Feeds:
Posts
Comments

Archive for August, 2015


বাংলাদেশের রাজনীতিতে সংখ্যালঘু / এরশাদ মজুমদার

সংখ্যালঘু বিষয়টি জানতে হলে অখন্ড ভারতের রাজনীতি সম্পর্কে জানতে হবে। কেন ভারত ভাগ হলো? ইংরেজদের আগমনের পুর্বে ভারত ছিল বিভিন্ন রাজা মহারাজাদের শাসিত। এসব রাজা মহারাজারা প্রায়ই স্বাধীন ছিলেন। ভারতে মুসলমানরা আসতে শুরু করেন সপ্তম শতাব্দী থেকে। এদের বেশীর ভাগই ছিলেন সওদাগর ও ধর্ম প্রচারক। মুসলমান রাজনৈতিক ক্ষমতা খন্ডিত ভারতে পা রাখে ৭১১ সালে মুহম্মদ বিন কাশেমের মাধ্যমে। তখনও অখন্ড ভারত বলে কোথাও কিছু ছিলনা। ভারত বলেও কোন শব্দ ছিলনা। বিদেশীরা বিশেষ করে আরব বণিকরা এদেশকে হিন্দুস্তান বলতো। বর্তমান হিন্দু ধর্ম বলেও তেমন কোন ধর্ম হিন্দুস্তানে ছিলনা। বেদ বা উপনিষদে নিরাকার ঈশ্বরের কথা বলা হয়েছে আর জীবন যাপনের জন্যে কিছু নিয়ম কানুনের কথা বলা হয়েছে। এখনও ভারতের দক্ষিণে যে ধর্ম পালিত হয় তা উত্তরে হয়না। দক্ষিণের রাজা ছিলেন রাবণ। তাকে ভাই বিভীষনের সাথে ষড়যন্ত্র করে উত্তরের আর্য রাজা রাম পরিজিত করেন। রাবণের পরে বিভীষণই দক্ষিণকে শাসণ করেন। অখন্ড বাংলায় দুর্গার পুজা হয়,কিন্তু বাংলার বাইরে তা হয়না। কোথাও গণপতির পুজা হয়, আবার কোথাও শিবের পুজাও হয়। অতি সংক্ষেপে ভারতের ধর্মীয় ইতিহাসের কথা বললাম।
ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাস লিপিবদ্ধ হয়েছে মুসলমানদের আগমনের পর। নেহেরুজী নিজেই লিখে গেছেন যে, ভারতীয়রা ইতিহাস লিখতে জানতোনা। মুসলমানরাই ভারতীয়দের ইতিহাস বিজ্ঞান লিখতে শিখিয়েছেন।ভারত সম্পর্কে বহির্বিশ্ব জানতে পারে এক হাজার বছর আগে আরবী ভাষায় লিখিত আলবিরুণীর ভারতত্ব পড়ে। এটাই প্রথম আকরগ্রন্থ। ভারতীয়রা ভারতকেই বিশ্ব বলে জানতো। রাজারা নিজ শাসিত এলাকাকেই দেশ মনে করতো। এক রাজার সাথে অন্য রাজার তেমন কোন সম্পর্ক ছিলনা। ১২শ’সালের পর ভারতে মুসলমানদের রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়। পুরো ভারতকে একটি দেশ বা ভৌগলিক ইউনিট হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেন মোগল শাসকগণ। বাবরের মাধ্যমে ১৫২৬ ভারতে সালে দিল্লীর ক্ষমতা দখল করেন মোগলরা। এ সময় থেকেই ভারত অখন্ড ভৌগলিক এলাকায় পরিণত হতে থাকে। মোগলরাই ভারতে ফেডারেল সরকার প্রতিষ্ঠা করে। কেন্দ্রীয় সরকার মানে মোগলদের আনুগত্য স্বীকার করেই রাজা মহারাজারা নিজ নিজ এলাকা শাসণ করতেন। মোগল আমলেই মহারাজাদের সাথে বিভিন্ন রাজ্যে নবাবীর পত্তন হয়। রাজ্য রাজা ও নবাবদের কাজ ছিল কেন্দ্রের আনুগত্য স্বীকার করে নির্ধারিত কর দেয়া। ভারতের রাজ্যগুলো এখনও সেই ভাবেই চলছে তথাকথিত গণতন্ত্রের লেবাস পরে। কেন্দ্রের কথা না শুনলেই রাজ্য সরকার বাতিল করে দিয়ে কেন্দ্রের শাসন চালু করা হয়। প্রত্যেক রাজ্যেই একজন গভর্ণর কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে থাকেন। মোগল আমলে মহারাজা বা নবাবদের নিজস্ব সেনাবাহিনী ছিল। তাদের নিজস্ব মুদ্রা ছিল। এখন গণতান্রিক যুগে সেই সুযোগ নেই। ভারতের বহু রাজ্যে স্বাধীনতা আন্দোলন চলছে কয়েক যুগ ধরে। কেন্দ্রীয় সরকার সেনাবাহিনী দিয়ে রাজ্যের স্বাধীনতা আন্দোলন গুলোকে দমণ করছেন।
ইতিহাসের এ বিষয় গুলো আপনারা অনেকেই কমবেশী জানেন। হিন্দু মুসলমানের ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা খুবই বেশী এবং দৃশ্যমান হয়েছে ইংরেজ আমলে। এবং আজও চলছে এবং বছরে ছোট খাট হাজার দাংগা হয়। তথাকথিত প্রগতিশীল ভারত আজও দাংগা দমাতে পারেনি। তারা শুধু মুসলমানদের সাথে দাংগা করেনা। সকল জাতি ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর সাথেই দাংগা করে। ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মোদীজীকে লোকে দাংগার গুরু মনে করেন। ভারতে মুসলমান রাজনৈতিক উপস্থিতির এক হাজার বছরেও দাংগা বা সাম্প্রদায়িকতার তেমন কোন ইতিহাস নেই। দাংগা ও সাম্প্রদায়িকতা শুরু হয়েছে ইংরেজদের ডিভাইড এ্যান্ড রুল পলিসির কারণে। ইংরেজরা সদ্য ক্ষমতাচ্যুত মুসলমান শাসক ও সম্প্রদায়কে আস্থায় নেয়নি কখনও। বরং তারা মুসলমানদের শত্রু মনে করতো। সরকারী চাকুরী,এজেন্সী ও ব্যবসা বাণিজ্যের সুযোগ পেত হিন্দুরা।বৌদ্ধদের ভারত থেকে বিতাড়িত করেছে হিন্দু শাসকগণ। এখন খৃষ্টানদের হিন্দু বানাবার চেষ্টা চলছে। হিন্দুরা শিখদের উপরও অত্যাচার চালায়। ৩০ কোটি অচ্যুতদের ধর্মীয়ভাবেই মানুষ মনে করা হয়না।
ভারতের কূটনৈতিক পড়ার নাম চাণক্যপুরী। চাণক্য মৌর্য আমলের রাজনীতি বিষয়ক একজন জ্ঞানী ব্যক্তি। রাজনীতিবিদদের শিয়ালের মতো ধুর্ত হতে হবে। ভারতের রাষ্ট্রীয় নীতি হচ্ছে চাণক্যের নীতি। আর আমরা ভারতের প্রতিবেশী। ভারত বৃহত্‍ দেশ, বাংলাদেশের চেয়ে তার শক্তি বেশী। এক্ষেত্রে ভারত শিয়াল আর মুরগের গল্পের অনুসরণ করে। মোরগ যদি ভেবে থাকে শিয়ালের সাথে বন্ধুত্ব করবো তাহলেই সর্বনাশ। তবুও মোরগকে বেঁচে থাকতে হবে। তাহলে কিভাবে? সিংগাপুর, তায়ওয়ান কেমন করে ভাল ভাবে বেঁচে আছে এখনও। ভারতবাসীর ৫০ ভাগ হচ্ছে সনাতনধর্মী বা হিন্দু। ২৫ ভাগ অচ্যুত বা হরিজন। আদমশুমারী, নির্বাচন ও গণনার জন্যে তাদের হিন্দু বলে প্রচার করা হয়। হিন্দু ধর্ম মতে অচ্যুতরা অর্ধ মানব। ভারতীয় সংবিধানে তাদের মানুষ হিসাবে স্বীকার করা হলেও সমাজ তা মানেনা। ২০ ভাগ মুসলমান আর ৫ ভাগ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী। রাজনীতি মুসলমানদের ভুমিকা অন্যান্যদের বেশী এবং শোষিতও বেশী। মুসলমান বা সংখ্যলঘুদের শেষণ করাই ভারতের দর্শণ। প্রতিবেশী সকল দেশকেই ভারত একশ’ভাগ নিজের প্রভাবে রাখতে চায়। আগেই বলেছি, এ অঞ্চলে ভারত শিয়ালের ভুমিকা পালন করে। মোরগ উড়তে জানে বলেই শিয়ালের কাছ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বলতে সনাতন ধর্মী হিন্দুদের কথাই মনে করা হয়। এরপরে রয়েছেন বৌদ্ধ ও ঈসায়ী(খৃষ্টান) ধর্মাবলম্বীরা। সংখ্যার দিক আরও কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠি আছে। হিন্দুরা ছাড়া বাকি ধর্মাবলম্বীরা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ভাবে চুপচাপ থাকেন। যদিও হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ রয়েছে নামে, কাজে এটা শুধুই হিন্দুদের সংগঠণ। চলমান ধর্মমুক্ত সরকার হিন্দু সম্প্রদায়কে খুশী রাখার জন্যে অনেক ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্টদের অধিকারকে অবজ্ঞা করেছেন। অপরদিকে ভারতে মুসলমানদের সংখ্যা শতকরা ২০ ভাগ হওয়া সত্বেও সরকারী চাকুরীতে তারা এক ভাগও নেই। বাংলাদেশে সনাতন ধর্মীদের সংখ্যা পাঁচ ভাগ হওয়া সত্বেও সরকারী চাকুরীতে তাঁদের অবস্থান ১৮ ভাগের মতো। সনাতন ধর্মীরা তাঁদের অধিকার রক্ষার ব্যাপারে একশ’ভাগ সজাগ। তার উপরে রয়েছে সরকারী আনুকল্য ও সেবা। হঠাত্‍ দেখা যাচ্ছে তাঁরা নিজেদের অধিকার নিয়ে নানা কথা বলছেন। সনাতন ধর্মীদের নিয়ে রীতিমতো গবেষণা শুরু হয়ে গেছে। ৪৭ সাল থেকে কত হিন্দু ভারতে চলে গেছে। কেন চলে গেছে? অনেকেই দাবী করেছেন হিন্দু কমিশন গঠণ করার জন্যে। রাণা দাশগুপ্ত দাবী করেছেন পৃথক নির্বাচনের জন্যে। তিনি প্রচার করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বেয়াই সাহেব মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন হিন্দু বাড়ি দখল করেছেন। যাঁর বাড়ি তিনি দাবী করেছেন ন্যায্য মূল্যে বাড়ি বিক্রি করেছেন।
এ কথা আমাদের সবাইকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, ৪৭ সালে যে ভারত ছিল তা বিভক্ত হয়েছে কংগ্রেস নেতাদের সাম্প্রদায়িক মনোভাবের কারণে। কিন্তু দোষ চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছে এবং এখনও করা হচ্ছে মুসলমানদের উপর। দীর্ঘ শ্বাধীনতা সংগ্রামের সময় মুসলমানেরা কখনই ভারত বিভক্ত করে আলাদা মুসলমানের দেশের দাবী উঠেনি। আলাদা স্বাধীন দেশ পাকিস্তানের দাবী উঠেছে ১৯৪০ সালে বাধ্য হয়ে। কংগ্রেসের প্রধান নেতারা যদি অখন্ড ভারত প্রেমী হতেন তা হলে মুসলমানদের সাথে অবশ্যই সমঝোতায় আসতে পারতেন। তাঁরা চেয়েছিলেন পুরো ভারত তাঁরাই শাসন করবেন। লেবাননে মুসলমান ও খৃষ্টানদের ভিতর সমঝোতার ভিত্তিতে দেশ চলছে। ৪৭ সালে বাংগালী মুসলমানেরা অখন্ড বাংলাদেশ চেয়েছিলেন। কিন্তু বাংগালী হিন্দুরা তা চাননি। কারণ অখন্ড বাংলাদেশে মুসলমানেরা মেজরিটি ছিল। এ ছিল বাংগালী হিন্দু নেতাদের একেবারেই সাম্প্রদায়িক মনোভাব। হিন্দুত্বের প্রশ্নে দেশ কখনই বড় ছিলনা। মুসলমানেরা অখন্ড ভারত শাসন করেছেন কয়েক’শ বছর ধরে। এ সময়ে প্রদেশ ও কেন্দ্রে বড় বড় পদ গুলোতে হিন্দুরা ছিলেন। সেনাবাহিনীতে বহু হিন্দু জেনারেল ছিলেন। তখন অখন্ড ভারত থাকতে কোন অসুবিধা হয়নি। দখলদার ইংরেজদের শাসণকে ভারতে দীর্ঘায়িত করেছে হিন্দুরা। তাঁরাই ভারতকে ইংরেজদের হাতে তুলে দিয়েছেন। প্রথম এক’শ বছর ইংরেজরা হিন্দুদের সহযোগিতায় ভারত থেকে নিশ্চিন্ন করার চেষ্টা করেছে। ভারত দখলের প্রথম এক’শ বছর মুসলমানেরাই ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। এই এক’শ বছরে হিন্দুরা মুসলমানদের সকল সম্পদ কেড়ে নিয়েছে। এসব কথা শুনতে অনেকেরই খারাপ লাগবে। মনে হবে সাম্প্রদায়িক কথা। কিন্তু এসব সত্যি এবং গোপন ইতিহাস। ইংরেজদের দখলের পর থেকেই মিথ্যা ইতিহাস তৈরির কাজ শুরু হয়েছে মুসলমানদের বিরুদ্ধে। এখনও মিথ্যা ইতিহাস রচনার কাজ চলছে। মিথ্যা ইতিহাস কখনই চিরকাল টিকে থাকেনা। এখন ভারতের বহু জ্ঞাণী গুণী ভারত বিভক্তির আসল ইতিহাস লিখতে শুরু করেছেন।যদিও আওয়ামী লীগের তথাকথিত বাংগালী শাসনের নামে কিছু বুদ্ধিজীবী ভারত বিভক্তির জন্যে মুসলমানদের দায়ী করেন। বাংলাদেশের ৯০ ভাগ অধিবাসী বা নাগরিক মুসলমানদের তথাকথিত সেক্যুলারিজমের(ধর্মহীনতার) নামে মেজরিটির উপর মাইনরিটির শাসন চাপিয়ে দিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে আমাদের জাতিস্বত্তা বিতর্কিত হয়ে রয়েছে। দিল্লী ঢাকা ও বাংগালী হিন্দুরা মনে করেন বাংলাদেশ বাংগালীদের দেশ। এটা হচ্ছে একটা মহা চক্রান্ত। বাংগালীর নাম করে ৯০ ভাগ নাগরিকের উপর হিন্দু সংস্কৃতি চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে। ক’দিন আগে প্রগতিশীল চিন্তার প্রধান ব্যক্তিত্ব সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, আমরা উর্দুর বিরুদ্ধে লড়াই করেছি আর এখন আমাদের ঘরে ঘরে শিশুরা হিন্দী বলছে। হিন্দী সংস্কৃতি অবাধ প্রবেশের জন্যে সরকার সকল দুয়ার খুলে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ খুবই সচেতনার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিএনপি এ ব্যাপারে অজ্ঞ। বিএনপির কোন সাংস্কৃতিক দর্শণ নেই। বিএনপির আমলে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ছিল সবচাইতে অবহেলিত। এর জন্যে বাজেটও ছিল একেবারেই নগণ্য। মরহুম সাইফুর রহমান নাকি বলেছিলেন, আমি হারমোনিয়াম কেনার জন্যে কোন টাকা দিতে পারবোনা। শুনতে পাচ্ছি বিএনপি একটি থিন্ক ট্যান্ক গঠণ করতে যাচ্ছে। এই ট্যান্কে কারা থাকবেন তা আমি আন্দাজ করতে করি। আমাদের প্রেসক্লাবে এক ধরনের জাতীয়তাবাদী আছেন যাঁরা আওয়ামী লীগের গ করেথাকলেও তাঁদের জাতীয়তাবাদী লেবেল নষ্ট হয়না। সেদিন কাগজে বেরিয়েছে, জাতীয়তাবাদী সাংবাদিকরা আবারও বিভক্ত হয়েছে। প্রেসক্লাবের প্রশ্নে তাঁরা একবার বিভক্ত হয়েছেন। এখন ইউনিয়নও ভেংগে গেছে। এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে শওকত মাহমুদের মতো জেলে পাঠাবার হুমকী দিচ্ছেন। এসব জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক খালেদা জিয়ার নাকি অতি আপনজন। তিনি ক্ষমতায় থাকতে এরা সকলেই হালুয়া মাখন খেয়েছেন। তাঁদের ধারণা, খালেদা জিয়া আবার কখন ক্ষমতায় আসবেন তার কোন ঠিক নেই। তাই তাঁরা আর অপেক্ষা করতে রাজী নেই।
হিন্দুরা বা কংগ্রেস নেতারা কখনই মুসলমানদের অধিকারকে স্বীকার করেননি। ইংরেজ আমলে মুসলমানরা সবচেয়ে বেশী নির্যাতিত ছিলেন। হিন্দুরা সব সময় মুসলমানদের পরাজিত ও নির্যাতিত দেখতে চান। তাই তাঁরা মুসলমানদের আলাদা দেশ মানেননি। ৪৭ সাল থেকেই হিন্দুরা পূর্ববাংলা বা চলমান বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে যেতে শুরু করেছেন। ভারতকেই তাঁরা নিজেদের দেশ মনে করেন। থাকেন বাংলাদেশে। সম্পদ তৈরি করেন ভারতে। আশা করেছিলাম, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর হিন্দুরা আর ভারতে যাবেন না। না,আমার আশা পূরণ হয়নি। তাঁরা স্বেচ্ছায় ভারতে চলে যান, অভিযোগ করেন সাম্প্রদায়িকতার। ৭২ সাল থেকে বাংলাদেশে কোন সাম্প্রদায়িক দাংগা হয়নি। তবুও হিন্দুরা সব সময় দাংগার অভিযোগ করে চলেছেন। জমি জমা, ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে মুসলমানে মুসলমানে সারা বছর খিটমিট ও মারামারি লেগে থাকে। এটাকে কেউই সাম্প্রদায়িকতা বলেন না। হিন্দুদের সাথে ঝগড়া ফাসাদ হলেই তাকে তখনই সাম্প্রদায়িকতা ধুয়া তোলা হয়। ভারতে সত্যিকার অর্থেই বছরে কয়েকশ’ দাংগা হয়। ভারতে এখন দাংগাবাজ সরকার ক্ষমতায় আছে। তাঁরা দাবী তুলেছেন মুসলমানদের হিন্দু হওয়ার দাবী তুলেছেন। এক সময় তাঁরা কাবা ঘরের উপর তাঁদের অধিকারের দাবী তুলেছিলেন। তাঁদের মতে কাবা ঘরে এক সময় ৩৬০টি মুর্তি ছিল। তাই খাবা ঘরের উপর হিন্দুদের হিস্যা আছে। আওয়ামী সরকার হিন্দুদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। তাঁদের অধিকারের রক্ষক। তারপরেও হিন্দুরা দাবী করেন তাঁরা বেশী নির্যাতিত।
হিন্দুদের স্বপ্ন হচ্ছে অখন্ড হিন্দু ভারত। নেহেরুজী নিজেই এ স্বপ্নের কথা বলে গেছেন। ফলে হিন্দুরা ভৌগলিক কারণে যেখানেই থাকুননা কেন ভারতকেই তাঁরা নিজেদের দেশ মনে করেন। ফলে তাঁরা বাংলাদেশকে নিজেদের দেশ মনে করেন না। আমি জানি, আমার কথা গুলো তথাকথিত প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িকদের পছন্দ হবেনা। আমরা যতই খাঁটি বাংগালীত্বের শ্লোগাণ দিইনা কেন হিন্দুরা কখনই নিজেদের অসাম্প্রদায়িক বাংগালী বা বাংলাদেশী ভাবতে পারেন না। আওয়ামী লীগ শুধু হিন্দুদের সন্তুষ্ট করার বা রাখার জন্যে বাংগালী জাতীয়তাবাদের শ্লোগাণ তুলেছে। বাংলাদেশী শব্দের সাথে নাকি মুসলমানিত্বের গন্ধ আছে। একই ভাবে বিসমিল্লাহ, আল্লাহু আকবর,জিন্দাবাদ সহ আরও বহু শব্দ আওয়ামী লীগ পরিহার করেছে। এখন প্রধানমন্ত্রীর বেয়াই সাহেবের বিরুদ্ধেই সাম্প্রদায়িকতা ও হিন্দু সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে। আমি মনে করি বাংলাদেশে রাজনৈতিক কারণেই হিন্দরা ও আওয়ামী বুদ্ধিজীবীরা বার বার অভিযোগ তুলে দিল্লী ও আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান।
লেখক: কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
ershadmz@gmail.com

Advertisements

Read Full Post »


ব্লগার ধর্ম ও রাষ্ট্রের অবস্থান / এরশাদ মজুমদার

এমন এক সময় এই কলামটি লিখছি যে সময়ে ক্ষমতাসীন জোট অন্তর কলহে জড়িয়ে পড়েছে। জোটকে ঐক্যবদ্ধ রাখার আহবান জানিয়েছেন দলের সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ। তিনি আরও বলেছেন দলের প্রধান শেখ হাসিনার নিরাপত্তা হুমকির মুখে। তাঁর মতে বিএনপি নাকি খুনীর দল। খালেদা জিয়া শেখ হাসিনাকে হত্যার চেস্টা করছেন। ক্ষমতায় থেকেও তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। এ সময়ে জোট ভেংগে যায় এমন বিতর্কে জড়িয়ে পড়া ঠিক হবেনা। বিতর্ক হচ্ছে, বংগবন্ধু হত্যার সাথে জাসদের জড়িত থাকার অভিযোগ। মেনন বলেছেন, সব জেনেই জোট তৈরি হয়েছে। এখন এসব কথা বলে লাভ নেই। লেখক মহিউদ্দিন সাহেব বই ও কলাম জাসদের রাজনীতি ব্যাখ্যা করেছেন। প্রথম আলোতে কদিন আগে জাসদের ঘরে ফিরা নিয়ে একটি কলাম লিখেছেন। ইনু ও মেনন সাহেব নিজেদের কোমরের জোরে ভোটে দাঁড়িয়ে জামানত রক্ষা করতে পারেননি। ফলে নৌকায় চড়ে ক্ষমতার স্বাদ ভোগ করছেন। ইনু সাহেবের মনে সব সময় অতীতের নানা কথা উঁকি মারে। তাই তিনি শেখ হাসিনার চেয়ে দশ ভাগ এগিয়ে খালেদার বিরুদ্ধে আজে বাজে কথা বলেন। আওয়ামী রাজনীতিতে নাকি এ ধরনের ভাষা নাকি খুব জনপ্রিয়।

এমনিতেই আওয়ামী লীগের আভ্যন্তরীন কোন্দল চরমে উঠেছে। প্রায় প্রতিদিনই দলীয় খুনাখুনির খবর কাগজে ছাপা হচ্ছে। তার সাথে যোগ হয়েছে রেব ও পুলিশের বন্দুক যুদ্ধ। সে নিয়ে চলছে বাক বিতন্ডা। ছাত্রলীগ বলছে তারা মন্ত্রীদের চোখ রাঙানিকে ভয় পায়না। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ছাত্রলীগের উপরতলার নেতারা মুজিব নগর সরকারকে পাত্তা দিতেন না। তাঁরা দিল্লীর কথা অনুযায়ী চলতেন। একে খোন্দকার সাহেবের বইতে এসব নিয়ে কিছু আলোকপাত করা হয়েছে। এজন্যে খোন্দকার সাহেবকে বেশ অপমানিত হতে হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের তিন বাহিনী প্রধান আজ অপমানিত। জিয়া সাহেবকে পাকিস্তানের দালাল বলা হয়। খোন্দকারের অবস্থা ভাল নয়। সফিউল্লাহ সাহেবেরও একই অবস্থা। সেদিন এক বন্ধু বললেন,ভারতের অবস্থানের বিরুদ্ধে গিয়ে বাংলাদেশে কেউই ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। অনেকেই বলেন ইসলামিক সম্মেলনে গিয়ে বংগবন্ধুকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হয়েছে মর্মান্তিক ভাবে। জেনারেল জিয়াকেও নাকি একই কারণে প্রাণ দিতে হয়েছে। বিষয়টি শেখ হাসিনা গভীর ভাবে অনুধাবন করেছেন। তাই তাঁর রাজনীতি এখন একশ’ভাগ দিল্লী ভিত্তিক বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। দিল্লী এবার জন জরীপে ধর্ম বিষয়টাকে গুরুত্ব দিয়ে সামনে নিয়ে এসেছে। বিভিন্ন রাজ্যে মুসলমান ভোটারদের নিয়ে ব্যাপক বিশ্লেষণ চলছে। মুসলমানরা ভারতীয় রাজনীতিতে নিয়ামক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। বিজেপি একটি ধর্মপন্থী রাজনৈতিক দল। সারা ভারতে সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা আছে বলেই বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সেক্যুলারিজমের(ধর্মহীন) রাজনীতি করেন। এতে তিনি মাইনরিটিদের অবারিত ভাবে তোষণ ও পোষণ করে যাচ্ছেন। অপরদিকে হিন্দুনেতারা অভিযোগ করেছে, আওয়ামী লীগের মন্ত্রী সাংসদ ও শক্তিশালী লোকেরা হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করে নিচ্ছেন। রাণা দাশগুপ্ত ইতোমধ্যেই দাবী তুলেছেন পৃথক নির্বাচনের। আমি দাশগুপ্তের দাবীকে সমর্থন করি।

চলমান রাজনীতিতে ব্লগাররা খুবই আলোচিত একটি বিষয়। সরকারের সাথে ব্লগারদের হয়ত এক ধরণের আদর্শিক সমঝোতা থাকতে পারে। ব্লগারদের ব্যাপারে সরকারের একটা দুর্বলতা আছে বলে মনে করা হয়।সম্প্রতি নিহত নীলাদ্রী চক্রবর্তী নামের একজন ব্লগার নিহত হওয়ার পর বিশ্ব মিডিয়ায় বাংলাদেশের নাম শিরোনামে উঠে এসেছে। তাঁর নামের সাথে ব্লগার শব্দটি যোগ না হলে তিনি শুধুই একজন নাম না জানা সাধারন ব্যক্তি। বাংলাদেশের একজন অজানা ব্যক্তির মৃত্যুতে জাতিসংঘের সেক্রেটারী জেনারেল বান কি মুন বিবৃতি দিয়েছে। আমেরিকা ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য বিবৃতি দিয়েছেন। মৃত ব্যক্তির গুণ হলো তিনি একজন ব্লগার। তিনি তাঁর ব্লগের মাধ্যমে ইসলাম, আল্লাহ, রাসুল(সা) ও মসজিদের বিরুদ্ধে লিখতেন। তাঁর ব্লগের নাম ইস্টিশন। অপরদিকে বাংলাদেশের ইসলামিক স্কলার মারা গেলেও জাতিসংঘের কোন প্রতিক্রিয়া থাকেনা।
নীলাদ্রির মৃত্যুতে মনে হয় সরকারের টনক নড়েছে। তাই, প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর প্রশাসন মেশিনের লোকজন বলতে শুরু করেছেন ধর্মের বিরুদ্ধে কিছু বলা ও লেখা যাবেনা। এ কথা সরকার এক বছর আগেও বলেনি। এবার বলছেন কেন? যারা ব্লগারদের হত্যা করছে তারা কারা? তারা কি কোন ধর্মীয় গ্রুপের লোক? চলমান সরকার নিজেদের সেক্যুলার বা ধর্মমুক্ত মনে করেন। সংবিধানকেও ধর্মমুক্ত রাখা হয়েছে। শুধু নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা মাথায় টুপি পরেন বা ঘোমটা দেন। কারণ, ভোটারদের ৯০ ভাগ মুসলমান। নির্বাচিত হওয়ার পরেই নির্বাচিত নেতারা নিজেদের সেক্যুলার বলে দাবী করেন। তখনি তাঁরা ইসলাম, মাদ্রাসা ও আলেম সমাজকে নিয়ে ঠাট্টা মশকরা করতে থাকেন। এদেশে বহু ইসলামিক স্কলার আছেন যাঁরা কোরআন ও হাদিসের সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেন। সরকার নিজেকে স্কলারদের কাছে থেকে দূরে রাখতে চান। সরকার নিজেদের অনুগত তথাগত আলেমদের দিয়ে পছন্দমতো ফতোয়া জারী করেন। ধর্মের সাথে রাজা খলিফা বা রাষ্ট্রের বৈরীতা অনেক পুরাণো। চোর যেমন ধর্মের কথা শুনেনা, তেমনি রাষ্ট্রও ধর্মকে নিজের অধীনে রেখে ধর্মের ব্যাখ্যা দিতে চায়।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্ম নিয়ে মোনাফেকি বহু পুরাতন। আওয়ামী লীগ তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের কাছে নিজেকে ধর্মমুক্ত দল হিসাবে উপস্থাপিত করতে চায়। আবার সাধারন ভোটারদের কাছে নিজেকে মুসলমান হিসাবে পরিচিত করতে চায়। অপরদিকে বিএনপিকে মৌলবাদী দল হিসাবে প্রচার করতে চায়। পশ্চিমারা মুক্তমনা ধর্ম বিরোধীদের পছন্দ করে। আওয়ামী লীগ নিজেদের মুক্তমনাদের পক্ষের শক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। গণজাগরণ মঞ্চ বা শাহবাগীদের সরকার নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। আদালতের রায়কে প্রভাবিত করার জন্যে গণজাগরণ মঞ্চ খুবই কার্যকর ভুমিকা পালন করেছে জনসাধারন মনে করে।
জগতে সব মানুষ আল্লাহর নির্দেশ ও কিতাব মতো চলবে এমন কথা নেই। বেশ কিছু মানুষ শয়তানের অনুগামী হয়ে গেছে। কেউ যদি আল্লাহ ও রাসুলের(সা) নির্দেশ অমান্য করে তারা তা করবে নিজেদের দায়িত্বে। সুপথ আর কুপথ সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা তাঁর কিতাবে স্পস্ট করে বলে দিয়েছেন। কিন্তু কেউ কারো ধর্মকে হেয় বা নিন্দা করতে পারবেনা। জগতের সকল দেশ ও রাষ্ট্র এ নীতি লিখিত ভাবে মানে। সংবিধানে অনেক কথাই আছে যা বাস্তবে সরকার গুলো তা মানেনা। ধর্মের নিন্দা করা আমাদের সংবিধান অনুমোদন দেয়না। বাংলাদেশে ইসলাম হচ্ছে রাস্ট্রীয় ধর্ম। ব্লগাররা বেশ কিছু বছর ধরে ইসলাম, আল্লাহ ও রাসুল(সা) সম্পর্কে আজেবাজে কথা লিখে যাচ্ছে। সরকার কখনই এ ব্যাপারে কোন প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। ফলে ব্লগাররা উত্‍সাহিত বোধ করেছে। আমাদের দেশে বহু ব্লগার আছেন,তাঁরা ধর্মের বিরুদ্ধে কোন বক্তব্য দেননা। তথাকথিত মুক্তমনা,বিজ্ঞানমনস্ক লেখকগণ বিনা কারণে ইসলামের বিরুদ্ধে লেখালেখি করেন। এসব ব্লগারের ইসলাম বা কোন ধর্ম সম্পর্কে কোন জ্ঞান নেই। কোরআন নিজেই নির্দেশ দিয়েছে, তোমরা কখনই ওদের দেবদেবীদের গালাগাল করোনা। ওরা যব্দ হয়ে তোমার আল্লাহকে গালাগাল দিতে থাকবে।আল্লাহর কিতাব ও ধর্ম বিশ্বাস করেই গ্রহণ করতে হবে। গ্রহণ করার ব্যাপারে কোন জবরদস্তি নেই। যারা জবরদস্তি করতে চায় তারা ধর্মহীন বা মুসলমান নন। ইসলাম কি ও কেন তা অবিরাম গবেষণা ও প্রচারের দায়িত্ব ইসলামী পন্ডিত ও স্কলারদের। বাংলাদেশে ইসলাম নিয়ে তেমন কোন শক্তিশালী গবেষণা নেই। বাংলাদেশ একটি মুসলীম প্রধান দেশ। তবুও ইসলাম নিয়ে তেমন কোন গবেষণা নেই। কারণ সরকার নিজেকে ধর্মহীন বা ধর্মমুক্ত মনে করে। কয়েকদিন আগে একজন আওয়ামী নেতা হানিফ বলেছেন, বংগবন্ধু রাসুলের(সা) কাছ থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা শিখেছেন। রাজনীতিতে ফালতু কথা বলার রেওয়াজ আমাদের দেশে আছে। হানিফ সাহেব হয়ত কথার কথা হিসাবে এমন মন্তব্য করেছেন। আওয়ামী লীগের ধর্ম বিশ্বাস হচ্ছে সেক্যুলারিজম বা ধর্মহীনতা বা ধর্মমুক্ততা। সেক্যুলারিজম নিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষিত সমাজ ও বুদ্ধিজীবীদের কোন ধারণা নেই। জেনারেল মইনের সরকারের আমলে একজন সাংবাদিক ধর্মমন্ত্রী ছিলেন, যিনি ধর্মের কিছুই জানতেন না। কারণ ধর্মমন্ত্রী হতে হলে ধর্ম জানতে হয়না বাংলাদেশে। ধর্মনিরপেক্ষতা ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্যে বহু সরকারী আলেম আছেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন তিনি মদিনা সনদ মেনে চলবেন। তখনও আমি লিখেছিলাম প্রধানমন্ত্রী মদিনা সনদ কি তা ভাল করে জানেন না। তাঁর সরলতাকে ব্যবহার করে কেউ হয়ত তাঁকে ভুল বুঝিয়েছেন। তখন দেখেছি বেশ কিছু বুদ্ধিজীবী মদিনা সনদ নিয়ে নানা কথা বলেছেন। আমাদের দেশে বহু তথাকথিত সেক্যুলার শিক্ষিত আছেন যাঁরা ইসলাম, কোরআন ও হাদিস সম্পর্কে কিছুই জানেন না, তবুও তাঁরা এ ব্যাপারে মন্তব্য করেন এবং আরবী শিক্ষিত আলেমদের গালাগাল করেন। বুদ্ধিজীবী বলে পরিচিত বেশ কয়েক জন মানুষ আছেন যাঁদের কোন বিদ্যা বা জ্ঞান নেই। তাঁরা নাকি স্বশিক্ষিত। এরাই হয়ত বংগবন্ধুর কন্যাকে ভুল পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আশি বছর পুর্তি হয়েছে এমন একজন বুদ্ধিজীবী( তিনি অভিনয় করেন বলেই বুদ্ধিজীবী) যাঁর বাপ দাদারা ৪৭ ভারত ত্যাগ করেছেন মুসলমান হিসাবে। পাকিস্তানের ২৩ বছরে হালুয়া রুটি খেয়েছেন। ৭১ এ ছিলেন ভারতে ছিলেন। এ ভদ্রলোক এক সময়ে ব্যাংকের কেরাণী ছিলেন। এখন একেবারেই জাতীয় ব্যক্তিত্ব। এঁরা কথায় কথায় ভারতে পালিয়ে যান। নিজেদের মুসলমান মনে করেন না। এখন শুধুই ১০০ভাগ বাংগালী। ধর্ম পরিচয়ে লজ্জিত বোধ করেন। তবে আরবী নামটি ত্যাগ করতে চান না। সময় সুযোগে কাজে লাগতে পারেন। এদের বেশীর ভাগই বাংলাদেশে থেকে ভারতের কল্যাণে কাজ করেন। এঁরা ভারত থেকে নানা বিষয়ে সনদ এনে ঢাকায় ফুলের মালা গ্রহণ করেন। এঁরা বাংলাদেশে ভারতীয় দর্শণ প্রচার করেন। দেশের মানুষ মনে করেন এসব তথাকথিত বুদ্ধিজীবী প্রধানমন্ত্রীর অদৃশ্য উপদেষ্টা। প্রধানমন্ত্রীকে হাজার বছর ক্ষমতায় রাখার জন্যে দিল্লী দরবারের পায়রবি করে। প্রধানমন্ত্রীও তাঁদের কাজে লাগাতে চান।
ক’দিন আগে আমাদের প্রধানমন্ত্রী দিল্লী গিয়েছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব বাবুর স্ত্রী শুভ্রা মুখার্জীর মৃত্যুতে শোক জানাবের জন্যে। প্রধানমন্ত্রী নাকি ব্যক্তি জীবনে প্রণব বাবুকে কাকাবাবু হিসাবে ডাকতেন। সে হিসাবে শুভ্রাদেবী তাঁর কাকিমা। শুনেছি, এরশাদ সাহেব শ্রীমতি গান্ধীকে মা বলে ডাকতেন। এসব ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্কের কারণে ভারত আমাদের দেশ থেকে বিগত ৪৪ বছরে বহু সুবিধা নিয়েছে। বিনিময়ে আমরা পেয়েছি সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যা। শত আলোচনার পরেও সীমান্ত হত্যা বন্ধ হয়নি। বর্তমান সরকার ভারতকে বাংলাদেশের সকল দুয়ার খুলে দিয়েছে। এই শোকাবহ সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভারত যদি বেশী বেশী দেয় তাহলে বাংলাদেশ আর অন্যকোন দেশের দিকে তাকাবেনা।
উত্তরে মোদীজী বলেছেন, শুধু ব্যবসা বাণিজ্য নয় আমরা সকল ক্ষেত্রেই এক হয়ে কাজ করতে চাই। ইতোমধ্যেই ভারতের হিন্দী ভাষা ও সংস্কৃতি আমাদের ঘরে ঘরে ঢুকে পড়েছে। সনাতন সকল পূজা নাকি বাংগালী মুসলমানদের সামাজিক সংস্কৃতি বলে একশ্রেণীর বুদ্ধিজীবীরা প্রচার শুরু করেছেন। ব্লগাররা, যারা নিজেদের মুক্তমনা ধর্মদ্রোহী হিসাবে প্রচার করছেন আর আগেই বলেছি সরকার ধর্মদ্রোহী ব্লগারদের ব্যাপারে উদার মনোভাব নিয়েছিলেনন। জগতের কোন মুসলমানই খোদা, আলকোরাণ ও রাসুলের(সা) সমালোচনা নিন্দা সহ্য করবেনা। সেক্যুলারিজমের নামে সরকার নীরব থাকতে পারেনা। ১৯৩০ বা ৩২এর দিকে রংগিলা রাসুল বই প্রকাশ করে কোলকাতার এক প্রকাশক নিহত হয়েছেন।সরকার যদি এ ব্যাপারে সরকার কঠোর অবস্থান নিতেন তাহলে তাহলে চলমান অসহনীয় পরিস্থিতি তৈরি হতোনা। সরকার আজও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেননি।
বাংলাদেশে সরকার নিজেকে ধর্মমুক্ত বা ধর্ম নিরপেক্ষ বলে কথায় কথায় প্রচার করে থাকেন। ফলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এখানে যাঁরা নিজেদের মুসলমান হিসাবে পরিচয় দিয়ে বাঁচতে চান তাঁদের জন্যে পরিস্থিতি একটু জটিল। দেশের নাগরিকদের ৯০ ভাগ মুসলমান হলেও দেশ চলে ধর্মহীন
সংবিধান মোতাবেক।শ্লোগান হলো ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। মুসলমানদের জন্যে আইনের কিতাব হচ্ছে দ্বীন( আইন, নিয়মনীতি) ইসলাম। তাহলে আপনারা বুঝতে পারছেন এদেশের মুসলমানকে দুটি আইন মানতে হয়। একটি কোরআনের আইন ও অপরটি সংবিধানের আইন। জগতে আমরা যে ভুগোলে বাস করি সেখানে সেই দেশের আইন মানতে বাধ্য। দেশের আইন যদি কোরআন বা ঈমান বিরোধী হয় তবু ও মানতে হবে। জগত হচ্ছে দেহের জগত, আর এই দেহের উপর জগতের সরকারের আইনী অধিকার আছে। অতীতের সকল রাজা বাদশাহ আইনের কথা বলে মানুষের উপর অত্যাচার করতো। ফেরাউনতো নিজেকে খোদা বলে ঘোষণা দিয়েছিলো। সে বলেছিল জীবন ও মরণের মালিক সে নিজেই। সেই ফেরাউনকে আল্লাহতায়ালা দলবল সহ ধ্বংশ করে দিয়েছেন। এখন জগতের সরকার গুলো কথায় কথায় নানা বাহানায় মানুষ হত্যা করে। এর মানে সরকারগুলো মনে করে মানুষের প্রাণ রাখা না রাখা সরকারের ইচ্ছা। দেহের ভিতর যে রূহ আছে আমানত হিসাবে তার মালিক আল্লাহপাক স্বয়ং। আমরাতো রুহের খবর রাখিনা। রূহের উপর জগতের কোন সরকার বা শাসকের রূ্হের উপর কোন ক্ষমতা নেই। রূহ চলে গেলে রাজা বাদশাহ, প্রধানমন্ত্রী প্রেসিডেন্ট, ধনী গরীব সবাইকে মাটির নীচে যেতে হবে। যারা জগতে মানুষের জন্যে ভাল কাজ করেছেন তাঁদেরকে মানুষ স্মরণ করবে আর আল্লাহতায়ালাও তাঁদের ক্ষমা করবেন।
আমিতো বাংলাদেশের নাগরিক। আমাকে বাধ্য হয়ে এদেশের সংবিধান মানতে হবে। সংবিধান তৈরি করেন ক্ষমতাসীন রাজনীতিকরা। তাঁরা নিজেদের ধ্যান ধারনা মোতাবেক সংবিধান তৈরি করেন। চলমান সরকার ওয়াদা করেছিলেন ৭২এর সংবিধান চালু করবেন। ওই সংবিধান নাকি সেক্যুলার বা ধর্মমুক্ত ছিল। আওয়ামী লীগ নিজেদের সেক্যুলার বলে দাবী করলেও ভোটের কারণে অন্তরের কথা মন খুলে বলতে পারেন না। আওয়ামী পন্থী বুদ্ধিজীবীরা ধর্ম বিরোধী। তাঁরা ভারত ও পশ্চিমা দেশ গুলোকে খুশী রাখতে নিজেদের ধর্মমুক্ত প্রচার করতে চান। ইসলামের কথা জোর দিয়ে বলতে চাইলেই জংগীবাদ ও সন্ত্রাসের কথা উঠে। সংবিধান, আদালত, প্রশাসন ও বাহিনী এখন কোন কথা বলা যাবেনা। এতে নাকি চলমান আইন ভংগ হয়। ইতোমধ্যেই দেশের সংবিধান ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংস্কারের দাবী উঠেছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন দল কোন ধরণের সংস্কারের পক্ষে নন। তাঁরা মনে চলমান সংবিধান, যা নির্বাচনী সংস্কারের জন্যে মোটেও যথেষ্ট নয়। সংবিধান মোতাবেক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এখন রাজা বাদশাহদর মতো ফেরাউনী ক্ষমতার অধিকারী । আমি এর আগে গণতন্ত্রের নানা রূপ নিয়ে কলাম লিখেছি। স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতার দ্বারা মানুষকে দমন করে দেশ পরিচালনা করাও এক ধরণের গণতন্ত্র। রাজা বাদশাহদের দেশেও এক ধরণের গণতন্ত্র আছে, যাকে তথাকথিত গণতান্ত্রিক দেশগুলো সমর্থন জানায়। যেমন সউদী আরব। এদেশের বাদশাহকে আমেরিকা ও ইউরোপ সমর্থন করে।
চারজন তথাকথিত ব্লগার বা ধর্মবিরোধীকে জংগী নামের অভিযুক্তরা হত্যা করেছে। এদেরকে ইসলামপন্থী চিহ্নিত করে ইসলামকে অপমানিত করা হয়েছে। বাংলাদেশে কিছু বিপথগামী ধর্মপন্থী যুবকের কারণে ইসলামকে কাঠগড়ায় হাজির করা হয়েছে। কিন্তু ধর্মবিরোধী ব্লগারদের শুরু থেকে আসকারা দেয়া হয়েছে। কারণ ভারত ও পশ্চিমারা ধর্মবিরাধী ব্লগারদের জাতিসংঘ ভালবাসে।
লেখক: কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
ershadmz@gmail.com

Read Full Post »

সকালবেলা ৯৬


সকালবেলা ৯৭

তোমরা কেমন আছো জানিনা। আমার দোয়া ও সালাম নিও। অনেকদিন তোমাদের দেখিনি। মাঝে মাঝে স্কাইপে দেখি ও কথা হয়। বিজ্ঞানের অবদানে আমি এ সুযোগটি পেয়েছি। আলকোরআনের নির্দেশ মোতাবেক তোমরা মা বাবার খোঁজ খবর নিতে বাধ্য। এটা একটি কোরানিক আইন। এ আইন তোমরা অনেক আগেই অমান্য করেছো। তবুও খোদার কাছে আবেদন করবো,তিনি যেন তোমাদের ক্ষমা করে দেন। কোন বাপ মা’ই চায়না তাদের সন্তান খোদার রোষে পড়ুক। বাদশা বাবর নাকি খোদার কাছে প্রার্থনা করেছিলেন তাঁর জীবনের বিনিময়ে হুমায়ুনকে রক্ষা করতে। খোদা নাকি বাবরের সে আবেদন অনুমোদন করেছিলেন ।
পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যসাগর মায়ের অসুস্থতার খবর শুনে অন্ধকার রাত্রিতে মহা খরস্রোতা দামোদর নদী পাড়ি দিয়েছিলেন। বায়েজিদ বোস্তামী অসুস্থ মায়ের শিয়রে দাঁড়িয়েছিলেন সারারাত দুধ হাতে। ওয়ায়েজ কার্ণি শুধুমাত্র মায়ের খেদমত করেই অলি আল্লাহ হয়েছিলেন। এ রকম আরও বহু মেছাল আছে। জগতে আল্লাহর পরেই মায়ের স্থান। জান্নাত পেতে হলে মা বাপের খেদমত করা বাধ্যতামূলক। মাঝে মাঝে ভাবি তোমাদের জন্ম দিতে আমার কষ্টের কথা। সে কষ্ট নাকি এক ধরনের হাশর। তোমাদেরকে আমি দশ মাস দশ দিন পেটে রেখে দুনিয়াতে এনেছি। সে সময়টাও এক ধরনের হাশর। এর পর তোমাদের পালন করা। আমার জীবনে এ মূহুর্ত গুলো তোমাদের মনে নাই। তিন চার বছর পর তোমাদের নিয়ে গেছি স্কুলে। সেদিন থেকে তোমাদের হয়ত কিছু কিছু কথা মনে হতে পারে।

Read Full Post »


মজলুমের কান্না শুনতে কি পাও

বেশ কিছুদিন হয়ে গেল নয়া দিগন্তে লেখা পাঠাইনি। বেশ কিছুদিন কম্পিউটারের কাছে আসিনি। এক সময় আমি দুই বেলাই কম্পিউটার ব্যবহার করেছি। এখন ইচ্ছা হয়না। কারন জানিনা। ফেসবুকটা ফালতু হয়ে গেছে। বাজে কথার কারখানা হয়ে গেছে। সবাই বেশী বেশী লাইক ও কমেন্ট চায়। ‘শুদ্ধ আত্মা চর্চা কেন্দ্র’ নামে একটি পাতা তৈরি করেছিলাম। সে পাতায় কয়েকজন মাত্র লাইক দিয়েছিলেন। আমি ধরেই নিয়েছি ফেসবুক ব্যবহার কারীরা(ফেবু) শুদ্ধ আত্মায় আগ্রহী নন, অথবা তারা শুদ্ধ আত্মা কি তা জানেনা। নয়া দিগন্তে কলাম প্রকাশিত হলে দেশ বিদেশ থেকে ৫০/৬০টি মেইল বা ফোন আসে। অনেকেই অনুরোধ করেছেন কলাম গুলোকে বই আকারে প্রকাশ করার জন্যে। আমি প্রস্তুতিও নিয়েছি। জানিনা কখন প্রকাশ করতে পারবো।আমার অনেক লেখাই পড়ে আছে যা আমি প্রকাশ করতে পারিনি। আমি পাঠক প্রিয় লেখক নই। তাই প্রকাশকরা আগ্রহ নিয়ে আমার লেখা প্রকাশ করতে চায়না। সাহিত্য জগতে খায় একটি শব্দ চালু হয়েছে। মানে লেখা খায়না। হুমায়ুন আহমদের লেখা খায়। শিশুরা যেমন বার্গার বা কোক খায়। চলমান বাংলা সাহিত্যে হুমায়ুন আহমদ বার্গারের মতোই। যা লিখলে পাঠক খায়না তা হুমায়ুন লেখেন না। কারণ তিনি জানেন পাঠক কি কি খায়। আমার বড়ছেলে নওশাদ সত্যজিত রায় ও হুমায়ুনের পাগল ছিল। আমি দুজনেরই বিরোধী । সত্যজিতকে বিদেশী সমালোচকরা মার্চেন্ট অব পোভার্টি বলতো। গোয়েন্দা কাহিনী ও স্যাটায়ার লিখেও তিনি জনপ্রিয় হয়েছেন। তাঁর সিরিয়াস সব লেখাই ছিল বাংলার দারিদ্র নিয়ে। সেটা তিনি নিখুত ও নিপুণ ভাবে লিখেছেন ও চিত্রায়িত করেছেন। দারিদ্র বিক্রি করেই তিনি বিখ্যাত হয়েছেন। দারিদ্র বিমোচনের জন্যে কাজ করে নোবেল পেয়েছেন ড.ইউনুস। ইউনুসের মডেল এখন বিশ্বব্যাপী গৃহীত হচ্ছে। হুমায়ুন একেবারেই মার্চেন্ট। তিনি তরুণদের হিরো বা হিমু ছিলেন। ক’দিন পর দেখা যাবে হিমু নামে সিরিজ প্রকাশিত হচ্ছে, অথবা হুমায়ুনের অপ্রকাশিত লেখার বিশ খন্ডের লিখিনিয়মিত যে কলাম বই বের হচ্ছে।
আমি নিয়মিত যা লিখি বেশীর তার বেশীরভাগই রাজনীতি বিষয়ক। আমাদের রাজনীতি, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও চিন্তার জগত এখন ১০০ ভাগ দ্বিধা বিভক্ত। ৭১ সালে সমস্ত মানুষই একাট্টা ছিলো বাংগালী বা পূর্ব পাকিস্তানের স্বার্থে। রাজনীতির মূল বিষয় ছিল পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বিরা জিত সকল ক্ষেত্রে বৈষম্য। বৈষম্য না থাকলে পাকিস্তান অত সহজে ভেংগে যেতনা। যদিও ভারত ৪৭ সালেই বলেছে পাকিস্তান টিকবেনা। পাকিস্তান যাতে ভেংগে যায় সেজন্যে ভারত ৪৭ সাল থেকেই কাজ করে যাচ্ছিল। ৭০এর নির্বাচনী ফলাফল ভারতকে সে সুযোগ এনে দেয়। শেখ সাহেব আলোচনার মাধ্যমে উভয় অঞ্চলের বৈষম্য দূর করার জন্যে ছয় দফার ভিত্তিতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পাকিস্তানের সামরিক নেতাদের একাংশ,ভারত ও ভুট্টো পাকিস্তান ভাগ করার জন্যে কাজ করে যাচ্ছিল। ফলে শেখ সাহেবের আলোচনা সফল হয়নি। স্বাধীন বাংলাদেশের জন্যে যে তরুণ সমাজ ভারতের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে শেখ সাহেবের উপর চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছিল, তারাই সফল হয়েছে।পূর্ব পাকিস্তানের বোধশক্তি সম্পন্ন নেতারা পূর্ব পাকিস্তানের স্বার্থ রক্ষার জন্যে আলোচনার পক্ষে ছিলেন। তরুণরা প্রবীন নেতাদের পাকিস্তানপন্থী বলে জনগণের কাছে হেয় করেছে। এখন দেশে গণতন্ত্র ,মানবিকতা,অর্থনৈতিক ন্যায্যতা নেই। এমন একটি সমাজ ব্যবস্থাকে আল্লাতায়ালা জুলুমাত, জাহেলিয়াত বা অন্ধকার সমাজ বলে অভিহিত করেছেন। সমাজ বা দেশের শক্তিমান লোকেরা জনগণকে দাসে পরিণত করে। ক্ষমতাবানরা জনগণের সম্পদ লুট করে,তাদের কথা বলার অধিকার থাকেনা। মিশরের বাদশাহ ফেরাউন নিজেকে খোদা দাবী করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, জীবন দিতেও পারেন ও নিতেও পারেন।এক সেই ফেরাউনের পতন হয়েছে। অত্যাচারী ফেরাউনের মৃতদেহ চার হাজার পরেও মিশরের মিউজিয়ামে আছে অত্যাচারীর প্রতীক হিসাবে। জগতে এখনও বহু ফেরাউন ও নমরুদ আছে। তারা জগতকে অশান্ত করে রেখেছে। তারা এক সময় সমাজতন্ত্রকে মানবতার শত্রু আখ্যায়িত করে এর ধ্বংসের জন্যে হাজার হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে। এখন তারা ইসলাম ও মুসলমানদের টার্গেট করেছে। তথাকথিত মুসলমান দেশ বলে পরিচিত কিছু রাষ্ট্র ও শাসক কিছু মুসলমানকে সন্ত্রাসী বলে আখ্যায়িত করেছে। এক সময় কমিউনিষ্ট বা সমাজতন্ত্রীরা সন্ত্রাসী ও মানবতা বিরোধী বলে তাদের ধ্বংস করার জন্যে আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করা হতো। এখন মুসলমানদের ধ্বংস করার জন্যে আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। ওআইসি নাম সংগঠণটি নামমাত্র। এর তেমন কোন গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা নেই। জাতিসংঘও তার চলমান ভুমিকার জন্যে গুরুত্ব হারিয়ে ফেলছে। সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধের কথা বলে মুসলমানের বিরুদ্ধে মুসলমানকে লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে প্রধান এবং প্রধান নেতা হচ্ছে আমেরিকা। এই যুদ্ধের একজন সৈনিক হচ্ছে বাংলাদেশ। ফলে বাংলাদেশের ইমেজ ইসলাম হয়ে গেছে অনেকেই মনে করেন। আলকোরআন জেহাদী বই কিনা এ নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে। রেডিকেল বলেও প্রচার চলছে। এক সময় কমিউনিষ্টদের সন্ত্রাসী বা গণতন্ত্র বিরোধী বলা হতো। লাল বই কারো কাছে পাওয়া গেলেই পুলিশ তাকে ধরতো। কমিউনিষ্ট দেশ গুলোতে নেতাদের বিরুদ্ধে কিছু বলা সাংবিধানিক ভাবেই বলা যায়না। যেমন আমাদের দেশেও বংগবন্ধুর বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবেনা। এর মানে তিনি আইনের উর্ধে চলে গেছেন। জগতে বিতর্কের উর্ধে রাখা যায় কিনা আমি জানিনা। আখেরাতে বংগবন্ধুর অবস্থা কি হবে তা আমরা জানিনা। তবে আমরা হাজার মাগফেরাত চাইবো।
আল কোরআনের সুরা ইবরাহিমের ৪৮ আয়াতে বলা হয়েছে,যেদিন এই পৃথিবী অন্য একটি পৃথিবী ও মহাকাশে রূপান্তরিত হবে সেদিন সমস্ত মানুষ আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে। ৪৯ আয়াতে বলা হয়েছে, জালেমরা( অত্যাচারী শাসক ও ক্ষমতাবানরা) শৃংখলিত থাকবে। কারণ, জালেমরা নিরীহ মানুষদের উপর জুলুম চালিয়েছে। যারা জুলুম চালায় নিজ দেশের মানুষর বিরুদ্ধে তারাই জালেম। অপরদিকে যে সব জাতি অতীতেও আল্লাহ, রাসুল ও তাঁর নবী কিতাবের বিরুদ্ধাচরন করেছে যারা তাদের ধ্বংস করে দিয়েছে আল্লাহতায়ালা নিজেই। সে সব জাতি বা জনপদের নিশানা এখনও দেখা যায়। সমকামিতার দায়ে আল্লাপাক লুতের কওম ও দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। আলকোরআনে ধ্বংসপ্রাপ্ত বহু জাতির উল্লেখ আছে। কোন জাতি কেন ধ্বংস হয়েছে তার কারণও বিশদ বর্ণনা করা হয়েছে। কোথাও শাসক জালেম ছিল, আবার কোথাও মানুষগুলো ছিল শয়তানের ওয়ারিশ। ব্যক্তিগত ভাবেও মানুষ জালেম হয়ে যায়। ধনী মানুষের কৃপণতা সমাজকে জুলুমাতে(অন্ধকার) ঢেকে দেয়। অজ্ঞতা ও জ্ঞানহীনতা সমাজকে অন্ধকারে ঢেকে দেয়।
এখন আপনি ভাবুন, বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়? জানিনা, এ প্রশ্নের জবাবে আপনি কি বলবেন। আমি মনে করি, বাংলাদেশে কঠোর ভাবে অন্ধকার নেমে এসেছে। জাতি একেবারেই দ্বিধা বিভক্ত। তথাকথিত শিক্ষিত সমাজ দলদাসে পরিণত হয়েছে। চিন্তাধারা অন্ধ হয়ে গেছে। নির্বাচন বা গণতন্ত্র স্বেচ্ছারিতায় পরিণত হয়ে গেছে। শাসকরা দলের সরকারে পরিণত হয়েছে। দলের নীতিই হলো রাষ্ট্রের নীতি। দল যে ভাবে চায় সে ভাবেই সংবিধান তৈরি হয়। বিচার বিভাগের উপর মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলছে। ভিন্ন মতের মানুষ শাসক দলের শত্রুতে পরিণত হয়েছে। জেনারেল মইনের মাধ্যমেই দেশে অপশাসন চালু হয়েছে। তখন ছিল বাহিনী আর আমলাদের শাসন। এখন আমলা আর দলদাসদের শাসন। আকরো।ইউব খান বলতেন, আগে খাদ্য,পরে গণতন্ত্র। উন্নয়নের জন্যে গণতন্ত্র ত্যাগ করো। আইউব ও ইয়াহিয়ার কুশাসনে পাকিস্তান ভেংগে গেছে। বংগবন্ধু শেখ মুজিব ভেবেছিলেন একদলীয় একমতের শাসন জারী করলে দেশের উন্নতি হবে। তিনি একদলীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন। কিন্তু সে ব্যবস্থা কয়েকদিন পরেই ভেংগে পড়েছে। চলমান সরকার ঘোষণা না দিয়েই এক মত ও পথের বাহিনী সমর্থিত সরকার চালুর পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সেদিক থেকে শেখ হাসিনা বংগবন্ধুর চেয়ে বুদ্ধিমতি ও কৌশলী। দীর্ঘকাল ক্ষমতা থাকার জন্যে তিনি সকল জ্ঞান ও বুদ্ধি অর্জন করেছেন। এর ফলে তাঁর রাজনৈতিক কলা কৌশল বিজয়ী ও দীর্ঘ মেয়াদী হতে পারে বলে প্রচার করা হচ্ছে। এমন রাজনৈতিক কৌশল একনায়কদের স্বেচ্ছাচারী দেশ গুলো অনুকরণ করতে পারে। গণতন্ত্রের এ নমুনা জনগণের নামে চললেও দিল্লী ও অদৃশ্য বাহিনীর সমর্থনে চলে বলে রাজনৈতিক সমালোচকরা মনে করেন।
দিল্লী, নেপাল ,সিংহল ও মালদ্বীপ অনুকরণ করতে পারে। সবদেশের গণতন্ত্রের রূপ একই রকম হতে হবে এমন দর্শন কোথাও নেই। ভারততো বাংলাদেশের এমন গণতন্ত্রের প্রধান সমর্থক ও গণতন্ত্রের এ রূপকে বাংলাদেশে টিকিয়ে রাখার জন্যে ভারত ঢাকায় একটি ডেমোক্রেসি ইন্সটিটিউট খুলতে পারে। নেহেরু পরিবারের গণতন্ত্র বংশ পরম্পরায় টিকে আছে। বাংলাদেশের প্রশ্নে বিজেপির নীতিও নেহেরু পরিবারের মতো। উত্তর কোরিয়ার কমিউনিজম ও দল টিকে আছে একটি পরিবারের উপর। কিউবার গণতন্ত্রও একদলীয় এবং পরিবার ভিত্তিক। তাহলে শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের কাছে থাকলে অসুবিধা কোথায়? ভারতীয় কাশ্মীরে গণতন্ত্র নেই ,তবুও সে দেশে ভোট হয়। সাত লাখ সৈন্য কাশ্মীরের ভোট পাহারা দেয়। নির্বাচনে জয়ী হয় আরবী নামধারী তাবেদার কিছুলোক। আমরা ৫৪ সাল থেকে দেখে আসছি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কোন কখনই দর্শণ ছিলনা। স্বায়ত্ব শাসনের বিরোধিতা করে পরে স্বায়ত্বশাসনের প্রধান প্রবক্তা হয়ে গেছে। ছয় দফা দাবী পেশ করে পরে প্রচার করতে থাকে। পাকিস্তানীদের মাথা ছিল খারাপ। তাই তারা ২৫শে মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে আক্রমণ করে পরিস্থিতি ভারতের পক্ষে নিয়ে যায়। শেখ সাহেব স্বাধীনতাকামীদের খপ্পর এড়াবার জন্যে পাকিস্তানের কারাগারে চলে যান। আমেরিকা ও ভারত যৌথভাবে দাবী করে শেখ সাহেবকে জীবিত বাংলাদেশে পাঠবার জন্যে।পাকিস্তানের সামরিক শাসকগণ ছয় দফা মানলে এবং পাকিস্তানে সরকারের দায়িত্ব শেখ সাহেবের তুলে দিলে ইতিহাস ভিন্ন ভাবে লেখা হতো। কিন্তু তা হয়নি দিল্লী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী তরুণ নেতাদের কারণে। তাজউদ্দিন সাহেবকে দিল্লী সরকার ও গোয়েন্দারা ১০০ভাগ বিশ্বাস করতোনা।
এসব কথা এর আগে আমি নানা ভাবে নানা রূপে বলার চেষ্টা করেছি। এর কারণ, আপনাদের মনে করিয়ে দেয়া। আলকোরআনের মতে এ ধরনের শাসণ ব্যবস্থা দেশের মানুষকে মজলুমের জাতি হিসাবে পরিণত করে। হাজার বছর আগে শাসকগণ ছিলেন জালেম। তাঁরা আল্লাহর ইচ্ছার বিরুদ্ধে দেশ শাসণ করতেন। মজলুমের ফরিয়াদে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠে। নিরীহ নিরপরাধ মজলুম জনগণের আহাজারিতে গজব নেমে আসে। বিশ্বব্যাপী ছোট খাট গজব প্রতিনিয়তই নেমে আসছে। নেপালে যে গজব নেমে এসেছে তা বাংলাদেশে নেমে আসতে আর কতক্ষণ? শাসকগণ দুনিয়ার নিরাপত্তা কিছুকাল রক্ষা করে। খোদায়ী গজব নেমে এলে একরাতেই সব শেষ। জালেম শাসকগণের অন্তরচক্ষু অন্ধ থেকে। তাই তারা বুঝতে
পারেনা। যে দেশে শাসক ও জনগণ জালেম হয়ে সেখানে খোদার গজব অপরিহার্য হয়ে পড়ে। আলকোরআনে বহু জালেম জাতি ও শাসকের ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে। যারা এক রাতেই ধ্বংস হয়েছে।
বাংলাদেশে হয়ত এখনও কিছু আল্লাহর খাঁটি বান্দাহ আছেন যাদের কারণে গজব নেমে আসেনি। আল্লাহপাক হয়ত তাঁদের আহ্বান বা মুনাজাতকে রক্ষা করেছে। তাই এ জাতিকে এখনও রক্ষা করছেন গণনায় ১৬বা ১৭ কোটি লোক হলেও ঈমানদার লোকের সংখ্যা হয়ত এক কোটিও হবেনা। শুক্রবারে বা জুমারদিন দুই তিন কোটি নামাজ আদায় করেন। কিন্তু তাঁদের ঈমানী জোর নেই। লুত(আ) এর জাতিকে আল্লাহ মাটি ওলট পালট করে ধ্বংশ করে দিয়েছেন শুধু তাঁর পরিবার ছাড়া। কারণ,পুরো জাতিই সদোমী বা সমকামীতায় লিপ্ত হয়ে পড়েছিল। মহাপ্লাবনের সময় নুহ(আ) তাঁর সন্তানকে আল্লাহর রোষ থেকে রক্ষা করতে পারেননি। ইব্রাহিম(আ) সত্য ও ন্যায়ের পথ রক্ষার জন্যে পিতার পথ ত্যাগ করেছিলেন। মহানবী(সা) তাঁর নিজের আত্মীয় স্বজন ও কওমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। কাফের ও মোনাফিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ঈমানদার ও মুমিনদের জন্যে ফরজ। সে ফরজ তাঁরা পালন করেননা। আরেক ধরণের মুসলমান আছেন যাঁরা এখন সন্ত্রাসী হিসাবে চিহ্নিত। বিশ্বব্যাপী এখন সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ চলছে। মুসলমানদের ভিতর কিছু দল বা গ্রুপ বিপথে চলে গেছে।
আরবে আইয়ামে জাহেলিয়াতের সময় কন্যাদের জীবন্ত কবর দেয়া হতো। এটা ছিল সামাজিক কুসংষ্কার। ইসলাম এসব কুসংস্কারকে দূরীভুত করেছে। রাসুল(সা) বলেছেন, একটি কন্যাকে বিয়ে দিলে এক হজ্বের সওয়াব পাওয়া যাবে। বাংলাদেশে নারী ও শিশু ধর্ষণ ও হত্যা কয়েকশ’গুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ গত কয়েক মাস ধরে শিশু হত্যা সীমাহীন ভাবে বেড়ে। হিন্দুদের ঘরবাড়ি ও সম্পদ দখলের উত্‍সব শুরু হয়েছে। দখলদারগণ শাসকদের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। বাবু সুরণ্জিত বলেছেন প্রধানমন্ত্রী যেন নিজেই দেখাশুনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর বেয়াই সাহেবের বিরুদ্ধে হিন্দু বাড়ি দখলের অভিযোগ উঠেছে এবং এ নিয়ে মিটিং মিছিল চলছে। এক দলীয় শাসনে দেশ এভাবে বেশীদিন চলতে পারেনা। বিশ্বের কোন শাসকই এভাবে দীর্ঘদিন দেশ চালাতে পারেনা।
লেখক: কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
ershadmz@gmail.com

Read Full Post »