Feeds:
Posts
Comments

Archive for December, 2013


চলমান সংকটের মূল রহস্য কোথায়? এরশাদ মজুমদার

আমরাতো একটা জাতি।একটা ভাষা। একটা ভুমি। সবাই ধর্মে বিশ্বাসী। তাহলে কি নিয়ে চলমান বিরোধ। যার জন্যে শত শত মানুষকে প্রাণ দিতে হচ্ছে। শত শত মানুষ পংগু হয়ে যাচ্ছে। হাজার কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। কল কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গরীব শ্রমিকেরা বেকার হয়ে যাচ্ছে। অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়ছে। কি এমন জটিল সমস্যা যার জন্যে দেশকেই ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে হবে। দেশের সবাই বলছেন সমঝোতা হওয়া অপরিহার্য। হতেই হবে সমঝোতা,এছাড়া আর কোন বিকল্প পথ খোলা নেই। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। জাতিসংঘ সহ সকল আন্তর্জাতিক সংস্থার আমরা সদস্য। আমাদের দেশে আগুন জ্বললে ,মানুষ মরলে বিশ্ববাসী চুপ করে থাকতে পারেনা। তাই বিশ্বনেতারা এ ব্যাপারে কথা বলছেন, সমাধানের পথ খোঁজার জন্যে দৌড়ঝাপ করছেন। কিন্তু সমাধান হচ্ছেনা। রাজনৈতিক বিরোধটা কি এতই কঠিন যে, এর সমাধান খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা।
১৯৭১ সালের মার্চে পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠীও তখন রাজনৈতিক সমঝোতার কোন পথ খুঁজে পাননি। ফলে পাকিস্তান আর টিকে থাকতে পারেনি। এজন্যে দায়ী কে? আমি বলবো এজন্যে পাকিস্তানী গোষ্ঠিই এককভাবে দায়ী। নিজ দেশের জনগণের বিরুদ্ধ এমন কঠিন কঠার সামরিক বাবস্থা কোন দেশ কোথাও করেনি। এখানে এক পক্ষ ছিলেন পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী,অপরপক্ষে ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির অবিসংবাদিত নেতা বংগবন্ধু শেখ মুজুবুর রহমান। তিনি জনগণের নেতা হিসাবে পুর্ব পাকিস্তানের জনগণ যাদের ৯০ ভাগই বাংগালী মুসলমান তাদের হয়ে দাবী দাওয়া নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করছিলেন। যদিও ৪৩ বছর পরেও আমরা জানতে পারিনি কি নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন ২০শে মার্চ থেকে ২৪শ মার্চ পর্যন্ত। আমার ধারণা তিনি চেয়েছিলেন একটি কনফেডারেশন। ছয়দফা ওরকমই একটি সনদ ছিল।পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠির রাজনৈতিক সমঝোতার কোন অভিজ্ঞতা না থাকার ফলে তারা শেখ সাহেবর সাথে সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষা করতে পারেনি। বারোশ’মাইলের ব্যবধানের একটি রাজ্য বা প্রদেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখার একমাত্র পথ ছিল সমঝোতা এবং একমাত্র সমঝোতা। এ ছাড়া আর কোন পথ খোলা ছিলনা। বংগবন্ধুও চাননি কোন ধরণের রক্তারক্তি,হানাহানি বা সশস্ত্র যুদ্ধ। ২৫শে মার্চের মাঝরাতের সামরিক আক্রমণই পাকিস্তানের অখন্ডতাকে ধ্বংস করে দিয়েছে।
অপরদিকে, ভারতীয় গবেষকদের মতে ভারত ১৯৪৭ সাল থেকেই পাকিস্তানের অস্তিত্ব মেনে নেয়নি। ভারত অবিরাম কাজ করে যাচ্ছিল পাকিস্তানকে টুকরো করার জন্যে। ৭১ সালে পুর্ব পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকারের সামরিক আক্রমণ ছিল ভারতের জন্যে একটা বিরাট সুযোগ। সে সুযোগকে ভারত কাজে লাগিয়েছে। যদি পাকিস্তান ২৫শে মার্চ সামরিক অভিযান না চালাতো তাহলে ভারত কি ওই ষুযোগটা পেতো? মাওলানা আবুল কালাম আজাদ একজন পন্ডিত ব্যক্তি। জন্মেছেন মদিনায়। তাঁর বাবা বাংগালী আর মা আরব। পড়ালেখা করেছেন কোলকাতায়। তিনিই ভবিষ্যত বাণী করে গেছেন বাংগালী মুসলমানরা বেশীদিন পাকিস্তানের সাথে থাকতে পারবেনা। তাঁর ভবিষ্যত বাণী সত্যে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তান সৃষ্টির ব্যাপারে বাংগালী মুসলমানের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশী। কারণ,বৃটিশদের দ্বারা তারাই সবচেয়ে বেশী নির্যাতিত ও লুণ্ঠিত হয়েছে। মুসলমানেরাই স্বাধীন অখন্ড বাংলাদেশের দাবী তুলেছিল। জিন্নাহ সাহেবের আপত্তি না থাকলেও নেহেরু ও গান্ধীজীর আপত্তি ছিল। বাংগালী মুসলমানের উদার মনোভাবের কারণেই তারা লাহোর প্রস্তাব মেনে নিয়ে পাকিস্তান কনফেডারেশনের সদস্য হতে রাজী হয়েছিল। জিন্নাহর সাথে শেরে বাংলার বিরোধও বাংগালী মুসলমানের জন্যে একটা দুর্ভাগ্য। তাই তাদের ১২শ’মাইল দূরের এক অজানা অচেনা মুসলমান ভাইদের সাথে একই রাস্ট্রের অংশীদার হতে হয়েছে। এই মুসলমানেরাই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নবাবজাদা লিয়াকত আলী খান সাহেবকে পূর্ব পাকিস্তান থেকে নির্বাচিত করেছিল। লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতেই পূর্ব পাকিস্তানের সর্বোচ্চ স্বায়ত্ব শাসনের অধিকার মেনে নিয়েই পাকিস্তানের রাস্ট্রীয় কাঠামো সাজানো উচিত ছিল। পূর্ববাংলার প্রধানমন্ত্রী নুরুল আমিন সাহেবও তাঁর সরকারী চিঠিপত্রে বিভিন্ন সময়ে পূর্ব বাংলার জন্যে অধিকতর প্রশাসনিক স্বাধিনতার দাবী জানিয়েছিলেন। কিভাবে পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের অংশ হয়েছিল এবং কিভাবে ৭১এ দুই ভাইয়ের বিরোধ থেকে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছিল তা আমাদের নতুন প্রজন্মের তরুণদের অবশ্যই জানা দরকার। আমাদের জাতীয় ইতিহাস তৈরির জন্যে সঠিক তথ্য গুলো প্রকাশিত হওয়া দরকার। চলমান বিরোধের গভীরে আমাদের অবশ্যই যাওয়া দরকার। এটা কোন দুই দলের বিরোধ নয়। খোলা চোখে তাই মনে হয়। নির্বাচন আসলেই এ রকম হয়,আমি তা মনে করিনা বা কখনই ভাবিনা। আমার চিন্তার সাথে অনেকেরই মিল আছে আবার অনেকের মিল নেই। কিন্তু অনুষ্ঠানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে এ রকম একটি মৌলিক বিষয়ে কোন গবেযণা এখনও শুরু হয়নি। কিছু হলেও তা একেবারেই বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা। অনেকেই বলেন,আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভিতর তেমন কোন ফারাক নেই বা মৌলিক কোন আদর্শগত ফরাক নেই। দুটো দলই পুঁজিবাদের সমর্থক ও ধনবাদী দেশগুলোর বন্ধুত্ব কামনা করে। আমি তা একেবারেই মনে করিনা। বিরোধটা গণতন্ত্র, পুঁজিবাদ নিয়ে নয়। তাহলে কেন দুই দলের ভিতর এত শক্ত বিরোধ বা দ্বন্ধ? দুই দলের কেন এত কোটি কোটি সমর্থক। দুই দলের এই বিভাজন কি জ্ঞানের ভিত্তিতে না অজ্ঞানতার ভিত্তিতে তা অবশ্য আমি জানিনা। একদল কেন নিজেদের বাংগালী বলে, আর অন্যদল কেন নিজেদের বাংলাদেশী বলে। এই দুটো শব্দের ভিতর দ্বন্ধ কোথায়? অফিসিয়াল জাতীয়তা বাংলাদেশী হলেও রাজনীতিতে তারা কেন বাংলাদেশী হতে পারেনা? এ খটকাটা কি আপনাদের মনে আসে? বংগবন্ধুর আমলে এ বিষয়টা এতো প্রকট হয়ে দেখা দেয়নি। তিনি শুধু এ বিষয়ে একবারই জাতীয় সংসদে বলেছিলেন মানবেন্দ্র লারমাকে লক্ষ্য করে ‘তোরা সবাই বাংগালী হয়ে যা’। লারমা এর প্রতিবাদ করে বলেছিলেন,আমরাতো চাকমা,আমরা কেন করে বাংগালী হবো। এরপর জিয়া সাহেব বিষয়টাকে গুরুত্ব দিয়ে সামনে নিয়ে আসেন। তিনিই বলিষ্ঠ ভাবে ঘোষণা দিলেন আমাদের জাতীয়তা বাংলাদেশী। এ ব্যাপারে খোন্দকার আবদুল হামিদ সাহেবের প্রবন্ধ ও গোলাম কিবরিয়া সাহেবের ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ বইটি উল্লেখযোগ্য। তবে বাংগালী জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করার জন্যে ভারতপন্থী বুদ্ধিজীবীরা বাংলাদেশ নিয়মিত কাজ করছেন এবং টাকা করছেন। এ ব্যাপারে বেংগল ফাউন্ডেশন, ছায়ানট, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট,ঘাদানিক সহ আরও বহু সংগঠন কাজ করছে। এছাড়াও বাংগালীয়ানা, সেক্যুলারিজম নিয়ে অবিরাম কাজ করছে ৯০ ভাগ মিডিয়া। সেদিক থেকে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসীরা অনেক পিছনে পড়ে আছেন। বিএনপ ক্ষমতায় গেলেও এ ব্যাপারে তেমন গুরুত্ব দেয়না। বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবীরাও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ব্যাপারে কনফিউজড। অনেকেই স্বার্থের জন্যে জাতীয়তাবাদী। আবার অনেকেই চাকুরী ও সুযোগ সুবিধার জন্যে জাতীয়তাবাদী। দেশের ৬০ ভাগ মানুষ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ভোট দেয়। কিন্তু ৬০ ভাগ ভোটারের নেতারা ৈক্যবদ্ধ নয়। এমন কি ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোও বহুধা বিভক্ত। কেন তাঁরা একটি মৌলিক প্রশ্নে এক হতে পারছেন না। এর মানে ইসলামী দলগুলোতে তেমন ত্যাগী পুরুষ নেই।
প্রসংগত আমি নিম্নে বর্ণিত বিষয়ের দিকে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। আলকোরাণ মানব জাতির জন্যে একটি জীবন বিধান। রাজনীতি,অর্থনীতি, যুদ্ধনীতি,পরিবার নীতি সহ সকল ক্ষেত্রেই এই বিধান প্রযো্জ্য। তাই বলে কি পৃথিবীর সাতশ’কোটি মানুষ এই বিধান মানে বা গ্রহন করেছে? না গ্রহণ করেনি। যাঁরা গ্রহণ করেছেন দাবী করেন তাঁরাও ষোলয়ানা মানেন না। যেমন আমি বা আমরা বাংলাদেশের পনেরো কোটি মানুষ আলকোরাণ যোলয়ানা মানিনা। আমাদের রাস্ট্র রাজনৈতিক কারণে বলে থাকে ইসলাম রাস্ট্রধর্ম। কিন্তু আসলে আইনে বা অন্তরে মানেনা। প্রচুর স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া মানুষ ইসলামকে নামাজ রোজার ভিতরে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। জীবনের বাকি এলাকায় ইসলামকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। এই সব শিক্ষিত মানুষ মনে করেন ইসলাম মানে নামাজ রোজা। সাধারন মানুষের কথা বাদই দিলাম। বাংলাদেশে অন্যায় অবিচার সবচেয়ে বেশী শিক্ষিত সমাজের ভিতর। বিশেষ করে সামাজিক ও রাস্ট্রীয় ক্ষমতা যাদের দখলে তাঁরা সবচেয়ে বেশী অপরাধ করেন এবং টাকা দিয়ে বিচার কিনে নেন। বাংলাদেশ ইসলামিক দশ নয়। এখানে ইসলামিক আইন বা শরীয়া প্রযোজ্য নয়। ১৫কোটি মুসলমানের দেশে বিচারপতি,সেনাপতি ,রাস্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী নাস্তিক হলেও আইনগত কোন বাধা নেই। এমন কি যিনি ধর্মের কিছুই জানেন না তিনি ধর্মমন্ত্রীও হতে পারেন। রাজনৈতিক কারণে একজন হিন্দু খৃষ্টান বা বৌদ্ধকে রাস্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী করা হয়না। এ ব্যাপারে ধর্মী আর বিধর্মী এক। এটা জনগণকে ধোকা দেয়ার একটা কৌশল।
আমাদের রাস্ট্রে খোদা সার্বভৌম(আল্লাহ হু আকবার) বলা বা মানা নিষিদ্ধ। এখানে ‘মানুষ সার্বভৌম বা মানুষ হু আকবার’বলতে হবে। এমন কি সংবিধানে বিসমিল্লাহও বলা যাবেনা। কারণ এদেশে বা এ রাস্ট্রে ধর্ম যার যার রাস্ট্র সবার। রাস্ট্রে ধর্মের কোন প্রভাব থাকবেনা। এর মানে রাস্ট্র পরিচালনার প্রশ্নে নামের মুসলমান থাকবেন বা মুসলমান পরিচয়টা প্রকাশ করবেন না। কিন্তু কেন? সে এক লম্বা ইতিহাস। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনে করে রাজনীতিতে ইসলাম বা ধর্ম থাকতে পারবেনা। ধর্মটা নাকি একেবারেই ব্যক্তিগত ব্যাপার। আপনি ঘরে বা মসজিদে বসে আল্লাহ আল্লাহ করুন। রাজনীতি বা রাস্ট্রের সাথে ধর্মকে মিলাবেন না। বংগবন্ধু বলেছিলেন,‘আমি মুসলমান,আমি বাংগালী। আমি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলীম দেশের মানুষ’। বংগবন্ধুর এই বাণীকে এখন আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনা মানেনা। বংগবন্ধুই বাংলাদেশকে ওআইসির সদস্য করেছিলেন। আমরা এখনও ওআইসির সদস্য আছি। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগকে সুবিধাবাদী বা মোনাফেকও বলা যেতে পারে। মুসলমানদের কাছে বলে আমরা মুসলমান, অন্যদের কাছে গেলে বলে,আমরা সেক্যুলার(ধর্মহীন)। ভারত বাংলাদেশকে একটি ধর্মহীন রস্ট্র হিসাবে দেখতে চায়। অথবা ভারত মুসলমানদের ধর্মকে ঘরের ভিতর আটক করে রাখতে চায়। তাই ভারত বাংলাদেশের ওআইসির সদস্যপদ লাভের বিরোধিতা করেছিল। লাহোরে ওআইসির সম্মেলনে যাওয়ার ব্যাপারে ভারত আপত্তি জানিয়েছিল। বংগবন্ধু সে আপত্তি শোনেন নি। তখন থেকেই ভারত বংগবন্ধুকে অপছন্দ করা শুরু করেছিল। অনেকেই মনে করেন বংগবন্ধুর দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ার পেছনে ভারতের হাত আছে। এসব কথা অতীতে বহুবার বলেছি। প্রাণের তাগিদেই একই কথা বার বার বলে যাচ্ছি।
গণতন্ত্রের জন্যে সারা জীবন লড়াই করে শেষ পর্যন্ত বংগবন্ধু এক দলীয় সরকার ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। কে বা কারা তাঁকে এ কুবুদ্ধি দিয়েছিল তা আজও রহস্যাবৃত। আমিও মনে করি বংগবন্ধুর পক্ষে একদলীয় রাজনীতি সরকার ব্যবস্থা চালু করার কথা নয়। হয়ত তাঁকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার বাহানা থেকেই এ ব্যবস্থা কোন অদৃশ্য শক্তি হয়ত চালু করেছিল। একদলীয় সরকার ব্যবস্থার পথে এগোবার পথেই তাঁকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি দুনিয়া থেকে চলে যাবার পর তাঁর দলের লোকেরাই তাঁকে ফেরাউন বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর অতি প্রিয় বন্ধু খোন্দকার মোশতাক রাস্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তিনিই বাংলদেশে প্রথম সামরিক শাসন জারী করেছিলেন। মোশতাক সাহেবও বংগবন্ধুকে সিভিল ডিক্টটর বলে অভিহিত করেছেন। মোশতাক সাহেব খুবই অল্প সময় ক্ষমতায় টিকতে পেরেছিলেন। এরপরেই মূল ক্ষমতা চলে যায় জেনারেল জিয়ার হাতে। জিয়া সাহেব একশ’ভাগ জাতীয়তাবাদী শাসক ছিলেন। জিয়া সাহেবের আমলেই দেশের বাইরে বাংলাদেশের ইতিবাচক ইমেজ তৈরি হয়েছিল। জিয়া সাহেব নিজেও জনপ্রিয়তার শিখরে উঠতে পেরেছিলেন। তিনিই আওয়ামী লীগের বাইরে নতুন এক জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ধারা চালু করেছিলেন। যদিও আওয়ামী লীগ ও তার ঘরাণার লোকেরা তাঁকে সামরিক ডিক্টেটর হিসাবে গালমন্দ করে থাকে। জিয়া সাহেবের ইতিবাচক ইমেজকে ধ্বংশ করার জন্যে ভারতের পরামর্শ ও সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু তাতে কিছুই হয়নি। তাঁর প্রমান হচ্ছে জিয়া সাহেবের জানাজায় লক্ষ লক্ষ মানুষের অংশ গ্রহন। তিনি প্রমান করে দিয়েছিলেন একজন সমরনেতা কিভাবে রাজনীতিতে সীমাহীন জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারে। জিয়া সাহেবই বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদ ও ইসলামের সমন্বয় ঘটিয়েছেন। কিন্তু বংগবন্ধু নিজেকে মুসলমান দাবী করলেও ইসলামী রাজনীতিকে নিষিদ্ধ করে রেখেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন পাকিস্তানের কারাগারে।ফলে পূর্ববাংলায় কি হয়েছে তা তিনি সঠিক ভাবে জানতে পারেননি। ফলে তখন থেকেই বাংলাদেশকে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল। তাজউদ্দিন সাহেব আর শেখ মনি রাজনীতির প্রশ্নে বিপরীতমুখী ছিলেন। দুজনের দ্বন্ধের ফলে তাজউদ্দিন সাহেব বেশীদিন মন্ত্রী সভায় থাকতে পারেন নি। এমন কি তাঁকে পার্টির সেক্রেটারী জেনারেলের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। তাঁর স্ত্রী জোহরা বেগমও কখনও মন্ত্রী হতে পারেননি। তাঁর ছেলে সোহেল তাজও মন্ত্রী হয়ে টিকতে পারেননি।
মুক্তিযুদ্ধে না থাকার ফলে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্তর্ধন্ধ চলছিলো তা তিনি অনুধাবন করতে পারছিলেন না। তাছাড়া শেখ কামাল ছাড়া তাঁর পরিবারের কেউই সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের সাথে জড়িত ছিলেন না। ফলে তথাকথিত সমাজতন্ত্রী নানা গ্রুপ তাঁর উপর প্রভাব বিস্তার করতে থাকে। এক সময় তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র ত্যাগ একদলীয় রাজনীতি চালু করেন। বিষয়টি তিনি বুঝে করেছিলেন কিনা আমার সন্দেহ আছে। তিনি গণতন্ত্র ও ইসলাম থেকে সটকে দূরে পড়ে গেলেন।
বংগবন্ধুর পতনের সময় শেখ হাসিনা বিদেশে ছিলেন। এর ফলে তাঁকে পাঁচ বছরে দিল্লী সরকারের অতিথি থাকতে হয়েছে। এ সময় ভারত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের আগামী রাজনৈতিক দর্শন কি হবে তার শিক্ষা দেয়। সেই শিক্ষাই এখন তাঁর জীবনে মূল আদর্শ ও দর্শণ। জীবন দিয়ে হলেও তাঁকে সেই দর্শন বাস্তবায়িত করতে হবে। তাই হাসিনাকে দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থাকতে হবে দিল্লীর স্বার্থে।
জিয়া সাহেব বিষয়টা বুঝতে পেরেছিলেন বলেই তিনি ইসলমী মূল্যবোধ সম্পন্ন জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা ছিলেন তিনি বিষয়টা ভাল করে বুঝতেন। আওয়ামী লীগ বা তার অদৃশ্য চালিকা শক্তির মূল দর্শন হচ্ছে বাংলাদেশকে ইসলামকে গৃহধর্মে পরিণত করা। মানুষের ভিতর ইসলাম যেন জীবন দর্শন হিসাবে প্রোথিত না হয়। সে জন্যেই ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে তথাকথিত নির্বাচনের নামে জাতীয় সংসদের ২৪০ সিট দান করা হয়। এবার হাসিনা নির্বাচন না করেই ৩০০ সিট নিয়ে ক্ষমতায় থাকতে চান। তাঁর বাবা ছিলেন ২৯৩ সিট নিয়ে। তাঁর বাবা ছিলেন বাংগালী মুসলমান। তাঁর এ অবস্থান ছিলো খুবই শক্তিশালী। তাই তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। একই ভাবে জিয়া সাহেবকেও ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।দিল্লীর মূল দর্শণ হলো মহাভারত। প্রতিবেশী সবাইকে মহাভারতীয় দর্শনে বিশ্বাস করতে হবে। ভারতের মৌলবাদীরা বলেন,ভারতে থাকতে হলে জাতীয়তা হতে হবে হিন্দু। তাঁরা প্রচার করেন হিন্দুতভা। অনেক কট্টরপন্থী ভারতীয় নেতা বলছেন মুসলমানদের প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। তারাতে হিন্দু ছিল,আবার হিন্দতভাতে ফিরে আসতে হবে। ফলে বাংলাদেশে রাস্ট্রীয় ভাবে সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হলো ইসলাম, জাতীয়তাবাদ ও জাতীয় সংস্কৃতি। তাই আমাদের চলমান সংকট কিন্তু শুধুমাত্র নির্বাচনী সংকট নয়। একদল বলছে, আমরা শুধুই বাংগালী,আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির উত্‍সও বাংগালীয়ানা। আরেকদল বলছে আমরা বাংগালী মুসলমান। আমাদের সংস্কৃতির উত্‍স ধর্ম ও ভৌগলিক অবস্থান। এখন প্রশ্ন হলো ভারত কাকে চিরস্থায়ী ভাবে ক্ষমতায় দেখতে চায়। ভারত কিন্তু একটি কট্টর ধর্মীয় রাস্ট্র। কিন্তু বিশ্ববাসীকে বেকুব বানাবার জন্যে কাগজে কলমে সেক্যুলার সেজেছে। ভারতের এই নীতি অনুসরণ করেন বাংলাদেশের হাজার হাজার বুদ্ধিজীবী। আমাদের তরুণ সমাজও আজ বিভ্রান্ত। এ পন্থার বিরুদ্ধে গেলেই তরুণদের মৌলবাদী ধর্মান্ধ বলে গালাগাল করা হয়।
লেখক: কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
http://www.humannewspaper.wordpress.com

Advertisements

Read Full Post »