Feeds:
Posts
Comments

Archive for May, 2014


| by Sebastian Rasalingam

( May 30, 2014, Toronto, Sri Lanka Guardian) India obtained Independence after a protracted struggle led by the British-educated brown sahibs of the Kshatriya and Brahamin castes. Ever since, their kith and kin ruled India. A few, like Dr. Ambedkar, a Dalit Buddhist, was the exception allowed by the Indian plutocracy as a sign of their “open-mindedness”. Laws were passed designating “scheduled castes”, “other backward castes (OBC) etc. An implicit Manu Dharma was there by cemented into the Indian constitution. It is no secret that Indian Universities are restricted to the upper castes, (de facto if not de jure), while a small stratum of the lower castes are allowed if they are wealthy enough.

Thus, the upper-caste plutocracy ruled India till Nardendra Modi broke the crust, nearly seven decades after the Indian Independence. Modi claims to be a tea-cart pusher form an OBC caste. In fact, he is from the “oil-pressing” caste, i.e., a “cekkati”. In Tamil usage, a “cekkati-mundan” is a “strong but senseless man, fit only to work an oil-press” (i.e., a “sekkuva” in Sinhalese) !

Normally, in Indian and Sri Lankan elections, being “lower caste” is a disqualification, especially among the Hindus, and to a lesser extent among the Buddhists and Jains. Indeed, at the turn of the 20th century, Arunachalam Ramanathan’s win over E. W. Perera was based on Ramanathan being considered “more aupper-caste” even by the Sinhalese gentry (who alone had the vote), ruling out their own co-ethnic Perera. Ramanathan himself wanted the caste system inscribed in the Ceylon constitution, and was dumbfounded by the Donoughmore reforms.

Just as the elite Indian plutocracy ruled India for nearly seven decades, the Vellalar Tamils ruled the Ceylonese (both Tamil and Sinhala) as British proxies, at least up to the days of the State council. Donoughmore, and free-education transferred the proxy power to the “low-country” Sinhalese, although the Vellalar Tamils continued to dominate the public service, the University and the professions. Even the Tamil journalists and Tamil Marxists are from the Tamil upper castes. The Tamil Marxists (with Shanmugathasan an exception) did not want to discuss caste, and the rank discrimination of Tamils by Tamils. There are hardly any low-caste Tamil journalists to argue their case.

The caste grip of the landed upper-caste Tamils (living in Karuvakkaddu – Cinnamon gardens) over the “lower caste” Tamils ensured that the same families continued to come to power in “elections”. They mounted anti-Sinhala Tamil nationalism against the Donoughmore reforms. After independence, they pushed separatism to counter the Sinhala-language act . The boiling point of this madness was the Vaddukkodai resolution to do battle against a majority ten times bigger than them.

The Sinhalese extremist answer was the 1983 pogrom, supported by J.R. Jayawardene and tacitly also by Prabhakaran who wanted a final break in the “co-habitation” of Colombo Tamils with the Sinhalese. The militant “boys” assassinated the Vellalar leaders, hijacked Tamil nationalism and spawned a terrorist movement against the brutality of the State. This was in turn hijacked by the Vellalar leaders who controlled the diaspora and the dollars. They talked to Western governments and ran the NGOs.

So, the Eelam wars did not change the leadership. The Northern Provincial elections of 2013 saw the re-election of the kith and kin of the same old families that ruled the Tamils of Ceylon in 1930. The situation was identical in India. The rise of a low-caste Narendra Modi to the top was not expected even an year ago. At best, he was to be a puppet of Jayalalitha and other chief ministers! However, the “cekkati-mundan” has prevailed. Modi is a determined oil-presser ready to squeeze the oil. India is at last moving to what Donoughmore (and the British Fabians) wanted to achieve in 1930-Ceylon!

Tamil society, subject to the Nallur Orthodoxy of Wigneswaran and Sampanthan, will not change until the Vellalars, the upper-caste Jaffna-University Guru-Sisyan, and the Diaspora puppet-masters are overthrown. That is a tall order. But Narendra Modi carried through an even more tall order.

Narendra Modi is said to have egged Mahinda Rajapaksa to implement the 13th amendment “in full”. So, will Nardendra Modi expand on article 370 giving truly special status to Kashmir? What about Nagaland and other s who demand 370? Or is 370 an aberration to roll back? Modi’s anti-caste “unitary-India” will irritate Tamil Nadu so used to flexing muscles against the center. Tamil Nadu will perhaps show Modi that the 13th amendment is Rajiv’s folly. Why should Modi strengthen Tamil Nadu by installing a Jaffna-based, Prabhakaranist Eelamist chief minster?

And why would sober Vanni Tamils want the 13th amendment to legitimize upper-caste local Rajahs from the old land-owning Karuvakaddu aristocracy ? They were brutal enough to put Tamils in harm’s way in a horrific war against a numerically superior, equally brutal state sector. What guarantees that the next set of local “chief ministers” of Jaffna would not become Sankilis, Prabhakarans, or Tamil versions of Mr. Mervin de Silva, a claimed “descendant of Dutugamunu”!

Advertisements

Read Full Post »

The Hindu History of Afganistan


This is an article on “The Hindu History of Afghanistan” within the Articles on Hinduism section of IndiaDivine.org.

The year 980 C.E. marks the beginning of the Muslim invasion into India proper when Sabuktagin attacked Raja Jaya Pal in Afghanistan.

Read Full Post »


যে দেশের স্বপ্ন দেখেছি ৯ / এরশাদ মজুমদার

চলমান আদর্শ ও দর্শণহীনতা একদিন বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূলে আঘাত করবে

আমি বিশ্বাস করি আমাদের তরুণ তরুণী দেশকে ভালবাসে এবং গভীর ভাবেই ভালবাসে। এ ব্যাপারে কারো কোন সন্দেহ থাকা উচিত নয়। একটা মুসলীম মেজরিটি সমাজ বা সোসাইটি যে রকম হওয়ার কথা ছিল তা পাকিস্তান বা বাংলাদেশে কখনই হয়নি। পাকিস্তানের নেতারা মনে করেছিলেন মুসলীম মেজরিটি একটি রাস্ট্র হলেই লক্ষ্য হাসিল হয়ে যাবে। আর বাংলাদেশতো সৃষ্টিই হয়েছে বাংগালী স্বার্থের কথা বলে। ফলে বিগত ৪৪ বছর বাংলাদেশ একটি খিচুড়ী বা গোজামিলের নীতি বা আদর্শ নিয়ে এগোবার চেষ্টা করছে। স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোও এমন খিচুড়ী আদর্শ নিয়ে চলছে। কেউ ধর্মমুক্ত(সেক্যুলার) সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন। এদেরকে হিন্দুস্তান ও পশ্চিমারা সমর্থন দিচ্ছে। শুধু খাঁটি বাংগালী হওয়ার চেষ্টা করছেন তাদেরকেও সমর্থন দিচ্ছে হিন্দুস্তান। আরেক দল নিজেদের বাংগালী মুসলমান আইডেনটিটি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। এমন বিভ্রান্তিকর অবস্থায় তারা ভুল ইতিহাস শিখছে আর ভুল পথে চলছে। আমার স্কুল কলেজের শিক্ষকদের বেশীরভাগই ছিলেন হিন্দু। তাদের ভাব ছিল তারা মানবতা বাদী । আসলে তাঁরা মনে প্রাণে হিন্দু ছিলেন। তখন মনে হতো ধর্মই মূল অনিষ্টের কারণ। ধর্ম মানবতা ও প্রগতির বিরুদ্ধে। পরে আমি সেই মতের প্রভাব থেকে নিজেকে মুক্ত করেছি। দেশকে ,দেশের মানুষকে প্রাণভরে ভালবাসতাম এবং এখনও ভালবাসি। মানবতাই আমার চলার পথে প্রধান চালিকা শক্তি। নিজের মনে প্রাণে অন্তরে দেহে মানবতাকে জাগরিত করাই মানুষের প্রধানতম কাজ ও ধর্ম। আমি বুঝতে পারলাম দেশপ্রেমের সাথে ধর্ম ও প্রগতির কোন বিরোধ বা দ্বন্ধ নেই। বিশেষ করে ইসলাম একটি আধুনিক ধর্ম যা মানুষের মুক্তির আহবান জানাবার জন্যেই জগতে এসেছে। জগতের সকলেই স্বীকার করেছেন মোহাম্মদ(সা) জগতের শ্রেষ্ঠতম মানব। মোহাম্মদ(সা) জগতের প্রথম গণমানুষের রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা। যখন রোমান সম্রাট তাঁর সৈনিকদের বলেছেন,সব কিছু বিরান করে দাও, পোড়ামাটি নীতি গ্রহণ করো,হত্যা করো। ঠিক একই সময়ে মোহাম্মদ(সা) বলেছেন, আপনারা কোন রাজ্য বা দেশ দখল বা জয়ের সৈনিক নন। আপনারা যাচ্ছেন একটি আদর্শ প্রচারের জন্যে। যখন প্রতিহত হবেন শুধু তখনি আত্মরক্ষার্থে মোকাবিলা করবেন। মনে রাখবেন, মোকাবিলার সময় শিশু, নারী, বৃদ্ধ, ফলবান বৃক্ষ, শস্যক্ষেত রক্ষা করবেন। মানব জাতির মুক্তির দূত সারাজীবন দরিদ্রের জীবন যাপন করেছেন। যখন জগতের বড় বড় বাদশাহরা জনগণ মানুষের সম্পদ লুঠ করে আয়েশী জীবন যাপন করতো।
তুমিতো জানো আয়েশা আমি সেই আদর্শ ও ধর্মকে নিয়ে বেঁচে আছি। জন্মেছিতো বৃটিশ ভারতে, মানে বৃটিশ শাসিত ভারতে। ছল চাতুরী ও শঠতা করে বৃটিশ বণিকরা আমাদের দেশটাকে দখল করে রেখেছিল ১৯০ বছর। ধর্মীয় বিবাদ বা বিভেদ তৈরি করেই প্রথমে তারা দখল করেছিল সুবেহ বাংলা। বাংলা বিহার উড়িষ্যা নিয়ে ছিল সুবেহ বাংলা। মানে বাংলা প্রদেশ। এ দেশের কিছু দালালকে হাত করে ১৭৫৭ সালে ২৩শে জুন ষড়যন্ত্রমুলক পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজ উদ দৌলাকে পরাজিত করে মহাশঠ ইংরেজ কোম্পানী বাংলা দখল করে। ১৮৫৮ সালে মোগল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরকে পরাজিত করে পুরো ভারত দখল করে নেয়। ১৯০ বছর আমাদের দেশটিকে শোষন করে তারা বৃটেনকে বিশ্বশক্তিতে পরিণত করে। এদেশের লুণ্ঠিত সম্পদ দিয়েই তারা সারা বিশ্বে কলোণী স্থাপন করে। দাদাভাই নওরোজীর লেখা ‘পোভার্টি ইন ইন্ডিয়া’ বইটি পড়লেই আপনারা বুঝতে পারবেন। প্রথম একশ’ বছর ভারতের মুসলমানেরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। তখন হিন্দুরা ইংরেজদের সাথে সহযোগিতা করেছে। ভারত বিভক্তির পেছনের ইতিহাস পড়লেই জানতে পারবেন। হিন্দুদের সহযোগিতার কারণেই ইংরেজরা ভারতে ১৯০ বছর টিকে ছিল। হিন্দু নেতারা মনে করতেন,মুসলমান বা ইংরেজ উভয়েই বিদেশী। আমাদের তরুণরা এ ইতিহাস জানেনা বা জানতে চায়না।
৪৭ সালে ভারত ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় তারা ভারতকে দুই ভাগে ভাগ করে যায়। কেন ভাগ হয়েছে, কি কারনে ভাগ হয়েছে তা বলার জনেই আজকের এ কলাম। বিষয়টা আমাদের বয়সী অনেকেই জানেন নিজ নিজ দৃষ্টিকোন থেকে।
আজ আমি লিখছি আমাদের তরুণদের জন্যে। যারা জাতির বা দেশের ইতিহাস নিয়ে তেমন ভাবেনা। জানার বুঝার বা ভাবনার যে প্রয়োজন আছে তাও তারা ভাবতে পারেনা। ফেসবুক বা টুইটারে তরুণ তরুণীদের নানা ধরনের গ্রুপ বা ব্লগ আছে। সে সব ব্লগ বা গ্রুপের মতামত দেখার সুযোগ আমার হয়। তরুণ তরুণীদের অনেকেই বাংলায় টাইপ করতে পারেনা। ফলে তাদের অনেকেই ইংরেজী অক্ষরে বাংলা লেখে। ইংরেজী বাংলা দুটোই তারা ভুল লেখে। কেউ যদি তাদের ভুল সম্পর্কে উল্লেখ করে তখন তারা মন্দ কথা বলতে শুরু করে। ব্লগ বা গ্রুপ গুলোর পরিচালকগণ বেশীর ভাগই ধর্মের উপর বিরাগ ভাজন। তাও আবার ইসলাম ও মুসলমানের উপর খুবই ক্ষ্যাপা। তাদের লেখালেখি দেখে মনে হয় তারা মনে করে দেশের ও দশের কষ্টের জন্যে ইসলাম ও মুসলমানরা দায়ী। একজনতো মুসলমানদের নামের আগে ‘আবাল’শব্দটি ব্যবহার করেছে। শব্দটির অর্থ মুর্খ। সিপি গ্যাং নামে ফেসবুকে একটি নতুন গ্রুপ হয়েছে যারা নিজেদের মুক্তমনা, প্রগতিশীল, আধুনিক ও বিদ্বান মনে করে। হয়ত তারা মনে করে ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বললে কোন কোন মহল তাদের গুরুত্ব দিবে। এরা আরবী নামধারী তরুণ বাংগালী। তারা ধর্মান্ধতা থেকে মুক্তির আহবান জানিয়েছে। আর ধর্ম আর অন্ধত্বকে এক করে ফেলেছে। ধর্মের বিরুদ্ধ বিশেষ করে ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্যে সকল প্রতিষ্ঠানে বহু শিক্ষক আছেন। তরুণদের বেশীরভাগই স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। এদের মা বাবাও হয়ত আরবী নামধারী প্রগতিশীল বাংগালী। হয়ত এরা বিপথে চলে গেছে, হয়ত মা বাবার অবাধ্য হয়ে গেছে। যারা আমাদেরকে মা বাবা বা বাপদাদার ইতিহাস ভুলিয়ে দিতে চায় তরুণ তরুণীরা তাদের খপ্পরে পড়ে গেছে। এ তরুণদের কাছে ইতিহাস হচ্ছে ৭১ সাল থেকে। এর মানে এই জাতির ইতিহাস শুরু হয়েছে ৭১ সালে। যারা বলে মুসলমানরা আবাল তারা কাদের সন্তান, আর কেনইবা তারা এমন হয়ে গেলো। অথচ এই তরুণ তরুণীরা কথায় কথায় বলে তারা হাজার বছরের বাংগালী। যখন বলি, বাবারা এক হাজার বছরের ইতিহাসটা একটু বর্ণনা করো তখন এরা বোবা হয়ে যায়। এরা যেখানে বাপ দাদার নাম বলতে পারেনা তারা কিভাবে এক হাজার বছরের ইতিহাস বলবে। এক হাজার বছর তাদের কাছে একটি শ্লোগান মাত্র। আমি মনে করি এই তরুণ তরুণীরা শিকড়হীন বা শিকড়হারা হয়ে পড়েছে। মা বাবা বা মুরুব্বীদের কথা শোনেনা।
অখন্ড বংগদেশে কেমন করে মেজরিটি মানুষ মুসলমান হয়ে গেলো, কেনইবা হলো এ বিষয়টা তরুণরা জানতে চায়না। জানবার কোন উপায়ই, কেননা তারা পথ হারিয়ে ফেলেছে। কারণ এরা নিজেদের ইতিহাস বা মা বাবার ইতিহাস জানতে চায়না। ৪৭ সালে কি কারণে বাংগালী মুসলমানেরা পাকিস্তানের সাথে গেলো সে কথা বা ইতিহাস এরা জানেনা। হয়ত কোনদিন জানতেও চায়নি। অখন্ড বংগদেশেতো বাংগালী মুসলমানেরাই মেজরিটি ছিল। তাহলে শুধু মুসলমানের নামে বাংগালী মুসলমানেরা অবাংগালী মুসলমানের সাথে মোর্চা বা জোট বাঁধবে কেন?। কারণ,স্বাধীন অখন্ড বাংলাদেশ নেহেরু গান্ধী ও প্যাটেল চায়নি। কারণ, তাঁরা তৃতীয় আরেকটি স্বাধীন মুসলীম মেজরিটি দেশ চাননি। শুধু চান নি তা নয় , তাঁরা অখন্ড বাংলাদেশও চাননি। একই কারণে হিন্দু নেতারা পাঞ্জাব ও বাংলাকে ভাগ করেছেন। কিন্তু জিন্নাহ সাহেব বলেছিলেন, বাংলার মানুষ যদি একটি স্বাধীন রাস্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাঁর কোন আপত্তি নেই। তখন গান্ধী বলে বসলেন, বাংলার দুই তৃতীয়াংশ মানুষকে স্বাধীন বাংলাদেশ চাইতে হবে। গান্ধী ও নেহেরূ জানতেন অখন্ড বংগদেশে মুসলমানরা ৫৫/৬০ শতাংশ। দুই তৃতীয়াংশ হওয়ার কোন উপায় নেই। এটা ছিল কংগ্রেস নেতাদের এক তা চালাকী। ফলে ৪৭ সালে বাংলা ভাগ হয়ে গেল। ১৯০৫ সালে পূর্ব বংগ ও আসাম নিয়ে একটি প্রদেশ গঠিত হলে হিন্দু নেতারা ওই প্রদেশ সৃষ্টির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে দেয়।ফলে ১৯১২ সালে নতুন প্রদেশ সৃষ্টির ঘোষণা ও আইন বাতিল করা হয়। ১৯৪৭ সালে সেই হিন্দু নেতারা বংগভংগের জন্যে উঠে পড়ে লেগেছিলেন। কিন্তু কারণ কি? বিষয়টি কি কখনও আমাদের তরুণ সমাজ তলিয়ে দেখেছে? না দেখেনি, কারণ তারা বাপ দাদার ইতিহাস জানতে চায়না। তারা এখন বিভ্রান্ত।
একইভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও হিন্দু নেতারা বিরোধিতা করেছেন। কি কারণে, আজ এই প্রশ্নটি আমি আমাদের তরুণ সমাজের কাছে রাখবো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত না হতো তাহলে বাংলাদেশের অবস্থা কি হতো সবাই চোখ বন্ধ করে একবার ভাবুন। বাংগালী মুসলমানেরাতো ছিল কৃষক। চাষবাসই ছিল তাঁদের প্রধান পেশা। বাবুরাতো বলতেনই চাষাদের ছেলেরা পড়ালেখা করলে কৃষির কাজ করবে কারা। তাই তাঁরা দলবেঁধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছেন। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষকেরা তথাকথিত সেক্যুলারিজমের ভন্ডামীর কবলে পড়েছে। তাঁদের কাছে ধর্ম নাকি প্রগতির বিরুদ্ধে। যেই মুসলমানদের কারণে বাংলাদেশ স্বাধিন হয়েছে সেই মুসলমানেরাই এদেশে অপাংতেয়। কারণ, এদেশের শাসকরাও আজ তথাকথিত সেক্যুলারিজমের আফিম খেয়ে বুঁদ হয়ে গেছে। ভারতও চায় বাংলাদেশের তরুণ সমাজ ইসলাম ত্যাগ করুক। হিন্দু নেতাদের এ ভন্ডামী শুরু হয়েছে ৪৭ সালেই। বিগত ৬৫ বছর ধরেই দিল্লীতে ধর্মহীনতার ভন্ডামী চলে আসছে। পশ্চিমারা চায় বলে ভারতের কংগ্রেস ও নেহেরু পরিবার সেক্যুলারিজমের ভন্ডামী করে আসছে। আসলে ভারত ও তার নেতারা হিন্দুত্বের বাইরে ছিলনা। এবারের নির্বাচনে মোদি এবং বিজেপির বিজয় প্রমান করেছে ভারতের জনগণ ভারতকে একটি হিন্দু দেশ হিসাবে দেখতে চায় এবং মোদি সেই চাওয়ারই প্রতিফলন।
বাংলাদেশে একমাত্র জিয়াউর রহমান ছাড়া অন্যসব নেতা জনগণকে ধোকা দেয়ার জন্যে ধর্মকে ব্যবহার করেছেন। বংগবন্ধু বা আওয়ামী লীগ সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র, জাতীয়বাদের ধারা সংযোজন করেছেন। এখন সমাজতন্ত্র নেই। আওয়ামী লীগ নিজেও সমাজতন্ত্র চায়না। আওয়ামী লীগের জাতীয়তাবাদ মানে হিন্দুত্বের মুসলমানী রূপ। তাই তারা বলেন বাংগালী জাতীয়তাবাদ। যা পশ্চিম বাংলার হিন্দুরাও বলেন। যেমন আমি বলি বাংগালী মুসলমান। ভৌগলিক কারণে আমি বাংগালী। ধর্মীয় কারণে আমি মুসলমান। আমি বাংলাদেশে বাস করি বলে স্থানীয় সংস্কৃতির কিছু মিশেল আমার রক্তে রয়েছে। যেমন আমরা পহেলা বৈশাখ পালন করি বাংলা ক্যালেন্ডার বা পঞ্জী মোতাবেক। খাজনা আদায়, শস্যকর্তন ও অর্থনীতির কারণে শত শত বছর ধরে এ ভৌগলিক এলাকায় পহেলা বৈশাখ পালিত হয়ে আসছে। শহর বন্দর নগর থেকে গ্রামবাংলায় পহেলাবৈশাখের কদর বেশী। বাংলা সন বা বর্ষপঞ্জী তৈরি করেছেন বাদশাহ আকবরের দরবারের সম্মানিত সদস্য শাহ ফতেউল্লাহ শিরাজী। ফসল কাটার সাথে এর সম্পর্ক রয়েছে। এজন্যে একে ফসলী সনও বলা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের সরকারী পঞ্জী হওয়া উচিত বাংলা সন। তা আজও হয়নি। কারণ সরকার গুলো এ ব্যাপারে দুই নম্বরী করে থাকে। জনগণকে ধোকা দেয়। সবকিছুতেই একটা ভন্ডামী। তরুণদের মনে এসব বিষয়ে মনে প্রশ্ন জাগেনা। রাজধানী পহেলা বৈশাখের নামে যা হয় তা কোন উত্‍সব নয়, আনন্দও নয়। এটা গোষ্ঠির রাজনৈতি চক্রান্ত। যা তরুণ তরণীরা জানেনা। তবে পহেলা বৈশাখের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে আমি সমর্থন করি। এ অর্থনৈতিক কর্মকান্ড আমাদের গ্রাম ও গ্রামের মানুষ গুলোকে স্বাবলম্বী করবে। কিন্তু তথকথিত ভদ্রলোকরা চায়না গ্রামবাংলায় অধিক হারে বিনিয়োগ হোক। দেশের অর্থনীতি হয়ে গেছে লুটেরা অর্থনীতি।
জিয়া সাহেব ক্ষমতায় এসে সমাজতন্ত্র ত্যাগ করে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের কথা বললেন। তিনি আল্লাহর উপর আস্থার কথা বললেন। এরশাদ সাহেব ক্ষমতায় এসে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার জন্যে রাস্ট্রধর্ম ইসলাম করে শুক্রবারকে সাপ্তাহিক ছুটি ঘোষণা করলেন। আমি সব সময় বলে এসেছি, আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনা, জাসদ(সকল গ্রুপ) বাম(সকল গ্রুপ) এরশাদ সাহেব দিল্লীর প্রেসক্রিপশনে চলেন। এবার তা প্রমানিত হয়ে গেছে। এখন তারা সবাই একমঞ্চে অভিনয় করছেন।
শেখ হাসিনা দুই তৃতীয়াংশ সংসদীয় সিটের জোরে সংবিধানকে জগাখিচুড়ী বানিয়ে ফেলেছেন। তিনি রাস্ট্রধর্ম ইসলাম বজায় রেখেছেন। কিন্তু মহান আল্লাহপাকের সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করেছেন। এর মানে সংসদ সহ সরকারী সকল কাজে জনগণই সার্বভৌম। শুধু মসজিদে আল্লাহর সার্ভভৌমত্ব বহাল থাকবে। কোন রাজনৈতিক দল যদি বলে, ‘আমরা আল্লাহর সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করি তাহলে তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ হয়ে যাবে। ফেরাউনও দাবী করেছিল,‘আমিই খোদা, আমাকেই মান্য কর’। বাংলাদেশেও এখন সে ধরণের অবস্থা বিরাজ করছে। সংবিধান বলছে,জনগণই সার্বভৌম। সংবিধান থেকে আল্লাহর নাম মুছে দিয়ে সেখানে জনগণের সার্বভৌমত্বকে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পশ্চিমা সমাজ তথাকথিত গণতন্ত্রের নামে মানুষের শক্তিকে সার্বভৌম করা হয়েছে। বাংলাদেশে এখন এক ধরণের মোনাফেকি বিরাজ করছে। ফলে দেশের তরুণ সমাজ এ ধরণের রাজনীতি , সমাজনীতি , অর্থনীতি ও সংস্কৃতির খপ্পরে পথেছে। মোনাফিক রাজনীতিকরা বাইরে ধর্মের কথা বলে, অন্তরে মোনাফিকী। এরা রাস্ট্রের সকল কাজে তথাকথিত সেক্যুলারিজমের( ধর্মহীনতার) কথা বলে। এরা ধর্মমুক্ত সংস্কৃতি, সাহিত্য চায়। এদের কারণেই বাংলাদেশের তরুণরা আজ বিভ্রান্ত। এমন কি দেশের সিনিয়ার নাগরিকদের কাছে জানতে চাওয়া হয় বাংলাদেশের রাস্ট্রীয় মৌলিক দর্শন বা আদর্শ কি তাঁরা নানা ধরনের উত্তর দিবেন। বিএনপি জিয়া সাহেবের আদর্শকে ধরে রাখতে পারেনি। বিএনপি নেতাদের মাঝেও ইসলাম ভীতি আছে। দলটি সাহস করে বলতে পারেনা, ‘আমাদের ইসলাম ভিত্তিক বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের অবস্থান অনেকটা স্পষ্ট। আওয়ামী লীগ ধর্মমুক্ত খাঁটি বাংগালীয়ানা চায়। আওয়ামী লীগের বাংগালীয়ানার উত্‍স হচ্ছে পশ্চিমবাংলা বা হিন্দুত্ববাদ। বংগবন্ধুর জীবনী পড়লেই জানতে পারবেন তিনি হিন্দুদের সাথে লড়াই করেই রাজনীতি শুরু করেছেন। তিনি কখনই ধর্মহীন বাংগালীয়ানা চাননি। দেশে ফিরেই তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলীম দেশ। তাঁর আমলে বাংলাদেশ ওআইসির সদস্যপদ লাভ করেছে। পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের তরুণদের বিভ্রান্তির কারণ দেশের চলমান রাজনীতি। এ রাজনীতি জারী থাকলে এমনদিন আসবে যখন তরুণরা বলবে দ্বিজাতি তত্ব যখন ভুল প্রমানিত হয়েছে তখন বাংলাদেশের আর আলাদা থাকার প্রয়োজন নেই।
লেখক: কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
http://www.humannewspaper.wordpress.com

Read Full Post »

সকালবেলা ৮৭


সকালবেলা ৮৭

হে আল্লাহর বান্দাহ ও রাসুলের(সা) উম্মতগণ। আল্লাহপাকের রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক সকলের উপর। আজ এ সকালে আমি একজন পরিবর্তিত মানুষ। বেশ কিছুদিন ধরেই আমি অদৃশ্য জগতকে দৃশ্যমান করা চেষ্টা করে যাচ্ছি। সাধনা , মোরাকাবা, জিকির, ধ্যান করলেই অদৃশ্যকে দেখা যায়না, যদি না প্রভু দয়া করেন। ২০০৮ সালে ক্বাবাঘরে গিয়েছিলাম হজ্ব ও তাওয়াফের উদ্দেশ্যে। তখনি আমাকে নির্দেশ দেয়া হলো ‘সীমা অতিক্রম করো’, এ সীমায় স্থবির হয়ে যেওনা। আকাশ থেকে সাদা কাপড় নেমে এসেছিল। মনে হয়েছিল সে কাপড় ধরলে আমি অদৃশ্য জগতে যাত্রা শুরু করতে পারতাম।
আমি মানুষ হিসাবে আমার সীমাবদ্ধতা , অপারগতা, অক্ষমতা ও শয়তানী প্রভাব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। আমি ইনসানে কামিল, পূর্ণাংগ মানব নই। তবুও আমি আমি আমার প্রভুর দয়া, রহমত ও বরকত লাভ করছি প্রতিনিয়ত সেটা অনুভব করি। খুব বেশী অনুভব করি। অবিরাম অনুভব করি।
আমি জানিনা গোলাম বা বান্দাহ হিসাবে আমি কোন স্তরে অবস্থান করছি। আমি আমার প্রভুকে ভালবাসি। সীমাহীন ভালবাসি। সংসার ত্যাগে আমি মানসিক ভাবে প্রস্তুত। পেছনের দিকে আর কোন টান নেই। আমি চাই প্রভুর নির্দেশে মালায়েক কুল চোখের পলকেই আমাকে গ্রহণ করুক। হে খোদা, কঠিন কঠোর মরণ যন্ত্রণা থেকে আমাকে রক্ষা করুন।
এখানে আমার কি কাজ? শরিয়তী নিয়মে এ সংসার বহুদিন করেছি। এখানে কিছু নেই। সংসার একটি কঠোরতম কারাগার, পরীক্ষাগার, শয়তানের বিশ্রামগার। প্রতিদিন প্রতিক্ষণ শয়তানের সাথে আমার দেখা হয়। সে আমায় দেখে মুচকি হাসে। আমাকে মসকরা করে । টিটকারী দেয়। বিদ্রুপ করে। ভন্ড বলে গাল দেয়। আমার বিবিজান যার সাথে ৪৭ বছর আছি তিনিও আমাকে ভন্ড বলেন। জানিনা, তিনি যে ধরণের খসম/স্বামী/ দুলা চেয়েছিলেন তা পেয়েছেন কিনা। আমি কখনই সংসারী ছিলাম না। বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে মানুষের মুক্তি চেয়েছি। আমার জন্মভুমি দারিদ্র, অশিক্ষা, অন্যায়ে কলুষিত হয়ে পড়েছে। এখানে জননেতারা শয়তানের দাস ও বন্ধু। তাদের কোন ন্যায় নীতি বোধ নেই। এখানে এখনও কোটি কোটি মানুষ নিরক্ষর, বিদ্যাহীন, অসুখে চিকিত্‍সা পায়না, মেয়েরা ১৬ আনা অধিকার রক্ষা করতে পারেনা। পুলিশ সহ যে কোন ধরণের বাহিনী যে কোন সময়ে নাগরিক বা দেশের মালিককে পাছায় লাথি মারতে পারে। নাগরিক অধিকার কাগজে কলমে সামান্য যা কিছু আছে তাও মানা হয়না। পুলিশ নাগরিকের চেয়ে বড়। পুলিশ দেশ প্রেমিক। ৪৪ বছরে গরীব ও দূর্বলদের উপর সরকারী বেসরকারী, রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক অত্যাচার ও শোষণ সবচেয়ে বেশী বেড়েছে।
দেশটা স্বাধীন হয়েছিল অবাংগালীর শোষণ থেকে বাংগালীদের (পূর্ব পাকিস্তানের বাংগালী) মুক্ত করার জন্যে। অবাংগালী মুসলমানের শোষণ থেকে মুক্ত হয়ে এখন অবাংগালী হিন্দুর খপ্পরে পড়ে গেছে। এতদিন তারা পশ্চিম বাংলার হিন্দু বাংগালীদের শোষণ করেছে। এখন তারা বাংগালী মুসলমানদের শোষণের অবাধ সুযোগ পেয়েছে।
চলমান সরকার বলছে, আমরা শুধুই বাংগালী, বাংগালী মুসলমান নই। তাই রাজনীতি আর সংসদে খোদার সার্বভৌমত্ব স্বীকার করা হয়না। বলা হয় মানুষই সার্বভৌম। বাংলাদেশের সংবিধান খোদার সার্বভৌমত্ব অস্বীকার করে।
আসমানী গজব আমি খুবই নিকটে দেখতে পাচ্ছি। আদ সামুদ জাতির মতো বিনাশের পথে চলেছে বাংলাদেশ। ভুমিকম্প হবে, সুনামী হবে , পাহাড় উল্টে গিয়ে সাগর তৈরি হবে। নূহ নবীর আমলের মহাপ্লাবন হওয়ার সময় হয়ে গেছে। রোজদারী , নামাজী , হাজী দিন দিন বেড়ে চলেছে। কিন্তু কোথাও কোন মুসলমান নেই। অংকের হিসাবে মাথা গুণে বলা হয় বাংলাদেশে ১৫ কোটি মুসলমান আছে। আসলে এরা আরবী নামধারী ধর্মহীন। রাস্ট্র তথাকথিত সেক্যুলারিজমের নামে ধর্মহীনদের মর্যাদা দেয়। রাস্ট্র মনে করে ধর্ম এক ধরণের সাম্প্রদায়িকতা।
প্রিয় দেশবাসী, আল্লাহর গজব খুবই নিকটবর্তী। যেমন সদোম নগরীকে আল্লাহ ধ্বংস করে দিয়েছেন।

Read Full Post »


যে দেশের স্বপ্ন দেখেছি / এরশাদ মজুমদার
ভারত বাংলাদেশকে একটি অনুগত বন্ধু রাষ্ট্র হিসাবে দেখতে চায়

ভারতের নির্বাচনে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি’র অকল্পনীয় বিজয়ের পর বাংলাদেশের রাজনীতিকরা কথার জোয়ার বইয়ে দিয়েছেন। এ নিয়ে সবচেয়ে বেশী কথা বলতে শুরু করেছে আওয়ামী নেতারা। বিএনপির লোকেরা কথা খুব বেশী না বললেও সরকার ও আওয়ামী কথার জবাব দিতে গিয়েও কম কথা বলছেন না। যে কথা আওয়ামী লীগের নেতারা অবিরাম বলে যাচ্ছেন তা হলো ভারতের সাথে তাদের সম্পর্ক ভালো থাকবে। কংগ্রেস ক্ষমতায় না থাকলেও কোন অসুবিধা নেই। কারণ আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা একজন ভারত প্রেমিক । আরেকজন প্রেমিক হচ্ছেন জেনারেল এরশাদ। তিনিতো ইন্দিরা গান্ধীকে মা ডেকেছিলেন।এ নিয়ে দেশের বুদ্ধিজীবী ও বিশেষজ্ঞরাও ইতোমধ্যেই অনেক কথা বলে ফেলেছেন।
ঐতিহাসিক কারণেই আওয়ামী লীগের সাথে ভারতের সখ্যতা ও বন্ধুত্ব বহুদিনের। যদি বংগবন্ধু জীবিত থাকলে সম্পর্কটা এতো মধুর হতোনা। কারণ বংগবন্ধু ভারতের অমতে অনেক কাজ করে ফেলেছিলেন।যা দিল্লী, ইন্দিরা গান্ধী ও কংগ্রেসের একেবারেই পছন্দ হয়নি। অনেকেই মানে ভারত বিশ্লেষকরা মনে করেন দিল্লী বা ইন্দিরা গান্ধীই বংগবন্ধুকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়েছেন।আরেকটি কথা আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে তা হলো বংগবন্ধু পাকিস্তানের কাস্টডি থেকে মুক্তি পেয়ে বৃটেন হয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন। ভারত চেয়েছিল তিনি যেন দিল্লী হয়ে বাংলাদেশে আসেন। আওয়ামী লীগ মনে করে বংগবন্ধুর হত্যার ব্যাপারে আমেরিকা জড়িত। খোন্দকার মোশতাক সরকার গঠন করলে ভারত সে সরকারকে স্বীকৃতি দিতে একদিনও বিলম্ব করেনি। বরং ইন্দিরা গান্ধী বলেছিলেন,বাংলাদেশের কোন দলের সাথে ভারতের সম্পর্ক নয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন শেখ হাসিনার সাথে ভারতের ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। আর সে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে ৭৫-৮১ সালে ভারত সরকারের অতিথি হিসাবে থাকার সময়। হয়ত সে সময়ে অজানা কোন সমঝোতা হয়েছিল। জিয়া সাহেবই তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনেছেন। আর ড.কামাল তাঁকে দলের সভানেত্রী করার প্রস্তাব দেন। শেখ হাসিনা দেশে ফিরার মাত্র কয়েকদিন পরেই জিয়া সাহেব চট্টগ্রামে নিহত হন। জিয়া সাহেবের উপর ভারত কখনই সন্তুষ্ট ছিলনা।
ভারত- বাংলাদেশ সম্পর্ক কখনই সুসম্পর্ক ছিলনা।পূর্ব পাকিস্তান আমলেও সম্পর্ক ভাল ছিলনা। প্রতিবেশী কোন দেশের সাথেই ভারতের সুসম্পর্ক নেই। এর কারণ জানতে হলে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাস জানতে হবে। ভারতের কারণেই পাকিস্তানের সাথে বিগত ৬৫ বছর ধরেই সুসম্পর্ক গড়ে উঠেনি। বরং উভয় দেশ কয়েকটি যুদ্ধ করেছে। শেষ পর্যন্ত ৭১ সালে ভারত পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন করে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে। হিন্দুত্ববাদে বিশ্বাসী বিজেপি ক্ষমতায় আসার ফলে মুসলীম মেজরিটি বাংলাদেশের সাথে তার সম্পর্ক কেমন হবে তা দেখার বিষয়। বিজেপি নেতারা ৭২ সালেই বলেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী দুই পাকিস্তান তৈরি করেছে। কারণ বিজেপি জানে বাংলাদেশ মুসলীম মেজরিটি দেশ। কংগ্রেস/নেহেরু পরিবারের তথাকথিত সেক্যুলারিজমের যে ভন্ডামী আছে তা বিজেপি বা মোদীর নেই। মোদী কি এবং তাঁর রাজনীতি কি তা বিশ্ববাসী ভাল করেই জানে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগেরও সেক্যুলারিজমের ভন্ডামী আছে। এই ভন্ডামী শেষ পর্যন্ত দলটিকে ইসলাম বিরোধী হিন্দু ভক্ত দলে পরিণত করেছে।বাংলাদেশের হিন্দুরা এ কারণেই চোখ বন্ধ করে ৭২ সাল থেকে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। আর ৭২ সাল থেকেই আওয়ামী লীগের লোকেরা হিন্দুদের উপর অত্যাচার করে যাচ্ছে। আর তারা নীরবে সে অত্যাচার সহ্য করে যাচ্ছে।কংগ্রসের ভারত কি তা বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে, সাথে সাথে শেখ হাসিনার ভারত ও কংগ্রেস প্রীতিও দেখেছে। এখন আমরা দেখবো মোদী ও বিজেপির ভারত। কংগ্রেসের ভন্ডামী ও মোনাফেকির কারণে এবার নাকি ভারতের মুসলমানেরা মোদীকে ভোট দিয়েছে। বাংলাদেশের হিন্দুরা এবার জামাতকে ভোট দিবে কিনা তা সত্যিই দেখার বিষয়।
ভারতের সাথে আমাদের অনেক গুলো বিষয় বা ইস্যু অমীমাংসিত রয়ে গেছে। কিছু ইস্যু আছে যা ৬৫ বছরেও ভারত সমাধা করেনি। বিশেষ করে বাংলাদেশ হওয়ার পর ৪৪ বছরেও সীমান্ত ও নদী সমস্যার সমাধান করেনি। করার ইচ্ছা আছে বলেও মনে হয়না। কারণ ভারত বাংলাদেশকে একটি অনুগত বন্ধু রাস্ট্র বানিয়ে রাখতে চায়। আওয়ামী মন্ত্রী তোফায়েল আহমদ বলেছেন, বিএনপির মির্জা ফখরুল ভারতের ইতিহাস জানেন না, ভারত বাংলাদেশের সত্‍ প্রতিবেশী। তোফায়েল সাহেব মনে প্রাণে একজন খাঁটি বিশুদ্ধ বাংগালী। শুধু তাঁর নামটাই একটা সমস্যা। নাম দেখে সবাই মনে করেন তিনি একজন মুসলমান। হয়ত তাই। বাংলাদেশে আরবী নামধারী লাখ লাখ মানুষ আছেন, যারা নিজেদের সেক্যুলার( ধর্মহীন ) বলে পরিচয় দেন। ভারতও বাংলাদেশে এ ধরণের আরবী নামধারী মানুষের সংখ্যা বাড়াতে চায়। আর এ কারণেই ভারত বাংলাদেশের রাজনীতি সমাজনীতি ও সংস্কৃতিতে বিনিয়োগ করে যাচ্ছে। নামী দামী বুদ্ধিজীবীদের অনেকেই এখন ভারতপন্থী। ভারত থেকে পদ্মভূষণ পদবী নিয়ে আসছে দেশের সংবিধান লংঘন করে। আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করছি, তা হলো ৪৭ সালে হিন্দুদের অত্যাচারে ভারত ছেড়ে যাঁরা চলে এসেছেন তাঁরা বা তাঁদের সন্তানেরা এখন অনেকেই ভারত সমর্থক হয়ে উঠেছেন। এর রহস্য কি আপনারাই ভাবুন। ইসলাম বা মুসলমানিত্বের কথা বললেই আপনাকে পাকিস্তানপন্থী,জামাতী ও সন্ত্রাসী বলে গালাগাল দিবেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তোফায়েল সাহেবের জানা দরকার আজকের ভারত/ হিন্দুস্তান/ইন্ডিয়া যা তিনি দেখছেন তা প্রতিষ্ঠা করেছেন মুসলমান শাসকেরা। ভারত কখনই একদেশ বা এক ভারত ছিলনা। ভারত ছিল বহু রাজ্য ধর্ম সংস্কৃতি ও ভাষার একটি দেশ। এখনও সেখানে বহু ভাষা ও জাতি রয়েছে। এক সময়ে প্রধান দুইটি অঞ্চল ছিল আর্যাবর্ত ও দাক্ষিণাত্য। এই দুই অঞ্চলের ভিতর আজও ঐক্য তৈরি হয়নি। ভারতের সবকিছুই আর্যাবর্ত বা উত্তরের পক্ষে। ধর্ম উত্তরের, বিজয় উত্তরের শাসন উত্তরের। রামায়ন, মহাভারত, বেদ উপনিষদ তৈরি করেছেন উত্তরের মুনি ঋষিরা। দাক্ষিণাত্যের ভুমিপুত্র রাবণকে তারা অসুর বানিয়েছে। বিদেশী রামকে বানিয়েছে রাজা ও দেবতা। আজও ভারতের দক্ষিণের মানুষ রাবণ পুজা করে। রামায়ন ও মহাভারত দুটিই রাজনৈতিক মহাকাব্য। এই মহাকাব্য রচনা করেছেন আর্য কবিরা। ধর্মটাও তৈরি করেছেন আর্য পন্ডিতগণ।
তথাকথিত আধুনিক ভারত এখনও বর্ণবাদের অত্যাচারে জর্জরিত। আর্যরাই তৈরি করেছেন এই অমানবিক বর্ণবাদ। এই বর্ণের একটি হচ্ছে শূদ্র, যাদেরকে উনমানব বা অর্ধ মানব মনে করা হয়। পন্ডিত মনু নাকি এই বর্ণবাদের প্রতিষ্ঠাতা। আধুনিক ভারতে ৩০ কোটি শূদ্র আছে যাদের গণতন্ত্র কিছুই দিতে পারেনি। বর্ণবাদের কারণেই ড.অম্বেদকার হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে শেষ জীবনে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। কংগ্রেস সভাপতি জগজীবন রাম আক্ষেপ করে বলেছিলেন, তিনি কখনই ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। কারণ তিনি একজন শূদ্র বা হরিজন। কেউ কেউ অচ্যুত বা আনটাচেবলস বলে থাকেন। মনু রচিত সংহিতা বা আইন পুস্তকে শূদ্রদের যে অধিকার দেয়া হয়েছে এবং এখনও যা মানা হয় তা পৃথিবীর হীনতম অমানবিকতা। তারা বিদেশীদের এখনও শূদ্রের সাথে তুলনা করে ম্লেচ্ছ বা যবন বলে গালি দেয়।
এক হাজার বছর আগে মহাজ্ঞানী আলবিরুণী বলেছেন,ভারতীয়রা এক সময় ভাবতো ভারতের বাইরে কোন জগত নেই। ভারত বলতে তারা আর্যাবর্তকেই বুঝাতো। ফলে কেউ দক্ষিণে গেলে তাকে প্রায়শ্চিত্ত করতে হতো। ভারতীয়রা বিজ্ঞানকে যাদু মনে করতো। মুসলমানেরাই ভারতে জ্ঞান বিজ্ঞান নিয়ে এসেছে। ভারতীয় সংস্কৃতি ও ইতিহাসে মুসলমানদের প্রভাব এখনও আছে। আমিতো মনে করি ভারত শুধু একটি দেশ নয়। এটা একটি ধর্ম সংস্কৃতি ও ইতিহাস। আপনারা মাঝে মাঝে দেখবেন ভারতের নেতারা বলছেন ভারতে থাকতে হলে হিন্দু হতে হবে। মুসলমান হলেও বলতে হবে ‘আমি হিন্দু মুসলমান’। মহাবিজ্ঞানী, দার্শনিক বা কবি হয়েও তাঁরা মনু সংহিতায় বিশ্বাস করেন। তাঁরা বর্ণবাদে বিশ্বাস করেন। ভারতের মনোভাব জানার জন্যে আপনাদের নেহেরুজীর ডিসকভারি অব ইন্ডিয়া পড়ুন। আধুনিক বিজ্ঞান মনস্ক হয়েও তিনি কখনই ভুলেন নি তিনি একজন কাশ্মীরী ব্রাহ্মণ। মোদী প্রকাশ্যেই বলেন,তিনি হিন্দুত্ববাদে বিশ্বাস করেন, নেহেরুজী ছিলেন তথাকথিত সেক্যুলারিজমের নাকাব পরিহিত একজন কট্টর হিন্দু। তাঁর কন্যা ইন্দিরা গান্ধী তাঁরই দীক্ষায় দীক্ষিত একজন শিষ্য। শুধু ইন্দিরা গান্ধী নন ভারতের সব নেতারই দর্শণ ও লক্ষ্য বেদ উপনিষদের ভারত প্রতিষ্ঠা করা। ৭১ সালে পাকিস্তানের পরাজয়ের পর ইন্দিরা গান্ধি বলেছিলেন, ‘হাজার সাল কা বদলা লিয়া’।৭১১ সালে মুহম্মদ বিন কাসেমের সিন্ধু বিজয়ের কথা স্মরণ করেই তিনি এ কথা বলেছিলেন। নেহেরু পরিবার ও জোঁড়াসাকোর ঠাকুর পরিবারের খাদ্য ও পোষাক ছিল মুসলমানী বা ইরানী বা মোগলীয়। কিন্তু বিশ্বাস ছিল বৈদিক। স্বপ্ন ছিল বিশাল মহাভারত প্রতিষ্ঠা করা। দিল্লীর গদিতে বসে তাঁরা এখনও অশোক, হর্ষবর্ধন ও মৌর্য ও রামের স্বপ্ন দেখেন। তাঁদের মহাভারত হলো আফগানিস্তান থেকে ইন্দোনেশিয়া। একদিন নাকি এমন মহাভারত প্রতিষ্ঠিত হবে। হিটলারের এমন স্বপ্ন ছিল।
বাংলাদেশে আমাদের সমস্যা হলো ভারতের সাথে দর কষাকষি বা নেগোসিয়েট করার মতো নেতা নেই। সবার মনো জগতে ভাবনা হলো ভারত একটি বিশাল দেশ, ক্ষমতা বেশী, যোগ্যতা বেশী। ফলে সব সময় অধস্তনের মনোভাব নিয়েই আলোচনার টেবিলে বসে। ফারাক হচ্ছে আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে ভারতপন্থী, আর বিএনপি সাহস করে নেগোসিয়েট করতে পারেনা। ভারত বা তার নেতাদের মনোজগতে কি আছে তা জানতে পারেনা। ফলে বছরের পর বছর আলোচনা করেও ফল আনতে পারেনা। একজন নেতাও বলতে পারেন না, দেখো দিল্লী, তোমার বড়ত্বকে আমি ভয় পাইনা। এই দিল্লীর মসনদে ৭০০ বছর আমিই ছিলাম। তাঁরা পারেন না ,কারণ তাঁরা বিভ্রান্ত। বুঝতে পারেন না তাঁদের প্রধান পরিচয় কোনটি। আওয়ামী লীগ বাংগালী। এ রকম শুদ্র ও চন্ডাল বাংগালী ভারতেও আছে। মুসলমান বাংগালীতো দিল্লীর চোখে শূদ্র ছাড়া আর কিছুই নয়। আমাদের নেতারা কখনই বলতে পারেনা, দিল্লী তুমি হিন্দু আর আমি মুসলমান। জানিনা, শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের পক্ষে এমন সাহসী বক্তব্য দেয়া সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগতো দল হিসাবে মনো জগতে নিজেদের মুসলমানই মনে করেনা। অপরদিকে বিএনপির অবস্থান ধোঁয়াশা। মনে হয় ইসলামের পক্ষে, কিন্তু বাস্তবে নয়। বেগম জিয়ার পাশে ও চারিকে যাঁরা আছেন তাঁরা সবাই আধুনিক ও সেক্যুলার ভন্ড। তবুও বলবো এখন সময় এসেছে। দিল্লীর মসনদে একজন খাঁটি হিন্দু অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তাঁর দল হিন্দুত্ববাদে বিশ্বাস করে। তাঁর বা তাঁদের সাথে নেগোশিয়েট করতে সুবিধা হবে। দেশের পক্ষে থেকে দেশের স্বার্থের পক্ষে নেগোশিয়েট করার জন্যে হিম্মত ও জ্ঞান দরকার।
চলমান বাংগালী মুসলমানেরা এখন জ্ঞানের বা জ্ঞানীদের কোন কদর করেনা। তারা জ্ঞানীদের অথর্ব মনে করে। বাংলা একাডেমীর ব্যবহারিক বাংলা অভিধানে প্রকাশিত হয়েছে অথর্ব মানে জরাগ্রস্ত, উত্থানশক্তিরহিত(অথর্ব বৃদ্ধ), অকেজো, অকার্যকরী। অথুর্বাঁ একটি প্রাচীন পাহলবী শব্দ, মানে জ্ঞানী। অথর্ব আর্য মুনি বা ঋষি একটি বেদ রচনা করেছেন যার নাম অথর্ব বেদ। চার বেদের সর্বশেষ বেদ হচ্ছে অথর্ব বেদ। আর্যদের বহু শব্দ বা ভাষা এখন ভারতীয় ভাষা। এমন কি তা বাংলাভাষাতেও এর প্রভাব বিস্তার করেছে। রামায়ন, মহাভারত, উপনিষদ, বেদ, সংহিতা সবই আর্য ঋষি বা মুনিদের রচিত। মনু সংহিতার কথা আপনারা সবাই হয়ত জানেন। সংহিতা মানে আইন, নিয়ম কানুন, সমাজ ও রাজ্যনীতি।
বাংগালী বা বাংগালী মুসলমানেরা কখনও জ্ঞান সাধনা করতো কিনা জানিনা। গভীর ভাবে ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে জ্ঞান ও ইতিহাস চর্চায় বাংগালী বা বাংগালী মুসলমানের তেমন কোন নির্ভরযোগ্য ইতিহাস নেই। বাংলা কাব্যের জন্যে রবীন্দ্রনাথ নোবেল পেয়ে বিশ্ববাসীর কাছে বাংলা ভাষাকে পরিচয় করিয়েছে। এর দীর্ঘকাল পরে মোহাম্মদ ইউনুস গ্রামীণ ব্যান্কের জন্যে নোবেল পেয়েছেন। যদিও শেখ হাসিনা এবং তাঁর দল ড.ইউনুসের এ অর্জনকে ভাল চোখে দেখেনি। যা ইচ্ছা তা বলে ইউনুসকে হেয় করার জন্যে উঠে পড়ে লেগেছে। যখন সারা বিশ্ব ইউনুসের প্রশংসা করছে তখন আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপন করে চলেছে। এছাড়া বিশ্ব দরবারে আসন পেয়েছে এমন কোন বাংলাদেশী বা বাংগালী মুসলমান এখন আর নেই। এই দেশে এখন জ্ঞানীর কদর নেই। আমাদের চলমান জীবনে জ্ঞানী বা জ্ঞানের তেমন কোন প্রভাব নেই। লেখাপড়া না করেই মন্ত্রী এমপি ও নেতা হওয়া যায়। লেখাপড়া না করেই সীমাহীন অর্থ অর্জন করা যায়। বাংগালী পুুঁজির বিকাশের জন্যেইতো বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিগত ৪৪ বছরে পুঁজির এমন বিকাশ হয়েছে যে এখন পুঁজিপতিরা রাস্ট্র ও সরকারকে পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। জাতীয় সংসদে এখন ব্যবসায়ীর সংখ্যা দুইশ’র মতো। ওরাই দল নিয়ন্ত্রণ করে। ৪৬ সালের বেংগল এসেম্বলীর দিকে তাকালেই দেখা যাবে কারা সংসদ সদস্য ছিলেন। ৫৬ সালের জাতীয় বা প্রাদেশিক সংসদ দেখলেও বুঝা যাবে তখন পর্যন্ত সংসদে শিক্ষিত ত্যাগী মানুষের প্রয়োজন ছিল। বলুন না কাউকে যদি বলা হয় একশ’জন জ্ঞানী মানুষের তালিকা করতে, তিনি কি পারবেন? না পারবেন না। যাঁরা আছেন তাঁদের নামও আমরা ভুলে যাচ্ছি। কারণ , এখন সমাজে , রাস্ট্রে জ্ঞানী মানুষের কোন প্রয়োজন নেই। কারণ, জ্ঞানীরাতো অথর্ব, অকেজো, অযোগ্য। এমন একটি সময় আমরা অতিক্রম করছি যখন সন্ত্রাসী, গুন্ডা, মাস্তান ছেলের জন্যে বাবা গৌরব বোধ করেন। এমন ছেলের সাথেই মন্ত্রী এমপিদের খাতির থাকে। কংগ্রসের ভারত কি তা বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে, সাথে সাথে শেখ হাসিনার ভারত ও কংগ্রেস প্রীতিও দেখেছে। এখন আমরা দেখবো মোদী বা বিজেপির ভারতকে। যাদের মৌরসী জ্ঞান থাকেনা তাঁদের নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতাও থাকেনা। ভারতের সাহায্যে স্বাধীনতা লাভ করে একটা রাষ্ট্র পাওয়া হয়ত সহজ। এখন দেখা যাচ্ছে, যে রাষ্ট্র পেয়েছি তা চালানো সত্যিই কঠিন। এর জন্যে জ্ঞান ও মেধার প্রয়োজন রয়েছে। যা ভারতের নেতাদের আছে ভারত এ অঞ্চলের এক তি ক্ষমতাবান রাষ্ট্র হতে চায়। এ ব্যাপারে ভারতের রাজনীতিকদের মধ্যে কোন দ্বিমত নেই। কিন্তু , বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় ইস্যু ও স্বার্থের ব্যাপারে একেবারেই ঐকমত নেই। এখানে দলীয় নীতিই হচ্ছে সরকারের নীতি। বিশেষ করে বাংলাদেশ ভারত সম্পর্কের প্রশ্নে আওয়ামী লীগের নীতি মানে ভারতের ইচ্ছা। ২০০৭ সাল থেকে ২০১৪ পর্যন্ত আমরা দেখে আসছি ভারত কত নগ্নভাবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঢুকে পড়েছে। তখন থেকে বাংলাদেশের সব ব্যাপারেই ভারতের গোয়েন্দারা জড়িত। আর সম্ভব হয়েছে আওয়ামী লীগের কারণে।
প্রসংগত: ইন্ডিয়া ডক্ট্রিন বইটির কথা উল্লেখ করতে চাই। ভারত রাষ্ট্রটি কি ও কেন তা জানার জন্যে বইটি আপনাদের পড়া দরকার। ড.কালিদাস বৈদ্য ‘বাংগালীর মুক্তিযুদ্ধের অন্তরালের শেখ মুজিব’ নামে একই বই লিখেছেন । তাতে মুজিব নগর সরকারের সাথে ইন্দিরা গান্ধীর একটি গোপন চুক্তির উল্লেখ করা হয়েছে। কালিদাস বৈদ্য এক সময় বাংলা সেনা নামে একটি বাহিনী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিষয়টি ইন্দিরা গান্ধী জানতেন।
গোপন চুক্তিটি সাক্ষরিত হওয়ার পরেই ভারত পাকিস্তান আক্রমণ করে। ৭দফা চুক্তিটি হচ্ছে নিম্নরূপ:
১। ভারত স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধারাই দেশের প্রশাসন চালাবে। অন্যদেরকে চাকুরী ও কর্মস্থল থেকে সরিয়ে দেয়া হবে।
২।ভারত ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি যৌথ বাহিনীতে পরিণত হবে। এর প্রধান থাকবেন ভারতের সেবাবাহিনী প্রধান।
৩।বাংলাদেশের নিজস্ব কোন সেনাবাহিনী থাকবেনা।
৪।সামরিক বাহিনীর পরিবর্তে একটি প্যারা মিলিটারী ফোর্স গঠণ করা হবে যা আভ্যন্তরীন আইন শৃংখলা দেখাশোনা করবে।
৫। দুই দেশের মধ্যে একটি মুক্ত বাজার থাকবে
৬। ভারত সরকার বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের জন্যে অবস্থান করবে
৭। ভাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন পররাষ্ট্র নীতি থাকবে।
এই ৭ দফা বাংলাদেশ আজও বাস্তবায়িত করেনি। কিন্তু দিল্লী তা বাস্তবায়ন করতে চায়।
লেখক: কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
http://www.humannewspaper.wordpress.com

Read Full Post »