Feeds:
Posts
Comments

স্বাভাবিক মৃত্যু ছাড়া বাকি সকল মৃত্যুকে আমি নিন্দা করি। আল্লাহ সকল প্রাণীকেই জীবন ও মৃত্যু দান করেন। এটাই তাঁর সৃষ্টির নিয়ম।


মুরুব্বী বা সিনিয়র সিটিজেনদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব/ এরশাদ মজুমদার

মুরুব্বীদের প্রতি সম্মান দেখানো বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার প্রথম ও প্রধান সংস্কৃতি। এখন হয়ত তেমন ভাবে নেই। বেয়াদবকে সমাজের সবাই মিলে শাসন করতো। বাইরে কোথাও মার খেয়ে ঘরে আসলে আমার মা আবার মার দিতেন। বলতেন, তুই মন্দ ছেলে বলেই মন্দ ছেলেদের সাথে চলাফেরা করিস। এই সামাজিক সংস্কৃতি দেখেই বুঝ যায় কোন মানুষটির পারিবারিক ঐতিহ্য কেমন। আমার বাবা বলতেন মুরুব্বী বা বয়স্কদের দেখলেই সালাম দিবে ও সম্মান দেখাবে। এখন অবশ্য সমাজ বদলাতে শুরু করেছে। এখন লোকজন ছাত্র যুবকদের দেখলে ভয় পায় এবং এড়িয়ে যায়। ছাত্র ও তরুণরা মুরুব্বীদের দেখলে ট্রেনে বাসে সিট ছেড়ে দিতো। এমন এক সময় ছিল যখন ট্রেনে বাসে ছাত্রদের দেখলে সবাই আদর যত্ন করতো। এমন কি ছাত্রদের জন্যে বাসে ট্রেনে বিশেষ ব্যবস্থাও ছিল। গ্রাম বা শহরে ছাত্রদের বাড়িতে বা বাসায় লজিং বা ফ্রি থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করতো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচুর ছাত্র লজিংয়ে থেকে পড়ালেখা করতো। ছাত্রদের লজিংয়ে রেখে বাড়িওয়ালা সম্মানিত বোধ করতো। এখন সে ব্যবস্থা উঠে গেছে। হয়ত সমাজ সংস্কৃতির পরিবর্তন হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু নামীদামী ছাত্র লজিংয়ে থেকে পড়ালেখা করেছেন এবং কর্ম জীবনে নামধাম করেছেন।
গুরুজনদের সম্মান করা সকল ধর্ম ও সমাজ সংস্কৃতিতে নিয়ম ছিল। এখনতো স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকেরা ছাত্রদের ভয় করে। তারাই প্রতিষ্ঠান গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে। ছাত্ররা হল দখল করে, মারামারি খুনাখুনি করে। বাড়িতে মা বাপ, বড়ভাই ও ওদের ভয় করে। অনেক বাবা মাস্তান ছেলের আয় দিয়ে সংসার চালান। ছেলে মাস্তান হলেও স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নাম আছে। তার বড় ভাই আছে, ভাইয়ের সাথে মন্ত্রী বা নেতাদের খাতির আছে। আইনের চোখে সে রাজনৈতিক কর্মী। একদিন মন্ত্রীও হয়ে যেতে পারে। ক’দিন আগে বুয়েটের ছাত্ররা এক শিক্ষককে লাণ্ছিত করেছে। এখন সেখানে ধর্মঘট চলছে। বুয়েটে মেধাবী ছাত্ররাই পড়ালেখা করে। তবুও এমন হলো কেন? কারণ সমাজ পরিবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু আমরা ভেবেছিলাম দেশ স্বাধীন হলে সমাজ আরও সুন্দর হবে। তাহলে সমাজ কোনদিকে যাচ্ছে? শুনেছি, পহেলা বৈশাখের দিন টিএসসিতে এক ঝাঁক তরুণ বা যুবক কিছু বোনকে আক্রমণ করে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা চালিয়েছে। যদিও আমাদের পুলিশ কমিশনার বিষয়টিকে অস্বীকার করেছেন। ছাত্ররা এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। অবশ্য বস্ত্র হরণ ও যৌন নির্যাতনের সংস্কৃতি ৭৪ সালের ভাষা দিবসে শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়েছে।
ছাত্র বা যুবকরা এমন হয়ে গেলো কেমন করে এ বিষয়ে কোন গবেষণা কেউ করেননি। আমাদের সময় টুকটাক হাতাহাতি মারামারি যে হয়নি তা নয়। প্রকাশ্যে অস্ত্র মানে হকি ষ্টিক নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে মহড়া দেয়া শুরু হয়েছে যতদূর মনে পড়ে আইউবের আমলে গবর্ণর মোনেম খান সাহেবের আমলে তাঁর আসকারাতে। সে সময়ে সরকার সমর্থক এনএসএফই হকিষ্টিক, লাকড়ি, সাইকেল চেইন,সাপ ও ছোরা নিয়ে মারামারি করতো । কারণ সরকার তাঁদের সমর্থন করতো। সেই ধারা অব্যাহত থাকলো ৭০ সাল নাগাদ। ছাত্র রাজনীতির উপর সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহর বইটি পড়লে অনেক কিছু জানতে পারবেন। স্বাধীনতার পর সব ছাত্র গ্রুপের হাতেই অস্ত্র এসে গেছে। স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকরা সরাসরি দলীয় রাজনীতি সাথে জড়িত হয়ে গেলেন। ছাত্র শিক্ষকরা এক সাথে মদ খান আর রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করেন। স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে দলাদলির ফলে শিক্ষা ব্যবস্থা অচল হয়ে গেলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতাদের এখন দামী গাড়ি,ফ্ল্যাট,মদ আর নারী না হলে চলেনা। অনেকেই বলবেন, সবাইতো এ রকম না। আমিও বলি সবাই এর রকম না। ভাল ছাত্ররা নিজেদের পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ নিয়ন্ত্রণ করে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র নেতারাই। তখন বাকি ছাত্রনেতারা পালিয়ে বেড়ায়।
যা হোক, আজ আমি সমাজের মুরুব্বী, সিনিয়ার সিটিজেন বা বয়স্ক মানুষদের অবস্থা নিয়ে কিছু বলতে চাই । সিটিজেন বা নাগরিক বললাম না। বাংলাদেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থা নাগরিকদের তেমন সম্মান করেনা, ভয় দেখায়। সুতরাং আপনারা বুঝতে পারেন মুরুব্বী বা বয়স্ক মানুষদের কি অবস্থা। সংসার এবং সমাজ উভঞ জায়গাতেই তারা অবহেলিত। শুনেছি, সংসদে একটি আইন পাশ হয়েছে বা হবে যাতে মা বাবাকে সন্তানেরা অবহেলা করতে না পারে। হয়ত শাস্তির বিধান ও রাখা হয়েছে। আল্লাহপাক পবিত্র আলকোরআনে মা বাবাকে সর্বােচ্চ মর্যাদা দান করেছেন। এমন কি খোদা নিজের পরেই মায়ের অবস্থান নির্ধারন করেছেন। বাংলাদেশে অশিক্ষিত লোকেরা বা গরীবেরা আল কোরআনের এসব খবর রাখেনা বা জানেনা। ইংরেজী শিক্ষিতদের ৮০ ভাগ কোরআনই পড়েননি। ফলে দেশে দিন দিন বৃদ্ধাশ্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে। টিভিতে মাঝে মাঝে মুরুব্বীদের বেশ কান্নাকাটি করা হয়। এতে সরকারের বা সমাজের কিছু আসে যায়না। শিক্ষিত সচ্ছল মুরুব্বীরা বৃদ্ধাশ্রমে যাচ্ছেন কেন? কারণ তাঁদের দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই। আর কিছু মুরুব্বী আছেন যাঁদের কেউ নেই, অর্থ নেই, থাকার যায়গা নেই। অনেকেই আবার সন্তানদের অত্যাচারে গেহত্যাগ করেছেন।
গ্রীক নগর রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশেও অতি অল্পকিছু লোক তথাকথিত সংবিধান ও বৃটিশ আইন দ্বারা নাগরিক নামক মানুষদের শাসন করে ,মানে ভয় দেখায়। শুনেছি,সভ্য বা মানবীয় গুণের নাটক দ্বারা দেশের জনগণকে মুগ্ধ করার জন্যে গ্রামে গঞ্জে বৃদ্ধদের নাকি বয়স্ক ভাতা দেয়া হয় মাসে একশ’ বা দেড়শ’ টাকা করে। এর পাবলিসিটি ভ্যালু হাজার কোটি টাকা। এটা নাকি সরকারের সামাজিক দায়বদ্ধতা। অথচ এদেশে ধনীরা তাঁদের সোনার চামচ মুখে চামচ মুখে নিয়ে জন্ম নেয়া কণ্যা ও পুত্রদের বিয়েশাদী, জন্মদিন সহ নানা অনুষ্ঠানে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেন। সেসব অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী সহ পারিষদরা উপস্থিত থাকেন। ১৯৭০ সালে যে মানুষটি কোন অফিসে কেরানী বা পিয়ন ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় গুণে সে আজ দশ বিশ হাজার কোটি টাকার মালিক। যে রাজনীতিক একটি সাইকেল চালাতেন ৭০এ তিনি এখন মার্সিডিজ চালান। সময়ের পরিবর্তনে বা যুগের চাহিদায় রাজনীতিকরা জমিদারী কায়দায় না চললে হয়না। ৭০এ যে কৃষক বা শ্রমিক দুই টাকা রাজগার করতেন তিনি হয়ত এখন দুই থেকে তিনশ’ টাকা রোজগার করেন।
আমাদের অর্থমন্ত্রী একজন রাজপুরুষ। আইউবের আমল থেকে সকল সরকারের খেদমত করেছেন। তিনি একজন জয়ীফ বা মাজুর বা অথর্ব(জ্ঞানী) মানুষ। হায়াত এখন নব্বইয়ের কাছাকাছি। আগে সবার খেদমত করেছেন একজন পাকা ঝানু আমলা হিসাবে। এখন একজন মন্ত্রী হিসাবে শেখ হাসিনার খেদমত করছেন। এর আগে এরশাদের করেছেন। এরশাদ নিন্দিত হলেও মোহিত সাহেবের সুবাস সৌরভ এখনও চারিদিকে গোলাপের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর রাবিশ শব্দটি খুবই জনপ্রিয় এবঁ দেশবাসীকে আনন্দ দেয়।
রাজনীতি এ দেশে বাদশাহীর মতো। এ বাদশাহী লাভ করেন ছেলে মেয়ে নাতিরা। দলের নেতাও হন নেতার কন্যা, ছেলে নাতি। কৃষক আর শ্রমিকের সন্তানেরা মিছিলে অংশ গ্রহণ করেন, পুলিশের পিটুনী বা গুলি খান। লেখাটি শুরু করেছিলাম সমাজ পরিবর্তনের বিশ্লেষন নিয়ে। পিতা পুত্র, ভাই ভাই, স্বামী স্ত্রী, পরিবার সমাজ সম্পর্ক নিয়ে। সব খানেই আমূল পরিবর্তন হয়ে গেছে। চিন্তার জগতে সবকিছুই প্রবল ধাক্কা দিয়েছে। এটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিলনা। এখতো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে হেরিটেজ বা ঐতিহ্যকে সমূলে অস্বীকার করা। বাপদাদার ধর্মকে ব্যক্তিগত বিষয় বলে পরিহার করা। দাঁড়িওয়ালা লোক দেখলেই জামাত বলে বেইজ্জতি করা। জাতির পুরাণো সবকিছুকে অস্বীকার করা। এ ব্যপারে রাষ্ট্রের অদৃশ্য উসকানী রয়েছে বলে মনে করি।
আমি এখন ৭৫। আপনারা নিশ্চয়ই আমাকে সিনিয়ার সিটিজেন বা বয়স্ক নাগরিক বলবেন। অনেকেই দেখলে সালাম দিয়ে বলেন, মুরুব্বী কেমন আছেন? উত্তর দেই খুব ভালো আছি, শোকর আলহামদুলিল্লাহ। এক সময় শখ করে রেখেছিলাম। তখন কালো ছিল ,এখন পুরো সাদা হয়ে গেছে। কিন্তু সিনিয়ার সিটিজেন বলে সরকার আমাকে বিশেষ সম্মান দেখায়না। কিছুদিন আগে ব্যান্কে এক পার্সেন্ট লাভ বাড়িয়ে দিয়েছিল। এখন নাই । এ বয়সে সবচেয়ে বেশী হয়রানী হলো সরকারী অফিস গুলোতে। সহজে কোথাও যেতে চাইনা। যেখানে লিফট নেই সেখানে পায়ে হেটে উঠতে হয়। উঠে আর কথা বলতে পারিনা। অনেক্ষণ বিশ্রাম নিতে হয়। বসার কোন ব্যবস্থা নেই। চেয়ারে হয়ত পিয়ন বা ক্লিনার বসে আছে। সম্প্রতি খুব কষ্ট পেয়েছি আয়কর বিভাগ দ্বারা। একজন অফিসার বললেন ৯০ ভাগ মানুষ অসত্য তথ্য পরিবেশন করেন, ফলে আপনাকে আর কেউ বিশ্বাস করেনা। আমি বললাম কিছু সম্মানী দিলেতো সব কাজ হয়ে যায়। তা ঠিক বলেছেন। এটা এ অফিসের দস্তুর।
আমরা এখন অবসরপ্রাপ্ত। বাড়ি ভাড়া ছাড়া কোন আয় নেই। ভাড়ার অংক লুকাবার কোন উপায় নেই। প্রতি বছরই রিটার্ণ যাচ্ছে , তবুও বেইজ্জতির ভয়ে বুড়াবুড়ি দুজনই খুব টেনশনে থাকি। মাঝে ভাবি এখন মরে গেলে এ ঝামেলা থেকে বাঁচতাম। আমার প্রিয় মানুষ রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান বলেছিলেন মরে গেলেও আয়কর থেকে মুক্তি নেই। আপনারা কি জানেন, এই আয়কর দিয়ে সরকার বিভিন্ন বাহিনীর খোরপোষ দেন, নিজেরাও কিছু খান।
আর বাহিনী কি করে ? যে কোন সময়ে আপনার পাছায় লাথি দিতে পারে। গুলিও মারতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন অস্ত্র পকেটে রাখার জন্যে নয়, ব্যাবহার করার জন্যে। একথা পাকিস্তান ও বৃটিশ আমলের শাসকরাও বলতেন।
প্রশ্ন উঠতে পারে সারা জীবন আয়কর দিলে বৃদ্ধ বয়সে সরকার আপনাকে কি দিবে?না, কিছুই দিবেনা। যারা সরকারী চাকুরী করেন তারা তবুও কিছু পান। যেমন আমার বিবিজান পান। জ্বী, আমি বাড়ি ভাড়া পাই, ফলে আয়কর বিভাগ আমার ঘাড় মটকাচ্ছে।সরকারের কোন অফিসটাতে হয়রানী নাই? কেহ যদি দেখাতে পারেন অমুক অফিসে হয়রানী নেই তাহলে আমি তাঁকে পুরষ্কার দিবো। সবচেয়ে বড় খবর হলো আমি একটি ব্যান্কে গিয়েছিলাম একটি ক্রেডিট কার্ড করার জন্যে। ব্যান্কটি খুবই আধুনিক। এর এমডি ও সিইওর চারিদিকে নাম ডাক। ব্যান্কটির জন্ম হয়েছে একটি আন্তর্জাতিক ব্যান্কের বাংলাদেশ শাখার মৃতদেহ থেকে। আমি একজন অফিসারের কাছে গেলাম,তিনি প্রথমেই জানতে চাইলেন আমার বয়স কত? আমি উত্তর দিলাম ৭৫। তিনি বললেন, আপনার নামে কোন ক্রেডিট কার্ড হবেনা। কারণ ,আপনি বেশী বৃদ্ধ। আমি জানতে চাইলাম আমি একাউন্ট খুলতে পারি?। অফিসারটি উত্তর দিলেন নিশ্চয়ই পারেন বলেই আমাকে একাউন্ট ওপেনিং ফর্ম এগিয়ে দিলেন।যত টাকা ইচ্ছা জমা দিতে পারবেন। আমি মানসিক ভাবে খুবই আঘাত পেয়েছি। তখন ওই অফিসারটি বললো স্যার আমারও খারাপ লেগেছে। এটা বাংলাদেশ ব্যান্কের নির্দেশ। তখন মনে পড়লো আমার প্রিয় মানুষ আতিউর কথা। সে নাকি মানব দরদী। গরীবের সন্তান, জনগণের সমর্থনে পড়ালেখা করেছে। সেই মানুষটি এ রকম একটি নির্দেশ কি ভাবে দিলো? এটাতো বয়স্ক মানুষদের বা পিতামাতার সাথে মসকরা করা। আতিউর কি এমন একটি কাজ করতে পারে? আমিতো মনে করি বয়স্ক মানুষের ক্রেডিট কার্ড সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন। কিন্তু আতিউরের দর্শণটি কি বুঝতে পারছিনা। আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন। হেফাজত বললে আবার জ্ঞানী ব্যক্তিরা গোস্বা করেন। তাই আবার বলছি আল্লাহ আতিউরকে রক্ষা করুন। বৃদ্ধ বা বয়স্ক জয়ীফ মা বাবার দায়িত্ব পালনের জন্যে সন্তানকে কঠের নির্দেশ দিয়েছেন।এমন কি মা বাপের অবুঝ কথাবার্তায় উহ পর্যন্ত করা যাবেনা। খোদার পরেই মা বাপের স্থান। সেই মা বাপদের নিয়ে আতিউরের এমন মসকরা কল্পনাও করা যায়না।
গিয়েছিলাম বীমা কোম্পানীতে জীবন বীমা করা জন্যে। সেখানেও জানালো আমরা বুড়ো মানুষের বীমা করিনা। কারণ আপনি যে কোন সময় মারা যেতে পারেন। জানতে চাইলাম আমার গাড়ীর বীমা করতে পারবেন? তিনি বললেন স্যার একশ’বার। এক্ষুনি করে দিচ্ছি। স্যার গাড়ীতো সম্পদ, এর দাম আছে। কিন্তু আপনার বলেই বীমা অফিসারটি মুছকি হাসলেন।বৃদ্ধের গাড়ীর দাম আছে, কিন্তু তাঁর নিজের কোন দাম নেই।
ট্রেনে বাসে বা প্লেনে বৃদ্ধদের কোন দাম নেই। আপনি বেশী টাকা দেন বেশী যত্ন পাবেন। পেনশন আনতে গেলেও আপনাকে কিছু সম্মানী দিতে হবে। সঞ্চয়পত্র ভাংগাতে বা লাভ আনতে গেলেও কর্তা ব্যক্তিকে কিছু সম্মানী দিতে হবে। ফাইভ স্টার হাসপাতাল গুলোতে যান লম্বা কিউ বা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। ডাক্তারের ফি এক হাজার থেকে বারোশ’টাকা। রিপোর্টা দেখাতে গেলে সাতদিনের ভিতর দেখাতে হবে। না হয় আবার এক হাজার টাকা দিয়ে এপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।
আধুনিক রাষ্ট্র বিজ্ঞানে কথার কথা হিসাবে বলে থাকে জনগণই সবকিছু। জনগণই সার্বভৌম। আমি নিজের জীবনেই দেখলাম আধূনিক রাষ্ট্র দেশের ক্ষমতাবান লোকদের নিয়েই ব্যস্ত। সকল নীতিই তাদের জন্যে। ৯০ ভাগ মানুষের কথা বলেই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে সে রাষ্ট্র সাধারন মানুষের রক্ষক না ভক্ষক হয়ে বসে। এমন কি নিজের সুখ দু:খের কথাও কারো কাছে বলা যায়না।
লেখক‍‌ : কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
ershadmz@gmail.com


নানা রূপের গণতন্ত্র নানা যুগে / এরশাদ মজুমদার

দৈনিক জনপদে‘ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো প্রভু’ কলাম লিখে গাফফার ভাই বিখ্যাত হয়েছিলেন। তখন বংগবন্ধু রাষ্ট্র ক্ষমতার শিখরে অধিষ্ঠিত। নামমাত্র সংসদ ও গণতন্ত্র ছিল। লোকে বলতো গণতান্ত্রিক সরকার ও রাষ্ট্র। দৃশ্যত: সংসদ,ভোট, গণতন্ত্র সবই আছে। সত্যিকথা বলতে কি বংগবন্ধু ছিলেন রাষ্ট্রের চেয়েও বড়। তাঁর ইমজের কাছে সবকিছুই বামন ডোয়ার্ফ বা ছোট। দেশে ফিরে তিনি প্রেসিডেন্টের পদ ও ক্ষমতা গ্রহণ করলেন। কিছুদিন পর ওই পদে আরাম না পেয়ে প্রধান মন্ত্রী হয়েছিলেন। তিনি বুঝতে পারছিলেন না কোন পদের ক্ষমতা বা শাণ শওকত কি রকম। শেষ পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতি বা প্রেসিডেন্ট পদে থিতু হলেন।ফলে যা হবার তাই হয়েছে। গাফফার ভাই তাঁর ওই লেখায় আইউবের শাসনামলের কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই লেখার জন্যে গাফফার ভাইয়ের বিরুদ্ধে বংগবন্ধু কোন শাস্তির ব্যবস্থা করেননি। আবার তাঁর মত বিরোধী খবর প্রকাশের জন্যে হলিডে সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ খানকে জেলে দিয়েছিলেন। আবার এনায়েত উল্লাহ খানকে বাংলাদেশ টাইমসের সম্পাদক করেছিলেন। সে সময়ে শ্লোগাণ উঠেছিল, ’এক নেতা এক দেশ বংগবন্ধু বাংলাদেশ’। আবার শেখ মণি লিখেছিলেন, আইনের শাসন নয় মুজিবের শাসন চাই। পল্টনের ময়দানে বলেছিলেন মুজিবের বিরুদ্ধে বললে জিব কেটে ফেলা হবে। তিনিই আবার বিরোধী পক্ষকে আটক করার জন্যে বিশেষ নিরাপত্তা আইন করেছিলেন। এ আইন দ্বারা তিনি যে কোন নাগরিককে গ্রেফতার করে বিনা বিচারে জেলে ফেলে রাখতে পারতেন। যে কোন সময় কোন ওজর না দেখিয়ে ৫৪ ধারায় যে কোন নাগরিককে গ্রেফতার করা যেতো। এই আইনটি করেছিলো বৃটিশ শাসকরা স্বাধীনতাকামী দের কারণ না দেখিয়ে গ্রেফতার করা।


আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপি / এরশাদ মজুমদার

সব দলই যদি একই হয় তাহলে বহুদল কেন? এক দল নিয়ে যদি রাজনীতি চলতো তাহলে বহু দলের ধারনার জন্ম হতোনা। এটা একটা এক ধরনের চিনতা বা ভাবনা। একে রাজনীতিকরা গণতন্ত্র বলে অভিহিত করেছেন। এক সময়ে সবার ভোটাধিকার ছিলনা। এখন সবার ভোটাধিকার রয়েছে। এখনও গণতন্ত্রের চেয়ে ভাল কোন পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়নি। আমি এখন কোন দলীয় রাজনীতি করিনা। এক সময় ছাত্র ইউনিয়ন ও পরে ন্যাপ করেছি। আমি আমার চিন্তার জগতে কোন দলীয় বন্ধনে আবদ্ধ নই। দলীয় বন্ধনে চিন্তার স্বাধীনতা থাকেনা। দলীয় কর্মী বা নেতা উপনেতা থাকতে পারে। দলীয় চিন্তাবিদ থাকতে পারে কিনা থাকতে পারে কিনা জানিনা। দলীয় দর্শণ থাকতে পারে বা দলীয় দর্শণ থাকাও জরুরী। দলের দর্শণ যদি না থাকে সে দল টিকতে পারেনা। বাংলাদেশে বহু দলীয় গণতন্ত্র চালু আছে, বহু দলীয় মত প্রকাশের জন্যে। কিন্তু বিএনপি বা আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যদলের সৃষ্টির কারণ তেমন সুস্পষ্ট নয়। তবে বহু দলের নামে বহু নেতার জন্ম হয়েছে। বি চৌধুরী সাহেব একটি দল করেছেন নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে রক্ষা করার জন্যে। এ রকম বহু নেতা আছেন নিজ অস্তিত্ব বা ব্যক্তিত্ব রক্ষার জন্যে দল করেছেন। যেমন, মেনন ও ইনু সাহেবের দুটি দলের তেমন কোন ভোট নেই। তাঁরা দুজনই নৌকায় চড়ে বেঁচে আছেন। অনেক রকম জাসদ আছে, কিন্তু কেন সে বিষয়ে হয়ত আপনাদের কোন ধারণা নেই। রাজনীতির ছাত্রদের যদি প্রশ্ন করা হয় তারাও কোন উত্তর দিতে পারবেন না। বাংলাদেশে কত দল আছে তা জানার জন্যে আপনাকে নির্বাচন কমিশনে যেতে হবে। কমিশন অনেক সময় রাজনৈতিক কারণে দল গঠণে সহযোগিতা করেন। যেমন বিএনএফ। গুলশানের সংসদ সদস্য বিনএফের নেতা ও প্রতিষ্ঠাতা। তাঁকে কেউ চিনেনা। জেনারেল মইনের সরকারের আমলে বিএনপিকে ভেংগে নতুন দল তৈরির চেষ্টা করেছিল কমিশন। আইউব খানের আমলে ডিসি সাহেবরা নির্বাচন করতেন।
আমি এর আগে বহুবার লিখেছি আওয়ামী মুসলীম লীগ বা আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে তত্‍কালীন মুসলীম লীগ নেতাদের ব্যর্থতার ফলে। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের আবেগ বা ন্যায় সংগত অধিকারকে অস্বীকার করার ফলে কালক্রমে পাকিস্তান ভেংগে যায় এবং স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়। কার্যত পাকিস্তানী সামরিক শাসকগণ বংগবন্ধুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল। ফলে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের একচ্ছত্র নেতায় পরিণত হন। তিনিই বাংগালী মুসলমানের আশা আকাংখার প্রতীকে পরিণত হন। তিনি চেয়েছিলেন আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে। তিনি বা পূর্ব বাংলার কোন নেতাই যুদ্ধ চান নি। পাকিস্তানী সামরিক জান্তা জোর করে বাংগালী মুসলমানদের যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে।
বংগবন্ধু সারা জীবন মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্যে লড়াই করেছেন। ক্ষমতায় এসে তিনি গণতন্ত্র ও বহুমতকে সহ্য করতে পারছিলেন না। ফলে তিনি এক সময়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করেন এবং সকল সংবাদপত্র বন্ধ করে দেন। সালাজারের দেশে এক সময়ে সকল মত ও পথ বন্ধ ছিল। বংগবন্ধু মনে করতেন তিনি দেশের কল্যাণ চান, তাহলে এত দল ও মতের কি প্রয়োজন? এক সময়ে তাঁর মর্মান্তিক পতন হয়েছে। আওয়ামী লীগের কোন নেতা সে সময়ে টু শব্দও করেননি। বরং কেউ তাঁকে গালাগাল দিয়েছেন। তাঁর পতনের পর ক্ষমতা চলে গেল দক্ষিণপন্থী আওয়ামী লীগ নেতা খোন্দকার মোশতাকের কাছে। তাঁর কেবিনেটের সকল মন্ত্রীই ছিলেন আওয়ামী লীগের। পরে ক্ষমতা গ্রহণ করেন সেনাপতি জিয়াউর রহমান। তিনি ছিলেন একজন সত্‍,ধর্মপ্রাণ মুসলমান। তিনিই নিষিদ্ধ দল গুলোকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিলেন। তিনি সকল ধরণের মত প্রকাশের পক্ষে ছিলেন। এক সময়ে তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন অনেক দল ও মতের সমন্বয়ে। এর ভিতরে সবচেয়ে বড় দল ছিল ন্যাপ। তখন ন্যাপের সভাপতি ছিলেন মশিউর রহমান যাদু মিয়া।
বংগবন্ধুর অনুপস্থিতে দিল্লী থেকে ফিরে এসে শেখ হাসিনা দলের হাল ধরলেন। তাঁর আগণের ক’দিন পরেই জিয়া সাহেব নিহত হন। অনেকেই মনে করেন ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা জিয়া সাহেবের মৃত্যুর জন্যৃ দায়ী। আপনাদের সকলকেই মনে রাখতে হবে শেখ হাসিনা ৭৫ থেকে ৮০ সাল নাগাদ দিল্লীতে ভারত সরকারের মেহমান ছিলেন। সে সময়ে তিনি ভারতীয় চাণক্য দর্শনে দীক্ষা লাভ করেন। যা তিনি এখন সফল ভাবে প্রয়োগ করছেন। আওয়ামী লীগ এখন শুধুমাত্র একটি ব্যানার। এই দলে এখন হাসিনা ছাড়া আর কিছু নেই। হাসিনার দর্শণই দলের দর্শণ আর সরকারে দর্শণ। রাষ্ট্রও এখন হাসিনার দর্শণ অনুসরণ করছে। মোবারক, সুহার্তো, মার্কোস এ নীতি অনুসরণ করেই দেশ শাসন করেছেন। এ নীতি মূল দর্শণ হলো আমিই রাষ্ট্র, আমিই সরকার, আমিই দল। একমাত্র আমিই দেশকে স্বর্গ বানাতে পারি। এমন সিভিল ডিক্টেটরের সাথে বেশ কিছু পারিষদ ও তোষক থাকে। তারা দিনরাত নেতা বা লীডারকে খুশী রাখার জন্যে কথা বলে যায়। না বললে চাকুরী থাকেনা। এরা কেউ জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয়। ৫ই জানুয়ারী দেশে নির্বাচনের নাটক হয়েছে। এ নাটকের পরিচালক হলেন নেতা, প্রধানমন্ত্রী, সরকার ও রাষ্ট্র। ভোটারের সাথে এ ধরণের নির্বাচনে কোন সম্পর্ক থাকার প্রয়োজন নেই। প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, ভোট যা পাওয়ার পেয়েছি, যথেষ্ট পেয়েছি। এটা প্রধানমন্ত্রী বা নেতার দোষ নয়। তিনিতো সংবিধান মোতাবেক চলছেন। মানে তিনি আইন মেমে চলছেন। আমাদের সংবিধান বা নির্বাচনী বিধানে আছে,ভোট না পেলেও নির্বাচিত হওয়া যায়। যেমন ৫ই জানুয়ারীর জাতীয় নির্বাচন। সারা জাতি জানতে পেরেছে নির্চন কমিশন রাজী থাকলে ভোট না পেলেও নির্বাচিত হয়েছে সংসদ সদস্য হওয়া যায়। চলমান সংসদে অর্ধেরকের বেশী সদস্য নির্বাচিত নন। কেউ নির্বাচনে অংশ না নিলে কমিশন কি করবে? যাঁরা অংশ নিয়েছেন তারাই বিজয়ী। কমিশন হাসতে হাসতে এমন একটি আরাম দায়ক নির্বাচন জাতিকে উপহার দিয়েছেন। এমন নির্বাচনের সরকারকে দেশবাসী বা বিদেশবাসী কেউই মেনে নেয়নি। তাতে কি আসে যায়? মানা না মানার জন্যে সরকার গঠণ বা মন্ত্রী পরিষদ মনোনয়নে কোন বাধা নেই। জাতিসংঘ বা আমেরিকাতো বলেনি যে আমরা এমন সরকারের সাথে কাজ করবোনা। সংবিধানতো বলেনি যে, মোট ভোটের অর্ধেক না পেলে সরকার গঠণ করা যাবেনা। নির্বাচনী এলাকার অর্ধেক ভোট না পেলে কেউ সংসদ সদস্য হতে পারবেনা। এখনতো এক ভোট না পেলেও চলে। এখনতো মন্ত্রী পরিষদের প্রায় ৮০ ভাগই অনির্বাচিত। তবুই বলা হয় তাঁরা গণতান্ত্রিক নির্বাচিত প্রতিনিধি। এমন নির্বাচন বাংলাদেশে যুগের পর যুগ চলতে পারে। তাতে সংবিধান ক্ষুন্ন হবে। আমাদের মহান পবিত্র সংসদ শূদ্রকণ্যার মতো, ব্রাহ্মণ পুত্ররা শতবার ভোগ করলেও সতীত্ব নষ্ট হবেনা। আমাদের সংসদ সদস্যরা ব্রাহ্মণ এবং ব্রহ্মার বর পুত্র। তাই তাঁদের মহান সংসদের মাননীয় সদস্য বলতে হয়। কিন্তু যাঁরা ভোট দেন বা দেননা তাঁরা শুধুই জনসাধারন(ইতরজনা)। তাঁদের নামের আগে মাননীয় লেখা যাবেনা। আমাদের দেশে মহান সেনা বাহিনী, মহান সমসদ, মাননীয় বিচারপতি, মহামান্য আদালত, মহামান্য রাষ্ট্রপতি বলতে হয়। বলতে হয় ইওর লর্ডশীপ। কারণ, বৃটেনে বিচারপতিদের লর্ড বলা হয়। আমার সুপারিশ হলো এখন থেকে মহান রেব বাহিনী, মহান বিজিবি বাহিনী, মহান পুলিশ বাহিনী ও মহান আনসার বাহিনী বলা হোক। জনসাধারনতো( কমনার্স বা ইতরজনা)। তাঁদেরতো মহান হওয়ার কোন সুযোগই নাই। সকল বাহিনীইতো রাষ্ট্র আর সরকারকে প্রাণ দিয়ে রক্ষা করছেন। এর মানে তাঁরা গণতন্ত্রকে রক্ষা করছেন। জনসাধারনের কাজ হচ্ছে সরকার মহান ও বাহিনীদের খাজনা দিয়ে লালন পালন করা। এটাই মহান সংবিধানের বিধান। যদি নিয়মিত খাজনা না দেন তাহলে সকল বাহিনী আপনাকে ডান্ডা মেরে ঠান্ডা করতে পারে। সবকিছুই আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থায় জনগণ হচ্ছে প্রজা ও চুদুরভাই। এমন একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থায় আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমায় আছেন। তথাকথিত মন্দের ভাল গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আওয়ামী লীগ ভাল করে শিখেছে এবং অনুশীলন করে চলেছে। ৫৪ সালের নির্বাচন থেকে আওয়ামী লীগকে আমরা দেখে আসছি। তখনতো বিএনপির জন্মও হয়নি। বলা হয় এদলটা নাকি সেনা্ছাউনিতে জন্ম গ্রহণ করেছে। যদিও ৪৯ সালে জমিদার বাড়ি রোজ গার্ডেনে উর্দূ ও ইংরেজী শব্দ মিলিয়ে আওয়ামী লীগ করা হয়েছে। তখনও আওয়ামী লীগ ষোলয়ানা বাংগালী হতে পারেনি। তখন যে কাগজটি আওয়ামী মুসলীম লীগ বা আওয়ামী লীগকে সমর্থন করতো তার নাম ছিল ইত্তেফাক( একতা বা ঐক্য)। মাওলানা ভাসানীর সীমাহীন অবদান রয়েছে ইত্তেফাক প্রতিষ্ঠায়। এক সময়ে ইত্তেফাকে ছাপা হতো প্রতিষ্ঠাতা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। মানিক মিয়া সাহেব প্রথমে ইত্তেফাকের ব্যবস্থাপনার সাথে যুক্ত ছিলেন। তেমনি আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা ও ছিলেন ভাসানী সাহেব। আজ বংবন্ধুই সবকিছু। ইত্তেফাক ও আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা লগ্নের ইতিহাস মুছে গেছে। ইত্তেফাক দিয়ে মানিক মিয়া সাহেবের পরিবার আজ সুপ্রতিষ্ঠিত। একই ভাবে বংগবন্ধুর পরিবারও সকল দিক থেকে সুপ্রতিষ্ঠিত। বংগবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আজ আওয়ামী লীগের একক মালিক। এটা একটি রাজনৈতিক পাবলিক লিমিটেড কোম্পানী। পেপসি কোলার মতো এর ব্র্যান্ড হচ্ছে নৌকা। এই ব্র্যান্ডর এজেন্সী নিয়ে লাখ লাখ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছেন। আওয়ামী লীগ এখন একটি বিশ্বাসের নাম, শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, একটি জাতি। এই দলের দর্শন হচ্ছে ধর্মহীনতা( সেক্যুলারিজম), জাতীয়তা হচ্ছে বাংগালীত্ব( বাংলাদেশী নয়)। বিশ্বের সকল বাংলাভাষীকে বাংগালী মনে করে। তাঁদের এই অবস্থান বাংলাদেশের রাষ্ট্র স্বত্তা বিরোধী। ভারত ও তাই মনে করে। তাঁরা মনে করেন ভারতের বাংগালী আর বাংলাদেশের বাংলাদেশের বাংগালী একই জাতিস্বত্তা। পশ্চিম বাংলার কালচারকে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের কালচার মনে করে। হিন্দুদের যত ধর্মীয় সংস্কৃতি আছে তার কিছুকেই আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সংস্কৃতি মনে করে। ইসলাম ও মুসলমানিত্বকে তাঁরা আরব দেশীয় কালচার মনে করেন। আওয়ামী লীগের কাছে মুসলমানিত্ব বা ইসলামের গুরুত্ব বাংগালীত্বের চেয়ে কম। সম্প্রতি হার্ভাডের শিক্ষক নোয়াহ ফেল্ডম্যান তাঁর এক গবেষণা পুস্তকে বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখে পড়েছে। সাথে সাথে পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থাও। সমাজতন্ত্র এর কাছে পরাজিত হয়েছে। কারণ চিন্তার সমাজতন্ত্র আর বাস্তবের সমাজতন্ত্র এক নয়। ভাবনার জগতে বুদ্ধিজীবীদের মগজে সমাজতন্ত্র আছে। গণতন্ত্র ও পুঁজিবাদ থেকে রেহাই বা মুক্তির পথ খুঁজছে জগতের নিপীড়িত মানুষ। তিনি বলেছেন যদি সুযোগ দেয়া হয় তাহলে একমাত্র ইসলাম এর মোকাবিলা করতে পারে। তিনি বলেছেন, মুক্ত অবাধ নির্বাচন হলে জগতের বহুদেশে ইসলামিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ও তেমন একটি দেশ। কিন্তু এখানে ইসলামকে নিন্দিত করে ফেলেছে আওয়ামী লীগ ও তাঁর বুদ্ধিজীবীরা। ভারতের বিখ্যাত লেখিকা অরুন্ধুতি রায় পুঁজিবাদকে ভৌতিক কাহিনী বলেছেন। পুঁজিবাদ কিভাবে মানুষকে শোষণ করে তার উপর বহু বই রয়েছে। পুঁজিবাদীরা ইসলামকে ভয় করে। বাংলাদেশেও রাষ্ট্র ইসলামকে ভয় করে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ মোট কাস্টেড ভোটের ৩০ থেকে ৪০ ভাগ পেয়ে থাকে। এর মানে ৬০ ভাগ ভোটার আওয়ামী লীগের সমর্থক নয়। কিন্তু তাঁরা বহু ভাগে বিভক্ত।
শুধু একবার ভাবুন জিয়া সাহেব যদি বিএনপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দল রেখে না যেতেন তাহলে আওয়ামী রাজনীতির মোকাবিলা করতো কে? বিএনপিও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে মোট প্রদত্ত ভোটের ৪০ ভাগ পেয়ে থাকে। বিএনপি বাংলাদেশে ইসলামী জাতীয়তাবাদের সৃষ্টি করেছে। অপরদিকে আওয়ামী লীগ ধর্মমুক্ত রাজনীতিতে বিশ্বাস করে যা ভারতও চায়। ফলে বিএনপি আওয়ামী লীগের বিকল্প রাজনীতির প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। যারা আওয়ামী রাজনীতির বিরোধী তাঁদর জন্যে বিএনপি একটা প্লাটফরম। আমি অন্তত এভাবেই দেখি। আমার চিন্তা অন্যদের কাছে ভুলও হতে পারে। মাত্র পঁয়ত্রিশ বছরের মধ্যেই বিএনপি এমন অবস্থানে পৌঁচেছে। একশ’ ভাগ ফেয়ার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আওয়ামী লীগ জানে বলেই ২০০৬ সাল থেকে নানা ষড়যন্ত্র ও টালবাহানা করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের এমন রাজনীতির কারণে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব দিন দিন বাড়ছে। তবুও বাংলাদেশের সাধারন ভারত বিরোধী তা ক্রিকেট মাধ্যমে প্রমানিত হয়েছে।


সকালবেলা ৯৫

বন্ধুরা বিশ্বাস করো, আমি নিজেকে নিজ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চলেছি। আমি আমার প্রিয়তম বন্ধুর সাথে মিলিত হতে চলেছি। আমি তার ডাক শুনতে পেয়েছি। বন্ধুর ডাকে আমি দিওয়ানা/মজনু হতে চলেছি। সেদিন আর বেশী দূরে নয় জগত সংসার আমাকে হাল্লাজ বলবে, সারা শরীরে লোহার হার পরাবে। আমি চাই সমাজ দেশ রাষ্ট্র আমাকে হাল্লাজ বলুক,টুকরা টুকরা করুক। আমি আর এ মাটির শরীরকে সহ্য করতে পারছিনা। নিজে থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন না করতে পারলে আমি কেমন করে বন্ধুর সাথে মিলিত হবো।
জগত সংসারে আমার আর কোন কাজ নেই।
হাল্লাজ বলেছিলেন ,আনা আল হক( আমিই সত্য)। আমার রূহের ভিতর এ শব্দ উচ্চারিত হচ্ছে প্রতিক্ষণ। আমি শব্দ শুনতে পাই। শুধু তোমরা শুনতে পাওনা। সমাজ রাষ্ট্র দেশ সরকার শুনতে পায়না। হাল্লাজের আমলে খলিফার মা খলিফাকে বলেছিলেন ‘ লোকটাকে ছেড়ে দাও, তাকে তার খোদার সাথে থাকতে দাও’। খলিফা বলেছিলেন, আমি শরীয়ার দাস।
আমার গুরু মাওলানা বলেছেন, আমি কোরআনের নির্যাস পান করেছি। হাড্ডি রেখে দিয়েছি মোল্লাদের জন্যে। আমি তেমন উঁচু দরের সাগরেদ বা মানুষ নই। তেমন বাক্য উচ্চারন করতে পারিনা। খোদা আমাকে তেমন শক্তি দেননি। প্রিয়তম বন্ধুর কাছে থেকে আমি এখনও বেশ দূরে আছি। তাই তিনি আমাকে ময়লায় ফেলে রেখেছেন।
আমার দেশের মানুষের দেহ আছে,রূহ নেই। তারা দেখতে মানুষের মতো,আসলে মানুষ নয়। তাই তারা ন্যায় নীতি ,সত্য মিথ্যা সত্‍ অসত্‍ বুঝবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। ফলে রাষ্ট্র ,আইন আদালত, দেওয়ানী আম ও দেওয়ানী খাস সবই নষ্ট হয়ে গেছে। রূহের জগত থেকে মাটির পুতুল গুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আর আমি এসব থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রূহের জগতে যাওয়ার লড়াইয়ে রত আছি। আমার দেহের ময়লা এখনও সাফ হয়নি। তাই পড়ে আছি এখানে।
প্রিয়তম বন্ধু ,আমাকে মুক্ত করো এ ময়লার দুনিয়া থেকেসকালবেলা ৯৫

বন্ধুরা বিশ্বাস করো, আমি নিজেকে নিজ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চলেছি। আমি আমার প্রিয়তম বন্ধুর সাথে মিলিত হতে চলেছি। আমি তার ডাক শুনতে পেয়েছি। বন্ধুর ডাকে আমি দিওয়ানা/মজনু হতে চলেছি। সেদিন আর বেশী দূরে নয় জগত সংসার আমাকে হাল্লাজ বলবে, সারা শরীরে লোহার হার পরাবে। আমি চাই সমাজ দেশ রাষ্ট্র আমাকে হাল্লাজ বলুক,টুকরা টুকরা করুক। আমি আর এ মাটির শরীরকে সহ্য করতে পারছিনা। নিজে থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন না করতে পারলে আমি কেমন করে বন্ধুর সাথে মিলিত হবো।
জগত সংসারে আমার আর কোন কাজ নেই।
হাল্লাজ বলেছিলেন ,আনা আল হক( আমিই সত্য)। আমার রূহের ভিতর এ শব্দ উচ্চারিত হচ্ছে প্রতিক্ষণ। আমি শব্দ শুনতে পাই। শুধু তোমরা শুনতে পাওনা। সমাজ রাষ্ট্র দেশ সরকার শুনতে পায়না। হাল্লাজের আমলে খলিফার মা খলিফাকে বলেছিলেন ‘ লোকটাকে ছেড়ে দাও, তাকে তার খোদার সাথে থাকতে দাও’। খলিফা বলেছিলেন, আমি শরীয়ার দাস।
আমার গুরু মাওলানা বলেছেন, আমি কোরআনের নির্যাস পান করেছি। হাড্ডি রেখে দিয়েছি মোল্লাদের জন্যে। আমি তেমন উঁচু দরের সাগরেদ বা মানুষ নই। তেমন বাক্য উচ্চারন করতে পারিনা। খোদা আমাকে তেমন শক্তি দেননি। প্রিয়তম বন্ধুর কাছে থেকে আমি এখনও বেশ দূরে আছি। তাই তিনি আমাকে ময়লায় ফেলে রেখেছেন।
আমার দেশের মানুষের দেহ আছে,রূহ নেই। তারা দেখতে মানুষের মতো,আসলে মানুষ নয়। তাই তারা ন্যায় নীতি ,সত্য মিথ্যা সত্‍ অসত্‍ বুঝবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। ফলে রাষ্ট্র ,আইন আদালত, দেওয়ানী আম ও দেওয়ানী খাস সবই নষ্ট হয়ে গেছে। রূহের জগত থেকে মাটির পুতুল গুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আর আমি এসব থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রূহের জগতে যাওয়ার লড়াইয়ে রত আছি। আমার দেহের ময়লা এখনও সাফ হয়নি। তাই পড়ে আছি এখানে।
প্রিয়তম বন্ধু ,আমাকে মুক্ত করো এ ময়লার দুনিয়া থেকে।
আমাকে সৃষ্টির বহু আগেই তুমি রূহকে তৈরি করে অতি আদরে রেখে দিয়েছো রূহের জগতে। তুমি বহু কাল বা মহাকাল ভেবোছো রূহকে নিয়ে। কতকাল তা তুমি ছাড়া,শুধু তুমি ছাড়া কেউ জানেনা। তখন জগত বা মহাজগত কি্ছুই ছিলনা। তুমি ছিলে আর ছিল রূহ।আর ভাবছিলে নিরাকার তুমি আর আমিকে নিয়ে। একদিন ভাবতে ভাবতেই কুদরতি আয়নার সামনে তুমি দাঁড়ালে আর নিজেকে দেখলে।পড়ে গেলে নিজের প্রেমে। অবাক হয়ে দেখলে নিজেকে লক্ষ বছর।আর নিজের প্রেমে নিজেই পড়ে গেলে।
তারপর তুমি নিরাকার তোমাকে বিচ্ছিন্ন করে সমুখে রাখলে। ভাবলে সাকার এ তুমি কে? ভাবতে ভাবতে একদিন এক মাটির পুতুল বানিয়ে নাম দিলে আমি। আবার কোটি বছর পর সেই পুতুলের ভিতর নিজেই অবস্থান নিলে প্রেমের আবাস হিসাবে। এরপর সৃষ্ট জগত এলো প্রেমিকাকে সন্তুষ্ট করার জন্যে। সেই থেকে জগতে প্রেম এলো ভালবাসা এলো। চলছে অবিরাম অবিরত আমি তুমি, তুমি আমির খেলা। সেই খেলাতে মশগুল হলো রুমী, হাল্লাজ,খৈয়াম, হাফিজ সা’দী ও গালিব আর এখন আমি এরশাদ মজুমদার।


বংগবন্ধুর সাথে আমার সরাসরি পরিচয় ১৯৬১ সালে পাকিস্তান অবজারভারে  কাজ শুরু করার পর। কয়েকজন সাংবাদিকদের সাথে তাঁর সম্পর্ক ছিল খুবই পারিবারিক। আমাদের জেনারেশনের অনেকের সাথেই তাঁর খুব ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল। তাঁর সবচেয়ে বড় গুণ ছিল তিনি পরিচিতজনকে খুব আদর যত্ন করতেন। সে সময়ে সবচেয়ে প্রভাবশালী বিরোধী রাজনীতিক ছিলেন মাওলানা ভাসানী। শেখ সাহেব কোলকাতা থেকেই সোহরাওয়ার্দীর সাহেবের ভক্ত বা অনুসারী ছিলেন। কিন্তু ঢাকর মুসলীম লীগ নেতারা আসাম মুসলীম লীগের সভাপতি মাওলানা সাহেবকে কোন গুরুত্বই দিলেন না। একই ভাবে মুসলীম লীগের কোলকাতার নামজাদা কর্মী শেখ সাহেবও অবহেকিত। ফলে দুজনই মুসলীম লীগের ঢাকার রাজনীতিতে অপাংতেয় হয়ে গেলেন।
অখন্ড বাংলাদেশের(সাবেক ) শেষ প্রধানমন্ত্রী মুসলীম লীগের সোহরাওয়ার্দী সা্হেব। মুসলীম লীগের আভ্যন্তরীন কোন্দলের ফলে সোহরাওয়ার্দী সাহের ঢাকা ফিরতে বিলম্ব হলো। অনেকেই বলেন তাঁকে ফিরতে দেয়া হয়নি। পূর্ববাংলার প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেলেন ঢাকা নবাব বাড়ির নাজিম উদ্দিন সাহেব। অখন্ড বাংলাদেশের প্রথম তিনজন প্রধান মন্ত্রী ছিলেন শেরে বাংলা, স্যার নাজিমউদ্দিন ও সোহরাওয়ার্দী। এর কারণ, অখন্ড বাংলাদেশে মুসলমানরা ছিল মেজরিটি।
ফলে বাধ্য হয়ে মাওলানা সাহেব বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মীদের নিয়ে ১৯৪৯ সালের ২৩শ জুন আওয়ামী মুসলীম লীগ গঠণ করলেন। শেখ সাহেব ছিলেন নতুন দলের যুগ্ম সম্পাদক। শুরু হলো মুসলীম লীগ বিরোধী রাজনীতি। মাওলানা সাহেব আর শেখ সাহেব ছিলেন শক্তিশালী সংগঠক ও বাগ্মী। ৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলীম লীগের কবর হয়ে গেল। শেরে বাংলা, সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা সাহেব এক জোট হয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠণ করেছিলেন। সকলেই ছিলেন মুসলীম লীগ নেতা এবং সকলেই পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার আওয়ামী মুসলীম লীগ। রক্ষণশীল গণবিরোধী মুসলীম লীগ নেতাদের অদূরদর্শিতার কারণেই মুসলীম লীগ ভেংগে নতুন মুসলীম লীগ গঠিত হয়েছিল।কিন্তু মাওলানা সাহেব বেশীদিন নিজের প্রতিষ্ঠিত দল আওয়ামী লীগের সাথে থাকতে পারলান। ফলে শেখ সাহেব কালক্রমে আওয়ামী লীগের মূল ও একচ্ছত্র নেতা হয়ে গেলেন। এবং পূর্ব পাকিস্তান রাজনীতির ধারক বাহক হয়ে গেলেন। তিনি বাংগালী অবাংগালী ইস্যুটাকে জনপ্রিয় করে সামনে নিয়ে এলেন। মাওলানা ব্যস্ত থাকলেন বিদেশনীতি নিয়ে।

পাকিস্তানের বিদেশনীতির প্রশ্নে ৫৭ সালেই আওয়ামী লীগ ভেংগে নতুন রাজনৈতিক দল ন্যাপের জন্ম হয়। রাজনীতিতে শেখ সাহেব এবং মাওলানা সাহেব আলাদা হয়ে গেলেন। তখন পাকিস্তানের কেন্দ্র ও পূর্ব বাংলায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। মাওলানা সাহেব ছিলেন আমেরিকা ও সাম্রজ্যবাদ বিরোধী। আর শেখ সাহেব ও সোহরাওয়ার্দী সাহেব ছিলেন আমেরিকা পন্থী। শেখ সাহেব  রাজনৈতিক ভাবে মাওলানা সাহেবকে ছাড়লেও ব্যক্তিগত ভাবে প্রকাশ্যে বা গোপনে তাঁর সাথে সম্পর্ক রাখতেন সে সম্পর্ক জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ছিল। সাংবাদিক হিসাবে আমারও সুসম্পর্ক ছিল। কিন্তু মাওলানা সাহেবের সাথে শেখ সাহেবের ছিল অন্তরের সম্পর্ক। মাওলানা সাহেব ক্ষমতার রাজনীতি না করলেও ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করতেন। আমি নিজেও ক্ষমতার সাথে জড়িত থাকা বা জড়িয়ে পড়া কখনই পছন্দ করিনা। আমি মনে করি ক্ষমতার সাথে জড়িত হলে চিন্তার স্বাধীনতা থাকেনা। এখন সাংবাদিকেরা সরকারের একাংশ। আওয়ামী ক্ষমতায় থাকলে তার একদল সাংবাদিক থাকে, আবার বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে তারও একদল সাংবাদিক,বুদ্ধিজীবী তাকে। ৭২ এ আগে এ অবস্থা এত নগ্ন ছিলনা। তাবেদার বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিক থাকলে দল ও সরকার খুশী হয়। শেখ সাহেবের সাথে বেশ কিছু বামপন্থী সাংবাদিক ও ছিলেন। এরা মুখে বলতেন আমরা মাওলানা সাহেবের লোক। এই বামপন্থীরা এখন আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে বামপন্থী বা প্রগতিশীল মনে করে। এরা মনে করেন ভারত বাংলাদেশে বামপন্থী বিকাশে সাহাহ্য করবে। এদের মতে ভারতকে সমর্থন করা, রবীন্দ্রনাথকে পূজা করা, হিন্দূ সংস্কৃতিকে বাংগালী বলে চালানো প্রগতিশীলতা।
পাকিস্তানকে ভেংগে ফেলার জন্যে ভারত ৪৭ সাল থেকে কাজ করে গেছে। বাংগালী অবাংগালী প্রশ্নে শেখ সাহেবের নেতৃত্বকে ভারত সমর্থন দিয়েছে। ফলে শেখ সাহেব পূর্ববাংলার একচ্ছত্র একক নেতায় পরিণত হলেন। পাকিস্তানী নেতা ও সামরিক জান্তা ছিল অন্ধ ও একগুয়ে। ফলে পাকিস্তান ভেংগে গেল ৭১ সালে। শেখ সাহেব হয়ে গেলেন নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও পিতা। পাকিস্তানের কারাগার থেকে ফিরে এসে ১০ই জানিয়ারী তিনি বললেন, আমি মুসলমান, আমি বাংগালী। আমি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলীম রাষ্ট্রের নেতা। বর্তমান আওয়ামী লীগ বা তাঁর কন্যা শেখ সাহেবের এই নীতি থেকে এখন হাজার মাইল দূরে। শেখ সাহেবের আত্মজীবনী পড়লেই বুঝতে পারবেন তিনি মনে প্রাণে একজন মুসলমান ছিলেন। তিনি পাকিস্তানের জন্যে লড়াই করেছেন। আগেই বলেছি তিনি মুসলীম লীগ ত্যাগ করেছেন দলের শীর্য নেতাদের অবহেলার কারণে। তিনি কখনই ইসলাম বা মুসলমানদের বিরুদ্ধে ছিলেন না। এ কথা আমি দৃঢ ভাবে বিশ্বাস করি। ৭৪সালে ওআইসি সম্মেলনে যাওয়ার আগে তিনি কঠোর মনোভাব নিয়ে ভারতের চাপকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। কিন্তু তাঁর কেবিনেটের কিছুলোক তাঁকে না যাওয়ার জন্যে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন। ভারতীয় হাই কমিশনার বিমান বন্দরে রানওয়ে পর্যন্ত গিয়েছিলেন শেষ অনুরোধ জানাবার জন্যে। কিন্তু তিনি শোনেননি। তিনি মনে করতেন তিনি স্বাধীন দেশের নেতা ও রাষ্ট্রপতি। স্বাধীন ভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা তাঁর আছে। আমি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ভাবে ঘটনাটা দেখেছি। শেখ হাসিনা এখন শেখ সাহেবের মতো স্বাধীন নন। বংগবন্ধুর নিহত হওয়ার পেছনে তাঁর স্বাধীন মনোভাব কাজ করেছিল। তিনি ছিলেন একজন জাতীয়তাবাদী বাংগালী মুসলমান নেতা। এমন স্বাধীন মনেভাবের নেতাকে ভারত প্রতিবেশী দেশের নেতা হিসাবে দেখতে চায়না। একই কারণে জিয়াউর রহমানকেও হত্যা করা হয়েছে। ভারত চায় বাংলাদেশ একটি অনুগত বাধ্য রাষ্ট্র হিসাবে টিকে থাকে থাকুক। যার নমুনা আমরা দেখেছি ২০০৬ সালের লাগিবৈঠার আন্দোলন থেকে ২০০৮ সালের নির্বাচন নাগাদ। তখন পিনাক রঞ্জন ছিলেন বাংলাদেশে দিল্লীর সুবেদার। তিনিই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন।
তাঁরই অবদান হচ্ছে ২০০৮ সালের নির্বাচন তার ফলাফল। যার ধারাবাহিকতা ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচন। ২০০৮ সালে খালেদা জিয়াকে বাধ্য করা হয়েছিল নির্বাচনে যেতে। তাঁর দুই ছেলেকে হত্যার হুমকী দেয়া হয়েছিল নির্বাচনে না গেলে। ভারতের জনগণ ও মিডিয়া জানে বাংলাদেশের শেখ হাসিনা হচ্ছেন সিকিমের লেনদুপ দর্জি।
বংগবন্ধু এ কাজটি কখনই করতেন পারতেন না। ফলে তাঁকে বিদায় নিতে হয়েছে। শেখ হাসিনা বংগবন্ধুর অবস্থা থেকে শিক্ষা লাভ করেছেন। তিনি ৭৫ থেকে ৮০ সাল নাগাদ ভারতের মেহমান হিসাবে দিল্লীতে ছিলেন। এখন তিনি ঢাকায় দিল্লীর একজন সুবেদার। দিল্লীর কাজ হচ্ছে যেমন করেই হোক শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখা। এবং তাঁর মাধ্যমেই দিল্লীর আকাংখা বাস্তবায়িত করা। ৪৮ সাল থেকে ভারত চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের সুযোগ খুঁজছিলো। এখন সে সুযোগ তারা পেয়েছে। ছোটখাট ,কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ আভ্যন্তরীন বন্দর গুলোও তাদের দখলে নিয়ে নিয়েছে। যা চাচ্ছে তাই পাচ্ছে। সীমান্তে নিয়মিত মানুষ মারছে, ফসল কেটে নিচ্ছে, গরু ছাগল নিয়ে যাচ্ছে। নদীর পানি আটকে দিচ্ছে। সীমান্তে বহু যায়গা দখল করে নিয়েছে।
অপরদিকে রাজনীতির মাঠ থেকে থেকে খালেদা জিয়া বা ইসলামী ভাবধারাকে মুছে দেয়ার সকল ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছে। শেখ হাসিনার এক কথা আমাকে ক্ষমতায় না রাখলে জংগীবাদের উত্থান হবে। শেখ হাসিনার কেবিনেট মন্ত্রীরা ২৪ ঘন্টা গলাবাজি করছেন, খালেদা জিয়া সন্ত্রাস, মানুষ হত্যা, বাস পোড়ানোের জংগী নেত্রী। শেখ হাসিনা পশ্চিমা দেশগুলোকে বুঝাবার চেষ্টা করছেন যে খালেদা জিয়া মানেই আইএস জংগী। তিনি বলছেন, বাংলাদেশের মানুষ আগে উন্নয়ন চায়, পরে গণতন্ত্র। নির্বাচন কোন বড় বিষয় নয়।
শেখ হাসিনা বংগবন্ধুর নাম ব্যবহার করছেন। জনগণের কাছে তাঁর ভুল ইমেজ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন। রামায়নের ভরতের খড়ম সিংহাসনে রেখে দেশ শাসন করে যাচ্ছেন। আমাদের সংবিধান তাঁকে মোগল, পারস্য , জার ও রোম সম্রাটদের ক্ষমতা ব্যবহারের অধিকার দিয়েছে।তিনি একজন সিভিল ডিক্টেটর। তিনি মনে করেন, ‘সি ইজ দা ল’।
বংগবন্ধুও মনে করতেন তিনিই গণতন্ত্র,দেশের স্বার্থে তিনি ভাববেন সেটাই আইন। তিনি বাহিনী দিয়ে দেশ চালাবার চেষ্টা করেছেন, তিনি সামরিক বাহিনীকে অবজ্ঞা করে রক্ষী বাহিনী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মহা বিশ্বস্ত তোফায়েল সাহেবকে রক্ষী বাহিনীর প্রধান করেছিলেন। বংগবন্ধু ভাবতেন, তিনিই বাংলাদেশ, তিনিতো সবকিছুই দেশবাসীর কল্যানে করছেন। এ চিন্তা থেকেই তিনি একদল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ভিন্ন মত প্রকাশের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছিলেন। সকল পত্রিকা ও দল বন্ধ করে দিয়েছিলে। রাশিয়া তাঁকে অন্ধভাবে সমর্থন করেছে। কিন্তু বিপদের দিনে রাশিয়া বা ভারত কেউ সাহায্যে এগিয়া আসেনি। তাজউদ্দিন সাহেবকে কেবিনেট থেকে বিদায় করে তিনি ভারতের বিরাগ ভাজন হয়েছেন এবং পশ্চিমা দেশ গুলোকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করেছিলেন। তাজ উদ্দিন সাহেব সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে বিশ্বাস করতেন। কিছুদিন তিনি সমাজতান্ত্রিক নেতার অভিনয় করেছেন রাশিয়া ও ভারতকে খুশী করার জন্যে।
বংগবন্ধু কোন কূট কৌশলে বিশ্বাস করতেন না। তিনি যা করেছেন সরল বিশ্বাসেই করেছেন। তাতে দেশবাসীর অকল্যাণ হয়েছে। দেশের অর্থনীতি ক্ষতি হয়েছে। দেশ দুর্ভিক্ষ হয়েছে। আমলা ও কিছু সমাজতন্ত্রী তাঁকে ভুল বুঝিয়েছিল। তাঁর ভিতর শাসকের গুণ ছিলনা। তিনি সব কিছুই আবেগ ও হৃদয় দিয়ে বিবেচনা করতেন, মাথা বা বুদ্ধি দিয়ে নয়। তিনি চাটুকার পরিবেষ্টিত থাকতে ভালবাসতেন। শেখ মণি লিখেছিলেন, আইনের শাসন নয়, মুজিবের শাসণ চাই। চাটুকারদের শ্লোগাণ ছিল, এক নেতা এক দেশ, বংগবন্ধু বাংলাদেশ। বড়ই দু:খের বিষয় হলো,তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর চাটুকার ও ভক্তরা সব পালিয়ে গেছে।
শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে অনেক পাকা। তিনি কেবিনেটে অর্ধেকের বেশী ভারতপন্থীকে রেখেছেন ভারতকে খুশী রাখার জন্যে। কিছুলোককে তিনি মন্ত্রী বানিয়ে রেখেছেন যেন তাঁরা ২০০৭-৮ এর মতো ষড়যন্ত্র করতে না পারেন। ভারতের নীতি হলো দমন করো, আরও কঠোর ভাবে দমন করো এবং ক্ষমতায় থাকো। আর জংগীবাদের মাতম করে সবার সমর্থন আদায় করো। ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রমান করেছে নির্বাচনে ভোট লাগেনা। মিশরের আল সিসি এক ধাক্কায় নির্বাচিত সরকারকে উচ্ছেদ করেছে। কেউ টু শব্দ করেনি। এমন নির্বাচন বাংলাদেশে কখনই হয়নি। এমন নির্বাচনকে আমাদের সংবিধান ও ভারত কঠোর ভাবে সমর্থন করেছে। তাই এখন শেখ ক্ষমতায় আছে এবং ২০১৯ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে চায়।
২০১৩-১৪ সালের জানুয়ারী নাগাদ বাংলাদেশে ৪/৫শ’ মানুষ নিহত হয়েছে। এমন রাজনৈতিক দমন এদেশে আর কখনই হয়নি। এখনতো বিরোধী দলের আন্দোলনকে জংগী সন্ত্রাসী হিসাবে প্রমান করার জন্যে জ্বালাও পোড়াও চলছে। স্বাভাবিক রাজনীতি বন্ধ রয়েছে। বিরোধী দলের মত প্রকাশের কোন সুযোগই এখন নেই। প্রধানমন্ত্রী দিনরাত চব্বিশ ঘন্টা বলে যাচ্ছেন বাংলাদেশের চলমান আন্দোলন জংগীদের আন্দোলন। এর শাথে আলকায়েদা বা আইএস জড়িত আছে। সরকারী দল নিজেদের সেক্যুলার বা ধর্মহীন প্রমান করার জন্য সংবিধান সংশোধন করে
আল্লাহর নাম বাদ দিয়েছে। সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ বাদ দেয়া হয়েছে। আওয়ামী পন্থী বুদ্ধিজীবীরা বলছেন মাদ্রাসা ও মসজিদ গুলো থেকে জংগীবাদের জন্ম হয়। জেহাদের বই এর নামে মূল্যবান ধর্মীয় গ্রন্থ বাজেয়াপত্ করা হচ্ছে। এর দ্বারা ভারত ও পশ্চিমাদেশ গুলো খুশী হয়।
বংগবন্ধু জীবিত থাকলে কখনই তথাকথিত সেক্যুলারিজমের নামে শেখ হাসিনা যা করছেন তা করতে পারতেন না। বংগবন্ধুই বাংলাদেশ হওয়ার পর ইসলামিক একাডেমীকে ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করে আল্লামা আবুল হাসেম সাহেবকে ডিজি করেছিলেন। আবুল হাসেম সাহেব ছিলেন অখন্ড বাংলাদেশ মুসলীম লীগের সাধারন সম্পাদক। বংগবন্ধুর আমলেই বাংলাদেশ ওআইসির সদস্যপদ লাভ করেছে। সউদী আরব ও চীন ছাড়া বেশীর ভাগ দেশ স্বীকৃতি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে। বংগবন্ধুর আমলেই বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করেছে।
আমরা যারা ঘনিষ্ঠ ভাবে বংবন্ধুর নৈকট্য লাভ করেছি তারা সকলেই জানি তিনি নরম হৃদয়ের মানুষ ছিলেন। রাজনীতি বাদ দিলে তিনি ছিলেন শাহজাহানের বড়ছেলে দারাশিকোহর মতো। গাফফার চৌধুরী বলেছিলেন রাখাল রাজা পদবী দিয়েছিলেন। মোঘল বাদশাহদের সাথে তুলনা করলে তাঁকে কিছুটা সাথে তুলনা করা যায় আর জিয়াউর রহমানকে ঔরংজেবের সাথে তুলনা করা যায়। শাসক হিসাবে তিনি সফল ছিলেন না। এদিক থেকে বিচার করতে গেলে শেখ হাসিনা একশ’ভাগ সফল। তিনি তাঁর লক্ষ্যের ব্যাপারে একেবারেই স্থির। সেনা সমর্থিত সরকারটি তাঁরই ছিল। সে সরকারটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ভারতীয় দূত পিনাক রঞ্জণ। ফলে তিনি আজও ক্ষমতায় আছেন। আরও থাকার ইচ্ছা আছে। তাঁর আমলে যত রাজনৈতিক গুম খুন হয়েছে বাংলাদেশের ৪৪ বছরে আর কারও আমলে। শাসক হিসাবে তিনি কঠোর হাতে এসব মোকাবিলা করে যাচ্ছেন। তাঁর আরেকটি বড় সাফল্য তিনি এক দংগল বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিককে পৃষ্ঠপোষকতা দেন যাঁদের কোন বিবেক নেই। তিনি তাঁর পিতার কঠোর সমালোচক ও হত্যার প্রচেষ্টাকারীদের পারিষদ করেছেন। দিনরাত তাঁরা এখন হাসিনা হু আকবর বলে জিকির করে যাচ্ছে। দেশে চরম অশান্তি সৃষ্টি করে তিনি খুব সফলতার সাথে দেশ শাসন করছেন।আন্তর্জাতিক মতামতকে তিনি কোন তোয়াক্কা করেন না। সেটা ম্যানেজ করার দায়িত্ব ভারতের। তিনি হাসতে হাসতে প্রতিপক্ষকে দমন করে যাচ্ছেন। রাজনীতিকে তিনি নাটক ও কৌতুক মনে করেন।
লেখক: কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
ershadmz@gmail.com


রাষ্ট্র বনাম অনুগত প্রজা / এরশাদ মজুমদার

এ ধরণের শিরোনামের কারণ নিয়ে আমি খুবই ভাবি। প্রায় প্রতিক্ষনই ভাবি এ রাষ্ট্রটা কি এবং কেন? আমি এ রাষ্ট্রের কে? কি জন্যে রাষ্ট্রের প্রয়োজন? রাষ্ট্র আমার জন্যে কি করে আর আমি রাষ্ট্রের জন্যে কি করি? বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে আমার চিন্তার ধারা এ রকমই। মাতৃভুমি আর স্বাধীনতাকে ভালবাসি বলেই ৭১ সালে আমি জীবন বাজি রেখেছিলাম। নিজের মৃত্যুর খবর নিজেই শুনেছি লোকমুখে। স্বাধীনতাই নাকি রাষ্ট্রের জন্ম দেয়। সে রাষ্ট্র মানুষের মুক্তির স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করে। না আমার সে স্বপ্ন আর বাস্তবায়িত হবে বলে মনে হচ্ছে না। এ রাস্ট্র আমার কাছে অচেনা।
আমি এমনিতেই খুবই আবেগী মানুষ। আমার আবেগ আমার চিন্তাধারাকে প্রভাবিত করে। আমার জন্ম মার্চ বা ফাল্গুণ মাসে। এ মাসের জাতকরা নাকি সব কিছুই হৃদয় দিয়ে দেখে ও বিবেচনা করে, বুদ্ধি দিয়ে নয়। নিজের আবেগকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে আমি সারা জীবন কষ্ট পেয়েছি। আমার পরিবার পরিজন বন্ধুগণ আমায় চিনতে পারেনা। আমি ভাবি দুনিয়ার সব মানুষই কি আমার মতো ভাবে? আমাকে একটু সম্মান করে আদর করে কেউ কথা বললে আমিই ধরে নিই যে তিনি খুবই ভাল মানুষ। ৫০এর দশকে ৬০ ভাগ ভাল মানুষ ছিলেন প্রায় সব খানে। তারও আগে বাবাদের আমলে ৮০ ভাগ মানুষ ভাল ছিলেন। দাদাদের আমলে বা তারই আগে ৯৫ ভাগ মানুষ ভাল ছিলেন। সে সময়ে জমি জমা বেচাকেনা হত মৌখিক। দলিল ছিলনা। কারণ, মানুষ সহজ সরল ছিলেন আর একে অপরকে বিশ্বাস করতেন। আখেরাতের কথা ভেবেই মানুষ মন্দ কাজ করতোনা। ৫০ সাল ছিল আমার বাল্যকাল। এখন আমি বৃদ্ধ। চারিদিকে ৯০ ভাগ মানুষ নষ্ট হয়ে গেছে বলেই আমার মনে হয়। কেউ কাউকে বিশ্বাস করেনা। সবাই সবাইকে ঠকাবার কাজে ব্যস্ত। অন্যায় অবিচারের পথে অর্থ বিত্ত সহায় সম্পদ আহরনের কাজে সবাই ব্যস্ত। মানুষ সত্‍ আর অসত্‍ কাজে মাঝে কোন ফারাক দেখতে পায়না। জন্মের মাসের কারণে আমি সীমাহীন আবেগী মানুষ সে কথা আগেই বলেছি। ডাক্তার বলেন বেশী আবেগে শরীর খারাপ করবে। বেশী আবেগে হার্ট এ্যাটাক হতে পারে। আবেগের কারণে আমার পক্ষে কখনই শাসক হওয়া সম্ভব ছিলনা। এমন কি সংসারেও আমি কর্তা নই। আমার বিবিজান সবই করেন। এর কারণ, আমি বুঝতে পারিনা এ জগত সংসারে কোন কাজটা আগে করা দরকার বা পরে করলেও চলবে। প্রায়োরিটি এক্সপেনডিচার বিষয়টি বুঝতে পারিনা। আমি নিজের দেনা শোধ না করে কেউ চাইলে ধার দিয়ে দিই,অথবা গরীব কাউকে দান করে ফেলি। আমার বিবিজান বলেন,সংসারে আমি একজন মেহমান। আমি নাকি ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াই। নোয়াখালিতে বলে ঘরের খেয়ে মসজিদে আজান দেয়।
এর মানে জগত সংসারে আমার মতো মানুষের কোন প্রয়োজন নেই। এমন একজন অপ্রয়োজনীয় মানুষ কেমন করে আজও বেঁচে আছি আমি বুঝতে পারিনা। আমার দ্বারা জগতের কি উপকার হয়েছে? খোদা আমাকে কেনইবা সৃষ্টি করেছেন? বংগবন্ধুর জন্ম ১৭ই মার্চ। তিনিতো জগত বিখ্যাত মানুষ। আমি খুব কাছে থেকে তাঁকে দেখেছি। তিনিও আবেগী ছিলেন। তাঁর সাহস ছিল। তিনি কোন কিছুকেই ভয় পেতেন না। ফলে তিনি তাঁর বন্ধু ও মুরুব্বীদের পিছনে ফেলে সামনে এগিয়ে গেছেন। ঠিক বেঠিক চিন্তা করেননি। যা ভাল মনে করতেন তাই করার জন্যে এগিয়ে যেতেন। কিন্তু আমি পারিনি, কারণ আমার তাঁর মতো সাহস ছিলনা। তবে আমি ব্যাক্তিগত মান মর্যাদা রক্ষার জন্যে জীবন দিতে পারি। আমার সম্মানের কাছে জগত কিছুইনা। তবুও আমি বুঝতে পেরেছি জগত সংসার বা সমাজ কখনই আমার মনের মতো হয়নি। রাস্ট্র বা সমাজ কখনই আমাকে মানুষ হিসাবে সম্মান করেনি। বরং আমি অবিরাম অত্যাচারিত হয়েছি। সমাজের নিয়ম কানুন তৈরি হয়েছে ক্ষমতাবান শক্তিশালী মানুষের দ্বারা। আইন বা নিয়ম কানুনের লক্ষ্য হলো ক্ষমতাবানদের ক্ষমতা রক্ষা করা আর প্রজা নামক মানুষদের দমন করে অনুগত রাখা। বাদশাহী যুগ থেকে হাল আমল পর্যন্ত আইন কানুন, নিয়ম নীতি একই ধারায় চলে আসছে। তবে নিষ্পেশিত নির্যাতিত মানুষের বিদ্রোহ ও বিপ্লবের কারণে আইন কিছুটা রূপ বদলিয়ে মানবিক হওয়ার মুখোশ পরেছে। মোঘল আমলে আমরা প্রজা ছিলাম ,এখনও প্রজা আছি। আমাদের রাষ্ট্রের নাম প্রজাতন্ত্রী। জনগণতান্ত্রিক নয়। কারণ, এখনও যাঁরা আইন প্রণয়ন করেন তাঁরা একটি গোষ্ঠি। এদের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য প্রজাকে ভয় ভীতি দেখিয়ে নিজেদের অধীনে রাখা। সে জন্যে শাসকরা নানা বাহিনী তৈরি করেছেন প্রজা দমনের জন্যে। প্রজাদের আবার আদর করে নাগরিক(সিটিজেন) নাম দেয়া হয়েছে। বাদশাহরা প্রজা কল্যাণের নামে আইন বানাতেন। ইংরেজরা ও দখলদার হিসাবে প্রজা দমনের জন্যে কোতোয়াল বা পুলিশ বাহিনী তৈরি করেছে। ফলে লাঠি ডান্ডা বেত আইনের প্রতীক হিসাবে গড়ে উঠেছে। যদিও এখন আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয় প্রজা নিপীড়নের জন্যে। সমাজ রাজ্য ও রাষ্ট্রে খাজনা আদায়ের ব্যবস্থা সুপ্রচাীন কাল থেকেই চলে আসছে।। প্রজার ফসল বা আয় রোজগার থেকেই কোতোয়ালদের বেতন দেয়া হয় শান্তি শৃংখলা রক্ষার নামে প্রজাকে দমনের জন্যে। প্রয়োজনে খাজনা আদায়ের জন্যে সিপাহীরা প্রদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করতো। তাঁদের গরু ছাগল, হাস মুরগী , বাসন কোষন লুটকরে নিতো। অনেক সময় অন্য প্রজাদের ভয় দেখাবার জন্যে প্রকাশ্যে হত্যা করা হতো। ইংরেজ আমলে এ অত্যাচার সবচেয়ে বেশী ছিল।
আমাদের এ বাংলাদেশটি মানে এই ভুমিটি হাজার বছর ধরে বিদ্ধমান। বাংগালী মুসলমানের রাষ্ট্র তৈরি হয়েছে ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে। উদ্দেশ্য ছিল আমরা অমানবিক অত্যচারী রাষ্ট্র পাকিস্তানের কাছ থেকে মুক্তি পাবো।। এখন আমরা স্বাধীন। পাকিস্তান নাই, বিদেশী কেউ নাই। কিন্তু অত্যাচারের সকল আইন এখনও বলবত্‍ আছে। হাজার চেষ্টা করে পুলিশী আইন ৫৪ ধারা বাতিল করা যায়নি। কারণ নাকি রাষ্ট্রকে বাধ্য হয়ে অত্যাচার করতে হয়। পুরাণো সকল অত্যাচারী আইন ও ব্যবস্থা এখনও জারী আছে। শুধু বাংলাদেশ নামে একটি রাষ্ট্র হয়েছে। এ রাষ্ট্রের একটি ভুখন্ড আছে, যা হাজার বছর আগেও ছিল। নতুন হয়েছে একটি গাণ, একটি পতাকা,জাতিসংঘের সদস্যপদ। শুধু ব্যতিক্রম শাসকরা বাংলায় কথা বলেন। শাসকরা হলেন পরিচিতজনের পোলা বা নাতিরা। বলুনতো দেখি, দেশের রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর সাথে ক’জন নাগরিক দেখা করতে পারেন। কারণ তাঁরা প্রজা, শাসক গোষ্ঠি বা দলের কেউ নয়। প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি রাস্তায় নামলে রাস্তা খালি করে দিতে হয়। ফলে চারিদিকে সব থেমে যায়। এসব বাদশাহী আমলেও ছিল। এর মানে আধুনিক প্রজাতন্ত্র আর বাদশাহী বা সাম্রাজ্যের মধ্য কোন আমি কোন ফারাক দেখতে পাইনা। বাদশাহী বা ইংরেজ আমলে একজন সিপাহী একজন প্রজার পাছায় যে কোন সময়ে লাথি বা ডান্ডা মারতে পারতো। হাতকড়ি পরিয়ে ধরে নিয়ে যেতে পারতো। এখনও পারে। কারণ, প্রজা বা নাগরিকরা নাকি রাষ্ট্রকে এসব ক্ষমতা দিয়েছে। এখনতো কোতোয়ালরা দাবী করেছেন তাদের হেফাজতে কেউ মারা এলে তাদের বিরুদ্ধে যেন কোন মামলা না হয়। তারাতো বাদশাহ নামদারের গদি রক্ষার জন্যেইতো প্রজার পাছায় ডিম ঢুকায়, বেশী আদর যত্নে যদি কাহিল হয়ে যায় তাহলে কবিরাজের কাছে নিয়ে যান। সবকিছুই করেন তারা আইনের ভিতর থেকে।
আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় প্রজারা ভোটের নাটক করেন। এই নাটকেই নেতা(বাদশাহ/প্রধানমন্ত্রী ) নির্বাচিত হন। আধুনিক ভাষায় নেতা বলা হয়। বাদশাহর পারিষদকে এখন সংসদ বলা হয়। এ সংসদের প্রধান থাকেন একজন প্রধানমন্ত্রী যিনি বাদশাহর ক্ষমতা ব্যবহার করেন। আর যে কোন বিষয়ে সংসদ সদস্যরা হাঁ বলে তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। বাদশাহ দরবারে এলে পারিষদরা কোমর বাঁকিয়ে কুর্নিশ করতেন, এখনও তা করা হয়। বাদশাহ হুজুরের(প্রধানমন্ত্রী) বিরুদ্ধে কিছু বললে সংগে সংগে গ্রেফতার। এদেশে আল্লাহ এবং নবীজীর(সা) বিরুদ্ধে কিছু বললে কোন শাস্তির ব্যবস্থা নই। মেজরিটি মানুষের বিশ্বাসকে আঘাত করলে রাষ্ট্র কিছু করেনা। ফলে মুক্তমনা যুবকদের জন্ম হয়েছে। এদের বাপদাদারা সবাই মুসলমান। এর মানে রাস্ট্র মেজরিটি মানুষের কথা শুনেনা। অথচ এদেশ নাকি একটি গণতান্ত্রিক দেশ।
আমি বিশ্বাস করি দুনিয়ার মালিক আল্লাহতায়ালা। তিনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন,আর তিনিই আমাকে ফিরিয়ে নিবেন। জন্ম থেকে ইন্তিকাল(স্থানান্তর) বা মরণ পর্যন্ত সময়টা আল্লাহ নির্দেশিত পথে চলার হুকুম রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের সংবিধান বলে মানুষ সার্বভৌম, আল্লাহ নয়। সংবিধান ও সংসদের আনুগত্য কর, আল্লাহকে নয়। শাসক আল্লাহর আনুগত্য না করলেও কিছু আসে যায়না। বাংলাদেশের সংবিধানে মানুষকে সার্বভৌম বলাটাও এক ধরনের ভন্ডামী। বাস্তবে এ ধরনের কোন সার্বভৌমত্ব কোথাও নাই। কথায় বলা হয়, জনগণ সার্বভৌম, জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। বুকে হাত দিয়ে বলুন,আপনি কি কখনও অনুভব করেছেন আপনি এদেশের মালিক। আমি কখনও অনুভব করিনি। এমন কি কখনও ভাবিওনা। আমিতো সবখানেই সব সময় লাঞ্ছিত, অবহেলিত, অপমানিত। তহশীল অফিসে খাজনা দিতে গেলে উমেদার অপমান করে। খাজনা ৫০ পয়সা হলে দাবী করে পাঁচ টাকা। হয়ত বলে দিল তোমার নামে খতিয়ান নাই। লেখাপড়া না জানা প্রজা তখনই তহশীলদারের পা ধরে কান্নাকাটি করেন। তখনি দয়ার সাগর তহশীলদার সাহেব বললেন, যা,গরু বেচে টাকা নিয়ে আয় সব ঠিক করে দেব। বাদশাহর জামানায় তহশীলদার যেমন ছিলেন এখনও তেমন আছেন। বিপদের সময় থানায় যান দেখবেন থানাদার চোর গুন্ডাদের নিয়ে মশগুল আছেন। সেখান আপনার কথা শোনার মতো কেউ নেই। আমাদের দেশে একটি গল্প আছে ‘বাঘে ছুঁলে ১৮ঘা আর পুলিশে ছুঁলে ৩৬ঘা’। তাই সত্য কথা বলার জন্যেও কেউ থানায় যায়না। থানাদারের আইন গুলো তৈরি করেছেন ইংল্যান্ডের রাণী বা রাজা। কারণ প্রজা বা স্বাধীনতাকামীদের দমনের জন্যে এমন আইনই দরকার। সে আইন এখনও বলবত্‍ আছে। আপনি নাকি এ রাষ্ট্রের মালিক। কথাটা কি আসলেই সত্য? আপনিই বলুন এদেশ কোন সরকারী অফিসে আপনি সম্মানিত? কোন সরকারী অফিসের উপর আপনার আস্থা আছে? কোন সরকারী অফিসে ঘুষ বা দুর্ণীতি নেই?
শুরুতেই আমি বলেছি, আমি একজন সীমাহীন আবেগী মানুষ। নিজের জীবনেই অনুভব করেছি রাষ্ট্রটা আমার দেহকে অত্যাচারের খাঁচায় বন্দী করে ফেলেছে। অন্তর মন বা রূহের ভিতর খোদা আর বাইরে সমাজ রাষ্ট্র ও বাদশাহী আইন। রূহ বলে বিদ্রোহ কর ফেরাউনী আইনের বিরুদ্ধে ,কিন্তু দেহ বলে দরকার কি,দেহটাকে রক্ষা করো। সবাইতো দেহ রক্ষা করেই চলছে। বাদশাহ যদি আল্লাহর কথা না শোনে তুমি হিজরত করো না হয় আল্লাহপাকের পানা চাও। আমিতো মোনাফেক হতে চলেছি। দেহকে নিয়ন্ত্রণ করে রাষ্ট্র, মনকে নিয়ন্ত্রণ করেন খোদা। কোথায় সত্য বলবো। বাংলাদেশ এমন একটি যায়গাো নেই যেখানে সত্যের কোন স্থান আছে। আমিতো এমন সব মানুষ দেখি যাঁরা অবসরের পর দিনরাত আল্লাহ আল্লাহ করছেন। বাসা থেকে বেরিয়ে মসজিদে যান আর বাসায় ফিরে আসেন। সব কিছু থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। বাইরের কোন ঘটনাই তাঁর মনে কোন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেনা। তাঁর মেয়েটাকে গুন্ডারা তুলে নিয়ে গেছে তবুও তাঁর ভাবের কোন পরিবর্তন নেই। তিনি থানায়ও যাননি। তিনি জানেন কোথাও কোন বিচার নেই।
জানিনা, এদেশে কখনও মানব ও মানবতার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে কিনা। আইন গুলো কখনও মানবিক হব কিনা। চলমান রাষ্ট্র ব্যবস্থার উপর আমি সকল আস্থা হারিয়ে ফেলতে চলেছি। শুধু প্রার্থনা করি, হে খোদা আমি তোমার অনুগত বিশ্বস্ত গোলাম। আবেগে এতই কারত হয়ে পড়েছি যে জীবনটাকে আর টেনে নিয়ে যেতে পারছিনা। রূহের বাহন জরাজীর্ণ এদেহের আর কি প্রয়োজন বুঝতে পারিনা। আমিতো রাজনীতি করিনা। রাজনীতি বাদশাহর ধর্ম। কারণ,বাদশাহী রক্ষা করার জন্যে মোনাফেকী বাদশাহর ধর্মে পরিণত হয়েছে। বাদশাহ ভাবেন প্রজারা যে কোন সময় তাঁর গদি কেড়ে নিতে পারেন। তাই সেনাপতি কোতোয়ালই তাঁর একমাত্র ভরসা। তাঁরাই একমাত্র দেশ প্রেমিক। তাই বাদশাহ বাহিনীদের মাসোয়ার বাড়িয়ে যাচ্ছেন প্রতি নিয়ত। বাইবেলে পড়েছি রাজস্ব আদায়কারীর খাজনা আদায়ের নামে প্রজাদের উপর অত্যাচার করে। ঈসা(আ)কে নাকি ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে ওই কারণে। তিনি বলেছিলেন, ঈশ্বরের রাজ্যে বাস করো আর ঈশ্বরের পাওনা শোধ করো। রোমান গভর্ণর এই অভিযোগ এনেই যিশুকে ক্রুশে চড়িয়েছেন।
আমিতো অত্যাচারী রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কখনই বিদ্রাহ করিনি। আমি বাধ্য হয়েই একজন অনুগত প্রজা। তবুও রাজস্ব বিভাগের কর্মচারীরা আমার ক্লান্ত দেহ ও মনের উপর অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। তারা বলেন রাজাকে রাজার পাওনা দাও আর আমাদের পাওনা আমাদের বুঝিয়ে দাও। আমরাতো মহান রাজার প্রেমিক কর্মচারী। আমরাইতো মহান রাজাকেই রক্ষা করি। অত্যাচারী রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সকল উন্নয়নই শোষণের হাতিয়ার। একজন রাজকর্মচারী কখনই দরিদ্র হন না। কারণ, তিনি ঢেউ গুনলেই প্রসাদ তৈরি হয়ে যায়। কেউ যদি একবার রাজার পারিষদ হন তিনি চৌদ্দ পুরুষ বসে খেতে পারবেন। আর আমি টু শব্দও করিনা।

লেখক: কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
ershadmz@gmail.com

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Join 330 other followers