Feeds:
Posts
Comments

সমাজতন্ত্রের এক দলীয় শাসন আমরা দেখেছি বংগবন্ধুর আমলে। অনেকেই চীন রাশিয়া গিয়ে সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্র দেখে এসেছেন। বংগবন্ধুর জামানায় আমরা গণতন্ত্র ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি দেখেছি। আওয়ামী লীগ কিন্তু কখনই সমাজতান্ত্রিক দল ছিলনা। ভারতের সহযোগিতায় স্বাধীনতা বা মুক্তি লাভ করায় আমরা হয়ে গেলাম ভারত ও রাশিয়ার বন্ধু। ভারত একটি বড় পুঁজির দেশ। রাশিয়ার সাথে বন্ধুত্ব রক্ষা করার জন্যে সমাজতন্ত্রের ভাব ধরেছিল। চীনও এক দলীয় সমাজতান্রিক দেশ ছিল। এখনও এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা বহাল আছে। আর অর্থনীতিতে পুঁজিবাদীয় ভাব এসে গেছে। এখন আমেরিকা চীনের সবচেয়ে বড় বাজার। আমেরিকা চীনের সবচেয়ে বড় ঋণ গ্রহীতা। আসে পাশে যে সব দেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভাবে উন্নতি লাভ করে বিশ্বব্যাপী সুনাম অর্জন করেছে তারা ছিলেন সত্‍ এবং লক্ষ্যে স্থির। তাঁদের প্রত্যেকের রাস্ট্রীয় দর্শণ ছিলো।
বাংলাদেশ এখন একটি সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বলছে, উন্নতি আগে গণতন্ত্র পরে। আওয়ামী লীগের মুখপাত্র নাসিম সাহেব ( বাবা মনসুর আলী সাহেব ছিলেন একজন বিনীত ভদ্রলোক) বলেছেন, বাংলাদেশের জন্যে অতিরিক্ত গণতন্ত্র ভাল নয়। এর মানে সীমিত গণতন্ত্রই যথেষ্ট। এসব কথা আইউব খানও বলেছিলেন। তিনি নাম দিয়েছিলেন মৌলিক গণতন্ত্র। সেই গণতন্ত্রেও আওয়ামী সংসদে ছিলো। যখন সব রাজনৈতিক দল জোট বেঁধে বলেছিলেন তাঁরা পার্টি রিভাইব বা দলীয় কর্মসূচী শুরু করবেন না তখন শেখ সাহেব আওয়ামী লীগকে রিভাইব করলেন। এর মানে আইউবের অধীনে রাজনীতি করতে সবার আগে মাঠে নেমেছেন।
৫৬ সালে আওয়ামী লীগ সোহরাওয়ার্দী নেতৃত্বে ক্ষমতায় গেলো তখন বলা হলো পূর্ব পাকিস্তান বা বাংগালীরা ৯৮ ভাগ স্বায়ত্বশাসন পেয়ে গেছে। তখন কেন্দ্রে ক্ষমতার ভাগাভাগিতে বাংগালীদের শরিকানা ছিল ২০ ভাগ। পশ্চিম পাকিস্তানের ছিল ৮০ ভাগ। পূর্ব পাকিস্তানেও ক্ষমতায় ছিলেন আতাউর রহমান সাহেব। শেখ সাহেব ছিলেন একজন মন্ত্রী। ৫৪ সালে শেরে বাংলার নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠিত হলে আওয়ামী লীগ ছিলো এর বড় হিস্যাদার। তখনও তরুণ নেতা শেখ সাহেব মন্ত্রী ছিলেন। বর্তমানের কথা বলতে হলে পিছনের কথা স্বাভাবিক ভাবেই সামনে চলে আসে। একশ’ভাগ পুঁজিবাদে বিশ্বাসী আলীগ বাংলাদেশ হওয়ার পর সমাজতন্ত্রী হয়ে গেল। পাকিস্তানীদের ফেলে যাওয়া সম্পদ, কল কারখানা, ব্যবসা বাণিজ্য সরকার দখল করে নিল সমাজতন্ত্রের কারণে। কিন্তু এসব কল কারখানা , বাবসা বাণিজ্য চালাবার মতো কোন শিক্ষা বা অভিজ্ঞতা সরকার বা আওয়ামী লীগের ছিলনা। ফলে লুটপাটের অর্থনীতি চালু হয়েছিল। সেই লুটপাটের সময় যাঁরা পুঁজি তৈরি করেছেন তাঁদের অনেকেই এখন পুঁজিপতি, বহু ব্যবসার মালিক। এমন কি বাংগালীদের কল কারখানাও সরকার দখল করে নিয়েছিল সমাজতন্ত্রের নামে। পরিচালনার দায়িত্ব নিলেন আমলা ও আলীগের দেশপ্রেমিক কর্মীরা।
বাংলাদেশের জন্মের শুরুতেই অর্থনীতির অবস্থা ছিল লুটপাটের। বংগবন্ধুর কিছুই করার ছিলনা। তিনি বলেছিলেন চাটার দলে সব খেয়ে ফেলছে। দেশে হাহাকার পড়ে গিয়েছিল। শিশুদের দুধের জন্যে লাইন দিতে হতো। জামার কাপড়ের জন্যেও লাইন দিতে হয়েছে। কাপড়ের অভাবে বাসন্তীকে মাছের জাল পরতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে কয়েক লাখ মানুষ মারা যায়। শেখ সাহেবকে বুঝানো হলো এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করলে সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তিনি তাই করলেন ভারত ও রাশিয়ার এদেশীয় এজেন্টদের পরামর্শে। শেখ সাহেব দেশ ও দেশের মানূষকে ভালবাসতেন এ ব্যাপারে কারো মনে সন্দেহ থাকা উচিত নয়। এক দলীয় শাসণ ব্যবস্থা কায়েমের প্রতিবাদে শুধুমাত্র দুই জন সংসদ সদস্য পদত্যাগ করেছিলেন। যদি ৫০ জন পদত্যাগ করতেন তাহলে শেখ সাহেব এ পথে পা বাড়াতেন না। তিনি বিষয়টি আলোচনার জন্যে সংসদেও পেশ করেননি। শেখ সাহেব বহু দলীয় গণতন্ত্রের সংগ্রামে দুই যুগেরও বেশী সময় জেল খেটেছেন। সেই মানুষটির হাতেই বাংলাদেশে বহু দলীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় শাসন চালু হয়েছিল। এটা ছিল জাতি হিসাবে আমাদের দুর্ভাগ্য। এর আগে নিষিদ্ধ ডান ও বাম দলগুলোর একাংশ গোপনে থেকে নানা ধরণের আক্রমণ চালাতে থাকে। তার সাথে যোগ দিয়েছিল শেখ সাহেবেরই ভক্ত জাসদ। তারা বিপ্লবের মাধ্যমে শেখ সাহেবকে উত্‍খাতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। বিশ্বব্যাপী যখন সমাজতন্ত্রের অবসান হতে চলেছে তখন বাংলাদেশে সমাজতন্ত্রের নামে দেশের অর্থনীতিকে বিনাশের চক্রান্ত চলছিল। উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে ভারতের বাজার বানানো। সীমান্তে তখন মাড়োয়ারীদের কালো বাজারীর উত্‍সব চলছিলো। ভারত যেমন ৪৭ সাল থেকেই পাকিস্তানকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র শুরু করেছিল তেমনি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পংগু করে একশ’ভাগ নিজেদের বাজার প্রতিষ্ঠা করার যড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। শেখ হাসিনা মনে করেন ভারতের সাথে অনুগত বন্ধুত্বের সম্পর্ক রেখেই দেশ শাসন করতে হবে। তাতে ভারত খুশী থাকবে আর তিনি দীর্ঘ মেয়াদের ক্ষমতায় থাকতে পারবেন।
সামরিক সরকার সব সময় মৌলিক অধিকার গুলো খর্ব করেই দেশ পরিচালনা করে থাকে। তাদের মূল শ্লোগান হলো রাজনীতিকরা ব্যর্থ হয়ে গেছে। তাই তাদের ক্ষমতা নিতে হয়েছে। বিশ্বব্যাপী সামরিক নেতারা এসব কথা বলেই ক্ষমতা দখল করে। রাজনৈতিক দলগুলো মারামারি করছিলো বা সেনা নেতারা মনে করলেন তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার কাছে ক্ষমতা তুলে দিতে হবে। অনেকেই মনে করেন, সেনা সমর্থক বা পরিচালিত জেনারেল মইনের তথাকথিত সিভিল সরকার ছিল মূলত দিল্লীর সমর্থিত সরকার। নানা ধরনের নাটক করে তারা শেখ হাসিনার কাছে ক্ষমতা দিয়ে দেশত্যাগ করেছেন। এখন আর দেশে আসেন না। জেনারেল মাসুদ নি:শব্দে চুপচাপ দেশে অবস্থান করছেন নানা ধরনের সওদাগরী নিয়ে। দেশের বিরোধী দল গুলো বিশেষ করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি বাধ্য হয়েই ২০০৮ এর নির্বাচন মেনে নিয়েছিলো। এরপরেই খালেদা জিয়ার উপর নিয়ে এলো হামলা মামলার রাজনীতি। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা জেনারেল মইন ও মাসুদের করা সব মামলা এখনও জারী আছে। সে সময়ে হাসিনার বিরুদ্ধে করা সব মামলাই তাঁর নিজের সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে। খালেদা জিয়ার দুই সন্তানের বিরুদ্ধে করা মামলা গুলো জারী থাকলো। তারা দেশত্যাগী হলেন। একজন বিদেশীই জীবন দিলেন। সেটা নিয়েও আওয়ামী লীগ বহু নাটক ও রাজনীতি করেছে। আজে বাজে কথা বলেছে। আরেকজনকে পংগু করে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। এখন তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করে জবরদস্তি দেশে আনার চেষ্টা চলছে। খালেদা জিয়াকে নানা মামলা দিয়ে রাজনীতি থেকে নির্বাসনে পাঠাবার চেষ্টা চলছে। এক কথায় বলা যেতে পারে দমননীতি ও পুলিশী ক্ষমতা দ্বারা এক ধরণের নতুন গণতন্ত্র চালু হয়েছে বাংলাদেশে। বহুদলের পোষাকে এক দলীয় গণতন্ত্র চালু হয়েছে। এক দলীয় মতকে জোর করে দেশবাসীর উপর চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা অব্যাহত আছে।
ভারতের সাফল্য বাংলাদেশের মানুষকে চিন্তার জগতে বিভক্ত করে রাখা। এক দল বলছে আমরা বাংগালী, আরেক দল বলছে আমরা বাংলাদেশী। একদল বলছে আমরা ইসলামী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করি, আরেক দল ধর্ম মুক্ত বাংগালী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করে। ধর্মমুক্ত আরবী নামধারী নাগরিকরা দীর্ঘকাল দরে ক্ষমতায় থাকতে চায় দমননীতির মাধ্যমে। বাংলাদেশে এখন রাষ্ট্র আর নাগরিকরা বিচ্ছিন্ন। রাষ্ট্র নিজেকে বাঁচাবার নামে সকল অত্যাচারী আইন গুলো বহাল করেছে। যেমন করেছিল বৃটিশরা। যেমন করেছিল পাকিস্তানের সামরিক শাসকগণ। এখন রাজনীতি নিয়ে কথা বলেন পুলিশ ও বিজিবি নেতারা। তাঁরা নাকি গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রকে বাঁচাবার জন্যে জীবন দিচ্ছেন। শেখ হাসিনাকে সন্ত্রাসীরা হত্যা করতে পারে এই শ্লোগান তুলে জনগণের উপর নিবর্তন দিন দিন বেড়ে চলেছে। গণতান্ত্রিক ধারায় সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ ও দিনদিন সীমিত হয়ে যাচ্ছে। আমরা লেখরা সরকারের সমালোনা করি ক্ষমতা দখলের জন্যে নয়। আমাদের লক্ষ্য দেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, গণতন্ত্রকে বিকশিত হতে সাহায্য করা। ক্ষমতায় কে বা কোন দল আসবে তা নির্ধারন করবে একটি অবাধ স্বাধীন নির্বাচন হয়। চলমান নির্বাচন গুলোকে দেশ বিদেশ কেউই সমর্থন করেনা। কিন্তু সরকার বা আওয়ামী লীগ মনে করে নির্বাচন ঠিক আছে। বরং নির্বাচনের সমালোচকদের আওয়ামী নেতারা অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেন। বাংলাদেশে এখন হাজার হাজার বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মী মানবতা বিরোধী আইনে জেলে আছেন। বিএনপি ও জামাতের সকল নেতাই এখন জেলে আছেন। এদের বিরুদ্ধে বহু রকম মামলা। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে খুনের মামলা জারী হয়েছে।


বাজেট ও আমি বা আমরা  / এরশাদ মজুমদার

আমি বহু বছর বাজেট রিপোর্টিং করেছি। এ কাজ করতে করতে বুঝতে পেরেছি বাজেট কি ও কেন? সরকারী লোকেরা বুঝায় বাজেট খুবই একটা কঠিন বিষয়। প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রীরা কি জানেন বাজেট কি জিনিষ? না জানেন না। জানার দরকার হয়না। অর্থমন্ত্রী কি জানেন? না তিনিও জানতেন না। তিনি নাকি ইংরেজীর ছাত্র ছিলেন। সরকারী আমলা হওয়ার কারণে তিনি সবজান্তা হয়ে গেছেন। সাবেক সিএসপি বা তারও আগে  আইপিএস গণ সরকারের চামুচ বা ডাব্বা    ছিলেন। এই চামুচ বা ডাব্বারা ই সরকার চালাতেন। এখনও তাঁরাই সরকার চালান  এদের মূল ট্রেনিং হলো মন্ত্রীদের সহযোগিতা করা ও নিজেদের  শ্রেষ্ঠ মনে করা। শুনেছি, আমাদের জাতীয়নেতা ও বাংলাদেশের স্থপতি বংগবন্ধু নাকি আমলাদের মারধর করতেন। আর তাঁর অনুসারীরা হাততালি দিয়ে বাহবা দিতেন। অনেকেই বাপের ব্যাটা বলে জাহির বলে করতেন। বংগবন্ধু জানতেন বাংগালীরা কি চায়। তাই জনগণকে নিজের মতো করে চালাতেন। ও রকম করে কথা বলতে পারতেন না দলের প্রথম কাতারের অন্য নেতারা। ফলে বংগবন্ধুই হয়ে গেলেন কালক্রমে বাংগালীদের  একমাত্র নেতা । চলমান রাজনীতিতে বাংলাদেশে সেই ধারাই অব্যাহত রয়েছে। রাজনীতিবিদদের তেমন কিছু না জানলেই চলে। নয়া গণতন্ত্রে ভোটার না হলেও চলে। কোন বিখ্যাত ব্যক্তি বলেছিলেন নির্বাচনে ভোটার কোন বিষয় নয়, বিষয় হচ্ছে  ভোট গণনা। যারা গনক তাঁরাই আসল নায়ক। আমার লেখা গুলো সারা দেশের মানুষর জন্যে নয়, কারণ কোটি কোটি মানুষ এখনও পড়তে পারেন না। পাকিস্তান আর বাংলাদেশ মিলিয়ে ৬৭ বছর পার হতে চলেছে। এখনও দেশের সব মানুষ সব মানুষ শিক্ষিত হতে পারেনি। ৪৪ বছরের বাজেটে উন্নয়ন হয়ত অনেক হয়েছে। কিন্তু কেন যে ১০০ ভাগ মানুষ শিক্ষিত হতে পারছেনা তা আমার বোধগম্য নয়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল ( সম্পদের বাবা ) আবদুল মুহিত কয়েক যুগ ধরে দেশের অর্থ সচিব ও মন্ত্রী ছিলেন এবং আছেন।
বাজেট প্রণেতারা বলেন, জিডিপি কত হবে, মাথাপিছু আয় কত হবে, সারা বছরে কত খাজনা আদায় হবে, কত উন্নয়নে ব্যয় হবে, সরকার চালাতে কত খরচ হবে। আড়াই লক্ষ কোটি যদি খাজনা বা রাজস্ব আদায় হয় উন্নয়নে ব্যয় হবে এক লক্ষ কোটি টাকা। যা শেষ পর্যন্ত হয়না। পদ্মা সেতুর দশ হাজার কোটি টাকার বাজেট এখন ৪০ হাজার কোটি টাকা। উড়াল সেতু বা ফ্লাইওভার গুলোর অবস্থাও তাই প্রতি বছর খরচ বাড়ছে।
বাজেটে কিন্তু কালো টাকা বা ঘুষের খবর থাকেনা। থাকেনা টাকা পাচারের কথা। ধনীরা ঘুষ ঘাস দিয়ে ব্যবসা করে রাতারাতি হাজার কোটি টাকার মালিক হন। দেশে সব টাকা রাখা নিরাপদ নয় বলে ধনীরা বিদেশে টাকা রাখেন। সরকারী বিনিয়োগের ৮০ ভাগই হয় নগরে আর বড় বড় শহরে। উন্নয়নের ৮০ ভাগই ব্যয় হয় শহরের জন্যে। মহানগর গুলোতে প্রতিদিনই গ্রামের মানুষের ভিড বাড়ছে। নগরে ভাসমান মানুষ বাড়ছে। বস্তি বা স্লামে, ফুটপাতে, বাসষ্ট্যান্ডে স্টেশনে রাতের নগর দেখুন। শুনেছি রাজধানীতেই ৫০ লাখ ভাসমান মানুষ আছে। গুলশান বনানীর পাশেই রয়েছে রাজধানীর বৃহত্তম করাইল বস্তি। কেন এ বস্তি সরকার লালন করছেন তা কারো বোধগম্য নয়। অনেকেই বলেন রাজনীতির জন্যে বস্তিবাসীকে সরকার আদর করেন। সাব বা উপনেতরা এসব বস্তির উপর বেঁচে থাকেন। বস্তিগুলোতে যৌন খামার চলছে। দশজনের আয় রোজগার হচ্ছে। এমন কি গুলশানেও খালি প্লটে বস্তি জমে উঠেছে। বস্তি গুলোকে কেন্দ্র করে দামী দামী এনজিওর ব্যবসা চলছে। গুলশানের একটি বস্তিতে ব্রাকের একটি স্কুলে এখন খাবার দোকানের কারখানা বসেছে। ব্রাকের কাছে হয়ত এ খবর নাই। ব্রাক হয়ত বড়ভাইদের ঘাটাতে চায়না।
মাস্তানী, চাঁদাবাজি, ছিনতাই,গুম খুন ইত্যাদিতে বছরে কত টাকার লেনদেন হয় তা বাজেটে উল্লেখ হয়না। গৃহ শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক,লাখ লাখ ভিক্ষুক,কুলি কামিন, রিকসাওয়ালারা অর্থনীতিতে কোন অবদান রাখে কিনা তার কোন উল্লেখ থাকেনা। সারাদেশে কত ভিক্ষুক, কত রিকশাওয়ালা, মুটে, ঠেলাগাড়ী আছে তার কোন হিসাব কোথাও পাওয়া যায়না। কতলাখ নারী নিজের প্রতিষ্ঠান,সংসার, জমিতে বিনা পারিশ্রমে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন তারও কোন হিসাব নাই কোথাও। বেশী উত্‍পাদন হলে কৃষক মারা পড়ে তার কথাও বাজেটে থাকেনা। কি কারণে কৃষকের ও তার গরুর বুকের হাঁড় দেখা যায় দেখা যায় তার কোন ব্যখ্যা বাজেটে থাকেনা। কৃষকেরা যদি বছরে তিন কোটি টন ধান বা চাল উত্‍পাদন করে তার আমদানী দাম কত? ডলারে হিসাব করলে কত বিলিয়ন হয়। সরকার যদি ওই পরিমাণ চাল আমদানী করে তাহলে কত বিলিয়ন ডলার লাগতো তা বাজেট পড়ে আমরা জানতে পারিনা। আমরা শুধু জানতে পারি পোষাক রফতানী কারকেরা দেশের জন্যে ২০ বিলিয়ন আমদানী করেন। অর্থনৈতিক রিপোর্টার হওয়ার কারণে জানি কিভাবে পোষাক রফতানীর কাজ শুরু হয়েছিল। কিভাবে ব্যান্ক গুলো পোষাক রফতানীতে আগ্রহী উদ্যোক্তাদের দুইশ’ সেলাই মেশিনের কারখানার জন্যে ঋণ দিয়েছিল। এটা শুরু হয়েছিল ন্যাশনাল ব্যান্কের মাধ্যমে অবিসংবাদিত উন্নয়ন ব্যান্কার হায়দার চৌধুরীর উদ্যোগে। সে সময়ে কোন উদ্যোক্তারই তেমন মূলধান ছিলনা। ভাড়া বাড়িতে ব্যান্কের ঋণ নিয়ে কাজ শুরু হয়েছিল। এখন পোষাক শিল্পে ৪০ লাখ নারী শ্রমিক আধপেটা খেয়ে বস্তিতে থেকে দেশের ও মালিকদের খেদমত করে যাচ্ছে। বেশী মুজুরী দিলে নাকি ব্যবসাটা চীন, ভিয়েতনাম বা ভারতে চলে যাবে। তাই শ্রমিকদের আধপেটা খেয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের গরীব শ্রমিকদের না খাইয়ে আমেরিকান বা ইউরোপিয়ানদের গায়ে সস্তায় দামী জামা উঠছে। ইতোমধ্যে হাজার হাজার পোষাক শ্রমিক আগুণে পুড়ে বা ভবন ধ্বসে মারা গেছে। মৃত শ্রমিকদের আজও তেমন ক্ষতিপুরণ দেয়া হয়নি। কিন্তু এ ব্যাপারে মন্ত্রীদের কথার ফুলঝুরি থামেনি।
সাগরে হাজার হাজার ভাসমান বাংলাদেশীর অবস্থা দেখলে মনে হয় মধ্যম আয়ের দেশ হতে আরও কাল সময় লাগবে। দেশে এখন লাখ লাখ মানুষ বেকার। দু’মুঠো ভাতের জন্যে অবৈধ পথে বিদেশ পাড়ি দিয়েছে নিজের বালবাচ্চা নিয়ে। জাতিসংঘ ও আমেরিকা এ ব্যাপারে আকুল আবেদন জানিয়েছে বিভিন্ন দেশকে দু:স্থ মানুষ গুলোকে আশ্রয় দেয়ার জন্যে। বাংলাদেশের মহা গণতান্ত্রিক সরকার এখনও কার্যকরি কোন পদক্ষেপ নেয়নি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিজের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের স্মরণ সভা করছেন তাঁর ভক্তদের নিয়ে। রাম যেমন বনবাস থেকে ফিরে এলে অযোধ্যায় উত্‍সবের ঢল নেমেছিল। সারা রাজ্য আলোক সজ্জিত হয়েছিল। সে তুলনায় আমাদের প্রধানমন্ত্রী তেমন কোন বড় আনন্দ করেননি। তবে কাঁদো কাঁদো হৃদয়ে জাতিকে কিছু বাণী দিয়েছেন। এমন কান্নার সময় তিনি বিএনপি জামাতের কথা ভুলতে পারেননি।
আমি আলোচনা করছিলাম আগামী বাজেটে পোড়া কপাল গরীব গুলোর ভাগ্যে কি আছে। আমাদের দেশের বাজেট কিন্তু কখনই বৃহত্তর জনগোষ্ঠির কথা মনে রেখে তৈরী হয়না। আমি নিজে ৭০ বছর আগে যে পরিবারকে গরীব দেখেছি তারা আজও গরীব আছে। আমি নিজে একজন সীমাহীন দরিদ্র নারীকে চিনি যিনি স্বামী পরিত্যক্তা, সাথে রয়েছে তিনটি নাবালক সন্তান, যার ভিতর দুটি মেয়ে। এই বাপের বাড়িতে এসেও ভাইদের কাছে ঠাঁই পাচ্ছেন না। বাপ মা বলেন আমরা ছেলেদের উপর খাই। আমাদের করার মতো তেমন ক্ষমতা নেই। এখানে ইসলাম বা সরকারের কিছু করার নেই। স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করে দশ বছরেও কিছু হয়নি। কিসের আশায় উকিল মামলা চালাবে? বাংলাদেশতো আর ইসলামিক দেশ নয়। যদিও বলা হয় দেশের নব্বই ভাগ মুসলমান। কিন্তু মুসলমানী বা কোরাণিক আইন মোতাবেক চলেনা। দেশ চলে গোরা সাহেবদের আইন মোতাবেক। ওই মহিলা মানুষের কাছ থেকে জাকাতের কিছু টাকা সংগ্রহ করে ব্যান্কে জমা রেখেছে। আর অমনি ব্যান্ক বলে বসলো আপনার যদি টিআইন না থাকলে ১৫ শতাংশ হারে আয় কর দিতে হবে। মহিলাতো আকাশ থেকে পড়লেন। গরীবের কেমন করে হবে। আমিতো লোকজন দয়ায় চলি। ব্যান্ক জানালো আমরা কোন ধরেণের দয়া দেখাতে পারবোনা। আপনি যদি ভিক্ষা করেও টাকা রাখেন আয়কর আপনাকে দিতে হবে। এ ব্যাপারে আমাদের বাজেট নীরব। যদিও বলা হয় আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর আয়কর নাই। হুজুর আমিতো ভিক্ষা করে খাই। আমিতো সীমাহীন দরিদ্র। তিনটি ছেলে মেয়ে খেয়া না খেয়ে বেঁচে আছি। তাহলে কি এদেশে কি জাকাতের সাহায্য নেয়া যাবেনা? বাংলাদেশের নাগরিক এই মহা দরিদ্র নারীকে কোন উত্তর দিতে পারিনি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি বিষয়টার প্রতি। তিনি কোন পথা খুঁজে বের করতে পারেন কিনা। ভাবছি ব্যান্ক বা আয়কর বিভাগ প্রশ্ন তোলেন আপনার টাকার উত্‍স কি? তাহলে তখন ওই মহিলা উত্তর দিবেন? চোর ডাকাতের ভয়ে মহিলা ব্যান্কের কাছে রেখেছেন। তিনিতো ভাববেন এনজিওর কাছেই টাকাটা রাখা ভাল ছিল। এ ধরণের লাখ লাখ নারী আছেন আয়কর বিভাগের ভয়ে ব্যান্কে টাকা না রেখে সুদখোর মহাজন ও এনজিওদের কাছে রাখেন। রাজধানী বা ছোট শহর গুলোর সাংবাদিকরা এ ধরণের ছোট বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেন না। বাংলাদেশে কয়েক হাজার কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন হয়। এসব টাকা আলোর জগতে আসেনা। বাংলাদেশ ব্যান্ক ভালই জানে অন্ধকার জগতে কতটাকা আছে। ভালো ধনীরা বিদেশে গোপনে টাকা পাচার করেন,ওই টাকা দিয়ে দিয়ে বিদেশে বাড়ি কিনেন, ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার খরচ চালান। দেশে যারা কালো টাকা রাখেন তাঁরা জমি ও বাড়ি ঘর কিনেন। তাঁদের কিছু সুযোগ সুবিধা না দিলে সরকার বাঁচবে কি করে। সরকারকে রক্ষা করবে কারা? গণতন্ত্র রক্ষা করার জন্যে হলেও কালো টাকাকে সুযোগ সুবিধা দিতে হবে। একজন গরীবতো আর সরকারকে কোন ধরণের সাহায্য করতে পারেনা। নগরের বস্তিতে যাঁরা থাকেন তাঁরাতো মিছিল করে সরকারকে জনপ্রিয়তার ব্যাপারে সাহায্য করতে পারেন। শুনেছি মিছিলের মহাশক্তি বস্তির মানুষ। হয়ত বস্তির ওই মানুষ গলোর গ্রামে জমি জিরাত বেশ ছিল। সুখের সংসার ছিল। হয়ত নদী ভাংগন, নয়ত কৃষি উত্‍পানের খরচে বেড়ে গেছে, পণ্যের দাম কমে গেছে। ৪৭ সাল থেকে অব্যাহত শেষণের ফলে প্রান্তিক চাষীরা ঘরবাড়ি ছেড়ে শহরে এসে বস্তিতে উঠেছে। এসবই হচ্ছে বাজেটের কারণে।
শিক্ষিত মধ্যবিত্তরা সবচেয়ে কষ্টে আছেন। ঘুষ ছাড়া সরকারি চাকুরী করলে তার জীবন বস্তির মতো। তাই বাধ্য হয়ে তারা ঘুষের আশ্রয় গ্রহণ করেন। একজন আয়কর ইন্সপেক্টর আমার বাড়িতে এসেছিলেন কিছু অনুসন্ধানের জন্যে। তিনি ঘাম মুছতে মুছতে বললেন, রাহা বা পথ খরচ পাই মাসে মাত্র ৭৫ টাকা। আমি বললাম, চিন্তার কিছু নাই আমি দিয়ে দেবো। ভালোই হলো রাহা করচ বলে দিলাম, ঘুষ হলোনা। ঘুষ বা রাহা খরচ বলুন তা দিয়েই গরীব(?) ইন্সপেক্টর সাহেবকে চলতে হয়। আবার অনেকেই বলেন, স্যার শুধু সরকারকে দিলে চলে কি? আমরা বাঁচবো কেমন করে। বেতন যা পাই তা সব বাড়ি ভাড়াতেই চলে যায়। এ বারের পে কমিশনে ছোটলোকদের ( নিম্নপদের কর্মচারী) বেতন ধরা হয়েছে ৭৫০০ টাকা। আর সাহেবদের বেতন ৮০ হাজার টাকা। বড় সাহেবরা বড় বড় প্রকল্প নিয়ে কাজ করেন। সেখানে উপরি বা সন্মানী পাওয়া যায় শত শত কোটি টাকা। মন্ত্রী সাহেবেরা নাকি সালামী না পেলে কোন কাগজে দস্তখত দেন না। এসব কথা বাজেটে গোপন থাকে।
কালো টাকার কথা বাজেটে প্রায়ই থাকে। বুদ্ধিজীবীরা সারা জীবন কথা বলে যাচ্ছেন তবুও কালো টাকার জন্ম হচ্ছে। বাংলাদেশে ঘুষ আছে, সন্মানী আছে, জমি বেচা কেনায় কম বেশী আছে, সীমান্ত ব্যাবসায় প্রকাশ্য এবং গোপন বা অপ্রকাশ্য আছে, আমদানী রফতানীতে মূল্য কমবেশী দেখাবার ব্যবস্থা আছে । এসবের হেরফেরে কালো টাকার জন্ম হচ্ছে দিনরাত। কোন সরকার কি কখন কালো টাকার জন্ম বন্ধ করতে পেরেছে? কেমন করে বন্ধ হবে, একবার এমপি হলেইতো সারা জনমের আয় রোজগার হয়ে যায়। মন্ত্রী হলেতো কথা নেই। কালো টাকা দূর করা যাবেনা, কালো রাজনীতি ও কালো বিড়াল থাকবেই। বাজেটে কি এসব কথা থাকে? সংসদে বাজেট আলোচনায় কি কেউ কখন এসব নিয়ে কথা বলেন?
এবার বলি বাজেটের সাথে আমার কি সম্পর্ক। আমার বয়স এখন ৭৫। কর্মজীবন থেকে অবসর নিয়েছি। সাংবাদিকতার কারণে আমার কোন পেনশন নেই। এ পেশায় ন্যায্য পাওনাও পাওয়া যায়না। আমরাতো ৬০ দশকের সাংবাদিক। তখন সাংবাদিকদের তেমন সুযোগ সুবিধা ছিলনা। এখন সাংবাদিকরা সিইও(প্রধান নির্বাহী) হয়। আবার ইউনিয়ন নেতা হয়। সুযোগ সুবিধার কোন শেষ নেই। এখন সাংবাদিকরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতি অনুগত। সে হিসাবেই সাংবাদিকতা চলে। প্রেসক্লাব বা ইউনিয়ন নেতা কে হবেন তা দলীয় প্রধানরা ঠিক করে দেন। আমি এখন বাড়ি ভাড়ার আয় দিয়ে জীবন যাপন করি। ফেণী থেকে বাড়ি ভাড়া পাই। সেটা আয়কর বিভাগে দেখানো আছে। যা আয় তা তারা বিশ্বাস করেন না। নিজেরাই ঠিক করে দেন। ঢাকায়ও বাড়ি ভাড়া পাই। সবই আয়কর বিভাগে দেখানো আছে। আমার বেগম সাহেবার কাছে থেকে কোন সময় আমি ধার নিয়েছিলাম তা আমার মনে নাই। তাই ফেরত দেওয়ার কথাও মনে ছিলনা। এতা যে ফেরত দিতে হবে জানতাম না। ফলে আমার জরিমানা হয়েছে আইন ভংগের অপরাধে। বয়সের কারণে সব কথা মনে থাকেনা। চলাফেরা করতেও কষ্ট লাগে। এদিকে আয়কর বিভাগের মানসিক চাপে ক্লান্ত পড়েছি। আমিতো আয়কর দিতে চাই। আমার দৃশ্যমান আয়েরও কোন পরিবর্তন নেই। কিন্তু আয়করের কোন হিসাব নেই। অপরদিকে আয়কর উকিলকে বাত্‍সরিক ফি দিতে হয়। সরকারকে অনুরোধ করি বৃদ্ধদের জন্যে কিছু করুন। সরকারতো আর বৃদ্ধ হয়না তাই বৃদ্ধদের সুখ দু:খ বুঝতে চায়না। আমাদের অর্থমন্ত্রীর বয়স কত আপনারা কি জানেন? অবসর নিলে কি কষ্ট তিনি জানেন। তাই তিনি সব সময় পদের পিছে ঘুরেন। কারণ, অবসর নিলে তিনি চলতে পারবেন না। কে তাঁর বিল দেবেন? আমারতো পিয়ন চাপরাশী নেই। নিজেই সব করতে হয়। বৃদ্ধ হওয়ার কারণে নানা অসুবিধায় পড়তে হয়। আগেও একবার লিখেছি। আমার বয়স ৭৫ হওয়ার কারণে এক ব্যান্ক আমাকে ক্রেডিট কার্ড দিতে অস্বীকার করেছে। বাংলাদেশ ব্যান্ক নাকি বৃদ্ধদের ক্রেডিট কার্ড দিতে নিষেধ করে সার্কুলার জারী করেছেন। সরকারী সেবা প্রতিষ্ঠানের নানা ধরনের চাপেও আমরা অস্থির। পানি বা বিদ্যুত বিলের কোন ঠিক নেই। সিটি কর্পোরেশন কোন কিছু না করেই কর বাড়িয়ে যাচ্ছে। সেখানেও জনসেবার কোন চিহ্ন দেখতে পাইনা। খাতির থাকলে বসার জন্যে টুল বা চেয়ার পাবেন। তা না হয় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। একবারতো বিভাগীয় কমিশনার সকাল দশতায় ডেকে বিকেল চারটায় দেখা করলেন। দেখা করে কথা বলতে পেরেছি মাত্র চার মিনিট। কারণ, আমার বা আমাদের বিষয়টা তাঁর কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিলনা। চারিদিকে যা অবস্থা দেখছি তাতে একদিন বাড়িঘর ছেড়ে বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে উঠতে হবে ,অথবা দেশত্যাগ করতে হবে।
লেখক: কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
ershadmz@gmail.com


একটি খোলা চিঠি / এরশাদ মজুমদার

হে খোদা, তুমি আমার জীবন ও মরণের মালিক। আমাদের জীবন যাত্রা ও কর্মের ও মালিক। আমকে তুমি পাঠিয়েছো এই গ্রহের এমন একটি ভুখন্ডে যেখানে শাসকেরা মিথ্যা কথা বলে। ধনীরা লুটেরা হয়ে গেছে আর মুর্খরা মঞ্চে বসে থাকে। জ্ঞানীরা প্রাণের ভয়ে পালিয়ে থাকে। শাসকেরা নিজেরা আইন তৈরি করে নাগরিক নামক মানুষদের অত্যাচার করার জন্যে। এরা ফেরাউনের মতো নিজ দেশের মানুষকে অত্যাচার করে। কি তােমার ইচ্ছা ছিল জানিনা প্রভু। প্রাণের ভয়ে আমি আমার হতভাগ্য দেশের নাম বলতে পারছিনা। আমি প্রকাশ্যে কিছু বলতে ও করতে পারিনা। এখন আমার মনো কষ্টের সীমা নেই। কেন তুমি আমাকে পাঠালে এমন এক ভুখন্ডে যেখানে আমার আত্মার কোন স্বাধীনতা নেই। এখানে স্বাধীন চিন্তার কোন অধিকার নেই। কেন তুমি আমাকে এ রকম ভাবনা ভাবাও জানিনা। এমন ভাবনাতো আমার শোভা পায়না। আমিতো কোন মহা পবিত্র স্বাধীন আত্মার মানুষ নই। অতি সাধারণ নগণ্য আত্মার এক আদম সন্তান। যে শাসকের পেয়াদা দেখলেই ভয় পায়। এমন এক সময়ের ভিতর দিয়ে আমি যাচ্ছি তা আমি আর সইতে পারছিনা। শুধু আমি নই স্বাধীন এ ভুখন্ডের কোটি কোটি মানুষের জন্যে সময়টা অসহ্য হয়ে গেছে।
হে আমার প্রাণের মালিক, আমিতো তোমায় বার বার বলেছি আমি আর এ প্রাণ বইতে পারছিনা। তুমিতো জানো আমি কখনও পদ পদবী ক্ষমতা চাইনি। তাই আমার মনতো পদলোভী ক্ষমতাবাজদের মতো নয়। আমিতো নীরবে নিভৃতে জীবনের সময়টুকে পার করতে চাই তোমারই স্মরণে। যে ভুখন্ডে তুমি আমাকে পাঠিয়েছো এখানে আমার পূর্ব পুরুষদেরও বাসস্থান ছিল। জোর করে ইচ্ছা থাকলেও আমি হিজরত করতে পারিনা।
স্বাধীন হওয়ার পর এই ভুখন্ডের একটি নতুন নাম হয়। এর আগে এর নানা রকম নাম ছিল। মহাভারতের গল্প অনুযায়ী বলি রাজার পাঁচ সন্তানের একজনের নাম বংগ। তিনিই এই দেশটি শাসন করতেন। বলি রাজা সন্তান উত্‍পাদনে অক্ষম ছিলেন। তাই তিনি অন্ধ ঋষি দীর্ঘতমাকে আহবান করেছিলেন রাজপ্রসাদে রাণীদের উপর গমণ করে সন্তান উত্‍পাদন করার জন্যে। দীর্ঘতমার ঔরসেই বংগের জন্ম হয়। তবে আমি এ গল্প বিশ্বাস করিনা। কারণ, এ গল্প বিশ্বাস করলে আমাদের প্রকৃতি পুজারী পুর্ব পুরুষদের জারজ বলে বিশ্বাস করতে হবে। তবে সেই প্রাচীন যুগে ব্রাহ্মণ দ্বারা সন্তান উত্‍পাদনের রেওয়াজ ছিল। তবে আমার পূর্ব পরুষেরা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন নিজেদের মুক্তির জন্যে। এর আগে ধর্ম নামে যা প্রচলিত ছিল তা প্রকৃতি পূজা। সমাজ ছিল বর্ণবাদী। সকল মানুষের সমান মর্যাদা ছিলনা। আমি মনে করি ইসলাম জগতের সবচেয়ে বেশী প্রগতিশীল ধর্ম।
এসব হলো পেছনের কথা। হাল আমল ও সময়ের কাছে ফিরে আসছি। বৃটিশ আমলের পরেই রাজা বাদশাহদের জামানা শেষ হয়ে গেছে। বৃটিশরা আমাদের এক ধরণের গণতন্ত্রের শিক্ষা দিয়ে গেছে। আর দিয়ে গেছে আইন ও শাসন ব্যবস্থা। বাদশাহদের যুগেও এক ধরণের আইন দ্বারা দেশ চলতো। বাদশাহ নিজেই আইন বানাতেন নিজের স্বার্থে। রাজা বা বাদশাহ হতেন বংশ পরম্পরায়। ফলে নেতা নির্বাচনের ঝামেলা ছিলনা। এখনতো ভোট দিয়ে নেতা নেত্রী নির্বাচন করতে হয়। দার্শন শাস্ত্র, লোকনীতি বা রাজনীতির গুরুরা বলেছেন, গণতন্ত্রে সংখ্যার গুরুত্ব বেশী। এখানে মেধা বা জ্ঞানের কোন দাম নেই। নেতা অশিক্ষিত বর্বর হলেও চলবে যদি তিনি বেশী মানুষের ভোট পান। ভোট না পেলেও চলবে যদি তিনি নির্বাচনের ভান করতে পারেন। এখন বাদশাহী যুগের বাদশাহদের মতো নেতা বা মন্ত্রী হতে হলে শক্তি আর অর্থ থাকলেই চলে।
আমিতো লোকনীতি বা রাজনীতি কিছুই বুঝিনা। আমি কবি মাওলানা রুমী আর মনসুর হাল্লাজের মতো জীবন সাধনা করতে চাই। কিন্তু মানুষর কষ্ট দেখলে আর সহ্য করতে পারিনা। এখানে দুর্বলেরা সবল দ্বারা কঠোর ভাবে অপমানিত, নির্যাতিত ও শোষিত। দেশটা স্বাধীন হয়েছে প্রায় অর্ধশত বছর আগে । কিন্তু দেশের মানুষ এখনও স্বাধীন বা দারিদ্র মুক্ত নয়। শিক্ষিত অশিক্ষিত কারোই কোন কাজ নেই। গরীবদের জন্যে শিক্ষা ও চিকিত্‍সা নেই। এসব অশিক্ষিত গরীব কোথাও সম্মানিত নয়। আধুনিক রাষ্ট্র এসব মানুষকে নাগরিক বলা হয়। এদের নামেই সংবিধান হয়, এদের নামেই সংসদ হয়, সরকার গঠণ হয়। নামের খসম রাষ্ট্র নিজে স্বাধীন হয়ে গেছে নাগরিকদের কাঁধে চড়ে। কোতোয়াল আর বাহিনীরা বলে রাজা বাদশাহ কিছুইনা,আমরাইতো দেশ চালাই। এর মানে হচ্ছে সিপাহীরা দেশ চালায়। নেতারা ক্ষমতায় থাকলেই খুশী। দেশে ভোট বা বিনা ভোটের নির্বাচন সংসদ সবই আছে। নাগরিক বা গরীব মানুষদের নামেইতো আইন পাশ হয়। সিপাহী বা বাহিনীদের নাগরিকের পশ্চাতদেশে লাথি ও ডান্ডা মারার ক্ষমতা বা অধিকারতো জনগণের দ্বারা নির্বাচিত বা অনির্বাচিত বাদশাহরা দিয়েছেন। এখন রাস্তা ঘাটে কোতোয়াল আর সিপাহীরা বলে ‘ ব্যাটা আমরাই এখন দেশ চালাই, বেশী কথা বললে জেহাদী বই হাতে ধরিয়ে দিয়ে চালান করে দেবো।
হে খোদা, তুমি কি তোমার জগতের কোথাও এমন গণতন্ত্র দেখেছো? জানিনা, তোমার উত্তর কি হবে? তুমি কি আমার কষ্টের কথা বুঝতে পারো। আর গণতন্ত্রের এ নাটক বা ভন্ডামীর আমাদের নেতাদের শান্তির নোবেল পুরুষ্কার দাও। ফিলিস্তিন আর ইজরায়েলে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টার জন্যে তুমি আমেরিকা সহ তিন দেশের নেতাদের নোবেল দিয়েছো। শুধুমাত্র গণতন্ত্র রক্ষা আর সন্ত্রাস দমন ও শান্তির জন্যে আমাদের গণতান্ত্রিক সরকার বাদশাহী কয়েকশ’ নাগরিক নামের মানুষের জীবন নিয়েছে। তুমিতো ইচ্ছা করলে বিনা নির্বাচনেই তিনশ’নেতা বা মাস্তানকে( মস্তি বা আধ্যাত্বিক অর্থে) নির্বাচিত করে তাদের সম্মানিত করতে পারো। তাদের মন্ত্রী বানাতে পারো। তুমিতো সকল ক্ষমতার উত্‍স। এদেশে তেমন কথা বিশ্বাস করেনা। এখানে মানুষকে সার্বভৌম বলে তাদের উপরেই ফেরাউনী শাসন চালানো হয়। এখানে শাসকরা ফেরাউন, নমরুদ ও সাদ্দাদের কথা জানেনা। এখানে চিরসত্যকে স্বীকার করেনা গ্রীকের শাসক গোষ্ঠিদের মতো।
হে আমার প্রাণের মালিক, আমি জানি, তুমি বলবে ফেরাউন নমরুদকে তুমি লম্বা সময় দিয়েছিলে। তারপর একদিন পাকড়াও করেছিলে। তুমি আমাদের ও বলেছো ধৈর্য ধারণ করার জন্যে। আমরাতো অতি অতি সামান্য মানুষ, তেমন ধৈর্য ধরতে পারিনা। আমিতো বলছিনা এ ভুখন্ডকে তুমি সদোম নগরীর মতো উপড়ে ফেলে দাও। সকল মানুষকে ধ্বংস করে দাও। আমিতো চাই অত্যাচারের অবসান হোক। এবং তা অতি দ্রুতই হোক। তুমি আমাদের ঈমানকে আরও দৃঢ ও মজবুত করে দাও।তুমিতো খুব ভালোই জানো আউলিয়া দরবেশের এই দেশে ইসলাম আজ খুবই দূর্বল হয়ে পড়েছে। এখানে দরবারী কবিরা তোমার আজানকে ব্যংগ করে কবিতা লেখে। তারা আবার বাদশাহর সম্মান পায়। এদেশের বুদ্দীজীবীরা মুর্তিপূজক ও প্যাগানদের গুণগাণ করে দয়া দাক্ষিণ্যের জন্যে করজোড়ে দাঁড়িয়ে থাকে। যেমন করে ওরা আমাদের বাপ দাদাদের দাস বানিয়ে রেখেছিল। ওরা কেমন করে ভুলে গেল ওইসব দিনের কথা। মুর্তিপূজকদের কাছ থেকে পদ্মভূষণ পাওয়ার জন্যে এইসব বুদ্ধিজীবী পদচুম্বন করে। ভূ ভারতের মুর্তি পূজকরা বৃটিশদের ডেকে এনে তাদের হাতে আমাদের স্বাধীনতা তুলে দিয়েছিল। ১৯০ বছর পুরো ভু ভারতকে মুর্তিপুজকদের সহযোগিতায় ইংরেজরা শাসণ ও শোষণ করেছে। কোটি কোটি মানুষের প্রাণের বিনিময়ে এদেশের মানুষ স্বাধীনতা ফিরিয়ে এনেছে। এাব কথা বলছি কেন? কারণ আমার দেশের স্বাধীনতাকে আবার মুর্তিপুজকদের হাতে তুলে দেয়ার পায়তারা করছে একশ্রেণীর আরবী নামধারী মোনাফেকরা। এরা মুখে বলে আমরা মুসলমান, কিন্তু কাজে মুর্তিপুজক। আমার দেশের শাসকরা এখন মুর্তিপুজকদের বন্ধু। তারা নিজেদের সেক্যুলার বা ধর্মহীন মনে করে। ইংরেজী শিক্ষিত বেশীর ভাগ ভদ্রলোক নিজেদের সেক্যুলার বলে পরিচয় দেয়। মিডিয়ার ৯০ ভাগ বন্ধু আজ সেক্যুলারদের দলে। এ ভাবে চলতে থাকলে এদেশে আর ইসলাম থাকবেনা। যেমন কামাল আতাতুর্ক মোল্লাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ইসলামকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিলেন। সেক্যুলার শব্দ নিয়ে আমি হাজার বার লিখেছি। সেক্যুলার মানে যিনি বা যারা পরকালে বিশ্বাস করেন না। তাঁদের জগতই শেষ। যে কোন ধর্মেই পরকালকে বিশ্বাস করতে হয়। ইসলামে পরকাল বিশ্বাস করা ঈমানের অংগ। যারা বিশ্বাস করেন না তারা মুসলমান নয়। আমার দেশটি এখন সেক্যুলারদের পাল্লায় পড়ে গেছে। এমন কি ইসলামে বিশ্বাস করেন তাদের ভিতর একদল লোক আছেন যারা সেক্যুলার বলে দাবী করেন। এরা হচ্ছে ভন্ড।
হে খোদা, তুমি আমার প্রিয় জন্মভুমিকে রক্ষা করো। মোনাফেকদের ধ্বংস করো। এদেশের মসজিদ মন্দির ও গীর্জা ভন্ডদের দখলে চলে গেছে। ইসলাম ও মুসলমানদের রক্ষা করার জন্যে আমাদের বাপদাদারা পাকিস্তান বানিয়েছিলেন। সে পাকিস্তানও টিকলোনা। কারণ দেশের ক্ষমতায় ছিল মোনাফেকরা। তারা ধর্মের নামে তামাসা করতো। তারা ইসলামের নামে দেশবাসীকে ধোকা দিতো। ফলে পাকিস্তান টিকলোনা। জন্ম নিলো নতুন এক দেশের পুরাণো এক ভুখন্ডে বাংগালী মুসলমানেরা তখন অসহায় হয়ে মুর্তিপুজকদের বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করেছিল। সে বন্ধুত্ব আজও জারী আছে। এখনকার বন্ধুত্ব হচ্ছে অনুগত বন্ধুত্ব। ১৯৪৭ সালে আমাদের পূর্বপুরুষেরা অখন্ড বাংলার স্বাধীনতা চেয়েছিল। কিন্তু মুর্তিপুজকরা অখন্ড বাংলা চায়নি। কারণ, তাতে মুসলমানদের প্রভাব বেশী থাকবে। তাই বাংলাকে খন্ডিত করা হয়েছে মুর্তিপুজকদের দাবীতে। ফলে বাংলার লাখো মানুষ প্রাণ হারিয়েছে ও গৃহ হারিয়েছে। আর এজন্যে দায়ী ছিলেন গান্ধীজী, নেহেরুজী ও প্যাটেল। মোনাফেকরা আজ আমার দেশের বিরুদ্ধে লেগেছে।
হে আমার বন্ধু আয়েশা, তুমি কেমন আছো? অনেকদিন তোমার সাথে আমার দেখা হয়না। আমিও তেমন সুস্থ নই। বয়সতো হয়েছে। যে দেশের স্বপ্ন তুমি দেখেছিলে তা আর দেখে যেতে পারলাম কই? মুক্তিযুদ্ধের সময় চাঁদের রাতে ক্যাম্পে বসে তোমার স্বপ্নের দেশের কথা বলতে। তখন হয়তো মুক্তিযোদ্ধারা হানাদার বাহিনীরা মুক্তিযোদ্ধেদের মোকাবিলা করছে। দূরে বহুদূরে কোথাও গুলির আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। নতুন স্বাধীনতার ৪৪ বছর পার হতে চলেছে। কি মনে হয় তুমি কি তোমার দেশটি দেখে যেতে পারবে? আমার মনে হয়না। তাইতো খোদার কাছে দরখাস্ত করছি। এই ভুখন্ডতাকে ফেরাউন নমরুদের কাছ থেকে রক্ষা করার জন্যে। এদেশে এখন হাজার হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা পাওয়া যাচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সার্টিফিকেটকে আকাশে উঠার সিঁড়ি হিসাবে পেয়েছে। আসল মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ খবর রাখেনা। যেখানে বা যে দেশে জালিয়াত মুক্তিযোদ্ধা পাওয়া যায় সেখানেতো সবকিছুই ভুয়া। এখন এ এখানে ন্যায়নীতি, বিচার আচার , সত্য বলে কিছুই নেই। আজ আমার মনটা খুবই খারাপ। তাই হঠাত্‍ তোমার কথা মনে পড়েছে। মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে তোমাকে একটি বই লিখতে বলেছিলাম। তোমার হাতেতো বেশ সময় আছে। লিখছোনা কেন? তুমিতো ফোন করতে পারো। আমি কেন করিনা তা তুমি ভালই জানো। আজকালের মধ্যেই তোমার ওখানে আসবো। দেশকে নিয়ে অনেক কথা জমে আছে মনে।
হে পরম দয়ালু, জগতের রক্ষক, তুমি আমাদের দেশটাকে ফেরাউনের হাত রক্ষা করো। আমাদের আত্মাকে বলিষ্ঠ করো। দেশের সকল মানুষ যেন অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ(জেহাদ) করার ক্ষমতা দেয়। মুসা(আ) নবীর মতো একজন নবীর মতো একজন নেতা পাঠাও। বহুকাল আশা করেছিলাম আমাদের দেশে মহাথির আর লী কুয়াংয়ের মতো নেতা আমাদের দেশে পাঠাবে। সে রকম নেতা আমরা পাইনি। তুমি হয়ত বলবে এতো দুর্ণীতিবাজ , লুটেরা ও মিথ্যাবাদীর দেশ কেমন করে মহাথির বা লী জন্মাবে। তুমি হয়ত আমাদের নেতাদের রক্ত নষ্ট হয়ে গেছে। শতবার স্বীকার করি তোমার অভিযোগ। তাই বলেতো তুমি এ ভুখন্ডের গণ মানুষকে কষ্টে ফেলে দিতে পারোনা। ওরাতো অতি সাধারন হত দরিদ্র। নিমিত তোমার ধর্ম পালন করে। ফেরাউনের ভয়ে অথবা তার কোতোয়ালের ভয়ে মুখ খুলতে পারেনা। এখন এদেশের কয়েক হাজার মানুষ বিনা বিচারে পড়ে আছে। লোকে বলে এদেশে এখন রায় বেচাকেনা হয়। যদিও আমি বিশ্বাস করিনা। তবে জানি বিচারকরাওতো এদেশের গরীব মা বাপের সন্তান। মা বাবা অনেক কষ্ট করে জমি জিরাত বিক্রি করে সন্তানদের পড়ালেখা করিয়ে বিচারক বানিয়েছে। সবাইতো সরকারী পদ পদবীর উপকারিতা বুঝতে পেরেছে। তাহলে বিচার ব্যবস্থাকে দায়ী করে কি লাভ। কোতোয়ালের সিপাহী বলে আমরা খুব গরীব ঘরের ছেলে। পড়ালেখা তেমন করতে পারিনি। তাই এমন একটি চাকুরী করি। চাকুরীটা পেতেও কয়েক কানি জমি বেচতে হয়েছে। এখন দায়িত্ব পুরো সংসার। বেতনের বাইরে যদি মাসে হাজার পঞ্চাশেক টাকা না পাই তাহলে বোনের বিয়ে দিবো কেমন করে। বাপজান বলেছে ছোট ভাইকে পড়ালেখা করিয়ে বড় দারোগা বানাতে হবে। আমাদেরতো বড় চাকুরী নয়, তাই তেমন কামাই করতে পারিনা। আজ তরুণ সাংবাদিকরাও বলেন আমরাতো এ সমাজের একটি অংশ, আমাদেরও সংসার আছে, ভাইবোন আছে। আমরাতো ইচ্ছা করলেই সমাজের বাইরে থাকতে পারিনা। তাহলেতো বাঁচতেই পারবোনা। কিছুলোক বুদ্ধিহীন বেকুব বলেই ব্যান্ক লুট বা ডাকাতি করতে গিয়ে কিছু নিরী্ মানুষকে হত্যা করেছে। অপরদিকে কিছুলোক বাদশাহ বা মন্ত্রীর সাথে খাতির করে ব্যান্ক লুট করে কাগজে কলমে। হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়মের ভিতর থেকে হাতিয়ে নেয়। এরাতো সরকারী দাওয়াত খায়। বিয়ে শাদীতে হাজার হাজার মানুষকে দাওয়াত করে খাোয়ায়। এতে খাজনা বিভাগের, দুদকের আর কোতোয়ালের লোকেরা হাজির হয়। মন্ত্রীরাতো থাকেনই। আমি জানি , তুমি বলবে, যে জাতি নিজেদের সাহাহ্য করেনা সে জাতিকে তুমি সাহায্য করোনা। আর আমি বলবো হে আমার জাতি,তোমরা জেগে উঠো, নিজেদের রক্ষা করো। হে আমাদের তরুণরা, তোমাদের কেউ কি মহাথির বা লী কুয়াং হতে পারোনা। অসত্‍ জাতি হিসাবে আমাদের বদনাম ঘুচিয়ে দাও। আমার আল্লাহ তোমাদের সবার সহায় হোক। হে খোদা আমাদের মুক্তি দাও।
লেখক: কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
ershadmz@gmail.com


স্বাভাবিক মৃত্যু ছাড়া বাকি সকল মৃত্যুকে আমি নিন্দা করি। আল্লাহ সকল প্রাণীকেই জীবন ও মৃত্যু দান করেন। এটাই তাঁর সৃষ্টির নিয়ম।


মুরুব্বী বা সিনিয়র সিটিজেনদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব/ এরশাদ মজুমদার

মুরুব্বীদের প্রতি সম্মান দেখানো বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার প্রথম ও প্রধান সংস্কৃতি। এখন হয়ত তেমন ভাবে নেই। বেয়াদবকে সমাজের সবাই মিলে শাসন করতো। বাইরে কোথাও মার খেয়ে ঘরে আসলে আমার মা আবার মার দিতেন। বলতেন, তুই মন্দ ছেলে বলেই মন্দ ছেলেদের সাথে চলাফেরা করিস। এই সামাজিক সংস্কৃতি দেখেই বুঝ যায় কোন মানুষটির পারিবারিক ঐতিহ্য কেমন। আমার বাবা বলতেন মুরুব্বী বা বয়স্কদের দেখলেই সালাম দিবে ও সম্মান দেখাবে। এখন অবশ্য সমাজ বদলাতে শুরু করেছে। এখন লোকজন ছাত্র যুবকদের দেখলে ভয় পায় এবং এড়িয়ে যায়। ছাত্র ও তরুণরা মুরুব্বীদের দেখলে ট্রেনে বাসে সিট ছেড়ে দিতো। এমন এক সময় ছিল যখন ট্রেনে বাসে ছাত্রদের দেখলে সবাই আদর যত্ন করতো। এমন কি ছাত্রদের জন্যে বাসে ট্রেনে বিশেষ ব্যবস্থাও ছিল। গ্রাম বা শহরে ছাত্রদের বাড়িতে বা বাসায় লজিং বা ফ্রি থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করতো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচুর ছাত্র লজিংয়ে থেকে পড়ালেখা করতো। ছাত্রদের লজিংয়ে রেখে বাড়িওয়ালা সম্মানিত বোধ করতো। এখন সে ব্যবস্থা উঠে গেছে। হয়ত সমাজ সংস্কৃতির পরিবর্তন হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু নামীদামী ছাত্র লজিংয়ে থেকে পড়ালেখা করেছেন এবং কর্ম জীবনে নামধাম করেছেন।
গুরুজনদের সম্মান করা সকল ধর্ম ও সমাজ সংস্কৃতিতে নিয়ম ছিল। এখনতো স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকেরা ছাত্রদের ভয় করে। তারাই প্রতিষ্ঠান গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে। ছাত্ররা হল দখল করে, মারামারি খুনাখুনি করে। বাড়িতে মা বাপ, বড়ভাই ও ওদের ভয় করে। অনেক বাবা মাস্তান ছেলের আয় দিয়ে সংসার চালান। ছেলে মাস্তান হলেও স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নাম আছে। তার বড় ভাই আছে, ভাইয়ের সাথে মন্ত্রী বা নেতাদের খাতির আছে। আইনের চোখে সে রাজনৈতিক কর্মী। একদিন মন্ত্রীও হয়ে যেতে পারে। ক’দিন আগে বুয়েটের ছাত্ররা এক শিক্ষককে লাণ্ছিত করেছে। এখন সেখানে ধর্মঘট চলছে। বুয়েটে মেধাবী ছাত্ররাই পড়ালেখা করে। তবুও এমন হলো কেন? কারণ সমাজ পরিবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু আমরা ভেবেছিলাম দেশ স্বাধীন হলে সমাজ আরও সুন্দর হবে। তাহলে সমাজ কোনদিকে যাচ্ছে? শুনেছি, পহেলা বৈশাখের দিন টিএসসিতে এক ঝাঁক তরুণ বা যুবক কিছু বোনকে আক্রমণ করে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা চালিয়েছে। যদিও আমাদের পুলিশ কমিশনার বিষয়টিকে অস্বীকার করেছেন। ছাত্ররা এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। অবশ্য বস্ত্র হরণ ও যৌন নির্যাতনের সংস্কৃতি ৭৪ সালের ভাষা দিবসে শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়েছে।
ছাত্র বা যুবকরা এমন হয়ে গেলো কেমন করে এ বিষয়ে কোন গবেষণা কেউ করেননি। আমাদের সময় টুকটাক হাতাহাতি মারামারি যে হয়নি তা নয়। প্রকাশ্যে অস্ত্র মানে হকি ষ্টিক নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে মহড়া দেয়া শুরু হয়েছে যতদূর মনে পড়ে আইউবের আমলে গবর্ণর মোনেম খান সাহেবের আমলে তাঁর আসকারাতে। সে সময়ে সরকার সমর্থক এনএসএফই হকিষ্টিক, লাকড়ি, সাইকেল চেইন,সাপ ও ছোরা নিয়ে মারামারি করতো । কারণ সরকার তাঁদের সমর্থন করতো। সেই ধারা অব্যাহত থাকলো ৭০ সাল নাগাদ। ছাত্র রাজনীতির উপর সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহর বইটি পড়লে অনেক কিছু জানতে পারবেন। স্বাধীনতার পর সব ছাত্র গ্রুপের হাতেই অস্ত্র এসে গেছে। স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকরা সরাসরি দলীয় রাজনীতি সাথে জড়িত হয়ে গেলেন। ছাত্র শিক্ষকরা এক সাথে মদ খান আর রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করেন। স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে দলাদলির ফলে শিক্ষা ব্যবস্থা অচল হয়ে গেলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতাদের এখন দামী গাড়ি,ফ্ল্যাট,মদ আর নারী না হলে চলেনা। অনেকেই বলবেন, সবাইতো এ রকম না। আমিও বলি সবাই এর রকম না। ভাল ছাত্ররা নিজেদের পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ নিয়ন্ত্রণ করে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র নেতারাই। তখন বাকি ছাত্রনেতারা পালিয়ে বেড়ায়।
যা হোক, আজ আমি সমাজের মুরুব্বী, সিনিয়ার সিটিজেন বা বয়স্ক মানুষদের অবস্থা নিয়ে কিছু বলতে চাই । সিটিজেন বা নাগরিক বললাম না। বাংলাদেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থা নাগরিকদের তেমন সম্মান করেনা, ভয় দেখায়। সুতরাং আপনারা বুঝতে পারেন মুরুব্বী বা বয়স্ক মানুষদের কি অবস্থা। সংসার এবং সমাজ উভঞ জায়গাতেই তারা অবহেলিত। শুনেছি, সংসদে একটি আইন পাশ হয়েছে বা হবে যাতে মা বাবাকে সন্তানেরা অবহেলা করতে না পারে। হয়ত শাস্তির বিধান ও রাখা হয়েছে। আল্লাহপাক পবিত্র আলকোরআনে মা বাবাকে সর্বােচ্চ মর্যাদা দান করেছেন। এমন কি খোদা নিজের পরেই মায়ের অবস্থান নির্ধারন করেছেন। বাংলাদেশে অশিক্ষিত লোকেরা বা গরীবেরা আল কোরআনের এসব খবর রাখেনা বা জানেনা। ইংরেজী শিক্ষিতদের ৮০ ভাগ কোরআনই পড়েননি। ফলে দেশে দিন দিন বৃদ্ধাশ্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে। টিভিতে মাঝে মাঝে মুরুব্বীদের বেশ কান্নাকাটি করা হয়। এতে সরকারের বা সমাজের কিছু আসে যায়না। শিক্ষিত সচ্ছল মুরুব্বীরা বৃদ্ধাশ্রমে যাচ্ছেন কেন? কারণ তাঁদের দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই। আর কিছু মুরুব্বী আছেন যাঁদের কেউ নেই, অর্থ নেই, থাকার যায়গা নেই। অনেকেই আবার সন্তানদের অত্যাচারে গেহত্যাগ করেছেন।
গ্রীক নগর রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশেও অতি অল্পকিছু লোক তথাকথিত সংবিধান ও বৃটিশ আইন দ্বারা নাগরিক নামক মানুষদের শাসন করে ,মানে ভয় দেখায়। শুনেছি,সভ্য বা মানবীয় গুণের নাটক দ্বারা দেশের জনগণকে মুগ্ধ করার জন্যে গ্রামে গঞ্জে বৃদ্ধদের নাকি বয়স্ক ভাতা দেয়া হয় মাসে একশ’ বা দেড়শ’ টাকা করে। এর পাবলিসিটি ভ্যালু হাজার কোটি টাকা। এটা নাকি সরকারের সামাজিক দায়বদ্ধতা। অথচ এদেশে ধনীরা তাঁদের সোনার চামচ মুখে চামচ মুখে নিয়ে জন্ম নেয়া কণ্যা ও পুত্রদের বিয়েশাদী, জন্মদিন সহ নানা অনুষ্ঠানে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেন। সেসব অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী সহ পারিষদরা উপস্থিত থাকেন। ১৯৭০ সালে যে মানুষটি কোন অফিসে কেরানী বা পিয়ন ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় গুণে সে আজ দশ বিশ হাজার কোটি টাকার মালিক। যে রাজনীতিক একটি সাইকেল চালাতেন ৭০এ তিনি এখন মার্সিডিজ চালান। সময়ের পরিবর্তনে বা যুগের চাহিদায় রাজনীতিকরা জমিদারী কায়দায় না চললে হয়না। ৭০এ যে কৃষক বা শ্রমিক দুই টাকা রাজগার করতেন তিনি হয়ত এখন দুই থেকে তিনশ’ টাকা রোজগার করেন।
আমাদের অর্থমন্ত্রী একজন রাজপুরুষ। আইউবের আমল থেকে সকল সরকারের খেদমত করেছেন। তিনি একজন জয়ীফ বা মাজুর বা অথর্ব(জ্ঞানী) মানুষ। হায়াত এখন নব্বইয়ের কাছাকাছি। আগে সবার খেদমত করেছেন একজন পাকা ঝানু আমলা হিসাবে। এখন একজন মন্ত্রী হিসাবে শেখ হাসিনার খেদমত করছেন। এর আগে এরশাদের করেছেন। এরশাদ নিন্দিত হলেও মোহিত সাহেবের সুবাস সৌরভ এখনও চারিদিকে গোলাপের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর রাবিশ শব্দটি খুবই জনপ্রিয় এবঁ দেশবাসীকে আনন্দ দেয়।
রাজনীতি এ দেশে বাদশাহীর মতো। এ বাদশাহী লাভ করেন ছেলে মেয়ে নাতিরা। দলের নেতাও হন নেতার কন্যা, ছেলে নাতি। কৃষক আর শ্রমিকের সন্তানেরা মিছিলে অংশ গ্রহণ করেন, পুলিশের পিটুনী বা গুলি খান। লেখাটি শুরু করেছিলাম সমাজ পরিবর্তনের বিশ্লেষন নিয়ে। পিতা পুত্র, ভাই ভাই, স্বামী স্ত্রী, পরিবার সমাজ সম্পর্ক নিয়ে। সব খানেই আমূল পরিবর্তন হয়ে গেছে। চিন্তার জগতে সবকিছুই প্রবল ধাক্কা দিয়েছে। এটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিলনা। এখতো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে হেরিটেজ বা ঐতিহ্যকে সমূলে অস্বীকার করা। বাপদাদার ধর্মকে ব্যক্তিগত বিষয় বলে পরিহার করা। দাঁড়িওয়ালা লোক দেখলেই জামাত বলে বেইজ্জতি করা। জাতির পুরাণো সবকিছুকে অস্বীকার করা। এ ব্যপারে রাষ্ট্রের অদৃশ্য উসকানী রয়েছে বলে মনে করি।
আমি এখন ৭৫। আপনারা নিশ্চয়ই আমাকে সিনিয়ার সিটিজেন বা বয়স্ক নাগরিক বলবেন। অনেকেই দেখলে সালাম দিয়ে বলেন, মুরুব্বী কেমন আছেন? উত্তর দেই খুব ভালো আছি, শোকর আলহামদুলিল্লাহ। এক সময় শখ করে রেখেছিলাম। তখন কালো ছিল ,এখন পুরো সাদা হয়ে গেছে। কিন্তু সিনিয়ার সিটিজেন বলে সরকার আমাকে বিশেষ সম্মান দেখায়না। কিছুদিন আগে ব্যান্কে এক পার্সেন্ট লাভ বাড়িয়ে দিয়েছিল। এখন নাই । এ বয়সে সবচেয়ে বেশী হয়রানী হলো সরকারী অফিস গুলোতে। সহজে কোথাও যেতে চাইনা। যেখানে লিফট নেই সেখানে পায়ে হেটে উঠতে হয়। উঠে আর কথা বলতে পারিনা। অনেক্ষণ বিশ্রাম নিতে হয়। বসার কোন ব্যবস্থা নেই। চেয়ারে হয়ত পিয়ন বা ক্লিনার বসে আছে। সম্প্রতি খুব কষ্ট পেয়েছি আয়কর বিভাগ দ্বারা। একজন অফিসার বললেন ৯০ ভাগ মানুষ অসত্য তথ্য পরিবেশন করেন, ফলে আপনাকে আর কেউ বিশ্বাস করেনা। আমি বললাম কিছু সম্মানী দিলেতো সব কাজ হয়ে যায়। তা ঠিক বলেছেন। এটা এ অফিসের দস্তুর।
আমরা এখন অবসরপ্রাপ্ত। বাড়ি ভাড়া ছাড়া কোন আয় নেই। ভাড়ার অংক লুকাবার কোন উপায় নেই। প্রতি বছরই রিটার্ণ যাচ্ছে , তবুও বেইজ্জতির ভয়ে বুড়াবুড়ি দুজনই খুব টেনশনে থাকি। মাঝে ভাবি এখন মরে গেলে এ ঝামেলা থেকে বাঁচতাম। আমার প্রিয় মানুষ রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান বলেছিলেন মরে গেলেও আয়কর থেকে মুক্তি নেই। আপনারা কি জানেন, এই আয়কর দিয়ে সরকার বিভিন্ন বাহিনীর খোরপোষ দেন, নিজেরাও কিছু খান।
আর বাহিনী কি করে ? যে কোন সময়ে আপনার পাছায় লাথি দিতে পারে। গুলিও মারতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন অস্ত্র পকেটে রাখার জন্যে নয়, ব্যাবহার করার জন্যে। একথা পাকিস্তান ও বৃটিশ আমলের শাসকরাও বলতেন।
প্রশ্ন উঠতে পারে সারা জীবন আয়কর দিলে বৃদ্ধ বয়সে সরকার আপনাকে কি দিবে?না, কিছুই দিবেনা। যারা সরকারী চাকুরী করেন তারা তবুও কিছু পান। যেমন আমার বিবিজান পান। জ্বী, আমি বাড়ি ভাড়া পাই, ফলে আয়কর বিভাগ আমার ঘাড় মটকাচ্ছে।সরকারের কোন অফিসটাতে হয়রানী নাই? কেহ যদি দেখাতে পারেন অমুক অফিসে হয়রানী নেই তাহলে আমি তাঁকে পুরষ্কার দিবো। সবচেয়ে বড় খবর হলো আমি একটি ব্যান্কে গিয়েছিলাম একটি ক্রেডিট কার্ড করার জন্যে। ব্যান্কটি খুবই আধুনিক। এর এমডি ও সিইওর চারিদিকে নাম ডাক। ব্যান্কটির জন্ম হয়েছে একটি আন্তর্জাতিক ব্যান্কের বাংলাদেশ শাখার মৃতদেহ থেকে। আমি একজন অফিসারের কাছে গেলাম,তিনি প্রথমেই জানতে চাইলেন আমার বয়স কত? আমি উত্তর দিলাম ৭৫। তিনি বললেন, আপনার নামে কোন ক্রেডিট কার্ড হবেনা। কারণ ,আপনি বেশী বৃদ্ধ। আমি জানতে চাইলাম আমি একাউন্ট খুলতে পারি?। অফিসারটি উত্তর দিলেন নিশ্চয়ই পারেন বলেই আমাকে একাউন্ট ওপেনিং ফর্ম এগিয়ে দিলেন।যত টাকা ইচ্ছা জমা দিতে পারবেন। আমি মানসিক ভাবে খুবই আঘাত পেয়েছি। তখন ওই অফিসারটি বললো স্যার আমারও খারাপ লেগেছে। এটা বাংলাদেশ ব্যান্কের নির্দেশ। তখন মনে পড়লো আমার প্রিয় মানুষ আতিউর কথা। সে নাকি মানব দরদী। গরীবের সন্তান, জনগণের সমর্থনে পড়ালেখা করেছে। সেই মানুষটি এ রকম একটি নির্দেশ কি ভাবে দিলো? এটাতো বয়স্ক মানুষদের বা পিতামাতার সাথে মসকরা করা। আতিউর কি এমন একটি কাজ করতে পারে? আমিতো মনে করি বয়স্ক মানুষের ক্রেডিট কার্ড সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন। কিন্তু আতিউরের দর্শণটি কি বুঝতে পারছিনা। আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন। হেফাজত বললে আবার জ্ঞানী ব্যক্তিরা গোস্বা করেন। তাই আবার বলছি আল্লাহ আতিউরকে রক্ষা করুন। বৃদ্ধ বা বয়স্ক জয়ীফ মা বাবার দায়িত্ব পালনের জন্যে সন্তানকে কঠের নির্দেশ দিয়েছেন।এমন কি মা বাপের অবুঝ কথাবার্তায় উহ পর্যন্ত করা যাবেনা। খোদার পরেই মা বাপের স্থান। সেই মা বাপদের নিয়ে আতিউরের এমন মসকরা কল্পনাও করা যায়না।
গিয়েছিলাম বীমা কোম্পানীতে জীবন বীমা করা জন্যে। সেখানেও জানালো আমরা বুড়ো মানুষের বীমা করিনা। কারণ আপনি যে কোন সময় মারা যেতে পারেন। জানতে চাইলাম আমার গাড়ীর বীমা করতে পারবেন? তিনি বললেন স্যার একশ’বার। এক্ষুনি করে দিচ্ছি। স্যার গাড়ীতো সম্পদ, এর দাম আছে। কিন্তু আপনার বলেই বীমা অফিসারটি মুছকি হাসলেন।বৃদ্ধের গাড়ীর দাম আছে, কিন্তু তাঁর নিজের কোন দাম নেই।
ট্রেনে বাসে বা প্লেনে বৃদ্ধদের কোন দাম নেই। আপনি বেশী টাকা দেন বেশী যত্ন পাবেন। পেনশন আনতে গেলেও আপনাকে কিছু সম্মানী দিতে হবে। সঞ্চয়পত্র ভাংগাতে বা লাভ আনতে গেলেও কর্তা ব্যক্তিকে কিছু সম্মানী দিতে হবে। ফাইভ স্টার হাসপাতাল গুলোতে যান লম্বা কিউ বা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। ডাক্তারের ফি এক হাজার থেকে বারোশ’টাকা। রিপোর্টা দেখাতে গেলে সাতদিনের ভিতর দেখাতে হবে। না হয় আবার এক হাজার টাকা দিয়ে এপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।
আধুনিক রাষ্ট্র বিজ্ঞানে কথার কথা হিসাবে বলে থাকে জনগণই সবকিছু। জনগণই সার্বভৌম। আমি নিজের জীবনেই দেখলাম আধূনিক রাষ্ট্র দেশের ক্ষমতাবান লোকদের নিয়েই ব্যস্ত। সকল নীতিই তাদের জন্যে। ৯০ ভাগ মানুষের কথা বলেই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে সে রাষ্ট্র সাধারন মানুষের রক্ষক না ভক্ষক হয়ে বসে। এমন কি নিজের সুখ দু:খের কথাও কারো কাছে বলা যায়না।
লেখক‍‌ : কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
ershadmz@gmail.com


নানা রূপের গণতন্ত্র নানা যুগে / এরশাদ মজুমদার

দৈনিক জনপদে‘ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো প্রভু’ কলাম লিখে গাফফার ভাই বিখ্যাত হয়েছিলেন। তখন বংগবন্ধু রাষ্ট্র ক্ষমতার শিখরে অধিষ্ঠিত। নামমাত্র সংসদ ও গণতন্ত্র ছিল। লোকে বলতো গণতান্ত্রিক সরকার ও রাষ্ট্র। দৃশ্যত: সংসদ,ভোট, গণতন্ত্র সবই আছে। সত্যিকথা বলতে কি বংগবন্ধু ছিলেন রাষ্ট্রের চেয়েও বড়। তাঁর ইমজের কাছে সবকিছুই বামন ডোয়ার্ফ বা ছোট। দেশে ফিরে তিনি প্রেসিডেন্টের পদ ও ক্ষমতা গ্রহণ করলেন। কিছুদিন পর ওই পদে আরাম না পেয়ে প্রধান মন্ত্রী হয়েছিলেন। তিনি বুঝতে পারছিলেন না কোন পদের ক্ষমতা বা শাণ শওকত কি রকম। শেষ পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতি বা প্রেসিডেন্ট পদে থিতু হলেন।ফলে যা হবার তাই হয়েছে। গাফফার ভাই তাঁর ওই লেখায় আইউবের শাসনামলের কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই লেখার জন্যে গাফফার ভাইয়ের বিরুদ্ধে বংগবন্ধু কোন শাস্তির ব্যবস্থা করেননি। আবার তাঁর মত বিরোধী খবর প্রকাশের জন্যে হলিডে সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ খানকে জেলে দিয়েছিলেন। আবার এনায়েত উল্লাহ খানকে বাংলাদেশ টাইমসের সম্পাদক করেছিলেন। সে সময়ে শ্লোগাণ উঠেছিল, ’এক নেতা এক দেশ বংগবন্ধু বাংলাদেশ’। আবার শেখ মণি লিখেছিলেন, আইনের শাসন নয় মুজিবের শাসন চাই। পল্টনের ময়দানে বলেছিলেন মুজিবের বিরুদ্ধে বললে জিব কেটে ফেলা হবে। তিনিই আবার বিরোধী পক্ষকে আটক করার জন্যে বিশেষ নিরাপত্তা আইন করেছিলেন। এ আইন দ্বারা তিনি যে কোন নাগরিককে গ্রেফতার করে বিনা বিচারে জেলে ফেলে রাখতে পারতেন। যে কোন সময় কোন ওজর না দেখিয়ে ৫৪ ধারায় যে কোন নাগরিককে গ্রেফতার করা যেতো। এই আইনটি করেছিলো বৃটিশ শাসকরা স্বাধীনতাকামী দের কারণ না দেখিয়ে গ্রেফতার করা।


আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপি / এরশাদ মজুমদার

সব দলই যদি একই হয় তাহলে বহুদল কেন? এক দল নিয়ে যদি রাজনীতি চলতো তাহলে বহু দলের ধারনার জন্ম হতোনা। এটা একটা এক ধরনের চিনতা বা ভাবনা। একে রাজনীতিকরা গণতন্ত্র বলে অভিহিত করেছেন। এক সময়ে সবার ভোটাধিকার ছিলনা। এখন সবার ভোটাধিকার রয়েছে। এখনও গণতন্ত্রের চেয়ে ভাল কোন পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়নি। আমি এখন কোন দলীয় রাজনীতি করিনা। এক সময় ছাত্র ইউনিয়ন ও পরে ন্যাপ করেছি। আমি আমার চিন্তার জগতে কোন দলীয় বন্ধনে আবদ্ধ নই। দলীয় বন্ধনে চিন্তার স্বাধীনতা থাকেনা। দলীয় কর্মী বা নেতা উপনেতা থাকতে পারে। দলীয় চিন্তাবিদ থাকতে পারে কিনা থাকতে পারে কিনা জানিনা। দলীয় দর্শণ থাকতে পারে বা দলীয় দর্শণ থাকাও জরুরী। দলের দর্শণ যদি না থাকে সে দল টিকতে পারেনা। বাংলাদেশে বহু দলীয় গণতন্ত্র চালু আছে, বহু দলীয় মত প্রকাশের জন্যে। কিন্তু বিএনপি বা আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যদলের সৃষ্টির কারণ তেমন সুস্পষ্ট নয়। তবে বহু দলের নামে বহু নেতার জন্ম হয়েছে। বি চৌধুরী সাহেব একটি দল করেছেন নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে রক্ষা করার জন্যে। এ রকম বহু নেতা আছেন নিজ অস্তিত্ব বা ব্যক্তিত্ব রক্ষার জন্যে দল করেছেন। যেমন, মেনন ও ইনু সাহেবের দুটি দলের তেমন কোন ভোট নেই। তাঁরা দুজনই নৌকায় চড়ে বেঁচে আছেন। অনেক রকম জাসদ আছে, কিন্তু কেন সে বিষয়ে হয়ত আপনাদের কোন ধারণা নেই। রাজনীতির ছাত্রদের যদি প্রশ্ন করা হয় তারাও কোন উত্তর দিতে পারবেন না। বাংলাদেশে কত দল আছে তা জানার জন্যে আপনাকে নির্বাচন কমিশনে যেতে হবে। কমিশন অনেক সময় রাজনৈতিক কারণে দল গঠণে সহযোগিতা করেন। যেমন বিএনএফ। গুলশানের সংসদ সদস্য বিনএফের নেতা ও প্রতিষ্ঠাতা। তাঁকে কেউ চিনেনা। জেনারেল মইনের সরকারের আমলে বিএনপিকে ভেংগে নতুন দল তৈরির চেষ্টা করেছিল কমিশন। আইউব খানের আমলে ডিসি সাহেবরা নির্বাচন করতেন।
আমি এর আগে বহুবার লিখেছি আওয়ামী মুসলীম লীগ বা আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে তত্‍কালীন মুসলীম লীগ নেতাদের ব্যর্থতার ফলে। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের আবেগ বা ন্যায় সংগত অধিকারকে অস্বীকার করার ফলে কালক্রমে পাকিস্তান ভেংগে যায় এবং স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়। কার্যত পাকিস্তানী সামরিক শাসকগণ বংগবন্ধুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল। ফলে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের একচ্ছত্র নেতায় পরিণত হন। তিনিই বাংগালী মুসলমানের আশা আকাংখার প্রতীকে পরিণত হন। তিনি চেয়েছিলেন আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে। তিনি বা পূর্ব বাংলার কোন নেতাই যুদ্ধ চান নি। পাকিস্তানী সামরিক জান্তা জোর করে বাংগালী মুসলমানদের যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে।
বংগবন্ধু সারা জীবন মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্যে লড়াই করেছেন। ক্ষমতায় এসে তিনি গণতন্ত্র ও বহুমতকে সহ্য করতে পারছিলেন না। ফলে তিনি এক সময়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করেন এবং সকল সংবাদপত্র বন্ধ করে দেন। সালাজারের দেশে এক সময়ে সকল মত ও পথ বন্ধ ছিল। বংগবন্ধু মনে করতেন তিনি দেশের কল্যাণ চান, তাহলে এত দল ও মতের কি প্রয়োজন? এক সময়ে তাঁর মর্মান্তিক পতন হয়েছে। আওয়ামী লীগের কোন নেতা সে সময়ে টু শব্দও করেননি। বরং কেউ তাঁকে গালাগাল দিয়েছেন। তাঁর পতনের পর ক্ষমতা চলে গেল দক্ষিণপন্থী আওয়ামী লীগ নেতা খোন্দকার মোশতাকের কাছে। তাঁর কেবিনেটের সকল মন্ত্রীই ছিলেন আওয়ামী লীগের। পরে ক্ষমতা গ্রহণ করেন সেনাপতি জিয়াউর রহমান। তিনি ছিলেন একজন সত্‍,ধর্মপ্রাণ মুসলমান। তিনিই নিষিদ্ধ দল গুলোকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিলেন। তিনি সকল ধরণের মত প্রকাশের পক্ষে ছিলেন। এক সময়ে তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন অনেক দল ও মতের সমন্বয়ে। এর ভিতরে সবচেয়ে বড় দল ছিল ন্যাপ। তখন ন্যাপের সভাপতি ছিলেন মশিউর রহমান যাদু মিয়া।
বংগবন্ধুর অনুপস্থিতে দিল্লী থেকে ফিরে এসে শেখ হাসিনা দলের হাল ধরলেন। তাঁর আগণের ক’দিন পরেই জিয়া সাহেব নিহত হন। অনেকেই মনে করেন ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা জিয়া সাহেবের মৃত্যুর জন্যৃ দায়ী। আপনাদের সকলকেই মনে রাখতে হবে শেখ হাসিনা ৭৫ থেকে ৮০ সাল নাগাদ দিল্লীতে ভারত সরকারের মেহমান ছিলেন। সে সময়ে তিনি ভারতীয় চাণক্য দর্শনে দীক্ষা লাভ করেন। যা তিনি এখন সফল ভাবে প্রয়োগ করছেন। আওয়ামী লীগ এখন শুধুমাত্র একটি ব্যানার। এই দলে এখন হাসিনা ছাড়া আর কিছু নেই। হাসিনার দর্শণই দলের দর্শণ আর সরকারে দর্শণ। রাষ্ট্রও এখন হাসিনার দর্শণ অনুসরণ করছে। মোবারক, সুহার্তো, মার্কোস এ নীতি অনুসরণ করেই দেশ শাসন করেছেন। এ নীতি মূল দর্শণ হলো আমিই রাষ্ট্র, আমিই সরকার, আমিই দল। একমাত্র আমিই দেশকে স্বর্গ বানাতে পারি। এমন সিভিল ডিক্টেটরের সাথে বেশ কিছু পারিষদ ও তোষক থাকে। তারা দিনরাত নেতা বা লীডারকে খুশী রাখার জন্যে কথা বলে যায়। না বললে চাকুরী থাকেনা। এরা কেউ জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয়। ৫ই জানুয়ারী দেশে নির্বাচনের নাটক হয়েছে। এ নাটকের পরিচালক হলেন নেতা, প্রধানমন্ত্রী, সরকার ও রাষ্ট্র। ভোটারের সাথে এ ধরণের নির্বাচনে কোন সম্পর্ক থাকার প্রয়োজন নেই। প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, ভোট যা পাওয়ার পেয়েছি, যথেষ্ট পেয়েছি। এটা প্রধানমন্ত্রী বা নেতার দোষ নয়। তিনিতো সংবিধান মোতাবেক চলছেন। মানে তিনি আইন মেমে চলছেন। আমাদের সংবিধান বা নির্বাচনী বিধানে আছে,ভোট না পেলেও নির্বাচিত হওয়া যায়। যেমন ৫ই জানুয়ারীর জাতীয় নির্বাচন। সারা জাতি জানতে পেরেছে নির্চন কমিশন রাজী থাকলে ভোট না পেলেও নির্বাচিত হয়েছে সংসদ সদস্য হওয়া যায়। চলমান সংসদে অর্ধেরকের বেশী সদস্য নির্বাচিত নন। কেউ নির্বাচনে অংশ না নিলে কমিশন কি করবে? যাঁরা অংশ নিয়েছেন তারাই বিজয়ী। কমিশন হাসতে হাসতে এমন একটি আরাম দায়ক নির্বাচন জাতিকে উপহার দিয়েছেন। এমন নির্বাচনের সরকারকে দেশবাসী বা বিদেশবাসী কেউই মেনে নেয়নি। তাতে কি আসে যায়? মানা না মানার জন্যে সরকার গঠণ বা মন্ত্রী পরিষদ মনোনয়নে কোন বাধা নেই। জাতিসংঘ বা আমেরিকাতো বলেনি যে আমরা এমন সরকারের সাথে কাজ করবোনা। সংবিধানতো বলেনি যে, মোট ভোটের অর্ধেক না পেলে সরকার গঠণ করা যাবেনা। নির্বাচনী এলাকার অর্ধেক ভোট না পেলে কেউ সংসদ সদস্য হতে পারবেনা। এখনতো এক ভোট না পেলেও চলে। এখনতো মন্ত্রী পরিষদের প্রায় ৮০ ভাগই অনির্বাচিত। তবুই বলা হয় তাঁরা গণতান্ত্রিক নির্বাচিত প্রতিনিধি। এমন নির্বাচন বাংলাদেশে যুগের পর যুগ চলতে পারে। তাতে সংবিধান ক্ষুন্ন হবে। আমাদের মহান পবিত্র সংসদ শূদ্রকণ্যার মতো, ব্রাহ্মণ পুত্ররা শতবার ভোগ করলেও সতীত্ব নষ্ট হবেনা। আমাদের সংসদ সদস্যরা ব্রাহ্মণ এবং ব্রহ্মার বর পুত্র। তাই তাঁদের মহান সংসদের মাননীয় সদস্য বলতে হয়। কিন্তু যাঁরা ভোট দেন বা দেননা তাঁরা শুধুই জনসাধারন(ইতরজনা)। তাঁদের নামের আগে মাননীয় লেখা যাবেনা। আমাদের দেশে মহান সেনা বাহিনী, মহান সমসদ, মাননীয় বিচারপতি, মহামান্য আদালত, মহামান্য রাষ্ট্রপতি বলতে হয়। বলতে হয় ইওর লর্ডশীপ। কারণ, বৃটেনে বিচারপতিদের লর্ড বলা হয়। আমার সুপারিশ হলো এখন থেকে মহান রেব বাহিনী, মহান বিজিবি বাহিনী, মহান পুলিশ বাহিনী ও মহান আনসার বাহিনী বলা হোক। জনসাধারনতো( কমনার্স বা ইতরজনা)। তাঁদেরতো মহান হওয়ার কোন সুযোগই নাই। সকল বাহিনীইতো রাষ্ট্র আর সরকারকে প্রাণ দিয়ে রক্ষা করছেন। এর মানে তাঁরা গণতন্ত্রকে রক্ষা করছেন। জনসাধারনের কাজ হচ্ছে সরকার মহান ও বাহিনীদের খাজনা দিয়ে লালন পালন করা। এটাই মহান সংবিধানের বিধান। যদি নিয়মিত খাজনা না দেন তাহলে সকল বাহিনী আপনাকে ডান্ডা মেরে ঠান্ডা করতে পারে। সবকিছুই আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থায় জনগণ হচ্ছে প্রজা ও চুদুরভাই। এমন একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থায় আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমায় আছেন। তথাকথিত মন্দের ভাল গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আওয়ামী লীগ ভাল করে শিখেছে এবং অনুশীলন করে চলেছে। ৫৪ সালের নির্বাচন থেকে আওয়ামী লীগকে আমরা দেখে আসছি। তখনতো বিএনপির জন্মও হয়নি। বলা হয় এদলটা নাকি সেনা্ছাউনিতে জন্ম গ্রহণ করেছে। যদিও ৪৯ সালে জমিদার বাড়ি রোজ গার্ডেনে উর্দূ ও ইংরেজী শব্দ মিলিয়ে আওয়ামী লীগ করা হয়েছে। তখনও আওয়ামী লীগ ষোলয়ানা বাংগালী হতে পারেনি। তখন যে কাগজটি আওয়ামী মুসলীম লীগ বা আওয়ামী লীগকে সমর্থন করতো তার নাম ছিল ইত্তেফাক( একতা বা ঐক্য)। মাওলানা ভাসানীর সীমাহীন অবদান রয়েছে ইত্তেফাক প্রতিষ্ঠায়। এক সময়ে ইত্তেফাকে ছাপা হতো প্রতিষ্ঠাতা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। মানিক মিয়া সাহেব প্রথমে ইত্তেফাকের ব্যবস্থাপনার সাথে যুক্ত ছিলেন। তেমনি আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা ও ছিলেন ভাসানী সাহেব। আজ বংবন্ধুই সবকিছু। ইত্তেফাক ও আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা লগ্নের ইতিহাস মুছে গেছে। ইত্তেফাক দিয়ে মানিক মিয়া সাহেবের পরিবার আজ সুপ্রতিষ্ঠিত। একই ভাবে বংগবন্ধুর পরিবারও সকল দিক থেকে সুপ্রতিষ্ঠিত। বংগবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আজ আওয়ামী লীগের একক মালিক। এটা একটি রাজনৈতিক পাবলিক লিমিটেড কোম্পানী। পেপসি কোলার মতো এর ব্র্যান্ড হচ্ছে নৌকা। এই ব্র্যান্ডর এজেন্সী নিয়ে লাখ লাখ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছেন। আওয়ামী লীগ এখন একটি বিশ্বাসের নাম, শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, একটি জাতি। এই দলের দর্শন হচ্ছে ধর্মহীনতা( সেক্যুলারিজম), জাতীয়তা হচ্ছে বাংগালীত্ব( বাংলাদেশী নয়)। বিশ্বের সকল বাংলাভাষীকে বাংগালী মনে করে। তাঁদের এই অবস্থান বাংলাদেশের রাষ্ট্র স্বত্তা বিরোধী। ভারত ও তাই মনে করে। তাঁরা মনে করেন ভারতের বাংগালী আর বাংলাদেশের বাংলাদেশের বাংগালী একই জাতিস্বত্তা। পশ্চিম বাংলার কালচারকে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের কালচার মনে করে। হিন্দুদের যত ধর্মীয় সংস্কৃতি আছে তার কিছুকেই আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সংস্কৃতি মনে করে। ইসলাম ও মুসলমানিত্বকে তাঁরা আরব দেশীয় কালচার মনে করেন। আওয়ামী লীগের কাছে মুসলমানিত্ব বা ইসলামের গুরুত্ব বাংগালীত্বের চেয়ে কম। সম্প্রতি হার্ভাডের শিক্ষক নোয়াহ ফেল্ডম্যান তাঁর এক গবেষণা পুস্তকে বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখে পড়েছে। সাথে সাথে পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থাও। সমাজতন্ত্র এর কাছে পরাজিত হয়েছে। কারণ চিন্তার সমাজতন্ত্র আর বাস্তবের সমাজতন্ত্র এক নয়। ভাবনার জগতে বুদ্ধিজীবীদের মগজে সমাজতন্ত্র আছে। গণতন্ত্র ও পুঁজিবাদ থেকে রেহাই বা মুক্তির পথ খুঁজছে জগতের নিপীড়িত মানুষ। তিনি বলেছেন যদি সুযোগ দেয়া হয় তাহলে একমাত্র ইসলাম এর মোকাবিলা করতে পারে। তিনি বলেছেন, মুক্ত অবাধ নির্বাচন হলে জগতের বহুদেশে ইসলামিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ও তেমন একটি দেশ। কিন্তু এখানে ইসলামকে নিন্দিত করে ফেলেছে আওয়ামী লীগ ও তাঁর বুদ্ধিজীবীরা। ভারতের বিখ্যাত লেখিকা অরুন্ধুতি রায় পুঁজিবাদকে ভৌতিক কাহিনী বলেছেন। পুঁজিবাদ কিভাবে মানুষকে শোষণ করে তার উপর বহু বই রয়েছে। পুঁজিবাদীরা ইসলামকে ভয় করে। বাংলাদেশেও রাষ্ট্র ইসলামকে ভয় করে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ মোট কাস্টেড ভোটের ৩০ থেকে ৪০ ভাগ পেয়ে থাকে। এর মানে ৬০ ভাগ ভোটার আওয়ামী লীগের সমর্থক নয়। কিন্তু তাঁরা বহু ভাগে বিভক্ত।
শুধু একবার ভাবুন জিয়া সাহেব যদি বিএনপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দল রেখে না যেতেন তাহলে আওয়ামী রাজনীতির মোকাবিলা করতো কে? বিএনপিও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে মোট প্রদত্ত ভোটের ৪০ ভাগ পেয়ে থাকে। বিএনপি বাংলাদেশে ইসলামী জাতীয়তাবাদের সৃষ্টি করেছে। অপরদিকে আওয়ামী লীগ ধর্মমুক্ত রাজনীতিতে বিশ্বাস করে যা ভারতও চায়। ফলে বিএনপি আওয়ামী লীগের বিকল্প রাজনীতির প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। যারা আওয়ামী রাজনীতির বিরোধী তাঁদর জন্যে বিএনপি একটা প্লাটফরম। আমি অন্তত এভাবেই দেখি। আমার চিন্তা অন্যদের কাছে ভুলও হতে পারে। মাত্র পঁয়ত্রিশ বছরের মধ্যেই বিএনপি এমন অবস্থানে পৌঁচেছে। একশ’ ভাগ ফেয়ার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আওয়ামী লীগ জানে বলেই ২০০৬ সাল থেকে নানা ষড়যন্ত্র ও টালবাহানা করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের এমন রাজনীতির কারণে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব দিন দিন বাড়ছে। তবুও বাংলাদেশের সাধারন ভারত বিরোধী তা ক্রিকেট মাধ্যমে প্রমানিত হয়েছে।

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Join 588 other followers