Feeds:
Posts
Comments

Archive for February, 2014


প্রেমিকা যদি সবখানেই থাকে

তাহলে প্রেমিক হচ্ছে একটা পর্দা

প্রেমই যদি বন্ধু হয়ে  যায়

তখন প্রেমিক অদৃশ্য হয়ে যায়।

এ ইয়ার উইথ রুমিী

 

 

Read Full Post »

খোদা ও মুসা


খোদা মুসাকে বললো

তুমিই আমার পছন্দ

তোমাকে আমি ভালবাসি।

মুসা উত্তরে বললো

আমি তোমার দয়া অনুভব করি

কিন্তু বলো

কি কারণে তুমি

আমাকে ভাল বাস।

খোদা বললো

তুমি কি মায়ের সাথে

শিশুকে দেখোছো

শিশু অন্য কারো অস্তিত্ব জানেনা।

মা তার শিশুকে প্রশংসা করে

বকা দেয়, হয়ত চড়ও দেয়

তবুও শিশু মায়ের

কোলেই যায়।

হতাশা বলো

আনন্দ বলো

সবার লক্ষ্য  এক

যেমন শিশুর লক্ষ্য।

তুমিও তেমনি করেই

আমার সাথে আছো।

Read Full Post »

রহস্যের বাগান


আমি তুমি সে তুমি আমরা

সবই আছে রহস্যের বাগানে

আসলে কোথাও পার্থক্য নেই।

Read Full Post »

সকালবেলা ৪৭


হঠাত্‍ করে মনে পড়লো আমার ছোট মামা আজিজুল হক সাহেবের কথা । কেন মনে পড়েছে তা ব্যাখ্যা করে বলতে পারবোনা । মানুষ জীবনের অনেক বিষয় ব্যাখ্যা করতে পারেনা । আমিও পারিনা । আমার নানার বাড়ি আমাদের বাড়ির কাছেই । এক সময় আমাদের বাল্যকালে মা আমাদের নিয়ে এ বাড়ি ও বাড়ির ফাঁকে নানার বাড়ি পায়ে হেটে যেতো । নানা কলিমুদ্দিন পাটোয়ারী  বোধ হয় ১৯৪৯ সালে দুনিয়া থেকে চলে গেছেন । আমি তখন চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ি। আমার ছোট ইসহাক পড়ে প্রথম শ্রেণীতে । সালেহর বয়স তখন হয়ত তিন হবে । ৫১ সালে মা মারা যাওয়ার সময় নুরুর বয়স হয়ত এক ছিলো । নুরু ছিল আমার মামাদের লম্বা । আমার মাও লম্বা ছিলেন । গায়ের রংও ফর্সা ছিল। নুরুর নাকটা ছিল আমার মায়ের মতো। আমরা সবাই আমার বাবার মতো । বাবার নাক ছিল খাড়া । গায়ের রং ফর্সা বলা যাবেনা । বাবা হয়ত লম্বায় পাঁচ ফুট এক/দুই ইঞ্চি হবেন।

নানার বাড়ি বলতে আমাদের কাছে ছোট মামাই ছিলেন সবকিছু ছিলেন । তিনি পিতার মতোই আমাদের খোঁজ খবর নিতেন। পাশা  পাশি বাড়ি । সকাল বিকালই দেখা হতো । ১৯৬৪ সালে বাবা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে মামা নিয়মিত আমাদের খোঁজ খবর নিতেন । সে সময় আমাদের আর্থিক াবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যায় ।ছোট মামার মতো এত আদর যত্ন আমরা চাচা জেঠাদের কাছেও পাইনি । মামার কথা কিভাবে বলবো, কিভাবে বললে সুন্দর করে বলা হবে তা বুঝে উঠতে পারছিনা । মা মারা যাওয়ার পর আমার নানী ও ছোট মামী ছিলেন মায়ের মতোই । ছোট মামি ছিলেন সীমাহীন একজন ভাল মানুষ । আমার মা’ই ছোট মামার বিয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন । মামী ছিলেন আমার সেজো জেঠা / মাস্টার জেঠা ফজলে আলী সাহেবের শালী । সেজো জেঠির সাথে আমার মায়ের খুব খাতির ছিল । তাই বিয়েটা সম্ভব হয়েছিল । আমা বোধ হয় সে সময় তেমন কিছু করতেন না । যদিও নানাজানের বেশ ভাল জায়গা জমিন ও ব্যবসা ছিল। বড়মামা মকবুল আহমদই ব্যবসা দেখা শোনা করতেন । শেষ পর্যন্ত মায়ের চাপে মামা ব্যবসা দেখতে শুরু করেন । সে ব্যবসা এখন মামাতো ভাই হারুন দেখাশোনা করে। হারুনও ছোট মামার মতো সমাজিক । আত্মীয় স্বজনের খোঁজ খবর রাখে ।

মা অল্প বয়সেই দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ায় নানীজান সৈয়দা নওয়াবজান বিবি আমাদের খোঁজ খবর বেশী নিতেন । নানার বাড়ি গেলেই নানী কোলে নিয়ে কান্নাকাটি করতেন মায়ের কথা মনে করে । আমাদের আদর যত্ন ছিল অন্য নাতিদের চেয়ে বেশী । ছোট মামীও আমাদের সবচেয়ে বেশী আদর করতেন। মামী যে কোন সময় খোলা পিঠা বানাবার ওস্তাদ ছিলেন। মিনিটেই এ কাজটি করতেন । সাথে থাকতো নারকেল ও খেজুরের রস । মামা মামী চলে যাওয়ার পরও হারুন নিয়মিত চালের গুড়ি, নারকেল ও রাব পাঠাতো ।

Read Full Post »

সকালবেলা ৪৬


হঠাত্‍ সকাল বেলা অদ্ভুত এক চিন্তা মাথায় এলো । বিবিসির তৈরি ও স্যার এটেনবরো পরিচালিত হিউম্যান প্লানেট দেখতে দেখতে এ চিন্তা মাথায় এসেছে । মানুষের লাশ বা মৃতদেহ সত্‍কার / শেষকৃত্য বা দাফন জগতে কেমন করে হয়। আসলে এটা নির্ভর করে পরিবেশ পরিস্থিতির উপর । মুসলমান/ ইহুদী ও খৃষ্টানরা লাশ দাফন করে মাটির নীচে । দাফনের সময় মুসলমানরা সবাই সমস্বরে আবৃতি করে,‘ মাটি থেকে এসেছিলে মাটিতেই ফিরিয়ে দিলাম’। স্মরণ করিয়ে দেয়া হয় মানুষের দেহ মাটির তৈরি । তাতে রুহ বা আত্মা প্রবেশ বা স্থাপন করেছেন আল্লাহতায়ালা । আদম তৈরির পর আল্লাহতায়ালা ফেরেশতাদের বলেছিলেন, আদমকে সেজদা করার জন্যে । আল্লাহপাক নিজেই বলেছেন রুহ তাঁর নির্দেশ বা হুকুম । আদম জগতে আল্লাহর খলিফা বা প্রতিনিধি । কিন্তু ফেরেশতাদের সর্দার অভিশপ্ত শয়তান অহংকারের কারণে গোপন রহস্যটি বুঝতে পারেনি । তাই আদমকে সেজদা করতে অস্বীকার করে ।
একবার মোম্বাইতে গিয়ে সাইলেন্স টাওয়ারের কথা শুনলাম । আরব সাগরের তীরে এই সাইলেন্স টাওয়ার ।জোরোয়াস্ট্রেস বা জরথস্ত্রুর কিতাবে বিশ্বাসীদের বলা হয় অগ্নি উপাসক । তাঁদের উপাসনালয়কে ফায়ার টেম্পল বলা হয় । তাঁদের মন্দিরে অগ্নি থাকে । সেই অগ্নিকে সাক্ষী বা সমুখে রেখে তাঁরা প্রার্থনা বা উপাসনা করেন। যদি কেই মারা যায় তাহলে তাঁর লাশ সাইলেন্স টাওয়ারে রেখে আসা হয় । শকুন বা ভালচারেরা এসে সেই দেহ ক্ষনিকের ভিতর শেষ করে ফেলে । জানতে চাইলাম, যদি শকুন না আসে তাহলে কি হবে ? বলা হলো, যে পাপী তাঁকে শকুন খেতে আসবেনা । সে ক্ষেত্রে লাশটি আরব সাগরে ফেলে দেয়া হয় । তবে এ রকম নাকি কখনও হয়নি ।
আমার বিবি নাজিয়া আখতার একবার স্কুল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন ফরিদপুরের কোন এক গ্রামে । সেখানে বর্ষাকালে লাশ পোড়ানো হয়না মাটির অভাবে । লাশ পানিতে ভাসিয়ে দেয়া হয় । শুনেছি, মুসলমানদের ভিতরও এই রেওয়াজ আছে । সমুদ্রে জাহাজের ভিতর কেউ মারা গেলে জানাজা পড়ে লাশ পানিতে ভাসিয়ে দেয়া হয় । হিন্দুদের ভিতর যারা নাথ সম্প্রদায়ের তাদের নাকি লাশ পোড়ানো হয়না । মাটিতে পুতে দেয়া হয় । মুসলমানদের কবর গুলো সবদেশে এক রকম নয় । জান্নাতুল বাক্বীতে দেখেছি কবরের গভীরতা কম । কবরের ভিতর একদিকে ছোট একটা সুড়ংগ করা হয় । মুখটা নাকি সুড়ংগের দিকে ফিরিয়ে দেয়া হয় ।
বিবিসিতে দেখলাম, মংগোলিয়ার সুউচ্চ পার্বত্য এলাকায় লাশ দাফন খুবই কস্টকর । সন্তানকে লাশটা কাপড়ে মুড়িয়ে শক্তকরে করে বেঁধে কাঁধে তুলে দশ/বারো কিলোমিটার দূরে নিয়ে যেতে হয় । অঞ্চলের একমাত্র বৌদ্ধ ধর্মগুরু আসলে সবাই শবযাত্রী হয়। উচু পাহাড়ের এক জায়গায় নিয়ে লাশটা রাখতে হয়। এরপর প্রার্থনা করা হয়। মৃতের পুত্র লাশটাকে খুলে উন্মুক্ত স্থানে রাখে এবং কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে টুকরা করে নিক্ষেপ করে । ইতোমধ্যে ভালচার বা শকুণিরা আসতে শুরু করে । কয়েক মিনিটের মধ্যেই দেহটা শেষ হয়ে যায়। এলাকার লোকেরা মনে করে মৃতদেহটা প্রাণীর খাদ্য হয়েই অন্য প্রাণের মাঝে বেঁচে থাকবে । শুনেছি, আমাদের পার্বত্য অঞ্চলের কোন কোন গোত্র পিতা মাতার মৃতদেহকে খেয়ে ফেলে বা আনন্দের সাথে উত্‍সব করে সত্‍কার করে ।

Read Full Post »

সকালবেলা ৪৫


<p>গতকাল বিকেল থেকে এখানে  বরফ পড়ছে । সন্ধ্যার একটু আগে নওশাদ আমাদের নিয়ে বের হলো । কিছুটা ছিল শপিং আর রাতের খাওয়াটা বাইরে সেরে নেওয়া । বাসা থেকে যখন বেরিয়েছি তখনও বুঝতে পারিনি বরফ পড়ছে । আমার কাছে মনে হয়েছে ইলশে গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে । শপিংয়ের জন্যে যখন গাড়ি থেকে নামলাম তখন দেখলাম গায়ের কাপড়ে তুলার মতো বরফের দাগ । এর আগে এ রকমের অভিজ্ঞতা আমার ছিলনা । তাই প্রথমে বুঝতে পারিনি । শপিং শেষ করে আমরা খাবার দোকানের খোঁজে বের হলাম । অভিজাত শপিং মল হলো বেলভিউ শপিং মল। সেখানে বেশকিছু ভাল খাবার দোকান আছে । কিন্তু সব কটাতে ওয়েটিং টাইম হলো ৪০ থেকে ৫০ মিনিট । এতক্ষণ অপেক্ষা করে খাবার খাওয়ার ধৈর্য ছিলনা । ভাবলাম, বেরিয়ে রেডমন্ড সিটি মলের কোন একটা রেস্টুরেন্টে যাব । কিন্তু তা আর হলোনা । হঠাত্‍ করে আমার বুকে চাপ শুরু হয়ে গেল । শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল । গাড়িতে বসেই নওশাদকে বললাম হিটার ছেড়ে দিতে । আমি বড় বড় করে শ্বাস নিতে ও ফেলতে শুরু করলাম । ওরা একটু  চিন্তিত হয়ে পড়লো। বললে, বেশী খারাপ লাগলে সরাসরি হাসপাতালে চলে যাবে । আমি বললাম, লাগবেনা । একটু গরম লাগলে ঠিক হয়ে যাবে । বাইরের ঠান্ডা বাতাস এক ঝলকা বুকে ধাক্কা মেরেছিল । তাই শ্বাস কষ্ট হচ্ছিল ।</p><p>ওরা ঠিক করলো সরাসরি বাসায় ফিরে আসবে । কিন্তু দেখা গেল রাস্তা গুলো বরফে ঢেকে গেছে । যেখানে গাড়ি চলছে সেখানে ট্র্যাক তৈরি হয়েছে । সেটা অনুসরণ করে গাড়ি চালানো সুবিধা। কিন্তু যে রাস্তায় গাড়ি নাই সেখানে পুরো বরফ। গাড়ির চাকা স্লিপ কাটতে চায়। নওশাদের গাড়ির চাকা গুলো ছিল পুরাণো । ফলে একটু রিস্কি হয়ে গেছে। বাসার কাছাকাছি এসে দেখা গেলো বেশী বেশী বরফ। বাসায় ফিরার রাস্তাটা ছিল ঢালু ও রিস্কি । আমরা ভয় পেয়ে গেলাম । আল্লাহ আল্লাহ করছিলাম। ওই সময়েই দেখলাম রাস্তায় ক’টি বাসার ছেলে মেয়েরা স্নো বল খেলছিলো। তখন রাত  ন’টা হবে । বাসায় ঢুকেই আমি  প্রথমেই অষুধ খেলাম। ইশরাতকে বললাম ঘরের  হিট একটু বাড়িয়ে দিতে । তখনও আমার ঠান্ডা লাগছিলো। বড় বড় করে নিশ্বাস নেওয়া জারি রাখলাম।</p><p>২০০৬ সালে রচেষ্টারে এ রকম বরফে পড়েছিলাম । তখন সেখানে আসাদ থাকতো । আমি ও আমার বিবি নাজিয়া এক সাথেই গিয়েছিলাম । ক’মাস আগে আরশান হয়েছে । আমরা প্রথমে উঠেছিলাম আসাদের বাসায় । কয়েকদিন থেকে গেলাম নওশাদের  ডালাসের বাসায় । খুব সুন্দর বাসা ছিল। বাসার পাশেই একটা লেক ছিল । জানালা দিয়ে লেক দেখা যেতো । সেবার নওশাদের বাসায় দশ দিনের মতো ছিলাম । এরপরে আবনার ফিরে এলাম আসাদের বাসায় । রচেষ্টার শহরটাস খুবই সুন্দর । নিরিবিলি । আবহাওয়া ভাল থাকলে খুবই মজার জায়গা । আমরা প্রায় মাস খানেক । এর ফাংকে আমরা ক’দিনের জন্যে নিউইয়র্ক গিয়েছিলাম আত্মীয় স্বজনের সাথে দেখা করার জন্যে । ক’দিন বজলুর বাসায়, ক’দিন নুর মোহাম্মদ সাহেবের বাসায় থেকে বন্ধু বান্ধবের সাথে দেখা করলাম । আবার রচেষ্টারে ফিরে যাওয়া । তারপরে ঢাকায় ফিরে আসা । আসাদকে একা রেখে ফিরে আসতে খুব কষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু কি করবো । আসাদ চেয়েছিল আমরা যেনো আরও কিছুদিন থাকি । ওই ধরনের থাকা আমার একেবারেই ভাল লাগেনা ।</p><p>মিয়া বিবি দুজনেরই ভিসা থাকা সত্বেও ২০০৬ সালের পর আর  আমেরিকা আসা হয়নি । কেন হয়নি তা ঠিক বুঝানো যাবেনা । বিবিকে ফেলে একা  আসাটা ঠিক হয়নি । আমি চলে  এসেছি  বিনা কারণে ভয় পেয়ে । মনে হয়েছিল, একটা ৮৫ ভাগ ভোটার বিহীন ফালতু নির্বাচনে জিতে হাসিনা আরও মারমুখি হয়ে উঠতে পারে । বন্ধুরাও বললেন, ক’দিন দেশের বাইরে থাকতে । হাসিনা যে ভাবে নির্বাচন করেছে,  যেভাবে শত শত লোককে হত্যা করেছে, যেভাবে ভারত উলংগ ভাবে হাসিনাকে সমর্থন দিয়েছে  তাতে  তিনি ক্ষ্যাপে গিয়ে মারমুখি হয়ে উঠতে পারেন । তাই একটু দূরে সরে থাকা । আমি রাজনৈতিক কর্মী নই, রাজনৈতিক দলের সদস্যও নই। আমার আদর্শ হলো আমার দেশের নিরাপত্তা ও কল্যাণ । আমি একজন লেখক মাত্র । লিখে নিজের মতামত প্রকাশ করি । মাঝে মাঝে সেমিনারে  বক্তব্য রাখি । এতে কোন সরকারেরই ক্ষুব্দ হওয়া উচিত্‍ নয়। তাছাড়া আমিতো কখনই রাস্ট্র বা সরকারের কাছে কিছু চাইনি । পদ পদবী পাওয়ার ব্যাপারতে আমার কোন আগ্রহও নেই ।</p>

Read Full Post »

সকালবেলা ৪৪


 আমার বাসাটায় এখন প্রচুর আলো। বাসায় বসেই সূর্য উঠা উবা দেখা যায় । তবে সকালে উঠেই পুব দিকে বস্তি আর বস্তি বাসীর চেহারা দেখি । মাঝে মাঝে নারী পুরুষের মারামারি দেখি । আমি মেয়েদের পক্ষেই থাকি, কারণ তারা গায়ের জোরে কম । মনে হলো মুখের জোর কম নয়। বয়স ২৫ বা ৩০ হলে হয়ত মাঠে নেমে যেতাম ঝগড়া বা মারামারি থামাবার জন্যে । এক সময় নিয়মিত নেমে যেতাম । এজন্যে বহুবার হেনস্থা হয়েছি । কিন্তু মনটাকে কোনদিনও বাগে আনতে পারিনি । আমার মন বড় স্পর্শকাতর । ছুতে হয়না, বিনা ছোয়াতেই কাতর হয়ে পড়ি । কাতরতার কারণেই সারা জীবন কিছু বলতে চেয়েছি,  লিখতে চেয়েছি । ্যৌবনে রাস্তায় নেমেছি, মিছিল করেছি। আমার ভিতর ভয় কখনই কাজ করেনি । এখন করে । কারণ, এখন আমার রাস্ট্রটা নিজেকে রক্ষার জন্যে নিজের নাগরিকদের উপর অত্যাচার করে। তাই ভাবি, হায়রে রাস্ট্র! তোর জন্যে এদেশের লাখ লাখ মানুষ প্রাণ দিয়েছে ।সেই রাস্ট্রই এখন  তার প্রতিষ্ঠাতাদের শত্রু মনে করে। এর চেয়ে বড় দু:খ আর কি হতে পারে । আমার মহাদোষ হলো ধান বানতে শিবের গীত গাওয়া । জানি এ অভ্যাস ভালোনা । তবুও একে ত্যাগ করতে পারিনা।

বলতে শুরু করেছিলাম ঘরের আলোর কথা । পূরব দিকের কথা বলেছি । পশ্চিমে আটতলা বাড়ি উঠছে, রাতদিন  মেশিনের আওয়াজ । বাড়িটা হয়ে গেলে আলো বেশ কিছু কমে যাবে । জানালায় জানালায় কথা হবে । হয়ত প্রেমও হবে । দক্ষিণ দিকে  রাস্তা। রাস্তার পরের বাড়িটাতে কাজ চলছে । বাড়িটা তিনতলা ছিল । এখন ছয়তলা হবে । কিছুটা আলোতো কমবেই ।

এখন বিদেশে যে বাড়িটাতে আছি, সেটা একটি একা বাড়ি। চারিদিকে খোলামেলা । আশে পাশে দোকান পাট নেই । গাড়ি বা মানুষের শব্দ নেই । একেবারই  নিরিবিলি । বাড়িটার পিছনের দিকে একটা বড় অরন্য বা জংগল । আগেও বাড়িটার কথা বলেছি । এমন বাড়ি রাজধানী ঢাকায় আছে বলে মনে হয়না । এমন কি মহা ধনীরাও এমন বাড়িতে থাকার  সুযোগ পান না। তবে তাদের সকলেরই বাগান বাড়ি আছে । ধানমন্ডীতে এক সময় এক বিঘার বাড়ি ছিল । সে সব বাড়িতে প্রচুর গাছ গাছালি ছিল। এখন নেই ।

আবাসিক এলাকা উন্নয়নে সরকারের তেমন কোন নিয়ম নীতি নেই । হয়ত কাগজে কলমে আছে । বাংলাদেশে  ধনী আর রাজনীতিকরা মিলে মিশে আইন বানান ও পরিবর্তন করেন নিজেদের স্বার্থে । ফলে কোন নীতিই  তেমন কার্যকর হয়না । তথাকথিত অভিজাত এলাকায় সরকার জমি বিক্রি করে  দশ থেকে পনেরো বিশ লাখ টাকায় । এগুলোর বাজার দর তিন কোটি টাকা থেকে  দশ পনেরো কোটি টাকা ।

আমার বাসার পাশে যে বস্তি আছে তা রাজনৈতিক মাস্তানেরা দেখা শুনা করে। রাজউক এসব দেখেও দেখেনা । সরকার হয়ত দেখতে দেয়না ।

Read Full Post »

সকালবেলা ৪৩


ভাবনা মেশিন হিসাবে মানুষের কোন তুলনা নেই । এখন পর্যন্ত মানুষই শুধু ভাবতে পারে । মানুষের মতো বা মানুষের চেয়েও বুদ্ধিমান প্রাণীর কোন খবর এখনও পাওয়া যায়নি । কিন্তু মানুষের অজানাকে জানার আগ্রহ অপরিসীম। দিন দিন এ আগ্র্হ বেড়েই চলেছে । মানুষ যেমন তার চারিপাশকে জানতে চায় তেমনি নিজেকে নিয়েও তার কৌতুহলের কোন সীমা নেই । একদিকে বিজ্ঞানের জ্ঞান, অপরদিকে মন বা আত্মার মতো অজানাকে জানার নীরব সাধনা। এই সাধন্য, মগ্নতা ও ধ্যান হচ্ছে নিজেকে জানার মাধ্যমে খোদাকে জানা।
আমার বড় ছেলে নওশাদ বলে যা কিছু দেখছো বা যা দেখছোনা সবই বিজ্ঞান । বিজ্ঞান অন্য কোন কিছুর কোন অস্তিত্ব নেই। সৃষ্টির সবকিছুই বিজ্ঞান। আমার বিজ্ঞান মনস্কতা নেই । বস্তুগত জগতকে জানার কোন চেষ্টা আমার নেই । তেমন কোন জ্ঞান বুদ্ধি আমার কখনই হয়নি । এ ধরনের জ্ঞান সংগ্রহের কোন চেষ্টা করিনি । আমি মনে করি সৃষ্ট বস্তু নিয়েই বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন। নিজেরা তেমন কিছু সৃষ্টি করছেন না।
আর বিজ্ঞানের বাইরে আরেকটি জগত আছে যা আবিষ্কারের জন্যে সাধনা করছেন এক শ্রেণীর মানুষ । এরা বিজ্ঞানী নন । তারা সমস্ত সৃষ্টির পিছনের রহস্য জানার জন্যে ধ্যানে মগ্ন হন। এরাই হচ্ছেন নবী রাসুল, পীর আউলিয়া ও ঋষিগণ । বিজ্ঞানীরা যেমন জানতে চেষ্টা করছেন তেমনি নবী রাসুল সাধকগণ ও জানার চেষ্টা করছেন মানব সৃষ্টির রহস্য। চার পাঁচ হাজার আগে হজরত ইব্রাহিম(আ) বলেছেন, আমি সকল দিক হতে মুখ ফিরিয়ে তোমার দিকে ফিরে এলাম । এক সময় তিনি চন্দ্র সূর্য, বৃক্ষলতাকে স্রষ্টা বা সৃষ্টির পিছনের শক্তি বলে মনে করতেন । এভাবে আদম থেকে শুরু করে মুহম্মদ(সা) পর্যন্ত সবাই বলেছেন দৃশ্য অদৃশ্য সকল জগতের কারণ আল্লাহ/খোদা বা ঈশ্বর । তিনি সবকিছুর মূল কারণ । মানুষ হাজার বছর ধরে এই সব নবী রাসুলদের মেনে আসছে। ওই একই পথে সাধনা করে চলেছেন পীর আউলিয়াগণ ।
ভারতের সনাতন ধর্ম বা আচারনের প্রবর্তক মুনি ঋষিগণ বলে গেছেন, লিখে রেখে গেছেন সৃষ্টির করাণ । প্রশ্ন দিয়েই তাঁদের যাত্রা শুরু । মানুষ কি ? কোথা থেকে এসেছে ? কোথায় ফিরে যাবে? কেনইবা আসা আর যাওয়া । আদি জ্ঞান লাভেতর জন্যে গৌতম সংসার ত্যাগ করে বোধি লাভ করেছেন। জগতে বহু রাজা বাদশাহ বা রাজপুত্র অজানাকে জানার জন্যে রাজ্য বা সংসার ত্যাগ করেছেন।
অদৃশ্য জগতকে জানার জন্যে সাধনা করে সুফি কবি হয়েছেন অনেকেই ।এরাও আল্লাহ প্রেমে পড়ে সংসার ত্যাগী হয়েছেন। শুধু সত্য বলার অপরাধে জগতের বহু জ্ঞান গুণী প্রাণ দিয়েছেন। সুফী কবিদের ভিতর স্মরণীয় আছেন হাজার বছর ধরে মনসুর হাল্লাজ, রুমী , হাফিজ , সা’দী , খৈয়াম , গালিব ও কবীর। আমাদের বাংলাদেশ সুফী সাধক ও সুফী কবিদের দেশ । লালন ও হাছন রাজা চলমান সময়ের শ্রেষ্ঠতম সুফী বা মরমী কবি । এঁরাও খোদার সন্ধানে সারাটা জীবন ব্যয় করেছেন।
চলমান সময়ের শ্রেষ্ঠতম বিজ্ঞানী রে কারজুয়েল বলে যাচ্ছেন যে, আগামী ৫০ বছরের মধ্যেই মানুষ বার্ধক্যকে জয় করতে পারবে । তিনি বলছেন, বুদ্ধিমান প্রাণী ছাড়া মানুষ আর কিছুই নয়। এই বুদ্ধিই হচ্ছে বিজ্ঞান ।

Read Full Post »

সকালবেলা ৪২


কেরল একজন কবিতার শিক্ষক । অনেকদিন  স্কুলের ছাত্রদের কবিতার নিয়ম কানুন ও ব্যাকরণ শিখিয়েছেন। তিনি এখন  একটা কবিতা সংগঠণ করে নিয়মিত কবিতার চর্চা করতে চান। গতকাল মানে ফেব্রুয়ারীর ছয় তারিখ সন্ধ্যায় রেডমন্ড পাবলিক লাইব্রেরীতে  একটি প্রাথমিক সভা ছিল । সভায় পোয়েট লরেট মাইকেল ও উপস্থিত ছিলেন। অতি বিনয়ী মানুষ । রেডমন্ডে যেখানেই কবিতা সেখানেই ছুটে যান। এ মাস ব্যস্ত থাকবেন হাইকু নিয়ে । এখানে এ মাসটা হচ্ছে হাইকুর মাস । মাইকেল হাইকু নিয়ে অনেক কাজ করেছেন । তিনি বিশ্ব হাইকু আন্দোলনের সাথে জড়িত আছেন । তাঁর স্ত্রী একজন জাপানী । তিনিই মাইকেলকে হাইকুর ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলেছেন। আমিও কিছু হাইকু ইংরেজী থেকে অনুবাদ করেছি । ওগুলো পড়ে আছে । অনেকদিন দেখিনি ।

কেরলকে আমি প্রস্তাব করেছি, সংগঠনের নাম ‘রেডমন্ড রুমী সার্কেল ’ রাখার জন্যে । মনে হলো সবাই রাজী । ওই সন্ধ্যার সভাটি ছিল রুমীকে নিয়ে কিছু কথা বলার জন্যে। এখন আমেরিকাতে রুমী ক্রেজ চলছে । মরমীবাদ কি তা সবাই জানতে চায় । আমি সবাইকে জানালাম , রুমীর মরমীবাদের মূলসূত্র হচ্ছে ইসলাম ও মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ  আল কোরআন। কোরআনের দুটি দিক আছে। একটি হচ্ছে শরীয়া বা মানব জীবনের জন্যে আইন । অপরটি মরমীবাদ বা খোদাপ্রেম । খোদার সাথে প্রেম করে যারা সুফী সাধক হয়েছেন। রুমী, হাফিজ, শেখ  সা’দী,  খৈয়াম ও গালিব হচ্ছেন  খোদা প্রেমিক মরমী কবি । এদের সবার আগে মানে রুমীর চারশ” বছর পূর্বে ছিলেন জগতের প্রথম শহীদ মরমী কবি মনসুর হাল্লাজ । মনসুরকে হত্যা করেছিলেন তত্‍কালীন খলিফা ও শরীয়া আদালত । যদিও  অনেক পরে শরীয়ার নেতারা বলেছেন, আদালতের রায় সঠিক ছিলনা।

বাংলাদেশের কবিরা অল্প পানির মানুষ । তাঁরা নিজের নামধাম প্রচার ও সরকারী পুরুষ্কার পাওয়ার ব্যাপারেই ব্যস্ত থাকেন । আর কিছু কবি ও তথাকথিত সংস্কৃতি কর্মী আছেন যাঁরা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে ব্যস্ত থাকেন । কবিকে তাঁরা মানুষ না ভেবে দেবতার আসনে বসিয়ে ফেলেছেন । এ জগতে রবীন্দ্রনাথের চেয়ে বড় আরও বহু কবি আ্‌ছে– সেকথাটা তাঁরা জানতে চানতে চাননা। তাঁদের কাছে ভাষা একটি কবিও একটি । এমন কি তাঁরা আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুলকেও তেমন গুরুত্ব দিতে চান না । সরকার গুলোরও এ ব্যাপারে তেমন শক্তিশালী নীতি নেই । বাংলাদেশে নজরুল নিয়ে তেমন কোন গবেষণা নেই। এ ব্যাপারে সরকার ও বুদ্ধিজীবীরা অন্ধ । নজরুলই  একমাত্র কবি যিনি স্বাধীনতার জন্যে জেল খেটেছেন। বৃটিশদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন।

যখন লিখছি তখন  মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী গণমানুষের বিপ্লবী নেতা চে গুয়েবারার জীবন ভিত্তিক একটি মুভি দেখছিলাম। চে আমেরিকা বিরোধী একজন বিপ্লবী নেতা ও দার্শনিক। তাকে নিয়েই আমেরিকানরা মুভি তৈরি করেছে। আর আমরা আমাদের জাতীয় কবি  নজরুলকে নিয়ে কিছুই করতে পারিনি । এমন কি এখানে রুমীকে নিয়ে বহু ডকুমেন্টারী তৈরি হয়েছে। আমরা অনেক কিছু করতে পারবো ভেবে ভারতের সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে একটি দেশ তৈরি করেছি। কিন্তু তেমন গুরুত্বপূর্ণ বা মূল্যাবান তেমন কিছুই করতে পারিনি । বরং দেশটাকে ধ্বংস করার পথে এগিয়ে চলেছি । জাতির অবস্থা এখন খুবই খারাপ। এখন ছেলেরা বাপকে আর শিক্ষককে শিক্ষা দিতে চায় । মুরুব্বীরা নাকি কিছুই বুঝেনা ।

 

 

 

Read Full Post »

সকালবেলা ৪১


কেন কনফারেন্স বা সেমিনারের জন্যে যখন আমি বিদেশ যাই তখন  হোস্টের নিয়ম কানুন ও সিডিউল মোতাবেকই চলি। ভাবতে হয়না কেমন করে কোথায় যাবো ।এ ছাড়া সবার সাথে কথা বলে আড্ডা মেরে সময় পার হয়ে যায়। ভাল কি মন্দ জানিনা, আড্ডা দিতে বা মারতে আমার ভাল লাগে । ভাগ্য ভাল আমি লেখালেখি বা সাংবাদিকতার পেশা নিয়েছিলাম । হয়ত খোদা আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন । আমি অনুভব করি তিনি আমাকে ভালবাসেন । একজন অযোগ্য মানুষ হিসাবে আমি জীবনে অনেক সম্মান, সুখ ও আনন্দ পেয়েছি । আমি একজন সুখী মানুষ । সুখ কি এবং কেমন প্রশ্ন করলে হয়ত উত্তর দিতে পারবোনা ।

কিন্তু  আমি যখন নিজের উদ্যোগে বাইরে আসি  তখন দিনগুলো মাস বা বছর হয়ে যায় । কারণ, কারোর উপর নির্ভর করে থাকতে হয়। আমাদের মতো মধ্যবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্তদের  সন্তানরা জীবিকার জন্যে দিনাতি পাত করে। শত ইচ্ছা থাকলেও আমাদের সময় দেয়া কঠিন । বিশেষ করে আমার মতো আড্ডাবাজকে সময় দেয়া কঠিন। কিন্তু এবার রেডমন্ডে এসে আমার সময় খুবই ভাল কাছে । কবিদের অনুষ্ঠান, সাংবাদিকদের ডিনার নিয়েই সময় কেটে যাচ্ছে । এ ব্যাপারে নওশাদ আমাকে প্রচুর সাহা্য্য করছে । ইতোমধ্যে রুমী আর আর্থার রেবোঁর বই কিনেছি। হাফিজ আর মনসুর হাল্লাজের বই দু’য়েক দিনের ভিতর কেনা হবে । রেডমন্ড পাবলিক লাইব্রেরী থেকেও বেশ কিছু রুমীর বই এনেছি ।

অশ্লীল ধনী বা সাধারন ধনীদের নিয়ে আজকের সকাল বেলাটা লেখার জন্যেই বসেছিলাম । ধনীরা বা বিজনেস টাইকুনরা বিদেশে এলে ছয়তারা হোটেলে থাকেন । তাদের সহযোগী বা বিজনেস এ্যাসোসিয়েটসরা তাদের সুখ শান্তি ও আনন্দ দেখাশোনা করেন। শুনেছি অনেক সময় তারা ভিলা ভাড়া নিয়ে থাকেন। অনেকের ছেলে মেয়েরা বাড়িতেই থাকে। আমাদের বাংলাদেশের ধনীদের নাকি দেশের বাইরে অনেক দেশে বাড়ীঘর আছে। ধনের এ বিশেষ সুবিধাটা ধনীরা পান । আমাদের রাজনীতিবিদ ও আমলারাও বিদেশে এলে নানা রকমের সুখ শান্তি ভোগ করেন । বাংলাদেশের কোন এক বিচারপতি নাকি মদ  খেয়ে লন্ডনের রাস্তায় পড়ে ছিলেন । তিনি নাকি সুযোগ পেলে বিদেশে বিয়েশাদী ও করেন।

ধনীদের সকাল বেলা গুলো কেমন তা আমার জানার কথা নয় । ধনীরা কখনও আমার মতো ছিল কিনা জানিনা। আমিতো দেড়শ’ বছরের মধ্যবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্ত ।

Read Full Post »

« Newer Posts - Older Posts »