Feeds:
Posts
Comments

Archive for July, 2011


মো্ল্লা কারা এবং কেন? এই বিষয়টা আমাদের শিক্ষিত সমাজে এখনও স্পস্ট নয়। তবে মুসলীম বিশ্ব সহ বহুদেশে ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষিতদের মোল্লা বলে মসকরা হয়। অনেকেই বলেন, দেশে মোল্লাতন্ত্র কায়েম হতে চলেছে। মানে হলো ধর্মীয় শিক্ষিত  আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান সম্পর্কে তেমন জ্ঞাত নন বা আধুনিক সমাজ ব্যবস্থা বা রাস্ট্র সম্পর্কে তেমন জ্ঞান নেই তাঁদের যেকোন উদ্যোগকে তথকথিত আধুনিক ইংরেজী শিক্ষিত লোকেরা মোল্লাতন্ত্র বলে থাকেন। এমন কি আধুনিক ইরানের বর্তমান সরকার ব্যবস্থাকে পশ্চিমারা এবং তাদের   বেশ কিছু তাবেদার মোল্লাতন্ত্র বলে মসকরা করে। অথচ এইসব আধুনিক ইংরেজী শিক্ষিতরা জানেনা ইরানের আয়াতুল্লাহরা কত শিক্ষিত ও জ্ঞানী। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে মোল্লাদের অবদান অন্যদের চেয়ে অনেক বেশী। ইংরেজী শিক্ষিতরা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশ নিতে শুরু করেছেন ১৮৫৮ সালের পরে। ১৭৫৭ সাল থেকে আলেম সমাজই ইংরেজ শাসনের বিরোধীতা করেছেন। তখন ইংরেজী শিক্ষিতদের কোন অস্তিত্বই ছিলনা। কংগ্রেসের প্রতিস্ঠাতা ছিলেন ইংরেজ সাহেব লর্ড হিউম। মুসলীম লীগের প্রতিস্ঠাতা ছিলেন কিছু মুসলমান ব্যারিস্টার ও নবাব। মুসলীম লীগ কখনই গণমানুষের দল ছিলনা। যদিও নিপীড়িত মুসলমানরা মুসলীম লীগকে সমর্থন দিয়েছে। একই ভাবে কংগ্রেসও কখনও ভারতের গণমানুষের দল ছিলনা। তবুও ইংরেজ শাসন থেকে মুক্তিলাভের জন্যে  হিন্দু জনসাধারন কংগ্রেসকে সমর্থন দিয়েছে। এক চেটিয়া হিন্দু শাসন  থেকে মুক্তিলাভের জন্যই মুসলমানরা মুসলীম লীগকে সমর্থন দিয়েছে।

৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিস্ঠার পর সাত বছরের মাথায় পূর্ব পাকিস্তানে মুসলীম লীগের চির বিদায় হয়েছে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে। তিনিই প্রতিস্ঠা করেছিলেন আওয়ামী মুসলীম লীগ। তাঁর নেতৃত্ব মেনে নিয়ে হাজার হাজার উকিল মোক্তার আক্তার কবিরাজ সমবেত হয়েছিলেন আওয়ামী মুসলীম লীগের পতাকাতলে। তিনিই গঠণ করেছিলেন যুক্তফ্রন্ট। যাতে শরীক হয়েছিল আরও বহু ইসলামী দল ও ইসলামী নেতা। সবার লক্ষ্য ছিল খাজা গজা, নবাব জমিদারদের দল মুসলীম লীগকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করা। ৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভের কিছুদিন পর আওয়ামী মুসলীম লীগ সেকুলার হওয়ার জন্যে মুসলীম শব্দটি ত্যাগ করে শুধু আওয়ামী লীগ নাম ধারণ করে। এরপর এই দলে আস্তে আস্তে কংগ্রেস ও কমিউনিস্ট পার্টির লোকজন গোপনে ঢুকে পড়ে। মাওলানা ভাসানীই ইসলামী সমাজতন্ত্রের কথা বলেছিলেন চীনে গিয়ে গণচীনের অবিসম্বাদিত নেতা মাও জে দং এর দেখা করার পর। দেশে এসেও তিনি  ইসলামী সমাজতন্ত্র কায়েমের আহবান জানিয়েছিলেন।

হজরত আবু জ’র গিফারী( রা ) ছিলেন মাওলানা ভাসানীর আদর্শ। আমি নিজেও মাওলানা সাহেবের মুখে প্রথম হাজরত আবু জ’র গিফারীর(রা) নাম শুনি। হজরত গিফারী ছিলেন রাসুলে করীমের(সা) একজন অতি ঘনিস্ট সাহাবী। তিনিই ব্যক্তি সম্পদের সীমা নির্ধারনের কথা বলেছিলেন। হাজরত গিফারীর ইসলামী অর্থনীতির আদর্শের কারণেই তাঁকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছিল। মারজান নামক মরুভুমিতে নির্বাসিত জীবনেই তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্তিকালের সময় তাঁর শিয়রের কাছে পরিবারের সদস্যরা ছাড়া আর কেউ ছিলনা। অজানা অচেনা পথিক ও পথচারীরাই তাঁর দাফনের ব্যবস্থা করেছিলেন। মাওলানা ভাসানীও বলতেন, রাস্ট্রের সকল সম্পদের মালিক । কিন্তু মাওলানা সাহেবকে কেউ বুঝতে পারেনি। ইসলামিক দলগুলো তাঁকে সমর্থন করতোনা। বরং বহু ক্ষেত্রে তাঁরা মাওলানা সাহেবের বিরোধিতা করেছে। আমেরিকা ও তার বন্ধুরা মনে করতো তিনি কমিউনিস্ট। মাওলানা সাহেব সারা জীবনই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা করেছেন। পশ্চিমা মিডিয়া গুলো সারাজীবন তাঁকে গালআগাল করেছে। তাঁকে ‘প্রফেট অব ভায়োলেন্স’ বলে প্রচার করেছে। আবার কেউ বলেছে ‘মাও অব ইস্ট ইন ডিজগাইজ অব এ্যা প্রিস্ট’। মাওলানা সাহেব দেওবন্দের ছাত্র ছিলেন। দেওবন্দীরা  ছিলেন ইংরেজ বিরোধী সংগ্রামের অগ্র সৈনিক। তিনি ছিলেন মাওলানা মোহাম্মদ আলী ও মাওলানা শওকত আলীর একজন অনুসারী। আওয়ামী লীগের প্রতিস্ঠাতা হয়েও তিনি শুধুমাত্র আদর্শের কারণে এই দল ত্যাগ করেছিলেন। মাওলানা সাহেব মনে করতেন, ইসলামই  হচ্ছে মানব মুক্তির একমাত্র পথ ও মত।  তিনি মনে করতেন, ইসলামী রাস্ট্রই মানবতার মুক্তি দিতে পারে। তিনিই প্রথম ডাক দিয়েছিলেন ইসলামী সমাজতন্ত্রের। তিনি জানতেন ও বুঝতেন ইসলাম সত্যিই একটি সমাজতান্ত্রিক আদর্শ। এই আদর্শে ব্যক্তিগত পুঁজির বিকাশের একটা সীমা আছে।পাকিস্তানকে আমেরিকার খপ্পর থেকে বের করার জন্যে তিনি চীনের সাথে পাকিস্তানের সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ব্যাপারে সহযোগিতা করেছিলেন। তখন ভারতের সাথে রাশিয়ার গভীর সম্পর্ক ছিল।

মাওলানা সাহেব ছিলেন তীতুমীর , দুদুমিয়া , হাজী শরিয়ত উল্লাহর উত্তরসূরী ছিলেন। সেকুলার না হয়েও তিনি ছিলেন গণ মানুষের নেতা। তাঁর সাম্রাজ্যবাজ বিরোধি ভূমিকার জন্যে তাঁরই প্রতিস্ঠিত কাগজ ইত্তেফাকের সম্পাদক তাঁকে লুংগী মাওলানা বলে গালাগাল দিয়েছে। দেওবন্দ মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতিপক্ষ হিসাবে বৃটিশ সরকার কলিকাতা আলীয়া মাদ্রসা প্রতিস্ঠা করে। দেওবন্দ চলতো সরকারী কোন সাহা্য্য ছাড়াই। দেওবন্দেরই অনুসারী মাদ্রাসা হচ্ছে বর্তমানের কওমী মাদ্রাসা। কওমী মাদ্রাসাগুলো সরকারী সাহায্য গ্রহন করেনি। কওমী এখনও সরকারী সু নজরে নেই। কওমী মাদ্রাসা গুলোর উপর সরকার নিয়মিত নানা ধরনের হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব হামলা বৃটিশ ও পাকিস্তান আমলেও ছিল। বর্তমানে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী, সেকুলার নেতারা  ও ৯০ ভাগ মিডিয়া ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষদের মোল্লা , জংগী , মোল্লা ও  জেহাদী বলে গালাগাল দেয়। ইসলামী শিক্ষার কেন্দ্র গুলোকে জংগীদের কেন্দ্র বলে অভিহিত করে নির্যাতন করার জন্যে সরকারকে আমেরিকানরা সরকারকে নানা ধরনের সাহায্য দিয়ে চলেছে। বলা হচ্ছে, বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস বিরোধী আন্দোলন বা যুদ্ধে সহযোগিতার জন্যেই সরকারকে পশ্চিমারা সাহায্য দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের সেকুলার রাজনৈতিক নেতা ও বুদ্ধিজীবীরাও দিনরাত ইসলামী শিক্ষার বিরুদ্ধে বক্তৃতা দিতে দিতে মুখের ফেনা তুলে ফেলেছেন। তাঁরা মনে দেশের দুর্গতির জন্যে ইসলামী শিক্ষাই দায়ী।

ইসলামী শিক্ষিতদের গালাগাল করা আমাদের দেশে একটা ফ্যাশানে পরিনত হয়ে পড়েছে। পাঠকদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ ইসলাম রাস্ট্র বা দেশ নয়। যদিও দেশের ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমান। ১৯০ বছর ইংরেজ শাসনের ফলে  সমাজের সকল স্তর থেকে ধর্ম ও নৈতিকতা বা মরালিটি নির্বাসিত হয়েছে। ইংরেজ শানের মুল মন্ত্রই ছিল আদর্শ বা নৈতিকতা নয়, শক্তি দিয়ে দেশ পরিচালনা করতে হবে। তাছাড়া মুসলমানদের কাছে থেকে ক্ষমতা গ্রহণের ফলে মুসলমানদের তারা কখনই পছন্দ করতোনা। সে সময় হিন্দুরা ইংরেজদের সমর্থন করতো। হিন্দুদের সমর্থন নিয়েই তারা ভারত শাসন করেছে। সত্যিকথা বলতে কি আমরা এখনও ইংরেজ শাসনের কুফল ভোগ করছি। এখনও আমরা ইংরেজদের নিয়ম কানুন, কালচার বা সংস্কৃতি, ইতিহাস, ন্যায়নীতি অনুসরন করি। আমাদের স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস আদালত সবখানেই এখনও ইংরেজ শাসনের ছাপ রয়েছে। ৯০ ভাগ মুলমানের দেশ বাংলাদেশে সরকার আদালত অফিস  স্কুল কলেজ চালাতে ইসলাম জানতে হয়না। আমাদের আদালতে ইসলাম না  জানলেও বিচার করা যায় এবং কোরাণ সুন্নাহর বিরুদ্ধে রায় দেয়া যায়। ইসলামী ফারায়েজ ব্যবস্থা না জানলেও জমিজমা বন্টনের ব্যাপারে একজন হিন্দু দায়িত্বে থাকতে পারে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকতে হলে কোন ধর্ম না জানলেও চলবে। আমাদের সংবিধানে ধর্ম আল্লাহ রাসুল কোরাণ হাদিস না থাকলেও চলে। কারণ এসব নাকি ব্যক্তিগত ব্যাপার। রাস্ট্র থাকবে তথাকথিত নিরপেক্ষ বা ধর্মহীন। যারা রাস্ট্র চালাবেন তারাও থাকবেন ধর্মহীন বা সেকুলার। তাই চলতি সময়ে সংবিধান ও ধর্ম নিয়ে নানা কথা হচ্ছে। সরকারী আচরন দেখে ব্যথিত হওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকেনা। নেতারা ৯০ ভাগ মুসলমানের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বলেন, আমরা ধর্ম নিরপেক্ষ। আমাদের রাস্ট্রের কোন ধর্ম নেই। সবকিছু দেখেশুনে মনে এদেশে  ৯০ ভাগ মানুষের ধর্ম জানা এক ধরনের অপরাধ। ইসলাম যারা জানে তাদের ধরো আর জংগী বানিয়ে অত্যাচার করো আর জেলভর্তি করো। এতে খৃস্টান ও হিন্দু প্রভুরা খুশী হবে। ইসলাম খতমের জন্যে  আরও বেশী বেশী অর্থ সাহায্য আসবে। আমাদের দেশের হাজার হাজার এনজিও মানুষকে ধর্মহীন করার জন্যে কাজ করে যাচ্ছে। এনজিও নেতারা  এজন্যে নানা ধরনের এওয়ার্ড পান। এমন কি কেউ কেউ স্যার টইটেলও পান। এই সব এনজিও চট্টগ্রামের পাহাড়ী এলাকায় ইতোমধ্যে ১২ হাজার মানুষকে খৃস্টধর্মে দীক্ষিত করেছে। তাদের উদ্দেশ্য চট্টগ্রামের পাহাড়ী অঞ্চল নিয়ে পূর্ব তিমুরের মতো একটি খৃস্ট রাস্ট্র প্রতিস্ঠা করা। আর তাদের উদ্দেশ্য বাংলাদেশে ইসলামকে দুর্বল করে দেয়া। ইসলাম নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের তাদের হেয় প্রতিপন্ন করা। আমার মতে দুর্ভাগ্য হলো, চলতি সময়ে বাংলাদেশ সরকার তথাকথিত সেকুলারিস্টদের পাল্লায় পড়েছে। সেকুলারিস্টদের তেমন কোন দল নেই। তাই তারা  ২০০৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে নৌকায় চড়ে তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে। এখন দিনরাত ঘেনর ঘেনর করে চলেছে। যো কোন কারণেই হোক বর্তমান সরকারে সেকুলারিস্টদের পাল্লা ভারী। তাই তারা এখন খুবই  দামী। এরাই ইসলাম বিরোধী এবং মেজরিটি মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। আমাদের দেশের মিডিয়া, প্রিন্ট হোক বা ইলেক্ট্রনিক হোক সবাই বুঝে না বুঝে সেকুলারিজমের মোল্লাগিরির দায়িত্ব নিয়েছে। কোন এক অদৃশ্য শক্তির কবলে পড়ে তারা এসব করছেন।

আধুনিক তুরস্কের প্রতিস্ঠাতা বলে বহুল প্রচারিত মোস্তফা কামাল পাশা মোল্লা উচ্ছেদের অভিযানে নেমে শত শত আলেমকে হত্যা করেছিলেন। মোস্তফা কামালের ভুতেরা এখনও তুরস্ককে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। কিন্তু তুরস্ক ধীরে ধীরে ওই অবস্থা কাটিয়ে উঠার চেস্টা করে চলেছে। বাংলাদেশের অবস্থা তুরস্কের মতো অত খারাপ  এখনও হয়নি। তবে অভিযান চলছে। কখনও তালেবান, কখনও জংগী, কখনও বা আলকায়েদা নামে মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষকদের হেনস্থা করা হচ্ছে। এক সময় কমিউনিস্টদের যেমন করা হয়েছিল। এখনতো বিশ্বব্যাপী  খৃস্টান, কমিউনিস্ট, ইহুদী ও হিন্দু সবাই মিলে  ইসলাম, জংগী ও মোল্লাদের বিরুদ্ধে লেগেছে। আর এই ইসলাম বিরোধী অভিযানে আরব জগতের বাদশাহ ও একনায়করা সামিল হয়েছেন। কারণ সবাই ইসলামের মানবতাবাদকে ভয় করে। চীন কোরিয়া ও মায়ানমার পশ্চিমাদের কথা শোনেনা। কিন্তু তাদের কিছু করতে পারেনা। যত দোষ নন্দঘোষ। জগতে যত খারাপ কাজ সবই করছে  ইসলাম ও মুসলমানরা।  মোল্লাতন্ত্র বলতে আমাদের শিক্ষিত(?) সেকুলারিস্টরা মনে করেন রক্ষণশীল পিছিয়ে পড়া ধর্মীয় শিক্ষিতদের শাসন ব্যবস্থা। ইরাণের চলমান শাসন ব্যবস্থাকেও বাংলাদেশের প্রগতিবাদীরা সমর্থন করেনা। পশ্চিমারা দলবদ্ধ হয়ে ইরানের বিরোধিতা করছে। ইরাণের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অবরোধ জারী করেছে।কারণ, ইরাণ ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েমের চেস্টা করছে। পশ্চিমারা মালয়েশিয়ার মোহাথিরেরও বিরোধিতা করেছে।

তবে আমি একথাও স্বীকার করবো যে, জোব্বা ও টুপি পরা, লম্বা দাঁডিওয়ালা স্বল্প আরবী শিক্ষিত কিছু অবুঝ মানুষ ইসলাম ও মুসলমানদের যারপর নাই ক্ষতি করেছেন। এই স্বল্প শিক্ষিতরা ইসলাম সম্পর্কে তেমন কিছু জানেনা। কিন্তু নিজ নিজ এলাকায় গুরু সেজে বসে আছেন। এরাই এলাকার ক্ষমতাধর দুস্ট লোকদের সাথে নিয়ে ধর্মের নামে সাধারন মানুষের উপর অত্যাচার চালায়। এ ধরণের অত্যাচারের ঘটনা বাংলাদেশে অহরহ ঘটছে। এরা ইসলামের নামে ভুল ফতোয়া দেয় এবং ভুল বিচার করে। যদিও এ ধরনের কোন বিচার করার জন্যে  তাদের কোন অধিকার নেই। এরাই দোররা বা পাথর মেরে মেয়েদের হত্যা করে আর সামাজিক ভাবে অপমানিত করে। এইসব অশিক্ষিত মোল্লাদের শিকার হলো এলাকার গরীব ও অধিকার হারা মুসলমানগণ।  একই ভাবে কিছু শিক্ষিত কোট প্যান্ট টাই স্যুটপরা মানুষ যারা ইসলাম সম্পর্কে কিছুই জানেন না তাঁরাও সমাজে নানা ধরনের বিভ্রান্তি সৃস্টি করে চলেছেন। একথা সত্যি যে বাংলাদেশে তথাকথিত শিক্ষিত সমাজের ৮০ ভাগের ইসলাম সম্পর্কে কোন ধারনা নেই। এরাই রাস্ট্র সমাজের নেতা। আমাদের  রাস্ট্র ব্যবস্থায় ইসলাম না জানলেও রাস্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিচারপতি, সচীব, ভাইস চ্যান্সেলর হওয়া যায়। কিন্তু ইসলামিক স্কলাররা রাস্ট্রের কোন উচ্ছ পদ পাননা। ইদানিং বেশ কিছু মাদ্রাসা শিক্ষিত যুবক বিসিএস প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হয়ে সরকারী চাকুরীতে সুযোগ পাচ্ছেন। সেখানেও নানা ধরনের বাধা আসছে। এসব আরী শিক্ষিতরা জংগী কিনা তা গোয়েন্দা বিভাগ পরীক্ষা করে দেখছে। বিসিএস পরীক্ষায় ইসলামিক জ্ঞান থাকা কোন জরুরী বিষয় নয়। অথচ প্রার্থীদের ৯০ ভাগই মুসলমান।

ইংরেজ আমলেই ইংরেজী  শিক্ষিতরা সরকারী পদ পদবী দখল করেছে। সেই দখলদারিত্ব এখনও চলছে। ইংরেজদের আদালত, ইংরেজদের প্রশাসন, ইংরেজদের আচার আচরন ও খাদ্য। এখনও ইংরেজী গৃহ শিক্ষকের  বেতন আরবী হুজুরের দশগুন বেশী। আমরা হচ্ছি সেই জেনারেশন বা প্রজন্ম যারা পিতার ধর্ম, পিতার শিক্ষাকে অবহেলা করি। এদেশে বহু আলেম উলামার সন্তানেরা  সচীব বিচারপতি হয়েছেন, যারা ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। অনেক আলেমের ছেলে কমিউনিস্ট হয়েছেন। তাঁদের অনেকেই দেশ পরিচালনা করেন। অথচ মোল্লা বা ধর্মগুরুদের বাদ দিয়ে তথাকথিত  সমাজ গুরুরা চলতে পারেন না। তথকথিত শিক্ষিত ভদ্রলোকেরা মনে করেন  খৃস্টান পাদ্রী আর হিন্দু ব্রাহ্মণদের মতো আরবী শিক্ষিত  হুজুরদের জায়গা গৃহকোনে, মসজিদ মাদ্রাসায়, গোরস্তানে, মিলাদ মাহফিলে, কবর জিয়ারতে। এগুলো আমাদের সমাজপতিরা পেয়েছেন খৃস্টবাদ ও ব্রাহ্মণ্যবাদ থেকে। কিন্তু ইসলামে এ ধরনের কোন ব্যবস্থা নেই। সমাজনেতা বা রাস্ট্রনেতা হতে গেলে ইসলামী জ্ঞান অপরিহার্য। এখনতো বাংলাদেশের অবস্থা খুবই নাজুক। ইসলাম জানাটা অপরাধের পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক গুরু, ইহুদীবাদ ব্রাহ্মণ্যবাদকে তুস্ট করার জন্যই সরকার ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে। শুধু এখন নয় অতীতেও এমনটা হয়েছে। শুধু মুসলমানিত্বের নাম করে ৪৭ সালে পাকিস্তান বানিয়েও মুসলমানদের কোন কল্যাণ হয়নি। বাংলাদেশ হওয়ার পরেও বাংগালী বা মুসলমানদের তেমন কোন উপকার হয়নি। পাকিস্তানী শোষকদের হাত থেকে বাংগালী শোষকদের হাতে পড়েছে। ৭১ থেকে ২০১১ সাল নাগাদ এই ৪০ বছরে পাকিস্তানী ২২ ধনী পরিবারের জায়গায় ২২ হাজার পরিবারের সৃস্টি হয়েছে। এই পরিবার গুলোই এখন স্কুল কলেজ বিশ্ব বিদ্যালয় আর সকল প্রকার মিডিয়ার মালিক। এইস মিডিয়া ধনীদের পুঁজি রক্ষার কাজে নিয়োজিত। বাংলাদেশই একমাত্র জায়গা যেখানে সরকারি সহযোগিতা নিয়ে রাতারাতি শতকোটি টাকার মালিক হওয়া যায়। শুধু রাজনীতি করেই এদেশে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া যায়। এইসব দুর্ণীতির সাথে  আরবী শিক্ষিতদের কোন সম্পর্ক নেই। মাঝে মাঝে আবুল বারাকাত সাহেব বলে থাকেন বাংলাদেশে মৌলবাদী অর্থনীতির বিশাল বিকাশ ঘটেছে। বারাকাত সাহেবরা ইসলামী অর্থনীতির সাথে জড়িত সংগঠন গুলোকে লক্ষ্য করেই এসব কথা বলেন। মৌলবাদ শব্দটার জন্ম হয়েছে পশ্চিমে। ইংল্যান্ডের খৃস্টানরা  যারা প্রটেস্ট্যান্ট  নামে পরিচিত তারা ক্যাথলিকদের মৌলবাদী বলে গালাগাল দিতো। সেই শব্দটা বারাকাত সাহেব এবং তাঁর বন্ধুরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেন। ইহুদী যারা  লম্বা জামা গায়ে দেন, লম্বা দাড়ি রাখেন, হালাল খান তাদের বারাকাত সাহেবরা মৌলবাদী বলেননা। অতীতেও দেখেছি জ্ঞানী গুণী ব্যক্তি যাঁরা ইসলামের পক্ষে কথা বলেছেন তাঁরা সমাজে কদর পাননি। কারণ মুসলমান নামধারী ১০ ভাগ লোক ক্ষমতা দখল করে রেখেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে কখনও সত্যিকারের ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিস্ঠিত হবেনা। শুধু লম্বা কুর্তা, লম্বা দাড়ি, ইসলাম সম্পর্কে কিছু জ্ঞান অর্জন করেও দেশে ইসলামী সমাজ কায়েম করা যাবেনা। মহাথির মোহাম্মদ বলেছেন, মুসলমানদের ইসলামী শিক্ষার সাথে সাথে আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানে শিক্ষিত হতে হবে। বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলন এখন যে অবস্থায় তাতে শত বছরেও সমাজের পরিবর্তন হবেনা। যেমন পাকিস্তান বাংলাদেশ মিলিয়ে ৬৫ বছরেও হয়নি। কারণ, শাসক মুসলমানদের শাসন ব্যবস্থায় কখনই ন্যায়নীতি স্থান পায়নি। শাসকরা নিজেরদের মুসলমান দাবী করলেও কখনই ইসলামের পক্ষে ছিলেননা।  ওআইসির সব দেশইতো মুসলমান দেশ। কিন্তু ক’টা দেশে ইসলাম আছে? বরং তারা ইসলাম বিরোধী। পশ্চিম বাংলার মমতাও বিসমিল্লাহ বলেন। মুসলমানদের সালাম দেন। মাদ্রাসা সংস্কারের কথা বলছেন। এসন তিনি করছেন তাঁর মুসলমান ভোটারদের খুশী করার জন্যে।( ১৯শে আগস্ট, নয়াদিগন্ত)

লেখক: কবি ও সাংবাদিক

ershadmz40@yahoo.com

Advertisements

Read Full Post »


একই  শিরোনামে প্রথম কিস্তির লেখাটি ইতোমধ্যেই ছাপা হয়েছে নয়া দিগন্তে। আমার প্রস্তাব হলো  ইসলামী আইন ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা  যে কোন দেশে বাস্তবায়ন করা। কারন কোরাণে বর্ণিত অর্থনৈতিক ও আইন ব্যবস্থা শুধু মুসলমানদের জন্যে নয়। এই ব্যবস্থা সমগ্র মানব জাতির জন্যে। আমি মনে করি যে কোন কল্যাণ মূলক কাজের নির্দেশ যে কিতাবেই লিখা থাকুক না কেন তা মানব জাতির জন্যে। কোরাণে যারা বিশ্বাস করেন ও ঈমান এনেছেন তারা সবাই জগতের সকল নবী রাসুলকে মান্য গণ্য করেন। মুসলমানরা চার কিতাব ও একশ’ সহিফায় বিশ্বাস করেন এবং সেই সব কিতাব সহিফার নবী রাসুলদের মান্য করে। একজন মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব হচ্ছে জগতের সকল নবী রাসুলদের বিশ্বাস করা। যদি না করেন, তাহলে তিনি মুসলমান থাকতে পারেন না। পবিত্র কিতাব আল কোরাণ অতীতের কিতাবকে সত্যায়িত করেছে। জগতের সব কিতাবী বন্ধুরা হজরত আদম থেকে শুরু করে হজরত ইব্রাহিম(আ), হজরত মুসা(আ) ও হজরত ঈসাকে(আ) বিশ্বাস করেন। এই বিশ্বাস সকল মুসলমানেরও রয়েছে। আল কোরাণ যেহেতু জগতের সর্ব শেষ কিতাব সেহেতু এই কিতাবে অতীতের বহু নিয়ম কানুনকে স্বীকৃতি দিয়ে গ্রহণ করেছে। হজ্ব কোরবাণী নামাজ রোজা সুদুর অতীত কাল থেকেই মানুষ মেনে আসছে। সর্বশেষ নবী ও রাসুল হজরত মোহাম্মদ(সা) হজরত ইব্রাহীমেরই(আ) বংশধর। মুসলমানরা  নিজেদের মিল্লাতে  ইব্রাহীমের শরীক হিসাবে দাবী করে। সত্যি ও সাচ্চা কথা হলো ইসলামের যাত্রা শুরু হয়েছে হজরত আদমের(আ) মাধ্যমে। আদমের(আ) সহীফাই ছিল জগতে আল্লাহপাকের সর্ব প্রথম ধর্মীয় বিধি ও বিধান। সেই থাকে সকল নবী রাসুলরাই জীবন বিধির কথা বলেছেন। কিছু মানুষ মেনেছে আর কিছু মানুষ মানেনি। অনেক মানুষ পুরাণো বিধি বিধান আঁকড়ে ধরে আছে। যেই  আল্লাহপাক তৌরাত যবুর ইন্জিল নাজেল করেছেন তিনিই শেষ কিতাব আল কোরাণ  নাজেল করেছেন শেষ নবী ও রাসুল  ইমামুল মোরসালিন হজরত মোহাম্মদের মাধ্যমে। আল কোরাণই হচ্ছে মানব জাতির জন্যে শেষ জীবন বিধি। এই বিধিতে ব্যক্তি সমাজ রাস্ট্র পরিচালনার বিধান দেয়া হয়েছে।

কোরাণে বর্ণিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ধর্ম বর্ণ সমাজ ও দেশ নির্বিশেষে গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন এখন  বহু ব্যন্ক ইসলামিক ব্যান্কিং ব্যবস্থা বা শরীয়া ব্যান্কিং গ্রহণ করছে। মদিনাতুল মনওয়ারায় যখন এই ব্যবস্থা চালু হয় তখন সেখানে তৌরাত ও ইন্জিল কিতাবের অনুসারীরাও ছিলেন। সেখানে সবাই মদিনা সনদের মাধ্যমে একটি জাতিতে পরিণত হয়েছিলেন। সবাই মদিনা সনদ মেনেই জীবন যাপন করতেন। ইউরোপ এশিয়া ও আফ্রিকার বহু দেশে ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষেরাও  ইসলামের অনেক মুল্যবান নিয়ম নীতি গ্রহণ করেছ। আরব দেশের অনেক আরবী ভাষী অমুসলিমরা ইসলামিক কালচার চর্চা করে। তেমনি  পবিত্র কোরাণেও প্রাচীন কালের অনেক শব্দ ও ভাষা রীতি আল্লাহপাক নিজেই সংযোজন করেছেন মানুষের সুবিধার্থে। তাছাড়া কোরাণের ভাষাতো নতুন কোন ভাষা নয়। আরবের নানা গোত্র ও জাতির নানা ভাষার সমন্বয় হচ্ছে কোরাণের ভাষা। পবিত্র কোরাণ ছাড়া পৃথিবীতে অন্য কোন ধর্মগ্রন্থের ভাষা শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এক রকম নেই। বহু ভাষা জীবিত নেই। লেটিন হিব্রু ও সংস্কৃতি নেই। এসব ভাষায় এখন কেউ আর কথা বলেনা। তবে এসব ভাষায় প্রভাব ও প্রতিপত্তি রয়ে গেছে। কিন্তু কোরাণের ভাষা ও রীতি একই রকম রয়ে গেছে। আল্লাহপাক বলেছেন তিনি নিজেই এর হেফাজতকারী। এটাই হচ্ছে কোরাণের মোজেজা। এই ভাষা এখনও জীবিত এবং মানুষ সহজেই বুঝতে পারে।

শেষ নবী ও রাসুল, ইমামুল মোরসালীন হজরত মোহাম্মদের(সা) জীবন ছিল কোরাণের বাস্তব রূপ। তিনিই কোরাণ বর্ণনা করেছেন ও এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনিই রাস্ট্র প্রতিস্ঠা করেছেন এবং এর পরিচালন বিধি বিধান  হাতে কলমে শিক্ষা দিয়েছেন। তিনিই বাস্তব অর্থনীতির রূপরেখা দেখিয়ে দিয়েছেন। তিনিই বলেছে জগতে মানুষের উপরে আর কোন সৃস্টি নেই। এমন কি নবী রাসুলরাও সাধারন মানুষ। আল্লাহপাক তাঁদের মনোনীত করেছেন শিক্ষক ও নেতা হিসাবে। মানুষকে বিভ্রান্তি ও মিথ্যার পথ থেকে ফিরিয়ে সত্যের পথে প্রতিস্ঠিত করার জন্যেই আল্লাহপাক তাঁদের জগতে পাঠিয়েছেন। তিনিই বলেছেন জগতে মানুষই হচ্ছে আল্লাহর খলিফা। আল্লাহর নির্দেশ মেনেই মানুষ নিজে চলবে এবং সমাজ ও রাস্ট্র পরিচালনা করবে। তাই ব্যক্তি মানুষ, সমাজ বা রাস্ট্র কখনই সার্বভৌমত্ব দাবী করতে পারেনা। কারণ খলিফার কোন সার্বভৌমত্ব থাকতে পারেনা। এমন কি স্বয়ং আল্লাহর রাসুল(সা) নিজেও আল্লাহপাকের হুকুম মান্য করে নবুয়ত রেসালত ও খেলাফত পরিচালনা করেছে। আপনাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে পৃথিবীতে  মদিনার রাস্ট্রই প্রথম রাস্ট্র যা নির্যাতিত নিষ্পেশিত মানুষের মুক্তির জন্যে প্রতিস্ঠিত হয়েছে। বলা হলো, মানুষে মানুষে কোন ভেদাভেদ নেই। সবাই সমান। যে আল্লাহর আইন মানবে সেই শ্রেষ্ঠ। এখানে কে ধনী কে গরীব, কে আশরাফ আর কে আতরাফ তা কখনই বিবেচ্চ বিষয় নয়। আল্লাহপাকের রাজ্যে কোন জালিম বা শোষকের স্থান নেই। জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের বিদ্রোহ বিপ্লব জেহাদ অবশ্য কর্তব্য বা ফরজ।

জগতে গনমানুষের প্রথম রাস্ট্র মদিনা রাস্ট্রের  রাস্ট্রপতি সেনাপতি ও খলিফার কোন রাজ প্রাসাদ বা থাকার জন্যে কোন রাস্ট্রপতি ভবন ছিলনা। পায়ে হেটে চলাফেরা করতেন। সাথে থাকতেন সাহাবী(কমরেড) ও বন্ধুরা। তিনি গরীবের দাওয়াত গ্রহণ করতেন। মসজিদে নবুবীতে সহজে সবাই তাঁর সাথে দেখা করতে পারতেন। একেবারেই সর্বহারা বন্ধুরা মাসজিদে নবুবীর বারান্দায় থাকতেন, যারা আসহাবে সুফফা নামে পরিচিত ও সম্মানিত ছিলেন। সর্বহারাদের নেতা হজরত বেলাল ছিলেন ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন। তিনিই হচ্ছেন জান্নাতে প্রবেশের জন্য সুসংবাদ প্রাপ্ত প্রথম দশ জন সাহাবীর মধ্যে প্রথম। সবার চেয়ে ধনী হজরত আবদুর রহমান আউফ হজরত বেলালের(রা) ৫০০শ’ বছর বেহেশতে প্রবেশ করবেন। বিলম্বের কারণ তাঁর ধন দৌলত। এর মানে হচ্ছে জবাবদিহিতা। এখানে এই জগতে অথবা অপর জগতে। কারণ, মুসলমানদের জবাবদিহিতা এখানে ওখানে সবখানে। সোজা কথায় বলতে হবে অন্যায় অবিচার করে রেহাই পাওয়ার কোন উপায় নেই।

আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ১৪ কোটি মুসলমানের দেশ হলেও তারা এখন ভাল নেই। এমন পরিস্থিতির মোকাবিলা এর আগে এ দেশের মানুষ কখনই করেনি। বংগবন্ধুর আমলে ৭২-৭৫ সময়ে দেশে দুর্ভিক্ষ হলেও মানুষ এত মনোকস্টে ছিলনা। তারা এখন ভাবতে শুরু করেছে, সংখ্যার হিসাবে তারা মেজরিটি হলেও দেশের অবস্থা  বলে দিচ্ছে তারা মাইনরিটি হয়ে পড়েছে। সকল দিক থেকে জোটবদ্ধ হয়ে সরকার ও সরকারের সমর্থকরা দেশবাসীর ধর্মবিশ্বাসে আঘাত করতে শুরু করেছে। বিগত ৪০ বছরে মুসলমানদের জীবনের সর্বক্ষেত্রে ইসলামের অস্তিত্ব না থাকলেও তারা এতটা অসহায় বোধ করেনি যতটা এখন বোধ করছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিচার ব্যবস্থা, প্রশাসন, সমাজ ও সাধারন জীবনের কোথাও ইসলাম নেই। সরকার বা সরকারী নেতারা ইসলাম না মানলেও ১৪কোটি মুসলমানের কিছুই করার নেই। কারণ, আমাদের সংবিধানের কোথাও ইসলামের চিহ্ণও নেই। আমাদের সরকার ও রাস্ট্র হচ্ছে সুদ ভিত্তিক। আমাদের উন্নয়ন সুদ ভিত্তিক। আমাদের ব্যক্তিগত জীবন সূদ ভিত্তিক। পাকিস্তানের ২৩ বছর  আর স্বাধীন বাংলাদেশের ৪০ বছর সহ হিসাব করলে আমরা ৬৩ বছর পার করে এসেছি। আমাদের অর্ধেক মানুষ দরিদ্র ও অশিক্ষিত। রাস্ট্র তাদের জন্যে কিছুই করতে পারেনি। বিদেশ থেকে ঋণ নিয়মিত এসেছে। গরীব জনগণের মাথাপিছু ঋণের বোঝা দিন দিন বেড়ে চলেছে। যে স্বপ্ন নিয়ে ৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছিল তা এখনও স্বপ্নই রয়ে গেছে। কিন্তু ইতোমধ্যেই কয়েক হাজার লোক কোটিপতি হয়ে গেছে। রাজনীতিবিদরা কম বিত্তবান হননি। তাঁদের সন্তানরা বিদেশে লেখাপড়া করছেন, দেশে ফিরে অনেকেই মন্ত্রী এমপি হচ্ছেন। বংগবন্ধুর নাম ব্যবহার করে তাঁর কন্যা বার বার প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। একইভাবে জিয়া সাহেবের নাম ব্যবহার করে তাঁর স্ত্রী প্রাধানমন্তী হচ্ছেন। আগামীদিনে তাঁদের  ছেলেমেয়ে , নাতিপুতিরাও হয়ত প্রধানমন্ত্রী হবেন। সিলসিলা বা ওয়ারিশানা ধরে তাঁরা পদ পদবী পেতেই পারেন। এতে আপত্তির তেমন কিছু আমি দেখিনা। এইতো ক’দিন পরেইতো জওহরলাল নেহেরুর পুতি রাহুল গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। পাকিস্তানেও জুলফিকার আলী ভুট্টোর নাতিও রাজনীতি আসছেন। এখন তাঁর জামাই জারদারী দেশের প্রেসিডেন্ট। শ্রীলংকাতেও বন্দরনায়েকের পরিবার বহুদিন দেশ চালিয়েছেন।

পাকিস্তান মুসলমানের নামে সৃস্টি হলেও মুসলমানদের কোন কল্যাণ হয়নি। এক পর্যায়ে দেশের নাম ইসলামিক রিপাবলিক, কিন্তু তাতেও ইসলাম বা মুসলমানদের কোন উপকার হয়নি। দেশটা ইসলামের নামেই চলে। সেখানে ইসলামিক দলগুলো কখনই ক্ষমতায় আসতে পারেনি। যাঁরা ক্ষমতায় আসেন তাঁরা সবাই মুসলমান হলেও কেউই ইসলামিক নন। ছিটেফোটা এদিক ওদিক ইসলামী ভাব আছে। ভারত মহা গণতন্ত্রের দেশ হলেও একশ’ কোটি লোকেরই কোন ক্ষমতা বা অধিকার নেই। এর মধ্যে রয়েছে ৩০ কোটি হরিজন  ও ৩০ কোটি মুসলমান রয়েছে। পুরো ১০০শ’ কোটি মানুষই মহা গরীব ও নিরক্ষর। হরিজন বা অচ্যুতদের কোন মানবিক মর্যাদা নেই। বিশ্বব্যাপী আমেরিকা ও তার মিত্ররা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ শুরু করেছে তার সাথে ভারতও যোগ দিয়েছে। সে দেশে কোথাও বোমা ফাটলেই মুসলমানদের বিরুদ্ধে জিগির উঠে যায়। পাকিস্তানকে দায়ী করা হয়। শ্রীলংকায় ৩০ বছর ধরে  অশান্তি ও সন্ত্রাসকে সমর্থন দিয়ে এসেছে ভারত। বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকায় ৫০ বছর ধরে ভারত পাহাড়ীদের উসকিয়ে যাচ্ছে। যে লারমা পরিবার বিগত ৪০ ধরে বাংলাদেশের হাজার মানুষকে হত্যা করেছে সেই পরিবারের সন্তু লারমাকে বর্তমান সরকার মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছে। এখন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বাংলাদেশে  আঞ্চলিক সন্ত্রাস দমন কেন্দ্র খুলতে যাচ্ছে। বিষয়টা নাকি বাংলাদেশ সরকার জানেনা। জানে ভারত সরকার। এই সন্ত্রাস দমন কেন্দ্রের লক্ষ্য হচ্ছে ইসলাম ও মুসলমানদের আক্রমন করা ও দমন করা। এইতো ক’দিন আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী মন মোহন সিং বলেছেন, বাংলাদেশের ২৫ ভাগ মানুষ ভারতের বিরোধিতা করে। বাংলাদেশ সরকার এ ব্যাপারে কোন কথা বলেনি। মৌনং সম্মতির লক্ষ্মণ। সম্ভবত কাদের সিদ্দিকী সাহেব বলেছেন, বাংলাদেশের একশ’ ভাগ মানুষ দেশ প্রেমিক। তাঁরা দেশকে ভালবাসে। ভারত যদি অন্যায় করে তাহলে অবশই সবাই তার বিরোধিতা করবে।

সোজা সাফটা কথা হলো কোন দেশ যদি নামের সাথে টাইটেল যোগ করে ইসলামিক রিপাবলিক যোগ করলেই ইসলামিক দেশ হয়ে যায়না। তেমনি মুসলিম মেজরিটির দেশ হলেও সেটা মুসলমান দেশ হয়ে যায়না। যেমন আমাদের বাংলাদেশ। এখানে  ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমান হলেও দেশটা মুসলমান দেশ নয় বা ইসলামিক দেশ নয়। এর আগেও আমি এ ব্যাপারে বার বার লিখেছি। এখানে বহু ধর্মীয় দল আছে কিন্তু তাঁরা নিজেদের কথা সোজা ভাষায় পরিস্কার করে জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারেননি। ইসলাম রাজনীতি রাস্ট্র যে এক জিনিষ তা তাঁরা নিজেরা ভাল করে জানেন না। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে ওলামা মাশায়েকদের অবদান সবচেয়ে বেশী এ কথাটাও তাঁরা জনগণকে বুঝাতে পারেননি। সাধারন মানুষ মনে করে রাজনীতি করবে ইংরেজী শিক্ষিত সাহেবরা। তাঁরা রাজনীতি ভাল বুঝেন। মৌলবী মাওলানা হুজুররা মাদ্রাসায় পড়াবেন, জনগণকে ধর্মজ্ঞান শিক্ষা দিবেন। কবর জিয়ারত করবেন, মিলাদ পড়াবেন, বিয়ে শাদীতে দোতা দরুদ পড়াবেন। জন্মালে নাম রাখবেন, মরলে জানাজা পড়াবেন। রাস্ট্র রাজনীতি এসব মহা বড় কাজ শুষু ইংরেজী শিক্ষিত সাহেবরা করবেন। এর আগে আমার বহু লেখায় অনেকবার বলেছি, ইংরেজ শাসন আমাদের দেশ থেকে নিয়েছে বহয় সম্পদ আর দিয়ে গেছে ভুল পথ, ভুল শিক্ষা, ভুল ইতিহাস। দিয়ে গেছে তাদের বেশ কিছু তাবেদার যারা আমাদের বাপ দাদার নাম ভুলিয়ে দিতে চায়। তারাই বলে বিদেশী শাসক ও পরাধীনতা আমাদের দিয়েছে আধুনিকতা। আমরা সেই ঘোরেই এখনও ঘুতপাক খাচ্ছি। তারা নিজেদের ধর্মহীন করেছে আর আমাদেরও ধর্মহীনতা শিক্ষা দিয়ে গেছে।

তাই আমাদের দেশের বহু মান্যগণ্য মানুষ ও সমাজপতিরা দিনরাত সেকুলারিজমের কথা  জজবা তুলেছেন। এরাই সেকুলারিজম ও মানবতা নিয়ে বহু কিতাব লিখেছেন। সেসব কিতাব আমাদের বুদ্ধিজীবী কবি সাহিত্যিকরা পড়ছেন আর বাহবা দিচ্ছেন। এরা মুসলমান বলে কোলকাতায় পড়তে পারেনি। পড়েছে ‘মক্কা বিশ্ববিদ্যালয়’ কথিত  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর শিক্ষকতা করেছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে। মাথা খেয়েছে হাজার হাজার ছাত্রের। এরা মারা যাওয়ার সময় অসিয়ত করে, ‘আমার কোন ধর্ম নেই, আমার  শব মেডিকেল কলেজে দান করে দিও’। এতে এদের সন্তান ও আত্মীয় স্বজন পড়ে বিপদে। এদের জানাজা নিয়েও সমস্যা দেখা দেয়। এসব সেকুলার বুদ্ধিজীবীরাই ইসলামকে ভয় পান। এদের অনেকেই  প্রখ্যাত মাওলানা সাহেবদের সন্তান। এরাই বলেন, ইসলাম পুরাণো হয়ে গেছে। আধুনিক নয়। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি এরা কেউই ইসলাম সম্পর্কে কিছু জানেনা। এরাই তথাকথিত বুদ্ধিজীবী ভদ্রলোক সেজে বাংলাদেশকে ধর্মহিনতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আর সুযোগ সুবিধা নিচ্ছে আমেরিকা আর ভারতের কাছ থেকে। ভারত অবশ্যই চায় বাংলাদেশ ইসলাম ত্যাগ করুক। তাহলে এটা আর মুসলমানের দেশ থাকেনা।

সম্প্রতি এশিয়ার প্রখ্যাত নেতা মহাথির মোহাম্মদ বলেছেন, কোন মুসলমানই সেকুলার হতে পারেনা। সেকুলারিজমের জন্ম পশ্চিমে গীর্জা আর ধর্মযাজকদের অত্যাচারের কারণে। সেকুলারিজম কোন আদর্শ হতে পারেনা। এটা হচ্ছে ধর্মের উপর বিরক্তির এক ধরণের বহি:প্রকাশ। সেকুলারিজম কোন ধর্মকেই রিপ্লেস করতে পারেনা, কারণ সেকুলারিজম কোন ধর্ম ,আদর্শ, নীতি, জীবন পদ্ধতি নয়। বরং বলা যেতে পারে সেকুলারিজম আদর্শ ও নীতি থেকে পালায়ন। সেকুলারিস্টরা হচ্ছে সুবিধাবাদী। এরা কখনই বিপ্লবে অংশ নেয়না। এরা মুক্তির আন্দোলনের মিছিলে অংশ নেয়না। ৭১ সালেও তা প্রমানিত হয়েছে। যাঁরা নেতা ছিলেন তাঁরা সবাই কোলকাতায় ভাতা খেয়ে আরামে ছিলেন। আর বংগবন্ধু পাকিস্তানের কারাগারে ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের কোন খবরই তাঁর জানা ছিলনা। জনগণ চেয়েছে স্বাধীনতা, তিনি চেয়েছিলেন কনফেডারেশন। মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছেন এদেশের শ্রমিক কৃষক ছাত্র যুবক পুলিশ  বিডিআর ও সেনাবাহিনীর জওয়ান ও অফিসারগণ। রাজনীতিক ও বুদ্ধিজীবীরা প্রচার কাজ চালিয়েছেন, বক্তৃতা দিয়েছেন, কাগজে প্রবন্ধ-নিবন্ধ লিখেছেন। রাজনীতিকরা দিল্লীর মুখ চেয়ে বসেছিলেন কখন দিল্লী সোনার বাংলাকে স্বাধীন করে দেবে। বহু বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিক, সাংবাদিক কোলকাতা যাওয়ার সময় বিবি বাচ্চা নিয়ে গেছেন। শুনেছি, একজন সাথে করে তাঁর কুকুরটাও নিয়ে গিয়েছিলেন। এমন একজন কৃষক বা শ্রমিক পাওয়া যাবেনা যিনি সাথে বিবি বাচ্চা নিয়ে কোলকাতা গেছেন। বরং তাঁদের স্ত্রী মা এবং সন্তানেরা এখানেই হানাদার বাহিনীর আক্রমণে প্রাণ দিয়েছেন। ঘরবাড়ী হারিয়েছেন।

ইসলামের আগমন কালে পৃথিবীতে গরীব সাধারন নারী পুরুষ ছিলেন অত্যাচারিত ও শোষিত। তাঁরাই সবাই দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। ইসলামের জন্যে যুদ্ধ করেছেন। ধনী ও ক্ষমতাবানদের কবজা থেকে গরীবদের রক্ষা করার জন্যেই  আল্লাহর রাসুল(সা) নতুন অর্থনীতি চালু করেছিলেন। তিনিই প্রথম জগতে জনগণের রাস্ট্র ও সরকার প্রতিস্ঠা করেন। তিনিই সাধারন মানুষের মুক্তির জন্যে বিচার ব্যবস্থা চালু করেন। তিনিই বলেছেন, জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের বিদ্রোহ বিপ্লব অনিবার্য। তিনিই বলেছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের যুদ্ধ অবশ্য কর্তব্য। তিনিই বলেছেন, ধনীদের ধন সম্পদে গরীবের হক বা অধিকার রয়েছে। মহাকবি ইকবাল বলেছেন, যে ফসলে কটষকের অধিকার নেই, সে ফসলের ক্ষেত জ্বালিয়ে দাও।বিশ্বের প্রথম জনগণতান্ত্রিক রাস্ট্র মদিনা রাস্ট্রের কূটনেতিক ব্যবস্থা, যুদ্ধনীতি, দ্বিপাক্ষিক নীতি, শিক্ষানীতি ঘোষনা করেছিলেন আল্লাহর রাসুল(সা)। রোমান সম্রাট ফিলিস্তিন আক্রমনের সময় তার সেনাবাহিনীকে বলেছিলেন, আমি শুধু মাটি চাই। সবকিছু জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিবে। অপরদিকে আল্লাহর রাসুল(সা) বলেছিলেন, আপনারা কোন দেশ জয়ের সৈন্য নন। আপনারা হচ্ছেন আদর্শ ও সত্যের সৈনিক। যাচ্ছেন আল্লাহর বাণী মানুসের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্যে।  যাত্রাপথে শস্যক্ষেত, ফলবান বৃক্ষ, শিশু নারী ও বৃদ্ধদের রক্ষা করতে হবে। রাসুলের(সা) খলিফা হজরত ওমর (রা) বলেছিলেন, ফোরাতের তীরে যদি একটি কুকুরও ভুখা থাকে তাহলে আমাকে আখেরাতে জবাবদিহি করতে হবে। শুক্রবারের জুম্মার নামাজের সময় জনগণ খলিফাকে নানা ধরনের অভিযোগ পেশ করতে পারতেন। ৪০ বছর আগে ভৌগলিক স্বাধীনতা পেলেও আমাদের দেশের মানুষ এখনও মানুষ স্বাধীন নয়। বাংলাদেশে নামমাত্র গণতন্ত্র আছে, মানুষের মানবাধীকার নেই, এখানে সমাজতন্ত্রও নেই। নির্বাচনের বর্তমান ব্যবস্থায় গণ মানুষের আস্থা নেই। দেশ এখন মহা সংকটের ভিতর দিয়ে সময় অতিক্রান্ত করছে। সরকার দেশকে ধর্মহীন করার চেস্টা করছে। আমি বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী কবি সাহিত্যিক গবেষক কলাম লেখক সমাজকে সবিনয়ে অনুরোধ করবো আপনারা শুধুমাত্র নামের মুসলমান না থেকে খুব আন্তরিকতার সাথে ইসলাম ও এর অর্থনীতির বিষয়টা জানুন। দয়া করে ইসলামকে শুধু মসজিদ মাদ্রাসা আর আলেম সমাজের বিষয় মনের করবেন না। ইসলাম কখনই ব্যক্তিগত জীবনের বিষয় নয়। ইসলাম একটি সামগ্রিক জীবন সমাজ ও রাস্ট্রের বিষয়।( নয়া দিগন্ত , ৫ই আগস্ট,২০১১ )

লেখক: কবি ও সাংবাদিক

ershadmz40@yahoo.com

Read Full Post »


আমরা এখন দিন বদলের সময় ও কাল অতিক্রম করছি। প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা ওয়াজেদ ক্ষমতায় এসে এই শ্লোগানটা দিয়েছেন। যদিও কেউ কেউ বলেন, দিন বদলের শ্লোগানটা শুরু করেছে মোবাইল কোম্পানী বাংলালিংক। যদি তা সত্যি হয়ে থাকে তাহলে বাংলা লিংক কপি রাইটের দাবী করে মামলা করতে পারতো। প্রধানমন্ত্রী বলে তারা হয়ত এ কাজটি করেনি। কোম্পানী এই শ্লোগানটি দিয়েছে ব্যবসার জন্যে। হয়ত তাদের ব্যবসাও ভাল হচ্ছে। ব্যবসা হলো কথা বললেই পয়সা। যত কথা তত পয়সা। এক পয়সা থেকে হাজার কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই দিন বদলের ডাক দিয়েছেন দেশে কল্যাণে। দিন বদলের জন্যে হয়ত তাঁর সদিচ্ছা আছে। চিন্তা করতে বা ভাবতে কোন অসুবিধা নেই। সমস্যাটা হলো বাস্তবায়নে। সবাই বাস্তবায়ন করতে পারেনা। মালয়েশিয়ার মহাথির, সিংগাপুরের লী কুয়াং পেরেছে। ৬০ সালে আমাদের যতটুকু ছিল তাদের অতটুকুও ছিলনা। ওরা পেরেছে, কারণ ওদের ইচ্ছার সাথে বাস্তবায়নের উদ্যোগ ছিল খুবই শক্তিশালী। আমাদের উদ্যোগ খুবই দূর্বল। ফলে ৪০ বছরেও আমরা আমাদের দেশটাকে দেশের মানুষের আশা আকাংখা মোতাবেক এগিয়ে নিতে পারিনি। আমাদের জাতীয় লক্ষ্য আজও ঠিক হয়নি। আওয়ামী লীগ যা ভাবে তা বিএনপি ভাবেনা। আবার বিএনপি  যা ভাবে তা আওয়ামী লীগ ভাবেনা। সাবাই দলীয় ভাবনাকে রাস্ট্রের ভাবনা হিসাবে দেখতে চায়। আওয়ামী লীগ রাস্ট্রকে ধর্মহীন দেখতে চায়। বিএনপি ধর্মসহ রাস্ট্র দেখতে চায়। আওয়ামী লীগ পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে বিশ্বাস করে কিন্তু কাগজে কলমে সমাজতান্ত্রিক ভাব রাখতে চায়। দেশের উন্নতির জন্যে প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশের শ্লোগান দিয়েছেন। বিষয়টা কি তা আমলারাও জানেনা, তিনিও জানেননা। চমক লাগাবার জন্যে জয় ওয়াজেদ হয়ত তাঁকে শ্লোগানটা শিখিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু দেশের মানুষ বুঝতে পারছেন না জিনিষটা কি? কিছুলোক বলে, এটা হচ্ছে ( digit+AL) , মানে আওয়ামী লীগের অংক বা সংখ্যা। দিন বদলের কথা বললে সাধারন ভাবে আমরা ভাবি সামনের এগিয়ে যাবার কথা। ভাবিনি যে, এই শ্লোগান পিছনের দিকে উল্টো যাওয়ার শ্লোগানও হতে পারে। ভুত নাকি সামনের দিকে যাওয়ার কথা বলে পিছনের দিকে যায়। আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনার মতে বাংলাদেশের নাকি অনেক কলংক আছে। সেই কলংক মোছনের জন্যে বহু বিচার আচার করতে হবে। তাই ক্ষমতায় আসার প্রথম দিন থেকেই কলংক মোছনের জন্যে আওয়ামী লীগ নানা ধরনের বিচারে জড়িয়ে পড়েছে। সুস্ঠ ও সঠিক বিচারের জন্যে আদালতে দলীয় কর্মীদের বিচারক বানানো হয়েছে। প্রশ্ন তুললেই সোজা উত্তর বিএনপিও দলীয় কর্মীদের বিচারক বানিয়েছিল। পুলিশ সহ আইন শৃংখলা বাহিনীতেও দলীয় কর্মীদের দিয়ে কলংক মোছনের কাজ করিয়ে নিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে যত মামলা আছে সব মামলা তুলে নেয়া হচ্ছে। সমালোচনা করলে মন্ত্রীরা বলেন, আমরা ক্ষমতায় এসেছি বিএনপির রুজু করা মামলা তুলে নেয়ার জন্যে নয়। ফাঁসীর আসামীকে রাস্ট্রপতি মাফ করে দেন। সমালোচনা করলে রেডী উত্তর বিএনপিও একাজ করেছে। বিএনপি নির্দোষ লোককে ফাঁসীর আসামী বানিয়েছে।

আমাদের প্রধানমন্ত্রীর একটা সুবিধা হলো তিনি অকাতরে নিজের ইচ্ছা মতো কথা বলে যান। দেশবাসী কি ভাবলো তা নিয়ে ভাবেন না। তিনি দিনরাত খালেদা জিয়া ও তাঁর ছেলেদের চোর বলে গালাগাল দিচ্ছেন। আর তাঁর ছেলের দুর্ণীতির কথা বলে আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও বিশেষ সংবাদদাতা নোমান জেলে গিয়েছে। সারা দেশে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা  হয়েছে। আবার তাঁর ছেলে শেখ জয় হাসিনা ওয়াজেদ দেশে এসে বলে বেড়াচ্ছেন, আমরা সবাই শিক্ষিত। কাজ করে খেতে পারি। চুরি করার দরকার হয়না। আমরা জাতির পিতার নাতি, চুরি করতে আমাদের বিবেকে বাধে। প্রশ্ন উঠতে পারে শেখ জয় হাসিনা ওয়াজেদের দাদা দাদী বা পরদাদা দাদী কে? বংগবন্ধু তাঁর নানা। আমাদের দেশে দাদার নামে পরিচিত হওয়ার রেওয়াজ আছে। তবে নানার নামে পরিচিত হন এমন বিখ্যাত মানুষও আছেন। দেশের মানুষ ভাবছেন এসবই হয়ত দিন বদলের নমুনা। তাঁরা প্রথমে ভেবেছিলেন দিন বদলের ফলে তাঁদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। এখন দেখছে দিন বদল মানে মামলা মকদ্দমা ফঁসী ও দাফন। প্রতিপক্ষ সকল রাজনৈতিক  হুমকিকে সরিয়ে দেয়া দেয়া। সরাসরি একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করলে চারিদকে সমালোচনা শুরু হবে। দেশের অবস্থা ৭৫ পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে।

‘দিন বদলের পালা’ শুরু হয়েছে খুব শক্তভাবে। শহীদ জিয়া আর খালেদা জিয়ার নাম যেখানে আছে তা বদলিয়ে দিতে হবে। বংগবন্ধুর নামে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর বানাবের জন্যে নানা জায়গায় জমি দখল করার জন্যে সরকার আওয়ামী লীগ মাতোয়ারা হয়ে গেছে। এইতো কিছুদিম আগে আড়িয়ল বিলে নতুন বিমান বন্দরের জন্যে জমি দখলের সরকারী চেস্টাকে ব্যাহত করেছে গ্রামবাসী কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে। হাজার  হাজার গ্রামবাসী  ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছিল সরকারের উদ্যোগকে রুখে দিতে। তবুও প্রধানমন্ত্রী চান তাঁর পিতার নামে একটা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর হোক। যদিও বর্তমান বন্দরকে আরও বড় করা যায়।  সারাদেশে  ইতোমধ্যে বহু নাম বদল হয়েছে। এমন কি মাওলানা ভাসানীর নামে করা নভো থিয়েটারের নামও বদল করে বংগবন্ধুর নাম করা হয়েছে। এখন বাকী আছে ইন্দিরা গান্ধী, মহাত্মা গান্ধী, জেনারেল অরোরার নামে রাস্তাঘাট আর ভবন বানানো। এইতো ক’দিন আগেইতো ইন্দিরা বন্দনা হয়ে গেল। তিনি নাকি আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। আর তিনি নিজে ভারতীয় পার্লামেন্টে বলেছেন, ‘হাজার সাল কা বদলা লিয়া’। মানে এক হাজার বছরের প্রতিশোধ নিলাম। ৭১১ সাল থেকে ১৮৫৮ সাল নাগাদ। ৭১১ সালেই মুহম্মদ বিন কাসেম সিন্ধু জয় করেন। সেই সময় থেকেই মুসলমানরা ভারতে আসতে শুরু করেন ব্যবসায়ী ও ধর্ম প্রচারক হিসাবে। বাংলায় শাসন শুরু করেন ১২০৪ সাল থেকে। ঢাকায় রাজধানী করেন ১৬০৮ সালে। দিল্লীতে শাসন প্রতিস্ঠা করেন ১২শ’ সালের দিকে। যদিও আওয়ামী লীগ ও তার ভক্তরা মনে করেন ওসব হচ্ছে অবাংগালী মুসলমানদের কাজ। ওসব মুসলমান ছিলো আক্রমণকারী। বাংলায় হিন্দু শাসনের পতন হয়েছে লক্ষ্মণ সেনের পতনের মাধ্যমে। যদিও সেন বাবু বাংগালী ছিলেন না। ৪৭ সালের পরও এই অঞ্চল মানে বাংলাদেশে মুসলমান শাসন ছিল। ৭১ সালে বাংগালী মুসলমানদের শাসন(৭২-৭৫) প্রতিস্ঠিত হয়। কারণ বংগবন্ধু বলেছিলেন, আমি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলীম দেশের নেতা। তিনিই ওআইসি যোগ দিয়েছিলেন ভারতের বিরোধিতার পরও। তিনিই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে পাকিস্তানকে বাধ্য করেছিলেন। বাংলাদেশের মুসলীম আইডেন্টি বা পরিচিতি অব্যাহত থাকে শহীদ জিয়ার পুরো আমলটা। সেই শাসন আমলকে উত্‍খাত করেন জেনারেল এরশাদ ভারতের পরামর্শে। এরশাদ নিজেই বলেছেন, তিনি ক্ষমতা গ্রহণের আগে দিল্লীর সাথে কথা বলেছেন। গণ আন্দোলনে এরশাদ উত্‍খাত হলে নির্বচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে জাতীয়তাবাদী মুসলীম শক্তি বিএনপি। এরপর বংগবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা ওয়াজেদ নির্বাচিত হলে শুরু হয় বাংগালীদের  শাসন। এরপর আবার বিএনপি’র আমল। কিন্তু ভারত ও পশ্চিমা শক্তি মুসলীম আইডেন্টিটির কোন শাসন বাংলাদেশে চায়না। তাই উথান হয়েছিল জেনারেল মইনের অবৈদ সরকারের। যে সরকারের উদ্দেশ্য ছিল খাঁটি বাংগালীদের দীর্ঘ  মেয়াদী শাসন প্রতিস্ঠা করা। তাই ২৬৩ সিটি নিয়ে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আগমন। চারিদিকে এখন বাংগালীদের রমরমা আওয়াজ। নেপালে বাংলাদেশের দূত নিমচন্দ্র ভারতের পতাকা উড়ায়। সংবিধান থেকে আল্লাহতায়ালার নাম মুছে ফেলা হয়। তবুও সুরঞ্জিত বাবু, ইনু আর মিনু বাবু বলছেন তাঁরা খুশী হতে পারেননি। কারণ সংবিধানে নাকি এখনও বিসমিল্লাহ রয়ে গেছে। তাঁরা চান একটি ধর্মহীন রাস্ট্র। মানুষ ধর্ম কর্ম করবে। রাস্ট্রের নাকি কোন ধর্ম থাকতে নাই। ভারতের নাকি রাস্ট্র নাই। তাই সেখানে ৩০ কোটি অচ্যুতের মানবাধিকার নাই। উত্তরের ব্রাহ্মন ছাড়া কেউ সহজে ভারতের প্রধান মন্ত্রী হতে পারেনা। এমন কি জ্যোতি বাবুর মতো যোগ্য ব্যক্তিও ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি। মাঝে মাঝে দুয়েকজন মুসলমান,শিখ  বা হরিজন ধরে এনে রাস্ট্রপতি বানান। মনমোহণজী সোনিয়াজীর আঁচল ধরেই টিকে আছেন। ইতোমধ্যেই রাহুলজীর নাম এসে গেছে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে। মনমোহনজী বলে দিয়েছেন, রাহুলবাবা খুবই উপযুক্ত।

হাজার সালের রহস্য বুঝাবার জন্যেই অতীতের কিছু কথা বলেছি। ভারতের সাফ কথা হলো, তোমরা যদি মুসলমানী ভাব রাখো বা পাক্কা মুসলমান থাকতে চাও তাহলে তোমাদের স্বাধীনতা এনে দিলাম কেন? তোমরা স্বাধীন মানে তোমাদের পতাকা থাকবে, জাতিসংঘের সদস্যপদ থাকবে, কবিগুরুর গাণ গাইবে। এসবইতো তোমাদের স্বাধীনতা। তোমরা বাংগালী বলে স্বাধীন হতে চেয়েছো। আর এখন বলবে মুসলমান হতে চাই। ওসব চলবেনা। খাঁটি বাংগালী হও, ধর্মকে ঘরে রাখো। দেখোনা ভারতের মুসলমানরা লুকিয়ে গরু জবাই করে। মসজিদে মাইকে আজান দেয়না। দেখোনা, শাহজাহানের কিল্লায় ভারতের পতাকা উড়ে। আমেরিকার বিদেশমন্ত্রী হিলারী বলেছেন, এ অঞ্চলে ভারতের কথাই শেষ কথা। সবাইকে ভারতের কথা মান্যগণ্য করতে হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলছেন, দেখুন আমি দিন বদলের কথা বলেই ক্ষমতায় এসেছি। তখন নিশ্চয়ই আপনারা বুঝতে পেরেছিলেন, দিন বদল বলতে কি বুঝিয়েছি। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ওবামা সাহেবও  শুধু বদলের কথা বলে ক্ষমতায় এসেছেন। ওবামা সাহেবতো সারা বদলের কাজ করছেন। তিনি তাঁর নিজের নামও বদল করে ফেলেছেন এখন নামের সাথে হুসেন শব্দটি ব্যবহার করেননা। তিনি যে মুসলমানিত্ব ছেড়ে দিয়েছেন সেটা জোর গলায় ভোটারদের জানিয়েছেন। তিনি এখন কি সুন্দর ভাবে বিশ্বব্যাপী মুসলমান নিধন করে চলেছেন। তিনি নাকি জেহাদ শব্দটি শুনলে ঘুমাতে পারেননা। সব সময় পাগড়ীওয়ালা লোকদের স্বপ্নে দেখেন। এদিকে বৃটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ব্লেয়ার সাহেব কি কান্ড ঘটিয়েছেন তা আপনারা হয়ত শুনেননি। তিনি ক্যাথলিক খৃস্টধর্ম ত্যাগ করে বৃটেনের রাস্ট্রধর্ম প্রটেস্ট্যান্ট খৃস্টধর্ম গ্রহন করেছিলেন রাজনীতি করার জন্যে। এখন আবার তাঁ পুরাণো ধর্ম ক্যাথলিক খৃস্ট ধর্মে ফিরে এসেছেন। আমাদের বাদশাহ আকবর সাহেবও হিন্দু আত্মীয় স্বজনকে খুশী করার জন্যে দ্বীনে ইলাহী চালু করেছিলেন।পুরাণো বংগদেশেও গণেশ নামের এক ভদ্রলোক মুসলমান হয়ে বাদশাহ হয়েছিলেন। পরে আবার হিন্দু হয়ে গিয়েছিলেন। ইতিহাসে এমন বহু মেসাল বা উদাহরন আছে। রাজনীতিতে নাকি এসব খুব জায়েজ।

বদলের ইতিহাস অতি সামান্য কিছু এখানে পেশ করলাম। আওয়ামী লীগের বদল শুরু হয়েছে সেই ১৯৪৯ সালে। নেতারা ছিলেন মুসলীম লীগ। নানা কারণে হয়ে গেলেন আওয়ামী মুসলীম লীগ। আরও কিছুদিন পর হয়ে গেলেন শুধু আওয়ামী লীগ। কারণ মুসলীম শব্দ থাকলে হিন্দু এবং কমিউনিস্ট নেতারা ভিতরে আসতে পারছিলেন না। আবার কিছুদিন পর দলের প্রতিস্ঠাতা বংগবন্ধুর রাজনৈতিক গুরু মাওলানা ভাসানীকে দল থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য করলেন। মাওলানা সাহেবের প্রতিস্ঠিত কাগজ ইত্তেফাক শুরু করলো মাওলানা সাহেবকে গালি গালাজ করা।  নাম বদল, দল বদল, ইতিহাস বদল, সংস্কৃতি বদল এসব নাকি রাজনীতিতে চলে। দেশতো জাল দলিল, নকল দলিলে সয়লাব হয়ে গেছে। এখন আসল আর নকল কি তা বুঝা যায়না। এইতো কিছুদিন আগে সাংবাদিক আবদুর রহীম সাহেবের বাড়ির নকল মালিক সেজে আওয়ামি লীগের এক এমপি সাহেব নাকি বাড়িটা দখল করে বিক্রি করে দিতে চেয়েছিলেন। শুনেছি নকল মালিক এবং তার সহযোগীদের আদালত শাস্তি দিয়েছেন। আরেক সাংবাদিক আমান উল্লাহ সাহেবের দক্ষিণ খানের জমি দখল করে নকল মালিক বাড়িঘর করে সুখে শান্তিতে আছেন, আর আমানউল্লাহ সাহেব আদালতের দুয়ারে আসল দলিল নিয়ে ঘুর ঘুর করছেন। নাম বদলের এসব কিচ্ছা কাহিনীর মাঝে আরেকটা ঘটনা মনে পড়ে গেল। মালেক উকিল সাহেবের নাম বাংলায় অনুবাদ করে অলি আহাদ সাহেব  লিখেছিলেন ভগবান দাস উকিল।

৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার কথা বলে আওয়ামী লীগের নেতা এবং আরবী নামধারী কিছু সেকুলার ভদ্রলোক বাংলাদেশের সংবিধানকে মনের মাধূরী মিশিয়ে  নানা রংয়ের পোষাক পরিয়েছেন। এখন বুঝা যায়না এটা কি লাল সবুজের সংবিধান না  হলুদের সংবিধান। বংগবন্ধু নিজেই ২৯৩ সিটের জোরে  ৭২ এর সংবিধানের আমুল পরিবর্তন করেছিলেন। গণতন্ত্র ও সাংবাদপত্রের কবর রচনা করেছিলেন। এখন তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা ওয়াজেদ ২৬৩ সিটের জোরে আবার সংবিধানকে নিজের মতো করে সাজিয়ে নেবার কাজে নেমেছেন। কেয়ারটেকার সরকার প্রতিস্ঠা করার জন্যে বেগম হাসিনা দেশের বহু সম্পদ নস্ট করেছিলেন। তাঁর মহান পিতার প্রচলিত রাস্ট্রপতি ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্যে তুলকালাম কান্ড ঘটিয়েছিলেন। বংগবন্ধু নিজেও ঠিক বুঝতে  পাচ্ছিলেন না কোন পদ্ধতিতে গেলে তাঁর সুবিধা হবে। তাই তিনি শুরুতে রাস্ট্রপতি ছিলেন। কিছুদিন পর হয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী। আবার একদলীয় গণতন্ত্র চালু করে হয়ে গেলেন রাস্ট্রপতি। বংবন্ধুর কন্যারও হয়ত ওই রকম একটা মানসিকতা দেখা দিয়েছে। ক’দিন আগে ঢাকায় আন্তর্জাতিক অটিস্ট সম্মেলন হয়ে গেল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদের কন্যা সায়মা ওয়াজেদ এই মহা সম্মেলনের প্রধান আয়োজক। এই সম্মেলনের সুযোগে বাংলাদেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রির কন্যাকে দেখার সু্যোগ পেয়েছে। ওই সম্মেলনকে কেন্দ্র করেইতো ভারতের ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী  এসেছেন প্রধান অতিথি হয়ে। সোনিয়াজীকে ঢাকায় আনার জন্যে অটিস্ট সম্মেলন ছিলো বিরাট সুযোগ। কৌতুকে বিশ্বাসী কিছু নাগরিক বলছেন, সংবিধানকে  অটিস্ট  বানাবার পরেই এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সংবিধান বদল হবার পর দেশটাও অটিজমে আক্রান্ত  হয়ে পড়তে পারে।

লেকক: কবি ও সাংবাদিক

ershadmz40@yahoo.com

 

Read Full Post »


তিরিশ কোটি অচ্যুত ও পঁচিশ কোটি নির্যাতিত মুসলমানের  তথকথিত সেকুলার দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং সম্প্রতি কয়েকজন সম্পাদকের সাথে আলাপকালে বলেছেন, বাংলাদেশে  যেকোন সময়  রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হতে পারে। হঠাত্‍ করে কেন তিনি  প্রতিবেশী বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন ভয়াবহ কথা বললেন তা নিয়ে উভয় দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অংগনে ঝড় উঠেছে।এবং তা এখনও অব্যাহত আছে। ভারতের সাবেক কূটনীতিক ও এক সময়ে বাংলাদেশে ভারতীয় হাই কমিশনার বীণা সিক্রি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং প্রতিবেশী দেশের রাজনীতি নিয়ে এমন কথা বলতে পারেন না। অন্যরা  বলছেন, মনমোহন সিং একজন ঠান্ডা মাথার বিদ্বান রাজনীতিক। তিনি হারভার্ডের একজন মেধাবী ছাত্র। তিনি কখনই ফালতু কথা বলার লোক নন। তবুও বলেছেন, এবং নিশ্চয়ই সবকিছু জেনে শুনে ও বুঝে বলেছেন। এমন কি বাংলাদেশে আগামীতে কি ঘটতে যাচ্ছে সে বিষয়েও তিনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন। ভারতের রাজনীতি কি  এবং এর গভীরে কি আছে কি আছে তা ড: মনমোহন খুব ভালো করেই জানেন। বীনা সিক্রি বা দেব মুখার্জি কি বললেন তা তেমন গুরুত্ব বহন করে বলে আমি মনে করিনা। বীনা সিক্রি চাকুরী থেকে ইস্তফা দিয়েছেন  ক্ষোভে। কারণ তাঁর স্বামীকে প্রমোশন দেয়া হয়নি। তিনি এখন  সেমিনার সভায় নানা ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন।

এই উপ মহাদেশিক অঞ্চলে ভারতের আকাংখা কি আমাদের জানতে হবে। ৪৭ সালে দেশ কেন ভাগ হয়েছিল সে বিষয়েও আমাদের  স্পস্ট ও পরিস্কার ধারনা থাকতে হবে। ৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর ভারতীয় পার্লামেন্টে তত্‍‍কালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বলেছিলেন , ‘হাজার সাল কা বদলা লিয়া’। এই বাক্যটি বুঝতে হলে আপনাকে ভারতের এক হাজার বছরের ইতিহাস জানতে হবে। কেন এবং কোন মানসিকতা থেকে একথা বলেছেন। ৭১১ সালে  মুহম্মদ বিন কাসেম রাজা দাহিরকে পরাজিত করে সিন্ধু জয় করেন এবং সেখানে মুসলীম শাসন কায়েম করেন। সেই থেকে শুরু করে এক সময়ে সারা ভারত মুসলীম শাসনের অধীনে আসে। সেই শাসনের অবসান হয় ১৮৫৮ সালে শেষ মোগল সম্রাট বাহাদুর শাহের পতনের মাধ্যমে। যদিও নবাব সিরাজ উদ দৌলার পতনের মাধ্যমে ভারতে ইংরেজ শাসনের যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং হিন্দুরা ইংরেজ আগমনকে অভিনন্দন জানিয়েছিল। ১৭৫৭ সাল থেকে ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত এই একশ’ বছর এদেশের ওলামা মাশায়েখ ও পীর ফকিরেরা ইংরেজ দখলের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, যখন হিন্দুরা  ইংরেজদের সহযোগিতা করেছে। ১৯৪৭ সালে ইংরেজ বিদায়ের  পূর্ব ৫০ বছর শুধু আলোচনা হয়েছে ইংরেজরা কার কাছে কেমন করে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। হিন্দুদের সংগঠণ কংগ্রেসের নেতারা নেতারা হিন্দু রাজত্ব কায়েমের জন্যে অখন্ড ভারত দাবী করতে শুরু করলেন। যদিও শুরুতে মুসলমান নেতারাও অখন্ড ভারত চেয়েছিলেন এবং তারা জানতে চেয়েছিলেন অখন্ড ভারতে মুসলমানদের অবস্থান কি হবে? কিন্তু কংগ্রেস নেতারা মুসলমানদের এই প্রশ্নের সদুত্তর কখনই দিতে আগ্রহী ছিলেন না। মুসলমানরা মনে করতেন, সংখ্যাতত্বের দিক থেকে তারা মাইনরিটি হলেও ভারত দীর্ঘকাল ধরে তারা শাসন করেছে এবং তারা একটি সম্মানিত মর্যাদাশীল জাতি। যদি তথাকথিত গণতন্ত্র ও সংখ্যাত্ত্বের দিক থেকে বিবেচনা করলে ভারতের মুসলমানরা চিরস্থায়ী ক্ষমতাহীন মাইনরিটিতে পরিণত হবে। কংগ্রেসের হিন্দু নেতারা মুসলমানদের এই যুক্তি কখনই মানতে চায়নি মেজরিটির জোরে। বরং তাদের যুক্তি ছিল ভারত হিন্দুদের দেশ হিন্দুরাই এদেশ শাসন করবে। ফলে মুসলমানরা নিজেদের দাবী দাওয়া নিয়ে ইংরেজদের সাথে কথা বলা জন্যে ১৯০৬ সালে মুসলীম লীগ প্রতিস্ঠা করে এবং দর কষাকষি শুরু করে। শুরুতে হিন্দুরা মুসলীম লীগকে স্বীকৃতি দিতে চায়নি। উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, কংগ্রেসের প্রতিস্ঠাতা হচ্ছেন ইংরেজ প্রতিনিধি লর্ড হিউম। মুসলীম লীগ প্রতিস্ঠার পরও মুসলীম নেতারা  মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষা করে অখন্ড ভারতের জন্যে কাজ করে গেছেন। কিন্তু হিন্দু নেতারা তাদের অবস্থান থেকে এক বিন্দুও নড়তে রাজী হননি। বাধ্য হয়ে মুসলমানরা ৪০ সালে পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন। যা  ৪৭ সালে ভারতকে বিভক্ত করে নতুন রাস্ট্র পাকিস্তান প্রতিস্ঠা করে। পাকিস্তানের  একটি অংশ ছিল পূর্ব পাকিস্তান বা পূর্ব বাংলা। অখন্ড বংগদেশ খন্ডিত হওয়ার পেছনেও একটি ইতিহাস রয়েছে। নিখিল বংগদেশে মুসলমানরা ছিল মেজরিটি। ১২০০ সাল থেকে মুসলমানরা এই দেশটি শাসন করে আসছে। ১৭৫৭ সালে ইংরেজরা মুসলমানদের কাছে থেকেই বংগদেশের ক্ষমতা দখল করেছে। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিস্ঠায় বাধা দিলো কংগ্রেস নেতারা। জওহারলাল নেহেরু দাবী করলেন কলকাতা তাদের চাই। ফলে অখন্ড বাংলাদেশ ভাগ হয়ে পূর্ব বাংলা হলো। শুধু মনে রাখার জন্যে উল্লেখ করছি যে, ৩৭ সাল থেকে ৪৭ সালের আগস্ট পর্যন্ত অখন্ড বাংলাদেশের তিন জন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, স্যার খাজা নাজিমুদ্দিন ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

ভারতের থিন্ক ট্যান্ক হেরিটেজ ফাউন্ডেশন বেশ কয়েক বছর ধরে গবেষণা করছেন অখন্ড ভারত কিভাবে প্রতিস্ঠা করা যায়। ভারতের ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল  বিজেপি হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের গবেষণাকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। জওহারলাল নেহেরু তাঁর ডিসকভারী অব ইন্ডিয়া বইতে বলেছেন, তাঁর স্বপ্ন প্রাচীন মহাভারত প্রতিস্ঠা করা। তিনি বলেছেন, তাঁ স্বপ্নের মহাভারত হচ্ছে কম্বোজ ( আফগানিস্তান ) থেকে কম্পুচিয়া। নেহেরু নিজেকে একজন আর্য ব্রাহ্মণ মনে করতেন। তিনি এও মনে করতেন যে তাঁর পূর্ব পুরুষ ইরাণ বা পারস্যদেশ থেকে এসেছেন। চলমান ভারতীয় নেতারা, তাঁরা যে দলেরই হোন কেন, সবাই অখন্ড ভারতে বিশ্বাস করেন। ৪৭ এ ভারত বিভক্তির জন্যে তাঁরা এখন সে সময়ের  কংগ্রেস নেতাদের  দায়ী করেছেন এবং মনে করেন, শোধরাবার সময় এসে গেছে। ইতোমধ্যে জিন্নাহকে অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদী আধুনিক নেতা বলে প্রশংসা করে ভারতে বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে। ওইসব বইতে বলা হয়েছে, ভারত বিভক্তির জন্যে জিন্নাহ বা মুসলীম লীগ দায়ী নয়। বলা হয়েছে, ভারত বিভক্তির জন্যে জওহার লাল নেহেরু বল্লভ ভাই প্যাটেল ও গান্ধী দায়ী। তাঁরা যদি সে সময়ে উদার ও অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে মুসলমানদের দাবী মেনে নিলে ভারত ভাগ হতোনা। বিগত ৬৪ বছর ধরে আমরা জেনে ও বুঝে এসেছি ভারত বিভক্তির জন্যে মুসলমানরা দায়ী। সেটাও আমরা জেনেছি ও শুনেছি ভারতের কংগ্রেস নেতা ও তথাকথিত সেকুলার মুসলমান নেতাদের কাছে থেকে।

প্রশ্ন হলো ভারতের নেতা ও গবেষকরা   হঠা্ত্‍ করে জিন্নাহর প্রশংসা করে নিজেদের  পিতৃতূল্য নেতাদের গালাগাল দিচ্ছেন কেন? মুসলমান নেতাদের অসাম্প্রদায়িক বলা হচ্ছে কেন? এর উদ্দেশ্য হচ্ছে অখন্ড ভারত প্রতিস্ঠা করার পথে এগিয়ে যাওয়া। বিগত ৬৪ বছরে ভারত প্রতিবেশী ছোট ছোট দেশগুলোকে অশান্ত করে রেখেছে। শ্রীলংকায় তামিলদের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনেকে সব রকম সহযোগিতা  দিয়ে এসেছে। ফলে শ্রীলংকা দীর্ঘ দুই যুগ ধরে গৃহ যুদ্ধে জড়িত ছিল। সম্প্রতি শ্রীলংকা ওই অবস্থা থেকে মুক্তি লাভ করেছে। কিন্তু তাদের অর্থনীতির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বহু বছর লেগে যাবে। ভারত  গোয়া দমন ডিউ, হায়দ্রাবাদ কাশ্মীর সিকিম ও অরুণাচল দখল করে নিয়েছে। নেপাল ও ভুটানকে নিজেদের প্রভাবে  রাখার জন্যে অবিরত ভয় ভীতির মধ্যে রেখেছে। পাকিস্তানের সাথে তিনবার যুদ্ধ করেছে।  পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের ‘জিয়ে সিন্ধ’ আন্দোলনকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সাথেও ভারতের তেমন  সুসম্পর্ক নেই। বাংলাদেশে ভারত সব সময়  বন্ধু সরকার পেতে চায়। বংবন্ধু ও জিয়ার সাথে বনিবনা না হওয়ায় তাঁদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে। কারণ, বংগবন্ধু  ও জিয়া সাহেব ছিলেন জাতীয়তাবাদী নেতা। এখন আওয়ামী লীগ বংগবন্ধুকে সেকুলার ( ধর্মে অনীহা ) সমাজতান্ত্রিক নেতা হিসাবে চিহ্নিত করতে চায়। তারা ভুলে যায় যে, বংগবন্ধু ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি একটি মুসলীম রাস্ট্রের প্রধান। তাঁর আমলেই বাংলাদেশ ওআইসির সদস্যপদ লাভ করেছে। তাঁর কূটনৈতিক সাফল্য হচ্ছে  পাকিস্তানের স্বীকৃতি লাভ করা। তিনিই বাংলাদেশ থেকে সৈন্য প্রত্যাহারে ভারতকে বাধ্য করেছেন। ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহারের পরেই  বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। আওয়ামী লীগ বংগবন্ধুর মিথ্যা ইমেজ তৈরীর চেস্টা করছে। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাসকে বিকৃত করার চেস্টা করছে দিল্লী সরকারের প্ররোচনায়।

ভারত  বাংলাদেশের কাছে কি চায়? বিগত ৪০ বছরে বাংলাদেশের জনগণ তা ভাল করে বুঝতে পেরেছে। বুঝতে পারেনি ভাল করে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। ভারত কি ধরনের রাস্ট্র এটা দুনিয়ার সব দেশ ও মানুষ জানেনা। ভারত আমাদের অতি নিকট প্রতিবেশী। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারত নিজের স্বার্থেই সমর্থন দিয়েছে। আমরা চেয়েছি  পাকিস্তান থেকে মুক্তি বা স্বাধীনতা, আর ভারত চেয়েছে পাকিস্তানকে টুকরো করতে। উভয়ের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। ৭১ সালে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমেই বাংলাদেশের দাবী মিটানো যেতো। কিন্তু সে পথ বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান সেনা বাহিনী। বেকুব পাকিস্তান সেনা বাহিনী বুঝতে পারেনি ভারত কোন পদক্ষেপ নিবে। বিগত ৪০ বছরে আমরা বহুবার ভারতকে আমাদের কৃতজ্ঞতার কথা জানিয়েছি। ভারতপন্থি সাংবাদিক কবি সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবীরা ৪০ বছর ধরেই আনুগত্য প্রকাশ করে এসেছেন। তাতেও ভারত খুশী বলে মনে হচ্ছেনা। ভারত আইনী বেআইনী ব্যবসা করে  হাজার হাজার কোটি টকা লাভবান হয়েছে। পূর্ব পাকিস্তান আমলে সীমান্তে যে পরিমান  সেনা মোতায়েন করতো এখন তা করা লাগেনা। এতেও ভারত লাভবান হয়েছে। পাকিস্তান আমল থেকেই ভারত পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে ইনসারজেন্সীকে উসকিয়ে আসছে। এখনও তা অব্যাহত রেখেছে। ভারত চট্টগ্রামের উপর নজর দিয়েছে পাকিস্তান আমলে। তখনও ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছিল। পাকিস্তান চেয়েছিল করাচী বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত রোড করিডোর। ভারত তাতে রাজী হয়নি। সত্যিকথা হলো ভারত বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে অনুগত একটি সরকার চায়। জেনারেল এরশাদ ক্ষমতায় এলে ভারত বলেছিল, আমরা সব সময় বাংলাদেশে বন্ধু সরকার  চাই। এরশাদও বলেছিলেন, তিনি ক্ষমতা দখলের আগে ভারতের সাথে কথা বলেছেন। আওয়ামী বলেছিল, আমরা অখুশী নই। বাংলার বাণী বলেছিল, বন্দুকের নলে প্রজাপতি। একটি গুলিও ফুটেনি।

মনমোহনজী সাংবাদিকদের কাছে অকপটে স্বীকার করেছেন যে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন  হবে। নিশ্চয়ই তিনি এ গোপন বিষয়টা জানে। নিশ্চয়ই ভারতীয় গোয়েন্দারা তাঁকে এ তথ্য দিয়েছে। এখন যদিও তিনি ওই গোপন কথা প্রত্যা্হার করে নিতে চান কূটনৈতিক কারণে। গোপন খবর ফাঁস করে দেয়ার কারণে মোহনজীর নিজ দেশের মিডিয়াও তাঁকে ছেড়ে কথা বলছেনা। বিষয়টা নিয়ে ভুল বুঝাবুঝি নিরসনের জন্যে ভারতের বিদেশমন্ত্রী মিস্টার কৃষ্ণা বাদমলাদেশ সফর করেছেন। কিছুদিনের মধ্যেই মোহনজী বাংলাদেশে আসবেন। ইতোমধ্যেই তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ  হাসিনার সাথে ফোনে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের ২৫ ভাগ মানুষের ভারতের বিরোধীতা করে। বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীকে পাকিস্তানের আইএসআই পরিচালনা করে। জামায়াতে ইসলাম মোহনজীর একথার প্রতিবাদ করেছে। জামায়াত বলেছে তারাও ভারতের সু সম্পর্ক রাখতে চায়। এদিকে বাংলাদেশের একজন রাজনীতিক অলি আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মানুষ ভারতের নীতির বিরোধীতা করে। একথা সত্যি যে বাংলাদেশের  সেকুলার বলে পরিচিত রাজনৈতিক দলগুলো মূলত  ভারতপন্থী। অন্ধভাবে ভারতের সকল নীতিকে তারা সমর্থন করে।

ভারতের বিদেশমন্ত্রী মিস্টার কৃষ্ণা বলেছেন, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সাথে ভারতের সবচেয়ে বেশী ভাল সম্পর্ক বিরাজ করছে। এর মানে বাংলাশের আগের সরকার গুলোর সাথে ভারতের এত উষ্ণ সম্পর্ক ছিলনা। তাহলে উষ্ণ সম্পর্ক রাখার উপায় কি? ভারত যা চাইবে তা দিলেই ভারত খুশী থাকবে এবং সম্পর্ক উষ্ণ হবে। এখন ভারত প্রতিদিন সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যা করছে। বাংলাদেশীদের প্রতিদিনই অপহরণ করা  হচ্ছে। সীমান্তের বাংলাদেশী কৃষকদের গরু ছাগল ও খেতের ফসল লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। যৌথ জরীপের নামে বাংলাদেশের ভুমি দখলের চেস্টা করছে। বাংলাদেশের সীমান্ত বাহিনী ও সরকার এ ব্যাপারে নিস্ক্রিয়। বাংলাদেশী জনগণ ভারতীয় জরীপদল ও বিএসএফকে প্রতিহত করে চলেছে। সম্প্রতি ভারতের প্রখ্যাত সুনন্দা কে দত্ত রায়ের  বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক বিষয়ে একটি লেখার অনুবাদ নয়া দিগন্তে প্রকাশিত হয়েছে। তাতে  বাংলাদেশ সম্পর্কে ভারতের মনোভাব কি এবং কি হওয়া উচিত তা পরিস্কার হয়েছে। মিস্টার রায় ভারত সরকারকেও কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন কিছু দিন আর কিছু নিন। লেনদেনের ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখার কথা বলেছেন। তা না রাখলে সুযোগ নিবে পাকিস্তান ও চীন। ওই নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের তিনদিকেই ভারত । আরেক দিকে মায়ানমার। বের হবার পথ শুধু বংগোপসাগর। উত্তর পূর্ব ভারতের রাজ্য গুলিকে দাবিয়ে রাখতে হলেও বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রয়োজন।

এর আগে আমি বহুবার বলেছি বাংলাদেশকে ভারত সহ চীন পাকিস্তান ও মায়ানমারের সাথে সম মর্যাদায় বন্ধুত্ব রাখতে হবে। এটাই হবে বাংলাদেশের জন্যে কল্যাণকর। শুধু ভারতের তোষামোদি বা অনুগত বন্ধুত্ব বাংলাদেশকে একটি পংগু রাস্ট্রে পরিণত করবে। ভারত চায় ভারত তেমনি একটি দেশে পরিণত হোক। তা ছাড়া আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে ভারত পাকিস্তান ভেংগেছে নিজের স্বার্থে।  ভারত মনে করে স্বাধীন বাংলাদেশ মানে এমন একটি দেশ যার পতাকা, জাতীয় সংগীত, জাতিসংঘের সদস্যপদ থাকবে। এই দেশটা ভারতের কথামতো চলবে। এর আলাদা কোন বিদেশনীতি থাকতে পারবেনা, নিজস্ব সেনাবাহিনী থাকবেনা, এমন কি ব্যবসা বাণিজ্য ভারত নিয়ন্ত্রণ করবে। আমেরিকার বিদেশমন্ত্রী হিলারী বলেছেন, বাংলাদেশ প্রশ্নে ভারত-মার্কিন নীতি এক। আমেরিকা চায়  বাংলাদেশ সব সময় ভারতের কথা শুনে চলবে। এমন কি আমেরিকার বন্ধুরাও তা চায়।

লেখক: কবি ও সাংবাদিক

ershadmz40@yahoo.com

Read Full Post »