Feeds:
Posts
Comments

Archive for December, 2010


assang

Julian Assange

যারা বিশ্বাস করেন শুধু তাদের জন্যে লিখছি। আপনারা জানেন, আল কোরাণের বাণী একটি সার্বজনীন বানী। এই গ্রহের যেকোন মানুষ এই বাণীতে বিশ্বাস ও আস্থা রাখতে পারেন। কোরাণ শুধু মুসলমানদের জন্যে নয়। এই নিবন্ধের শিরোনাম দেখে আপনারা ভাবছেন উইকিলিক্সের সাথে আল কোরাণের সম্পর্ক কোথায়? আছে সম্পর্ক। ব্যক্তির গোপনীয়তা বা রাস্ট্রের গোপনীয়তা নিয়ে আল কোরাণ সুস্পস্ট ভাষায় নির্দেশনা দিয়েছে। এই দুনিয়ায়  আমাদের জীবনে নানা গোপনীয়তা আছে। অনেক গোপনীয়তা আছে যা আমাদের অতি প্রিয়জনেরাও জানেনা। জগতবাসীও জানেনা। তেমন গোপনীয়তা সম্পর্কে সুরা বণি ইসরাইলে আল্লাহপাক বলেন, মানুষের গোপন বিষয় তার কন্ঠলগ্ন কর রেখেছি। তার মুখের কথা সব দুইজন ফেরেস্তা লিপিবদ্ধ করে রাখছে। কেয়ামতের দিন সেই অদৃশ্য কিতাব সে খোলা পাবে এবং সব গোপনীয় বিষয় সে দেখতে পাবে। সে নিজেই নিজের বিচার করতে পাবে। কিছু গোপনীয়তা আছে যা কারো ক্ষতি করেনা। তা গোপন রাখার জন্যেই আল্লাহপাক গোপন রাখার জন্যেই বলেছেন। কিন্তু মানুষের বা সৃস্টির ক্ষতি করে এমন সব গোপন বিষয় প্রকাশ করে দিতে আল্লাহপাক নির্দেশ দিয়েছেন।

উইকিলিক্স মানুষের গোপন কথা জানেনা। আমেরিকা ও তার বন্ধুরা বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশ ও মানুষের যে অন্যায় কাজ করে বেড়াচ্ছে তার কিছু উইকিলিক্স প্রকাশ করেছে। এতে নাকি আমেরিকা বন্ধুদের মান ইজ্জত নিয়ে টানাটানি শুরু হয়ে গেছে। এতে নাকি বিশ্ব কূটনীতিতে বড় রকমের ধ্বস বা সুনামী নেমে এসেছে। আমেরিকার বিদেশ মন্ত্রী হিলারী ক্লিনটন গোপন বিষয় ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বন্ধুদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। উইকিলিক্সের ওয়েব হোস্টিং কোম্পানী নিজেদের একাজ থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে।ফলে আমেরিকা থেকে এই ওয়েব সাইটের প্রচার বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু উইকিলিক্স এখনও তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে অন্য একটি দেশ থেকে। ইতোমধ্যেই উইকিলিক্সের প্রতিস্ঠাতা অ্যাসান্জকে হাইটেক টেরোরিস্ট বলে প্রচার করা হয়েছে। অ্যাসান্জ বলেছেন, তাকে যদি আমেরিকার কাছে হস্তান্তর করা হয় তাহলে তারা তাকে হত্যা করবে। আমেরিকা মনে করে উইকিলিক্স সবচে বেশী নাজুক পরিস্থিতিতে ফেলেছে তাদের প্রশাসনকে। একথা সত্যি যে , বিশ্বব্যাপী আমেরিকার নজরদারী ও গোয়েন্দাগিরির সব খবর ফাঁস করে দিয়েছে। সভ্য ও গণতান্ত্রিক  আমেরিকার মুখোশ খুলে পড়েছে। আমেরিকা বিশ্ববাসীকে গনতন্ত্র মানবতা তথ্য অধিকার শান্তির কথা শোনায়। সেই আমেরিকা কথায় কথায় ভিনদেশ আক্রমন করে। লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করে। মিথ্যা অভিযোগ তুলে ইরাক আক্রমন করে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে। সেই দেশের প্রেসিডেন্ট সাদ্দামকে ফাঁসি দিয়েছে।এত কিছুর পরেও ইরাকে শান্তি আসেনি। গনতন্র্রও আসেনি। তারপর তালেবান ও আল কায়দার কথা বলে আফগানিস্তান আক্রমন করেছে। এখনও সেখানে যুদ্ধ করে যাচ্ছে। কথায় কথায় ইরাণ ও উত্তর কোরিয়াকে ধমকাচ্ছে। অনেকদিন ধরে শুনে আসছি আফগানিস্তানে আলকায়েদার হেড কোয়ার্টর আছে এবং সেখানে কোথাও নাকি ওসামা বিন লাদেন লুকিয়ে আছে। পাহাড়ে পাহাড়ে বোমা ফেলেও তারা নাকি লাদেনকে ধরতে বা মারতে পারেনি। লাদেন নাকি এখনও কোথও লুকিয়ে আছে। ইদানিং আর আমেরিকার মুখে লাদেনের কথা শুনিনা। ৯/১১তে কে বা কারা টুইন টাওয়ারে হামলা করেছে তাও এখনও বিশ্ববাসীর কাছে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। অথচ সেই ৯/১১র ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমেরিকা জগতটাকে টাল মাটাল করে তুলেছে। ৯/১১কে কেন্দ্র করে আমেরিকানরা বহু ফিল্ম তৈরি করেছে। বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের হেনস্থা করে চলেছে। এক সময় কমিউনিস্টদের শায়েস্তা করার জন্যে আমেরিকা মুসলমানদের ব্যবহার করেছে। তখন ইসলাম ছিল আমেরিকার প্রিয় বন্ধু। ইসলামপন্থিদের আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের দালাল বলা হতো। সেই ইসলামপন্থিরা এখন আমেরিকার শত্রু। তারা আল্লাহর নবীকেও সন্ত্রাসী বলে কার্টুন বানাচ্ছে।

উইকিলিক্স ফাঁস করে দিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্য ও আরব দেশগুলো গোপনে আমেরিকাকে অনুরোধ করেছে ইরাণ আক্রমন করার জন্যে। ইরাণের ভয় দেখিয়ে আমেরিকা ইতোমধ্যেই কয়েক বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে সাউদী আরবের কাছে। এই আমেরিকা বিশ্বব্যাপী মুক্ত তথ্য প্রবাহের আন্দোলন করে আসছে। সেই আমেরিকা এখন বলছে রাস্ট্রের গোপন তথ্য ফাঁস বা প্রকাশ করা যাবেনা। তাহলে আমেরিকার গনতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার গালভরা বুলি কোথায় গেল। বাংলাদেশেও তথ্য কমিশন গঠিত হয়েছে। বলা হচ্ছে সকল নাগরিকের তথ্য জানার অধিকার রয়েছে। উইকিলিক্স বাংলাদেশ বিষয়েও অনেকগুলো তথ্য ফাঁস করে দিয়েছে। তন্মধ্যে প্রধান বিষয় গুলো হলো মাদ্রাসা শিক্ষা সংস্কার ও র্যাবের ট্রেনিং। এক সময় রেবের যে ইতিবাচক ইমেজ তৈরি হয়েছিল তাতে এখন ধ্বস নেমেছে। কারণ উইকিলিক্সের বদৌলতে বাংলাদেশের মানুষ জানতে পেরেছে রেবের ট্রেনিং দিচ্ছে যুক্তরাজ্য। এরপর থেকেই রেব যেখানে সেখানে ক্রসফায়ারের নামে মানুষ হত্যা করছে। একন রেবকে কেউ জনগনের বন্ধু মনে করেনা। বিভিন্ন ইসলামিক সংগঠনের কর্মী ও নেতাদের টেররিস্ট আখ্যা দিয়ে ধর্মীয় বইকে জেহাদী বই বলে হাতে ধরিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে। অনেকের উপর টর্চার করা হচ্ছে। ৫০/৬০ সালের দিকে ছাত্র-যুবকদের হাতে সোভিয়েত দেশ ও পিকিং তিভিউ ধরিয়ে গ্রেফতার করা হতো। এখন ইসলামিক বই ধরিয়ে করা হচ্ছে। আমেরিকার লশ্য দুনিয়াকে তার তাবে বা প্রভাবে নিয়ে আসা। একের বিরুদ্ধে অন্যকে লাগিয়ে দিয়ে বা উসকে দিয়ে আমেরিকা সুবিধা আদায় করে। অথচ নিজেকে গনতন্ত্রের ধ্বজাধারী, মানবতার রক্ষাকারী, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষাকারী বলে জাহির করে। সত্যিকার দেশ প্রেমিকদের যখন সে হাত করতে পারেনা তখন সেই দেশের সরকার বা সমাজকে দিয়ে সেই দেশ প্রেমিককে শাস্তি দেয়। উইকিলিক্স আমেরিকার মুখোশ খুলে দিয়েছে। তাই সে এখন উইকিলিক্স বন্ধ করে দিতে চায়। সাথে সাথে উইকিলিক্সের প্রতিস্ঠাতা অ্যাসান্জকে শাস্তি দিতে চায়।

আমেরিকা ও দালালরা তাদের তাবেদার মিডিয়ার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রচার করে বেড়াচ্ছে বাংলাদেশের মাদ্রাসার ছাত্ররা ইসলামের জেহাদে উদ্বুদ্ধু হয়ে জংগী হয়ে যাচ্ছে। তাই মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে। সংস্কারের পুরো কারিকুলাম বা প্রেসক্রিপশন দিয়েছে আমেরিকার তাবেদার যুক্তরাজ্য। বাংলাদেশের বামধারার শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ এবং তার সরকার যুক্তরাজ্যের প্রেসক্রিপশন মোতাবেক নতুন শিক্ষানীতি তৈরি করেছে এবং গায়ের জোরে সেই শিক্ষানীতি মাদ্রাসার উপর চাপিয়ে দিতে চাচ্ছে। ওই শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী আলেম সমাজ ও মাদ্রাসার ছাত্ররা আন্দোলন করছেন। অপরদিকে মাদ্রাসা ছাত্রদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে দিচ্ছেনা। কি কারনে মাদ্রাসা ছাত্রদের ভর্তি হতে দেয়া হচ্ছেনা তা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। মাদ্রাসা ছাত্ররা মামলায় জিতেও ভর্তি হতে পারছেনা।

শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার নতুন কোন বিষয় নয়।

১৭৮০ সালে কোলকাতায় প্রথম মাদ্রাসা প্রতিস্ঠিত হয়। এটা ছিল একটা বেসরকারী উদ্যোগ। পরে ১৮৬০ সালের দিকে বৃটিশ সরকারের উদ্যোগে আলিয়া মাদ্রাসা প্রিস্ঠিত হয়। এই মাদ্রাসার সিলেবাস বা কারিকুলাম ঠিক করেছিল ইংরেজ সাহেবরাই। ইরেজদের আলিয়ার সাথে দ্বিমত পোষন করেই দেওবন্দ মাদ্রাসা প্রতিস্ঠিত হয়। মাদ্রাসা শব্দটি এসেছে হিব্রু মিদরাস শব্দ থেকে। মিদরাস মানে স্কুল বা বিদ্যালয়। এটা যে শুধু ধর্মীয় শিক্ষার স্কুল বা বিদ্যালয় হবে তা নয়। সকল রকম শিক্ষাই চলতে পারে। তবে সমাজের পরিবর্তনের সাথে সাথে শিক্ষা ব্যবস্থারও পরিবর্তন বা সংস্কার হয়। পরিবর্তন বা সংস্কার কি রকম হবে তা নির্ভর করে সমাজ ও সরকারের রাজনৈতিক চরিত্রের উপর।এক সময় সমাজের নামীদামী পরিবার গুলোতে আরবী শিক্ষার খুব প্রচলন ছিল। এখন আর সে রকম রেওয়াজ নেই। এখন নৈতিকতা শিক্ষার গুরুত্ব কমে গেছে। মূল লক্ষ্য কি পড়লে ভাল চাকুরী পাওয়া যাবে। কি রকম চাকুরী তাও নির্ভর করে সরকারের চরিত্র কি রকম তার উপর। এক সময় উকিল ডাক্তার ইন্জিনিয়ার হওয়ার খুব রেওয়াজ ছিল। তারপর এলো সরকারী বড় চাকুরী করতে হলে সিএসপি বা ইপিসিএস হওয়া। কারণ সরকারী বড় চাকুরীতে ক্ষমতার দাপট ছিল। ২৫/২৬ বছর বয়সে মহকুমা হাকিম হওয়া যেতো। মহকুমা হাকিম মানে মহকুমার রাজা বা নবাব। সময় ও সমাজের পরিবর্তনে এখন কেউ হাকিম হতে চায়না। কারন ওতে এখন কোন গ্ল্যামার বা ক্ষমতা নেই। এখন ব্যবসা বাণিজ্যের যুগ। তাই ছেলে মেয়েরা ব্যবসা সংক্রান্ত লেখাপড়া করছে। একেবারে হাল সময়ের ছেলে মেয়েরা নিজেদের আবেগ অনুভুতিকে বেশী গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা ভাল লেখক সাহিত্যিক কবি খেলোয়াড় অভিনেতা গায়ক শিল্পী ফ্যাশন ডিজাইনার শেফ হতে চায়। ভাল করলে সবখানেই জীবিকা আছে।

২০১১ সালে এসেও ইংরেজ সাহেবরা স্বাধীন বাংলাদেশের মাদ্রাসার সিলেবাস ঠিক করে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে শুনতেই কেমন যেন লাগছে। আমাদের সরকারও নাকি ইংরেজ সাহেবদের সংস্কার প্রস্তাবে রাজী হয়েছে। তারা নাকি সাথে সংস্কারের খরচপাতিও দিবে। জংগী বা ইসলামিক টেররিস্টদের দমন করার জন্যেই নাকি আমেরিকা আর যুক্তরাজ্য মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে। ওলামা মাশায়েকরা মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার চান। কিন্তু সরকার যেভাবে চাইছেন সেভাবে চাচ্ছেন না। ফলে সরকার এবং ওলামা মাশায়েকগন এখন মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছেন।আমিতো মনে করি আমাদের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদ্রাসা বা ধর্মীয় শিক্ষার প্রতিস্ঠান গুলো ছাড়া বাকি সব স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে একশ’ নম্বরের ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামুলক করা দরকার। আমাদের সচিব বা বিচারপতিদের ধর্মীয় শিক্ষা না থাকার ফলে তারা প্রায় বিতর্কিত রায় দিয়ে সমাজে অশান্তি সৃস্টি করেন। এমন কি সচিবরাও ধর্মীয় বিষয়ে অজ্ঞতার কারনে অনেক অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভুল সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন।

বাংলাদেশে মাদ্রাসা গুলোতে সারা বছর কটা মারা মারি হয় এমন প্রশ্নে আপনার উত্তর কি হবে। আমি বলছি, বছরে একটাও না। কিন্তু তথকথিত স্যেকুলার বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ গুলোতেতো সারা বছে মারামারি গোলাগুলি লেগে আছে। এসব শিক্ষা প্রতিস্ঠানের ছাত্র নামধারীরাতো কথায় কথায় অস্ত্র বের করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে। অথচ পশ্চিমাদের দৃস্টিতে বাংলাদেশের মাদ্রাসা ছাত্ররা জংগী, তালেবান আল কায়েদা। আর আমাদের চলমান তথাকথিত স্যেকুলার সরকার পশ্চিমাদের উসকানিতে নেচে চলেছে। ইতোমধ্যে প্রধান মন্ত্রীর উপদেস্টা ও সাবেক জাঁদরেল আমলা এইচ টি ইমাম হরতাল প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনার জন্যে ওলামা মাশায়েকদের নেতাদের সাথে মিলিত হয়েছিলেন। উপদেস্টা সাহেবের ওয়াদা মোতাবেক ওলামা মাশায়েক নেতারা হরতাল প্রত্যাহার করেছিলেন। কিন্তু পরে উপদেস্টা সাহেব বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, ওলামা মাশায়েকদের দানী অযৌক্তিক। ফলে সমস্যার কোন সমাধান হয়নি।

লেখাটি শুরু করেছিলাম রাস্ট্র সরকার বা ব্যক্তির গোপনীয়তা নিয়ে কথা বলার জন্যে। আল্লাহপাকের রাসুল(সা) বলেছেন তাঁর জীবনে কোন গোপনীয়তা নেই। আল্লাহপাক তাঁর জীবনের সবকিছু প্রকাশ করে দিয়েছেন। তবে তিনি বলেছেন, মানুষের ক্ষতি করে এমন কোন গোপনীয়তা থাকা উচিত নয়। সেদিক থেকে বিবেচনা করতে গেলে আমেরিকা বিশ্ববাসীর বিরুদ্ধে অপরাধ করেছে। উইকিলিক্স আমেরিকার ক্ষতিকর গোপনীয়তা প্রকাশ করে দিয়ে মানবজাতির উপকার করেছে। পৃথিবীর দেশে দেশে সরকার গুলো এমন অনেক কাজ করে থাকেন যা জনগন থেকে গোপন রাখা হয়। অথচ বলা হয় জনগনই দেশের বা রাস্ট্রের মালিক। বাংলাদেশ সরকারও বিভিন্ন রাস্ট্রের সাথে অনেক চুক্তি করেছে যা জনগন বা জাতীয় সংসদ জানেনা। ফলে সরকারের কোন জবাবদিহিতা নেই।

নয়া দিগন্ত ৯ জানুয়ারী,২০১১

ershadmz40@yahoo.com

Advertisements

Read Full Post »


ইতিহাসে এবং ধর্মীয় কিতাব গুলোতে আমরা বহু অত্যাচারী ও সন্ত্রাসী শাসকের কথা উল্লিখিত হয়েছে। আধুনিক বিশ্বেও সন্ত্রাসী সরকার আছে। তারা সন্ত্রাস ও আগ্রাসনের মাধ্যমে জগতের মানুষকে সন্ত্রস্ত করে তুলেছে। চলমান বিশ্বের প্রধান আগ্রাসী শক্তি হলো আমেরিকা। তার সাথে প্রকাশ্য দোসর হিসাবে রয়েছে ইউরোপের কিছু দেশ। গোপনে রয়েছে এশিয়ার বহু দেশ। ইতোমধ্যেই উইকিলিক্সের বদৌলতে বিশ্বব্যাপী আমেরিকার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও ধ্বংসাত্বক গোপন তত্‍পরতার কথা বিশ্ববাসী জানতে পেরেছে। আমেরিকা ইচ্ছা করলেই যেকোন সময় পৃথিবীর যেকোন দেশ বা স্থান থেকে তাদের ওয়ান্টেড ব্যক্তি বা ব্যক্তিত্বকে তুলে নিয়ে যেতে পারে। আমেরিকার তাবেদার ও বশংবদ সরকার গুলো আমেরিকার অনুরোধে নিজ দেশের বিরুদ্ধেই কাজ করে থাকে।পাকিস্তানের সীমান্তে চালকবিহীন ড্রোন বিমানের হামলা চালিয়ে প্রায় প্রতিদিনই মানুষ হত্যা করছে। পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ইতোমধ্যেই লংঘিত হয়েছে। তেমন কিছু করার মতো ক্ষমতাও পাকিস্তানের নেই। প্রতিবেশী ও প্রতিপক্ষ ভারতের সাথে আমেরিকার  এখন মধুচন্দ্রিমা চলছে। ভারত বুঝতে পেরেছে শুধু  রাশিয়ার সাথে সংসার করলেই চলবেনা। দ্রৌপদীর মতো তাকে বহু স্বামীর সংসার করতে হবে। মুসলমান নামের সন্ত্রাসীদের হত্যার ব্যাপারে চীনের সাথে আমেরিকার তেমন দ্বিমত নেই। চীনেও মুসলমান নামক তথকথিত সন্ত্রাসীদের হত্যা করা হচ্ছে। এদিকে চীনের বিরুদ্ধে আমেরিকা ভারতকে ব্যবহার করছে। কিন্তু আমাদের নিশ্চিত বন্ধু কে? ভারত আমাদের  নিকট প্রতিবেশী। আমাদের ১৫ কোটি মানুষ ইচ্ছার বিরুদ্ধেই ভারতের খদ্দেরে পরিণত হয়েছে।ভারত বাংলাদেশে তার প্রিয়তম বন্ধু সরকারকে দিয়ে নানা ধরনের কাজ করিয়ে নিচ্ছে। বাংলাদেশের সরকার নিজ দেশের জনগনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গোপনে বহু চুক্তি করে যাচ্ছে। নির্বাচিত সরকার এই দাবীতে সরকার মনে করছে জনমত যাচাই না করেই তারা নানা কাজ করে যাচ্ছে যাতে জনগনের কোন সমর্থন নেই। শোনা যায় ভারত ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে তার গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক বিস্তার করেছে। সাথে নাকি ইজরায়েলের মোশাদও রয়েছে। চলমান সরকার নিজের ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় ভারতের জালে আটকা পড়ছে। যা আমাদের পররাস্ট্র নীতির ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিপর্যয় নিয়ে আসতে পারে।

পবিত্র কোরাণে বর্ণিত ফেরাউন নমরুদ সাদ্দাদ ও তাগুতের অত্যাচার ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কথা জানতে পেরেছি। বিশেষ করে ফোরাউন ও নমরুদের কথা বাংলাদেশের ঘরে ঘরে মানুষ জানে। ফেরাউনের বিরুদ্ধে হজরত মুসার(আ) লড়াইয়ের কথাও আমরা সবাই জানি। মিশরের অত্যাচারী সন্ত্রাসী শাসক ফেরাউন ১২ লক্ষ ইজরায়েলি বংশোদ্ভুত মানুষকে দাস শ্রমিকে পরিণত করে রেখেছিল। ফেরাউনের প্রাসাদে বড় হয়েও হজরত মুসা(আ) ফেরাউনের শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন। ইজরায়েলি জনগণের ভিতর মুক্তির বাণী ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। অপরদিকে ফেরাউন মিশর বাসীকে বাধ্য করেছিল তাকে খোদা বলে স্বীকার করতে। মুসা নবীর আহবানে মুক্তির আশায়  ইজরায়েলি জনগন দেশ ত্যাগ করে সীমান্ত অতিক্রম করার জন্যে লোহিত সাগর পাড়ি দেয়। ফেরাউনও তার সৈন্য সামন্ত নিয়ে ইজরায়েলিদের পেছনে ধাওয়া করতে গিয়ে সদল বলে  লোহিত সাগরে ডুবে মারা যায়। আল্লাহপাক পবিত্র কোরাণে বলেছেন, হে ফেরাউন আমি তোমাকে মানব জাতির জন্যে নিদর্শন করে রাখবো। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন প্রায় চার হাজার বছর পরেও মিশরের মিউজিয়ামে ফেরাউনের লাশ এখনও দেখতে পাওয়া যায়। পৃথিবীর জীবিত অত্যাচারী সন্ত্রাসী শাসকদের জন্যে ফেরাউন একটি বড় নিদর্শন। পবিত্র কোরাণের মাধ্যমে আল্লাহপাক জানিয়েছেন জগতের কোন সন্ত্রাসী শাসকেরই মুক্তি নেই। ফেরাউন আজও অত্যাচারী হিসাবে চিহ্নিত। আর আল্লাহর নবী মুসা(আ) মানবতার মুক্তির দূত হিসাবে আজও সম্মানিত। ফেরাউনের মতো জগতের যেকোন  অত্যাচারী শাসকের নাম এলেই বিশ্ববাসী মুক্তির দূত হিসাবে সম্মানের সাথে মুসা নবীর নাম স্মরণ করে। একই ভাবে মুসলিম মিল্লাতের পিতা ও নবী হজরত ইব্রাহিম(আ) এর কথা ভাবুন।তিনি হজরত মুসা(আ) ও হজরত ইসারও(আ) পূর্ব পুরুষ ও নেতা। অত্যাচারী শাসক নমরুদ হজরত ইব্রাহিমের উপর কি ধরনের অত্যাচার করেছিলেন পাঠক সমাজ ভালো করেই জানেন। বলুন হজরত ইব্রাহিমের কি অপরাধ ছিল। কোন দোষ বা অপরাধ ছিলনা। তিনি শুধু সত্যের পক্ষে মানুষকে আহবান করেছিলে। নমরুদের ধর্ম, বাদশাহী বা নেতৃত্বকে হজরত ইব্রাহিম মানেননি। তিনি বলেছিলেন নমরুদ অত্যাচারী শাসক। নমরুদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার জন্যে তিনি তাঁর নির্যাতিত জাতিকে আহবান জানিয়েছিলেন। নমরুদ হজরত ইব্রাহিমকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করার চেস্টা করেছিল। কিন্তু তার সেই প্রচেস্টা ছিল খোদাদ্রো্হীতা। ফলে নমরুদের পরাজয় হয়েছে আর হজরত ইব্রাহিমের জয় হয়েছিল।কোরাণে বর্ণিত বহু বড় বড় সাম্রাজ্য ও সম্রাটের কথা আমরা জেনেছি। তারা আজ আর নেই আছে শুধু তাদের অত্যাচারের কথা। আল কোরাণ বলেছে, তোমরা এখন যে বিরান ভুমি বা মরুভুমির ভিতর দিয়ে পথ অতিক্রান্ত হচ্ছ সেখানে এক সময় বড় বড় নগর প্রসাদ ছিল। সব ধ্বংস হয়ে গেছে। ওর ছিল অত্যাচারী। কোথায় এখন রোমান ও পারস্য সাম্রাজ্য? মানুষের পক্ষে যারা কাজ করেছেন তারাই স্মরণীয় ও সম্মানিত হয়ে আছেন।

আল্লাহর রাসুল ইমামুল মোরসালিন হজরত মোহাম্মদ( সা) ৫৭০ খৃস্টাব্দে আরবের মক্কা নগরীতে জন্ম গ্রহণ করেন। সেই সময়টাকে ইতিহাসবিদরা বলেছেন,আইয়ামে জাহেলিয়াত বা অন্ধকার যুগ। এর মানে হলো, সেই সময়ে মানুষের অধিকার ছিলনা। সাধারন মানুষ ও নারীরা ছিল নির্যাতিত। দাস ব্যবস্থা ছিল খুবই প্রকট। ক্বাবা ঘরের খাদেম বা কাস্টডিয়ান ছিলেন রাসুলের পরিবার ও পূর্ব পুরুষ। তাঁরা ছিলেন খুবই সম্মানিত। রাসুল(সা) ছিলেন মানব দরদী ও খুবই নরম হৃদয়ের মানুষ। মক্কা নগরী ও আশে পাশের নির্যাতিত মানুষের অবস্থা দেখে তাঁর মন কাঁদতো। তিনি ভাবতেন কিভাবে মানুষের মুক্তি প্রতিস্ঠা করা যায়। আ্ল্লাহপাকের নির্দেশেই তিনি শুরু করলেন মানবতার মুক্তির আন্দোলন। ঘোষণা দিলেন, মানুষের খোদা শুধু একজনই,যিনি সবকিছুর মালিক ও স্রস্টা। তিনিই ন্যায় ও সত্যের প্রতীক। মানুষ শুধু আল্লাহকেই সেজদা দিবে আর কাউকে নয়। সে যত বড় ও শক্তিশালী শাসকই হোকনা কেন। মানুষ মুক্ত স্বাধীন, এ জগতে তার কোন প্রভু নাই। মানুষের কাজ হলো জগতে সত্য ও ন্যায় প্রতিস্ঠা করা। রাসুল(সা) ঘোষণা দিলেন জগতে মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই। মানুষ মানুষের খোদা নয়, শুধুমাত্র খাদেম। সাদা কালোতে কোন ফারাক নেই। রক্ত বংশ বা স্থানে কোন কৌলিন্য নেই। সব মানুষই এক আদমের সন্তান। সব মানুষের স্রস্টা একজন। হজরত মোহাম্মদ(সা) এর এই বাণী ও আহবানের বিরুদ্ধে সর্ব শক্তি নিয়োগ করে তত্‍কালীন সমাজের কায়েমী স্বার্থবাদী বড় বড় নেতারা। এমন কি রাসুলের পরম আত্মীয় স্বজনরাও তাঁর বিরুদ্ধে চলে যায়। তাতেও রাসুল বিচলিত হননি।এক সময় মক্কার নেতারা রাসুলকে তাদের নেতা বানাবার প্রস্তাব দেয়। শর্ত হলো তিনি সত্য প্রচার থেকে বিরত থাকবেন। কিন্তু  রাসুল তাদের প্রস্তাবের প্রত্যুত্তরে জানালেন, তাঁর এক হাতে চাঁদ আরেক হাতে সূর্য দিলেও তিনি সত্যার পথ থেকে বিচ্যুত হতে পারবেননা। এর পরে  মক্কার নেতারা রাসুলকে হত্যার উদ্যোগ নিলে তিনি হিজরত করে মদীনা চলে যান। মদীনায় তাঁর নতুন জীবন শুরু হলো। রাসুলের আদর্শ ও নতুন মোহনীয় বাণী গ্রহন করে হাজার মানুষ  শহীদ হয়েছেন। তবুও তাঁরা কেউ সত্যের পথ ত্যাগ করেননি।  ওই সত্যের পথ ছিল মানব জাতির মুক্তি।

কিছুদিন হলো আমরা বাংলাদেশে আশুরা পালন করেছি। বাংলাদেশে আশুরা বলতে আমরা ৬০ হিজরীতে সংগঠিত কারবালার যুদ্ধের কথা স্মরণ করি। ওই যুদ্ধ ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের যুদ্ধ। যে কোন দেশে বা সমাজে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের যুদ্ধ করা মানুষের জন্যে অবশ্য কর্তব্য। না করলে মানুষের মনুষ্যত্ব বা মানবতা থাকেনা। দূর্বলের উপর সবলের অত্যাচারকে আল্লাহপাক এবং তাঁর নবী রাসুলরা সমর্থন করেননা। জগতের কোন ধর্ম বা আদর্শ অন্যায় অবিচার সন্ত্রাস জোর প্রয়োগকে সমর্থন করেনা।মানুষে মানুষে প্রভেদ বিভেদ ফারাক কোন আদর্শই সমর্থন করেনা। ফারাক তৈরি করেছে মানুষ। দূর্বলকে শোষন করার জন্যেই এই ফারাক। আর এই জন্যেই সমাজে তৈরী হয়েছে আশরাফ আতরাফ। ধনী গরীব। চলমান পৃথিবী এ ব্যাপারে একেবারেই উলংগ হয়ে পড়েছে। সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে এই পৃথিবীটা এখন শুধু ধনী আর শক্তিমানের। শক্তিশালী দেশ গুলো কম শক্তিমান বা দূর্বল দেশ গুলোকে নিজেদের তাবে বা প্রভাবে রাখার জন্যে প্রতিনিয়ত চাপ বা ভয় দেখিয়ে যাচ্ছে।

আমেরিকার নেতৃত্বে বিশ্ব এখন সন্ত্রাস মুক্ত হওয়ার চেস্টা করছে। ৯/১১র ঘটনা বা টুইন টাওয়ার ধ্বংসকে কেন্দ্র করে আমেরিকা এবং তার বন্ধু ও বশংবদেরা বিশ্বব্যাপী আরও বেশী আতংক ও সন্ত্রাস ভয় ভীতি ছড়িয়ে দিয়েছে। টুইন টাওয়ারের ঘটনা কে করেছে তা আজও জগতবাসীর কাছে পরিস্কার নয়। আমেরিকা নিজেও বিষয়টাকে বিশ্ববাসীর কাছে খোলাসা করার চেস্টা করেনি। ৯/১১র ঘটনার আগে থেকেই জগতটাকে অশান্ত করে রেখেছে আমেরিকা ও তার তাবেদারেরা। ৯/১১র কথা বলে সারা বিশ্বে এখন সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধের প্রথম ও প্রধান শিকার বা টার্গেট হচ্ছে মুসলমানরা। আমেরিকা ও তার বন্ধুদের শ্লোগান হচ্ছে যেখানে মুসলমান সেখানেই সন্ত্রাস ও জংগীবাদ। আমাদের দেশের সরকার গুলোও হাত মিলিয়েছে পশ্চিমা সন্ত্রাসবাদী সরকার গুলোর সাথে। সন্ত্রাসের শ্লোগান দিয়েই তারা আমাদের দেশের মাদ্রাসা সংস্কার করতে চায়। মানবতা বিরোধী তত্‍পরতার জন্যে রেবকে ট্রেনিং দিয়েছে বৃটেন।

অথচ এই সব মাতবর দেশ কাশ্মীর, ফিলিস্তিন, দুই কোরিয়া, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সমস্যা গুলোকে জিইয়ে রেখেছে নিজেদের স্বার্থে। এই জগতের বহু দেশ অন্তরে সন্ত্রাসী মাস্তান দেশগুলোকে ঘৃণা করে। কিন্তু দূর্বল বলে সাহস করে কিছু বলতে পারেনা। তার উপরে রয়েছে এইসব দেশের দারিদ্র। দারিদ্রের কারনে এরা ধনী মাস্তান দেশগুলোর  উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। দেশগুলোকে দরিদ্র রাখার জন্যে আভ্যন্তরীন কলহ জিইয়ে রেখেছে। দু:খের বিষয় হলো, আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশগুলো মাস্তান দেশগুলোর তাবেদারী করে চলেছে ইমান ও আত্মবিশ্বাসের অভাবে।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের বিরুদ্ধে আমেরিকা আনবিক অস্ত্র ব্যবহার করার পরও জাপান দীর্ঘকাল ধরে আমেরিকা এবং তার বন্ধুদের তাবেদারী করে যাচ্ছে। ফলে জাপান মাড়োয়ারী মার্কা সওদাগর জাতিতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বে জাপানের তেমন মর্যাদা নেই যেমন আছে গণচীনের। আমেরিকা বিগত ৫০ বছর ধরে চীনকে পর্যুদস্ত করার জন্যে চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এখনও সেই চেস্টা অব্যাহত রেখেছে। এখন ভারত আর জাপানকে চীনের বিরুদ্ধে ব্যবহারের চেস্টা করছে।এশিয়ার বহুদেশ আমেরিকার সাথে গাটছড়া বেঁধে বাঁচতে চেয়েছিল। যেমন ইরানের রেজা শাহ পাহলভী। বিপদের সময় শাহকে আমেরিকা কোন সাহায্য করেনি। ইরানের বর্তমান সরকারকে আমেরিকা একদিনও শান্তি থাকতে দেয়নি। কারন ইরান মাথা তুলে দাঁড়াবার চেস্টা করছে। পাকিস্তান সারা জীবন আমেরিকার সাথে রয়েছে। কিন্তু আমেরিকা কখনই পাকিস্তানকে তেমন রাজনৈতিক সহযোগিতা দেয়নি। আল কোরাণ কি করাণে অত্যাচারী সন্ত্রাসী ও মানবতা বিরোধী সরকার গুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা আমাদের বুঝতে হবে। আল্লাহতালা কোন ধরনের সন্ত্রাসী বা অত্যাচারী শাসককে সমর্থন করেনা। এবং মানুষের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার জন্যে।সন্ত্রাসকে রুখে দেয়ার জন্যে পৃথিবীতে এখন নবী রাসুলরা আসবেননা। কিন্তু সাধারন মানুষকেই যে কোন ধরনের সরকারী ও বেসরকারী সন্ত্রাসকে রুখে দিতে হবে।

লেখক: কবি সাংবাদিক ও ঔপন্যাসিক

ershadmz40@yahoo.com

Read Full Post »


জিয়া ও দ্যগল: ভাগ্যের একটি রশী / এরশাদ মজুমদার

শুধু জিয়াউর রহমান বললেই বুঝা যায় মানুষটি কে? পরিচিতির জন্যে কোন বায়োডাটার প্রয়োজন নেই। ভাগ্যবান এই মানুষটি ছিলেন পাকিস্তান সেনা বাহিনীর একজন অফিসার। ভাগ্য তাঁকে বার বার পর্দার পেছন থেকে টেনে এনে মঞ্চে উপস্থাপন করেছে। যাকে আমরা বলি ডেস্টিনি। চলমান ইতিহাস বা ঘটনার দিকে যারা নজর রাখেন তাঁরা জানেন এই মানুষটার নাম  শোনা গেছে প্রথম ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময়। তার মাত্র পাঁছ বছর পর ১৯৭১ সালের ২৬/২৭ মার্চ চট্টগ্রাম কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে। ৭১ সালের  ২৫শে মার্চ রাত বারোটার দিকে পাক বাহিনী যখন পূর্ব পাকিস্তানের সাধারন নিরস্ত্র মানুষের উপর গোলা বারুদ কামান নিয়ে ঝাপিয়ে পড়লো তখন হত বিহবল সাত কোটি মানুষকে সাহস জুগিয়ে জাগিয়ে তোলার কোন মানুষ ছিলনা। যদিও ৭ই মার্চের ভাষণে বংবন্ধু বলেছিলেন,এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। তোমাদের যার যা আছে তা নিয়ে ঝাপিয়ে পড়বে। কিন্তু ভাষণের শেষে তিনি বলেছিলেন জয় বাংলা, জয় পাকিস্তান। তাতে মনে হয়েছিল তিনি তখনও পাকিস্তানের কাঠামোতে কোন ধরনের সমাধান চাইছেন বা ভাবছেন। এর পরে তিনি জেনারেল ইয়া্হিয়ার সাথে আলোচনা করে একটা সমাধানে পৌঁছাবার চেস্টা করেছিলেন। ২৪ মার্চ পর্যন্ত আলোচনা চলেছে। কিন্তু আলোচনা যে ব্যর্থ হয়েছে তা বংগবন্ধু জাতিকে জানাবার প্রয়োজন মনে করেননি। ফলে ২৫ মার্চ সারাদিন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ টেনশনে ছিলো। কি হতে যাচ্ছে কেউ বুঝতে পারছিলনা। এর আগে ভুট্টো বলেছিলেন এক পাকিস্তান দুই প্রধানমন্ত্রী। পশ্চিম পাকিস্তানে ভুট্টোর দল ছিল মেজরিটি আর পূর্ব পাকিস্তানে ছিল বংগবন্ধুর দল আওয়ামী লীগ। আমরা শুনেছি সমঝোতা হয়েছিল। তা ছিল জেনারেল ইয়াহিয়া প্রেসিডেন্ট, বংগবন্ধু প্রধানমন্ত্রী ও ভুট্টো উপ প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু পাকিস্তানের সেনা বাহিনী রাজি হয়নি।ফলে ২৫মার্চ রাত ১২ টায় পাকিস্তান আর্মি পূর্বপাকিস্তানের নিরস্ত্র জনগনের উপর আক্রমন চালায়। সেই রাতে ১২টার একটু পরে বা আগে বংগবন্ধুকে পাকিস্তান আর্মি গ্রেফতার করে। গ্রেফতার হওয়ার আগে তাজ উদ্দিন সাহেব গিয়েছিলেন বংগবন্ধুর কাছে। স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেছেন। কিন্তু কোন ধরনের দলিলে স্বাক্ষর করতে রাজী হননি। তাজ উদ্দিন সাহেব একটি ঘোষণা রেকর্ড করতে চেয়েছিলেন তাতেও বংগবন্ধু রাজী হননি। এই তথ্য গুলো প্রকাশ করেছে প্রথমা নামক একটি প্রকাশনা কর্তৃক প্রকাশিত বই ‘স্বাধীনতার পূর্বাপর’। এর আগে মানে মার্চের তিন তারিখে হোটেল পূর্বাণীতে অনুস্ঠিত জরুরী সংবাদ সম্মেলনে বংগবন্ধুকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তিনি একতরফা স্বাধীনতার ঘোষণা দিবেন কিনা। বংবন্ধু প্রশ্নের কোন উত্তর না দিয়ে পরবর্তী কর্মসূচী ঘোষণা করেছিলেন। এরপরেই ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক জনসভার আয়োজন করা হয়। সেখানেই তিনি বলেছিলেন, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। আমি যদি নির্দেশ দিতে না পারি তোমরা যার যা আছে তা নিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়বে। ভাষণের শেষে বলেছিলেন জয়বাংলা, জু পাকিস্তান। ফলে আবারও বিভ্রান্তি সৃস্টি হলো। সুস্পস্ট ঘোষণা না থাকার ফলে ব্যাখ্যার প্রশ্ন উঠলো। এখনও সে ব্যাখ্যা অব্যাহত আছে। কেউ বলছেন, ৭ই মার্চের ভাষণই স্বাধীনতার ঘোষণা। কেউ বলছেন না। এর পরেও বংগবন্ধু ২৪শে মার্চ পর্যন্ত জেনারেল ইয়াহিয়া ও ভুট্টোর সাথে আলোচনা চালিয়ে গেছেন। সাংবাদিকদের বলেছেন, সাফল্য অর্জিত হবে বলেইতো আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। এসব বিষয়ে সুস্পস্ট করে জাতিকে জানাতে পারেন ড: কামাল। তিনি কিন্তু এ ব্যাপারে তিনি কখনই মুখ খুলতে চাননি। পাকিস্তানে আটক অবস্থায় বংগবন্ধুর কি অবস্থা ছিল তাও ড: কামাল ভাল করে জানেন। কিন্তু তিনি মুখ খুলতে চাননা। এমনি একটি অবস্থা ও পরিবেশে   পাকিস্তানীরা আক্রমন চালায় দেশের নিরীহ নিরস্ত্র মানুষের উপর। দেশবাসী কিংকর্তব্য বিমূঢ হয়ে পড়ে।পাকিস্তানী সেনা বাহিনীকে  কে প্রতিরোধ করবে? রাজনৈতিক নেতারা কে কোথায় আছেন তা কেউ জানেনা। তখন সবাই নাকি সীমান্ত অতিক্রম করে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেয়ের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ২৬/২৭শে মার্চ হতবিহবল জাতি হঠাত্‍ গোপন রেডিও থেকে শুনতে পেল ‘ আমি মেজর জিয়া বলছি। ঘোর অমানিশার মাঝে এক ঝলক আলোর ঝলকানি। পথচলার আলো। আর ভয় নেই। সবাই গোপনে রেডিও শুনতে লাগলো। জানতে চাইলো কে এই লোকটা? সবার কানে সুস্পস্ট শব্দ এলো ‘ আমি মেজর জিয়া বলছি। আমি স্বাধীনতার কথা বলছি। বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষ আমাদের সমর্থন করুন’। এই ঘোষণার কথা বাংলাদেশের সব মানুষই শুনতে পেয়েছেন। তবুও ঘোষণা নিয়ে হাজারো বিতর্ক। আসলে ওই বিতর্ক ইতিহাস নিয়ে নয়। ওটা একটা রাজনৈতিক বিতর্ক। জিয়াউর রহমান ঘোষণা দিয়েছেন বংবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষেই। কিন্তু আওয়ামী লীগ তা মানতে রাজী নয়।

১৯৬৫ সালে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যে মানুষটা বীর সেনানীর সম্মান পেয়েছিলেন সেই মানুষটাই আবার নিজ জাতির স্বাধীনতার জন্যে বিদ্রোহ করে ঝাপিয়ে পড়লো শত্রুর বিরুদ্ধে ৭১ সালের ২৬শে মার্চ। একেই বলে ডেস্টিনি। ভাগ্যের লিখন। এই মূহুর্তে মনে পড়ছে ফ্রান্সের জেনারেল দ্য গলের কথা। ১৯৩৯ সালের ১৮ই মার্চ বিবিসি থেকে ঘোষণা দিলেন ‘আমি জেনারেল দ্য গল বলছি। আমার দেশ আজ দেশ আজ ফ্যাসিস্ট শক্তির কবলে। এই শক্তিকে প্রতিরোধ করার জন্যে আমরা যুদ্ধ শুরু করেছি। বিশ্ববাসী আমাদের সাহায্য ও সমর্থন করুন’। মেজর জিয়া আর জেনারেল দ্য গল ভাগ্যের একটি রশি। দ্য গল মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন ভিন দেশে বসে ভিন রেডিও থেকে। কিন্তু জিয়ার জন্যে পরিস্থিতি ও পরিবেশ ছিল ভয়ন্কর। জিয়া নিজের রাস্ট্রের বিরুদ্ধে নিজের জাতির স্বাধীনতার জন্যে বিদ্রোহ করেছিলেন। আর দ্য গল বাইরের শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। জিয়ার মিত্র ছিল ভারত রাশিয়া। আর দ্য গলের মিত্র  ছিল বৃটেন। দ্য গলের রেডিও ছিল বিবিসি। জিয়ার রেডিও নিজস্ব গোপন রেডিও।

১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তানের পতন হলো। পূর্ববাংলা স্বাধীন বাংলাদেশে পরিণত হলো। আমাদের লাল সবুজ পতাকা সারা বিশ্বের আকাশে উড়লো। সাতকোটি বাংগালী স্বাধীন জাতি হিসাবে স্বীকৃতি পেল। জিয়া মানুষর হৃদয়ে স্থান করে নিল। ১০ই জানুয়ারী বংবন্ধু দেশে ফিরে এলেন। নতুন সরকারের শক্তিশালী যাত্রা শুরু হলো। জিয়া চলে গেলেন পর্দার অন্তরালে। ভারতের পরামর্শেই বংগবন্ধু জিয়াকে সেনা বাহিনী প্রধান করলেননা। জিয়ার জুনিয়র ও দূর্বল চিত্তের সফিউল্লাহকে সেনা বাহিনী প্রধান করলেন। বংগবন্ধু ভেবেছিলেন সফিউল্লাহ অনুগত থাকবে আবং প্রয়োজনের সময় সঠিক কাজটি করবে। কিন্তু ৭৫ এর ১৫ই আগস্ট ভোর রাতে সফিউল্লাহকে কাছে পাওয়া যায়নি। ৭৫ এর ৭ই নভেম্বর আবার দেশবাসী শুনতে পেলে জিয়ার কন্ঠ। আবার জিয়া রেডিও টিভির মাধ্যমে উদা্ত্ত আহবান জানালো, প্রিয় সেনিক বন্ধগণ, আপনারা দেশের স্বার্থে, দেশের মানুষের স্বার্থে ব্যারাকে ফিরে যান। এখন সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন সেনা বাহিনীর সব পর্যায়ে শৃংখলা। ৭১ সালের ২৬/২৭শে মার্চ কালুরঘাট রেডিও থেকে আহবান জানিয়েছিলেন, প্রিয় সৈনিক ভাই ও অফিসার গণ, দেশের স্বাধীনতার জন্যে আপনারা ঝাপিয়ে পড়ুন। আমাদের শত্রু পাকিস্তানী সেনা বাহিনী নিরীহ নিরস্ত্র বাংগালীদের হত্যা করছে। এদেরকে প্রতিরাধ ও প্রতিহত করতে হবে। শুরু হলো বাংগালীদের স্বাধীনতার জন্যে মুক্তিযুদ্ধ।

৭ই নভেম্বরের আগে জেনারেল জিয়া ছিলেন গৃহবন্দী। জেনারেল খালেদ মোশাররফের অনুগত বাহিনী জিয়াকে বন্দী করে ক্ষমতা গ্রহণ করেছিল মাত্র কয়েকদিনের জন্যে। ৭ই নবেম্বর সৈনিক জনতার বিপ্লব সংঘঠিত হলো। সেনিকরা জিয়াকে মুক্ত করলো। জেনারেল খালেদ মেশাররফ সাধারন সৈনিকদের হাতে নিহত হলেন। এর আগে ৩রা নভেম্বর খালেদ মোশাররফের ভাই আওয়ামী কষক লীগের সভাপতির নেতৃত্বে বিজয় মিছিল বের হয়েছিল। এই মিছিলটাই খালেদের পতনের জন্যে দায়ী ছিল। ওই মিছিল ছিল এক ধরনের হঠকারিতা।সীমাহীন রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা।সৈনিক জনতার বিপ্লবের পর খোন্দকার মোশতাকের সরকারের পতন হয়। প্রধান বিচারপতি সায়েম সাহেব রাস্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন  প্রশাসক হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহন করলেন। জিয়া হলেন উপ প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। ৭৫ এর পূর্বাবস্থা থেকে দেশ আস্তে আস্তে স্বাভাবিক অবস্থার দিকে ফিরতে শুরু করলো। এক সময় তিনি দেশের প্রয়োজনে আর সময়ের চাহিদা পূরনের জন্যে রাস্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহন করলেন। সংবিধানের ৫ম সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনলেন। বংবন্ধু চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। সরকারী সংবাদপত্র ছাড়া সকল সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়েছিলেন। জেনারেল দ্য গল ফোর্থ রিপাবলিকের অবসান ঘটিয়ে ফিফথ রিপাবলিক প্রতিস্ঠা করেছিলেন গনতন্ত্র ও জনগনের ইচ্ছার প্রতিফলনের জন্যে। দ্য গলের ভক্ত ও সমর্থকরা ফ্রান্সে গ্যলিস্ট পার্টি গঠন করেছিল পরবর্তী পর্যায়ে। আর  বাংলাদেশের জেনারেল জিয়া তাঁর চিন্তাধারা ও রাজনীতি প্রতিস্ঠার জন্যে গঠন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।  এই পার্টি গঠনে তিনি মাওলানা ভাসানীর আদর্শ গ্রহন করেছিলেন। পুরো ন্যাপ যাদু মিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির সাথে একীভুত হয়। বর্তমানে বিএনপি দেশের জাতীয়তাবাদী শক্তির বৃহত্তম রাজনৈতিক দল।

৭৫এর নভেম্বরের পরবর্তী  সময়টা ছিল বাংলাদেশের জন্যে খুবই কঠিন সময়। দেশে  শান্তি শৃংখলা ফিরিয়ে আনা। বিদেশের সাথে সু সম্পর্ক গড়ে তোলা। প্রতিবেশী ভারতের মনোভাবকে অনুধাবন করা। ৭৫ এর পরে যারা ভারতে চলে গেছেন এবং ভারত সরকার যাদের নানা ধরনের ষহযোগিতা করছে তাদের ব্যাপারে কৌশলী পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়টা ছিল জেনারেল জিয়ার জন্যে ছিল কূটনৈতিক সাফল্য। ভারত বাংলাদেশে সব সময় অনুগত সরকার চেয়ে এসেছে। দিল্লীর ভাষায় বন্ধু সরকার। ৭৭ সাল পর্যন্ত জিয়া সব সামলিয়ে নিলেন। ১৯৭৯ সাল থেকে বিএনপি চারবার সংসদে সরকার গঠনের সুযোগ পেয়েছে। শহীদ জিয়ার অনুপস্থিতে বেগম জিয়া গৃহবধুর জীবন ছেড়ে দেশের স্বার্থেই বিএনপির হাল ধরেন। স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রাম করে ৯১র নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠণ করেন। এবং তিনিই দেশে সংসদীয় গনতন্ত্র চালু করেন।

বিএনপি প্রতিস্ঠিত না হলে দেশের রাজনীতির রূপ এখন কেমন হতো তা কল্পনা করাও কঠিন। আওয়ামী চিন্তা ধারার  বাইরে জাতীয়তাবাদ ও ইসলাম মিশ্রিত একটি রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন ছিল। জেনারেল জিয়া বাংলাদেশে ভারতের প্রভাব মুক্ত রাজনীতি চালু করেছেন।তিনিই ইসলামী বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক প্রতিস্ঠা করেছেন। ছিনের সাথে গভীর বন্ধুত্বের কথাও তিনি বলেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সমস্যা সমাধানে একই প্ল্যাটফর্মে বসে আলোচনার জন্যে তিনি সার্ক প্রতিস্ঠা করেছেন।

লেখক: কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
http://www.humannewspaper.wordpress.com

Read Full Post »


জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য কবিরা কবিতাপত্র পরিষদ নামে একটি সংগঠণ প্রতিস্ঠা করেছেন। প্রায় আট বছর ধরে এই পরিষদ কাজ করছে। এর একটি মাসিক প্রকাশনা রয়েছে যার নাম কবিতাপত্র। দেশ বরেণ্য কবি ও গীতিকার কেজি মোস্তফা সাহেব এই প্রকাশনার সম্পাদক। ২০০০ সালে আমেরিকার আন্তর্জাতিক কবিতা পরিষদ কর্তৃক পুরস্কৃত হয়ে দেশে ফিরার পর আমি ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে এই সংগঠণ প্রতিস্ঠা করার উদ্যোগ নিই। আমার প্রধান পরামর্শক ও সহযোগী ছিলেন ছিলেন কেজি মোস্তফা। তরুণ বন্ধু কবি মজিদ মাহমুদও আমার সাথে ছিলেন। পরে একে একে সব কবি বন্ধুই সহযোগিতার হাত এগিয়ে দিয়েছেন। কবিতা পাঠের জন্যে আমরা প্রথম মিলিত হই ২০০২ সালের ৩১শে ডিসেম্বর। এখন যেটা ভিভিআইপি রুম বলে পরিচিত সেখানেই মিলিত হয়েছিলাম। জাতীয় প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ আমাদের সহযোগিতা করেছেন। পঠিত কবিতা গুলো পরের মাসে কবিতাপত্র নামে একটি মাসিক ম্যাগাজিনে ছাপা হওয়া শুরু হলো। প্রথম সংখ্যার নাম ছিল কবিতার আড্ডা। পরে কবি বন্ধুরা নাম ঠিক করলেন কবিতাপত্র। কবিতাপত্র নামেই এখনও প্রতি মাসে ম্যাগাজিনটি প্রকাশিত হচ্ছে। একটি সংগঠণও ইতোমধ্যে প্রতিস্ঠিত হয়েছে। নাম কবিতাপত্র পরিষদ। জাতীয় প্রেসক্লাবের সকল কবিই এর সদস্য। পরিষদ পরিচালিত হওয়ার জন্যে একটি গঠণতন্ত্রও আছে। প্রথমিক ভাবে গঠণতন্ত্রের খসড়া আমিই তৈরী করেছিলাম । পরে কবি বন্ধুরা সেটা অনুমোদন করেন।ক্লাব  বিল্ডিংয়ে অবস্থিত অগ্রণী ব্যান্কে শাখায়  কবিতাপত্র পরিষদের একটি ব্যান্ক একাউন্টও আছে।

প্রথম দিকে প্রায় দুই বছর আমি একাই কবিতাপত্রকে প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান দিই। পরে একটি পরিচালনা কমিটি গঠিত হয়। কমিটির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক ছিলেন  জনপ্রিয় ছড়াকার  আবদুর রহমান ও কবি সৈয়দ লুতফুল হক। মাস তিন চারেক পর সৈয়দ লুতফুল পদত্যাগ করলে কবি রফিক ভুঁইয়া সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই কমিটি দুই বছর দায়িত্ব পালন করে। পরে আবার দুই বছরের জন্য দায়িত্ব নিই আমি আর কবি মজিদ মাহমুদ। আমরা ব্যান্ক একাউন্ট খুলে প্রয়োজনীয় অর্থ একাউন্টে জমা দিই। পুরো দু বছর পার না হতেই আমরা দায়িত্ব ছেড়ে দিই। তখন দায়িত্ব গ্রহণ করেন সেলিম রেজা ও দেলোয়ার হাসান।

Read Full Post »


মানুষ ব্যবসার প্রাচীন ইতিহাস ও চলমান বিশ্বের শ্রম বাজার

মানুষের ব্যবসা সেই প্রাচীন কাল থেকে চলে আসছে। বলা যেতে পারে পাঁচ বছরেরও পুরানো ইতিহাস। এখন সময় ছিল দাস শ্রমিকের ব্যবসা। সভ্যতার বিকাশের সাথে সাথে দাস প্রথা প্রায়ই উঠে গেছে বলা যায়। আমেরিকার মত দেশে দেড়শ’ দুশো বছর আগেও দাস ব্যবস্থা ছিল। দাস ব্যবস্থা তুলে দিতে গিয়ে আব্রাহাম লিন্কনকে জীবন দিতে হয়েছে। আমেরিকাতে কালোধলোর ঝগড়া এখনও লেগে আছে। সভ্যদেশ বা জাতির দাবীদার পশ্চিমীরাই দাস ব্যবসা দ্বারা সবচেয়ে বেশী পুঁজি তৈরী করেছে। আমাদের দেশেও এক সময় মানুষ বেচাকেনা হতো। নিবন্ধন মহাপরিদর্শকের অফিসে আমি মানুষ বেচাকেনার  একটি দলিল দেখেছি। আপনারা গেলেও দেখতে পাবেন। এটা হলো ক্রীতদাস ব্যবস্থা। এখন আর এই ব্যবস্থা নেই। ভারতের কোন কোন এলাকায় এখনও মানুষ বেচাকেনা হয় বলে শুনা যায়। পৃথিবী থেকে মানুষ বেচাকেনা আর দাস ব্যবসার অবসানের জন্যে মানব জাতিকে হাজার হাজার বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। প্রকাশ্যে দাস মুক্তির কথা ঘোষণা করেছে পবিত্র কালাম আল কোরাণ। আল্লাহর রাসুল(সা) দাস মুক্তির জন্যে নানা ধরনের কর্মসূচী গ্রহন করেছিলেন। দাস ব্যবসার উত্‍পত্তি হয়েছে মূলত: মানুষের দারিদ্র থেকে। সমাজে যে মানুষ দরিদ্র বা দূর্বল ছিল তাকেই দাস বানানো হয়েছে। কখনও কখনও পরাজিত মানুষকেও দাস বানানো হয়েছে। এর কারণ ছিল বিনামূল্যে শ্রম আদায় করা। পৃথিবীর কয়েদখানা গুলোতে নাকি এখনও বিনা পারিশ্রমিকে কাজ আদায় করে নেয়া হয়। সবচেয়ে বেদনাদায়ক দু:খের খবর হলো গনতন্ত্রের দাবীদার ও স্বঘোষিত বিশ্বনেতা আমেরিকা বিভিন্ন দেশে গোপন কয়েদখানা খুলে বসে আছে। সেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আমেরিকার অপছন্দের লোকদের ধরে এনে আটক রাখা হয় এবং জোর করে বিনামূল্যে শ্রম আদায় করা হয়। এসব বিষয়ে বিশ্ব বিবেক এখনও তেমন জাগ্রত বা সোচ্চার নয়।

এখন বিশ্বব্যাপী শ্রমবাজার উন্মুক্ত। ধনী ও উন্নত দেশগুলো গরীব দেশ গুলো থেকে শ্রমিক নিয়ে যাচ্ছে। এসব দেশের শ্রমিকরা খুবই সস্তা। আমাদের বাংলাদেশ তেমনি একটি গরীব দেশ। তাই সারা পৃথিবীতে আমরা শ্রমিক পাঠিয়ে থাকি। সেই শ্রমিকেরা হাড়ভাংগা খাটুনী খেটে দেশে বিদেশী মুদ্রা পাঠায়। সেই মুদ্রা সরকার দেশের উন্নয়নে কাজে লাগায়। শুনেছি, এখন আমাদের প্রায় ৭০ লাখ শ্রমিক বিদেশে কাজ করছে। এরা বছরে ১২ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠায়। আরও বেশ কিছু অবৈধ শ্রমিক বিদেশ আছে যারা বৈধ হওয়ার জন্যে আপ্রাণ চেস্টা করছে। শ্রমিকদের কল্যাণের জন্য সরকার একটি আলাদা মন্ত্রণালয় খুলেছেন। এখন সেই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন প্রধান মন্ত্রীর বেয়াই সাহেব। শ্রম মন্ত্রণালয় ও অধীদপ্তর নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। প্রতিদিন খবরের কাগজে এ বিষয়ে নানা খবর ছাপা হয়। এমন কি বায়রা কর্তৃক প্রকাশিত মাসিক ম্যাগাজিন ‘বাংলার জনশক্তি’ পড়লেও আপনি জানতে পারবেন দেশের শ্রমশক্তির রফতানী সম্পর্কিত নানা খবর।

দাস ব্যবসা এখন সরাসরি কোথাও নেই। তবে কম পারিশ্রমিক দিয়ে ঠকাবার ব্যবস্থা এখনও দেশের ভিতরে ও বাইরে জারী আছে। পুঁজির মালিক মনে করেন কম বেতন বা মজুরী দিলে তারা একটু বেশী পরিমানে লাভ করতে পারেন। আমাদের দেশে পোষাক শিল্প সেভাবেই গড়ে উঠেছে। তবে পোষাক শিল্পের মালিকরাও অনেক লড়াই করেছেন এই শল্পের অগ্রগতির জন্যে। সরকারও প্রচুর সহযোগিতা দিয়েছেন। শুনা যায় প্রায় ৩০ লাখ নারী এই শিল্পে শ্রম বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু বিনিয়োগের জন্যে তেমন সম্মানজনক মজুরী বা রিটার্ণ পাননি। এখন তাঁরা সজাগ হতে শুরু করেছেন। দু:খের বিষয় এই শিল্পে প্রচুর ভাংচুর ও আগুন লাগাবার অসত্‍ কাজ বার বার চলছে। অনেকেই মনে করেন এই অরাজকতার পিছনে বিদেশী হাত রয়েছে। বিদেশীদের সাথে হাত মিলিয়েছে বামপন্থী বলে পরিচিত এক শ্রেণীর অদৃশ নেতা ও নেত্রী। তবে এত অসুবিধার মাঝেও এই শিল্পের বিকাশের সাথে সাথে আরও বহু লিংকেজ শিল্প গড়ে উঠেছে। তাতে আরও অনেক শ্রমিকের কর্ম সংস্থান হয়েছে।

৭০ লাখ শ্রমজীবী মানুষ বিদেশে যেয়ে দেশের জন্যে ১২ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠালেও তাদের দু:খের একেবারেই অবসান হয়নি। এতে সরকার এবং এক শ্রেণীর এজেন্ট বা শ্রমশক্তি রফতানি কারক দায়ী। আজ পর্যন্ত একজন এজেন্টেরও তেমন কোন শাস্তি হয়নি। কিন্তু শ্রমিরা হয়েছে সর্বস্বান্ত। বিদেশ যায় গ্রামের কৃষকের সন্তানেরা জমি জমা বিক্রি করে। ভুয়া এজেন্টের মাধ্যমে বিদেশে গিয়েও অনেকে দারুন ভাবে ঠকেছে। অনেকেই এখন বিদেশের জেলে আছেন। সরকার এই ব্যাপারে তেমন কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারেননি। সম্প্রতি রেমিট্যান্স কমতে শুরু করেছে বলে পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। শুনা যায়, এই ব্যাপারে সরকারের কূটনৈতিক দরকষাকষি তেমন শক্তশালী হয়নি। কোথাও কোথাও সরকারের বিদেশনীতি অনেকেই দায়ী করেছেন। বহুদেশ আমাদের দেশ থেকে শ্রমিক না নিয়ে ভারত পাকিস্তান শ্রীলংকা থেকে শ্রমিক নিয়ে যাচ্ছে। সরকারের ভুল নীতির ফলে অনেক দেশ নানা ধরনের কারণ দেখিয়ে আমাদের শ্রমিকদের দেশে ফেরত পাঠিয়েছে।

সরকার নানা নীতি গ্রহন করেছেন, কিন্তু সেসব বাস্তবায়নে তেমন জোর পদক্ষেপ নেই। মন্ত্রী মহোদয়রা নানা কথা বলেন। মনে হয় ওসব কথার কথা। ভাবটা যেন গরীবের ছেলে বিদেশ গিয়েছে তাতে আমি বা আমাদের কি? অপরদিকে বাংলাদেশ ব্যান্কের গভর্ণর সাহেবও রাজনীতিকদের কথা বলতে শুরু করেছেন। তিনিও ইদানিং অনেক কথা বলেন যার কোন বাস্তবায়ন নাই। কিছু কিছু কাজ আছে যা গভর্ণর সাহেব নিজেই করতে পারেন। যেমন রেমিট্যান্সের টাকাটা যেন প্রেরকের স্ত্রী-সন্তান বা মা-বাপ খুব দ্রুত পান। তাদের যেন কোন কস্ট না হয়। সংগঠিত পোষাক শিল্পের মালিকরা সরকারের উপর যে পরিমান প্রবাব বা চাপ সৃস্টি করতে পারেন তা প্রবাসী শ্রমিক ও কর্মজীবীরা করতে পারেন না। তাদের তেমন কোন সংগঠনও নেই। শ্রমশক্তি রফতানীকারক সমিতি নিজেদের স্বার্থের জন্যে যেভাবে দরকষাকষি করতে পারেন সেভাবে প্রবাসীরা করতে পারেন না। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের নাম প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। প্রবাসীদের সাথে কথা বলে দেখুন তারা মন্ত্রণালয় সম্পর্কে কি বলেন। একশ’ভাগ প্রবাসীই বলবেন তারা সরকারী অবহেলায় দিন যাপন করছেন।

এমন গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রা আয়কারী খাতকে যে পরিমান গুরুত্ব সরকারের দেয়া উচিত ছিল তা সরকার দেননি। ফলে এখন জনশক্তি রফতানী কমছে। রেমিট্যান্সও কমছে। ১৯৭৬ সালে  ৬০৮৭ জন শ্রমিককে বিদেশে পাঠিয়ে বাংলাদেশ প্রথম জনশক্তি বাজারে প্রবেশ করে। আশা ছিল একদিন বাংলাদেশ বিশ্বের প্রধান জনশক্তি রফতানীকারক দেশ হিসাবে নিজের অবস্থান দৃঢ করবে। কিন্তু দেশবাসীর সে আশা পূরণ হয়নি। বিদেশে অবস্থানরত শ্রমিকদের নিবিড় দেখাশুনা করার জন্যে সরকার কোন ব্যবস্থা করেনি। বিদেশে দূতাবাস গুলোতে বিশেষ সেল খোলার দরকার ছিল। সরকারী অফিসাররা সেখানে বন্ধু বা হিতৈষী হিসাবে ব্যবহার না করে প্রভুর মতো ব্যবহার করে। বিদেশে পোস্টিং পাওয়ার জন্যে সরকারী নেতাদের আত্মীয় স্বজনরাই বেশী গুরুত্ব বা প্রাধান্য পেয়ে থাকেন। ফলে তারা সেবার কাজ না করে নিজেদের আখে গুছাতেই ব্যস্ত থাকেন।

জিডিপিতে প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান প্রায় ১৫ শতাংশ ছিল। পোষাক শিল্পের চেয়ে অনেক বেশী বললে অনেকেই অবাক হবেন। জনশক্তি রফতানী খাতে পুরোটাই দেশের আয়। যারা বিদেশে যান তারা বিদেশেই খাদ্য বস্ত্র বাসস্থান জোগাড় করেন। তাদের জন্যে সরকারের কিছুই করতে হয়না। একজন লোকের সারা বছরের খাদা বস্ত্র বাসস্থান শিক্ষা স্বাস্থ্য কোন কিছুরই যোগান দিতে হয়না সরকারকে। উপরন্তু একজন প্রবাসী শ্রমিক দেশের জন্যে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা পাঠান। সরকার সত্যিকার অর্থা তাদের জন্য নীতি তৈরী করা ছাড়া তেমন কিছু করছেননা। প্রবাসী কল্যাণ ব্যান্কে প্রত্যেক প্রবাসীর শেয়ার থাকা দরকার। প্রবাসীদের পরিবার পরিজনের জন্যে বিশেষ স্কুল কলেজ হাসপাতাল স্থাপন করা দরকার। শুধু নামের জন্যে কোন প্রতিস্ঠান ষ্থাপন করে লাভ নেই। বায়রা ইন্সুরেন্স প্রবাসী শ্রমিকদের কি কাজে লাগছে তা দেশবাসী জানেনা।

Read Full Post »


বস্তি বলতে আমরা ইংরেজী স্লাম মনে করি। মানে বাস্তুহারা গৃহহীন মানুষেরা যেখানে বাস করেন। বস্তি শব্দটি এসেছে বসত শব্দ থেকে। উর্দুতে বা হিন্দীতে বস্তি মানে বসত বাড়ি। বাংলাতেও বসত বাড়ি বলে। তহশীল অফিসেও জমি জমার রেকর্ডে জমির বর্ণনা দেয়া হয় বসত বাড়ি ভিটে বাড়ি পুকুর কৃষিজমি অনাবাদী জমি ও সরকারি খাস জমি। সম্প্রতি জমি জমা বা বসত বাড়ি নানা কথা চলছে। একদিকে আবাসন মন্ত্রণালয় রিহ্যাব সদস্য ভুমি উন্নয়নকারী ও ফ্ল্যাট বাড়ি নির্মাতাদের নিয়ে প্রতিদিন কথা বলছেন। জনগণের উপকারের জন্যে নানা ধরণের আইন বানাচ্ছেন। রিহ্যাব সদস্যদের মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিস্ঠান আছে যারা ভুমি উন্নয়ন করে চড়াদামে বিক্রি করে। ভুমি উন্নয়নকারীদের নানাকথা চলছে। দামী দামী আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়েই সবার চোখের সামনে তারা জমি বিক্রি করছেন। দামী দামী তারকারা পয়সা নিয়ে বিজ্ঞাপনের মডেল হচ্ছেন।

সম্প্রতি বাড়ি নিয়ে অনেক বাড়াবাড়ি হয়েছে। একটি বাড়ি নিয়ে সরকার ও বিরোধী দল কম কথা বলেনি। এই বাড়িটি ছিল সাবেক প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার। চলমান সরকার মনে করেন বাড়িটা খালেদা জিয়াকে দেয়া শুদ্ধ হয়নি। তাই লীজ বাতিল করে দেয়া হয়েছে। তারপরেও সরকার কম কথা বলেনি। ওই বাড়িতে কি ছিল তা নিয়ে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী সংসদে অনেক খিস্তি খেউর করেছেন। তারপরেই শুরু হয়েছে কার বাড়িতে কি আছে তা নিয়ে নানা কথা। এমন কি বংবন্ধুর ৩২ নম্বর বাড়িটি তিনি কেমন করে বানিয়েছেন, তাঁর কোন টিআইএন ছিল কিনা। কার বাপদাদার কি ছিল তা নিয়েও কথা উঠেছে। আমাদের প্রধান মন্ত্রী বিরোধী দলের কোন কথায় কান দেননা। এখন তিনি ক্ষমতায় আছেন তাই এতে তাঁর কিছু আসে যায়না। জানিনা, দেশবাসীকে আর কি কি শুনতে হবে।

১/১১র মইনউদ্দিন- ফখরুদ্দিনের আদর্শ উদ্দেশ্য ছিল তা আজও দেশবাসীর কাছে পরিস্কার নয়। তবে যে ক্ষতি দেশের হয়েছে তা একেবারেই পরিস্কার। প্রথম দিকে মনে হয়েছে ওই সেনা সমর্থিত সরকার দেশের দুটি বৃহত্‍ দলকে ধ্বংশ করতে চেয়েছিল। অনেকে বলেন দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে বহিস্কার করতে চেয়েছিল তথাকথিত সেই কেয়ারটেকার সরকার। তখন নয়া দিগন্তে বেশ কটি কলাম লিখে আমি বলেছিলাম ওই দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে নির্বাসন দেয়া সম্ভব হবেনা। কারণ দেশের সাধারন মানুষ ও ভোটাররা দুই ভাগে বিভক্ত। বড় দুটি দলের সমর্থকের সংখ্যাও কোটি কোটি। শুনেছি ১/১১ সরকার দুটি দলের মার্কা নৌকা ও ধানের শীষকেও বাতিল করতে চেয়েছিল। সম্প্রতি বিশ্ব কাঁপানো উইকিলিক্স প্রকাশ করেছে পশ্চিমা দেশগুলো বাংলাদেশে নির্বাচন চেয়েছে। কিন্তু দুই নেত্রীকে অবশ্যই নির্বাচনে আনতে হবে। খালেদা জিয়া নাকি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে চাননি। শেষ পর্যন্ত তিনি নানা ধরনের ভয় ভীতির মাঝেই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছেন। না করলে নাকি দেশে সামরিক শাসন জারী হতো। তাই নির্বাচনে হেরে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত থাকা স্বত্তেও তিনি অংশ গ্রহণ করেছেন। ফলে ১/১১র সরকার তাঁর ও তাঁর পরিবারের প্রতি যা করতে চেয়েছিল এখন সে কাজটি করছে। খালেদা জিয়াকে বাস্তুহারা করা হয়েছে। তাঁর দুই ছেলেকে মামলা মোকদ্দমা দিয়ে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। প্রধান মন্ত্রী বলেছেন, দেশবাসী তাঁর গুলশানের বাড়িটিও নিয়ে নিতে পারে। সাভারে জিয়া সাহেবের যে জমি ছিল তাও নাকি সরকারী দলের লোকেরা দখল করে নিয়ে গেছে।

শুরু করেছিলাম রাজধানীতে বসবাসকারী সাধারন মানুষের বসতবাড়ি জমি বা ফ্ল্যাট নিয়ে কিছু কথার জন্যে। খালেদা জিয়ার বাড়িটা নিয়ে নাকি বিডিয়ার  জওয়ানদের বিদ্রোহে নিহত অফিসারদের পরিবারের জন্যে ফ্ল্যাট তৈরি করা হবে। তাতে নাকি অনেক পরিবারের বত ব্যবস্থা হবে। তবে রাস্ট্রের দায়িত্ব ছিল এবং রয়েছে সব মানুষের জন্যে মাথা গোঁজার ব্যবস্থা করা। জাতি সংঘেরও তেমন ওয়াদা রয়েছে। সরকার তা পারেনি। কখন পারবে তার কোন নিশ্চয়তা বা ওয়াদা নেই। স্ল্যাম দেখিয়ে নাকি বেশ কিছু এনজিও কর্মী ও নেতা দুটো পয়সা কামিয়ে নিচ্ছেন। বিদেশী সাহেবরাও বস্তিতে ঘুরে ঘুরে ছবি তুলে নিজ দেশে নিয়ে দেখাচ্ছেন। শুনেছি রাজধানীতে ৪০ শতাংশ মানুষ বস্তি ফুটপাত রেল স্টেশন বাস ও লঞ্চ টার্মিনালে রাত কাটান। মানে  ৭০ লাখের বেশী মানুষ গৃহহীন। এদের প্রতিদিন প্রধান মন্ত্রী মন্ত্রী সংসদ সদস্য ও আমলারা দেখতে পান। রাজনীতির মিছিলে নাকি এদের বেশ দাম। মিছিলে গেলে একশ’ বা দুশো’টাকা পায়। গুলি কেয়ে মরলে শহীদ হয়। রাজনৈতিক দলগুলো এদের শহীদ বানিয়ে শোক দিবস পালন করে। রাজধানীতে রাজনীতির জন্যে রিকসা, ঠেলা গাড়ি ও ভিক্ষুকের তাই খুব প্রয়োজন।

বসতি সমস্যা সমাধানে সরকার কি করছেন? আমরা তা সুস্পস্ট ভাবে দেখতে ও জানতে পারছিনা। রাজধানীতে বা সারা দেশে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও হাউজিং সেটেলমেন্ট বিভাগ সরকারী জমি বিতরন করছেন। কৃষক বা সাধারন মানুষের জমি সস্তায় হুকুম দখল করে কিছু বেশী দামে বা বাজার থেকে অনেক কম দামে সুবিধাভোগী সমাজের কাছে বিক্রী করছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ(রাজউক) রীতিমত জমির ব্যবসায়ী হিসাবে নামজাদা প্রতিস্ঠানে পরিণত হয়েছে। নিয়মিতই জমি দখল করছে এবং প্লট বানিয়ে বিক্রী করছে। যা অন্যান্য সাধারন জমির ব্যবসায়ীরাও করছে। রেগুলেটরী বা আইন প্রয়োগ ও বাস্তবায়নকারী প্রতিস্ঠান হিসাবে তেমন কোন সাফল্য রাজউক এখনও দেখাতে পারেনি। বার বার দাবী উঠেছে রাজউক যেন আর জমির ব্যবসা না করে। কিন্তু সেদিকে নজর দেয়ার সরকারের সময় নেই। এতে জনমনে ধারনা হয়েছে রাজউকের জমির ব্যবসার সাথে সরকার এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত। রাজউক হচ্ছে থানার দারোগার মতো। নিজেই অভিযোগ এনে যেকোন নাগরিককে পাকড়াও করে আদালতে চালান দেয় এবং নিজেই সাক্ষী দেয়। সরকারের উচিত অবিলম্বে আইন করে বলা রাজধানীতে আর জমি বরাদ্দ দেয়া হবেনা। রাজউক ফ্ল্যাট তৈরি করে বিক্রি করবে। বেসরকারী ভুমি উন্নয়নকারীরাও শুধু ফ্ল্যাট তৈরি করবে।

এবার রিহ্যাব সদস্যদের নিয়ে কিছু কথা বলা প্রয়োজন। এখন নাকি রিহ্যাবের সদস্য সংখ্যা ৮শ’র উপরে। তন্মধ্যে বিজ্ঞাপনের কারনে শ’খানেক কোম্পানীর নাম জানা যায়। রিহ্যাব ডাইরেক্টরিতে সদস্যদের নাম পাওয়া যায়। রিহ্যাব কিছু বুলেটিনও প্রকাশ করে থাকে। কিন্তু একজন গ্রাহক হিসাবে যদি কোম্পানী গুলো সম্পর্কে জানতে চান সঠিক তেমন কোন তথ্য কোথাও পাবেননা।বেশীর ভাগ ক্রেতাকেই না জেনেই ফ্ল্যাট বুকিং দিতে হয়। তারপর কখন ফ্ল্যাট পাবেন তার কোন নিশ্চয়তা নেই। শুধু জাঁদরেল ক্রেতাই হুমকি ধামকি দিয়ে নিজের যোলআনা বুঝে নিতে পারেন। ক্ষমতাবান লোকেরাতো প্রভাব খাটিয়ে বিনে পয়সায় ফ্ল্যাট বা জমি পেতে পারেন। ক্ষমতাহীন মধ্যবিত্তদের যত কস্ট। জমির মালিক ডেভেলপারকে জমি দেয়ার আগে মিস্টি মধুর স্বর্গীয় ব্যবহার পেয়ে থাকেন। চুক্তি করে জমি ডেভেলপ করার জন্যে দেয়ার পর কি ঘটতে পারে তা কল্পনাও করতে পারবেননা। শুনেছি উত্তরায় এক রিহ্যাব সদস্য ফ্ল্যাট বানিয়ে জমির মালিককে কিছুই দেননি। দুই হাজার সালে জমি দিয়ে তিনি এখনও ডেভেলপারের পিছনে ঘুরছেন। সাত মসজিদ রোডে এক বিঘা জমির উপর বাণিজ্যিক ভবন তৈরি করার জন্যে ডেভেলপার চুক্তি করেছেন ২০০৩ সালে। আজও সেই ভবন তৈরি হয়নি। সেখানে এখন সাউথ ইস্ট ব্যান্কের সাইন বোর্ড ঝুলছে। ইতোমধ্যে জমির মালিক মারা গেছেন। রিহ্যাব কখনই এ ধরনের সমস্যা সমাধান করতে পারেনি। সরকার নানা ধরনের কঠোর আইন তৈরি করছেন। গ্রাহক বা ভোক্তার কিছু আইন গত অধিকার হয়ত এতে বাড়বে। কিন্তু জমি বা ফ্ল্যাট কিনে কে মামলা মকদ্দমায় যেতে চায়। কোম্পানীরতো দামী আইনজীবী আছে। গ্রাহকের কে আছে? এ ধরনের মামলা  কতদিন চলে তা সবাই জানেন। এতে ডেভেলপারই উপকৃত হয়। এ ধরনের সমস্যার সমাধানে রিহ্যাব শুধু সমঝোতার চেস্টা করতে পারে। কিন্তু তারা তাদের সদস্যদের স্বার্থই প্রধানত দেখে থাকেন। রিহ্যাবের বর্তমান ইমেজ খুবই নেগেটিভ বা নেতিবাচক। রিহ্যাবের নিজস্ব কোন রিসার্চ সেল বা গবেষনাগার নেই। বহুদিন ধরে এ ব্যাপারে তাদের অনুরোধ করেও ফল পাওয়া যায়নি। জনশক্তি রফতানীকারকদের এক সময় আদম ব্যাপারী বলা হতো। তখন এত আইন কানুন ছিলনা। এখন এ ব্যাপারে সরকার ও জনগন সজাগ। তবুও গরীব মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। তেমনি রিহ্যাবও একটি শক্তিশালী হাউজিং সংগঠন। বিগত বছর গুলোতে রিহ্যাবের সদস্যরা প্রায় এক লাখের মতো ফ্ল্যাট নির্মান ও সরবরাহ করেছে। কয়েক হাজার প্লট ডেভেলপ করে বিক্রি করেছে। প্রায়। যে পরিমান কাজ হয়েছে সেই পরিমান পজিটিভ ইমেজ তৈরি হয়নি। কারন তাদের কাজের পেছনে সুখ বা আনন্দের চেয়ে বেদনা বেশী। বহু মানুষের চোখের পানি জড়িত তাদের ধনী হিসাবে বিকশিত হওয়ার পেছনে।

চাল ডাল তেল নুনের দাম বাড়লে চারিদিকে চিত্‍কার শুরু হয়ে যায়। কারন না খেলে মানুষ মরে যাবে। সেজন্যে জোর করে হলেও সরকার দাম কম রাখার চেস্টা করে। পোষাক শিল্প ও পুরাণো গরম কাপড় আমদানীর কারনে মানুষ সস্তায় কাপড় পরতে পারছে। কিন্তু চিকিত্‍সা ও বসতির তেমন কোন ব্যবস্থা রাস্ট্র করতে পারেনি। সারা দেশে কয়েক কোট মানুষ গৃহহীন। এ নিয়ে প্রচুর কথা হয়। লেখালেখি ও সেমিনার হয়।বসতি সব মানুষের মৌলিক অধিকার। বিষয়টা সম্পর্কে মানুষকে সজাগ করা হয়। বস্তির কথা শুরুতেই বলেছি। সব মানুষকে বসত দেয়া খুবই কঠিন কাজ। তবে অসম্ভব নয়। কিন্তু সরকার বা উপরতলার মানুষেরা বিষয়টাকে তেমন গুরুত্ব দেয়না। বিগত বছর গুলোতে সরকার রাজধানীতে জমি বা প্লট বরাদ্দ না দিয়ে যদি ফ্ল্যাট বরাদ্দ দিতো তাহলে কয়েক লাখ বেশী লোকের বসতের ব্যবস্থা হতো। কিন্তু সরকারের নীতি হলো কিছু সুবিধাভোগী মানুষকে জমি বা প্লট দেয়া। রাজনীতিক, সামরিক বেসামরিক আমলা, ধনীদের সবার জমি আছে রাজউক এলাকা গুলোতে। সরকারী দাম দশ লাখ হলে বাজারে দাম এক কোটি টাকা। এর মানে হলো সরকার রাতারাতি কিছু সুবিধাভোগীকে রাতারাতি ধনী করে দিলেন। এ নিয়ম আর কতদিন চলবে কে জানে। রাজধানীতে এখন ৩০ লাখ টাকায় কোন ফ্ল্যাট পাওয়া যায়না। বসতের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যান্কগুলো দীর্ঘ মেয়াদী ঋণ দেয়না। স্বল্পমেয়াদী ঋণে গ্রাহক টাকা শোধ করতে পারেনা। ৩০ বছর মেয়াদী ঋণ চালু করার জন্য বলেও কোন ফল পাওয়া যায়নি। খালেদা জিয়ার বসত ভিটা টানাটানি করে ইতোমধ্যেই সরকার নানা ঘটনা তৈরি করেছেন। আইন আর নিয়মনীতির কথা বলে ওই বাড়ির দলিল বাতিল করা হয়েছে। খতিয়ে দেখলে রাজধানীতে বহু বাড়ি পাওয়া যাবে যা বরাদ্দে ষোলয়ানা নিয়মনীতি মানা হয়নি।

Read Full Post »


নোবেল বিজয়ী ড: ইউনুস ও গ্রামীন ব্যান্কের হাল হকিকত।

গ্রামীণ ব্যান্ক ও ড: ইউনুসকে নিয়ে এখন দেশে তোলপাড় চলছে। সরকার ও সরকারী দল ড: ইউনুসের উপর ক্ষেপে গেছেন। স্বয়ং প্রধান মন্ত্রী ইউনুসকে নিয়ে নানা কথা বলেছেন যা অশোভন পর্যায়ে পড়ে বলে আমার মনে হয়। ইতোমধ্যে পররাস্ট্র মন্ত্রী দিপুমনি, দলের সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ ও ছাত্রলীগের নেতারাও ইউনুসের বিরুদ্ধে অনেক কথা বলে ফেলেছেন। দেশের সুধীজন বলেছেন, অভিযোগের তদন্তের আগে এসব কথা বলা উচিত হয়নি। ইউনুস নিজেই সরকারী তদন্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। সুযোগ পেয়ে মিডিয়া ও নানাজন নানা কথা বলতে শুরু করেছেন।যাক শেষ পর্যন্ত সরকার তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। ড: ইউনুস এখন একজন বিশ্ব নাগরিক। দরিদ্র গ্রামীন নারীদের ভিতর বিনা বন্ধকে ক্ষুদ্র ঋণ বিতরন করে বিশ্বব্যাপী নাম করেছেন। এজন্যে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। সে সময়ে দেশের মানুষ আনন্দে আত্মহারা ছিলেন। তখন সরকার বেসরকার সবাই দলবেধে ইউনুস সাহেবকে অভিনন্দন জানিয়েছে। আমাদের  দেশে  জ্ঞানী অজ্ঞানী সব মানুষই

হুজুগে নাচতে থাকেন। বিখ্যাত এক প্রবাদ আছে, চিলে কান নিয়েছে তাই সবাই চিলের পিছনে দৌড়াতে থাকে। কানওয়ালা কখনও নিজের কানে হাত দিয়ে দেখেনা। এখন নরওয়ের টিভিতে অনুসন্ধান মুলক রিপোর্ট প্রচারিত হওয়ার পর আমরা আবার খোঁজ খবর না নিয়েই নাচতে শুরু করেছি। হঠাত্‍ করে নরওয়ে টিভি এ কাজটা করলো কেন তা আমরা ভাবিনি। নরওয়ে সরকারের সাথে হঠাত্‍ করে ইউনুস সাহেবের বিরাধ বাধলো কেন। শুধু গ্রামীন ব্যান্ক নয় গ্রামীন ফোন নিয়েও ফিল্ম তৈরী করে প্রচার করা হয়েছে। ওইসব বিশষ রিপোর্টে বলা হয়েছে  ইউনুস সাহেব নোবেল প্রাইজ নেয়ার সময় যে বক্তৃতা দিয়েছেন তাতে নাকি তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। তিনি নাকি বলেছেন গ্রামীন ফোন গ্রামের সাড়া তিন লাখ দরিদ্র মহিলাকে মোবাইল ফোনের সিম দিয়েছেন। নরওয়ের রিপোর্টার বাংলাদেশে এসে গ্রামে গ্রামে ঘুরে দেখেছেন কোথাও কোন গ্রামের দরিদ্র মহিলাকে সিম দেয়া হয়নি। ওই রিপোর্টার আরও বলেছেন, গ্রামীন ক্ষুদ্র ঋণের কারণে ঋণ গ্রহীতাদের দারিদ্র দূর হয়নি। তারা গ্রামের বহু মহিলার সাক্ষাতকার গ্রহণ করেছেন। ডকুমেন্টারী ওই ফিল্মের রিপোর্ট বিশ্বব্যাপী অন্যান্য মিডিয়াতেও প্রচারিত হয়েছে। তার ঢেউ এসে লেগেছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ মিডিয়া গ্রামী ব্যান্ক ও ড: ইউনুস বিষয়ে মাঝে মধ্যে টুকটাক কিছু বললেও সিরিয়াসলি কখনই কিছু বলেনি। ড: ইউনুস নিজেও বাংলাদেশের মিডিয়াকে কখনই নিজের আস্থায় নিতে নিতে চাননি বা নিতে চাননি। ফলে দেশী মিডিয়া গ্রামীন ব্যান্ক সম্পর্কে সব সময়ই আলো আঁধারীতে ছিল এবং আছে। বেশীর ভাগ মানুষই জানেনা এই ব্যান্কটি সরকারি না বেসরকারি। এটি কি এনজিও? এটি সমবায় সংস্থা? এটি ব্যাক্তি মালিকানা সংস্থা?

সবাই জানে ১৯৭৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির শিক্ষক থাকা কালে ড: ইউনুস জোবরা গ্রামে তাঁ ক্ষুদ্রঋণ আইডিয়াটি চালু করেন সম্ভবত জনতা ব্যান্কের আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে।কিন্তু যে পরিবার ঋণ নিয়েছিল তাদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি। পরে তিনি তাঁর এই চিন্তা ভাবনা নিয়ে প্রেসিডেন্ট জিয়ার সাথে দেখা করেন। জিয়া সাহেব ড: ইউনুসকে উত্‍সাহিত করার জন্যে বাংলাদেশ ব্যান্ককে নির্দেশ দেন। বাংলাদেশ ব্যান্ক ড: ইউনুসের আইডিয়াকে একটি প্রকল্প হিসাবে গ্রহণ করে তাঁকেই প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেয়। আমি যতদূর জানি, এটাই ছিল গ্রামীন ব্যান্ক প্রকল্পের যাত্রা শুরু।তখন ড: ইউনুস কিছুদিন বাংলাদেশ ব্যান্কেও অফিস করেছেন। গ্রামীন ব্যান্কের অফিসিয়াল ওয়েব সাইটে গেলে প্রতিস্ঠানটির ব্যাকগ্রাউন্ড ইনফরমেশন গুলো পাওয়া যায়না। শূধু বলা হয়েছে ১৯৭৬ সালে ড: ইউনুস ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পটি চালু করেন। ১৯৮৩ সালে প্রেসিডেন্ট এরশাদের আমলে  সরকার গ্রামীণ ব্যান্ককে একটি পূর্ণাংগ ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে  একটি আইন পাশ করে। এটা মূলত একটি সরকারী প্রতিস্ঠান। শুরু থেকেই বাংলাদেশ সরকার গ্রামীণ ব্যান্ককে আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে  আসছে। সাইফুর রহমান সাহেবের আমলে ৩০০ কোটি টাকা ঋণও দেয়া হয়েছিল।শুনেছি এক সময় সরকার এই ব্যান্কের যোলআনা মালিক ছিল। পরে আস্তে আস্তে কেমন করে যেন সরকারের মালিকানা থেকে চলে যায়। এই ব্যাপারে সরকারের গাফেলতিও কম নয়। এখন নাকি সরকার মাত্র দশ ভাগ শেয়ারের মালিক।

নোবেল পুরস্কার লাভের পর আমি লিখেছিলাম এই প্রাইজ পাওয়া উচিত ছিল বাংলাদেশ সরকার ও ড: ইউনুসের। কিন্তু পেল গ্রামীণ ব্যান্ক ও ড: ইউনুস। কারণ সরকারই এই ব্যান্কের প্রতিস্ঠাতা। ওই সময়ে বাংলাদেশ ব্যান্কের গভর্ণর ড: সালেহ উদ্দিনও বলেছিলেন এই ব্যান্কের প্রতিস্ঠাতা সরকার। কি কারণে যেন ড: ইউনুস শুরু থেকেই এই ব্যান্কের প্রতিস্ঠার ইতিহাসকে গোপন করার চেস্টা করেছেন। আমি একটি চিঠি লিখে বিষয়টি সম্পর্কে নোবেল পীচ কমিটিকে জানিয়েছিলাম। আমার চিঠির একটি অংশ তখন নিউএজ বা ডেইলী স্টার পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল। সেই সময়ে বিদেশী কোন কোন কাগজে বলা হয়েছিল ড: ইউনুস গ্রামীণ ব্যান্কের মাধ্যমে একটি মুসলিম প্রধান দেশে সুদকে জনপ্রিয় করেছেন। কথাটি মহাসত্য। বাংলাদেশের গ্রামে গন্জে গরীব মানুষ জানতে ও বুঝতে পেরেছে সুদ এবং গ্রামী ব্যান্ক কি জিনিস। গ্রামের লাখ লাখ মানুষ গ্রামীণ ব্যান্কের ফাঁদে পড়ে সর্বহারা ও গ্রামছাড়া হয়েছে। ঠিক এ সময়ে শেরে বাংলার ঋণ সালিসী বোর্ডের কথা মনে পড়েছে। তখন সুদী মহাজনের জালে আটকা পড়ে লাখ লাখ গরীব মানুষ সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছিল। তখন বেশীর ভাগ সুদী মহাজন ছিল হিন্দু ধণীরা। তারপর এদেশে আসে কাবুলীরা। শেরে বাংলা ঋণ সালিসী বোর্ড করে গরীব মানুষদের রক্ষা করেছিলেন। এনজিওদের কাছ থেকে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে যারা সর্বস্বান্ত হয়েছে তাদের বাঁচাবার জন্যে সরকার এখনও ঋণ সালিসী বোর্ড গঠণ করেননি। ও রকম কিছু করার কোন আলামত দেখছিনা। বিগত ৩০ বছরে ক্ষুদ্রঋণের ফলে আমাদের গরীব গ্রামের মানুষের কি উপকার হয়েছে তা দেশবাসী এখনও জানেনা। সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম সাইফুর রহমান সাহেব একবার বলেছিলেন ৩০ বছরে গ্রামী ব্যান্ক ৬০ লাখ গরীব মানুষের মাঝে ঋণ বিতরন করেছে। দারিদ্র বিমোচনের টি এই হারে চললে তিনশ’ বছরেও বাংলাদেশের গ্রামী দারিদ্র যাবেনা। সরকারও ইউনুস সাহেবের নীতি অনুসরন করতে পারবেনা।

সুদী ব্যবসা দ্বারা গরীবের দারিদ্র যায়না। রাস্ট্রীয় নীতি ছাড়া পৃথিবীর কোথাও দারিদ্র দূর হয়নি। শুধু রাস্ট্রকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে কতদিনে সে তার জনগণকে দারিদ্র থেকে মুক্তি দিতে চায়। সূদ যে গরীবকে আরও গরীব করে দিতে পারে তা আলকোণ সুস্পস্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছে। তাই আলকোরাণ সূদকে হারাম করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। আল্লাহর রাসুল বিদায় হজ্বের ভাষণে মহাজনদের সকল সূদ মওকুফ করে দিয়েছিলেন। ওই ঘোষণার মাধ্যমে তত্‍কালীন মক্কা এবং আশে পাশের মানুষ মুক্তিলাভ করেছিলো। আমরা সত্যিই বড়ই হতভাগ্য। আলকোরাণ ও রাসুলের(সা) ঘোষণার প্রায় দেড় হাজার বছর পরেও আমরা সামাজিক ও রাস্ট্রীয় ভাবে সূদী ব্যবসায় জড়িয়ে আছি। শুধু তাই নয় , এই হারামকে রাস্ট্র প্রশংশিত করেছে। ড: ইউনুস বলেছেন, তিনি ব্যবসা করেন। গ্রামীন ব্যান্ক কোন দাতব্য ব্যবসা নয়। গ্রামীন ব্যান্ক বিনা সিকিউরিটিতে গরীবদের ঋণ দেয়। গ্রামীণ ব্যান্কের ঋণ নিয়ে কতজন গরীব গরীবানা ত্যাগ করতে পেরেছেন তা কোনদিন সরকার বা সমাজ চায়নি। গ্রামীণ ব্যান্ক ৩০/৩৬ পারসেন্ট সুদ গ্রহণ করে এটা জানার পরও সরকার কখনও কিছু বলেনি। কারণ আজও অজানা। সুদের ব্যবসা করে ড: ইউনুস শান্তিতে নোবেল পাওয়ার পর আমরা নেচেছি গেয়েছি। এখন দলবেঁধে তাকে গালিগালাজ করছি। আবার কেউ কেউ বলছেন, ইউনুসের নামের সাথে বাংলাদেশের মর্যাদা জড়িত। মানে তাঁকে আর গালগাল করা ঠিক হবেনা।

নোবেল পুরস্কার নিয়ে ইতোমধ্যে তোলপাড় সৃস্টি করেছে গণচীন। চীনের ভিন্ন মতাবলম্বী গণতন্ত্রী বলে পরিচিত জিউ বাওকে নোবেল পুরস্কার দেয়ায় চীন ক্ষুব্দ হয়েছে। চীন সরকার তাদের মনোভাব নোবেল কমিটিকে জানিয়েছে। চীনকে সমর্থন করে বিশ্বের বহুদেশ পুরস্কার বিতরণী অনুস্ঠানে বহু দেশ ও সংগঠণ অংশ গ্রহণ করেনি। ফলে নোবেল পুরস্কার বিতর্কিত হয়ে পড়েছে। নোবেল শান্তি পুরস্কার একটি রাজনৈতিক পুরস্কারে পরিণত হয়ে পড়েছে। সরকার বা রাস্ট্রের আপত্তিকে অগ্রাহ্য করে এর আগেও ইরাণের শিরিণ এবাদি এবং মায়ানমারের আং সাং সুচিকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়া হয়েছে। যুদ্ধরত ফিলিস্তিন ও ইজরায়েলের নেতা আরাফাত ও শ্যারনকে শান্তি পুরস্কার দেয়া হয়েছে।  নোবেল শান্তি পুরস্কার সম্পর্কে লোকে নানা ধরনের তামাশা করে। বলে, আপনি আপনার মায়ের বিরুদ্ধে বদনাম করুন আপনাকে পশ্চিমারা নোবেল দিয়ে দিতে পারে। সবচেয়ে মূল্যবান ইস্যু হলো এখন ইসলাম। আপনি ইসলামের বিরুদ্ধে বলুন আপনাকে নোবেল দিয়ে দিবে।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড: আহমদ শাফি নোবেল নিয়ে একটি প্রবন্ধ লিখেছেন যা বিডিনিউজ প্রকাশ করেছে। আমি ড: শাফির সাথে একমত। শান্তি পুরস্কার প্রদানের শক্তিশালী মাপকাঠি হলো এখন রাজনীতি। ড: শাফি বলেছেন বিশ্বের সব পুরস্কারের ক্ষেত্রেই নানা ধরনের রাজনীতি হয়ে থাকে। এশিয়ার নেবেল বলে বহুল প্রচারিত ম্যগ সাই সাই এওয়ার্ড ও তেমনি একটি পুরস্কার। বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন মানুষ এ পুরস্কার পেয়েছেন। এদের মাত্র কয়েকজনকে পাঠক হয়ত চিনেন। বাকীরা অপরিচিত। কিন্তু পুরস্কার দাতারা তাদের চিনেন। সম্প্রতি আমাদের দেশের একজন নামজাদা এনজিও ব্যবসায়ী স্যার উপাধি পেয়েছেন বৃটেনের রাণীর কাছে থেকে। তাঁর পুর্ব পুরুষও নাকি ইংরেজদের কাছ থেকে খান বাহাদুর টাইটেল পেয়েছিলেন। আর শুনে একেবারেই আমরা গদগদ। এই ইংরেজরাই ১৯০ বছরে এদেশে কোটি কোটি লোককে হত্যা করেছে। এই দেশটাকে পৃথিবীর দরিদ্রতম দেশে পরিণত করেছে। চীনারা একটি সম্মানিত জাতি বলেই পশ্চিমাদের ফাঁদে পা ফেলেনা। জাপানীরা এখনও চীনের কাছে ক্ষমা চেয়ে কুল পাচ্ছেনা পূর্ব পুরুষের অপরাধের জন্যে।

আমাদের দেশে নানা ধরণের সরকারী পুরস্কার আছে। সব পুরস্কারই এখন রাজনৈতিক পুরস্কারে পরিণত হয়েছে। সরাকরের যাকে পছন্দ তাকেই রাস্ট্রীয় পুরস্কার দেয়া হয়। কেন দেয়া হয় তার কোন কারণ নেই। কবি শিল্পী বুদ্ধিজীবীদেরও রাজনৈতিক ভাগ আছে। একদল হলো আওয়ামী বুদ্ধিজীবী, আরেক দল বিএনপি বুদ্ধিজীবী। এ নিয়ে নাকি প্রচুর তদবির করতে হয়। শুনেছি, গল্প কিনা জানিনা, আমাদের এক বন্ধু মন্ত্রীকে বলেছিলেন তাকে একুশে পুরস্কার না দিলে সে সচিবালয়ের ন’তলা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করবে। সেবার সে একুশে পদক পেয়েছিলো। সরকারকে ধন্যবাদ তাকে পুরস্কার দেয়ার জন্যে। তাই সে এখনও বেঁচে আছে।( ershadmz40@yahoo.com )

Read Full Post »