Feeds:
Posts
Comments

Archive for July, 2015


কোরাণ রাসূল(সা) এর বিরোধিতা ও রাষ্ট্রের ভূমিকা / এরশাদ মজুমদার

কোরাণ রাসুল(সা) ও ইসলাম নিয়ে রাজনীতি বা সমালোচনা পাকিস্তান আমলেও ছিল এখন স্বাধীন বাংলাদেশেও আছে। পাকিস্তান আমলে বিদ্যাবুদ্ধির দাবীদারগণ ইসলাম ও দ্বিজাতি তত্বের বিরোধিতা করতেন। পাকিস্তান আমলে কোরাণ ও পতাকা অবমাননা নিয়ে বহু মামলা হয়েছে। এখন বাংলাদেশেও বিষয়টা রয়ে গেছে। সুযোগ পেলেই ক্ষমতাসীন দল ও সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি শুরু করেন। হেফাজতের আন্দোলন ও ৫ই মে’র অবস্থান কালে নাকি হেফাজতের কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে কোরাণ ও ধর্মীয় পুস্তকে আগুণ দিয়েছে। বাপ্পা জাতীয় লোকেরা নাকি কোরাণ ও ধর্মীয় পুস্তকে আগুন দিয়েছে বলে গুজব রয়েছে। পোড়া বইয়ের ছবি খবরের কাগজ ও টিভিতে প্রকাশিত হয়েছে। তবে সেসব বই কোরাণ কিংবা ধর্মীয় পুস্তক কিনা আজও আমরা জানিনা। সরকার নাকি বইয়ের হকারদের ক্ষতিপূরণ হিসাবে ৫০হাজার টাকা দিয়েছে।
বাংলাদেশে বহু ইসলামী দল আছে। এদের অনেক ফেরকা আছে। তাই তাঁরা সিয়াসত বা রাজনীতি নিয়ে এক মোর্চা,প্ল্যাটফর্ম বা মঞ্চে একত্রিত হতে পারছেন। ৪৭ সালের আগে মুসলমানেরা শক্তিশালী মুসলীম লীগের প্ল্যাটফর্মে একত্রি হয়। বৃটিশ আমলে বাংগালী মুসলমান সবচেয়ে বেশী শোষিত হয়। বৃটিশেরা চলে গেলে মুসলমানদের শোষণ অব্যাহত থাকবে এ ভয়ে তাঁরা আলাদা দেশ বা রাষ্ট্রের দাবী তোলে। ফলে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয় ৪৭ সালে। পাকিস্তানের পূর্বাংশ নিয়ে আজকের বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে ইসলাম বিরোধী দেশে পরিণত করার জন্যে একশ্রেণীর আরবী নামধারী লোক উঠেপড়ে লেগেছে। আমরা বলি, বাংলাদেশ ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশ। আরেক গ্রুপ বলেন বাংলাদেশ ১০০ ভাগ বাংগালীর দেশ। এরদ্বারা বাংলাদেশের মুসলমানদের ক্ষমতা ও অধিকার অস্বীকার করতে চায়।
একই অবস্থা বামদল গুলোর ভিতরেও বিরাজ করছে। বাংলাদেশে বহু বাম দল আছে,কিন্তু সবাই এক মঞ্চে একত্রিত হতে পারেননি।কিন্তু ইসলাম ও মুসলমান বিরোধিতায় তাঁরা একমত। তাঁরা মনে করেন, আওয়ামী লীগ আদর্শগত ভাবে বামের কাছাকাছি। তাই বেশ কয়েকটি বাম দল আওয়ামী লীগে আশ্রয় নিয়েছে। এসব বাম নেতা নৌকার বাসিন্দা হয়ে নিজের দলের কর্মীদের চাংগা করতে চেষ্টা করছেন। মেনন ও ইনু নাকি দলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নৌকায় চড়েছেন, ফলে হায়দার আকবর খান রণো সিপিবিতে যোগ দিয়েছেন। এক সময় তাঁরা পিকিং ও মস্কোপন্থী হিসাবে শক্ত অবস্থানে ছিলেন। ৭২ থেকে ৭৫ সালের দিকে মস্কোপন্থী দল গুলো বংগবন্ধুকে একদলীয় রাজনীতি চালু করার জন্যে বাকশাল গঠণে উত্‍সাহিত করেন। বংগবন্ধুর পতনের পর এঁরা বংগবন্ধুকে গালাগাল করেছে। ইসলামপন্থী ও বামপন্থীদের এত বিভক্তি কেন তা জনগণ আজও বুঝতে পারেনি। ইসলামে এখন অনেক কাতার। হুজুরে পাক মোহাম্মদ(সা)নাকি বলে গেছেন, কিয়ামতের আগে তাঁর উম্মতগণ ৭৩ ভাগ হয়ে যাবে।
বাংলাদেশ জন্ম লগ্নে ছিল সমাজতান্ত্রিক দেশ। তাঁর প্রধানতম বন্ধু ছিল ভারত ও রাশিয়া। ফলে সমাজতান্ত্রিক দেশ গুলোর প্রভাব ছিল বেশী। কালক্রমে বাংলাদেশ পুঁজিবাদের দিকে ধাবিত হতে শুরু করে। ৪৪ বছরে বাংলাদেশে দশ হাজার কোটি টাকার মালিক বহু পরিবারের জন্ম হয়েছে। এদের কাছে রাষ্ট্রের কয়েকশ’হাজার কোটি টাকা পাওনা। রাজনৈতিক দলের সাথে হাত মিলিয়ে এসব ধনী ঠিক মতো রাজস্ব দেয়না। অপরদিকে সরকারী ও বেসরকারী ব্যান্ক থেকে নেয়া টাকাও শোধ করেনা। পাকিস্তান আমলে ২৩ বছরে ২২ পরিবারের জন্ম হয়েছিল, যাঁরা সকল পুঁজির মালিক ছিলেন। পশ্চিমা পুঁজির কোন সীমা বা নৈতিকতা নেই। ফলে পুঁজিপতিরা জগতকে গিলে খেতে পারে। আমাদের বাংলাদেশ কোন আদর্শিক ও নৈতিকতাপূর্ণ দেশ নয়। সাংবিধানিক ভাবেই দেশ জাতির কোন ধরণের নৈতিক ওয়াদা করেনি। এখন এখানে বিলনিয়ারের কোন অভাব নেই। তাদের জন্যে কোন আদর্শও নেই। এখানে কেউ বাংলাদেশী বা বাংগালী। কেউ বিএনপি বা আওয়ামী লীগ। পুঁজির ধারণা দুই দলেরই এক রকম। দুই দলি পুঁজিপতিদের টাকায় চলে। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের পাল্লা ভারী। বাংলাদেশের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক জগত এখন ৯০ ভাগ ভারতের দখলে। সেদিন বাম মোর্চার এক মতামত সভায় প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের ঘরে ভারতীয় টিভি চ্যানেল দেখে বাংলাদেশের শিশুরা। সরকার এ ব্যাপারে নীরব দর্শক। মনে হয় এ ব্যাপারে সরকারের কোন ভুমিকা নেই। এমন কি বিএনপিও এ ব্যাপারে কিছুই করেনি। আপাত: দৃষ্টিতে মনে হয় বিএনপির আদর্শ(যা এখনও স্পষ্ট নয়)আছে এবং তা আওয়ামী লীগ থেকা আলাদা। বিএনপিতে জ্ঞানী গুণীর অভাব নেই। তাঁরা নিবেদিত নন। তাঁদের অনেকেই সওদাগর বুদ্ধিজীবী বা সাংবাদিক। সবাই অপেক্ষা করে আছেন কখন বিএনপি কখন ক্ষমতায় আসবে এবং সবাই কিছুনা কিছু সুবিধা পাবেন। অনেকেই অপেক্ষা করতে না পেরে আওয়ামী ঘরাণায় চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন। মুক্তিযুদ্ধে যেমন সাধারন সৈনিক, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও যুবকরা প্রাণ দিয়েছেন তেমনি চলতি সরকার বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে বিএনপির সাধারন কর্মীরা প্রাণ দিয়েছেন।
আমার আজকের প্রধান প্রসংগ হচ্ছে ইসলাম। কোরাণ ও রাসুলকে(সা) নিয়ে। কয়েকদিন আগে আমার প্রিয় মানুষ গাফফার ভাই ইসলাম ও আল্লাহর নাম নিয়ে কিছু কথা বলেছেন যার ফলে তাঁর মুসলমানিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি নিজে দাবী করছেন যে তিনি একজন ইমানদার মুসলমান। রোজার মাসে বাংলাদেশ সরকার কেনইবা ওই রকম একটি আলোচনার ব্যবস্থা করেছেন তা বোধগম্য নয়। আর গাফফার ভাই বা কেন অপ্রাসংগিক আল্লাহ ও কোরাণ নিয়ে ওই কথাগুলো বলতে গেলেন। গাফফার ভাই আমার খুবই প্রিয় মানুষ। আমি তাঁর সাথে দৈনিক পূর্বদেশ ও দৈনিক জনপদে কাজ করেছি। তাঁর কলাম খুবই ক্ষুরধার ও জনপ্রিয়। তিনি দৈনিক আজাদেও কাজ করেছেন। কাগজের বা মালিকের নীতি মোতাবেক লেখার অভ্যাস গাফফার ভাইয়ের আছে। বাংলাদেশ হওয়ার পর তিনি দৈনিক জনপদে বংগবন্ধুর সমালো্চনা করে বেশ কয়েকটি কলাম লিখেছেন।কাগজটির মালিক ছিলেন শিল্পমন্ত্রী হেনা সাহেব। তিনি সত্যিই একজন ভাল মানুষ ছিলেন। এখন সে রকম নেতা আওয়ামী লীগে নেই। তখন আওয়ামী লীগ কোন ধর্ম ছিলনা।
গাফফার ভাই এক সময় তাঁর অসুস্থ স্ত্রীর চিকিত্‍সার জন্যে লন্ডন চলে যান এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে থেকে যান। যাওয়ার সময় বংগবন্ধু তাঁকে আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। এখন তিনি লন্ডনে বসেই বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে জনপ্রিয় কলাম লেখেন। তাঁর বন্ধুরা বলে থাকেন গাফফার জীবিত লোকদের নিয়ে লেখেন না। তাঁর সমালোচনা করে কেউ লিখতে চায়না। কারণ,প্রত্যুত্তরে তিনি বিশ্বাসযোগ্য মিথ্যা লিখে ওই লেখককে হেনস্থা করেন।অথবা বানোয়াট গল্প লেখেন। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে তিনি লন্ডনে আছেন। স্থায়ী কোন আয়ের ব্যবস্থা নেই। লীকে কিছু টাকা পান। বাকিটা হয়ত ভক্ত এবং সরকারের কাছ থেকে পান। ঢাকা এলে ভক্তরা তাঁর দেখাশুনা করেন।
আমি আগেই বলেছি, তিনি আমার খুব প্রিয় মানুষ। জনপদে তিনি আমার সম্পাদক ছিলেন। পূর্বদেশে সহকারী সম্পাদক ছিলেন। ওই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন প্রখ্যাত পার্লামেন্টারিয়ান মাহবুবুল হক। আওয়ামী রাজনীতির সমর্থক হিসাবে তাঁর বিরুদ্ধে আমার কোন মত নেই। তিনি হয়ত আদর্শগত ভাবেই আওয়ামী লীগের পক্ষে লিখে থাকেন। তাঁর এ নীতিকে আমি সম্মান করি। কিন্তু হঠাত্‍ তিনি কেন আল্লাহ ও কোরাণ নিয়ে কথা বলতে গেলেন তা বুঝতে পারছিনা। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এসব কথা বলার কি প্রয়োজন ছিল? এমন একটি বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন,যে বিষয়ে তাঁর তেমন কোন জ্ঞান নেই। এর আগে সালমান রূশদী রাসুল(সা) এর বিরুদ্ধে লিখে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। বৃটিশ সরকার এখনও তাঁকে নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের আরেক নারী যিনি ইসলাম বিরোধী লেখিকা হিসাবে নাম বা বদনাম কুড়িয়েছেন।তিনি তাঁর যৌন জীবন সম্পর্কেও নানা তথ্য প্রকাশ করেছে। পশ্চিমা দেশগুলি তাঁর ইসলাম বিরোধী ভুমিকা নিয়ে বেশ কিছুদিন হৈ চৈ করেছে। এখন তাঁরা বুঝতে পেরেছেন এই মহিলার মৌলিক কোন লেখা নেই। ইসলামের বিরোধিতা করাই তাঁর ব্যবসা। ভারতে তাঁর লজ্জা বইটি বিভিন্ন ভাষায় অনুদিত হয়েছে। ৭২বা ৭৩ সালে এক কবি বা সাংবাদিক রাসুল(সা) সম্পর্কে বাজে কবিতা লিখে দেশ ত্যাগী হয়েছেন। এর আগে একটি বাংলা দৈনিক রাসুল(সা)এর কার্টুন ছেপে বিপদে পড়েছেন। পরে বায়তুল মোকাররমের খতিব সাহেবের কাছে তওবা করে তিনি মুক্তিলাভ করেন। আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও সাংসদ লতিফ সিদ্দিকী রাসুল(সা) ও ক্বাবা সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করে মন্ত্রিত্ব হারিয়ে জেলখানায় গিয়েছে। সম্প্রতি আদালত তাঁকে মুক্তি দিয়েছেন। এখন সরকার তাঁর সংসদ সদস্যপদ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। লোকে বলে লতিফ সিদ্দিকী প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের বিরুদ্ধে কথা বলে বিপদে পড়েছেন।
আল্লাহপাকের নিরানব্বই নাম কালামেপাকেই উল্লিখিত রয়েছে। আল্লাহপাকের গুণবাচক নাম গুলোর সাথে তত্‍কালীন আরব দেবতা বা মুর্তির কোন সম্পর্ক কখনই ছিলনা। আল্লাহ কোন দেবতার নামও ধারণ করেননি। এটা গাফফার চৌধুরী সাহেবের অজ্ঞতা। নিশ্চয়ই তিনি অজ্ঞতা বশতই কথা গুলো বলেছেন। না হয় কোন বিতর্ক তৈরি করার চেষ্টা করছেন। এখন ভারতীয় কোন প্রকাশক যদি গাফফার সাহেবের নাম উল্লেখ করে প্রকাশ করেন যে , মুসলমানদের আল্লাহর গুণবাচক নামগুলো হিন্দু দেবতাদের নাম। আর আনন্দবাজার গাফফার চৌধুরী সাহেবের নামে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেন তাহলে বলার কিছু থাকবেনা। ৭১ সালে চৌধুরী সাহেবের সাথে আনন্দ বাজারের আত্মীয়তা তৈরি হয়।
আলকোরাণের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহপাকের গূণ বর্ণণা করতে গিয়ে নিরানব্বই নামের কথা এসেছে। আল্লাহপাকের গুণের কোন সীমা নেই। তা বর্ণনা করার ক্ষমতাও মানুষের নেই। আল্লাহপাকের মূল জাতি নাম হচ্ছে আল্লাহ। তাঁকে ইলাহা বা ইলাহু বলেও ডাকা হয়। যেমন ধরুন আমরা যখন আবৃতি করি ‘ লা ইলাহা ইল্লা আল্লাহ’তখন বলি আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নাই। ইলাহা মানে উপাস্য। আল্লাহ ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই। সনাতন ধর্মে বহু ইলাহ বা উপাস্যের নাম আছে। আবার যখন বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম পড়ি তখন আল্লাহপাকের গুণাবলীর কথা বলি। বিসমিল্লাহ(বা ইসম আল্লাহ) মানে আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করছি যিনি রহমান ও রহীম। রহমান ও রহীম আল্লাহর গুণাবলী। আরবে এ নামে কোন দেবতা কখনই ছিলনা। যেমন, আবদুল গাফফার মানে পরম ক্ষমাশীলের আবদুল(দাস)। গাফফার ভাই ইচ্ছা করলে নিজের নাম অনুবাদ করে বলতে পারেন ভগবান দাস চৌধুরী। সুরাহ ফাতেহাকে উম্মুল কোরাণ বলা হয়। সুরাহ ফাতেহায় আল্লাহপাকের গুনাবলীর বর্ণণা ও ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। আল্লাহকে রাব্বুল আলামীন বলা হয়েছে। মানে তিনি সকল জগতের প্রতিপালক। তিনি নিজেকে সকল সৃষ্টির প্রতিপালক হিসাবে ঘোষণা দিয়েছেন। সুরাহ ফাতেহার তাফসির করার জন্যে মাওলানা আজাদ ৩৫০ পৃষ্ঠার একটি বই লিখেছেন। সেটা চৌধুরী সাহেব পড়তে পারেন।আল্লাহপাকের একটি মহা গুরুত্বপূর্ণ নাম হলো আদলু। মানে তিনই শ্রেষ্ঠ বিচারক। আদলু শব্দ থেকেই আদালত। তাই আমরা বলে থাকি আল্লাহ বা খোদার আদালত। বাংলাদেশে আল্লাহর কোন আদালত নেই বা আল্লাহর আইনেরও তেমন চর্চা নেই। মাঝে মাঝে অজ্ঞতার কারণে কোরাণ ও সুন্নাহ বিরোধী রায়ও দেয়া হয় এসব আদালতের বিচারকগণ। বাংলাদেশ রাষ্ট্র ধর্মমুক্ত রাষ্ট্র। এটা নাকি ভদ্রলোকের রাষ্ট্র হওয়ার জন্যে একটি অপরিহার্য গুণ। ফলে এদেশে যে কোন কবি লেখক, বুদ্ধিজীবী, আইনজ্ঞ সেক্যুলারিজমের নামে বা ধর্মহীনতার নামাবলী পরে ইসলামের বিরুদ্ধে যখন তখন যা ইচ্ছা তাই বলতে পারেন। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠা করেছেন ৯০ ভাগ মুসলমান ও একভাগ ভিন্ন ধর্মের নাগরিকেরা। মুক্তিযোদ্ধাদের ভিতর ৯০ ভাগ ছিলেন মুসলমান। কিন্তু চলমান সরকার এ বিষয়টা স্বীকার করতে চাননা। তাঁরা বলেন, ১০০ ভাগ ধর্মমুক্ত শুধু বাংগালীরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। বংবন্ধু নিজেই মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের কারাগারে ছিলেন।
মক্কা বিজয়ের পর পবিত্র ক্বাবা ঘর বা বায়তুল্লাহ শরীফে ৩৬০ মুর্তি পাওয়া গেছে। এসব মুর্তির নাম আল্লাহপাকের গুণাবলীর নাম ছিলনা। গাফফার ভাই কোন কিতাব বা বই থেকে তথ্য বা ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা উল্লেখ করলে তাহলে বিষয়টি পরিষ্কার হতো। হিন্দু ধর্মে নানা ধরণের দেবতা আছে তাদের কারো নামই আল্লাহপাকের গুণাবলীর মতো নয়। হিন্দু ধর্মে নাকি ৩৩কোটি দেবতা আছে। এর ভিতর ইঁদুর, সাফ,হনুমান,সহ আর বহু দেবতা আছে। আমরা এসব দেবতাকে অসম্মান করিনা। ইসলামে এর কোন অনুমতি নেই। ইসলাম এবং কোরাণ জগতের শেষ ধর্ম ও কিতাব। কেউ এটা মানলে ভাল, না মানলে আল্লাহপাকই তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবেন। অতীতের সকল নবী রাসুল ও তাদের কিতাব ও সহীফা কোরাণে উল্লিখিত আছে।
ইমরাণ সরকার গাফফার ভাইয়ের বক্তব্য নাকি বহুবার পড়েছেন। শুধু ইমরান সরকার বললাম, কারণ তিনি এখন দেশখ্যাত। তাঁর ঠিকানা নাকি শাহবাগ। তাঁকে অনেকেই সম্মান করে শাহবাগী বলে থাকেন। শাহবাগী সাহেব নাকি গাফফার ভাইয়ের বক্তব্যে ইসলাম বিরোধী কিছু পাননি। এটা ইমরান সাহেবের এ ধরণের ফতোয়া। ইমরান সাহেব আরও বলেছেন যে, গাফফার ভাইয়ের বক্তব্য নাকি মওদীদী পন্থী বা ওহাবী ইসলামের বিরুদ্ধে। এটা হতে পারে। ইমরান সাহেবের উচিত ছিল মওদুদী পন্থি ইসলামের একটু ব্যাখ্যা দেয়া উচিত ছিল। ইমরাণ সাহেবের আন্দোলন ও এখন বহু ভাগে বিভক্ত বলে শুনেছি। ইমরাণ সাহেবকে এখন নাকি সরকার সমর্থন করেনা। ইসলাম ও কোরাণ ব্যাখ্যা করার জন্যে মাঝে মাঝে মাওলানা হাবিবুল্লাহ সাহেবের ভাতিজা শাহরিয়ার কবীরকেও টিভিতে হাজির হতে দেখি। গাফফার ভাই কি বলেছেন তা পুরোটাই প্রকাশিত হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। গাফফার ভাইকে আমি একজন ধর্ম বিরোধী লোক মনে করিনা। এর আগে মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ বলেছিলেন তিনি হিন্দু মুসলমান কোনটাই না। কেউ এটা নিয়ে তেমন কিছু বলেননি। তিনি যদি ধর্মহীন বা ধর্মমুক্ত থাকেন তাহলে কার কি বলার আছে? কিন্তু তিনি যদি আল্লাহ ,কোরাণ ও রাসুল(সা)এর বিরুদ্ধে কিছু বলেন তাহলে মুসলমানদের আপত্তিি বা প্রতিবাদ করতে পারে। প্রতিবাদ করাটা তাঁদের জন্যে বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে। কারণ পরধর্মের নিন্দা বা সমালোচনা করার অধিকার কারোই নেই। শুধু ইসলাম নয়, কোন ধর্মেরই সমালোচনা করা যাবেনা।
সমস্যাটা হলো,সরকার এ ব্যাপারে কোন ভুমিকা পালন করেনা। কারণ বাংলাদেশ রাষ্ট্রটা ধর্মমুক্ত। ভোটের সময় রাষ্ট্র ও রাজনীতিকরা ধার্মিক হয়ে যান। তখন হিজাব ও টুপি পরতে থাকেন। মসজিদ মাদ্রাসায় দান করেন।
লেখক: কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
ershadmz@gmail.com

Advertisements

Read Full Post »