Feeds:
Posts
Comments

Archive for June, 2010


সেনা সমর্থিত ১/১১র ফকরুদ্দিন-মইনুদ্দিনের তথকথিত কেয়ারটেকার সরকারের আমলেই রাস্তা থেকে বলছি কলামটি লিখতে শুরু করেছিলাম। ২৫ বা ২৬টি কলাম লিখার পর কলামটি আর লিখিনি। প্রথম দিকে লিখার মতো তেমন কেউ ছিলনা। সেই সময়ে কঠোর সত্যকথা লিখে দেশবাসীর ভালবাসা পেয়েছিলেন প্রিয় কলামিস্ট ফরহাদ মজহার আর মাহমুদুর রহমান।  আমার মতে ১/১১র  অবৈধ সরকারের আমলে তাদেরই সহযোগিতায়  নির্বাচিত চলমান সরকারের সময়েও তাদের জনপ্রিয় কলাম গুলো অব্যাহত রেখেছেন। আমি নানা কারনে লেখা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। পত্রিকা থেকে অনুরোধ পাওয়ার পরেও লিখবো লিখবো করে লিখা হয়ে উঠেনি। কিন্তু এখন আর চুপ থাকতে পারছিনা। চারিদিকে যা ঘটছে তাতে কোন মানুষের পক্ষেই চুপ থাকা সম্ভব নয়। তথাকথিত নির্বাচিত সরকারের দেড় বছর পার হতে চলেছে। তারা ব্যস্ত আছেন মামলা আর হামলা নিয়ে। আদালত পড়ায় গেলে কিছু মানুষ পাওয়া যাবে যারা সারা জীবন মামলা মকদ্দমা করে সময় কাটিয়েছেন। এদের আর্থিক অবস্থা মোটামুটি ভাল। এসব মানুষকে আদালত পাড়ায় উকিল মুহুরী টাউট টন্নি দালাল ফড়িয়া সবাই চিনে। এসব মানুষ নিজের জমি জমা বিক্রি করে অন্য মানুষের ক্ষতি করার জন্যে জীবন কাটিয়ে দেয়।

সেনা সমর্থিত কেয়ার টেকার কর্তৃক নির্বাচিত চলমান সরকারের অবস্থাও মামলাবাজ ব্যক্তিদের মতো। মাথায় হাজারো রকমের মামলা। ছোট আদালত আর বড় আদালত যেখানেই যাবেন সবখানে শুধুই মামলা। লোকে বলে এটা একটা মামলাবাজ সরকার। এতো গেলো মামলা আর হামলার কথা। ছাত্রলীগ আর যুবলীগের সোনার ছেলেদের জ্বালায় সরকার একেবারেই কাহিল হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ একবার রেগে মেগে বললেন তিনি আর ছাত্রলীগের পৃষ্ঠপোষক বা উপসেস্টা থাকবেনা। তিনি ভেবেছিলেন এতে কাজ হবে। কিন্তু তা হয়নি। ছাত্রলীগ কর্মীরা ভেবেছে এটা তাদের নেত্রীর অভিমান। একদি সব ঠিক হয়ে যাবে। আর তাছড়া মা’তো ছেলেদের উপর অভিমান করতেই পারে। ছেলেরাতো খারাপ কোন কাজ করছেনা। তাদের কাজতো এক ধরনের ব্যবসা বাণিজ্য আর অর্থনেতিক কাজ কারবার। দেশের আইন হয়তো এ ধরনের কাজ এখনও অনুমোদন করেনা। ২০২১ সালের আগে মহাজোট ক্ষমতায় থাকলে ছিনতাই টেন্ডারবাজি নিশ্চয়ই আইন সিদ্ধ হয়ে যাবে। সোনার ছেলেদের হাতে যদি কিছু টাকা পয়সা না আসে তাহলে দলের জন্যে খরচ করবে কোথা থেকে। এখনকার দিনে ছোটখাট মিছিল বা মানব বন্ধন করতেই দশ বিশ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। প্রতিদিনতো নেতাদের কাছে টাকা চাওয়া যায়না। মহাজোট সরকার তাই অনেক চিন্তা ভাবনা করে ছেলেদের কল্যাণার্থে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাহলো ছোটখাট কাজের জন্যে এখন থেকে ঠিকাদার হিসাবে কোন ধরনের তালিকাভুক্তি লাগবেনা। পাবলিক নোটিশ বা কাগজে বিজ্ঞপ্তি দেয়া লাগবেনা। ছেলেরা কাজ ভাগ বাটোয়ারা করে নিতে পারবে। ছেলেদের আর টেন্ডার ছিনতাই করতে হবেনা। এপরেও ছেলেদের নিজেদের মধ্যে মারামারি গোলাগুলি চলতে থাকলো। যাদের কাছে অস্ত্র বেশী তারা একটু বেশী ভাগ চায়। অনেক সোনার ছেলে আছে যারা কাজ না করেই টাকা চায়।এ কারনেই ছাত্রলীগের ভিতর কোন্দল ও মারামারি লেগে আছে। এটা প্রধানমন্ত্রী থামাতে পারছেনা। এখন তিনি এ নিয়ে কোন কথা বলেননা।চলমান আওয়ামী রাজনীতির এটা হলো একটা চিত্র।

অপরদিকে দলের সিনিয়র নেতা বা মুরুব্বীরা বেকার বসে আছেন। সারা জীবনের অভিজ্ঞতা এখন তাদের কোন কাজে লাগছেনা। অনেকেই বলেছিলেন, ভোলার আসন পাওয়ার পর তোফায়েল সাহেবের ভাগ্য প্রসন্ন হবে। দুয়েকটা কাগজে কিছু আভাসও বেরিয়েছিল। তোফায়েল সাহেবও আনন্দে কয়েকদিন ফুরফুরে ছিলেন। এখ তাকে আর দেখা যাচ্ছেনা। আরেকজন প্রবীন নেতা সুরু বাবু। সাকা চৌধুরী যে ঢংয়ে কথা বলেন সুরু বাবুও সেই ঢংয়ে কথা বলেন। তিনি এখন গনতন্ত্রের মানসকন্যাকে খুশী করার জন্যে যখন যা ইচ্ছে তাই বলে যাচ্ছেন। রাজনীতির অভিনয়ে তিনি এখন বেগম মতিয়া চৌধুরী আর কামরুল ইসলামের অনেক পেছনে পড়া গেছেন। মনে হয়না তিনি এই খিস্তি খেউরের একশ’ মিটার দৌড়ে এই দুইজনকে আর পেছনে ফেলতে পারবেন। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে তিনি আর পারবেন না।এসবতো হলো আওয়ামী রাজনীতির ভিতরের ব্যাপার। নেত্রী নিশ্চয়ই এসব সামলিয়ে উঠতে পারবেন।

কিন্তু সম্প্রতি মিডিয়া নিয়ে সরকার যা করছেন তা শেষ পর্যন্ত সামাল দিতে পারবেন কিনা তা এখন দেখার বিষয়। দেশ বর্তমানে নব্বই ভাগ মিডিয়া সরকারের পক্ষে। তারপরেও সরকার কেমন যেন বেচায়েন হয়ে গেছেন। অনেক কিছুই সহ্য করতে পারছেননা। ইতোমধ্যে একটি টিবি চ্যানেল বন্ধ করে দিয়েছেন। ওই চ্যানেল সরকারের বিরোধিতা করতো বলে মনে হয়না। তবুও একটা ছুঁতা দাঁড় করিয়ে চ্যানেলটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।ফলে কয়েকশ’ মিডিয়া কর্মী বেকার হয়ে গেছে। চ্যানেল মালিক সাংবাদিকদের বেতন দিচ্ছেন বলে মনে হয়না। অপরদিকে সরকারের সমর্থক বা আওয়ামী রাজনীতিতে বিশ্বাসী যমুনা টিভি চলতে গিয়ে চলতে পারলোনা। হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলো।  যমুনা টিভির মিডিয়া কর্মীরাও বেকার বসে আছেন। জানিনা তারা বেতন পাচ্ছেন কিনা। হয়ত কোন কারনে যমুনার মালিকের উপর প্রধান মন্ত্রী নাখোশ হয়ে আছেন।

ক’দিন আগে সরকার আমাদের দেশ বন্ধ করে দিয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে জংগী কায়দায় গ্রেফতার করেছন। আমার দেশ এর প্রেসে তালা লাগিয়েছেন। রিমান্ডে নিয়ে মাহমুদের উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। নির্যাতনের বিশদ বিবরন মা্মুদ নিজেই আদালতে দিয়েছেন। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্বেও তাকে বারবার রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে।দেশে বিদেশে মাহমুদের মুক্তির দাবীকে সরকার অগ্রায্য করে চলেছে। কাগজ বন্ধের ডিসির নির্দেশ উচ্চ আদালত স্থগিত করেছেন। কিন্তু সেই নির্দেশ মানা হচ্ছেনা। সাংবাদিকরা কাগজ বের করার চেস্টা করছেন। সেখানেও বাধা দেয়া হচ্ছে। তেজগাঁ থানা এখনও প্রেসে তালা ঝুলিয়ে রেখেছে। ডিসি অফিস বলছে, তারা প্রেসে তালা লাগাননি। থানা বলছে,উপরের নির্দেশে তারা প্রেস খুলে দিতে পারছেননা। ইতোমধ্যে সকল শ্রেণীর মানুষ মাহমুদুর রহমানের মুক্তি চেয়েছে। বিরোধী দলীয় সংসদ নেত্রী খালেদা জিয়া মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তিনি এ ব্যাপারে সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন। কদিন  আগে বাংগালীদের স্বাধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তি আন্দোলনের একমাত্র ইংরেজী কাগজ বন্ধ হয়ে গেছে। বেকার হয়ে গেছে কয়েকশ’ সাংবাদিক কর্মচারী।

এর আগের বার ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ ট্রাস্টের পত্রিকা গুলো বন্ধ করে দিয়ে কয়েকশ’ সাংবাদিককে বেকার করে দিয়েছে। তাদের অনেকেই আজও বেকার। আওয়ামী লীগকে আমরা ছাত্র বয়স থেকে দেখে আসছি। বিরোধী দলে থাকলে লগী বৈঠার আন্দোলন করে। বাসে আগুন লাগায়। অবিরাম সংসদ বর্জন করে।নির্বাচনের আগে বলে দশ টাকা দরে চাল দিবো, গরে ঘরে চাকুরী দিবো, কৃষকদের বিনে পয়সায় সার দিবো। ক্ষমতায় গিয়েই সাফ বলে দিলেন, না আমরা এসব কথা বলিনি। এসব বিরোধী দলের মিথ্যাচার। হাজার বছরের একমাত্র বাংগালী বংগবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান সারাজীবন গনতন্ত্রের জন্যে লড়াই করেছেন। কিন্তু ক্ষমতা পেয়ে তিনি আর গনতন্ত্রী থাকতে পারলেন না। তিনি একদলীয় রাজনীতি চালু করলেন। সব কাগজ বন্ধ করে দিলেন। বংগবন্ধু বোধ হয় ভাবতেন তিনি যখন দেশকে ভালবাসেন তখন অত দলের কি প্রয়োজন। অত কথার কি প্রয়োজন। সিপিবিওয়ালরা তাঁকে দিয়ে একাজটি করিয়েছেন। ২৯৩ টি সংসদ সিট নিয়ে বংগবন্ধু নিজেকে নির্বাচিত ঘোষনা করেছিলেন। এরপরেও তিনি ভিন্নমতের দুয়েকটা কথা বা শব্দ সহ্য করতে পারেননি। ৭৩ সালেই তিনি তাঁরই ছেলেদের দ্বারা  প্রকাশিত কাগজ গণকন্ঠ প্রেস আইনের কথা বলে বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সরকারী ট্রাস্টের কাগজ দৈনিক বাংলা তখন সামান্য কি যেন একটা দোষ করেছিল তাতেই বংগবন্ধু ক্ষ্যাপে গিয়ে ওই কাগজের সম্পাদককে বরখাস্ত করে দিয়েছিলেন। অবশ্য পরে তিনি ওই সম্পাদককে চাকুরী দিয়েছিলেন। বংগবন্ধু হয়ত মনে করেছিলেন একদলীয় শাসন হলে বাংলাদেশ সোনার দেশে পরিণত হবে। কিন্তু খোদার ইচ্ছা ছিল অন্যরকম।

আওয়ামী লীগ এবার মহাজোটের ব্যানারে ক্ষমতায় এসেছে ২৬৩ সিট নিয়ে। এবারের সংসদে বিরোধী দল একেবারেই দূর্বল। সংসাদের তাদের কোন পাত্তাই নেই। তাই তারা বেশীর ভাগ সময় সংসদের বাইরেই থাকে। জনগন আশা করেছিল আওয়ামী লীগ বিরোধী মত আর বিরোধী দলকে একটু বেশী গুরুত্ব দিবে। না, জনগনের সে আশা পূর্ণ হয়নি। কারন আওয়ামী লীগ কখনই বিরোধী মতকে সহ্য করতে পারেনা। সরকারে গেলেই মনে করে দেশে আর কোন মত বা দল নেই। বিরোধী মতের একটি মাত্র কাগজ আমার দেশ সেটাকেও চলতে দিলনা। জবরদস্তি কাগজটা বন্ধ করে দিয়েছে। সম্পাদককে গ্রেফতার করে অকল্পনীয় নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে।

Advertisements

Read Full Post »