Feeds:
Posts
Comments

Archive for March, 2012


নারী অধিকার ও তালাকের মহামারী   /      এরশাদ মজুমদার

বাংলাদেশে তালাক বাড়ছে, সংসার ভাংগছে। বিশেষ করে রাজধানীতে মধ্যবিত্ত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও ধনী ক্ষমতাবান পরিবারে তালাক বা ডিভোর্সের মহামারী শুরু হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনে গেলেই জানতে পারবেন তালাক বা ডিভোর্সের হাল হকিকত। অবাক বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে রাজধানীতে নিবন্ধিত বা রেকর্ডকৃত তালাকের মধ্যে মেয়েদের ডিভোর্সের সংখ্যা হলো শতকরা ৯০ ভাগ। দশ ভাগ ডিভোর্স  দিচ্ছে ছেলেরা। এটা একটি সামাজিক বিষয়। এ নিয়ে গবেষণা হওয়া দরকার। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকরা এগিয়ে আসতে পারেন। এ বিষয়টা নিয়ে আমি অনেকদিন থেকে ভাবছি। এ নিয়ে ইতোমধশেই আমি দুটো উপন্যাস লিখেছি। একটি ‘ডিমের খোসায় পথচলা’ এবং অপরটি ‘জেন্ডার ক্লাব’। দুটো উপন্যাসের বিষয় হচ্ছে রাজধানীর উচ্চবিত্তের মেয়েদের জীবন ও জীবন বোধ। বেশ কয়েক বছর আগে রোমে আনসা নিউজ এজেন্সীর সম্পাদকের সাথে আমার দেখা হয়েছিল। তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলাম রোমে তালাক বা ডিভোর্সের হার কি রকম। উত্তরে তিনি বলেছিলেন, রোমে তালাকের হার শূণ্য। আমিতো আকাশ থেকে পড়লাম। আমার বিস্ময় ও অবাক হওয়া দেখে তিনি হেসে উঠলেন এবং বললেন রোমে কোন বিয়েই হয়না। তাই তালাক বা ডিভোর্সের প্রশ্ন উঠেনা। তিনি আরও বললেন, তাঁর জেনারেশনে ডিভোর্সের হার খুবই কম। কিন্তু পরের জেনরেশনে বিয়েই নেই। ছেলে মেয়েরা ‘লিভ টুগেদার করে’। যতদিন ভাল লাগে একসাথে থাকে। ভাল না লাগলে আলাদা হয়ে যায়। আইনের কোন ঝামেলা নেই। আনসা সম্পাদক আরও জানালেন, এখানে ক্যাথলিক ধর্ম ব্যবস্থায় বিয়েতে অনেক টাকা ব্যয় করতে হয়। আবার ডিভোর্সের সময় ও অনেক টাকা ব্যয় করতে হয়। তাই নতুন প্রজন্ম বিয়ের  ঝামেলা এড়িয়ে চলে। তিনি বললেন, তাঁদের জামানা শেষ হয়ে গেছে। এখন নতুনদের জামানা। এমন কি তাঁর নিজের ছেলে বিয়ে না করে লিভ টুগেদার করে।

পশ্চিমে এখন আরও নানা রকম ঘটনা ঘটে চলেছে। ওখানে সমকামী বিয়ের অনুমোদ দিচ্ছে সরকার। আর এসবই হচ্ছে ব্যক্তি স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের নামে। নামী দামী রাজনীতিকরাও  সমকামী বিয়ের ব্যাপারে জড়িয়ে পড়েছেন। পশ্চিমারা জ্ঞান বিজ্ঞানে অনেক উন্নতি লাভ করেছে। ক্ষমতার জোরে পৃথিবী শাসন করছে। কিন্তু তাঁদের নৈতিকতার ব্যাপক পতন হয়েছে। ওইসব দেশে গণহারে স্কুলের ছোট ছোট মেয়েরা মা হচ্ছে। পিতারা নিজ কন্যাকে ধর্ষণ করছে। মন্দ মানুষের বিকাশ সৃস্টির শুরু থেকেই আছে। আমরা হাবিল কাবিলের কাহিনী শুনেছি। বেহেশতে বাবা আদমকে শয়তানের প্ররোচনার কথা শুনেছি। আদমের ক্ষমতা প্রার্থনার কথাও আমরা জেনেছি। শয়তান তার অবাধ্যতার জন্যে অভিশপ্ত হয়েছে। শয়তান হচ্ছে অহংকারের প্রতীক। অহংকার হচ্ছে স্বয়ং স্রস্টার গায়ের চাদর। কোন  সৃস্টিরই অহংকার করার অধিকার নেই। শয়তান অহংকার করেই অভিশপ্ত হয়েছে। আমার এ কথা গুলো তাদের জন্যে প্রযোজ্য যারা শয়তানে বিশ্বাস করেন। মানুষ যদি শয়তানের অনুসারী হয় তাহলে মানুষও অভিশপ্ত হবে। তাই বলছি পশ্চিম থেকে আমরা সবকিছু গ্রহণ করতে পারিনা। শয়তানও সাধক ও জ্ঞানী ছিল। কিন্তু অহংকারী ছিল। আজকের পশ্চিমারাও অহংকারী। তারা ক্ষমতার অহংকারে দিশেহারা। সারা পৃথিবী আজ তাদের কারণে অশান্ত হয়ে পড়েছে।

পবিত্র কালামে পাকে সমকামিতার কুফল ও শাস্তি সম্পর্কে সাবধান বাণী রয়েছে। সমকামিতার জন্যে সদোম ও গোমোরাহ নামের দুটি নগর ধ্বংশ হয়ে গেছে। সমকামিতা স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক ব্যাপার নয়। যারা এ পথে গেছে বা যাচ্ছে তারা কেউই স্বাভাবিক মানুষ নয়। সৃস্টির মূল রহস্যই হচ্ছে প্রজনন প্রক্রিয়া। সমগ্র সৃস্টি এই প্রক্রিয়ার প্রতিস্ঠিত হয়ে টিকে আছে। সমকামিরা সৃস্টি বিরোধী। আমাদের দেশেও সমকামি  শূণ্যের কোঠায় আছে একথা বলা যাবেনা। তবে সমাজ ,আইন ও ধর্ম একে স্বীকৃতি দেয়না। সমকামিদের প্রকাশ্য কোন সামাজিক সংগঠণ বাংলাদেশে নাই বলেই জানি। সৃজনশীল সাহিত্য বা সৃস্টি কর্মে এ বিষয়টা এখনও তেমন ভাবে উপস্থাপিত হয়নি। ভারতে এ বিষয়টা খুবই প্রকাশ্য। সেখানে সামাজিক সংগঠণ আছে। তাদের আন্দোলন আছে। ভারতে সেক্স ওয়ার্কারদের সংগঠণও প্রকাশ্য। সেখানে অধিকার আদায়ের জন্যে নানা রকম আন্দোলন হচ্ছে। বাংলাদেশে পশ্চিমা অর্থে লালিত কিছু এনজিও সেক্স ওয়ার্কারদের নিয়ে কাজ করার চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এর কোন সামাজিক স্বিকৃতি নেই।

নারী অধিকার আন্দোলন বাংলাদেশে এখন তুংগে। আমাদের  নারী নেত্রীরা  পশ্চিমাদের দ্বারা অনুপ্রাণিত। পশ্চিমাদের কাছে থেকে টাকা পয়সা ও ধ্যান ধারণা নিয়ে এরা কাজ করেন। পশ্চিমারা নিজেদের ঘর সংসার, ঐতিহ্য ও ধর্মকে ধ্বংস করেছে। তারা তাদের নবী ইসাকে(আ) নিয়ে ব্যাংগ করে। নবী ইসাকে(আ) নিয়ে আজে বাজে সিনেমা বানায়। আমাদের নারী নেত্রীদের আদর্শ হচ্ছে পশ্চিমারা। জাতি সংঘ হচ্ছে ওই পশ্চিমাদের একটা আড্ডাখানা বা ক্লাব। জাতিসংঘ মানব কল্যাণে যতটুকু নিবেদিত তার চেয়ে অনেক বেশী নিয়োজিত মানব সভ্যতাকে ধ্বংস করার জন্যে। নারী অধিকার আর নারী স্বাধীনতা নিয়ে পশ্চিমাদের ভ্রান্ত ও বিপদগামী ধারণা এখন আমাদের নারীনেত্রীরা গ্রহণ করেছেন। পশ্চিমাদের তৈরী নারীনীতি গ্রহণ করার জন্যে বাংলাদেশে আন্দোলন করছে। ফলে আমাদের মেয়েরা বিভ্রান্ত। চলমান আওয়ামী সরকারের মাথায় তথকথিত স্যেকুলারিজমের ভুত চেপে বসে আছে। এ ব্যাপারে স্যেকুলারিম মার্কা কিছু রাজনৈতিক দল আছে যাদের মিডিয়া সাপোর্ট করে তারাই আওয়ামী লীগের মাথা খারাপ করে দিয়েছে। দেশে কিছু দায়িত্বহীন বুদ্ধিজীবী আছে যারা সমাজ ঐতিহ্য, ইতিহাস ও ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলে পশ্চিমাদের হাততালি  অথবা দু’চার পয়সার স্কলারশীপ পেতে চায়। স্যেকুলারিজমের ভুত এখানে বহুদিন ধরে ঘুরাফিরা করছে। এরা তরুনদের মাথা খায়। যে বৃটেন এক সময় স্যেকুলারিজমের কথা বলেছিল সেই বৃটেনই এখন বলছে আমরা  একটি খৃস্টদেশ। আমেরিকাও বলছে তারা একটি খৃস্টদেশ। কিন্তু আমাদের কিছুলোককে স্যেকুলারজম একেবারে গিলে খাচ্ছে। আমি এর বহুবার বলেছি স্যেকুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষতা বলে কোন কিছুই এ জগতে নেই। এটা হচ্ছে এক শ্রেণীর বুদ্ধিজীবীর ভন্ডামী। নিজের মূলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা। এরা বিভ্রান্তিতে আছে। মারা গেলে এদের পরিবার এদের লাশ নিয়ে  বিপদে পড়েন। কারণ মৃত ব্যক্তি বলে গেছেন, তাঁর লাশ বা মরদেহ মেডিকেলে দেয়ার জন্যে। এটা ভাল পরামর্শ। কিন্তু কেউ যদি বলেন, তাঁর জানাজা যেন না পড়া হয়। ইদানিং মরদেহ শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়া একটা ফ্যাশানে পরিণত হয়েছে। অনেকের মরদেহ কাঁধে নিয়ে সংগীত বাজানো হয় বা পরিবেশন করা হয়। সেদিক থেকে শ্রদ্ধেয় কবীর চৌধুরী সাহেব খুবই ভাল করেছেন। তিনি অছিয়ত বা পরামর্শ করে গেছেন তাঁর লাশ নিয়ে কি করা হবে। অনেকেরই ধারণা ছিল তাঁর লাশ শহীদ মিনারে নেয়া হবে এবং নানা রকম ভন্ডামী করা যেতো। সে সুযোগ তাঁর ভক্তরা পাননি।

আপনারা সবাই ইতোমধ্যে শুনেছেন বা পড়েছেন যে, বাংলাদেশে আন্তধর্ম বিয়ে বিয়ে আইন জারী হয়েছে। যদিও এটা অনেক আগে জারী হয়েছে, আমরা জানতে পেরেছি সম্প্রতি। এ আইন মোতাবেক ধর্ম কোন বিষয় নয় বা বাধা নয়। বিয়ের জন্যে কাউকেই ধর্ম পরিবর্তন করতে হবেনা। শুধু সাক্ষী রেখে দলিল বানালেই চলবে। এ বিয়ের কাজী হচ্ছেন শ্রীযুক্ত প্রাণেশ সমাদ্দার। সারা দেশের জন্যে একজনই কাজী বা রেজিস্ট্রার। এ বিয়েতে ফি হলো পাঁচ হাজার টাকা। বছরে দু’চারটা ধর্মহীন বিয়ে হয়। দম্পতিরা নাকি সুখেই আছেন। সবাই নিজ নিজ ধর্ম পালন করছেন। কোন অসুবিধা হচ্ছেনা। সমস্যা দেখা দিয়েছে তাঁদের সন্তানদের নিয়ে। সন্তানরা কোন ধর্মের অনুসারী হবে তা ঠিক করা যাচ্ছেনা। এ ব্যাপারে সরকার এবং বুদ্ধিজীবীদের চিন্তা করার সময় এসে গেছে। আদমশুমারীতে ধর্মের কলামে ধর্মহীনদের জন্যেও একটি কলাম রাখা দরকার হয়ে পড়বে। ধর্মহীনদের জন্যে নতুন আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে। চলমান আইনী ব্যবস্থায় সিভিল ম্যারেজের ব্যবস্থা আছে। মানে আদালত বা কোর্টে গিয়ে বিয়ে রেজিস্ট্রি করা যাবে। এই বিয়েতেও ধর্মের উল্লেখ করতে হয়। বর কনে  একই ধর্মের না হলে বিয়ে রেজিস্ট্রী করা যায়না। ছেলে বা মেয়েকে মুসলমান হয়েই বিয়ে রেজিস্ট্রী করতে হয়। হিন্দু ধর্মীয় বিয়ের আইন গুলো এখনও পরিবর্তন হয়নি বাংলাদেশে। ভারতে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এমন কি চীনেও হয়েছে। সবাই ইসলাম ধর্মের বিয়ের আইন গুলো কিছুটা অনুসরণ করেছে। বাংলাদেশেও হিন্দু বিয়ে ও পারিবারিক আইনের পরিবর্তন হও দরকার। এমন কি বর্ণবাদী শূদ্র ব্যবস্থার আইনটিরও পরিবর্তন হওয়া দরকার। মনুসংহিতার আইন মোতাবেক শুদ্রদের মানুষ বলে গণ্য করা হয়না। ভারতে আন্তবর্ণের বিয়ে হয়না। ভোটের ক্ষেত্রে ভারত বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে সব মানুষই সমান। বলা হয় নাগরিক হিসাবে সবাই সমান। ভারতের ৩০ কোট হরিজন বা শুদ্রকে ধর্মীয় কারণে মানুষ হিসাবে গণ্য করা হয়না। বাংলাদেশে হিন্দুদের বর্ণবাদী আইনটি বাতিল করা দরকার। হিন্দুনেতারা বাংলাদেশে স্যেকুলার হতে চান কিন্তু বর্ণবাদ ব্যবস্থার অবসান চাননা।

হতভাগা মুসলমানরা কখনই নিজধর্ম সম্পর্কে ভাল ভাবে জানার চেস্টা করেনি। সব সময় বেহেশত দোজখ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে শত শত বছর ধরে। দেড় হাজার বছর আগে ইসলাম নারী শিক্ষাকে বাধ্যতা মূলক করেছে। এ কথাটা বাংলাদেশের মুসলমানরা আজও ভাল করে জানেনা। যার বিদ্যা নেই সে ইসলাম থেকে দূরে সরে গেল। অশিক্ষাকে ইসলাম হারাম ঘোষণা করেছে। তবুও বাংলাদেশের নারী পুরুষের বিরাট অংশ অশিক্ষিত বা বিদ্যাহীন রয়ে গেছে। আমি নিজেও ভেবে কুল পাইনা কেন এ দেশের কোটি কোটি মানুষ কেন এখনও বিদ্যাহীন রয়ে গেছে। ইসলাম নারী পুরুষের বিদ্যাকে বাধ্যতামূলক করেছে দেড় হাজার বছর আগে। সে বাণী এখনও আমাদের কানে প্রবেশ করেনি। আমাদের যাঁরা ধর্মশিক্ষা দেন তাঁরা বিষয়টিকে সর্ব সাধারনের কাছে  খোলাসা করেননি। কে করেননি তা তাঁরাই ভাল জানেন। বিদ্যাহীন জাতির ভবিষ্যত সব সময় অন্ধকার। পূর্ণাংগ ইসলাম জানলে আজ আমাদের অবস্থা এমন হতোনা। ৬শ’ সাল থেকে ১২শ’ সাল পর্যন্ত ইসলামই বিশ্ববাসীকে শিক্ষার আলো দান করেছে। এখন নিজের ঘরেই সেই আলো নিভে গেছে।

বিজ্ঞানের কিছু জ্ঞান ছাড়া পশ্চিমাদের কাছে এখন আমাদের শিখার মতো কিছুই নাই। এ কথা এখন এ দেশের সরকার বুদ্ধিজীবী কবি শিল্পী কাউকেই বুঝানো যাচ্ছেনা। চারিদিকে তাকালে মনে হয় সবকিছুর জন্যে শুধুই ইসলাম দায়ী । রাজনীতিক, মিডিয়া এবং পশ্চিমা প্রপাগান্ডা আমাদের অন্ধ করে দিয়েছে। আজ আমাদের সন্ত্রাসী বা টেরোরিস্ট বলে গালাগাল দিচ্ছে। নিজ দেশেও আজ মনে হয় মুসলমানরা মাইনরিটি হয়ে গেছে। আমাদের নির্বাচিত সরকারই সন্ত্রাসের নামে ইসলামের বিরোধী করছে। আমাদের  আদালত জেনে হোক বা না জেনে হোক মাঝে মধ্যেই কোরাণী আইনের বিরুদ্ধে রায় দিয়ে থাকেন। নিজেদের মনগড়া কোরাণের ব্যাখ্যা দেন। সরকারের ব্যবহারের কারণে সারা দেশে কিছুলোক কোরাণ ও রাসুলের(সা) বিরুদ্ধে আজে বাজে কথা বলে। সম্প্রতি  দিল্লী প্রবাসী সালাম আজাদ নামক এক বাংলাদেশী ইসলাম ও রাসুলের(সা) বিরুদ্ধে একটা চটি বই লিখে বিতরণ করছে।  বর্তমান সরকারের আসকারা পেয়েই সালাম আজাদ মার্কা লোকেরা এ ধরনের নোংরা বই লিখতে পারে। হিন্দুস্তান বাংলাদেশের এ ধরণের কিছু লোককে খোরপোষ দেয়। বিনিময়ে এরা নিজ ধর্ম, নিজ দেশ ও নিজ মানুষের বিরুদ্ধে কলম ধরে। আমরা যারা সালাম আজাদের মতো হীনমন্যতায় ভুগি তারাই দেশ ও দেশের মানুষের বিরুদ্ধে কথা বলি। এ ধরণের মানুষকেই আমরা নানা মঞ্চে দেখি বুদ্ধিজীবী, কবি শিল্পী, শিক্ষক বিচারক হিসাবে। এদের বাহবা দেয়ার মতো লোকেরও অভাব নেই। সমাজ আজ এত অশান্ত হয়ে উঠেছে একমাত্র এদের কারণে।

এদেরই সন্তানরাই ধর্মের বিরুদ্ধে, সমাজের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে। এরাই ক্লাবে যায়, মদ খেয়ে মাতাল হয়। এদের মা বাবারা এতে আনন্দিত হয়। এটা নাকি এদের সামাজিক মর্যাদা। নারী অধিকারের নামে এরা জরায়ুর স্বাধীনতা চায়। এরাই ধর্ম ও সমাজ বিরোধী নারী নীতি তৈরী করেছে এবং সেটা পাশ করার জন্যে উঠে পড়ে লেগেছে। এদের গোত্রের লোকেরাই মহানবীর(সা) কার্টুন আঁকে। এরাই আদালতে বসে কোরাণ সুন্নাহর বিরুদ্ধে রায় দেয়। এরাই পরিবার ব্যবস্থাকে ভেংগে চুরমার করতে চায়। এইসব উঁচু দরের বুদ্ধিজীবীদের কন্যারা কুমারী মা হয়। দেশের ক্লিনিক গুলোতে যেয়ে খবর নিন, জানতে পারবেন হাজার হাজার এবর্শনের কথা। অনেক কন্যা নিয়মিত বড়ি খায়। এদের মা বাপ এ ব্যাপারে ওয়াকিবহাল। বিয়ের পরে এরা আর সংসার নামক ধর্ম পালন করতে চায়না। রাজধানীর সিটি কর্পোরেশনের ডিভোর্স সালিশী কেন্দ্রে গিয়ে খবর নিন। জানতে পারবেন রাজধানীতে তালাকের মহামারী লেগেছে। কোন কারণ নেই তবুও ডিভোর্স। কারণ ,আর ভাল লাগছেনা। সমাজের উচ্চ শ্রেণীর কন্যরা চার/পাঁচ বার ডিভোর্স দিলেও কিছু আসে যায়না। এদের টাকা পয়সার অভাব নেই। এদের মা বাবারা খুবই প্রভাবশালী। ইতোমধ্যে  মধ্যবিত্ত শিক্ষিত পরিবারেও এ রোগ ঢুকে পড়েছে। স্বামী স্ত্রী দু’জনই ব্যান্কে চাকুরী করেন। শিশু সন্তানটি থাকে নানী বা দাদীর কাছে। বাসায় ফিরার পথে শিশুটিকে নিয়ে আসা হয়। বাসায় ফিরে চা তৈরী করা নিয়ে খিটমিট, তারপরে কন্যার পক্ষ থেকে ডিভোর্স। তারপরে শুরু হয় দুই পরিবারের মধ্যে মল্লযুদ্ধ। কেউ কারো চেয়ে কম যায়না। সমঝোতার কোন উদ্যোগ নেই। সবাই বিয়ে ভাংগার জন্যে উঠে পড়ে লেগে যায়। ধনী ও প্রভাবশালী লোকেরা চান ছেলেটা একটু পোষ মানিয়ে চলুক। টাকা পয়সারতো কোন অভাব নেই। আমাদের মেয়েটা একটু বেশী আদুরে। ছেলে মেয়ে দুজনই ধনী হলে সেখানে কথায় কথায় তালাক। না হয় জুতাপেটা বা লাঠালাঠি। মোহর এক কোটি টাকা তাতে কী?

আপনারা যে কোন একজন ধনী পরিবারের খবর নিন , যেখানে বাড়িতে পাঁচটি ড্রয়িং রুম আছে। মেয়ের ড্রয়িং রুমে সে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা মারছে রাতভর, মা বাবার কোন খবর নেই। ছেলের ড্রয়িং রুম, মায়ের ড্রয়িং রুম ও বাবার ড্রয়িং রুমেরও একই অবস্থা।বেশ কয়েক বছর আগে রাজধানীতে এক নামকরা ধনীর কন্যা নিচতলায় খুন হয়েছেন যখন  উপরে মা বা আড্ডায় ব্যস্ত ছিলেন। ছেলে বা মেয়ে গভীর রাতে বাড়ি ফিরে এ ব্যাপারে মা বাবার কোন মাথা ব্যথা নেই। এসব পরিবারের মেয়েরা সহজে সংসার করতে পারেনা। আমি একটি পরিবারকে চিনি যেখানে মা বাবা দুজনই ডাক্তার। মায়ের রোজগার বাবার চেয়ে অনেক বেশী। মাসে পাঁচ দশ লাখ টাকা। রাজধানীতে কয়েকটা বাড়ি আছে। একটি মাত্র মেয়ে। অতি আদরের মেয়ে, অতি বেশী আদরের ভিতর মানুষ হয়েছে। মেয়েটিও খুব ভালো। খুব ভালো তার মন ও হৃদয়। তবুও তার সংসার করা হলোনা। কারণ, স্বামী তার মন বুঝতে পারেনা। সে যেভাবে চায় সেভাবে স্বামী চলেনা। ফলে মেয়েটির সংসার করা হলোনা। মা তার কন্যাকে রাজধানীর মনো বিজ্ঞানী বা মনো চিকিত্‍সকদের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ডাক্তারদের এক কথা, সংসার নামক বাস্তব জগতে  মানিয়ে নিতে মেয়েটির সময় লাগবে। পথা একটই খোলা। তাহলো তালাক দেয়া এবং রাগের বসে স্বামীর কাছ থেকে নানা অজুহাতে টাকা আদায় করা।অনেক বুঝিয়েও মেয়েটাকে সংসার করানোতে  রাজী করা গেলনা।

আমি আরেকটা মেয়েকে চিনি। এই মেয়েটার বাবা একজন সাবেক ব্যান্কার। একটি ব্যান্কের এমডি ছিলেন। মা একজন চীফ ইজ্ঞিনিয়ারের মেয়ে। ব্যান্কার ভদ্রলোক একজন নরম বিনীত মানুষ। সারা জীবন স্ত্রীর বাড়িতেই ছিলেন। তাই তাঁর কোন ব্যক্তিত্ব ছিলনা। ফলে সংসারে ব্যান্কার ভদ্রলোকের কথার কোন দাম ছিলনা। তাঁর কথারও কোন মূল্য ছিলনা। অবসর নেয়ার পরও ভদ্রলোক চাকুরী করেন  তাঁর স্ত্রীর বড় ভাইয়ের ফার্মে।ভদ্রলোকের সন্তানেরাও বড় হয়েছে মায়ের আদর্শে। বড় মেয়ের দেয়াটা মায়ের এক ধরনের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। এ পর্যন্ত বড় মেয়েটা তিন বার বিয়ে করেছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে। প্রতিবারই নিজেকে কুমারী বলে পরিচয় দিয়েছে মেয়েটি এবং স্বামীর কাছে থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার আদায় করেছে। তালাক দেয়াটা এক শ্রেণীর মেয়ের কাছে ব্যবসা বা ফ্যাশানে পরিণত হয়েছে।

মধ্যবিত্ত, উচ্চ মধ্যবিত্ত ও ধনীদের পরিবারে মেয়েদের তালাক এখন মহামারীতে পরিণত হয়েছে। এর এমাত্র কারণ, ধর্মীয় অনুভুতি ও  চর্চার অভাব। নারী অধিকারের তথকথিত আন্দোলন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েদের বিভ্রান্ত করছে। একই ভাবে বস্তির গরীব মানুষদের ভিতর তালাক  বিবাহ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। বস্তিতে বিয়ের কোন নিবন্ধন হয়না। এখানে বেশ কিছু এনজিও কাজ করছে পারিবারিক মামলা নিষ্পত্তি করতে।( নয়া দিগন্ত, ১৩ই এপ্রিল,২০১২ )

লেখক: কবি ও সাংবাদিক

ershadmz40@yahoo.com

Advertisements

Read Full Post »


আমাদের এ জগতে  জগত জুড়ে ভাষার দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে বিজ্ঞান ও কম্পিউটারের কারণে। বিশেষ করে আমাদের মাতৃভাষা বাংলায় খুব সহজে  নিত্য নতুন শব্দ প্রবেশ করছে  এবং ভাষাকে করছে সমৃদ্ধ। বাংলা ভাষার বিরাট গুণ হচ্ছে, এ ভাষা খুব সহজে বিদেশী শব্দকে নিজের করে নিতে পারে। আপনারা সবাই জানেন যে , বাংলা ভাষায় বহু বিদেশী শব্দ রয়েছে যা এখন আমাদের নিজেদের হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশী রয়েছে ফার্সী শব্দ। প্রতিদিন আমরা যে শব্দে কথা কথা বলি তার ভিতর হাজার হাজার  বিদেশী শব্দ রয়েছে। যা কখনই আপনার মনে হয়নি  বিদেশী। এদেশে সর্বশেষ বিদেশী শাসক ছিলো ইংরেজরা। ১৯০ বছর তারা ভারতবর্ষকে শাসন করেছে। ফলে আমাদের ভাষায় ইংরেজীর প্রভাব খুব বেশী। তবে ইংরেজীকে বিশ্বের লিংগুয়া ফ্রাংকা বলা হয়। ১৯০ বছরে ইংরেজরা পুরো ভারতবর্ষ, বিশেষ করে বাংলাদেশকে সীমাহীন শোষণ করে লন্ডনকে গড়ে তুলেছে। এদেশের কোটি কোটি মানুষকে হত্যা করেছে। সেই ইংরেজদের সাথে আমাদের এখনও সুসম্পর্ক। এখনও আমরা অনেক ক্ষেত্রে লন্ডনের কথা শুনি। উইলিয়াম হান্টারের বই পড়লে আমাদের নতুন প্রজন্ম বুঝতে পারবে আমাদের  এই দেশটি সুজলা সূফলা শস্য শ্যামলা ছিল। জগতের ধন ভান্ডার ছিল এখানে। তাই এদেশে এসেছে আরব, ফরাসী পর্তুগীজ ও ইংরেজরা। অন্যরা ব্যবসা করেছে। কিন্তু ইংরেজরা ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশ দখল করে নেয়। পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠি বাংলাদেশকে শোষণ করেছে ২৩ বছর। ফলে বাংলাদেশের বাংগালী মুসলমানেরা অবাংগালী মুসলমানদের থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ে তোলে। আলোচনার মাধ্যমে টেবিলে বসে এ সমস্যার সমাধান করা যেতো। কিন্তু পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠির যড়যন্ত্রের ফলে ৭১ এর রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। ২৩ বছর অবাংগালী মুসলমানেরা  বাংগালী মুসলমানদের শোষণ করেছে। এখন মানে বিগত ৪০ বছর ধরে একশ্রেণীর রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীরা জোট বেঁধে দেশবাসীকে শোষণ করছে। ব্যান্কের কেরাণী আজ ব্যান্কের চেয়ারম্যান। অফিসের পিয়ন এখন শিল্পগ্রুপের মালিক।

আমাদের রাজনীতিতে এখন দুটি বড় রাজনৈতিক দল। একটির জন্ম হয়েছে মুসলীম লীগ ত্যাগ করে ১৯৪৯ সালে ঢাকার রোজ গার্ডেনে। নতুন দলের নাম ছিল আওয়ামী মুসলীম লীগ। এই নামের সাথে একটি বাংলা শব্দও নেই। আওয়াম মানে জনতা। মুসলীম লীগ ইংরেজী শব্দ। মুসলমান শব্দটিও বাংলা নয়। এটি একটি আরবী শব্দ। লীগ একেবারেই ইংরেজী শব্দ। নতুন দলের সভাপতি হয়েছিলেন আসাম মুসলীম লীগের সভাপতি মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। সাধারন সম্পাদল ছিলেন সামশুল হক। এই দলটি সেকুলার হওয়ার জন্যে ১৯৫৫ সালে মুসলীম শব্দ বাদ দিয়ে শুধু আওয়ামী লীগে পরিণত হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বাংলাদেশ ন্যাশানালিস্ট পার্টির জন্ম হয় ১৯৭৮ সালে জেনারেল জিয়ার নেতৃত্বে। ইংরেজী নামের সংক্ষেপ করেই দলটির নাম হয়েছে বিএনপি। সৃস্টি লগ্নে বিএনপির মেজর পার্টনার ছিল মাওলানা ভাসানীর ন্যাপ। এখনও বিএনপিতে সাবেক ন্যাপ নেতাদের প্রভাব বেশী। মুসলীম লীগ সহ আরও  বহু ছোটখাট দলের নেতারা জিয়া সাহেবের আহবানে বিএনপিতে যোগদান করেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তথাকথিত সেকুলার দল ছাড়া বাকি সব দল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ফলে দেশে আওয়ামী লীগ ছাড়া তেমন কোন রাজনৈতিক দল ছিলনা। বামপন্থী বলে পরিচিত কিছু নেতা বিভিন্ন দলের ব্যানারে কাজ করতেন। বামপন্থী দল এত বছর পরেও সাধারন মানুষের ভিতর তেমন শিকড় বিস্তার করতে পারেনি। তাদের গলা বড়, মিডিয়া তাদের বড় করে দেখায়। নিজেরা একা ভোটে দাঁড়ালে ৫শ’ হাজারের বেশী ভোট পায়না। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বামপন্থীরা সবাই দলবেঁধে নৌকা মার্কা নিয়ে ভোট করেছে। বর্তমান মন্ত্রী সভায় বামপন্থীদের দল ভারী। সারা দেশে বামপন্থীদের পাঁচ হাজার সমর্থক থাকলেও দল রয়েছে কমপক্ষে ২০টা। কেউ পাঁচশ’র বেশী পান না। তবুও আওয়ামী লীগ কেন বামপন্থীদের এত গুরুত্ব দিচ্ছে তা  আমার কাছে বোধগম্য নয়। ৭৫ সালে বামপন্থীরা বংগবন্ধুর কাঁধে চড়ে বাকশাল বানিয়েছিল। বাকশাল গঠণ করে বংগবন্ধু নিজের দল আওয়ামী লীগ সহ সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন।

৪৭ ও ৭০ এর আগে রাজনীতিতে যে ভাষা ব্যবহৃত হতো এখন আর তেমন ভাষা নেই। পশ্চিম বাংলার কিংবদন্তী নেতা জ্যাতি বসু একবার বলেছিলেন, তখনকার রাজনীতিতে নুরুল আমি সাহেব ছিলেন সবচেয়ে বিনীত রাজনীতিক। নুরুল আমি সাহেব অবিভক্ত বংগদেশের  সংসদের স্পিকার ছিলেন। পরে পূর্ব পাকিস্তানের চীফ মিনিস্টার ছিলেন। রাজনৈতিক কারণে তিনি বর্তমান বাংলাদেশে তিনি একজন নিন্দিত ব্যক্তি। ব্যক্তিগত জীবনে নুরুল আমি সাহেব ছিলেন একজন বিরল সত্‍ মানুষ। সেই সময়ে আরও অনেক মানুষ ছিলেন যাঁরা ছিলেন খুবই সত্‍ এবং তাঁদের আদব কাডা ছিল খুবই পরিশীলিত। অবিভক্ত বংগদেশের সংসদ বিবরণী পড়েলে আমরা জানতে পারবো তাঁরা কি ভাষায় কথা বলতেন। প্রতিপক্ষকে কি ভাষায় আক্রমন করা হতো তা জানার জন্যে ওইসব বিবরণী পড়া অবশ্য কর্তব্য বলে আমি মনে করি। অবিভক্ত বংগদেশে শেরে বাংলা, স্যার নাজিমুদ্দিন ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এই তিনজনকেই আমরা কিছুটা দেখেছি। আমাদের আগের জেনারেশন বা মুরুব্বীরা আরও বেশী দেখেছেন। তাঁদের ভাষা সম্পর্কেও আমাদের কিছু ধারণা আছে। এই তিনজনই নেতাই ছিলেন খুবই উচ্চ শিক্ষিত বিনয়ী। এঁদের কারোরই আদব কায়দা ছিল খুবই উচ্চ মানের। এঁদের ভিতর মাওলানা ভাসানী ছিলেন একটু ব্যতিক্রম ধর্মী। মাওলানা সাহেব ছিলেন অতি সাধারন মানুষের নেতা। কিন্তু তাঁর সততা ও সাংগঠনিক ক্ষমতা ছিল অপরিসীম। তিনি ৪৭ এর আগে ছিলেন আসাম মুসলীম লীগের সভাপতি। পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে মুসলীম লীগ ছেড়ে দিয়ে গড়ে তুলেছিলেন আওয়ামী মুসলীম লীগ। মাওলানা ভাসানী অনলবর্ষী বক্তা। পশ্চিমা মিডিয়া তাঁকে বলতো ‘ফায়ার ইটার’। তিনি ছিলেন ইসলামী সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী। ফলে তাঁকে আমেরিকা রাশিয়া উভয়েই ভুল বুঝতো। মাওলানা সাহেবদের জামানার  সকল  রাজনীতিকই ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুবই সাবধান ছিলেন। প্তিপক্ষকে কখনই অশালীন ভাষায় আক্রমন করতেন না। অশালীন কথা না বলা বা  ভাষা ব্যবহার না করা ছিল তাঁদের সংস্কৃতি। তাই তাঁদের রাজনীতির ভাষা অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় ছিল। বংগবন্ধু এবং তাঁর বন্ধুরা ছিলেন রাজনীতিতে শালীন ব্যবহারের শেষ জেনারেশন। সংসদ বা পার্লামেন্টের লাইব্রেরীতে গেলেই এর প্রমান পাওয়া যাবে।

৭৩ এর জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের তেমন কোন সদস্য ছিলেন না। আওয়ামী লীগ সম্ভবত ২৯৩ সীট দখল করতে পেরেছিল। শুনেছি খোন্দকার মোশতাক সাহেব নির্বাচনে না জিতলেই তাঁকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছিল। আমলারা ও চামচারা বংগবন্ধুকে বুঝিয়েছিলেন  একটি সীটও বিরোধী দলকে দেয়া যাবেনা। কারণ বিরোধী দল জিতলে বংগবন্ধুর জনপ্রতিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। লোকে বলবে ‘জাতির পিতার দলের জনপ্রতিয়তা কমে গেছে’। বংবন্ধু আমলা ও চামচাদের কথায় সায় দিয়েছিলেন। কিন্তু ৭৫ এর পরে সবাই তাঁর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। ওই সংসদেও ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটা সীমা ও শালীনতা ছিল। ৭৯ এর সংসদে আওয়ামী লীগ সহ অন্যন্যদের বেশ কিছু সীট ছিল। সেই সংসদে বিরোধী দলের নেতা ছিলেন আওয়ামী লীগের আসাদুজ্জামান সাহেব। তিনি ছিলেন খুবই একজন পরিশীলিত মানুষ। সেই সংসদে আতাউর রহমান খান ও খুলনার সবুর সাহেব ছিলেন। বেশ কয়েকজন নামী দামী রাজনীতিক ওই সংসদের সদস্য ছিলেন। আতাউর রহমান সাহেব ৫৫ সালে পূর্ব পাকিস্তানের চীফ মিনিস্টার ছিলেন। আইউবের আমলে সবুর সাহেব ছিলেন সংসদের নেতা। ৭৯ এর জাতীয় সংসদের নেতা ছিলেন শাহ আজিজ সাহেব। মেনন ও শাহজাহান সিরাজ প্রথমবার সংসদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই সংসদেও ভাষার ব্যবহার ছিল শিক্ষণীয়। সত্যি কথা হলো রাজনীতিতে ভাষার পতন শুরু হয়েছে বেশ কয়েক যুগ হলো। রাস্তার ভাষা আর সংসদের ভাষা যে এক নয় তা এখনকার নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জানেন না। এখনতো লেখাপড়া না জানলেও সংসদ সদস্য হওয়া যায়। যারা স্কুল কলেজ পাশ করেছেন তাঁরাও পেশী শক্তিতে বিশ্বাস করেন। শক্তিই এখন ক্ষমতার উত্‍স। তাই স্কুল কলেজের সার্টিফিকেট পাওয়া মাস্তানরাই রাজনীতি করবেন এবং ক্ষমতায় যাবেন। রাস্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন সাহেব একবার বলেছিলেন, ছাত্ররা আর লেখাপড়া করবেনা। কারণ লেখাপড়া না করেই মন্ত্রী হওয়া যায়। এখন ধনী ব্যবসায়ীরাই সংসদ দখল করে রেখেছেন। এখন নাকি জাতীয় সংসদের সদস্য হতে গেলে খুব কম করে হলেও চার পাঁচ কোটি  টাকা লাগে। বাংলাদেশ কোন ভদ্রলোকের পক্ষেই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করা সম্ভব হবেনা। ৭০ এর আগে ছাত্র রাজনীতিতে ভাল ছাত্ররা আসতো। এমন কি দুটো ফার্স্ট ডিভিশন না থাকলে কোন ছাত্র হল নির্বাচনে নমিনেশন পেতনা। এ অবস্থার পতন হতে শুরু করেছে  আইউব আমল থেকে। আইউব খান ও মোনেম খান ছাত্র রাজনীতিতে লাঠি সোটা, সাইকেল চেইন, সাপ, হকিস্টিক আমদানী করেছেন। তবে এর বিস্তৃতি খুব বেশী ছিলনা। এখন পিস্তল বন্দুক দা ছুরি রামদা লগি বৈঠা নিয়ে  দেশের রাজনীতি বেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক কালের টিভি আর পত্রিকার ছবি দেখলেই দেশবাসী বুঝতে পারেন আমাদের রাজনীতির ভাষা এখন অস্ত্রের ভাষায় পরিণত হয়েছে। লগি বৈঠা আওয়ামী লীগের ব্রান্ড নৌকার সরঞ্জাম। এ গুলো না হলে নৌকা চলেনা। বংবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা লগিবৈঠার শ্রেস্ঠ ব্যবহার করেছেন ২০০৬ সালের ২৮শে অক্টোবর। লগি আর বৈঠার আঘাতে দেশের মুল্যবান কয়েকটি জীবন নস্ট হয়েছে।

অস্ত্রের ভাষার কথা আমরা প্রথম শুনেছি জেনারেল আইউবের মুখে। যদিও ছাত্রদের ভিতর অস্ত্রের ব্যবহার প্রথম শুরু করেছিলেন জেনারেল আইউব স্বয়ং। আগেই বলেছি, এখন ছাত্র বা রাজনৈতিক কর্মীরা লাঠিসোটা আর হকি স্টিক ব্যবহার করেনা। স্বাধীনতার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সাত খুন হয় অটোমেটিক অস্ত্রের দ্বারা। তখন ছাত্রলীগের এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে হত্যা করেছে অস্ত্র দ্বারা। এখনও আমরা মাঝে মাঝে শুনতে পাই অস্ত্র জমা দিয়েছি, কিন্তু ট্রেনিং জমা দিইনি। রাজনীতির কারণে এখন আমরা নানা মাত্রায়, নানা ডাইমেনশনে মুক্তিযুদ্ধকে দেখতে পাই। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রাজনীতি করতে করতে এখন দেখা যাচ্ছে ৪/৫ বছরের ছেলে মেয়েরাও মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছে। ৪/৫ বছরের সেই শিশুর বয়স  এখন ৪০/৪৫ বছর। টিভিতে ইন্টারভিউ দিয়ে বলছে, আমি আমার বাবা বা দাদাকে লাঠি হাতে প্যারেড করতে দেখেছি। আমি দাদাকে পানি পান করিয়েছি। সম্মানিত কবীর চৌধুরী বলেছিলেন, এখন শুধু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থাকলেই চলবে। কিন্তু দেশবাসী আজও জানেন না মুক্তিযুদ্ধের চেতনাটা কি? আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই নানা ধরনের চেতনার কথা বলে থাকেন। স্বাধীনতার চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর একুশের চেতনা। আমিতো দেখছি এই চেতনার নানা মাত্রা বা ডাইমেনশন আছে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের চেতনা এক রকম আর আমার চেতনা আরেক রকম। বিএনপি বা সমমনা দলগুলো ভাবে অন্য রকম। ভারত ভাবে আরও অন্য রকম।

হানাদার পাকিস্তান বাহিনীর অতর্কিত আক্রমনের ফলে প্রায় এক কোটি লোক দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যায়। এই এক কোটি লোকের ৯০ ভাগ ছিলেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। দশ ভাগ ছিলেন সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়। স্বাধীনতার জন্যে যুদ্ধ করেছেন বাংগালী সৈনিক, ইপিআর, আনসার ও পুলিশ। মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নিয়েছেন এ দেশের ছাত্র জনতা। এদের ৯০ ভাগই মুসলমান বা সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়। যাদের জন্যে স্বাধীনতা অপরিহার্য হয়ে উঠেছিল। এরা সবাই ছিলেন বাংগালী মুসলমান। এককালে এরাই চেয়েছিলেন পাকিস্তান । পাকিস্তানীদের জুলুম নির্যাতনের কারণেই বাংগালী মুসলমানেরা বাধ্য হয়েই স্বাধীনতার দাবী তুলেছে আর জান কোরবান করে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অংশ গ্রহণ ছিল খুবই নগণ্য। তবে একথা সত্য যে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তাঁরা নির্যাতিত হয়েছেন বেশী। একই ভাবে সদা ভীত সন্ত্রস্ত ছিলেন এদেশে থেকে যাওয়া সাড়ে ছ’কোটি মানুষ। এদের নিয়ে  ৭২ সালে ইংরেজী সাপ্তাহিক হলিডে লিখেছিল ‘ সিক্সটিফাইভ মিলিয়ন কোলাবোরেটরস’। তখন বংগবন্ধু এবং তাঁর ভক্তদের হুঁশ এসেছিল যে, দেশের সাড়ে ছ’কোটি লোককে কোলাবোরেটর বানিয়ে দেশ চালানো যাবেনা।আগেগি বলেছি যে, কোলকাতা বা বাংলাদেশ সীমান্তের আশে পাশের ভারতীয় রাজ্য ও জেলা গুলোতে আশ্রয় নিয়েছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাইয়েরা। এ কথা সত্য যে, সে সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা বেশী অত্যাচারিত হয়েছিলেন। এমন কি প্রতিবেশী অনেক মুসলমানেরও তাদের উপর অত্যাচার করেছে। নামজাদা আওয়ামী নেতাদের অনেকেই ছিলেন কোলকাতা শহরে। আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতাদের একভাগও সরাসরি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেননি। তাঁরা বক্তৃতা বিবৃতি ও রাজনৈতিক লবিতে অংশ গ্রহণ করেছেন। সাংবাদিক বুদ্ধিজীবীরাও তাই করেছেন। সীমান্তে বা দেশের ভিতর প্রবেশ করে অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করেছেন ছাত্র যুবক শ্রমিক কৃষক ভাইয়েরা। তাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন সেনাবাহিনীর অফিসার, জওয়ান, পুলিশ, ইপিআর ও আনসার বাহিনীর দেশপ্রেমিক শক্তি। বলা হয়ে থাকে মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ লোক শহীদ হয়েছেন। যদিও এই সংখ্যা নিয়ে নানা জনে নানা মত প্রকাশ করছেন। তবুও এই সংখ্যাকে যদি সঠিক ধরে নেই তাহলে আওয়ামী লীগের নেতৃ স্থানীয় এক ভাগ লোকও শহীদ হননি। কেয়েকটি দক্ষিণপন্থী ও ইসলামী দল ছাড়া সব রাজনৈতিক দলই মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছে। রাজনৈতিক কারণে ও ভারত সরকারের প্রভাবে আওয়ামী লীগ প্রবাসী সরকার গঠন করে ও নেতৃত্ব দেয়। যহোক এসব হলো প্রাসংগিক কথা।

মাস খানেক ধরে রাজনীতির ভাষা নিয়ে পত্রিকা ও রাজনীতির মাঠ বেশ গরম। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ভাষা সব সময়েই একটু ব্যতিক্রম ধর্মী। তিনি শালীন ও পরিশীলিত ভাষায় কথা বলতে হয়ত পারেননা। এখন সবাই ধরে নিয়েছেন যে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী নেত্রী ওভাবেই কথা বলেন এবং তিনি যা বলেন তা হয়ত তাঁর অন্তরের কথা নয়। এর আগে আদালতও তাঁকে ‘রং হেডেড’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই বলে থাকেন, নেতৃ যদি কম কথা বলতেন তাহলে দলের উপকার হতো। কথা বলার ব্যাপারে নেতৃর আদর্শকে অনুসরণ করে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ইতোমধ্যই চ্যাম্পিয়নশীপ লাভ করেছেন। কেউ কেউ বলেন, ওভাবে কথা বললে প্রধানমন্ত্রী খুশী হন। ইদানিং এ ভাষার প্রভাব আদালত ও সংসদে বিস্তৃতি লাভ করেছে। আদালত কথায় কথায় প্রতিদিনই কাউকে না কাউকে পাকিস্তান পাঠাবার পরামর্শ দিচ্ছেন। সাংবাদিক সাগর রুনীর হত্যার ব্যাপারে সংবাদ পরিবেশনের ব্যাপারেও আদালত কথা বলেছেন। কিন্তু সাংবাদিকরা বলেছেন, তাঁরা আদালতের এই পরোক্ষ  সেন্সরশীপ মানেন না। বেশ কিছুদিন থেকে আদালত এভাবে কথা বলে চলেছেন। সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মাকসুদকেও আদালত হুমকি ধামকি দিয়েছেন। আমরাতো শুনেছিলাম আদালত স্বাধীন হয়ে গেছেন। সিনেমা হলের মালিকানা  বিষয়ক মামলায় আদালত অন্য বিষয়ে রায় দিয়ে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরী করেছেন এবং সেই অস্থিরতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ওই মামলার পূর্ণাংগ রায় এখনও লেখা শেষ হয়নি। সিনেমা হলের মালিকানার বিষয়টিও সুরাহা হয়নি।

রাজনীতির অশালীন ভাষা এখন সংসদে ঢুকে পড়েছে। কেউ কেউ বলছেন নিষিদ্ধ পল্লীর ভাষা সংসদে ঢুকে পড়েছে। স্পীকার সাহেব নিজেই এতে বিব্রত বোধ করছেন। বিষয়টির সূত্রপাত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ভাষা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বিরোধী দলীয় কয়েকজন সদস্য নাকি নিয়মনীতি ভংগ করেছেন। বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ বলেছেন, এ ভাষা চালু করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দলীয় নেতারা। বিরোধী দলীয় সদস্যদের ভাষায় ক্ষুব্দ হয়ে নাসিম সাহেব তাঁদের সদস্যপদ বাতিলের কথা বলেছেন। এখন আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে মাতম উঠেছে ভাষা নিয়ে। এতদিন তাঁদের ধারণা ছিল অশালীন ভাষা ব্যবহারের অধিকার তাঁদের একচেটিয়া। খালেদা জিয়ার সমস্যা তিনি ওই ভাষায় কথা বলতে পারেন না। এমন কি তাঁর দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারীও ওই ভাষা রপ্ত করতে পারেন নি এখনও। রাজনীতিতে অশালীন ভাষার ব্যবহার ও প্রতিপক্ষকে অশ্রাব্য ভাষায় আক্রমণ করার যে রেওয়াজ চালু হয়েছে তা অবশ্যই অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার। আমারতো মনে হয় আওয়ামী লীগ শালীন ভাষায় ফিরে এলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। বিএনপির নেতা ও কর্মীদের এ অশালীন ভাষা আর শিখতে হবে না।

লেখক: কবি ও সাংবাদিক

ershadmz40@yahoo.com

Read Full Post »


ইতিহাস রচনায়  সমকাল ও আমাদের চলমান পথ   /    এরশাদ মজুমদার

সংবাদপত্রের রিপোর্টকে বলা হয় চলমান সাহিত্য। দৌড়াতে দৌড়াতে লিখা আর লিখতে লিখতে দৌড়ানো। দীর্ঘ ৫০ বছর সংবাদপত্র জগতের সাথে জড়িয়ে আছি। এখনও না লিখে থাকতে পারিনা।লিখা এবং বলা আমার তরুণ কাল থেকেই চলছে। তাই এখন এটা এক ধরণের অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। আমি যা লিখছি তা কতটুকু সত্য তা জানিনা। নিয়মিত কলামে যা লিখি তা হচ্ছে আমার মতামত ও ধ্যান ধারণার প্রতিফলন। ভিন্ন মত বা দ্বিমত পোষণ করার যথেস্ট সুযোগ রয়েছে। ভিন্নমতকে আমি যথেস্ট সম্মান করি। সমাজে ভিন্ন মত থাকা খুবই স্বাভাবিক ।ভিন্নমতই গণতন্ত্র বিকাশের প্রধানতম মাধ্যম। গণতন্ত্র হচ্ছে একটি ফুলের বাগান। যেখানে বহু রকম ফুল ফোটে। সবাই এক ফুলের ভক্ত ণয়। শুধুমাত্র সেচ্ছাচারী ডিক্টেটরেরাই ভিন্নমত সহ্য করতে পারেন না। আমরা সিভিল ও মিলিটারী ডিক্টেটর দেখেছি। সারা জীবন গণতন্ত্রের জন্যে লড়াই করে জেল খেটে শেষ পর্যন্ত বংগবন্ধু কি কারণে যে, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল চালু করেছিলেন তা আজও আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। জীবনে তিনি অনেক ভুল ভ্রান্তি করেছেন। তবুও আমরা তাঁকে এদেশের একজন মহান নেতা বলে মনে করি। সকল মতকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যেই হয়ত তিনি এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। সে সময়ে তিনি সব কাগজ বা সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সকল দল ও মতের নেতা কর্মীদের একদলে যোগ দিতে বাধ্য করেছিলেন। সরকারী কর্মচারীদেরও রাজনৈতিক কর্মীতে পরিণত করেছিলেন। সাংবাদিক নেতারাও দল বেঁধে বুকে পোস্টার লাগিয়ে বাকশালে যোগ দিয়েছিলেন। এক দলীয় শাসন ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর ব্যরিস্টার মইনুল হুসেন ও জেনারেল ওসমানী সংসদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। সাংবাদিকরা কেউই এই ব্যবস্থার প্রতিবাদ করেননি। কেন করেন নি প্রশ্ন করলে সবাই উত্তর দিবেন ভয়ে । সেই সময়ের কাগজ দেখলে মনে হবে সবাই খোশদিলে হাসিমুখে বাকশালে যোগ দিয়েছিলেন। সবার বুকে পোস্টার ছিল, ‘আমরা বংগবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লবের কলম সৈনিক’। বংগবন্ধুর মর্মান্তিক পতনের পর তাঁর অতি ভক্তরা সবাই পালিয়ে গেলেন। প্রতিবাদে রাস্তায় কোন মিছিল বের হয়নি। ক্ষমতা আর ক্ষমতাবানের অনুগত থাকা সমাজ  রাস্ট্র ও রাজনৈতিক জীবনে নতুন কিছু নয়। প্রতিবাদ বা বিদ্রোহ করে ক’জন? প্রতিবাদীরাই জালেমের হাত থেকে মজলুমকে রক্ষা করেন। প্রতিবাদীরাই মানুষের জন্যে প্রাণ দেয়। মজলুমের পক্ষে অবস্থান নিতে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুল আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। মজলুমের মুক্তির জন্যে লড়াই করা যে কোন মানুষের জন্যে অবশ্য কর্তব্য। জগতের সকল নবীই মানুষের মুক্তির বাণী নিয়ে এসেছেন। কিতাব গুলো সেই মুক্তিরই সনদ।

এর আগে আমি রাস্ট্র নিয়ে লিখেছি। মানুষ বড় না রাস্ট্র বড়? আমার কাছে মানুষই বড়। জগতে মানুষের উপর কিছুই নেই। মানুষের স্রস্টা স্বয়ং আল্লাহতায়ালা। আর মানুষ নিজেদের কল্যাণেই রাস্ট্র ব্যবস্থার জন্ম দিয়েছে। কিন্তু চলমান রাস্ট্র ব্যবস্থা মানুষকে মুক্তি দিতে পারেনি। বরং রাস্ট্র ব্যবস্থা জুলুমবাজ ও অত্যাচারী হয়ে পড়েছে। তাই মানুষ রাস্ট্র ব্যবস্থার দাসে পরিণত হয়েছে। রাস্ট্র শোষকে পরিণত হয়ে পড়েছে। তাই আমি বিশ্বাস করি, নির্যাতিত মজলুম মানুষ একদিন এই পুরাণো ঘুণেধরা রাস্ট্র ব্যবস্থাকে ত্যাগ করবে এবং নতুন ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। সেদিন আর বেশী দূরে নয়। বাংলাদেশ একটি মুসলীম প্রধান দেশ। দেশের ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমান। রাস্ট্র না চাইলেও সমাজ জীবনে ধর্মের বিশাল প্রভাব রয়েছে। বাংলাদেশের ভৌগলিক এলাকার মানুষ হাজার বছর আগেই মুক্তির জন্যে ইসলাম গ্রহণ করেছে। ইসলামই এ অঞ্চলের মানুষের ভিতর সাম্য প্রতিস্ঠা করেছে। ইসলামই মানুষকে মানুষের মর্যাদার আসনে বসিয়েছে। কিন্তু এখানে সরকার রাস্ট্র ব্যবস্থা রাজনীতি ইসলাম বিরোধী। এখানে শোষন রাস্ট্রীয় ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। এখানে ইসলাম বিরোধী রাজনৈতিক দল আছে। আমেরিকার সাথে সুর মিলিয়ে এখানে সরকার ইসলামের বিরুদ্ধে ফেরাউনী ব্যবস্থা চালু করেছে। এখানে ইসলামে বিশ্বাস না করা গৌরবের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এখানে ইসলামের পক্ষে কথা বললেই মৌলবাদী আর জংগী সন্ত্রাসী বলে হেনস্থা করা হয়। ধর্মীয় পুস্তক হাতে থাকলেই জংগী বা সন্ত্রাসী। শুধুমাত্র ধর্মীয় কারণে ভারতে ৩০ কোটি শূদ্র বা হরিজন রয়েছে, যাদেরকে সনাতন ধর্ম মানুষ হিসাবে স্বীকার করেনা। ভারতে আরও রয়েছে ৫০ কোটি মানুষ যারা দারিদ্রের কারণে মানবেতর জীবন যাপন করে। বাংলাদেশেও কোটি কোটি মানুষের জীবনে রয়েছে চরম দারিদ্র। পাকিস্তানের ২৩ বছর আর বাংলাদেশের ৪১ বছর মিলিয়ে ৬৪ বছরেও দারিদ্র  অশিক্ষা শোষণ জুলুম থেকে মানুষ মুক্তি পায়নি। কারণ রাস্ট্র ও রাস্ট্র পরিচালকগণ শোষণ ও জুলুমের পক্ষে। চলমান অত্যাচারী আইন গুলো সেভাবেই বহাল আছে। শোষণের আইন গুলো তৈরী হয়েছে বৃটিশ আমলে। রাস্ট্র যতদিন নিজেকে প্রভু মনে করবে ততদিন এই অবস্থা অব্যাহত থাকবে। এই প্রভুর পরিচালক যারা তারাও জালেম। তারাও আধুনিক ফেরাউন নমরুদ ও সাদ্দাদ। শোষণ ও অত্যাচারের আরেক হাতিয়ার হচ্ছে চলমান নির্বাচন ব্যবস্থা ও গণতন্ত্র। শতকরা ১০ ভাগ লোক এ দেশে সরকার গণতন্ত্র ও নির্বচান পরিচালনা করে। বাকী ৯০ ভাগ মানুষ এই ১০ ভাগ দ্বারা শোষিত হয়। যারা ক্ষমতায় যান বা ক্ষমতায় থাকেন তাদের কাছে সেনাবাহিনী, বিজিবি, রেব, পুলিশ, আনসার ও দলীয় লাঠিয়াল বাহিনী আছে। জনতার হাতে কি আছে?

আমেরিকা ইউরোপের মতো দেশ গুলোতে এখন অকুপাই আন্দোলন চলছে। মহান গণতান্ত্রিক দেশের সরকার ও নেতারা অকুপাই আন্দোলনকারীদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে। অত্যাচারিতরা শ্লোগান দিচ্ছে আমরাই ৯৯, আর তোমরা মাত্র একভাগ। এ পৃথিবীতে ৭শ’ কোটি লোক আছে। বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থা, জাতিসংঘ, প্রচলিত ধ্যান ধারণা ৯৯ ভাগ মানুষকে শোষণ করে। সমাজতন্ত্র এসেছিল মানুষের মুক্তির কথা বলে, কিন্তু পারেনি। মাত্র একশ’ বছরের মধ্যাই সমাজতন্ত্রের ধারণা ভেংগে পড়েছে। হাজার বছরের পুঁজিবাদ ও শত বছরের গণতন্ত্র এখনও টিকে আছে। কারণ এর চাইতে ভাল কিছু মানবজাতি আবিষ্কার করতে পারেনি। তাই ল্যাংড়া লুলা গণতন্ত্র ও পুঁজিবাদ টিকে আছে। বিশ্ব অর্থনীতি ও রাস্ট্র ব্যবস্থায় পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছে। অকুপাই আন্দোলন তারই পূর্বাভাস। বিশ্বের মানুষ বুঝতে পেরেছে জগতটা এভাবে চলতে পারেনা। আমাদের দেশের অবস্থাও ওই একই রকম। পাকিস্তান আর বাংলাদেশ মিলিয়ে ৬৪ বছর পার হতে চলেছে। এই ৬৪ বছরেও সাধারন মানুষের ভাগ্যের  তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি। এখন অশিক্ষা, দারিদ্র, অজ্ঞানতা প্রবল ভাবে বিরাজ করছে আমাদের দেশে। যে কারণে পাকিস্তান থেকে আমরা মুক্তি লাভে করেছি  সে কারণ গুলো এখনও দূরীভূত হয়নি। পাকিস্তানী শাসক গোস্ঠি আর বাংলাদেশের শাসক গোস্ঠির মাঝে তেমন কোন ফারাক আমি দেখতে পাচ্ছিনা। শুধু পতাকা আর জাতীয় সংগীতের পরিবর্তন হয়েছে। ৪০ বছর পরেও আমরা স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা, একুশের চেতনা, স্বাধীনতার চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে ব্যস্ত আছি। আর কতদিন এ অবস্থা চলবে তা শুধু আল্লাহতায়ালাই জানেন। আওয়ামী লীগের নেতারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের সোল এজেন্ট মনে করেন। দেশের স্বাধীনতার জন্যে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কেউ কিছু করেনি। দেশের মানুষের সুখ শান্তি বাড়ানো  আওয়ামী লীগের এজেন্ডা নয়। এই দলের প্রধান এজেন্ডা হলো, মামলা আর হামলা। ক’দিন আদালত বলেছে, অমুককে দেশ থেকে বের করে দাও। এখন আওয়ামী নেতারা বলছেন, অমুককে যুদ্ধ করে দেশ থেকে বের দেয়া হবে।

সংবাদপত্রের রিপোর্ট দেখিয়ে আদালত চলছে। যা ছাপা হলো তা নিয়েই মামলা হচ্ছে। আদালত তা আমলে নিচ্ছে। মুখের কথায় ইতিহাস রচনা হচ্ছে। রাস্তাঘাটের ভাষণ ইতিহাস হয়ে যাচ্ছে। এমনি করে ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে শত শত বই প্রকাশিত হচ্ছে। শুনে শুনেও মুক্তি যুদ্ধের ইতিহাস রচিত হচ্ছে। এমন মুক্তিযোদ্ধার সাথেও মাঝে মাঝে দেখা হয়, যিনি মুক্তিযুদ্ধের কথা দাদার কাছে শুনেছেন। তখন আপনার বয়স কত ছিল? উত্তর চার/পাঁচ বছর। তাহলে? তাহলে আর কিছু নয়। আমি দাদার কাছে শুনে শুনেই মুক্তি যোদ্ধা হয়ে গেছি। এভাবেই ইতিহাস রচিত হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের কোন তথ্য উপাত্তের প্রয়োজন নেই। শুধু চাই চেতনা ও আবেগ। তাই কেউ বলেন ৩০ লাখ , আর কেউ বলেন তিন লাখ। কেউ বলেন, বংগবন্ধু ২৬শে মার্চ ঘোষণা দিয়েছেন। আবার কেউ বলেন, মেজর জিয়া ঘোষণা দিয়েছেন। আদালত রায় দিয়েছেন যে বংগবন্ধুই ঘোষণা দিয়েছেন। শুধুমাত্র রাজনীতির কারণেই সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতাও আছে আবার রাস্ট্রীয় ধর্ম ইসলামও আছে। সমাজতন্ত্র ও আছে , আবার মুক্ত অর্থনীতিও আছে। আওয়ামী লীগ বলে , আমরা ভাষা ভিত্তিক জাতি ও রাস্ট্র। আর আরেক দল বলে, আমরা একটি ভৌগলিক রাস্ট্র। শুধু ভাষার কারণেই আমরা স্বাধীন হইনি। শুধু ভাষার কারণে পশ্চিম বাংলা একটি আলাদা রাস্ট্র গঠণ করতে পারেনি। পশ্চিম বাংলার বাংগালীরা ধর্মীয় কারণে দি্ল্লীর অধীনে রয়ে গেছে। আর মুসলমান হয়েও পাকিস্তানের সাথে থাকতে পারিনি। শুধু ভাষার কারণে হলে অখন্ড বংগদেশ একটি আলাদা রাস্ট্র হতে পারতো। আবার হায়দ্রাবাদ মুসলমান হয়েও স্বাধীন রাস্ট্র হতে পারেনি। কাশ্মীর স্বাধীনতার জন্যে লড়াই করছে। মেজরিটি মুসলমানের কথা বলে পাকিস্তান প্রতিস্ঠিত হলোও শাসকরা শোষকে পরিণত হয়েছিল। প্রমানিত হয়েছে যে, শুধু ভাই বলে ডাকলেই চলবেনা, ভাইয়ের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। বাংগালী মুসলমানেরা নিজেদের অধিকার প্রতিস্ঠা করার জন্যেই বাংলাদেশ প্রতিস্ঠা করেছে। বাংগালী মুসলমানদের লক্ষ্য ও আশা ছিল সিংগাপুর বা মালয়েশিয়ার মতো একটি দেশ প্রতিস্ঠা করার। কিন্তু দেশের মানুষের সে আশা ও লক্ষ্য পূরণ হয়নি। এখন যাঁরা রাস্ট্র চালান তাঁদের সাথে পাকিস্তানী বা বিশ্বের কোন শোষকের ফারাক নেই। দেশের মানুষ বিশ্বাস করে এই দেশটি বিশ্বের একটি উন্নত দেশ হতে পারতো। সততা এই দেশ থেকে বিদায় নিয়েছে। দূর্ণীতিতে দেশটা ভরে গেছে। সকল রাজনৈতিক নেতাই দূর্ণীতিতে অঁশ গ্রহণ করেন এটা দেশের সাধারন মানুষের বিশ্বাস। দুই প্রধান রাজনৈতিক দল বা জোট একে অপরের বিরুদ্ধে লেগে আছে। তাঁদের খিস্তি খেউরের কথা এখন নিয়মিত খবরের কাগজে ছাপা হচ্ছে আর টিভি চ্যানেলে প্রচারিত হচ্ছে। সত্যকথাও দেশ থেকে দ্রুত বিদায় নিচ্ছে। সত্যকথা এখন কেউ প্রচার করেনা। সত্যকথা এখন কেউ লিখতে চাননা। দেশের লেখক বুদ্ধিজীবী সাংবাদিকরা দুই ভাগে বিভক্ত। এমন অবস্থা এই উপমহাদেশে কোথাও নেই। বহু পত্রিকা, ম্যাগাজিন ও টিভি চ্যানেল রয়েছে যাঁরা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে লিখছেন বা বলছেন।

আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, মুক্তিযোদ্ধা সহ সবকিছুই বিভক্ত। কোনটা সত্য বা তথ্য  এখন আর বুঝার উপায় নেই। আমরা যারা পুরো  সত্তুর/একাত্তুর সাল দেখেছি নিজের চোখে দেখেছি, এখন চারিদিকের কথা শুনে মনে হয় কিছুই দেখিনি। অথবা যা দেখেছি তা ভুল দেখেছি। তিরিশ বছর আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ভিয়েতনাম আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে গেছে। দেশের উন্নতি বা উন্নয়নের ব্যাপারে সেখানে সকল দল ও মত একাট্টা। বুদ্ধিজীবীরা একবার ভিয়েতনাম ঘুরে দেখে আসতে পারেন। ভিয়েতনামের এক সময়ের প্রধান শত্রু আমেরিকা এখন ভিয়েতনামে বিনিয়োগ করছে। দেশবাসীকেও আমি আহবান জানাবো গভীর ভাবে ভাবুন, আমাদের সমস্যা কোথায়। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেমন যেন গৌরবের সাথে বললেন, মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারী বিদেশীদের তালিকায় কোন পাকিস্তানী নেই। আমার বিশ্বাস, তিনি নিশ্চয়ই জানেন ৭১ সালে বহু পাকিস্তানী রাজনীতিক ও বুদ্ধিজীবী বাংগালীদের সমর্থন করে জেলে গেছেন। অনেকেই কলমের মাধ্যমে বিশ্ব জনমত সৃস্টি করেছেন। এমন হীনমন্যতা আর কোথাও দেখিনি। ৫০ ও ৬০ দশকে আমরা  গণচীন ও আমেরিকার সম্পর্ক দেখেছি। আজ আমেরিকার প্রধানতম বাণিজ্য বন্ধু। বড়ই বেদনার বিষয় আমরা দীর্ঘ ৪০ বছরেও পাকিস্তানের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে পারিনি। এর কারণ আমরা দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে চাইনা। এক শ্রেণীর রাজনীতিক ও বুদ্ধিজীবী আছেন, যাঁরা বাংলাদেশের স্বার্থ বিরোধী বিদেশীদের ইশারায় চলেন, বলেন ও লিখেন। এরা এক ধরনের বিদেশী স্বার্থের দালাল এবং নিজদেশের শত্রু।

আমরা সংবাদপত্রের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে ইতিহাস রচনা করতে চাই। আমরা শুধু বিজয়ীর কথা শুনতে চাই। আগেই বলেছি পত্রিকার রিপোর্টের উপর নির্ভর করে আমাদের দেশের বিচার শুরু হয়েছে। ৭১ সালে সকল সংবাদপত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের দুষ্কৃতিকারী বলা হতো। কারণ, ওটাই ছিল সরকারী ভাষা। শুনেছি , সমকালে নাকি ইতিহাস তৈরি করা যায়না। কারণ সময় বা কাল নাকি ইতিহাসকে প্রভাবান্বিত করে। একার বিটিভিতে একটি ফিচার প্রচার করা হয়েছিল ফতুল্লা জায়গা বা শব্দটার উপর। টিভি রিপোর্টার বলেছিলেন, শাহ ফতেহ উল্লাহ সিরাজীর নামে জায়গার নাম ফতুল্লা হয়েছে। বিষয়টা জানার জন্যে আমি উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ড.আবদুল করিমের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। তিনি উত্তর দিলেন, ওসব পত্রিকা বা টিভির কথা। ওসব কথা দিয়ে ইতিহাস রচনা হয়না। ওসব কথা ইতিহাসবিদদের প্রভাবান্বিত করেনা।তিনি জানালেন, শাহ ফতে উল্লাহ শিরাজী কখনই ঢাকা আসেননি।যেমন ধরুন, রাম রাবণের কথা। এটা ইতিহাস না মহাকাব্য তা আজও নির্ধারিত হয়নি। যদি ইতিহাস হয়, তাহলে রাম ও রাবণ রক্ত মাংসের মানুষ ছিলেন। কিন্তু আমরা তা শুনতে রাজী নই। তাই রাম আজ দেবতা ও পূজনীয়। রাবণ একজন রাক্ষস। রাম বিদেশী আর্য রাজা। আর রাবণ এদেশেরই সন্তান ও রাজা। কিন্তু যুদ্ধে পরাজিত হয়ে রাক্ষস হয়ে গেছে।

৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আবেগে ভরা বহু বই প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশে গবেষণা মূলক কোন বই বের হয়নি। সত্য তথ্য নিয়ে কেউ এখনও কাজ করেননি। আর আমরা সত্য ঘটনা জানতেও চাইনা। আমরা একবার বলি বংগবন্ধু ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। আবার বলি তাঁর ৭ই মার্চের ভাষণই স্বাধীনতার ঘোষণা। রাজনৈতিক কারণে আমরা নানা ধরণের গল্প বানিয়ে চলেছি। আমি নিজেও ৭০/৭১ সালের ঘটনাবলীর একজন প্রত্যক্ষদর্শী। কিন্তু একজন শুধু দর্শীর দেখা ঘটনাবলী ইতিহাস রচনার জন্যে যথেস্ট? না যথেস্ট নয়। যিনি যেমন দেখেছেন তেমন করে লেখা অনেক বইতে বেরিয়েছে। কিন্তু সঠিক ইতিহাস কি তৈরী হয়েছে? মুক্তিযুদ্ধের দলিলে আমরা যা পড়েছি  আর রাজনীতিকদের মুখে যা শুনি তাতে কোন মিল নেই। মুক্তিযুদ্ধের জাদুঘর তৈরী হয়েছে। কিন্তু কোন ইতিহাস ঘর তৈরী হয়নি। যাঁরাই কিছু তাঁরাই রাজনৈতিক ভাবে খন্ডিত। নিজের ব্যক্তিগত দৃস্টিকোন থেকে ঘটনার বিশ্লেষণ করেন। যেমন ধরুন, মেনন আর মতিয়া রাজনৈতিক কারণে আলাদা ছিলেন, এখন আবার রাজনৈতিক কারণে এক হয়েছেন। এবার পাঠক নিজেই ব্যাখ্যা করুন কেন তাঁরা আলাদা ছিলেন, আর কেনইবা তাঁরা এক হলেন। যেমন ধরুন, আলবেরুণী রচিত ‘ভারত তত্ব’ এক হাজার বছর আগে আরবী ভাষায় লিখিত একটি ইতিহাসের আকর গ্রন্থ। সব ইতিহাসবিদই এই পুস্তককে মানেন এবং গুরুত্ দেন। কেউ বলেন না তিনি মুসলমান ছিলেন বা আরবীয় ছিলেন। ‘ভারত তত্ব’ নিয়ে কেউ কখনও দ্বিমত করেননি।

প্রখ্যাত বাংগালী নেতা সুভাষ বসুর বংশীয় মেয়ে শর্মিলা বসু আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটি গবেষণা পুস্তক রচনা করেছেন। এই বইটি ইতোমধ্যে বহুল আলোচিত হয়েছে। বিদেশে বাংগালীরা তাকে ধাওয়া করেছে। ইতোমধ্যে বইটির বাংলা অনুবাদও বেরিয়েছে। শর্মিলা বসুর এই বইটি মূলত একটি গবেষণাধর্মী বই। তিনি ৭১ এর ঘটনার সাথে সংশ্লিস্ট সকল মহলের সাথে কথা বলেছেন। তিনি বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তান সফর করেছেন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করার জন্যে। মুক্তিযুদ্ধের সোল এজেন্ট বলে বহুল পরিচিত প্রধান প্রধান চরিত্রের সাথেও তিনি কথা বলেছেন। তাঁদের কথা বইতে প্রকাশ করেছেন। শর্মিলা বলেছেন, বাংলাদেশে তিনি সবচেয়ে বেশী সহযোগিত পেয়েছেন। স্বপ্রণোদিত হয়ে অনেকেই তথ্য দিতে এগিয়ে এসেছেন। সবাই সব সময় নিজের ঢোল পিটাতে চেয়েছেন। এক সময় তিনি তথ্যের ভারে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু তিনি দলিল ও প্রমান সহকারে তেমন বেশী তথ্য পাননি। সবার কথায় আবেগ রয়েছে। প্রতিপক্ষের ব্যাপারে ঘৃণা ও ক্ষোভ রয়েছে। পুরো বই নিয়ে এটা আলোচনার জায়গা নয়। সময় ও সুযোগ মতো অন্য কোথাও আলোচনা করা যাবে। শর্মিলার বই পড়ে বুঝা গেল ৩০ লাখ বিষয়টা একটা আবেগের প্রকাশ। ৩০ লাখ অংকটি কেউই সমর্থন করেননি।বাংলাদেশেও সরকারী ভাবে মুক্তিযুদ্ধে বা ৭১ সালের ১লা মার্চ থেকে শুরু করে ৭২ মার্চ পর্যন্ত উভয় পক্ষের কতলোক নিহত বা শহীদ হয়েছে তার কোন তথ্য বা সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। কেন কোন সরকারই একাজটি করেননি তা একেবারেই বোধগম্য নয়।

লেখক: কবি ও সাংবাদিক

ershadmz40@yahoo.com

Read Full Post »


 

রাজধানীর যাতায়াত ব্যবস্থা ও নতুন যোগাযোগ মন্ত্রী /     এরশাদ মজুমদার

 

আমাদের বর্তমান যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক সময় একজন নামজাদা সাংবাদিক ছিলেন। তিনি একজন মেধাবী ছাত্রও ছিলেন। ছাত্রকাল থেকেই তিনি রাজনীতি করে আসছেন। অন্তর দিয়ে রাজনীতি করার ফলেই আজ তিনি পুরুস্কৃত হয়ে পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা পেয়েছেন। এর আগে তিনি প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।  আমার মনে হয়েছে, দেরীতে হলেও প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পেরেছেন ওবায়দুল কাদেরকে মন্ত্রী করা দরকার। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে ওবায়দুল কাদের দার্শনিকের মতো কথা বলতে শুরু করেছে। অনেকে বলছেন কাদের  কাব্য করে কথা বলেন। যা হোক কাদেরের কথা আমার ভাল লাগে। অপর দিকে রেলমন্ত্রী বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এখনও গুছিয়ে কথা বলতে পারছেন না। ইতোমধ্যেই তিনি বলেছেন , বিদায় লগ্নে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ভাংগা রেলের দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি আশা করেছিলেন রেলের কালো বিড়াল তাড়াতে পারবেন। কিন্তু এখন তাঁর মনে হচ্ছে কালো বিড়াল তাড়াতে পারবেন না। ঠিক এ সময়ে আমার মনে পড়ছে চীনের সফল সংস্কারবাদী নেতা দেং এর কথা। তিনি বলেছিলেন, বিড়াল কালো না সাদা বিবেচ্য বিষয় নয়। বিড়াল ইঁদুর মারতে কিনা সেটাই বিবেচ্য বিষয়। হয়ত দেং এর কালো বিড়াল আর সুরঞ্জিত বাবুর এক নয়। দেং এর কালো বিড়াল তত্ব ছিল চীনের উন্নতির জন্যে। সুরঞ্জিত বাবুর কালো বিড়াল সব সময় অন্ধকারে থাকবে, দেখা যাবেনা।

সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে এই কলামে আজ আর কিছু বলবোনা। এর আগের যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেন সাহেব ছিলেন একজন উঁচু দরের ব্যবসায়ী। প্রথম সুযোগেই প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন। পরে আবার চাকুরী চলে গিয়েছিল। এবারও তাঁকে যোগাযোগ মন্ত্রী করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিশ্চয়ই এই লোকটা প্রধানমন্ত্রীর কাছে খুবই প্রয়োজনীয় ও জরুরী। এই ব্যবসায়ী ভদ্রলোককে নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রীর খুবই দরকার সব সময়। তাই তাঁকে কাছে রাখা দরকার। এখনও তাঁকে দূরে সরিয়ে দেননি। তিনি এখনও মন্ত্রী। একেবারে ডিজিটাল মন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ও প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল উপদেস্টা। হয়ত আবুল সাহেবের সাথে জয়ের ভালই বনিবনা হবে। সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেন সাহেবের ব্যক্তিগত ইমেজ এখন আর নেই। ডিজিটাল মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার পর তাঁর নাম তেমন শোনা যায়না। যদিও লোকে বলেন, ডিজিটাল মন্ত্রণালয়েও টাকা পঞসার তেমন অভাব নেই। ব্যবসায়ী আবুল সাহেবের সাথে টাকা পয়সার সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব কম নয়। তিনি খুব ভাল জানেন এক টাকা দিয়ে একশ’টাকা করা যায়। কিন্তু বর্তমান যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের একজন সাবেক সাংবাদিক। জনগণের পক্ষে জনস্বার্থে কলম ধরাই ছিল তাঁর পেশা। এখন একেবারেই ফুলটাইম রাজনীতিক। বাংলাদেশের রাজনীতিকদের কোন পেশা থাকেনা। তাঁরা মাঝে মাঝে এমপি ও মন্ত্রী হন। অন্য সময়ে মানে যখন ক্ষমতায় থাকেন না তখন বিরোধী দলের নেতা থাকেন। অদৃশ্য সূত্র থেকে টাকা পয়সা, আয় রোজগার হতেই থাকে। অনেকেই বলেন, ক্ষমতায় না থাকলে তাঁরা বিভিন্ন কোম্পানীর উপদেস্টা থাকেন। ওই কোম্পানী থেকেই তাঁরা দামী গাড়ী পান ও মোটা অংকের মাসোয়ারা পান। একবার কেউ এমপি বা মন্ত্রী হলে তাঁকে আর  জীবিকার জন্যে কিছু করতে হয়না। এক সময় উকিল মোক্তার ডাক্তার সাভেরা রাজনীতি করতেন। আইউবের সময়ে নামী দামী ঠিকাদাররাও রাজনীতিতে ঢুকে পড়েন। এখন সংসদে ব্যবসায়ীদের সংখ্যা বেশ উল্লেখযোগ্য। শোনা যায় ব্যবসায়ীরা দেশের রাজনীতিও নিয়ন্ত্রন করেন। ব্যবসায়ীদের কাছে এখন সংবাদপত্র, টিভি, অনলাইন নিউজপেপার, ব্যান্ক বীমা সহ সব রকমের ব্যবসা আছে। তারা এখন রাজনৈতিক দলেও ভর্তি হচ্ছে। গুজব শোনা যায় বড় বড় বিজনেস হাউজ গুলোর প্রভাবে দশ বারো জন এমপি থাকেন। তারাই ব্যবসায়ীদের সরকারী তদবীর গুলো করে দেন। এমন কি তাঁরা দল বেঁধে ব্যবসায়ীদের পক্ষে আইনও পাশ করে দেন।

আবুল হোসেন ও ওবায়দুল কাদের  দুজন আওয়ামী লীগ করলেও ভিন্ন ঘরানার লোক। একজন  পাক্কা ব্যবসায়ী। সব সময় চাঁদা দিয়ে আসছেন এবং এখনও দেন। তিনি ব্যবসায়ী হয়ে তারপর রাজনীতিতে এসেছেন। ওবায়দুল কাদের ছাত্রকাল থেকেই রাজনীতি করে আসছেন।  পেশা শুরু করেছিলেন সাংবাদিক হিসাবে। কাদেরের আয় রোজগারের প্রকাশ্য সূত্র দেশবাসীর জানা নেই। ইদানিং কাদের যে ভাষায় কথা বলেন তা আমাদের দেশের মন্ত্রীদের ভাষা নয়। অনেকেই বলেন, তিনি কাব্যের ভাষায় কথা বলেন। আওয়ামী লীগের কোন মন্ত্রী এমপি কাদের সাহেবের ভাষায় কথা বলেন না। আওয়ামী লীগের নিজস্ব একটা ভাষা আছে। যা নিয়মিত এস্তেমাল বা ব্যবহার করেন কামরুল ইসলাম, হানিফ , নানক ও টুকু মিয়া। সুরঞ্জিত ও মতিয়া চৌধুরীও আওয়ামী অভিধান থেকেই শব্দ চয়ন করে থাকেন। ক’দিন আগে মুসা ভাই, মানে এবিএম মুসা ,যিনি আমার সাংবাদিকতার গুরু, দেখা হলে বললেন, ‘খবর আছে’ বাক্যটি আমাদের দেশে চালু করেছে মাস্তানেরা। এখন সেই শব্দ ব্যবহার করছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়নি একথা কেউই বলতে পারবেনা। এখন বাসে করে দেশের যেকোন জায়গায় যাওয়া যায়। আগামীতে যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও উন্নতি হবে আমরা আশা করি। তবে ৪০ বছরে যে ধরণের উন্নতি আমরা চেয়েছিলাম তা হয়নি। না হওয়ার কারণ, দূর্বল সরকার ব্যবস্থাপনা। রাজনীতিকরা সবাই ধনী হয়ে গেছেন। প্রায় সবারই অভিজাত এলাকায় বাড়ি  রয়েছে।

আজ আমি রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে কিছু কথা বলবো। এক কথায় বলতে গেলে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থার হাল খুবই করুণ অবস্থায় পৌঁছে গেছে।বাদুর ঝোলার মতো করে বাসে চলতে হয়। চট জলদি করে বাস পাওয়া খুবই কঠিন। সিটিং ব্যবস্থা বা বসে যাওয়ার কথা বলা থাকলেও বসার সিট থাকেনা। ৫০ জনের সিটে লোক উঠে ৭০/৮০ জন। বাস মালিকরা কোন ধরণের সুবিধা না বাড়িয়েই  ভাড়া বাড়ায়। এ নিয়ে প্রতিনিয়তই যাত্রী আর বাস কন্ডাক্টদের ভিতর হাতাহাতি মারামারি দেখা যায়। সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী নাজমুল হুদার আমল থেকেই আমরা রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থা দেখে আসছি। রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলে এবং আরামদায়ক বাস সার্ভিস থাকলে প্রাইভেট কার বা গাড়ির সংখ্যা কমে যাবে।পৃথিবীর বড় বড় শহর গুলোতে খুব ভালো বাস সার্ভিস রয়েছে। ফলে যারা প্রাইভেট গাড়ি রাখতে চান তারাও আধুনিক আরামদায়ক বাসে চলাচল করেন। রাজধানী ঢাকায় উচ্চ মধ্যবিত্ত ও ধনীরা বাসে চলতে চান না। রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় রিকশা আরেকটি জটিলতা। এখন রিকশায় উঠলেই ভাড়া ১৫ টাকা। একটু চললেই রিকশা ভাড়া ৩০ টাকা। রিকশা ভাড়া সীমাহীন ভাবে বেড়ে গেছে, সাথে সাথে মধ্যবিত্তের জীবনও দুর্বিসহ ্য়ে গেছে। রাজধানীর রিকশা ও ফুটপাতের ব্যবসা একটা রাজনীতিতে পরিণত হয়েছে। মিছিল মিটিং, মারামারি, ভোট সব কাজেই এদের প্রয়োজন সবার। কাজেই বেআইনী রিকশা ও  ফুটপাত ব্যবসা সকল রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন। কোলকাতা শহরের রিকশা  ফুটপারের ব্যবসা সিপিএম সরকারই তুলে দিয়েছে। সুন্দর ও সুস্থ নগর সবার প্রয়োজন। আধুনিক নগর জীবনের জন্যে কোথাও প্রয়োজন নেই। রাজধানীতে কয়েক লাখ রিকশা ও দ্বিগুণ রিকশা চালক রয়েছে। এরা সবাই ভাসমান। রিকশা বৃদ্ধির সাথে বস্তিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুনেছি রাজধানীতে ৪০ লাখ মানুষ ফুটপাত, রেল স্টেশন, বাস টার্মিনাল ও লঞ্চ টার্মিনালে রাত যাপন করে। বস্তিতে বাস করে আরও কয়েক লাখ মানুষ। এসব জায়গা থেকেই নাকি মাস্তান, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ ও চোর ডাকাতের জন্ম হয়। অনিবন্ধিত বা আন রেজিস্টার্ড যৌনকর্মীরও জন্ম হয় ফুটপাত ও বস্তি থেকে। বড় বড় নেতারা হাসিমুখে গৌরবের সাথেই বলেন, এরা না থাকলে রাজনীতি জমেনা। রাজনীতিতে এদের খুবই প্রয়োজন। খুচরা রাজনৈতিক দলগুলোর ছোট্ট একটা মিছিল করতেও এদের প্রয়োজন হয়। বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো এদের ছাড়া চলতে পারেনা। চলমান রাজনীতিতে ছোটখাট মিছিলও নাকি এক ধরণের বাণিজ্য। মিছিলে অংশ গ্রহণের জন্যে মাথাপিছু একশ’ টাকা দিতে হয়।

স্বাধীনতার ৪০ বছর পার হতে চলেছে। কিন্তু রাজধানীটার তেমন কোন উন্নতি হয়নি। অথচ ৪০ বছরে রাজধানীর লোক সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। ফলে বস্তি বেড়েছে, রিকশা বেড়েছে, রিকশা চালক বেড়েছে। আমরা যারা এই মহানগরীতে ৫০ বছরেরও বেশী সময় ধরে আছি, আমরা দেখছি এর অগ্রগতি ও উন্নতির ধারা। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ(রাজউক) নামে একটি সরকারী প্রতিস্ঠান আছে যার কাজ রাজধানীর উন্নয়নের জন্যে কাজ করা। কিন্তু আমরা দেখছি, এই প্রতিস্ঠানটি বেসরকারী জমির ব্যবসায়ীদের সাথে প্রতিযোগিতা দিয়ে জমির ব্যবসা করছে। মূল রাজধানীর আশে পাশের সাধারন মানুষের জমি জমা হুকুম দখল করে কিছু মাটি ভরাট করে, প্লট বানিয়ে ভাগ্যবানদের কাছে বাজারের চেয়ে অনেক কম দামে জমি বিক্রি করে রাজউক। ফলে এই প্রতিস্ঠানটি দূর্ণীতির মহা মিলনে পরিণত হয়েছে। কথা ছিল রাজউক একটি রেগুলেটরী প্রতিস্ঠান হিসাবে কাজ করবে। রাজধানী উন্নয়নের জন্যে ১৫০/২০০ বছরের পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। রাজধানীবাসীর দূর্ভাগ্য রাজউক সে কাজটি করেনা। আগেই বলেছি রাজউক গরীবের জমি দখল করে সুবিধা ভোগী সমাজের কাছে বিতরণ করে। আপনারা ভাল করে লক্ষ্য করে দেখুন, রাজউক যতগুলো আবাসিক এলাকা তৈরী করেছে সেখানে কারা বাস করে। যেখানে জমির দাম পাঁচ কোটি টাকা রাজউক তা বিক্রি করে ১০/১৫ লাখ টাকায়। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় কিছু লোক রাতারাতি বড়লোক হয়ে যায়।

আমাদের প্রিয় রাজধানী দিন দিন বাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। জীবিকার অন্বেষনে বা তাগিদে মানুষ আপন গ্রাম ছেড়ে রাজধানীতে আসে। দুটো পয়সা আয় হলেও কোন মানুষই এখানে শান্তিতে নেই। পৃথিবীতে কোন রাজধানীর এমন অবস্থা নেই। ঘরে যখন থাকেন তখন বিদ্যুত নেই, গ্যাস নেই, পানি নেই। ঘর থেকে বের হন, গন্তব্যে পৌঁছার কোন ব্যবস্থা নেই। ঘন্টার পর ঘন্টা বাসের জন্যে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকুন। বাস ছাড়া আর কিসে চলাফেরা করবেন? ট্যাক্সি বা সিএনজি বা অটোরিক্সার কথা ভুলে যান। যখনি জিগ্যেস করবেন, ভাই অমুক জায়গায় যাবেন নাকি, উত্তর পাবেন না। দুই একজন আছেন কয়েক মিনিট চিন্তা করে বলবেন দুইশ’ টাকা দিবেন। আর আপনি বলবেন, মিটারেতো ৫০/৬০ টাকার বেশী উঠেনা। মিটারের চেয়ে ২০ টাকা বেশী নেন। আবার কেউ আছেন বলবেন প্রচন্ড জ্যাম। দশ মিনিটের পথ দুই ঘন্টা লাগে। আপনারাই বলুন আমরা কিভাবে মিটারে চলবো। ধানমন্ডী থেকে প্রেসক্লাবের এতদিন মিটারে ছিল ৬০/৭০ টাকা। আমরা দশ বিশ টাকা বেশী দিয়ে যেতাম। এখন ভাড়া চায় ১৫০/২০০শ’ টাকা। সাতই  মার্চ ক্লাব থেকে ধানমন্ডী ফিরেছি ৩০০ টাকায়। ১২ই মার্চ ফিরেছি বন্ধুদের সহযোগিতায় মানিক মিয়া এভিনিউ পর্যন্ত। ১৪ই মার্চ ফিরেছি , প্রথমে একটি রিকশা নিয়ে কাকরাইল ১৫ টাকায়। সেখান থেকে সিএনজি নিয়ে ২০০ টাকায়। বাসে দশ বারো টাকায় ফিরা যায়। কিন্তু বসার জায়গা সহজে পাওয়া যায়না। সবচেয়ে বড় সমস্যা নামার সময়। প্রায়ই সময় চলতি অবস্থায় নামতে হয় এবং পড়ে গিয়ে হাত পায়ের চামড়া তুলতে হয়। অনেক সময় কন্ডাক্টরকে অনুরোধ করে বাসটা পুরো থামিয়ে নামতে হয়। এ কারণে তারা সহজে বয়স্ক মানুষকে তুলতে চায়না। ১৫ই মার্চ ধানমন্ডী থেকে প্রেসক্লাব গিয়েছি ১৫০ টাকায়। উঠে বসার সাথে সাথে সিএনজি চালক বললেন, স্যার সার্জেন্ট ধরলে বলবেন মিটারের হিসাবে যাচ্ছেন। স্যার, আমাকে বিপদে ফেলবেন না। আমি বললাম , এ নিয়ে কিছু ভাবার দরকার নেই। আসার সময় কিছুতেই সিএনজি পেলাম না। একজনকে পেয়ে বললাম, যত চান দিবো। চালক বললেন, ধানমন্ডী যাবো ,তবে ২৮ নম্বর যাবোনা। এমন সময় আরেক ভদ্রলোক উঠে বসলেন। সকল প্রকার রিস্ক নিয়েই ওই অটোতে উঠলাম। ভদ্রলোক ১২এ তে নামলেন। পরে আমাকে ২৮ নম্বরে নামিয়ে দিলো। জানতে চাইলাম সরাসরি আসলেন না কেন। চালক উত্তর দিলেন, মিরপুর রোডের সার্জেন্টটা ভাল নয়। কিন্তু চালকের লাভ হলো দুজন যাত্রীর কাছ থেকে ৩শ’টাকা পেলো।

রাজধানীর এই করুণ অবস্থা বহু বছর ধরে বিরাজ করছে। রাজধানীতে কত লোক বাস করে আর তাদের জন্যে কত যান বাহন প্রয়োজন তা সরকার বুঝতে পারেনা এ কথা কেউ বিশ্বাস করবেনা। ডালমে কুচ কালা হ্যায়। কোথাও কোন গোলমাল আছে। তা না হলে এমন সহজ অংকের সমাধা হচ্ছেনা কেন? নতুন পুরাতন সব যোগাযোগ মন্ত্রীই বড় বড় কাজের কথা বলছেন। এ নিয়ে বাহাস ও তকরার চলছে। কে টাকা দিবে, কোথা থেকে টাকা পাওয়া যাবে, এ নিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরে আমরা নানা কথা শুনতে পাচ্ছি। পদ্মা সেতুকে নিয়ে এক মন্ত্রীর চাকুরী চলে গেছে। মানে তিনি যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে বিদায় নিয়েছেন। রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্যে টাকার দরকার নেই। বিশ্ব ব্যান্ক, এশিয়া ব্যান্ক, ইসলামী ব্যান্ক কিছুই লাগবেনা। শুধু দৃঢ নীতিমালার প্রয়োজন। সদিচ্ছার প্রয়োজন। সাংবাদিক ওবায়দুল কাদেরের এই সদিচ্ছা আছে বলে আমি মনে করি। পুরাণো বাস বাতিল করে সরকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সে আদেশ বাস্তবায়িত হয়নি। নিশ্চয়ই সরকারের চেয়ে শক্তিশালী কেউ আছেন যাঁরা  ওই আদেশ বাস্তবায়নে  বাধা সৃস্টি করেছেন। পরিবেশের কথা বলে পুরাণো অটো রিকশা বাতিল করে নতুন পরিবেশ বান্ধব গ্যাস চালিত অটো রিকশা বা সিএনজি চালু করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছিল ১৩/১৪ হাজার অটো রিকশা, কিন্তু নতুন লাইসেন্স দেয়া হয়েছে মাত্র ৪/৫ হাজার। এ কাজটা করেছিলেন বিএনপির যোগাযোগ মন্ত্রী নাজমুল হুদা সাহেব। তখন বলা হয়েছিল রাজধানীতে ছোট যানবাহন আর দেয়া হবেনা। আধুনিক বাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে। কিন্তু তা আর বাড়ানো হয়নি। এসব নিয়ে নানা মহলের রাজনীতি আছে। আমলারাও এখানে রাজনীতি করে থাকে। এসব বিষয়ে গবেষণা করার জন্যে নিয়মিত বিশ্বব্যান্ক সহ নানা প্রতিস্ঠান থেকে টাকা পয়সা নেয়া হয়। গবেষণার ফলাফল ফাইল বন্দী হয়ে পড়ে থাকে। অপরদিকে রাজধানীতে প্রতি বছর তিন চার লাখ লোক বেড়েই চলেছে। আপনি যে কোন সময়ে বাসা থেকে বেরিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকবেন। চট জলদি কখনই কোন যান বাহন পাবেন না। যদি পান, তাহলে চালক বলবে ওদিকে যাবোনা। যদি দয়া করে যায়, তাহলে ভাড়া চাইবে চার পাঁচ গুণ বেশী। ইদানিং রাস্তায় আপনি প্রাইভেট লেখা ছাই রংয়ের সিএনজি দেখতে পাবেন। এ গুলো ভাড়ায় চলে। সরকার বুদ্ধি করে এ গুলো চালু করেছেন। রাজনৈতিক কারণেই হয়ত চালু করেছেন। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্যে লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। লাইসেন্স পেয়েছেন দলীয় কর্মী বা ছোটখাট নেতারা। ট্রাফিক পুলিশ বিষয়টা এখনও জানেনা। তাই পথে ঘাটে প্রাইভেট লিখা সিএনজি গুলো আটকাচ্ছে। পুলিশের হাত থেকে সিএনজি গুলোকে রক্ষা করার জন্যে নতুন একটা ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রাইভেট সিএনজি গুলোতে একটা স্টিকার লাগানো হবে যা দেখে ট্রাফিক পুলিশ আর ধরবেনা। ওই স্টিকার পাওয়ার জন্যে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে তিন হাজার টাকা দিতে হবে। এই তিন হাজার টাকা দিয়েই প্রাইভেট সিএনজি গুলোকে ভাড়ার সিএনজি হিসাবে হালাল করা হবে।

তাই বলছিলাম সাংবাদিক যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্যে উন্নতির জন্যে কাজ করলে তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। এই রাজধানীর মশা তাড়িয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রী হাবিবুল্লাহ বাহার চৌধুরী আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন। আমারতো মনে হয়, তিনি একটু সিরিয়াস হলেই রাজধানীর এই সমস্যা সমাধান করতে পারবেন। চাই শুধু একটু সদিচ্ছা ও মন থেকে তাগিদ। এতে রাজধানীবাসীর অনেক কস্ট লাঘব হবে। মানসিক অশান্তি দূর হবে।

লেখক: কবি ও সাংবাদিক

ershadmz40@yahoo.com

Read Full Post »


রাস্ট্র বড় না মানুষ বড় ?       এরশাদ মজুমদার

রাজা বাদশাহ, শাসক ও রাজনীতিকরা মানুষকে দেখেন এক রকম। আর দার্শনিকরা দেখেন আরেক রকম।  বিজ্ঞান গবেষকরা দেখেন আর একটু ভিন্ন রকম। আমাদের গ্রহের শ্রেষ্ঠ সৃস্টি হচ্ছে মানুষ। মানুষের স্রস্টা স্বয়ং আল্লাহপাকই মানুষকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। এ জগতে মানুষ সার্বভৌম। জগতে যা কিছু আল্লাহপাক সৃস্টি করেছেন সবই করেছেন মানুষের সেবা বা খেদমতের জন্যে। সমগ্র সৃস্টিই মানুষের কাছে অবনত। আর মানুষ আল্লাহপাকের কাছে অবনত। মানুষকে সৃস্টিই করা হয়েছে তার স্রস্টার এবাদত করার জন্যে। মানুষের জন্যে ২৪ ঘন্টাই এবাদতের সময় যদি সে সবকিছুই আল্লাহপাকের উদ্দেশ্যে নিবেদন করে। কিন্তু এ জগত মানুষকে স্বাধীন থাকতে দেয়না। কেউ বানায় প্রজা, আর কেউ বানায় তথাকথিত নাগরিক। রাজা বাদশাহদের জামানা শেষ হয়েছে সে অনেকদিন। এখন তথকথিত গনতন্ত্র ও নাগরিকদের যুগ। এ যুগটা শাসন করছে রাজনীতিকরা। রাস্ট্রের নামে নাগরিকরা হারিয়েছে তাদের সকল মৌলিক অধিকার। রাস্ট্র গণতন্ত্র, মৌলিক অধিকারের কথা বলে নাগরিকদের সকল অধিকার হতণ করে নেয়। তথকথিত এই রাস্ট্র ব্যবস্থার  নামে প্রথমেই নিহত হয় নাগরিকদের অধিকার। জোর জবরদস্তি করে নাগরিকদের আনুগত্য আদায় করার জন্যে রাস্ট্র নানা ধরনের বা্হিনীর খোরপোষ দেয়। রাজা বাদশাহদের জামানায় মানুষ ছিল সকল প্রকার মৌলিক অধিকার রহিত প্রজা বা এক ধরনের দাস। পুরাণো দিনের রাজ্য বা রাজত্বের পরিবর্তে এখন এসেছে তথাকথিত গণতান্ত্রিক রাস্ট্র ব্যবস্থা। যেখানে অধিকার বিহীন প্রজারা নাগরিকে রূপান্তরিত হয়েছে। এটা এক ধরণের নামকরন মাত্র। এ ব্যবস্থায় রাস্ট্র স্বাধীন বলে বহুল ভাবে প্রচারিত। এ ধরনের রাস্ট্রের একটা সীমানা থাকে, জাতীয় সংগীত থাকে, পতাকা থাকে আর জাতিসংঘের সদস্যপদ থাকে। রাজনীতিকরা এ ধরনের পরিচালক হন। এ ধরনের রাস্ট্রে রাস্ট্র ও রাজনীতিকরা নাগরিকদের ভয় পায় এবং নানা অজুহাতে তাদের দমন করে। মানুষ ও নাগরিক উভয়ই বন্দী রাস্ট্র নামক একটি অত্যাচারী ব্যবস্থার কাছে। তাই প্রশ্ন উঠেছে মানুষ বড় না রাস্ট্র বড়। মানুষ রাস্ট্র তৈরী করেছে না রাস্ট্র তৈরী করেছে। মানুষ সৃস্টি করেছেন আল্লাহপাক তাঁর কুদরতী গুণে। তাঁর সৃস্টি জগতকে দেখাশোনা করার জন্যেই তিনি মানুষকে সৃস্টি করেছেন তাঁর প্রতিনিধি হিসাবে। আল্লাহ হুকুম করেছেন মানুষ সৃস্টি জগতকে শাসন ও পরিচালনা করবে সৃস্টির কল্যাণে। সেই মানুষই আজ পরাজিত। মানুষ রাস্ট্র তৈরী বা প্রতিস্ঠা করে নিজেই সেই রাস্ট্রের অত্যাচারে অত্যাচারিত হয়। সংগ্রাম এবং লড়াই করেই তাকে নিজের অধিকার জিতে নিতে হয়।

আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি একটি স্বাধীন দেশ ও রাস্ট্র। আমরাই এ রাস্ট্র প্রতিস্ঠা করেছি আমাদের স্বাধীনতার জন্যে। তা না হলে আমাদের কি প্রয়োজন ছিল বৃটিশের বিরুদ্ধে লড়াই করার। এরপরে পাকিস্তানের সাথেও আমাদের বনিবনা হলোনা। পাকিস্তানের শাসন ও শোষণ থেকে মুক্তি লাভের জন্যে আমরা ৭১এ যুদ্ধ করেছি। কিন্তু আমাদের সাধারন মানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি। কিছু কিছু মানুষ দরিদ্র থেকে আরও দরিদ্র হয়ে গেছে। আমাদের নেতারা যে সকল ওয়াদা করে রাস্ট্র প্রতিস্ঠা করেছিলেন , রাস্ট্র সে সকল ওয়াদা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। প্রশ্ন হলো আমরা স্বাধীনতা কেন চেয়েছিলাম? প্রশ্ন হলো রাস্ট্র আমাদের কাছে কি ওয়াদা করেছিল? এখন আমরা কি চাইছি? আমিতো বলবো রাস্ট্র আমাদেরকে মানুষও মনে করেনা, নাগরিকও মনে করেনা। মানুষ হিসাবে আমাদের মানবিক মর্যাদা দান করেছেন স্বয়ং স্রস্টা। খোদাই আমাদের জগতের খলিফা নির্বাচিত করেছেন। আমাদের সেই মর্যাদা কে কেড়ে নিল? আমাদের নাগরিক নামটাও একটি ঠুনকো নাম। মানুষ এবং নাগরিক হিসাবে আমাদের সব ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে চলমান রাস্ট্র ব্যবস্থা। রাস্ট্র এখন মানুষ ও নাগরিকের চেয়ে অনেক বড়, অনেক ক্ষমতাবান ও শক্তিশালী। রাস্ট্রের এই ক্ষমতা ও শক্তি ব্যবহার করছেন এক শ্রেণীর রাজনীতিক ও নেতারা।

রাস্ট্র পরিচালনা ও নাগরিকদের নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্যে রাস্ট্রের অনেক আইন আছে। প্রয়োজন হলে নিয়মিত আইন বানাতে পারে। জাতীয় সংসদ নামে একটি প্রতিস্ঠান আছে যেখানে সদস্যরা বা তথাকথিত নির্বাচনে বিজয়ী প্রতিনিধিরা নিয়মিত আইন রচনা করেন। এই আইন জনগণের প্রয়োজনের বা চাহিদার কথা বলেই রাস্ট্রের পরিচলকরা তৈরী করেন। এমন হর হামেশাই তৈরী হচ্ছে। ৫৪ ধারা নামে একটি আইন আছে, যা বৃটিশ আমলে তৈরী হয়েছে বৃটিশ রাজের প্রয়োজনে। এটা একটি কালো পুলিশী আইন। এই আইনে একজন পুলিশ অফিসার যেকোন সময়ে যেকোন নাগরিককে কোন কারণ না দেখিয়ে গ্রেফতার করতে পারেন। এটি একটি সন্দেহ বাতিক আইন। পুলিশ সন্দেহ করেই নাগরিকদের গ্রেফতার করে। এমন কি দেশের নামী দামী সম্মানিত মানুষকেও পুলিশ প্রথমে এই আইনে গ্রেফতার করে। পরে সময় সুযোগ মতো একটা মামলা সাজিয়ে নেয় সরকারের নির্দেশে। রাস্ট্রদ্রোহিতার অনেক আইন আছে। সরকার নিজের প্রয়োজনে এই আইন ব্যবহার করে। গণতান্ত্রিক রাস্ট্র ব্যবস্থায় জনসাধারন সরকারের সমালোচনা করবে, এটাই নিয়ম। কিন্তু সরকারের সহ্য শক্তি না থাকলে তখন সরকার নাগরিক বিরুদ্ধে নানা ধরনের মামলা সাজিয়ে তাদের হেনস্থা করা হয়। এ অবস্থা অব্যাহত রয়েছে বৃটিশ আমল থেকে। একই নিবর্তন ও নির্যাতন মূলক আইন দ্বারা বৃটিশরা দেশ চালিয়েছে। একই আইন দ্বারা পাকিস্তান দেশ ও রাস্ট্র চালিয়েছে। এখন বাংলাদেশও সেই একই আইনে চলছে। ৫৪ ধারা খুবই খারাপ আইন একথা সবাই স্বীকার করেছেন। কিন্তু ৫৪ ধারা বাতিল করা যায়নি। কারণ সরকার মনে করে রাস্ট্র পরিচালনার জন্যে এই নিবর্তন মূলক অপরিহার্য। বিশেষ ক্ষমতা আইন চালু হয়েছে ৭৪ সালে। এই আইন একটি কালো আইন, একথা সবাই স্বীকার করেছেন। কিন্তু এটা বাতিল করা যায়নি। কারণ রাস্ট্র মনে করে নাগরিকদের দমন করার জন্যে এ ধরনের আইন প্রয়োজন। রাজনৈতিক নেতাদের মন মানসিকতা হচ্ছে প্রাচীন যুগের রাজা মহারাজাদের মতো। রাজনীতিকরা ক্ষমতা পেলেই রাস্ট্র রক্ষার নামে নিজেদের রক্ষা করার জন্যে সকল প্রকার কালো আইন ব্যবহার করতে থাকে।

আল্লাহপাকের এক নাম আদলু। কারণ তিনিই হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক। তিনি সবকিছু দেখেন জানেন ও বিচার করেন। আদলু শব্দ থেকেই আদালত ও আদিল শব্দটি এসেছে। আমাদের দেশের আদালত ও বিচারকগণ আল্লাহপাকের আইন দ্বারা পরিচালিত হন না। বাংলাদেশ নানা ধরণের আইন দ্বারা পরিচালিত। মূলত বৃটিশ আইন দ্বারাই আমাদের বিচার ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। এখানকার বিচারকগণ বৃটিশদের দেয়া নিয়ম কানুন পোষাক ব্যবহার করেন। তাঁরা যে সংবিধান মেনে শপথ গ্রহণ করেন তার সূত্রও বৃটিশ আইন। নাগরিক অধিকার চেতনাও এসেছে বৃটিশদের কাছে থেকে। আমাদের আদালতে যে মানদন্ড দেখা যায় তা এসেছে কোরাণের চিন্তাধারা থেকে। এটা পাকিস্তান আমল থেকেই এখানে জারি রয়েছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট শপথ গ্রহণ করেন বাইবেল ছুঁয়ে। আমাদের প্রেসিডেন্ট শপথ গ্রহন করেন সংবিধান ছুঁয়ে। আমাদের  আদালত কোরাণ ও সুন্নাহর বিরুদ্ধে রায় দেয়। সেই রায়ের বিরুদ্ধে ইসলামী রাজনৈতিক দল গুলো আন্দোলন করে। সেকুলার বুদ্ধিজীবী বলে  পরিচিত একদল ভন্ড কিছু না জেনেই ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করে। এসব বুদ্ধিজীবী সেকুলারিজম কথাটা শিখেছে ইসলাম বিরোধী পশ্চিমাদের কাছ থেকে। ৯০ ভাগ মুসলমানের রাস্ট্র একশ্রেণীর রাজনীতিকের কারণে সেকুলারিজম প্রায় রাস্ট্রের ধর্মে পরিণত হয়েছে। রাস্ট্র যাঁরা চালান এবং তাঁদের বন্ধুরা সেকুলারিজম নিয়ে গর্ব বোধ করেন। এটা তথাকথিত গণতন্ত্রের একটা রূপ। এইতো দেখুন না, আমাদের মহান প্রতিবেশী ভারতের রাস্ট্রনীতি হচ্ছে সেকুলারিজম। সেখানে সারা বছর সাম্প্রদায়িক দাংগা লেগে থাকে। একবার শুধু গুজরাটের দাংগার কথা ভাবুন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই দাংগার হোতা। কিন্তু তাতে মোদীর কিছু আসে যায়না। শুনা যায় মোদী নাকি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন। হিন্দু রাস্ট্র নেপাল একদিনের জন্যেও শান্তিতে নেই ভারতের ভালবাসার কারণে। সিকিম, হায়দ্রাবাদ, গোয়া, কাশ্মীর সবই দখল করে নিয়েছে মহা গণতান্ত্রিক সেকুলার দেশ ভারত। বিগত ৪০ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ ভারতের ভালবাসা দেখে এসেছে। আমাদের পানি বন্ধ করে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যা করছে।তারপরেও ভারত  বুক ফুলিয়ে বলছে, যাদের হত্যা করা হচ্ছে তারা সবাই ক্রিমিনাল, চোরাচালানী। বিশেষ করে চলমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে  সরকারের মন্ত্রীরা বুক চেতিয়ে বলছেন, সীমান্তে এ রকম হত্যা  জগতের সব সীমান্তেই হয়।বাংলাদেশের সীমান্তে হত্যা বন্ধের ব্যাপারে আমেরিকাও কথা বলছে কুব জোরদার ভাবে। কিন্তু অবাক ওবিস্ময়ের ব্যাপার হলো  আমাদের রাস্ট্র এ ব্যাপারে জোরালো ভাষায় কোন কথা বলছেনা। এর মানে হচ্ছে চলমান সরকার দেশের স্বার্থে কাজ করছেনা। সম্প্রতি  একদল বাংলাদেশী  দেশ প্রেমিক হ্যাকার ভারতের উপর সাইবার এ্যাটাক চালিয়েছে। তারা বলেছে ভারত সীমান্তে হত্যা বন্ধ না করলে তারাও সাইবার যুদ্ধ বন্ধ করবেনা। বাংলাদেশী হ্যাকারদের বিদেশী  হ্যাকাররাও সমর্থন জানিয়েছে।

আজকের কলামে বাংলাদেশের মানুষের মৌলিক অধিকার নিয়ে কথা বলছি। প্রসংগক্রমে অন্যকথা বলেছি। আমিতো বলছি আমাদের রাস্ট্র এদেশের মানুষ বা নাগরিকদের কল্যাণে নিয়োজিত নয়। সংবিধান , জাতীয় সংসদ, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সেভাবে কাজ করছেনা। ফলে রাস্ট্রটি অত্যাচারী জুলুমবাজে পরিণত হয়েছে। নিজেদের রাস্ট্রের অত্যাচার থেকে রক্ষা করার জন্যে নাগরিক বা দেশের মানুষের কাছে কোন আইনগত হাতিয়ার নেই। বাংলাদেশের মানুষ এমন একটি রাস্ট্রের স্বপ্ন দেখেনি। আর এজন্যে মুক্তিযুদ্ধও করেনি। বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যে অবশ্যই  আলাদা চার্টার তৈরী করতে হবে। যে চার্টারে বলা হবে মানুষ বা নাগরিকদের চেয়ে রাস্ট্র বড় নয়। জাতীয় সংসদ বা রাস্ট্র মানুষ বা নাগরিকদের উপরে নয়, এবং জনগণই হলো রাস্ট্রের মালিক। চলমান আইন ও বিধান রাস্ট্রকে বানিয়েছে অত্যাচারী জুলুমবাজ মালিক । বাংলাদেশের আজ নিষ্পেশিত। এখানে রাস্ট্র, আদালত ও জাতীয় সংসদ সার্বভৌম। একমাত্র জনগণেরই কোন ক্ষমতা নেই। সংসদে যে আইন বানানো হয় তা কখনই জনগণের কথা ভেবে বানানো হয়না। যারা আইন বানান তাঁরা প্রথমেই ভাবেন সরকারের কথা। সব সময় ভাবতে থাকেন কিভাবে সরকারকে রক্ষা করা যায়। চলমান রাস্ট্র ব্যবস্থায় সরকারের ভাবনা শুধুই নিজের আত্মরক্ষা। কখনই ভাবা হয়না কিভাবে দেশের মানুষকে সার্বভৌম করা যায়। সত্যি কথা বলতে কি, শুধু বাংলাদেশ নয়, এমন অনেক দেশ আছে যেখানে মানুষ স্বাধীন নয়। স্বাধীন হচ্ছে রাস্ট্র আর সরকার গুলো। প্রতিবেশী সকল দেশেই এই অবস্থা। মানুষ পরাধীন, দেশ ও রাস্ট্র স্বাধীন। ৪৭ সালে শুধু ইংরেজরা এখান থেকে চলে গেছে। তাদের শোষণবাদী সরকার, শাসন ও রাস্ট্র ব্যবস্থা রয়ে গেছে। এ ধরণের রাস্ট্রের লক্ষ্য জনগণকে শোষন করা এবং দমন ও নির্যাতন করা। আমি একথা বলছিনা যে, রাজনীতিকরা জেনে শুনে এ ব্যবস্থা চালু রেখেছেন।

আমাদের আদালত সম্পর্কে কোন কথা বলা যায়না। যদি প্রশংশা করেন তাহলে ঠিক আছে, আর যদি সমালোচনা করেন তাহলে আদালত অবমাননা হয়ে যায়। এক সময়ে শুনেছি সম্মানিত বিচারকগণ সহজে  কোন সামাজিক অনুস্ঠানে যান না। এমন কি তাঁরা নাকি দিনের খবরের কাগজ পরের দিন পড়তেন। সবই করতেন তাঁরা নিজেদের বিভিন্ন ধরনের সামাজিক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখার জন্যে। এখন আর ওসব কেউ মানেন না। বিচারকরা কাগজ পড়েই সুয়োমটো রায় দিয়ে দেন। আদালত এখন রাস্তাঘাট, ফুটপাত, ময়লা, চলাফেরা সবকিছু নিয়ে ভাবেন। ইতোমধ্যেই আদালত অনেক বিষয়ে কথা বলেছেন বা রায় দিয়েছেন  যা জনমনে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃস্টি করেছে। আমার মনে হয় এসব কারণে এক সময়ে আদালতের ইমেজ সংকট দেখা দিতে পারে। সাংবাদিক সাগর-রুনির হত্যা রহস্যের ব্যাপারে সাংবাদিকরা যা লিখছেন তার ব্যাপারেও আদালত কথা বলেছেন। সাংবাদিকরা এ ব্যাপারে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আদালতের ওই কথাগুলোকে সাংবাদিকরা এক ধরণের সেন্সরশীপ মনে করছেন। এর দ্বারা জনগণের তথ্য জানার অধিকারও খর্ব হতে পারে বলে সাংবাদিকরা মনে করছেন। এছাড়াও ইতোমধ্যে বহু নাগরিক গুম বা নিখোঁজ হয়েছেন। সে সব ব্যাপারে আদালত এখন পর্যন্ত তেমন কোন কথা বলার প্রয়োজন মনে করেননি। দেশবাসীর মনে এমন ধারণা হয়েছে যে, সরকার সরাসরি অনেক কাজ না করে আদালতকে দিয়ে করিয়ে নিচ্ছে। কেয়ারটেকার সরকার বা তত্বাবধায়ক সরকারের ব্যাপারে আদালতের রায় রাজনীতিতে সীমাহীন অস্থিরতা উত্তাপ তৈরী করেছে।সম্প্রতি বাংলা ভাষা ব্যবহার নিয়ে আদালত যে রায় দিয়েছেন তাও জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরী করেছে। প্রমিত বাংলা ভাষার নামে বাংলা একাডেমী কোলকাতা থেকে পন্ডিত নিয়ে এসেছে। আমরা বার বার বলে এসেছি ঢাকার বাংলা আর কোলকাতার বাংলা এক নয়। বাংলার রাজধানী এখন ঢাকা, কোলকাতা নয়।

আমাদের বাংলাদেশের বর্তমান ভৌগলিক এলাকায় হাজার বছর ধরে মুসলমানদের বসবাস। ফলে এখানে যে ইতিহাস, ঐতিহ্য ভাষা ও সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে তা মুসলমানদেরই সম্পদ। পশ্চিম বাংলার অধিবাসীরা যদি মুসলমান হতেন তাহলে আজ তাঁরাও স্বাধীন থাকতেন। এই ভৌগলিক এলাকার মানুষ মুসলমান বলেই ৪৭ সালে পাকিস্তানের সাথে ছিল।সে সময় পশ্চিম বাংলার হিন্দু নেতারা ভারতের সাথে থাকাটাকেই শ্রেয় মনে করেছেন। অবাংগালী দিল্লীর অধীনে থাকাটাকেই তাঁরা স্বাধীনতা মনে করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের বাংগালী মুসলমানেরা তা মনে করেনি। বাংগালীয়ানা আর মুসলমানিত্ব দুটোই এদেশের মানুষের কাছে প্রিয়। এজন্যেই ৭১ সালে অবাংগালী মুসলমান ভাইদের সাথে যুদ্ধ করে বাংলাদেশের মুসলমানেরা স্বাধীন হয়ে আলাদা হয়ে গেছে। আমাদের রাস্ট্র, আদালত, আইন, সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের এ বিষয়টা গভীর ভাবে অনুধাবন করতে হবে। যদি তাঁরা মানে নেতারা তা না বুঝেন তাহলে মারাত্মক ভুল করবেন। রাস্ট্র কখনই মানুষ, নাগরিক বা জনগণের মালিক মুক্তার নয়। রাস্ট্র মানুষের জন্ম দেয়না বা মানুষকে প্রতিস্ঠা করেনা। বরং রাস্ট্র , আদালত, আইন, সংসদ সবকিছুই মানুষের অধীন ও মানুষের কল্যাণ ও সেবার জন্যে সৃস্টি করা হয়েছে। আমাদের তথকথিত নেতাদের মন মগজে যে রাস্ট্র এখনও কার্যকর তা অত্যাচারী ও দমনের হাতিয়ার। পুরাণো ধ্যান ধারনার রাস্ট্র যা নিজ দেশের নাগরিক ও জনগণকে দমন করে তা আর চলতে পারেনা। এই পুরাণো ধ্যান ধারণার কারণেই আজ নির্বাচন, জনপ্রতিনিধিত্ব, ভোটাধিকার ও সংসদ একটা পরিহাসের পাত্রে পরিণত হয়েছে। এই ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের মিলিত ঐক্যবদ্ধ মানুষ একটি সার্বভৌম শক্তি। মানুষের চেতনাকেই রাস্ট্র , আদালত, সংসদ, আইন আর জনপ্রতিনিধিরা বাস্তবায়ন করবেন। মানুষের কল্যাণ ছাড়া এ জগতের কোন প্রতিস্ঠানের কোন কাজ নেই। এই গ্রহের সকল সৃস্টিই প্রাকৃতিক নিয়মেই মানুষের সেবা ও কল্যাণে নিয়োজিত। এই গ্রহটা মানুষের অধীনে, মানুষ গ্রহের অধীনে নয়।

শুধু বাংলাদেশ রাস্ট্র নয়, সারা বিশ্বেই রাস্ট্র মানুষকে শোষণের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। যেখানে মানুষ সজাগ ও সচেতন সেখানে শোষণের মাত্রা কম। জাগ্রত মানুষের দেশে রাস্ট্র মানুষের সেবায় নিয়োজিত। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ তেমন জাগ্রত নয়। তাই এখানে শোষণের মাত্রা তীব্রতর হয়েছে। এখানে একদল মানুষ শোষকে পরিণত হয়েছে। এরা রাস্ট্রকে দখল করে রেখেছে। পুরাণো ঘুনেধরা এই রাস্ট্র ব্যবস্থায় রাস্ট্র বড় না মানুষ বড় তার ফারাক বুঝতেও নাগরিকরা এখন অক্ষম। আমেরিকার ‘অকুপাই’ আন্দোলন নয়া যুগের সুচনা করেছে। আমেরিকার শোষিত মানুষ বুঝতে পেরেছে শুধুমাত্র একভাগ মানুষ আমেরিকার ৯৯ভাগ মানুষকে শোষণ করে। অকুপাই আন্দোলনকে দমন করার জন্যে পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠি উঠে পড়ে লেগেছে। আরবে গণজাগরণের হাওয়া লেগেছে। সেখানকার তথাকথিত গণতান্ত্রিক স্বৈরাচারদের পতন হতে শুরু করেছে। এই গণতান্ত্রিক আন্দোলন কতদূর এগোতে পারবে এখনি বলা যাচ্ছেনা।অপরদিকে তথাকথিত গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী পশ্চিমারা আরবে ইসলামী জাগরণের ভয়ে সন্ত্রস্ত। ইতোমধ্যেই কয়েকটি দেশে ইসলামী শক্তি বিজয় লাভ করেছে। বাংলাদেশেও একই অবস্থা বিরাজ করছে।

লেখক: কবি ও সাংবাদিক

ershadmz40@yahoo.com

Read Full Post »