Feeds:
Posts
Comments

Archive for February, 2015


অভিজিত হত্যা একটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক দু:খজনক ঘটনা।আমি অন্তর থেকে এ হত্যাকান্ডের নিন্দা করছি। অভিজিত একজন শিক্ষিত মুক্তমনের মানুষ। বিদেশে থাকেন। মুক্তমন নামের একটি ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা। সালমান রুশদী যেমন মুক্ত মন নিয়ে ‘স্যাটানিক ভার্সেস’ নাম একটি বই লিখে জগতজোড়া নাম কামিয়েছেন। এরপরে বাজারে তার দামও বেড়েছে। বৃটিশ সরকার তাঁকে নানা ধরণের সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন। বড় বড় মঞ্চে সম্মানিত অতিথি হিসাবে আপ্যায়িত হচ্ছেন। লেখক হিসাবে তিনি বড় মাপের লেখক। শয়তানের কবিতা বা শয়তান কাব্য না লিখলেও তিনি বড় লেখক থাকতেন। তবুও তিনি শয়তানের কাব্য লিখেছেন। যখন বইটি নিয়ে বিশ্ব ব্যাপী হইচই পড়েছে, তখনও আমি লিখেছিলাম চৌদ্দশ’ বছর ধরেইতো জগতের শ্রেষ্ঠতম মানুষ নবীজীর(সা) বিরুদ্ধে কিছুলোক লিখে চলেছেন। অনেকেই আল্লাহপাকের বিরুদ্ধে লিখেও নাম কামাচ্ছেন। এতে আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের(সা) কিছু আসে যায়না।
ব্যক্তিগত জীবনে একজন ধার্মিক মানুষ মুক্তমনের হতে পারেন। অন্তত আমি তাই মনে করি। একজন অবিশ্বাসী মানুষও ভাল হতে পারেন। আবার বিশ্বাসী মন্দ হতে পারেন। বহু লেখাপড়া জানা মানুষকে আমি মন্দ হতে দেখেছি। স্টিফেন হকিন্স জগত বিখ্যাত একজন বিজ্ঞানী। তিনি তিনি জগতের সৃষ্টি নিয়ে ভাবেন। জগতের সব মানুষই তাঁকে সম্মান করেন। তিনি কখনও স্রষ্টাকে বা ধর্মকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেননি। তাঁর মতো জগত বিখ্যাত আরও অনেক মুক্তমনের মানুষ ছিলেন যাঁরা কখনই ধর্মকে নিয়ে তামাশা করতেন না। মুক্ত মনের মানুষ মানেইতো হচ্ছে উদার মনের মানুষ। যাঁরা পর মত বা বিশ্বাসকে সব সময় সম্মান করেন। আমি মাঝে মাঝে বিদেশী নাস্তিক ও যুক্তিবাদীদের ওয়েব সাইত ভিজিট তাঁদের যুক্তি গুলো জানার জন্যে। এদের বেশীর ভাগই যুবক। এদের ভিতর খুব অল্প ক‘জনকে দেখেছি বাজে কথা বলেন ও গালমন্দ করেন।
এক সময়ে ইসলামে মুতাযিলা নামের একটি গ্রুপ ছিল। এরা ছিলেন যুক্তিবাদী। বিনা প্রমাণে কিছুই গ্রহণ করতেন না। আব্বাসিয়া আমলে এদের বিকাশ হয়েছিল । এ চিন্তাধারার মানুষ এখন জগতে নেই। এ্ঁরা বলতেন , জ্ঞান লাভের প্রধান হাতিয়ার হলো জি্জ্ঞাসা করা। ইসলামে জ্ঞানার্জনকে ফরজ বা বাধ্যতা মূলক করা হয়েছে। ইসলামের মূল মন্ত্র হচ্ছে মানবতা, মানব সেবা। আমি মনে করি স্রষ্টা হচ্ছেন জ্ঞানের প্রতীক। তাই মানুষকে জ্ঞান সাধনা করতে হবে। দার্শনিক সক্রেটিস বলেছেন, know thyself. নিজেকে চিনো। আর ইসলাম বলে, ‘মান আরাফা নাফসা, ‘ফাক্বাদ আরাফা রাব্বা। এর মানে, আগে নিজে চিনো’, তাহলেই তুমি প্রভুকে জানতে বা চিনতে পারবে। আমাদের বাংলাদেশের তথাকথিত জ্ঞানী সমাজ নিজেকে চিনেনা। কারণ,জ্ঞান সাধনা না করেই সমাজে সম্মানিত। হজরত আলীকে(রা)প্রশ্ন করা হয়েছিল, সমাজ বা দেশ অসুস্থ হয়ে গেছে কিভাবে জানা যাবে। তিনি বলেছিলেন, যে সমাজে দরিদ্ররা ধৈর্যহারা হয়ে গেছে, ধনীরা কৃপণ হয়ে গেছে। জ্ঞনীরা পালিয়ে গেছেন, মুর্খরা মঞ্চে বসে থাকে, বিচারকরা রাজা/খলিফার তাবেদারী করেন ও রাজা মিথা কথা বলেন। আপনারা নিজেরাই ভাবুন আমাদের প্রিয়তম মাতৃভুমি/রাষ্ট্র এখন কেমন আছে।
বাংলাদেশে ব্লগার শব্দটির এক ধরনের নেগেটিভ বা নেতিবাচক ইমেজ তৈরি হয়েছে। পরমত বা ধর্ম বিশ্বাসকে গালমন্দ করে কিছু শিক্ষিত তরুণ কিছু ব্লগ তৈরি করে লেখালেখি করেছে। শুনেছি ,সরকার নাকি ওসব ব্লগ বন্ধ করে দিয়েছে। অভিজিত একজন ইঞ্জিনিয়ার ও বিজ্ঞান বিষয়ক লেখক। এখন তাঁর নাম হয়ে গেছে ব্লগার অভিজিত। কেমন যেন মনে হয় তাঁর বোধ হয় আর কোন পরিচয় নেই। তিনি আমেরিকায় থাকেন, মাঝে মাঝে বাংলাদেশে আসেন। সমমনা বন্ধুদের সাথে দেখাশোনা করেন। আবার আমেরিকায় ফিরে যান। আমাদের দেশের রাজনীতি ও সংস্কৃতিতে মুক্তমনাদের দাম বা কদর বেশী। অভিজিতকে দেশে বিদেশে এখন হৈচৈ চলছে। এমন প্রতিক্রিয়া সাধারনত দেখা যায়না। এ ব্যাপারে পশ্চিমা জগতের সাথে আমাদের দেশের মুক্তমনারা এক কাতারে। এর পিছনে নিশ্চয়ই কোন কারণ আছে। সে কারণটা কি? চলমান সময়ে বা চলতি সপ্তাহে অভিজিত বিশ্বের এক নম্বর ব্যক্তি। সউদী আরবে এক ব্লগারকে সউদী আদালত দশ বছর জেল ও এক হাজার বেত্রাঘাত শাস্তি দিয়েছে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে এ শাস্তির নিন্দা করি। এ ব্যাপারে পশ্চিমা মিডিয়া অনেক লেখালেখি করছে। কিন্তু সরকার গুলো চুপ। কারণ, ঘটনাটা সউদী আরবের। কেউ সউদী বাদশাহকে ঘাটাতে চায় না। বাদশাহর বন্ধুত্বকে কেউ অবহেলা করতে চায়না। সউদী সরকার সেক্যুলার বা ধর্মহীন নয়। বাংলাদেশ সরকার সেক্যুলার। তাই ভারত সহ পশ্চিমা বিশ্ব বাংলাদেশে এমন সরকার দেখতে চায়। এটা আদর্শ , দর্শণ স্বার্থগত ব্যাপার।
গত বছর কিছুদিনের জন্যে আমি আমেরিকার সিয়াটল শহরে ছিলাম। এটা মাইক্রোসফ্টের শহর। এ শহরের প্রধান দৈনিক সিয়াটল টাইমস। ক্যাথি বেষ্ট হচ্ছেন সম্পাদক। তাঁর অফিসে গিয়েছিলাম মত বিনিময়ের জন্যে। প্রায় ঘনটা খানেক ছিলাম। তখন সেক্যুলারিজম নিয়ে তাঁর সাথে কথা হচ্ছিল। তিনি বললেন, এখানে ৫৭ ভাগ মানুষ সরাসরি ধর্মে বিশ্বাস করে। তবে ধর্মের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলেনা। ওই কাগজে ধর্ম বিষয়ে একটি কলাম আছে। সপ্তাহে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। সব ধর্মের লোকেরাই লিখতে পারেন। তবে ধর্ম বিরোধী কোন মত ছাপা হয়না। বাংলাদেশে ইংরেজী শিক্ষিত ধর্মহীন(সেক্যুলার) কদর বেশী। এরা ধর্ম নিয়ে কথা উঠলেই আলেম সমাজকে গালাগাল করেন। কিন্তু নিজরা ধর্মজ্ঞান লাভ করেন না। এর আগে বহুবার বলেছি এদেশে ধর্মহীন বা ধর্মজ্ঞানহীনরাই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকেন। ধর্মের বিরুদ্ধে যাঁরা জোর গলায় কথা বলেন তাঁরাই পদবী লাভ করেন। আমি মনে করি ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মহীন বা ধর্মমুক্ত থাকা কোন অপরাধ নয়। ধর্মমুক্তির আন্দোলনও করতে পারেন। কিন্তু অন্যধর্মকে গালাগাল করা বা অন্যমতকে নিন্দা করা গ্রহণযোগ্য নয়।
এখন বুদ্ধিজীবী জ্ঞানীগুণীরা বলছেন, ৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন করে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে দেশবাসীকে ১০০ ভাগ খাঁটি সেক্যুলার( ধর্মহীন বা ধর্মমুক্ত) বাংগালী বানাবার জন্যে। অনেকেই বলেন শুধু মুক্তিযোদ্ধা হলেই চলবেনা,ধর্মহীন চেতনা থাকতে হবে। ভারতও চায় বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মুসলমান যেন ধর্মমুক্ত থাকে। ধর্মচেতনা শক্তিশালী হলে ভারতের দর্শন বাস্তবায়িত হবেনা। বাংলাদেশে ধর্মমুক্ত চেতনায় বিশ্বাসী বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা কয়েক হাজার হতে পারে। এরাই রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিজেদের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে গেছে। যদিও সংবিধানে বলা হয়েছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। এটা হচ্ছে ভোটারদের ধোকা দেয়ার জন্যে।
অভিজিত হত্যাকান্ডের রহ্স্য উন্মোচিত হওয়া অবশ্যই দরকার। তাহলে জানা যাবে কারা এমন ঘৃণ্য কাজ করেছে, কেন করেছে। অভিজিত নিহত হাওয়ার সাথে সাথে রাজনীতিতে নতুন হাওয়া বইতে শুরু করেছে। সরকারী নেতারা বলতে শুরু করেছেন, জংগীরা এ কাজ করেছে। জংগীদের নেতা হচ্ছেন খালেদা জিয়া। নেতা মন্ত্রীদের এমন সহী বক্তব্যকে তদন্তকারীদের অবশ্যই গাইড লাইন হিসাবে নিতে হবে।
এমন এক সময় অভিজিতকে হত্যা করা হয়েছে যখন দেশ এক মহাসংকটের ভিতর দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। এমন সময়ে অভিজিতকে হত্যা করার পেছনে কারা আছে এবং কি উদ্দেশ্যে তারা এমন ঘৃণ্য কাজ করেছে তা অবশ্যই দেশবাসীকে জানতে হবে। সময়কে আরও ঘোলাটে করে কি কেউ রাজনীতিতে সুবিধা নিতে চাইছে? ডাক্তার মিলন হত্যা হয়েছে রাজনৈতিক ঘোলাটে অবস্থায়। মিলন হত্যার মাধ্যমেই জেনারেল এরশাদের পতনকে ত্বরান্বিত করেছে। এর আগে সাংবাদিক দুলাল ও শ্রমিকনেতা আবদুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। তারও বেশ আগে এসেম্বলীতে স্পিকারকে হত্যা করা হয়েছে। ব্লগার রাজীব হত্যায় তেমন বেশী রাজনীতি হয়নি যেমন হচ্ছে অভিজিত হত্যা নিয়ে হচ্ছে। এ ব্যাপারে সবচেয়ে বেশী কথা বলতে শুরু করেছেন আওয়ামী নেতারা। অভিজিত নাস্তিক বলে বিদেশেও অভিজিতকে নায়ক বানাবার চেষ্টা চলছে। অভিজিত ব্যক্তিগত জীবনে বিনীত ও হাসি খুশী মানুষ ছিলেন। কিন্তু মুক্তমনের নামে তিনি ধর্ম নিয়ে আজে বাজে কথা বলতেন। তার সাথে আরও কিছু আরবী নামধারী যুবক যোগ দিয়েছিল। ফলে, কিছু ইসলামপন্থী যুবক নাস্তিক ব্লগারদের বিরুদ্ধে লেখালেখি শুরু করে এবং উসকানী মুলক বক্তব্য দিতে শুরু করে। সরকারের দায়িত্ব ছিল উভয় গ্রুপকে কঠোর ভাবে দমন করা। কিন্তু সরকার তা করেননি।
ইসলাম সম্পর্কে সরকার নিরপেক্ষতার ভুমিকা পালন করে। এদেশে ভোট ছাড়া অন্য কোন কাজে মুসলমানদের তেমন কোন গুরুত্ব নেই। শুধুমাত্র ভোটের জন্যেই তাঁরা মেজরিটি। ফলে দেশের ১৪ কোটি মানুষের ধর্ম মর্যাদা ও চিন্তা অবহেলিত। ইসলামের ব্যপারে নিরপেক্ষতা আর আর অন্যদের ব্যপারে সহমর্মিতা দেশের ৯০ ভাগ মানুষের মনে বেদনার সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের দেশে শিক্ষা সংস্কৃতি ইতিহাস কোথাও ইসলামের প্রভাব নেই। ইসলাম মসজিদে ছাড়া আর কোথাও নেই। তবুও বলা হয় ‘মডারেট মুসলিম কান্ট্রি’। কেউ কেউ বলেন লিবারেল মুসলীম কান্ট্রি। ইদানিং শুনতে পাচ্ছি ‘পলিটিকেল ইসলাম’। আমার দৃষ্টিতে ইসলাম একটিই। কিতাব একটি। এর বহু তাফসীর বা ব্যাখ্যা থাকতে পারে। একমাত্র ধর্ম ইসলাম যার নিজস্ব অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজনীতি আছে। এর আগের কিতাব গুলোও ইসলামের। কালক্রমে সময়ের প্রয়োজনে আল্লাহপাক নিজেই সংস্কার করে আলকোরাণ নামে অভিহিত করে নাজিল করেছেন। কোথাও ধোঁয়াশা নেই, একেবারেই সুস্পষ্ট। এর ভিতর বাঁকা পথ খোঁজেন তথাকথিত ধর্মমুক্ত শিক্ষিতজনেরা। এ্ঁরা নিজেরা ধর্ম পালন করেন না। ধর্ম যাঁরা পালন করেন তাঁদের সমালোচনা করেন। এ্র্ঁরাই সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেন। এ্ঁরাই মুক্তমনের নামের উগ্রপন্থি নাস্তিক ব্লগার তৈরি করেছেন। অপরদিকে ইসলাম সম্পর্কে কিছু তরুণকে বিভ্রান্ত করে উগ্রপন্থি তৈরি করেছে। এই উগ্রপন্থি তরুণরাই মনে করে ইসলামের সমালোচকদের হত্যা করতে হবে। ইসলাম কখনই এ ধরণের শিক্ষা দেয়না। ইসলাম হচ্ছে জগতের সবচেয়ে বেশী সহনশীল উদার ধর্ম। ইসলাম হচ্ছে সবচেয়ে বেশী ক্ষমাশীল ধর্ম। আল্লাহপাকের প্রধানতম গুণ হচ্ছে ভালবাসা ও ক্ষমা। মানুষকে বলেছেন, তোমরা আমার ভালবাসা ও ক্ষমায় আস্থা রাখো। আমার ক্ষমা হচ্ছে অসীম সাগর, আর মানুষের অপরাধ হচ্ছে এক বিন্দু পানি। সেই দয়াবান ও ক্ষমাশীল খোদাকে গালমন্দ করে একশ্রেণীর তথাকথিত জ্ঞানী মানুষ আর তাঁদের অনুসারী বিপদগামী এক শ্রেণীর তরুণ। আমাদের দেশের তথাকথিত শিক্ষিত সমাজের বেশীর ভাগই ইসলাম বা কোরআনকে জানেনা। না জানাই নাকি সমাজে তাঁদের সম্মানিত করেছে। এরাই মানবতা আর মানবিক অধিকারের নামে নারী পুরুষের সমকামীতা, নারী মৈথুন, লিভটুগেদার, ধর্মহীন বিয়েকে সমর্থন করে। প্রগতি মুক্তমনের নামে সমাজ বন্ধনকে ধ্বংস করতে চলেছে। খোদা সার্বভৌম বললে তাঁরা রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করে।
খোদা ও রাসুল(সা) বিরোধী শক্তি আগেও ছিল ,আজও আছে। ফেরাউন নমরুদ ও সাদ্দাদ কখনই খোদা বিশ্বাস করতোনা। এরা নবীদের হত্যা করেছে। বিশ্বাসী মানুষদের উপর অত্যাচার করেছে। খোদা নিজেই খোদাদ্রোহীদের শাস্তি দিয়েছেন। খোদাদ্রোহী জাতিকেও খোদা শাস্তি দিয়েছেন। যেমন সদম ও গোমোরাহ নগরীকে ধ্বংস করে দিয়ে সেসব নগরীর মানুষদের শাস্তি দিয়েছেন। এখনও জগতে ফেরাউনের মত শাসক আছে। এখনও প্রকৃতির শোধ আছে। জ্ঞানপাপীরা বুঝতে পারেনা। তবে একটা বিষয় এখানে উল্লেখ করতে চাই। তা হলো মুখোশধারী মোনাফেক। এরা মুসলমান সেজে সমাজে চলাফেরা করে। কিন্তু মুক্তমনের নামে দিনরাত ইসলাম, মুসলমানের বিরুদ্ধে কথা বলে। বাংলাদেশে এ রকম মোনাফেকের সংখ্যা কম নয়। আমরা সমাজে কঠোর ভাবে শান্তির রক্ষা করতে চাই ওদর বিরুদ্ধে বলতে চাইনা। মোনাফেকদের আলকোআনে কঠোরভাবে নিন্দা করা হয়েছে। বলা হয়েছে এরা কাফেরের চেয়ে খারাপ। এরাই প্রচার করে মাদ্রাসা শিক্ষা নাকি সন্ত্রাসী ও উগ্রপন্থীর জন্ম দেয়। এরাই প্রচার করে খতিব, ইমাম মুয়াজ্জিনরা তেমন লেখাপড়া জানেনা ও করে না। অথচ ইসলামের ব্যপারে তাদের অ আ ক খ বিদ্যাও নাই। বাংলাদেশে ইসলামের ব্যপারে এমন বৈষম্য শক্তিশালী ভাবে বিরাজ করছে। এরা জানেনা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের(১৭৫৭-১৮৫৮) আলেম সমাজই সবচেয়ে জীবন দিয়েছে। তখন অমুসলমান মোনাফেকরা দখলদার লুটেরা বাহিনী সাহায্য করেছে। ৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়েছে অমুসলমানদের কারণে। ৭১ সালে মোনাফেকদের কারণেই পাকিস্তানী বেঈমানেরা বাংগালী মুসলমানদের উপর সীমা্হীন অত্যাচার করেছে । ফলে বাংলাদেশ স্বাধীন। সেই স্বাধীনতার বিরুদ্ধে জোট বেঁধেছে এক শ্রেণীর অমুসলমান ও মোনাফেক। এদের সমর্থন ও সহযোগিতা করছে প্রতিবেশীরা।

Advertisements

Read Full Post »


চলমান অবস্থায় নয়া দিগন্তের সম্পাদকীয় পাতায় আমি অনুপস্থিত। দেহটা অসুস্থ তাই। পুরো দেহ নয়। বেশ কিছুদিন হলো হাতের কব্জী ও আংগুলে রিউমাটয়েড আর্থারাইটিজে আক্রান্ত। চব্বিশ ঘন্টা ব্যথা। হাতের কাজ গুলো করা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। কিন্তু মনটা ছটফট করছে। দেশের এমন দুর্দিনে আমার হাতের এমন অবস্থা আমাকে কাতর করে ফেলেছে। অপরদিকে আমার বিবিজান খুবই খুশী। বন্ধুদের বলছেন, সাহেব লিখতে পারছেন না,আমি খুবই খুশী। তা না হলে আরেক জ্বালা হতো। সরকার বাহাদূর কখন গোস্বা হয়ে যান,এই চিন্তায় থাকতে হতো।
আমিতো সারা জীবন দেশ( রাষ্ট্র নয় ) ও দেশের মানুষের জন্যে ভেবেছি আর কিছু করার চেষ্টা করেছি। আমার স্বপ্নের দেশকে আজও দেখিনি। সব সময় দেখেছি রাষ্ট্র নামক এ যন্ত্রটি কখনই দেশের মানুষের কল্যাণ চায়নি। এ কারণেই পাকিস্তান টিকেনি। মাত্র ২৩ বছরে পাকিস্তানী পতাকা নেমে গেল এই ভুখন্ডে। পুরো পাকিস্তানটা এখন অর্ধেক।
ষোলয়ানা ভেজালহীন খাঁটি বাংগালী হওয়ার জন্যে ৭১ সালে বাংগালীদের জন্যে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নতুন রাষ্ট্র এখন জাতিসংঘের সদস্য, জাতীয় সংগীত ও পতাকা আছে। ৪৩ বছর পার হয়ে গেছে আমরা নাকি ষোলয়ানা বাংগালী হতে পারিনি। জগতের মালিক আল্লাহতায়ালা, কিন্তু বাংলাদেশের মালিক শুধুই বাংগালীরা। এখানে খোদাকে সার্বভোম বলা যাবেনা। তাহলে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হবে। জেল জুলুম ফাঁসি হতে পারে। পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলের জনগণের উপর অত্যাচার করে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটি টিকে থাকতে চেয়েছিল। শক্তি প্রয়োগ করে কঠোর দমন নীতি গ্রহণ করে পাকিস্তান টিকতে চেয়েছিল। কিন্তু পারেনি।
আমি অবাক হয়ে সারা জীবন দেখেছি, রাষ্ট্র ও সরকার দেশে ও জনগণের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে আসছে। কারণ সরকার ও সংবিধান মনে করে মানুষের চেয়ে রাষ্ট্র বড়। মানুষের চেয়ে আইন ও আদালত বড়। মোঘল, বৃটিশ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের আইন প্রায় একই। লক্ষ্য মানুষকে কঠোর ভাব দমন করা। মনে হয় মানুষের চেয়ে রাষ্ট্র ও সরকার বড়। অথচ জনগণের নামেই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয় আর সেই রাষ্ট্র পরিচালিত হয় এক ধরণের সংবিধানের মাধ্যমে যেন তেন ভাবে নির্বাচিত সরকার দ্বারা। এর নাম নাকি গণতন্ত্র। এই গণতন্ত্র আর সরকারকে রক্ষা করার জন্যে নানা ধরণের বাহিনী লাগে। বিভিন্ন বাহিনী পালনের জন্যে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়।
এর আগে এ বিষয়ে আমি এর আগেও বহুবার লিখেছি। মূল বিষয়টি হচ্ছে, একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক বা জনগণকে সম্মান করার জন্যে কোন আইন আমাদের দেশে নাই। আমাদের আইন প্রণেতারা নাগরিক অধিকারের কথা চিন্তা না করে রাষ্ট্রের অধিকারের কথা বেশী চিনতা করেছেন। ফলে রাষ্ট্র নির্দয় হয়ে যাওয়ার সুযোগ সব সময় থেকে যায়। আর অত্যাচারী ও স্বেচ্ছাচারী রাষ্ট্রে সরকার ছাড়া আর কারও অধিকার থাকেনা। আমেরিকায় ‘সিটিজেন’স চার্টার অব রাইটস’ যা আমেরিকার নাগরিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষা করে। আমেরিকার সংবিধান এই চার্টারকে অতিক্রম করতে পারেনা।
বাংলাদেশের চলমান অবস্থাকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে গণতান্ত্রিক মনে করিনা। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারী ভোটার বিহীন এক নির্বাচনে চলমান সরকার ক্ষমাতায় এসেছেন। চলমাম গণতন্ত্রের প্রথম ও প্রধান কথা হলো যে ভাবেই হোক নির্বাচিত হও আর জনগণের নামে ক্ষমতা দখল করো। তারপরে রাষ্ট্রযন্ত্র নামক অমানবিক সংস্থা সরকারকে রক্ষা করে। আমি এভাবেই রাষ্ট্র, সরকার, সংবিধান ও নির্বাচন নিয়ে ভাবি। জানিনা, আমার এ চিন্তা নিয়ে আপনারা ভাবেন।
এখন জাতীয় সনদ তৈরির যে দাবী উঠেছে তাতে সবারই একমত হওয়া উচিত। আমি আগেই বলেছি আমাদের আইনগুলো মানুষের উর্ধে। এখানে মানুষের অধিকার, মর্যাদা, আইন সরকার রাষ্ট্রের অনেক নীচে। এখানে মানুষ অমানবিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রধান শিকার। তথাকথিত গণতন্ত্র ও নির্বাচনের নামে ২০১৩ সালে বহু মানুষ নিহত হয়েছেন, দেশের সম্পদ ধ্বংস হয়েছে। অপরদিকে সরকার খুবই খুশী, কারণ তারা নাকি জনগণের অধিকার রক্ষা করে রাষ্ট্রকে রক্ষা করেছেন। একই কারণে ২০১৫ সালের ৫ই জানুয়ারী থেকে দেশের গোলযাগ শুরু হয়েছে। সরকার বলছেন এবং বিশ্ববাসীকে বুঝাবার চেষ্টা করছেন সরকার বিরোধী শক্তি জংগীবাদের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছে। তাই জংগীবাদ উত্‍খাতে সরকারকে কঠোর দমন নীতি গ্রহণ করতে হয়েছে। সন্ত্রাসীদের শাস্তি দেয়ার জন্যে ট্রাইবুনাল গঠণ করতে হচ্ছে।
চলমান অশান্ত রাজনৈতিক পরিস্থতির মূল কারণ হচ্ছে ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচন ও নির্বাচন ব্যবস্থা ও পদ্ধতি। বিরোধী পক্ষ বলছেন তাঁরা কোন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবেন না। সরকার মনে করেন নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা একটি অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। সংসদে মেজরিটির জোরে সরকার সংবিধান পরিবর্তন করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ব্যবস্থা করে ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচন করে আবার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। নির্বাচনের আগে সরকার বলেছিলেন, সংবিধান রক্ষার নির্বাচন। এখন বলছেন তাঁরা ২০১৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন। এটা কি রাজনৈতিক কৌশল না মিথ্যাচার? আন্তর্জাতিক সংস্থা গুলো বলছে ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচন একটি ব্যর্থ নির্বাচন। জোর করে নির্বাচন করা আর জোর করে ক্ষমতায় থাকার স্বেচ্ছারী মনোভাব থেকেই চলমান সংকটের জন্ম হয়েছে। আর সংকটকে মোকাবিলা করতে গিয়েই সরকার চলমান দমননীতি গ্রহণ করেছেন। রাখাল আর বাঘের গল্পের মতো চিত্‍কার বলে চলেছেন বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি জংগীবাদী হয়ে গেছে। কিন্তু বিশ্ববাসী কেউ বিশ্বাস করছেনা। সমস্যা হচ্ছে নির্বা্চন, আর সরকার বলছেন জংগীবাদ। আইএস নাকি এর সাথে জড়িত হয়ে গেছে।
৭০ সালের একচ্ছত্র জনপ্রিয় নেতা বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষমতায় এসে একদলীয় অগণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। সব খবরের কাগজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সরকারী কর্মচারীদের রাজনীতিতে সংযুক্ত করেছিলেন। ৭২ সালে সমাজতন্ত্রের নামে ভারত ও রাশিয়ার প্ররোচনায় বেসরকারী সকল সম্পদ সরকারের অধীনে নিয়ে এসেছিলেন। ফলে ৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে লাখ লাখ মানুষ মারা যায়। আমি নিজেও লাইনে দাঁড়িয়ে শিশুর দুধ সংগ্রহ করেছি। ভারত থেকে আমদানীকৃত জালের মতো শাড়ী দেখেছি। জাল পরা বাসন্তীর ছবির কথা আপনারা নিশ্চয়ই ভুলে যান না। বংগবন্ধুর পতনের পর দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসে। বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা চালু হয়।
বংগবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা এখন সেই পথেই চলতে শুরু করেছেন অতি সাবধানী ও কৌশলী পদক্ষেপে। ২০০৬ সালে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক মতবাদ ও শক্তিকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে। তাঁরই আন্দোলনের ফসল হিসাবে ১/১১র সেনাবাহিনীর সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। আসলে ক্ষমতায় ছিল ভারত। জেনারেল মঈন ছিলেন ভারতের সমর্থিত জেনারেল। এই সরকারের লক্ষ্য ছিল শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় নিয়ে আসা এবং তাঁর প্রতিপক্ষকে রাজনীতি থেকে চিরতরে বিদায় করা। সেই ধারা এখনও চলছে। এর মানে ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের চাবিও ছিল দিল্লীতে। ওই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল অনির্বাচিত সেনা সমর্থক সরকার প্রতিষ্ঠা করা। খালেদা জিয়াই জেনারেল মঈনকে সেনা প্রধান করেছিলেন আত্মীয় স্বজনের প্রভাবে পড়ে। কিন্তু তিনি হয়ত জানতেন না জেনারেল মঈন ততক্ষণে দিল্লীর অধীনে চলে গেছেন। সেই ভুলের খেসারত খালেদা জিয়াকে এখনও ভুগতে হচ্ছে। আর কতদিন ভুগতে হবে তা আমরা জানিনা। ২০০৬ থেকে ২০০১৫ এর জানুয়ারী নাগাদ বাংলাদেশ দিল্লীর প্রভাবেই রয়েছে। আর দিল্লী চায় বাংলাদেশ ভারতের অনুগত বন্ধুতে পরিণত হোক। তাই তারা বাংলাদেশে একটি স্থায়ী অনুগত রাজনৈতিক দল চায়।
৪৭ সাল থেকেই দিল্লীর লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানকে ধ্বংস করে। যা ৭১ সালে করেছে। মাওলানা আজাদও বলেছিলেন পাকিস্তান টিকবেনা। নেহেরুজী নিজেও বলেছেন পাকিস্তান একটি অবাস্তব কল্পনা। ৭১ সালে বিজয়ের পর ইন্দিরাজী বলেছিলেন ‘হাজার বছরের বদলা নিলাম’। কিসের বদলা, কেন এই বদলা তা আমাদের নেতাদের বুঝার ক্ষমতা নেই। আর ও ভাবে তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরাও চিন্তা করেননি। মমতাজী এসেছেন স্বাধীন বাংলাদেশের সাথে ভারতের একটি রাজ্য বা প্রদেশের সাথে সাংস্কৃতিক চুক্তি করার জন্যে। মানে পরাধীন বাংগালীদের সাথে স্বাধীন বাংলাদেশীদের একই মর্যাদায় চুক্তি করা। লোকে বলে বাংলাদেশ এ হচ্ছে স্বাধীন আর পরাধীন বাংগালীর মেলবন্ধন। শুরুতেই বলেছি,দিল্লী চায় বাংলাদেশের মুসলমানেরা কম মুসলমান হোক আর বেশী বাংগালী হলে মেলবন্ধনটা ভাল হবে। মুসলমান শব্দটাকে বাংলাদেশের এক শ্রেণীর বুদ্ধিজীবী সাম্প্রদায়িক শব্দ বলে প্রচার করে। তাঁরা নিজেদের মুসলমান বাংগালী বলতেও লজ্জিত বোধ করে। ৪৭ সালে যাদের বাপদাদারা হিন্দু ভারত ত্যাগ করে পূর্ব পাকিস্তান চলে এসেছে এবং যাবতীয় সুখ আনন্দ ভোগ করেছে তাঁরাও এখন দিল্লীর দাস হতে চায়। এরা জ্ঞানপাপী এবং অন্ধ।
শাসক হিসাবে ইংরেজদের আগমনের পূর্বে ভারতে বা অখন্ড বাংলায় শাসন ও সামাজিকতায় হিন্দু মুসলমান বলে কিছুই ছিলনা। এ ধারণা বা আলোচনাটা আসতে শুরু করেছে মুসলমানদের উপর অত্যাচার ও শোষনের কারণে। ইংরেজ আমলে মুসলমানেরা সীমাহীন নির্যাতন ও শোষণের শিকার হয়েছে। আর ইংরেজদের সহযোগিতা করে আনুকুল্য লাভ করেছে হিন্দু সমাজ। জিন্নাহ সহ অনেক বড় বড় মুসলমান নেতা অখন্ড ভারত চেয়েছিলেন। কিন্তু হিন্দু নেতারা মুসলমানদের ন্যায্য অধিকার অস্বীকার করায় খন্ড ভারতের চিন্তা সামনে আসতে থাকে। তারই ফল হলো পাকিস্তান। অপরদিকে অখন্ড বাংলার প্রস্তাব উত্থাপিত হলে গান্ধীজী ও নেহেরুজী এর বিরোধিতা করেন। কারণ, অখন্ড বাংলায় মুসলমানেরা মেজরিটি ছিলেন।
১৯০৫ সালে পূর্ববংগ ও আসাম নিয়ে একটি নতুন প্রদেশ গঠিত হলে হিন্দু নেতারা এর বিরোধিতা করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত হিন্দু নেতাদের আন্দোলনের ফলে ১৯১১ সালে বংগভংগ রদ করা হয়। পূর্ববংগ আবার কোলকাতার অধীনে চলে যায়। ১৯৪৭ সালে অখন্ড বাংলার দাবী হিন্দু নেতারা গ্রহণ করেননি। এর কার ও রহস্য বুঝার মতো ধ্যান জ্ঞান চিন্তা আমাদের রাজনীতিক ও তরুণ সমাজের নেই। কারণ এরা নিদের বাপদাদার ইতিহাস ঐতিহ্যকে ত্যাগ করেছে বা করতে চায়। জানতে হবে কারা তাদের বিপথে পরিচালিত করছে। বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকটের রহস্য লুকিয়ে আছে দিল্লীর আগ্রাসী নীতির ভিতর।
আপনাদের অবশ্যই বুঝতে হবে কেন হিন্দু নেতারা ১৯০৫ সালে পূর্ববংগ নামে নতুন প্রদেশ গঠণের বিরোধিতা করে এক বাংলা চেয়েছিলেন। আবার কেনইবা ৪৭ সালে খন্ডিত বাংলা চাইলেন? আপনরা ইতিহাস সচেতন হোন। নিজেদের ঐতিহ্য ও বায়া দলিলের খোঁজ নিন। আবার ৭১ এ দিল্লী কেন আমাদের সমর্থন করেছে। আমি জানি আমাদের তরুণ সমাজ এখন বিভ্রান্ত ও ভুল পরিচালিত। বারবার বলে চলেছি দিল্লী বাংলাদেশে একটি খাঁটি বাংগালীর রাষ্ট্র চায় যার ভিতর ইসলাম বা মুসলমানিত্বের কোন ছাপ থাকবেনা। অথবা শুধু নামের মুসলমানের একটি দেশ চায়। যাদের আরবী নাম থাকবে,কিন্তু মুসলমান নয়। যাঁরা শুধুই বাংগালী সংস্কেতির চর্চা করবে যা ভারতীয় বাংগালীরা চর্চা করে। আপনারা কি জানেন, এক সময় অফিসে আদালতে মুসলমানেরা ধুতি পরতো। ১৭৫৭ সালের পর বাংলার মুসলমানের অবস্থা কি হয়েছিল তা জানার জন্যে হান্টারের দ্যা মুসলমান পড়ুন।
এতক্ষন ইতিহাসের পেছনের কথা বলেছি।
তাহলে বাংলাদেশের চলমান সংকটের সাথে ইতিহাসের কি সম্পর্ক আছে? তা হলো ভারত বাংলাদেশে এমন একটি সরকার চায় যা ভারতের স্বার্থে কাজ করবে। যে সরকার অনুগত বন্ধু হিসাবে কাজ করবে। বাংলাদেশকে ভারতের বাজার হিসাবে গড়ে তুলবে। যে মুসলমানিত্বের কারণে তারা পাকিস্তানের অংশ হয়েছিল তা চিরতরে মুছে দিতে হবে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মাধ্যমে। আপনারা কি লক্ষ্য করেছেন মমতা বানার্জির সাথে নাগরিক নামে যারা কথা বলেছেন তাঁরা কারা? এরা বাংলা ও আরবী নামধারী কিছু বাংগালী। এদের কাছে দেশের সার্বভৌমত্ব মানে ভারতের অনুগত বন্ধুত্ব। এদের পাসপোর্টে বাংলাদেশী কথাটা লেখা থাকলেও তা মানেনা।
চলমান সরকার ভারতের সেবা করার ব্যাপরে সবচেয়ে বেশী পরীক্ষিত। ভারতে ৫ বছর থাকা কালে তিনি ওই পরীক্ষায় ডাবল প্লাস পেয়েছেন। ২০০৮ সালে সেনা সমর্থক সরকার এক তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে চলমান সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। ৫ই জানুয়ারীর ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে জোর করে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসিয়েছেন। সেই ভুয়া নির্বাচনের কারণেই চলমান সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনের আগে ২/৩শ মানুষ মারা গেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। আর এখন ২০১৫ সালের ৫ই জানয়ারী থেকে প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে। নির্বাচলের দাবীকে দাবিয়ে রেখে সরকার বলছেন এটা জংগী ও সন্ত্রাসী। মিডিয়া সরকারী বক্তব্যকে উদার ভাবে প্রচার করছে আর বিরোধী দলকে দমন করার জন্যে সরকারকে উত্‍সাহিত করছে। বিদেশী বা জাতিসংঘকে দলে টানার জন্যে সরকার প্রচার করছে বিরোধী দলের আন্দোলন গণতন্ত্রের জন্যে নয়, বাংলাদেশকে জংগী রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্যে।
আমি সময় বলে থাকি, জনগণের ইচ্ছা, আকাংখা ও আগ্রহের বাইরে বা উপরে কোন আইন থাকতে পারেনা। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন এখন জনআকাংখা বিরোধী। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ধ্বংসযজ্ঞ ঘটিয়ে কেয়ার টেকার ব্যবস্থা প্রতিষ্টিত করেছিল। তখনও বহু মানুষ মারা গেছে। আপনরাই প্রশ্ন করুন সে সময়ে আওয়ামী লীগ কেন কেয়ার টেকার সরকার চেয়েছিল? তাঁদের লক্ষ্য কি ছিল ? পরে কেনই বা আওয়ামীগ কেয়ার টেকার ব্যবস্থা বাতিল করলো? এ ব্যপারে আমাদের সাংবাদিক সমাজ ও বুদ্ধিজীবীরা প্রশ্ন তোলেন না। আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে জনআকাংখা বিরোধী কোন আইনই আইন নয়। সমস্যাটা এতই সহজ যে তা সমাধানের জন্যে রাষ্ট্র শক্তি ব্যবহার করে লাভ হবেনা। সবাই এটা বুঝেন। কিন্তু সরকার ও রাষ্ট্র শক্তির ভয়ে এক মঞ্চে এক বাক্যে কথা বলতে পারছেন না।
লেখক: কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
ershadmz@gmail.com

Read Full Post »