Feeds:
Posts
Comments

Archive for April, 2015


একটি খোলা চিঠি / এরশাদ মজুমদার

হে খোদা, তুমি আমার জীবন ও মরণের মালিক। আমাদের জীবন যাত্রা ও কর্মের ও মালিক। আমকে তুমি পাঠিয়েছো এই গ্রহের এমন একটি ভুখন্ডে যেখানে শাসকেরা মিথ্যা কথা বলে। ধনীরা লুটেরা হয়ে গেছে আর মুর্খরা মঞ্চে বসে থাকে। জ্ঞানীরা প্রাণের ভয়ে পালিয়ে থাকে। শাসকেরা নিজেরা আইন তৈরি করে নাগরিক নামক মানুষদের অত্যাচার করার জন্যে। এরা ফেরাউনের মতো নিজ দেশের মানুষকে অত্যাচার করে। কি তােমার ইচ্ছা ছিল জানিনা প্রভু। প্রাণের ভয়ে আমি আমার হতভাগ্য দেশের নাম বলতে পারছিনা। আমি প্রকাশ্যে কিছু বলতে ও করতে পারিনা। এখন আমার মনো কষ্টের সীমা নেই। কেন তুমি আমাকে পাঠালে এমন এক ভুখন্ডে যেখানে আমার আত্মার কোন স্বাধীনতা নেই। এখানে স্বাধীন চিন্তার কোন অধিকার নেই। কেন তুমি আমাকে এ রকম ভাবনা ভাবাও জানিনা। এমন ভাবনাতো আমার শোভা পায়না। আমিতো কোন মহা পবিত্র স্বাধীন আত্মার মানুষ নই। অতি সাধারণ নগণ্য আত্মার এক আদম সন্তান। যে শাসকের পেয়াদা দেখলেই ভয় পায়। এমন এক সময়ের ভিতর দিয়ে আমি যাচ্ছি তা আমি আর সইতে পারছিনা। শুধু আমি নই স্বাধীন এ ভুখন্ডের কোটি কোটি মানুষের জন্যে সময়টা অসহ্য হয়ে গেছে।
হে আমার প্রাণের মালিক, আমিতো তোমায় বার বার বলেছি আমি আর এ প্রাণ বইতে পারছিনা। তুমিতো জানো আমি কখনও পদ পদবী ক্ষমতা চাইনি। তাই আমার মনতো পদলোভী ক্ষমতাবাজদের মতো নয়। আমিতো নীরবে নিভৃতে জীবনের সময়টুকে পার করতে চাই তোমারই স্মরণে। যে ভুখন্ডে তুমি আমাকে পাঠিয়েছো এখানে আমার পূর্ব পুরুষদেরও বাসস্থান ছিল। জোর করে ইচ্ছা থাকলেও আমি হিজরত করতে পারিনা।
স্বাধীন হওয়ার পর এই ভুখন্ডের একটি নতুন নাম হয়। এর আগে এর নানা রকম নাম ছিল। মহাভারতের গল্প অনুযায়ী বলি রাজার পাঁচ সন্তানের একজনের নাম বংগ। তিনিই এই দেশটি শাসন করতেন। বলি রাজা সন্তান উত্‍পাদনে অক্ষম ছিলেন। তাই তিনি অন্ধ ঋষি দীর্ঘতমাকে আহবান করেছিলেন রাজপ্রসাদে রাণীদের উপর গমণ করে সন্তান উত্‍পাদন করার জন্যে। দীর্ঘতমার ঔরসেই বংগের জন্ম হয়। তবে আমি এ গল্প বিশ্বাস করিনা। কারণ, এ গল্প বিশ্বাস করলে আমাদের প্রকৃতি পুজারী পুর্ব পুরুষদের জারজ বলে বিশ্বাস করতে হবে। তবে সেই প্রাচীন যুগে ব্রাহ্মণ দ্বারা সন্তান উত্‍পাদনের রেওয়াজ ছিল। তবে আমার পূর্ব পরুষেরা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন নিজেদের মুক্তির জন্যে। এর আগে ধর্ম নামে যা প্রচলিত ছিল তা প্রকৃতি পূজা। সমাজ ছিল বর্ণবাদী। সকল মানুষের সমান মর্যাদা ছিলনা। আমি মনে করি ইসলাম জগতের সবচেয়ে বেশী প্রগতিশীল ধর্ম।
এসব হলো পেছনের কথা। হাল আমল ও সময়ের কাছে ফিরে আসছি। বৃটিশ আমলের পরেই রাজা বাদশাহদের জামানা শেষ হয়ে গেছে। বৃটিশরা আমাদের এক ধরণের গণতন্ত্রের শিক্ষা দিয়ে গেছে। আর দিয়ে গেছে আইন ও শাসন ব্যবস্থা। বাদশাহদের যুগেও এক ধরণের আইন দ্বারা দেশ চলতো। বাদশাহ নিজেই আইন বানাতেন নিজের স্বার্থে। রাজা বা বাদশাহ হতেন বংশ পরম্পরায়। ফলে নেতা নির্বাচনের ঝামেলা ছিলনা। এখনতো ভোট দিয়ে নেতা নেত্রী নির্বাচন করতে হয়। দার্শন শাস্ত্র, লোকনীতি বা রাজনীতির গুরুরা বলেছেন, গণতন্ত্রে সংখ্যার গুরুত্ব বেশী। এখানে মেধা বা জ্ঞানের কোন দাম নেই। নেতা অশিক্ষিত বর্বর হলেও চলবে যদি তিনি বেশী মানুষের ভোট পান। ভোট না পেলেও চলবে যদি তিনি নির্বাচনের ভান করতে পারেন। এখন বাদশাহী যুগের বাদশাহদের মতো নেতা বা মন্ত্রী হতে হলে শক্তি আর অর্থ থাকলেই চলে।
আমিতো লোকনীতি বা রাজনীতি কিছুই বুঝিনা। আমি কবি মাওলানা রুমী আর মনসুর হাল্লাজের মতো জীবন সাধনা করতে চাই। কিন্তু মানুষর কষ্ট দেখলে আর সহ্য করতে পারিনা। এখানে দুর্বলেরা সবল দ্বারা কঠোর ভাবে অপমানিত, নির্যাতিত ও শোষিত। দেশটা স্বাধীন হয়েছে প্রায় অর্ধশত বছর আগে । কিন্তু দেশের মানুষ এখনও স্বাধীন বা দারিদ্র মুক্ত নয়। শিক্ষিত অশিক্ষিত কারোই কোন কাজ নেই। গরীবদের জন্যে শিক্ষা ও চিকিত্‍সা নেই। এসব অশিক্ষিত গরীব কোথাও সম্মানিত নয়। আধুনিক রাষ্ট্র এসব মানুষকে নাগরিক বলা হয়। এদের নামেই সংবিধান হয়, এদের নামেই সংসদ হয়, সরকার গঠণ হয়। নামের খসম রাষ্ট্র নিজে স্বাধীন হয়ে গেছে নাগরিকদের কাঁধে চড়ে। কোতোয়াল আর বাহিনীরা বলে রাজা বাদশাহ কিছুইনা,আমরাইতো দেশ চালাই। এর মানে হচ্ছে সিপাহীরা দেশ চালায়। নেতারা ক্ষমতায় থাকলেই খুশী। দেশে ভোট বা বিনা ভোটের নির্বাচন সংসদ সবই আছে। নাগরিক বা গরীব মানুষদের নামেইতো আইন পাশ হয়। সিপাহী বা বাহিনীদের নাগরিকের পশ্চাতদেশে লাথি ও ডান্ডা মারার ক্ষমতা বা অধিকারতো জনগণের দ্বারা নির্বাচিত বা অনির্বাচিত বাদশাহরা দিয়েছেন। এখন রাস্তা ঘাটে কোতোয়াল আর সিপাহীরা বলে ‘ ব্যাটা আমরাই এখন দেশ চালাই, বেশী কথা বললে জেহাদী বই হাতে ধরিয়ে দিয়ে চালান করে দেবো।
হে খোদা, তুমি কি তোমার জগতের কোথাও এমন গণতন্ত্র দেখেছো? জানিনা, তোমার উত্তর কি হবে? তুমি কি আমার কষ্টের কথা বুঝতে পারো। আর গণতন্ত্রের এ নাটক বা ভন্ডামীর আমাদের নেতাদের শান্তির নোবেল পুরুষ্কার দাও। ফিলিস্তিন আর ইজরায়েলে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টার জন্যে তুমি আমেরিকা সহ তিন দেশের নেতাদের নোবেল দিয়েছো। শুধুমাত্র গণতন্ত্র রক্ষা আর সন্ত্রাস দমন ও শান্তির জন্যে আমাদের গণতান্ত্রিক সরকার বাদশাহী কয়েকশ’ নাগরিক নামের মানুষের জীবন নিয়েছে। তুমিতো ইচ্ছা করলে বিনা নির্বাচনেই তিনশ’নেতা বা মাস্তানকে( মস্তি বা আধ্যাত্বিক অর্থে) নির্বাচিত করে তাদের সম্মানিত করতে পারো। তাদের মন্ত্রী বানাতে পারো। তুমিতো সকল ক্ষমতার উত্‍স। এদেশে তেমন কথা বিশ্বাস করেনা। এখানে মানুষকে সার্বভৌম বলে তাদের উপরেই ফেরাউনী শাসন চালানো হয়। এখানে শাসকরা ফেরাউন, নমরুদ ও সাদ্দাদের কথা জানেনা। এখানে চিরসত্যকে স্বীকার করেনা গ্রীকের শাসক গোষ্ঠিদের মতো।
হে আমার প্রাণের মালিক, আমি জানি, তুমি বলবে ফেরাউন নমরুদকে তুমি লম্বা সময় দিয়েছিলে। তারপর একদিন পাকড়াও করেছিলে। তুমি আমাদের ও বলেছো ধৈর্য ধারণ করার জন্যে। আমরাতো অতি অতি সামান্য মানুষ, তেমন ধৈর্য ধরতে পারিনা। আমিতো বলছিনা এ ভুখন্ডকে তুমি সদোম নগরীর মতো উপড়ে ফেলে দাও। সকল মানুষকে ধ্বংস করে দাও। আমিতো চাই অত্যাচারের অবসান হোক। এবং তা অতি দ্রুতই হোক। তুমি আমাদের ঈমানকে আরও দৃঢ ও মজবুত করে দাও।তুমিতো খুব ভালোই জানো আউলিয়া দরবেশের এই দেশে ইসলাম আজ খুবই দূর্বল হয়ে পড়েছে। এখানে দরবারী কবিরা তোমার আজানকে ব্যংগ করে কবিতা লেখে। তারা আবার বাদশাহর সম্মান পায়। এদেশের বুদ্দীজীবীরা মুর্তিপূজক ও প্যাগানদের গুণগাণ করে দয়া দাক্ষিণ্যের জন্যে করজোড়ে দাঁড়িয়ে থাকে। যেমন করে ওরা আমাদের বাপ দাদাদের দাস বানিয়ে রেখেছিল। ওরা কেমন করে ভুলে গেল ওইসব দিনের কথা। মুর্তিপূজকদের কাছ থেকে পদ্মভূষণ পাওয়ার জন্যে এইসব বুদ্ধিজীবী পদচুম্বন করে। ভূ ভারতের মুর্তি পূজকরা বৃটিশদের ডেকে এনে তাদের হাতে আমাদের স্বাধীনতা তুলে দিয়েছিল। ১৯০ বছর পুরো ভু ভারতকে মুর্তিপুজকদের সহযোগিতায় ইংরেজরা শাসণ ও শোষণ করেছে। কোটি কোটি মানুষের প্রাণের বিনিময়ে এদেশের মানুষ স্বাধীনতা ফিরিয়ে এনেছে। এাব কথা বলছি কেন? কারণ আমার দেশের স্বাধীনতাকে আবার মুর্তিপুজকদের হাতে তুলে দেয়ার পায়তারা করছে একশ্রেণীর আরবী নামধারী মোনাফেকরা। এরা মুখে বলে আমরা মুসলমান, কিন্তু কাজে মুর্তিপুজক। আমার দেশের শাসকরা এখন মুর্তিপুজকদের বন্ধু। তারা নিজেদের সেক্যুলার বা ধর্মহীন মনে করে। ইংরেজী শিক্ষিত বেশীর ভাগ ভদ্রলোক নিজেদের সেক্যুলার বলে পরিচয় দেয়। মিডিয়ার ৯০ ভাগ বন্ধু আজ সেক্যুলারদের দলে। এ ভাবে চলতে থাকলে এদেশে আর ইসলাম থাকবেনা। যেমন কামাল আতাতুর্ক মোল্লাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ইসলামকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিলেন। সেক্যুলার শব্দ নিয়ে আমি হাজার বার লিখেছি। সেক্যুলার মানে যিনি বা যারা পরকালে বিশ্বাস করেন না। তাঁদের জগতই শেষ। যে কোন ধর্মেই পরকালকে বিশ্বাস করতে হয়। ইসলামে পরকাল বিশ্বাস করা ঈমানের অংগ। যারা বিশ্বাস করেন না তারা মুসলমান নয়। আমার দেশটি এখন সেক্যুলারদের পাল্লায় পড়ে গেছে। এমন কি ইসলামে বিশ্বাস করেন তাদের ভিতর একদল লোক আছেন যারা সেক্যুলার বলে দাবী করেন। এরা হচ্ছে ভন্ড।
হে খোদা, তুমি আমার প্রিয় জন্মভুমিকে রক্ষা করো। মোনাফেকদের ধ্বংস করো। এদেশের মসজিদ মন্দির ও গীর্জা ভন্ডদের দখলে চলে গেছে। ইসলাম ও মুসলমানদের রক্ষা করার জন্যে আমাদের বাপদাদারা পাকিস্তান বানিয়েছিলেন। সে পাকিস্তানও টিকলোনা। কারণ দেশের ক্ষমতায় ছিল মোনাফেকরা। তারা ধর্মের নামে তামাসা করতো। তারা ইসলামের নামে দেশবাসীকে ধোকা দিতো। ফলে পাকিস্তান টিকলোনা। জন্ম নিলো নতুন এক দেশের পুরাণো এক ভুখন্ডে বাংগালী মুসলমানেরা তখন অসহায় হয়ে মুর্তিপুজকদের বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করেছিল। সে বন্ধুত্ব আজও জারী আছে। এখনকার বন্ধুত্ব হচ্ছে অনুগত বন্ধুত্ব। ১৯৪৭ সালে আমাদের পূর্বপুরুষেরা অখন্ড বাংলার স্বাধীনতা চেয়েছিল। কিন্তু মুর্তিপুজকরা অখন্ড বাংলা চায়নি। কারণ, তাতে মুসলমানদের প্রভাব বেশী থাকবে। তাই বাংলাকে খন্ডিত করা হয়েছে মুর্তিপুজকদের দাবীতে। ফলে বাংলার লাখো মানুষ প্রাণ হারিয়েছে ও গৃহ হারিয়েছে। আর এজন্যে দায়ী ছিলেন গান্ধীজী, নেহেরুজী ও প্যাটেল। মোনাফেকরা আজ আমার দেশের বিরুদ্ধে লেগেছে।
হে আমার বন্ধু আয়েশা, তুমি কেমন আছো? অনেকদিন তোমার সাথে আমার দেখা হয়না। আমিও তেমন সুস্থ নই। বয়সতো হয়েছে। যে দেশের স্বপ্ন তুমি দেখেছিলে তা আর দেখে যেতে পারলাম কই? মুক্তিযুদ্ধের সময় চাঁদের রাতে ক্যাম্পে বসে তোমার স্বপ্নের দেশের কথা বলতে। তখন হয়তো মুক্তিযোদ্ধারা হানাদার বাহিনীরা মুক্তিযোদ্ধেদের মোকাবিলা করছে। দূরে বহুদূরে কোথাও গুলির আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। নতুন স্বাধীনতার ৪৪ বছর পার হতে চলেছে। কি মনে হয় তুমি কি তোমার দেশটি দেখে যেতে পারবে? আমার মনে হয়না। তাইতো খোদার কাছে দরখাস্ত করছি। এই ভুখন্ডতাকে ফেরাউন নমরুদের কাছ থেকে রক্ষা করার জন্যে। এদেশে এখন হাজার হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা পাওয়া যাচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সার্টিফিকেটকে আকাশে উঠার সিঁড়ি হিসাবে পেয়েছে। আসল মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ খবর রাখেনা। যেখানে বা যে দেশে জালিয়াত মুক্তিযোদ্ধা পাওয়া যায় সেখানেতো সবকিছুই ভুয়া। এখন এ এখানে ন্যায়নীতি, বিচার আচার , সত্য বলে কিছুই নেই। আজ আমার মনটা খুবই খারাপ। তাই হঠাত্‍ তোমার কথা মনে পড়েছে। মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে তোমাকে একটি বই লিখতে বলেছিলাম। তোমার হাতেতো বেশ সময় আছে। লিখছোনা কেন? তুমিতো ফোন করতে পারো। আমি কেন করিনা তা তুমি ভালই জানো। আজকালের মধ্যেই তোমার ওখানে আসবো। দেশকে নিয়ে অনেক কথা জমে আছে মনে।
হে পরম দয়ালু, জগতের রক্ষক, তুমি আমাদের দেশটাকে ফেরাউনের হাত রক্ষা করো। আমাদের আত্মাকে বলিষ্ঠ করো। দেশের সকল মানুষ যেন অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ(জেহাদ) করার ক্ষমতা দেয়। মুসা(আ) নবীর মতো একজন নবীর মতো একজন নেতা পাঠাও। বহুকাল আশা করেছিলাম আমাদের দেশে মহাথির আর লী কুয়াংয়ের মতো নেতা আমাদের দেশে পাঠাবে। সে রকম নেতা আমরা পাইনি। তুমি হয়ত বলবে এতো দুর্ণীতিবাজ , লুটেরা ও মিথ্যাবাদীর দেশ কেমন করে মহাথির বা লী জন্মাবে। তুমি হয়ত আমাদের নেতাদের রক্ত নষ্ট হয়ে গেছে। শতবার স্বীকার করি তোমার অভিযোগ। তাই বলেতো তুমি এ ভুখন্ডের গণ মানুষকে কষ্টে ফেলে দিতে পারোনা। ওরাতো অতি সাধারন হত দরিদ্র। নিমিত তোমার ধর্ম পালন করে। ফেরাউনের ভয়ে অথবা তার কোতোয়ালের ভয়ে মুখ খুলতে পারেনা। এখন এদেশের কয়েক হাজার মানুষ বিনা বিচারে পড়ে আছে। লোকে বলে এদেশে এখন রায় বেচাকেনা হয়। যদিও আমি বিশ্বাস করিনা। তবে জানি বিচারকরাওতো এদেশের গরীব মা বাপের সন্তান। মা বাবা অনেক কষ্ট করে জমি জিরাত বিক্রি করে সন্তানদের পড়ালেখা করিয়ে বিচারক বানিয়েছে। সবাইতো সরকারী পদ পদবীর উপকারিতা বুঝতে পেরেছে। তাহলে বিচার ব্যবস্থাকে দায়ী করে কি লাভ। কোতোয়ালের সিপাহী বলে আমরা খুব গরীব ঘরের ছেলে। পড়ালেখা তেমন করতে পারিনি। তাই এমন একটি চাকুরী করি। চাকুরীটা পেতেও কয়েক কানি জমি বেচতে হয়েছে। এখন দায়িত্ব পুরো সংসার। বেতনের বাইরে যদি মাসে হাজার পঞ্চাশেক টাকা না পাই তাহলে বোনের বিয়ে দিবো কেমন করে। বাপজান বলেছে ছোট ভাইকে পড়ালেখা করিয়ে বড় দারোগা বানাতে হবে। আমাদেরতো বড় চাকুরী নয়, তাই তেমন কামাই করতে পারিনা। আজ তরুণ সাংবাদিকরাও বলেন আমরাতো এ সমাজের একটি অংশ, আমাদেরও সংসার আছে, ভাইবোন আছে। আমরাতো ইচ্ছা করলেই সমাজের বাইরে থাকতে পারিনা। তাহলেতো বাঁচতেই পারবোনা। কিছুলোক বুদ্ধিহীন বেকুব বলেই ব্যান্ক লুট বা ডাকাতি করতে গিয়ে কিছু নিরী্ মানুষকে হত্যা করেছে। অপরদিকে কিছুলোক বাদশাহ বা মন্ত্রীর সাথে খাতির করে ব্যান্ক লুট করে কাগজে কলমে। হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়মের ভিতর থেকে হাতিয়ে নেয়। এরাতো সরকারী দাওয়াত খায়। বিয়ে শাদীতে হাজার হাজার মানুষকে দাওয়াত করে খাোয়ায়। এতে খাজনা বিভাগের, দুদকের আর কোতোয়ালের লোকেরা হাজির হয়। মন্ত্রীরাতো থাকেনই। আমি জানি , তুমি বলবে, যে জাতি নিজেদের সাহাহ্য করেনা সে জাতিকে তুমি সাহায্য করোনা। আর আমি বলবো হে আমার জাতি,তোমরা জেগে উঠো, নিজেদের রক্ষা করো। হে আমাদের তরুণরা, তোমাদের কেউ কি মহাথির বা লী কুয়াং হতে পারোনা। অসত্‍ জাতি হিসাবে আমাদের বদনাম ঘুচিয়ে দাও। আমার আল্লাহ তোমাদের সবার সহায় হোক। হে খোদা আমাদের মুক্তি দাও।
লেখক: কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
ershadmz@gmail.com

Advertisements

Read Full Post »


স্বাভাবিক মৃত্যু ছাড়া বাকি সকল মৃত্যুকে আমি নিন্দা করি। আল্লাহ সকল প্রাণীকেই জীবন ও মৃত্যু দান করেন। এটাই তাঁর সৃষ্টির নিয়ম।

Read Full Post »


মুরুব্বী বা সিনিয়র সিটিজেনদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব/ এরশাদ মজুমদার

মুরুব্বীদের প্রতি সম্মান দেখানো বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার প্রথম ও প্রধান সংস্কৃতি। এখন হয়ত তেমন ভাবে নেই। বেয়াদবকে সমাজের সবাই মিলে শাসন করতো। বাইরে কোথাও মার খেয়ে ঘরে আসলে আমার মা আবার মার দিতেন। বলতেন, তুই মন্দ ছেলে বলেই মন্দ ছেলেদের সাথে চলাফেরা করিস। এই সামাজিক সংস্কৃতি দেখেই বুঝ যায় কোন মানুষটির পারিবারিক ঐতিহ্য কেমন। আমার বাবা বলতেন মুরুব্বী বা বয়স্কদের দেখলেই সালাম দিবে ও সম্মান দেখাবে। এখন অবশ্য সমাজ বদলাতে শুরু করেছে। এখন লোকজন ছাত্র যুবকদের দেখলে ভয় পায় এবং এড়িয়ে যায়। ছাত্র ও তরুণরা মুরুব্বীদের দেখলে ট্রেনে বাসে সিট ছেড়ে দিতো। এমন এক সময় ছিল যখন ট্রেনে বাসে ছাত্রদের দেখলে সবাই আদর যত্ন করতো। এমন কি ছাত্রদের জন্যে বাসে ট্রেনে বিশেষ ব্যবস্থাও ছিল। গ্রাম বা শহরে ছাত্রদের বাড়িতে বা বাসায় লজিং বা ফ্রি থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করতো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচুর ছাত্র লজিংয়ে থেকে পড়ালেখা করতো। ছাত্রদের লজিংয়ে রেখে বাড়িওয়ালা সম্মানিত বোধ করতো। এখন সে ব্যবস্থা উঠে গেছে। হয়ত সমাজ সংস্কৃতির পরিবর্তন হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু নামীদামী ছাত্র লজিংয়ে থেকে পড়ালেখা করেছেন এবং কর্ম জীবনে নামধাম করেছেন।
গুরুজনদের সম্মান করা সকল ধর্ম ও সমাজ সংস্কৃতিতে নিয়ম ছিল। এখনতো স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকেরা ছাত্রদের ভয় করে। তারাই প্রতিষ্ঠান গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে। ছাত্ররা হল দখল করে, মারামারি খুনাখুনি করে। বাড়িতে মা বাপ, বড়ভাই ও ওদের ভয় করে। অনেক বাবা মাস্তান ছেলের আয় দিয়ে সংসার চালান। ছেলে মাস্তান হলেও স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নাম আছে। তার বড় ভাই আছে, ভাইয়ের সাথে মন্ত্রী বা নেতাদের খাতির আছে। আইনের চোখে সে রাজনৈতিক কর্মী। একদিন মন্ত্রীও হয়ে যেতে পারে। ক’দিন আগে বুয়েটের ছাত্ররা এক শিক্ষককে লাণ্ছিত করেছে। এখন সেখানে ধর্মঘট চলছে। বুয়েটে মেধাবী ছাত্ররাই পড়ালেখা করে। তবুও এমন হলো কেন? কারণ সমাজ পরিবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু আমরা ভেবেছিলাম দেশ স্বাধীন হলে সমাজ আরও সুন্দর হবে। তাহলে সমাজ কোনদিকে যাচ্ছে? শুনেছি, পহেলা বৈশাখের দিন টিএসসিতে এক ঝাঁক তরুণ বা যুবক কিছু বোনকে আক্রমণ করে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা চালিয়েছে। যদিও আমাদের পুলিশ কমিশনার বিষয়টিকে অস্বীকার করেছেন। ছাত্ররা এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। অবশ্য বস্ত্র হরণ ও যৌন নির্যাতনের সংস্কৃতি ৭৪ সালের ভাষা দিবসে শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়েছে।
ছাত্র বা যুবকরা এমন হয়ে গেলো কেমন করে এ বিষয়ে কোন গবেষণা কেউ করেননি। আমাদের সময় টুকটাক হাতাহাতি মারামারি যে হয়নি তা নয়। প্রকাশ্যে অস্ত্র মানে হকি ষ্টিক নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে মহড়া দেয়া শুরু হয়েছে যতদূর মনে পড়ে আইউবের আমলে গবর্ণর মোনেম খান সাহেবের আমলে তাঁর আসকারাতে। সে সময়ে সরকার সমর্থক এনএসএফই হকিষ্টিক, লাকড়ি, সাইকেল চেইন,সাপ ও ছোরা নিয়ে মারামারি করতো । কারণ সরকার তাঁদের সমর্থন করতো। সেই ধারা অব্যাহত থাকলো ৭০ সাল নাগাদ। ছাত্র রাজনীতির উপর সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহর বইটি পড়লে অনেক কিছু জানতে পারবেন। স্বাধীনতার পর সব ছাত্র গ্রুপের হাতেই অস্ত্র এসে গেছে। স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকরা সরাসরি দলীয় রাজনীতি সাথে জড়িত হয়ে গেলেন। ছাত্র শিক্ষকরা এক সাথে মদ খান আর রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করেন। স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে দলাদলির ফলে শিক্ষা ব্যবস্থা অচল হয়ে গেলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতাদের এখন দামী গাড়ি,ফ্ল্যাট,মদ আর নারী না হলে চলেনা। অনেকেই বলবেন, সবাইতো এ রকম না। আমিও বলি সবাই এর রকম না। ভাল ছাত্ররা নিজেদের পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ নিয়ন্ত্রণ করে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র নেতারাই। তখন বাকি ছাত্রনেতারা পালিয়ে বেড়ায়।
যা হোক, আজ আমি সমাজের মুরুব্বী, সিনিয়ার সিটিজেন বা বয়স্ক মানুষদের অবস্থা নিয়ে কিছু বলতে চাই । সিটিজেন বা নাগরিক বললাম না। বাংলাদেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থা নাগরিকদের তেমন সম্মান করেনা, ভয় দেখায়। সুতরাং আপনারা বুঝতে পারেন মুরুব্বী বা বয়স্ক মানুষদের কি অবস্থা। সংসার এবং সমাজ উভঞ জায়গাতেই তারা অবহেলিত। শুনেছি, সংসদে একটি আইন পাশ হয়েছে বা হবে যাতে মা বাবাকে সন্তানেরা অবহেলা করতে না পারে। হয়ত শাস্তির বিধান ও রাখা হয়েছে। আল্লাহপাক পবিত্র আলকোরআনে মা বাবাকে সর্বােচ্চ মর্যাদা দান করেছেন। এমন কি খোদা নিজের পরেই মায়ের অবস্থান নির্ধারন করেছেন। বাংলাদেশে অশিক্ষিত লোকেরা বা গরীবেরা আল কোরআনের এসব খবর রাখেনা বা জানেনা। ইংরেজী শিক্ষিতদের ৮০ ভাগ কোরআনই পড়েননি। ফলে দেশে দিন দিন বৃদ্ধাশ্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে। টিভিতে মাঝে মাঝে মুরুব্বীদের বেশ কান্নাকাটি করা হয়। এতে সরকারের বা সমাজের কিছু আসে যায়না। শিক্ষিত সচ্ছল মুরুব্বীরা বৃদ্ধাশ্রমে যাচ্ছেন কেন? কারণ তাঁদের দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই। আর কিছু মুরুব্বী আছেন যাঁদের কেউ নেই, অর্থ নেই, থাকার যায়গা নেই। অনেকেই আবার সন্তানদের অত্যাচারে গেহত্যাগ করেছেন।
গ্রীক নগর রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশেও অতি অল্পকিছু লোক তথাকথিত সংবিধান ও বৃটিশ আইন দ্বারা নাগরিক নামক মানুষদের শাসন করে ,মানে ভয় দেখায়। শুনেছি,সভ্য বা মানবীয় গুণের নাটক দ্বারা দেশের জনগণকে মুগ্ধ করার জন্যে গ্রামে গঞ্জে বৃদ্ধদের নাকি বয়স্ক ভাতা দেয়া হয় মাসে একশ’ বা দেড়শ’ টাকা করে। এর পাবলিসিটি ভ্যালু হাজার কোটি টাকা। এটা নাকি সরকারের সামাজিক দায়বদ্ধতা। অথচ এদেশে ধনীরা তাঁদের সোনার চামচ মুখে চামচ মুখে নিয়ে জন্ম নেয়া কণ্যা ও পুত্রদের বিয়েশাদী, জন্মদিন সহ নানা অনুষ্ঠানে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেন। সেসব অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী সহ পারিষদরা উপস্থিত থাকেন। ১৯৭০ সালে যে মানুষটি কোন অফিসে কেরানী বা পিয়ন ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় গুণে সে আজ দশ বিশ হাজার কোটি টাকার মালিক। যে রাজনীতিক একটি সাইকেল চালাতেন ৭০এ তিনি এখন মার্সিডিজ চালান। সময়ের পরিবর্তনে বা যুগের চাহিদায় রাজনীতিকরা জমিদারী কায়দায় না চললে হয়না। ৭০এ যে কৃষক বা শ্রমিক দুই টাকা রাজগার করতেন তিনি হয়ত এখন দুই থেকে তিনশ’ টাকা রোজগার করেন।
আমাদের অর্থমন্ত্রী একজন রাজপুরুষ। আইউবের আমল থেকে সকল সরকারের খেদমত করেছেন। তিনি একজন জয়ীফ বা মাজুর বা অথর্ব(জ্ঞানী) মানুষ। হায়াত এখন নব্বইয়ের কাছাকাছি। আগে সবার খেদমত করেছেন একজন পাকা ঝানু আমলা হিসাবে। এখন একজন মন্ত্রী হিসাবে শেখ হাসিনার খেদমত করছেন। এর আগে এরশাদের করেছেন। এরশাদ নিন্দিত হলেও মোহিত সাহেবের সুবাস সৌরভ এখনও চারিদিকে গোলাপের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর রাবিশ শব্দটি খুবই জনপ্রিয় এবঁ দেশবাসীকে আনন্দ দেয়।
রাজনীতি এ দেশে বাদশাহীর মতো। এ বাদশাহী লাভ করেন ছেলে মেয়ে নাতিরা। দলের নেতাও হন নেতার কন্যা, ছেলে নাতি। কৃষক আর শ্রমিকের সন্তানেরা মিছিলে অংশ গ্রহণ করেন, পুলিশের পিটুনী বা গুলি খান। লেখাটি শুরু করেছিলাম সমাজ পরিবর্তনের বিশ্লেষন নিয়ে। পিতা পুত্র, ভাই ভাই, স্বামী স্ত্রী, পরিবার সমাজ সম্পর্ক নিয়ে। সব খানেই আমূল পরিবর্তন হয়ে গেছে। চিন্তার জগতে সবকিছুই প্রবল ধাক্কা দিয়েছে। এটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিলনা। এখতো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে হেরিটেজ বা ঐতিহ্যকে সমূলে অস্বীকার করা। বাপদাদার ধর্মকে ব্যক্তিগত বিষয় বলে পরিহার করা। দাঁড়িওয়ালা লোক দেখলেই জামাত বলে বেইজ্জতি করা। জাতির পুরাণো সবকিছুকে অস্বীকার করা। এ ব্যপারে রাষ্ট্রের অদৃশ্য উসকানী রয়েছে বলে মনে করি।
আমি এখন ৭৫। আপনারা নিশ্চয়ই আমাকে সিনিয়ার সিটিজেন বা বয়স্ক নাগরিক বলবেন। অনেকেই দেখলে সালাম দিয়ে বলেন, মুরুব্বী কেমন আছেন? উত্তর দেই খুব ভালো আছি, শোকর আলহামদুলিল্লাহ। এক সময় শখ করে রেখেছিলাম। তখন কালো ছিল ,এখন পুরো সাদা হয়ে গেছে। কিন্তু সিনিয়ার সিটিজেন বলে সরকার আমাকে বিশেষ সম্মান দেখায়না। কিছুদিন আগে ব্যান্কে এক পার্সেন্ট লাভ বাড়িয়ে দিয়েছিল। এখন নাই । এ বয়সে সবচেয়ে বেশী হয়রানী হলো সরকারী অফিস গুলোতে। সহজে কোথাও যেতে চাইনা। যেখানে লিফট নেই সেখানে পায়ে হেটে উঠতে হয়। উঠে আর কথা বলতে পারিনা। অনেক্ষণ বিশ্রাম নিতে হয়। বসার কোন ব্যবস্থা নেই। চেয়ারে হয়ত পিয়ন বা ক্লিনার বসে আছে। সম্প্রতি খুব কষ্ট পেয়েছি আয়কর বিভাগ দ্বারা। একজন অফিসার বললেন ৯০ ভাগ মানুষ অসত্য তথ্য পরিবেশন করেন, ফলে আপনাকে আর কেউ বিশ্বাস করেনা। আমি বললাম কিছু সম্মানী দিলেতো সব কাজ হয়ে যায়। তা ঠিক বলেছেন। এটা এ অফিসের দস্তুর।
আমরা এখন অবসরপ্রাপ্ত। বাড়ি ভাড়া ছাড়া কোন আয় নেই। ভাড়ার অংক লুকাবার কোন উপায় নেই। প্রতি বছরই রিটার্ণ যাচ্ছে , তবুও বেইজ্জতির ভয়ে বুড়াবুড়ি দুজনই খুব টেনশনে থাকি। মাঝে ভাবি এখন মরে গেলে এ ঝামেলা থেকে বাঁচতাম। আমার প্রিয় মানুষ রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান বলেছিলেন মরে গেলেও আয়কর থেকে মুক্তি নেই। আপনারা কি জানেন, এই আয়কর দিয়ে সরকার বিভিন্ন বাহিনীর খোরপোষ দেন, নিজেরাও কিছু খান।
আর বাহিনী কি করে ? যে কোন সময়ে আপনার পাছায় লাথি দিতে পারে। গুলিও মারতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন অস্ত্র পকেটে রাখার জন্যে নয়, ব্যাবহার করার জন্যে। একথা পাকিস্তান ও বৃটিশ আমলের শাসকরাও বলতেন।
প্রশ্ন উঠতে পারে সারা জীবন আয়কর দিলে বৃদ্ধ বয়সে সরকার আপনাকে কি দিবে?না, কিছুই দিবেনা। যারা সরকারী চাকুরী করেন তারা তবুও কিছু পান। যেমন আমার বিবিজান পান। জ্বী, আমি বাড়ি ভাড়া পাই, ফলে আয়কর বিভাগ আমার ঘাড় মটকাচ্ছে।সরকারের কোন অফিসটাতে হয়রানী নাই? কেহ যদি দেখাতে পারেন অমুক অফিসে হয়রানী নেই তাহলে আমি তাঁকে পুরষ্কার দিবো। সবচেয়ে বড় খবর হলো আমি একটি ব্যান্কে গিয়েছিলাম একটি ক্রেডিট কার্ড করার জন্যে। ব্যান্কটি খুবই আধুনিক। এর এমডি ও সিইওর চারিদিকে নাম ডাক। ব্যান্কটির জন্ম হয়েছে একটি আন্তর্জাতিক ব্যান্কের বাংলাদেশ শাখার মৃতদেহ থেকে। আমি একজন অফিসারের কাছে গেলাম,তিনি প্রথমেই জানতে চাইলেন আমার বয়স কত? আমি উত্তর দিলাম ৭৫। তিনি বললেন, আপনার নামে কোন ক্রেডিট কার্ড হবেনা। কারণ ,আপনি বেশী বৃদ্ধ। আমি জানতে চাইলাম আমি একাউন্ট খুলতে পারি?। অফিসারটি উত্তর দিলেন নিশ্চয়ই পারেন বলেই আমাকে একাউন্ট ওপেনিং ফর্ম এগিয়ে দিলেন।যত টাকা ইচ্ছা জমা দিতে পারবেন। আমি মানসিক ভাবে খুবই আঘাত পেয়েছি। তখন ওই অফিসারটি বললো স্যার আমারও খারাপ লেগেছে। এটা বাংলাদেশ ব্যান্কের নির্দেশ। তখন মনে পড়লো আমার প্রিয় মানুষ আতিউর কথা। সে নাকি মানব দরদী। গরীবের সন্তান, জনগণের সমর্থনে পড়ালেখা করেছে। সেই মানুষটি এ রকম একটি নির্দেশ কি ভাবে দিলো? এটাতো বয়স্ক মানুষদের বা পিতামাতার সাথে মসকরা করা। আতিউর কি এমন একটি কাজ করতে পারে? আমিতো মনে করি বয়স্ক মানুষের ক্রেডিট কার্ড সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন। কিন্তু আতিউরের দর্শণটি কি বুঝতে পারছিনা। আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন। হেফাজত বললে আবার জ্ঞানী ব্যক্তিরা গোস্বা করেন। তাই আবার বলছি আল্লাহ আতিউরকে রক্ষা করুন। বৃদ্ধ বা বয়স্ক জয়ীফ মা বাবার দায়িত্ব পালনের জন্যে সন্তানকে কঠের নির্দেশ দিয়েছেন।এমন কি মা বাপের অবুঝ কথাবার্তায় উহ পর্যন্ত করা যাবেনা। খোদার পরেই মা বাপের স্থান। সেই মা বাপদের নিয়ে আতিউরের এমন মসকরা কল্পনাও করা যায়না।
গিয়েছিলাম বীমা কোম্পানীতে জীবন বীমা করা জন্যে। সেখানেও জানালো আমরা বুড়ো মানুষের বীমা করিনা। কারণ আপনি যে কোন সময় মারা যেতে পারেন। জানতে চাইলাম আমার গাড়ীর বীমা করতে পারবেন? তিনি বললেন স্যার একশ’বার। এক্ষুনি করে দিচ্ছি। স্যার গাড়ীতো সম্পদ, এর দাম আছে। কিন্তু আপনার বলেই বীমা অফিসারটি মুছকি হাসলেন।বৃদ্ধের গাড়ীর দাম আছে, কিন্তু তাঁর নিজের কোন দাম নেই।
ট্রেনে বাসে বা প্লেনে বৃদ্ধদের কোন দাম নেই। আপনি বেশী টাকা দেন বেশী যত্ন পাবেন। পেনশন আনতে গেলেও আপনাকে কিছু সম্মানী দিতে হবে। সঞ্চয়পত্র ভাংগাতে বা লাভ আনতে গেলেও কর্তা ব্যক্তিকে কিছু সম্মানী দিতে হবে। ফাইভ স্টার হাসপাতাল গুলোতে যান লম্বা কিউ বা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। ডাক্তারের ফি এক হাজার থেকে বারোশ’টাকা। রিপোর্টা দেখাতে গেলে সাতদিনের ভিতর দেখাতে হবে। না হয় আবার এক হাজার টাকা দিয়ে এপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।
আধুনিক রাষ্ট্র বিজ্ঞানে কথার কথা হিসাবে বলে থাকে জনগণই সবকিছু। জনগণই সার্বভৌম। আমি নিজের জীবনেই দেখলাম আধূনিক রাষ্ট্র দেশের ক্ষমতাবান লোকদের নিয়েই ব্যস্ত। সকল নীতিই তাদের জন্যে। ৯০ ভাগ মানুষের কথা বলেই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে সে রাষ্ট্র সাধারন মানুষের রক্ষক না ভক্ষক হয়ে বসে। এমন কি নিজের সুখ দু:খের কথাও কারো কাছে বলা যায়না।
লেখক‍‌ : কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
ershadmz@gmail.com

Read Full Post »


নানা রূপের গণতন্ত্র নানা যুগে / এরশাদ মজুমদার

দৈনিক জনপদে‘ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো প্রভু’ কলাম লিখে গাফফার ভাই বিখ্যাত হয়েছিলেন। তখন বংগবন্ধু রাষ্ট্র ক্ষমতার শিখরে অধিষ্ঠিত। নামমাত্র সংসদ ও গণতন্ত্র ছিল। লোকে বলতো গণতান্ত্রিক সরকার ও রাষ্ট্র। দৃশ্যত: সংসদ,ভোট, গণতন্ত্র সবই আছে। সত্যিকথা বলতে কি বংগবন্ধু ছিলেন রাষ্ট্রের চেয়েও বড়। তাঁর ইমজের কাছে সবকিছুই বামন ডোয়ার্ফ বা ছোট। দেশে ফিরে তিনি প্রেসিডেন্টের পদ ও ক্ষমতা গ্রহণ করলেন। কিছুদিন পর ওই পদে আরাম না পেয়ে প্রধান মন্ত্রী হয়েছিলেন। তিনি বুঝতে পারছিলেন না কোন পদের ক্ষমতা বা শাণ শওকত কি রকম। শেষ পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতি বা প্রেসিডেন্ট পদে থিতু হলেন।ফলে যা হবার তাই হয়েছে। গাফফার ভাই তাঁর ওই লেখায় আইউবের শাসনামলের কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই লেখার জন্যে গাফফার ভাইয়ের বিরুদ্ধে বংগবন্ধু কোন শাস্তির ব্যবস্থা করেননি। আবার তাঁর মত বিরোধী খবর প্রকাশের জন্যে হলিডে সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ খানকে জেলে দিয়েছিলেন। আবার এনায়েত উল্লাহ খানকে বাংলাদেশ টাইমসের সম্পাদক করেছিলেন। সে সময়ে শ্লোগাণ উঠেছিল, ’এক নেতা এক দেশ বংগবন্ধু বাংলাদেশ’। আবার শেখ মণি লিখেছিলেন, আইনের শাসন নয় মুজিবের শাসন চাই। পল্টনের ময়দানে বলেছিলেন মুজিবের বিরুদ্ধে বললে জিব কেটে ফেলা হবে। তিনিই আবার বিরোধী পক্ষকে আটক করার জন্যে বিশেষ নিরাপত্তা আইন করেছিলেন। এ আইন দ্বারা তিনি যে কোন নাগরিককে গ্রেফতার করে বিনা বিচারে জেলে ফেলে রাখতে পারতেন। যে কোন সময় কোন ওজর না দেখিয়ে ৫৪ ধারায় যে কোন নাগরিককে গ্রেফতার করা যেতো। এই আইনটি করেছিলো বৃটিশ শাসকরা স্বাধীনতাকামী দের কারণ না দেখিয়ে গ্রেফতার করা।

Read Full Post »