Feeds:
Posts
Comments

Archive for June, 2012


 

নাগরিক চেতনা ও বাংলাদেশ রাস্ট্রের অবস্থান   /   এরশাদ মজুমদার

বেশ কয়েক যুগ আগে মানে বংগবন্ধুর আমলে একবার গোয়েন্দা বিভাগ আমাকে একটি খবরের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ বা জেরা করার জন্যে নিয়ে গিয়েছিলেন। তখন আমি দৈনিক জনপদের ডেপুটি  এডিটর ছিলাম।গাফফার চৌধূরী সাহেব বিদেশে ছিলেন বা থাকতেন। সেই যে গেলেন তিনি আর ফিরে আসেননি। যে খবর নিয়ে গোয়েন্দা বিভাগ বা সরকার কেন এত বিচলিত ছিলেন তা এখন বিস্তারিত বলা যাবেনা।ওই জিজ্ঞাসাবাদের এক সময় আমি বলেছিলাম, দেখুন , আমি এ মাটির  সন্তান। এখানেই আমার বাপদাদারা ছিলেন, আমিও আছি। এ মাটি আমার মতো। কিন্তুর রাস্ট্রের ব্যাপারে আমার কোন মতামত নেই। এ রাস্ট্র আমি চালাইনা, এর ব্যবস্থাপনায় আমার কোন মতও নেই।রাস্ট্র ব্যবস্থা চালু হওয়ার আগে এখানে রাজা বাদশাহরা ছিলেন। রাজ্য ব্যবস্থা চালু হওয়ার বহু আগে মানুষ  দল বেঁধে কৌম বা কবিলা হিসাবে থাকতো । শক্তিশালী একজন লোক তাদের পরিচালনা করতো বা নেতৃত্ব দিতো। ওই কৌম বা কবিলাকে বাইরের আক্রমন থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব ছিল ওই শক্তিশালী ব্যক্তির। এমন একটি সমাজ ব্যবস্থা পেরিয়ে মানুষ রাজ্য ও রাজা প্রতিস্ঠা করেছে নিজেদের পরিচালনার জন্যে। বেশী শক্তিশালী লোকটা হলো রাজা আর বাকী কৌম নেতারা রাজার পরিষদের সদস্য বা মন্ত্রী হিসাবে কাজ করতো।সবাই মিলে শপথ নিতো রাজাকে রক্ষা করার জন্যে।আর দেশের মানুষ রাজ্য আর রাজার বিষয়ে তেমন কিছুই জানতোনা। জানার আগ্রহ তাদের কখনও ছিলনা। শত বা হাজার বছর পেরিয়ে আমরা বর্তমান রাস্ট্র ব্যবস্থায় এসে পৌঁছেছি। রাজ্যের জায়গায় রাস্ট্র। রাজার জায়গায় রাস্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী। ৭২ বছর বয়সে এসেও আমার একই অবস্থান। রাস্ট্রের কোন কিছুতেই আমার সম্পর্ক নেই , মতামতও নেই। এখন কিছু লোক জনগণের নামে রাস্ট্র চালায়। সংবিধান ও আইন বানায়। নাগরিকরা সেই আইন মানতে বাধ্য। না মানার কোন প্রশ্নই উঠেনা। রাস্ট্র এখন  একটা বিশাল শক্তি। রাজা বা বাদশাহদের মতোই সৈন্য, পাইক পেয়াদা ও গোয়েন্দা বাহিনী লালন ও পালন করে। প্রধানমন্ত্রী বা রাস্ট্রপতিকে রক্ষা করার জন্যে বিশেষ বা্হিনী রাখতে হয় প্রজার খরচে। আরও বহু বাহিনী আছে যাদের কাজ হচ্ছে বাইরের কেউ আক্রমণ করলে দেশ রক্ষা করা। দেশের ভিতরে প্রজা বা নাগরিকদের পাহারা দেওয়াও তাদের সকলের কাজ। কারণ, রাস্ট্রের বিরুদ্ধে বা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে কিনা তাদেরকে দেখতে হয়। সোজা ভাষায় বা কথায় বলতে হয় আমাদের রাস্ট্র ব্যবস্থায় প্রজা বা নাগরিকদের বিশ্বাস বা আস্থায় রাখার নিয়ম নেই। যিনি বা যাঁরা সরকার বা রাস্ট্র চালান তাঁরা তাঁদের অনুগত ছাড়া বাকি সব মানুষের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা রাখে।

আজ আমি নাগরিক অধিকার চেতনা নিয়ে কিছু কথা বলার জন্যে কম্পিউটারের সামনে বসেছি। বেশ কিছুকাল হলো আমি হাতে লিখতে পারিনা। ভাগ্য ভালো আমার ছেলেরা আমাকে কম্পিউটারে বাংলা আর ইংরেজী কম্পোজ শিখিয়ে দিয়েছিল। লিখতে পারছি  এজন্যে ধন্যবাদ জানাই আমার মালিককে। তিনি এখনও আমাকে লেখার জন্যে সুস্থ রেখেছেন। একটু বেশী হায়াত দিয়েছেন। জানিনা আমাকে দিয়ে তিনি কি কাজ করিয়ে নিবেন। ভাল মন্দ জানিনা, আমি আর মনের কথা লিখছি। ধন্যবাদ নয়াদিগন্তকে,তাঁরা আমার লেখাগুলো প্রকাশ করছেন। আমি নাকি মৌলবাদী হয়ে গেছি। তাই কেউ আমার কথা ছাপাতে চায়না। আসলে আমি কিছুইনা। শুধুই একজন মানুষ। এক সময় আমার বাড়ির লোকেরাই বলতো আমি নাকি নাখোদা বামপন্থী। বন্ধুরাও এখানে সেখানে বলে বেড়ায় আমি নাকি এক সময় বামপন্থী ছিলাম। আর এখন একেবারে মৌলবাদী হয়ে গেছি। আমি আসলে একজন মানবতাবাদী। মানুষের মুক্তি চাই। এক সময় মনে হয়েছে কমিউনিজম মানুষের মুক্তি দেবে। মানুষের মর্যাদা পাবে। কিন্তু দেখলাম কমিউনিজম বা সমাজতন্ত্র মানুষের মুক্তি দিতে পারেনি। বরং দেখলাম কমিউনিজম মানুষকে শ্রমিক মনে করেছে। চীন রাশিয়ায় সাধারন মানুষ আজও সাধারন রয়ে গেছে। তাদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তনই হয়নি। শেষ পর্যন্ত গণচীন ধনচীনে পরিণত হয়েছে। সোভিয়েত রাশিয়া ভেংগে গেছে।

যদি পাকিস্তান আমল থেকে হিসাব করি তাহলে ইতোমধ্যে ৬৪ বছর পার হতে চলেছে। পাকিস্তান আমলের ২৩ বছর ইসলাম আর মুসলমান বলে চিত্‍কার করেছে নেতারা। তারা ইসলামেরও কোন উপকার করেনি,মুসলমানেরও করেনি। ৪১ বছর ধরে আমরা বাংগালী বাংগালী বলে চিত্‍কার করে গলা ফাটিয়ে ফেলছি। এতেও কিন্তু সাধারন গরীব বাংগালীর ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি। দেশের জন সংখ্যা বাড়ছে আর দারিদ্র আর নিরক্ষরতা বাড়ছে।চলতি বাজেটের সাইজ হচ্ছে এক লাখ বিরানব্বই হাজার কোটি টাকা। শুনতে খুব ভালো লাগে। সাধারন  মানুষ বুঝতেও পারেনা এর মানে কি?  দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বংগবন্ধু সমাজতন্র কায়েম করতে চেয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন সমাজতন্র মানে দেশের সব সম্পদের মালিক রাস্ট্র। তাই পান দোকান, চা দোকান, ফুটপাতের দোকান ছাড়া বাকি সব কল কারখানা সরকার দখল করে নিয়েছিলো। আওয়ামী লীগের সমাজতন্ত্রী কর্মীরা সব লুটে পুটে খেয়েছে। বায়তুল মোকাররমের অবাংগালীদের দোকান গুলোও তারা দখল করে নিয়েছিল। সে সময় ইত্তেফাকে একটি কলাম ছাপা হয়েছিল। শিরোনাম ছিল, দে মা তবিলদারী লুটে পুটে খাই। যিনি লিখেছিলেন তিনি এক সময় আওয়ামী লীগ করতেন। এই লুটপাট সম্পর্কে বংগবন্ধু নিজেও বলেছেন, লোকে পায় সোনার খনি আর আমি পেয়েছি চোরের খনি। সাড়ে সাত কোটি কম্বল এসেছিল, কিন্তু আমি আমার ভাগেরটা পাইনি। তেমন একটি দল নিয়ে বংগবন্ধু সমাজতন্র কায়েম করতে চেয়েছিলেন। একেই বলে রাস্ট্রীয় সমাজতন্র। যা উপর থেকে আর নীচে নামেনা। এ ছিল সাধারন মানুষকে শোষণের এক হাতিয়ার। সে সময় সরকারী কর্মচারীরা দল বেঁধে সমাজতন্ত্রী হয়ে গিয়েছিল। যেমন, মশিউর আর ফরাশউদ্দিন। এরা এক সময় ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। এরা ছিলেন বংগবন্ধুর ব্যক্তিগত খাদেম। তখনকার প্ল্যানিং কমিশনে যারা ছিলেন তাঁদের কয়েকজন হয়ত এখনও আছেন। রেহমান সোবহান তাঁদের মধ্যে একজন যাঁরা বংগবন্ধুকে বুদ্ধি দিতেন। এঁরা কেউই আওয়ামী লীগ করতেন না। সিপিডি নামের একটি দোকান খুলে রেহমান সোবহান সাহেব এখনও বিদেশী অর্থে সরকার ও জনগণকে উপদেশ বিতরন করেন। এ ধরণের লোকেরাই বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতায় যায় এবং দেশবাসীকে উপদেশ খয়রাত করে। ১/১১র সরকার খুবই নিন্দিত। কিন্তু দূর্ণাম আর দায়ভার রয়ে গেল জেনারেল মঈন আর ফখরুদ্দিন সাহেবের উপর । সে সময়ের উপদেস্টারা বেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন আমাদের সামনে। রাতদিন বক্তৃতা দিচ্ছেন। আমাদের মিডিয়া গুলোও রাতদিন তাঁদের পিছনে ঘুরে বেড়ায়। মনে হচ্ছে, সে সরকারে থেকে তাঁরা আরও বেশী সম্মানিত হয়েছেন। তাঁরা সবাই নিজেকে ‘সাবেক উপদেস্টা’ বলতে আনন্দ বোধ করেন। একেই বলে একই যাত্রায় ভিন্ন ফল। দু’জন বিদেশে নির্বাসনে আছেন। বাকিরা বুক ফুলিয়ে দেশে আছেন এবং রাতদিন পরামর্শ দিয়ে বেড়াচ্ছেন।

বংগবন্ধুর আমলে দেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছে, কয়েক লাখ মানুষ না খেয়ে মারা গেছে। যদিও তখন সরকার বলেছেন ২৯ হাজার লোক মারা গেছে। রাজনৈতিক কারণে রক্ষী বা্হিনী কয়েক হাজার লোককে হত্যা করেছে। অথচ বংগবন্ধু রাজনৈতিক কারণেই এই বাহিনী তৈরি করেছিলেন। সেই রক্ষী বাহিনী তাঁর জন্যে কিছুই করেনি।তখন রক্ষী বা্হিনীর রাজনৈতিক দায়িত্বে ছিলেন তোফায়েল সাহেব। সফিউল্লাহ সাহেব সেনা বাহিনীর দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর ব্যর্থতার জন্যে চাকুরী যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বরং তিনি এখন পুরস্কৃত। রাস্ট্রটার কথা একবার ভাবুন। এটা যেন নরোম মাটির পুতুল, যখন যাঁর যেমন ইচ্ছা তখন সেভাবেই রাস্ট্রকে ঢেলে সাজাবেন। আসলে উদ্দেশ্য হচ্ছে রাস্ট্রকে সরকারের অনুগত করে রাখা। মানুষের কল্যাণে রাস্ট্র নয়, সরকারের কল্যাণে রাস্ট্র। যাঁরা বা যে দল সরকার গঠন করবেন তাঁদের তখন সেই দলের ভক্ত ও কর্মীদের কল্যাণেই রাস্ট্র পরিচালিত হয়। কিন্তু বলা হয় সবার কল্যাণের জন্যই সরকার কাজ করছে। যদি তাই হতো তাহলে এ দেশের সাধারন মানুষের ভ্যগ্য পরিবর্তনে ৬৩/৬৪ বছর লাগার কথা নয়। এ কথা দিনের আলোর মতো স্পস্ট হয়ে গেছে যে, চলমান রাস্ট্র ব্যবস্থা কখনই সাধারন মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারবেনা। রাস্ট্র চায় দেশের বেশীর ভাগ মানুষ এখন যেমন আছে তেমনিই থাকুক। ওরা যতদিন দারিদ্র থাকবে, নিরক্ষর থাকবে ততদিনই তাদের ধোকা দেয়া যাবে। ভোট আসলে রাজনীতিবিদরা ওই গরীব মানুষ গুলোর দুয়ারে দুয়ারে যায়। ভোট শেষ হয়ে গেলে নেতারা রাজা বাদশাহ হয়ে যান। তখন তাঁদের  নিরাপত্তার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। মানুষ থেকে দূরে থাকা তখন কর্তব্য হয়ে পড়ে। তখন তাঁদের চলা ফেরা করতেই রাস্ট্রের লাখ লাখ টাকা ব্যয় করতে হয়। তখন তাঁদের জন্যে রাস্ট্রের বাজেট তৈরি হয়। নিজ এলাকায় গেলে নেতাদের তখন ডিসি এসপি সাহেবেরা খেদমত করেন। বিনা পয়সায় সরকারি গাড়িতে চলেন আর সরকারি বাড়িতে থাকেন। তাঁদের চলাফেরা, সংসার খরচ, খাওয়া দাওয়া সবই সরকারকে করতে হয়। আপনারা যারা ভোটার একবার তাঁদের ভোট দিয়ে দেখেন, আপনার অবস্থা কি হয়। এই চেহারা হলো গণতান্ত্রিক নেতাদের। তবুও মন্দের ভালো, আমাদের দেশে ভোটের মাধ্যমে নেতা পরিবর্তন করা যায়। যদিও নেতাদের সকলের গোত্র একই, দল ভিন্ন হলোও। আওয়ামী লীগতো ৬০ বছরের একটি পুরাণো পার্টি। তারাতো দাবী এ দেশের ভাল কাজ গুলো তাঁরাই করেছেন। তাঁরা সব সময়েই দাবী করেন, তাঁরাই একমাত্র গণতান্ত্রিক দল। তাঁরাই এক মাত্র মুক্তি যুদ্ধের দল। ইদানিংতো মুক্তি যোদ্ধার দল বলেনা। কারণ মুক্তি যোদ্ধার সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থাকতে হবে।

চলমান সরকারের আমলে চারিকের হাব ভাব দেখে মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগ আর হিন্দুরা ছাড়া মুক্তি যুদ্ধ আর কেউ করেনি। বিটিভিতে এমনও দেখেছি, একজন বলছেন, চার বছর বয়সে তিনি মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। কেমন করে করলেন, আমি আমার দাদুকে পানি খাইয়েছি। আরেকজন মুক্তি যুদ্ধের সময় জন্ম গ্রহণ করেননি। তিনিও দাবী করছেন তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। কারণ তাঁর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আছে। এমন মানুষও পাওয়া গেছে যিনি অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করেছেন, তিনি আর মুক্তিযোদ্ধা নেই। কারণ তিনি আওয়ামী লীগ করেন না বা আওয়ামী চিন্তধারার লোক নন।ভারত আর আওয়ামী লীগের সাথে বৃটিশদের খুব খাতির। বিবিসি মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের সমর্থন করেছে। তাই বৃটেনবাসীরা সবাই মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তি। সারা ভারত বাসী মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তি। যদিও ইংরেজরা ১৯০ বছর আমাদের শোষণ করেছে। লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে। ইংরেজ আমলে হিন্দু আর ইংরেজরা যৌথভাবে এ দেশের মুসলমানদের শোষণ করেছে। পাকিস্তানের শাসক গোস্ঠি ২৩ বছর  পূর্ব পাকিস্তান বা বাংলাদেশকে ন্যায্য পাওনা বা ন্যায্য হিস্যা দেয়নি। ওই কারণেই তাদের সাথে আমাদের বিরোধ বাধে এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে যায়। আওয়ামী লীগ পাকিস্তানকে বাংলাদেশকে শত্রু মনে করে, কারণ আওয়ামী লীগ ভারতের অনুগত বন্ধু। আওয়ামী লীগ বহু বছর ধরে বাংলাদেশের জনগণকে বিভক্ত করে রেখেছে। একটি এক্যবদ্ধ জাতি তৈরি ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ এখন প্রধান বাধা। আওয়ামী লীগ নিজেদের শুধুই বাংগালী মনে করে। মুসলমানিত্ব তাঁদের কাছেই কিছুই নয়। তাঁরা ধর্ম নিরপেক্ষতা আর ধর্মহীনতায় বিশ্বাস করে। তাঁরা ধর্মহীন সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে চায়। এইতো ক’দিন আগেইতো আমাদের স্যেকুলার বামপন্থী শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন স্কুলে ভর্তি হওয়ার সময় কাউকে ধর্ম পরিচিতি জিগ্যেস করা যাবেনা। শিক্ষামন্ত্রীর নাম নুরুল ইসলাম নাহিদ। তাঁর নামের মানে ইসলামের আলো। তাঁর মা বাপ খুবই সুন্দর নাম রেখেছিলেন। তাঁরা নিশ্চয়ই বিদ্বান ছিলেন। কিন্তু তাঁদের সন্তান যে কালক্রমে একদিন ধর্মহীন হয়ে পড়বেন তা কখনও ভাবতে পারেননি।আমাদের সমাজে এমন আরও জ্ঞানী গুণী আছেন যাঁদের বাপদাদারা ইসলাম ও মুসলমাদের জন্যে জীবনদান করেছেন। এখন তাঁরা বাপদাদাদের মেধা মনন ও জ্ঞানের ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছেন।ইংরেজ ও হিন্দু আমলে নির্যাতিত মুসলমানদের রক্ষা করার আন্দেলন করে নাকি তাঁরা ভুল করেছেন। মুসলমানদের অধিকার প্রতিস্ঠার আন্দোলন নাকি সাম্প্রদায়িক ছিল।অথচ এই সব জ্ঞানী গুণীরা মানুষের অধিকারের কথা বলে, পত্র পত্রিকায় নিবন্ধ প্রবন্ধ লিখে চলেছেন। তাঁরা আসলে কোন মানুষের কথা বলেন তা দেশের মানুষের কাছে স্পস্ট নয়। তাঁরা অর্থনীতির কথা বলেন, মানবাধিকারের কথা বলেন, নারী অধিকারের কথা বলেন, শুনতে ভাল লাগে এমন কথা বলায় তাঁদের কোন জুড়ি নেই। প্রখ্যাত কবি আহমদ ছফা বলেছিলেন, এদের কথা শুনলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতোনা, আর এখন তাঁদের কথা শুনলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা থাকবেনা। আল্লাহর রাসুল(সা) মাত্র ২৩ বছরে একটি জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করে দিয়েছেন। সারা বিশ্ব এখন অবাক হয়ে ভাবছে তিনি কেমন করে এমন একটি বিপ্লন সংগঠিত করলেন। কেমন করে তিনি অন্ধকার থেকে মানুষকে আলোতে নিয়ে এলেন। কেমন করে তিনি তাঁর কথা পৃথিবীর মানুষের কাছে পৌঁছে দিলেন এমন অল্প সময়ে। এ বিশ্বের সকল জ্ঞানী মানুষই স্বীকার করেছেন মুহম্মদই(সা) মানব জাতির শ্রেস্ঠ সন্তান। তিনিই এ জগতে প্রথম গণ মানুষের রাস্ট্র ও সরকার গঠণ করেছেন। কিন্তু জীবন যাপন করেছেন অতি সাধারন মানুষের মতো। রাস্তায় চলাফেরা করতেন সাধারন পথচারীর মতো। তাঁর ছিলনা কোন প্রসাদ, সিংহাসন, কুরসী বা গদি। তিনি বসতেন মসজিদে নবুবীর এক কোণে সাহাবী পরিবেস্টিত হয়ে চাটাইয়ের উপর বসতেন। বিদেশী মেহমান আসলে তাঁকে চিনতেই পারতোনা।

যখন রোমান সম্রাট ফিলিস্তিন দখলের জন্যে সৈন্য পাঠাবার সময় সৈন্যদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, আমি শুধুই জমি চাই, সব কিছু পুড়িয়ে ছারখার করো। সকল মানুষকে হত্যা করো। আল্লাহ রাসুল(সা) যখন ইয়েমেনে সৈন্য পাঠাচ্ছিলেন তখন বলেছিলেন, তোমরা কোন দেশ জয়ের সৈন্য নও, তোমরা হচ্ছো আদর্শের সৈনিক। আল্লাহ বাণী মানুষের কাছে পৌঁছাবার জন্যে যাচ্ছো সেখানে। শুধু বাধা পেলেই মোকাবিলা করবে।আক্রান্ত হলেই মোকাবিলা করবে। তবে তোমাদের অবশ্যই রক্ষা করতে হবে নারী শিশু বৃদ্ধ, ফলবান বৃক্ষ ও শস্যক্ষেত। ইসলামের সৈনিকরাই সারা বিশ্বে জ্ঞানের আলো জ্বালিয়েছে। শৃংখলিত মানুষকে মুক্তির বানী শুনিয়েছে। সারা বিশ্বে যখন যখন ফেরাউনদের শাসন চলছিল তখন ইসলাম মানুষের শাসনের কথা বলিস্ঠ কন্ঠে বলেছে। আর আমরা এখন মানুষের মুক্তির জন্যে পশ্চিমাদের কাছে ছুটে চলেছি। চলমান রাস্ট্র ব্যবস্থা, সংবিধান, তথাকথিত গণতন্ত্র, নির্বাচন, ধনবাদী অর্থনীতি বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি আনতে পারবেনা একথা প্রমানিত হয়ে গেছে।তাহলে আমরা এখন কি করবো এ প্রশ্ন আপনারা অবশ্যই করবেন আমি জানি। আমাকে প্রশ্ন না করে সবাই নিজেদের বিবেক, আত্মা বা রুহকে প্রশ্ন করুন। ভাল করে কান পেতে শুনুন আপনারা রুহ কি বলছে।

আমেরিকার কালো মুসলমানদের নেতা বাংলাদেশ সফরে এসে বলেছিলেন, শুক্রবার জুমার দিন এখানে মসজিদে জায়গা হয়না। মুসল্লীরা রাস্তায় নামাজ পড়েন। তহলে এখানকার মুসলমানরা এত নিরক্ষর ও দরিদ্র ? ইসলাম অশিক্ষা, নিরক্ষরতা ও দারিদ্রকে ঘৃণা করে। তাহলে বাংলাদেশের মুসলমানরা কি সত্যিই শুধু নামের মুসলমান? আমারও একই প্রশ্ন, ১৪/১৫ কোটি মুসলমানের এই দেশে এত দারিদ্র কেন? শিক্ষা মুসলমানদের জন্যে ফরজ বা অবশ্য কর্তব্য। আল্লাহপাক কলম ও কালামের কথা বলেছেন কালামে পাকে। আল্লাহর রাসুল(সা) বলেছিলেন তোমরা আমার রেখে যাওয়া দুটি জিনিষকে বুকে ধারণ করবে। তাহলে পৃথিবীর ইমামতি বা নেতৃত্ব তোমাদের কাছে থাকবে। প্রসংগত হজরত আলীর(রা) একটি বাণীর কথা মনে পড়ছে। তিনি বলেছিলেন, একটি দেশ ও সমাজ নস্ট হয়ে গেছে কেমন করে বুঝবে। সবাই বললেন, বলুন হুজুর আমরা শুবো। তিনি জানালেন, যখন দেখবে, দরিদ্ররা ধৈর্যহারা হয়ে গেছে, ধনীরা কৃপণ হয়ে গেছে, মুর্খরা মঞ্চে বসে আছে, জ্ঞাণীরা পালিয়ে গেছে আর শাসক মিথ্যা কথা বলে। এবার আপনারাই বলুন, বর্ণিত অবস্থা বাংলাদেশে বিরাজ করছে কিনা। এ জগতে রাতারাতি ধনী হওয়ার প্রধান দেশ বাংলাদেশ। সরকার যাকে চায় তাকে ধনী বানিয়ে দেয়। এ দেশে সমাজের সকল স্তরে মানুষ মিথ্যা কথা বলে। এ দেশে মানুষের চোখের শরম চলে গেছে। বিশেষ করে সমাজের নেতা ও ধনীদের শরম একেবারেই নেই। এ দেশে রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিহিংসা পরায়ন। এখানকার কবি শিল্পী সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীরা অতি অল্পতেই বেচাকেনা হয়। মিডিয়ার নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে দূর্ণীতিবাজ ধনীদের কাছে। সেই মিডিয়াতে চাকুরী করেন সাংবাদিক ভাই ও বন্ধুরা। তাঁরা বুক ফুলিয়ে বলেন, আমরা শ্রমিক মানুষ মুজুরীর বিনিময়ে শ্রম বিক্রি করি। মালিক চোর না ডাকাত তা আমাদের জানার দরকার নেই। অনেকে বলে থাকেন, সাংবাদিকরাতো এই সমাজেরই একজন। সমাজ নস্ট হয়ে গেলে তারা কি করতে পারেন ।

দেশের অর্ধেক মানুষ জানেনা তাদের কি অধিকার। সংবিধানে কত কথাইতো বলা হয়েছে। এর কিছুই ৯৫ ভাগ নাগরিক জানেন না। যাঁরা জানেন তাঁরা মাত্র পাঁচ ভাগ এবং ৯৫ ভাগকে শাসণ ও শোষণ করতে চান।

Advertisements

Read Full Post »


কবিতা নিয়ে  কথা বলার মতো আমার কোন যোগ্যতা আমার নেই। একথা আগেই স্বীকার করে নিচ্ছি। আমি কবিতা বিশেষজ্ঞ নই। এর বিশ্লেষণ করার মতো যোগ্যতাও আমার নেই। আমি কবিতা লিখি স্কুল জীবন থেকে। ৬০ বছরের কম সময় নয়। কিন্তু কবি খ্যাতি লাভ করার কোন আমার ছিলনা। তাই এই ব্যাপারে কোন আগ্রহ কোন কালেই ছিলনা।বিদেশীরা আমার মতো কবিতা লিখকদের এ্যামেচার পোয়েট বলে। কবিতার ব্যাকরণ আমি জানিনা। কেমন করে কিসে কবিতা হয় তাও আমি জানিনা। তবুও কেন কবিতা লিখছি তাও জানিনা। ছাপার অক্ষরে দৈনিক পত্রিকায় প্রথম আমার নাম ছাপা হয় দৈনিক আজাদের মুকুলের মাহফিলে। সেকি আনন্দ এখন আর লিখে প্রকাশ করা যাবেনা। পরে ছাড়া হয়েছিল সংবাদের খেলাঘরে। স্থানীয় পত্রিকায় আমার কবিতা ছাপা হয় ৫১/৫২ সালের দিকে।যতদূর মনে পড়ে আমার প্রথম কবিতার নাম ছিলো মুস্ঠি ভিক্ষা। পত্রিকার সম্পাদক শ্রদ্ধেয় খাজা সাহেব বললেন, আর মুস্ঠি ভিক্ষা নয়, স্বাধীন দেশে কেউ আর ভিক্ষা করবেনা, তেমন একটা সমাজ আমরা প্রতিস্ঠা করবো। তুমি হবে তার সৈনিক। তিনি সেই কবিতাটি প্রকাশ করলেন না। কিন্তু আমাকে কবিতা লেখার জন্যে উত্‍সাহিত করলেন। তারপর আমার বহু কবিতা স্থানীয় পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে ছাপা হয়েছে। ৫৯ সাল থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামের কাগজে আমার কবিতা ছাপা শুরু হয়। পত্রিকায় চাকুরী নিই ৬১ সালের অক্টোবরে। পাকিস্তান অবজারভার দিয়েই আমার ক্যারিয়ার শুরু।পত্রিকায় প্রবেশের পর কোথাও কবিতা পাঠালেই তা ছাপা হয়ে যায়। আমার মনে হলো, কাগজে চাকুরী করি বলে কবিতার মান বিচার করা হয়না। এক সময় পত্রিকায় কবিতা পাঠানো বন্ধ করে দিই। কিন্তু কবিতা লেখা কখনও বন্ধ করিনি। কারণ কবিতা লেখা আমার নেশা। কবিতা হওয়ার কথা কখনও ভাবিনি। এখনও আমি কোথাও কবিতা পাঠাইনা।

Read Full Post »


বাজেট: সেদিন এদিন ও আগামী দিন   / এরশাদ মজুমদার

পঞ্চাশ বছর ধরে আমি বাজেট রিপোর্টিং করছি। চলমান বাজেট ব্যবস্থাকে আমি কখনও সমর্থন করিনি। চলমান বাজেট প্রণয়ন ও ব্যবস্থাপনায় সাধারন মানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হবেনা। যদি হতো পাকিস্তানের ২৩ বছর আর বাংলাদেশের ৪০ বছরেই হতো। আমাদের বাজেটের কোন ধরণের নৈতিক বা আদর্শগত দর্শন নেই। এ ধরণের বাজেট তৈরী করতে কোন ধরণের ওস্তাদ বা এক্সপার্টের প্রয়োজন নেই। আমাদের দাদা নানারা নিজেদের সংসার, জমি জিরাত ব্যবস্থাপনার জন্যে যে প্রকৃতিক জ্ঞান রাখতেন সে জ্ঞানও আমাদের বাজেট বাজিকরদের নেই। এমনও হতে পারে যে, তাঁরা সেভাবে ভাবেন না। যে ভাবে তাঁরা বা আমি লেখাপড়া করেছি তাতে সাধারন মানুষের কল্যাণ ও উন্নতি নিয়ে ভাববার কোন উপায় নেই।দেং জিয়াও, মহাথির, লী কুয়াং যা পারে তা আমাদের নেতারা পারছেননা কেন? আমাদের নেতা , আমলা ও অর্থনীতিবিদদের কি সে রকম লেখাপড়া নেই? বর্তমানে বাজেট তৈরি করতে নাকি সরকারকে গলদঘর্ম হতে হয়। আমলারা নাকি রাতের ঘুম হারাম করে বাজেট তৈরি করেন। কিন্তু বাজেট যখন প্রকাশ করা হয় তখন দেখি এতে নতুন কিছুই নেই। পুরাণো অংক গুলোকে ১০, ১৫, ২০ পারসেন্ট বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

বাজেট তৈরি করা শুরুর আগে সরকার ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক সহ আরও অনেক তদবীর মহলের সাথে মত বিনিময় করেন। সব মহলেরই তদবীর বা লবি করার মতো শক্তিশালী  সংগঠণ আছে। তাদের কথা সরকারকে শুনতে হয়। সাংবাদিক বুদ্ধিজীবীদের কথা শুনতে হয়, তা না হলে তাঁরা হাউ কাউ লাগিয়ে দিবেন। সামরিক নেতারা ক্ষমতায় এসে সব সময় বলেন, সাংবাদিকরা আমার সংসদ। তাদের সাথে কথা বলা মানে জনগণের সাথে কথা বলা। শাইখ সিরাজ বাজেটের আগে কৃষকদের কথা বলার রেওয়াজ শুরু করেছিলেন তার ফলাফল কি তা দেশবাসী জানেনা। শাইখ সিরাজের চেস্টা এবং উদ্যোগকে আমি ধন্যবাদ জানাই। তবুও তিনি একটা ধারণা তৈরি করেছেন যে বাজেটের আগে কৃষকদের সাথে কথা বলা দরকার। ৭২ সালের কথা বলছি। লোহাণী ভাই তখন বাংলাদেশ বেতারে। সদ্য স্বাধীন দেশ ,তাই এর অর্থনীতি নিয়ে কিছু আশা ভরসার কথা লিখতে অনুরোধ করলেন। কয়েকটা লেখা লিখেছিলাম। যার জন্যে আমি কোন টাকা নিইনি। কিন্তু লেখা বন্ধ করলাম কেন? শব্দ ব্যবহার নিয়ে আমার সাথে কর্তা ব্যক্তিদের দ্বিমত হলো। কৃষক শব্দ ব্যবহার করা যাবেনা। বলতে হবে চাষী বা চাষাভুষা। এমন আরও বহু শব্দ ছিল। পাকিস্তান আমলে রেডিও ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে। রেডিওর ভাষা ব্যবহারের রীতি ও নীতি নির্ধারিত হতো ইসলামাবাদে। বাংলাদেশ হওয়ার পরেও ইসলামাবাদের ভুতটা চট করে পালিয়ে যায়নি।চলমান বাজেট ১৬ কোটি মানুষের নামে তৈরি হলেও এটা মূলত: মাত্র কিছু মানুষের জন্য, যারা রাস্ট্রের বন্ধু এবং রাস্ট্রের তহবিলের সদস্য। রাস্ট্র একজন পুলিশ বা চৌকিদারের যে যত্ন নেয় তেমন যত্ন কোন নাগরিকের নেয়া হয়না। ৬৩ বছরেও যাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি তাঁরা ধরে নিয়েছেন বা মেনে নিয়েছেন আল্লাহতায়ালাই তাঁদের এমন করে তৈরি করেছেন। পরম করুণাময় আল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে অভিমান করে একদিন এই জগত ত্যাগ করে।যে রাস্ট্র স্বাধীনতা, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকারের নামে কোটি কোটি মানুষকে যুগের শোষণ করে সে রাস্ট্র কখনই একটি কল্যাণমুখী রাস্ট্র নয়।খাদ্য, শিক্ষা, বাসস্থান ও চিকিত্‍সা হলো যে কোন মানুষের খোদা প্রদত্ত মৌলিক অধিকার। এ অধিকার কোন রাস্ট্র বা শাসক খর্ব করতে পারেনা। যারা এ অধিকার খর্ব করে তারা হলো স্বেচ্ছাচারী ডিক্টেটর অথবা অযোগ্য। তাদের মুখোশ গণতন্ত্র হোক আর সমাজতন্ত্র হোক। তারা নমরুদ ফেরাউন আর সাদ্দাদের বংশধর।

১৯৭১ সালে যে শ্লোগান দিয়ে, বা যে আশা দিয়ে নেতারা স্বাধীনতার কথা বলেছিলেন, সেই আশা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। রাস্ট্র জনগণের কাছে যে ওয়াদা করেছে তা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমি বলবো রাস্ট্রের দর্শন গণমুখি নয়। নেতারা জানেনা একটি গণকল্যাণমুখি রাস্ট্র কিভাবে প্রতিস্ঠা করতে হয়। অথবা তাঁরা জেনেও জনগণকে ধোকা দিয়েছেন। মহাথির, লী কুয়াং যদি পেরে থাকেন তাহলে আমাদের নেতারা পারেন না কেন? অনেকেই বলেন, জিয়া সাহেব বেঁচে থাকলে হয়ত তিনি পারতেন। জিয়া সাহেবের একটি স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে মর্যাদার আসনে বসাবার জন্যে। কিন্তু তাঁকে সে সময় দেয়নি দেশের শত্রুরা। অনেকেই বলবেন, আমি বংগবন্ধুর কথা বলছিনা কেন? গাফফার চৌধুরী সাহেবতো বংবন্ধুকে রাখাল রাজা বলেছেন। তিনি মানুষকে ভালবাসতেন, এ ব্যাপারে কারো সন্দেহ থাকা উচিত্‍ নয়। কিন্তু জনকল্যাণমুখি সমাজ ও রাস্ট্র প্রতিস্ঠার ব্যাপারে তিনি নিজে কোন ভাবনা বা পরিকল্পনা আমাদের সামনে রেখে যেতে পারেননি। তিনি সব সময় আবেগ আবিস্ট ছিলেন। তিনি আমলাদের উপর নির্ভরশীল ছিলেন। সমাজতন্ত্র সম্পর্কে তাঁর সুস্পস্ট কোন ধারণা ছিলনা। পলে আমলারা রাতারাতি সমাজতন্ত্রী হয়ে গেলেন। তাঁরাই বিপ্লবের সৈনিক হয়ে গেলেন। শ্রদ্ধেয় মনি বাবুর দল ও আমলারা দল পাকিয়ে বংগবন্ধুকে একদলীয় শাসন বাকশাল কায়েম করতে বাধ্য করেছিলেন। বংগবন্ধুর স্বপ্ন ছিল, কিন্তু তিনি জানতেন না কিভাবে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবেন। কিছু আমলা এখনও বংগবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে ঘিরে রেখেছে। সোজা কথায় বলতে গেলে  দৃশ্যমান ভারতপন্থী কিছু লোক ও অদৃশ আরও কিছু লোক হাসিনার নামে বাংলাদেশ চালাচ্ছে। এমনটিই এখন লোকে ভাবে। আমারতো মনে হয় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দলের লোকেরা মনে করেন, আমরা ক্ষমতায় থাকবো, দেশ কে চালায় সেটা বড় কথা নয়। দেশ চললেই হলো। এমন চলাতে দেশের সাধারন মানুষের কোন উন্নতি হয়না। ফলে তাদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়না। বাংলাদেশও তেমনি একটি দেশ।যেখানে কিছু লোক দেশ চালায় আর তারা এবং তাদের বন্ধুরাই দেশটাকে লুটেপুটে খায়। এবারের বাজেটের ১৭.২ শতাংশ খরচ হয়ে যাবে পুরাণো ঋণের সূদ শোধ করতেই। এর মানে সরকার ১৬ কোটি মানুষ আর রাস্ট্রটা দেখিয়ে বিদেশ ও স্বাদেশ থেকে যে ঋণ নিয়েছেন সেই ঋণের সূদ শোধ করতে প্রায়  ৩০ হাজার কোটি টাকা চলে যাবে। সরকারের চলতি খরচ চালাতে মানে কর্মচারীর বেতন, গাড়ি বাড়িতেই খরচ হবে এক লাখ ছত্রিশ হাজার কোটি টাকা। উন্নয়নের জন্যে রাখা হয়েছে মাত্র ৫৬ হাজার চারশ’কোটি টাকা। বাজে খরচ যাকে ইংরেজীতে বলে মিসচিলেনিয়াস আছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি। সেনাবাহিনী, পুলিশ বিজিবি আনসার ও রেবের জন্যে রয়েছে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা।কৃষি খাতের চলমান ব্যয়ের জন্যে বরাদ্দ রয়েছে পাঁচ হাজার কোটি টাকার মতো। উন্নয়ন বাজেটের মধ্যেও বাজে খরচ( অন্যান্য) রয়েছে প্রায় প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এই বাজেটে ৫০ হাজার কোটি টাকার উপরে কর্জ নেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এক লাক বিরানব্বই হাজার কোটি টাকার বাজেটের জন্যে ৫০ হাজার কোটি টাকা ধার করতে হবে। সরকারী কর্মচারীদের বেতন ভাতা গাড়ি বাড়ি পেনশন ও অন্যান্য খাতে ব্যয় করতে হবে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। এর মানে ধার করে কর্মচারীর বেতন দেয়া। আগেই বলেছি সরকার চালাতেই যদি বেশী টাকা খরচ হয় উন্নয়নের জন্যে টাকা আসবে কোত্থেকে? আইন শৃংখলা বাহিনীর এখন বেশীর ভাগ সময় কাটে ভিআইপিদের নিরাপত্তা দিতে। এরপর যেটুকু সময় থাকে তা ব্যয় করতে হয় বিরোধী দলকে ঠেংগাতে। গত কয়েক মাসে পুলিশ এবং রেবের বিরুদ্দে যে সব খবর বেরিয়েছে তাতে এসব বাহিনীর উপর দেশের মানুষের আর কোন আস্থা নেই। আদালতে বিচারের জন্যে গেলে পুলিশ ধরে নিয়ে ধর্ষণ করে। বিচারককে কনস্টেবল পিটায়। অনাকে হয়ত বলবেন, এ রকম ঘটনা আর ঘটে। রেবের এক বড় সাহেবতো পীরের দরবারের অর্থ সম্পদ লুট করে এখন জেলে আছেন। অপরদিকে ভারত সীমান্তে প্রতিদিন বাংলাদেশীদের হত্যা করা হচ্ছে। বিদেশীরাও এখন এর প্রতিবাদ করছেন। কিন্তু আমাদের সরকার গভীর বন্ধুত্বের কারণে আর চক্ষু লজ্জায় মুখ খুলে কিছু বলতে পারছেন না। রাস্ট্র থাকলে একটা সরকার লাগে। আর সরকার থাকলে তার পুলিশ মিলিটারী রেব আনসার নানা রকমের গোয়েন্দা বাহিনী লাগে। সর্বোপরি থাকে একটা বিরাট আমলা বাহিনী। সরকার মানেতো ৩৩০ জন এমপি আর ৫০/৬০ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। এরা দেশের জন্যে কি কাজ করেন তা আমরা সহজে বুঝতে পারিনা। কিন্তু মুখ খুললেই দেখি বিরোধী দলের বিরুদ্ধে খিস্তি খেউর করছেন। এমন কি প্রধানমন্ত্রী নিজেও সারাদিন বিরোধী দলের বিরুদ্ধে লেগে থাকেন। সরকারী দল এবং প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনে মনে হয় বিরোধী দলের কাজ হচ্ছে সরকারী দলকে সমর্থন করা। এই একই মানসিকতা থেকেই বংগবন্ধু এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল চালু করেছিলেন।বর্তমান আওয়ামী লীগ এখন আর বংগবন্ধুর এক দলীয় শাসন আদর্শে বিশ্বাস করেনা।

প্রস্তাবিত বাজেটকে সরকারী দল ছাড়া কেউই সমর্থন করেননি। এমন কি সরকার সমর্থক বা আওয়ামী ঘরাণার অর্থনীতিবিদরাও এই বাজেটকে সমর্থন করেননি। ১/১১র কেয়ারটেকার সরকারের দুই নেতা জেনারেল মঈন আর ফখরুদ্দিন( যারা নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন) ছাড়া বাকী সবাই নামের সাথে তকমা লাগিয়ে চারিদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং নানা বিষয়ে দেশবাসীকে পরামর্শ দিচ্ছেন। তেমনি একজন মানুষ হচ্ছেন মির্জা আজিজুল ইসলাম। ইনি নিয়মিত সেমিনারে বক্তৃতা দিয়ে বেড়াচ্ছেন। এসব ভদ্রলোকই ওই সময়ে দেশের বিরাট ক্ষতি করেছেন। জনসাধারন তাদের কথা ভুলে গেছেন। তাঁরাও বেহায়ার মতো কথা বলে চলেছেন। কই একজনওতো একথা বলেননি যে, সে সময়ে তাঁরা বাধ্য হয়ে মন্দ কাজগুলো করেছেন। বা মন্দ কাজের জন্যে জাতির কাছে ক্ষমাও চাননি। মির্জা আজিজও বলেছেন, বিগত বছরের প্রায় সকল ইকনমিক ইন্ডিকেটরই নেগেটিভ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমেছে, ডলার এক্সচেন্জ রেটও ১১ ভাগ কমেছে।প্রায় সকল ক্ষেত্রেই প্রবৃদ্ধি ও অগ্রগতি পেছন দিকে ছুটছে।তবুও আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলে চলেছেন, তাঁর মানে জনগণের খরচে আওয়ামী লীগ সরকার অনেক কাজ করেছেন যা সাংবাদিক ও বিরোধী দল দেখতে পায়না। সরকারী হিসাব এবং পরিসংখ্যনই বলেছে প্রবৃদ্ধি অনেক ক্ষেত্রে নেগেটিভ। মির্জা সাহেব তাঁর লেখায় বিষয়টা বিস্তারিত ভাবে খোলাসা করেছেন।সিপিডি সহ আরও অনেক সংগঠণ বলেছেন বাজেট অবাস্তব। প্রধানমন্ত্রীতো বলেছেন তাঁর ভঅলো কাজ গুলো বিরোধী দল নস্ট করে দেয়। তিনি গাছে লাগালে বিরোধী দল ফল খায়। আমি আমার লেখায় বহুবার বলেছি, কোন রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় না থাকলেও প্রবৃদ্ধি হয়। প্রশ্ন তা কি রকম প্রবৃদ্ধি? বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হওয়া দরকার গড়ে ১০ শতাংশ। কিন্তু কোন সরকারই এ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারেনি। ক্ষখন অরাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় থাকে তখনও প্রবৃদ্ধি ৪/৫ শতাংশ হয়। এর মানে হচ্ছে সরকারী উদ্যোগ না থাকলেও জনগণের চেস্টায় অর্থনীতির চাকা চলতে থাকে। ফলে কিছুটা প্রবৃদ্ধি একেবারে থেমে যায়না। ক’দিন সৈয়দ আশরাফ বলেছেন, আওয়ামী লীগকে আরও দুইবার নির্বাচিত করার জন্যে। তাহলে তাঁরা বাংলাদেশকে মালয়েশিয়া ও সিংগাপুরের মতো করে দেবেন। সৈয়দ সাহেবকে বলবো, আপনি একজন মহাথির ও একজন লী কুয়াং এনে দিন। বলুন বাংলাদেশে লী কুয়াং বা মহাথির কে? বংগবন্ধু এ কাজটি হয়ত পারতেন। বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য তিনি পারেননি।তিনি নিজেই বলেছেন তাঁর চারিদিকে চাটার দল। তিনি বিদেশ থেকে যা আনেন চাটার দল সব খেয়ে ফেলে। তিনি আরও বলেছেন, সাত কোটি কম্বল রিলিফ এসেছিল কিন্তু তিনিতো পাননি। তাহলে তাঁর ভাগেরটা কোথায় গেল? আমি নিশ্চিত ভাবেই বলবো তাঁর স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা গড়ার, কিন্তু এবিলিটি ছিলনা। ফলে তাঁর আমলেই দেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল এবং লাখ লাখ মানুষ না খেয়ে মারা গেছে। সে সময়ে গরীবের খাদ্য লুট করে বহু  মানুষ ধনী হয়েছে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায়।তিনি দেশ ও দেশের মানুষকে ভালবাসতেন এ ব্যাপারে কারো কোন সন্দেহ থাকার কথা নয়। কিন্তু একজন প্রেমিক কখনই উত্তম শাসক হতে পারেননা। বংগবন্ধুকে পা ধরে সালাম করেই অনেকের কপাল খুলে গেছে। তিনি ভেবেছিলেন একদলীয় গণতন্ত্র চালু করলেই তিনি জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারবেন। এর মানে তিনি তখন সমালোচনা সহ্য করতে পারছিলেন না। তিনি না বুঝেই সমাজতন্ত্র চালু করার চেস্টা করেছিলেন।তিনি নিজে যা ভাল মনে করেছিলেন তাই করেছেন। তিনি খবরের কাগজ বন্ধ করেছিলেন। তিনি সরকারী কর্মচারীতে রাজনীতিতে জড়িত করেছিলেন। তিনি যখন সমাজতন্ত্র চালু করার চেস্টা করেছিলেন তখন সমাজতন্ত্রের মরণদশা। এখনতো চীন রাশিয়াতেই সমাজতন্ত্র নেই।

বিগত ৪০ বছরে রাজনৈতি নেতা ও তাঁদের বন্ধুরাই বিত্তবান হয়েছেন বাংলাদেশে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। কথাটা সত্যি। ৭০ সালে যার দুই টাকা দিন মুজুরী ছিল সে পাচ্ছে তিনশ’ থেকে চারশ টাকা। পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫/৬ জন। বৃদ্ধ মা বাপ থাকলে তাদেরও দেখতে হয়।গরীবের বস্তি ভাড়া এখন দুই থেকে চার হাজার টাকা। বস্তির জায়গা গুলো বেশীর ভাগই সরকারের। রাজনৈতিক মাস্তানরাই শব জায়গা ভাড়া দিয়ে খায়। দলগুলো মিছিলের জন্যে এখান থেকেই লোক সংগ্রহ করে। ফুটপাত, রেলস্টেশন, বাস স্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট সহ বহু খালি জায়গায় মানুষ থাকে। রাজধানীতে নাকি এখন ৫০ লাখ মানুষ এসব এলায় থাকে।প্রতি বছর চার থেকে পাঁচ লাখ লোক রাজধানীতে আসে।গ্রামেও একই অবস্থা।দশ থেকে বারো কোটি লোক গ্রামে থাকে। এর ভিতর রয়েছে কৃষি শ্রমিক, হাটে বাজারের দিন মুজুর, ভিক্ষুক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। এদের সবারই নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। এরা এদের ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে পারেনা। ফলে তাদের জীবন থেকে অশিক্ষা দারিদ্র আর কখনই যায়না। একটা জাতির সকল মানুষকে নিরক্ষরতা ও দারিদ্র মুক্ত করতে ৬৪ বছর লাগার কথা নয়। দেশের জনসাধারন বিশেষ করে গরীব দিন মুজুর ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের অবশই বুঝতে হবে রাজনীতি, সরকার ব্যবস্থা ও রাস্ট্রীয় দর্শনে কোথাও বিরাট গলদ রয়ে গেছে। রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, আমলা, সরকার ও রাস্ট্রের বন্ধুদের সবার বাড়ি গাড়ি ধন সম্পদ আছে। এবং তা দিন দিন বেড়েই চলেছে।ধনীরা সচিব, জেনারেল, মন্ত্রী, সংসদ সদস্যদের সাথে আত্মীয়তা করেন। এমন কি আওয়ামী নেতাদের সাথে জামাত, মুসলীম লীগ ও বিএনপি  নেতাদের আত্মীয়তা আছে এবং নতুন করেও হচ্ছে।

শুরুতেই বলেছি বাজেটের বর্তমান দর্শন ও ব্যবস্থাপনায় এ দেশের গরীবের ভাগ্য পরিবর্তন হবেনা। কারণ , এ বাজেট সাধারন মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যে তৈরি করা হয়না। সোজা কথায় বলা যেতে পারে এ বাজেট সাধারন মানুষের জন্যে নয়। এইতো ক’দিন আগেইতো আমরা সবাই দেখলাম, প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষকেরা পুলিশের হাতে কিভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন। জলকামান দিয়ে তাদের শোয়েস্তা করা হয়েছে। প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষকগন আর ক’টাকাই বেতন পান। এদের কাছে লেখাপড়া করেইতো সবাই প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সচিব, বিচারপতি, জেনারেল হন। সবার জন্যে বাজেটে বিরাট বিরাট বরাদ্দ। শুধু প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নেই শিক্ষকদের জন্যে। জন প্রতিনিধির নামে মন্ত্রী এমপিরা শুল্কমুক্ত দামী গাড়ি পান, সরকারী দামে দামী জমি পান। হয়ত এদের অনেকেরই শিক্ষকদের মতো লেখাপড়াই নেই। বাজেটে কৃষি, বাসস্থান ও চিকিত্‍সার জন্যে তেমন বরাদ্দ নেই। সরকার ও রাস্ট্রের সাথে যাদের সম্পর্ক আছে তাদের সকলের জন্যই বরাদ্দ আছে।আমার প্রশ্ন হলো, এই অঞ্চলের বাংগালী বা মুসলমান বাংগালীরা কেন স্বাধীন হয়েছে ৪০ বছর আগে। ৪০ বছর ধরেই সর্বহারা থাকার জন্যে? তাদের চিকিত্‍সা, বাসস্থান, খাদ্য, বস্ত্র কিছুইতো হয় নাই ৪০ বছরে। তাদের ছেলেমেয়েরা অল্প স্বল্প লেখাপড়া করলেও চাকুরী পায়না।

আরেকটি কথা আমি অবশ্যই বলবো ভাগ্যের দোহাই দিয়ে গরীব মানুষদের আর ধোকা দিবেননা। চোর ডাকাত আর বদমায়েশদের ভ্যগ্যের পরিবর্তন হবে সাধারন মানুষের হবেনা এমন সমাজ নিশ্চয়ই আমরা প্রত্যাখ্যান করি। এমন সমাজ ও রাস্ট্র ব্যবস্থা শত বছরেও গরীবদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারবেনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একশ’ বছর ক্ষমতা থাকলেও বর্তমান শোষণমুখি রাস্ট্র ব্যবস্থায় সাধারন মানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হবেনা। সত্যি কা বলতে কি বর্তমান রাস্ট্র ব্যবস্থা অকল্যাণকর এক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।

লেখক: কবি ও সাংবাদিক

ershadmz40@yahoo.com

Read Full Post »

Budget 2012- 2013


Source of Income:

1. Foreign Loan    6.5 Per cent

2. Foreign Grants:  3.2 ”     ”

3. Domestic Financing : 17.5  Per cent

4. Non Tax Revenue :      11.9   ”       ”

5. Tax Revenue( Non NBR ) 2.4    ”    ”

6. Tax Revenue ( NBR )         58.5   ”    ”

     VAT   36%

      Import Duty    12.9 %

      Income Tax      31.5%

      Supplementary Duty   17.8%

       Others        1.8%

       Total Budget   Taka  1 91 738  Crores

_______________________________________________________

Expenditure:

1.Interest Payment  12.2%

2.Public Admin           12.6%

3 Miscellaneous          11.7%

4. Education & Information Technology   11.5%

5. Transport And Communication                7%

6. Local Govt And Rural Dev                            7.4%

7. Energy and Power                                           5%

8. Health                                                                    4.9%

9. Agriculture                                                         7.5%

10. Defence                                                              6.7%

11. Social Welfare                                                   5.7%

 12 . Public Security                                               4.8%

13. Housing                                                                 0.8%

14. Recreation Culture and Religion                 0.8%

___________________________________________

15. Total Budget    Taka   1,91 738 Crore

Read Full Post »


জেনারেল মঈন ও সাবেক আমলা ফখরুদ্দিনের তথাকথিত কেয়ারটেকার সরকারের আমল থেকে বিগত ছ’বছর ধরে আবাসন শিল্পে মন্দা বিরাজ করছে। এই শিল্পের উদ্যোক্তাদের বড় আশা ছিল রাজনৈতিক সরকার এলে মন্দাভাব কিছুটা হলেও কেটে যাবে। বড়ই দু:খের বিষয় সেই মন্দা এখনও জারী রয়েছে। অপর দিকে রাজনৈতিক কারণে আবাসন শিল্পের সংগঠণ রিহ্যাবেরও এখন খুবই দুরাবস্থা যাচ্ছে।সেখানে নির্বাচন হচ্ছেনা কয়েক বছর ধরে। এক সরকারী এমপি সভাপতি হয়ে বসে আছেন। ফলে রিহ্যাবের কার্যক্রম এক রকম স্থবির হয়ে আছে। রিহ্যাবের মর্যাদা এখন আর আগের মতো নেই। সদস্যদের ভিতর নানা গ্রুপ। ঠিক এমনি এক সময়ে ভারতের সাহারা গ্রুপ এসেছে বাংলাদেশে আবাসন খাতে বিনিয়োগ করার জন্যে। হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে, সাহারা বাংলাদেশে হঠাত্‍ করে আসেনি। পর্দার পেছনে সাহারার আগমনকে অভ্যর্থনা জানাবার জন্যে প্রস্তুতি চলছিলো। দিনক্ষণ এবং লেনদেন সব ঠিকঠাক  করেই সাহারা বাংলাদেশে এসেছে। সাহারার আগমনকে হিন্দুস্তানী ভাষায় ধামাকা বলা হয়। এসেই মনে হলো ভিনি ভিসি ভিডি। মানে আসলাম দেখলাম আর জয় করলাম। প্রতিমন্ত্রীর কোলাকুলির দৃশ্য আমরা টিভিতে দেখেছি। আহা সে কি আনন্দের দৃশ্য। না বলা কথা ছিল, ভাই, এতোদিন পরে কেন এলে। আমরাতো বসেই আছি তোমাদের আগমনের জন্যে। সেই যে পাকিস্তানী জেনারেলকে পরাজিত করে আমাদের রাজা বানালে, তারপরতো দেখতে এলেনা। এতোদিনতো অনেক কিছুই নিয়েছো, শুধু বাকি ছিল আমার দেশের মাটি। তুমিতো বলেছে ভাই, মায়ের কাছে এদেশের অনেক গল্প শুনেছো বাল্যকালে।এখানে তোমার বাড়ি। তাহলেতো তোমার হক আছে আলবত। কোম্পানীর নাম দিয়েছো মাতৃভুমি। আহা কি আবেগী নাম। দেশপ্রেম না থাকলে অমন নাম কেউ রাখে কি?  সবচেয়ে বড় ভাল কাজ করেছো আমাদের প্রধানমন্ত্রী আত্মীয় স্বজনকে কাজটা করাচ্ছো। ব্যবসায়ীদের নাকি এরকমই নিয়ম। যার কাছে ক্ষমতা আছে তার সাথে হাত মিলাও। তাহলে ব্যাবসার কাজটা খুবই স্মুদ ও সোজা হয়ে যায়। সেদিক থেকে সাহারা ভাই তুমি সঠিক পড়ে আছো। আর একেবারেই সঠিক সময়ে এসে গেছো। তোমাদের পুরাণো ভিটে মাই ফেরত দেয়ার জন্যে আমাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রী এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছেন।

ইতোমধ্যে খবরের কাগজে প্রকাশিত হয়েছে, শোভা বাজারের মহরাজার নাকি বিক্রমপুরে এক লাখ একর জমি পড়ে আছে। এটা জমিদারীর জায়গা না খাস জমি তা আমরা এখনও জানতে পারিনি। সাহারা ভাইয়েরও নাকি মাত্র এক লাখ একর জমির দরকার। ১৬০৮ বা ১০ সালে জব চার্ণক গরীব চাষীদের কাছ থেকে কলিকাতা, গোবিন্দপুর ও সূতানুটি নামের তিনটি গ্রাম কিনে শহরের পত্তন করেছিলেন। সেই শহরই কলিকাতা শহর নামে পরিচিত হয়েছে। আমাদের কবিগুরুর বাপদাদারাও কোলকাতা শহরে গিয়ে জজমানি শুরু করেছিলেন। সেখান থেকেই তাঁরা ঠাকুর বলে পরিচিতি পান। আসলে ছিলেন কুশারী। নয়া ঠাকুরদের কপাল ভালো ১৭৫৭ সালে ইংরেজরা বাংলা দখল করে নিজেদের রাজত্ব শুরু করেছিলেন। আর যায় কোথায়? নয়া ঠাকুরদের কপাল খুলে গেল। কাশিমবাজার কুঠিতে ইংরেজরা যাদের সংগে রেখে ষড়যন্ত্র শুরু করেছিলেন তাদের একজন ছিলেন শোভা বাজারের জমিদার। ১৯০ বছর শোষণের পরেও ইংরেজরা আমাদের নমস্য। থাহলে ইংরেজের খয়ের খাঁ শোভা বাজারের জমিদার বংশও নমস্য হবেননা কেন?

দেশের বড় বড় অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, সাহারা গ্রুপ আবাসন ছাড়া অন্যখাতে, যেমন বিদ্যুত, অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ করছেনা কেন? আবাসন খাতেতো আমাদের অনেক বড় বড় ডেভেলপার আছে। তাঁরাতো সংবাদ সম্মেলন করেই বলেছেন সুযোগ পেলে তাঁরাও বড় বড় সেটেলাইট শহর বানাতে পারবেন। স্থানীয় ডেভেলপাররা হক হালালী কথা বলেছেন। দৈনিক মানবজমিন ইতোমধ্যেই সাহারা গ্রুপ সম্পর্কে বড় একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, ভারতে সাহারা গ্রুপের ইমেজ মোটেই ভাল নয়। যেখানে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন নিয়ে সরকার প্রায় বছর খানেক ধরে নানা অসুবিধায় আছে সেখানে সাহারা গ্রুপকে ওই সেতুর জন্যে বিনিয়োগ করতে আহবান না করে আবাসন খাতে বিনিয়োগের জন্যে আহবান জানানোর ব্যাপারটা রহস্য জনক। তাও আবার প্রধানমন্ত্রীর অতি নিকট আত্মীয়কে সাহারার পার্টনার করে। এইতো ক’দিন আগে দেখলাম সাহারা গ্রুপ আমাদের ক্রিকেট বোর্ডকেও শত শত কোটি টাকা দিয়ে সাহায্য করবে। আসতে না আসতেই নানা দিকে চোখ পড়েছে সাহারার। ক’দিন পরে শুনবো সাহারা মিডিয়াতেও বিনিয়োগ করবে এবং সেখানে স্লিপিং পার্টনার হবেন প্রধানমন্ত্রীর চোখের মনি। হঠাত্‍ করে সাহারাকে নিয়ে এমন হৈচৈ কেন শুরু হয়েছে বুঝতে পারিনা।

বাংলাদেশের অনেক আবাসন ব্যবসায়ী মিডিয়াতে পুঁজি বিনিয়োগ করে নিজেরাই নিজেদের কামড়াচ্ছেন। নিজেদের মালিকানার মিডিয়া গুলোকে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছেন। আবাসন ব্যবসায়ীদের এসব কাগজ বা টিভি চ্যানেলে অনেক নামী দামী সাংবাদিক কাজ করছেন এবং বিভিন্ন ফোরামে ফোরামে মালিকের পক্ষে বেশরম ওকালতি করছেন। দালালী শব্দটা ব্যবহার করলাম না, কারণ দালালরা কমিশন খেয়ে কাজ করেন। তারা স্বাধীন। ইচ্ছে হলে দালালী করবেন, ইচ্ছে হলে দালালী করবেন, না হলে করবেন না। কিন্তু যাঁরা চাকুরী করেন তাঁদের কোন স্বাধীনতা থাকেনা। তাঁদের নৈতিকতা বা ইথিকস থাকেনা। মোটা অংকের বেতন পাবেন আর একটা ভাল গাড়ি পাবেন। আমাদের বেশ কিছু বন্ধু এখন সম্পাদক হিসাবে ব্রান্ড হয়ে গেছেন। তাঁদের বাজার দরও বেশ ভাল। বাংলাদেশের বহু আবাসন কোম্পানীর মালিকদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। আবাসন ব্যবসা বা শিল্পের মালিকদের একটি সমিতি আছে যার নাম রিহ্যাব। এটা এখন আর আগের মতো চলেনা। এর সমিতির প্রায় ১৬শ’ সদস্য রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, টাকা খেয়ে সদস্যপদ দেোয়া হয়। ১৬শ’ সদস্যের মধ্য ন্যায়নীতি ও সততা বজায় রেখে ব্যবসা করেন এমন কোম্পানীর সংখ্যা ২০/২৫ এর উপরে নয়। প্রসংগত উল্লেখ করা যেতে পারে, বাংলাদেশে বিগত ৪০ বছরে তিনটি সেক্টরের মালিকগণ  সীমাহীন ভাবে বিকশিত হয়েছে। প্রথমটি হলো জনশক্তি রফতানীকারকরা, দ্বিতীয়টি হলো পোষাক রফতানীকারকরা আর তৃতীয়টি আবাসন শিল্পের মালিকরা। এই তিনটি সেক্টরে অনিয়ম আর দূর্ণীতি হয়েছে সবচেয়ে বেশী। তাই জেনারেল মঈনের সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশী বিপদ নেমে এসেছিল এদের উপর। যদিও আমরা তা সমর্থন করিনি। কারণ, ওই সময়ের হামলার ফলে অর্থনীতিতে স্থবিরতা নেমে এসেছিল। দূর্ণীতি দমনের কথা বলে সেই সরকারের কর্তারা ব্যাপক দূর্ণীতি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বহু ব্যবসায়ী কোটি কোটি টাকা দিয়ে অত্যাচার থেকে রক্ষা পেয়েছে। জেনারেল মঈনের সরকারের ভয়ে যারা দেশত্যাগ করেছিলেন, তাঁরাই পরে একই মঞ্চে বসে লেনদেনের কথা বলেছেন।

আমার ছেলে আমাকে প্রশ্ন করেছে, বাবা তুমি কি বর্তমান অসাম্যতার বেনিফিসিয়ারী? উত্তরে আমি হ্যাঁ সূচক জবাব দিয়েছিলাম। আমিওতো এই সমাজের একজন সুবিধাভুগী। বিগত ৬৪ বছরে আমাদের এই দেশে , আমাদের সমাজে অশিক্ষা, নিরক্ষরতা, দারিদ্র আর শোষণ অত্যন্ত লজ্জাজনক ভাবে চালু রয়েছে। মুক্তির আশা করে ৭১এ আমরা আমরা পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীনকরে বাংলাদেশ বানিয়েছি। স্বাধীন বাংলাদেশেরও ৪০ বছর পার হয়ে গেছে। কিন্তু বেশীর ভাগ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। ৭০ সালে যে লোকটা ২শ’টাকার কেরানী ছিল সে লোকটা এখন হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক। যে লোকটা ৭০ সালে দুদি টাকা রোজ মুজুরী পেতো সে এখন হয়ত তিনশ’ টাকা পায়। ৭০ সালে এক কেজি চালের দাম ছিল ৫০ থেকে ষাট পয়সা। আর এখন এক কেজি চালের দাম ৩০ থেকে ৭০টাকা। যিনি দুইশ’ টাকা বেতন থেকে দুই হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি খান ৭০ টাকা দামের চাল। হয়ত তিনি জানেন ও না চালের কেজি কত ? কিন্তু তিনশ’ টাকার দিনমুজুরকে জানতে হয়। ক’দিন আগে সোনাগাজীর কাশেমের সাথে দেখা হয়েছিল। তাঁরা কয়েক জেনারেশন ধরে এক নামকরা বাড়িতে কাজ করে। কিন্তু ভাগ্যের কোন পরিবর্তন করতে পারনি। কারণ লেখাপড়া শিখেনি। সমাজ তাঁদের লেখাপড়া শিখতে দেয়নি। কাশেমের মেয়ে এসএসসি পাশ করেছে, কিন্তু টাকার অভাবে কলেজে ভর্তি হতে পারছেনা। বাড়তি আয়ের জন্যে কাশেমের একটি চাকুরী দরকার। অপরদিকে মেয়ের দিতে গেলেও যৌতুকের জন্যে কাশেমের লাখ খানেক টাকা লাগবে।আপনাদের একজন কাশেমের খবর দিলাম। বাংলাদেশের আরেকজন স্বাধীন নাগরিকের কথা বলছি। ইনি একজন মহাগরীব নিরক্ষর মহিলা । স্বামী তালাক দিয়ে চলে গেছেন। মহিলার দুই মেয়ে অন্যের বাড়িতে কাজ করে। আর মহিলা ভিক্ষা করেন। এই সমাজই ওই পরিবারটিকে শোষণ করছে। এই চলছে বলেই আমি বাসার জন্যে কাজের মেয়ে পাই অতি সস্তায়। রাস্তায় রিকসা, মুটে, শিশু শ্রমিক পাওয়া যায়। ওরা গরীব ও শক্তিহীন হওয়ার কারণেই বাংলাদেশে পোষাক শিল্প গড়ে উঠেছে। ওরা গরীব বলেই জনশক্তি ব্যবসা রমরমা হয়ে উঠেছে।

শত চেস্টা করেও আবাসন ব্যবসায় নিয়মনীতি প্রতিস্ঠা করা যায়নি। এ ব্যাপারে সরকারও উদাসীন। সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেল গুলোও উদাসীন। রিহ্যাব ছাড়াও কয়েক হাজার কোম্পানী ফ্ল্যাটের ব্যবসা করছে। যে কোন লোক যে কোন সময় এ ব্যবসা শুরু করতে পারে। এখন এ ব্যবসা জেলা ও উপজেলা শহরে চলে গেছে। রাজধানীতে অভিজাত এলাকার জমির মালিকরা কিছুটা বেনিফিট পাচ্ছেন। এসব এলাকায় জমির দামের কোন ঠিক ঠিকানা নেই। ক্রেতারা নাকি বলেন, জমি আছে কিনা বলুন। দাম যা চাইবেন তাই পাবেন। তবে বিষয়টা গোপন রাখতে হবে। এসব এলাকার জমি আবার বিতরণ করেন সরকার। কাঠা ১৫/২০ লাখ টাকা। কিন্তু বাজার দাম কাঠা কয়েক কোটি টাকা। এর মানে হচ্ছে, চেনা জানা মানুষকে রাতারাতি ধনবান করে দেয়া। আবাসন ব্যবসায়ীরাও ৫০ কোটি টাকার জমি পাঁচ কোটি নগদ দিয়ে পজেশন নিয়ে নেন আর বিজ্ঞাপন দিতে থাকেন। আর টাকা আসতে থাকে। দুই তিন বছর পরে ফ্ল্যাটের ডেলিভারী পাবেন এখন থেকেই মাসে লাখ লাখ টাকা কিস্তি দিতে থাকেন। একটি ফ্ল্যাটের দাম দুই কোটি টাকা থেকে দশ কোটি টাকা। এখানেইতো কালো টকার বিষয়টা উঠে এসেছে। টাকার হিসাব চাইলেতো ফ্ল্যাট ব্যবসা হবেনা, ব্যান্ক প্রতিস্ঠা করা যাবেনা, বিনিয়োগ বাড়ানো যাবেনা। তাই কালো টাকাকে কালো জায়গা থেকে সাদা জায়গায় নিয়ে আসতে হবে। তাইতো সাদা মনের মানুষ খুঁজতে গিয়ে একজন ধনী মানুষকেও পাওয়া যায়নি। সব সাদা মনের মানুষ সাদা মাটা সাদা সিধে জীবন যাপন করেন। ধন তাঁদের ধারে কাছেও আসতে চায়না। রাস্ট্র নিজেই কালো টাকার জন্ম দেয়। রাস্ট্রের প্রিয় মানুষরাই কালো টাকার মালিক হন।রাস্ট্র চাওয়া মাত্রই আপনাকে ধনী বানিয়ে দিতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো ওই ধন কালো না সাদা ? ৭২ সাল থেকেই আমি কালো টাকার বিষয়ে লিখে আসছি। সাদাকালো শিরোনামে একটি নিয়মিত কলাম লিখতাম দৈনিক জনপদে। আমাদের যে রাস্ট্র ব্যবস্থা তাতে কালো টাকার জন্ম একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। যেমন বিয়ে না করে সন্তান জন্ম দেয়া একটি অবৈধ কাজ। ধর্ম ও আইনের চোখে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। নারী পুরুষের অবৈধ মিলন এ জগতের কোথাও থেমে নেই। কোন সমাজ এই অবৈধ কাজকে স্বীকৃতি দিয়ে বৈধতা দিয়েছে। তেমনি কালো টাকারও আইনি চোখে স্বীকৃতি নেই। কিন্তু রাস্ট্র ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কারণে প্রতিনিয়তই কালো টাকার জন্ম হচ্ছে। যারা কালো টাকার মালিক হন তাঁরা রাস্ট্রের বন্ধু, বা বন্ধুদের বন্ধু। যেমন, পুঁজির বিকাশের জন্যে উদ্যোক্তাদের রাস্ট্র নানা রকম সুযোগ দিয়ে থাকে। পূর্ব পাকিস্তানে পুঁজির বিকাশের কথা বলে ৬০ সালের দিকে পূর্ব পাকিস্তানের বাংগালীরা নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা দাবী করে দেন দরবার করেছিলেন। সে সময়ে অনেক গুলো ২৫০ লুমের পাটকল স্থাপিত হয়েছিল। একই সময়ে ওজিএল বা ওপেন জেনারেল লাইসেন্সের কথা বলে বাংগালীদের পুঁজি গঠণের সুযোগ দেয়া হয়েছিল। বর্তমানে যে কালোটাকা লুকিয়ে আছে তা বিনা কর বা জরিমানায় সাদা করে দিলে কয়েকটা পদ্মা সেতু হতে পারে। কালো টাকার জন্ম হয় চলমান  চলমান রাজস্ব ব্যবস্থার কারণে। একটু আগেই বলেছি, রাজউকের প্লট বিশ লাখ টাকায় যখন কাঠা বিক্রি হয় তখন এর বাজার দর তিন কোট টাকা। এই প্লট গুলো পান রাস্ট্রের বন্ধুরা। এই প্লট যখন কেউ বিক্রি করেন তখন কি দলিলে তিন কোটি টাকা দেখান? না দেখান না। এই ভাবে জমি বেচা কেনার সময়ও দলিলে আসল দাম উল্লেখ করা হয়না। প্রতিদিনই কালো টাকার জন্ম হচ্ছে আর একে সাদা করার জন্যে সরকারের উপর চাপ থাকবে। কালো টাকা সবচেয়ে বেশী থাকে ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, রাজনীতিক, আমলা ও সরকারী কর্মচারীদের কাছে। এবার রাজনৈতিক কারণে যে ব্যান্কের অনুমতি দেয়া হয়েছে তাতে লোকজন পরিচালক হচ্ছে একশ’ কোটি টাকা দিয়ে। কন্তু কাগজে কলমে দেখাচ্ছে দশ কোটি টাকা। যিনি রাজনৈতিক কারণে অনুমতি পেয়েছেন তাঁর কোন পুঁজি লাগবেনা। তিনি হবেন ব্যান্কের চেয়ারম্যান। শুধু অনুমতির তদবীর করার জন্যেই তিনি পাবেন হয়ত চার পাঁচশ’ কোটি টাকা। অথচ এই টাকা তিনি জীবনেও দেখেননি।

আবাসন ও চিকিত্‍সা খাতেও কালো টাকার ছড়াছড়ি। রাতারাতি ধনী হওয়ার জন্যে সবচেয়ে বড় খাত। ২০ বছর আগে অজানা অচেনা এক ডায়গনস্টিক সেন্টার খুলে এখন হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, ঔষধ কোম্পানী, রিয়েল এস্টেটের মালিক। যেখানেই ব্যবসার দ্রুত বিকাশ হয়েছে সেখানেই কালো জন্ম হয়েছে। অনেকে বলেন, আমরাতো টাকা বিদেশে নিয়ে যাইনি। দেশেই বিনিয়োগ করেছি। হাজার হাজার লোক কাজ করে। আমাদের ধনীদের ৮০ ভাগই বিদেশী বাড়ি কিনেছেন। কিন্তু দেশ থেকে কোন টাকা বিদেশে নিয়ে যাননি। অনেক রাজনীতিকও বিদেশে বাড়ি কিনেছেন। এসবতো কালো টাকারই অবদান। ধনীদের আরেকটি বড় কাজ হচ্ছে ছেলে মেয়েদের বিয়েতে দরাজদিলে কালো টাকার ব্যবহার করা। মোম্বাই সিনেমা দেখে দেখে বিয়ের অনুস্ঠান তৈরী করা হয়। দাওয়াতের কার্ড থাকে ১৬/১৭টি। এসব বিয়েতে সমাজ ও রাস্ট্রের নামী দামী তারকারা উপস্থিত থাকেন। এমন কি কোন কোন অনুস্ঠানে রাস্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীরাও থাকেন।

ভারতের সাহারা গ্রুপ তেমনি একটি নামজাদা কালো টাকার মালিক। সেই টাকা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জন্যেই সাহারা বাংলাদেশে আসছে। হয়ত তাঁকে টাকাও আনতে হবেনা। স্থানীয় সহযোগীরাই হয়ত কালো টাকার জোগান দিবে। যেমন করে জগতশেঠ ক্লাইভকে টাকার জোগান দিয়েছিল। এমনও হতে পারে সরকার বলবে যত টাকা আনো কোন কর বা শুল্ক দিতে হবেনা। আবাসন খাতে বিদেশী বিনিয়োগ অল্পস্বল্প এখনও আসছে। কিন্তু তাঁরা সরকারের আনুকুল্য পাচ্ছেনা। হয়ত রাজউল বা সরকার এ ব্যাপারে কিছুই জানেনা। বাংলাদেশে সাহারা আসার ব্যাপারে হয়ত কোন রহস্য লুকিয়ে আছে। এটা আবাসন খাতে বিনিয়োগ না রাজনীতি তা এখনও স্পস্ট নয়। অনেকেই বলছেন, সাহারার বিনিয়োগের বিষয়টি এখনও খোলাসা হয়নি। সাহারা কি বিনিয়াগ করবে? কত টাকা বিনিয়োগ করবে দেশবাসী তা জানেনা। রাজউক কি চুক্তি করেছে তাও প্রকাশ করা হয়নি। রাজউক যদি সাহারাকে জমি দখল করে দেয় তাহলে দেশী বিনিয়োগকারীদের সেই সুযোগ দিবেনা কেন? সরকারইবা এ ব্যাপারে এত রাখঢাক করছেন কেন?

লেখক: কবি ও সাংবাদিক

ershadmz40@yahoo.com

Read Full Post »