Feeds:
Posts
Comments

Archive for May, 2011


রাস্ট্র মানব জীবনে একটি  অপরিহার্য বাস্তবতা ও  সত্য। দার্শনিক এ্যারিস্টটল বলেছেন, রাস্ট্র মানুষের একটি স্বভাবগত কার্যক্রম। মানুষ স্বাভাবিক ভাবেই সামাজিক। মানুষের প্রকৃতিই তাঁকে রাস্ট্র গঠন ও পরিচালনায় উদ্বুদ্ধ করেছে। মহামতি এ্যারিস্টটল আরও বলেছেন, যে মানুষ রাস্ট্র ব্যবস্থার প্রয়োজনবোধ করেনা, সে হয়ত মানবেতর জীব, না হয় মানব প্রজাতির উর্ধে কোন সত্তা, যার মধ্যে মানবীয় প্রকৃতির কোন অস্তিত্ব নেই। দার্শনিক প্ল্যাটোও বলেছেন, রাস্ট্র ব্যবস্থার অধীনতা ব্যতিরেকে উন্নত জীবন যাপন কোন ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়। রাজনীতি মানব প্রকৃতি ও চরিত্রের  মূলে প্রোথিত। শব্দটা রাজনীতি না হয়ে জননীতি বা গণনীতি হওয়াই বাঞ্ছনীয়। এই প্রবণতার কারণেই মানুষ সমাজ গঠন করে এর নিয়ম কানুন তৈরি করে শৃংখলাব্ধ হয়ে জীবন যাপন করার জন্যে। ওইভাবেই একদিন সমাজ প্রধান, গোস্ঠি, কওম বা জাতি তৈরি হয়েছে। ওই জাতি বা গোস্ঠিকে নিজেদের তৈরি আইনের মাধ্যমে পরিচালনার জন্যে  রাজা বাদশাহ ইত্যাদি পদের সৃস্টি হয়েছে। রাজা বাদশাহরা এক সময় নিস্ঠুর স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠে। ফলে জনরোষ ও গণবিদ্রোহ শুরু হয়। পৃথিবী থেকে আস্তে আস্তে রাজা মহারাজা নবাব বাদশাহরা বিদায় নিতে শুরু করেন। শুরু হয় জনগণের রাস্ট্র ব্যবস্থা। শুরু হয় রাস্ট্র পরিচালকদের নির্বাচন। শুরু হয় নাগরিক অধিকারের সীমা। রাস্ট্র ও নাগরিকদের  অধিকারের সম্পর্ক ও সীমাবদ্ধতা। শুরু হয় নির্বাচনের জাল জালিয়াতি। জোর করে বা নির্বাচিত হওয়ার ধারনা। দেখা গেল নির্বাচনের মাধ্যমে সিভিল ডিক্টেটরের জন্ম। ভোটের মাধ্যমে বা বিপ্লবের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে  সম্রাট হয়ে যাওয়া। আবার শুরু হলো জনগণের বিদ্রোহ বিপ্লব নির্বাচিত সিভিল স্বৈর শাসকদের বিরুদ্ধে। কোথাও সমাজতান্ত্রিক স্বৈর শাসক বা কোথাও তথাকথিত নির্বাচিত স্বৈর শাসকের বিরুদ্ধে। মধ্যপ্রাচ্য ও আরব দেশগুলোতে নির্বাচিত স্বৈর শাসকদের বিরুদ্ধে জনরোষ ও গণবিদ্রোহ দেখা দিয়েছে। সেখানে শাসকরা নির্বাচনের লেবাস পরে এক একজন ৩০/৪০ বছর ক্ষমতায় আছেন। সত্যকথা বলতে কি সেখানে শাসকগণ তথাকথিত নির্বচনের মাধ্যমে যুগের  পর যুগ ধরে নির্বাচিত হচ্ছেন। তাদেরকে ক্ষমতা থেকে সরাবার জন্যে জনগণের কাছে বিদ্রোহ করা ছাড়া আর কোন পথ খোলা ছিলনা। এসব শাসককে আমেরিকা এবং তার বন্ধুরা এতদিন ক্ষমতায় টিকিয়ে রেখেছিল নানা ছলে ও কৌশলে। এখন আমেরিকাই তাদের ক্ষমতা থেকে সরাবার জন্যে  প্রকাশ্যে অথবা অপ্রকাশ্যে গণরোষকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। ৫০ থেকে ৮০ সাল নাগাদ আমেরিকা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সামরিক  শাসনকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। পাকিস্তানের সকল সামরিক শাসককেই আমেরিক সমর্থন দিয়ে এসেছে। আমেরিকার সাথে পাকিস্তানের বন্ধুত্ব রয়েছে প্রায় ৬০ বছর ধরে। সেই পাকিস্তান এখন আমেরিকার কারণে নানা সংকটে আছে। কথায় কথায় পাকিস্তানে আমেরিকা ড্রোন বিমান হামলা চালাচ্ছে। পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের তোয়াক্কা না করে এবোটাবাদে ঢুকে  ওসামা হত্যার নামে সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এখন বলছে আরও সামরিক অভিযান চালাবে।

বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান  ১০ ই জানুয়ারী পাকিস্তানের কারাগাসর থেকে ফিরে এসে ৭২-৭৫ সাল নাগাদ প্রায় ৪৪ মাস সরকার চালিয়েছেন। এ কথা  অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ৭০ সালের নির্বাচনে বংগবন্ধু এ দেশের একচ্ছত্র নেতা হিসাবে প্রতিস্ঠিত হয়েছিলেন। দলমত নির্বিশেষে সবাই তাঁর নেতৃত্ব মেনে নিয়েছিলেন। তাঁরই  পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা ছিল। সেটা তাঁর আইনগত অধিকার ছিল। তত্‍কালীন প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া তাঁকে প্রধানমন্ত্রী বলে  সম্বোধনও করেছেন। পাকিস্তানের দূর্ভাগ্য  তত্‍কালীন সামরিক জান্তা ও জুলফিকার আলীর ভূট্টোর প্ররোচনায় পড়ে পূর্ব পাকিস্তানের নিরীহ নিরস্ত্র মানুষের উপর সামরিক  আক্রমণ চালায়।  ঠিক এমনি সময়ে ২৬/২৭শে মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে অজানা অচেনা মেজর জিয়া জীবনের সকল ঝুঁকি নিয়ে বংগবন্ধুর নামে স্বাধীনতার ঘোষনা দেন এবং বিশ্ববাসীকে স্বাধীনতার যুদ্ধে সমর্থন দেবার আহবান জানান। তখন দেশবাসী কেউ জানেনা বংগবন্ধু কি করছেন এবং কোথায় আছেন। এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে পাকিস্তান সরকার ঘোষনা দিলো বংগবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তিনি পাকিস্তানের কারাগারে আছেন। যদিও তাঁর পরম ভক্তরা অনেকেই প্রচার করেন তিনি ২৬শে মার্চ ঘোষণা দিয়েছেন এবং তা অনেকেই শুনেছেন। ভক্তরা ও রকম প্রচার না করলেও তিনিই ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের প্রধান নেতা। এ ব্যাপারে কারো কোন দ্বিমত নেই। আওয়ামী লীগ কি কারনে জানিনা বংগবন্ধু আর জিয়া সাহেবকে স্বাধীনতার ঘোষণার প্রশ্নে মুখোমুখি এনে দাঁড় করিয়েছে। এ রকম করার কোন প্রয়োজন ছিলনা। এখন বলা হচ্ছে, ৭ই মার্চের ঘোষণাই বংগবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা। খুব ভাল কথা। তাহলেতো আমাদের স্বাধীনতা দিবসের তারিখটা বদল করে ২৬শে মার্চের পরিবর্তে ৭ই মার্চে নিয়ে আসতে হবে। সেটাতো আওয়ামী লীগ এখন করতে পারে। সে যাই হোক। এমন জনপ্রিয় গণতান্ত্রিক নেতা শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করেন। সরকারী মালিকানা ছাড়া সকল খবরের কাগজ বন্ধ করে দেন। এমনি ভাবেই তিনি একজন সিভিল ডিক্টেটরে পরিণত হয়েছেন। সকল  সরকারী কর্মচারীকে একদলের সদস্য ঘোষনা করলেন। দেশের সেনাবাহিনীওকে একদলের সদস্য করা হলো। তিনি আমরণ রাস্ট্রপতি থাকার ব্যবস্থা করলেন। কেন বাংলাদেশের এক নম্বর জনপ্রিয় নেতা এমন কাজটি করলেন তা আজও দেশবাসী জানেনা।  অনেকেই  মনে করেন, তিনি সিপিবির প্ররোচনায় একাজ করেছিলেন। বংগবন্ধু যদি একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম না করতেন তাহলেও তিনি হয়ত নির্বাচনের মাধ্যমে বহু বছর  ক্ষমতায় থাকতেন।  তবে হয়ত ২৯৩ সিট পেতেন না। কম পেলে কি হতো? ১৫১ সিট পেলেও তিনি ক্ষমতায় থাকতেন। কিন্তু মোসাহেবরা তাঁকে বুঝিয়েছে জনপ্রিয়তা কমে গেলে  তাঁর উপর জন আস্থা নেই বলে প্রমানিত হবে। তিনি হয়ত সেটা সহ্য করতে পারবেন না। তিনি মোসাহেবদের কথা শুনেই ৭৩ সালে কিছুটা জোর করেই কিছু সিট বেশী নিয়েছিলেন। যদি ও রকম জোর জবরদস্তি না করতেন তাহলে হয়ত  ২৭০ সিট পেতেন। কিন্তু ইতোমধ্যেই বংগবন্ধু মনোজগতে একজন ডিক্টেটরে পরিণত হয়েছিলেন।

অপরদিকে পরিবেশ ও পরিস্থিতির কারণে  ক্ষমতা গ্রহণ করে জেনারেল জিয়া বহুদলীয়  শাসন ব্যবস্থায় ফিরে গেলেন। নিষিদ্ধ পত্রিকাগুলো চালু করার নির্দেশ দিলেন। জেনারেল জিয়াই দেশে সকল মত ও পথ প্রকাশের ব্যবস্থা করলেন। যা সাধারনত: কোন সামরিক শাসক করেন না। জেনারেল জিয়া ছিলেন ফ্রান্সের  জেনারেল দ্য গলের মতো একজন জনপ্রিয় শাসক। দু’জনই দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্যে লড়াই করেছেন। জিয়া সাহেব আর দ্য গলের জনপ্রিয়তাই প্রমান করে তাঁরা কত বড়  নেতা ছিলেন। কারণ দুজনই  দেশের জনগণের সাথে ছিলেন। ফলে তাঁদের কেউই  সামরিক ডিক্টেটর বা স্বৈর শাসক বলেনা। জিয়া সাহেবের মৃত্যুই প্রমান করে তিনি এ দেশর একজন সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা ছিলেন। অপরদিকে দেশের এক নম্বর নেতা  বংগবন্ধু  জনগণ  থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বৈর শাসকে পরিণত হয়েছিলেন। যাঁরা বংগবন্ধুর সর্বনাশ ডেকে এনেছিল তাঁরাই এবার তাঁর কন্যার কাঁধে ভর করেছে। আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরাই বলে বেড়াচ্ছেন, আওয়ামী লীগের  জুব্বা পরে দেশ চালাচ্ছে সিপিবি ও ভারতের মনোনীত লোকেরা। মন্ত্রীসভা দখল করে রেখেছে সিপিবি ও সাবেক মস্কো ন্যাপের লোকেরা।৭২-৭৫ এ দেশের রাজনীতিতে যে পরিস্থিতি ও পরিবেশ বিরাজ  করছিলো এখন  হুবহু সেই পরিবেশই বিরাজ করছে। জীবন যাপনের সকল উপকরনের দাম বেড়েছে। এক কেজি ভাল চালের দাম ৬৫ টাকা। মোটা চাল ৪০ টাকা। বাস সিএনজি ও রিকসা ভাড়া বেড়েছে কয়েক গুন বেশী। কোথাও কেউ সরকারী নির্দেশ মানছেনা। দেশের দশ ভাগ লোকের নেতারা ৯০ ভাগ মানুষের ধর্ম নিয়ে তামাশা শুরু করেছেন। সুরন্জিত বাবু ( যিনি কখনই আওয়ামী লীগে ছিলেন না ) ধর্ম বিরোধী আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন। যাঁরা কখনই নির্বাচিত হন না তাঁরাই আওয়ামী লীগের কাঁধে ভর করে ধর্ম বিরোধী কথা বলছেন। এক সময় বংগবন্ধুই বলেছিলেন বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলমান দেশ। তিনিই ভারতের  আপত্তিকে গ্রাহ্য না করে পাকিস্তানের লাহোরে ওআইসি সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা থাকলেও বংগবন্ধু তাকে গুরুত্ব দিতেন না। তিনি নিজেকে একজন মুসলমানই মনে করতেন।  বংগবন্ধুর কন্যা এখন যাদের নৌকায় তুলে নিয়ে দেশ চালাচ্ছেন তারা কেউই তাঁর কল্যাণ বা মংগল কামনা করেনা। তিনি কি ভুলে গেছেন বংগবন্ধু ইন্তিকাল করার পর তাঁর লাশ সিঁড়ির উপর ফেলে রেখে পালিয়ে গিয়েছিল। বিদেশে গিয়ে বংগবনধুকে ফেরাউন বলে গালি গালাজ করেছে। যাঁরা দেশে ছিলেন তাঁদের অনেকেই খোন্দকার মোশতাকের সাথে হাত মিলিয়েছিলেন। আল্লাহ না করুন,  দোয়া  করছি এমন যেন না হয় বংগবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রীর ভাগ্যে। পরম করণাময় আল্লাহপাক তাঁকে হেফাজত করুন। তিনিতো জানেন, চেনা অ্চেনা ও পরিচিত  অপরিচিতের  মাঝে তাঁর কত শত্রু রয়েছে। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব  সিরাজ উদ দৌলার পতন হয়েছিল তাঁর অতি আপনজনের শত্রুতার কারণে। ইংরেজদের ষড়যন্ত্রের কারণে  দৈহিক ভাবে সিরাজের  বিদায় হলেও সিরাজ বাংলার মানুষের হৃদয়ে চির জাগরুক হয়ে রয়েছে ২৫০ বছর পরেও। কারণ, তিনি জীবন দিয়েছেন বাংলার মানুষের জন্যে। বাংলার মানুষ সিরাজকে কখনই ভুলবেনা। সাথে বেঈমানদেরও দেশবাসী চিনে রেখেছে।

আমি অতীব আবেগের আগুনে দগ্ধ হয়ে একথা গুলো লিখছি। আমি কোন রাজনীতিক নই। আমার কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও নেই। জীবনের দুই তৃতীয়াংশ সময় ধরে আমি সাংবাদিকতা করছি এবং এখন অবসর জীবনে খবরের কাগজে কলাম লিখছি নিজের বিবেকের তাড়নায়। ভাবি যদি দেশবাসীর কিছু উপকার হয়। যদি আল্লাহপাক আমার ভাবনাকে কবুল করে নেন। ধর্ম ও দেশের ৯০ ভাগ মানুষের বিশ্বাস নিয়ে কিছুলোক আপনার ছায়ায় থেকে ২৬৩ সিটের  জোরে  যা করছে তা দেশবাসী কখনই  মেনে নিবেনা। আপনি জানেন, বাদশাহ আকবর সেকুলার সাজার জন্যে এবং তাঁর হিন্দু আত্মীয় স্বজনকে খুশী করার জন্যে দ্বীনে ইলাহী প্রতিস্ঠার চেস্টা করেছিলেন। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। বাদশাহ আকবর ওই মহাভুলটি করেছিলেন অতি প্রিয় কিছু হিন্দু অমাত্যের পরামর্শে।  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার ক্ষেত্রেও এখন সেই পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ মুসলমান প্রধান দেশ বা অঞ্চল না হলে কখনই আলাদা স্বাধীন দেশ হতোনা। ভারতের অংগরাজ্য হিসাবেই থাকতো। আপনি কি একবারও ভাবেন না পশ্চিম বাংলায়  ৩০ ভাগ থাকা সত্ত্বেও সমাজ ও রাস্ট্রীয় জীবনে তাঁদের উপস্থিতি  তিন ভাগের বেশী নয়। ভারতের কোথাও  মাইকে আজান দিয়ে নামাজের আহবান জানানো হয়না। প্রকাশ্যে কোথাও গরু জবাই হয়না। বাংলাদেশের মানুষ অতীব অসাম্প্রদায়িক বলে এখানে দশ ভাগ মানুষের উপস্থিতি ৫০ ভাগের মতো। বরং কোন কোন ক্ষেত্রে অনেক বেশী। আরবী নামধারী কিছুলোক নিজেদের মুসলমান পরিচয় দিয়ে সমাজে ঘুরে বেড়ায় তাঁরা আসলে মোনাফেক। শেখ হাসিনার সরকার এখন কিছু মোনাফেকের পাল্লায় পড়েছে। অবিশ্বাসী বা  ধর্মহীনরা মোনাফেকদের চেয়ে হাজার গুণ ভালো। সমাজ ও রাস্ট্রীয় জীবনে তাদের কোন দায়বদ্ধতা বা কমিটমেন্ট নাই। ফলে সময়ের প্রয়োজনে তাঁরা কেউ সরকারের সাথে থাকবেনা। এদের কুকর্মের সকল দায় দায়িত্ব  শেখ হাসিনাকে একাই বহন করতে হবে। সংবিধানে রাস্ট্রধর্ম আছে, বিসমিল্লাহ আছে এবং পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালার উপর আস্থার কথা আছে। যাঁরা সংবিধানে এসব বিষয় সংযোজন করেছেন তাঁরা এখন আর ক্ষমতায় নেই। দেশের উন্নতির জন্যে কাজ করার পথে ওইসব বিধান কখনই বাদা হিসাবে কাজ করেনা। আওয়ামী রাজনীতি করা এবং ভোট চাওয়ার ব্যাপারেও বিধান গুলো কখনওই ক্ষতিকারক নয়। তারপরেও  আওয়ামী লীগকে জনবিচ্ছিন্ন করার জন্যে কিছুলোক যাঁরা চিন্তা ও কর্মে মাইনরিটি তাঁরাই ৯০ ভাগ মানুষের বিশ্বাসকে নিয়ে তামাশা করছে।

এখনই সময়, প্রধানমন্ত্রীর উচিত হবে মোনাফেকদের  চিনে রাখা এবং আওয়ামী লীগকে তাদের  গোপন ও প্রকাশ্য যড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করা। আমরা জানি দেশের প্রধানমন্ত্রী একজন ধার্মিক মানুষ। তিনি নিয়মিত ধর্ম চর্চা করেন। তিনি আল্লাহ কোরাণ আখেতার ও শেষ নবীতে(সা) বিশ্বাস করেন। আল্লাহপাক কালামে পাকের সুরা বাকার ৮-৯  নম্বর আয়াতে বলেছেন, ‘মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা বলে আমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করি। কিন্তু তারা বিশ্বাসী নয় । আল্লাহ এবং মোমিনদেরকে তারা প্রতারিত করতে চায়।’ সুরা  আস শুয়ারার ২২৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহপাক বলেন, মোনাফেকরা যা করেনা তা বলে। বাংলাদেশ এখন গুটি কতক মোনাফেকের পাল্লায় পড়েছে। তারা প্রধানমন্ত্রীকে বিভ্রান্ত করার জন্যে অবিরত কাজ করে যাচ্ছে। তাদের লক্ষ্যই হলো বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মানুষের বিশ্বাস নিয়ে তামাশা করা। আওয়ামী লীগের মতো এত বড় একটা রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ধর্ম বা সংবিধানের ধর্ম বিষয়ক কথা বলার জন্যে যাঁকে  দায়িত্ব দেয়া হয়েছে  তাঁর কথা বলার ঢং  এবং বাক্য ৯০ ভাগ মানুষকে ক্ষুব্দ করে তুলেছে। মনে হয় তিনি এবং তাঁ সাঙ পাঙরা মুসলমানদের প্রতি দয়া করছেন।

কালামে পাকে  সুরা নমলে  আল্লাহতায়ালা  স্বৈরাচার  সম্পর্কে  বলেছেন, স্বৈরাচারী কোন শাসক যখন কোন জনবসতির উপর কতৃত্ব লাভ করে  তখন তারা সেই জনপদের মানুষদের ধ্বংস  করে ফেলে। তারা সবচেয়ে বেশী অপমানিত ও লাণ্ছিত করে জনপদের সম্মানিত মানুষদের। আমরা আমাদের এই জনপদে অনেক স্বৈর শাসককে দেখেছি।আমাদের আশে পাশের দেশেও বহু অত্যাচারী স্বৈর শাসক ছিল। তারা কেউই আজ আর নেই। ইতিহাসের পারা থেকেও আমরা বহু অত্যাচারী ধ্বংসপ্রাপ্ত স্বৈর শাসকের কথা জানতে পেরেছি। ইসলাম ও মুসলমানদের  ধ্বংস করার জন্যে এখনও বহুদেশের শাসকরা যুদ্ধে নেমেছে। তারা কখনই সফল হবেনা। বাংলাদেশেও কোন শাসকের এই অপচেস্টা সফল হবেনা। আল্লাহতায়ালাই এই জনপদকে ইসলাম ও মুসলমানের দেশ বানিয়েছেন। তিনিই মুসলমানদের জন্যে এই দেশ রক্ষা করবেন।

লেখক: কবি ও সাংবাদিক

ershadmz40@yahoo.com

Advertisements

Read Full Post »


বাইশে মে ‘দৈনিক সকালের খবর’ এর নবযাত্রার প্রথম সংখ্যার সম্পাদকীয় পড়ে এই নিবন্ধটি লেখার জন্যে উত্‍সা্হিত বোধ করেছি। এখন বাজারে বেশী বেশী পৃস্ঠার কমদামী অনেক কাগজও চলছে। প্রথম দিনের ৬৮ পৃস্ঠার সকালের খবর এর দাম মাত্র ৮ টাকা।মাত্র চব্বিশ টাকায় তিন দিনে  ১৮৮ পৃস্ঠার কাগজ পেয়েছেন পাঠকগণ। প্রচুর ভাল ভাল মতামত ভিত্তিক নিবন্ধ রয়েছে প্রথম সংখ্যায়। পত্রিকা কর্তৃপক্ষের কাছে আমি একটা প্রস্তাব রাখতে চাই। তা্  হলো সবগুলো প্রবন্ধ ও সাক্ষাত্‍কার নিয়ে একটা ভাল  সংকলন হতে পারে। যা  রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার  যাবে। এবার আমি পত্রিকার প্রথম সম্পাদকীয় নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। প্রথম সম্পাদকীয়তে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ বলেছেন,‘ কোন নির্দিস্ট মত ও পথের সমর্থক না হয়েও দায়িত্বশীলতার সংগে মানুষের স্বপ্ন আকাংখার পাশে দাঁড়াতে পারে  এমন একটি দৈনিক পত্রিকার প্রয়োজন এখনও ফুরোয়নি। আমরা সেই প্রয়োজন পুরণের দায়িত্ব নিয়েছি। জানি এ পথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’। বলবো একেবারেই অসম্ভব। তাছাড়া সত্য পত্রিকার কোন বিষয় নয়। পত্রিকার হচ্ছে সঠিক খবরটি সঠিক ভাবে প্রকাশ করা। যা এখন প্রকাশিত হয়না। পত্রিকার পলিসি অনুযায়ী খবরগুলো প্রকাশিত হয়। এতে আসল খবর বা সঠিক খবর পাঠক জানতে পারেনা। এমনি এক সময়ে  সকালের খবর বলছে, তাঁরা সত্য প্রকাশ করবেন। আমরা যখন  সাংবাদিকতায় এসেছি তখন আমাদের বলা হয়েছিল সঠিক খবর সঠিক সময়ে প্রকাশ করতে হবে। তাহলে পাঠকের কাছে কাগজের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং আস্থাও বাড়তে থাকবে। এখন নতুন ধরনের সাংবাদিকতা শুরু হয়েছে। তাহলো মতামত ভিত্তিক সংবাদ লেখা হয় ও প্রকাশ করা হয়। এতে প্রতিবেদক বা স্টাফ রিপোর্টার নিজের বা পত্রিকার মতামত করে থাকেন। ফলে সম্পাদকীয় আর রিপোর্টের মধ্যে কোন ফারাক থাকেনা। এখন সম্পাদকীয় বা উপ সম্পাদকীয় গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছে। মন্তব্য প্রতিবেদন বলে এক নতুন  সাংবাদিকতা চালু হয়েছে। এর মানে হচ্ছে প্রিবেদক বা স্টাফ রিপোর্টার মনে মাধুরী মিশিয়ে  নিজের ইচ্ছামতো প্রতিবেদন তৈরি করবে এবং তা সম্পাদকের অনুমোদন নিয়ে প্রকাশিত হবে। আমাদের সময়ে সহজে কেউ  সহকারী সম্পাদক বা এ্যাসিস্টেন্ট এডিটর হতে পারতেন না। সোজা কথায় বলা যেতে পারে যাঁর দেশী বিদেশী রাজনীতি, ইতিহাস সচেতনতা ও ভাষা জ্ঞান নেই তাঁ পক্ষে সহকারী সম্পাদক হওয়া কঠিন ছিল।

হাজার হাজার বছর ধরে সত্য নিহত হচ্ছে বা সত্যকে হত্যা করা হচ্ছে। বেশ কয়েক বছর আগে ফয়েজ ভাই ( বিশিস্ট ছড়াকার ও প্রবীন সাংবাদিক ) ‘সত্যবাবু মারা গেছে বলে’  শিরোনামে  সাংবাদিকতা বিষয়ক একটি  বই লিখেছিলেন। ওই বইতে তিনি সত্য রিপোর্ট লেখার বিড়ম্বনা নিয়ে কিছু কথা উপস্থাপন করেছিলেন। আমরাও দেখেছি পত্রিকার পলিসি বা মালিকের স্বার্থের কারণে বা  বিজ্ঞাপনের কারণে অনেক রিপোর্ট লেখা যেতনা। বেশ কিছু বছর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স হলে পাকিস্তান হামদর্দের প্রধান হাকিম সাঈদ সাহেব একটা মুল্যবান কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, পত্রিকার বিজ্ঞাপন যত বড় ও রঙিন হবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা তত কমবে। হাকিম সাঈদ সাহেব পরে সিন্ধু প্রদেশের গভর্ণর হয়েছিলেন এবং ওই পদে থাকাকালেই আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। সত্য বলা বা লেখা সত্যিই বড় কঠিন। আল্লাহর রাসুলের(সা) সাহাবী হজরত আবুজর গিফারী(রহ:) সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারার সত্যবাদী সাহাবী ছিলেন। তিনি শেষ জীবনে মরুভুমিতে নির্বাসিত জীবন যাপন করেন এবং সেখানেই  ইন্তিকাল করেন এবং তাঁর জানাজা ও দাফনের জন্যে লোক ছিলনা।।  ইমামে আজম হজরত আবু হানিফা(রহ:) তাঁর সত্যবাদিতার জন্যে আট বছর জেলে ছিলেন এবং বন্দী অবস্থায় জেলেই মারা গেছেন। সুফীকবি  মনসুর হাল্লাজকেও প্রাণ দিতে হয়েছে তাঁর সত্যবাদিতার জন্যে। মনসুর হাল্লাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি নিজেকে খোদা দাবী করেছিলেন। সত্য হলো সেই সময়ের শরীয়তের বিশেষজ্ঞরা তাঁকে বুঝতে পারেননি। মনসুরের শত্রুরা খলিফাকেও ভুল বুঝিয়েছিল। হজরত ঈসানবীকেও( আ) তাঁর সময়ের শাসকরা ভুল বুঝেছিল এবং ক্রুশবিদ্ধ করেছিল। যিশুতো একজন শিশুর মতো মানুষ ছিলেন। তিনি সন্যাসীর জীবন যাপন করতেন। শাসক বা ক্ষমতাসীনদের শত্রু হওয়ার প্রশ্নই উঠেনা। তবুও তাঁকে সহ্য করতে পারেনি সে সময়ের ধর্মগুরুরা।  যিশুর কয়েকশ’ বছর আগের কথা। বিশ্ব বিখ্যাত দার্শনিক সক্রেটিসকেও প্রাণ দিতে হয়েছিল তাঁর সত্যবাদীতার জন্যে। সক্রেটিসও ছিলেন একজন গরীব সন্যাসী। রাস্ট্র ও শাসকদের ক্ষতি করার কোন ক্ষমতা তাঁর ছিলনা। তবুও শাসক গোস্ঠি তাঁকে সহ্য করতে পারেননি। এইতো হলো সত্যের অবস্থা।

দৈনিক সকালের খবরও একটি শিল্প গোস্ঠির কাগজ। মালিকের সাথে আমার বহু বছরের পরিচয়। চল্লিশ বছরের বেশী সময় ধরে আমরা একে অন্যের সাথে পরিচিত। তবে দেখা সাক্ষাত খুব কমই হয়। এক সময় নিয়মিত দেখা হতো। তিনি কেন একটি দৈনিক কাগজ প্রকাশ করতে গেলেন ঠিক বুঝতে পারছিনা। ভারতের  অনেক শিল্পগোস্ঠি খবরের কাগজ ও টিভি চ্যানেলের মালিক। এসব শিল্পগোস্ঠির বয়স ৬০/৭০ বছরেরও বেশী। এদের উপর সরকার তেমন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনা। প্রায় নব্বই ভাগ কাগজের লক্ষ্য হলো পুঁজিবাদের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করা। পুঁজির স্বার্থ রক্ষা করা। ভারতীয় রাজনীতিতে এখন বামপন্থী রাজনীতির তেমন প্রভাব নেই বললেই চলে। ভারতের পুঁজি পৃথিবীর অন্যতম পহরধান শক্তিশালী পুঁজি। ভারতের সরকার গুলো এই পুঁজিরই সেবা করে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের  পুঁজির অবস্থা একেবারেই উল্টো। এখানে পুঁজি সরকারের সেবাদাস। যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে তখন তার সেবা করে। ফলে পত্রিকা গুলোর চরিত্র সহজেই পাঠক সমাজ বুঝতে পারে। পাকিস্তান আমলে কাগজের মালিক ছিলেন মানিক মিয়া সাহেব, হামিদুল হক চৌধুরীসাহেব, আকরাম খাঁ সাহেব ও আহমেদুল কবির সাহেব। সরকারী মালিকানায় কাগজ ছিল দৈনিক পাকিস্তান ও মর্ণিং নিউজ। সরকারী মালিকানা ছাড়া বাকী সব কাগজের লক্ষ্য ছিল পূর্ববাংলার স্বার্থ। ফলে সব কাগজই ছিলো ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে। এখন সেই পরিস্থিতি নেই। আগে ইসলামাবাদ ছিল বহুদূরে। সম্পাদক আর মালিকরা কথায় কথায় ইসলামাবাদ যেতে পারতো না। এখন সরকারের আসন আর পত্রিকা মালিকদের আসনের মাঝে বেশী দূরত্ব নেই। উভেয়ের মাঝে কথাবার্তা ও দেখাশুনা নিয়মিত। প্রধানমন্ত্রী বিদেশ যাওয়ার সময় সম্পাদকদের সাথে করে নিয়ে যান। মালিকেরা এসব সুযোগ মাঝে গ্রহন করে থাকেন। শিল্প গোস্ঠির মালিকরা সরকারের সেবা করার জন্যে উদগ্রীব হয়ে থাকেন। তাদের লক্ষ্য হলো সরকারের আইনী ও বেআইনী  সমর্থন নিয়ে নিজদের ব্যবসা ও পুঁজি বাড়ানো। ফলে কাগজের স্বাধীনতা মালিকদের কাছে তেমন গুরুত্ব পায়না। এখনতো রাজধানীর প্রন্ট মিডিয়া, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ও অনলাইন মিডিয়াগুলোর প্রায় একশ’ভাগই শিল্পগোস্ঠির দখলে। পেশাদার ও শ্রমজীবী সাংবাদিকরা মনে করেন কাগজের আদর্শ ও পলিসি সাংবাদিকদের বিষয় নয়। তাঁরা ভাল বেতন ও ভাল জীবন যাত্রার মান চান। সরকারও সাংবাদিকদের নানা ধরনের সুযোগ দিয়ে নিজেদের প্রভাবের আওতায় রাখতে চায়।

ঠিক এমনি এক সময়ে দৈনিক সকালের খবর বাজারে এসেছে। অনেকদিন থেকেই শুনছি বাজারে আসছে। প্রায় দু’বছর ধরে কর্মচারী নিয়োগ করে পরীশামূলক কাগজ প্রকাশনার কাজ চলছিলো। সাংবাদিক বন্ধু যাঁরা এ কাগজে কাজ করেন তাঁদের সাথে কাগজ নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হতো- কখন কাগজ বাজারে আসছে। প্রয়োজনের তুলনায় একটু বেশী সময় লেগে গেছে ঘোষণা দিয়ে বাজারে আসতে। সুখের খবর হলো শেষ পর্যন্ত বাজারে এসেছে এবং পাঠকের হাতে পৌঁছেছে। নিয়মিত সংখ্যা কিনতে পারবো কিনা জানিনা। তবে  উদ্বোধনী সংখ্যা তিনখন্ডই কিনেছি। খুব ভাল লেগেছে সর্বদিক থেকে। আগেই বলেছি সাক্ষাত্‍কার ও হাল বিষয়ের মতামত ভিত্তিক প্রবন্ধগুলো খুবই ভাল লেঘেছে। সবগুলো লেখাই সংরক্ষনের মতো। তাই বলেছি ও গুলো বই আকারে প্রকাশ করার জন্যে। তবে লেখক তালিকা ও মতামত দেখে এক পেশে মনে হয়েছে। শুরুতেই মনে হচ্ছে পত্রিকাটি কোন একদিকে ঝুঁকে চলতে শুরু করেছে। পত্রিকায় কাজ করছেন এমন কয়েকজন বন্ধুর সাথে কথা বলেছি পত্রিকার পলিসি নিয়ে। তাঁরা বলেছেন, পত্রিকার একটা পলিসিতো আছেই। সেটা পাঠক সমাজ নিশ্চয়ই বুঝতে পারবেন। আমাদের সময় বলা হতো,  ‘ নিউজ ইজ সেক্রেড , ওপিনিয়ন ইজ ইওরস ’। মানে হলো সংবাদ পবিত্র, মতামত আপনার নিজস্ব। এডিটোরিয়াল পলিসি দেখে বা পড়ে পাঠক বুঝতে পারবে কাগজটা কি বলতে চায়। কিন্তু খবরই যদি মতামত ভিত্তিক তখন আর সঠিক খবর পাওয়া যায়না। আমাদের এক বন্ধু বিদেশী কাগজের জন্যে কাজ করতো। কোথাও দুর্ঘটনায় , দুর্যোগে , গুলিতে বা  মিছিলে একজন মারা গেলে সে রিপোর্ট করতো ২০/৩০ জন। জিগ্যেস করলে সে বলতো, বেশী মরার খবর না দিলে ভাল ট্রিটমেন্ট বা কভারেজ পাওয়া যায়না। ভুয়া খবর বা ভুয়া ছবির গল্প বিশ্বব্যাপী বহু আছে। এমন কি শ্রেষ্ঠ ছবি হিসাবে পুরস্কৃত হয়েছে এমন ছবি পরে প্রমানিত হয়েছে বানোয়াট ছবি হিসাবে। আমাদের দেশেও নাকি এমন ঘটনা ঘটেছে। বংগবন্ধুর আমলে জাল পরিয়ে বাসন্তীর ছবি তুলে ছাপিয়ে বেশ বাহবা পেয়েছিল একটি পত্রিকা ও একজন ফটো জার্ণালিস্ট।

তাই বলছিলাম বাংদেশে এখন একটি কাগজও সংবাদ নিরপেক্ষ নয়। প্রত্যেক কাগজই নিজের স্বার্থ ও দৃস্টিকোন থেকে সংবাদ প্রকাশ করে থাকে। কাগজ পড়েই পাঠক বলে দিতে পারে পাঠক কাগজটা কোন পথে চলছে। এখনতো সাংবাদিকের নাম শুনেই পাঠক বলে দেয় তিনি কোন পথের পথিক। আমি আশা করবো দৈনিক সকালের  খবর যেন তেমন না হয়। মতামত প্রকাশের জন্যেতো সম্পাদকীয় পাতা রয়েছে। সেখানেও আমি আশা করবো সব মত ও পথের  সাংবাদিক, লেখক ও কলামিস্টরা যেন মত প্রকাশর সুযোগ পাবেন। আমি জানি দৈনিক সকালের খবর এর মালিকরা ইচ্ছা করলে স্বাধীন ভাবে একটি কেন দশটি কাগজ চালাতে পারেন। ভয় করে বা স্বার্থের মুখাপেক্ষী  হয়ে কখনই ভাল কাগজ বা সম্মানিত কাগজ প্রকাশ করা যায়না। আমি দৈনিক সকালের খবর এর নব যাত্রাকে অভিনন্দিত করছি এবং এর একটি সম্মানজনক অবস্থান কামনা করছি।( জুন ৩, ২০১১, সকালের খবর )

লেখক: কবি সাংবাদিক ও ঔপন্যাসিক

ershadmz40@yahoo.com

Read Full Post »


বাংলাদেশের  মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে এখন দেশের ভিতর এবং বাইরে প্রচুর আলোচনা চলছে। কিছুদিন আগে বাংলাদেশের বন্ধু মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের মানবাধিকার সংগঠন  হিউম্যান  রাইটস ওয়াচের( এইচআরও ) এশিয়া অঞ্চলের নির্বাহী পরিচালক  এলিট ফোর্স  রেব ভেংগে দেয়ার দাবী জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন রেবকে  সরকার আর নিয়ন্ত্রন করতে পারছেন না। গত এক বছর ধরে রেবের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। রেব প্রায় সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সম্প্রতি বরিশালের ছাত্র লিমনকে গুলি করে পংগু করার পর রেব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রথম দিকে পুলিশ লিমনের মামলা নিতে চায়নি। এজন্যে লিমনের বাবাকে মামলা করতে হয়েছে। মামলা গ্রহনের জন্যে আদালত থানাকে নির্দেশ দেয়ার পর পুলিশ মামলা গ্রহন করে। কিন্তু রেবের  দায়ের করা মামলায় পুলিশ লিমনকে গ্রেফতার করে। ইতোমধ্যে বন্দী অবস্থাতেই হাসপাতালে  লিমনের একটি পা কেটে ফেলা হয়। এই অবস্থায় লিমনের জামিনের জন্যে উচ্চ আদালতে যেতে হয়েছে। আদালত জামিন দেয়ার পরেও অনেকদিন লিমনকে জেল খাটতে হয়েছে। লিমনের ঘটনা যে কোন কারনেই হোক মিডিয়াতে খুব গুরুত্ব পেয়েছে। লিমনের ঘটনা থেকে দেশবাসী জানতে পারলো জন নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা করা যায়না। এমন কি আদালত  মামলা গ্রহণের নির্দেশ দিলেও পুলিশ সেই নির্দেশ নিয়ে টালবাহানা করতে পারে। পুলিশ রেবের মামলা গ্রহণ করলো কিন্তু লিমনের বাবার মামলা নিতে  অস্বীকার করলো। এ ঘটনা থেকে আমরা বুঝতে পারলাম যে, নাগরিক অধিকার আর পুলিশ সহ অন্যান্য বাহিনীর অধিকার এক নয়। জন নিরাপত্তা বাহিনী (?) রাস্ট্রের ক্ষমতা বহন করে। যখন তখন যাকে ইচ্ছা তাকে ধরে নিয়ে হেনস্থা করতে পারে। এটা আমাদের দেশের আইনে স্বীকৃত। নাগরিকের কিন্তু এমন ক্ষমতা নেই। রাস্ট্রের ক্ষমতা নাগরিকের চেয়ে অনেক অনেক বেশী। আধুনিক রাস্ট্র ব্যবস্থা বা গণতন্ত্র নাগরিকদের দোহাই দিয়ে চলে। কিন্তু নাগরিকরা কখনই জানেনা সত্যিকারে তাদের ক্ষমতা কি। যারা জানেন তারাতো রাস্ট্র বা সরকারের সাথে সমঝোতা করে কখনও ক্ষমতায় থেকে বা কখনও ক্ষমতার বাইরে থেকে রাস্ট্রের সুয়যোগ সুবিধা ভোগ করেন। আমাদের দেশের ১৫/১৬ কোটি নাগরিকের ভিতর ৫০ থেকে ৬০ শতাংশের অক্ষর জ্ঞান আছে । এরমধ্যে ২০ শতাংশ মানুষ অক্ষর না চিনেই কো রকমে দস্তখত শিখেছেন। শুমারী বা গণনায় সব মানুষকে মিলিয়ে বলা হয়েছে ৬০ ভাগ লোক লিখতে ও পড়তে পারে। এখানেও রাস্ট্রের ভাওতাবাজী আছে। এই ৬০ ভাগ লোক ভাল করে জানেনা রাস্ট্র, সরকার, সংবিধান, জাতীয় সংসদ বা নাগরিক অধিকার কি তা জানেনা। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর যদি ভোট আসে তখন রাজনীতিকরা(যাদের কাছে টাকা আর শক্তি আছে তারা) ভোটের কাপড় পরে ভাটারদের কাছে যান। খুব বিনীত ভাবে ভোট ভিক্ষা করেন। তাও আবার স্বাধীন ভাবে ভোট চাওয়ার কোন উপায় নেই।  দুই জনপ্রিয় মার্কা ধানের শীষ ও নৌকার কাছে ভোটাররা বন্দী হয়ে গেছেন। ফলে দুই দলই নির্বাচনের সময় ভোট ভাগ করে নেয়। কেউ চার কোটি বা কেউ সাড়ে তিন কোটি ভাট পান। শুধু ভোট পেলেই হবেনা, সিট পেতে হবে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ যে পরিমান ভোট পেয়েছে সে পরিমান সীট পায়নি। সেনা সমর্থক ফকরুদ্দিনের সরকারের যাদুর চেরাগের কারণে ২৬৩ সীট নৌকায় উঠে গেছে। যাক সেই সব তেলেসমাতির কথা।  গণতন্ত্রে মেজরিটি বলে একটা কথা আছে। বাংলাদেশে মাজেজা অনেক চমক প্রদ। এক সীট বেশী পেলেই ক্ষমতা হাতের মুঠোয় এসে যায়। ২৬৩ সীট বা ২৯৩ সীট পেলেতো আর কথাই নেই। তখন গণতন্ত্রকেও হত্যা করা যায়। সিভিল ডিক্টেটর হওয়া যায়। বাদশাহও হওয়া যায়। বংগবন্ধু কয়েক মিনিটের ব্যবধানে একদলীয় ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। সংসদীয় ব্যবস্থা থেকে রাস্ট্রপতি ব্যবস্থায় চলে গিয়েছিলেন। বংগবন্ধুর সময়ের কথা একেবারেই আলাদা। তিনি ছিলেন জনগণের নেতা। তিনি মনে করতেন তিনি যা ভাবেন জনগণও তাই ভাবে। তিনি যা করেন জনগণও তা করতে চায়। তিনি হয়ত ভাবতেন তাঁর হাতে আলাদীনের চেরাগ আছে। তাই তিনি এক মিনিটেই সবকিছু করতে পারতেন। বংগবন্ধু ছিলেন সরলমতি বালকের মতো। শুধু তাঁর জনগণের কল্যাণ নিয়েই মশগুল থাকতেন। কিছুলোক,যারা নিজেদের সেকুলার ও বামপন্থী মনে করে তারাই তাঁর সরলতার সুযোগ নিয়ে তাঁকে গণতন্ত্র থেকে বিচ্যুত করে একদলীয় ব্যবস্থার নিয়ে গেছে। তাঁকে বুঝানো হয়েছে চীন রাশিয়া কিউবা উত্তর কোরিয়া ও যুগোশ্লাভিয়ার কথা। তাঁকে বুঝানো হয়েছে তিনিও  ক্যাস্ট্রো বা টিটোর মত একজন বিপ্লবী নেতা। এ রকম ভাবার জন্যে সমাজবাদী দেশগুলো থেকে তাঁর জন্যে অনেক পুরস্কার আনা হয়েছিল। মজার ব্যাপার ছিল বংগবন্ধু নিজে কখনই সমাজবাদী ছিলেন না এবং তাঁর দলও ছিলনা। তাঁকে হয়ত বুঝানো হয়েছিল একদল করলেই সমাজবাদী দল হয়ে যায় এবং সমাজতন্ত্র কায়েম করা যায়। মুজিববাদ নাম দিয়ে বিরাট এক বইও লেখা হয়েছিল।

বংগবন্ধুর সরকারকে নিরাপত্তা দেয়ার জন্যে তখন রক্ষীবাহিনী তৈরি করা হয়েছিল। কে বা  কারা রক্ষী বাহিনী প্রতিস্ঠা করার জন্যে বংগবন্ধুকে পরামর্শ দিয়েছিল তা আমরা আজও জানিনা। তবে লোকে মনে করে এটা সিপিবির পরামর্শ ছিল। তাঁকে বুঝানো হয়েছিল এক দলীয় ব্যবস্থা রাখতে হলে একটি রাজনৈতিক ঠ্যাংগাড়ে বাহিনী দরকার। সেই কারণেই নাকি রক্ষী বাহিনীর জন্ম হয়েছিল।রক্ষী বাহিনী সরকারের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্মূল করার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশী  তত্‍পর ছিলো। রক্ষী বাহিনীর হাতে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল তত্‍কালীন জাসদ। হাজার হাজার বামপন্থী ও জাসদ কর্মী রক্ষী বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে। তখন রক্ষী বাহিনী ছাড়াও রাজধানী ঢাকায় একটি সাদা টয়োটা গাড়ি বিকেল হলেই ঘুরে বেড়াতো। লোক মুখে শোনা  যায় সেই সাদা গাড়িতে ঘুরে বেড়াতো তখনকার পুলিশ সুপার  এবং তিনি তার টার্গেটদের তুলে নিয়ে যেতেন।। যিনি এখন দলীয় রাজনীতি করেন। ২০০৪ সালে এলিট ফোর্স রেব প্রতিস্ঠিত হওয়ার পর চলমান সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইমেজ ক্রাইসিস/সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিস্ঠার পর শুরুতে রেবের একটা ইতি বাচক ইমেজ তৈরি হয়েছিল। এখন সেই ইমেজ নেতিবাচকতার তলানীতে এসে পৌঁছেছে। মানবাধিকারের দেশী ও বিদেশী সংস্থা গুলো রেবের সমালোচনায় মুখরিত। লন্ডনের কাগজ গার্ডিয়ান ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটা রিপোর্ট প্রকাশ করেছে রেবের কার্য কলাপের উপর। আমরা যখন রেব বা সরকারের অন্যান্য নিরাপত্তা ও আইন শৃংখলা বাহিনী নিয়ে কথা বলি সেটা কখনই সেই সংস্থার সদস্যদের বিরুদ্ধে নয়। প্রশ্ন হচ্ছে সরকার তাদের কিভাবে ব্যবহার করছে। পুলিশের বদনাম অনেকদিনের পুরাণো। এ বদনাম কখনও কাটিয়ে উঠতে পারবে কিনা জানিনা। উন্নত দেশ গুলোর পুলিশ ব্যবস্থা কি রকম তা নিয়ে স্টাডি করা যেতে পারে। শুধু বাংলাদেশের পুলিশ খারাপ বা দুর্ণিতিবাজ বা ঘুষখোর তা বলা যাবেনা। ভারত পাকিস্তান ও শ্রীলংকার পুলিশও নাকি একই রকম। এর মানে বৃটিশরা যে ব্যবস্থা রেখে গেছে তার ভিতর কোন সমস্যা রয়েছে। বৃটিশরা পুলিশকে তাদের  ঔপনিবেশিক স্বার্থে ও প্রয়োজনে তৈরি করেছে এবং আইন গুলো সেভাবেই তৈরি করেছে। বৃটিশরা ছিল দখলদার বাহিনী। তাদের দখলকে দীর্ঘমেয়াদী করার জন্যেই তারা সব ধরনের আইন ও বাহিনী সৃস্টি করেছে। সেই আইন এখনও বলবত্‍ আছে। স্বাধীন দেশের সরকারও দখলদার সরকারের মতো ব্যবহার করছে। সরকার মনে করে রাস্ট্রকে রক্ষা করতে হলে নাগরিকদের উপর সব সময় বল প্রয়োগ করতে হবে। রাস্ট্রের স্বার্থ আর সরকারের স্বার্থকে আমাদের দেশে সব সময় গুলিয়ে ফেলা হয়। কেউ সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই তার বিরুদ্ধে  সরকার রাস্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ নিয়ে আসে।

প্রধান মন্ত্রীর সামরিক উপদেস্টা ও নিকট আত্মীয় সাবেক উচ্চ পদস্থ সামরিক কর্তা জনান তারেক সিদ্দিকী সম্প্রতি সাংবাদিকদের ডেকে লিমন ও রেব নিয়ে বেশ কিছু কথা বলেছেন। কেন তিনি হঠাত্‍ করে আগ বাড়িয়ে কথা বলতে গেলেন তা বোধগম্য নয়। এমনও হতে পারে যে, রেবে কর্মরত সামরিক অফিসারেরা তাঁকে কথা বলার জন্যে উদ্বুদ্ধ করেছেন। কারণ হতে পারে সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বাহিনী হিসাবে পুরো রেবেরই বদনাম হচ্ছে। একদিন যেমন রক্ষী বাহিনীর হয়েছিল। এবং সরকার পরিবর্তনের ফলে রক্ষী বাহিনীকে বাতিল করে হয়েছিল। আজ বিদেশীরাও রেব বন্ধ করে দেয়ার দাবী জানিয়েছে। দেশের ভিতরেও জনগণের ভিতর এমন মনোভাব রয়েছে। বিদেশীরা আমাদের আভ্যন্তরীন বিষয়ে অনেক বেশ কথা বলে। সেটা আমাদের পছন্দ নয়। কিন্তু কি করা যাবে আমরাতো কাজে অকাজে বিদেশী সাহায্য না পেলে চলতে পারিনা। যেমন , টেকনাফ ও উখিয়া এলাকায় রোহিংগা পূণর্বাসনকে কেন্দ্র করে বিদেশীরা নানা অপ তত্‍পরতায় জড়িত  আছে। এ ব্যাপারে সরকার বিদেশী সাহায্য প্রত্যাখ্যান করেছে শুনে আমরা খুবই আনন্দিত হয়েছি। সরকারকে সাধুবাদ জানাই।  আমরা লেখক কলামিস্টরাতো সব সময়ই সব সরকারকে সাধুবাদ জানাতে চাই। কিন্তু পারিনা। কারণ সরকার গুলো প্রায়ই জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করে থাকে। শুধু বেশি ভোট বা বেশী সিট পেলেই কোন সরকার জনপ্রিয় হতে পারেনা। জনগণের পক্ষে থেকেই তাকে জনপ্রিয়তা রক্ষা করতে হয়। তারেক সিদ্দিকী সাহেব একজন চৌকশ সামরিক নেতা হতে পারেন। তিনি রাজনীতি বুঝবেন বা বুঝতেই হবে এমন কথা নেই । প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় বলেই তিনি হয়ত এই পদ অলংকৃত করেছেন। এর আগে মোস্তাফিজ সাহেবও একই ভাবে প্রধান সেনাপতির পদ পেয়েছিলেন। ভাবলে মনে হয় এসব মোগল জামানার কথা। বংগবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হয়ত নিজের নিরাপত্তা নিয়ে মোগলদের মতই ভাবেন। লিমন এবং রেব সম্পর্কে সিদ্দিকী সাহেব যে কথা বলেছেন তার সম্পর্কে আবার স্বরাস্ট্র মন্ত্রী সাহারা খাতুন সাফাই গেয়েছেন। বলেছেন সিদ্দিকী সা্হবের বক্তব্য সরকারের বক্তব্য। রেবের অফিসাররা প্রায় সবাই সেনা বাহিনীর কর্তা। রেবের ইমেজের সাথে তাদের ইমেজও জড়িত। সেই ইমেজ রক্ষার জন্যেই হয়তো তিনি সাংবাদিকদের ডেকে রেব ও লিমনকে নিয়ে কথা বলেছেন। লিমনরাতো গরীব মানুষ। তাদের তেমন কোন শক্তি নেই। লিমন ও তার বাবাকে সন্ত্রাসী বানালে তাদের হয়ে কথা বলার মতো কেউ নেই। একজন সম্পাদক সম্পর্কেও সিদ্দিকী সাহেব খোলামেলা অনেক কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের ব্যাপারে সহানুভুতিশীল হওয়ার কারনে সম্পাদকের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। সম্পাদকের কার্যকলাপ সম্পর্কে সরকারের কাছে প্রচুর প্রমান আছে। সিদ্দিকী সাহেব সম্পাদকের নাম প্রকাশ করেননি। অথচ তাঁর মতে সম্পাদক সাহেব নানা ধরনের  ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত। সম্পাদক সাহেব কে তা সাংবাদিক সমাজ আন্দাজ করতে পারছেন। আমরা জানি  সম্পাদক সাহেব সরকারের একজন রাজনৈতিক মিত্র। এমন কি সেনা বাহিনীরও মিত্র। সম্পাদক সাহেবের পত্রিকা ১/১১র সেনা সমর্থিত সরকারকে অন্ধ ভাবে সমর্থন করেছে। এখন হঠাত্‍ তিনি কেন সরকারের বিরাগভাজন হলেনেন তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। সরকার আর ওই পত্রিকার সম্পাদক  সাহেবের সাথে কি কারনে দন্ধ তৈরি হয়েছে আমাদের কাছে সুস্পস্ট নয়।

সরকারে থাকলে নাকি চোখে একটি অদৃশ্য রংগীন চশমা লেগে যায়। এটা শুধু আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সকল সরকারের ক্ষেত্রে এই রংগীন চশমা প্রযোজ্য। এখনতো যাকে সরকারের পছন্দ নয় তাকেই জংগী সন্ত্রাসী ও হুজি বলে ধরে নিয়ে যাওয়ার রেওয়াজ চালু হয়ে গেছে। তারপরে রিমান্ড এবং টিএফআইতে বা অন্যকোন বাহিনীর অফিসে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। বাহিনীর পছন্দ মতো কথা বের করার জন্যে আটককৃত  ব্যক্তির উপর টর্চার বা নির্যাতন শুরু হয়। এই টর্চারের রিপোর্ট ইতোমধ্যেই বিদেশী পত্রিকায় ছবি সহ প্রকাশিত হয়েছে। আগেই বলেছি, রেবের কি করার আছে। সরকার  বা সরকারী দল যদি রেবকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে তাহলে তারা কি করতে পারেন। আমি বলবো সব বাহিনী থাকুক এবং  দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করুক। শুধু নিজেদের চরিত্র বদলালেই সমস্যার ৯০ ভাগ শেস হয়ে যাবে। আমি সুপারিশ বা প্রস্তাব করবো, অবিলম্বে নাগরিক অধিকার রক্ষার জন্যে খুব  স্পস্ট ভাষায় নাগরিক অধিকারের ব্যাখ্যা দিতে হবে। সকল অবস্থায় নাগরিকের মর্যাদা যে কোন সরকারী কর্মচারীর চেয়ে অনেক উপরে রাখার আইনগত ঘোষণা দিতে হবে। আমি মনে করি সংবিধানে বর্তমানে নাগরিক অধিকার নিয়ে কিছু নীতিকথা আছে। ও গুলো  রাস্ট্রের  দর্শন। বাস্তবে কোথাও নাগরিক অধিকার নেই। যদি থাকতো তাহলে সরকারী বাহিনী গুলো যে কোন নাগরিককে ধরে বা তুলে নিয়ে যেতে পারতোনা। এমন কি একজন পুলিশ কনস্টেবলের আইনগত রাস্ট্রীয় ক্ষমতা  যেকোন নাগরিকের চেয়ে বেশী। তাই পুলিশ যে কোন সময়ে যে কোন নাগরিকের  গায়ে হাত তুলতে পারে। মিথ্যা মামলা সাজিয়ে যে কোন নাগরিককে জেলে ভরে দিতে পারে। ট্রাফিক আইন ভংগের অভিযোগে  গ্রেফতার করে অস্ত্র আইনে রিমান্ডে নিতে পারে। এমন কি রাস্ট্রদ্রোহিতা বা যুদ্ধাপরাধী মামলায় আটক দেখাতে পারে। আইন আদালতের কোন সাহায্য বা সহযোগিতাও  নাগরিকরা নিতে চান না গণবিরোধী ঔপনিবেশিক আইনের ভয়ে। গণতান্ত্রিক স্বাধীন দেশের সরকার হলেও তা পরিচালিত হয় বৃটিশ আমলের গণবিরোধী আিন দ্বারা। এই সব আইনের  মূলমন্ত্র হচ্ছে নাগরিকের চেয়ে সরকার ও রাস্ট্র বড়। যতদিন এ সব আইনের সংস্কার না হবে ততদিন পুলিশ নাগরিকের মালিক মোক্তার এবং নাগরিককে হেনস্থা করা তার দায়িত্ব বা ডিউটির মধ্যে পড়ে। ইতোমধ্যেই বিদেশমন্ত্রী ডা: দিপু মনি বলেছেন, রাতারাতি বিচার বহির্ভুত হত্যা বন্ধ করা যাবেনা। রাতারাতি বলতে তিনি কি বুঝিয়েছেন তা স্পস্ট নয়। এ সময়টা কি এক মাস না এক বছর না অনাদিকাল? তিনি হয়ত তাঁর মনের কথা খোলাসা করে বলতে পারছেন না। রাস্ট্র এমন এক জিনিষ যাকে জনগণ হাসতে হাসতে আনন্দে সব ক্ষমতা দিয়ে দেয়। জগতের বহুদেশেই রাস্ট্র স্বেচ্ছাচারী হয়ে যায় জনগণের দেয়া ক্ষমতা বলে এবং জনগণের উপর চালায় সীমাহীন আইনি অত্যাচার। তখন বিদ্রোহ বা বিপ্লব করা ছাড়া জনতার কাছে অন্যকোন পথ খোলা থাকেনা। রাস্ট্রকে নিজেকে বাঁচাবার জন্যে মানে কায়েমী স্বার্থ রক্ষার জন্যে জনতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। (  নয়া দিগন্ত, ২৯শে মে, ২০১১  )

লেখক; কবি সাংবাদিক ও  ঔপন্যাসিক

ershadmz40@yahoo.com

Read Full Post »


বর্ণিত বিষয়ে কিচু একটা লেখার জন্যে কয়েক দিন ধরে ভাবছিলাম এবং কিছু বই সংগ্রহ করছিলাম। এমন সময় অগ্রিম প্রকাশিত ২৩শে মে’র টাইম ম্যাগাজিনটা হাতে আসে। পঞ্চান্ন পৃস্ঠায় ক্যাস্টানেডার নিবন্ধটা নজরে এলো। দেখলাম নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত প্রফেসর ক্যাস্টানেডার চিন্তার সাথে আমার চিন্তার একশ’ভাগ মিল রয়েছে। লেখাটা তৈরি করে কোন কাগজে পাঠাবো তা নিয়ে ভাবতে ভাবতেই দেরী হয়ে গেল। বাংলাদেশের কাগজ গুলোর চিন্তাধারা বিন লাদেনকে নিয়ে কোনদিকে তা স্পস্ট নয়। যখন দেখা গেল খোদ আমেরিকার বুদ্ধিজীবীরা বিন লাদেন হত্যার প্রক্রিয়াকে সমর্থন করেনি। এমন কি অনেকেই হত্যার বিষয়কে বিশ্বাসই করেনি। ইরান বলেছে বিন লাদেন অনেক আগেই মারা গেছেন। ওবামা নির্বাচনী বৈতরণী সহজে পার হওয়ার জন্যে এই নাটক তৈরী করেছেন। বলা হচ্ছে ইতোমধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা বেশ বেড়ে গেছে। আমেরিকার ৬০ বছরের দাসবন্ধু পাকিস্তানও নিজের মর্যাদা রক্ষার জন্যে ফিরে দাঁড়াবার চেস্টা করছে। পাকিস্তান পার্লামেন্ট আমেরিকার ওসামা অপারেশনের নিন্দা করেছে। চীন পাকিস্তানকে সমর্থন জানিয়ে পাশ থাকার ঘোষণা দিয়েছে।

আল্লাহর নবী পবিত্র নারী মরিয়ম পুত্র যিশুকে ( মুসলমানদের জন্যে ইসা নবী ) নিয়ে এখন কিছু বলতে চাই। তিনি ছিলেন একজন পবিত্র মানুষ। সন্যাসীর মতো অবিবাহিত জীবন যাপন করতেন। তাঁর জন্মটাই হচ্ছে আল্লাহপাকের কুদরত।তিনি পিতা ছাড়াই মায়ের উদরে এসেছেন।  যদিও সে সময়ের  সমাজনেতা ও সরকারী লোকেরা নানাভাবে তাঁর জন্মকে নিয়ে নানা  কুত্‍সা রচনা ও রটনা করেছে। তাঁর মা পবিত্র নারী বিবি মরিয়মকে নিয়েও গাল মন্দ করেছে। মাত্র ৩২/৩৩ বছরে আল্লাহর নবী দুনিয়া ত্যাগ করে চলে গেছেন। তত্‍কালীন রোমান শাসক তাঁর মৃত্যুদন্ড দিয়েছিল। প্রশ্ন হলো কেন শাসক ও সমাজপতিরা তাঁকে সহ্য করতে পারেনি। কারণ তিনি সত্য প্রচার করতেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। নির্যাতিতের মুক্তির জন্যে কথা বলতেন।যা সমাজপতি ও শাসকদের পছন্দ ছিলনা।তাঁর বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ ছিল তিনি নাকি নিজেকে রাজা ঘোষণা করেছেন। সত্য হচ্ছে তিনি কখনই নিজেকে রাজা ঘোষণা করেননি। যিশু বলেছিলেন ঈশ্বরের রাজ্যে বাস করো, ঈশ্বরের পাওনা ঈশ্বরকে দাও। ফলে শাসকদল তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করে তাঁকে হত্যার চেস্টা করে। যদিও যিশুর ভক্তরা মনে করেন তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। মুসলমানেরা  এটা বিশ্বাস করেনা। যিশুর ভক্তরা এখন নানা ভাগে বিভক্ত। নানা জনের নানা মত। মুসলমানেরাও তেমনি বিভক্ত। যিশুকে নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব আর তাঁর ভক্তদের আজে বাজে কথা বলার শেষ নেই। তাঁর যৌন জীবন নিয়ে  ছবি বানায়। তাঁকে নিয়ে মিথ্যা গল্প বানায়। পশ্চিমা জগত নাকি বাক স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের নামে এসব করে। এর মানে হচ্ছে খৃস্ট ধর্মে  তথকথিত বিশ্বাসীরা তাদের নবী ও পবিত্র মানুষদের নিয়ে আজে বাজে কথা বলতে দ্বিধাবোধ করেনা। সেতো অনেক কাল আগের কথা। এখনও এই বিশ্বে নির্যাতিত মানুষের আর্তনাদ আছে। অসত্যের বিজয় হচ্ছে। মিথ্যা সারা দুনিয়াকে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে। মিথ্যা বুক ফুলিয়ে বলছে আমরা বিজয়ী হয়েছি।

আমার মনে পড়ছে জগতবাসীর গৌরব মহামতি সক্রেটসের কথা। আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান ছাড়া তাঁর কাছে আর কোন সম্পদ ছিলনা। তিনি কোন রাজ্য দখল করতে চাননি। ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে কোন কটু বাক্যও বলেননি। শুধু একখানা কাপড় পরে নগ্ন পায়ে শহরে চলতেন। যুবকেরা তাঁর কথা শোনার জন্যে ভিড় জমাতো। তিনি যুবকদের যুক্তির কথা বলতেন। সত্যার কথা বলতেন। সরকার মনে করতো সক্রেটিস তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তত্‍কালীন এথেন্সের সরকার ছিল এক ধরনের গুন্ডা ও সন্ত্রাসীদের সরকার। তাঁরা সক্রেটিসের জ্ঞানকে ভয় করতো। আর এজন্যেই নানা মিথ্যা অভিযোগ এনে  শাসকদল সক্রেটিসকে হত্যা করেছিল। তথকথিত ভুয়া আদালত তাঁকে বলেছিল আপনি যদি দেশত্যাগ করেন তাহলে আমরা আপনাকে মৃত্যুদন্ড দিবোনা। চলে যেতে সাহায্য করবো। তিনি রাজী হননি। তাঁর ভক্তরাও তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন দেশত্যাগের জন্যে। তিনি রাজী হননি। জেলখানার জেলারও তাঁকে গোপনে ছেড়ে দিতে রাজী হয়েছিল। কিন্তু তিনি বললেন, সত্য কেমন করে পালিয়ে যাবে। সত্যের কোন দেশ থাকেনা। তাই সক্রেটিস হাসিমুখে বিষ পান করে মৃত্যু বরন করেছিলেন। বিশ্ববাসী আজও সক্রেটিসকে স্মরণ করে, সম্মান করে। তত্‍কালীন শাসক বা বিচারকদের কথা কেউই জানেনা।

আরেক জন বিপ্লবী বীর পুরুষ হচ্ছেন আর্জেন্টিনার আর্নেস্টো  চে গুয়েভারা। স্বচ্ছল শিক্ষিত সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছেলে। মা বা ডাক্তারী পড়িয়েছেন এবং স্বাধীন মতামত নিয়ে গড়ে উঠতে সাহায্য করেছেন। মার্কসবাদের বিপ্লবের দীক্ষা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থার শোষন থেকে  মাতৃভুমির মানুষকে মুক্তি দিতে। এক সময় নিজ দেশ আর্জেন্টিনা থেকে বহিস্কার হন। এরপর থেকেই শুরু হলো অবিরাম ভ্রমণ। লাতিন আমেরিকার দেশ গুলো চসে বেড়ানো। চোখে মুখে স্বপ্ন একদিন এই পৃথিবীর নির্যাতিত ও শোষিত মানুষেরা মুক্তি লাভ করবে। বিপ্লবের দর্শন  ছড়িয়ে দেয়ার জন্যে দেশে দেশে বিপ্লবী বাহিনী গঠণ করতে লাগলেন। বন্ধু ফিদেলের আহবানে কিউবার গেরিলা বাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশটিকে মুক্ত করে কিছুদিন সে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যান্কের প্রধান ও শিল্পমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু মন পড়ে থাকে গণমানুষের যুদ্ধের ময়দানে। তাই এক জায়গায় থিতু থাকতে পারেননি। আবার নতুন কোন দেশে বিপ্লবকে ছড়িয়ে দিতে ছুটে যাওয়া। কিউবাকে চির বিদায় জানাবার আগে বন্ধু ফিদেলকে যে চিঠি লিকেছিলেন তার কিছু আংশ এখানে তুলে দিলাম।

” আমি মনে করি আমার এখানকার দায়িত্ব সুসম্পন্ন হয়েছে। কিউবার বিপ্লব আমাকে আঞ্চলিক সীমায় বেঁধে রেখেছে। তাই আমি তোমাকে, কমরেডদেরকে এবং তোমার জনগণকে,যারা এখন আমারও স্বদেশবাসী তাদের সকলকে বিদায় জানাচ্ছি। আমি পার্টি থেকে আনুস্ঠানিক ভাবে পদত্যাগ করছি, আমার মন্ত্রীর পদ, কমান্ডারের পদবী এবং কিউবার নাগরিত্ব ত্যাগ করছি। কিউবার সংগে আমার আর কোন আইনী সম্পে্ক থাকলোনা, শুধু টিকে রইলো সেই বন্ধন যা আনুস্ঠানিক ভাবে কখনই শেষ করা যায়না। অন্যকোন ভুমি, অন্যকোন দেশ আমাকে আহবান করছে দায়িত্ব পালনের জন্যে। সে আহবানে আমি সাড়া দিতে পারি। কিউবার অগ্র নায়কের দায়িত্ব পালনের কারণে তুমি তা পারনা। তাই আমাদের বিচ্ছেদের সময় ঘনিয়ে এসেছে। আমার স্ত্রী ও সন্তানদের জন্যে বস্তুগত কিছুই রেখে যাইনি, সেজন্যে দু:খও নেই। বরং এজন্যে আমি খুশী। ওদের জন্যে আমি কিছুই চাইবোনা। এই মূহূর্তে তোমাকে এবং আমাদের জনগণকে বলার মতো কত কিছুইনা আছে, কিন্তু আমার কাছে তা অপ্রয়োজনীয় মনে হচ্ছে। কারণ আমি যা বলতে চাই শব্দের  আধারে তার প্রকাশ সম্ভব নয়; তাই আরো কিছু পৃষ্ঠা ভরিয়ে তোলা নির্থক।

বিজয়ের পথে অন্তহীন এগিয়ে চলা

স্বদেশভূমি অথবা মৃত্যু

হৃদয়ের সবটুকু বিপ্লবী উত্তাপ ছড়িয়ে তোমাকে

আলিংগন করছি।

চে”

এরপর চে তাঁর ডায়েরীতে লিখেছেন, আমি পছনে ফেলে গেলাম কিউবার বিপ্লবে ফিদেলের পাশে ১১ বছরের কাজ, এক সুখের ঘর— সেই মাত্রায় সুখের একজন যাকে গৃহ বলতে পারে, যেখানে একজন বিপ্লবীকর্মে উত্‍সর্গকৃত জীবন যাপন করে, এবং রেখে গেলাম একগুচ্ছ ছেলে ময়ে যারা আমার ভালবাসার কথা অল্পই জেনেছে। সংগ্রাম অভি্যাত্রায় উপহার স্বরূপ সামান্য দু’টো জিনিষ নিয়েছিলাম। একটি ক্ষত বাঁধার পট্টি– স্ত্রীর কাছ থেকে; অন্যটি মার দেওয়া– পাথর বসানো একটি চাবির রিং। ডায়েরীর আরেক জায়গায় চে লিখেছেন, এখনও যদি আমাদের চারপাশে সাম্রাজ্যবাদের অস্তিত্ব থাকে আমরা আবার বেরিয়ে পড়বো একে প্রতিহত করতে; আর যদি তা শেষ হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে আমরা সবাই মিলে চাঁদে ছুটি কাটাতে যাবো।

বাবা মাকে চে শেষ যে চিঠি লিখেছিলেন তা থেকে সামান্য কিছু এখানে উল্লেখ করছি। ” আবারো চলেছি আমি যুদ্ধক্ষেত্রে। অন্তর্গত কোন কিছুরই পরিবর্তন হয়নি। শুধু আরো বেশী সচেতন হয়েছি। আমার মার্কসবাদ আরও দৃঢমূল ও নীতিঋদ্ধ হয়েছে। স্বাধীনতার জন্যে লড়াই করে যে জনগণ,সশস্ত্র সংগ্রামই তাদের মুক্তির একমাত্র পথ। এ আমার দৃঢ বিশ্বাস এবং এই বিশ্বাসে আমি অবিচল রয়েছি। অনেকে আমাকে বলবে স্বপ্নচারী, হাঁ আমি তাই। তবে একটু ভিন্ন ধরণের। আমি তাদের দলে যারা সত্যের প্রতি  অংগীকার রক্ষায় জীবন উত্‍সর্গ করে।

দেখো, এটিই হতে পারে আমার চুড়ান্ত বার্তা। যদিও এমনটি আমি প্রত্যাশা করিনা, তবে যৌক্তিক হিসাব নিকাশের মধ্যে এ সম্ভাবনা তো রয়েছেই। আর তা যদি ঘটেই তবে তোমাদেরকে এই আমার অন্তিম আলিংগন। সেলিয়া , রবার্তো, জুয়ান মার্তিন, পাতোতিন, বিয়াত্রিজ এবং অনা সকলকে আমার চুমো দিয়ো। আর তোমাদের জন্যে এই বাউন্ডেলে একগুঁয়ে ছেলের পক্ষ থেকে থাকলো উষ্ণ আলিংগন।

নিজেদের মানে বিপ্লবী সম্পর্কে বলতে গিয়ে চে বলেছেন, আমাদের সম্পর্কে যদি বলা হয় ,আমরা একটু বেশী রোমান্টিক, আমরা গোঁড়া আদর্শবাদী, আমরা অসম্ভবের ভাবনা ভাবি, তাহলে এক হাজার একবার স্বীকার করবো, হাঁ, আমরা তাই।

মহান বিপ্লবী সাম্রাজ্যবাদের এক নম্বর শত্রু চে সম্পর্কে এই  ছোট্ট পরিসরে বলে শেষ করা যাবেনা। এমন একজন বিপ্লবী এ জগতে আর জন্ম নিবে কিনা বলতে পারিনা। কিন্তু হৃদয় বলে, হে বিপ্লবর সন্তানেরা বার বার এ পৃথিবীর বুকে নেমে আসো। মজলুমদের জালেমের হাত থেকে রক্ষা করো। মজলুমের তখত তাউসকে জ্বালিয়ে ছারখার করো। জগতের সকল জালেমই মানবতার শত্রু, শান্তির শত্রু। আমাদের এই গ্রহের ৭শ’কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় অর্ধেক মানুষই খেতে পায়না। তাদের থাকার জায়গা নেই। তাদের সন্তানেরা শিক্ষা পায়না। একদিকে চরম দারিদ্র ও অশিক্ষা অন্যদিকে ভয়াবহ যুদ্ধ, অস্ত্রের ঝনঝনানি।  কথায় কথায় পরদেশ আক্রমন করা। এমনি এক সময়ে আমি  চে   সক্রেটিস  যিশু আর ওসামা বিন লাদেনের কথা স্মরণ করছি। এই চারজনকে রাস্ট্র বা  জালেম শাসকরা হত্যা করেছে। এরা সবাই মানব জাতির মুক্তির জন্যে নিজেদের জীবন দান করেছেন। বলিভিয়ার গণমানুষের মুক্তির জন্যে সশস্ত্র বিপ্লবে কালে সিআইয়ের ঘাতকরা চে’কে গ্রেফতার এবং গুলি করে হত্যা করে। ১৯৬৭ সালের ৭ই অক্টোবর তাঁর আরও ছয় বন্ধু সহ গ্রেফতার করে বলিভীয় সেনাবাহিনীর হাতে। ৯ই অক্টোবর তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়  হিগুয়েরা শহরে। এখানে সিআইএর এজেন্ট ও  দেশত্যাগী কয়েকজন কিউবান চে’কে জেরা করে। চে’কে হত্যা করার জন্যে বলিভিয় সরকারের হাই কমান্ড থেকে নির্ডেশ আসে। ৯ই অক্টোবর বেলা  ১টার দিকে চে’কে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর পরে মৃত চে’র হাত কেটে ফেলা হয় ও চেহারাকে বিকৃত করা  হয়। বিকৃত ও খন্ডিত দেহাংশের ছবি তুলে ঘাতকরা দেয়ালে লাগিয়ে দিয়েছিল।  চে’র লাশ কাউকে দেখানো হয়নি। বরং বলা হয়েছে লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। মৃত্যুর ৩০ বছর বলিভিয়ার ভ্যালেগ্রান্ডের কাছে একটি কবরে চে’র দেহাবশেষের খোঁজ পাওয়া যায়। ওই দেহাবশেষ কিউবায় ফিরিয়ে আনা হয় এবং সান্তা ক্লারার স্বাধীনা চত্বরে তাঁর সম্মানে নির্মিত সমাধিতে সংরক্ষণ করা হয়। কিউবার বিপ্লবী যুদ্ধে চে এই নগরীতে বিপ্লবের প্রথম বিজয় কেতন উড়িয়েছিলেন।

আমি যিশু নই, লোকহিতৈষীও নই। আমি যিশুর সম্পূর্ন বিপরীত। আমার বিশ্বাসের জন্যে আমি যে কোন অস্ত্র হাতে লড়াই করি। নিজেকে ক্রুশ বিদ্ধ হতে কিংবা শত্রুর হাতে  তুলে না দিয়ে আমি শত্রুকে ধ্বংস করি। এই ছিল নিজের সম্পর্কে চে’র ঘোষণা।

২০১১ সালের মে মাসের ২ তারিখে আমেরিকার সিআইএ ও নৌসেনারা ইসলামী বিপ্লবের গেরিলা  ওসামা বিন লাদেনকে পাকিস্তানের এবোটাবাদের একটি বাড়ি থেকে নিরস্ত্র অবস্থায় আটক করে ও হত্যা করে। যদিও আমেরিকার তাবেদার ও সমর্থক রাস্ট্র  আর সরকারগুলো ওসামাকে একজন ভয়ংকর সন্ত্রাসী হিসাবে চিহ্ণিত করে বিশ্বব্যাপী প্রচার করেছে। আমেরিকা ওসামার লাশ কাউকে দেখায়নি। লাশ দাফনও করেনি। এমন কি তারা ছবি দেখাতেও রাজী হয়নি। বরং ওসামাকে হত্যা করে পৃথিবীর ভয়ংকর রাস্ট্র আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেছেন, ন্যায় বিচার সম্পন্ন হয়েছে। শুরুতেইতো বলেছি, তথকথিত ন্যায় বিচারের কথা বলেই সক্রেটিস ঈসানবী  চে গুয়েভারাকে হত্যা  করে আনন্দ প্রকাশ করেছে  তত্‍কালীন শাসকরা। কিন্তু মানুষের হৃদয়ে বেঁচে  আছে মানুষেরই প্রতিনিধিরা। চে’ এবং ওসামা ছিলেন একটি আদর্শের প্রতীক। সে আদর্শ সবার পছন্দ হবে এমনটি কেউ দাবী করেনা। চে’ এবং ওসামা উভয়ই ছিলেন বিপ্লবী এবং মার্কিন সাম্রজ্যবাদের শত্রু। দু’জনকেই হত্যা করেছে মার্কিনীরা। দু’জেরই অপরাধ গণমানুষের পক্ষে বিপ্লব করতে চেয়েছিলেন। দুজনই উচ্চ শিক্ষিত। একজন ডাক্তার,আরেকজন ইঞ্জিনিয়ার। একজন ধনীর  ছেলে, আরেকজন মধ্যবিত্ত শিক্ষিত পরিশীলিত পারবারের  ছেলে। একজন ছিলেন মার্কসবাদী, আরেকজন ইসলামিস্ট।

চে’ আজীবনই মার্কিনীদের শত্রু ছিলেন। ওসামা কিছুদিন আমেরিকানদের বন্ধু ছিলেন। ধনীর ছেলে হিসাবে আমেরিকান ক্ষমতাধরদের সাথে ওসামার বন্ধুত্ব ছিল। ওসামা এবং মার্কিনীরা আফগানিস্তানে রাশিয়ার বিরুদ্ধে একসাথে যুদ্ধ করেছে। আমি বলবো, কৌশলগত দিক থেকে এটা ছিল ওসামার ভুল। আমেরিকান বা পশ্চিমা শাসকরা কখনই ইসলামের বন্ধু ছিলনা। তারা কখনই নিপীড়িত মানুষের পক্ষে ছিলনা। তারা উলংগ পুঁজিবাদের পূজারী। পূঁজিবাদই তাদের ঈশ্বর। ইসলাম কখনই পুঁজিবাদকে সমর্থন করেনা। ইসলাম দারিদ্রকে ঘৃণা করে। আল্লাহর রাসুল(সা) বলেন, দারিদ্র মানুষের ঈমান নস্ট করে। ক্ষুধার্ত মানুষের এবাদত হয়না। রাসুলের ইসলাম জগতে আজও প্রতিস্ঠিত হয়নি বলেই একদিকে এটমবোমার মিছিল, অন্যদিকে নিরক্ষর ক্ষুধার্থ মানুষের হাহাকার। এমন একটি পৃথিবী আল্লাহর রাসুল কখনই চাননি। চলমান বিশ্বে যিশু মুহাম্মদ(সা) ও ভগবান বুদ্ধের সমর্থকের সংখ্যা প্রায় পাঁচশ’ কোটির মতো। যদি তারা সকলেই তাদের পথ প্রদর্শকদের সত্যিকারে ভালবাসেন বা মান্য করেন তাহলে জগতের মানুষ এত নির্যাতিত ও নিষ্পেশিত হতোনা। এর মানে হচ্ছে তারা কেউই খাঁটি ঈমানদার নয়, নিজ নিজ আদর্শের প্রতি বিশ্বস্ত নয়। আস্থাহীন অবিশ্বাসী মানুষেরা জালেমের দোসর। তাই জালেমরা জগতকে দখল করে নিয়েছে।

ইসলাম বিরোধী রাজতন্ত্র ও বাদশাহীর বিরুদ্ধে বলেই ওসামা নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছেন। ভিনদেশের গোপন আস্তানায় থেকে তিনি শত্রুর হাতে নিহত হয়েছেন অপর এক মুসলমান দেশে। চে’ও নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন। তিনিও নিহত হয়েছেন ভিনদেশে। যদিও চে’   কিউবাকে মুক্ত করে সে দেশের নেতা ও মন্ত্রী হয়েছিলেন। তারপর আবার বিপ্লবের তাগিদে বেরিয়ে পড়েছিলেন। ওসামাও তাঁর বিপ্লবের বাণী জগতব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। ঘোষণা দিয়েছিলেন ইসলাম  মানবতা ও জগতব্যাপী নির্যাতিত মানুষের  প্রধান শত্রু মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালালরা। সাম্রাজ্যবাদী মিডিয়ার কারণে ওসামা পৃথিবীর ভয়ংকর সন্ত্রাসী হিসাবে বহুল প্রচারিত। পশ্চিমা শাসকরা মনে করেন ওসামা বিভ্রান্ত ছিলেন এবং ইসলামকে ভুল ব্যাখ্যা করেছে। তিনি বহু যুবককে বিভ্রান্ত করেছেন। আমেরিকার শাসক গোস্ঠী ওসামার বিরুদ্ধে টুইন টাওয়ার ধ্বংস সহ হাজার হাজার নিরী্হ মানুষকে হত্যা করার অভিযোগ করেছে। কিন্তু এই অভিযোগটি এখনও প্রমানিত হয়নি। খোদ আমেরিকাতেই এ ব্যাপারে নানা মত রয়েছে। ইরাকে গণ বিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ করে ইরাক আক্রমন করেছে এবং লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে। সাদ্দামকে ফাঁসী দিয়েছে। তার পরিবারকে ধ্বংস করেছে। আফগানিস্তান আক্রমন করে সে দেশটাকে লন্ডভন্ড করেছে।

ওসামা নিজেই বলেছেন, তিনি একজন ধনী পরিবারের ছেলে।  ইচ্ছা করলে পশ্চিমা যে কোন দেশে বসবাস করে বিলাস বহুল জীবন যাপন করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। বরং স্বেচ্ছায় বেছে নিয়েছেন একটি অনিশ্চিত জীবন। গুহায় গুহায় পালিয়ে থেকে শত্রুর হাত থেকে জীবন রক্ষা করা। প্রশ্ন হলো কেন এমন একটি জীবন বেছে নিয়েছিলেন। এটা কি কোন পাগলামো? না রোমান্টিসিজম? এ নিয়ে সারা বিশ্বের লেখকরা লিখবেন। ওসামাকে নিয়ে এখনও লেখালেখি চলছে। ক্যাস্ট্রো বলেছেন, ওসামার মৃত্যু আমেরিকার নিরাপত্তা  নিশ্চিত করেনি। বরং বাড়িয়েছে। ক্যাস্ট্রো আরও বলেছেন, আমেরিকা কিউবান দ্বীপ গুয়ান্তোনামো দখল করে সেখানে গোপন কারাগার তৈরী করেছে। পৃথিবীর বহুদেশ আমেরিকার গোপন কারাগার রয়েছে। কোন বিচার ছাড়াই তারা  কমিউনিস্ট বা জংগী নাম দিয়ে মানুষ হত্যা করে। বিগত ৬০ বছরে বিশ্বব্যাপী কমিউনিজম আর ইসলামকে প্রতিহত করার নামে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে। ( দৈনিক আমার দেশ, ২৭ মে, ২০১১ )

লেকক; কবি সাংবাদিক ও ঔপন্যাসিক

ershadmz40@yahoo.com

Read Full Post »


ভারত গায়ের জোরে কখনই আন্তর্জাতিক নদী আইন মানেনা / এরশাদ মজুমদার

বাংলাদেশের নদী গুলোর বেশীর ভাগেরই উত্‍পত্তি স্থল হচ্ছে ভারতের হিমালয়। আর এ কারণেই প্রায় সব নদীই আন্ত্রজাতিক নদী হিসাবে পরিচিত। যদিও ভারত এসবের কোন তোয়াক্কা করেনা। সব নদীর সাথে প্রতিবেশী বাংলাদেশ ভারত চীন ও নেপালের সম্পর্ক রয়েছে।প্রতিবেশীদের সাথে কোন প্রকার আলাপ আলোচনা ছাড়াই ভারত নদী গুলোতে বাঁধ দেয় ও এক তরফা ভাবে পানি প্রত্যাহার করে। এ বিষয়ে চীন ও পাকিস্তানের অবস্থা অন্যান্য প্রতিবেশীর তুলনায় শক্তিশালী। সিন্ধু নদের সমস্যা পাকিস্তান ও ভারত বহু আগেই সমাধা করেছে। বিশ্বব্যান্ক তারবেলা ড্যাম তৈরী করার ব্যাপারে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। সিন্ধুর মতো আরও অনেক আন্তর্জাতিক নদী রয়েছে ভারত পাকিস্তান নেপাল ও বাংলাদেশের মধ্যে। এসব নদীর কোন সমস্যাই ভারত সমাধা করতে চায়না। বরং প্রতিবেশীর অধিকারকে অবজ্ঞা ও অবহেলা করে একক সিদ্ধান্তে নানা ধরনের বাঁধ দিচ্ছে ও পানি তুলে নিচ্ছে। চীন ছাড়া প্রতিবেশী আর কোনদেশকে ভারত পাত্তা দিতে চায়না। ভারতের হাবভাব দেখে মনে হয়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা দিয়েছিল এই আশায় যে সকল দিক থেকে স্বাধীন দেশটাকে শোষন করতে পারবে। পাকিস্তান আমলে ভারত ফারাক্কা বাঁধ দিতে চেয়েছিল,কিন্তু পাকিস্তানের শক্তিশালী বিরোধিতার মুখে বাঁধের কাজ বন্ধ রেখেছিল। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার সাথে সাথেই ভারত ফারাক্কা বাঁধের কাজ শুরু করে এবং কাজটি বংগবন্ধুর আমলে শেষ করেই চালু করে। বংগবন্ধুর সরকার এতে প্রতিবাদ করলেও ভারত তাতে কান দেয়নি। কারণ বাংলাদেশ তাদের বন্ধুদেশ, যেমন নেপাল ও ভুটান বন্ধু। পরে বংগবন্ধু অনেক দর কষাকষি ও দেন দরবার করে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন ইন্দিরা গান্ধীর সাথে। ভারত  চুক্তির শর্ত গুলো কখনই মানতে চায়নি এবং কখনই মানেনি। একই ভাবে বংগবন্ধু সরল বিশ্বাসে চুক্তি মোতাবেক ভারতকে বেরুবাড়ী হস্তান্তর করেন। কিন্তু ভারত আজও আজও আংগরপোতা দহগ্রাম ও তিনবিঘা হস্তান্তর করেনি। ভারত কেমন প্রতিবেশী তা আমাদের চেয়ে অনেক বেশী জানে চীন ও পাকিস্তান। চীনের সাথে ভারতের ব্যাপক সীমান্ত সমস্যা রয়েছে। চীন ভারতের দখলে থাকা অনেক অঞ্চলের দাবীদার। সে সব এললাকাকে চীন বিতর্কিত এলাকা হিসাবে তাদের ম্যাপে দেখাচ্ছে। এমন কি গোটা অরুনাচল রাজ্যটাই চীন দাবী করছে। ভারত জোর করে আমাদের তালপট্টি দখল করে রেখেছে এখন তাদের নেভী দিয়ে  এলাকাতে টহলদারী করছে। এখনতো  বাংলাদেশ সরকার ভারতের পরম বন্ধু। জনগন আশা করেছিল ভারতের সাথে বিরাজমান নদী ও সীমান্ত সমস্যা গুলো খুব সহজেই মিটে যাবে। কিন্তু মিটছেনা, কারণ ভারত মনে করে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে তারা। ফলে কিছু সুযোগ সুবিধাতো ভারত নিতেই পারে। ভারতের পরম বন্ধু  আওয়ামী লীগ সরকার ইতোমধ্যেই বহু সুযোগ দিয়েছে, যা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্যে হুমকি বলে দেশবাসী মনে করে।

১৯৭৬ সাথে রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ফারাক্কা ইস্যু জাতিসংঘে উত্থাপিত করেন। তারই রেশ ধরে  ৭৬ সালের ১৬ই মে মজলুম জননেতা ফারাক্কা বাঁধ ভেংগে দেয়ার দাবীতে লং মার্চের ডাক দেন। মাওলানা সাহেবের লং মার্চের দাবী সারা দেশে ব্যাপক সাড়া পড়ে। নির্ধারিত দিনে রাজশাহীতে  জমায়েত হওয়ার জন্যেও তিনি আহবান জানান। সারাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিভিন্ন স্তরের মানুষ রাজশাহীর পথে রওয়ানা দেয়।  ১৬ই মে সকালের দিকে  রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দানের বিরাট জনসভায় জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। মাওলানা সাহেবের লং মার্চের যাত্রাকে শান্তিপূর্ণ ও সু শৃংখল রাখার জন্যে  প্রেসিডেন্ট জিয়া নৌ বাহিনী প্রধান এডমিরাল এম আর খানকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। দুই দেশের মধ্যে প্রচন্ড টেনশন চলছিলো। দিল্লী থেকে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী মাওলানা সাহেবকে ম্যাসেজ পাঠাচ্ছেন তিনি যেন সীমান্ত অতিক্রম না করেন। তবুও ভারত সীমান্তে ব্যাপক প্রস্তুতি ছিল। উত্তেজিত জনতা যদি কোন কারণে সীমানা লংঘন করে ফেলে তখন কি হবে। বাংলাদেশের সরকারও এ ব্যাপারে  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছিলেন। কোথাও যেন কোনরূপ বিশৃংখলা দেখা না দেয়। মাওলানা সাহেবের সাথে দুই সরকারেরই যোগাযোগ চলছে। এ রকম লং মার্চ মাওলানা সাহেবের জীবনে আর হয়নি। উভয় সরকারেরই চিন্তা যদি মাওলানা সাহেব উত্তেজিত ও ক্ষুব্দ জনতাকে তাঁর নিয়ন্ত্রনে রাখতে না পারেন তখন কি হবে। লং মার্চের যাত্রা বিরতি হয়েছিল চাপাই নবাবগঞ্জে। তখন আমের দিন ছিল। এলাকার মানুষ লং মার্চে অংশ গ্রহনকারী মানুষের জন্যে টনে টনে আম নিয়ে এসেছিলেন। যাত্রা বিরতি ও  বিশ্রাম  শেষে লং মার্চ ফারাক্কা অভিমুখে আবার  যাত্রা শুরু করে। প্রায় ১০০ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত লং মার্চ  সীমান্ত থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে কানসাটে গিয়ে থামে। মতিলাল নেহেরু ছিলেন মাওলানা সাহেবের বন্ধু। সেই সুবাদে নেহেরু পরিবার মাওলানা সাহেবকে ব্যক্তিগত  ভাবে সম্মান করতো। নেহেরু পরিবারের সাথে পাকিস্তানের সীমান্ত গান্ধী গাফফার খানের পরিবারের সাথেও অমন সম্পর্ক ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে দিল্লী সরকার মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানীকে গৃহবন্দী করে রেখেছিল বলে লোকমুখে প্রচার রয়েছে। দিল্লী সরকারের আশংকা ছিল মাওলানা সাহেব মুুক্ত থাকলে কখন কি করে বসেন তার ঠিক নেই। যদিও সে সময়ে মাওলানা সাহেব সর্বদলীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন।তবে গৃহবন্দী অবস্থাতেও মাওলানা সাহেব মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে বিবৃতি দিয়ে বিশ্ববাসীর সমর্থনের আহবান জানিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর পরই দিল্লী সরকার নানা ভাবে বাংলাদেশের প্রভাব বিস্তার করে উঠে পড়ে লাগে। এ ব্যাপারে  বংগবন্ধু সব সময়ে মাওলানা সাহেবের সাথে আলোচনা করতেন। ডিপি ধর  ৭৩-৭৪ সালের দিকে  কোন ধরনের প্রটোকল না মেনে যখন তখন ঢাকায় চলে আসতো। মাওলানা সাহেব ভারত বিরোধী আন্দোলন শুরু করলে দিল্লীর কিছুটা হুঁশ হয়। মাওলানা সাহেবের চাপের কারণেই ভারত শেষ পর্যন্ত ফারাক্কা চুক্তি করতে বাধা হয়। যদিও শেখ সাহেব ভারতীয় কূট চালের মুখে তেমন সুবিধা করতে পারেননি। আজ বাংলাদেশের রাজনীতি ও চিন্তার জগত বিভক্ত। ভারতের নদী নীতি ও ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশের পরিবেশকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই দেশের বড় বড় নদী গুলো শুকোতে শুরু করেছে। ভারত বিভিন্ন নদীতে শত শত বাঁধ তৈরি করেছে বাংলাদেশের সাথে কোন প্রকার আলোচনার তোয়াক্কা না করে। ভারত আন্তর্জাতিক নদী ও পানি লংঘন করেই বাঁধ দিচ্ছে ও পানি প্রত্যাহার করছে। ৪৪ বছর পার হতে চলেছে বাংলাদেশ কখনই কোন ধরণের শক্ত পদক্ষেপ বা অবস্থান নিতে পারেনি। আজ আমাদের কোন অবিসংবাদিত জাতীয় নেতা নেই। যিনি মাওলানা ভাসানীর মতো খামোশ বলে আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে তুলবেন। সকল প্রকার জাতীয় ইস্যুতেও জাতি ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনা। আগেই বলেছি জাতি আজ বিভক্ত। দলীয় স্বার্থের বাইরে কেউই কথা বলতে চান না। সবচেয়ে বেদনা ও দু:খের বিষয় হলো দেশের বুদ্ধিজীবী যারা নিজেদের জাতির বিবেক মনে করেন তারাও আজ দলীয় চিন্তার বাইরে কথা বলতে পারেন না। বরং পরিস্থিতি এখন উল্টো দিকে বইতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী দিল্লী গিয়ে পদ্মভূষণ সম্মাননা গ্রহন করছেন যা আমাদের সংবিধান জাতীয় চেতনা বিরোধী।দেশে বেশ কিছু বুদ্ধিজীবী বলে পরিচিত লোক আছে যারা বাংলাদেশে কিছু ঘটলেই ভারতে গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করে। এরা ভারতের অর্থে লালিত ও পালিত। এরা ভারতের হয়ে কাজ করে। এরাই সব সময় শেখ হাসিনার কাঁধে ভর করে আছে। অনেকদিন পর শুনতে পেলাম, পানিমন্ত্রী বলেছেন ,ভারত যদি নদী সমস্যা সমাধা না করে তাহলে বাংলাদেশ আদালতে যাবে। ২০০৭ সালেই বাংলাদেশের কপাল পুড়েছে। জেনারেল মইনের ক্ষমতা দখলের মাধ্যমেই ভারত এখন বাংলাদেশ রাস্ট্রের বাসর ও পাক ঘরে ঢুকে পড়েছে। ২০০৮ সালের অবৈধ নির্বাচন করে ভারতীয় এজেন্ট জেনারেল মইন শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসিয়ে যায়। খালেদা জিয়ার দুই ছেলেকে আটকে রেখে তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করে। এখনতো কথাবার্তা , আকার ইংগিতে মনে হয় ভারতের হাই কমিশনার বাংলাদেশ একজন রাজ্যপাল। সোজা কথায় বলা যেতে পারে এমন কোন গোপন রহস্য আছে যা শুধু শেখ হাসিনাই জানেন যার জন্যে ভারত জোর করেই সবকিছু আদায় করতে চায়। কোন অজানা কারণে হাসিনা বাধ্য হয়ে ভারতের দাবী মেনে নিচ্ছে। অনেকেই বলছেন , ভারত হাসিনাকে ব্ল্যাকমেইল করছে। উল্লেখ্য যে ৭৫ থেকে ৮০ সালের মে মাস নাগাদ শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবার ভারতের আশ্রয়ে ছিলেন। তিনি দেশের ফিরে আসার অল্প কিছুদিন পরেই জিয়াউর রহমান সাহেব নিহত হন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখানে উল্লেখ করা দরকার যে, ভারত থেকে আগত মোহাজের পরিবারের সন্তান জেনারেল এরশাদ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানে ছিলেন। ৭৩ সালে পাকিস্তান থেকে ফিরে এলেই বংগবন্ধু অদৃশ্য শক্তির নির্দেশে তত্‍কালীন কর্ণেল এরশাদকে উচ্চতর প্রশিক্ষণের নামে ভারতে পাঠিয়ে দেন। তখনি এরশাদ দিল্লীর নজরে পড়েন এবং আগামী দিনের জন্যে আস্থা অর্জন করেন। জিয়া সাহেব ও এরশাদকে সেনাপ্রধান করে ভুল করেছেন। যেমন খালেদা জিয়া জেনারেল নাসিম ও জেনারেল মইনকে সেনাপ্রধান করে নিজের সর্বনাশ ডেকে এনেছিলেন। তখন রাস্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস খালেদা জিয়াকে রক্ষা করেছিলেন। কিন্তু ইয়াজ উদ্দিন সাহেব সে কাজটি করতে পারেন নি। নাসিমের সময় ভারত আ্ঁটঘাট বেধে নামেনি, কিন্তু জেনারেল মইন ষোলয়ানাই তাদের লোক ছিল। দুর্ভাগ্য খালেদা জিয়া জেনারেল মইনকে চিনতে পারেননি। যেমন জিয়া সাহেব জেনারেল এরশাদকে চিনতে পারেননি। বংগবন্ধুও একই ভুল করেছিলেন। তিনি দুর্বল চিত্তের লোক জেনারেল সফিউল্লাহকে সেনা প্রধান করেছিলেন।
এমন সময় ফারাক্কা দিবস আমাদের সামনে এসেছে যখন দেশ একটি কঠিণ সময়ের ভিতর দিয়ে এগিয়ে চলেছে। নারায়নগঞ্জের সাত খুন সারাদেশকে অশান্ত করে তুলেছে। প্রতিদিন মানুষ খুন ও গুম হচ্ছে। নিরাপত্তার প্রশ্নে দেশবাসী সরকারের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। রাজনৈতিক দল গুলো স্বাধীন ভাবে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারছেনা। সরকার বিরোধী দলকে পংগু করে রাখতে চায়। জামাতকে নিশ্চিন্ন করার স্কিম নিয়েই সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। বিএনপির নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা। তারা ঘর ছাড়া, এলাকা ছাড়া। অনেকেই দেশ ছেড়ে চলে গেছে। সরকার ভারতের পরামর্শে জোর করে আমলা, পুলিশ, রেব ও বিজিবির সহায়তায় ৫ই জানুয়ারীর অবৈধ নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। বিদেশীরা বলছেন ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচন আইন রক্ষা করেছে কিন্তু নৈতিকতা ও গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। এখন বলছে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকবে। আমলাদের কাছে সরকারের দায় অনেক বেড়ে গেছে। জগতের সকল স্বৈরাচারী সরকার জন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে বাহিনী নির্ভর হয়ে পড়ে।
কানসাট থেকে মাওলানা সাহেব কৌশলগত কারণে সীমান্তের দিকে আর এগিয়ে যাননি। ফলে দুই দেশের সরকারই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে। কানসাটে মাওলানা সাহেব এক বিরাট জনসভায় ভাষণ দেন। সেই ভাষণের মূল বিষয় ছিল ভারতের আধিপত্যবাদ সম্পর্কে জনগণকে সজাগ ও সচেতন করা। জনগণকে ভারতের চরিত্র সম্পর্কে দেশবাসীকে অবহিত করা। কিন্তু এমন কাজটি করার জন্যে বাংলাদেশে আজ একজন নেতাও নেই। শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী নেতা ছিলেন বংগবন্ধু ও শহীদ জিয়া। দুজনই নিহত হয়েছেন আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কারণে। দুজনই ছিলেন বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্নে আপোষহীন।
শুধু ফারাক্কা কেন ভারত ইতোমধ্যে আরও বাঁধ তৈরি করেছে। অবিরাম পানি তুলে নিচ্ছে আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে। তিস্তা চুক্তি করবে বলে শেখ হাসিনার সামনে মুলা ঝুলিয়ে রাখছে আর অবিরাম আমাদের দেশের রাস্তাঘাট, নদীনালা সাগর বন্দর, নদী বন্দর দখল করে নিচ্ছে। আরও বেশী বেশী শোষণের জন্যেই ভারত বাংলাদেশে অনুগত দাস মনোভাবাপন্ন সরকার চায়। চলমান সরকার তেমনি একটি সরকার। না হলে নেপাল, ভুটান, সিকিম, কাশ্মীর , মালদ্বীপ ও শ্রীলংকার অবস্থা হবে।

লেখক: কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
http://www.humannewspaper.wordpress.com

Read Full Post »


বিচার বহির্ভুত হত্যা এখন একটি প্রতিদিনের নিয়মিত  বিষয়ে পরিনত হয়েছে বাংলাদেশে।  এইতো ক’দিন আগেই হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিও)  এশিয়া অঞ্চলের নির্বাহী পরিচালক   বাংলাদেশের রেব বন্ধ করে দেয়ার দাবী জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে আমাদের হোম মিনিস্টারের প্রতিক্রিয়া হলো আইন রক্ষা বাহিনী  শুধু মাত্র আক্রান্ত হলেই গুলি করে আত্মরক্ষার্থে। এতে কিছু লোক মারা যায়। এটাকে বিচার বহির্ভূত হত্যা বলা যাবেনা। এ ধরনের বিষয় নিয়ে কিছু লিখতে গেলে বা বলতে গেলে মাথা গুলিয়ে যায়। কোনটা মানবতা বিরোধী আর কোনটা বিচার বহির্ভুত তা নির্ণয় করা চলমান সময়ে খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশতো তৃতীয় বিশ্বের মানে এলডিসি ভুক্ত একটি গরীব দেশ। আমরা দনীদেশ গুলো থেকে ধার করজ করে দিনাতিপাত করি। ধনীদের কথা, নিয়মনীতি, মানবতা, গণতন্ত্র , ধর্ম ইত্যাদি বিষয়ে মান্যগণ্য করতে হয়। ফলে আমরা মুসলমান না ইহুদী তা বিবেচ্য বিষয় নয়। পশ্চিমারা নারীনীতি বানায়,আমরা তাতে দস্তখত দিই। কারণ ওই নারীনীতি বাস্তবায়ন করলে আমরা দুটো পয়সা পাবো। কম নয়, ভাল পয়সাই। মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার করতে হবে ইহুদী ও খৃস্টান ভাইদের পরামর্শে। এমন কি পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার করার জন্যে ভাইজানেরা দাবী তুলেছেন। তাবত দুনিয়ার গরীব মানুষ ও দেশগুলোকে ধনীদেশের ভাইদের  কথা মতো চললে টাকা পয়সা পাওয়া যাবে। ধর্মকর্ম না হয় একটু আধটু ঢিলা হলো। এক সময় দেখেছি আদি ও নতুন পুস্তকের কেতাবী ভাইয়েরা  খাদ্যের বদলে ধর্ম প্রচার করতো। বলতো যিশুর সাথে থাক খাদ্য পাবে সুখ পাবে। তোমার নাম যেমন আছে তেমন থাকবে। কিতাবের নাম ইন্জিল কিতাব। এটাও আল্লাহর কিতাব। কিতাবী ভাইয়েরা এমন চেস্টা অনেক যুগ ধরেই করছেন। কতটুকু সফল হয়েছেন তা জানিনা। তাদের চেস্টা এখনও জারী আছে। পশ্চিমের ধনী দেশগুলো এখন রাস্ট্রকে নানা লোভ দেখিয়ে কাজ হাসিল করতে চায়। তাদের হাতিয়ার হলো মানবতা, গণতন্ত্র,  বিচার ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা। আমাদের শিক্ষামন্ত্রী এক সময় কমিউনিস্ট ছিলেন। এখন ভোটের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন। ভোট পাওয়ার জন্যে নৌকায় উঠে বসেছেন। তিনিই দায়িত্ব পেয়েছেন ৯০ ভাগ মুসলমানের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাবার। আওয়ামী লীগের নৌকায় এখন বহু সেকুলার যাত্রী উঠে বসেছেন। জোর জবরদস্তি করে উঠেননি। প্রধানমন্ত্রী তাদের আদর করে নৌকায় তুলেছেন। বংগবন্ধ এক সময় তাদের সাইনবোর্ড তুলে ফেলতে বলেছেন। শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ সাহেব আবার সেকুলার ভাইদের আত্মার আত্মীয়। সবাই মিলে নৌকায় উঠেছেন আদর্শ বাস্তবায়নের জন্যে। এটা একটা কৌশল মাত্র। সেকুলার ধর্ম( ধর্ম বিরোধী চিন্তা ) ত্যাগ করেননি। সময় সুযোগ  বুঝে নৌকা থেকে লাফিয়ে নেমে যাবেন। যেমন জাহাজ ডুবির সময় ইদুরগণ সবার আগে লাফিয়ে পড়ে আত্মরক্ষার চেস্টা করে। মানবাধিকার নিয়ে ক’দিন আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট আহমদিনিজাদ বলেছেন, পশ্চিমারা বা তাদের নেতা আমেরিকা মানবাধিকারের নামে রাজনীতি করছে। চীন বলেছে, মানবাধিকার  ও গনতন্ত্রের পশ্চিমা ধারনার সাথে চীন একমত নয়। বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের রূপও এক নয়। আমেরিকা ও বন্ধুরা যাকে দূর্বল পায় তাকেই মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের নামে হেনস্থা করতে শুরু করে। আমাদের পাশের দেশ মায়ানমার ও উত্তর কোরিয়া আমেরিকা ও তার বন্ধুদের কথা শুনেনা। তাকে হুমকি ধমকি দিয়েও কিছু করতে পারেনা। মানবাধিকার  গণতন্ত্র নির্বাচন জেন্ডার ইকোয়ালিটি নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলে যেসব দেশ টাকা নেয় তাদের কাঁধেই আমেরিকা , তার বন্ধুরা ও জাতিসংঘ চেপে বসে। বারো মাস সাহেবরা  স্বভাবের অভাবী দেশগুলোতে চষে বেড়ায়। নানা ফরমায়েশ দেয়। সোজা ভাষায় বলে দেয় কথা মত কাজ না করলে টাকা বন্ধ করে দেব। স্বভাবের অভাবী দেশগুলোর নেতারা বিদেশ থেকে টাকা না পেলে নিজেরা বিদেশে টাকা রাখবেন কি করে। ঋণের ও খয়রাতি টাকা আসলেইতো কিছু বিদেশী ব্যান্কে রাখতে পারে। তাই বিদেশীরাও নানা কথা বলে টাকা দেয়। বাংলাদেশেতো বিদেশী টাকা খাওয়ার জন্যে সরকার ছাড়াও আরও বড় বড় এনজিওরা হা করে বসে থাকে। এত বড় বড় এনজিও জগতের আর কোথাও নেই। ব্র্যাক বিশ্বের সবচেয়ে বড় এনজিও। এনজিও নেতারা আবার স্যার উপাধিও পান। তা আবার খবরের কাগজে বড় করে গৌরব হিসাবে ছাপা হয়। বলা হয় তাঁর দাদাও স্যার ছিলেন। এর মানে তিনি খুব মৌরসী খানদান।

এর আগেও আমি হিউম্যান রাইটস বা মানবাধিকার নিয়ে একটি লেখা তৈরী করেছিলাম। যা নয়া দিগন্তে প্রকাশিত হয়েছে। এখন আবার লিখছি হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়ার নির্বাহি পরিচালকের কথা শুনে।  প্রশ্ন হচ্ছে বাংলাদেশে মানবাধিকার বা নাগরিক অধিকার আছে কিনা। থাকলে লংঘিত হওয়ার কথা আসে। আমাকে যদি আপনারা সরাসরি আমাকে প্রশ্ন করেন তাহলে আমি বলবো নাই। তাহলে লংঘনের প্রশ্ন উঠেনা। সংবিধান বা বিভিন্ন দলিল দস্তাবেজে নাগরিক বা মানবাধিকার রক্ষা ও পালনের জন্যে রাস্ট্র অনেক ওয়াদাই করেছে। কিন্তু যাদের অধিকার রক্ষা করা হবে তারাতো অচেতন বা অর্ধচেতন অবস্থায় আছেন। তাঁরা তাঁদের অধিকার সম্পর্কে কিছুই জানেন। যারা জানেন তাঁরা রাস্ট্রের অংশ বা সুবিধাভোগী। আমাদের অধিকারের দলিলের উত্‍পত্তি কোথায়? ৪৭ সালের আগস্টে যখন পাকিস্তান হয় তখন মানবাধিকারের সুত্র কি ছিল? যেমন জমির ব্যাপারে আমরা বায়া দলিল, আর এস, সিএস হাল খতিয়ান খুঁজি তেমনি জনগণের অধিকারেরও দলিল আছে। ইংরেজরা এ দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় কিছু কাগজপত্র দিয়ে গেছে। তার ইংরেজরা যখন ক্ষমতা দখল করে দেশ চালাতে থাকে তারা কিছু নিয়মনীতি ধার করেছিল মোগল শাসন ব্যবস্থা থেকে আর কিছু নিয়ে এসেছিল তাদের দেশ থেকে। পাকিস্তান ভারত বাংলাদেশ তারই উত্তরাধীকার। সোজা কথায় বলতে হয় যাদের নামে রাস্ট্রটা পরিচালিত হয় তারা জানেনা তাদের অধিকার কি?  তারা মনে করে দেশটা জমিদার রাজা বাদশাহরা চালায়। বা পুরাতন রাজা বাদশাহদের মতেই চলে। রাজার নামেইতো রাজনীতি। স্বাধীন সার্বভৌম দেশ প্রতিস্ঠিত হওয়ার পরেতো জননীতি বা গণনীতি তৈরি হয়নি। সবকিছু আগের মতো। যেমন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল। রাস্ট্রপতির ধারণা। এমন কি থানার ওসির অবস্থান সবই রাজা বাদশাহদের জমানা ও ধারণা থেকে এসেছে। জনগণতন্ত্রের দেশেও রাস্ট্র পরিচালনায় মগজের ভিতর পুরাণো ধারণা যোলয়ানাই রয়ে গেছে। শুধু পদের নাম হলো রাজার পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রী বা রাস্ট্রপতি। মনে রাখতে হবে দেশটা  জনতন্ত্র নয়, এটা প্রজাতন্ত্র। রিপাবলিকের অনুবাদ করা হয়েছে প্রজাতন্ত্র। রাজা না থাকলেও প্রজা আছে, রাজনীতি আছে। প্রতি বছরের বাজেট দেখলেই বুঝতে পারবেন, প্রজাতন্ত্রের প্রটোকলে কতশত কোট টাকা ব্যয় হয়। রাজারা ওই প্রটোকল ব্যবহার করতেন এই ভয়ে যে কোন সময় ক্ষুব্দ প্রজা রাজাকে আক্রমন করে বসে।যেমন করে আন্দামান দ্বীপে লর্ড মেয়োকে হত্যা করেছিল  স্বাধীনতা সংগ্রামী শের আলী খান। আপনারা জানেন শুধু ক্ষুদিরামের কথা। এখনও দেখবেন, প্রধানমন্ত্রী বা রাস্ট্রপতি চলাফেরা করার সময় রাস্তার অবস্থা কি হয়। রাস্ট্র থাকলে নাকি এসব লাগে। হয়ত লাগে। এখনতো আর হজরত ওমরের যুগ নেই। তাছাড়া প্রজা বা নাগরিকের মর্যাদাতো প্রধানমন্ত্রীর মতো নয়। যখন মর্যাদা সমান নয় তখন অধিকারও সমান নয়।

আমাদের মন মগজ চেতনায়  এখনও রাজা রাজা খেলা চলছে। তাই রাস্ট্রের কাঠামের ভিতর ওই চেতনা কাজ করে। ফলে রাস্ট্র নাগরিকের তুলনায় অনেক অনেক বড়। রাস্ট্রকে রক্ষা করার জন্যে হাজারো আইন। এজন্যে রাস্ট্রের সার্বভৌমত্ব দরকার। রাস্ট্র রক্ষা করার জন্যে সেনা বাহিনী, পুলিশ, রেব, আনসার সহ নানা ধরনের বাহিনীর দরকার।  রাস্ট্র এবং তার পাইক পেয়াদা বরকন্দাজ, হাতী ঘোড়া আড়ি ও লায় লস্কর চালাতে নাগরিকদের বছরে ৬০/৭০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়। অংকটা বেশী বা কম হতে পারে। রাস্তাঘাট ও কিছু উন্নয়ন কাজ করতে  ৩০/৪০ হাজার কোটি টাকা লাগে। সোজা কথায় হলো পাঁচ টাকার পান দেকান চালাতে ২০ টাকা খরচ। সরকার এবং সরকারী কর্মচারীদের মর্যাদা এজন নাগরিকের চেয়ে অনেক বেশী। যাঁদের বয়স একটু বেশী  তাঁরা দেখেছেন সরকারী চৌকিদার আর জমিদারের পাইকের ক্ষমতা কি। এখনও সবকিছু সে রকমই চলছে। পুলিশ যে কোন সময় একজন নাগরিককে ধরে নিয়ে যেতে পারে। মিথ্যা অভিযোগে থানায় নিয়ে পিটাতে পারে। এমন কি মেরেও ফেলতে পারে। মেরে অভিযোগ করবে মৃত ব্যাক্ত সন্ত্রাসী ছিল। এখনতো পুলিশের সুযোগ আরও বেশী। যে কোন নাগরিককে গুলি করে মেরে  পুলিশ বা রেব বলবে  মৃত ব্যক্তি জংগী ছিল, তার কাছে বোমা ও জেহাদী বই পাওয়া গেছে। জংগী মারতে পারলে আমেরিক অনেক টাকা পয়সা দেয়। এসব ব্যাপারে আমাদের স্বরাস্ট্র মন্ত্রী বলবেন ওরা সন্ত্রাসী ও জংগী। জনগণের শত্রূ। ওদের মারার অধিকার রাস্ট্রের আছে। বিচার এবং হত্যার দুটি অধিকারইতো রাস্ট্রের হাতে আছে। সে ক্ষমতাতো জনগণই দিয়েছে। অপরাধীকে হত্যা বা ফাঁসীর বিধান আমাদের দেশে এখনও আছে। বিদেশে অনেক দেশ রাস্ট্র কতৃক হত্যার বিধান তুলে দিয়েছে।

এইতো দেখুন, ক’দিন আগেইতো আমেরিকা  সকল বিধি বিধান সভ্যতা ভব্যতা লংঘন করে পাকিস্তানে প্রবেশ করে লাদেনকে হত্যার দাবী করেছে । বুক ফুলিয়ে সারা পৃথিবীকে জানান দিয়েছে, আমরা পেরেছি। ন্যায় বিচার করা হয়েছে। আমেরিকার জন্যে এসব তেমন কোন অপরাধ নয়। এর আগে আমেরিকা অন্যদেশের প্রেসিডেন্টকে ধরে এনে জেলে পুরেছে। কিউবার গুয়ান্তনামো দ্বীপ দখল করে সেখানে গোপন কারাগার বানিয়ে বিশ্বের তাবত দেশ থেকে সন্ত্রাসী বা জংগী নাম দিয়ে লোক ধরে এনে আটক করে রাখে। এমন কি যাকে ধরা হয় তার আত্মীয় স্বজন কেউই জানতে পারেনা। যে দেশ থেকে ধরে আনে সে দেশের সরকারও জানতে পারেনা। আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশেতো হর হামেশাই মানুষ গুম হচ্ছে।জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর জেলগেট থেকেই নিখোঁজ হয়ে যায়। রেব ধরে নিয়ে নির্যাতন করে বলে বিষয়টা আমরা জানিনা। নিরপরাধ লিমনকে গুলি করে পংগু করে দিয়েছে। এখন তাকে নিয়ে হাজারো টানাটানি। লিমনরাতো গরীব মানুষ। তারা কি এত টানাটনি সহ্য করতে পারবে। হাজার হলোও রাস্ট্র বনাম একজন গরীব নাগরিক।

আমাদেরকে আগে  বুঝতে হবে রাস্ট্র বড় না নাগরিক বড়, দেশ বড় না মানুষ বড়।তারপরে সিদ্ধা ন্ত নিতে হবে আমরা কোন পথে যাবো। আমরা রাস্ট্রের দাস হবো না রাস্ট্রের মালিক নাগরিক হবো। জানিনা আপনারা কি ভাবছেন। আমি আমার ভাবনার কথা বললাম। আমি মনে করি মানুষ রাস্ট্র বা দেশের চেয়ে অনেক বড়। জগতে মানুষ সার্বভৌম। মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই। রাস্ট্রতো মানুষই তৈরি করেছে, রাজা মহারাজা বাদশাহদের হাত থেকে মুক্তি লাভ করার জন্যে। এখন যদি রাস্ট্র বাদশাহর ভুমিকা পালন করে তাহলে সেই রাস্ট্রের প্রয়োজন কি। রা্ট্র আর নাগরিকের বৈরিতা কোথায়? বৈরিতা হচ্ছে ক্ষমতার। রাস্ট্রের নেতারা আইন বানান এবং রাস্ট্রের নিরাপত্তার  ক্ষমতার কথা বলে নাগরিকদের দিন দিন ক্ষমতাহীন করে ফেলে। এক সময় রাস্ট্র সীমাহীন ক্ষমতার অধিকারী হয়ে নাগরিক নির্যাতনের পথ বেছে নেয়। তখনি বিদ্রোহ বিপ্লবের কথা আসে। আমেরিকার রাস্ট্র পিতারা সংবিধান তৈরির পর দেখলেন রাস্ট্র অসীম ক্ষমতাধর রাক্ষসে পরিণত হয়েছে। তখনি তারা নাগরিক অধিকার সনদ ঘোষণা করলেন। সেই সনদ আমেরিকার নাগরিকদের রাস্ট্রের অত্যাচার ও নির্যাতন থেকে রক্ষা করার সনদ। তবুও আমেরিকার নাগরিকদের সব অধিকার ও ক্ষমতা রক্ষিত হয়নি। এখনও সেখানে লাখ লাখ মানুষ ফুটপাতে থাকে। লাক লাখ মানুষ বেকার। বহু মানুষ খেতে পায়না। সেই আমেরিকা বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ করে বেড়াচ্ছে। আমরা ইতিহাসে বহু অত্যাচারী শাসকের কথা শুনেছি, তারা এখন নাই। চলমান সময়ে বহু বহু নির্বাচিত বা অনির্বাচিত সিভিল বা মিলিটারী ডিক্টেটরের কথা শুনেছি। তাদের অনেকের পতন হয়েছে। অনেকেই পতনের পথে। মানুষই একনায়কদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং জীবন দিচ্ছে।

এবার আমি আমার নিত্য পঠনীয় পবিত্র পুস্তক বা কিতাবের দিকে একটু নজর দিতে চাই। সেখানে আপনারা ফেরাউন নমরুদ সাদ্দাদের কথা শুনেছেন। তাদের করণ পতনের কথাও আপনারা জেনেছেন কোরাণের মাধ্যমে। ওই কোরাণেই বিভিন্ন জাতির পতনের কথাও পড়েছেন। কি কারণে পতন হয়েছে তাও কোরাণে বর্ণিত হয়েছে। মানবতা বিরোধী অত্যাচারীদের সম্পর্কে কোরাণে বহু আয়াত আছে। এসব সেকাল একালের বিষয় নয়। ওই বাণীগুলো চিরন্তন। ওগুলো আজকের সময়ের অত্যাচারীদের বুঝাবার জন্যে বলা হয়েছে। মজলুম(নির্যাতিত) আর জালেম(নির্যাতনকারী) সম্পর্কেও কোরাণ বহু হুঁশিয়ারী দিয়েছে। বলা হয়েছে মজলুমের আর্তনাদে আল্লাহপাকের আরশ কেঁপে উঠে। মজলুমের চোখের পানিতে জাহান্নামের আগুন নিভে যায়।  কিয়ামতের মাঠে আল্লাহপাক মজলুমদের সাথে থাকবেন। আসহাবে কাহাফের কুকুর সম্মানিত হয়েছে সংগগুনের কারণে। আর নুহনবীর(আ) সন্তান ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে সংগ দোষের কারণে। সরল ও সঠিক পথ আল্লাতায়ালা মানুষকে দেখিয়ে দিয়েছেন।  রাস্ট্র এবং সরকার যদি বিশ্বাস করে  জুলুমের জন্যে একদিন বিচার হবে তাহলে কেউই আল্লাহপাকের সৃস্টির উপর অত্যাচার করতোনা। বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমান। দেশে লাখ লাখ মসজিদ মক্তব মাদ্রাসা আছে। রাস্ট্রের কর্মচারী ও মন্ত্রীদের ৯৫ ভাগ মুসলমান। এমনি একটি দেশে সংবিধানে ধর্ম বিষয় নিয়ে টানাটানি হচ্ছে। পশ্চিমাদের প্রভাবে এবং দেশের নাম মাত্র কিছু লোকের কথায় সরকার সেকুলার হওয়ার চেস্টায় বিভোর। মুসলমানদের জন্যে এ জগতে ও পর জগতে আল্লাহপাক সার্বভৌম। কিন্তু আমাদের সংবিধানে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব মানা হয়না। এখানে সংসদ সার্বভৌম। রাজনৈতিক দলগুলো মুখে বলে, কোরাণ ও সুন্নাহ বিরোধী আইন পাশ করবোনা। কাগজে কলমে দিনরাত আল্লাহ ও কোরাণের বিরুদ্ধে লেগে আছে। সুরন্জিত বাবু হাঁসতে হাঁসতে দাঁত বের করে বলেন, মুসলমানদের সবকিছু দেয়া হয়েছে। এটা এ জাতির ভাগ্য, সেকুলার সুরন্জিত বাবু মুসলমানদের জন্যে সংবিধান রচনার দায়িত্ব পেয়েছেন।

চলমান আওয়ামী লীগ ( মুসলীম লীগের বংশধর) সরকার ৯০ ভাগ মুসলমানের ভোট নিয়ে এখন ধর্ম নিরপেক্ষ হওয়ার চেস্টা করছেন। পৃথিবীর সব দেশেই মাইনরিটিরা ধর্ম নিরপেক্ষতার নীতি চায়। তাতে সুবিধা হয়। বাংলাদেশেও তাই। ধর্ম নিরপেক্ষ ভারতে মাইকে আজান দেওয়া যায়না। ঈদুল আযহার দিনে প্রকাশ্যে গরু কোরবানী দেওয়া যায়না। এমন কি বৃটিশ আমলে বাংলাদেশের বহু এলাকায় গরু কোরবানী দেওয়া যেতনা। সরকার সংসদে ২৬৩ সিটের জোরে এসব কাজ করছেন। মাঝে মাঝে আদালতকেও ব্যবহার করছেন। প্রসংগত এসব কথা বললাম। আমাদের রাস্ট্রের কোন দর্শন এখনও রচিত হয়নি। ফলে এখানে নাগরিক অধিকার বা মানবাধিকারের প্রশ্নই উঠেনা। চলমান আইনে রাস্ট্রের দর্শন নিয়ে কথা বললে তা রাস্ট্রদ্রোহিতার পর্যায়ে পড়ে কিনা জানিনা। আমাদের রাস্ট্র জনকল্যানমূলক রাস্ট্র নয়। এই রাস্ট্র প্রজাদের কতগুলি ওয়াদা করেছে, কিন্তু সেগুলো কখনই বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়নি। পাকিস্তানের ২৩ বছর আর বাংলাদেশের ৪০ বছর পার হতে চললো এখনও কোটি কোটি নাগরিক নিরক্ষর ও গরীব। আমাদের রাস্ট্রটি এখনও গরীব দেশ হিসাবে ভিক্ষা করে বেড়ায়। ভিক্ষা পাওয়ার জন্যে সেকুলার ভিনধর্মী  ভিনদেশের মানুষের কাছে হাত পাততে হয়। শেষ কথা হলো নিরক্ষর গরীবের আবার মানবাধিকার। এমন ব্যবস্থায় গরীব মানুষের অধিকার কখনই থাকতে পারেনা। যা হচ্ছে তা  এক ধরনের তথাকথিত গণতান্ত্রিক নাটক। এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা ও মোনাফেকী। (  দৈনিক আমার দেশ, জুন ৪ , ২০১১ )

লেখক: কবি সাংবাদিক ও ঔপন্যাসিক

ershadmz40@yahoo.com

Read Full Post »


  1. আওয়ামী লীগের জন্ম  হয়েছে ১৯৪৯ সালের  ২৩শে জুন। প্রথমে দলটির নাম রাখা হয় আওয়ামী মুসলীম লীগ। মাওলানা সাহেব বলতেন মুসলীম লীগ সরকারের মুসলীম লীগ আর আোয়ামী মুসলীম লীগ হলো জনগণের দল। আওয়াম মানে জনগন বা জনতা।স্বাধীনতার মাত্র  ২২  মাসের মাথায় মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে কেন এই নতুন দলটি প্রতিস্ঠা করেছিলেন মুসলীম লীগের কিছু নেতা ? এই প্রশ্নটা এই প্রজন্মের যেকোন নাগরিকই করতে পারেন। আসাম মুসলীম লীগের সভাপতি মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী কি কারনে নতুন দলটি গঠণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন সদ্য স্বাধীন পাকিস্তানের পুর্বাঞ্চলে। ওই সময়ে মাওলানা সাহেবকে যাঁরা সহযোগিতা করেছিলেন তাঁরা সবাই ছিলেন মুসলীম লীগের নেতা ও কর্মী। যে মুসলীম লীগ ১৯০৬ সালে প্রতিস্ঠিত হয়ে ১৯৪৭ এর আগস্ট পর্যন্ত মুসলমানদের অধিকারের জন্যে লড়াই করেছে। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সফল নেতৃত্বে মুসলমানদের দেশ পাকিস্তান প্রতিস্ঠিত হয়। শুরুতেই পাকিস্তান সরকার ভাষার ব্যাপারে পুর্ব পাকিস্তানে জনপ্রিয়তা হারাতে শুরু করে। প্রদেশের মুসলীম লীগ নেতারা ছাত্র ও সাধারন মানুষের সেন্টিমেন্ট বুঝার চেস্টা করেননি বা গুরুত্ব দেননি। এই সুযোগকে কাজে লাগান মাওলানা সাহেব ও তাঁ সমর্থক তরুন নেতারা। ফলে অতি অল্প সময়ে আওয়ামী মুসলীম লীগ প্রদেশের সাধারন মানুষের কাছে জনপ্রিয় হতে লাগলো। মূলত:  আওয়ামী  মুসলীম লীগ  যাত্রা শুরু করেছিল  প্রদেশের মধ্যবিত্তদের আশা আকাংখা পুরণের জন্যে। ৫৪ সালের নির্বাচনে প্রাদেশিক মুসলীগের পতন হয়। আইউবের আমলে আবার মুসলীম লীগ বিশেষ সুবিধাভোগী দল হিসাবে আবার ক্ষমতায় আসে। ৫৪র নির্বাচনে মাওলানা ভাসানীর সাথে জোট বেঁধেছিলেন শেরে বাংলা সোহরাওয়ার্ধী  যুক্তফ্রন্ট নামক এক প্ল্যাটফর্মে। এছাড়া বহু ধর্মীয়  ও অধর্মীয়(সেকুলার) দলও  এই ফ্রন্টে ছিল। নির্বাচনের পর মুসলীম শব্দটি বাদ দিয়ে শুধু আওয়ামী লীগ করা হয়। ছোটখাট অধর্মীয়  আরও অনেক দল আওয়ামী লীগের সাথে একীভুত হয়। এমন কি নিষিদ্ধ কমিউনিস্ট পার্টির বহু সদস্য  আওয়ামী লীগের সাথে মিশে যায়। এক সময়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্র ও প্রদেশে সরকার গঠণ করে। প্রদেশের চীফ মিনিস্টার ছিলেন আতাউর রহমান খান ও কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন সোহরাওয়ার্ধী সাহেব। এই সময়ে ফরেন পলিসি বা বিদেশ বিষয়ক নীতি নিয়ে মাওলানা সাহেবের সাথে সরকারের দ্বিমত তৈরি হয়। সোহরাওয়ার্ধী সাহেব ছিলেন আমেরিকার সাথে জোটবদ্ধ হওয়ার পক্ষে। কিন্তু মাওলানা সাহেব ছিলেন আমেরিকা বিরোধী নিরপেক্ষ পররাস্ট্র নীতির পক্ষে। ফলে এক সময় মাওলানা সাহেব নিখিল পাকিস্তান ভিত্তিক বাম রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি(ন্যাপ) গঠন করেন। সারা পাকিস্তানের বড় বড় বামপন্থী নেতারা ন্যাপে যোগদান করেন। ৬ দফা ঘোষনা করার পর থেকেই আওয়ামী লীগ পুর্ব পাকিস্তানের বাংগালীদের রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়। সে ভাবেই ৭০ সালে নির্বাচনে বাংগালীদের একমাত্র রাজনৈতিক দল হিসাবে প্রতিস্ঠা লাভ করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত আওয়ামী লীগ একটি বুর্জোয়া  রাজনৈতিক দল ছিল। বাংলাদেশ হওয়ার  পর হঠাত্‍ করেই আওয়ামী লীগ সমাজতন্ত্রী দল হিসাবে  পরিচিতি পেতে শুরু করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ধর্ম ভিত্তিক কোন রাজনৈতিক দল ছিলনা। সরকার মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। ফলে আওয়ামী লীগ  ও কিছু বামপন্থী দল ছাড়া কোন রাজনৈতিক দল ছিলনা। পরে ছাত্রলীগের কিছু নেতা মিলে একটা বাম ঘেঁষা মিলিটেন্ট( লড়াকু বা জংগী) রাজনৈতিক দল প্রতিস্ঠা করেন।যার নাম  জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল(জাসদ)। যা এখনও আছে নানা দলে বিভক্ত হয়ে। বংগবন্ধুর সময়টা নিয়ে আমি বেশী আলোচনায় যেতে চাইনা। আমি বলবো, সংগ বা সংঘ দোষে আওয়ামী লীগ নিজেকে সেকুলার বা বামধারা রাজনীতির বন্ধু বলে দাবী করে এবং বন্ধুদের মহব্বতে বা সোহবতে সে পথে চলতে চায়। বাংলাদেশে এখন ভারতের আদর্শে বিশ্বাসী বেশীর ভাগ দল ও ব্যক্তি বামপন্থী বলে পরিচিত। শুনেছি এক সময় হিন্দু না হলে নাকি বামপন্থী হওয়া যেতনা।
  2. এই লেখাটি আমি শুরু করেছি প্রথম  ১৬ই এপ্রিল আলোতে প্রকাশিত স্নেহভাজন কবিবন্ধু সোহরাব হোসেনের লেখা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মিল-অমিল পড়ে এবং উত্‍সাহিত হয়ে। পরে সোহরাবকে ফোন করে জানতে চেয়েছি আমি যদি তাঁর লেখার উপর একটি আলোচনা পাঠাই তাহলে ছাপা হবে কিনা। সোহরাব আমাকে উত্‍সাহিত করাতেই লেখাটি শুরু করেছি। এই ফাঁকে একই বিষয়ে মানে সোহরাবের লেখার উপরে আমার মুরুব্বী মুসা ভাই ও সাহাবুদ্দিন সাহেবের লেখাও আমি পড়ে নিয়েছি। সুযোগ পেয়ে আমি নিজের সম্পর্কেও দুটো কথা বলে নিতে চাই। তাহলে পাঠকদের মনে কোন ভুল বুঝা বুঝি হবেনা। পাকিস্তান আমলে ছাত্র ইউনিয়ন করার কারণে আমার সাথে মাওলানা ভাসানীর দল ন্যাপের সাথে যোগাযোগ ছিল। আমরা যখন ছাত্র ইউনিয়ন করি তখন তা অখন্ড ছিল। ন্যাপও অখন্ড ছিল। আমি তখন সংবাদে চাকুরী করি।  অবজারভারের স্থায়ী চাকুরী  ছেড়ে অধিকতর রাজনৈতিক হওয়ার জন্যে সংবাদের যোগ দিয়েছিলাম। সংবাদের সহকর্মী ও মুরুব্বীদের প্রায় সকলেই গভীর ও হালকা বাম চিন্তাধারার মানুষ ছিলেন। সম্পাদক ছিলেন আমার প্রিয় মানুষ জহুর হুসেন চৌধুরী ও নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন শহীদুল্লাহ কায়সার সাহেব। কিন্তু মালিক মরহুম আহমদুল কবীর  তা ছিলেন বলে আমার মনে হয়না। তবুও তাঁর  উপর বাম ধারার রাজনীতির একটা প্রভাব ছিল। ৬৪-৬৫ সালের দিকে বাম রাজনীতি ভাগ হয়ে যায়। এক ভাগ চীনের সাথে আরেক ভাগ রাশিয়ার সাথে। মাওলানা সাহেব ছিলেন চীনের সাথে। সংবাদ চলে যায় রাশিয়ার সাথে। সংবাদে তিন বছরের বেশী সময় থাকার পর আমি পূর্ণাংগ রাজনীতি করার জন্যে ফেণী চলে যাই। সেখানে গিয়ে আমি কৃষক আন্দোলন করার জন্যে  ফসল নামে একটি  সাপ্তাহিক কাগজ বের করি। ৬৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ পাঁচ বছর কৃষক আন্দোলন করে আমি ঢাকায় ফিরে আসি এবং দৈনিক পূর্বদেশে সিনিয়ার রিপোর্টার হিসাবে যোগ দিই। রাজনীতি ছেড়ে দেয়ার কারণ, আমার মনে হয়েছে রাজনীতিতে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড খুবই অপরিহার্য। যা আমার পক্ষে একেবারেই অসম্ভব ছিল। আমি ভাবলাম কৃষকদের ঠকানো  উচিত হবেনা। সেই থেকে কোন রাজনৈতিক দলের সাথে আমার তেমন কোন সম্পর্ক নেই।আমি স্বাধীন ও মুক্ত চিন্তায় বিশ্বাস করি।
  3. তিনটি লেখাতেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সম্পর্কে তুলনা মুলক বিশ্লেষন করা হয়েছে। মুল নিবন্ধের লেখক সোহরাব হোসেন আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান নিয়ে এর গুণাবলী ও সীমাবদ্ধতা বর্ণনা করেছেন। সাহাবুদ্দিন সাহেবও খোলামেলা ভাবে বেএনপির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আমি বিষয়টাকে ওভাবে দেখছিনা। আওয়ামী লীগ কি পরিস্থিতি ও পরিবেশে প্রতিস্ঠিত হয়েছে তা দেখতে হবে। আগেই বলেছি আওয়ামী মুসলীম লীগ বা আওয়ামী লীগ কি কারণ বা কি প্রয়োজনে প্রতিস্ঠিত হয়েছে। মুসা ভাই আরো অনেক বেশী ভাল বলতে পারবেন। তখন তিনি বাম ধারার প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। সুতরাং এখানে প্রেক্ষিতটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তখন প্রগতিশীল মুসলীম লীগ কর্মীদের সামনে অন্য আর কোন পথ খোলা ছিলনা। মাওলানা ভাসানী বুঝতে পেরেছিলেন মুসলীম লীগ জন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। একটি নতুন রাজনৈতিক দল সময়ের দাবী ছিল। যেমন মুসলীম ছাত্র লীগের বাইরে মধ্যপন্থী চিন্তাধারার একটি ছাত্র সংগঠনের প্রয়োজন ছিল। এরপরে গঠিত হলো ছাত্র ইউনিয়ন। শুরু থেকেই  ছাত্র ইউনিয়ন ছিল বাম চিন্তাধারার সাথে জড়িত। তখন কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ ছিল। কমিউনিস্টরা গোপনে কাজ করতেন। তাদের ছিল নানা ধরনের সাংস্কৃতিক সংগঠন। এমন কি দৈনিক সংবাদ ছিল মুসলীম লীগের কাগজ। ৫৪ সালের নির্বাচনের পর সংবাদের মালিকানা পরিবর্তন হয়। এবং কাগজটি বাম চিন্তাধারার লোকদের হাতে আসে। ভাষার দাবী নিয়ে আন্দোলন শুরু হয়ে গিয়েছিল ৪৮ সালেই। ভাষা আন্দোলনের সমর্থনে সাপ্তাহিক সৈনিক প্রকাশিত হয়। মাওলানা ভাসানীর কাগজ সাপ্তাহিক  ইত্তেফাক ছিল আওয়ামী মুসলীম লীগের সমর্থক।  ৫৪র নির্বাচনের পর এটি দৈনিকে রূপান্তরিত হয়।
  4. ৭৫ এর আগস্টে ক্ষমতার পরিবর্তনের সময় দেশে  বাকশল নামের একটি মাত্র রাজনৈতিক দল ছিল।  স্বাধীনতার পরে ৭২ সালের দিকে দেশে  ডানপন্থী ও ধর্মীয় কোন রাজনৈতিক দল ছিলনা। খোন্দকার মোশতাক সামরিক আইন জারী করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং নিষিদ্ধ বা বন্ধ পত্রিকা গুলো চালুর নির্দেশ দেন। খোন্দকার মোশতাক ৯০ দিনের মতো ক্ষমতায় ছিলেন।৭ই নভেম্বরের পর তিনি বিচারপতি সায়েমের কাছে ক্ষমতা  হস্তান্তর করে তিনি রাস্ট্রপতির পদ থেকে বিদায় নেন। তার কিছুদিন পর জেনারেল জিয়া প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও রাস্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বলা যেতে পারে এ সময় থেকে জেনারেল জিয়ার যুগ শুরু হয়। দিন তারিখ ষোলয়ানা মিলবেনা বিধায় উল্লেখ করতে সাহস করলাম না। জিয়ার নাম এ দেশবাসী প্রথম শুনেছে ৭১ সালের ২৬/২৭ মার্চ। একটা অজানা নাম মেজর জিয়া। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন অফিসার। আর মুসলীম লীগ কর্মী  বংগবন্ধুর নাম জানে ৪৬ সালের আগে থেকে। পাকিস্তান হওয়ার পর তিনি একজন নামজাদা যুবনেতা। ৪৯ সালের জুন মাসে আওয়ামী মুসলীম লীগ প্রতিস্ঠিত হলে বংগবন্ধু দলের যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। সুতরাং জেনারেল জিয়া আর বংগবন্ধু কখনই তূল্য ব্যক্তিত্ব নন। দুজন আলাদা পথের যাত্রী। কিন্তু ভাগ্য জিয়াকে রাজনীতিতে টেনে নিয়ে এসেছে। তিনি যখন স্বাধীনতার ঘোষণা দেন বা প্রচার করেন বা পাঠ করেন তখন আরও অনেক সিনিয়ার বাংগালী আর্মী অফিসার ছিলেন। বিশেষ করে ব্রিগেডিয়ার মজুমদারতো ছিলেনই। কিন্তু ভাগ্য বলে একটা কথা আছে। যা মানুষের ডেস্টিনি  নির্ধারন করে। মেজর জিয়ার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। তাঁর চরিত্র রাজনীতি করার চরিত্র ছিলনা। কিন্তু বাধ্য হয়েছেন রাজনীতি করতে। জিয়া সাহেব যখন দল গঠণের উদ্যোগ নিলেন তখন সবচেয়ে বড়দল  ন্যাপকে সাথে নিয়ে যাদু মিয়া  জেনারেল জিয়ার সাথে হাত মিলান। এখনও বিএনপিতে সাবেক ন্যাপের নেতাদের প্রভাব বেশী। ন্যাপ ছাড়া বেশ কিছু ছোট দল ও নেতা বিএনপিতে আসে। এর মধ্যে মুসলীম লীগ সহ কয়েকটা ইসলামী দলও ছিল।
  5. প্রসংগত উল্লেখ করতে চাই, আইউবের সামরিক শাসন জারীর পর  দীর্ঘ চার বছরের মতো গৃহবন্দী থাকার পর মাওলানা ভাসানী মুক্ত হন। এর পরেই আমরা দেখলাম বামপন্থী নেতা ও কর্মীরা যাঁরা জেলে ও পালিয়ে গোপন আশ্রয়ে ছিলেন তাঁরা সবাই মুক্তি পেলেন এবং হুলিয়া উঠে গেল। মাওলানা সাহেবের সাথে আইউবের বৈঠক হলো। আগেই বলেছি তখন ভারতের সাথে রাশিয়ার সাথে বেডরুম বন্ধুত্ব চলছে। আমেরিকা দিনের পর দিন ভিজিটরস রুমে বসে থাকতো। আইউব আমেরিকার মতিগতি দেখে চীনের সাথে বন্ধুত্বের হাত বাড়াতে চাইলেন। এরই প্রেক্ষিতে মাওলানা সাহেব এক সময় চীন গেলেন। চীন পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহ প্রকাশ করলো। যে সম্পর্ক পাকিস্তানের সাথে বজায় রয়েছে। এবোটাবাদের ঘটনার পর চীন বিবৃতি দিয়ে ঘোষণা দিয়েছে চলমান সংকটে সে পাকিস্তানের সাথে থাকবে। এমন কি বন্ধুদের অনুরোধ করেছে পাকিস্তানের পাশে থাকার জন্যে। সম্ববত ৬৫/৬৬ সালের দিকে আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলন বিভক্ত হয়ে গেলে পুর্ব পাকিস্তানের বাম দলগুলোর ভিতর ভাংগন দেখা দেয়। মাওলানা সাহেব চীনের নীতির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করলেন। বংগবন্ধু মারা গেলে চীন ও সউদী আরব বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। জেনারেল জিয়া চীন ও সউদী আরবের সাথে গভীর স্থাপনের উদ্যোগ নিলেন। এটা করতে পেরেছিলেন তিনি তাঁর দলে ন্যাপ থাকার কারণে। চীনের সাথে এখনও গভীর বন্ধুত্ব রয়েছে। যদিও এখন তা এখন নাতিশীতোষ্ণ। চলমান সরকারের বিদেশ নীতি এখন ভারত ও রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়েছে। যা ৭২-৭৫ সময়কালেও  ছিল।
  6. দল দুটোর ফারাক বা মিল অমিল সোহরাব সাহেব যভাবে দেখেছেন বা এখনও দেখছেন তার সাথে আমার তেমন কোন দ্বিমত নেই। দুটোই পুঁজিবাদী বুর্জুয়া রাজনীতির তাবেদার। দুই দলই  বিশ্ব ব্যান্ক, আইএমএফ, এডিবির পুজারী। স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়ার ব্যাপারে দুই দলেরই ব্যার্থতা রয়েছে। বিদেশী সাহায্য নির্ভর বাংলাদেশই তাদের কাম্য। তবে আওয়ামী লীগের সাফল্য হলো দলটি নিজের ইমেজ তৈরী করেছে সেকুলার প্রগতিশীল হিসাবে। আসলে আওয়ামী লীগ কখনই সেকুলার নয় বা প্রগতিশীল নয়। বিএনপির তেমন ইমেজ নেই। দেশের  এক শ্রেণীর বুদ্ধিজীবী  বিএনপিকে দক্ষিণপন্থী অপ্রগতিশীল দল মনে করে। বিএনপি অবশ্য নিজেকে ইসলাম পন্থী জাতীয়তাবাদী দল মনে করে। বিএনপি আল্লাহু আকবর, বিসমিল্লাহ বলে। আওয়ামী লীগ বিসমিল্লাহ বা আল্লাহু আকবর বলেনা। তারা জয় বাংলা, জয় বংগবন্ধু বলে। বিএনপি বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলে। যদিও বিশ্ব ক্রিকেটের উদ্বোধনী অনুস্ঠানে আইসিসি সভাপতি ও ভারতের মন্ত্রী বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলেছেন। আসলে এসব বাংলাদেশের উন্নতির জন্যে তেমন কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। এসব লোক দেখানো ও লোক ঠকানো শ্লোগান। সাধারন মানুষ এতে খুশী হয় এবং ভোট দেয়। দেখুন না, বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভোট পেয়েছে চার কোটি ও বিএনপি পেয়েছে তিন কোটির কিছু বেশী। ভোটাররা মার্কা দেখেই সীল মারে। মার্কা নিয়ে রাস্তায় মিছিল করে। কোন দলের জন্ম কোথায় তা নিয়ে কেউ ভাবেনা। কোন দলের প্রতিস্ঠাতা কে তা নিয়েও তেমন ভাবেনা। বংগবন্ধু মারা গেলে সবাই পালাতে লাগলেন প্রাণের ভয়ে। যাঁরা বংগবন্ধুকে বাবা ডেকে ডেকে হয়রান হয়ে গেছে তাদের কাউকেই দেখা গেলনা তাঁর মৃত্যুর পর। জিয়া মারা যাওয়ার পর মিছিল বের হলো। ২০ লাক লোক তাঁর জানাযায় অংশ নিয়েছে। বংগবন্ধু মারা যাওয়ার পরও তাঁর দল এখনও শক্তিশালী আছে। বার বার ক্ষমতায় আসছে। বিএনপিও জিয়া সাহেবের আমল থেকে অনেক বেশী শক্তিশালী হয়ে গেছে। কোন দলে মাস্তান কত আছে , কোন দল কেমন স্বজনপ্রীতি করে, কোন দল দলীয়করণ করে বা কোন আমলে আইনী বা বেআইনী কত খুন হচ্ছে তাকে আমি কোন মাপকাঠি করতে চাইনা। এ ব্যাপারে দুই দলই এক রকম। কেউ ২০ আর কেউ ১৮। আমরা ভক্তরা এই দুই দলের উপর নানা ধরনের গুণ ও দোষ আরোপ করি। আওয়ামী লীগ নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের দল মনে করে। এটাতো ঠিক আছে। তখনতো বিএনপির জন্মই হয়নি। দুই দলই দাবী করে তাদের নেতা স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছে। সত্য মিথ্যা বিচার করতে চায়না। আমি মনে করি বাংলাদেশে দুটি দল বড়দল হিসাবে বিকশিত হয়েছে। জনগনের জন্যে খুবই সুবিধা হয়েছে। একবার চিন্তা করুন বিএনপি না থাকলে দেশের রাজনীতির কি হতো? বিএনপিকে আমরা বলতে পারি দক্ষিন-মধ্যপন্থী দল। মুসলীম লীগের আধূনিক সংস্করণ। আওয়ামী লীগতো মুসলীম লীগ ছিলই। যদিও এখন তারা নিজেদের সেকুলার বাম-মধ্যপন্থী দল মনে করে। বিএনপিকে লোকজন চীন ও পাকিস্তান পন্থী মুসলমানদের দল মনে করে। কিন্তু আওয়ামী লীগকে মনে করে ভারতপন্থী হিন্দুঘেঁষা রাজনৈতিক দল। অনেকে আবার  এই দলকে বাংলাদেশের কংগ্রেস মনে করে। এসব সত্য কি মিথ্যা তা নিয়ে লোকজন ভাবেনা। তারা মনে করে দল দুটো ওরকম। বুদ্ধিজীবী আর সুশীল সমাজ দল দুটোকে কিভাবে দেখছে তা নিয়ে কোটি ভোটার মোটেও মাথা ঘামায়না। ( ২৬ মে ২০১১, প্রথম আলো )
  7. লেখক: কবি সাংবাদিক ও ঔপন্যাসিক( ershadmz40@yahoo.com )

Read Full Post »

Older Posts »