের নমরুদের মতো কিছু মনুষ্য চেহারার মানুষ। এদের ধ্বংসের কাহিনী আমরা আমরা আলকোরাণ থেকে জানতে পেরেছি। অন্যান্য জাতি ও দেশেরও ছিল মহা অত্যাচারী মানব অকল্যাণকামী শাসক ছিল। আজ তারা কেউই নেই। আছে শুধু তাদের অত্যাচারের ইতিহাস। ইংরেজরা আমাদের দেশকে কি পরিমাণ লুন্ঠন করেছিল আর কত লক্ষ লোক হত্যা করেছিল তা আমাদের পাঠ্য পুস্তকে নেই। আমাদের তরুণরাও জানেনা। ইংরেজকে অনুগত যেসব জমিদার বা রাজারা  প্রজাদের উপর কি অত্যাচার করেছিল তার ইতিহাসও আমাদের পাঠ্য পুস্তকে নেই। আমাদের দেশের এখনও ইংরেজদের কাছ থেকে স্যার বা লর্ড টাইটেল নিয়ে ঢোল পিটিয়ে দেশের মানুষকে জানান দেয়।

চীনারা তেমন জাতি নয়। তাঁরা  তাঁদের পাঁচ হাজার বছরের ঐতিহ্যকে গৌরবের সাথে লালন করে। জাপানীরা এক সময় চীন আক্রমন করে সেদেশের মানুষের উপর সীমাহীন অত্যাচার করেছিল। এরপরে  আধুনিক জাপানের নেতারা তাঁদের পূর্ব পুরুষের কৃতকর্মের জন্যে চীনের জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। তাতেও চীনা নেতারা খুশী হননি। বলেছেন, জাপানের প্রাইমারী স্কুলের পাঠ্য পুস্তকে ওই অত্যাচারের কাহিনীর পাঠদান বাধ্যতামূলক করতে হবে। জাপনীরা কোরীয়দের কাছেও যুদ্ধের অপরাধের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে এবং ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। একেই বলে জাতীয়তাবোধ। আমরা অত্যাচারী ইংরেজ জাতির গৌরবগাঁথা বলতে এবং লিখতে আজও আনন্দিত। এমন হীনমন্যতা পৃথিবীতে আর কোন জাতির আছে কিনা জানিনা। পাকিস্তানও ৭১এর বর্বরতার জন্যে আনুস্ঠানিক ও রাস্ট্রিয়ভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি। এটা হলো আমাদের দেশের  বিদেশনীতির দূর্বলতা। পাকিস্তানের অত্যাচারের বহূ কল্পকথা ইতোমধ্যেই চালু হয়েছে। এমনলোকও আছেন যিনি বা যাঁরা মুক্তিযুদ্ধ দেখেননি বা করেননি তিনিও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বলেন ও লিখেন শুনে শুনে ও কল্পনা করে। প্রখ্যাত কবীর চৌধূরী সাহেব মুক্তিযুদ্ধ করেননি। তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই আসল। সেই চেতনাটি কি তা আজও তিনি স্পস্ট করে জাতিকে জানাননি। আমরা দেখতে পাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে তাঁরা ইসলাম ও মুসলমানের বিরুদ্ধে  উঠেপড়ে লেগেছেন। তাঁরা আমাদের জাতীয়তাকে গুলিয়ে ফেলেছেন। তাঁরা মনে করেন আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্যের মূল দলিল হলো রামায়ন মহাভারত মনুসংহিতা ও বেদ। তাঁরা মনে করেন আমরা একটি ভাষাভিত্তিক জাতি। শুধু ভাষা নিয়ে কোন জাতিত্ব তৈরী তৈরী বা গঠন হয়না। একথা কবীর চৌধুরী সা্হেবেরা ভাল করেই জানেন। তবুও তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত করার জন্যেই তাঁরা ইচ্ছাকৃত ভাবেই একাজ গুলো করে যাচ্ছেন। এসবই প্রসংগ কথা। কথার পিঠের কথা। কতবড় বেদনা ও দু:খের কথা যে, আমাদের জাতীয়তা কি তা নিয়ে দ্বন্ধ বা বিভ্রান্তি এখনই জারি আছে। এক শ্রেণীর বুদ্ধিজীবী মনে করেন নিজেদের মুসলমান বলে জাহির করা ঠিক হবেনা। তাহলে প্রভুরা অখুশী হবে। আমি বহু তরুণকে দেখেছি, তাঁরা মনে করেন মুসলমানিত্বের চেয়ে বাংগালিত্ব অনেক বড়।ব্যর্থতা আমাদের মুরুব্বীদের, সমাজের, রাস্ট্রের ও সরকারের। পাকিস্তান প্রতিস্ঠা করেও আমরা ইসলাম প্রতিস্ঠা করতে পারিনি।  মাত্র কয়েকজন সেকুলার বুদ্ধিজীবী সমাজ জীবনে ইসলাম প্রতিস্ঠায় বাধা  দিয়ে আসছে। মেজরিটি মানুষ নানা কারণে চুপ করে থাকে। এখনতো পরিস্থিতি একেবারেই খারাপ। রাস্ট্র বা সরকার রাজনৈতিক স্বার্থে ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। কেমন যেন মনে হয়, ইসলামের পক্ষ নিলেই একজন মানুষ প্রতিক্রিয়াশীল, মানবতা বিরোধী হয়ে যায়।

আমাদের বিচার ব্যবস্থায় ইসলাম না জানলেও বিচারপতি হতে কোন অসুবিধা নেই। কারণ চলমান  রাস্ট্র ব্যবস্থায় বাংলাদেশ কোন ভাবেই ইসলামী দেশ বা রাস্ট্র নয়। বরং মাঝে দেখা যায়  সম্মানিত বিচারপতিরা জেনে বা না জেনে কোরাণ ও সুন্নাহর বিরুদ্ধে রায় দিয়ে দেন। কারণ আমাদের বিচার ব্যবস্থার ৯০ ভাগ বৃটিশ বা পশ্চিমী আইন নির্ভরশীল। মুসলীম পারিবারিক আইন ছাড়া বাকী আইন গুলো বৃটিশদের রেখে যাওয়া আইন। ওই সব আমাদের কতটুকু প্রয়োজন তা নিয়ে কোন কমিশন গঠন বা গবেষণা হয়নি। আমাদের নারী আইনজীবীরা আদালতে মাথায় ওড়না পরতে পারেননা। অথচ একজন নারীর জন্যে এটা বাধ্যতামুলক। ইসলামী জীবন যাপনের সাথে সাংঘর্ষিক বা বিপরীতমুখী এমন আরও বহু আইন আমাদের দেশে জারী আছে।  আমাদের সম্মানিত বিচারপতিরা সুয়োমটো বা স্বপ্রণোদিত হয়ে বহু রুল জারী করেন। ইদানিং এ ধরনের রুল জারী একটু বেড়ে গেছে। জনসাধারন এতে বেশ খুশী। কিন্তু নৈতিকতা, সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে তাঁরা এখন পর্যন্ত তেমন কোন ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেননি। আমাদের সমাজ ভেংগে খান খান হয়ে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে এসে হাজির হয়েছে। ঘুষ কাগজে কলমে বেআইনী হলেও সামাজ এটাকে গ্রহন করে ফেলেছে। ঘুষ ব্যবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারন মানুষ। সুদ রাস্ট্রীয় ব্যবস্থা। এতে আদালতের কিছুই করার নেই। মদ্যপানকেও রাস্ট্র স্বীকৃতি দিয়েছে। মানবাধিকার বলে আমাদের দেশে তেমন কিছু নেই। নাড়ি অধিকারের নামে নতুন নতুন আইন হচ্ছে। ফলে মিথ্যা মামলার হার বেড়েছে ৮০ ভাগ। ফলে সমাজে তালাক, ডিভোর্স বা বিবাহ বিচ্ছেদ দিন দিন বেড়ে চলেছে। রাজধানীর ধনী ও উচ্চবিত্ত পরিবারে এখন তালাক সংক্রামক রোগের মতো ছড়িয়ে চলেছে। ৮০ ভাগ তালাকই দিচ্ছে মেয়েরা। তারা নাকি স্বাধিন হয়ে গেছে। পুরো সমাজটা নস্ট হয়ে গেলে সম্মানিত বিচারপতিরা কি করবেন? তবুও আমি বলবো আপনারা সমাজ ও নৈতিকতা নিয়ে একটু ভাবুন। আদালত বা বিচারালয়ের অপ্রয়োজনীয় সংস্কৃতি ও অভ্যাস গুলো অবিলন্বে ঝেড়ে ফেলে দিন। ওসব অভ্যাস , রেওয়াজ বা সংস্কৃতি কোন ভাবেই আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংগ নয়।( ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১১। নয়া দিগন্ত )

লেখক; কবি ও সাংবাদিক

ershadmz40@yahoo.com

Read Full Post »