Feeds:
Posts
Comments

Archive for May, 2012


আমি আমাকে কখনও একজন শুদ্ধতম মানুষ মনে করিনা। একজন শুদ্ধতম মানুষের যে গুণাবলী থাকে তা আমার কখনই ছিলনা। তবে আমি জগতের ভাল মানুষদের নিয়ে ভাবি। জগতের সকল ভাল মানুষই আমাকে প্রভাবিত করেন। বাল্যকালে মা আমাকে পবিত্র কালামে পাক কোরাণ শরীফ পড়িয়েছেন। তারপরে কিছুদিন হুজুরের কাছে কোরাণ শিক্ষা নিয়েছি। আমার প্রথম শিক্ষক ছিলেন একজন মৌলবী সাহেব। আর আমার দ্বিতীয় শিক্ষক শ্রীনাথ বাবু। ইনি আমার স্কুলেও শিক্ষক ছিলেন। মনে পড়ে শ্রীনাথ বাবু যেদিন প্রথম আমাকে পড়াতেন আসলেন সেদিন আমার মা পর্দার ভিতরে থেকে বলেছিলেন, বাবু গোশত আপনার হাড্ডি আমার। সেদিন মায়ের অমন বাণীর মর্ম বুঝতে পারিনি। তবে প্রচন্ড ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু শ্রীনাথ বাবু ছিলেন খুবই নরোম মানুষ। তিনি কখনই আমাকে বকাঝকা করেননি। বেত মারাতো দূরের কথা। স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগেই আমার বাল্যশিক্ষা শেষ করার কথা ছিল,কিন্তু শেষ হয়নি। ১৯৪৬ সালের ৬ই জানুয়ারী আমি বারিক মিয়া সাহেবের প্রাইমারী স্কুলে ভর্তি হই। এই স্কুলটি এখন ফেণী মডেল হাই স্কুল নামে পরিচিত। বারিক মিয়া সাহেব ছিলেন স্কুলের হেড মাস্টার। এলাকার সম্মানিত সমাজ সেবক হিসাবে তিনি একজন অনারারী ম্যাজেস্ট্রেটও ছিলেন । স্কুল চালাতেন মূলত: কাজী গফুর সাহেব। তিনি আমাদের সেকেন্ড স্যার হিসাবে পরিচিত ছিলেন। এই স্কুলে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছি ১৯৪৬ সালের জানুয়ারী মাসে। আমার জেঠাত ভাই রফিক সাহেব আমাকে ভর্তির জন্যে নিয়ে গিয়েছিলেন। তখন তিনিই আমাদের মুরুব্বী ছিলেন। আমরা সবাই তাঁকে মাস্টার ভাইসাব বলে ডাকতাম। রফিক সাহেব ফেণীর বিখ্যাত সাপ্তাহিক হকার্সের সম্পাদক নুরুল করিম মজুমদারের আপন চাচা। করিমের বাবা মমতাজ সাহেব ছিলেন আমাদের কাজিনদের মধ্যে সবার বড়।বৃটিশ সেনা বাহিনীতে চাকুরী করতেন এবং বার্মা ফ্রন্টে ছিলেন।

৪৬ সালটা সম্পর্কে সবার একটা ধারণা থাকা দরকার। ৪২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ফেণীর স্কুল কলেজ সব বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। স্কুল কলেজ গুলো ছিল বৃটিশ আর্মির ব্যারাক। এমন কি শহরের অনেক পরিবার বাড়ি ছেড়ে গ্রামের আত্মীয় স্বজনের বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। ফেণী ছিল বৃটিশ আর্মির ইস্টার্ণ কমান্ডের হেড কোয়ার্টার। শুনেছি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আইউব খান এই কমান্ডের দায়িত্বে ছিলেন। এই ভদ্রলোক পরে পাকিস্তানের প্রধান সেনাপতি ও প্রেসিডেন্ট হয়ে প্রায় দশ বছর পাকিস্তান দখল করে রেখেছিলেন। গণ আন্দোলনের মুখে জেনারেল আইউব পদত্যাগ করলে প্রধান সেনাপতি জেনারেল ইয়াহিয়া ক্ষমতা দখল করেছিলেন। ৭০ সালে জেনারেল ইয়াহিয়ার নিরপেক্ষ নির্বাচনেই বংগবন্ধু সারা পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির নেতা হিসাবে নির্বাচিত হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বৃটিশ এবং মিত্রশক্তি বিজয়ী হলে ভারতের স্বাধীনতার কথা ঘোষণা করা হয়। আগেই বলা হয়েছিল, ভারতীয়রা ওই যুদ্ধে বৃটিশকে সাহাযা ও সমর্থন করলে ভারতের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হবে। বৃটিশ সরকারের এই ঘোষণা  সুভাষ বসু বিশ্বাস করেন নি। তিনি যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করতে চেয়েছিলেন। তাই তিনি জাপান ও জার্মানীর সাথে হাত মিলিয়েছিলেন। কিন্তু মিত্রশক্তি মানে বৃটিশ ও তার বন্ধুদের জয়লাভ হওয়ার ফলে তিনি আর ফিরে আসেননি। আসলে হয়ত নেহেরু সরকার তাঁর বিচার করতেন যুদ্ধাপরাদী হিসাবে। তিনি জীবিত কি মৃত তা আমরা এখনও জানিনা। ভারত সরকার তাঁকে জীবিত বা মৃত দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়নি।

৪৬ সালের প্রসংগে বলতে গিয়ে প্রাসংগিক কথাগুলো বললাম। তারপরেতো ১৯৪৭ সাল। তখন আমি দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ি। ইংরেজ এবং কংগ্রেসের সাথে রাজনৈতিক যুদ্ধ করে মুসলমানেরা নিজেদের জন্যে আলাদা দেশ পাকিস্তান প্রতিস্ঠা করে। সাত কোটি বা সাড়ে সাত কোটি মুসলমান পাকিস্তানের বাসিন্দা হলেও ভারতে রয়ে গেল আরও চার পাঁচ কোটি মুসলমান। এখন ভারতে প্রায় ২০/২৫ কোটি মুসলমান বাস করছে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশে বাস করছে আরও ৩০ কোটি। সব মিলিয়ে এই উপ মহাদেশে প্রায় ৫০ কোটি মুসলমান বাস করে। কিন্তু স্বপ্নের পাকিস্তান বেশীদিন টিকেনি পাকিস্তানী শাসকদের দু:শাসনের ফলে। ৪৭ থেকে ৭১ পর্যন্ত ২৩ বছরে পাকিস্তানে গণতন্ত্র ও সাধারন মানুষের অধিকার প্রায় নির্বাসনে ছিল। পাকিস্তানের ২৩ বছরে পূর্ব পাকিস্তানের মুসলমানেরা ছিল অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার। বৈষম্যের অবসানের জন্যে বাংগালী মুসলমানেরা লড়াই করেছে গণতান্ত্রিক ভাবে। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক জান্তা বাংগালী মুসলমানদের কোন কথাই শোনেনি। ফলে পূর্ব পাকিস্তান আলাদা হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ হিসাবে প্রতিস্ঠা লাভ করেছে।এতে ভাতেরও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লাভ হয়েছে। বিগত ৪০ বছর ধরে ভারত  বাংলাদেশে একচেটিয়া ব্যবসা করছে। ৭১ সালে ভারত বাংলাদেশকে স্বাধীনকরার জন্যে যে পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছিল তা বহু আগেই লাভে পরিণত হয়েছে। যতদিন বাংদেশ থাকবে ততদিন ভারতের এ মুনাফা জারী থাকবে। এছাড়া ভারতকে পূর্ব সীমান্তে লাখ লাখ সৈন্য মোতায়েন করতে হচ্ছেনা। পাকিস্তানকেও ভারত দূর্বল করে দিয়েছে। 

বারিক মিয়া সাহেবের স্কুলে আমি সিক্স পর্যন্ত পড়ি। ৫১ সালে বার্ষিক পরীক্ষা দিয়ে আমি ৫২তে ফেনী হাই স্কুলে গিয়ে সেভেনে ভর্তি হই। ৫১ সালের অক্টোবরে আমার মা আশরাফ উন নেসা মারা যান কঠোর টাইফয়েডে। তখন টাইফয়েডের তেমন ভাল চিকিত্‍সা আবিষ্কার হয়নি। ফলে মায়ের তেমন চিকিত্‍সা হয়নি। ফেনী হাই স্কুলে ভর্তি হবো বলে মা আমার জন্যে নতুন জামা কাপড় তৈরি করিয়েছিলেন। সে কাপড় পরেই আমি স্কুলে গিয়েছিলাম, কিন্তু মা তা দেখতে পায়নি। আমার প্রথম বইয়ের নাম ‘মায়ের চিঠি’। এই বইয়ের প্রকাশক ছিলেন এ দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যান্কার মুজিবুল হায়দার চৌধুরী। তিনি উদ্যোগ না নিলে ওই বইটি প্রকাশিত হতোনা। মাকে নিয়ে আমি অনেক গুলো কবিতা লিখেছি। আমার মা কিছু লেখাপড়া জানতেন। তিনি আমাকে অংক করাতেন, সেকথা মনে আছে। মায়ের গায়ের রং ফর্সা ছিল। বেশ লম্বাও ছিলেন। তিনি একজন বুদ্ধিদীপ্ত নারী ছিলেন। তবে তূলনা মূলক ভাবে একটু বেশী কড়া ছিলেন। তাঁর মারের দাগ এখনও আমার শরীরে আছে। ১৯৫০ সালের একটি ঘটনা উল্লেখ করছি। সে বছর ফেণীতে দাংগা হয়েছিল বিহারের দাংগার প্রতিক্রিয়া হিসাবে। ওই দাংগার ফলেই আমাদের উকিল পাড়ার সব হিন্দু শিক্ষক, উকিল মোক্তার দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। ফলে পুরো পাড়াটা খালি হয়ে গিয়েছিল।৪৬ সালের দাংগার কারণে গান্ধীজী নোয়াখালি এসেছিলেন। আর ৫০ এর দাংগার কারণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নবাবজাদা লিয়াকত আলী খান ফেণী এসেছিলেন।মা হচ্ছেন রামপুর পাটোয়ারী বাড়ির মেয়ে। আমার নানা কলিম উদ্দিন পাটোয়ারী। মা’র নানার বাড়ি হলো রামপুর সৈয়দ বাড়ি।বাল্যকালে মা’র সাথে সৈয়দ বাড়িতে অনেক গিয়েছি।

আমার দাদা ইয়াকুব আলী মজুমদার প্রায় সোয়াশ’ বছর আগে আনন্দপুর ইউনিয়নের পেচিবাড়ীয়া গ্রাম থেকে ফেণীতে এসে বাড়ি করেছেন। শুনেছি, কলেরায় দাদার মা বাবা দুজনই মারা গেলে তিনি ফেণী এসে তাঁর ফুফুর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন।ফুফুদের কাছেই তিনি বড় হয়েছেন এবং স্থায়ী ভাবে ফেণীতে বসবাস শুরু করেন।দাদার বাবার নাম মনসুর আলী মজুমদার। আর দাদার দাদার নাম এনায়েত উল্লাহ মাজমুয়েদার।মাজমুয়েদার একটি ফর্সী শব্দ। জানতে পেরেছি ইরাণি কালচারেল সেন্টারে ফার্সী পড়তে গিয়ে। বাংলায় পরে মজুমদার হয়ে গেছে। ইংরেজীতে এর মানে হচ্ছে ট্রেজারার বা যিনি টাকা জমা রাখেন।দাদার গ্রামের বাড়িতে আমি প্রথম গিয়েছিলাম ৫০/৬০ বছরের মধ্যে। আমার দাদীর নাম শাহাব বিবি। দাদীর বাপের বাড়ি ছিল ফেণী শহরের উপকন্ঠে রাণীর হাটের কাছে। আমি সে বাড়িতেও গিয়েছিলাম। শুনেছি তাঁর নামের সাথে মিল রেখেই আমার রাখা হয়েছিল। দাদাই নাকি আমার নাম রেখেছিলেন।আমার দাদারা আলীর গোস্ঠি বলে পরিচিত ছিলেন। সেই সিলসিলাতেই বড় জেঠা , মেজো জেঠা ও সেজো জেটার নাম ছিল ইউসুফ আলী মজুমদার, রজব আলী মজুমদার ও ফজলে আলী মজুমদার। পরের নাম গুলো আর সেই ভাবে রাখা হয়নি। আমাদের বড়িতে ইংরেজী শিক্ষার প্রচলন শুরু হয় সেজো জেঠার মাধমে। শুনেছি তিনি ১৯১৯ সালে এন্ট্রান্স বা মেট্রিক পাশ করেন প্রথম বিভাগে। এরপর তিনি বার্মা গিয়ে টেলিগ্রাফ মাস্টারের ট্রেনিং গ্রহন করেন। ট্রেনিং শেষে রেঙুনেই তিনি চাকুরীতে যোগদান করেন।ড্বিতীয় মহাযুদ্ধ শেষ তিনি চাঁটগাঁ এসে কাজে যোগ দেন। শুনেছি, আমাদের পরিবারের সেখানে গদি ছিল। আমার বাবাও বেশ কিছুদিন মৌলমিনে ছিলেন। তাঁর ধানচালের ব্যবসা ছিল। বার্মায় বাংগাল খেদাও আন্দোলন শুরু হলে ৪৫ সালের দিকে চাটগাঁ ফিরে আসেন এবং ব্যবসা শুরু করেন। বাবা নাকি একে খান সাহেবের শ্বশুর আবদুস সাত্তার খান সাহেবের সাথে পায়ে হেটে পাহাড় জংগলের ভিতর দিয়ে পালিয়ে দেশে ফিরে আসেন। খান সাহেবের স্টীমার সার্ভিসের ব্যবসা ছিল। একে খান সাহেবকেও তিনি ব্যবসায় আসার জন্যে উত্‍সাহিত করেছেন। আমার বাবা সম্বভত ৪৬ সালের দিকে ফেণী এসে ব্যবসা আরম্ভ করেন । এর আগে ৪৪/৪৫ সালের দিকে তিনি মেদিনীপুর এরোড্রাম নির্মাণের কাজ পেয়েছিলেন আরও কয়েকজন বন্ধু সহ। ঙুল ঠিকাদার ছিলেন চিয়ড়ার কেজি আহমদ ও ফরিদপুরের ওয়াহিদুজ্জমান। চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ সাহেবের বাবা সাইদুর রহমান সাহেবও নাকি মেদিনীপুরে কাজ পেয়েছিলেন। সায়েদুর রহমান সাহেব কক্সবাজারের প্রথম হোটেল সায়মনের মালিক ও প্রতিস্ঠাতা।আমার বাবা খুবই দয়ালু একজন মানুষ ছিলেন। তাঁর হিস্যা পাননি এমন আত্মীয় আমাদের খুবই কম ছিল। শেষের দিকে তিনি একটু আর্থিক অনটনে ছিলেন। বড়ছেলে বা সন্তান হিসাবে আমি পরিবারের জন্যে তেমন কিছু করতে পারিনি। আমি আসলে তেমন সাংসারিক মানুষ কখনই ছিলাম না। আমার সংসারের কর্ণধার হলেন আমার স্ত্রী নাজিয়া আখতার। তিনি সংসারের ষোলয়ানা। তিনি এক বলেই আমি তাঁর পাশে ডবল শূণ্য হিসাবে  এখনও টিকে  আছি। তিনি না থাকলে আমার জীবন শুধুই শূণ্যে ভরা থাকতো।

 ৫২ সালে  ওই স্কুলের অনেক বন্ধুই সে বছর ফেণী  হাইস্কুলে ভর্তি হয়েছিল। আমরা যখন ভর্তি হই তখন হেড মাস্টারের দায়িত্ব পালন করছিলেন বজলুর রহমান স্যার। ইনি ছিলেন ফেণী কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল রহমানী স্যারের শ্বশুর। এর কিছুদিন পরেই প্রখ্যাত পুরস্কার প্রাপ্ত শিক্ষক জালাল সাহেব হেড মাস্টার হিসাবে যোগ দেন।হেড মাস্টার জালাল সাহেবকে নিয়ে তাঁর ছাত্রদের ভিতর বহু গল্প আছে। জালাল সাহেব হেড মাস্টার হিসাবে প্রেসিডেন্ট এওয়ার্ড পেয়েছিলেন। পরে ফেনী হাইস্কুল সরকারী হয়ে যায়।সরকারী হয়ে যাওয়ার পরেও তিনি অনেকদিন ছিলেন। স্যার হেড মাস্টার হিসাবে এই স্কুল থেকেই রিটায়ার করেছেন। এক সময় আমি স্যারের খুব সমালোচক ছিলাম।তাঁকে অপছন্দ করতাম। পরে আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। সত্যি হেড মাস্টার জালাল সাহেবের মতো ওই রকম হেড মাস্টার সারা পাকিস্তানে মাত্র কয়েকজন ছিলেন। এখন আর সেই ধরণের হেড মাস্টার দেখা যায়না। জালাল স্যারের কথা বলতে গেলে একটা বই হয়ে যাবে। হা্ি স্কুলের অনেক স্যারের কথা এখনও মনে আছে। তাঁরা হলেন মণীন্দ্র চক্রবর্তী, অমিয় চক্রবর্তী, আলম সাহেব,রৌফ সাহেব, সাত্তার সাহেব,রোহিণী কর। স্কুলের প্রথম দেয়াল পত্রিকার সম্পাদক ছিলাম আমি আর আমার সহযোগী ছিলেন কবি শামসুল ইসলাম। সাত্তার স্যার ছিলেন সভাপতি। পত্রিকার নাম সম্ভবত আলো ছিল। একবার আমরা ছাপিয়ে আলো প্রকাশ করেছিলাম। ছাপার অক্ষরে প্রকাশনার সেই আনন্দের কথা আজও ভুলতে পারিনি। কাজী গোলাম রহমানের সাথে আমার প্রাইমারী স্কুল থেকেই পরিচয়। তার বোন কিরণও আমাদের সাথে পড়তো। সেই সময় রামপুর সওদাগর বাড়ির রোকেয়া, রওশন আরা, ডাক্তার করিম সাহেবের মেয়ে শেলী আমাদের সাথে পড়তো।

Advertisements

Read Full Post »


ক’দিন আগে খবরের কাগজে আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও গ্রাম উন্নয়ন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ সাহেবের একটি বিবৃতি বা বাণী পড়েছি এবং অবাক ও বিস্মিত হয়েছি। সৈয়দজাদা আশরাফ বলেছেন, কবিগুরু ও কাজী নজরুল দু’জনেই বংগভংগের বিরোধীতা করেছেন। আমাদের সমাজে সৈয়দদের আমরা খুবই সম্মান করি, সে সৈয়দ কালা হোক আর সাদা হোক। সত্যিকারের সৈয়দরা সত্যিই সম্মানের পাত্র। এর উপরে রয়েছে সৈয়দ সাহেবের নাম আশরাফ। আমার মায়ের নামও আশরাফ উন নেসা। তাই এ নামটির প্রতি আমার দূর্বলতা আছে। বুঝতেইতো পারেন আশরাফের কোলে আমার জন্ম। তাই আশরাফদের কেউ গালমন্দ করলে আমি খুবই ব্যথিত হই। আশরাফ সাহেবের বাবার সাথেও আমার পরিচয় ছিল। তাঁকেও আমি খুবই সম্মান করতাম। তিনি খুবই বিনীত ভদ্রলোক ছিলেন।তিনিইতো মুজিব নগর সরকারের প্রথম নির্বা্হী রাস্ট্রপতি ছিলেন। বংগবন্ধুর নামে সেই সরকার চলতো। অনেকটা রামের বনবাসে পাদুকা রেখে ভরতের রাজ্য শাসন।সৈয়দ আশরাফকেও আমার প্রথম প্রথম বিনীত মনে হয়েছে। তিনি দীর্ঘকাল বিদেশে ছিলেন বিদেশী স্ত্রী নিয়ে। রাজনীতি করতেন বলে আমরা জানিনা। হঠাত্‍ তিনি দেশে এলেন এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী হয়ে গেলেন। একেবারেই আলাদীনের চেরাগ হাতে পেয়ে যাওয়া। চলমান আওয়ামী লীগে এ রকম আরও অনেকেই আছেন যাদের কেউ চিনতোনা। মনে হয়, সুরণ্জিত বাবু একবার বলেছিলেন, কচি কাঁচার আসর। জীবনে কখনও ৫শ’ হাজার ভোট পাননি এমন লোকও এখন মন্ত্রী এমপি। সংসদীয় গণতন্ত্রে নাকি এ রকম হয়। প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছে করলে কচি কাঁচার মেলা গঠণ করতে পারেন।

যা হোক আলোচনাটা শুরু করেছি, বংগভংগের ইতিহাস নিয়ে। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুলও নাকি বংগভংগের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। আমাদের প্রিয় কবি আসানসোলের চুরুলিয়াতে জন্ম গ্রহণ করেছেন ১৮৯৯ সালে। ১৯০৫ সালে নজরুলের বয়স ছিল ছ’ বছর। তখন রবীন্দ্রনাথের বয়স ৪৫ বছর। ১৯১৩ সালে কবিগুরু গীতাজ্ঞলীর ইংরেজী অনুবাদের জন্যে নোবেল পুরস্কার পান। সৈয়দজাদা কিভাবে জানলেন, নজরুল ছ’বছর বয়সে বংগভংগের বিরোধিতা করেছিলেন। হয়ত এটা আশরাফের কল্পনা। হয়ত তিনি  ভাবতে  চান যে, নজরুল বংগভংগের বিরোধিতা করুক।নোবেল নিয়েও সৈয়দ আশরাফ নতুন থিউরী দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, স্যান্ডউইচ আর হোয়াইট ওয়াইন খাওয়ালেই নাকি নোবেল পাওয়া যায়। তিনি আরও জানতে চেয়েছেন  ড. ইউনুস কিভাবে শান্তিতে নোবেল পেলেন? তিনিতো কোন যুদ্ধ থামাননি।  এ থেকে প্রমানিত হলো যে আওয়ামী লীগের মনো জগত  ১৯০৫ সালের বংগভংগের ব্যাপারে কবিগুরুর চিন্তাধারার সাথেই রয়েছে। এর আগে সৈয়দ আশরাফ বলেছিলেন, তিনি কোন ধর্মে বিশ্বাস করেননা। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ দল হিসাবে কোন প্রতিবাদ বা ব্যাখ্যা দেয়নি। এর মানে হচ্ছে , সেয়দ আশরাফের বক্তব্যকে আওয়ামী লীগ সমর্থন করে। চলমান সরকার শুধু স্যেকুলার বা ধর্মহীন নয়, তারা ধর্মহীন বিবাহ বন্ধনের ব্যবস্থাও করেছে। এই বিবাহ বন্ধনে কোন ধরনের ধর্মীয় ব্যবস্থা থাকবেনা। এ ধরনের দম্পতির সন্তানদের কোন ধর্ম থাকবেনা। আমরা চলমান সরকারের নানা কর্মকান্ডে ইতোমধ্যেই জানতে পেরেছি আওয়ামী লীগ একটা ধর্মহিন সমাজ প্রতিস্ঠা করতে চায়।

বংগবন্ধুর আমলে তাঁর এক মন্ত্রী মহারাজ ত্রৈলোক্যনাথের মৃত্যু বার্ষিকীতে প্রধান অতিথি ছিলেন। ভাষণ দেয়ার সময় তিনি বললেন, মহারাজ একজন বড় মাপের মন্ত্রী ছিলেন। পরে জানলাম যে মহারাজ মুক্তিযুদ্ধের বহু আগেই ধরাধাম ত্যাগ করেছেন। টাঙাইলের কোন এক আওয়ামী নেতা নাকি বক্তৃতার সময় বলেছিলেন তিন কোটি শহীদের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। তাঁকে শুদ্ধ করে দেয়ার জন্যে কোন এক বন্ধু চেস্টা করলে তিনি আরও ক্ষ্যাপে যান এবং বলেন, আমি বংগবন্ধুর সৈনিক একবার যখন বলেছি সেটা আর বদলাতে পারবোনা। জাতীয় সংসদে একবার শাহ আজিজ সাহেব আওয়ামী লীগের এক সংসদ সদস্যের দৃস্টি আকর্ষন করে বলেছিলেন, ‘মাই ফ্রেন্ড ইজ এ্যা গেরুলাস স্পীকার’। এর প্রতিবাদ করার জন্যে ওই ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন, মাননীয় স্পীকার আমাকে গরিলা বলা হয়েছে। এতে সংসদে হাসির রোল পড়ে যায়। নজরুলের উপর আয়োজিত এক সেমিনারে এক আওয়ামী লীগ নেতা নাকি বলেছেন, নজরুল নাকি বংগবন্ধুর বন্ধু ছিলেন। তাই দেশ স্বাধীন হওয়ার পরই বংগবন্ধু নজরুলকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। ক’দিন আগে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছে, নজরুল আর বংগবন্ধু দু’জনই বিপ্লবী ছিলেন। বংগবন্ধু নিজেও এ রকম কথা বলতেন। একবার তিনি শ্রদ্ধেয় মনি সিংকে ডেকে বললেন, এদেশে  সমাজতন্ত্র কায়েম করতে হলে আমিই করতে পারবো। এ কথা শুনে মনি সিং হেসে উঠলেন।এ রকম আরও বহু গল্প উল্লেখ করা যেতে পারে।

প্রসংগত একটু পেছনের কথায় ফিরে যেতে চাই। নজরুল আর রবীন্দ্রনাথ দু’জনই কোম্পানী আমলের কবি। এই দুই মহান পরিবারের উত্থান ও পতন হয়েছে কোম্পানী আমলে। কবিগুরুর পরিবার কোম্পানীর আনুকূল্য পেয়ে অতি সাধারন পরিবার থেকে উঠে এসে জমিদারি লাভ করেছেন। আর নজরুলের পরিবার সামাজিক ও আর্থিক ভাবে অতি উচ্চ অবস্থান থেকে পতিত হয়ে সাধারন পরিবারে পরিণত হয়। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী পাটনা দখল করলে নজরুলের পরিবার  নিজেদের পরিচয়  গোপন করে বর্ধমানের চুরুলিয়ায় এসে বসবাস করতে শুরু করেন। শোনা যায়, ১৭৬৫ সালে নজরুলের এক পূর্ব পুরুষ পাটনার প্রধান কাজী ছিলেন। ওই একই বছর কবিগুরুর এক পূর্ব পুরুষ উড়িষ্যার দেওয়ানীতে আমিনগিরির চাকুরী পান। কবিগুরুর জীবনীকার প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায় লিখেছেন, নীলরতন উড়িষ্যার দেওয়ানীতে আমিনের চাকুরী পেয়ে দু’পয়সা কামিয়ে নিলেন। সে সময়ে চলছিলো পাটনার সম্ভ্রান্ত মুসলমানদের নিধন যজ্ঞ। এ কারণেই পাটনার প্রধান কাজী( প্রধান বিচারক ) নিজের পরিচয় গোপন করে বরধমানে আসেন। নজরুলের পরিবার বা ইতিহাস নিয়ে তেমন কোন গবেষণা হয়নি। আমাদের দেশে আপনারা যাদের নজরুল গবেষক হিসাবে চিনেন তাঁর কেউই নজরুলের জীবনী নিয়ে গবেষণা করেননি। এর কারণ কি আমি ঠিক বুঝতে পারিনা। নজরুলের পূর্ব পুরুষ যদি পাটনা থেকে বর্ধমান এসে থাকেন ১৭৬৫ সালে তাহলে পেছনের ইতিহাসটা জানতে অসুবিধা কোথায়? যারা নজরুল ভক্ত তাঁরাও এ নিয়ে মাথা ঘামান না। আমি শুনেছি, পাটনার হাজীপূরের কাজী বাড়িই ছিল কবির পূর্ব পুরুষদের বাড়ি। সে বাড়ি এখনও আছে। পাটনা থেকে বাসে সরাসরি হাজীপুর যাওয়া যায়। সম্প্রতি আমার এক বন্ধু জানালেন যে, নজরুলের উপর পশ্চিম বংগে প্রতি বছর কয়েক শ’ সংকলন প্রকাশিত হয়। আমাদের এখানে তামন হয়না, যদিও তিনি আমাদের জাতীয় কবি। হয়ত এটা রাজনীতি। জমিদার রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে সরকার এবং তার তল্পীবাহকদের সারা বছরই উত্‍সব লেগে থাকে। এর জন্যে অর্থের জোগানদার হলো মোবাইল ও বিদেশী কোম্পানী গুলো। কোম্পানী আমলে শুধু মুসলমান বলে যে কবি পরিবারের পতন হলো তাকে নিয়ে আমরা কোন গবেষণা করতে পারিনা। গবেষণা করি খুলনার অজানা অচেনা এক কুশারী পরিবার নিয়ে। যারা মানুষকে শোষন করে বিত্তবান হয়েছে এবং ইংরেজের তোষণ করে জমিদারী লাভ করেছেন। জমিদার রবীন্দ্রনাথ এবং প্রিন্স দ্বারকানাথকে আমি বহুবার একথা গুলো লিখেছি। কবি রবীন্দ্রনাথ আমাদের প্রাণের ধন। তিনি আমাদের মহা সম্মানিত আপনজন। তিনিই সারা বিশ্বে বাংলাভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন। কিন্তু জমিদার, সওদাগর, সূদী মহাজন হিসাবে তিনি ততধিক সমালোচিত আমাদের কাছে। এটাকেইতো বলা হয় মানবিক সীমাবদ্ধতা। তাঁ কবিতা ও কবিত্ব শক্তিকে বাংলাভাষীরা চিরজীবন সম্মান ও শ্রদ্ধা করবে। কিন্তু তাঁর জমিদারীর ইতিহাস অতীব করুণ। জমিদার হিসাবে তিনি ছিলেন একজন প্রথম শ্রেণীর শোষক। তিনি বংগভংগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিস্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন তাঁর জমিদারীর স্বার্থে। তিনি নিজ জমিদারী এলাকায় একটি স্কুল প্রতিস্ঠা করতেও রাজী হননি। উপেনের দুই বিঘা জমিটিও তিনি কিনে নিয়েছিলেন। পরে তাঁর কবি মনের কস্ট থেকে তিনি দুই বিঘা কবিতাটি লিখেছিলেন।আমি যা বলছি তা সবই লেখা রয়েছে কবিগুরুর জীবনীতে। অপরদিকে নজরুল ছিলেন বিপ্লবী ও বিদ্রোহী। নজরুল জেলে গিয়েছেন। তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা নিষিদ্ধ করা হয়। বিদ্রোহ ছিল তাঁর রক্তে। নজরুলের রাজবন্দীর জবানবন্দী পড়লে আদালতে  সক্রেটিসের জবানবন্দীর কথা মনে পড়ে। শুখবর হলো, দুই হাজার বছর পর গ্রীসের সরকার সেই রায়কে বাতিল ঘোষণা করে সক্রেটিসকে অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছে। নজরুলের বিরুদ্ধে বৃটিশের আদালত যে রায় দিয়েছিল তা বাতিল করার সময় এসে গেছে। বরং ঘোষণা করতে হবে নজরুল স্বাধীনতার অন্যতম প্রধান প্রাণ পুরুষ। আমি মনে করি এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের এখনি উদ্যোগ নেয়া দরকার। কবিগুরু ভারতের স্বাধীনতার ব্যাপারে তেমন কোন জোরালো ভূমিকা পালন করেননি। আমার এ বক্তব্যের প্রতিবাদে অনেকেই কবির লেখা উল্লেখ করে বলবেন কবিগুরু স্বাধীনতার জন্যে অনেক লিখেছেন। আমি তবুও বলবো, তিনি নজরুলের মতো করেননি। অত সাহস দেখাবার মতো তাঁর সুযোগও ছিলনা। কারণ তিনি সমাজের উচ্চ স্তরের একজন জমিদার ছিলেন। আগেই বলেছি কবিগুরুর পরিবার সরাসরি ইংরেজ শাসনের বেনিফিসিয়ারী বা ইংরেজকে সমর্থন করেই তাঁরা সম্মানিত হয়েছেন। অপরদিকে নজরুল  পরিবারের পতন হয়েছে ইংরেজ আগমনের ফলে। ধন সম্পদ, মান সম্মান সবই হারিয়েছেন তাঁরা ইংরেজ আমলে।

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলকে এখন আওয়ামী লীগের আর প্রয়োজন নেই। রবীন্দ্রনাথকে সম্মান দেখালে আওয়ামী লীগ নানা সুযোগ সুবিধা পাবে। ভারত রাজনৈতিক কারণেই রবিন্দ্র ভক্ত, একই কারণে আওয়ামী লীগও রবীন্দ্রনাথের পূজারী। নজরুল বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের প্রতিনিধি কবি। এমন একজন মানুষের পক্ষে কথা বলার মতো তেমন সরকার বাংলাদেশে প্রতিস্ঠিত হয়নি। নজরুল ইন্সটিটিউট আছে, কিন্তু সেই ইন্সটিটিউটকে তেমন কোন অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়না। এ অবস্থা সকল আমলেই ঘটেছে। বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী শক্তিও নজরুলের তেমন মূল্যায়ন করতে পারেনি। নজরুলকে একজন আন্তর্জাতিক কবি হিসাবে তুলে ধরার জন্যে কোন মহলই কখনই কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। কবি মজিদ মাহমুদের একটি গবেষণা গ্রন্থ আছে টাইটেল বা শিরোনাম হচ্ছে, নজরুল তৃতীয় বিশ্বের মুখপাত্র। আমি মজিদ মাহমুদের সাথে একশ’ ভাগ একমত। বিশ্বের যেখানেই নিপীড়িত মানুষ আছে সেখানেই নজরুল আছে।

নজরুল নিজেই বলেছেন,

মহা বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত

আমি সেইদিন হবো শান্ত,

উত্‍পীড়িতের ক্রন্দন রোল আকাশে-বাতাসে ধ্বনিবেনা

বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত

আমি সেইদিন হবো শান্ত।

বিশ্বব্যাপী এখনও শত শত কোটি লোক শোষিত। যারা এ শোষণ অব্যাহত রেখেছে তারাই আবার এ বিশ্বের নেতা। তারাই মানুষকে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মানব কল্যাণের উপদেশ দেয়। এই শোষিত গণমানুষের কথাই সারা জীবন নজরুল বলে গেছেন। নজরুল আছে ফিলিস্তিনে, কাশ্মীরে, আফগানিস্তানে, সুমালিয়ায়, সুদানে। আর নজরুল আছে বাংলাদেশের শোষিত মানুষের হৃদয়ে।নজরুলই বাংলা ভাষার প্রথম ও প্রধান কবি গণমানুষের পশে কথা বলতে গিয়ে বিদেশী শাসকের রোষে পড়েছিলেন। জাতীয় কবি হয়েও আজও  নজরুল অবহেলিত। আমাদের রাস্ট্র ও রাস্ট্রের ক্ষমতাবান মানুষগুলো রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে যা করেন নজরুলের জন্যে তার সিকি ভাগও করেননা। রাস্ট্রীয় নেতারা মনে করেন, নজরুলকে বেশী গুরুত্ব দিলে সমাজে বিপ্লব বিদ্রোহ দেখা দিতে পারে। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো গণবিদ্রোহকে ভয় পায়। আওয়ামী লীগ সংখ্যালঘু মানসিকতায় এক মহা বিভ্রান্তিতে আছে। কোন এক অদৃশ্য কারণে আওয়ামী লীগ সংখ্যালঘুদের পার্টিতে পরিণত হয়েছে। তথাকথিত স্যেকুলার বুদ্ধিজীবী ও মাইনরিটিকে তোষণ করতে করতেই আওয়ামী লীগের দিন কাটে। শুধু মাত্র সংখ্যালঘু আর সংখ্যালঘু মানসিকতার কিছু মানুষকে তুস্ট করার জন্যেই আল্লাহু আকবর না বলে আল্লাহ সর্বশক্তিমান বলে। বিসমিল্লাহ না বলে পরম করুণাময় স্রস্টার নামে শুরু করছি। এসব আওয়ামী লীগকে শিখিয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি ও সাবেক প্রধান উপদেস্ট হাবিবুর রহমান সাহেব। তিনি প্রধান উপদেস্টা হয়ে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম বলতেননা। তিনি চালু করেছিলেন আল্লাহ সর্বশক্তিমান। এসব বাক্য নাকি ধর্ম নিরপেক্ষ বা স্যেকুলার। বাংলা ভাষায় হাজার হাজার আরবী উর্দু ও ফার্শী শব্দ আছে। এসব শব্দ বাংলা হয়ে গেছে। অনুবাদ করলে সাধারন মানুষও বুঝতে পারেনা। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল তাঁর কবিতায় বহু আরবী ফার্শী শব্দ ব্যবহার করেছেন। তাঁর খানদানী পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণেই তিনি ওয়ারিশানা সূত্রেই আরবী ফার্শী শব্দ পেয়েছেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথও ধর্মীয় ও পারবারিক ঐতিহ্যের কারণে বেদ উপনিষদের নানা শব্দ ও টিকা ব্যবহার করেছেন। রবীন্দ্রনাথ ইচ্ছা করেই আরবী ফার্শী শব্দ পরিহার করেছেন। কিন্তু নজরুল শ্যামা সংগীত রচনা করেছেন। হিন্দু ধর্মের বহু দেব দেবীর নাম ব্যবহার করেছেন নিজ কবিতা , প্রবন্ধ ও নিবন্ধে। নজরুল সত্যিকার অর্থেই একজন মানবতাবাদী স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন। স্বাধীনতার জন্যে লড়াই করা ছিল তাঁর রক্তে। কারণ, ইস্ট ইন্ডিয়া বা ইংরেজরা বংগদেশ তথা ভারত দখল করলে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল নজরুলের পরিবার সহ আরও বহু নামজাদা মুসলমান পরিবার। অখন্ড ভারতের অন্যতম প্রধান কবি মির্জা গালিব তাঁর স্মৃতি কথায় লিখেছেন, ১৮৫৮ সালে ইংরেজরা দিল্লী দখল করে নির্বিচারে হত্যা করেছিল সম্ভ্রান্ত মুসলমান পরিবার গুলোকে। ফলে এক সময়ে দিল্ড মুসলমান মুক্ত শহরে পরিণত হয়েছিল। গালিব লিখেছেন, কারফিউ থাকার ফলে তিনি বেশ কিছুদিন ঘর থেকে বের হতে পারেননি। রাত পেরোলে সকাল বেলা জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখতেন গাছগুলোতে নামজাদা মুসলমান নেতাদের লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সমস্যা হলো দলটির নেতারা নিজেদের মুসলমান ঐতিহ্যের ওয়ারিশ মনে করেননা। তাঁরা মনে করেন না এক সময় বংগবন্ধু ও সৈয়দ নজরুল মুসলমানদের অধিকার ও পাকিস্তানের জন্যে লড়াই করেছিলেন। সৈয়দ আশরাফতো বলেই ফেলেছেন তিনি হিন্দুও নন মুসলমানও নন। পাকিস্তান সৃস্টির কারণেই এক সময় পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যবিত্ত মুসলমান নেতারা আওয়ামী মুসলীম লীগ গঠন করতে পেরেছিলেন। সেই আওয়ামী মুসলীম লীগই পরবর্তী পর্যায়ে আওয়ামী লীগ হয়েছে। বর্তমান আওয়ামী লীগের সাথে মূল আওয়ামী লীগের আদর্শগত কোন মিল নেই। বিশ্বের সেরা ম্যাগাজিন বিলেতের ইকনমিস্টতো বলেই দিয়েছে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এক বিপদজনক অবস্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সত্যিইতো শেখ হাসিনা তাঁর ইতিহাস ঐতিহ্য একেবারেই ভুলে গেছেন বা ইচ্ছা করেই পরিহার করেছেন। তিনি যে ধরণের বাংলাদেশ বানাতে চান তা একমাত্র দিল্লীর চাহিদা। বংগবন্ধু বেঁচে থাকলে দিল্লী কখনই এ ধরণের চাপ বাংলাদেশের উপর সৃস্টি করতে পারতোনা। এর প্রমাণ আমরা পেয়েছি বংগবন্ধুর পাকিস্তানের লাহোরে ৭৪ সালে অনুস্ঠিত ওআইচি সম্মেলনকে কেন্দ্র করে। ভারতের বিরোধিতা সত্বেও বংগবন্ধু সেই সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। বংগবন্ধু নিজেই বলেছেন, আমি বাংগালী, আমি মুসলমান। তিনি নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন তিনি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলীম রাস্ট্রের রাস্ট্রপতি। কিন্তু বর্তমান আওয়ামী লীগ বংগবন্ধুর নীতিতে নেই। তথাকথিত কিছু ধর্মহীন স্যেকুলার প্রগতিশীলতার নামাবলী পরা লোকের পাল্লায় পড়ে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। শুধু মাত্র ক্ষমতায় থাকার জন্যে দিল্লীর নির্দেশেই শেখ হাসিনা এসব করছেন। আমি বিশ্বাস করি সারাদেশের আওয়ামী নেতা ও কর্মীরা হাসিনার গোপন বিষয় এজেন্ডা সম্পর্কে অবগত নয়। বাংগালী মুসলমান হওয়ার ব্যাপারে আওয়ামী লীগের আপত্তি আছে। ভারতেরও এ ব্যাপারে আপত্তি আছে। ভারত চায় আমরা বাংলাদেশীরা শুধুই বাংগালী থাকি বা শুধুই বাংগালী হয়ে যাই। ৭০ সালে বংগবন্ধু যদি বলতেন, আমরা শুধু বাংগালী হতে চাই, মুসলমানিত্ব পরে, তাহলে তাঁকে কেউই ভোট দিতোনা। পাকিস্তানীদের সাথে আমাদের ধর্ম নিয়ে কোন বিরোধ ছিলনা। বিরোধ ছিল অর্থনৈতিক ও বৈষম্যের। তাই বংগবন্ধু অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার জন্যেই ছয় দফা দিয়েছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানীরা মানলোনা ।ফলে সংকট ও সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। এই সংকট ও সংঘর্য সৃস্টির পেছনে যড়যন্ত্র ছিল ভুট্টো ও ইন্দিরা গান্ধীর। পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন হয়ে বাংলাদেশ আলোচনার টেবিলেই হতে পারতো। সেই আলোচনার পথ ভুট্টো ও সামরিক জান্তা বন্ধ করে দিয়ে বংগবন্ধুকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠায়। বংগবন্ধুকে জেলে পাঠিয়েই পাকিস্তানী সামরিক জান্তা, ভুট্টো ও ইন্দিরা গান্ধী আলোচনার সকল পথ বন্ধ করে দেয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানকে দ্বিখন্ডিত করা, ভুট্টোর লক্ষ্যও তাই ছিল। ফলে ভুট্টো খন্ডিত পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হতে পেরেছিলেন। নিরস্ত্র বাংগালীদের উপর ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানী সামরিক জান্তা আক্রমণ করেই পাকিস্তানের কবর রচনা করে। বাংগালীরা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে পাকিস্তানী সেনা বাহিনীকে মোকাবিলা করলো। মেজর জিয়া চট্টগ্রাম বেতার থেকে বংগবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন। সেই ঘোষণাই বাংগালী জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করলো। সেই ঘোষণা শুনেই দেশবাসী মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। বিদ্রোহী কবি নজরুল আর মেজর জিয়া দুজনই স্বাধীনতার মহান সৈনিক। একজন বৃটিশের বিরুদ্ধে কলম পরিচালনা করেছেন, আরেকজন পাকিস্তানী জান্তার আক্রমণকে প্রতিহত করার জন্যে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে নিজেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ ও ভারত  মনে করে ভারতের সাহায্য ও সহযোগিতা না পেলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতোনা।

লেখক: কবি ও সাংবাদিক

ershadmz40@yahoo.com

Read Full Post »


আল্লাহর রাসুল হজরত মোহাম্মদ(সা) বলেছেন, জ্ঞান অর্জনের জন্যে তোমরা সুদূর চীন দেশ পর্যন্ত যাও। মুসলমান নরনারীর জন্যে জ্ঞান অর্জন ফরজ বা অবশ্য কর্তব্য। আল্লা্পাক নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন, পর তোমরা তোমাদের প্রভুর নামে। এটাই হলো পবিত্র কালামে পাকের প্রথম বাণী মানব জাতির জন্যে। আল্লাহর রাসুল(সা) বলেছেন, তোমরা যতদিন আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাতকে বুকে ধারণ করবে ততদিন দুনিয়ার ইমামত তোমাদের কাছে থাকবে। সেই ইমামত এখন মুসলমানদের হাতে নেই। বরং মুসলমানরা দরিদ্র ও অশিক্ষিত হয়ে পড়েছে। চলমান বিশ্বে মুসলমানরা সবচেয়ে বেশী অপমানিত ও নির্যাতিত। কারণ তারা জ্ঞানের পথ ছেড়ে অন্যপথে চলতে শুরু করেছে। বলা হয় সারা বিশ্বে এখন ১৫০ কোটি মুসলমান আছে। আসলে এই সমখ্যাটি শুধুই একটি সংখ্যা। এই সংখ্যা ইতিবাচক বা গুণবাচক কিছুই বুঝায়না। রাসুলের জামানায় তিনশ’ মুজাহিদ  এক হাজার অবিশ্বাসীকে পরাজিত করেছে। খলিফাদের জামানায় অর্ধেক পৃথিবী মুসলমানদের অধিকারে এসেছিল। মুসলমানরাই সারা বিশ্বে জ্ঞান ছড়িয়ে দিয়েছিল। এখনতো আমাদের সন্তান এবং নতুন প্রজন্মের নাগরিকরাতো বিশ্বাসই করতে চায়না এক সময় মুসলমানরা বিশ্বব্যাপী জ্ঞান বিস্তার করেছে। এক সময় মুসলমানরা যে অর্ধেক বিশ্বকে শাসন করেছে।যখন বলি বাংলাদেশ এক সময় সুজলা সুফলো ছিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সওদাগররা আসতো এই দেশে ব্যবসা করার জন্যে। আজ বাংলাদেশ একটি গরীব নিরক্ষরের দেশ। কেমন করে নতুন প্রজন্ম বিশ্বাস করবে এই দেশটা সুজলা সুফলা ছিল। সন্তানেরা বলে, তোমরা অতীতের ভিতর নিজেদের লুকিয়ে রেখনা, ভবিষ্যত নিয়ে ভাবো। ভাবো কেমন করে নিরক্ষরতা আর দারিদ্র দূর করবে। কেমন করে মালয়েশিয়া সিংগাপুর তাইওয়ান দক্ষিণ কোরিয়া নিজেদের দারিদ্র দূর করেছে।ইসলাম কখনই দারিদ্র ও অশিক্ষাকে সমর্থন করেনা । তাহলে মুসলমাদের আজ এই দূরাবস্থা কেন এই প্রশ্ন আসতেই পারে । এ ব্যাপারে মুসলমান স্কলারদের কি উত্তর আমি জানিনা। আমিতো মনে করি মুসলমানরা সঠিক পথে নেই। ১৫০ কোটি নামের মুসলমান। আরবী নাম থাকলেই কেউ মুসলমান হয়ে যায়না। স্বাভাবিক ভাবেই ইমানের প্রশ্ন এসে যায়।

ইমানের সাথে বিদ্যা বিশ্বাস এবং জ্ঞান অর্জনের বিষয়টি এসে যায়। আমি মসজিদে বহু গরীব মুসল্লীকে দেখেছি যারা নামাজের কিছুই জানেন না। কিন্তু নিয়মিত মসজিদে আসেন বিশ্বাসের কারণে। অন্যদের দেখে দেখে নামাজ পড়েন। এমন মুসলমানদের নিয়েই জগতে এখন ১৫০ কোটি মুসলমান। ফলে ঈমানের দূর্বলতা থেকেই যায়। আমিতো মনে করি শুধু সংখ্যা বন্দী মুসলমান দিয়ে চলমান বিশ্বে মুসলমান বা ইসলাম কোন অবদান রাখতে পারবেনা।মালয়েশিয়ার মুসলমান নেতৃত্ব  বিশ্ববাসীকে দেখিয়েছে  মুসলমানরা   দেশ  ও জাতির খেদমত করে উন্নতি সাধন করতে পারে। মহাথির মেহাম্মদ   বিশ্ববাসীকে দেখিয়েছে মুসলমানরা পারে। আরব বিশ্বের কথা বাদ দিলাম।সেখানে ইসলামও নেই মানবতাও নেই। সেখানে কিছু মুসলমান নেতা জনগণের ধন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। আল্লাহপাক বহু আরব দেশকে ধন সম্পদ দিয়েছেন তাদের প্রতি সদয় হয়ে। কিন্তু তারা সেই সম্পদকে যথেচ্ছা ব্যবহার করছেন ইসলামের বিধানের বিরুদ্ধে। অথচ তারা নিজেদের মুসলিম উম্মাহর খাদেম বা নেতা বলে দাবী করেন। এই আরব নেতারা দীর্ঘদিন ধরে ইহুদীদের প্রভাবান্বিত খৃস্ট নেতাদের পদলেহন করে আসছে। আজ তারা পশ্চিমা নেতাদের দ্বারা পদদলিত ও অপমানিত। আমেরিকার নেতৃত্বে পশ্চিমারা আজ যে ইসলাম বিরোধী অভিযান চালিয়েছে সেই অভিযানকে সমর্থন দিয়ে চলেছে আরব নেতারা।আমেরিকা এবং তার বন্ধুদের প্রধান টার্গেট এখন ইসলাম। মুসলমানদের সন্ত্রাসী হিসাবে চিহ্নিত করে সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ ঘোষণা করেছে জুডিও খৃস্ট নেতারা।আর মুসলমানরা মার খাচ্ছে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত। এমন কি আমেরিকা বা জুডিও খৃস্ট নেতাদের সাথে সুসম্পর্ক ও বন্ধুত্ব রাখার জন্যে নিজদেশের মুসলমানদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে। ইসলামের চর্চা করেন বা ইসলামী জীবন যাপন করেন এমন লোকদের মৌলবাদী বা সন্ত্রাসী বলা হচ্ছে। আমেরিক ও তার বন্ধুরা এ কাজের জন্যে বিভিন্ন দেশের সরকার গুলোকে অর্থ সরবরাহ করছে। বাংলাদেশও তেমন অর্থের হিস্যাদার। পুলিশতো এখন হাতে ধর্মীয় পুস্তক দেখলেই পিটায়, গ্রেফতার করে। এক সাথে একদল  একদল মাদ্রাসা ছাত্র দেখলেই বলে ওরা ষড়যন্ত্র করছিলো। বা নাশকতামূলক কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। আমাদের বাংলাদেশে এসব এখন হরহামেশাই হচ্ছে। চলমান সরকারের কাঁধে স্যেকুলারিজম বা ধর্ম নিরপেক্ষতার ভুত চেপে বসেছে। ধর্ম নিরপেক্ষতার সাইনবোর্ড ঝুলালে জুডিও খৃস্ট নেতারা টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য  করে।

এইতো ক’দিন আগে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বললেন, ইসলামের নামে যারা সন্ত্রাস করে তারা মুসলমান নয়।একথা পশ্চিমের সব নেতাই বলছেন। সন্ত্রাস দমনের নাম করে পশ্চিমারা বাংলাদেশের মতো দেশ গুলোতে সরকারকে টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য করছে। পশ্চিমা প্রোপাগান্ডার ফলে মনে হয় ইসলাম সন্ত্রাস আর মুসলমান এক শব্দ হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে দিল্লী ওয়াশিংটন লন্ডন প্যারিস যা বলে আমাদের সরকারও বলে। আমাদের দেশে ১৫ কোটি মুসলমান। আমাদের দেশে স্যেকুলার(ধর্মহীন), জাগতিক, পরকালে বিশ্বাস করেনা এমন একটা গোষ্ঠি আছে যারা রাস্ট্রকে স্যেকুলার বানাতে চায়। আবার অনেকেই  আছেন যারা বলেন, স্যেকুলার মানে ধর্ম ব্যক্তিগত ব্যাপার,এতে রাস্ট্রের কিছু করার নেই। রাস্ট্র স্যেকুলার থাকবে আর জনগণ নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে। সোজা কথায় রাস্ট্র কোন ধর্মের পক্ষে থাকবেনা। আরেক গ্রুপ আছে যারা বলেন , সমাজ ধর্মহীন থাকবে। শুধু ব্যক্তি নিজের উদ্যোগে ধর্ম পালন করবে। তারা জানে যে , বাংলাদেশ একটি  সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান দেশ। দেশের ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমান। আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি সেজন্যে আমরা বাংগালী। কিন্তু আমাদের দেশের বা রাস্ট্রের নাম বাংলাদেশ তাই আমরা বাংলাদেশী। এ ব্যাপারে স্যেকুলারিস্ট বা ধর্মহীনদের( এদের সংখ্যা হয়ত কয়েক হাজার হবে। তবে এরা প্রভাবশালী। এরা অফিস আদালত, স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে আছে। আদালতে কোরাণ ও সুন্নাহর বিরুদ্ধে রায় দেয়। এরা ইসলাম বিরাধী নারী অধিকার পাশ করাবার জন্যে উঠে পড়ে লেগেছে। এরা পশ্চিমা ধাঁচের নারী স্বাধীনতা চায়। এরা নারীদের পর্দা বিরোধী। এরা পশ্চিমা অর্থে লালিত পালিত এনজিওদের পয়সায় জীবন ধারন করে। এরা পশ্চিমাদের খেদমত করে স্যার উপাধি সংগ্রহ করে আর কিছুলোক এদের বাহবা দেয়। আমি নিজেও অনুভব করি ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে মুসলমানরা মাইনরিটি হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি অনেকদিন থেকেই চলছে। বিএনপি- জামাত আমলেও এর কোন পরিবর্তন হয়নি। তারা কোন বিপ্লবী বা সংস্কারবাদী দল নয়। তাছাড়া বাংলাদেশ কোন ইসলামী রাস্ট্র নয়। এদেশের আইন কানুন কিছুই ইসলামী নয়। এদেশের মুল আইন হলো বৃটিশ কলোনিয়াল আইন। একানকার পারিবারিক আইন গুলো কিছুটা ধর্ম ভিত্তিক। এখানকার সংসদের উত্‍পত্তিও পশ্চিমা ধারণা থেকে উদ্ভুত হয়েছে।

এইতো দেখুন না, জাতীয় সংসদ আর উচ্চ আদালতের ভিতর এখন খুব জোরে শোরে ঠোকাঠুকি চলছে। কে বড়? কে আর উপর খবরদারি করবে। খুব মজার ব্যাপার আমরাতো এতদিন শুনে এসেছি সংসদ সার্বভৌম। যদিও কোরাণ বলে আল্লাহই সার্বভৌম। জগতে কোন কিছুই সার্বভৌম নয়। সবকিছুই আল্লাহপাকের অধীন। মানুষই যেখানে সার্বভৌম নয় সেখানে মানুষের তৈরি সংসদ কিভাবে সার্বভৌম হয়? প্রসংগত এখানে মাওলানা রুমীর সিংহ আর খরগোশের গল্পটি উল্লেখ করতে চাই। বুদ্ধির বলেই খরগোশ সিংহকে পরাজিত করতে পেরেছিল। রুমী মনে করেন সংখ্যার চেয়ে হেকমত ও ইমানের দৃঢতার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশী। দূর্বল ইমান ও হেকমত নিয়ে  শুধু সংখ্যার জোরে বিজয়ের সম্ভাবনা কম। মাওলানা রুমীই বলেছেন, পানি নৌকার নীচে থাকতে হবে, ভিতরে ঢুকলেই মরণ। ভাল পানি জীবন বাঁচায়, মন্দ পানি জীবন হরণ করে। আল্লাহপাক মানুষকে উদ্দেশ্য করে বার বার বলেছেন, জ্ঞান অর্জন করা অবশ্য কর্তব্য বা প্রধানতম ফরজ। যে জ্ঞান করবেনা সে পূর্ণাংগ মানুষ নয়। অশিক্ষা মানেই হলো অন্ধকার বা জুলুমাত। আর বিদ্যা বা জ্ঞান হলো আলো বা নুর। আল্লাহপাকের সর্বশেষ কিতাব পবিত্র কালামে পাক আলকোরাণ হচ্ছে মানব জাতির জন্যে নুর ও পথ প্রদর্শক। আমরা মুসলমানেরা এসব কথা মুখে বলি, কিন্তু আমল করিনা। বিশেষ করে বাংলাদেশে  এ অবস্থা মহামারির মতো দেখা দিয়েছে। এখানে নাগরিকরা যেমন নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও  তেমন। দেশবাসীর যোগ্যতার উপরেই নির্ভর করে সে দেশের শাসক কেমন হবে। আমাদের অবস্থা আজ সে রকমই। আমরা মহাথির, লি কুয়াং, নেলসন ম্যান্ডেলার মতো নেতা পাইনি। বংগবন্ধু আর শহীদ জিয়াকে হত্যা করেছে আমাদের সেনাবাহিনীর কিছু অফিসার। কিন্তু ওই অফিসারদের পিছনে কারা ছিল দেশবাসী কোনদিনও জানতে পারবেনা। বংগবনহদু আর শহীদ জিয়া ছিলেন শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী নেতা। দুজনই নিজ নিজ যোগ্যতা ও দৃষ্টিকোন থেকেই বাংলাদেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নেয়ার চেস্টা করেছিলেন। কিন্তু কারা এই দুইজনকে সরিয়ে দিয়েছে? জিয়া সাহেবের স্বপ্ন ছিল মহাথিরের মতো। সমাজতন্ত্রে বংগবন্ধুর কোন আস্থা বা বিশ্বাস ছিলনা। কিন্তু ভারত ও রাশিয়ার ফাঁদে পড়ে গিয়েছিলেন। তাঁর কন্যার অবস্থাও এখন সে রকম। ভারত ও তার সকল সরকার শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত বন্ধু। কিন্তু ভারত ও তার সরকার গুলো ভারতের স্বার্থেই বাংলা দেশের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশকে নানা ভাবে ভারত নির্যাতন করে চলেছে।শেখ হাসিনা ও তাঁর দল বাংলাদেশের স্বার্থ  ত্যাগ করে অন্ধ ভাবে ভারতের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছে এবং আজীবন তাঁকে ক্ষমতায় রাখতে চায়। ভারত চায় বাংলাদেশ নেপাল ভুটান ও মালদ্বীপের মতো ব্যবহার করুক। শুধুমাত্র ভারতের পক্ষে এবং তার স্বার্থ পাহারা দেয়ার জন্যে শেখ হাসিনা গওহর রিজভীর মতো একজন অজানা অচেনা মানুষকে এনে উপদেস্টা নিয়োগ দিয়েছেন।

Read Full Post »

Allocation in Budget 2011-12


Total Budget :  1635.89 billion taka

__________________________________

Education & Information Technology : 12%

Interest payment 11%

Miscellaneaous  7.4%

Transport & Communication  8.9%

Local Govt & Rural Dev  7.5%

Energy & Power  5.1%

Health  5.4%

Agriculture  7.7%

Defence 7.3%

Public Administration  14.6%

Social Security & Welfare  6.8%

Public Order and Security  5.2%

Housing  0.9%

Recreation, Culture & religious Affairs  1.0%

Industrial , Economic Services  0.8%

Read Full Post »


ফরাক্কা সমস্যা আর কখন সমাধা হবে ?     এরশাদ মজুমদার

আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ (বংগবন্ধুর ভাষায় হাচু) ইতোমধ্যেই অনেক কিছু জয় করেছেন। এর মধ্যে সাগর নদী রয়েছে। এখন জয় করেছেন ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত যে সীমান্তে প্রতিদিন আমাদের প্রেমিক বেডরুমের বন্ধু ভারত আমাদের সীমান্ত নাগরিককে হত্যা করছে। প্রাণের বন্ধু বলে আমরা তেমন জোরালো ভাষায় প্রতিবাদও করতে পারিনা। দীর্ঘ চল্লিশ বছর পর সীমান্ত বিরোধ মিটাবার জন্যে পার্লামেন্টে আইন পাশ করেছে। এখন সেই আইনের খুটিনাটি বিষয় নিয়ে বিশ্লেষণ চলবে। প্রধানমন্ত্রী জোর গলায় প্রচার করছেন সীমান্ত বিজয় তাঁর কূটনীতির বিজয়। তাঁর বিজয়ের শেষ নেই। তিনি ভোট বিহীন নির্বাচনে জয়লাভ করে দেশ চালাবার সার্টফিকেট পেয়েছেন। দেশের নতুন জেনারেশন বুঝলেন ও দেখলেন নির্বাচনে ভোটারের প্রয়োজন নেই। সীল মারলেই চলে। পুলিশ ও নির্বাচন কমিশন সীল মারা পাহারা দিবেন। নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দিবে অমুক জয়ী হয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি দিল্লীর সাথে অনেক গুলো চুক্তি ও সমঝোতা করে এসেছেন। এজন্যে তাঁকে তাঁর দল থেকে বিরাট সংবর্ধনা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোন অজানা কারণে তা আর হয়নি। দিল্লী গিয়ে তিনি পানির ব্যাপারে কিছুই করতে পারেননি। নদী সমস্যার ব্যাপারে  চীন বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। বন্ধুর মনে কষ্ট লাগতে পারে মনে করে বাংলাদেশ চীনের সাথে নদী বিষয়ক কোন সমঝোতায় যায়নি। আমরা কখন আমাদের নদীর ন্যায্য পাবো তার কোন দিক নির্দেশনা এখনও নাই।

সীমান্ত চুক্তি এখনও এখনও সমাধা হয়নি। হওয়ার পথে বাধা দূর হয়েছে। বাস্তবায়নের পথে পথচলা শুরু হলো। কারণ, চাণক্য নীতিতে মুলা দেখানো একটি প্রধান হাতিয়ার। ষ্টালিন বা লেনিন নাকি বলেছিলেন, নির্বাচনে ভোটার বা জনগণ জয়লাভ করেনা। গণনাই ঠিক করে দেয় কি জিতবে আর কে হারবে। বাংলাদেশে জনগণ বা ভোটার কখনই জয়লাভ করেনা। তেমনি ভারতই ঠিক করবে বাংলাদেশে কোন সরকার থাকবে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন বংগবন্ধু এবং জিয়াকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে দিল্লী। শেখ হাসিনা ওয়াজেদকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিল্লী নিজের অতীতের অপরাধ গুলো চাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। দিল্লীর স্বার্থ রক্ষা করার জন্যে হাসিনাকে অবশ্যই ক্ষমতায় রাখতে হবে।

দিল্লীর সাথে গণচীনের স্থল ও জল সীমানা নিয়ে বিরোধ আছে ও চলছে। গণচীন এখন বিশ্বের অন্যতম শক্তি। তাই ভারত চীনের সাথে ব্যবহারের ব্যাপারে খুবই সতর্ক থাকে। সীমান্তে সহজে গুলি চালাতে চায়না। কিন্তু বাংলাদেশের সাথে ভারতের ব্যবহার অনুগত প্রজার মতো। বাবু যা বলেন বা বলবেন তাই সত্য

বিশ্বব্যাপী আওয়াজ উঠেছে আগামী বিশ্ব যুদ্ধ হবে পানির জন্যে। পানি সৃস্টি করেছেন আল্লাহপাক নিজেই। মানুষকে সৃস্টি করেছেন পাননি থেকেই। তাই পানির অপর নাম জীবন। সেই জীবন নিয়েই এখন টানাটানি চলছে। বিশ্বব্যাপী নদী আর সাগর নিয়ন্ত্রণের জন্যে ক্ষমতাবান দেশ গুলো উঠে পড়ে লেগেছে। পানি নিয়ে ভারতের সাথে বাংলাদেশের মানসিক যুদ্ধ এখন চরমে উঠেছে। ভারত ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের মরুকরণের কাজ শুরু করেছে। ভারত  ফারাক্কা বাঁধের নির্মান কাজ শুরু করেছিল পাকিস্তান আমলে। পাকিস্তান আপত্তি করায় সে সময়ে ভারত এ ব্যাপারে কিছুটা ধীর গতিতে চলে। কিন্তু গোপনে নির্মান কাজ চালু রাখে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ভারত ফারাক্কা বাঁধ চালু করার জন্যা চাণক্য নীতি অবলম্বন করে। এ সময়ে তারা বংগবন্ধুর সরলতাকে কাজে লাগায়। ভারত জানালো তারা পরীক্ষামূলক ভাবে  ফারাক্কা চালু করে দেখতে চায় এবং বাংলাদেশকে বেশী পানি দিবে বলে ওয়াদা করে। একই সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী শঠতার পথ অবলম্বন করে বেরুবাড়ি নিয়ে নেয়। বাংলাদেশের দহগ্রাম অংগরপোতা দিবে বলে আর দেয়নি। বাংলাদেশের বহু জমি জোর করে দখল করে রেখেছে। এখনও পানি ও জমি   নিয়ে টালবাহানা চলছে। ফলাফল হলো , বংগবন্ধুকে দিল্লী ঠকিয়েছে। বংগবন্ধু হয়ত ভেবেছিলেন, ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে যে ভাবে সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়েছে তাতে তাদের এটুকু বিশ্বাস করা যায়। সে বিশ্বাসের মর্যাদা ইন্দিরা গান্ধী রক্ষা করেননি। একেই বলে চাণক্য নীতি বা বুদ্ধি। রাস্ট্র ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা বিশ্বাস কোন কাজে লাগেনা তা বংগবন্ধু বুঝতে পারেননি। বংগবন্ধু জীবিত থাকতেই ভারত বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়ে গিয়েছিল। সেটা শুরু করেছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় নেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। সব ব্যাপারে ভারতের নাক গলানো এবং বাড়াবাড়ি দেখে বংগবন্ধু তাঁর নেতা মাওলানা সাহেবের গোপন সমর্থন চাইলেন। মাওলানা সাহেব অকাতরে সেই সমর্থন দিয়েছিলেন। মাওলানা সাহেব ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাক দিলেন। এর পরেই ভারত একটু থমকে দাঁড়িয়েছিল।

মুক্তিযুদ্ধ  চলাকালীন সময়ে মাওলানা সাহেবকে দিল্লী সরকার গৃহবন্দী করে রেখেছিল বা তিনি স্বাধীন ভাবে চলাফেরা করতে পারতেন না। মাওলানা সাহেবকে নামমাত্র উপদেস্টা পরিষদের চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে কখনই তাঁর সাথে কখনই কেউ কোন পরামর্শ করেনি। দিল্লী জানতো মাওলানা সাহেবকে মুক্ত রাখলে দিল্লীর কতৃত্ব বা মাতব্বরী অক্ষুন্ন থাকবেনা। তাছাড়া বংগবন্ধু নিজেও এ সময়ে মুজিব নগর সরকারের কাছ থেকে কয়েক হাজার মাইল দূরে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী ছিলেন। বাংলাদেশের দুই মহান নেতাই ছিলেন দুই দেশের দুই কারাগারে। একজন পাকিস্তানে , আরেকজন ভারতে। বাংলাদেশ সৃস্টির ব্যাপারে পাকিস্তান আর ভারতের দুই নেতা ভুট্টো ও ইন্দিরার ভিতর একটা গোপন সমঝোতা ছিল বলে অনেকেই ধারণা করেন। ভুট্টের লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের ক্ষমতায় আরোহন করা। তাই মুজিবকে সরিয়ে দেয়া তাঁর প্রধানতম লক্ষ্য ছিল। ইন্দিরার লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানকে ভেংগে ভুট্টোকে  এবং বাংগালীদের খুশী করা। আপনারা অনেকেই জানেন, ভুট্টো আর ইন্দিরাকে ভাই বোন বলা হয়। শুনা যায় , নেহেরুজীর প্রথম ভালবাসা ছিল স্যার শাহনাজ ভুট্টোর বেগম সাহেবা। নেহেরু আর শাহনাজ ভুট্টো ছিলেন প্রাণের বন্ধু। পরবর্তী পর্যায়ে ভুট্টো আর ইন্দিরা নাকি অক্সফোর্ডে একসাথে পড়ালেখা করেছেন। বংগবন্ধু আর ইয়াহিয়ার আলোচনা ব্যর্থ হয়েছিল ভুট্টোর কারণে একথাও অনেকেই বলেন। সমঝোতার আলোচনাকে ব্যর্থ করার জন্যে সে সময়ে ভুট্টো বলেছিলেন, ওয়ান কান্ট্রি টু প্রাইম মিনিস্টার। ভুট্টোই বলেছিলেন ঢাকায় সংসদ বসলে পশ্চিম পাকিস্তানের কোন সদস্য এতে অংশ গ্রহণ করবেনা। বংগবন্ধু যদি মুজিব নগর সরকারের সাথে থাকতেন তাহলে দিল্লীর পক্ষে অনেক কিছুই করা সম্ভব হতোনা। পাকিস্তানের কারাগার থেকে ফিরে এসে তিনি দেখলেন প্রতিটা বিষয়ে দিল্লী তার নাক গলিয়ে চলেছে। সে সময়ে ডিপি ধর নানা রকম ছুতা দেখিয়ে ঢাকা চলে আসতেন। ধর বাবু কোন ধরনের কূটনৈতিক শিষ্টাচার মানতেন না। ধরের এ হেন আচরনের বিরুদ্ধে মাওলানা সাহেবের সহযোগিতা নিয়েছিলেন বংগবন্ধু। লাহোরে অনুস্ঠিত ওআইসি সম্মেলনে যাওয়া এবং অংশ গ্রহণের ব্যাপারে ভারত নানা ধরণের বাধার সৃস্টি করেছিল। ওই সম্মেলনকে কেন্দ্র করেই পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ভারতের বাধার মুখেও বংগবন্ধু সেই সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন। এটা ছিল বংগবন্ধুর কূটনৈতিক বিজয়, যা ওই সময়ে  আর কারো পক্ষে সম্ভব ছিলনা। কিন্তু অতীব বেদনা ও দু:খের বিষয় হলো বংগবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা  বংগবন্ধুর সেই সাহসী ট্রেডিশনকে রক্ষা করতে পারেননি। তিনি সিকিমের  প্রধানমন্ত্রী দর্জির মতো ব্যবহার করছেন। তাঁকে ভারতীয়রা চীফ মিনিস্টার বা মুখ্যমন্ত্রী বললেও তিনি তার প্রতিবাদ করেননি।সংসদে  মেজরিটি বা সংখ্যা গরিস্ঠতার জোরে দর্জি বাবু সংসদে আইন পাশ করেই ভারতের সাথে যোগ দিয়েছেন সিকিম বাসীর মতামতকে উপেক্ষা করে। বাংলাদেশকে দখল করার ইচ্ছা হয়ত ভারতের ইচ্ছা নেই। কিন্তু শোষণ করাতো চলছে সেই ৭২ সাল থেকেই। বাংলাদেশের সব মানুষই জানে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে ভারত বিশেষ বন্ধুত্বের নজরে দেখে। ভারতের কাগজ গুলো দিনরাত বলে চলেছে, বাংলাদেশের কাছ থেকে যা কিছু আদায় করতে হয় হাসিনার আমলেই করতে হবে। পরে আর এ ধরনের সুযোগ নাও আসতে পারে।

মাওলানা ভাসানীর উদ্যোগে ও নেতৃত্বে ফারাক্কা মিছিল বা লং মার্চ শুধুমাত্র পানির জন্য মিছিল ছিলনা। এই মিছিল ছিল আমাদের সার্বভৌমত্বের  পক্ষে প্রথম বুলন্দ আওয়াজ। দিল্লী ভাল করেই জানতো কি ধরণের মানুষ। তিনি যেকোন ভাবে সীমান্ত পেরিয়ে যেতে পারেন ভেবে দিল্লী থেকে ইন্দিরা গান্ধী মাওলানা সাহেবকে আদাব আরজ পাঠিয়েছিলেন। মাওলানা সাহেব ইন্দিরার দাদা মতিলাল নেহেরুর সাথে রাজনীতি করেছেন। ১৯৬৯ সালের ১৮ই এপ্রিল টাইম ম্যাগাজিন মাওলানা সাহেবকে ‘প্রফেট অব ভায়োলেন্স’ বলে আখ্যায়িত করে কভার স্টোরি করেছিল। পশ্চিমা মিডিয়া মাওলানা সাহেবকে আরও বলেছিল , ‘মাও অব ইস্ট ইন ডিজগাইজ অব এ্যা প্রিস্ট’। পাকিস্তানের মিডিয়া গুলো তাঁকে লাল মাওলানা বলে ডাকতো। কাগমারী সম্মেলনের মাধ্যমে মাওলানা সাহেব পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্যের কথা বলিস্ঠ কন্ঠে বলেছিলেন। পাকিস্তানের শোষণের বিরুদ্ধে শাসক গোস্ঠিকে মাওলানা সাহেব বার বার হুঁশিয়ার করেছেন। কিন্তু পাকিস্তানী শাসক গোস্ঠির কানে তা যায়নি। মাওলানা সাহেবই সবার আগে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণাংগ স্বায়ত্ব শাসনের আওয়াজ তুলেছিলেন। তখন আওয়ামী লীগ বলেছিল, ৯৮ ভাগ স্বায়ত্ব শাসন পাওয়া গেছে। দেশপ্রেমের তাগিদেই মাওলানা সাহেব ১৯৭৬ সালের ১৬ই মে ফারাক্কা মিছিলের ডাক দিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট জিয়া পরোক্ষ ভাবে মাওলানা সাহেবের এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। মাওলানা সাহেব ছিলেন স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রধানতম প্রতীক। দেশ যখনি কোন বিপদের সম্মুখীন হয়েছে তখনি তিনি খামোশ বলে বুলন্দ আওয়াজ তুলতেন।

সারা পৃথিবীর মানুষ মাওলানা সাহেবকে মজলুম জননেতা বলে জানে। তিনি সত্যিই নিপীড়িত মানুষের নেতা ছিলেন। বিশ্বের সকল জাতীয়তাবাদী বামপন্থী নেতারাই তাঁ বন্ধু ছিলেন। মাওলানা সাহেব মূলত রাসুলের(সা) সাহাবী হজরত আবু জর গিফারীর ভক্ত ও অনুসারী ছিলেন। ইসলামকে তিনি গণ মানুষের মুক্তির ধর্ম হিসাবে দেখতেন। তিনি প্রথম ইসলামী সমাজতন্ত্র প্রতিস্ঠার ডাক দিয়েছিলেন। তিনিই মাও জে দং কে দাওয়াত দিয়েছিলেন খোদাবাদী সমাজতন্ত্র প্রতিস্ঠার জন্যে। মাওলানা সাহেব হক্কুল এবাদের ডাক দিয়েছিলেন। সমকালীন আলেম ওলামারা মাওলানা সাহেবকে ভুল বুঝতেন। তাই বৃহত্তর আলেম সমাজ তাঁকে মুক্ত ভাবে সমর্থন করেননি। বামোন্থীরাই তাঁর আশে পাশে ছিলেন। মাওলানা সাহেব লেনিন বা মাওয়ের খোদাহীন সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন। কার্ল মার্কস ইসলামকে রেডিকেল ধর্ম বলে আখ্যায়িত করেছেন। মাওলানা সাহেব বলতেন, কার্ল মার্কস যদি কোরাণ ও হাদিস পড়ার সুযোগ পেতেন তাহলে পৃথিবীর চেহারা আজ অন্য রকম হতো।

ফারাক্কা দিবস বাংলাদেশের সকল সরকারেরই পালন করা উচিত। কিন্তু তা হয়না। আওয়ামী লীগতো মনে করে এ মিছিল তাঁদের বিরুদ্ধে। ভারতের সাথে পরীক্ষা মূলক ফারাক্কা চুক্তি করে বংগবন্ধু ভুল করেছিলেন। তাঁর সরলতার সাথে ভারত বেইমানী করেছে। সেই পরিক্ষা মূলক চুক্তি  এখন  স্থায়ী চুক্তিতে পরিণত হয়েছে। আমি একবার জ্যোতি বাবুর সাক্ষাতকার নিতে গেলে তিনি বলেছিলেন, আমরাইতো জল পাইনা ,তোমাদের কোথ্থেকে দেবো। ওই বাঁধ দেয়া হয়েছিল ভারতের উত্তরের জমিতে সেঁচ দেয়ার জন্যে। এতে কোলকাতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন তিস্তা নিয়ে মমতা যেমন করছেন। মমতা সোজাই বলে দিয়েছেন তিনি পশ্চিম বাংলার স্বার্থ ত্যাগ করে কিছু করতে পারবেন না। আপনাদের সবার মনে রাখা দরকার ভারতের সাথে আমাদের ৫৪টি নদীর সংযোগ রয়েছে। এসব নদী থেকে ভারত এক তরফা ভাবে পানি প্রত্যাহার করে বা করার চেস্ট করছে। এটা আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন। পৃথিবীর কোথাও এমনটি হয়নি। সিন্ধু নদী নিয়ে ভারত পাকিস্তানের সাথে এমন আগ্রাসী ব্যবহার করতে চেয়েছিল। সিন্ধু একটি আন্তর্জাতিক নদী, তাই এর পানির হিস্যা আন্তর্জাতিক নিয়মেই বন্টন হবে। তারবেলা ড্যাম নির্মান হয়েছে বিশ্বব্যান্কের অর্থে। তাই ভারত সিন্ধু নদীর পানি এক তরফা ভাবে নিতে পারেনি। ছীনের সাথেও ভারত তেমন ব্যবহার করতে পারেনা। ছীন থেকে যে সব নদীর উত্পত্তি হয়েছে এবং ভারত হয়ে বাংলাদেশে এসেছে, সে সব নদীর ব্যাপারে ত্রিদেশীয় চুক্তি হওয়া দরকার। কিন্তু বাংলাদেশ ত্রিদেশীয় চুক্তি করার ব্যাপারে ভারতকে রাজী করাতে পারেনি। ভারত  বাংলাদেশ সীমান্তে নিয়মিত মানুষ হত্যা করে, সম্পদ লুন্ঠণ করে। কোন ধরণের সীমান্ত চুক্তি মানেনা।আগেই বলেছি  বেরুবাড়ি তার জ্বলন্ত উদাহরণ। চুক্তি করা মাত্রই বেরুবাড়ি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু দহগ্রাম অংগরপোতা বাংলাদেশকে চিরস্থায়ী ভাবে দেয়নি। বাংলাদেশের আরও বহ ছিটমহল আছে যা ভারত দখল করে রেখেছে। ভারত বাণিজ চুক্তি করে , পরে নানা অজুহাতে তা মানেনা। দিল্লী মানলে কোলকাতা মানেনা। ভারত বাংলাদেশের তালপট্টি দখল করে নিয়েছে। সে নিয়ে কোন আলোচনা আজও শুনিনি। ভারতের সাথে সমুদ্র সীমা নিষ্পত্তি হয়নি। তার জন্যে আদালতে যেতে হয়েছে। অথচ আমরা শুনি, ভারত আমদের জানের জান। কথায় কথায় ভারতীয় বুদ্ধিজীবীরা আসছেন এবং আমাদের ষোলয়ানা বাংগালী হবার সবক দিচ্ছেন। আমাদের ষোলয়ানা বাংগালী বানাবার জন্যেইতো ৭১ সালে ভারত জানমাল কোরবান করেছে। আমরা কেন এখনও ষোলয়ানা বাংগালী হতে পারিনি তা নিয়ে প্রণব বাবুরা নাখোশ। ৭১ সালে আমরা নাকি সে রকমই একটি ওয়াদা করেছিলাম। চলমান সরকার নাকি সেই ওয়াদা বাস্তবায়ন করছেন। রিজভী নামের এক ভদ্রলোকতো কানেক্টিভিটির কথা বলে গলা শুকিয়ে ফেলেছেন। আমরা নাকি কানেক্টিভিটির কদর বুঝতে পারছিনা। এতে নাকি বাংলাদেশ লাভবান হবে। তিনি মূল্যবান তত্ব নিয়ে বাংগালীদের বুঝাবার চেস্টা করছেন। অথচ নাম শুনে মনে হয়না এই ভদ্রলোক বাংগালী। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এই ভদ্রলোককেই হায়ার( ভাড়া কথাটা শুনতে ভাল লাগেনা) করে নিয়ে এসেছেন ভারতের সাথে বন্ধুত্ব বাড়িয়ে দেয়ার জন্যে। তিনি নাকি বন্ধুত্ব শিল্পে খুবই পারদর্শী। তিনি দিল্লী বিষয়েও নাকি খুবই এক্সপার্ট। আমেরিকানদের একটি সংগঠনের পক্ষ হয়ে তিনি নাকি দিল্লীতে ছিলেন বহু বছর। যা হোক এসবতো হলো প্রাসংগিক কথা। মাওলানা সাহেবের কাছে ফারাক্কা মিছিল ছিল একটি প্রতিকী মিছিল। তিনি বাংলাদেশের মানুষের সার্বভৌম স্বাধীন মনোভাব বুঝাবার জন্যেই ওই মিছিল করেছিলেন। ওই মিছিলের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর দৃস্টি আকর্ষণ করাও ছিল মাওলানা সাহেবের লক্ষ্য। তখনকার সরকারও মাওলানা সাহেবের এই ঐতিহাসিক মিছিলকে সমর্থন দিয়েছিল পরোক্ষভাবে। রাস্ট্র বা সরকার এভাবেই বিরোধী দল বা নেতাদের কাছ থেকে সমর্থন নিয়ে থাকে দেশের স্বার্থে। সরকার ও বিরোধী দলের ভিতর সেই লেনদেন বন্ধ হয়ে গেছে বহুকাল। এখন রাজনৈতিক দলগুলো দেশের সমস্যাকে দলের বা সরকারের সমস্যা মনে করে। জাতীয় সংকটে বা সমস্যা উত্তরণে সবার একমত হওয়ার সংস্কৃতি বা কালচার এখন বাংলাদেশে নেই। বাংলাদেশের এই অবস্থার পুরো সুযোগ নিচ্ছে ভারত। ভারত জানে বাংলাদেশের নেতারা জাতীয় ইস্যুতেও বিভক্ত। সরকারও ভুলে গেছে  কেমন করে জাতীয় ইস্যুতে সকল দলের মত নিতে হয়।

ক’দিন আগে  সাহসী বীর  মুক্তিযোদ্ধা জেনারেল আমিন আহমদ চৌধূরী ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কের উপর একটি নিবন্ধ লিখেছেন যা নয়া দিগন্তে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর দৃষ্টিতে বাংলাদেশ ভারত সম্পর্কের চলমান অবস্থার জন্যে উভয় দেশের আমলাদের মাইন্ডসেট বা মনো জগত দায়ী। আলোচনার সময় উভয় দেশই মানসিক সমস্যায় থাকে। এটা হলো আমিন আহমদ চৌধুরীর অনুধাবন। তিনি আমার একজন সম্মানিত বন্ধু। তাঁকে আমি খুবই পছন্দ করি। বাংলাদেশ ভারত সম্পর্কের ব্যাপারে তাঁর পর্যবেক্ষনের সাথে আমি দ্বিমত পোষণ করি।আমি মনে করি ভারত নিজের স্বার্থ রক্ষায় একশ’ ভাগ ঠিক পথে চলছে। কিন্তু বাংলাদেশ নিজের স্বার্থ রক্ষায় দূর্বল। আমলারা রাজনৈতিক সরকারের চিন্তাধারাকে বাস্তবায়ন করেন। আমাদের নেতাদের মনোজগতে সব সময় একটা অবস্থান স্থায়ী হয়ে আছে, তা হলো ভারত আমাদের স্বাধীনতায় বিরাট অবদান রেখেছে। এমন বন্ধুর সাথে কেন করে দর কষাকষি করি। এইতো ক’মাস আগে সিনিয়র আমলা মশিউর রহমান বলেছেন, বন্ধুর কাছে টাকা পয়সা চাওয়া বেমানান। বন্ধু বন্ধুর দেশের উপর দিয়ে নিজ দেশে যাবে এতে শুল্কের কথা আসে কেন। বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্ক কি হওয়া উচিত তা আজ পর্যন্ত স্পস্ট নয়। এ ব্যাপারে  আমাদের নেতাদের বুক দুরু করে। ভারত বড় দেশ, ক্ষমতা বেশী, আমাদের সীমান্ত ভারত বেস্টিত হয়ে আছে। ভারতের মনে কস্ট লাগে এমন কথা বলতে আমাদের রাজনীতিক ও আমলারা বলতে চান না। আমাদের বিদেশ মন্ত্রী ডা: দীপুমনিতো প্রণব বাবুকে কাকা কাকা বলতে জ্বিব খসে ফেলার উপক্রম করে ফেলেছেন। শুনেছি জেনারেল এরশাদও ইন্দিরা গান্ধীকে মাতৃতূল্য মনে করতেন। এরশাদতো খোলা মনেই বলেছিলেন, ক্ষমতা দখলের সময় তিনি দিল্লীর সাথে ফোনে কথা বলেছেন। তিনি দেশবাসীকে বুঝাতে চেয়েছেন ভারত তাঁর পেছনে আছে। এরশাদ ক্ষমতায় আসার পর আনন্দবাজার গ্রুপ বলেছিল, বন্দুকের নলে প্রজাপতি। শেখ হাসিনা বলেছিলেন, এরশাদের ক্ষমতা দখলকে তিনি খারাপ চোখে দেখছেননা।

শ্রীলংকা ভারত সম্পর্কের প্রশ্নে বহু বছর পর শ্রীলংকা কোমর শক্ত করে সোজা হয়ে দাঁড়াবার চেস্ট করছে। ভারতের সমর্থন পুস্ট তামিল গেরিলাদের সাথে বহু বছরের গৃহযুদ্ধে শ্রীলংকা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। শক্তিশালী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রেসিডেন্ট রাজা পাকশে তামিল বিদ্রোহীদের বিতাড়িত করেছেন। এখন ভারত ও জাতিসংঘ মানবাধীকারের কথা বলে কান্নাকাটি করছে। এ ব্যাপারে শ্রীলংকা কঠোর অবস্থান নিয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার টীমকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতের বিদেশনীতি হচ্ছে প্রতিবেশী দেশগুলোকে দূর্বল করে তার শক্তিশালী প্রভাবে রাখা এবং নির্দেশ মেনে চলতে বাধ্য করা। প্রতিবেশী একটি দেশের সাথেও ভারতের সু সম্পর্ক নেই। এর প্রধান কারণ, ভারতের এ্যাটচিউড বা চলমান বিদেশনীতি। এই বিদেশ নীতির মূলমন্ত্র হলো গায়ের জোর। কথা না শুনলে শক্তি প্রয়োগ কর। কথা শুনতে বাধ্য কর। আর তা না হলে ক্ষমতা থেকে বিদায় করে দাও। প্রেসিডেন্ট জিয়া ছিলেন বা মলাদেশের একজন স্বাধীন নেতা। যিনি বুঝতেন বাংলাদেশের স্বার্থ কিভাবে রক্ষা করতে হবে। তিনিই প্রথম সমতা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে দিল্লীর সাথে কথা বলতে শুরু করেছিলেন। তিনি আরব ও মুসলিম বিশ্বের সাথে বন্ধুত্ব বাড়িয়েছিলেন বাংলাদেশের অবস্থানকে বিশ্ববাসীর কাছে পরিস্কার করার জন্যে। এ কারণেই জিয়া সাহেব বেশীদিন বাঁচতে পারেননি। একই ভাবে ভারত নেপালে নিজেদের পথ পরিস্কার করেছে। আজ নেপাল একটি অশান্ত দেশে পরিণত হয়েছে। মালদ্বীপেও একই অবস্থা বিরাজ করছে।

ভারতের প্রতিবেশী সকল দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সবচেয়ে ভাল এবং সুদৃঢ। শুধু প্রয়োজন দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্যে জাতীয় ঐকমত্য ও শক্তিশালী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত । যা বাংলাদেশের নেই। ভারতের স্বার্থ দেখা ও রক্ষার জন্যে বাংলাদেশে বহু রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবি, আমলা, অর্থনীতিবিদ, কবি শিল্পী সাংবাদিক রয়েছেন। যারা টিভি টকশোতে বলে বাংলাদেশের সামরিক শক্তির কোন প্রয়োজন নেই। অনেকেই বলেন, ভারতের সাথে  যুদ্ধ করে বাংলাদেশের জয়ের কোন সম্ভাবনা নেই। আবার অনেকেই বলেন ভারতের সংস্কৃতি আর আমাদের সংস্কৃতি একই। তাই সংস্কৃতির ক্ষেত্রে একযোগে কাজ করতে হবে। আমাদের নাকি একই ইতিহাস ও একই ঐতিহ্য।  জাতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমাদের দ্বিমত দিনের আলোর মতো পরিস্কার। ভারত তাই বাংলাদেশের কোন কথাই শোনেনা। তাই ফারাক্কা দিবসে মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানীর কথা বার বার মনে পড়ছে। আমাদের সার্বভৌমত্বের পক্ষে বুলন্দ আওয়াজ তোলার এখনই সময়। কিন্তু কে এই আওয়াজ তুলবে। আর কতদিন এই আওয়াজ তুলতে?

লেখক: কবি ও সাংবাদিক

ershadmz@gmail.com

Read Full Post »


রাজনীতির ক্ষমতা আর ক্ষমতার রাজনীতি  /    এরশাদ মজুমদার

সরাজা বাদশা্দের যুগ পেরিয়ে আমরা আধুনিক এসেছি বলে ঢোল পিটিয়ে  দেশে বিদেশে সবাই বলছে। এক সময়ে রাজারা দিগ্বিজয়ে বের হতেন। মানে জোর করে অন্যের দেশ দখল করতেন আর বাহবা পেতেন। আমরা আলেকজান্ডার দি গ্রেটের নাম জানি। তিনি গ্রীসের মেসিডোনিয়া থেকে দেশ জয় করতে করতে ভারতবর্ষের  উত্তরে  এসেছিলেন। সে কথা আমরা জানি পুরুর সাথে তাঁর যুদ্ধের গল্প থেকে। পরাজিত পুরুকে নাকি আলেকজান্ডার জিগ্যেস করেছিলেন, আপনি আমার কাছে কি রকম ব্যবহার আশা করেন। পুরু নাকি বলেছিলেন, রাজার কাছে রাজা যে রকম ব্যবহার পেতে পারে সে রকম। পুরুর কথা শুনে আমরা খুব খুশী। হেরে গেলেও আমাদের রাজার সাহস আছে। সে সময়ে ভারতীয়রা এ রকম বহুবার বহু জায়গায় হেরেছে আর বিদেশীদের জয়গান গেয়েছে। এইতো দেখুন না, রাম বলে কেউ নেই এ কথা বহুবার বলা হয়েছে।স্বয়ং কবিগুরু বলেছেন রামের জন্ম কবির মনোভূমিতে। কিন্তু কে কার কথা শুনে। কবি কল্পনা করে  রামায়ন নামের মহাকাব্য লিখেছেন। সেই কাব্যই এখন প্রায় ধর্মগ্রন্থে পরিণত হয়েছে। বিদেশী রাজার এমন বিজয়গাঁথা জগতে কেউ কখনও দেখেছে কিনা জানিনা। শেষ পর্যন্ত বিদেশী বিজয়ী রাজাকে অবতার ও দেবতা বানানো হয়েছে। আর দেশী পরাজিত রাজা রাবণকে বানানো হয়েছে রাক্ষস। তেমনি বিদেশী দখলদার ইঁরেজদের আমরা আজও স্মরণিয় বরণীয় মনে করি। আজও আমরা কমনওয়েলথের সদস্য। এর মানে একদিন আমরা তাদের দখলে ছিলাম এবং তাদের প্রজা ছিলাম সে কথা আমরা জোর গলায় জাহির করছি।। একনও আমাদের দেশের লোক স্যার টাইটেল পেলে খুশীতে আটখানা হয়ে যায়।দেশী ভাই বেরাদরের সহযোগিতার ইংরেজরা এই দেশটাকে ১৯০ বছর শাসন ও শোষণ করেছে। কি রকম শোষণ করেছে তা এখন আমাদের বন্ধু বান্ধব ও নতুন প্রজন্মের সন্তানেরা হয়ত ভুলে গেছে। আমাদের নতুন প্রজন্মের সন্তানেরা ইতিহাস নিয়ে তেমন মাথা ঘামায়না। তারা আজ নিয়ে ভাবে। গতকাল নিয়ে ভাবেনা। হয়ত এমন অনেক তরুণ আছে যারা ভাল করে দাদার নামও জানেনা। হয়ত ওই নামটা তার কখনও প্রয়োজন হয়নি। হয়ত দাদা একেবারেই নগণ্য একজন মানুষ ছিলেন। তাই বাপ তার নিজের বাপের  পরিচয় দিতে লজ্জা পেতেন। হয়তবা ধনী হয়ে নিজের অতীতকে মুছে দিয়েছেন। এমন তরুণ বা তাদের বাবাদের ইতিহাস না জানলেও চলে। এ কারণেই আমাদের ইতিহাস নিয়ে এত কথা। প্রায় সবাই বলছেন, ইরহাস বিকৃতি হচ্ছে। কোনটা সত্য ইতিহাস তা নিয়ে আমরা বিভ্রান্ত। যে দল যখন ক্ষমতায় আসে সে দল নিজের মতো করে ইতিহাস বলে। একদল বলে বংগবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও আমরা কেউ তাঁর ঘোষণা শুনিনি। আদালত বলেছেন বংগবন্ধুই ঘোষনা দিয়েছেন। তাই এ নিয়ে আর কোন কথা চলবেনা। হাজার হলেও আদালতের ফরমান। ইতোমধ্যে বংগবন্ধুর ইতিহাস নিয়ে প্রখ্যাত উপন্যাসিক হুমায়ুন আহমদ বে কায়দায় পড়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী হুমায়ুনকে লেখা বদলাতে হবে। এতোদিন হুমায়ুন বানিয়ে বানিয়ে গল্প লিখতেন। কিন্তু ইতিহাস নিয়ে  লিখতে গিয়েই ধরা  পড়ে গেলেন।

জাতি হিসাবে আমাদের বায়া দলিল মানে ইতিহাস  আজও বিতর্কিত। কোনটা সঠিক তা আজ আর বুঝা যায়না। আমি প্রায়ই বলি জমির যদি বায়া দলিল থাকে, বংশের যদি বায়া দলিল থাকে তাহলে দেশের বায়া দলিল থাকবেনা কেন? আমরাতো আজও সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি আমরা কি শুধুই বাংগালী, না বাংগালী মুসলমান। বিশ্ব বাংগালী নামে এখন নতুন শ্লোগান শুনতে পাচ্ছি। বিদেশের মাটিতে বিশ্ব বাংগালী সম্মেলন অনুস্ঠিত হয়। সেখানে সারা বিশ্বের বাংগালীরা উপস্থিত হয়। এই সম্মেলনে যারা উপস্থিত হন তাদের মধ্যে শুধু বাংলাদেশীদেরই একটি স্বাধীন রাস্ট্র আছে, বাকি বাংগালীদের কোন রাস্ট্র নেই। পৃথিবীর ৩০ কোটি বাংগালীর মধ্যে ১৫ কোটি বাংগালীর কোন স্বাধীন রাস্ট্র বা দেশ নেই। পরাধীন বাংগালীরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাস করে ও কাজ করে। বিদেশী যারা বাস করেন তারা কেউ ভারতীয়, কেউ  বৃটিশ বা কেউ অন্যকোন দেশের। বাংগালী হলেও সবাই বাংলাদেশী নয়। এমন কি আমাদের উপজাতিরাও নিজেদের বাংগালী মনে করেন না। জাতীয় সংসদে বংগবন্ধু যখন আহবান জানালেন, তোরা পাহাড়ীরা সবাই বাংগালী হয়ে যা। তখন মানবেন্দ্র লারমা প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছিলেন, আমরা বাংগালী নই। আমরা বাংলাদেশী।

রাজনীতির প্রধানতম উদ্দেশ্যই নাকি ক্ষমতায় যাওয়া। কারন ক্ষমতায় না গেলে আদর্শ বা উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা যায়না। তাই ক্ষমতা যাওয়ার জন্যে রাজনীতির প্রয়োজন। দল ছোট হোক বা বড় হোক রাজনীতি করলে একদিন ক্ষমতায় যাওয়া যাবেই। তার প্রমাণ ক্ষমতাসীন মহাজোট। শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া মন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন কোনদিনও দেখেননি। ভোট করে ৩/৪শ’র বেশী ভোট পান না। ভগবান বুদ্ধ বড়ুয়ার দিকে মুখ তুলে ছেয়েছেন। তাই দিলীপ বড়ুয়া আজ মন্ত্রী। মেনন ও ইনুরও একই অবস্থা। ক্ষমতা  যাওয়ার জন্যে কৌশলগত কারণে নিজের মার্কা ত্যাগ করে নৌকা মার্কায় নির্বাচন করেছেন। ২০০৮ সালের ওই নির্বাচনে জয় লাভ ছিল ১০০ ভাগ গ্যারাণ্টিড। মেনন একবার জিয়া সাহেবের আমলে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। ইনুর সে সুযোগও হয়নি। জীবনে একবারও এমপি বা সংসদ সদস্য হননি এমন অজানা অচেনা লোকেরাও মন্ত্রী হয়েছেন। উর্দুতে একটা কথা আছে।‘ খোদা মেহেরবানতো, গাধা ভি পাহলোয়ান’। হাসিনা যাঁর উপর খুশী হয়েছেন তিনিই মন্ত্রী হয়ে গেছেন। নির্বাচন না করেও মন্ত্রী হয়েছেন। নির্বাচনে যাঁরা শলা দিয়েছিলেন জিতার জন্যে তাঁরাও আজ মন্ত্রীর পদ মর্যাদায় উপদেস্টা। লোকে বলে উপদেস্টাদের ক্ষমতা নাকি মন্ত্রীদের চেয়ে হাজার গুণ বেশী। হাসিনার ক্ষমতা আছে তাই তিনি নিকট দূর বহু আত্মীয় স্বজনকে পাহলোয়ান বানিয়ে দিয়েছেন। বংগবন্ধুর আমলেও তাঁর আত্মীয় স্বজনরা ক্ষমতার স্বাদ পেয়েছিলেন। শুনেছি, গণচীনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাইকে বিদেশী সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন, আপনার জীবনে সাফল্যের প্রধান কারণ কি? চৌ উত্তরে বলেছিলেন, আমি আত্মীয়দের সব সময়ে দূরে রেখেছি। শহীদ জিয়ার ক্ষেত্রেও তাই শুনেছি। জিয়া সাহেব নাকি আত্মীয় স্বজনদের কখনই কাছে ঘেঁষতে দেননি। শেরে বাংলা অখন্ড বংগদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকা কালে নিজের এক অযোগ্য ভাগিনাকে চাকুরী দিয়েছিলেন। সংসদে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, প্রার্থীর যোগ্যতা সে প্রধানমন্ত্রীর ভাগিনা। বংগবন্ধুর ভাগিনারাও তাঁর ক্ষমতা থাকা কালে নানা ধরণের সুযোগ পেয়েছিলেন। বংবন্ধুর ভগ্নিপতিকেও নাকি তিনি রাতারাতি সচিব করে দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর নাম জানা বেয়াই সাহেবকে মন্ত্রী বানিয়েছেন। তাঁর পরম স্নেহের ছেলে জয় নানা সময়ে সরকারের উপদেস্টা হিসাবে করছেন।তিনিই নাকি ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রস্টা। তাঁর কন্যা পুতুলও এখন নানা কাজে সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছেন। ক্ষমতা থাকলে এবং ক্ষমতায় থাকলে ক্ষমতাবানরা নিজের নামে এবং আত্মীয় স্বজনের নামে অনেক কিছু করেন। টাকা কিন্তু জনগনের। জনগনের নামে বিদেশ থেকে ধার করে আনা অথবা জনগনের কাছে আদায় করা টাকা থেকে। জিন্নাহর নামের রাস্তা এখন বংগবন্ধুর নামে। এটা বংগবন্ধ থাকতেই হয়েছে। জনগনই নাম পালটে দিয়েছেন। ইংরেজ আমলে তাদের নামে রাস্তা হয়েছে, বড় বড় মহল হয়েছে। পাকিস্তান আমলে অনেক নাম বদলে গেছে। বাংলাদেশ আমলে সেসব আবার বদলেছে। যেমন ধরুন, ইংরেজ আমলে ব্যবসাটা ছিল হিন্দুর, পাকিস্তান আমলে সেটা হয়েছে অবাংগালী মুসলমানের। বাংলাদেশ হওয়ার পর সেই ব্যবসা হয়ে গেল বাংগালী আওয়ামী মুসলমানদের। ৭১ সালেও দেখেছি, হিন্দুরা ভারতে চলে গেলে বাংগালী মুসলমানেরা তাদের বাড়ি ঘর লুট করেছে। ক্ষমতার ধারা এমনিই চলে। আপনার ক্ষমতা থাকলেই হলো। আইনের স্বীকৃতি প্রাপ্ত ক্ষমতা, না হয় দলের স্বীকৃতি প্রাপ্ত ক্ষমতা। রাজনীতি করলেও আপনার এই ক্ষমতা থাকতে পারে, আবার রাস্ট্র আপনার হাতে বা পাশে থাকলেও হতে পারে।

রাজনীতি না করেও ক্ষমতায় আসা যায়। যেমন সামরিক জারী করে , দেশের সংবিধান বাতিল করে সেনা প্র৫ধান ক্ষমতায় আসতে পারেন। সেখানে তাঁর সমর্থক থাকবেন সৈনিকরা আর সেনা অফিসাররা। পাকিস্তান আমল থেকে আমাদের দেশে বহুবার সামরিক শাসন জারী হয়েছে। সেনা প্রধানরা ক্ষমতায় এসে রাস্ট্র প্রধান, প্রেসিডেন্ট বা রাস্ট্রপতি হয়েছেন। বংগবন্ধুর ইন্তিকালের( স্থান পরিবর্তন) পর সামরিক শাসন জারী করে তাঁরই বন্ধু খোন্দকার মোশতাক ক্ষমতায় আসেন। তাঁকে সমর্থন দিয়েছেন সেনা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের একাংশ। পরে সেই ক্ষমতা হাত বদল হয়ে চলে যায় সে সময়ের সেনা প্রধান জেনারেল জিয়ার কাছে। এর মধ্যে একমাত্র জেনারেল জিয়াই ছিলেন জনপ্রিয় শাসক। সেটা প্রমানিত হয়েছে তাঁর জানাজায় লাখো মানুষের অংশ গ্রহনে। এদেশে কারো জানাজায় এত মানুষের সমাগম হয়নি।নেনারেল জিয়াকে যাঁরা দেখতে পারেন না তাঁদের মত অবশ্য ভিন্ন। সামরিক আইন নিয়ে জাস্টিস মুনিমের একটি বই আছে। এটা ছিল তাঁর পিএইচডি থিসিস। জেনারেল আইউবের সামরিক আইন জারী নিয়ে নিয়ে লিখতে গিয়ে তিনি সামরিক আইনের ইতিহাস বর্ণনা করেছেন। ইংল্যান্ডে প্রথম রাজারা এই আইন ব্যবহার করেন। তবে বলা হয়েছে এটা কোন আইন নয়। যুদ্ধের সময়েই শুধু এ আইন ব্যবহার করা যেতে পারে, শান্তির সময় নয়। জেনারেল আইউব যখন  সামরিক আইন জারী করে ক্ষমতা দখল করেছিলেন তখন কোন যুদ্ধাবস্থা ছিলনা।  এইতো কিছুদিন আগে  জেনারেল মঈন দেশে জরুরী অবস্থা জারী করতে তত্‍কালীন প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ইয়াজউদ্দিনকে বাধ্য করেন। জেনারেল মঈন  একটা সিভিল সরকার নিয়োগ করে দেশ পরিচলনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সারাদেশে সেনা অফিসাররা প্রশাসন চালাবার দায়িত্ব নেয়। দূর্ণীতির মূলোচ্ছেদ করার নামে দেশের অর্থনীতিকে তছনছ করে ফেলে। দেশের মানু মনে করে জরুরী অবস্থা জারী করার প্রেক্ষিত তৈরি করেছে গোয়েন্দা বাহিনী।  আর আওয়ামী লীগ  বিশৃংখল অবস্থা সৃস্টির হাতিয়ার হিসবে ব্যবহৃত হয়েছে। অথবা বলা যেতে পারে জেনারেল মঈনের ক্ষমতা গ্রহনকে আওয়ামী লীগ সমর্থন করেছে। আর এ জন্যে পুরস্কার হচ্ছে ২০০৮ সালের নির্বাচন।এক সময় বলা হতো ‘মাইট ইজ রাইট’। জোর যার মুল্লুক তার। মাঝখানে মনে হয়েছিল সেসব দিন বাসি হয়ে গেছে। না, এখনও সেসব দিন বাসি হয়নি। এখনও শক্তি থাকলে উপায় হয়। রাস্ট্র শক্তি থাকলেতো কথাই নেই। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো একটি রাস্ট্র যদি কারো দখলে থাকে তাহলেতো আর কথাই নেই। যিনি ক্ষমতায় থাকবেন বা ক্ষমতা দখল করবেন রাস্ট্র তার কথা মতো চলবে। কিন্তু বলা হবে আইনের শাসন চলছে। আগেই বলেছি আইন গুলোতো তৈরি হয়েছে যারা রাস্ট্র চালাবেন তাদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্যে। এমন দেশে জনগণের নামে সবকিছু হবে, কিন্তু জনগণ থাকবেনা।

জেনারেল আইউব গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়ে, রাজনীতিকদের হেনস্থা করে প্রায় দশ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। পরে আন্দোলনের মুখে জেনারেল ইয়াহিয়ার কাছে ক্ষমতা দিয়ে বিদায় নিয়েছিলেন। আর জেনারেল ইয়াহিয়া সাধারন নির্বাচন দিয়েও পাকিস্তানকে রক্ষা করতে পারেননি। বাংলাদেশের জেনারেল এরশাদও গণরোষের মুখে পদত্যাগ করে জেলে গিয়েছিলেন। এখনও তাঁর বিরুদ্ধে বহু মামলা রয়েছে। এরশাদ ক্ষমতা দখল করে বলেছিলেন, তিনি দিল্লীর সাথে কথা বলেছেন। আওয়ামী লীগও এরশাদকে সমর্থন করেছিল। ৮৬ সালে নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ এরশাদের সাথে হাত মিলিয়েছিল। এখনও এরশাদ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সাথে রয়েছেন। মূলত; এরশাদের ক্ষমতার উত্‍স স্থল হচ্ছে দিল্লী। দিল্লী বাংলাদেশে ছোট বড় তিন চারটি পলিটিকেল টিম রেখে রাজনীতির মাঠে খেলাধুলা করে। জেনারেল আইউব ক্ষমতা দখল করে বেসিক ডেমোক্রেসী চালু করেছিলেন। বংগবন্ধু একদলীয় শাসন চালু করেছিলেন নিজের ক্ষমতাকে পোক্ত করার জন্যে। এখন শেখ হাসিনা বলছেন, তিনি জানেন বিরোধী দলকে সোজা পথে আনতে হয়। কোথায় যেন এক টুকরো খবর দেখলাম, প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, আগামী ২৫ বছরে বাংলাদেশে হিন্দু প্রধানমন্ত্রী হয়ে প্রমান করবেন যে, বাংলাদেশ একটি মহান স্যেকুলার দেশ। দিল্লীর উসকানীতে বাংলাদেশকে স্যেকুলার ভুতে পেয়েছে। আওয়ামী লীগ এ বিষয়টা গভীর ভাবে অনুধাবন করতে পারছেনা দিল্লীকে তুস্ট করার জন্যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেই নানা ধরনের মামলায় জড়িয়ে পড়েছে। প্রায় চার বছর পার করতে চলেছে বর্তমান সরকার শুধু মামলা নিয়েই নিজেদের ব্যস্ত রেখেছে। দেশের উন্নয়ন নিয়ে সরকারের কোন মাথা ব্যথা নেই। সরকারের সামনে দেশের মানুষ নেই, বিরোধি দল নেই। অবিষয়কে বিষয় বানিয়ে সরকার নিজেকে ব্যস্ত রেখেছে। যেমন ধরুণ, গ্রামী ব্যান্ক ও ড. ইউনুস সমস্যা । কেন যে হঠাত্‍ গ্রামীন ব্যান্ক সরকারের জন্যে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে তা দেশবাসী বুঝতে পারছেনা। শখ হাসিনার একটি সুবিধা আছে, তা হলো তিনি যা বলেন তাঁর পারিষদ দল বলেন তার হাজার গুণ বেশী। লোক কথা হচ্ছে , এক শিয়ালে ডাল দিলে শত শিয়াল হুক্কা হুয়া শুরু করে। কোন শিয়ালই কারণ অকারণ জানতে চায়না। এটা অবশ্য দলের খুব ভাল। আমরা যারা বিগত ৫০ বছর ধরে আওয়ামী সংস্কৃতি ও ঘরাণার রাজনীতি দেখে আসছি , লক্ষ্য করেছি যে, এখানে শক্তিই প্রধান দর্শণ, যুক্তি বা জ্ঞান কখনই কাজ করেনি।

দল হিসাবে আওয়ামী লীগের চরিত্র আর দেশ হিসাবে আমেরিকার চরিত্র প্রায় একই রকম। জোর করে আদর্শ প্রচার করা উভয়েরই সংস্কৃতি। আমেরিকার ৮০ ভাগ মানুষই অতি সাধারন, দেশের রাজনীতি বা রাজনীতিবিদদের নিয়ে তারা কখনই চিন্তা করেনা।  তারা নিয়মিত সপ্তাহের মুজুরী পেলেই খুশী। দেশ কারা চালায় , কিভাবে চালায় সে নিয়ে আমেরিকার সাধারন মানুষের কোন মাথা ব্যথা নেই। ফলে দুটি রাজনৈতিক দলের কিছু নেতা আর ধনীরা দেশটা চালায়। ফলে আমেরিকা সারা পৃথিবীকে অশান্ত করে রেখেছে । প্রতি নিয়ত সারা পৃথিবীর মানুষকে ধমকের ভিতর রেখেছে। কথা শুনতে বিভিন্ন দেশকে বাধ্য করছে। সেই আমেরিকাই আবার মানবতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার নিয়ে বিশ্ববাসীকে জ্ঞান দান করতে চায়। গণচীনের মতো দেশকেও আমেরিকা মানবতা ও গণতন্ত্র শিক্ষা দেয়ার জন্যে উদগ্রীব হয়ে থাকে। নোবেল বিজয়ী বিশ্বখ্যাত জার্মান কবি গুন্টার গ্রাস বলেছেন, যে দেশের কাছে আনবিক বোমা নেই সেই দেশকে শায়েস্তা করার জন্যে আমেরিকা ও তার বন্ধুরা উঠে পড়ে লেগেছে। আর যার কাছে আনবিক বোমা আছে তার ব্যাপারে কারো কোন কথা নেই।মারণাস্ত্র আছে বলে ইরাকের সাদ্দামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে শান্ত দেশটাকে লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। সেখানে এখন প্রতি নিয়ত মানুষ মারা যাচ্ছে। এখই অবস্থা করেছে লিবিয়ার। এখন বলছে ইরাণ আক্রমনের জন্যে আমেরিকা প্রস্তুত। বিশ্ব জনমত আমেরিকা ও তার বন্ধুদের বিরুদ্ধে, কিন্তু ক্ষমতা জনমতের বিরুদ্ধে।

বংগবন্ধু শেখ মুজিব মুসলীম লীগ করেছন, পরে আওয়ামী মুসলীম লীগ করেছেন। মুসলীম শব্দ বাদ দিয়ে শুধু আওয়ামী লীগ করেছেন। কিন্তু কিছুতেই তিনি আরাম পাচ্ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করার জন্যে বাকশাল করে সকল দল নিষিদ্ধ করেছিলেন। অথচ গণতন্ত্রের জন্যে তিনি বছরের পর বছর জেল জুলুম নির্যতন সহ্য করেছেন। দেশ হোয়ার সময় তিনি পাকিস্তানের কারাগারে ছিলেন। সারা জীবন আমেরিকাকে সমর্থন করে বাংলাদেশে ফিরে এসে ভারতের অনুপ্রেরণায় একদলীয় গণতন্ত্র প্রতিস্ঠা করেন। মাওলানা ভাসানী যখন পূর্ণ স্বায়ত্ব শাসনের কথা বললেন, বংগবন্ধুর নেতা সোহরাওয়ার্দী সাহেব বললেন ৯৮ ভাগ স্বায়ত্ব শাসন দেয়া হয়ে গেছে। আর যারা স্বায়ত্ব শাসনের দাবীদার ছিলেন তাদের লাঠিপেটা করার জন্যে ধেয়ে গেছে বংগবন্ধুর ভক্তরা। পরে দেখা গেল বংগবন্ধু নিজেই পূর্ণাংগ স্বায়ত্ব শাসনের দাবীদার হয়ে গেছেন। ৭০-৭১ সাল পর্যন্ত বংগবন্ধু কখনই সমাজতন্ত্রের সমর্থক ছিলেন না। কিন্তু বাংলাদেশ হওয়ার পর তিনি হয়ে গেলেন সবচেয়ে বড় সমাজতান্ত্রিক নেতা। রাশিয়া হয়ে গেল তাঁর সবচেয়ে বড় বন্ধুদেশ।

কেউ কেউ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় আওয়ামী লীগ হলো সবচেয়ে শক্তিশালী বিরোধী দল। ক্ষমতায় গেলেও আওয়ামী লীগ নিজেকে বিরোধি দলই মনে করে। আওয়ামী নেতারা নিজেরাই বলেন, ক্ষমতায় থাকলেও আমরা রাজপথ ছাড়ি নাই। ফলে, আওয়ামী লীগের দলীয় ভাষা ক্ষমতায় এবং ক্ষমতার বাইরে একই সমান।

লেখক: কবি ও সাংবাদিক

ershadmz40@yahoo.com

Read Full Post »


আর কতদিন আমরা একটি মানবিক রাস্ট্র প্রতিস্ঠার অপেক্ষায় থাকবো ?       এরশাদ মজুমদার

 

আমাদের রাস্ট্র ব্যবস্থায় মানবতা এবং মানবাধিকার বিষয়টি তেমন গুরুত্ব পায়না। এর আগেও আমি এ বিষয়ে লিখেছি। আমাদের রাস্ট্র মানুষের চেয়ে অনেক বড়। রাস্ট্রকে আমাদের নেতারা  অনেক বেশী ক্ষমতা দিয়ে ফেলেছেন। মানুষের কল্যাণ ও মংগলের ব্যাপারে আমাদের রাস্ট্রের কোন দর্শন নেই। রাস্ট্র একটি আধুনিক ব্যবস্থা। জনগণের ক্ষমতায়ন ও অধিকার প্রতিস্ঠার চিন্তা থেকেই রাস্ট্র ব্যবস্থার জন্ম হয়েছে। বড় বড় দার্শনিক রাস্ট্র বিজ্ঞানের পন্ডিতগণ আধুনিক রাস্ট্র ব্যবস্থার প্রচারক ছিলেন।  ইতোমধ্যেই এই ব্যবস্থা বেশ পুরাণো হয়ে গেছে। কিছু লেখক সাংবাদিক বুদ্ধিজীবী ও চিন্তকজন এই ব্যবস্থা ঘুণেধরা বুর্জোয়া শোষণকামী ব্যবস্থা বলে গালাগাল দিচ্ছে। কমিউনিস্ট রাস্ট্র ব্যবস্থা মানুষের চাহিদা পূরণ করতে পারেনি। প্রায় একশ’ বছর ধরে এই ব্যবস্থা নিয়ে কমিউনিস্ট নেতারা পরীক্ষ নিরীক্ষা চালিয়েছেন। সোভিয়েত রাশিয়ার পতনের মাধ্যমে কমিউনিস্ট রাস্ট্র ব্যবস্থার ব্যবহারিক দিকের পতন হয়েছে। কিন্তু দর্শন হিসাবে এটা এখনও জীবিত। আমি মনে করি সমাজতান্ত্রিক রাস্ট্র ব্যবস্থার চিন্তকরা ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন। এইতো ক’দিন আগেই কার্ল মার্কসের দেশ’ বছর পালিত হয়েছে। জগত বিখ্যাত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবী হিসাবে চে’কে তরুণরা ভুলতে পারেনা। চে’র ছবিওয়ালা টি’শার্ট এখনও তরুণদের খুবই প্রিয়। ইয়েমেনের তরুণরাও চে’র ছবি নিয়ে মিছিল করছে।

কার্ল মার্কস নিজেই ইসলামকে রেডিকেল ধর্ম হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। এর আগেও আমি বলেছি , মার্কস যদি পুরো কোরাণ শরীফ পড়তেন তাহলে হয়ত তিনি ডাস ক্যাপিটেল এ ভাবে রচনা না করে কিছুটা আরও মানবিক করে তুলতে পারতেন। পবিত্র কোরাণ শরীফে আল্লাহ ও বান্দাহ সম্পর্কিত আয়াত বা বাণী অতি অল্প।জগতের সকল কিতাবই দাবী করেছে মানুষকে আল্লাহ সৃস্টি করেছেন। সকল ধর্মের মানুষই বিশ্বাস করে মানুষ আল্লাহ, ভগবান, ইশ্বর, গড, ইলোহা, ইলাহার কর্তৃক সৃস্ট। কিতাবও এসেছে যুগে যুগে। শেষ কিতাব হচ্ছে আল কোরাণ। কিছু মানুষ পুরাণো কিতাব এবং এর ধ্যান ধারণাকে আঁকড়ে ধরে আছে। নতুন কিতাব আল কোরাণের আবেদনকে গ্রহণ করেনি। হয়ত এটাই মানুষের ভাগ্য। সেমিটিক ধর্মগুলো মূলত একই সূত্রে গ্রথিত। মূল সুর একই। হজরত ইব্রাহিম সকল জাতিরই পিতা। একই পিতার সন্তানেরা বিভিন্ন মতে বিভক্ত হয়ে গেছে। একে অন্যের সাথে মারামারি করছে। এমন কি আল কোরাণও হজরত মোহাম্মদে যাঁরা ঈমান এনেছেন তাঁদের ভিতরও অনেক বিভক্তি।

ইসলামকে ধর্ম মনে না করে একটা সামগ্রিক জীবন ব্যবস্থা হিসাবে মনে করেও নতুন দুনিয়ার ব্যবস্থা প্রতিস্ঠা করা যেতে পারে। এর মধ্যা ইসলামের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই বিশ্ববাসীর দৃস্টি আকর্ষণ করেছে। অন্য ধর্মাবলম্বীরাও ইসলামী ব্যংকিং ব্যবস্থাকে গ্রহণ করেছে। ইসলামে রাস্ট্রব্যবস্থা, বিচার, চিকিত্সা, শিক্ষা, কৃষি শিল্প, নির্বাচন, সরকার গঠন, প্রশাসন, সম্পদ বন্টণ, ওয়ারিশয়ানা সহ সকল বিষয়ে সুস্পস্ট ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে গবেষণার দুয়ারও খোলা রাখা হয়েছে। দেড় হাজার বছর আগে ইসলামই প্রথম মানবতা ও মানবাধিকার নিয়ে কথা বলেছে। আল্লাহর রাসুল হজরত মোহাম্মদ (সা ) এ জগতে সর্ব প্রথম  অধিকার হারা সাধারন মানুষের রাস্ট্র প্রতিস্ঠা করেন। সেই রাস্ট্র শুধু মুসলমানদের জন্যে ছিলনা। সেই রাস্ট্রে সকল ধর্ম মতের মানুষের অধিকার প্রতিস্ঠিত হয়েছিল। সে সময়ে সাধারন মানুষের অধিকার বা রাস্ট্রের কোন ধারণাই ছিলনা। মুসলমানেরা সে ধরণের কোন রাস্ট্র আজও প্রতিস্ঠা করতে পারেনি। পূর্ণাংগ ইসলামিক রাস্ট্র প্রতিস্ঠিত হয়নি। যেমন আমাদের রাস্ট্র বাংলাদেশ। এ রাস্ট্রের কোন দর্শন বা আদর্শ আমি দেখতে পাইনা। বাংলাদেশ নামক রাস্ট্রের প্রধানতম সমস্যা হলো এ দেশের মানুষ গুলো মুসলমান। হাজার বছর ধরেই মুসলমান। সামাজিক মর্যাদা, সম অধিকার পাওয়ার আশাতেই তখনকার মজলুম মানুষ গুলো ইসলাম গ্রহণ করেছে। এর আগে  ধর্মীয় বর্ণবাদ তাদের শোষণ করতো। তখন ইসলামের মতো প্রগতিশীল আর কোন ধর্ম, মতবাদ বা দর্শণ ছিলনা। তখন সমাজে সাধারন কোন মুক্ত ছিলনা। রাস্ট্রও ছিলনা, গণতন্ত্রও ছিলনা। ক্ষমতাবানরাই দেশ ও সমাজ চালাতো। যার শক্তি ছিল সেই ছিল শাসক বা রাজা বাদশাহ। আধুনিক রাস্ট্র ব্যবস্থার ধারণা  নিয়ে এসেছে ইংরেজরা এ দেশে। যা অচল হতে চলেছে। নতুন কোন ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয় বলেই পুরাণো অচল ব্যবস্থাটাই চলছে। আমাদের বাংলাদেশ ওই পুরাণো ব্যবস্থাতেই চলছে। যে ব্যবস্থায় এক ভোট বেশী পেয়েই একজন নির্বাচিত হয়। সংসদের এক সিট বেশী থাকলেই একটি দল বা গ্রুপ ক্ষমতা দখল করে। ভোট পাওয়ার প্রশ্নে কোন নিয়ম নীতি বা নৈতিকতার ব্যাপার নেই। সোজা কথায় ভোট পেলেই হলো। কিভাবে পেয়েছে তা বিবেচ্য বা বিচার্য বিষয় নয়। নেতা নির্বাচনে নৈতিকতার বিষয়টা এখন আর কোন গুরুত্পূর্ণ বিষয় নয়।নেতার গুণের বিষয়টাও গুরুত্বপূর্ণ নয়। ভোট পেলেই হলো। ফলে আমাদের জাতীয় সংসদে এখন আর তেমন ভাল মানুষ নেই। ৪৬ বা ৫৪তে যারা নির্বাচিত হয়েছিলেন এখন সে ধরণের মানুষের কোন প্রয়োজন নেই। নমিনেশনের সময়েই বলা হয় টাকা না থাকলে নমিনেশন পাওয়া যাবেনা। তাহলে আমরা জানতে পারলাম এক নম্বর যোগ্যতা টাকা। তারপরের যোগ্যতা কত মটর সাইকেল, জীপ আর অস্ত্র আছে। সর্বশেষ যোগ্যতা হলো প্রার্থীর নিয়ন্ত্রণে কত মাস্তান আছে। এক সময় নির্বাচনে প্রার্থীরা ছিলেন উকিল ও সমাজসেবীরা। এখন যে কোন লোকই হতে পারেন। একবার নির্বাচিত হলেই তিনি বা তাঁরা সমাজের এলিটে পরিণত হন। আর নির্বাচিত না হলেও তাঁরা সবেক এমপি, মন্ত্রী ও উপদেস্টা। সবার বাড়ির সামনে নেমপ্লেট থাকে সাবেক অমুক। তাঁদের ছেলেমেয়দেরও সমাজে দাম বাড়ে। আমাদের মতো দেশে যাঁরা ক্ষমতায় থাকবেন তাঁদের মানবাধিকার থাকবে। আর থাকবে রাস্ট্রের ও রাস্ট্রের কর্মচারীদের। আপনি যদি যমতার বাইরে থাকেন তাহলে পুলিশ, বিজিবি, রেব সহ আরও যাঁরা আছে সবাই গায়ে হাত তুলতে পারবেন। আপনার বিরুদ্ধে রাস্ট্রদ্রোহিতার মামলা দিতে পারবে। আপনি সাবেক মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী হলেও কিছু আসে যায়না। আপনারা  নিয়মিত টিভিতে দেখেন পুলিশের কি ক্ষমতা আছে। পুলিশ সরকার, সরকারের আমলা, সরকারের সকল রকমের শালা ছাড়া সকলের গায়ে হাত তোলার অধিকার রাখেন। পুলিশ খুব বিনয়ের সাথে বলবে, স্যার আমরা রাস্ট্রের গোলাম, আর রাস্ট্র চালায় সরকার। রাস্ট্রের আইন আর সরকারের নির্দেশেই আমরা আপনাদের গায়ে হাত তুলি। বলতে পারেন আমরা জনগণের খাদেম। জনগণের প্রতিনিধি হলেন নির্বাচিত সরকার। আরও বলবে স্যার, রাস্ট্র আর সরকারের খেদমত করা মানেই মানবতার খেদমত করা আর মানবাধিকার রক্ষা করা। আপনি যদি বলেন সংবিধান আমার সকল মৌলিক অধিকার ড়শা করেছে। তখন পুলিশ অফিসার বলবে, স্যার ওসব কাগুজে কথা। কাগজেতো কত কথাই লেখা থাকে। শুধু কাগজে থাকলেই কি দখলি স্বত্ব থাকে? না থাকেনা। এইতো দেখুন না, বিরোধী দলের চীফ হুইফ জয়নাল আবেদীন সাহেবের কি হাল হয়েছিল? তাঁকে যে পুলিশ অফিসার কিল ঘুসি মেরেছিলেন তিনি প্রমোশন পেয়ে গেছেন। রাজনীতিতেও তাই, যিনি যত বেশী পুলিশের কিল ঘুসী খাবেন তিনি তত বেশী উন্নতি লাভ করবেন। এইতো দেখুন না , সরকারী দলের এক নেত্রী যখন বিরোধী দলে ছিলেন তখন বিনা কারণেই রাস্তায় শুয়ে পড়তেন। তিনিতো এখন খুবই সম্মানিত একজন মন্ত্রী। আপনারা মার খেয়ে, জেলে গিয়ে মন্ত্রী হন, আর আমরা মার দিয়ে, জেলে পাঠিয়ে প্রমোশন পাই। একেই বলে রাস্ট্র ব্যবস্থা। রাস্ট্র থাকলে তার কতগুলো পোষাক থাকতে হয়। তেমনি পোষাক হলো মানবতা, মানবাধিকার, আইন আদালত, সংসদ। রাস্ট্র থাকলে সভ্য বলে গণ্য হওয়ার জন্যে এসব রাখতে হবে এবং পরতে হবে। এইতো দেখুন না নামজাদা ঔপন্যাসিক হুমায়ুন আহমদ বংগবন্ধুকে নিয়ে উপন্যাস লিখতে গিয়ে ফেঁসে গেছেন। আদালত উপন্যাসটি শুদ্ধ করে লেখার জন্যে নির্দেশ দিয়েছেন। দেয়াল নামক ইতিহাস ভিত্তিক উপন্যাসটি লেখার জন্যে প্রকাশক হয়ত অগ্রিম দিয়ে বসে আছেন। এছাড়া হুমায়ুন ক্যান্সারের চিকিত্‍সার জন্যে বিদেশে থাকার সময় প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের প্রচুর ভালবাসা পেয়েছেন বলে আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। হয়ত ভালবাসার প্রতিদান দিতে গিয়েই এখন আদালতের ভালবাসা নিতে হচ্ছে।

এইতো দেখুন , ক’দিন আগে বিরোধী জোটের ৩০/৩৫ জন নেতাকে জেলে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে গারি পোড়ানো ও বোমা ফোটানোর অভিযোগ এনেছে পুলিশ। আগেই বলেছি পুলিশ যারা ক্ষমতায় থাকেন তাঁদের জন্যে কাজ করেন। যদিও মাঝে মাঝে সরকারী কর্মচারীরা বলেন, আমরা রাস্ট্রের কর্মচারী, কারো ভৃত্য নই। রাস্ট্র যেহেতু যে বেশী ভোট পায় সেই চালায় তাই পুলিশ সহ সকল বাহিনী তাঁদের কথা শোনেন। এখানে মানবাধিকার বা মানবতার কথা আসবে কেন। সরকারতো মানবতা আর মানবাধিকারের জন্যে কাজ করছে। তাহলে সরকার বা তার বেতনভুক কর্মচারীরা শব্দ দুটি লংঘন করবেন কেমন করে। যিনি বা যাঁরা রক্ষা করেন তিনি বা তাঁরা কিভাবে লংঘন ভংগন  করবেন। সোজা কথায় বলা যেতে পারে পুলিশ ও সরকারী বাহিনী মনে করেন সরকারের সমালোচক বা বিরোধী দলকে পিটানো , তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া তাঁদের পবিত্র দায়িত্ব। তাঁরাতো এ কাজটি বৃটিশ আমল থেকেই করে আসছেন। ৫২র ভাষা আন্দোলন, ৬৯ এর গণ অভ্যুত্থানের সময়েও পুলিশ বাহিনী এ কাজটি খুবই দক্ষতার সাথে করেছেন। আইন আদালততো বৃটিশ আমলেরই রয়ে গেছে। তাই আইনের কাছে  সবার হাত পা বাঁধা। চলমান আওয়ামী লীগ সরকারতো মহান পবিত্র মুক্তিযুদ্ধের সরকার। এ সরকারের সাথে নানা ধরনের পবিত্রতার সম্পর্ক রয়েছে। এই পবিত্রতা নিয়ে কোন কথা বলা যাবেনা। আমাদের আদালতও এখন মুক্তিযুদ্ধের আদালত। তাই বলতে হবে মহান মুক্তিযুদ্ধ , মহান আদালত, মহান বিচারপতি। এতদিন আমরা শুধু বলতাম মহান সেনাবাহিনী, এখন সবার নামের আগে মহান বা পবিত্র লেখা ভাল হবে বা মানান সই হবে। বৃটিশ আমলে মহান বা মহামান্য সরকার বাহাদুর বলে অনেকেই দামী দামী খেতাব পেয়েছেন। এখনও মহান মহামান্য সরকার বাহাদুর বললে সরকার খুশী হন এবং নানা রকম পদক ও সম্মানী প্রদান করেন। হাজার হাজার বছর আগেও এসব রেওয়াজ ছিল। তখন রাজা বাদশাহ ও শাসকদের গুণগ্রাহী ছিলেন খুবই কম ছিলেন। কারণ বেশীর ভাগ প্রজা বা মানুষ ছিলেন অবোধ অচেতন এবং অধিকার হারা। তাঁরা জানতেন না মানবতা বা মাবাধিকার কাকে বলে। তাঁরা জানতেন না প্রজা হিসাবে তাঁদের কোন ক্ষমতা আছে কিনা। সাধারন মানুষের ধারণা ছিল রাজা আর পারিষদ দেশ চালাবেন। এতে প্রজার কি করার আছে। প্রজারা কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গ্রামের একজন চৌকিদারই ছিলেন সরকার বা বাদশাহর প্রতিনিধি।

মানব জাতির জন্যে নির্ধারিত ও নির্দেশিত কিতাব আল কোরাণ দেড় হাজার বছর আগেই ঘোষণা করেছে জগতে মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই। মানুষই শ্রেষ্ঠ, তাহার উপরে নেই। মানুষ তার স্রস্টা ছাড়া কারো কাছে মাথা নত করবেনা। মানুষকে পদানত করার জন্যে যুগে যুগে হাজার বছর ধরে শক্তিমানরা  চেস্টা চালিয়ে গেছে। সবাই মানুষের ঐক্যবদ্ধ  শক্তির কাছে পরাজিত হয়েছে। কিন্তু শক্তিমানরা যতদিন শক্তি থাকে ততদিন এই সত্যটি বুঝতে পারেনা বা বুঝার চেস্টা করেনা। মানুষের সার্বভৌমত্ব স্বাধীনতার এই খবরটি সুস্পস্টভাবে আজও মানুষের কাছে পৌঁছেনি। এর মানে আল কোরাণের এই মহান বাণী জগতের ঘরে ঘরে পৌঁছেনি। আল্লাহ রাসুল হজরত মোহাম্মদের(সা) বাণী আজও সকল মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। তাই মানুষের অন্তরের সকল অন্ধকার আজও দূরীভুত হয়নি। প্রকৃতিগত ভাবেই মানুষ স্বাধীন। তাঁর চিন্তার স্বাধীনতা আরশীল আজিম পর্যন্ত। সেই মানুষকে শক্তির জোরে, খোদা বিরোধী আইনের জোরে যারা  পরাভূত করে রাখতে চায় তারা খোদাদ্রোহী। তারা ফেরাউন নমরুদ আর সাদ্দাদের বংশধর। কোরাণ জানলেই মানুষ স্বাধীন হয়ে যাবে। জগতের কোন কিছুই মানুষকে আর শৃংখলিত করতে পারবেনা। কোরাণের কাজ  শুধু ভাল মানুষকে বেহেশত দান করা নয়। কোণের কাজ হচ্ছে, জগতে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিস্ঠা করা। শুধু অল্প সংখ্যক মানুষ কোরাণের মর্মবাণী  বুঝতে পেরেছে। তাই বিশ্বের সকল ফেরাউন আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে কোরাণের বিরুদ্ধে, সত্যের বিরুদ্ধে ও মানুষের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে। ফেরাউনী শক্তির ছায়া ও বাতাস বাংলাদেশেও এসে পৌঁছেছে। বুশ বা ওবামা জেহাদ শব্দটিকে ভয় পায়। বাংলাদেশেও শয়তানী শক্তি এই শব্দটিকে ভয় পায়। আপনারা প্রায় শুনবেন পুলিশ জেহাদী বই সহ অমুক জায়গা থেকে অতজনকে আটক করেছে। সেই জায়গায় বহু জেহাদী বই পাওয়া গেছে। কিন্তু আমরা জানিনা ওই জেহাদী বই গুলো কি? ৫০ থেকে ৬০ দশকের দিকে আমরা যখন স্কুলে কলেজে পড়তাম তখন ‘সোভিয়েত দেশ’ বা পিকিং রিভিউ হাতে দেখলেই পুলিশ তাড়া করতো। তখন বিশ্বব্যাপী সরকার গুলো কমিউনিজমকে ভয় পেতো। ভাবতো এসব বই পড়লেই পোলা পাইন নস্ট হয়ে যাবে। বা মা’রাও তাই মনে করতেন। পত্র পত্রিকা গুলোও ‘লালমিয়া” বলে গালাগাল দিতো। বিশ্বের ফেরাউনী শক্তি এখন ইসলাম ও কোরাণের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে। আল কোরাণ নাকি মানুষকে সন্ত্রাসী করে তোলে। বিদ্রোহ বিপ্লবের কথা বাদ দিয়ে কোরাণ তাফসীর বা ব্যাখ্যা করতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। মুসলমান অমুসলমান সব সরকারই মনে করে কোরাণের জেহাদী আয়াতগুলো বাদ রাখা দরকার।‘জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের বিদ্রোহ ফরজ।’ এটাই হচ্ছে আলকোরাণের পবিত্র বাণী। আলকোরাণ হচ্ছে গণ মানুষের মুক্তির সনদ।

আমাদের দেশটি আল্লাহর আইনে চলেনা। চলে বৃটিশ আইন মোতাবেক। এসব কথা এর আগেও আমি আমার কলামে বহুবার বলেছি। সোনার বাংলার  আদালত, বিচার ব্যবস্থা, সরকার ব্যবস্থা, সংসদ  সবকিছুই চলে বৃটিশ আইনে। এদেশের ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমান। বেশীর ভাগ মানুষ নিরক্ষর দরিদ্র। নিজেদের অধিকার সম্পর্কে তাঁরা অবহিত নয়। তাঁদের অধিকার প্রতিস্ঠার জন্যেই একদিন পাকিস্তান প্রতিস্ঠা হয়েছিল। কিন্তু অধিকার প্রতিস্ঠা হয়নি। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ৪০ বছর পার হয়ে গেছে। কিন্তু সাধারন মানুষের মুক্তি আসেনি। এমন রাস্ট্র ব্যবস্থায় মজলুমের মুক্তি নেই একথা তাঁরা জানেন না। যে আলেম ওলামারা ইংরেজদের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছিলেন তাঁদের উত্তরসূরীরা  এখন কোথায়? রাস্ট্র স্বাধীন হলেই মানুষ স্বাধীন হয়না। তার বড় প্রমাণ পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। বিশ্বে আরও বহুদেশ আছে যেখানে ভুগোল আর কিছু নেতা স্বাধীন হয়েছে, কিন্তু মানুষ স্বাধীন হয়নি। একথা এখন নিশ্চিত ভাবে প্রমানিত হয়ে গেছে যে, রাস্ট্র স্বাধীন হলেই মানুষ স্বাধীন হয়না। প্রচলিত ধ্যান ধারণা দিয়ে মানুষের সামগ্রিক মুক্তি কখনই আসবেনা। সরকার গুলো রাজা বাদশাহ আর ফেরাউদের প্রতিনিধি। সেই প্রতিনিধিদের আড্ডাখানা হলো জাতিসংঘ, বিশ্বব্যান্ক, আইএমএফ ইত্যাদি।

চলমান সরকারের জুলুম নির্যাতন নিয়ে আমি তেমন মাথা ঘামাইনা। দেশের প্রচলিত আইনই সরকারকে জুলুমবাজ করে তুলেছে। মানুষের নামে মানুষের কল্যাণের জন্যে  যেসব আইন তৈরি হয়েছে তা কখনই মানুষের পক্ষে ছিলনা, এখনও নাই। বার বার করে বলছি, বলেছি চলমান আইন দিয়ে এদেশে কখনই মানুষের অধিকার প্রতিস্ঠা করা যাবেনা। এদেশে সংসদকে বলা হয় সার্বভৌম। যেখানে নিয়মিত মানুষের বিরুদ্ধে আইন পাশ হয়। যেখানে দিনরাত অসত্য বাক্য বিনিময় হয়। আদালতেও মিথ্যা সাক্ষী সত্য হিসাবে গৃহীত হয়। এমন সব আদালত যেখানে কোন গরীব কোনদিনও পৌঁছাতে পারেনা। কোন দল ভাল আর কোন দল মন্দ একজন কলাম লেখক এটা  বিবেচনার দায়িত্ব আমার নয়। এখন মনে হচ্ছে চলমান সরকারের মতো এত অত্যাচার এর আগে কোন সরকারই করেনি। একথা আমরা সব সময়েই বলে থাকি। একজন লেখক হিসাবে আমি মনে করি মানুষের অধিকার প্রতিস্ঠা করার জন্যে কলম ধরাই  আমার প্রথম ও প্রধান কাজ। বাংলাদেশকে গণ মানুষের রাস্ট্রে পরিণত করতে হবে। সাধারন মানুষ যখন বুঝবে এ রাস্ট্রটা তার তখন সকল দিক থেকেই দেশ উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে। জানিনা, বাংলাদেশ গণমানুষের রাস্ট্রে পরিণত হতে আর কতদিন লাগবে?

লেখক: কবি ও সাংবাদিক

ershadmz40@yahoo.com

Read Full Post »