Feeds:
Posts
Comments

Archive for May, 2015


দেশের অর্থনৈতিক সাংবাদিকতার জগতে ইকনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের বিশেষ অবদান ও ভুমিকা রয়েছে। বাজেট রিপোর্টংয়ের ব্যাপারে সদস্যদের জ্ঞান বৃদ্ধির জন্যে ফোরাম নিয়মিত সেমিনার ও ওয়ার্কশপের ব্যবস্থা করে থাকে। তেমনি একটি দিনব্যাপী ওয়ার্কশপের ব্যবস্থা করেছিল ৩০শে মে মেট্রোপলিটান চেম্বারের কনফারেন্স হলে। ইকনমিক রিপোরটারদের ভিতর আমি একজন অবুড়ো বা সিনিয়ার রিপোরটার। এ কাজটি শুরু করেছিলাম ১৯৬১ সালে পাকিস্তান অবজারভারের নবীশ ইকনমিক রিপরোর্টার হিসাবে। তখন বাংলা কাগজ গুলোতে এ বিষয়ে তেমন গুরুত্ব ছিলনা। আমাকেই বলা হতো ডালচালের রিপোর্টার। কাগজ গুলোতে রাজনীতির খবর বেশী গুরুত্ব বেশী পেতো। অবজারভারে পূর্ব পশ্চিমের অর্থনৈতিক বৈষম্য বা ইকনমিক তাঁর ডিসপ্যারিটি নিয়ে বিশদভাবে রিপোর্ট গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হতো। বংগবন্ধু অবজারের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে ভাষন তৈরি করতেন। যদিও তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার সাথে অবজারের দ্বিমত ছিল। অবজারভারে যারা কাজ করতেন তাঁদের রাজনৈতিক চিন্তার সাথেও অবজারভার বা কাগজের মালিক হামিদুল হক চৌধুরী সাহেবের কোন মিল ছিলনা। কাগজের মূল লক্ষ্য ইকনমিক ডিসপ্যারিটি বিষয়ে প্রতিবেদন ও সম্পাদকীয়ের সাথে কারো কোন দ্বিমত ছিলনা।

Advertisements

Read Full Post »


গণতন্ত্রের নানা রূপ নানা জামানায় / এরশাদ মজুমদার

সমাজতন্ত্রের এক দলীয় শাসন আমরা দেখেছি বংগবন্ধুর আমলে। অনেকেই চীন রাশিয়া গিয়ে সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্র দেখে এসেছেন। বংগবন্ধুর জামানায় আমরা গণতন্ত্র ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি দেখেছি। আওয়ামী লীগ কিন্তু কখনই সমাজতান্ত্রিক দল ছিলনা। ভারতের সহযোগিতায় স্বাধীনতা বা মুক্তি লাভ করায় আমরা হয়ে গেলাম ভারত ও রাশিয়ার বন্ধু। ভারত একটি বড় পুঁজির দেশ। রাশিয়ার সাথে বন্ধুত্ব রক্ষা করার জন্যে সমাজতন্ত্রের ভাব ধরেছিল। চীনও এক দলীয় সমাজতান্রিক দেশ ছিল। এখনও এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা বহাল আছে। আর অর্থনীতিতে পুঁজিবাদীয় ভাব এসে গেছে। এখন আমেরিকা চীনের সবচেয়ে বড় বাজার। আমেরিকা চীনের সবচেয়ে বড় ঋণ গ্রহীতা। আসে পাশে যে সব দেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভাবে উন্নতি লাভ করে বিশ্বব্যাপী সুনাম অর্জন করেছে তারা ছিলেন সত্‍ এবং লক্ষ্যে স্থির। তাঁদের প্রত্যেকের রাস্ট্রীয় দর্শণ ছিলো।
বাংলাদেশ এখন একটি সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বলছে, উন্নতি আগে গণতন্ত্র পরে। আওয়ামী লীগের মুখপাত্র নাসিম সাহেব ( বাবা মনসুর আলী সাহেব ছিলেন একজন বিনীত ভদ্রলোক) বলেছেন, বাংলাদেশের জন্যে অতিরিক্ত গণতন্ত্র ভাল নয়। এর মানে সীমিত গণতন্ত্রই যথেষ্ট। এসব কথা আইউব খানও বলেছিলেন। তিনি নাম দিয়েছিলেন মৌলিক গণতন্ত্র। সেই গণতন্ত্রেও আওয়ামী সংসদে ছিলো। যখন সব রাজনৈতিক দল জোট বেঁধে বলেছিলেন তাঁরা পার্টি রিভাইব বা দলীয় কর্মসূচী শুরু করবেন না তখন শেখ সাহেব আওয়ামী লীগকে রিভাইব করলেন। এর মানে আইউবের অধীনে রাজনীতি করতে সবার আগে মাঠে নেমেছেন।
৫৬ সালে আওয়ামী লীগ সোহরাওয়ার্দী নেতৃত্বে ক্ষমতায় গেলো তখন বলা হলো পূর্ব পাকিস্তান বা বাংগালীরা ৯৮ ভাগ স্বায়ত্বশাসন পেয়ে গেছে। তখন কেন্দ্রে ক্ষমতার ভাগাভাগিতে বাংগালীদের শরিকানা ছিল ২০ ভাগ। পশ্চিম পাকিস্তানের ছিল ৮০ ভাগ। পূর্ব পাকিস্তানেও ক্ষমতায় ছিলেন আতাউর রহমান সাহেব। শেখ সাহেব ছিলেন একজন মন্ত্রী। ৫৪ সালে শেরে বাংলার নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠিত হলে আওয়ামী লীগ ছিলো এর বড় হিস্যাদার। তখনও তরুণ নেতা শেখ সাহেব মন্ত্রী ছিলেন। বর্তমানের কথা বলতে হলে পিছনের কথা স্বাভাবিক ভাবেই সামনে চলে আসে। একশ’ভাগ পুঁজিবাদে বিশ্বাসী আলীগ বাংলাদেশ হওয়ার পর সমাজতন্ত্রী হয়ে গেল। পাকিস্তানীদের ফেলে যাওয়া সম্পদ, কল কারখানা, ব্যবসা বাণিজ্য সরকার দখল করে নিল সমাজতন্ত্রের কারণে। কিন্তু এসব কল কারখানা , বাবসা বাণিজ্য চালাবার মতো কোন শিক্ষা বা অভিজ্ঞতা সরকার বা আওয়ামী লীগের ছিলনা। ফলে লুটপাটের অর্থনীতি চালু হয়েছিল। সেই লুটপাটের সময় যাঁরা পুঁজি তৈরি করেছেন তাঁদের অনেকেই এখন পুঁজিপতি, বহু ব্যবসার মালিক। এমন কি বাংগালীদের কল কারখানাও সরকার দখল করে নিয়েছিল সমাজতন্ত্রের নামে। পরিচালনার দায়িত্ব নিলেন আমলা ও আলীগের দেশপ্রেমিক কর্মীরা।
বাংলাদেশের জন্মের শুরুতেই অর্থনীতির অবস্থা ছিল লুটপাটের। বংগবন্ধুর কিছুই করার ছিলনা। তিনি বলেছিলেন চাটার দলে সব খেয়ে ফেলছে। দেশে হাহাকার পড়ে গিয়েছিল। শিশুদের দুধের জন্যে লাইন দিতে হতো। জামার কাপড়ের জন্যেও লাইন দিতে হয়েছে। কাপড়ের অভাবে বাসন্তীকে মাছের জাল পরতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে কয়েক লাখ মানুষ মারা যায়। শেখ সাহেবকে বুঝানো হলো এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করলে সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তিনি তাই করলেন ভারত ও রাশিয়ার এদেশীয় এজেন্টদের পরামর্শে। শেখ সাহেব দেশ ও দেশের মানূষকে ভালবাসতেন এ ব্যাপারে কারো মনে সন্দেহ থাকা উচিত নয়। এক দলীয় শাসণ ব্যবস্থা কায়েমের প্রতিবাদে শুধুমাত্র দুই জন সংসদ সদস্য পদত্যাগ করেছিলেন। যদি ৫০ জন পদত্যাগ করতেন তাহলে শেখ সাহেব এ পথে পা বাড়াতেন না। তিনি বিষয়টি আলোচনার জন্যে সংসদেও পেশ করেননি। শেখ সাহেব বহু দলীয় গণতন্ত্রের সংগ্রামে দুই যুগেরও বেশী সময় জেল খেটেছেন। সেই মানুষটির হাতেই বাংলাদেশে বহু দলীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় শাসন চালু হয়েছিল। এটা ছিল জাতি হিসাবে আমাদের দুর্ভাগ্য। এর আগে নিষিদ্ধ ডান ও বাম দলগুলোর একাংশ গোপনে থেকে নানা ধরণের আক্রমণ চালাতে থাকে। তার সাথে যোগ দিয়েছিল শেখ সাহেবেরই ভক্ত জাসদ। তারা বিপ্লবের মাধ্যমে শেখ সাহেবকে উত্‍খাতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। বিশ্বব্যাপী যখন সমাজতন্ত্রের অবসান হতে চলেছে তখন বাংলাদেশে সমাজতন্ত্রের নামে দেশের অর্থনীতিকে বিনাশের চক্রান্ত চলছিল। উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে ভারতের বাজার বানানো। সীমান্তে তখন মাড়োয়ারীদের কালো বাজারীর উত্‍সব চলছিলো। ভারত যেমন ৪৭ সাল থেকেই পাকিস্তানকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র শুরু করেছিল তেমনি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পংগু করে একশ’ভাগ নিজেদের বাজার প্রতিষ্ঠা করার যড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। শেখ হাসিনা মনে করেন ভারতের সাথে অনুগত বন্ধুত্বের সম্পর্ক রেখেই দেশ শাসন করতে হবে। তাতে ভারত খুশী থাকবে আর তিনি দীর্ঘ মেয়াদের ক্ষমতায় থাকতে পারবেন।
সামরিক সরকার সব সময় মৌলিক অধিকার গুলো খর্ব করেই দেশ পরিচালনা করে থাকে। তাদের মূল শ্লোগান হলো রাজনীতিকরা ব্যর্থ হয়ে গেছে। তাই তাদের ক্ষমতা নিতে হয়েছে। বিশ্বব্যাপী সামরিক নেতারা এসব কথা বলেই ক্ষমতা দখল করে। রাজনৈতিক দলগুলো মারামারি করছিলো বা সেনা নেতারা মনে করলেন তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার কাছে ক্ষমতা তুলে দিতে হবে। অনেকেই মনে করেন, সেনা সমর্থক বা পরিচালিত জেনারেল মইনের তথাকথিত সিভিল সরকার ছিল মূলত দিল্লীর সমর্থিত সরকার। নানা ধরনের নাটক করে তারা শেখ হাসিনার কাছে ক্ষমতা দিয়ে দেশত্যাগ করেছেন। এখন আর দেশে আসেন না। জেনারেল মাসুদ নি:শব্দে চুপচাপ দেশে অবস্থান করছেন নানা ধরনের সওদাগরী নিয়ে। দেশের বিরোধী দল গুলো বিশেষ করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি বাধ্য হয়েই ২০০৮ এর নির্বাচন মেনে নিয়েছিলো। এরপরেই খালেদা জিয়ার উপর নিয়ে এলো হামলা মামলার রাজনীতি। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা জেনারেল মইন ও মাসুদের করা সব মামলা এখনও জারী আছে। সে সময়ে হাসিনার বিরুদ্ধে করা সব মামলাই তাঁর নিজের সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে। খালেদা জিয়ার দুই সন্তানের বিরুদ্ধে করা মামলা গুলো জারী থাকলো। তারা দেশত্যাগী হলেন। একজন বিদেশীই জীবন দিলেন। সেটা নিয়েও আওয়ামী লীগ বহু নাটক ও রাজনীতি করেছে। আজে বাজে কথা বলেছে। আরেকজনকে পংগু করে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। এখন তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করে জবরদস্তি দেশে আনার চেষ্টা চলছে। খালেদা জিয়াকে নানা মামলা দিয়ে রাজনীতি থেকে নির্বাসনে পাঠাবার চেষ্টা চলছে। এক কথায় বলা যেতে পারে দমননীতি ও পুলিশী ক্ষমতা দ্বারা এক ধরণের নতুন গণতন্ত্র চালু হয়েছে বাংলাদেশে। বহুদলের পোষাকে এক দলীয় গণতন্ত্র চালু হয়েছে। এক দলীয় মতকে জোর করে দেশবাসীর উপর চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা অব্যাহত আছে।
ভারতের সাফল্য বাংলাদেশের মানুষকে চিন্তার জগতে বিভক্ত করে রাখা। এক দল বলছে আমরা বাংগালী, আরেক দল বলছে আমরা বাংলাদেশী। একদল বলছে আমরা ইসলামী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করি, আরেক দল ধর্ম মুক্ত বাংগালী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করে। ধর্মমুক্ত আরবী নামধারী নাগরিকরা দীর্ঘকাল দরে ক্ষমতায় থাকতে চায় দমননীতির মাধ্যমে। বাংলাদেশে এখন রাষ্ট্র আর নাগরিকরা বিচ্ছিন্ন। রাষ্ট্র নিজেকে বাঁচাবার নামে সকল অত্যাচারী আইন গুলো বহাল করেছে। যেমন করেছিল বৃটিশরা। যেমন করেছিল পাকিস্তানের সামরিক শাসকগণ। এখন রাজনীতি নিয়ে কথা বলেন পুলিশ ও বিজিবি নেতারা। তাঁরা নাকি গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রকে বাঁচাবার জন্যে জীবন দিচ্ছেন। শেখ হাসিনাকে সন্ত্রাসীরা হত্যা করতে পারে এই শ্লোগান তুলে জনগণের উপর নিবর্তন দিন দিন বেড়ে চলেছে। গণতান্ত্রিক ধারায় সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ ও দিনদিন সীমিত হয়ে যাচ্ছে। আমরা লেখরা সরকারের সমালোনা করি ক্ষমতা দখলের জন্যে নয়। আমাদের লক্ষ্য দেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, গণতন্ত্রকে বিকশিত হতে সাহায্য করা। ক্ষমতায় কে বা কোন দল আসবে তা নির্ধারন করবে একটি অবাধ স্বাধীন নির্বাচন হয়। চলমান নির্বাচন গুলোকে দেশ বিদেশ কেউই সমর্থন করেনা। কিন্তু সরকার বা আওয়ামী লীগ মনে করে নির্বাচন ঠিক আছে। বরং নির্বাচনের সমালোচকদের আওয়ামী নেতারা অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেন। বাংলাদেশে এখন হাজার হাজার বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মী মানবতা বিরোধী আইনে জেলে আছেন। বিএনপি ও জামাতের সকল নেতাই এখন জেলে আছেন। এদের বিরুদ্ধে বহু রকম মামলা। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে খুনের মামলা জারী হয়েছে। সরকার প্রধানের কথা বার্তায় এটা দৃশ্যমান ভাবেই প্রমান হয়েছে যে, সরকার বা তিনি রাষ্ট্রের দমন ক্ষমতা ব্যবহার করে বিরোধী দল ও মতকে পরাস্ত করবেন। এখনতো মনে হচ্ছে তিনি এ ব্যাপারে বেশ সাফল্য অর্জন করেছেন। যেমন সাফল্য অর্জন করেছিল জেনারেল আইউব, জেনারেল ইয়াহিয়া ও জেনারেল এরশাদ। আপনারা নিশ্চয়ই ভাবছেন আমি জেনারেল জিয়ার কথা বলছিনা কেন। ভাববারই কথা। জিয়া ছিলেন একজন অপরিচিত ব্যক্তি। ২৬শে মার্চের স্বাধীনতার মাধ্যমেই আমরা তাঁর নাম শুনতে পাই। একজন মেজর জাতির মহা দুর্দিনে এক বিরাট আশার বাণী শুনিয়েছেন । আমি নিজেও এ বাণী বা আহবান শুনতে পেয়েছি। এরপর বহুদিন তাঁর নাম আমরা শুনতে পাইনি। তিনি ছিলেন সামরিক একজন বড় অফিসার। আবার তাঁর নাম শুনেছি ৭ই নবেম্বর জাতির দুর্দিনে। ১৫ই আগস্টের মর্মান্তিক বেদনাদায়ক ঘটনার পর আওয়ামী লীগের এক সিনিয়র নেতা খোন্দকার মোশতাক মার্শাল ল’ জারী করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। জিয়া সাহেবকে সেনাপ্রধান নিযুক্ত করেন। এরপরেই আমরা জিয়া সাহেবের নাম শুনতে থাকি এবং কালক্রমে তিনি রাষ্ট্র প্রধান হন। আওয়ামী লীগ ও ভারতপন্থী ঘরাণার লোকেরা জিয়া সাহেবকে দেখতে পারেন না। আওয়ামী লীগ জিয়া সাহেবকে বংগবন্ধুর হত্যাকারী হিসাবে প্রচার করেন। কিন্তু সে সময়ের সেনাপতি সফিউল্লাহ সাহেবকে আপন লোক মনে করেন। আমার মনে হয়, জিয়া সাহেবের বিশাল জনপ্রিয়তাকে হেয় করার জন্যেই আওয়ামী লীগ প্রচারনা চালায়। অনবরত জিয়া বিরোধী প্রচারনা চালিয়ে তাঁরা মনের বা ইচ্ছার অজান্তেই জিয়া সাহেবকে বংগবন্ধুর প্রতিদন্ধী হিসাবে খাড়া করেছেন। জগতে একদল মানুষ ও সংগঠন আছে যাঁরা মনে করেন আধুনিক বিশ্বের প্রধান সমস্যা ইসলাম বা মুসলমান। ফলে ইসলাম হয়ে গেছে প্রধান আলোচ্য বিষয়। বাংলাদেশের চলমান সরকার ইসলাম ও জিয়াকে সেই দৃষ্টিতেই দেখে। জিয়া তাঁদের শত্রু এবং ইসলামও। অনেকেই বলেন ইসলাম নয়, সন্ত্রাসী ও জংগী মুসলমানেরা। এক সময় কমিউনিজম ও কমিউনিষ্টদের জগতের শত্রু মনে করা হতো। কমিউনিজম এখন বুড়ো হয়ে গেছে। মত ও আদর্শও ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। আওয়ামী মজনু বা মোস্তানেরা এখন মনে করেন খালেদা জিয়াও বংগবন্ধু হত্যার সাথে জড়িত। এ ধরনের প্রচারণার উদ্দেশ্য হলো বিএনপি ও ভিন্ন মতকে পরাজিত করা বা দেশের তিন চার কোটি মানুষের মতকে দমন করা। বিদেশে অনেকেই জিয়া সাহেবকে দ্যগলের সাথে তুলনা করেন। জিয়া সাহেবই বাকশালের পর বহু দলীয় রাজনীতি ও মতের প্রতিষ্টা করেন।
আলোচনার বিষয় হচ্ছে গণতন্ত্রের স্থান কাল ও রূপ নিয়ে। আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনা ও বংবন্ধুর গণতন্ত্রের রূপ কি রকম ও সত্যিকারের গণতন্ত্রের চিন্তা ও ভাবনা কি রকম। বংগবন্ধু বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিরক্ত হয়ে একদলীয় ও একমতের গণতন্ত্র বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শেখ হাসিনা বংগবন্ধুর চেয়ে হাজার গুণ বেশী বুদ্ধিমতী ও কৌশলী। তিনি দেশকে নতুন নির্বাচন পদ্ধতি উপহার দিয়েছেন। সকল দল ও মত দৃশ্যমান ,কিন্তু ভিত সন্ত্রস্ত। সবাই দেখছে আপনি জীবিত, আসলে আপনি মৃত। তবে এ ধরণের গনতন্ত্র জগতে আরও বহুদেশে আছে বা ছিল। মার্কোস, জেনারেল সুহার্তো, পার্ক চুং হি, হোসনী মোবারক, সাদ্দাম ও গাদ্দাফী। সউদী আরব, মিশর,জর্ডান বা মরক্কোতেও এক ধরণের গণতন্ত্র আছে। এসব দেশেও গুম খুন আছে। তবে ভিন্ন মত নাই বললেও চলে। গণতন্ত্রকে ত্যাগ করে সীমিত গণতন্ত্রের মাধ্যমে বহুদেশ উন্নতির পথে এগিয়ে যাওয়ার পথ ধরেছে। যেমন গণচীন, সিংগাপুর ও মালয়েশিয়া ও নর্থ কোরিয়া।
গণতন্ত্রকে বাদ দিয়ে বংগবন্ধু দেশের উন্নতি চেয়েছিলেন হয়ত। কতৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থা দেশের মানুষকে অসহায় করে তোলে। শেখ হাসিনা এখন সে পথে পাকাপাকি চলতে শুরু করেছে। তিনি বিরোধী দলকে নানা ভাবে নিষ্কৃয় বা দমন করে রাজনীতি থেকে বিতাড়িত করার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। তবে আমি মনে করি তার রাজনৈতিক লক্ষ্য যদি হয় দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতা থাকা তাহলেতো তিনি সাদ্দাম, গাদ্দাফি, হোসনী মোবারক, মার্কোস বা সুহার্তোর পথে চলতে পারেন। তিনি জানেন, বিরোধী দলকে দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতার বাইরে রাখতে পারলে তারা এমনিতেই দূর্বল হয়ে যাবে। সরকারের সমালোচক লেখক ও বুদ্ধজীবীরাও
নিস্তেজ হয়ে যাবে। ধরে নিবে এটাই ভাগ্যের নিয়তি। তবে আধা গণতন্ত্র বা সিকি গণতন্ত্র ও দমননীতিতে অদৃশ্য শক্তি বল প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার উত্‍খাতের চেষ্টা করতে পারে। বিশাল ভারত বিভিন্ন অঞ্চলের সশস্ত্র বিদ্রোহীদের দমন করেছে বিগত ৬০ বছর। সিংহলের তামিল বিদ্রোহীদের সহায়তা দিয়েছে, সিকিমের সংসদে স্বাধীনতা বিরোধী পরাধীনতার আইন পাশ করিয়েছে। নেপালের রাজ পরিবারকে উত্‍খাত করে ভারতীয় গণতন্ত্র চালু করেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও ভয় দেখিয়ে নিজেদের স্বার্থ আদায় করতে পারে। এখনতো বাংলাদেশে ভারতীয় গোয়েন্দা ও ইজরায়েলী গোয়েন্দার যৌথ কর্ম বিস্তারিত হচ্ছে বলে লোক মূখে শোনা যায়। উদ্দেশ্য দীর্ঘ মেয়াদে সরকারকে সহযোগিতা করা বিরোধী দলকে দমন করে ক্ষমতাহীন করা ও শেখ হাসিনাকে দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতা রাখার পথ সুগম করা।
লেখক: কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
ershadmz@gmail.com

Read Full Post »


বাজেট ও আমি বা আমরা  / এরশাদ মজুমদার

আমি বহু বছর বাজেট রিপোর্টিং করেছি। এ কাজ করতে করতে বুঝতে পেরেছি বাজেট কি ও কেন? সরকারী লোকেরা বুঝায় বাজেট খুবই একটা কঠিন বিষয়। প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রীরা কি জানেন বাজেট কি জিনিষ? না জানেন না। জানার দরকার হয়না। অর্থমন্ত্রী কি জানেন? না তিনিও জানতেন না। তিনি নাকি ইংরেজীর ছাত্র ছিলেন। সরকারী আমলা হওয়ার কারণে তিনি সবজান্তা হয়ে গেছেন। সাবেক সিএসপি বা তারও আগে  আইপিএস গণ সরকারের চামুচ বা ডাব্বা    ছিলেন। এই চামুচ বা ডাব্বারা ই সরকার চালাতেন। এখনও তাঁরাই সরকার চালান  এদের মূল ট্রেনিং হলো মন্ত্রীদের সহযোগিতা করা ও নিজেদের  শ্রেষ্ঠ মনে করা। শুনেছি, আমাদের জাতীয়নেতা ও বাংলাদেশের স্থপতি বংগবন্ধু নাকি আমলাদের মারধর করতেন। আর তাঁর অনুসারীরা হাততালি দিয়ে বাহবা দিতেন। অনেকেই বাপের ব্যাটা বলে জাহির বলে করতেন। বংগবন্ধু জানতেন বাংগালীরা কি চায়। তাই জনগণকে নিজের মতো করে চালাতেন। ও রকম করে কথা বলতে পারতেন না দলের প্রথম কাতারের অন্য নেতারা। ফলে বংগবন্ধুই হয়ে গেলেন কালক্রমে বাংগালীদের  একমাত্র নেতা । চলমান রাজনীতিতে বাংলাদেশে সেই ধারাই অব্যাহত রয়েছে। রাজনীতিবিদদের তেমন কিছু না জানলেই চলে। নয়া গণতন্ত্রে ভোটার না হলেও চলে। কোন বিখ্যাত ব্যক্তি বলেছিলেন নির্বাচনে ভোটার কোন বিষয় নয়, বিষয় হচ্ছে  ভোট গণনা। যারা গনক তাঁরাই আসল নায়ক। আমার লেখা গুলো সারা দেশের মানুষর জন্যে নয়, কারণ কোটি কোটি মানুষ এখনও পড়তে পারেন না। পাকিস্তান আর বাংলাদেশ মিলিয়ে ৬৭ বছর পার হতে চলেছে। এখনও দেশের সব মানুষ সব মানুষ শিক্ষিত হতে পারেনি। ৪৪ বছরের বাজেটে উন্নয়ন হয়ত অনেক হয়েছে। কিন্তু কেন যে ১০০ ভাগ মানুষ শিক্ষিত হতে পারছেনা তা আমার বোধগম্য নয়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল ( সম্পদের বাবা ) আবদুল মুহিত কয়েক যুগ ধরে দেশের অর্থ সচিব ও মন্ত্রী ছিলেন এবং আছেন।
বাজেট প্রণেতারা বলেন, জিডিপি কত হবে, মাথাপিছু আয় কত হবে, সারা বছরে কত খাজনা আদায় হবে, কত উন্নয়নে ব্যয় হবে, সরকার চালাতে কত খরচ হবে। আড়াই লক্ষ কোটি যদি খাজনা বা রাজস্ব আদায় হয় উন্নয়নে ব্যয় হবে এক লক্ষ কোটি টাকা। যা শেষ পর্যন্ত হয়না। পদ্মা সেতুর দশ হাজার কোটি টাকার বাজেট এখন ৪০ হাজার কোটি টাকা। উড়াল সেতু বা ফ্লাইওভার গুলোর অবস্থাও তাই প্রতি বছর খরচ বাড়ছে।
বাজেটে কিন্তু কালো টাকা বা ঘুষের খবর থাকেনা। থাকেনা টাকা পাচারের কথা। ধনীরা ঘুষ ঘাস দিয়ে ব্যবসা করে রাতারাতি হাজার কোটি টাকার মালিক হন। দেশে সব টাকা রাখা নিরাপদ নয় বলে ধনীরা বিদেশে টাকা রাখেন। সরকারী বিনিয়োগের ৮০ ভাগই হয় নগরে আর বড় বড় শহরে। উন্নয়নের ৮০ ভাগই ব্যয় হয় শহরের জন্যে। মহানগর গুলোতে প্রতিদিনই গ্রামের মানুষের ভিড বাড়ছে। নগরে ভাসমান মানুষ বাড়ছে। বস্তি বা স্লামে, ফুটপাতে, বাসষ্ট্যান্ডে স্টেশনে রাতের নগর দেখুন। শুনেছি রাজধানীতেই ৫০ লাখ ভাসমান মানুষ আছে। গুলশান বনানীর পাশেই রয়েছে রাজধানীর বৃহত্তম করাইল বস্তি। কেন এ বস্তি সরকার লালন করছেন তা কারো বোধগম্য নয়। অনেকেই বলেন রাজনীতির জন্যে বস্তিবাসীকে সরকার আদর করেন। সাব বা উপনেতরা এসব বস্তির উপর বেঁচে থাকেন। বস্তিগুলোতে যৌন খামার চলছে। দশজনের আয় রোজগার হচ্ছে। এমন কি গুলশানেও খালি প্লটে বস্তি জমে উঠেছে। বস্তি গুলোকে কেন্দ্র করে দামী দামী এনজিওর ব্যবসা চলছে। গুলশানের একটি বস্তিতে ব্রাকের একটি স্কুলে এখন খাবার দোকানের কারখানা বসেছে। ব্রাকের কাছে হয়ত এ খবর নাই। ব্রাক হয়ত বড়ভাইদের ঘাটাতে চায়না।
মাস্তানী, চাঁদাবাজি, ছিনতাই,গুম খুন ইত্যাদিতে বছরে কত টাকার লেনদেন হয় তা বাজেটে উল্লেখ হয়না। গৃহ শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক,লাখ লাখ ভিক্ষুক,কুলি কামিন, রিকসাওয়ালারা অর্থনীতিতে কোন অবদান রাখে কিনা তার কোন উল্লেখ থাকেনা। সারাদেশে কত ভিক্ষুক, কত রিকশাওয়ালা, মুটে, ঠেলাগাড়ী আছে তার কোন হিসাব কোথাও পাওয়া যায়না। কতলাখ নারী নিজের প্রতিষ্ঠান,সংসার, জমিতে বিনা পারিশ্রমে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন তারও কোন হিসাব নাই কোথাও। বেশী উত্‍পাদন হলে কৃষক মারা পড়ে তার কথাও বাজেটে থাকেনা। কি কারণে কৃষকের ও তার গরুর বুকের হাঁড় দেখা যায় দেখা যায় তার কোন ব্যখ্যা বাজেটে থাকেনা। কৃষকেরা যদি বছরে তিন কোটি টন ধান বা চাল উত্‍পাদন করে তার আমদানী দাম কত? ডলারে হিসাব করলে কত বিলিয়ন হয়। সরকার যদি ওই পরিমাণ চাল আমদানী করে তাহলে কত বিলিয়ন ডলার লাগতো তা বাজেট পড়ে আমরা জানতে পারিনা। আমরা শুধু জানতে পারি পোষাক রফতানী কারকেরা দেশের জন্যে ২০ বিলিয়ন আমদানী করেন। অর্থনৈতিক রিপোর্টার হওয়ার কারণে জানি কিভাবে পোষাক রফতানীর কাজ শুরু হয়েছিল। কিভাবে ব্যান্ক গুলো পোষাক রফতানীতে আগ্রহী উদ্যোক্তাদের দুইশ’ সেলাই মেশিনের কারখানার জন্যে ঋণ দিয়েছিল। এটা শুরু হয়েছিল ন্যাশনাল ব্যান্কের মাধ্যমে অবিসংবাদিত উন্নয়ন ব্যান্কার হায়দার চৌধুরীর উদ্যোগে। সে সময়ে কোন উদ্যোক্তারই তেমন মূলধান ছিলনা। ভাড়া বাড়িতে ব্যান্কের ঋণ নিয়ে কাজ শুরু হয়েছিল। এখন পোষাক শিল্পে ৪০ লাখ নারী শ্রমিক আধপেটা খেয়ে বস্তিতে থেকে দেশের ও মালিকদের খেদমত করে যাচ্ছে। বেশী মুজুরী দিলে নাকি ব্যবসাটা চীন, ভিয়েতনাম বা ভারতে চলে যাবে। তাই শ্রমিকদের আধপেটা খেয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের গরীব শ্রমিকদের না খাইয়ে আমেরিকান বা ইউরোপিয়ানদের গায়ে সস্তায় দামী জামা উঠছে। ইতোমধ্যে হাজার হাজার পোষাক শ্রমিক আগুণে পুড়ে বা ভবন ধ্বসে মারা গেছে। মৃত শ্রমিকদের আজও তেমন ক্ষতিপুরণ দেয়া হয়নি। কিন্তু এ ব্যাপারে মন্ত্রীদের কথার ফুলঝুরি থামেনি।
সাগরে হাজার হাজার ভাসমান বাংলাদেশীর অবস্থা দেখলে মনে হয় মধ্যম আয়ের দেশ হতে আরও কাল সময় লাগবে। দেশে এখন লাখ লাখ মানুষ বেকার। দু’মুঠো ভাতের জন্যে অবৈধ পথে বিদেশ পাড়ি দিয়েছে নিজের বালবাচ্চা নিয়ে। জাতিসংঘ ও আমেরিকা এ ব্যাপারে আকুল আবেদন জানিয়েছে বিভিন্ন দেশকে দু:স্থ মানুষ গুলোকে আশ্রয় দেয়ার জন্যে। বাংলাদেশের মহা গণতান্ত্রিক সরকার এখনও কার্যকরি কোন পদক্ষেপ নেয়নি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিজের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের স্মরণ সভা করছেন তাঁর ভক্তদের নিয়ে। রাম যেমন বনবাস থেকে ফিরে এলে অযোধ্যায় উত্‍সবের ঢল নেমেছিল। সারা রাজ্য আলোক সজ্জিত হয়েছিল। সে তুলনায় আমাদের প্রধানমন্ত্রী তেমন কোন বড় আনন্দ করেননি। তবে কাঁদো কাঁদো হৃদয়ে জাতিকে কিছু বাণী দিয়েছেন। এমন কান্নার সময় তিনি বিএনপি জামাতের কথা ভুলতে পারেননি।
আমি আলোচনা করছিলাম আগামী বাজেটে পোড়া কপাল গরীব গুলোর ভাগ্যে কি আছে। আমাদের দেশের বাজেট কিন্তু কখনই বৃহত্তর জনগোষ্ঠির কথা মনে রেখে তৈরী হয়না। আমি নিজে ৭০ বছর আগে যে পরিবারকে গরীব দেখেছি তারা আজও গরীব আছে। আমি নিজে একজন সীমাহীন দরিদ্র নারীকে চিনি যিনি স্বামী পরিত্যক্তা, সাথে রয়েছে তিনটি নাবালক সন্তান, যার ভিতর দুটি মেয়ে। এই বাপের বাড়িতে এসেও ভাইদের কাছে ঠাঁই পাচ্ছেন না। বাপ মা বলেন আমরা ছেলেদের উপর খাই। আমাদের করার মতো তেমন ক্ষমতা নেই। এখানে ইসলাম বা সরকারের কিছু করার নেই। স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করে দশ বছরেও কিছু হয়নি। কিসের আশায় উকিল মামলা চালাবে? বাংলাদেশতো আর ইসলামিক দেশ নয়। যদিও বলা হয় দেশের নব্বই ভাগ মুসলমান। কিন্তু মুসলমানী বা কোরাণিক আইন মোতাবেক চলেনা। দেশ চলে গোরা সাহেবদের আইন মোতাবেক। ওই মহিলা মানুষের কাছ থেকে জাকাতের কিছু টাকা সংগ্রহ করে ব্যান্কে জমা রেখেছে। আর অমনি ব্যান্ক বলে বসলো আপনার যদি টিআইন না থাকলে ১৫ শতাংশ হারে আয় কর দিতে হবে। মহিলাতো আকাশ থেকে পড়লেন। গরীবের কেমন করে হবে। আমিতো লোকজন দয়ায় চলি। ব্যান্ক জানালো আমরা কোন ধরেণের দয়া দেখাতে পারবোনা। আপনি যদি ভিক্ষা করেও টাকা রাখেন আয়কর আপনাকে দিতে হবে। এ ব্যাপারে আমাদের বাজেট নীরব। যদিও বলা হয় আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর আয়কর নাই। হুজুর আমিতো ভিক্ষা করে খাই। আমিতো সীমাহীন দরিদ্র। তিনটি ছেলে মেয়ে খেয়া না খেয়ে বেঁচে আছি। তাহলে কি এদেশে কি জাকাতের সাহায্য নেয়া যাবেনা? বাংলাদেশের নাগরিক এই মহা দরিদ্র নারীকে কোন উত্তর দিতে পারিনি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি বিষয়টার প্রতি। তিনি কোন পথা খুঁজে বের করতে পারেন কিনা। ভাবছি ব্যান্ক বা আয়কর বিভাগ প্রশ্ন তোলেন আপনার টাকার উত্‍স কি? তাহলে তখন ওই মহিলা উত্তর দিবেন? চোর ডাকাতের ভয়ে মহিলা ব্যান্কের কাছে রেখেছেন। তিনিতো ভাববেন এনজিওর কাছেই টাকাটা রাখা ভাল ছিল। এ ধরণের লাখ লাখ নারী আছেন আয়কর বিভাগের ভয়ে ব্যান্কে টাকা না রেখে সুদখোর মহাজন ও এনজিওদের কাছে রাখেন। রাজধানী বা ছোট শহর গুলোর সাংবাদিকরা এ ধরণের ছোট বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেন না। বাংলাদেশে কয়েক হাজার কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন হয়। এসব টাকা আলোর জগতে আসেনা। বাংলাদেশ ব্যান্ক ভালই জানে অন্ধকার জগতে কতটাকা আছে। ভালো ধনীরা বিদেশে গোপনে টাকা পাচার করেন,ওই টাকা দিয়ে দিয়ে বিদেশে বাড়ি কিনেন, ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার খরচ চালান। দেশে যারা কালো টাকা রাখেন তাঁরা জমি ও বাড়ি ঘর কিনেন। তাঁদের কিছু সুযোগ সুবিধা না দিলে সরকার বাঁচবে কি করে। সরকারকে রক্ষা করবে কারা? গণতন্ত্র রক্ষা করার জন্যে হলেও কালো টাকাকে সুযোগ সুবিধা দিতে হবে। একজন গরীবতো আর সরকারকে কোন ধরণের সাহায্য করতে পারেনা। নগরের বস্তিতে যাঁরা থাকেন তাঁরাতো মিছিল করে সরকারকে জনপ্রিয়তার ব্যাপারে সাহায্য করতে পারেন। শুনেছি মিছিলের মহাশক্তি বস্তির মানুষ। হয়ত বস্তির ওই মানুষ গলোর গ্রামে জমি জিরাত বেশ ছিল। সুখের সংসার ছিল। হয়ত নদী ভাংগন, নয়ত কৃষি উত্‍পানের খরচে বেড়ে গেছে, পণ্যের দাম কমে গেছে। ৪৭ সাল থেকে অব্যাহত শেষণের ফলে প্রান্তিক চাষীরা ঘরবাড়ি ছেড়ে শহরে এসে বস্তিতে উঠেছে। এসবই হচ্ছে বাজেটের কারণে।
শিক্ষিত মধ্যবিত্তরা সবচেয়ে কষ্টে আছেন। ঘুষ ছাড়া সরকারি চাকুরী করলে তার জীবন বস্তির মতো। তাই বাধ্য হয়ে তারা ঘুষের আশ্রয় গ্রহণ করেন। একজন আয়কর ইন্সপেক্টর আমার বাড়িতে এসেছিলেন কিছু অনুসন্ধানের জন্যে। তিনি ঘাম মুছতে মুছতে বললেন, রাহা বা পথ খরচ পাই মাসে মাত্র ৭৫ টাকা। আমি বললাম, চিন্তার কিছু নাই আমি দিয়ে দেবো। ভালোই হলো রাহা করচ বলে দিলাম, ঘুষ হলোনা। ঘুষ বা রাহা খরচ বলুন তা দিয়েই গরীব(?) ইন্সপেক্টর সাহেবকে চলতে হয়। আবার অনেকেই বলেন, স্যার শুধু সরকারকে দিলে চলে কি? আমরা বাঁচবো কেমন করে। বেতন যা পাই তা সব বাড়ি ভাড়াতেই চলে যায়। এ বারের পে কমিশনে ছোটলোকদের ( নিম্নপদের কর্মচারী) বেতন ধরা হয়েছে ৭৫০০ টাকা। আর সাহেবদের বেতন ৮০ হাজার টাকা। বড় সাহেবরা বড় বড় প্রকল্প নিয়ে কাজ করেন। সেখানে উপরি বা সন্মানী পাওয়া যায় শত শত কোটি টাকা। মন্ত্রী সাহেবেরা নাকি সালামী না পেলে কোন কাগজে দস্তখত দেন না। এসব কথা বাজেটে গোপন থাকে।
কালো টাকার কথা বাজেটে প্রায়ই থাকে। বুদ্ধিজীবীরা সারা জীবন কথা বলে যাচ্ছেন তবুও কালো টাকার জন্ম হচ্ছে। বাংলাদেশে ঘুষ আছে, সন্মানী আছে, জমি বেচা কেনায় কম বেশী আছে, সীমান্ত ব্যাবসায় প্রকাশ্য এবং গোপন বা অপ্রকাশ্য আছে, আমদানী রফতানীতে মূল্য কমবেশী দেখাবার ব্যবস্থা আছে । এসবের হেরফেরে কালো টাকার জন্ম হচ্ছে দিনরাত। কোন সরকার কি কখন কালো টাকার জন্ম বন্ধ করতে পেরেছে? কেমন করে বন্ধ হবে, একবার এমপি হলেইতো সারা জনমের আয় রোজগার হয়ে যায়। মন্ত্রী হলেতো কথা নেই। কালো টাকা দূর করা যাবেনা, কালো রাজনীতি ও কালো বিড়াল থাকবেই। বাজেটে কি এসব কথা থাকে? সংসদে বাজেট আলোচনায় কি কেউ কখন এসব নিয়ে কথা বলেন?
এবার বলি বাজেটের সাথে আমার কি সম্পর্ক। আমার বয়স এখন ৭৫। কর্মজীবন থেকে অবসর নিয়েছি। সাংবাদিকতার কারণে আমার কোন পেনশন নেই। এ পেশায় ন্যায্য পাওনাও পাওয়া যায়না। আমরাতো ৬০ দশকের সাংবাদিক। তখন সাংবাদিকদের তেমন সুযোগ সুবিধা ছিলনা। এখন সাংবাদিকরা সিইও(প্রধান নির্বাহী) হয়। আবার ইউনিয়ন নেতা হয়। সুযোগ সুবিধার কোন শেষ নেই। এখন সাংবাদিকরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতি অনুগত। সে হিসাবেই সাংবাদিকতা চলে। প্রেসক্লাব বা ইউনিয়ন নেতা কে হবেন তা দলীয় প্রধানরা ঠিক করে দেন। আমি এখন বাড়ি ভাড়ার আয় দিয়ে জীবন যাপন করি। ফেণী থেকে বাড়ি ভাড়া পাই। সেটা আয়কর বিভাগে দেখানো আছে। যা আয় তা তারা বিশ্বাস করেন না। নিজেরাই ঠিক করে দেন। ঢাকায়ও বাড়ি ভাড়া পাই। সবই আয়কর বিভাগে দেখানো আছে। আমার বেগম সাহেবার কাছে থেকে কোন সময় আমি ধার নিয়েছিলাম তা আমার মনে নাই। তাই ফেরত দেওয়ার কথাও মনে ছিলনা। এতা যে ফেরত দিতে হবে জানতাম না। ফলে আমার জরিমানা হয়েছে আইন ভংগের অপরাধে। বয়সের কারণে সব কথা মনে থাকেনা। চলাফেরা করতেও কষ্ট লাগে। এদিকে আয়কর বিভাগের মানসিক চাপে ক্লান্ত পড়েছি। আমিতো আয়কর দিতে চাই। আমার দৃশ্যমান আয়েরও কোন পরিবর্তন নেই। কিন্তু আয়করের কোন হিসাব নেই। অপরদিকে আয়কর উকিলকে বাত্‍সরিক ফি দিতে হয়। সরকারকে অনুরোধ করি বৃদ্ধদের জন্যে কিছু করুন। সরকারতো আর বৃদ্ধ হয়না তাই বৃদ্ধদের সুখ দু:খ বুঝতে চায়না। আমাদের অর্থমন্ত্রীর বয়স কত আপনারা কি জানেন? অবসর নিলে কি কষ্ট তিনি জানেন। তাই তিনি সব সময় পদের পিছে ঘুরেন। কারণ, অবসর নিলে তিনি চলতে পারবেন না। কে তাঁর বিল দেবেন? আমারতো পিয়ন চাপরাশী নেই। নিজেই সব করতে হয়। বৃদ্ধ হওয়ার কারণে নানা অসুবিধায় পড়তে হয়। আগেও একবার লিখেছি। আমার বয়স ৭৫ হওয়ার কারণে এক ব্যান্ক আমাকে ক্রেডিট কার্ড দিতে অস্বীকার করেছে। বাংলাদেশ ব্যান্ক নাকি বৃদ্ধদের ক্রেডিট কার্ড দিতে নিষেধ করে সার্কুলার জারী করেছেন। সরকারী সেবা প্রতিষ্ঠানের নানা ধরনের চাপেও আমরা অস্থির। পানি বা বিদ্যুত বিলের কোন ঠিক নেই। সিটি কর্পোরেশন কোন কিছু না করেই কর বাড়িয়ে যাচ্ছে। সেখানেও জনসেবার কোন চিহ্ন দেখতে পাইনা। খাতির থাকলে বসার জন্যে টুল বা চেয়ার পাবেন। তা না হয় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। একবারতো বিভাগীয় কমিশনার সকাল দশতায় ডেকে বিকেল চারটায় দেখা করলেন। দেখা করে কথা বলতে পেরেছি মাত্র চার মিনিট। কারণ, আমার বা আমাদের বিষয়টা তাঁর কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিলনা। চারিদিকে যা অবস্থা দেখছি তাতে একদিন বাড়িঘর ছেড়ে বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে উঠতে হবে ,অথবা দেশত্যাগ করতে হবে।
লেখক: কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
ershadmz@gmail.com

Read Full Post »