Feeds:
Posts
Comments

সব দলই যদি একই হয় তাহলে বহুদল কেন? এক দল নিয়ে যদি রাজনীতি চলতো তাহলে বহুদল কেন? এটা একটা এক ধরনের চিনতা বা ভাবনা। আমি এখন কোন দলীয় রাজনীতি করিনা। আমি আমার চিন্তার জগতে কোন দলীয় বন্ধনে আবদ্ধ নই। দলীয় বন্ধনে চিন্তার স্বাধীনতা থাকেনা। দলীয় কর্মী বা নেতা উপনেতা থাকতে পারে। দলীয় চিন্তাবিদ থাকতে পারে কিন। জানিনা। দলীয় দর্শণ থাকতে পারে বা দলীয় দর্শণ থাকাও জরুরী। দলের দর্শণ না থাকে সে দল টিকতে পারেনা। বাংলাদেশে বহু দলীয় গণতন্ত্র চালু আছে, বহু দলীয় মত প্রকাশের জন্যে। কিন্তু বিএনপি বা আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যদলের সৃষ্টির কারণ তেমন সুস্পষ্ট নয়। তবে বহু দলের নামে বহু নেতার জন্ম হয়েছে। বি চৌধুরী সাহেব একটি দল করেছেন নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে রক্ষা করার জন্যে। এ রকম বহু নেতা আছেন নিজ অস্তিত্ব বা ব্যক্তিত্ব রক্ষার জন্যে। যেমন, মেনন ও ইনু সাহেবের দুটি দলের তেমন কোন ভোট নেই। তাঁরা দুজনই নৌকায় চড়ে বেঁচে আছেন। অনেক রকম জাসদ আছে, কিন্তু কেন সে বিষয়ে হয়ত আপনাদের কোন ধারণা নেই। রাজনীতি ছাত্রদের যদি প্রশ্ণ করা হয় তারাও কোন উত্তর দিতে পারবেন না।


সকালবেলা ৯৫

বন্ধুরা বিশ্বাস করো, আমি নিজেকে নিজ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চলেছি। আমি আমার প্রিয়তম বন্ধুর সাথে মিলিত হতে চলেছি। আমি তার ডাক শুনতে পেয়েছি। বন্ধুর ডাকে আমি দিওয়ানা/মজনু হতে চলেছি। সেদিন আর বেশী দূরে নয় জগত সংসার আমাকে হাল্লাজ বলবে, সারা শরীরে লোহার হার পরাবে। আমি চাই সমাজ দেশ রাষ্ট্র আমাকে হাল্লাজ বলুক,টুকরা টুকরা করুক। আমি আর এ মাটির শরীরকে সহ্য করতে পারছিনা। নিজে থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন না করতে পারলে আমি কেমন করে বন্ধুর সাথে মিলিত হবো।
জগত সংসারে আমার আর কোন কাজ নেই।
হাল্লাজ বলেছিলেন ,আনা আল হক( আমিই সত্য)। আমার রূহের ভিতর এ শব্দ উচ্চারিত হচ্ছে প্রতিক্ষণ। আমি শব্দ শুনতে পাই। শুধু তোমরা শুনতে পাওনা। সমাজ রাষ্ট্র দেশ সরকার শুনতে পায়না। হাল্লাজের আমলে খলিফার মা খলিফাকে বলেছিলেন ‘ লোকটাকে ছেড়ে দাও, তাকে তার খোদার সাথে থাকতে দাও’। খলিফা বলেছিলেন, আমি শরীয়ার দাস।
আমার গুরু মাওলানা বলেছেন, আমি কোরআনের নির্যাস পান করেছি। হাড্ডি রেখে দিয়েছি মোল্লাদের জন্যে। আমি তেমন উঁচু দরের সাগরেদ বা মানুষ নই। তেমন বাক্য উচ্চারন করতে পারিনা। খোদা আমাকে তেমন শক্তি দেননি। প্রিয়তম বন্ধুর কাছে থেকে আমি এখনও বেশ দূরে আছি। তাই তিনি আমাকে ময়লায় ফেলে রেখেছেন।
আমার দেশের মানুষের দেহ আছে,রূহ নেই। তারা দেখতে মানুষের মতো,আসলে মানুষ নয়। তাই তারা ন্যায় নীতি ,সত্য মিথ্যা সত্‍ অসত্‍ বুঝবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। ফলে রাষ্ট্র ,আইন আদালত, দেওয়ানী আম ও দেওয়ানী খাস সবই নষ্ট হয়ে গেছে। রূহের জগত থেকে মাটির পুতুল গুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আর আমি এসব থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রূহের জগতে যাওয়ার লড়াইয়ে রত আছি। আমার দেহের ময়লা এখনও সাফ হয়নি। তাই পড়ে আছি এখানে।
প্রিয়তম বন্ধু ,আমাকে মুক্ত করো এ ময়লার দুনিয়া থেকেসকালবেলা ৯৫

বন্ধুরা বিশ্বাস করো, আমি নিজেকে নিজ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চলেছি। আমি আমার প্রিয়তম বন্ধুর সাথে মিলিত হতে চলেছি। আমি তার ডাক শুনতে পেয়েছি। বন্ধুর ডাকে আমি দিওয়ানা/মজনু হতে চলেছি। সেদিন আর বেশী দূরে নয় জগত সংসার আমাকে হাল্লাজ বলবে, সারা শরীরে লোহার হার পরাবে। আমি চাই সমাজ দেশ রাষ্ট্র আমাকে হাল্লাজ বলুক,টুকরা টুকরা করুক। আমি আর এ মাটির শরীরকে সহ্য করতে পারছিনা। নিজে থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন না করতে পারলে আমি কেমন করে বন্ধুর সাথে মিলিত হবো।
জগত সংসারে আমার আর কোন কাজ নেই।
হাল্লাজ বলেছিলেন ,আনা আল হক( আমিই সত্য)। আমার রূহের ভিতর এ শব্দ উচ্চারিত হচ্ছে প্রতিক্ষণ। আমি শব্দ শুনতে পাই। শুধু তোমরা শুনতে পাওনা। সমাজ রাষ্ট্র দেশ সরকার শুনতে পায়না। হাল্লাজের আমলে খলিফার মা খলিফাকে বলেছিলেন ‘ লোকটাকে ছেড়ে দাও, তাকে তার খোদার সাথে থাকতে দাও’। খলিফা বলেছিলেন, আমি শরীয়ার দাস।
আমার গুরু মাওলানা বলেছেন, আমি কোরআনের নির্যাস পান করেছি। হাড্ডি রেখে দিয়েছি মোল্লাদের জন্যে। আমি তেমন উঁচু দরের সাগরেদ বা মানুষ নই। তেমন বাক্য উচ্চারন করতে পারিনা। খোদা আমাকে তেমন শক্তি দেননি। প্রিয়তম বন্ধুর কাছে থেকে আমি এখনও বেশ দূরে আছি। তাই তিনি আমাকে ময়লায় ফেলে রেখেছেন।
আমার দেশের মানুষের দেহ আছে,রূহ নেই। তারা দেখতে মানুষের মতো,আসলে মানুষ নয়। তাই তারা ন্যায় নীতি ,সত্য মিথ্যা সত্‍ অসত্‍ বুঝবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। ফলে রাষ্ট্র ,আইন আদালত, দেওয়ানী আম ও দেওয়ানী খাস সবই নষ্ট হয়ে গেছে। রূহের জগত থেকে মাটির পুতুল গুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আর আমি এসব থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রূহের জগতে যাওয়ার লড়াইয়ে রত আছি। আমার দেহের ময়লা এখনও সাফ হয়নি। তাই পড়ে আছি এখানে।
প্রিয়তম বন্ধু ,আমাকে মুক্ত করো এ ময়লার দুনিয়া থেকে।
আমাকে সৃষ্টির বহু আগেই তুমি রূহকে তৈরি করে অতি আদরে রেখে দিয়েছো রূহের জগতে। তুমি বহু কাল বা মহাকাল ভেবোছো রূহকে নিয়ে। কতকাল তা তুমি ছাড়া,শুধু তুমি ছাড়া কেউ জানেনা। তখন জগত বা মহাজগত কি্ছুই ছিলনা। তুমি ছিলে আর ছিল রূহ।আর ভাবছিলে নিরাকার তুমি আর আমিকে নিয়ে। একদিন ভাবতে ভাবতেই কুদরতি আয়নার সামনে তুমি দাঁড়ালে আর নিজেকে দেখলে।পড়ে গেলে নিজের প্রেমে। অবাক হয়ে দেখলে নিজেকে লক্ষ বছর।আর নিজের প্রেমে নিজেই পড়ে গেলে।
তারপর তুমি নিরাকার তোমাকে বিচ্ছিন্ন করে সমুখে রাখলে। ভাবলে সাকার এ তুমি কে? ভাবতে ভাবতে একদিন এক মাটির পুতুল বানিয়ে নাম দিলে আমি। আবার কোটি বছর পর সেই পুতুলের ভিতর নিজেই অবস্থান নিলে প্রেমের আবাস হিসাবে। এরপর সৃষ্ট জগত এলো প্রেমিকাকে সন্তুষ্ট করার জন্যে। সেই থেকে জগতে প্রেম এলো ভালবাসা এলো। চলছে অবিরাম অবিরত আমি তুমি, তুমি আমির খেলা। সেই খেলাতে মশগুল হলো রুমী, হাল্লাজ,খৈয়াম, হাফিজ সা’দী ও গালিব আর এখন আমি এরশাদ মজুমদার।


বংগবন্ধুর সাথে আমার সরাসরি পরিচয় ১৯৬১ সালে পাকিস্তান অবজারভারে  কাজ শুরু করার পর। কয়েকজন সাংবাদিকদের সাথে তাঁর সম্পর্ক ছিল খুবই পারিবারিক। আমাদের জেনারেশনের অনেকের সাথেই তাঁর খুব ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল। তাঁর সবচেয়ে বড় গুণ ছিল তিনি পরিচিতজনকে খুব আদর যত্ন করতেন। সে সময়ে সবচেয়ে প্রভাবশালী বিরোধী রাজনীতিক ছিলেন মাওলানা ভাসানী। শেখ সাহেব কোলকাতা থেকেই সোহরাওয়ার্দীর সাহেবের ভক্ত বা অনুসারী ছিলেন। কিন্তু ঢাকর মুসলীম লীগ নেতারা আসাম মুসলীম লীগের সভাপতি মাওলানা সাহেবকে কোন গুরুত্বই দিলেন না। একই ভাবে মুসলীম লীগের কোলকাতার নামজাদা কর্মী শেখ সাহেবও অবহেকিত। ফলে দুজনই মুসলীম লীগের ঢাকার রাজনীতিতে অপাংতেয় হয়ে গেলেন।
অখন্ড বাংলাদেশের(সাবেক ) শেষ প্রধানমন্ত্রী মুসলীম লীগের সোহরাওয়ার্দী সা্হেব। মুসলীম লীগের আভ্যন্তরীন কোন্দলের ফলে সোহরাওয়ার্দী সাহের ঢাকা ফিরতে বিলম্ব হলো। অনেকেই বলেন তাঁকে ফিরতে দেয়া হয়নি। পূর্ববাংলার প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেলেন ঢাকা নবাব বাড়ির নাজিম উদ্দিন সাহেব। অখন্ড বাংলাদেশের প্রথম তিনজন প্রধান মন্ত্রী ছিলেন শেরে বাংলা, স্যার নাজিমউদ্দিন ও সোহরাওয়ার্দী। এর কারণ, অখন্ড বাংলাদেশে মুসলমানরা ছিল মেজরিটি।
ফলে বাধ্য হয়ে মাওলানা সাহেব বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মীদের নিয়ে ১৯৪৯ সালের ২৩শ জুন আওয়ামী মুসলীম লীগ গঠণ করলেন। শেখ সাহেব ছিলেন নতুন দলের যুগ্ম সম্পাদক। শুরু হলো মুসলীম লীগ বিরোধী রাজনীতি। মাওলানা সাহেব আর শেখ সাহেব ছিলেন শক্তিশালী সংগঠক ও বাগ্মী। ৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলীম লীগের কবর হয়ে গেল। শেরে বাংলা, সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা সাহেব এক জোট হয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠণ করেছিলেন। সকলেই ছিলেন মুসলীম লীগ নেতা এবং সকলেই পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার আওয়ামী মুসলীম লীগ। রক্ষণশীল গণবিরোধী মুসলীম লীগ নেতাদের অদূরদর্শিতার কারণেই মুসলীম লীগ ভেংগে নতুন মুসলীম লীগ গঠিত হয়েছিল।কিন্তু মাওলানা সাহেব বেশীদিন নিজের প্রতিষ্ঠিত দল আওয়ামী লীগের সাথে থাকতে পারলান। ফলে শেখ সাহেব কালক্রমে আওয়ামী লীগের মূল ও একচ্ছত্র নেতা হয়ে গেলেন। এবং পূর্ব পাকিস্তান রাজনীতির ধারক বাহক হয়ে গেলেন। তিনি বাংগালী অবাংগালী ইস্যুটাকে জনপ্রিয় করে সামনে নিয়ে এলেন। মাওলানা ব্যস্ত থাকলেন বিদেশনীতি নিয়ে।

পাকিস্তানের বিদেশনীতির প্রশ্নে ৫৭ সালেই আওয়ামী লীগ ভেংগে নতুন রাজনৈতিক দল ন্যাপের জন্ম হয়। রাজনীতিতে শেখ সাহেব এবং মাওলানা সাহেব আলাদা হয়ে গেলেন। তখন পাকিস্তানের কেন্দ্র ও পূর্ব বাংলায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। মাওলানা সাহেব ছিলেন আমেরিকা ও সাম্রজ্যবাদ বিরোধী। আর শেখ সাহেব ও সোহরাওয়ার্দী সাহেব ছিলেন আমেরিকা পন্থী। শেখ সাহেব  রাজনৈতিক ভাবে মাওলানা সাহেবকে ছাড়লেও ব্যক্তিগত ভাবে প্রকাশ্যে বা গোপনে তাঁর সাথে সম্পর্ক রাখতেন সে সম্পর্ক জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ছিল। সাংবাদিক হিসাবে আমারও সুসম্পর্ক ছিল। কিন্তু মাওলানা সাহেবের সাথে শেখ সাহেবের ছিল অন্তরের সম্পর্ক। মাওলানা সাহেব ক্ষমতার রাজনীতি না করলেও ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করতেন। আমি নিজেও ক্ষমতার সাথে জড়িত থাকা বা জড়িয়ে পড়া কখনই পছন্দ করিনা। আমি মনে করি ক্ষমতার সাথে জড়িত হলে চিন্তার স্বাধীনতা থাকেনা। এখন সাংবাদিকেরা সরকারের একাংশ। আওয়ামী ক্ষমতায় থাকলে তার একদল সাংবাদিক থাকে, আবার বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে তারও একদল সাংবাদিক,বুদ্ধিজীবী তাকে। ৭২ এ আগে এ অবস্থা এত নগ্ন ছিলনা। তাবেদার বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিক থাকলে দল ও সরকার খুশী হয়। শেখ সাহেবের সাথে বেশ কিছু বামপন্থী সাংবাদিক ও ছিলেন। এরা মুখে বলতেন আমরা মাওলানা সাহেবের লোক। এই বামপন্থীরা এখন আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে বামপন্থী বা প্রগতিশীল মনে করে। এরা মনে করেন ভারত বাংলাদেশে বামপন্থী বিকাশে সাহাহ্য করবে। এদের মতে ভারতকে সমর্থন করা, রবীন্দ্রনাথকে পূজা করা, হিন্দূ সংস্কৃতিকে বাংগালী বলে চালানো প্রগতিশীলতা।
পাকিস্তানকে ভেংগে ফেলার জন্যে ভারত ৪৭ সাল থেকে কাজ করে গেছে। বাংগালী অবাংগালী প্রশ্নে শেখ সাহেবের নেতৃত্বকে ভারত সমর্থন দিয়েছে। ফলে শেখ সাহেব পূর্ববাংলার একচ্ছত্র একক নেতায় পরিণত হলেন। পাকিস্তানী নেতা ও সামরিক জান্তা ছিল অন্ধ ও একগুয়ে। ফলে পাকিস্তান ভেংগে গেল ৭১ সালে। শেখ সাহেব হয়ে গেলেন নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও পিতা। পাকিস্তানের কারাগার থেকে ফিরে এসে ১০ই জানিয়ারী তিনি বললেন, আমি মুসলমান, আমি বাংগালী। আমি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলীম রাষ্ট্রের নেতা। বর্তমান আওয়ামী লীগ বা তাঁর কন্যা শেখ সাহেবের এই নীতি থেকে এখন হাজার মাইল দূরে। শেখ সাহেবের আত্মজীবনী পড়লেই বুঝতে পারবেন তিনি মনে প্রাণে একজন মুসলমান ছিলেন। তিনি পাকিস্তানের জন্যে লড়াই করেছেন। আগেই বলেছি তিনি মুসলীম লীগ ত্যাগ করেছেন দলের শীর্য নেতাদের অবহেলার কারণে। তিনি কখনই ইসলাম বা মুসলমানদের বিরুদ্ধে ছিলেন না। এ কথা আমি দৃঢ ভাবে বিশ্বাস করি। ৭৪সালে ওআইসি সম্মেলনে যাওয়ার আগে তিনি কঠোর মনোভাব নিয়ে ভারতের চাপকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। কিন্তু তাঁর কেবিনেটের কিছুলোক তাঁকে না যাওয়ার জন্যে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন। ভারতীয় হাই কমিশনার বিমান বন্দরে রানওয়ে পর্যন্ত গিয়েছিলেন শেষ অনুরোধ জানাবার জন্যে। কিন্তু তিনি শোনেননি। তিনি মনে করতেন তিনি স্বাধীন দেশের নেতা ও রাষ্ট্রপতি। স্বাধীন ভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা তাঁর আছে। আমি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ভাবে ঘটনাটা দেখেছি। শেখ হাসিনা এখন শেখ সাহেবের মতো স্বাধীন নন। বংগবন্ধুর নিহত হওয়ার পেছনে তাঁর স্বাধীন মনোভাব কাজ করেছিল। তিনি ছিলেন একজন জাতীয়তাবাদী বাংগালী মুসলমান নেতা। এমন স্বাধীন মনেভাবের নেতাকে ভারত প্রতিবেশী দেশের নেতা হিসাবে দেখতে চায়না। একই কারণে জিয়াউর রহমানকেও হত্যা করা হয়েছে। ভারত চায় বাংলাদেশ একটি অনুগত বাধ্য রাষ্ট্র হিসাবে টিকে থাকে থাকুক। যার নমুনা আমরা দেখেছি ২০০৬ সালের লাগিবৈঠার আন্দোলন থেকে ২০০৮ সালের নির্বাচন নাগাদ। তখন পিনাক রঞ্জন ছিলেন বাংলাদেশে দিল্লীর সুবেদার। তিনিই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন।
তাঁরই অবদান হচ্ছে ২০০৮ সালের নির্বাচন তার ফলাফল। যার ধারাবাহিকতা ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচন। ২০০৮ সালে খালেদা জিয়াকে বাধ্য করা হয়েছিল নির্বাচনে যেতে। তাঁর দুই ছেলেকে হত্যার হুমকী দেয়া হয়েছিল নির্বাচনে না গেলে। ভারতের জনগণ ও মিডিয়া জানে বাংলাদেশের শেখ হাসিনা হচ্ছেন সিকিমের লেনদুপ দর্জি।
বংগবন্ধু এ কাজটি কখনই করতেন পারতেন না। ফলে তাঁকে বিদায় নিতে হয়েছে। শেখ হাসিনা বংগবন্ধুর অবস্থা থেকে শিক্ষা লাভ করেছেন। তিনি ৭৫ থেকে ৮০ সাল নাগাদ ভারতের মেহমান হিসাবে দিল্লীতে ছিলেন। এখন তিনি ঢাকায় দিল্লীর একজন সুবেদার। দিল্লীর কাজ হচ্ছে যেমন করেই হোক শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখা। এবং তাঁর মাধ্যমেই দিল্লীর আকাংখা বাস্তবায়িত করা। ৪৮ সাল থেকে ভারত চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের সুযোগ খুঁজছিলো। এখন সে সুযোগ তারা পেয়েছে। ছোটখাট ,কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ আভ্যন্তরীন বন্দর গুলোও তাদের দখলে নিয়ে নিয়েছে। যা চাচ্ছে তাই পাচ্ছে। সীমান্তে নিয়মিত মানুষ মারছে, ফসল কেটে নিচ্ছে, গরু ছাগল নিয়ে যাচ্ছে। নদীর পানি আটকে দিচ্ছে। সীমান্তে বহু যায়গা দখল করে নিয়েছে।
অপরদিকে রাজনীতির মাঠ থেকে থেকে খালেদা জিয়া বা ইসলামী ভাবধারাকে মুছে দেয়ার সকল ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছে। শেখ হাসিনার এক কথা আমাকে ক্ষমতায় না রাখলে জংগীবাদের উত্থান হবে। শেখ হাসিনার কেবিনেট মন্ত্রীরা ২৪ ঘন্টা গলাবাজি করছেন, খালেদা জিয়া সন্ত্রাস, মানুষ হত্যা, বাস পোড়ানোের জংগী নেত্রী। শেখ হাসিনা পশ্চিমা দেশগুলোকে বুঝাবার চেষ্টা করছেন যে খালেদা জিয়া মানেই আইএস জংগী। তিনি বলছেন, বাংলাদেশের মানুষ আগে উন্নয়ন চায়, পরে গণতন্ত্র। নির্বাচন কোন বড় বিষয় নয়।
শেখ হাসিনা বংগবন্ধুর নাম ব্যবহার করছেন। জনগণের কাছে তাঁর ভুল ইমেজ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন। রামায়নের ভরতের খড়ম সিংহাসনে রেখে দেশ শাসন করে যাচ্ছেন। আমাদের সংবিধান তাঁকে মোগল, পারস্য , জার ও রোম সম্রাটদের ক্ষমতা ব্যবহারের অধিকার দিয়েছে।তিনি একজন সিভিল ডিক্টেটর। তিনি মনে করেন, ‘সি ইজ দা ল’।
বংগবন্ধুও মনে করতেন তিনিই গণতন্ত্র,দেশের স্বার্থে তিনি ভাববেন সেটাই আইন। তিনি বাহিনী দিয়ে দেশ চালাবার চেষ্টা করেছেন, তিনি সামরিক বাহিনীকে অবজ্ঞা করে রক্ষী বাহিনী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মহা বিশ্বস্ত তোফায়েল সাহেবকে রক্ষী বাহিনীর প্রধান করেছিলেন। বংগবন্ধু ভাবতেন, তিনিই বাংলাদেশ, তিনিতো সবকিছুই দেশবাসীর কল্যানে করছেন। এ চিন্তা থেকেই তিনি একদল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ভিন্ন মত প্রকাশের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছিলেন। সকল পত্রিকা ও দল বন্ধ করে দিয়েছিলে। রাশিয়া তাঁকে অন্ধভাবে সমর্থন করেছে। কিন্তু বিপদের দিনে রাশিয়া বা ভারত কেউ সাহায্যে এগিয়া আসেনি। তাজউদ্দিন সাহেবকে কেবিনেট থেকে বিদায় করে তিনি ভারতের বিরাগ ভাজন হয়েছেন এবং পশ্চিমা দেশ গুলোকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করেছিলেন। তাজ উদ্দিন সাহেব সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে বিশ্বাস করতেন। কিছুদিন তিনি সমাজতান্ত্রিক নেতার অভিনয় করেছেন রাশিয়া ও ভারতকে খুশী করার জন্যে।
বংগবন্ধু কোন কূট কৌশলে বিশ্বাস করতেন না। তিনি যা করেছেন সরল বিশ্বাসেই করেছেন। তাতে দেশবাসীর অকল্যাণ হয়েছে। দেশের অর্থনীতি ক্ষতি হয়েছে। দেশ দুর্ভিক্ষ হয়েছে। আমলা ও কিছু সমাজতন্ত্রী তাঁকে ভুল বুঝিয়েছিল। তাঁর ভিতর শাসকের গুণ ছিলনা। তিনি সব কিছুই আবেগ ও হৃদয় দিয়ে বিবেচনা করতেন, মাথা বা বুদ্ধি দিয়ে নয়। তিনি চাটুকার পরিবেষ্টিত থাকতে ভালবাসতেন। শেখ মণি লিখেছিলেন, আইনের শাসন নয়, মুজিবের শাসণ চাই। চাটুকারদের শ্লোগাণ ছিল, এক নেতা এক দেশ, বংগবন্ধু বাংলাদেশ। বড়ই দু:খের বিষয় হলো,তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর চাটুকার ও ভক্তরা সব পালিয়ে গেছে।
শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে অনেক পাকা। তিনি কেবিনেটে অর্ধেকের বেশী ভারতপন্থীকে রেখেছেন ভারতকে খুশী রাখার জন্যে। কিছুলোককে তিনি মন্ত্রী বানিয়ে রেখেছেন যেন তাঁরা ২০০৭-৮ এর মতো ষড়যন্ত্র করতে না পারেন। ভারতের নীতি হলো দমন করো, আরও কঠোর ভাবে দমন করো এবং ক্ষমতায় থাকো। আর জংগীবাদের মাতম করে সবার সমর্থন আদায় করো। ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রমান করেছে নির্বাচনে ভোট লাগেনা। মিশরের আল সিসি এক ধাক্কায় নির্বাচিত সরকারকে উচ্ছেদ করেছে। কেউ টু শব্দ করেনি। এমন নির্বাচন বাংলাদেশে কখনই হয়নি। এমন নির্বাচনকে আমাদের সংবিধান ও ভারত কঠোর ভাবে সমর্থন করেছে। তাই এখন শেখ ক্ষমতায় আছে এবং ২০১৯ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে চায়।
২০১৩-১৪ সালের জানুয়ারী নাগাদ বাংলাদেশে ৪/৫শ’ মানুষ নিহত হয়েছে। এমন রাজনৈতিক দমন এদেশে আর কখনই হয়নি। এখনতো বিরোধী দলের আন্দোলনকে জংগী সন্ত্রাসী হিসাবে প্রমান করার জন্যে জ্বালাও পোড়াও চলছে। স্বাভাবিক রাজনীতি বন্ধ রয়েছে। বিরোধী দলের মত প্রকাশের কোন সুযোগই এখন নেই। প্রধানমন্ত্রী দিনরাত চব্বিশ ঘন্টা বলে যাচ্ছেন বাংলাদেশের চলমান আন্দোলন জংগীদের আন্দোলন। এর শাথে আলকায়েদা বা আইএস জড়িত আছে। সরকারী দল নিজেদের সেক্যুলার বা ধর্মহীন প্রমান করার জন্য সংবিধান সংশোধন করে
আল্লাহর নাম বাদ দিয়েছে। সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ বাদ দেয়া হয়েছে। আওয়ামী পন্থী বুদ্ধিজীবীরা বলছেন মাদ্রাসা ও মসজিদ গুলো থেকে জংগীবাদের জন্ম হয়। জেহাদের বই এর নামে মূল্যবান ধর্মীয় গ্রন্থ বাজেয়াপত্ করা হচ্ছে। এর দ্বারা ভারত ও পশ্চিমাদেশ গুলো খুশী হয়।
বংগবন্ধু জীবিত থাকলে কখনই তথাকথিত সেক্যুলারিজমের নামে শেখ হাসিনা যা করছেন তা করতে পারতেন না। বংগবন্ধুই বাংলাদেশ হওয়ার পর ইসলামিক একাডেমীকে ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করে আল্লামা আবুল হাসেম সাহেবকে ডিজি করেছিলেন। আবুল হাসেম সাহেব ছিলেন অখন্ড বাংলাদেশ মুসলীম লীগের সাধারন সম্পাদক। বংগবন্ধুর আমলেই বাংলাদেশ ওআইসির সদস্যপদ লাভ করেছে। সউদী আরব ও চীন ছাড়া বেশীর ভাগ দেশ স্বীকৃতি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে। বংগবন্ধুর আমলেই বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করেছে।
আমরা যারা ঘনিষ্ঠ ভাবে বংবন্ধুর নৈকট্য লাভ করেছি তারা সকলেই জানি তিনি নরম হৃদয়ের মানুষ ছিলেন। রাজনীতি বাদ দিলে তিনি ছিলেন শাহজাহানের বড়ছেলে দারাশিকোহর মতো। গাফফার চৌধুরী বলেছিলেন রাখাল রাজা পদবী দিয়েছিলেন। মোঘল বাদশাহদের সাথে তুলনা করলে তাঁকে কিছুটা সাথে তুলনা করা যায় আর জিয়াউর রহমানকে ঔরংজেবের সাথে তুলনা করা যায়। শাসক হিসাবে তিনি সফল ছিলেন না। এদিক থেকে বিচার করতে গেলে শেখ হাসিনা একশ’ভাগ সফল। তিনি তাঁর লক্ষ্যের ব্যাপারে একেবারেই স্থির। সেনা সমর্থিত সরকারটি তাঁরই ছিল। সে সরকারটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ভারতীয় দূত পিনাক রঞ্জণ। ফলে তিনি আজও ক্ষমতায় আছেন। আরও থাকার ইচ্ছা আছে। তাঁর আমলে যত রাজনৈতিক গুম খুন হয়েছে বাংলাদেশের ৪৪ বছরে আর কারও আমলে। শাসক হিসাবে তিনি কঠোর হাতে এসব মোকাবিলা করে যাচ্ছেন। তাঁর আরেকটি বড় সাফল্য তিনি এক দংগল বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিককে পৃষ্ঠপোষকতা দেন যাঁদের কোন বিবেক নেই। তিনি তাঁর পিতার কঠোর সমালোচক ও হত্যার প্রচেষ্টাকারীদের পারিষদ করেছেন। দিনরাত তাঁরা এখন হাসিনা হু আকবর বলে জিকির করে যাচ্ছে। দেশে চরম অশান্তি সৃষ্টি করে তিনি খুব সফলতার সাথে দেশ শাসন করছেন।আন্তর্জাতিক মতামতকে তিনি কোন তোয়াক্কা করেন না। সেটা ম্যানেজ করার দায়িত্ব ভারতের। তিনি হাসতে হাসতে প্রতিপক্ষকে দমন করে যাচ্ছেন। রাজনীতিকে তিনি নাটক ও কৌতুক মনে করেন।
লেখক: কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
ershadmz@gmail.com


রাষ্ট্র বনাম অনুগত প্রজা / এরশাদ মজুমদার

এ ধরণের শিরোনামের কারণ নিয়ে আমি খুবই ভাবি। প্রায় প্রতিক্ষনই ভাবি এ রাষ্ট্রটা কি এবং কেন? আমি এ রাষ্ট্রের কে? কি জন্যে রাষ্ট্রের প্রয়োজন? রাষ্ট্র আমার জন্যে কি করে আর আমি রাষ্ট্রের জন্যে কি করি? বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে আমার চিন্তার ধারা এ রকমই। মাতৃভুমি আর স্বাধীনতাকে ভালবাসি বলেই ৭১ সালে আমি জীবন বাজি রেখেছিলাম। নিজের মৃত্যুর খবর নিজেই শুনেছি লোকমুখে। স্বাধীনতাই নাকি রাষ্ট্রের জন্ম দেয়। সে রাষ্ট্র মানুষের মুক্তির স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করে। না আমার সে স্বপ্ন আর বাস্তবায়িত হবে বলে মনে হচ্ছে না। এ রাস্ট্র আমার কাছে অচেনা।
আমি এমনিতেই খুবই আবেগী মানুষ। আমার আবেগ আমার চিন্তাধারাকে প্রভাবিত করে। আমার জন্ম মার্চ বা ফাল্গুণ মাসে। এ মাসের জাতকরা নাকি সব কিছুই হৃদয় দিয়ে দেখে ও বিবেচনা করে, বুদ্ধি দিয়ে নয়। নিজের আবেগকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে আমি সারা জীবন কষ্ট পেয়েছি। আমার পরিবার পরিজন বন্ধুগণ আমায় চিনতে পারেনা। আমি ভাবি দুনিয়ার সব মানুষই কি আমার মতো ভাবে? আমাকে একটু সম্মান করে আদর করে কেউ কথা বললে আমিই ধরে নিই যে তিনি খুবই ভাল মানুষ। ৫০এর দশকে ৬০ ভাগ ভাল মানুষ ছিলেন প্রায় সব খানে। তারও আগে বাবাদের আমলে ৮০ ভাগ মানুষ ভাল ছিলেন। দাদাদের আমলে বা তারই আগে ৯৫ ভাগ মানুষ ভাল ছিলেন। সে সময়ে জমি জমা বেচাকেনা হত মৌখিক। দলিল ছিলনা। কারণ, মানুষ সহজ সরল ছিলেন আর একে অপরকে বিশ্বাস করতেন। আখেরাতের কথা ভেবেই মানুষ মন্দ কাজ করতোনা। ৫০ সাল ছিল আমার বাল্যকাল। এখন আমি বৃদ্ধ। চারিদিকে ৯০ ভাগ মানুষ নষ্ট হয়ে গেছে বলেই আমার মনে হয়। কেউ কাউকে বিশ্বাস করেনা। সবাই সবাইকে ঠকাবার কাজে ব্যস্ত। অন্যায় অবিচারের পথে অর্থ বিত্ত সহায় সম্পদ আহরনের কাজে সবাই ব্যস্ত। মানুষ সত্‍ আর অসত্‍ কাজে মাঝে কোন ফারাক দেখতে পায়না। জন্মের মাসের কারণে আমি সীমাহীন আবেগী মানুষ সে কথা আগেই বলেছি। ডাক্তার বলেন বেশী আবেগে শরীর খারাপ করবে। বেশী আবেগে হার্ট এ্যাটাক হতে পারে। আবেগের কারণে আমার পক্ষে কখনই শাসক হওয়া সম্ভব ছিলনা। এমন কি সংসারেও আমি কর্তা নই। আমার বিবিজান সবই করেন। এর কারণ, আমি বুঝতে পারিনা এ জগত সংসারে কোন কাজটা আগে করা দরকার বা পরে করলেও চলবে। প্রায়োরিটি এক্সপেনডিচার বিষয়টি বুঝতে পারিনা। আমি নিজের দেনা শোধ না করে কেউ চাইলে ধার দিয়ে দিই,অথবা গরীব কাউকে দান করে ফেলি। আমার বিবিজান বলেন,সংসারে আমি একজন মেহমান। আমি নাকি ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াই। নোয়াখালিতে বলে ঘরের খেয়ে মসজিদে আজান দেয়।
এর মানে জগত সংসারে আমার মতো মানুষের কোন প্রয়োজন নেই। এমন একজন অপ্রয়োজনীয় মানুষ কেমন করে আজও বেঁচে আছি আমি বুঝতে পারিনা। আমার দ্বারা জগতের কি উপকার হয়েছে? খোদা আমাকে কেনইবা সৃষ্টি করেছেন? বংগবন্ধুর জন্ম ১৭ই মার্চ। তিনিতো জগত বিখ্যাত মানুষ। আমি খুব কাছে থেকে তাঁকে দেখেছি। তিনিও আবেগী ছিলেন। তাঁর সাহস ছিল। তিনি কোন কিছুকেই ভয় পেতেন না। ফলে তিনি তাঁর বন্ধু ও মুরুব্বীদের পিছনে ফেলে সামনে এগিয়ে গেছেন। ঠিক বেঠিক চিন্তা করেননি। যা ভাল মনে করতেন তাই করার জন্যে এগিয়ে যেতেন। কিন্তু আমি পারিনি, কারণ আমার তাঁর মতো সাহস ছিলনা। তবে আমি ব্যাক্তিগত মান মর্যাদা রক্ষার জন্যে জীবন দিতে পারি। আমার সম্মানের কাছে জগত কিছুইনা। তবুও আমি বুঝতে পেরেছি জগত সংসার বা সমাজ কখনই আমার মনের মতো হয়নি। রাস্ট্র বা সমাজ কখনই আমাকে মানুষ হিসাবে সম্মান করেনি। বরং আমি অবিরাম অত্যাচারিত হয়েছি। সমাজের নিয়ম কানুন তৈরি হয়েছে ক্ষমতাবান শক্তিশালী মানুষের দ্বারা। আইন বা নিয়ম কানুনের লক্ষ্য হলো ক্ষমতাবানদের ক্ষমতা রক্ষা করা আর প্রজা নামক মানুষদের দমন করে অনুগত রাখা। বাদশাহী যুগ থেকে হাল আমল পর্যন্ত আইন কানুন, নিয়ম নীতি একই ধারায় চলে আসছে। তবে নিষ্পেশিত নির্যাতিত মানুষের বিদ্রোহ ও বিপ্লবের কারণে আইন কিছুটা রূপ বদলিয়ে মানবিক হওয়ার মুখোশ পরেছে। মোঘল আমলে আমরা প্রজা ছিলাম ,এখনও প্রজা আছি। আমাদের রাষ্ট্রের নাম প্রজাতন্ত্রী। জনগণতান্ত্রিক নয়। কারণ, এখনও যাঁরা আইন প্রণয়ন করেন তাঁরা একটি গোষ্ঠি। এদের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য প্রজাকে ভয় ভীতি দেখিয়ে নিজেদের অধীনে রাখা। সে জন্যে শাসকরা নানা বাহিনী তৈরি করেছেন প্রজা দমনের জন্যে। প্রজাদের আবার আদর করে নাগরিক(সিটিজেন) নাম দেয়া হয়েছে। বাদশাহরা প্রজা কল্যাণের নামে আইন বানাতেন। ইংরেজরা ও দখলদার হিসাবে প্রজা দমনের জন্যে কোতোয়াল বা পুলিশ বাহিনী তৈরি করেছে। ফলে লাঠি ডান্ডা বেত আইনের প্রতীক হিসাবে গড়ে উঠেছে। যদিও এখন আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয় প্রজা নিপীড়নের জন্যে। সমাজ রাজ্য ও রাষ্ট্রে খাজনা আদায়ের ব্যবস্থা সুপ্রচাীন কাল থেকেই চলে আসছে।। প্রজার ফসল বা আয় রোজগার থেকেই কোতোয়ালদের বেতন দেয়া হয় শান্তি শৃংখলা রক্ষার নামে প্রজাকে দমনের জন্যে। প্রয়োজনে খাজনা আদায়ের জন্যে সিপাহীরা প্রদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করতো। তাঁদের গরু ছাগল, হাস মুরগী , বাসন কোষন লুটকরে নিতো। অনেক সময় অন্য প্রজাদের ভয় দেখাবার জন্যে প্রকাশ্যে হত্যা করা হতো। ইংরেজ আমলে এ অত্যাচার সবচেয়ে বেশী ছিল।
আমাদের এ বাংলাদেশটি মানে এই ভুমিটি হাজার বছর ধরে বিদ্ধমান। বাংগালী মুসলমানের রাষ্ট্র তৈরি হয়েছে ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে। উদ্দেশ্য ছিল আমরা অমানবিক অত্যচারী রাষ্ট্র পাকিস্তানের কাছ থেকে মুক্তি পাবো।। এখন আমরা স্বাধীন। পাকিস্তান নাই, বিদেশী কেউ নাই। কিন্তু অত্যাচারের সকল আইন এখনও বলবত্‍ আছে। হাজার চেষ্টা করে পুলিশী আইন ৫৪ ধারা বাতিল করা যায়নি। কারণ নাকি রাষ্ট্রকে বাধ্য হয়ে অত্যাচার করতে হয়। পুরাণো সকল অত্যাচারী আইন ও ব্যবস্থা এখনও জারী আছে। শুধু বাংলাদেশ নামে একটি রাষ্ট্র হয়েছে। এ রাষ্ট্রের একটি ভুখন্ড আছে, যা হাজার বছর আগেও ছিল। নতুন হয়েছে একটি গাণ, একটি পতাকা,জাতিসংঘের সদস্যপদ। শুধু ব্যতিক্রম শাসকরা বাংলায় কথা বলেন। শাসকরা হলেন পরিচিতজনের পোলা বা নাতিরা। বলুনতো দেখি, দেশের রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর সাথে ক’জন নাগরিক দেখা করতে পারেন। কারণ তাঁরা প্রজা, শাসক গোষ্ঠি বা দলের কেউ নয়। প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি রাস্তায় নামলে রাস্তা খালি করে দিতে হয়। ফলে চারিদিকে সব থেমে যায়। এসব বাদশাহী আমলেও ছিল। এর মানে আধুনিক প্রজাতন্ত্র আর বাদশাহী বা সাম্রাজ্যের মধ্য কোন আমি কোন ফারাক দেখতে পাইনা। বাদশাহী বা ইংরেজ আমলে একজন সিপাহী একজন প্রজার পাছায় যে কোন সময়ে লাথি বা ডান্ডা মারতে পারতো। হাতকড়ি পরিয়ে ধরে নিয়ে যেতে পারতো। এখনও পারে। কারণ, প্রজা বা নাগরিকরা নাকি রাষ্ট্রকে এসব ক্ষমতা দিয়েছে। এখনতো কোতোয়ালরা দাবী করেছেন তাদের হেফাজতে কেউ মারা এলে তাদের বিরুদ্ধে যেন কোন মামলা না হয়। তারাতো বাদশাহ নামদারের গদি রক্ষার জন্যেইতো প্রজার পাছায় ডিম ঢুকায়, বেশী আদর যত্নে যদি কাহিল হয়ে যায় তাহলে কবিরাজের কাছে নিয়ে যান। সবকিছুই করেন তারা আইনের ভিতর থেকে।
আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় প্রজারা ভোটের নাটক করেন। এই নাটকেই নেতা(বাদশাহ/প্রধানমন্ত্রী ) নির্বাচিত হন। আধুনিক ভাষায় নেতা বলা হয়। বাদশাহর পারিষদকে এখন সংসদ বলা হয়। এ সংসদের প্রধান থাকেন একজন প্রধানমন্ত্রী যিনি বাদশাহর ক্ষমতা ব্যবহার করেন। আর যে কোন বিষয়ে সংসদ সদস্যরা হাঁ বলে তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। বাদশাহ দরবারে এলে পারিষদরা কোমর বাঁকিয়ে কুর্নিশ করতেন, এখনও তা করা হয়। বাদশাহ হুজুরের(প্রধানমন্ত্রী) বিরুদ্ধে কিছু বললে সংগে সংগে গ্রেফতার। এদেশে আল্লাহ এবং নবীজীর(সা) বিরুদ্ধে কিছু বললে কোন শাস্তির ব্যবস্থা নই। মেজরিটি মানুষের বিশ্বাসকে আঘাত করলে রাষ্ট্র কিছু করেনা। ফলে মুক্তমনা যুবকদের জন্ম হয়েছে। এদের বাপদাদারা সবাই মুসলমান। এর মানে রাস্ট্র মেজরিটি মানুষের কথা শুনেনা। অথচ এদেশ নাকি একটি গণতান্ত্রিক দেশ।
আমি বিশ্বাস করি দুনিয়ার মালিক আল্লাহতায়ালা। তিনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন,আর তিনিই আমাকে ফিরিয়ে নিবেন। জন্ম থেকে ইন্তিকাল(স্থানান্তর) বা মরণ পর্যন্ত সময়টা আল্লাহ নির্দেশিত পথে চলার হুকুম রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের সংবিধান বলে মানুষ সার্বভৌম, আল্লাহ নয়। সংবিধান ও সংসদের আনুগত্য কর, আল্লাহকে নয়। শাসক আল্লাহর আনুগত্য না করলেও কিছু আসে যায়না। বাংলাদেশের সংবিধানে মানুষকে সার্বভৌম বলাটাও এক ধরনের ভন্ডামী। বাস্তবে এ ধরনের কোন সার্বভৌমত্ব কোথাও নাই। কথায় বলা হয়, জনগণ সার্বভৌম, জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। বুকে হাত দিয়ে বলুন,আপনি কি কখনও অনুভব করেছেন আপনি এদেশের মালিক। আমি কখনও অনুভব করিনি। এমন কি কখনও ভাবিওনা। আমিতো সবখানেই সব সময় লাঞ্ছিত, অবহেলিত, অপমানিত। তহশীল অফিসে খাজনা দিতে গেলে উমেদার অপমান করে। খাজনা ৫০ পয়সা হলে দাবী করে পাঁচ টাকা। হয়ত বলে দিল তোমার নামে খতিয়ান নাই। লেখাপড়া না জানা প্রজা তখনই তহশীলদারের পা ধরে কান্নাকাটি করেন। তখনি দয়ার সাগর তহশীলদার সাহেব বললেন, যা,গরু বেচে টাকা নিয়ে আয় সব ঠিক করে দেব। বাদশাহর জামানায় তহশীলদার যেমন ছিলেন এখনও তেমন আছেন। বিপদের সময় থানায় যান দেখবেন থানাদার চোর গুন্ডাদের নিয়ে মশগুল আছেন। সেখান আপনার কথা শোনার মতো কেউ নেই। আমাদের দেশে একটি গল্প আছে ‘বাঘে ছুঁলে ১৮ঘা আর পুলিশে ছুঁলে ৩৬ঘা’। তাই সত্য কথা বলার জন্যেও কেউ থানায় যায়না। থানাদারের আইন গুলো তৈরি করেছেন ইংল্যান্ডের রাণী বা রাজা। কারণ প্রজা বা স্বাধীনতাকামীদের দমনের জন্যে এমন আইনই দরকার। সে আইন এখনও বলবত্‍ আছে। আপনি নাকি এ রাষ্ট্রের মালিক। কথাটা কি আসলেই সত্য? আপনিই বলুন এদেশ কোন সরকারী অফিসে আপনি সম্মানিত? কোন সরকারী অফিসের উপর আপনার আস্থা আছে? কোন সরকারী অফিসে ঘুষ বা দুর্ণীতি নেই?
শুরুতেই আমি বলেছি, আমি একজন সীমাহীন আবেগী মানুষ। নিজের জীবনেই অনুভব করেছি রাষ্ট্রটা আমার দেহকে অত্যাচারের খাঁচায় বন্দী করে ফেলেছে। অন্তর মন বা রূহের ভিতর খোদা আর বাইরে সমাজ রাষ্ট্র ও বাদশাহী আইন। রূহ বলে বিদ্রোহ কর ফেরাউনী আইনের বিরুদ্ধে ,কিন্তু দেহ বলে দরকার কি,দেহটাকে রক্ষা করো। সবাইতো দেহ রক্ষা করেই চলছে। বাদশাহ যদি আল্লাহর কথা না শোনে তুমি হিজরত করো না হয় আল্লাহপাকের পানা চাও। আমিতো মোনাফেক হতে চলেছি। দেহকে নিয়ন্ত্রণ করে রাষ্ট্র, মনকে নিয়ন্ত্রণ করেন খোদা। কোথায় সত্য বলবো। বাংলাদেশ এমন একটি যায়গাো নেই যেখানে সত্যের কোন স্থান আছে। আমিতো এমন সব মানুষ দেখি যাঁরা অবসরের পর দিনরাত আল্লাহ আল্লাহ করছেন। বাসা থেকে বেরিয়ে মসজিদে যান আর বাসায় ফিরে আসেন। সব কিছু থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। বাইরের কোন ঘটনাই তাঁর মনে কোন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেনা। তাঁর মেয়েটাকে গুন্ডারা তুলে নিয়ে গেছে তবুও তাঁর ভাবের কোন পরিবর্তন নেই। তিনি থানায়ও যাননি। তিনি জানেন কোথাও কোন বিচার নেই।
জানিনা, এদেশে কখনও মানব ও মানবতার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে কিনা। আইন গুলো কখনও মানবিক হব কিনা। চলমান রাষ্ট্র ব্যবস্থার উপর আমি সকল আস্থা হারিয়ে ফেলতে চলেছি। শুধু প্রার্থনা করি, হে খোদা আমি তোমার অনুগত বিশ্বস্ত গোলাম। আবেগে এতই কারত হয়ে পড়েছি যে জীবনটাকে আর টেনে নিয়ে যেতে পারছিনা। রূহের বাহন জরাজীর্ণ এদেহের আর কি প্রয়োজন বুঝতে পারিনা। আমিতো রাজনীতি করিনা। রাজনীতি বাদশাহর ধর্ম। কারণ,বাদশাহী রক্ষা করার জন্যে মোনাফেকী বাদশাহর ধর্মে পরিণত হয়েছে। বাদশাহ ভাবেন প্রজারা যে কোন সময় তাঁর গদি কেড়ে নিতে পারেন। তাই সেনাপতি কোতোয়ালই তাঁর একমাত্র ভরসা। তাঁরাই একমাত্র দেশ প্রেমিক। তাই বাদশাহ বাহিনীদের মাসোয়ার বাড়িয়ে যাচ্ছেন প্রতি নিয়ত। বাইবেলে পড়েছি রাজস্ব আদায়কারীর খাজনা আদায়ের নামে প্রজাদের উপর অত্যাচার করে। ঈসা(আ)কে নাকি ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে ওই কারণে। তিনি বলেছিলেন, ঈশ্বরের রাজ্যে বাস করো আর ঈশ্বরের পাওনা শোধ করো। রোমান গভর্ণর এই অভিযোগ এনেই যিশুকে ক্রুশে চড়িয়েছেন।
আমিতো অত্যাচারী রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কখনই বিদ্রাহ করিনি। আমি বাধ্য হয়েই একজন অনুগত প্রজা। তবুও রাজস্ব বিভাগের কর্মচারীরা আমার ক্লান্ত দেহ ও মনের উপর অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। তারা বলেন রাজাকে রাজার পাওনা দাও আর আমাদের পাওনা আমাদের বুঝিয়ে দাও। আমরাতো মহান রাজার প্রেমিক কর্মচারী। আমরাইতো মহান রাজাকেই রক্ষা করি। অত্যাচারী রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সকল উন্নয়নই শোষণের হাতিয়ার। একজন রাজকর্মচারী কখনই দরিদ্র হন না। কারণ, তিনি ঢেউ গুনলেই প্রসাদ তৈরি হয়ে যায়। কেউ যদি একবার রাজার পারিষদ হন তিনি চৌদ্দ পুরুষ বসে খেতে পারবেন। আর আমি টু শব্দও করিনা।

লেখক: কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
ershadmz@gmail.com


দেশে বিদেশে সবাই জানেন চলমান সংকটের কারণ কি? এমন বংগবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাও জানেন। দলীয় সরকারের অধীনে বিএনপি জামাত সহ ২০ দলীয় জোটের কেউও ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনে অংশ গ্রণ করেনি। কারণ, শেখ হাসিনা সংসদে মেজরিটির জোরে নির্বাচন কালীন সময়ে নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থাকে উত্‍খাত করেছেন। নির্দলীঞ সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা চলু করার জন্যে শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে জ্বালাও আন্দোলন করেছিলেন। এর আগে ১৯৯০ জেনারেল এরশাদের পতনের পরে সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করার জন্যে আওয়ামী লীগ চাপ সৃষ্টি করেছিল। সবাই মিলে বিচারপতি সাহাবুদ্দিন সাহেবকে অন্তর্বর্তী সরকারের রাস্ট্রপতি মনোনীত করা হয়। জেনারেল এরশাদকে ক্ষমতায় এনেছিল ভারত আর সমর্থন করেছে শেখ হাসিনা। এরশাদের পুরো নয় বছর শেখ হাসিনা পর্দার অঞ্চলে তাকে সমর্থন দিয়ে গছেন । কারণ,এরশাদ ছিলেন দিল্লীর লোক। এখনও তাঁদের অবস্থানের কোন পরিবর্তন হয়নি। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলছিলেন বেগম জিয়া। যখন শেখ হাসিনা বুঝতে পারলেন এরশাদকে আর রক্ষা করা যাবেনা তখনই তিনি বিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন


অভিজিত হত্যা একটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক দু:খজনক ঘটনা।আমি অন্তর থেকে এ হত্যাকান্ডের নিন্দা করছি। অভিজিত একজন শিক্ষিত মুক্তমনের মানুষ। বিদেশে থাকেন। মুক্তমন নামের একটি ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা। সালমান রুশদী যেমন মুক্ত মন নিয়ে ‘স্যাটানিক ভার্সেস’ নাম একটি বই লিখে জগতজোড়া নাম কামিয়েছেন। এরপরে বাজারে তার দামও বেড়েছে। বৃটিশ সরকার তাঁকে নানা ধরণের সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন। বড় বড় মঞ্চে সম্মানিত অতিথি হিসাবে আপ্যায়িত হচ্ছেন। লেখক হিসাবে তিনি বড় মাপের লেখক। শয়তানের কবিতা বা শয়তান কাব্য না লিখলেও তিনি বড় লেখক থাকতেন। তবুও তিনি শয়তানের কাব্য লিখেছেন। যখন বইটি নিয়ে বিশ্ব ব্যাপী হইচই পড়েছে, তখনও আমি লিখেছিলাম চৌদ্দশ’ বছর ধরেইতো জগতের শ্রেষ্ঠতম মানুষ নবীজীর(সা) বিরুদ্ধে কিছুলোক লিখে চলেছেন। অনেকেই আল্লাহপাকের বিরুদ্ধে লিখেও নাম কামাচ্ছেন। এতে আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের(সা) কিছু আসে যায়না।
ব্যক্তিগত জীবনে একজন ধার্মিক মানুষ মুক্তমনের হতে পারেন। অন্তত আমি তাই মনে করি। একজন অবিশ্বাসী মানুষও ভাল হতে পারেন। আবার বিশ্বাসী মন্দ হতে পারেন। বহু লেখাপড়া জানা মানুষকে আমি মন্দ হতে দেখেছি। স্টিফেন হকিন্স জগত বিখ্যাত একজন বিজ্ঞানী। তিনি তিনি জগতের সৃষ্টি নিয়ে ভাবেন। জগতের সব মানুষই তাঁকে সম্মান করেন। তিনি কখনও স্রষ্টাকে বা ধর্মকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেননি। তাঁর মতো জগত বিখ্যাত আরও অনেক মুক্তমনের মানুষ ছিলেন যাঁরা কখনই ধর্মকে নিয়ে তামাশা করতেন না। মুক্ত মনের মানুষ মানেইতো হচ্ছে উদার মনের মানুষ। যাঁরা পর মত বা বিশ্বাসকে সব সময় সম্মান করেন। আমি মাঝে মাঝে বিদেশী নাস্তিক ও যুক্তিবাদীদের ওয়েব সাইত ভিজিট তাঁদের যুক্তি গুলো জানার জন্যে। এদের বেশীর ভাগই যুবক। এদের ভিতর খুব অল্প ক‘জনকে দেখেছি বাজে কথা বলেন ও গালমন্দ করেন।
এক সময়ে ইসলামে মুতাযিলা নামের একটি গ্রুপ ছিল। এরা ছিলেন যুক্তিবাদী। বিনা প্রমাণে কিছুই গ্রহণ করতেন না। আব্বাসিয়া আমলে এদের বিকাশ হয়েছিল । এ চিন্তাধারার মানুষ এখন জগতে নেই। এ্ঁরা বলতেন , জ্ঞান লাভের প্রধান হাতিয়ার হলো জি্জ্ঞাসা করা। ইসলামে জ্ঞানার্জনকে ফরজ বা বাধ্যতা মূলক করা হয়েছে। ইসলামের মূল মন্ত্র হচ্ছে মানবতা, মানব সেবা। আমি মনে করি স্রষ্টা হচ্ছেন জ্ঞানের প্রতীক। তাই মানুষকে জ্ঞান সাধনা করতে হবে। দার্শনিক সক্রেটিস বলেছেন, know thyself. নিজেকে চিনো। আর ইসলাম বলে, ‘মান আরাফা নাফসা, ‘ফাক্বাদ আরাফা রাব্বা। এর মানে, আগে নিজে চিনো’, তাহলেই তুমি প্রভুকে জানতে বা চিনতে পারবে। আমাদের বাংলাদেশের তথাকথিত জ্ঞানী সমাজ নিজেকে চিনেনা। কারণ,জ্ঞান সাধনা না করেই সমাজে সম্মানিত। হজরত আলীকে(রা)প্রশ্ন করা হয়েছিল, সমাজ বা দেশ অসুস্থ হয়ে গেছে কিভাবে জানা যাবে। তিনি বলেছিলেন, যে সমাজে দরিদ্ররা ধৈর্যহারা হয়ে গেছে, ধনীরা কৃপণ হয়ে গেছে। জ্ঞনীরা পালিয়ে গেছেন, মুর্খরা মঞ্চে বসে থাকে, বিচারকরা রাজা/খলিফার তাবেদারী করেন ও রাজা মিথা কথা বলেন। আপনারা নিজেরাই ভাবুন আমাদের প্রিয়তম মাতৃভুমি/রাষ্ট্র এখন কেমন আছে।
বাংলাদেশে ব্লগার শব্দটির এক ধরনের নেগেটিভ বা নেতিবাচক ইমেজ তৈরি হয়েছে। পরমত বা ধর্ম বিশ্বাসকে গালমন্দ করে কিছু শিক্ষিত তরুণ কিছু ব্লগ তৈরি করে লেখালেখি করেছে। শুনেছি ,সরকার নাকি ওসব ব্লগ বন্ধ করে দিয়েছে। অভিজিত একজন ইঞ্জিনিয়ার ও বিজ্ঞান বিষয়ক লেখক। এখন তাঁর নাম হয়ে গেছে ব্লগার অভিজিত। কেমন যেন মনে হয় তাঁর বোধ হয় আর কোন পরিচয় নেই। তিনি আমেরিকায় থাকেন, মাঝে মাঝে বাংলাদেশে আসেন। সমমনা বন্ধুদের সাথে দেখাশোনা করেন। আবার আমেরিকায় ফিরে যান। আমাদের দেশের রাজনীতি ও সংস্কৃতিতে মুক্তমনাদের দাম বা কদর বেশী। অভিজিতকে দেশে বিদেশে এখন হৈচৈ চলছে। এমন প্রতিক্রিয়া সাধারনত দেখা যায়না। এ ব্যাপারে পশ্চিমা জগতের সাথে আমাদের দেশের মুক্তমনারা এক কাতারে। এর পিছনে নিশ্চয়ই কোন কারণ আছে। সে কারণটা কি? চলমান সময়ে বা চলতি সপ্তাহে অভিজিত বিশ্বের এক নম্বর ব্যক্তি। সউদী আরবে এক ব্লগারকে সউদী আদালত দশ বছর জেল ও এক হাজার বেত্রাঘাত শাস্তি দিয়েছে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে এ শাস্তির নিন্দা করি। এ ব্যাপারে পশ্চিমা মিডিয়া অনেক লেখালেখি করছে। কিন্তু সরকার গুলো চুপ। কারণ, ঘটনাটা সউদী আরবের। কেউ সউদী বাদশাহকে ঘাটাতে চায় না। বাদশাহর বন্ধুত্বকে কেউ অবহেলা করতে চায়না। সউদী সরকার সেক্যুলার বা ধর্মহীন নয়। বাংলাদেশ সরকার সেক্যুলার। তাই ভারত সহ পশ্চিমা বিশ্ব বাংলাদেশে এমন সরকার দেখতে চায়। এটা আদর্শ , দর্শণ স্বার্থগত ব্যাপার।
গত বছর কিছুদিনের জন্যে আমি আমেরিকার সিয়াটল শহরে ছিলাম। এটা মাইক্রোসফ্টের শহর। এ শহরের প্রধান দৈনিক সিয়াটল টাইমস। ক্যাথি বেষ্ট হচ্ছেন সম্পাদক। তাঁর অফিসে গিয়েছিলাম মত বিনিময়ের জন্যে। প্রায় ঘনটা খানেক ছিলাম। তখন সেক্যুলারিজম নিয়ে তাঁর সাথে কথা হচ্ছিল। তিনি বললেন, এখানে ৫৭ ভাগ মানুষ সরাসরি ধর্মে বিশ্বাস করে। তবে ধর্মের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলেনা। ওই কাগজে ধর্ম বিষয়ে একটি কলাম আছে। সপ্তাহে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। সব ধর্মের লোকেরাই লিখতে পারেন। তবে ধর্ম বিরোধী কোন মত ছাপা হয়না। বাংলাদেশে ইংরেজী শিক্ষিত ধর্মহীন(সেক্যুলার) কদর বেশী। এরা ধর্ম নিয়ে কথা উঠলেই আলেম সমাজকে গালাগাল করেন। কিন্তু নিজরা ধর্মজ্ঞান লাভ করেন না। এর আগে বহুবার বলেছি এদেশে ধর্মহীন বা ধর্মজ্ঞানহীনরাই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকেন। ধর্মের বিরুদ্ধে যাঁরা জোর গলায় কথা বলেন তাঁরাই পদবী লাভ করেন। আমি মনে করি ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মহীন বা ধর্মমুক্ত থাকা কোন অপরাধ নয়। ধর্মমুক্তির আন্দোলনও করতে পারেন। কিন্তু অন্যধর্মকে গালাগাল করা বা অন্যমতকে নিন্দা করা গ্রহণযোগ্য নয়।
এখন বুদ্ধিজীবী জ্ঞানীগুণীরা বলছেন, ৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন করে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে দেশবাসীকে ১০০ ভাগ খাঁটি সেক্যুলার( ধর্মহীন বা ধর্মমুক্ত) বাংগালী বানাবার জন্যে। অনেকেই বলেন শুধু মুক্তিযোদ্ধা হলেই চলবেনা,ধর্মহীন চেতনা থাকতে হবে। ভারতও চায় বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মুসলমান যেন ধর্মমুক্ত থাকে। ধর্মচেতনা শক্তিশালী হলে ভারতের দর্শন বাস্তবায়িত হবেনা। বাংলাদেশে ধর্মমুক্ত চেতনায় বিশ্বাসী বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা কয়েক হাজার হতে পারে। এরাই রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিজেদের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে গেছে। যদিও সংবিধানে বলা হয়েছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। এটা হচ্ছে ভোটারদের ধোকা দেয়ার জন্যে।
অভিজিত হত্যাকান্ডের রহ্স্য উন্মোচিত হওয়া অবশ্যই দরকার। তাহলে জানা যাবে কারা এমন ঘৃণ্য কাজ করেছে, কেন করেছে। অভিজিত নিহত হাওয়ার সাথে সাথে রাজনীতিতে নতুন হাওয়া বইতে শুরু করেছে। সরকারী নেতারা বলতে শুরু করেছেন, জংগীরা এ কাজ করেছে। জংগীদের নেতা হচ্ছেন খালেদা জিয়া। নেতা মন্ত্রীদের এমন সহী বক্তব্যকে তদন্তকারীদের অবশ্যই গাইড লাইন হিসাবে নিতে হবে।
এমন এক সময় অভিজিতকে হত্যা করা হয়েছে যখন দেশ এক মহাসংকটের ভিতর দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। এমন সময়ে অভিজিতকে হত্যা করার পেছনে কারা আছে এবং কি উদ্দেশ্যে তারা এমন ঘৃণ্য কাজ করেছে তা অবশ্যই দেশবাসীকে জানতে হবে। সময়কে আরও ঘোলাটে করে কি কেউ রাজনীতিতে সুবিধা নিতে চাইছে? ডাক্তার মিলন হত্যা হয়েছে রাজনৈতিক ঘোলাটে অবস্থায়। মিলন হত্যার মাধ্যমেই জেনারেল এরশাদের পতনকে ত্বরান্বিত করেছে। এর আগে সাংবাদিক দুলাল ও শ্রমিকনেতা আবদুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। তারও বেশ আগে এসেম্বলীতে স্পিকারকে হত্যা করা হয়েছে। ব্লগার রাজীব হত্যায় তেমন বেশী রাজনীতি হয়নি যেমন হচ্ছে অভিজিত হত্যা নিয়ে হচ্ছে। এ ব্যাপারে সবচেয়ে বেশী কথা বলতে শুরু করেছেন আওয়ামী নেতারা। অভিজিত নাস্তিক বলে বিদেশেও অভিজিতকে নায়ক বানাবার চেষ্টা চলছে। অভিজিত ব্যক্তিগত জীবনে বিনীত ও হাসি খুশী মানুষ ছিলেন। কিন্তু মুক্তমনের নামে তিনি ধর্ম নিয়ে আজে বাজে কথা বলতেন। তার সাথে আরও কিছু আরবী নামধারী যুবক যোগ দিয়েছিল। ফলে, কিছু ইসলামপন্থী যুবক নাস্তিক ব্লগারদের বিরুদ্ধে লেখালেখি শুরু করে এবং উসকানী মুলক বক্তব্য দিতে শুরু করে। সরকারের দায়িত্ব ছিল উভয় গ্রুপকে কঠোর ভাবে দমন করা। কিন্তু সরকার তা করেননি।
ইসলাম সম্পর্কে সরকার নিরপেক্ষতার ভুমিকা পালন করে। এদেশে ভোট ছাড়া অন্য কোন কাজে মুসলমানদের তেমন কোন গুরুত্ব নেই। শুধুমাত্র ভোটের জন্যেই তাঁরা মেজরিটি। ফলে দেশের ১৪ কোটি মানুষের ধর্ম মর্যাদা ও চিন্তা অবহেলিত। ইসলামের ব্যপারে নিরপেক্ষতা আর আর অন্যদের ব্যপারে সহমর্মিতা দেশের ৯০ ভাগ মানুষের মনে বেদনার সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের দেশে শিক্ষা সংস্কৃতি ইতিহাস কোথাও ইসলামের প্রভাব নেই। ইসলাম মসজিদে ছাড়া আর কোথাও নেই। তবুও বলা হয় ‘মডারেট মুসলিম কান্ট্রি’। কেউ কেউ বলেন লিবারেল মুসলীম কান্ট্রি। ইদানিং শুনতে পাচ্ছি ‘পলিটিকেল ইসলাম’। আমার দৃষ্টিতে ইসলাম একটিই। কিতাব একটি। এর বহু তাফসীর বা ব্যাখ্যা থাকতে পারে। একমাত্র ধর্ম ইসলাম যার নিজস্ব অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজনীতি আছে। এর আগের কিতাব গুলোও ইসলামের। কালক্রমে সময়ের প্রয়োজনে আল্লাহপাক নিজেই সংস্কার করে আলকোরাণ নামে অভিহিত করে নাজিল করেছেন। কোথাও ধোঁয়াশা নেই, একেবারেই সুস্পষ্ট। এর ভিতর বাঁকা পথ খোঁজেন তথাকথিত ধর্মমুক্ত শিক্ষিতজনেরা। এ্ঁরা নিজেরা ধর্ম পালন করেন না। ধর্ম যাঁরা পালন করেন তাঁদের সমালোচনা করেন। এ্র্ঁরাই সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেন। এ্ঁরাই মুক্তমনের নামের উগ্রপন্থি নাস্তিক ব্লগার তৈরি করেছেন। অপরদিকে ইসলাম সম্পর্কে কিছু তরুণকে বিভ্রান্ত করে উগ্রপন্থি তৈরি করেছে। এই উগ্রপন্থি তরুণরাই মনে করে ইসলামের সমালোচকদের হত্যা করতে হবে। ইসলাম কখনই এ ধরণের শিক্ষা দেয়না। ইসলাম হচ্ছে জগতের সবচেয়ে বেশী সহনশীল উদার ধর্ম। ইসলাম হচ্ছে সবচেয়ে বেশী ক্ষমাশীল ধর্ম। আল্লাহপাকের প্রধানতম গুণ হচ্ছে ভালবাসা ও ক্ষমা। মানুষকে বলেছেন, তোমরা আমার ভালবাসা ও ক্ষমায় আস্থা রাখো। আমার ক্ষমা হচ্ছে অসীম সাগর, আর মানুষের অপরাধ হচ্ছে এক বিন্দু পানি। সেই দয়াবান ও ক্ষমাশীল খোদাকে গালমন্দ করে একশ্রেণীর তথাকথিত জ্ঞানী মানুষ আর তাঁদের অনুসারী বিপদগামী এক শ্রেণীর তরুণ। আমাদের দেশের তথাকথিত শিক্ষিত সমাজের বেশীর ভাগই ইসলাম বা কোরআনকে জানেনা। না জানাই নাকি সমাজে তাঁদের সম্মানিত করেছে। এরাই মানবতা আর মানবিক অধিকারের নামে নারী পুরুষের সমকামীতা, নারী মৈথুন, লিভটুগেদার, ধর্মহীন বিয়েকে সমর্থন করে। প্রগতি মুক্তমনের নামে সমাজ বন্ধনকে ধ্বংস করতে চলেছে। খোদা সার্বভৌম বললে তাঁরা রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করে।
খোদা ও রাসুল(সা) বিরোধী শক্তি আগেও ছিল ,আজও আছে। ফেরাউন নমরুদ ও সাদ্দাদ কখনই খোদা বিশ্বাস করতোনা। এরা নবীদের হত্যা করেছে। বিশ্বাসী মানুষদের উপর অত্যাচার করেছে। খোদা নিজেই খোদাদ্রোহীদের শাস্তি দিয়েছেন। খোদাদ্রোহী জাতিকেও খোদা শাস্তি দিয়েছেন। যেমন সদম ও গোমোরাহ নগরীকে ধ্বংস করে দিয়ে সেসব নগরীর মানুষদের শাস্তি দিয়েছেন। এখনও জগতে ফেরাউনের মত শাসক আছে। এখনও প্রকৃতির শোধ আছে। জ্ঞানপাপীরা বুঝতে পারেনা। তবে একটা বিষয় এখানে উল্লেখ করতে চাই। তা হলো মুখোশধারী মোনাফেক। এরা মুসলমান সেজে সমাজে চলাফেরা করে। কিন্তু মুক্তমনের নামে দিনরাত ইসলাম, মুসলমানের বিরুদ্ধে কথা বলে। বাংলাদেশে এ রকম মোনাফেকের সংখ্যা কম নয়। আমরা সমাজে কঠোর ভাবে শান্তির রক্ষা করতে চাই ওদর বিরুদ্ধে বলতে চাইনা। মোনাফেকদের আলকোআনে কঠোরভাবে নিন্দা করা হয়েছে। বলা হয়েছে এরা কাফেরের চেয়ে খারাপ। এরাই প্রচার করে মাদ্রাসা শিক্ষা নাকি সন্ত্রাসী ও উগ্রপন্থীর জন্ম দেয়। এরাই প্রচার করে খতিব, ইমাম মুয়াজ্জিনরা তেমন লেখাপড়া জানেনা ও করে না। অথচ ইসলামের ব্যপারে তাদের অ আ ক খ বিদ্যাও নাই। বাংলাদেশে ইসলামের ব্যপারে এমন বৈষম্য শক্তিশালী ভাবে বিরাজ করছে। এরা জানেনা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের(১৭৫৭-১৮৫৮) আলেম সমাজই সবচেয়ে জীবন দিয়েছে। তখন অমুসলমান মোনাফেকরা দখলদার লুটেরা বাহিনী সাহায্য করেছে। ৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়েছে অমুসলমানদের কারণে। ৭১ সালে মোনাফেকদের কারণেই পাকিস্তানী বেঈমানেরা বাংগালী মুসলমানদের উপর সীমা্হীন অত্যাচার করেছে । ফলে বাংলাদেশ স্বাধীন। সেই স্বাধীনতার বিরুদ্ধে জোট বেঁধেছে এক শ্রেণীর অমুসলমান ও মোনাফেক। এদের সমর্থন ও সহযোগিতা করছে প্রতিবেশীরা।


চলমান অবস্থায় নয়া দিগন্তের সম্পাদকীয় পাতায় আমি অনুপস্থিত। দেহটা অসুস্থ তাই। পুরো দেহ নয়। বেশ কিছুদিন হলো হাতের কব্জী ও আংগুলে রিউমাটয়েড আর্থারাইটিজে আক্রান্ত। চব্বিশ ঘন্টা ব্যথা। হাতের কাজ গুলো করা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। কিন্তু মনটা ছটফট করছে। দেশের এমন দুর্দিনে আমার হাতের এমন অবস্থা আমাকে কাতর করে ফেলেছে। অপরদিকে আমার বিবিজান খুবই খুশী। বন্ধুদের বলছেন, সাহেব লিখতে পারছেন না,আমি খুবই খুশী। তা না হলে আরেক জ্বালা হতো। সরকার বাহাদূর কখন গোস্বা হয়ে যান,এই চিন্তায় থাকতে হতো।
আমিতো সারা জীবন দেশ( রাষ্ট্র নয় ) ও দেশের মানুষের জন্যে ভেবেছি আর কিছু করার চেষ্টা করেছি। আমার স্বপ্নের দেশকে আজও দেখিনি। সব সময় দেখেছি রাষ্ট্র নামক এ যন্ত্রটি কখনই দেশের মানুষের কল্যাণ চায়নি। এ কারণেই পাকিস্তান টিকেনি। মাত্র ২৩ বছরে পাকিস্তানী পতাকা নেমে গেল এই ভুখন্ডে। পুরো পাকিস্তানটা এখন অর্ধেক।
ষোলয়ানা ভেজালহীন খাঁটি বাংগালী হওয়ার জন্যে ৭১ সালে বাংগালীদের জন্যে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নতুন রাষ্ট্র এখন জাতিসংঘের সদস্য, জাতীয় সংগীত ও পতাকা আছে। ৪৩ বছর পার হয়ে গেছে আমরা নাকি ষোলয়ানা বাংগালী হতে পারিনি। জগতের মালিক আল্লাহতায়ালা, কিন্তু বাংলাদেশের মালিক শুধুই বাংগালীরা। এখানে খোদাকে সার্বভোম বলা যাবেনা। তাহলে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হবে। জেল জুলুম ফাঁসি হতে পারে। পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলের জনগণের উপর অত্যাচার করে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটি টিকে থাকতে চেয়েছিল। শক্তি প্রয়োগ করে কঠোর দমন নীতি গ্রহণ করে পাকিস্তান টিকতে চেয়েছিল। কিন্তু পারেনি।
আমি অবাক হয়ে সারা জীবন দেখেছি, রাষ্ট্র ও সরকার দেশে ও জনগণের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে আসছে। কারণ সরকার ও সংবিধান মনে করে মানুষের চেয়ে রাষ্ট্র বড়। মানুষের চেয়ে আইন ও আদালত বড়। মোঘল, বৃটিশ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের আইন প্রায় একই। লক্ষ্য মানুষকে কঠোর ভাব দমন করা। মনে হয় মানুষের চেয়ে রাষ্ট্র ও সরকার বড়। অথচ জনগণের নামেই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয় আর সেই রাষ্ট্র পরিচালিত হয় এক ধরণের সংবিধানের মাধ্যমে যেন তেন ভাবে নির্বাচিত সরকার দ্বারা। এর নাম নাকি গণতন্ত্র। এই গণতন্ত্র আর সরকারকে রক্ষা করার জন্যে নানা ধরণের বাহিনী লাগে। বিভিন্ন বাহিনী পালনের জন্যে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়।
এর আগে এ বিষয়ে আমি এর আগেও বহুবার লিখেছি। মূল বিষয়টি হচ্ছে, একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক বা জনগণকে সম্মান করার জন্যে কোন আইন আমাদের দেশে নাই। আমাদের আইন প্রণেতারা নাগরিক অধিকারের কথা চিন্তা না করে রাষ্ট্রের অধিকারের কথা বেশী চিনতা করেছেন। ফলে রাষ্ট্র নির্দয় হয়ে যাওয়ার সুযোগ সব সময় থেকে যায়। আর অত্যাচারী ও স্বেচ্ছাচারী রাষ্ট্রে সরকার ছাড়া আর কারও অধিকার থাকেনা। আমেরিকায় ‘সিটিজেন’স চার্টার অব রাইটস’ যা আমেরিকার নাগরিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষা করে। আমেরিকার সংবিধান এই চার্টারকে অতিক্রম করতে পারেনা।
বাংলাদেশের চলমান অবস্থাকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে গণতান্ত্রিক মনে করিনা। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারী ভোটার বিহীন এক নির্বাচনে চলমান সরকার ক্ষমাতায় এসেছেন। চলমাম গণতন্ত্রের প্রথম ও প্রধান কথা হলো যে ভাবেই হোক নির্বাচিত হও আর জনগণের নামে ক্ষমতা দখল করো। তারপরে রাষ্ট্রযন্ত্র নামক অমানবিক সংস্থা সরকারকে রক্ষা করে। আমি এভাবেই রাষ্ট্র, সরকার, সংবিধান ও নির্বাচন নিয়ে ভাবি। জানিনা, আমার এ চিন্তা নিয়ে আপনারা ভাবেন।
এখন জাতীয় সনদ তৈরির যে দাবী উঠেছে তাতে সবারই একমত হওয়া উচিত। আমি আগেই বলেছি আমাদের আইনগুলো মানুষের উর্ধে। এখানে মানুষের অধিকার, মর্যাদা, আইন সরকার রাষ্ট্রের অনেক নীচে। এখানে মানুষ অমানবিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রধান শিকার। তথাকথিত গণতন্ত্র ও নির্বাচনের নামে ২০১৩ সালে বহু মানুষ নিহত হয়েছেন, দেশের সম্পদ ধ্বংস হয়েছে। অপরদিকে সরকার খুবই খুশী, কারণ তারা নাকি জনগণের অধিকার রক্ষা করে রাষ্ট্রকে রক্ষা করেছেন। একই কারণে ২০১৫ সালের ৫ই জানুয়ারী থেকে দেশের গোলযাগ শুরু হয়েছে। সরকার বলছেন এবং বিশ্ববাসীকে বুঝাবার চেষ্টা করছেন সরকার বিরোধী শক্তি জংগীবাদের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছে। তাই জংগীবাদ উত্‍খাতে সরকারকে কঠোর দমন নীতি গ্রহণ করতে হয়েছে। সন্ত্রাসীদের শাস্তি দেয়ার জন্যে ট্রাইবুনাল গঠণ করতে হচ্ছে।
চলমান অশান্ত রাজনৈতিক পরিস্থতির মূল কারণ হচ্ছে ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচন ও নির্বাচন ব্যবস্থা ও পদ্ধতি। বিরোধী পক্ষ বলছেন তাঁরা কোন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবেন না। সরকার মনে করেন নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা একটি অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। সংসদে মেজরিটির জোরে সরকার সংবিধান পরিবর্তন করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ব্যবস্থা করে ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচন করে আবার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। নির্বাচনের আগে সরকার বলেছিলেন, সংবিধান রক্ষার নির্বাচন। এখন বলছেন তাঁরা ২০১৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন। এটা কি রাজনৈতিক কৌশল না মিথ্যাচার? আন্তর্জাতিক সংস্থা গুলো বলছে ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচন একটি ব্যর্থ নির্বাচন। জোর করে নির্বাচন করা আর জোর করে ক্ষমতায় থাকার স্বেচ্ছারী মনোভাব থেকেই চলমান সংকটের জন্ম হয়েছে। আর সংকটকে মোকাবিলা করতে গিয়েই সরকার চলমান দমননীতি গ্রহণ করেছেন। রাখাল আর বাঘের গল্পের মতো চিত্‍কার বলে চলেছেন বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি জংগীবাদী হয়ে গেছে। কিন্তু বিশ্ববাসী কেউ বিশ্বাস করছেনা। সমস্যা হচ্ছে নির্বা্চন, আর সরকার বলছেন জংগীবাদ। আইএস নাকি এর সাথে জড়িত হয়ে গেছে।
৭০ সালের একচ্ছত্র জনপ্রিয় নেতা বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষমতায় এসে একদলীয় অগণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। সব খবরের কাগজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সরকারী কর্মচারীদের রাজনীতিতে সংযুক্ত করেছিলেন। ৭২ সালে সমাজতন্ত্রের নামে ভারত ও রাশিয়ার প্ররোচনায় বেসরকারী সকল সম্পদ সরকারের অধীনে নিয়ে এসেছিলেন। ফলে ৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে লাখ লাখ মানুষ মারা যায়। আমি নিজেও লাইনে দাঁড়িয়ে শিশুর দুধ সংগ্রহ করেছি। ভারত থেকে আমদানীকৃত জালের মতো শাড়ী দেখেছি। জাল পরা বাসন্তীর ছবির কথা আপনারা নিশ্চয়ই ভুলে যান না। বংগবন্ধুর পতনের পর দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসে। বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা চালু হয়।
বংগবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা এখন সেই পথেই চলতে শুরু করেছেন অতি সাবধানী ও কৌশলী পদক্ষেপে। ২০০৬ সালে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক মতবাদ ও শক্তিকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে। তাঁরই আন্দোলনের ফসল হিসাবে ১/১১র সেনাবাহিনীর সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। আসলে ক্ষমতায় ছিল ভারত। জেনারেল মঈন ছিলেন ভারতের সমর্থিত জেনারেল। এই সরকারের লক্ষ্য ছিল শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় নিয়ে আসা এবং তাঁর প্রতিপক্ষকে রাজনীতি থেকে চিরতরে বিদায় করা। সেই ধারা এখনও চলছে। এর মানে ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের চাবিও ছিল দিল্লীতে। ওই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল অনির্বাচিত সেনা সমর্থক সরকার প্রতিষ্ঠা করা। খালেদা জিয়াই জেনারেল মঈনকে সেনা প্রধান করেছিলেন আত্মীয় স্বজনের প্রভাবে পড়ে। কিন্তু তিনি হয়ত জানতেন না জেনারেল মঈন ততক্ষণে দিল্লীর অধীনে চলে গেছেন। সেই ভুলের খেসারত খালেদা জিয়াকে এখনও ভুগতে হচ্ছে। আর কতদিন ভুগতে হবে তা আমরা জানিনা। ২০০৬ থেকে ২০০১৫ এর জানুয়ারী নাগাদ বাংলাদেশ দিল্লীর প্রভাবেই রয়েছে। আর দিল্লী চায় বাংলাদেশ ভারতের অনুগত বন্ধুতে পরিণত হোক। তাই তারা বাংলাদেশে একটি স্থায়ী অনুগত রাজনৈতিক দল চায়।
৪৭ সাল থেকেই দিল্লীর লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানকে ধ্বংস করে। যা ৭১ সালে করেছে। মাওলানা আজাদও বলেছিলেন পাকিস্তান টিকবেনা। নেহেরুজী নিজেও বলেছেন পাকিস্তান একটি অবাস্তব কল্পনা। ৭১ সালে বিজয়ের পর ইন্দিরাজী বলেছিলেন ‘হাজার বছরের বদলা নিলাম’। কিসের বদলা, কেন এই বদলা তা আমাদের নেতাদের বুঝার ক্ষমতা নেই। আর ও ভাবে তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরাও চিন্তা করেননি। মমতাজী এসেছেন স্বাধীন বাংলাদেশের সাথে ভারতের একটি রাজ্য বা প্রদেশের সাথে সাংস্কৃতিক চুক্তি করার জন্যে। মানে পরাধীন বাংগালীদের সাথে স্বাধীন বাংলাদেশীদের একই মর্যাদায় চুক্তি করা। লোকে বলে বাংলাদেশ এ হচ্ছে স্বাধীন আর পরাধীন বাংগালীর মেলবন্ধন। শুরুতেই বলেছি,দিল্লী চায় বাংলাদেশের মুসলমানেরা কম মুসলমান হোক আর বেশী বাংগালী হলে মেলবন্ধনটা ভাল হবে। মুসলমান শব্দটাকে বাংলাদেশের এক শ্রেণীর বুদ্ধিজীবী সাম্প্রদায়িক শব্দ বলে প্রচার করে। তাঁরা নিজেদের মুসলমান বাংগালী বলতেও লজ্জিত বোধ করে। ৪৭ সালে যাদের বাপদাদারা হিন্দু ভারত ত্যাগ করে পূর্ব পাকিস্তান চলে এসেছে এবং যাবতীয় সুখ আনন্দ ভোগ করেছে তাঁরাও এখন দিল্লীর দাস হতে চায়। এরা জ্ঞানপাপী এবং অন্ধ।
শাসক হিসাবে ইংরেজদের আগমনের পূর্বে ভারতে বা অখন্ড বাংলায় শাসন ও সামাজিকতায় হিন্দু মুসলমান বলে কিছুই ছিলনা। এ ধারণা বা আলোচনাটা আসতে শুরু করেছে মুসলমানদের উপর অত্যাচার ও শোষনের কারণে। ইংরেজ আমলে মুসলমানেরা সীমাহীন নির্যাতন ও শোষণের শিকার হয়েছে। আর ইংরেজদের সহযোগিতা করে আনুকুল্য লাভ করেছে হিন্দু সমাজ। জিন্নাহ সহ অনেক বড় বড় মুসলমান নেতা অখন্ড ভারত চেয়েছিলেন। কিন্তু হিন্দু নেতারা মুসলমানদের ন্যায্য অধিকার অস্বীকার করায় খন্ড ভারতের চিন্তা সামনে আসতে থাকে। তারই ফল হলো পাকিস্তান। অপরদিকে অখন্ড বাংলার প্রস্তাব উত্থাপিত হলে গান্ধীজী ও নেহেরুজী এর বিরোধিতা করেন। কারণ, অখন্ড বাংলায় মুসলমানেরা মেজরিটি ছিলেন।
১৯০৫ সালে পূর্ববংগ ও আসাম নিয়ে একটি নতুন প্রদেশ গঠিত হলে হিন্দু নেতারা এর বিরোধিতা করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত হিন্দু নেতাদের আন্দোলনের ফলে ১৯১১ সালে বংগভংগ রদ করা হয়। পূর্ববংগ আবার কোলকাতার অধীনে চলে যায়। ১৯৪৭ সালে অখন্ড বাংলার দাবী হিন্দু নেতারা গ্রহণ করেননি। এর কার ও রহস্য বুঝার মতো ধ্যান জ্ঞান চিন্তা আমাদের রাজনীতিক ও তরুণ সমাজের নেই। কারণ এরা নিদের বাপদাদার ইতিহাস ঐতিহ্যকে ত্যাগ করেছে বা করতে চায়। জানতে হবে কারা তাদের বিপথে পরিচালিত করছে। বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকটের রহস্য লুকিয়ে আছে দিল্লীর আগ্রাসী নীতির ভিতর।
আপনাদের অবশ্যই বুঝতে হবে কেন হিন্দু নেতারা ১৯০৫ সালে পূর্ববংগ নামে নতুন প্রদেশ গঠণের বিরোধিতা করে এক বাংলা চেয়েছিলেন। আবার কেনইবা ৪৭ সালে খন্ডিত বাংলা চাইলেন? আপনরা ইতিহাস সচেতন হোন। নিজেদের ঐতিহ্য ও বায়া দলিলের খোঁজ নিন। আবার ৭১ এ দিল্লী কেন আমাদের সমর্থন করেছে। আমি জানি আমাদের তরুণ সমাজ এখন বিভ্রান্ত ও ভুল পরিচালিত। বারবার বলে চলেছি দিল্লী বাংলাদেশে একটি খাঁটি বাংগালীর রাষ্ট্র চায় যার ভিতর ইসলাম বা মুসলমানিত্বের কোন ছাপ থাকবেনা। অথবা শুধু নামের মুসলমানের একটি দেশ চায়। যাদের আরবী নাম থাকবে,কিন্তু মুসলমান নয়। যাঁরা শুধুই বাংগালী সংস্কেতির চর্চা করবে যা ভারতীয় বাংগালীরা চর্চা করে। আপনারা কি জানেন, এক সময় অফিসে আদালতে মুসলমানেরা ধুতি পরতো। ১৭৫৭ সালের পর বাংলার মুসলমানের অবস্থা কি হয়েছিল তা জানার জন্যে হান্টারের দ্যা মুসলমান পড়ুন।
এতক্ষন ইতিহাসের পেছনের কথা বলেছি।
তাহলে বাংলাদেশের চলমান সংকটের সাথে ইতিহাসের কি সম্পর্ক আছে? তা হলো ভারত বাংলাদেশে এমন একটি সরকার চায় যা ভারতের স্বার্থে কাজ করবে। যে সরকার অনুগত বন্ধু হিসাবে কাজ করবে। বাংলাদেশকে ভারতের বাজার হিসাবে গড়ে তুলবে। যে মুসলমানিত্বের কারণে তারা পাকিস্তানের অংশ হয়েছিল তা চিরতরে মুছে দিতে হবে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মাধ্যমে। আপনারা কি লক্ষ্য করেছেন মমতা বানার্জির সাথে নাগরিক নামে যারা কথা বলেছেন তাঁরা কারা? এরা বাংলা ও আরবী নামধারী কিছু বাংগালী। এদের কাছে দেশের সার্বভৌমত্ব মানে ভারতের অনুগত বন্ধুত্ব। এদের পাসপোর্টে বাংলাদেশী কথাটা লেখা থাকলেও তা মানেনা।
চলমান সরকার ভারতের সেবা করার ব্যাপরে সবচেয়ে বেশী পরীক্ষিত। ভারতে ৫ বছর থাকা কালে তিনি ওই পরীক্ষায় ডাবল প্লাস পেয়েছেন। ২০০৮ সালে সেনা সমর্থক সরকার এক তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে চলমান সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। ৫ই জানুয়ারীর ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে জোর করে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসিয়েছেন। সেই ভুয়া নির্বাচনের কারণেই চলমান সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনের আগে ২/৩শ মানুষ মারা গেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। আর এখন ২০১৫ সালের ৫ই জানয়ারী থেকে প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে। নির্বাচলের দাবীকে দাবিয়ে রেখে সরকার বলছেন এটা জংগী ও সন্ত্রাসী। মিডিয়া সরকারী বক্তব্যকে উদার ভাবে প্রচার করছে আর বিরোধী দলকে দমন করার জন্যে সরকারকে উত্‍সাহিত করছে। বিদেশী বা জাতিসংঘকে দলে টানার জন্যে সরকার প্রচার করছে বিরোধী দলের আন্দোলন গণতন্ত্রের জন্যে নয়, বাংলাদেশকে জংগী রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্যে।
আমি সময় বলে থাকি, জনগণের ইচ্ছা, আকাংখা ও আগ্রহের বাইরে বা উপরে কোন আইন থাকতে পারেনা। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন এখন জনআকাংখা বিরোধী। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ধ্বংসযজ্ঞ ঘটিয়ে কেয়ার টেকার ব্যবস্থা প্রতিষ্টিত করেছিল। তখনও বহু মানুষ মারা গেছে। আপনরাই প্রশ্ন করুন সে সময়ে আওয়ামী লীগ কেন কেয়ার টেকার সরকার চেয়েছিল? তাঁদের লক্ষ্য কি ছিল ? পরে কেনই বা আওয়ামীগ কেয়ার টেকার ব্যবস্থা বাতিল করলো? এ ব্যপারে আমাদের সাংবাদিক সমাজ ও বুদ্ধিজীবীরা প্রশ্ন তোলেন না। আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে জনআকাংখা বিরোধী কোন আইনই আইন নয়। সমস্যাটা এতই সহজ যে তা সমাধানের জন্যে রাষ্ট্র শক্তি ব্যবহার করে লাভ হবেনা। সবাই এটা বুঝেন। কিন্তু সরকার ও রাষ্ট্র শক্তির ভয়ে এক মঞ্চে এক বাক্যে কথা বলতে পারছেন না।
লেখক: কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
ershadmz@gmail.com

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Join 329 other followers