Feeds:
Posts
Comments

Archive for April, 2013


মদিনা সনদ : রাজনৈতিক আলোচনার নয়া উপাদান
বহমান এ নষ্ট সময়ে
গোলাপ মুনীর
তারিখ: ২৩ এপ্রিল, ২০১৩
গত ১৩ এপ্রিল গণভবনে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে একপর্যায়ে তিনি বলেন, মদিনা সনদ অনুযায়ী আমাদের দেশ চলবে। এ সম্পর্কিত তার বক্তব্যটি ছিল এরূপ : ‘বাংলাদেশ হবে আলবদর-রাজাকার-যুদ্ধাপরাধীমুক্ত অসাম্প্রদায়িক দেশ। যে দেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে, যা আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ সা: তাঁর মদিনা সনদ ও বিদায় হজের ভাষণেও বলে গেছেন, ঠিক সেভাবেই দেশ চলবে।’
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর মদিনা সনদ সম্পর্কে এ দেশের মানুষের মধ্যে এক ধরনের ঔৎসুক্য সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন জেগেছেÑ কী আছে এই মদিনা সনদে, যে জন্য আজ আমাদের ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী প্রধানমন্ত্রী বলছেন মদিনা সনদ অনুযায়ী আমাদের দেশ চলবে? এরই মধ্যে মদিনা সনদ নিয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখিও শুরু হয়ে গেছে। মনে হয় এ নিয়ে আরো কিছু দিন আলোচনা-সমালোচনা চলবে। আমরা জানি, মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা: মক্কাবাসীদের নির্যাতন আর অত্যাচারে বাধ্য হয়ে ৬২২ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ সেপ্টেম্বর মদিনায় হিজরত করেন। তখন মদিনাকে রাজধানী করে গড়ে তোলেন বিশ্বের প্রথম ইসলামী রাষ্ট্র। এই রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বিধৃত করে হজরত মুহাম্মদ সা: প্রণয়ন করেন মদিনা সনদ। এই মদিনা সনদ মদিনা রাষ্ট্রের সংবিধান হিসেবে ইতিহাসে পরিচিত। এর সংবিধানের আওতায় গঠিত মদিনা নামের রাষ্ট্রে সে সময়ে বসবাসরত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে গোষ্ঠীগত হিংসাবিদ্বেষ ও হানাহানির অবসান ঘটে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে গড়ে ওঠে ভ্রাতৃত্ব আর সৌহার্দ্য। সব সম্প্রদায়ের মানুষ সুযোগ পায় শান্তিময় নিরাপদ জীবনযাপনের। স্বাধীনভাবে ধর্মকর্ম পালনের। হোক সে মুসলমান, ইহুদি, পৌত্তলিক কিংবা ভিন্ন কোনো ধর্মাবলম্বী। মদিনা সনদকে বলা হয় বিশ্বের প্রথম লিখিত রাষ্ট্রীয় সংবিধান, আর তা উপহার দেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা:। আর এই মদিনা সনদের মাধ্যমে সম্ভব হয় বিশ্বের প্রথম কার্যকর একটি ইসলামি রাষ্ট্র গঠন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যখন বলেন, তিনি মদিনা সনদ অনুযায়ী দেশ চালাবেন তখন তাকে মোবারকবাদ জানাতেই হয়। তবে একটি কথা আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে রাখতে চাই, তার সরকার যে মাত্রার ধর্মনিরপেক্ষভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে লিপ্ত সেখানে মদিনা সনদ সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ মদিনা সনদের মৌলভিত্তি হচ্ছে ইসলাম। তাই মদিনা সনদ ইতিহাসে পরিচিত বিশ্বের প্রথম ইসলামি রাষ্ট্রের সংবিধান হিসেবে। গত ১৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর এ সম্পর্কিত বক্তব্য নিয়ে দৈনিক কালের কণ্ঠ যে সংবাদটি প্রকাশ করে, তাতে উইকিপিডিয়া সূত্রে মদিনা সনদের ১৩টি মূল বিষয়বস্তুর কথা উল্লেখ করে। এর প্রথম দু’টি উল্লিখিত হয়েছে এরূপ : ১. সনদপত্রে স্বাক্ষরকারী সম্প্রদায়গুলো ইসলামি রাষ্ট্রের অধীনে একটি সাধারণ জাতি (উম্মাহ) গঠন করবে। ২. হজরত মুহাম্মদ সা: ইসলামি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান থাকবেন। তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, মদিনা সনদ অনুযায়ী যদি বাংলাদেশকে চালাতে হয় তবে বাংলাদেশকে ইসলামি রাষ্ট্রের রূপ দিয়ে ইসলামি মৌলনীতি অনুযায়ী মুসলমান, খ্রিষ্টান, ইহুদি, পৌত্তলিক ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। এমন ব্যবস্থা কায়েম করতে হবে যাতে কেউ কারো ধর্মীয় কাজে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না। ঠিক এ কথাই মদিনা সনদে সুস্পষ্টভাবে উল্লিখিত রয়েছে। একটি দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের যাবতীয় ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করে সমাজে ও রাষ্ট্রীয় জীবনে শান্তি ও সৌহার্দ্য ফিরিয়ে আনার সুপ্রমাণিত বিধান হচ্ছে এই মদিনা সনদ। তবে আবারো বলছি, সেখানে ধর্মকে দূরে সরিয়ে নয় ধর্মকে হাতিয়ার করেই, ধর্মীয় নীতিমালাকে অবলম্বন করেই পথ চলতে হবে। আর মদিনা সনদে অবলম্বিত ধর্মটির নাম ইসলাম।
ইসলাম শব্দটি এসেছে ‘সালামা’ বা ‘সালাম’ থেকে। এর নিহিতার্থ শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যেসব কর্মকাণ্ড ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে মানবজাতির শান্তি ও নিরাপত্তার বিপক্ষে, সেসবই ইসলামবিরোধী। মহানবী মুহাম্মদ সা:-এর মদিনায় হিজরত ইসলামের শান্তি ও নিরাপত্তার বিষয়টি বোঝার এক উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। মদিনা থেকে প্রথম যে ১২ জন মিনায় এসে নবী মুহাম্মদ সা:-এর কাছে ইসলাম গ্রহণ করেন, তাদের কাছে ইসলামকে তুলে ধরে মহানবী সা: বক্তব্য রাখেন। তার এই বক্তব্য ইসলামের ইতিহাসে বিভিন্ন বইয়ে ঠাঁই পেয়েছে। মহানবী এই ১২ জনকে মদিনায় তার প্রতিনিধি মনোনীত করেন। তাদের উদ্দেশে দেয়া মহানবী সা:-এর ভাষণে ছিল সাতটি উপদেশ : ১. সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি বিশ্বস্ত ও অনুগত থাকতে হবে, ২. ইসলাম গ্রহণের পর জীবনে কোনো ধরনের চুরি করা যাবে না, ৩. ব্যভিচার ও অবৈধ যৌনকর্ম ইসলামে স্থান নেই বলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে হবে, ৪. মানুষ হত্যা করা যাবে না, ৫. কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা যাবে না, ৬. কারো বিরুদ্ধে বদনাম রটানো যাবে না এবং ৭. ভালো কাজের অনুশীলন ও খারাপ কাজ বর্জন করতে হবে।
ওপরে উল্লিখিত সাতটি বিষয়ের মধ্যে শুধু প্রথমটি ইসলাম ধর্ম সংশ্লিষ্ট। বাকি ছয়টি মানুষ জীবনের নৈতিক আচরণ সংশ্লিষ্ট। এগুলোর মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষ প্রকৃতির যাবতীয় সামাজিক অপরাধ থেকে মানুষকে বাঁচানো সম্ভব।
মহানবী সা: মদিনায় হিজরত করার পর একটি মসজিদে শুক্রবারে প্রথম ভাষণ দেন। এ ভাষণে তিনি বলেন : ১. সর্বশক্তিমান আল্লাহর ইবাদত করুন, ২. জীবনে আপনাকে সত্যবাদী হতে হবে, ৩. সমাজের সবাইকে ভালোবাসুন, ৪. দেয়া ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতি পালন করুন, ৫. আইনি ও বেআইনি কাজের মধ্যে পার্থক্য করুন এবং ৬. অন্যের সাথে ভালো আচরণ করুন।
লক্ষণীয়, মহানবী সা: মক্কা থেকে অত্যাচারিত ও নির্যাতিত হয়ে মদিনায় হিজরত করেছিলেন। কিন্তু তিনি তার ভাষণে কখনো মক্কাবাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার কথা উচ্চারণ করেননি, বরং তিনি মদিনাবাসীকে বলেছিলেন মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, শান্তি, নিরাপত্তা ও মানবতার বাণী ছড়িয়ে দেয়ার কথা। তা ছাড়া তিনি মদিনা সনদে মদিনাবাসীর জন্য যেসব বিধিবিধান ঘোষণা করেন তাতেও ছিল অহিংস নীতির প্রতিফলন। তখন মদিনায় যেমন ছিলেন মক্কা থেকে আসা মুসলমান, তেমনি ছিলেন স্থানীয় মুসলমান, ইহুদি, খ্রিষ্টান, পৌত্তলিকসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষ। মদিনা রাষ্ট্রের জন্য এই সংবিধান মদিনার সমাজে নিয়ে আসে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ তথা পাত্র থেকে পাত্রান্তরে ক্ষমতা স্থানান্তরের ধারণা (concept of devolution of power), পরবর্তী সময়ে তা-ই হয়ে ওঠে গণতন্ত্রের বাস্তব ভিত। এই মদিনা সনদ বা মদিনা সংবিধান ইতিহাসে প্রথম নিয়ে আসে ভৌগোলিক জাতির ধারণা (idea of geographical nation)। এই সনদ সুযোগ করে দেয় বিভিন্ন সম্প্রদায়কে একই সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে বসবাসের। এই সনদ প্রমাণ করে একই জাতিভুক্ত হয়ে বসবাসকারী নাগরিক সাধারণের মধ্যে স্বতন্ত্র ধর্মবিশ্বাস ও সংস্কৃতি একই সাথে চলতে পারে। এটি উপস্থাপন করে সব সম্প্রদায়ের প্রথাগত আইন ও ধর্মীয় বিধিবিধান একই সাথে কার্যকর থাকতে পারে। এই মদিনা সনদ সূত্রেই উদ্ভব ঘটে আইনের শাসনের। এই মদিনা সনদ নিশ্চিত করে মানবাধিকার, নারীর অধিকার, সামাজিক অধিকার, সাংস্কৃতিক অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার। মদিনা সনদের অনুচ্ছেদগুলোতে রয়েছে এর যথাযথ প্রতিফলন।
মহানবী সা: মদিনার বিভিন্ন গোত্র ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি-নিরাপত্তা-সম্প্রীতি স্থাপন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণয়ন করেন ৪৭ অনুচ্ছেদবিশিষ্ট এই মদিনা সনদ বা সংবিধান। মূল আরবি ভাষায় রচিত এ সনদ পরে ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ হয়েছে। অনুবাদভেদে আমরা এর ধারা বা অনুচ্ছেদ দেখতে পাই ৪৭টি, কিংবা ৫৭টি, কিংবা ৬৩টি। A Guillaume রচিত The Life of Muhammed বইয়ে উল্লিখিত মদিনা সনদে রয়েছে ৪৭টি অনুচ্ছেদ। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, করাচি থেকে প্রকাশিত Ishaq’s Sirat Rasul Allah বইয়ে দেখতে পাই এ সনদের অনুচ্ছেদ সংখ্যা ৪৭টি। Wikisource & Wikipedia থেকে জানা যায় এর অনুচ্ছেদ সংখ্যা ৪৭। কিন্তু Wikisource–এ আমরা মদিনা সনদের একটি বিকল্প অনুবাদ সংস্করণ পাই, যাতে রয়েছে ৫৭টি অনুচ্ছেদ। আবার ড. মোহাম্মদ তাহির-উল কাদরী প্রণীত গ্রন্থ ‘কনস্টিটিউশনাল অ্যানালাইসিস অব দ্য কনস্টিটিউশন অব মদিনা’-এ উল্লেখ রয়েছে মদিনা সনদের ৬৩ অনুচ্ছেদবিশিষ্ট অনুবাদ। ধারণা করা হয় মূল সনদে অনুচ্ছেদ ছিল ৪৭টিই। তবে এর বিভিন্ন অনুবাদক অনুবাদ করার সময় বিষয়বস্তু স্পষ্টতর করার জন্য অনুচ্ছেদ বা দফার সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছেন। সে যাই হোক অনুচ্ছেদ সংখ্যার চেয়ে এর বিষয়বস্তুই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
বিষয়বস্তু বিবেচনায় মদিনা সনদের প্রথম ১০ ধারায় বলা হয়েছে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতকারী মুহাজির, বনু আউফ, বনু সাইদা, বনু হারিস, বনু জুশাম, বনু নাজ্জার, বনু আমর, বনু নাবিত ও বনু আউস আগের মতোই মুসলমানদের মধ্যে প্রচলিত নিয়মনীতি ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে পণের মাধ্যমে বন্দীদের মুক্ত করবে। ১১ থেকে ২০তম ধারায় মুসলমানদের পারস্পরিক সম্পর্কবিষয়ক আইন উল্লিখিত হয়েছে। ২১ থেকে ২৬তম ধারায় হত্যাকারীর শাস্তি, কোনো মুসলমান কোনো অন্যায়কারীকে আশ্রয় দিলে এর শাস্তি, কোনো বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে এর মীমাংসাপদ্ধতি এবং ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক আইন রয়েছে।
২৭ থেকে ৩৬তম ধারায় উল্লিখিত হয়েছে গোত্রের স্বরূপ সম্পর্কিত বিধান। পরবর্তী ধারাগুলোতে যুদ্ধনীতি, নাগরিকদের ক্ষতিপূরণ, নিজ নিজ ব্যয়নির্বাহ, এ সনদে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কেউ যুদ্ধে লিপ্ত হলে তার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া, আশ্রয়দাতা ও আশ্রিতের সম্পর্ক, নারীর আশ্রয়, সনদ গ্রহণকারীদের মধ্যে শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা দেখা দিলে করণীয়, কুরাইশদের ব্যাপারে ব্যবস্থা, মদিনার ওপর অতর্কিত হামলা হলে করণীয় ইত্যাদি সন্নিবেশিত হয়। সবশেষে ৫৭ দফা বিশিষ্ট মদিনা সনদের একটি বাংলা অনুবাদ এখানে উপস্থাপন করা হলো পাঠক সাধারণের সম্যক অবগতির জন্য।
০১. এটি নবী মুহাম্মদ সা: থেকে জারি করা একটি দলিল, যার ভিত্তিতে মুমিন, কুরাইশ ও ইয়াসরিব (মদিনার) গোত্রভুক্ত মুসলমান এবং যারা তাদের অনুসারী কিংবা তাদের সাথে কর্মের বন্ধনে বা লেনদেনে আবদ্ধ, তাদের সবার পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারিত হবে। এরা সবাই মিলে এক জাতিগোষ্ঠী, একটি উন্মাহ হিসেবে বিবেচিত হবে। ০২. কুরাইশ মুহাজিরেরা তাদের প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী রক্তপণ আদায় করতে থাকবে। ০৩. যেকোনো যুদ্ধে যুদ্ধবন্দীদেরকে দয়া ও ইনসাফের রীতিতে ব্যবহার করা হবে, যা মুমিনদের স্বভাবসুলভ (জাহেলি যুগের প্রচলিত সহিংসতা ও শ্রেণীভেদ বর্জনীয়)। ০৪. বনু আউফ (মদিনার একটি গোত্র) তাদের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তাদের মধ্যকার রক্তপণ নির্ধারণ করবে । ০৫. যেকোনো যুদ্ধে, যদিও তা মুসলমান ছাড়া অপর গোত্রগুলোর মধ্যে সংঘটিত হয়, সে ক্ষেত্রেও যুদ্ধবন্দীদের প্রতি দয়ার্দ্র ও ইনসাফের আচরণ করতে হবে, ইসলামপূর্ব রীতিতে নয়। ০৬. বনু সাইদা, বনু হারিস, বনু জুশাম ও বনু নাজ্জারও উপরোল্লিখিত মূলনীতি অনুযায়ী পরিচালিত হবে। ০৭. বনু আমর, বনু আউফ, বনু আন-নাবিত ও বনু আল-আউসও একটি মূলনীতি অনুসরণ করবে। ০৮. বিশ্বাসী মুসলমানেরা তাদের যুদ্ধবন্দীদের মুক্ত করার জন্য মুক্তিপণের ব্যবস্থা করবে। এবং এ দায়িত্ব সামগ্রিকভাবে উম্মাহ বা জাতির সবার ওপর বর্তাবে, শুধু সংশ্লিষ্ট পরিবারের ওপর নয়। ০৯. কোনো মুমিন অপর মুমিনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার আজাদ করা দাসের সাথে মিত্রতা গড়ে তুলবে না। ১০. আল্লাহকে ভয় করে এমন সব মুমিন যেকোনো বিশ্বাসঘাতকদের প্রতিরোধ করবে। সেই সাথে যারাই জুলুম, বেইনসাফি, পাপাচার, দুর্নীতি কিংবা শত্রুতার ইন্ধনদাতা তাদেরকে প্রতিরোধ করবে। ১১. এ ধরনের কাজে জড়িত যে কেউ, এমনকি সে যদি নিজের পুত্র বা স্বজনদের মধ্যেও হয়, তাকেও ছাড় দেয়া হবে না। ১২. কোনো মুমিন অপর কোনো মুমিন ভাইকে হত্যা করবে না কোনো কাফেরের স্বার্থে (এমনকি সে কাফের যদি তার নিকটাত্মীয়ও হয়)। ১৩. কোনো বিশ্বাসী মুমিন কোনো কাফেরকে অপর বিশ্বাসী মুমিনের বিরুদ্ধে সহায়তা করবে না। ১৪. আল্লাহর নামে দেয়া সুরক্ষা সবার জন্যই মান্য ও প্রযোজ্য হবে। মুমিনদের মধ্যে দুর্বলতম কেউ যদি কাউকে সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দেয়, তা সব মুমিনের জন্য অবশ্য পালনীয় হবে। ১৫. গোত্র নির্বিশেষে সব বিশ্বাসী মুমিন পরস্পর বন্ধু হিসেবে বিবেচিত হবে। ১৬. যেসব ইহুদি মুমিনদের মিত্র হবে, তাদেরকে সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে এবং তাদের সমানাধিকার স্বীকৃত হবে (রাষ্ট্রের আনুগত্য স্বীকার সাপেক্ষে এরা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও আইনগত সব অধিকার ভোগ করবে)। ১৭. কোনো ইহুদিকেই ইহুদি হওয়ার কারণে কোনো ধরনের বৈষম্যের শিকার করা হবে না। ১৮. ইহুদিদের শত্রুদের (এমনকি সে যদি বিশ্বাসীদের মিত্রও হয়) সহায়তা করা হবে না। ১৯. মদিনার অধিবাসীদের সাথে আংশিক শান্তিচুক্তি অগ্রহণযোগ্য। অর্থাৎ মদিনার অধিবাসী সবাই একই শত্রুতা বা মিত্রতার অধীনে, আলাদা আলাদাভাবে নয়। ২০. মুমিনেরা যখন আল্লাহর পথে জিহাদে থাকবে, সে যুদ্ধাবস্থায় মদিনার কারো সাথে আলাদা মিত্রতা চুক্তি করা যাবে না। ২১. যুদ্ধ বা শান্তির সময়ের সব শর্তাবলি ও অবস্থাবলি মদিনার সবার ওপর সমভাবে প্রযোজ্য হবে। ২২. যেকোনো যুদ্ধযাত্রায় একজন ঘোড়সওয়ার সহযোদ্ধার সাথে তার বাহন ভাগাভাগি করবে। ২৩. একজন মুমিন আল্লাহর পথে লড়াই রত অপর বিশ্বাসী মুমিনের রক্তের প্রতিশোধ নেবে। ২৪. বিশ্বাসী মুমিনেরা ঈমানের বলে বলীয়ান ও কুফরের বিরুদ্ধে দৃঢ়পদ এবং ফলশ্রুতিতে আল্লাহর দেয়া হেদায়েতের সম্মানে ভূষিত। অপরাপর গোত্রগুলোর এ মর্যাদা অর্জনে অভিলাষী হওয়া উচিত। ২৫. কোনো কাফের মক্কার কুরাইশদের (যুদ্ধলব্ধ) শত্রুসম্পত্তি নিজ আওতায় রাখার অধিকারী নয়। যেকোনো শত্রুসম্পত্তি রাষ্ট্রের হেফাজতে রাখতে হবে। ২৬. কোনো কাফের বা অধিবাসী কুরাইশদের সপক্ষে সুপারিশ করবে না, কেননা কুরাইশরা মদিনা নিবাসীদের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। ২৭. যদি কোনো কাফের কোনো মুমিনকে যথাযথ কারণ ছাড়া হত্যা করে, তবে তাকেও হত্যা করা হবে, যতক্ষণ না তার স্বজনেরা সন্তুষ্ট হয়। সব মুমিন এ ধরনের খুনির বিপক্ষে থাকবে এবং হত্যাকারীকে কখনোই আশ্রয় বা প্রশ্রয় দেবে না। ২৮. কোনো ব্যাপারে পারস্পরিক মতবিরোধের ক্ষেত্রে তা সমাধানের জন্য আল্লাহ ও তার রাসূল সা:-এর কাছে ন্যস্ত করা হবে। ২৯. ইহুদিরাও যেকোনো যুদ্ধে সহযোগিতায় মুমিনদের সাথে সমভাবে অবদান রাখবে। ৩০. বনু আউফ গোত্রের অধীন ইহুদিরা মুমিনদের সাথে একই সমাজের অধীন হিসেবে বিবেচিত হবে। তাদের মুক্ত করে দেয়া গোলামদের জন্যও একই বিধান প্রযোজ্য হবে। যারা অন্যায় ও পাপাচারে লিপ্ত তাদের এবং তাদের পরিবারবর্গের জন্য এ ঘোষণা প্রযোজ্য হবে না। ৩১. বনু নাজ্জার, বনু আল হারিস, বনু সাইদা, বনু জুশাম, বনু আউস সালাবা ও জাফনা এবং বনু শুতাইরা গোত্রের সব ইহুদির জন্য উপরোল্লিখিত ঘোষণা প্রযোজ্য হবে। ৩২. আস্থা ও আনুগত্যই বিশ্বাসঘাতকতার দুর্বলতার প্রতিষেধক। ৩৩. সালাবা গোত্রের মুক্ত করা দাস সালাবা গোত্রের সমান মর্যাদার অধিকারী হবে। এ সমানাধিকার প্রযোজ্য হবে ভারসাম্যপূর্ণ লেনদেন, যথার্থ নাগরিক দায়িত্ব পালন এবং যুদ্ধে অংশ নেয়ায়। ৩৪. যারা ইহুদিদের সাথে মিত্রতা চুক্তিতে আবদ্ধ, তাদের সাথে সে মতেই আচরণ করা হবে। ৩৫. এ চুক্তিনামার অংশীদার কেউ মুহাম্মদ সা:-এর অনুমতি ছাড়া যুদ্ধযাত্রা করতে পারবে না। যেকোনো অন্যায়ের প্রতিবিধান করা হবে। ৩৬. যে কেউ কোনো ধরনের সতর্কবার্তা ছাড়া অন্যায়ভাবে অপরকে হত্যা করলে সে নিজেকে এমনকি নিজের পরিবারবর্গকে হত্যাযোগ্য করে তুলবে। ৩৭. মুসলমান ও ইহুদি উভয়ই তাদের নিজ নিজ যুদ্ধযাত্রার খরচ বহন করবে। ৩৮. বাইরের যেকোনো শত্রুর আক্রমণে উভয়ই একে অপরের নিরাপত্তা বিধানে এগিয়ে আসবে। ৩৯. চুক্তিবদ্ধ সব পক্ষই পারস্পরিক মন্ত্রণা ও পরামর্শ নেবে। ৪০. আস্থা ও আনুগত্যই বিশ্বাসঘাতকতার দুর্বলতার প্রতিষেধক। যারা পারস্পরিক পরামর্শকে অবজ্ঞা করে তারা মূলত আস্থা ও আনুগত্যের সঙ্কটে ভোগে। ৪১. কোনো ব্যক্তি তার মিত্রদের কাজের দায় বহন করবে না। ৪২. কারো প্রতি জুলুম করা হলে তাকে সহায়তা করা সবার অবশ্য কর্তব্য। ৪৩. ইহুদিরা কোনো যুদ্ধে অংশ না নিলেও সে যুদ্ধের খরচ বহন করতে সহায়তা করবে। ৪৪. চুক্তিবদ্ধ সবার জন্য ইয়াসরিব (মদিনা) হবে নিরাপত্তার শহর। ৪৫. কোনো অপরিচিত ব্যক্তি চুক্তিবদ্ধ যে গোত্রের মিত্রতায় আবদ্ধ, তাকে সে গোত্রের একজন হিসেবে বিবেচনা করে তার সাথে আচরণ করা হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে কোনো অন্যায় বা বিশ্বাসঘাতকতা না করেছে। রাষ্ট্রবিরোধী যেকোনো উসকানিমূলক কার্যকলাপ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ৪৬. কোনো নারীকে শুধু তার গোত্রের অনুমতিক্রমেই অপর কেউ নিরাপত্তাধীন করতে পারবে। ৪৭. কোনো ধরনের মতবিরোধ কিংবা মতদ্বৈততার ক্ষেত্রে, যা পারস্পরিক বিবাদের কারণ হতে পারে; তা আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল সা:-এর কাছে সমাধানের জন্য ন্যস্ত করা হবে। তিনি এ দলিলের মধ্যকার যথার্থ কল্যাণকর অংশ অনুসরণ করবেন। ৪৮. কুরাইশ ও তাদের মিত্রদের সাথে কোনো ধরনের নিরাপত্তা চুক্তি নয়। ৪৯. মদিনার ওপর যেকোনো আক্রমণ এই চুক্তিবদ্ধ সবাই সমভাবে প্রতিহত করবে। ৫০. যদি এ চুক্তির মুসলমান ছাড়া অপর পক্ষসমূহ কারো সাথে শান্তিচুক্তিতে আবদ্ধ হয়, তবে তারা তা মেনে চলবে। যদি মুসলমানদেরকেও এ শান্তিচুক্তি মানতে আহ্বান জানানো হয়, তারা তা মেনে চলবে, শুধু এরা যখন আল্লাহর পথে জিহাদে লিপ্ত হয় সে সময় ছাড়া। ৫১. ভালো কিংবা মন্দ প্রত্যেকেই তার নিজস্ব দল বা গোত্রের কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব বহন করবে। গোত্রীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় এর বিকল্প নেই। ৫২. আল আউস গোত্রের ইহুদি এবং তাদের মুক্ত করে দেয়া দাসেরা যত দিন এ চুক্তি মেনে চলবে, তত দিন পর্যন্ত সমানাধিকার ভোগ করবে। ৫৩. আস্থাই বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিষেধক। যে কেউ আস্থার সাথে কাজ করবে, তা তার নিজের জন্যই কল্যাণকর হবে। ৫৪. আল্লাহ এ চুক্তিকে অনুমোদন দিয়েছেন। ৫৫. কোনো অপরাধী বা অন্যায়কারীকে এ চুক্তি নিরাপত্তা দেয় না। ৫৬. এ চুক্তির আওতাধীন যে কেউ, চাই সে যুদ্ধক্ষেত্রে থাকুক কিংবা নিজের ঘরে অবস্থান করুক, সে নিরাপত্তাধীন হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে কোনো অন্যায় অপরাধ সংঘটন করে (ব্যক্তিগত দুর্বলতার কারণে যুদ্ধে অংশ না নিলেও তা শাস্তিযোগ্য হবে না।) এবং ৫৭. আল্লাহ তাদেরকেই রক্ষা করেন যারা সৎ এবং তাকে ভয় করে এবং মুহাম্মদ সা: তার প্রেরিত রাসুল।
এই সনদের প্রতিটি অনুচ্ছেদ মানুষের কল্যাণ, মর্যাদা, শান্তি ও স্থিতিশীলতার অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। এর মাধ্যমে তৎকালীন মদিনায় নানা মত-পথ ও ধর্মানুসারীদের নিয়ে বহুত্ববাদী এক অনন্য জাতি তথা উম্মাহ গঠনে সক্ষম হয়েছিলেন মহানবী সা:। এর মাধ্যমে তিনি অজ্ঞতা আর জাহেলিয়াতকে পদদলিত করে মদিনায় এমন একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলেন, যে রাষ্ট্রে ধর্ম-বর্ণ, সম্প্রদায়-গোত্র নির্বিশেষে মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছিল। আর এ মদিনা সনদের ভিত্তি ছিল ইসলামের মৌলনীতি। এফ. ই পিটার্স মদিনা সনদ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, এই মদিনা সনদের মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ অনেক পক্ষই ইসলাম গ্রহণ করেনি, তবুও মুহাম্মদ সা:কে মেনে নিয়েছিল কমিউনিটি লিডার হিসেবে। এরা মেনে নিয়েছিল নবীর রাজনৈতিক রায়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ আমরা মুসলমান হয়েও নবী-নির্দেশিত ইসলামের কল্যাণ নীতি মেনে নিতে দেখাই সীমাহীন ধৃষ্টতা। জানি না, মুসলমানদের সে দুর্বলতা কাটবে কবে। আমরা কবে নবীর নির্দেশিত মানবতার নীতি-আদর্শের পথে হেঁটে অবসান ঘটাব বিদ্যমান সব হানাহানি আর অমানবিকতার। সবশেষে প্রধানমন্ত্রীকে আবারো ধন্যবাদ জানাতে চাই মদিনা সনদের আলোকে দেশ পরিচালনার কথা ঘোষণা করার জন্য। আশা করব, শুধু কথার কথা না হয়ে যেন সত্যিকার অর্থে বাস্তব রূপ পায় তার এই ঘোষণা
.

__,_._,___


Advertisements

Read Full Post »


মুসলমানের দেশ হলেও রাস্ট্র মুসলমানের নয় / এরশাদ মজুমদার

বাংলাদেশ ইসলামিক রাস্ট্র নয়। কারণ রাস্ট্রটা ইসলামিক বা কোরআনিক বিধি বিধান মোতাবেক চলেনা। এ রাস্ট্রকে মুসলীম রাস্ট্রও বলা যাবেনা। বর্তমানে এখানে যে অবস্থা বিরাজ করছে তাতে মনে ৯০ ভাগ নাগরিক বা মুসলমান মাইনরিটি বা সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে।ভোটের প্রয়োজনে এদেশে মুসলমানরা মেজরিটি। ভোট শেষ হয়ে গেলে মেজরিটির আর কোন প্রয়োজন নেই। তখন মাইনরিটির আইন চলে। রাস্ট্রের কোথাও মেজরিটি মানুষের চিন্তধারার কোন প্রতিফলন নেই। এ দেশের আদালত, জাতীয় সংসদ, মন্ত্রণালয়, সচিবলায়, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়,পরিবার, সংস্কেতি কিছুই ইসলামিক আইনে চলেনা। দেশের সংবিধানে আল্লাহপাকের নাম নেওয়া যাবেনা। বিসমিল্লা্হ থাকতে পারবেনা। বাংলাদেশে ১০০ ভাগ মানুষই ধার্মিক। ৯০ ভাগ মানুষের ধর্ম ইসলাম। বাকি ১০ ভাগ মানুষের ধর্ম হিন্দুত্ব,খৃশ্চিয়ানিটি,বৌদ্ধত্ব । ৯০ ভাগ মানুষের ধর্মের প্রতি ন্যায্য সম্মান দেখাতে গেলেই নাকি সাম্প্রদায়িকতা হয়ে যায়।
ইদানিং বলা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নাকি ধর্ম নেই। ওই চেতনা নাকি শুধুই বাংগালী হওয়ার চেতনা। আর ওই চেতনায় নাকি শুধু বাংগালী ( হিন্দুয়ানী )সংস্কৃতির চেতনা থাকবে। এমন কি অনেকে বলতে শুরু করেছেন,সকল প্রকার পুজাও নাকি সনাতন বাংগালীদের সংস্কৃতি। তাই নতুন শ্লোগান ধর্ম যার যার রাস্ট্র সবার,সংস্কৃতি সবার, পুজা সবার। আমি এবং আমার বাপদাদারা চিরায়ত পহেলা বৈশাখের উত্‍সব দেখে এসেছি। হিন্দু মুসলমান সবাই মিলেই বাংলা নববর্ষ পালন করেছি। বাঘ ভাল্লুক পশু পাখি দানব মানবের মুর্তি নিয়ে কোন মিছিল বাল্যকালে দেখিনি। এমন কি বৃটিশ আমলেও ছিলনা। এখনতো রবীন্দ্রনাথের গাণ ছাড়া কোথাও পহেলা বৈশাখ হয়না।ভাবখানা এমন যে কবিগুরু ছাড়া আর কেউ পহেলা বৈশাখের গাণ রচনা করেননি। বাংলাদেশের অস্তিত্ব বিরোধী এই বৈশাখীওয়ালাদের কাছে জাতীয় কবি নজরুলের কোন দামই নেই। কবিগুরু যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধী ছিলেন সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ধরতে গেলে জাতীয় কবি নজরুলকে পড়ানোই হয়না। এ ব্যাপারে কোন সরকারের ভিতর তেমন কোন ফারাক নেই। আমার বিশ্বাস ছিল সেক্যুলার বা ধর্মহীন রাজনীতির বিপক্ষে যারাঁ অবস্থান করছেন তাঁরা বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য কি হবে সে ব্যাপারে একটা জাতীয় নীতি তৈরি হবে। না, হয়নি,কারণ জাতীয়তাবাদী ইসলামী চিন্তা চেতনার রাজনীতিকরা এসব নিয়ে ভাবেন বলে মনে হয়না। নতুন জাতের পহেলা বৈশাখ পালনের জন্যে টাকা পয়সা ভুতে জোগাড় করে। ওই ভুত খুব ভালো করে বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মুসলমানের কাঁধে চেপে বসেছে। ওই ভুতেরা হয়ত নজরুলের নাম নিলে টাকা পয়সা ঢালবেনা।
আমিতো অতি কাছে থেকেই মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি। তখন এমন চেতনার কথা শুনিনি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে অনেকেই নিয়মিত নামাজ রোজা করেছেন। কোথাও কোন বাধা ছিলনা। তখন চেতনা একটাই ছিল আর তা হলো বাংলাদেশকে স্বাধীন হতেই হবে। সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ করেছেন বাংগালী সৈনিক,বিডিআর,পুলিশ, আনসার,ছাত্র,কৃষক শ্রমিক। এর সংখ্যা দুই আড়াই লাখের বেশী নয়। রাজনৈতিক নেতা,মুজিব নগরের মন্ত্রীরা দিল্লী সরকার ও ভারতীয় সেনা কমান্ডের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। কবি শিল্পী,সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীরা রেডিওতে কাজ করেছেন। অনেকেই প্রচারের কাজ করেছেন। প্রত্যেকেই কিছু না কিছু ভাতা পেয়েছেন। শুনতে যদিও ভাল লাগেনা তবুও পরিবেশ পরিস্থিতি বাধ্য করছে বলতে। তাহলো সশস্ত্র যুদ্ধে যাঁরা অংশ গ্রহণ করেছেন তাঁদের ৯৫ ভাগ ছিলেন মুসলমান। এর একমাত্র কারণ,দেশের লোক সংখ্যার ৯০ ভাগই হচ্ছে মুসলমান। সুতরাং মুক্তিযুদ্ধে স্বাভাবিক ভাবেই তাঁদের অবদান বেশী। তখন হিন্দু আর মুসলমান বিষয়টা নিয়ে আমরা কখনই কিছু ভাবিনি। আমরা সবাই ছিলাম এক। এখন আমরা বিভক্ত হয়ে গেছি। আওয়ামী লীগ ও একই ঘরাণার লোকজন বলছেন,মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অসাম্প্রদায়িক( মানে আমাদের একমাত্র পরিচয় হবে আমরা শুধুই বাংগালী । কারণ, আমরা শুধুই বাংগালী হলে ভারত খুশী হয়। খাঁটি বাংগালীয়ানার ভিতর ধর্ম থাকবে কেন।
পাকিস্তানী শাসকদেরও বিরাট ভুল ছিল। তারা আলোচনার পথ পরিহার করে শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছিল। পাকিস্তানী সামরিক জান্তার হিসাবটা ছিল একেবারেই ভুল। সামরিক শক্তি প্রয়োগ করলে ভারতের প্রতিক্রিয়া কি হতে পারে তা একেবারেই হিসাবে রাখেনি। সে সময়ে জুলফিকার আলী ভুট্টো দুই প্রধানমন্ত্রীর ফরমুলা দিয়ে মনোজগতে পাকিস্তানকে ভেংগে দিয়েছিল। বংগবন্ধুতো শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত আলোচনা চালিয়ে গেছেন। কিন্তি সামরিক জান্তা বংগবন্ধুর সাথে বেঈমানী করেছে,বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ২৫শে মার্চ রাতে যে,সামরিক জান্তা আক্রমনের সব প্রস্তুতি তৈরি করে রেখেছিল সেটা বংগবন্ধু বিশ্বাস করতে পারেননি। পাকিস্তানীদের সাথে আমাদের বিরোধ ছিল অর্থনৈতিক। অর্থনৈতিক শোষণ ও বৈষম্য এত বেড়ে গিয়েছিল যে তা রোধ করার জন্যে বংগবন্ধু ছয় দফা দিয়েছিলেন। ছয় দফা মুলতা পাকিস্তানকে কনফেডারেশন করার প্রস্তাব ছিল। তাই বংগবন্ধু গ্রেফতার হওয়ার পুর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত স্বাধীনতার কোন ঘোষণা দেননি। মুক্তিযুদ্ধের ডাকও দেননি। তাঁর হয়ত বিশ্বাস ও আস্থা ছিল পাকিস্তানীরা আলোচনার পথ বন্ধ করবেনা।

৭ই মার্চের ভাষণে তিনি বলেছিলেন,এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম,এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। তিনি আরও বলেছেন,ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। যার যা আছে তা নিয়ে প্রস্তুত থাক। এই ঘোষণা নিয়ে এখন গবেষণা চলছে। বিশ্লেষন চলছে। কেউ বলছেন, এটাই স্বাধীনতার ঘোষণা। তাই প্রশ্ন উঠেছে, ২৪শে মার্চের সন্ধ্যা পর্যন্ত জেনারেল ইয়াহিয়ার সাথে তিনি কি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। যদি ৭ই মার্চের ভাষণই স্বাধীনতার ঘোষণা হয়ে থাকে,২৫শে মার্চ রাতে তিনি গ্রেফতার বরণ করলেন কেন? তাজউদ্দিন সাহেব ও একে খান্দকারতো স্পষ্ট করেই বলেছেন,বংগবন্ধু স্বাধীনতার কোন ঘোষনা দেননি। স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে আওয়ামী লীগ যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে তা বংগবন্ধু জীবিত থাকা কালে ছিলনা। জেনারেক ইয়াহিয়ার সাথে কি আলোচনা হয়েছে, বা ২৫শে মার্চ বিকেল পর্যন্ত বংগবন্ধু অধীর আগ্রহে কোন সংবাদ পাওয়ার জন্যে অপেক্ষা করেছিলেন। এ বিষয়ে ড.কামাল সবই জানেন। কিন্তু কোন এক অজানা কারণে তিনি জাতির কাছে সত্য গোপন করে রেখেছেন।আলোচনার ফলাফল কামাল সাহেব সবই জানেন।
৭২ সালের ১০ই জানুয়ারীর রেসকোর্স ময়দানের ভাষণে বংগবন্ধু সুষ্পস্ট ভাষায় বলেছিলেন, আমি বাংগালী , আমি মুসলমান।স্বাধীন বাংলাদেশে পা রেখে প্রথমেই তিনি বলেছিলেন,তিনি বাংগালী ও মুসলমান। তিনি কোন ধরনের অস্পষ্টতা না রেখে সুস্পষ্ট করে বলে দিয়েছিলেন বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের মৌলিক পরিচয় কি হবে। আমরা বাংগালী মুসলমান এ ব্যাপারে কারো কোন দ্বিমত নেই। বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিই আমাদের মৌলিক পরিচয়ে বিতর্ক ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে ছলেছে। এজন্যে ভারত শত শত কোটি টাকা খরচ করে চলেছে। এ বিষয়ে আমি এর আগেও বহুবার লিখেছি। আমি বলবো,আওয়ামী লীগের মূল শক্তি সাধারন সমর্থক ও ভোটাররা এ ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অবগত নয়। তাঁরা অন্ধ ভাবে দলকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে, প্রয়োজনে জীবন দিচ্ছে। প্রশ্ন উঠতে পারে বংগবন্ধুর কন্যা দলের নেত্রী এ ব্যাপারে অবগত আছেন কিনা? আমি বলবো তিনি অসহায়। তিনি এমন একটি অদৃশ্য জালে আঁটকা পড়ে গেছেন যেখান থেকে হয়ত আর কোনদিন বেরিয়ে আসতে পারবে না। হয়ত কেউ তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করছে। হয়ত কেউ বলছে, আমাদের সাথে থাকুন,আমাদের কথা শুনুন, না হয় আপনার বাবার অবস্থা হবে। তাঁদের সাফ কথা দেশটা আমরা স্বাধীন করে দিয়েছি,আমাদের কথা শুনতে হবেই। আর তাঁদের কথার মানে হলো ইসলামকে গৃহধর্ম হিসাবে গৃহের ভিতরে নিয়ে যাও। শ্লোগান দাও ‘ধর্ম যার যার ,রাস্ট্র সবার। সেক্যুলার হও, ধর্মহীন রাস্ট্র বানাও। তাহলে দেখবে ৫০ বছরের ভিতরে দেশটা কি সুন্দর আধুনিক হয়ে গেছে। ধর্ম নিয়ে কোন বাড়াবাড়ি থাকবেনা। একজন তরুণ ব্লগারতো বলেই ফেলেছেন তিনি বা তাঁরা ক্ষমতায় গেলেই দেশের মসজিদ গুলোকে টয়লেট বানাবেন। তাহলে দেশের ৯০ ভাগ মুসলমানদের অবস্থা কি তা নিশ্চয়ই সকলে বুঝতে পারছেন
একটা কথা সবার জানা দরকার, তা হলো বাংলাদেশের কোন কিছুই আজ মুসলমানদের কথা মতো চলেনা। এদেশের আদালত চলে বৃটিশ আইন মোতাবেক। সরকারী প্রশাসন ব্যবস্থা চলছে বৃটিশদের রেখে যাওয়া নিয়মানুসারে। নামাজ রোজা না করে, এক অক্ষর কোরআন না জেনেও বাংলাদেশের রাস্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি হওয়া যায়। এদেশের সংবিধানে মানুষকেই সার্বভৌম বলা হয়েছে। যদিও ইসলামে আল্লাহপাকের শরীকানাকে নিষিদ্ধ করে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। সোজা কথায় বলতে হবে বাংলাদেশের সংবিধানে আল্লাহর সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করা হয়েছে। সংসদে যদি আপনি আল্লাহর সার্বভৌমত্ব মেনে নিয়ে কোন বক্তব্য রাখেন তাহলে আপনার বিরুদ্ধে রাস্ট্রদ্রোহিতার মামলা হতে পারে। এদেশের আদালতে ইসলামী অনুশাসনের বিরুদ্ধে রায় দিতে পারে। বাংলাদেশের সংবিধানে সরাসরি আল্লাহপাকের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা হয়েছে। মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্যে নামকা ওয়াস্তে রাস্ট্রধর্ম ইসলাম রাখা হয়েছে। এইতো ক’দিন আগে আইনমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ডাহা মিথ্যা বলে দেশের মানুষকে জানিয়েছেন বর্তমান সরকার কোরআন ও সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন বানাবেনা।আমাদের আইনমন্ত্রী একজন সজ্জন ব্যক্তি। বিদ্যা বুদ্ধিও কম নয়। রাজনৈতিক চিন্তা চেতনায় তিনি একজন বাম ঘরাণার লোক। নিজের চিন্তা চেতনাকে বাস্তবায়নের জন্যে তিনি আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার ছাতার নীচে আস্রয় নিয়েছেন। সংবিধান থেকে তাঁরা বিছমিল্লাহ শব্দটি ফেলে দিয়েছেন। আল্লাহর নাম বাদ দিয়েছেন। তারপরেও বলে চলেছেন কোরআন সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন পাশ করবেন না। এ ধরনের ব্যবহারকে আপনারা কি বলে অভিহিত করবেন। ক’দিন আগে হঠাত্‍ করে প্রধানমন্ত্রী বলে বসলেন তিনি মদীনা সনদের ভিত্তিতে দেশ চালবেন। জানিনা, কেন তিনি হঠাত্‍ করে এমন কথা বললেন। বিতর্ক তৈরি করার জন্যে যদি বলে থাকেন তাহলে তিনি সফল হয়েছেন। ইতোমধ্যে মদীনা সনদ নিয়ে অনেক কথা হয়ে গেছে। তিনিও এ ব্যাপারে এখন একেবারেই চুপ। হয়ত বুঝতে পেরেছেন,তাঁকে হিতাকাংখীরা ভুল বুঝিয়েছেন। জাতীয় সংসদের সম্মানিত সদস্য মুক্তাদীর চৌধুরী সা্হেব মদীনা সনদ নিয়ে একটি বিশ পাতার একটি পুস্তিকা রচনা করেছেন। পুস্তিকাটি প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। মদীনা সনদ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মূল্যবান বাণী শোনার পর পুস্তিকাটি আমি কিনেছি খুবই আগ্রহ সহকারে। কিন্তু এটি আমার কোন কাজে লাগেনি। কারণ ওই পুস্তিকায় মদীনা সনদ নেই, আছে এমপি সাহেবের ব্যাখ্যা। তিনি যেহেতু আওয়ামী লীগের এমপি সেহেতু তাঁকে তাঁর দলের দৃষ্টিভংগী থেকে সনদের ব্যাখ্যা করেছেন।
আমি আমার এর আগের লিখেছি, মদীনা সনদের শুরুতেই লিখা রয়েছে,বিসমিল্লাহীর রাহমানীর রাহীম। তারপরে লিখা রয়েছে,এই চুক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের(সা) পক্ষ থেকে জারী করা হলো। চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে চুক্তি নিয়ে কোন মতভেদ দেখা দিলে ফায়সালা করবেন আল্লাহ ও তাঁর রাসুল(সা)। এবং সেই ফায়সালাই চুড়ান্ত ফায়সালা বলে গণ্য হবে। চলমান আওয়ামী লীগ সরকার মদীনা সনদের কিছুই মানেনা। মুক্তাদীর সাহেব চেয়েছেন বুঝাতে যে মদীনা সনদ একটি সেক্যুলার সনদ। তাঁর অবস্থা দেখে আমার হজরত মুসার(আ)উম্মতদের কথা মনে পড়ে গেছে। তারা তাওরাতের আয়াত গুলোকে বিকৃত করতো ও নিজেদের সুবিধা মতো বদলিয়ে ফেলতো। যে সব আয়াত তাদের পছন্দ হতোনা সে গুলো লুকিয়ে ফেলতো। নিজেদের সুবিধা মতো তাওরাতের ব্যাখ্যা করতো। এজন্যেই আল্লাহপাক তাদের অভিশাপ দিয়েছেন। যদি তাওরাত বা ইঞ্জিলকে বিকৃত না করা হতো তাহলে আল্লাহপাক শেষ কিতাব আল কোরআন, শেষ ধর্ম ইসলামকে মনোনীত করতেন না। আল্লাহপাক মানব জাতির জন্যেই শেষ রাসুল ও নবী মুহম্মদকে মনোনীত করেছেন এবং বলেছেন মুহম্মদই(সা) শেষ রাসুল ও নবী। রাসুলের(সা) জামানাতেও কিছু মানুষ লোক দেখানো ইসলাম গ্রহন করেছিলো। কিন্তু এরা ছিলো মোনাফেক। এদের অন্তরে ছিল রোগ। গোপনে এরা রাসুল(সা) ও ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতো। আমাদের সমাজে ওই ধরনের মানুষ এখনও আছে। এদের নাম আরবী,সমাজে পরিচিত মুসলমান হিসাবে। এরা শিক্ষিত, মানে ইংরেজী শিক্ষিত। এরা প্রভাবশালী। এদের অনেকেই রাস্ট্র চালায়,বিচার করে ও সংসদ সদস্য হন। কিন্তু এরা সুরা মাউনে বর্ণিত নামাজীদের মতো।
স্বাধীনতার পর থেকেই বিগত ৪২ বছরে এদেশটি শাসিত হয়েছে তথাকথিত সেক্যুলার সংবিধান দ্বারা। ব্যক্তি হিসাবে জিয়া সাহেব ছিলেন ধার্মিক। তিনিই সংবিধানে আল্লাহর নাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিসমিল্লাহ সংযোজন করেছিলেন। কিন্তু পুরো রাস্ট্র ব্যবস্থা ঝুঁকে ছিল সেক্যুলারিজম বা ধর্মহীনতার দিকে। সচীব,বিচারক, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং সমাজের গুরুত্পূর্ণ ব্যক্তিদের ধর্ম চেতনার কোন প্রয়োজন ছিলনা। স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় গুলো ছিল বা এখনও আছে ছাত্রদের ধর্মের প্রতি বিরাগ সৃষ্টির জন্যে। এমন বহু শিক্ষক ছিলেন যাঁরা প্রকাশ্যে নিজেদের ধর্মহীন বলে প্রচার করতেন। অনেকেই ধর্মের বিরুদ্ধে বই লিখেছেন। অনেকেই বলে বেড়াতেন ধর্ম বিজ্ঞান ও প্রগতিশীলতার বিরুদ্ধে। এরা মুক্ত চিন্তার নামে নিয়মিত ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলতো। সবাই নিজ স্কুল অব থটস তৈরি করার চেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন। জেনারেল এরশাদও রাজনীতি ও ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ি করার স্বার্থে ইসলামকে রাস্ট্রধর্ম করেছিলেন। শুক্রবারকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন ঘোষণা করেছিলেন। শেখ হাসিনা ধর্মের বিরুদ্ধে যেভাবে উথে পড়ে লেগেছেন বংগবন্ধু কখনই এমন কিছু করেননি।
লেখক: কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
http://www.humannewspaper.wordpress.com

Read Full Post »


ক’দিন আগে দেখলাম আল কোরআনের ব্যাখ্যা দেয়ার জন্যে ইটিভিতে হাজির হয়েছিলেন মাওলানা হাবিব উল্লাহ সাহেবের ভাতিজা শাহরিয়ার কবীর। শাহরিয়ার সমাজে পরিচিত একজন সেক্যুলার বুদ্ধিজীবী হিসাবে। এখন তিনি কোরআনের ও ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। সেদিন টিভিতে দেখলাম ব্যারিষ্টার তানিয়া আমীর, মানে ব্যারিষ্টার আমীরুল ইসলাম সাহেবের সুযোগ্যা কন্যা মদিনা সনদের ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। এখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলছেন তিনি মদীনা সনদ মোতাবেক চলবেন। ফেসবুকেও দেখলাম এক সৈয়দ সাহেব মদীনা সনদের ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। দেখে ও শুনে খুব ভাল লাগছে যে,১৪৫০ বছর আগের মদীনা সনদ নিয়ে সেক্যুলার(ধর্মহীন) মহল ও আওয়ামী লীগ মহল কথা বলতে শুরু করেছেন। কিতাবী ইহুদীরাও নিজেদের কিতাব তাওরাতকে খেয়াল খুশী মতো ব্যাখ্যা করতো। কখনও কখনও মুল আয়াতও বাদ দিয়ে দিতো। তারা ইসা নবী(আ) ও তাঁর মায়ের নামে কুত্‍সা রটনা করতো। এজন্যে আল্লাহপাক তাদের লানত দিয়েছেন। ইসা নবীর(আ)অনুসারীরাও তাঁকে খোদার পুত্র বলে প্রচার করতো। কিন্তু আল কোরআন হজরত মুসা ও হজরত ইসাকে আল্লাহপাকের সম্মানিত নবী হিসাবে ঘোষণা করেছেন। সকল নবী ও রাসুলকে মান্য করা সম্মান করা মুসলমানদের জন্যে বাধ্যতামুলক।
আলেম ওলামাদের জোট হেফাজতে ইসলাম ১৩দফা দাবী পেশ করার পর সরকারী দল ও বুদ্ধিজীবীরা সবাই হৈ হৈ করে তেড়ে আসলেন। বললেন ১৩ দফা মধ্যযুগীয়। কেউ বললেন সরকার পরীক্ষা দেখছেন। সরকার কিছু হুজুরকে দিয়েও ১৩ দফা নিয়ে কথা বলিয়েছেন। অনেকে বলেছেন,১৩ দফা কোরআন সুন্নাহ বিরোধী। হেফাজত সংবাদ সম্মেলন ডেকে ১৩ দফা ব্যাখ্যা করেছেন। কিন্তু চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী। সরকারী দলের প্রোপাগান্ডা এখনও চলছে। ১৩ দফাকে কাউন্টার করার জন্যে প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলে উঠলেন দেশ চলবে মদিনা সনদ মোতাবেক। প্রধানমন্ত্রী নিজে মদিনা সনদ পড়েছেন কিনা আমার সন্দেহ হয়। অথবা মোনাফেক ধরনের কোন লোক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্যে প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে মদিনা সনদের কথা বলিয়েছেন। সরকারী দলের সেক্যুলার নেতারা বগল বাজাচ্ছেন মদিনা সনদ নিয়ে। তাঁদের সকলের ধারনা মদিনা সনদের মাধ্যমে আল্লাহর রাসুল(সা) ধর্ম নিরপেক্ষ রাস্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন।সত্যি কতা বলতে কি ,আওয়ামী লীগ দোটানায় পড়েছে কোন দিকে যাবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে।শেখ হাসিনা নিজেকে ধর্ম নিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সিক্ত মনে করেন। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ কখনই সেক্যুলার বা ধর্মহীন ছিলেন না একথা প্রধানমন্ত্রী ভালো করেই জানেন। ইতোমধ্যেই কেউ কেউ বলেছেন প্রধানমন্ত্রী দুই নৌকায় পা রেখেছেন। এইতো ক’দিন আগে বলেছেন শাহবাগ বন্ধ করে দিতে হবে। তাই হেফাজতকে লংমার্চ ও সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছিলেন।পরে কেউ হয়ত তাঁকে বুঝিয়েছেন,অনুমতি দেয়া ঠিক হয়নি। সাথে হোম মিনিস্টারকে বলে দিলেন বাধা দিতে। শাহবাগ ও সাংস্কৃতিক জোটকে বলে দিলেন হরতাল দিতে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হলোনা। শত বাধা উপেক্ষ করেই হেফাজত লংমার্চ ও সমাবেশ করলো কয়েক লাখ নিয়ে। চারিদিকে হৈ চৈ পড়ে গেল। প্রধানমন্ত্রী ও একটু নড়ে চড়ে বসলেন। তাই কিছুক্ষণ শাহবাগের পক্ষে, আবার কিছুক্ষণ ধর্মীয় চেতনার পক্ষে চলে আসা যাওয়া করছেন। নির্বচনের জন্যে ষকল ফার্মুলা প্রত্যাখ্যান করে হঠাত্‍ করে দিলেন তিনি মদিনার সনদ মোতাবেক দেশ চালাবেন। তিনি হয়ত এর মাধ্যমে তাঁর সেক্যুলারিজম(ধর্মহীনতা)ও ধর্ম মনস্কতা দুই রক্ষা করতে পারবেন। তিনি জানেন না যে এ ধরনের মতিগতি ভাল না।
যাঁরা সব সময় ইসলাম বা ইসলামী রাজনীতি নিয়ে কথা বলেন তাঁরাও রাজনীতির ব্যবসা করেন। আমার কাছে ভোটের রাজনীতিও এক ধরনের ব্যবসা। এক সময় দেখতাম যাঁরা রাজনীতি করেন তাঁদের পেশা থাকতো। মানে সংসার চালাবার মতো আয় রোজগার থাকতো। এখন রাজনীতিবিদদের আয় রোজগারের কোন কিছু জানা যায়না। আয়কর দেন কিনা তাও জানা যায়না। অনেকেই বলেন পেশা রাজনীতি। রাজনীতি থেকে কিভাবে আয় হয় তা বোধগম্য নয়। তবে লোকমুখে শুনি রাজনীতিকরা বা এমপি সাহেবানরা তদবীর করে আয় রোজগার ভালই করেন। একবার এমপি হতে পারলে নাকি সারা জীবন বসে বসে খাওয়া যায়। যাক, প্রসংগ এসে গেল বলে কথা গুলো বললাম। কথা শুরু করেছি মদীনা সনদের রাজনীতি নিয়ে। প্রধানমন্ত্রী হঠাত্‍ মদীনা সনদের কথা বললেন কেন। তাঁর সমর্থকরাও বিভ্রান্ত। সেক্যুলার ও হিন্দু সমর্থকরাতো মহা চিন্তায় পড়ে গেছেন। সবাই ভাবছেন, হেফাজতের ১৩ দফার প্রভাবেই কি প্রধানমন্ত্রী সাহেবা মদীনা সনদের কথা বলছেন। দলের অনেকেই বলছেন,আমাদের নেত্রী কত কথা বলেন। এমনিতেই তিনি একটু বেশী কথা বলেন। হয়ত তিনি কারো কাছে শুনেছেন,মদীনা সনদের ভিতর সেক্যুলারিজম(ধর্মীহীনতা) আছে বা তথকথিত ধর্মনিরপেক্ষতা আছে। তাই চট জলদি করে বলে ফেলেছেন তিনি মদীনা সনদের ভিত্তিতে দেশ চালাবেন। কেউ আবার প্রধানমন্ত্রীর কথা এক শব্দও বিশ্বাস করেননি। শুনা যাচ্ছে ,প্রধানমন্ত্রী বলার পর আওয়ামী ঘরাণার বুদ্ধিজীবীরা সবাই পবিত্র কোরআনের বাংলা তরজমা পড়তে শুরু করেছেন। কিতাব নিয়ে টকশোতে হাজিরা দিচ্ছেন।
মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করবো যত তাড়াতাড়ি পারেন মদীনা সনদটি পড়ে নিন। এই সনদটি সব ভাষাতেই পাওয়া যায়।এতে আপনার উপকার হবে। ইহুদীরা সব সময় নিজেদের ধর্মগ্রন্থ তাওরাতের ভুল ব্যাখা করতো। কোন কোন ক্ষেত্রে আয়াত বদলে দিতো। এর ফলে মুল তাওরাত এখন আর পাওয়া যায়না। ঈসানবীর(আ) অনুসারীরাও মিথ্যা প্রচার করতো। বলতো ঈসানবী(আ) আল্লাহর পুত্র। তারা ত্রিত্ববাদ প্রচার করতো। আর জগতের সর্বশেষ আল্লাহর কিতাব আল কোরআন বলেছে, ইহুদী ও নাসারাদের দাবী মিথ্যা। উল্লেখ্য যে, আল্লাহপাক জগতে চারটি কিতাব ও একশ’টি সহিফা বা ক্ষুদ্র কিতাব বা চটি বই পাঠিয়েছেন মানব জাতির জীবন নীতি হিসাবে। প্রধান চারটি কিতাব হচ্ছে ,দাউদ(আ)এর জবুর, মুসানবী(আ)এর তাওরাত, ঈসানবীর(আ) এর ইঞ্জিল ও ইমামুল মোরসালীন হজরত মুহম্মদ(সা)এর আল কোরআন। আল্লাহপাক বলেছেন,মুহম্মদ(সা) হচ্ছেন সর্বশেষ নবীও রাসুল। তাঁরপরে আর কোন নবী রাসুল আসবেন না। আর আল কোরআন হচ্ছে সর্বশেষ পূর্ণাংগ ধর্মগ্রন্থ। আর কোন ধর্মগ্রন্থের প্রয়োজন হবেনা। ইসলামই একমাত্র পুর্ণাংগ ধর্ম। ইসলামের আগমনের সাথে সাথে অতীতের সকল ধর্ম ও মতবাদ স্থগিত হয়ে গেছে। এর মানে নতুন কিতাবের আগমনের সাথে সাথে পুরাণো কিতাবের কার্যকারিতা আল্লাহপাক আর বহাল রাখেন না। জগতের শেষদিন পর্যন্ত শুধু ইসলাম ও আল কোরআন জারী থাকবে। আর রাসুল থাকবেন মুহম্মদ(সা)। এর কোন ব্যতিক্রম আল্লাহপাকের নিকট গ্রহনযোগ্য হবেনা। আল্লাহপাক নিজেই বলেছেন, আল কোরআনের হেফাজত তিনি নিজেই করবেন। ১৪৫০ বছর ধরে একই আল কোরআন মানুষের হৃদয়ে জারী রয়েছে। এর বিকৃতির জন্যে মোনাফেক ও কাফেরগণ বার বার চেষ্টা করেছে। কিন্তু তারা সফল হয়নি।
মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী,বাংলাদেশ ধর্মীয়ভাবে এক বিরাট ফেতনার সম্মুখীন। আল্লাহপাক বলেন ফেতনা সবচেয়ে খারাপ জিনিষ। ফেতনাই অতীতে বহু জাতিকে ধ্বংস করেছে। রাজনৈতিকভাবেও বাংলাদেশ আজ ভাল নেই। জাতির এমন একটি কঠিন সময়ে আপনি হঠাত্‍ করে ঘোষণা দিলেন,দেশ চলবে মদীনা সনদ অনুযায়ী। এ ঘোষণা সবাইকে অবাক করেছে। যেখানে আপনি বাংলাদেশের সংবিধান থেকে আল্লাহর নাম ,বিসমিল্লাহ মুছে দিচ্ছেন সেখানে কিভাবে মদীনা সনদ বাস্তবায়িত হবে। মদীনা সনদের শুরুতেইতো লেখা রয়েছে,বিসমিল্লাহীর রাহমানীর রাহীম। যে কোন মুসলমানের জন্যে এই আয়াত পাঠ করা অপরিহার্য। বিসমিল্লা্ নিয়ে এর আগেও আপনি বিতর্ক তৈরি করেছেন। আপনি এবং আপনার আল্লাহু আকবার বলতে চান না। আপনারা বলেন,আল্লা্হ সর্বশক্তিমান। অথচ সারা বিশ্বের মসজিদ থেকে প্রতিদিন কোটি কোটি বার আল্লাহু আকবার ধ্বনিত হচ্ছে। পবিত্র আল কোরআনে বার বার বহুবার বলা হয়েছে সমস্ত সৃষ্টির উপর আল্লাহপাকের সার্বভৌমত্ব কায়েম রয়েছে। তিনি এই জগতের সৃষ্টিকর্তা,তিনিই এর লালন পালন করেন। তিনিই আমাদের সৃষ্টি করেছেন,তিনিই আমাদের রব ও প্রতিপালক। অবাক ও বিস্ময়ের সীমা নেই যে, আমাদের সংবিধানে আল্লাহর সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করে মানুষের সার্বভৌমত্বের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এর মানে আমাদের কোন ঈমান নেই। আমাদের এই বাংলাদেশে আল্লাহর অস্তিত্ব শুধু আমাদের হৃদয়ে এবং মসজিদের চৌহদ্দিতে। এমতাবস্থায় আপনি হঠাত্‍ ঘোষণা দিলেন বাংলাদেশ চলবে মদীনা সনদের ভিত্তিতে। আপনি কি জানেন? মদীনা সনদ জারী হয়েছিল আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের(সা) পক্ষ থেকে। এই চুক্তি বা সনদ ছিল মদীনার মুসলমান ও অমুসলমানদের ভিতর। যখন এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় তখন মদীনার জনসংখ্যা ছিল পাঁচ হাজার। মুসলমান ছিল মাত্র পাঁচশ’।আর মুসলমানরাই ছিলেন চুক্তির কেন্দ্রীয় উপাদান। চুক্তির শুরুতেই বলা হয়েছে,
‘ কুরাইশ এবং ইয়াসরেব মুমিন এবং মুসলমান এবং যারা তাদের অনুসরণ করে এবং যারা তাদের অনুগামী হয় আর যারা তাদের সংগে জেহাদে অংস নেয়(তাদের সকলের মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয়ের জন্যে)’
‘মদীনা রাস্ট্রের কেন্দ্রীয় উপাদান হিসাবে উল্লেখ হয়েছে মক্কা থেকে আগত ও মদীনার মুমিনগণ। বাদ বাকিরা তাদের অনুসারী হিসাবে নাগরিকত্ব লাভ করবে। ইহুদী গোত্রগুলো চুক্তির অংসীদার করে “মুমিনদের সংগে” শব্দ প্রয়োগ করে রাজনৈতিক ভাবে একই উম্মাতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে(ধারা ২৫ থেকে ৩৫ পর্যন্ত)। মদীনা সনদে মোট ৪৭টি ধারা রয়েছে। ধারা ২৩ এ উল্লেখ করা হয়েছে যে,যখন কোন বিষয়ে মতভেদ দেখা দিবে তখন আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসুলের(সা) এর কাছ থেকে ফায়সালা নিতে হবে। বিচারে মজলুমের অধিকারকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। জানিনা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কি কারণে আপনি বাংলাদেশের চলমান সমস্যা সমাধানে মদীনা সনদকে সামনে নিয়ে এলেন। বাংলাদেশের ১৫ কোটি আজ মাইনরিটি বা সংখ্যালঘু হিসাবে জীবন যাপন করছে। সর্বদিক থেকে তাদের অধিকার সংকুচিত হয়ে আসছে। ঠিক এমনি একটি সময়ে হেফাজতে ইসলাম নামের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ১৩ দফা দাবী নিয়ে সামনে এগিয়ে এসেছে। আলেম উলামা মাশয়েখদের ১৩ দফা দাবী নিয়ে আপনার দলের দায়িত্শীল লোকেরা ইতোমধ্যে অনেক কথা বলেছেন। অনেকেই বলেছেন একটি দাবীও গ্রহনযোগ্য নয়। কেউ কেউ বলেছেন দাবী গুলো মধ্যযুগীয়। এটা বাস্তবায়ন করতে গেলে বাংলাদেশ কয়েকশ’ বছর পিছিয়ে যাবে। পিছিতে যাওয়া আর এগিয়ে যাওয়ার মাফ কাঠি কি তা দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট নয়। মনে করেন ইসলামের রীতি নীতি আইন কানুন,বিধি বিধান পুরাণো হয়ে গেছে,তথকাথিত আধুনিক জামানায় ১৪৫০ বছরের পুরাণো ইসলাম আর চলবেনা তাদের উচিত হবে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে ইসলাম ত্যাগ করা। মনে এক অবস্থা আর বাইরে আরেক অবস্থার নাম মোনাফেক আর মোনাফেক ও মুরতাদদের অবস্থা মোশরেক ও কাফেরদের চাইতেও খারাপ। এরাই আল্লাহ ইসলাম রাসুল(সা) ও মুসলমানদের বড় শত্রু। কাফের ও মোশরেকরা প্রকাশ্য,কিন্তু মোনাফেক ও মুরতাদরা অপ্রকাশ্য। এরা বাইরে মুসলমান,ভিতরে মুসলমান ও ইসলামের শত্রু।

বাংলাদেশের আলেম উলামারাই ইসলামকে এখনও জিন্দা রেখেছেন। তাদের কারণেই মসজিদ মক্তব মাদ্রাসা ধর্মচর্চা এখনও অব্যাহত আছে। আল্লাহপাক নিজেই সাধারন মুসলমানের উপরে আলেমদের মর্যাদা দিয়েছেন। আলেমদের বলা হয় নায়েবে রাসুল(সা)। আল্লামা শফী একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম। তিনি এখন অতিশয় বার্ধক্যে কাতর। তিনি হয়ত মনে করেছেন ইসলামের দুর্দিন। তাই তিনি তাঁর ঈমানী দায়িত্ব নিয়ে সামনে এগিয়ে এসেছেন। অনেকেইতো বলেছেন,গণজাগরণ মঞ্চ না হলে আল্লামা শফী মাঠে আসতেননা। গণজাগরণের সাথে যে ক’জন নাস্তিক আল্লাহ ও রাসুলের(সা) বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে সরকার তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোন ব্যবস্থা এখনও গ্রহণ করেননি।তাদের বিরুদ্ধে ধর্মদ্রোহীতার কোন অভিযোগ আনা হয়নি। আনা হয়েছে ইন্টারনেট ও প্রযুক্তিগত আইন ভংগের অভিযোগ। সরকারের দৃষ্টিতে নাস্তিক ব্লাগাররা ধর্ম সংক্রান্ত কোন অপরাধ করেনি। আবার ধর্মদ্রোহীদের মুক্তির জন্যে সরকার সমর্থক বুদ্ধিজীবীরা আন্দোলন করছেন এ পর্যন্ত হোফাজত এবং হেফাজতের নেতাদের বিরুদ্ধে যত বাজে কথা বলেছেন তার এক ভাগও বলেননি নাস্তিক ব্লগারদের বিরুদ্ধে। বরং গণজাগরণ মঞ্চকে সাহাযা দিয়ে টিকিয়ে রেখে তাদেরকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে।
হেফাজতের ১৩ দফার বিরুদ্ধে সরকার একটা কঠোর অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতিকে দিন দিন অবনতির দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। হেফাজতের নারী অধিকার ও স্বাধীনতা বিষয়ক দফার ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে নারী সমাজকে ক্ষ্যাপিয়ে তোলার জন্যে সরকার উথে পড়ে লে্গেছেন। গার্মেন্টসের নারী শ্রমিকদের ব্যবহার করার মালিকদের ব্যবহার করার উদ্যোগ নিয়েছেন সরকার। হেফাজতকে মোকাবিলা করার জন্যে সরকার দেখতে আলেমের মতো এক শ্রেণীর লোককে মাঠে নামিয়েছেন। হয়ত বিদ্যার দিক থেকে তাঁরা সত্যিকারের আলেম। কিন্তু ঈমানের দিক থেকে নয়। সব যুগেই এ ধরণের আলেম ছিলেন এবং থাকবেন। এরা সম্রাট আকবরের আমলে ছিলেন এবং সম্রাটকে বিভ্রান্ত করে নতুন ধর্ম দ্বীনে ইলা্হী চালু করিয়েছিলেন। জালেম বাদশাহ ফেরাউন নমরুদ সাদ্দাদের সময়ও এ ধরনের আলম, জ্ঞানী গুণীরা ছিলেন। বৃটিশ বিরোধী আলেমদের বিপ্লবী সংগঠণ দেওবন্দের মাদ্রাসার বিরুদ্ধে তত্‍কালীন বৃটিশ সরকার আলীয়া মাদ্রাসা চালু করেছিলেন। দেওবন্দ চলতো ভারতের বিপ্লবী মুসলমানদের চাঁদায়, আর আলীয়া চলতো সরকারী টাকায়। উল্লেখ্য যে,বৃটিশের বিরুদ্ধে ১৭৫৭ থেকে ১৮৫৮ পর্যন্ত একশ’বছর যুদ্ধে করেছেন এদেশের আলেম সমাজ। এ ইতিহাস এদেশের মানুষ ভুলে যায়নি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,বংগবন্ধুর কন্যা, আপনি জান্তে বা অজান্তেই হোক ভুল পথে পা বাড়িয়েছেন। আপনার সাথে যারা আছেন তারা স্বার্থের জন্যেই আছেন। এক সময় তারা আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে। আপনাকে অস্বীকার করবে। আপনার মরহুম শ্রদ্ধেয় পিতাকে কারা ফেরাউন আখ্যা দিয়েছিল আপনার কি মনে নেই? আপনার সাথে আজ যারা আছেন তারাইতো একদিন বংগবন্ধুকে অপমান করেছেন। মুশতাক সরকারকে সর্বাগ্রে স্বীকৃতি দিয়েছিল ইন্দিরা সরকার। আপনি নিশ্চয়ই ভুলে যাননি বংগবন্ধুর ওফাতের পর আপনাদের দলের লোকদের ভুমিকা। এরাইতো তাঁকে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চলু করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। আজও তাঁরাই আপনার চার পাশে আপনাকে ঘিরে রেখেছে। আপনাদের দলের সাধারন সম্পাদক একজন সৈয়দ হয়েও বলছেন তিনি হিন্দুও নন ,মুসলমানও নন। এর মানে তিনি একজন ধর্মহীন ব্যক্তি। আপনি কেমন করে এমন একজন লোককে দলের সাধারন সম্পাদক করলেন? বাপ দাদা ও নিজের ধর্ম বিশ্বাসের কথা চিন্তা করে আপনি আপনার অন্তর ও বিবেকের কাছে জানতে চান আপনি কোনদিকে যাবেন। আল্লাহ নিশ্চয়ই আপনাকে পথ দেখাবেন।

Read Full Post »


হেফাজতে ইসলাম একটি অরাজনৈতিক ইসলাম রক্ষা আন্দোলনের জোট। দেশের বড় বড় আলেম ওলামা মাশায়েখগণ এই জোটে নিজেদের শামিল করেছেন। ৬ই এপ্রিলের লংমার্চে সকল বাধা বিপত্তি হামলা গ্রেফতার এড়িয়ে লাখ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। ধর্মের ব্যাপারে আবেগী মানুষেরা লংমার্চে অংশ গ্রহণকারীদের নানা ভাবে সাহাযা সহযোগিতা করেছেন। কোন রাজনীতি এখানে কাজ করেনি, কাজ করেছে আবেগ, ইসলামের জন্যে ভালবাসা। সম্মানিত আল্লামা শাহ আহমদ শফী সাহেব আমাদের দেশের একজন খুবই সম্মানিত আলেম। এর আগে আমরা কখনই এতবেশী করে তাঁর নাম শুনিনি। আমিতো মনে করি তিনি অতি বৃদ্ধ বয়সে শারীরীক দুর্বলতা ও কষ্টকে উপেক্ষা করে ঈমানী দায়িত্ব পালনের জন্যে দেশবাসীর সামনে হাজির হয়েছেন। এমন বয়সে এর আগে কোন আলেমকে মাঠে নামতে দেখিনি। মাওলানা ভাসানী সাহেব ৯৬ বছর বয়সে দুনিয়া ত্যাগ করেছেন। তিনি ছিলেন বিপ্লবী আলেম। পুরো জীবনটাই ত্যাগ করেছেন মজলুমের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যে। শেষদিন পর্যন্ত মানুষের খেদমত করেছেন
আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে ভারতবর্ষে ইংরেজ বিরোধী আন্দোলন প্রথমে শুরু করেছিলেন এদেশের আলেম সমাজ। কোন ইংরেজী শিক্ষিত ভদ্রলোক নন। এমন কি সংস্কৃত শিক্ষিত পন্ডিতরাও নন। এর কারণ আলেমদের ঈমানী শক্তি সাধারন ইংরেজী শিক্ষিতদের চেয়ে বেশী। আমরা বোধ হয় হাজী শরিয়ত উল্লাহ, তিতুমীর, দুদুমিয়া সাহেবদের নাম ভুলে গেছি। ইংরেজদের শুরুতে বয়কট করেছিলেন আলেম সমাজ। আলেম সমাজই ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের ডাক দেয়। ভারতের সব জাতি ধর্মের লোক যদি আলেম সমাজের কথা শুনতো তাহলে ইংরেজরা এদেশে ১৯০ বছর শাসন করতে পারতোনা। বাংলাদেশ এখন একটি কঠিন সময়ের ভিতর দিয়ে অতিক্রম করছে। রাজনীতি মাঠ খুবই উত্তপ্ত। প্রধান বিরোধী দল সরকার পতনের ডাক দিয়েছে। এই ডাকের সাথে একাত্বতা ঘোষণা করেছে জামাত সহ মোট আঠার দল। সরকারের সাথেও রয়েছে ছোটখাট ১৪ দল। সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদ সরকারী জোট ছাড়বেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এমনি একটা সময়ে , মানে ৫ই ফেব্রুয়ারী থেকে শাহবাগে একদল তরুণ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসীর দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। একেবারে লাগাতার আন্দোলন। তরুণরা শুরুতে ইন্টারনেটে নিজেদের ব্লগে ঘোষণা দেয় শাহবাগে মিলিত হওয়ার জন্যে। বলা হয় তারা নাকি জানতোনা ইন্টারনেট আহবানের মাধ্যমে এত লোকের সমাগম হবে। এক দুই তিন করতে করতে শাহবাগ জমে উঠলো। শাহবাগের তরুণরাও উত্‍সাহিত বোধ করতে লাগলো। এক কান দুই কান করতে করতে জানা গেল শাহবাগের তরুণদের অনেকেই ব্লগার। মানে তারা ইন্টারনেটে ওয়েব সাইটের মাধ্যমে একাউন্ট খুলে নিজেদের মন মতো নানা কথা বলে। সোজা কথায় বলা যায় তারা নিজেদের কথা ও মত প্রকাশের জন্য দিল খুলে কথা বলতে লাগলো। এটা নাকি ওদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা। জানা গেলো, তাঁদের কেউ কেউ ব্লগে আল্লাহ ,রাসুল(সা) ও কোরআনের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষায় আজে বাজে কথা লিখেছে। আমি নিজেও তা দেখেছি। ব্লগ গুলোর সম্পাদক আর পরিচালকরা পরিশীলিত শালীন ভাষায় কথা বলতে জানেনা। তাদের নিজস্ব একটা ভাষা আছে যা একেবারেই অমার্জিত। আপনি কোন মন্তব্য করলেই তাঁরা দল বেধে আপনাকে গালাগাল শুরু করবে। ফেসবুকেও এ অবস্থা জারী রয়েছে। সাধারন ভদ্র ভাষায় কেউই কথা বলতে পারেনা বা বলতে ভুলে গেছে। সরকার কিন্তু জানতো কিছু তরুন ব্লগে নিয়মিত আল্লাহ রাসুলের(সা) বিরুদ্ধে আজে বাজে কথা প্রচার করে যাচ্ছে। এসব ঘৃণিত কাজ বন্ধ করার জন্যে মামলাও হয়েছে। আদালত এ গুলো বন্ধ করার জন্যে নির্দেশও দিয়েছেন। সরকার বিষয়টাকে তেমন গুরুত্ব দেননি। কেন দেয়নি তার ব্যাখ্যা সরকারই ভাল দিতে পারবেন। শাহবাগ এখন আর অরাজনৈতিক আন্দোলন নয়। শাহবাগ আর প্রধানমন্ত্রীর অফিস এখন একই সূত্রে পরিচালিত। শাহবাগ যেখান থেকে পরামর্শ পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী ও সেখান থেকেই পাচ্ছেন। শাহবাগ সরকারকে বাঁচিয়ে রাখছে, আর সরকার শাহবাগকে বাঁচিয়ে রাখছে। অথবা দুজনকেই দিল্লী পাহারা দিচ্ছে।

Read Full Post »


ইসলাম না থাকলে বাংলাদেশের স্বাধীনতাও থাকবেনা / এরশাদ মজুমদার।

আমাদের পূর্ব পুরুষ, বাপদাদারা এই দেশটি আবাদ করে আমাদের দিয়ে গেছেন আমানত হিসাবে। এই দেশটি আমাদের কাছে বাপদাদার আমানত। পূর্ব পুরুষের রেখে যাওয়া বায়া দলিল। যে সন্তান বা ওয়ারিশরা বায়া দলিলের হেফাজত করেনা তারা সেই মালিক থাকতে পারেনা। একদিন তারা নিজের সম্পদ ও জমিজমা থেকে উচ্ছেদ হয়ে যায়। বাংলাদেশে আজ এমন একটি অবস্থা বিরাজ করছে যাতে আমাদের স্বাধীনতা থাকবে কিনা সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দেশ থাকলেও ইসলাম থাকবে কিনা সে প্রশ্ন সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দিয়েছে।দিল্লী কোলকাতায় অনেকেই বলেন মুসলমানদের টুপি থাকলেই চলে পাছার কাপড় আছে কিনা দেখেনা। এর মানে মুসলমানেরা বেকুব। কোলকাতায় আমার এক মাড়োয়ারী বন্ধু আছে সে বলে কাউকে বানাতে হলে আমরা বলি উসকো টুপি পহেনা দো। এর মানে যারা টুপি পরে তারা সবাই বোকা। মহাজ্ঞানী আল বিরুণীর বিখ্যাত গ্রন্থ ভারত তত্বে বলেছেন, ভারতীয় মায়েরা শিশুদের মামদো ভুতের গল্প শুনিয়ে ঘুম পাড়াতো। তখন বিদেশী ইসলাম প্রচারক মুসলমান, বাদশাহ, সৈনিক,দরবেশ যারা ভারতে এসেছেন তাঁদের সবার পোষাক ছিল লম্বা জুব্বা,মাথায় পাগড়ী, মুখে লম্বা দাড়ি। ভারতে এ ধরণের পোষাক পরিচিত ছিলনা। তখন নাকি ভারতীয়রা সেলাইকরা পোষাক পরতে জানতোনা। খাদ্যের ব্যাপারেও তাঁরা তেমন সচেতন ছিলেন না। মুসলমানরাই ভারতে পোষাকের রীতিনীতি, সুস্বাদু খাদ্য, ইতিহাস রচনা,উচ্চাংগ সংগীত সাধনা ভারতে নিয়ে এসেছে।
আমাদের পূর্ব পুরুষ বাপদাদারাই আমাদের দিয়ে গেছেন উচ্চতর ধর্মের জীবন ব্যবস্থা ও ভারতীয় জীবনের বর্ণবাদ থেকে মুক্তির সনদ। আর সেটাই হলো ইসলামের সাম্যবাদ । যেখানে মানুষে মানুষে নেই কোন ভেদাভেদ। মসজিদের একই কাতারে দাঁড়িয়ে রাজা প্রজা আল্লাহর সম্মুখে দাঁড়িয়ে নামাজ বা সালাত আদায় করে। ইসলাম হাজার ঈশ্বরের পূজা থেকে মানুষকে মুক্তি দিয়েছে। ইসলামই মানুষকে শোষণ থেকে মুক্তির পথ দেখিয়েছে। ফলে অখন্ড বংগদেশকে একটি আধুনিক দেশে পরিণত করেছে মুসলমান শাসকরা। কালক্রমে এই দেশটি মুসলমানদের মাতৃভুমিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বংগের পূর্বাঞ্চলে মুসলমানদের আবাদী সবচেয়ে বেশী হয়েছে। মাতৃভাষা বাংলাকে অচ্যুতের ভাষায় পরিণত করেছিল হিন্দু শাসক ও ব্রাহ্মণরা। মাতৃভাষা শিক্ষা লাভ করা তাদের জন্যে নিষিদ্ধ ছিল। এইতো মাত্র চারশ’ বছর আগে বাংলার মুসলমান কবি আবদুল হাকিম লিখেছেন,
‘যে জন বংগেতে জন্মি হিংসে বংগবাণী
সে সবার কিবা জন্ম নির্ণয় ন জানি।’
কবি তাঁর নুরনামা কাব্য গ্রন্থটি লিখার জন্যে ভাষার কথা চিন্তা করছিলেন। সে সময়ে মুসলমান কবিরা কাব্য চর্চা করতেন ফার্সী অথবা সংস্কৃত ভাষায়। বাংলা ছিল ইতর জনের ভাষা। দরবারে এর কোন স্থান ছিলনা। হোসেনী আমলে বাংলা ভাষার কদর বাড়ে। নবাব বা বাদশাহরা সংস্কৃত ও ফার্সী থেকে বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থ বাংলায় অনুবাদ করান। হিন্দু ধর্মীয় গ্রন্থ গুলো সংস্কৃত ছাড়া অন্য ভাষায় বাংলা ভাষায় পড়া নিষিদ্ধ ছিল। যদি কেউ পড়তো তাদের শাস্তি দেয়া হতো। বিশেষ করে হরিজন বা অচ্যুতদের ধর্ম চর্চার অধিকার ছিলনা। সে অবস্থা থেকে অচ্যুতদের মুক্তি দিয়েছে মুসলমান শাসক ও দরবেশেরা। আধুনিক ভারতের প্রতিষ্ঠাতা পন্ডিত জওহার লাল নেহেরু নিজেই বলেছেন, মুসলমানেরাই ভারতে উন্নত সভ্যতা নিয়ে এসেছেন। এর ভিতর রয়েছে উচ্চাংগ সংগীত, সংগীত যন্ত্র, ইতিহাস রচনা,বাগান চর্চা, পয়প্রণালী,স্থাপত্যশিল্প। সারা ভারতে এখনও ছড়িয়ে আছে মুসলমানদের স্থাপত্য কর্মের নিদর্শন। উস্তাদ আমীর খসরুই ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের পিতা। ইসলাম এবং মুসলমানেরা ভারতে এসেছে সপ্তম খৃষ্টাব্দের শেষের দিকে। ৭১১ সালের দিকেই মুহম্মদ বিন কাশেম সিন্ধু বিজয় করে মুসলীম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। পুরো ভারতে মুসলমানদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় ১৩শ’সালের দিকে। শেষ হয় ১৮৫৮ সালে বাহাদুর শাহের পরাজয়ের মাধ্যমে। ইংরেজরা বাংলা দখল করে নেয় হিন্দুদের সহযোগিতায় ১৭৫৭ সালে। ৭১ সালে পাকিস্তানের পরাজয়ের পর ইন্দিরা গান্ধী বলেছিলেন,‘হাজার সালকা বদলা লিয়া’। আপনারা গভীর ভাবে অনুধাবন করুন, কেন ইন্দিরা গান্ধী এ কথা বলেছিলেন। পাকিস্তানকে পরাজিত করে তিনি হাজার বছরের মুসলীম শাসনের প্রতিশোধ নিয়েছিলেন।ইন্দিরাজীর এই বক্তব্যের মাধ্যমে ভারতের শাসক গোষ্ঠির ইতিহাস চেতনা কি তা সুস্পষ্ট।
ভারতের রাস্ট্রপতি প্রণব বাবু এক সময় বাণিজ্য মন্ত্রী ছিলেন। সে সময়, যতদূর মনে পড়ে আমি নিউনেশনে কাজ করতাম। প্রণব বাবুর সাথে কথা বলতে গেলে তিনি হাসতে হাসতে বললেন, ৭১এ তোমরা বাংগালী হতে চেয়েছিলে তাই আমরা তোমাদের সমর্থন করেছি। এখন দেখছি,তোমরা মুসলমান হওয়ার জন্যে উঠে পড়ে লেগেছো। যদি মুসলমানই থাকতে চাও তাহলে পাকিস্তান ছাড়লে কেন? সে সময় মেরারজী দেশাই হুঁশিয়ার করে বলেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশ মানে আরেকটি পাকিস্তান। এখন দেখছি,মিস্টার দেশাইয়ের কথাই ঠিক। আবারো হাসতে হাসতে বললেন, রিপোর্ট করোনা। সত্যিইতো, ভারত আমাদের শুধুই বাংগালী হিসাবে দেখতে চায়। শুধু বাংগালী হলে হয়ত ভারতের খুবই সুবিধা হয়। তাহলে আমাদের সংস্কৃতি আর পশ্চিম বাংলার সংস্কৃতিতে কোন ফারাক থাকেনা। আসলে দিল্লী মনে করে বাংগালী সংস্কৃতি মানে কোলকাতার হিন্দুদের সংস্কৃতি।
৪২ বছরে বাংগালী সংস্কৃতির নামে পশ্চিম বাংলার সংস্কৃতি বাংলাদেশের তথাকথিত শিক্ষিত সেক্যুলার সমাজকে প্রায়ই দখল করে নিয়েছে। মিডিয়াও বাংলাদেশের মুসলমান বাংগালীদের সংস্কৃতি ভুলতে বসেছে। ভারতীয় চ্যানেলের বদৌলতে আমাদের শিশুরা এখন হিন্দী গাণ গায়, হিন্দীতে কথা বলে। উর্দুর ভয়ে আমরা পাকিস্তান ত্যাগ করেছি। এখন হিন্দী আমাদের সবকিছু দখল করে নিচ্ছে।
আর কত বছর লাগবে তা জানিনা, একদিন হয়ত আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ববলে আর কিছু থাকবেনা। ভারতীয় সকল চ্যানেলই এখন বাংলাদেশে দেখান হয়। ভারতীয় সাহিত্যিক কবি গায়ক গায়িকারা সারা বছরই বাংলাদেশে আসছে। ভারতীয় বই তিন গুণ দামে বাংলাদেশে বিক্রি হয়। ভারতীয় কাপড় চোপড়ের দোকান এখন ঢাকার সর্বত্র।দিল্লীতো আর বাংগালীরা শাসন করেনা। তারা জানে ,বাংলাদেশের মুসলমানদের খাঁটি ষোলয়ানা বাংগালী বানাতে কি করতে হবে। হিন্দুয়ানী কায়দায় পহেলা বৈশাখ পালন, একুশের অনুষ্ঠান, কবিগুরু জন্ম ও মৃত্যুদিন পালন, বসন্ত উত্‍সবের নামে হোলি খেলা, শহীদ মিনারে মরদেহ নিয়ে রবীন্দ্র সংগীত গাওয়া ইত্যাদি করতে যত টাকা দাও। সারা বছর গান্ধী, ঈস্বর চন্দ্র, বংকিমচন্দ্র,নেহেরু সহ আরও অনেকের স্মরন সভা করার জন্যে টাকা দাও। ব্যাটারা বাংলা ভাষা চেয়েছিল এখন হিন্দী বলতে বলতে কাহিল হয়ে যাবে। মংগল প্রদীপ জ্বলাবে, উলু ধ্বনি দেবে, কৃষ্ণ মিছিল করবে– মনে করবে এর সবই বাংগালী সংস্কৃতি বা কালচার। মেয়েরা এখন গলায় এক রকম গামছা জড়িয়ে রাখে ফ্যাশন হিসবে। ওড়না বা পর্দার জন্যে নয়। এরা এখন জিনসের প্যান্ট পরে, টি শার্ট বা গেঞ্জী গায়ে দেয়।
মোম্বাই বা কোলকাতায় যে ফ্যাশন চালু হচ্ছে তাই ঢাকা বা বাংলাদেশে চালু হচ্ছে। ছেলেরা ও কম যায়না । তারা মেয়েদের মতো ফ্যাশন করে পোষাক পরে। তারাও এখন পার্লারে যায় চুলের ফ্যাশনের জন্যে, নিজেদের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্যে। রাজধানীতে এখন বিবাহিত দশজন মেয়ের ভিতর আট জনই ডিভোর্সি বা তালাক প্রাপ্তা। রাজধানীতে তালাকের মহামারি লেগে গেছে। ধনী পরিবার গুলোতে যেয়ে খবর নিন। জানবেন, তাদের একটি মেয়েও সংসার করছেনা। তারা নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। নারী অধিকারে বিশ্বাস করে। নারী নীতিতে জরায়ুর স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। মা হওয়া না হওয়ার স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে।ছেলে মেয়েদের নাম এমন ভাবে রাখা হচ্ছে আপনি কখনই বুঝতে পারবেন না এরা মুসলমান কিনা। বিশেষ করে সাংস্কৃতিক জগতে ইসলাম আর মুসলমানিত্বকে বহু তালাক দিয়েছে নাট্যব্যক্তিত্বরা। এরাই আবার বিজ্ঞাপন কোম্পানীর মালিক। মোবাইল কোম্পানীর বিজ্ঞাপন করে নাট্যনেতারা কোটি কোটি টাকা কামাই করে , যা তারা বাংগালীয়ানার আন্দোলনে খরচ করে। বাংলাদেশ একটি দেশ যেখানে বিজ্ঞাপন মডেলরাও বুদ্ধিজীবী এবং জাতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মত প্রকাশ করে। এরাই আর্ট ফিল্মের নামে সরকারী অনুদান নিয়ে ইসলাম এবং মুসলমান বিরোধী সিনেমা বানায়। এসব সিনেমা বিদেশ থেকে পুরুষ্কারও পায়। এসব পরিচালককে দেশ জাতি নম: নম: করে মাথায় তোলে। এরা নিজেদের বাংলাদেশী বলতে লজ্জা পায়। এরা হিন্দুয়ানী ধর্মীয় কার্যকলাপকে বাংগালী মুসলমানের সংস্কৃতি বলে চালিয়ে দিচ্ছে। এরাই রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে দিল্লীর নির্দেশ মোতাবেক সরকার নির্বাচন করতে চায়। পরিস্থিতি ও পরিবেশ দেখে মনে হচ্ছে দিল্লী হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখার জন্যে মরিয়া হয়ে উঠেছে। একই কারণে হাসিনাও মরিয়া হয়ে উঠেছে। দুই মাসে দুই শ’ মানুষ হত্যা করার পরেও হাসিনা নির্বিকার, তাঁর মন্ত্রীরা নির্বিকার। যদিও চার বছর তিন মাসে চলমান সরকার কয়েক হাজার লোককে হত্যা ও গুম করেছে। তাঁর প্রিয় পিতা বংগবন্ধুর শাসন আমলেও হাজার লোককে হত্যা করা হয়েছে।
আরেক দফা ক্ষমতা থাকার জন্যে হাসিনা চলমান হত্যা যজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভারতও চায় যে ভাবেই হাসিনা আরেকবার ক্ষমতায় আসলে তাদের স্বার্থ রক্ষা চিরস্থায়ী হবে। প্রধান স্বার্থ হচ্ছে ১৫ কোটি মানুষকে সুকৌশলে ইসলাম ভুলিয়ে দেয়া। পাঠ্য পুস্তক, ইতিহাস,সংস্কৃতি সব খানে মুসলমানিত্ব বিদায় করে বাংগালী কালচারের নামে হিন্দুয়ানীকে প্রতিষ্ঠা করা। ঢাকাস্থ ভারতীয় কালচারেল সেন্টার বিগত ৪২ বছরে সেই লক্ষ্যের অর্ধেক হাসিল করে ফেলেছে। শেখ হাসিনা বলেছেন,বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক,ধর্ম নিরপেক্ষ রাস্ট্র বানাতে হবে। সে লক্ষ্যে তাঁর সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এর মানে হচ্ছে বাংলাদেশকে বাধ্যতামূলক একটি ধর্ম চেতনাহীন বাংগালী রাস্ট্রে পরিণত করা। পশ্চিম বাংলার সাথে সীমান্ত ছাড়া আর কোন ফারাক থাকবেনা। আগামী জেনারেশন বা তার পরের জেনারেশন বলবে ,আমরা অধুনিক ও প্রগতিশীল। ধর্ম আমাদের কাছে একেবারেই ব্যক্তিগত ব্যাপার। এটা ভগবানের সাথে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক। তাই মসজিদ মাদ্রসা, মক্তব, ধর্মীয় ওয়াজ,ধর্মীয় আলেম ওলামার কোন প্রয়োজন নেই। ও রকমেরই একটি শ্লোগান এখনি চালু হয়ে গেছে। ধর্ম যার যার ,রাস্ট্র সবার। এর মানে ধর্মের ব্যাপারে রাস্ট্র চুপ থাকবে,কোন ভুমিকা পালন করবেনা। ইতোমধ্যেই মসজিদকে টয়লেট বানাবার প্রস্তাব এসেছে ব্লগারদের কাছ থেকে।

সরকারের অজান্তেই হঠাত্‍ করে একদিন শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর চালু হয়ে গেল। সরকার বুঝতেই পারেনি। সত্যিই অবাক বিষয় সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ জানলেও সরকারকে বা শেখ হাসিনাকে সে ভাবে ব্রীফ করেনি। হাসিনা যখন বুঝতে পারলেন এর পৃষ্ঠপোষক ও উদ্যোক্তা ভারত এবং ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের শিল্পপতিরা চালাচ্ছেন। অজানা অচেনা ইমরান সরকার আজ মহা শক্তিধর একজন ব্যক্তি। শাহবাগের সরকার যা নির্দেশ দিচ্ছে রাস্ট্রের সরকার তা বাস্তবায়ন করছে। শাহবাগের কারণেই বাংলাদেশে আজ ইসলাম ও রাস্ট্র মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। চারিদিকে শ্লোগান উঠেছে নাস্তিক বনাম ইসলাম। সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়েছে শাহবাগ। সরকার কোনদিকে থাকবে, ইসলামের পক্ষে না দর্মদ্রোহীতার পক্ষে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যাই ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। কারণ ভারত এখন এটাই চায়। ৭১ সালে ভারত পাকিস্তান ভেংগেছে,বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছে। কারণ দিল্লী জানতো বাংলাদেশকে শুধুই মুসলমানের দেশ হিসাবে গড়ে উঠতে দেয়া যাবেনা। ইসলাম যদি বাংলাদেশে শক্তিশালী হয়ে যায় তাহলে এখানে ভারতের প্রভাব একেবারেই মুছে যাবে। তাই ভারত জেনে শুনেই কঠিন কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবারেই ফায়সালা করে ফেলতে হবে। ফায়সালা হলো বাংলাদেশকে কিছুতেই মুসলমান বা ইসলামী দেশ হিসাবে গড়ে উঠতে দেয়া যাবেনা। ভারত জানে বাংলাদেশের মানুষ যদি ইসলামে দিকে ঝুঁকে পড়ে তাহলে মুসলীম বিশ্বের সাথে তার সম্পর্ক আরও গভীরতর হয়ে যাবে। আমি এখানে ৭৪ সালের ঘটনা উল্লেখ করতে চাই। পাকিস্তানের লাহোরে সে বছর ওআইসির যে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে তাতে অংশ গ্রহণের জন্যে দাওয়াত নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন আলজেরিয়ার বুমেদিন ও ফিলিস্তিনের ইয়াসির আরাফাত। পাকিস্তান স্বীকৃতি দিলে তিনি সম্মেলনে অংশ নিতে রাজী হলেন। পাকিস্তান কাল বিলম্ব না করেই স্বীকৃতি দিলো। কিন্তু ভারত কঠোর ভাবে এর বিরোধিতা করেছে। ভারত তখন থেকেই অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে গেছে বাংলাদেশকে পাকিস্তান ও মুসলীম বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার জন্যে। সে সময়ে বংগবন্ধুর কন্যা ক্ষমতায় থাকলে তিনি ওআইসি সম্মেলনে যেতেন না। বংগবন্ধু ক্ষমতায় থাকা কালে ইসলাম বিরোধি কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেননি। তিনি নিজেকে মুসলীম দেশের নেতা হিসাবে ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ জন্যেই বংগবন্ধুকে জগত থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। হাসিনা হয়ত ভিতরের খবর জানে। তাই সে নিজের জান রক্ষার জন্যেই ভারতের পক্ষে গিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর ইসলাম ও বাংলাদেশ বিরোধী একটি মঞ্চ। এই মঞ্চের বিরুদ্ধে কোন রাজনৈতিক দল শাক্তিশালী কোন অবস্থান নিতে পারেনি। হেফাজতে ইসলামই শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে সরকার ও শাহবাগের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হিসাবে নিজেদের প্রকাশিত করেছে। হে মহান পরোয়ারদেগার , আপনি আমাদের দুর্বল ঈমানকে শক্তিশালী করে দিন। আমাদের পবিত্র মাতৃভুমিকে সকল প্রকার তাগুতি শয়তানী শক্তির হাত থেকে রক্ষা করুন। আমীন।
লেখক: কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
http://www.humannewspaper.wordpress.com

Read Full Post »


ধর্ম নিয়ে রাজনীতি : পক্ষ- বিপক্ষ / এরশাদ মজুমদার

পাকিস্তান আমল থেকে শুনে আসছি ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা যাবেনা। যারা বলছেন তাঁরা কারা? ইতোমধ্যেই রাজনীতিতে একটা শব্দ চালু হয়েছে ,তাহলো ধর্ম ব্যবসায়ী। অথচ সব রাজনৈতিক দলই তাদের নির্বাচনী ওয়াদায় বলে থাকেন কোরআন ও সুন্নাহ বিরোধী আইন পাশ করা হবেনা। কিন্তু এটা একটা কথার কথা। নির্বাচন পার হয়ে গেলে ওই ওয়াদার কথা কেউ মনে রাখেনা বা রাখার প্রয়োজন মনে করেনা। রাজনীতিকরা জানেন, দেশের সাধারন মানুষ তেমন লেখাপড়া জানেনা। তাছাড়া তারা খুবই গরীব। দর্মের বিষয়ে আন্দোলন করে দাবী আদায়ের মতো তেমন ক্ষমতা তাদের নাই। ধর্মীয় নেতারা এ ব্যাপারে কথা বললেও তারা নানা ভাগে বিভক্ত। তাদের জোরালে তেমন সংগঠণ নাই। কিছু হুজুর মানে ধর্মীয় নেতা দল বা সরকারের সাথে থাকলেই হলো। এই ভাবে ভন্ডামী করেই রাজনীতিকরা ৪৭ সাল থেকে ৬৬ বছর পার করেছেন। এর ভিতর বহু ইসলামী রাজনীতিক বা মুসলমান রাজনীতিকও আছেন। পাকিস্তান আমলে একটি বাক্য বহুল প্রচাতিত ছিল, তাহলো ‘মিটিংকা কাপড়া’। বড় বড় নেতারা সভায় যাওয়ার আগে মোটা কাপড়ের বা খদ্দরের পাজামা পাঞ্জাবী পরে নিতেন। দেখতে যেন সাধারন মানুষের নেতা মনে হয়। অনেকেই মুসলমানী পোষাক শেরওয়ানী,পাজামা,জিন্নাহ টুপি,সু পরতেন। জিন্নাহ সাহেব পরতেন। পূর্বপাকিস্তানের অনেক নেতাও পরতেন। বংগবন্ধু চীন সফরের সময় শেরওয়ানী ও জিন্না্ টুপি পরেছিলেন। এসব ছিল সেই জামানার একটা কালচার বা সংস্কৃতি। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন মাওলানা ভাসানী। তিনি লুংগী পরতেন ও মাথায় তালের টুপি দিতেন। মাওলানা সাহেব সত্যিই গণ মানুষের নেতা ছিলেন। দেশবাসী তাঁকে মজলুম জননেতা বলতেন। মাওলানা সাহেবই এদেশে সর্ব প্রথম ইসলামী সমাজতন্ত্রের ডাক দিয়েছিলেন। মাওলসনা সাহেবকে পশ্চিমা মিডিয়া বলতো ‘প্রফেট অব ভায়োলেন্স’ আর ‘মাও অব ইস্ট ইন ডিজগাইজ অব এ্যা প্রিস্ট’। কেউ কেউ ‘রেড মাওলানা ও বলতেন। সাধারন মৌলানারা ভাসানী সাহেবকে পছন্দ করতেন না। অনেকেই প্রকাশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে ছিলেন। মাওলানা ভাসানীর রাজনীতির মূল উত্‍স ছিল আল্লাহর কিতাব আলকোরআন।
রাজনীতি ,ধর্ম আর বিজ্ঞানের বিবাদ বহুদিনের পুরাণো। আজও এই বিবাদের কোন সুরাহা হয়নি। প্রাচীনকালে ধর্ম যাজক বা ব্রাহ্মণরা রাজাদের নিয়ন্ত্রন করতেন। নিয়ন্ত্রণ কঠিন হতে থাকলে রাজারা নিজেদের ক্ষমতা ব্যবহার করে যাজকদের নিজেদের অধীনে নিয়ে এসেছিলেন। ভারতীয় ধর্ম ও সংস্কৃতিতে ব্রাহ্মণদের অকল্পনীয় প্রভাব ছিল। বৃটেনে রাজা আর গীর্জার লড়াই তুংগে উঠে গিয়েছিল। ইসলাম ধর্মেই ইমামত আর খেলাফত নিয়ে দ্বন্ধ ও লড়াই হয়েছে। চার খলিফার পরেই এই দ্বন্ধ চরমে উঠে। এক সময় খেলাফত আলাদা ও স্বাধীন হয়ে যায়। সকল অবস্থাতে সকল যুগেই রাজনীতি কিন্তু ধর্মের প্রভাব থেকে একেবারে মুক্ত হতে পারেনি এবং সম্পর্ককেও অস্বীকার করতে পারেনি।
প্রসংগত উল্লেখ্য যে, ইংরেজদের বংগদেশ দখলের বিরুদ্ধে প্রথম একশ’বছর লাগাতার লড়াই করেছে এদেশের আলেম সমাজ। ইতিহাসের সিরিয়াস গবেষক ও পাঠকগণ এ ব্যাপারে একমত। এজন্যেই ইংরেজরা বহু আলেমকে ফাঁসীতে ঝুলিয়েছে। দেশের সাধারন মানুষ ইংরেজী শিক্ষিতদের তুলনায় ইসলামী স্কলারদের বেশী মানতো ও সম্মান করতো। মাওলানা ভাসানী ছিলেন তেমনি একজন মাওলানা যিনি জমিদার ও ইংরেজদের বিরুদ্ধে সমান ভাবে লড়াই করেছে। আবার পাকিস্তান হওয়ার পর সাধারন মুসলমানদের পক্ষে তিনিই সবার আগে সোচ্চার হয়েছেন। সারা পাকিস্তানে তিনিই প্রথম মুসলীম লীগের বিরুদ্ধে নতুন রাজনৈতিক দল আওয়ামী মুসলীম লীগ গঠণ করেন। সেই আওয়ামী মুসলীম লীগই ৫৪ সালের নির্বাচনে সরকারী মুসলীম লীগকে পরাজিত করে পূর্ব পাকিস্তানে সরকার গঠন করে। এমন কি এক সময় বামপন্থীরাও মাওলানা সাহেবের ছায়াতলে একত্রিত হয়েছিল।
মাওলানা সাহেব বলতেন, ইসলাম হচ্ছে একটি বিপ্লবী ধর্ম। ইসলামই এ জগতে সর্ব প্রথম মজলুমের পক্ষে অবস্থান নিয়ে জালেমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আহবান জানিয়েছে। আলকোরআন হচ্ছে নির্যাতিত লাঞ্ছিত অপমানিত মানুষের মুক্তির সনদ। এই মহাপবিত্র কিতাবের নির্দেশ মোতাবেকই আল্লাহর রাসুল(সা) আরবের জাহেল লোকদের মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন।এখনও জগতের যেখানেই মানুষ নির্যাতিত সেখানেই আল কোরআন সগৌরবে উপস্থিত। আল কোরআন মানুষের ঘুমন্ত সত্তাকে জাগিয়ে তোলে। মানুষকে মানুষ হিসাবে মাথা তুলে দাঁড়াতে উত্‍সাহিত করে। আল্লাহপাক মজলুমের মানে নির্যাতিতের পক্ষে অবস্থান করেন। এই বাণীটি মুসলমানদের অবশ্যই বুঝতে হবে, বিশ্বাস করতে হবে।
৪২ বছর পর আমরা দেখতে পাচ্ছি কিছুলোক সেক্যুলারিজমের বা ধর্মহীনতার নামে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে। আমি এর আগে বহুবার লিখেছি নাস্তক্যবাদ নতুন কোন বিষয় নয়। জগতে এক শ্রেণীর লোক সব সময়ে নাস্তিক ছিল। কিন্তু তারা কখনই কারো ধর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি। বাংলাদেশের চলমান অবস্থার চিত্র একেবারেই ভিন্ন। এখানে সরকার , তাদের সমর্থক বুদ্ধিজীবী ও তথাকথিত গণ জাগরণ মঞ্চের নেতারা প্রকাশ্যে ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এ অবস্থা বিগত ৪২ বছরে দেখা যায়নি। সরকার ইতোমধ্যেই সংবিধান থেকে আল্লাহর নাম ফেলে দিয়েছে। ধর্মীয় রাজনৈতিক দল বন্ধ করার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। বিগত দেড় মাস ধরে তথাকথিত গণ জাগরণ মঞ্চকে অকাতরে সাহায্য সহযোগিতা ও সমর্থন দিয়ে গেছে সরকার। গণ জাগরণের নেতারা ইসলাম বিদ্বেষী জেনেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যে কোটি কোটি টাকা খরচ করে গণ জাগরণ মঞ্চ চালিয়ে গেছে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী সরকারী নির্দেশে।
দেশের প্রায় ৯৯ ভাগ মিডিয়া সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। শুধুমাত্র দেণিক আমার দেশ সঠিক অবস্থান নিয়ে জনগণকে সত্য সংবাদ জানিয়ে যাচ্ছে। সেটাও সরকার সহ্য করতে পারছেনা। বংগবন্ধুর আমলেও এক সময় তিনি সব রাজনৈতিক দল ও খবরের কাগজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। শুধু সরকারী বা বাকশালের মালিকানায় চার্টি কাগজ ছিল। তখন বিটিভি ছাড়া আর কোন টিভি স্টেশন ছিলনা। সেদিক থেকে বংগবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা অনেক ভাগ্যবান। কারণ , সব গুলো মিডিয়া তাঁকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। সরকারের বা শেখ হাসিনার দুর্ভাগ্য, ৯৯ভাগ মিডিয়ার কথা মানুষ বিশ্বাস করছেনা। পলে দৈনিক আমার দেশের সার্কুলেশন কয়েক লাখ হয়ে গেছে। এই পত্রিকা সরকারের কোন বিজ্ঞাপন পায়না। বেসরকারী খাতের অনেকেই সরকারের ভয়ে আমার দেশকে বিজ্ঞাপন দেয়না।
হেফাজতে ইসলামের চাপের মুখে হঠাত্‍ করে সরকার নাম না জানা তিন জন ব্লগারকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ ভাল মানুষের মতো বলছে আমরা কোন দলের চাপে ব্লগারদের গ্রেফতার করিনি। দেশের প্রচলিত আইনেই তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ব্লগাররা নাকি স্বীকার করেছে তারা ধর্মে বিশ্বাস করেনা। তাহলে প্রশ্ন উঠে এতদিন গ্রেফতার করা হয়নি কেন। এ ব্যাপারে এক বছর আগে আদালতের রায় ছিল। অপরদিকে আইন মন্ত্রী বলেছেন,ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাথে সাথে যারা ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করছে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। এর মানে যে ব্লাগাররা ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে তাদের বিষয়ে খবর ছাপলে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হবে। হেফাজতে ইসলামের নেতারা বলেছেন, সরকারের ফাঁদে তাঁরা পা দিবেন না। তাঁরা লংমার্চের কর্মসূচী বন্ধ করবেননা। এখনতো দেখছি , ব্লগাররা আর গণ জাগরণ মঞ্চ সরকারকে হুমকি দিচ্ছে। ডা ইমরান বলছেন,তাঁরা কারো চোখ রাংগানীকে ভয় পান না। মঞ্চ ভেংগে দেয়ার ক্ষমতা কারো নেই। জনতার মঞ্চ জনতাই রক্ষা করবে।
আওয়ামী লীগ নিজেদের সেক্যুলার বা ধর্ম নিরপেক্ষ মনে করে। তাই এই দলটির সাথে বামপন্থী ধর্মহীনদের সাথে ঐক্য। লোকে বলে কেবিনেটে নাকি বারো জন বামপন্থী নেতা আছেন। বাকি নেতারাও ধর্মের ব্যাপারে তেমন উত্‍সাহী নন। কয়েক যুগ ধরে জামাতের সাথে আওয়ামী লীগ নেতাদের নানা ধরনের সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। কেবিনেটের সদস্য শ্রমমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বেয়াই। মন্ত্রী সাহেবের বাবা নুরু মিয়া নাকি একজন রাজাকার ছিলেন। এ আত্মীয়তা করার সময় প্রধানমন্ত্রী রাজনীতি দেখেননি। তিনি দেখেছেন সামাজিকতা ও এর প্রভাব। এ রকম আরও বহু জামাতী নেতার বা তাদের পরিবারের সাথে আওয়ামী নেতাদের আত্মীয়তা, সামাজিকতা, ব্যবসা বাণিজ্য আছে। কেউ এখনও ভুলে যায়নি যে , ক’বছর আগেও জামাত আর আওয়ামী লীগ এক সাথে রাজনীতি করেছে। বিষয়টা নাকি রাজনীতির কৌশল ছিল। কৌশলগত কারণেই আওয়ামী লীগ ১/১১র সরকারকে সমর্থন দিয়েছে। কারণ ওই বিতর্কিত সরকারটি নাকি ভারত প্রতিষ্ঠা করেছে। ওই সরকারই পরিকল্পনা করে তথাথিত নির্বাচনের মাধ্যমে নিরংকুশ ক্ষমতা দিয়ে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসায়। লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে একটি হিন্দুয়ানী বাংগালী রাস্ট্রে পরিণত করা। এদেশের জনগণের একমাত্র পরিচয় হবে ষোলয়ানা বাংগালী। সংস্কৃতি হবে হিন্দুয়ানী। বাংলাদেশের সাহিত্য,সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের উত্‍স হবে ভারত এবং হিন্দুয়ানী। ভারতের হিন্দু মহসভা, আরএসএস, বজরংবুলি মনে করে ভারতে যারা বাস করবে বা নাগরিক হবে তাদের পরিচয় হবে হিন্দুত্ববাদ। এমন কি মুসলমান হলেও ভৌগলিক কারণে তারা পরিচয় হবে হিন্দু মুসলমান। এই আদর্শে যারা বিশ্বস করবে শুধু তারাই ভারতে থাকবে। এ ব্যাপারে ভারতের সকল রাজনৈতিক দলই একমত। নেহেরুজীর মহাভারতের স্বপ্ন হলো কম্বোডিয়া থেকে কম্বোজ(আফগানিস্তান)পর্যন্ত। সম্রাট অশোক নাকি এক সময় ভারতবর্ষের সীমানা ওই পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন। আজও ভারত এবং তার নেতারা তাদের আদর্শ রেখেছে ত্রিমুর্তি ও সোয়াস্তিকা। ত্রিমুর্তি বা সোয়াস্তিকার বিশদ বর্ণনা আজ এখানে দেয়া সম্ভব। ভারতের শাসক গোষ্ঠির গৌরব হলো আর্য ধর্ম ও সংস্কৃতি। পশ্চিম বাংলার সাথে আমাদের মিল হলো তারাও মানুষ আমরাও মানুষ। ভাষাও একশ’ভাগ একরকম নয়। পোষাকেও আমরা এক নই। খাদ্যেও এক নই। ধর্মেও আমরা এক নই। ওরা নিজেদের ভারতীয় হিন্দু ও বাংগালী বলে পরিচয় দেয়। ভারতীয় বাংগালীদের শুধু বাংগালী হিসাবে নিজেদের কোন স্বাধীন সার্বভৌম দেশ নেই। আমরা নিজেদের শুধু বাংগালী হিসাবে পরিচয় দিতে পারিনা। যদি তেমন পরিচয় দিই তাহলে তা হবে অপপরিচয়। শুধু বাংগালী বললে আমাদের স্বাধীন সত্তার পরিচয় সুস্পষ্ট ভাবে প্রকাশ পায়না। শুধু মুসলমান বলেই আমরা আজ একটি স্বাধী সার্বভৌম দেশের নাগরিক। শুধু বাংগালী হলে বা হিন্দু হলে ৪৭ সালেই আমরা ভারতের সাথে থাকতে পারতাম না। তখন আমাদের রাস্ট্র ভাষা হতে হিন্দী, স্ক্রীপট বা বর্ণমালা হতো দেবনাগরী। বাংগালী হিসাবে সেখানে আমরা থাকতাম সংখ্যালঘু বা মাইনরিটি। আজ আমরা মেজরিটি। আমাদের প্রিয়ভাষা বাংলা,যার জন্যে আমরা প্রাণ দিয়েছি।
ধর্মের আবহ ছাড়া পৃথিবীতে একটি দেশ বা রাস্ট্রও নেই। ধর্মের লেবাস,পোষাক বা জুব্বা থাক বা না থাক। ৭শ’কোটি মানুষের ভিতর ধর্মে বিশ্বাস করেনা এমন লোকের সংখ্যা হয়ত দুই-চার কোটি হতে পারে। যারা ধর্ম মানে না তারা অপরের ধর্ম বিশ্বাসকে আঘাত করেনা। জাতি সংঘের সনদে ধর্মকে যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শনের অংগীকার রয়েছে। চলমান পরিবেশ পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে হচ্ছে সরকার,আওয়ামী লীগ ও তার বন্ধুরা ধর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দেশকে এক সংঘাতের দিকে গেছে। ইতোমধ্যে নানা অজুহাতে সরকার প্রায় দু’শ নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। এতে কিন্তু সরকার বা আওয়ামী মলীগের কোন অনুতাপ বা অনুশোচনা নেই। বরং সরকার হুমকি দিয়ে চলেছে,সরকার বিরোধী আন্দোলনকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। এমন কি ধর্মদ্রোহী ,ইসলাম বিদ্বেষী ব্লগারদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকার ধর্মপ্রাণ মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। যে শাহবাগ আন্দোলনকে সরকার দুধকলা দিয়ে পুষেছে তারাও আজ ফনা তুলেছে। সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। একদিকে ১৫ কোটি ধর্মপ্রাণ মানুষের ইসলাম,অপরদিকে নাস্তিক্যবাদ,ধর্মদ্রোহীতা। দেশবাসী দেখছে সরকার ধর্মদ্রোহীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দেশবাসী সবাই জানে শেখ হাসিনার সরকার অন্ধ ভারতপন্থী। ভারত চায় বাংলাদেশ একটি ধর ধর্মহীন রাস্ট্রে পরিণত হোক। ইসলাম গৃহধর্মে পরিণত হোক। দেশে তথকথিত বাংগালী সংস্কৃতির নামে হিন্দুয়ানী জীবন ধারা প্রতিষ্ঠিত হোক। তখন মসজিদ মক্তব মাদ্রাসার প্রয়োজন হবেনা। রাস্ট্র ও সমাজ থেকে ধর্ম বা ইসলামকে বিচ্ছিন্ন করতে পারলেই ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। আওয়ামী লীগ সে কাজটি খুবই বিশ্বস্ততার ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়নের কাজ করে যাচ্ছে। ইসলাম, আল্লাহ ও রাসুল বিরোধী কোন রাস্ট্র আমরা চাইনি। ৭১ মুক্তিযুদ্ধ ইসলাম বিরোধী ছিলনা। ৭১এর মুক্তিযুদ্ধ পৌত্তলিক বাংগালী রাস্ট্র প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ ছিলনা। ইসলাম বাদ দিলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা থাকবেনা। বুঝে হোক, না বুঝে হোক ,আওয়ামী লীগ ইসলাম ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। দেশবাসীকে আজ এ কথা বুঝতে হবে।
লেখক: কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
http://www.humannewspaper.wordpress.com

Read Full Post »