Feeds:
Posts
Comments

Archive for January, 2015


অন্তর জগতের কবি ফজল শাহাবুদ্দিন / এরশাদ মজুমদার

ফজল ভাই মানে কবি ফজল শাহাবুদ্দিনকে নিয়ে কিছু লিখার অনুরোধ এসেছে কবি আমিনুর রহমান টুটুলের কাছে থেকে দেহের বৈরি সময়ে। মন বলছে লিখতেই হবে। জীবনে শেষদিন গুলোতে ফজল ভাই আমার খুব কাছের মানুষ ছিলেন। তাঁর সাথে প্রথম পরিচয় ১৯৫৯ সালে পাকিস্তান অবজার অফিসে বাংলা বাজারে। তিনি তখন যুবক ও ক্ষ্যাপাটে। বলা যেতে পারে যে কোন কারণে যে কোন সময়ে যে কোন কাউকে হেনস্তা করতে পারতেন। তাই আমি কখনও তাঁর কাছাকাছি হতাম না। কিন্তু তাঁর কবিতা আমার খুবই পছন্দের ছিল। অতি অল্প সময়ে তিনি কবিতা পাঠকের মনকে আকর্ষন করেছিলেন।
ফজল ভাই ছিলেন অতীব বন্ধু বত্‍সল। ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা মারতে পছন্দ করতেন। আমিও ছিলাম মহা আড্ডাবাজ। তবে তাঁর সাথে আমার আড্ডা জমতোনা। মাহফিল/মজলিশ বা আড্ডাকে তিনি নিজের প্রভাবে রাখতে চেষ্টা করতেন। পঞ্চাশ দশকের নামজাদা প্রধান কবিরা সবাই তাঁর বন্ধু ছিলেন। ক্ষ্যাপা প্রকৃতির মানুষটা অন্তরে ছিলেন মোমের মতো। ক্ষ্যাপামোটা মেনে নিয়ে তাঁর সাথে চলুন দেখবেন সে আরেক জগতের মানুষ। অন্তরে তিনি সত্যিই অন্য জগতের মানুষ ছিলেন। তিনি ছিলেন সে জগতের সম্রাট। তিনি শুধুই একজন কবি ছিলেন। কবিতার ঘোরের মধ্যেই তিনি দিনাতিপাত করতেন। তেমন সংসারী মানুষ ছিলেন না। তবে খুবই অভিমানী ছিলেন।
হে নীল সমুদ্র,হে বৃক্ষ সবুজ নামের একটি ক্ষুদ্র/ছোট কবিতার বই আছে। কবিতার পকেট বই বলা যেতে পারে। এর একট কপি তিনি আমাকে দান করেছিলেন।
‘আমার জানালা খোলা দেখি তুমি
অন্তরীক্ষ জুড়ে
জীবনে মরণে আছো পরিব্যাপ্ত
রক্তের নুপুরে’।
আরেকটি কবিতা দেখুন,
‘সকল চৈতণ্য প্রতিধ্বনি
আলো অন্ধকারে
আমারে মন্থিত করো হে রমনী
আত্মার শৃংগারে’।
এসব কবিতায় ভাববাদের বলিষ্ঠ উপস্থিতি রয়েছে। কবিতাপ্রেমী পাঠকদের বলবো আপনারা ফজলের কবিতা পড়ুন। যাঁরা রূমী, খৈয়াম, সাদী ও হাফিজের কবিতা পড়েন তাঁরা সকলেই ফজলের কবিতাকে ভালবাসবেন।
সত্যিকারের কবিরা দুই জগতেই বাস করেন। তাঁরা দুই জগতকেই চিনেন। অপর জগতে যখন থাকেন তখন কবিতার ঘোরে থাকেন। মনে হয় ফজল শাহাবুদ্দিন সব সময়ই কবিতার ঘোরে থাকতেন।
মাওলানা রুমী বলতেন তিনি দুই জগতই দেখেছেন। তাই তার কাছে ইহকাল বা পরকাল বলে কিছু নেই। তিনি এক জগতেই বাস করেন। যেখানে তিনি এবং তাঁর প্রেমিক বাস করেন। ফজল তেমনি একজন কবি ছিলেন। তাঁর ভিতর কোন ধরণের ভনিতা বা ভড়ং ছিলনা। জীবনের শেষ দিকে তাঁর সাথে আমার প্রতিদিনই কথা হতো। দৃশ্যমান জগত থেকে তাঁর বিদায় লগ্নে আমি ঢাকায় ছিলাম না। তাঁর স্মরণে প্রথম আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় প্রেসক্লাবে
কবিতাপত্রের উদ্যোগে।
তাঁর কবিতাই তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবে বাংলা সাহিত্যের কবিতার জগতে।

Advertisements

Read Full Post »