Feeds:
Posts
Comments

আল্লাহপাকই মানব জাতির জন্যে দিন ক্ষণ মাস বছর ও রাতদিন তৈরি করেছেন। মানুষকে দিন রাত্রির জ্ঞান দান করেছেন। এই জ্ঞান দ্বারাই মানুষ দিনক্ষণ গণনা শিখেছে। ইতিহাস রচনা করা শিখেছে। মুসলমান জ্ঞাণী গুণী ও ইতিহাসবিদগণ মানব জাতিকে ইতিহাস বিজ্ঞানের জ্ঞান দান করেছেন। ভারতে ইতিহাস বিজ্ঞানের জ্ঞান ও চর্চা নিয়ে এসেছেন মুসলমানেরা। বিশেষ করে মোঘল যুগে বিজ্ঞান সম্মত ইতিহাস রচনা শুরু হয়েছে। স্বয়ং জওহারলাল নেহেরু এ কথা বলেছেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ উদ্বোধন করার সময় প্রিন্স চার্লস বলেছিলেন, মুসলমানেরাই বৃটেন সহ ইউরোপে জ্য়ানের আলো নিয়ে গেছে।
ইতিহাসের এইদিনে ১৯৪০ সালে হিটলার ও মুসোলিনী ফ্লোরেন্সে এক সভায় মিলিত হয়েছিলেন। এই দুজনই ছিলেন জগত বিখ্যাত স্বেচ্ছাচারী শাসক। ১৯৪৮ সালের এইদিনে ইজরাইল তার রাষ্ট্রীয় পতাকা ডিজাইন অনুমোদন দেয়। এই তারিখেই ১৯৪৯ সালে ইহুদীবাদী নেতা নেতানিয়াহুর জন্ম হয়েছে। ১৯৪৫ সালের এইদিনে ফরাসী দেশের নারীরা ভোটাধিকার লাভ করেছেন। ইতিহাসের কারণেই আমরা অতীতের কথা জানতে পারি। তবে আমরা যে ইতিহাস জানি তা হলো বিজয়ীর ইতিহাস। রাজার ধর্মই জনগণের ধর্মে পরিণত হয়েছে। রাজারাই কবি শিল্পী সাহিত্যিক ও ইতিহাসবিদদের রাজার পক্ষে ইতিহাস রচনা করতে বাধ্য করে থাকে। যেমন মোঘল সম্রাট আওরংজেব নাকি হিন্দু বিদ্বেষী ছিলেন বলে একশ্রেণীর ঐতিহাসিক লিখে গেছে। অথচ তিনি ছিলেন একজন দরবেশ সম্রাট। সেলাই করে আর হাতে লিখে কোরআনের কপি করতেন এবং তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি সারা ভারতে বহু মন্দির প্রতিষ্ঠা করার জন্যে টাকা বরাদ্দ করেছেন


শহীদ মিনার ও জাতির সামনে নতুন কিছু পশ্ন / এরশাদ মজুমদার

প্রশ্ন উঠেছে শহীদ মিনারে( পাকিস্তানী অবাংলা শব্দ)। হয়ত তখন বাংলা শব্দ মনে পড়েনি। ভাষার জন্যে যাঁরা জীবন দিয়েছেন তাঁদের সম্মানে বা স্মরণে এই স্তম্ভ বা সৌধ নির্মাণ করা হয়েছে। শহীদ শব্দের বাংলা জানলে জানাবেন। স্বর্গীয় বা ওঁ শব্দ ব্যবহার করা যেতে পারে। শহীদ শব্দটি এতদিনে সার্বজনীন হয়ে গিয়েছিল। পশ্চিম বাংলাও ব্যবহৃত হচ্ছে। কারণ এর বিকল্প কোন শব্দ পাওয়া যাচ্ছেনা।
মরহুম পিয়াস করিমের লাশ নিয়ে সরকারের তাবেদাররা যা করেছেন তাতে জাতি বুঝতে পারলে যে, ওঁসৌধটি(শহীদ মিনার) শুধু একটি গোত্রের জন্যে। যাঁরা রবীন্দ্র সংগীত ভালবাসেন। যাঁদের জানাজা না হলেও চলবে। যাঁরা খাঁটি বাংগালী ও কম মুসলমান। যাঁরা মুক্তিযুদ্ধ করেননি, কিন্তু চেতনা আছে, যাঁদের ভুয়া সনদ আছে বা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলেন নিজেদের স্বার্থের জন্যে। ইতোমধ্য বেশ কয়েকজনের শবদেহ বা মৃতদেহ ওঁসৌধে নেয়া হয়েছে সার্বজনীন শ্রদ্ধা জানাবার জন্যে। রবীন্দ্র সংগীত বাজতে থাকবে। লাইন ধরে আপনারা মৃতের চেহারা দেখবেন, ফুল দিবেন, কালো কাপড় পরবেন, চেহারায় বেদনার ভাব রাখবেন, টিভি সাক্ষাত্‍কার দিবেন। দেখেছি কেউ কেউ জানাজাও করেন আবার রবীন্দ্র সংগীতও বাজান। অনেকে জানাজা না করে দেহ দান করেন মানবজাতির কল্যাণে। চলমান সরকারের চরিত্র বা কার্যাদি ৯০ ভাগ মুসলমানের পক্ষে নয় বলেই ও্ঁবাদীরা এমন ঔদ্ধত্ব দেখাতে পারছে।( কবিগুরুর মরদেহ কিন্তু কিন্তু দাহ করা হয়েছে)। জগতের প্রথম শহীদ কবি মনসুর হাল্লাজকে সরকার হত্যা করে তাঁর লাশ জ্বালিয়ে দেয়া হয় যেন কোন মাজার, মকবরা বা স্মৃতি সীধ গড়ে উঠতে না পারে। আজ হাল্লাজের মাজারে লাখ লাখ মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে, দোয়া দরুদ পড়তে। সে সময়ের সরকারের কথা কেউ জানেনা। সকল যুগেই সরকারের কাজ হলো ভাল মানুষ হত্যা করা আর মানুষের কাজ হলো সেই ভাল মানুষকে স্মরণ করা ,শ্রদ্ধা জানানো।
জগতের সব দেশে বা সব যুগে কিছু মানুষ আছেন যাঁরা নিজেকে ধর্মহীন ভাবতে ভালবাসেন। তরুণরা এদের জ্ঞানী বা ব্যতিক্রম ধর্মী মানুষ মনে করে।ধর্মমুক্ত মানুষদের ভিতরও কিছু মানুষ ভাল থাকতে পারেন। তাঁরা হয়ত মানুষের কল্যাণেই কাজ করেন। এদের অবস্থান সম্পর্কে আল্লাহই ভাল জানেন। সবাই ধর্ম বা আল্লাহকে মানবেন এমন কোন কথা নেই। সাধারন ভাবে ধর্ম অধর্ম নিয়ে প্রবন্ধ নিবন্ধ লিখতে পারেন। কিন্তু ধর্ম বিশ্বাসীদের মনে আঘাত দিতে পারেন না। জগতের কোন আইন কোন ব্যক্তিকে এ ক্ষমতা দেয়া হয়নি। বাংলাদেশেতো প্রশ্নই উঠেনা।
কিছু মানুষ আছে যাঁরা ভুলে যায় বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমান। সুতরাং যাঁরা শহীদ মিনারে (ওঁসৌধ) যান তাঁদের ৯০ ভাগও মুসলমান। শহীদ মিনারও বানিয়েছেন মুসলমানেরা বা মুসলমান নামে পরিচিতরা। বাংলাদেশে ধর্মমুক্ত বা ধর্মহীন মানুষের সংখ্যা এক ভাগ শতাংশো নয়। সবাইকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে আমাদের আচার ব্যবহার, পোষাক আসাক, ভাষা, জীবন চর্চা পশ্চিম বাংলা বা সনাতন ধর্মীদের মতো নয়।
ভৌগলিক বা ভাষার কারণে আমরা বাংগালী। ভৌগলিক কারণে আমাদের জীবন চর্চায় কিছু সনাতনী/পুরাণ বিষয়ক আচার থাকতে পারে। কবিগুরু নিজেও বলে গেছেন সনাতনীরা মুসলমানদের চেয়ে অনেক বেশী রক্ষণশীল। মুসলমানেরা সবার সাথে একত্রে খেতে পারে, সনাতনীরা পারেনা। মনে রাখতে হবে ভৌগলিক কারণে আমরা কম মুসলমান আর বেশী বাংগালী নই। মুসলমান হিসাবে আমাদের পূর্বপুরুষরা বাংলাদেশকে অখন্ড রাখার জন্যে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সনাতনীরা এবং তাঁদের নেতারা ৪৭ সালে বাংলাদেশকে খন্ড করে। আজ যে স্বাধীন বাংলাদেশে থেকে স্বাধীনতার বড়াই করছি তাও আমরা পেয়েছি আমাদের পূর্বপুরুষ ও বাপদাদাদের কাছে থেকে। বাংলাদেশে কিছু আরবী নামধারী সনাতনী মানুষ আছে যাঁরা প্রাচীন জীবনাচারকেই আধুনিক বলে চালাতে চায়। তাঁরাই জাতিকে বিভক্ত করে রাখতে চায়। যা ভারতের গোয়েন্দা বিভাগও চায়। এদের প্রপাগান্ডার ফলেই আমাদের তরুণরা নিজেদের মুসলমান না বলে স্যেকুলার/ধর্মমুক্ত/ধর্মহীন বলে প্রচার করে। এরাই মুসলমানদের বা নিজেদের বাপদাদাদের মৌলবাদী, সন্ত্রাসী বলে প্রচার করে। এরাই পূর্ব পুরুষের সম্পদ নিয়ে মারামারি ও মামলা মোকদ্দমা করে। সম্পদের ব্যাপারে মুসলমানের ওয়ারিশানা মানে, কিন্তু বাপদাদার জীবনাচার মানতে চায়না। এরা খন্ডিত ইতিহাসে বিশ্বাসী।
মাত্র ৪৩ বছরেই জাতি হিসাবে আমরা বিভক্ত হয়ে গেছি বলে জ্ঞানী লোকেরা বলাবলি শুরু করেছেন। এ বিভক্তি কিসের জন্যে? এর রহস্য কি? কারা জাতিকে বিভক্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ক’দিন আগে সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরীর টকশোতে ক’জন সাংবাদিককে দেখলাম। আমি যতদূর বুঝেছি বা জেনেছি ,এঁরা সবাই সবাই সেক্যুলার বা ধর্মমুক্ত মানুষ। ধর্মকে ব্যক্তিগত বিষয় মনে করেন। ‘ ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার’ শ্লোগানে বিশ্বাস করেন। এখানে মেজরিটি বা মাইনরিটির বিষয় নেই। বিষয়টি নিয়ে আমাদের রাজনীতিতে বিভ্রান্তি আছে। কেউ পরিষ্কার করে কথাটি বলতে পারেন না। টকশোর অতিথি বা অংশগ্রহণকারীরা কম বেশী সবাই আওয়ামী( জনতা) রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন। এখানে আওয়ামী বললে লোকে দল মনে করে। টকশোতে সবাই ক্ষমতাশীন বা ক্ষমতাবান দলকে ধোলাই করেছেন। জানিনা কেন তাঁদের এমন পরিবর্তন হয়েছে? কিছু সাংবাদিক বুদ্ধিজীবী আছেন যাঁরা বলেন, আমরা ধর্মমুক্ত, প্রগতিশীল, আধুনিক,সমাজতন্ত্রী। আওয়ামী রাজনীতির সাথে আমাদের মিলে যায়। জাতীয়তাবাদীরা মৌলবাদী, প্রতিক্রিয়াশীল,সাম্প্রদায়িক। মুক্তিযুদ্ধ করলেও চেতনা নেই। টকশোতে অংশগ্রহণকারীরা সবাই সমঝোতার কথা বলেছেন। সমঝোতা নাকি গণতন্ত্রের প্রাণ। সবাই অনেকক্ষণ সমঝোতার গুণগাণ করেছেন। আওয়ামীদের আমি পাকিস্তান আমল থেকে চিনি। তাঁরা বিশ্বাস করেন ‘মাইরের মধ্যে ভিটামিন আছে’। কিছু শিক্ষিত লোক আছেন যাঁরা বিশ্বাস করেন বউ না পিটালে বউ ঠিক থাকেনা। পাকিস্তান আমলে জানতাম বংগবন্ধু সহ আওয়ামীরা আমেরিকাপন্থী ছিলেন। আওয়ামী নেতা ও প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্ধী সাহেব জিরো + জিরো থিওরী দিয়েছিলেন। আরও বলেছিলেন পূর্বপাকিস্তানকে ৯৮ ভাগ স্বায়ত্ব শাসন দেয়া হয়ে গেছে। আওয়ামীরা অন্ধ ভাবেি সোহরাওয়ার্দী সাহেবকে সমর্থন করেছিলেন। এখন শুনি তাঁরা সবাই সমাজতন্ত্রী ও প্রগতিশীল হয়ে গেছেন। রাশিয়া চীন ও আমেরিকার বন্ধুত্ব কামনা করছেন। আমাদের দেশে অনেকেই মনে করেন ভারতপন্থী হলেই প্রগতিশীল হওয়া যায়। মোদীজীর মতো সাম্প্রদায়িক নেতাকেও এখন বাংলাদেশের প্রগতিশীলরা সমর্থন দিতে শুরু করেছেন। তিনি নাকি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ভাল হয়ে গেছেন। হয়ত মোদীজীর সাথে বাংলাদেশের প্রগতিশীলদের একটা মিল আছে। তা হলো ইসলাম ও মুসলমানদের ঘৃণা করা। মোদীজী নাকি অখন্ড ভারতের স্বপ্ন দেখেন। আমিতো মনে করি ভারতের সকল দল ও নেতা অখন্ড ভারতে বিশ্বাস করেন। এ বিশ্বাস নাকি প্রগতিশীলতা। যাঁরা দ্বিজাতি ত্বত্ত বিশ্বাস করেন না তাঁরাতো অখন্ড ভারতে বিশ্বাস করেন। পাকিস্তান ভেংগে যাওয়ার ফলে এখন নাকি দ্বিজাতি ত্বত্ত আর নেই। এখনতো আমি দেখছি বহু জাতি ত্বত্ত। তাহলে কি ভারতেরও আরও খন্ডিত হওয়া দরকার? এসব নিয়ে আমাদের প্রগতিশীল ধর্মমুক্ত বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিকরা ভাবেন কিনা।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা করছেন তাতো সংবিধান মোতাবেক। সংবিধান তাঁকে সে ক্ষমতা দিয়েছে। তিনি শুধু সংবিধানকে অনুসরণ করছেন। কারণ, তিনি সংবিধানের বাইরে যেতে পারেন না। আমাদের সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীকে রাজা বাদশার ক্ষমতা দিয়েছে। তাই তিনি রাজাবাদশাহর ক্ষমতা ভোগ করছেন ও প্রয়োগ করছেন। তিনি সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক বাদশাহ বা মহারাণী। দেশে যে আইন গুলো চালু আছে বা জারী আছে তা অত্যাচারী ও স্বেচ্ছাচারী। এ আইন অনেকদিন থেকেই চলছে। সংসদে দুই তৃতীয়াংশ সদস্য থাকলেই যা ইচ্ছা তাই করা যায়। বেগম হাসিনা সে ক্ষমতার প্রয়োগ করছেন মনের আনন্দে। যাঁদের ভাল লাগছেনা তাঁরাতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারেন না। শিক্ষিত লোকেরা বলেন, জনগণই সকল ক্ষমতার উত্‍স। এই জনতা আজও জানেনা সংবিধান জিনিষটা কি? এটা কার জন্যে, কি জন্যে? অথচ তথাকথিত এই গণতন্ত্রে সবকিছুই জনগণের নামেই হয়। তাঁদেরই ভোটে বা নির্বাচনে( এমন কি ৫ই জানুয়ারীর মত) এদেশে বাদশাহ বা বেগম হওয়া যায়।
শহীদ মিনার(ও্ঁসৌধ) নিয়ে কথা শুরু করেছিলাম। জাতিকে বিভক্ত করার জন্যে সকল ব্যবস্থা আওয়ামী লীগ সম্পন্ন করে ফেলেছে। তাঁদের সাথে থাকলেই আপনি দেশ প্রেমিক, প্রগতিশীল, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকবেন। তা না হলে আপনাকে নানা ভাবে অপমান করা হবে। আপনার নামে মিথ্যা গল্প বানাবে। শ্রদ্ধেয় মুসা সাহেব মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, সংসদ সদস্য ছিলেন । তবুই তাঁকে রাষ্ট্রীয় ভাবে সম্মান দেখানো হয়নি। কারণ শেষ জীবনে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি সারা জীবন পূর্বপাকিস্তানের স্বার্থের পক্ষে কাজ করেছেন। স্বাধীনতা বা মুক্তিযুদ্ধের জন্যে কিছুই করেন নি এমন লোককেও সরকার সম্মান দেখায়। কারণ সেই সব লোক আওয়ামী লীগের পক্ষে আছেন বা থাকেন। শহীদ মিনার নিয়ে যে নোংরা রাজনীতি শুরু হয়েছে তা এ জাতির ও রাষ্ট্রের মূলে আঘাত হানবে এবং স্বাধীনতা থাকবেনা। এ ব্যাপারে ব্যারিষ্টার রফিক, আকবর আলী খান, জেনারেল ইব্রাহীম ও বিগ্রেডিয়ার সাখাওয়াত সাহেব বিবৃতি দিয়ে মত প্রকাশ করেছেন।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হল পিয়াস করিম ও পরিবার সম্পর্কে নিজের মত প্রকাশ করে বলেছেন মরহুম পিয়াশ করিম একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তাঁর বাবা মরহুম এডভোকেট এম এ করিমও মুক্তিযুদ্ধকে নানা ভাবে সহযোগিতা করেছেন। স্বর্গীয় ধীরেন দত্তের মৃত্যু সম্পর্কে যে গল্প কিছু লোক বানিয়েছেন তাও মিথ্যা। যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুক আনিস সাহেবকে ষড়যন্ত্রকারী বলেছেন। যেমন ষড়যন্ত্রকারী ছিলেন একে খোন্দকার।


বাংলাদেশের গণতন্ত্র, ধর্ম,সাম্প্রদায়িকতা ও পিয়াস করিমের লাশ / এরশাদ মজুমদার।

আমরা যে গণতন্ত্র চর্চা করি তা এসেছে বৃটেন থাকে। শোষক ও অত্যাচারী বৃটিশ আমাদের অনেক ভাল মন্দ জিনিষ, নিয়ম কানুন, বিদ্যা, আদব কায়দা দিয়ে গেছে। তন্মধ্যে তথাকথিত গণতন্ত্র একটি। এটা নাকি জনগণের সরকার ব্যবস্থাপনার অন্যতম শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি। এর চেয়ে ভাল কিছু এখনও নাকি আবিষ্কার হয়নি। অনেকেই বলবেন সুপ্রাচীন কালে গ্রীক দেশে এক ধরণের গণতন্ত্র ছিল। আমি মনে করি জগতে জনগণের প্রথম রাষ্ট্র ও সরকার গঠণ করেছিলেন জগতের আলো হজরত মুহম্মদ(সা)। সেখানে মজলিসে শুরা ছিল। মানে আলোচনা সভা/মজলিস বা কাউন্সিল। পশ্চিমা বিশ্বে এখন ঘুণেধরা তথাকথিত গণতন্ত্রের জয় জয়কার চলছে। হুবহু পশ্চিমা গণতন্ত্র অনুসরণ করেনা এমন দেশও আছে। গণচীন তার মধ্যে একটি। এখানে এক দলীয় গণতন্ত্র জারী রয়েছে। জনগণের কথা বলার অধিকার কম। দলের কথাই প্রধান। চীন সেদেশের মুসলমান সহ ভিন্নমতের মানুষদের উপর অত্যাচার চালায়। আমেরিকা সারা বিশ্বকে সন্ত্রাসে পরিণত করেছে। ৬০ এর দশকের দিকে এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে আমেরিকা কমিউনিষ্ট দমনের নামে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে। দেশপ্রেমিক হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। কমিউনিজম দমনের জন্যে মুসলমানদের ব্যবহার করেছে। রাশিয়া কমিউনিজম রফতানীর নামে বিভিন্ন দেশে রক্তক্ষয়ের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। অবস্থাটা ছিল আমেরিকা কমিউনিজম বা সমাজতন্ত্র চায়না, আর রাশিয়া পশ্চিমা গণতন্ত্র চায়না। এ লড়াইয়ে বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ মানুষ নিহত হয়েছে। বাংলাদেশে সফরে এসে মহাথির মোহাম্মদ বলেছিলেন, পশ্চিমা গণতন্ত্র এশিয়ার দেশ গুলোতে অচল। হু বহু পশ্চিমা গণতন্ত্রকে অনুসরণ করা যাবেনা। মালয়েশিয়া একটি বহু জাতিক বহু ধর্মের দেশ। সেখানে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অর্থনৈতিক উন্নতির কারণে। সিংগাপুরের উন্নতি হয়েছে প্রচলিত আইনকে কঠোর ভাবে প্রয়োগের কারণে। বাংলাদেশে প্রতিনিয়তই আইন তৈরি হচ্ছে আর ভাংগা হচ্ছে। সরকারী দলের জন্যে এক রকম আইন আর বিরোধী দলের জন্যে আরেক রকম। গরীব ও ক্ষমতাহীনদের জন্যে কোন আইন নেই। সামান্য ট্রাফিক আইনের প্রয়োগ দেখলেই বুঝা যায়। পুলিশ নিজেই ট্রাফিক আইন মানেনা। প্রয়োজনে উল্টো দিকে চলতে থাকে। মন্ত্রীরাতো নিয়মিত ট্রাফিক আইন ভংগ করেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ বা সুপারিশে আসামীদের ক্ষমা করে দেন। বিরোধী দলকে শাস্তি দেয়ার জন্যে হাজার হাজার মামলা। ভোটার না থাকলেও নির্বাচন করে ক্ষমতায় থাকা যায়। যিনি ক্ষমতায় থাকবেন তাঁর জন্যে রাষ্ট্রের সকল শক্তি আছে। থিওরী হলো সরকারী দল বা সরকারের অনুগত ছাড়া আর কেউ দেশপ্রেমিক নেই।
আমরা ঐতিহ্য সূত্রে বৃটিশ দেয়া গণতন্ত্র পেয়েছি। এক সময়ে ছিল শিক্ষিত লোকেরা ভোটার ছিলেন। তারপরে হলো যারা চৌকিদারী ট্যাক্স দেন শুধু তারাই ভোটার হবেন। অনেক পরে এলো সার্বজনীন ভোটাধিকার। এর মানে প্রত্যেক নাগরিকের ভোট দেয়ার অধিকার থাকবে। আমি ৫৪ সাল থেকে নির্বাচন দেখে আসছি। ভোটার না হয়েও ৫৪র নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের পক্ষে কর্মী হিসাবে কাজ করেছি। যুক্তফ্রন্ট ছিল মুসলীম লীগ বিরোধী সর্বদলীয় নির্বাচনী জোট। মাত্র সাত বছরের মধ্যেই মুসলীম লীগ একেবারেই অপ্রিয় ও ধীকৃত হয়ে গেল। এমন কি চীফ মিনিষ্টাসর নুরুল আমিন সাহেবও নির্বাচনে হেরে গেলেন। মাত্র কিছুদিনের মধ্যেই ৯২ক ধারা জারী করে নির্বাচিত সরকারকে নির্বাসনে পাঠানো হলো। ১৯৫৮ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্র বিদায় নিলো। জেনারেলরা দেশ শাসন করতে লাগলো। আমেরিকা সামরিক নেতাদের সমর্থন দিয়ে যেতে লাগলো। কারণ, আমেরিকা পাকিস্তানে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নিজের স্বার্থ হাসিল করতে পারেনা। সেই শাসনের মাধ্যমেই ৭০ সালে একটি নির্বাচন হলো। কিন্তু পাকিস্তান টিকলোনা। ভারত ও রাশিয়ার পূর্ণ সমর্থনে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন হয়ে বাংলাদেশ হলো। ৭০ এর নির্বাচনে নির্বাচিত পাকিস্তান জাতীয় সংসদের প্রতিনিধিদের নিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ গঠিত হলো। জনমতের চাপে ৭৩ এ একটি সাধারন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। ৫৪,৭০ ও ৭৩ এর নির্বাচনের ফলাফলের প্রকৃতি ও গতি একই রকম ছিল। ৫৪ সালে ছিল মুসলীম লীগকে কবর দাও। ৭০এ ছিল বাংগালীদের জয়যুক্ত করো। ৭৩ এ কি শ্লোগান ছিল? মুক্ত নির্বাচন হলে বিরোধী দল বেশ কিছু সিট পেতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগ বা বংগবন্ধুর সরকারই ক্ষমতায় থাকবে। কিন্তু আমলা ও ভারত বুদ্ধি দিলো মুক্ত নির্বাচনে বামপন্থীরা বেশী এগিয়ে যেতে পারে। ফলে মুক্ত নির্বাচন হলোনা। সংসদে বিরোধী দলের ৬/৭ টি সীট ছিল মাত্র। নির্বাচন নিয়ে বিশদ আলোচনা করা এই কলামের উদ্দেশ্য নয়।
আধুনিক গণতন্ত্রের একটি নমুনা হাজির করছি। আমার এক মামা পৌর নির্বাচনে প্রায়ই বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হতেন। শুনেছি, তিনি প্রতিপক্ষকে নমিনেশন প্রত্যাহারের জন্যে বাধ্য করতেন। ফলে তিনিই জনপ্রিয় নেতা হিসাবে নির্বাচিত হতেন। আইউব খানের মৌলিক গণতন্ত্রে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের কিনেই সংসদ সদস্য হওয়া যেতো। শুনেছি, ৩৭ সালে অখন্ড বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচনের প্রার্থীরা পাঁচশ’ থেকে এক হাজার টাকার বেশী খরচ করেননি। তখনও কোটি কোটি ভোটার গরীব ছিলেন। তখন তাদের দৈনিক আয় ৫০ পয়সার বেশী ছিলনা। কিন্তু গরীবরা ভোট বিক্রি করেন নি। ৫৪র নির্বাচনে একজন প্রার্থী তিন চার হাজার টাকা খরচ করে নির্বাচিত হয়েছেন। ৭০ এর নির্বাচনে ৩০/৩৫ হাজার টাকা খরচ করে নির্বাচিত হয়েছেন। আর এখন কত টাকা লাগে তা আপনারা খুবই ভাল জানেন। প্রসংগত, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার কথা উল্লেখ করতে চাই। শুনেছি,তিনি অতি সাধারন জীবন যাপন করেন। তাঁর স্ত্রী নাকি এখনও বাসের জন্যে রাস্তায় কিউ/লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। মানিক বাবু একেবারে পিছিয়ে পড়ে থাকা রাজ্য ত্রিপুরার গরিবী চেহারা পাল্টে দিয়েছেন। গ্রাম গুলোকে শহর বানিয়ে দিয়েছেন। ক’দিন আগে অমিতাভ বচ্চনের কৌন বনেগা ক্রোরপতি অনুষ্ঠানে ভারতের গরীব মুখ্যমন্ত্রী কে জানতে চেয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। সঠিক উত্তর এসেছিল মানিক সরকার। তিনি এখনও চপ্পল পায়ে চলাফেরা করেন। চায়ের দোকানে বসে লোকজনের সাথে চা পান করেন। বাংলাদেশে এমন একটি চিত্র কল্পনা করুনতো দেখি। এখানে ছাত্রনেতারাই গাড়ি বাড়ি করেন পড়ালেখা শেষ হওয়ার আগে। সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দিন সাহেব বলেছিলেন,লেখাপড়া না করে মন্ত্রী এমপি হও যায় তাহলে ছাত্ররা পড়বে কেন। লোকে বলে একবার কেউ যদি এমপি হয় তারপর সারা জীবন সে বা তিনি বসে বসে খেতে পারবেন। যে মন্ত্রী বা নেতা উপনেতা যতবেশী খিস্তি খিউর করতে পারবেন তিনি বা তাঁরা নাকি বার বার নমিনেশন পান বা নেতাগিরি করতে পারেন।
স্বাধীন বাংলাদেশে আমি তেমন মুক্ত কোন নির্বাচন দেখিনি। বংগবন্ধু নিজেই এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করে গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিলেন।কেন করেছিলেন তা হয়ত আপনারা ভাল জানেন। তিনি হয়ত মনে করতেন একদলীয় শাসন ব্যবস্থা হলে তিনি জনগণের উন্নতি সাধন করতে পারবেন। বেশ কিছু বামপন্থী নেতা কর্মীরা সেই এক দলীয় ব্যবস্থাকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। এমন কি মহা গণতন্ত্রের দেশ ভারত ও সমর্থন করেছিল। এর পরে বাংলাদেশ কেমন আছে, কেমন চলছে তা আপনারা খুব ভাল জানেন। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারীর বাংলাদেশের নির্বাচনের সুনাম এখন জগতব্যাপী। ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হয়েছেন এবং বহাল তবিয়তে সংসদে বসে আইন বানাচ্ছেন।
সম্প্রতি প্রথম আলোতে কবি সোহরাব হাসনের একটি উপসম্পাদকীয়তে গণতন্ত্র,ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে তিনি নিজের মত প্রকাশ করেছেন। তিনি গণতন্ত্রের স্বার্থে আলোচনার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। শুরুতেই সোহরাব উল্লেখ করেছেন সাংবাদিক জাহিদুল আহসানের সাহসী লেখার কথা। সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে নাকি আওয়ামী লীগ সহ সবদল মিলে লতিফ সিদ্দিকীর নিন্দা করেছে। কারণ সিদ্দিকী সাহেব ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। সনাতন ধর্মের বিরুদ্ধে কিছু বললে নাকি এমন ঐক্য হয়না। এতে জাহিদুল আহসান সাম্প্রদায়িকতার গন্ধ পেয়েছেন। বাংলাদেশে সনাতন ধর্মী সহ সংখ্যালঘুর সংখ্যা দশ ভাগের বেশী নয় নয়। যদি ধরে নিই বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যা এখন ১৬ কোটি। তাহলে সংখ্যালঘুর সংখ্যা এক কোটি ৬০ লাখের মতো। জাহিদ আহসান বলতে পারেন সংখ্যালঘুর সংখ্যা আরও অনেক বেশী। ভারতে সংখ্যালঘুর সংখ্যা ২০/২৫ কোটির মতো হবে। অনেকে বলেন ভারতে ৩০ কোটি মুসলমান আছেন সেখানে বছরে কয়েকশ’ দাংগা হয়।(শৈলেশকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘দাংগার ইতিহাস পড়ুন)। ভারত বা অখন্ড বাংলাদেশ খন্ড হয়েছে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির কারণে। প্রশ্ন হলো এ রাজনীতির লালন পালন করছে কারা? কেন করছে? বাংলাদেশে মাইনরিটির উপর যে অত্যাচার হয় তাও রাজনৈতিক। নিশ্চয়ই এতে ফায়দা হয়। এখানে যারা ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হন তারা সবাই গরীব ও শক্তিহীন। শক্তিমানরাই তাদের উপর অত্যাচার করেন। সনাতন ধর্মের মন্দিরে আক্রমণ করা হয় ইচ্ছাকৃত ভাবে বাংলাদেশের মুখে চুনকালি মাখাবার জন্যে। তবে সরকারী দলিলে দেখা যায় মাইনরিটি বা সনাতনধর্মীরা সরকারী চাকুরীতে রয়েছে বিশ শতাংশের মতো। ভারতে এই সংখ্যা হলো এক শতাংশের মতো। রাজনীতি ও সরকার গুলো যতদিন অসাম্প্রদায়িক না হবে ততদিন এ অবস্থার অবসান হবেনা।
অধ্যাপক পিয়াস করিমের কথাই ধরুন, তিনি সেমিনার ও টকশোতে সরকারের সমালোচনা করতেন। হয়ত তিনি সরকারী চিন্তার বিপরীত চিন্তার লোক ছিলেন। অধ্যাপক হিসাবে তিনি ছাত্রপ্রিয় ছিলেন। তিনি একটি উন্নত পরি্বারের সন্তান। তাঁর স্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। তাঁর লাশ শহীদ মিনারে নেয়ার ব্যাপারে সরকারী দলের সমর্থক কিছু সুবিধাভোগী বিতর্ক তুলেছেন । এতে নেপথ্যে ভুমিকা পালন করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর সাথে রয়েছেন সনাতনপন্থী এদেশের মেজরিটি মানুষের ধর্ম বিরোধী কিছুলোক। তাই তারা নানা অজুহাতে একজন সম্মানিত মানুষের লাশের প্রতি এমন অশ্রদ্ধা দেখাতে সাহস করেছে। এরা সাম্প্রদায়িক, যে কোন অজুহাতে মেজরিটি মানুষের মনে আঘাত দিতে সাহস করে। পিয়াস করিমের মরহুম পিতা নাকি ‘রাজাকার’ ছিলেন। সেজন্যে সন্তানকে শাস্তি ভোগ করতে হবে। সরকারী দলের বা জোটের বহু নেতা ও উপনেতার বাপদাদারা রাজাকার, ডানপন্থি, পাকিস্তানপন্থী, ধর্মপন্থী ছিলেন। তাঁদের সন্তানেরা লাশ দাফন করতে চাননা, জানাজা করতে চাননা, রবীন্দ্র সংগীত গাইতে চান। এমনও শুনতে পাচ্ছি লাশ শ্মশানে নেয়ার জন্যে নাকি অছিয়ত করেন। এসব প্রাণীর জন্যে সরকার ধর্মহীন বিয়ের ব্যবস্থা করেছেন। ধর্মমুক্ত কাজী বা ম্যারেজ রেজিষ্ট্রারের ব্যবস্থা করেছেন। তবে আমি ব্যক্তিগত ভাবে লাশ শহীদ মিনারে নেয়ার পক্ষপাতী নই। এটা অতি সম্প্রতি চালু করা বুদ্ধিজীবীদের শবযাত্রার ব্যবস্থা চালু করেছেন। ধর্মমুক্ত বুদ্ধিজীবীদের জানাজাও বলতে পারেন।সরকার বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা করার দরকার এখন থেকে শহীদ মিনারে(ধর্মহীন/ধর্মমুক্ত মন্দির) শুধুমাত্র সরকারী দল, তাদের অনুগত ও ধর্মহীনদের বেশীর ভাগই বুদ্ধিজীবী) জন্যে খোলা থাকবে।
বাংলাদেশের চলমান সরকার সনাতন ধর্ম বান্ধব বলে দেশবাসী জানে। তবুও ছোট খাট সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটছে কেন? কিছু হলেইতো সরকার দাবী করে বিরোধী দল এসব করছে। পাকিস্তান আমলেও এসব কথা বলা হতো। বৃটিশ আমলে নাকি শাসক গোষ্ঠির ‘ডিভাইড এন্ড রুল’ নীতি নাকি এজন্যে দায়ী ছিল। তাহলে এখনও কেন ভারতে দাংগা হচ্ছে। পাকিস্তানে শিয়া সুন্নী ও কাদিয়ানী দাংগা এখনও হয়। ভারতে সনাতনধর্মীরা শিখ, বৌদ্ধ, জৈন ও খৃষ্টানদের বিরুদ্ধে দাংগা করে। এখনতো ভারতে ধর্মপন্থী রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আছে। আমরাতো জানি ভারত সেক্যুলার( non religious, earthly/worldly,do not believe in after world) রাষ্ট্র। তাহলে এত দাংগা হয় কেন? ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিজীতো দাংগার আসামী।
রাজনীতিতে সমঝোতা, আন্ডারস্ট্যান্ডিং, আলোচনা, দেশের স্বার্থে সকল দলের একমত হওয়া ভদ্র সমাজের কাজ। আমাদের রাজনীতিতে সে সমাজ চিন্তা এখনও গড়ে উঠেনি। বাংলাদেশের অবস্থা দেখে আমি এখন রাষ্ট্রের রূপ নিয়ে গবেষণা করার জন্যে রাষ্ট্র বিজ্ঞানীদের আহ্বান জানাবো। এদেশে রাষ্ট্র নাগরিক বা মানুষের চেয়ে বড়। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নাকি জার সম্রাটদের চাইতেও ক্ষমতাবান। কারণ, সংবিধান প্রধানমন্ত্রীকে সে ক্ষমতা দিয়েছে। তাই তিনি সে ক্ষমতা ভোগ করছেন। সে ক্ষমতা বলেই প্রধানমন্ত্রী ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচন করেছেন। সে ক্ষমতা বলেই তিনি ভোটার বিহীন নির্বাচন করে সরকার গঠণ করে দেশ চালাচ্ছেন। রাষ্ট্রের সকল শক্তিই এখন তাঁর হাতের মুঠোয়। গণতন্ত্রও এখন তাঁর হাতে। তাই সমঝোতার কি প্রয়োজন? তিনি কি সংবিধানের বাইরে কিছু করছেন? এ ধরণের রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সমঝোতার কোন প্রয়োজন হয়না।
ভারত নিজের স্বার্থেই আওয়ামী লীগ ও চলমান ধর্মমুক্ত সরকারকে সমর্থন করে। এটা ভারতের নীতি। তাদের এ নীতির কারণেই ভারত ও অখন্ড বংগ ভাগ হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের ৮০ ভাগ মানুষ ভারত বিরোধী। কিন্তু দল দাসত্বের কারণে তাঁরা অনেক সময় নিজেদের মনের কথা প্রকাশ করতে পারেনা। বাংলাদেশে যদি সামরিক সরকারও থাকে তাহলে ভারতের কি আসে যায়। তারা চায় অনুগত স্বার্থ রক্ষায় অযোগ্য সরকার। তা না হলে এখানে ক্যু ঘটাবে। জেনারেল মঈন তার জ্বলন্ত উদাহরণ। তিনি ছিলেন ভারতের অন্ধ সেবাদাস। তিনি এবং ভারত মিলে ২০০৮ সালের নির্বাচন করেছেন। লক্ষ্য, যে কোন প্রকারেই হোক বংগবন্ধুর কন্যাকে ক্ষমতায় রাখতে হবে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পেছনে ছিল ভারতের গোয়েন্দা ও বাংলাদেশের গোয়েন্দারা। ভারতপ্রেমী বা পন্থীদের আমি অনুরোধ জানাবো দয়া করে বুকে হাত দিয়ে বলুন, বিগত ৪৪ বছরে ভারত বাংলাদেশকে কি দিয়েছে আর কি নিয়েছে। দেখুন পাল্লা কোনদিকে ভারী।
লেখক: কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
ershadmz@gmail.com


সকালবেলা ৯১

আমার বিবির সংসারে কলি নামের একটি মেয়ে আছে/নাই। বেশীদিন হয়নি সে এসেছে এ সংসারে গৃহকর্মী হিসাবে। মেয়েটির মুল নাম জান্নাতুন নাঈম। ওর বড়বেনের নাম জান্নাতুন ফিরদৌস। মায়ের নাম আনওয়ারা বেগম। মেয়ে দুটির নাম শুনে মনে হলো ওর নিকট আত্মীয়ের ভিতর কেউ আরবী শিক্ষিত। তা না হলে এত সুন্দর নাম আমাদের মতো তথাকথিত ইংরেজী শিক্ষিতরাও রাখতে পারেনা।
তাই আমি জানতে চেয়েছিলাম কে নাম রেখেছে? কলি বললো ওর নানা। তিনি আরবী শিক্ষিত খোন্দকার। এলাকার লোকজনকে তাবিজ তুমার পানি পড়া দেন। বিনিময়ে টাকা পয়সা গ্রহণ করেন না।
কলির বাবার নাম কামালদুদ্দিন। আনওয়ারা বেগমকে ত্যাগ( তালাক নয়) করে চলে গেছেন ১০/১২ বছর আগে। এরপর থেকে আনওয়ারা বেগম থাকেন বাপের বাড়িতে একজন আশ্রিত হিসাবে। মেয়ে দুটো ৬/৭ বছর হতেই অন্যের বাড়িতে কাজ করে। আনওয়ারাও নানা ধরণের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে।
আমার বিবির সংসারে আসার পর কলি বেশ বড়সড় হয়েছে। যখন এসেছে তখন দেখতে ৬/৭ বছর মনে হয়েছে পুষ্টির অভাবে।
অভাব অনটনে বড় হওয়ার কারণে কলির নানা বিষয়ে আগ্রহ। টিভি দেখে দেখে নানা ধরণের জিনিষ কিনতে চায়। কিন্তু সে জানেনা বা বুঝেনা বা বুঝতে চায়না সে গরীব, ভাল কোন জিনিষের অযোগ্য। বুঝলে খুব ভাল হতো। মোবাইলে কথা বলতে খুবই আগ্রহী। সুযোগ পেলেই অন্যের ফোন দিয়ে লুকিয়ে কথা বলে। যা আমার বেগম সাহেবা বা বিবিজান একেবারেই পছন্দ করেননা। কাজের ব্যাপরেও আমার বিবির মতে আগ্রহ কম। আরেকটা দোষ সে মুখে মুখে কথা বলে। যা তার মনিবের একেবারেই পছন্দ নয়। তিনি মুখে মুখে কথা বলার ঘোর বিরোধী। সারাদিন কথা বলেনা এমন কাজের মেয়ে তাঁর খুব পছন্দ। বিবিজানের মা এক জমিদার কন্যা। তিনি ও হয়ত কাজের মেয়েদের ব্যাপারে খুব কঠোর ছিলেন। তবে তিনি খুব দয়ালু ছিলেন। আমার বিবিরও তেমন দয়া আছে। তবে যারা কথা বলেনা তাদের প্রতি তাঁর দয়া বেশী।
কলির সমস্যা সে কথা না বলে থাকতে পারেনা
আমার বিবির চিন্তা চেতনায় আমি ব্রাত্যজন। সাধারন পরিবারের ছেলে। তাঁর খানদান খুবই উঁচু দরের। হয়ত হবে। আমি সংসারী নই, তাই এসব ব্যাপারে মাথা ঘামাইনা। বরং আমার খুব ভাল লাগে। সংসারে পরাধীনতা খুবই পছন্দ। ঘরে থাকলে আমি কোন কথা বলিনা। বই পড়ি, গজল, সুফী সংগীত শুনি। কম্পিউটারে আমার ৩/৪ ঘন্টা সময় কাটে। যৌবনে মাসে এক/দুইবার চিত্‍কার করতাম। এখন তেমন করিনা। হয়ত বছরে দুয়েকবার। পরাধীন থাকার ফলে মাঝে প্রণীদের মতো ঘেউ ঘেউ করি। আবার শান্ত হয়ে যাই ৬/৭ মাসের জন্যে।
হাজী মহসিনের একটি গল্প আমার খুবই প্রিয়। একবার এক চোর হাজী মহসিনের বাড়িতে চুরি করতে এসে ধরা পড়ে যায়। কিন্তু হাজী সাহেব বললেন, কেঁদোনা। জানতে চাইলেন, তুমি কি চুরি করতে এসেছিলে। চোরটি কিছুই বলেনা। শুধু কাঁদতে থাকে। হাজী সাহেব বললেন, তুমি প্রতিদিন এসো , যা লাগে নিয়ে যেও। তখন চোর বললো, না চুরি করতে আসিনি। মাঝরাতে লুকিয়ে আপনাকে দেখতে এসেছি। দিনের বেলা লোকজন দেখা করতে দেয়না। তুমি আমার এখানে থাকবে? তাহলে সারাক্ষণ আমাকে দেখতে পারে। ওই লোকটা বাকি জীবন হাজী মহসিনের কাছেই ছিলো।
আমাদের রাসুল(সা) বলেছেন, তোমরা তোমাদের অধস্তনদের ব্যাপারে হুঁশিয়ার থেকো। আখেরাতে ওরাই তোমাদের জাহান্নামের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে তিনি গৃহকর্মীদের কথা বলেছেন। আমরাতো ঘটা করে নামাজ পড়ি, রোজা রাখি, কপালে নামাজের দাগ ফেলি। কথায় কথায় ধর্মের কথা বলি। পরকে উপদেশ দেই। কিন্তু ক’জন রাসুলের(সা) এ উপদেশ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। গৃহকর্মীর কারণেই আমরা জাহান্নামে যাবো।
আদবে রাসুল(সা) বইটি পড়ার জন্যে সবাইকে অনুরোধ করছি। হে আল্লাহর গোলাম ও রাসুলের(সা) উম্মতগণ, তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে নিজেদের রক্ষা করো। আল্লাপাকের প্রধানতম গূণ হচ্ছে দয়া। তোমার দয়াবান হও।


বাংলাদেশে ধর্ম বিশ্বাস ও রাজনীতি / এরশাদ মজুমদার

চলমান সরকারের দল, নেতা ও কর্মীদের ধর্মনীতি হলো ‘ ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’। এই নীতি ও শ্লোগানটি খুবই আকর্ষণীয়। শুনতে ভাল লাগে। এই সরকারের আরেকটি খুবই মূল্যবান নীতি হলো‘জনগণই সার্বভৌম’। সংবিধান নাগরিকের সকল অধিকার নিয়ন্ত্রণ করবে বা পরিচালনা করবে। বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমান। বাকি ১০ ভাগ অন্যান্য ধর্ম বা রীতিতে বিশ্বাস করেন। যাঁরা সত্যিকারেই ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করেন এবং মুসলমান হিসাবে পরিচিত তাঁরা সকলেই আল্লাহপাকের সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করেন। আমাদের সংবিধান যেহেতু আল্লাহ/ ভগবান/ঈশ্বরের সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করেনা সেহেতু আইনের দৃষ্টিতে একজন মুসলমান বা একেশ্বরবাদী অপরাধী সাব্যস্ত হতে পারে। বৃটেনের রাষ্ট্রীয় ধর্ম প্রটেস্ট্যান্ট খৃষ্টবাদ। বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান বিচারপতি হতে হলে একজন নাগরিককে বৃটেনের সরকারী ধর্মে বিশ্বাসী হতে হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ব্লেয়ার সাহেব ছিলেন ক্যাথলিক। কিন্তু রাজনীতি করার জন্যে প্রটেস্ট্যান্ট হয়ে গিয়েছিলেন। কারণে বৃটেনে রাজনীতি করতে হলে সরকারী বা রাজার ধর্ম মানতে হবে। যদিও এরা কেউই মূল খৃষ্ট বাদে বিশ্বাস করেন না। খৃষ্টবাদ ও বাইবেল ও তৌরাত যদি বিকৃত না হতো তাহলে জগতে আল্লাহপাক সর্বশেষ কিতাব আলকোরআন নাজিল করতেননা।আধুনিক মহাগণতান্ত্রিক ভারত ১৯৭৬ সালে তথাকথিত সেক্যুলাজিম(ধর্মহীনতার ) নামাবলী পরেছে। আর এখন ক্ষমতায় আছে ধর্মবাদী দল বিজেপি। এরাই কল্পিত রাম মন্দিরের কথা বলে সরকারের সহযগিতায় বাবর মসজিদকে চুরমার করেছে। বিশ্বের কোন ইসলামিক দল ভিন ধর্মের মন্দির, গীর্জা, অগ্নিমন্দির বা সিনাগগ ভেংগেছে এমন কোন প্রমান কারো কাছে নেই। ভারতে দাংগার ইতিহাস পড়ুন। বিগত ৪৪ বছরে ভারতে কয়েক হাজার দাংগা হয়েছে ধর্মীয় কারণে। এতে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুসলমানেরা। মোদির বিরুদ্ধে দাংগায় সরাসরি দাংগার অভিযোগ থাকা সত্বেও ভারতবাসী বিজেপিকে নির্বাচিত করেছে। আর মোদিজী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। সেক্যুলার কংগ্রেসের ভন্ডামী থেকে মুক্তি লাভের জন্যেই ভারতবাসী বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন বলে গবেষকরা বলছেন।
বাংলাদেশও রাজনৈতিক ধোকাবাজীর জন্যে সেক্যুলারিজমের জোব্বা পরিধান করেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতেও সনাতন ধর্মীদের বাড়িতে আগুন দেয়া হয় ও মন্দির ভাংগা হয়। অভিযুক্ত করা হয় ধর্মীয় দল ও আওয়ামী বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে। যেমন ১৯৪৬ সালের মহাদাংগায় অভিযোগের আংগুল তোলা হয়েছিল বংগবন্ধু ও সোহরাওয়ার্দাীর সাহেবের বিরুদ্ধে। ৪৬এর দাংগায়ও মুসলমানেরা সবচেয়ে বেশী নিহত হয়েছে।
আমেরিকার রাষ্ট্রীয় ধর্ম ক্যাথলিক খৃষ্টবাদ। ওবামার বাপদাদারা মুসলমান ছিলেন, এই নিয়ে আমেরিকানরা কম হৈচৈ করেনি। ওবামা বেচারা শেষ পর্যন্ত নিজের নামের সাথে হুসেন শব্দ ব্যবহার করা ত্যাগ করেছেন।বৃটেন আমেরিকা সহ বহু পশ্চিমা দেশে বাইবেল হাতে নিয়ে শপথ গ্রহণ করেন। আমেরিকার ডলারে বা বৃটেনের পাউন্ডে রানী বা প্রেসিডেন্টের ছবি থাকে। লেখা থাকে ‘ইন গড উই ট্রাষ্ট’। বাংলাদেশে রাজার ক্ষমতা সম্পন্ন নেতারা সংবিধান মোতাবেক আল্লাহর অস্তিত্ব মানতে বাধ্য নন।
ভারতের বিকৃত ও পরিবর্তিত ও ভুলে যাওয়া সনাতন ধর্মে এক শ্রেণীর মানুষকে অর্ধমানব হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। ভারতীয় রাজনীতিতে ও সংবিধানে সব মানুষকে সম মর্যাদা দেয়া হয়েছে। কিন্তু বিকৃত প্রচলিত ধর্মরীতিতে তাঁদের অর্ধমানব, অচ্যুত বা হরিজন বলা হয়। গান্ধীজী আদর করে ওদের নাম দিয়েছেন হরিজন মানে ইশ্বরের লোক বা জন। বাংলাদেশে ৯০ ভাগ মানুষ ইসলামে বিশ্বাসী বলে হরিজন/অচ্যুত প্রথা মুসলমানদের ভিতর নেই। তবুও কিছু হরিজন আছেন যাঁরা বিকৃত সনাতন ধর্মে বিশ্বাস করেন। আপনাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে ভারতে আর্য আগমনের পূর্বে এখানকার সব মানুষ সম মর্যাদার ছিলেন। সবাই নিরাকার একেশ্বর বাদে বিশ্বাস করতেন। মুর্তি পূজা বা বহু ইশ্বরের কোন অস্তিত্ব ছিলনা। কোথাও কোন মুর্তি ছিলনা। আর্যরা বহিরাগত বিজয়ী, তাই তাঁদের ধর্ম, ভাষা,রীতিনীতি ,আচার ব্যবহার চালু করেছে পরাজিতদের ভিতর।
বাংলাদেশে আমরা মানে মুসলমানেরা মসজিদে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে, নামাজে সারাদিনে বহুবার ‘আল্লাহু আকবর’( আল্লাহই সর্বশক্তিমান বা আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ) উচ্চারণ করে থাকি। এটা মুসলমানদের জন্যে বাধ্যতামূলক। কিন্তু নাগরিক জীবনে সংবিধান মোতাবেক বলতে হবে ‘জনগণ হু আকবর’ বা জনগণই সার্বভোম। নাগরিক জীবনে আপনার জন্যে বা মুসলমানদের জন্যে সংবিধানের অবস্থান আল্লাহর কিতাব পবিত্র আলকোরআনের উপরে(নাউজুবিল্লাহ)। আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন। আমাদের সংবিধান মোতাবেক দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আমি ‘জনগণ সার্বভৌম’, ‘সংবিধান সার্বভৌম’বলতে বাধ্য।
বাংলাদেশে ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমান হলেও ইসলামী নিয়ম কানুন, আচার বিচার, কালচার মানতে বাধ্য নই। এটা নাকি ব্যক্তিগত ব্যাপার। এদেশে ধর্ম মানাটা ঐচ্ছিক। নামাজ, রোজা বা ধর্মীয় আইন কানুন জারী রাখার ব্যাপারে রাষ্ট্র বা সংবিধান সেক্যুলার( ধর্মহীন)। বাংলাদেশে আরবী নামধারী মুসলমান নেতা বা মন্ত্রীরা পূজামন্ডপে গিয়ে দেবীর দর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন ‘ দেবী এবার নৌকায় এসেছেন,তাই ফসল ভাল হবে। এর মানে তিনি এটা বিশ্বাস করেন। অথবা রাজনৈতিক কারণে নেতারা এমন কথা বলে থাকেন। আমাদের দেশের তথাকথিত সেক্যুলার আরবী নামধারী নেতারা ছবির সামনে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন এবং ছবির গলায় বা ছবির বেদীতে ফুল দিয়া সম্মান প্রদর্শন করেন। ওই ছবির সামনে দাঁড়িয়ে মুনাজাতের মতো করে হাত তুলে ঠোট নাড়েন। রাজনীতিতে সত্য বা মিথ্যা হচ্ছে কৌশল। এখানে আদর্শ, নীতি বা ধর্মীয় বিষয়টা কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। মইন-ফখরুদ্দিন সরকারের সময় একজন ধর্মমন্ত্রী ছিলেন যিনি ব্যক্তিগত জীবনে ধর্ম মানতেন না। ধর্মবিরোধী ছিলেন। এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ধর্ম বিষয়ে জ্ঞানী কোন মানুষকে ধর্মমন্ত্রী করা হয়নি। বরং অযোগ্য লোককেই ধর্মমন্ত্রী করা হয়েছে।
মানুষের ধর্ম বিশ্বাস ও অধিকারকে জাতিসংঘ সনদ স্বীকৃতি দিয়েছে। বিশ্বের সকল দেশেই নাগরিকদের ধর্ম মানার অধিকার আছে। পরধর্মকে নিন্দা বা আঘাত করার অধিকার কারোই নেই। মুসলমান হিসাবে আপনার প্রতিবেশী অন্যধর্মের মানুষও আপনার ভাই। তাঁকে ভুখা বা অভুক্ত রেখে আপনি যদি খান তাহলে আপনি মুসলমান নন। প্রতিবেশীকে রক্ষা করাও একজন মুসলমানের দায়িত্ব। কিন্তু যদি ইসলামের এই নীতি পালন না করেন তাহলে তাঁর মতো মুসলমানের ইসলামে প্রয়োজন নেই। জগতে কোটি কোটি মন্দ মুসলমান আছে। এজন্যে ইসলামকে দায়ী করা অন্যায় হবে। কিন্তু চলমান বিশ্ব ব্যবস্থা দেখে মনে হচ্ছে মুসলমানেরাই একমাত্র মন্দ জাতি। এমনি একটি অবস্থা ও পরিবেশে বাংলাদেশের আবদুল লতিফ(অনুগ্রহকারীর দাস) নামের একজন মন্ত্রী সদর্পে পবিত্র হজ্জ্ব, রাসুল(সা) ও তাবলীগ ব্যবস্থা কটুক্তি করেছেন। এই ভদ্রলোকের নামের ‘সিদ্দিকী’ শব্দটি ব্যবহার করলামনা। কারণ তিনি একজন সিদ্দিকী একথা ভাবতে আমার কষ্ট হচ্ছে। তাঁর আব্বাজানকে এলাকার মানুষ ছিদ্দিক মোক্তার সাহেব হিসাবেই চিনে। তািনি একজন ডাক সাইটে আইনজীবী ছিলেন। তাঁর সন্তানেরা কিভাবে সিদ্দিকী হলেন তা এলাকার মানুষ জানেন না। কোরায়েশ বংশের মান্যগণ্য অনেক নেতাই কাফের ও মোনাফিক ছিলেন। তাঁরাই রাসুলকে(সা) সবচেয়ে বেশী কষ্ট দিয়েছেন। এমন কি হুজুরের(সা) আপন চাচা আবু তালেব সাহেবও ইসলাম ধর্ম গ্রণ করেননি। কিন্তু তিনি সারাজীবন রাসুলকে(সা) সাহায্য ও নিরাপত্তা দান করেন। হুজুর(সা) বিয়ের আগ পর্যন্ত আবু তালিকের ঘরেই ছিলেন। ইসলামী আন্দোলনের প্রথম সিদ্দিকী হলেন হজরত আবু বকর(রা)। আল্লাহর রাসুলই (সা) তাঁকে সিদ্দিকী উপাধি দিয়েছেন। হজরত আবু বকর সিদ্দিকী বয়স্ক পুরুষদের ভিতর প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী। তিনিই হুজুরের(সা) মেরাজের প্রথম স্বীকৃতিদানকারী ও সত্যায়নকারী। তিনি তাঁর সকল সম্পদই ইসলামের জন্যে দান করেছিলেন। আল্লাহর রাসুল(সা) জানতে চেয়েছিলেন, ঘরে কিছু রেখে এসেছেন কিনা? উত্তরে হজরত আবু বকর(রা) বলেছেন, আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুল(সা)কে ঘরে রেখে এসেছি। তিনি ইসলামের প্রথম খলিফা । রাসুল(সা) এর পরে তিনিই আল্লাহপাকের সাহায্যে ইসলামকে রক্ষা করেছেন।
বিতাড়িত মন্ত্রী আবদুল লতিফ কেমন করে সিদ্দিকী হলেন? যেহেতু তিনি একজন রাজনীতিক সেহেতু দেশবাসীর জানার অধিকার আছে তিনি কেমন করে সিদ্দিকী হলেন। কেনই বা হলেন? তাঁর বাবাও কেমন করে সিদ্দিকী হলেন? নাম সিদ্দিক হলেই কি কেউ সিদ্দিকী শব্দটি লিখতে পারেন? এই ব্যক্তি ইতোমধ্যেই ধর্মত্যাগী হয়ে গেছেন। রাসুল(সা ) নামের সাথে দরুদ পাঠ করা সকল মুসলমানের জন্যে বাধাতমূলক। আল্লাহপাক বলেন,‘ ইন্নাল্লাহা ও মালায়েকাতাহু ইয়ুসাল্লুনা আলান্নাবীয়ি। ইয়া আইয়ুহাল্লাযিনা আমানু সাল্লু আলাইহে ওয়া সাল্লেমু তাসলিমা।’(সুরা আহযাব, আয়াত ৫৬)। বাংলা তরজমা ‘নি:সন্দেহে আল্লাহ তা’আলা এবং তাঁর ফেরেশতাগণ রহমত বর্যণ করেন সেই পয়গম্বরের প্রতি । হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি প্রচুর দরুদ শরীফ পাঠ কর এবং প্রচুর সালাম পেশ করো’। প্রিয় পাঠকগণ, আপনারা হৃদয় দিয়ে অনুধাবন করুন,রাসুল(সা) এর মর্যাদা আল্লাহপাকের কাছে কোন স্তরের। আমাদের প্রিয় রাসুলকে(সা) আল্লাহপাক নিজেই বলেছেন, রাসুল(সা) হচ্ছেন জগতের জন্যে রহমত স্বরূপ। তিনি সকল নবী রাসুলের ইমাম। আপনি যদি কালেমা ‘ লা ইলাহা ইল্লা আল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ(সা) বলে ঈমান এনে থাকেন তাহলে কোরআন ও রাসুল(সা)কে মান্য করা আপনার জন্যে বাধ্যতামূলক। আল্লাহ বলেছেন, তোমরা আমার রাসুলকে(সা) অনুসরণ করো,তাহলেই আমাকে মানা হবে। আমার রাসুলকে(সা) ভালবাস, তাহলে আমাকে ভালবাসা হবে। বিবি আয়েশা বলেছেন, তোমরা নবীজীকে অনুসরণ করো, তাহলেই কোরআনকে অনুসরণ করা হবে।
এছাড়াও জগতের মণিষীরা বলেছেন যে, মুহাম্মদ(সা) জগতের সর্বশ্রষ্ঠ মানব। টমাস কারলাইল ১৮৪০ সালে ১২ ঘন্টা ব্যাপী নবীজীর(সা) উপর যে ভাষণ দিয়েছেন তা পড়ুন। ‘ হজরত মোহাম্মদ তাঁর প্রতিপালকের নিকট থেকে জ্ঞানগর্ভ শরীয়ত লাভ করেন। আমি নিজে সূর্যের মতো আলোকিত হচ্ছি তার দ্বারা ।’( সামবেদ,পুরকার্যক-২,দুরশতি ৬, মন্ত্র ৮ )। মহাঋষি ব্যাসজীর লিখিত ভবিষ্য পুরাণ উল্লেখ করেছেন যে, একজন ম্লেচ্ছ এক অজানা দেশ থেকে আসবেন এবং তার ভাষাও কারো জানা থাকবেনা। তিনি হবেন আত্মা পবিত্রকরণে দক্ষ। তিনি তাঁর সাথীদের সমভিব্যবহারে আসবেন, তাঁর নাম হবে মুহাম্মদ। রাজা ভুজ সেই মহাদেবতা ফেরেশতাদের মত উত্তম চরিত্রের আদর্শ ব্যক্তিকে গংগার মোহনার পানি দিয়ে গোসল করিয়ে অর্থাত্‍ সকল পাপ থেকে পাক পবিত্র করেছেন। তিনি তাঁর অন্তরের সমস্ত ভক্তি শ্রদ্ধা এবং উপঢৌকনাদি দিয়ে তাকে সম্মানিত করেছেন এবং বলেছেন এবং বলেছেন আমি আপনার সামনে মাথা নত করে দিলাম। ‘ হে বিশ্ব বরেণ্য নেতা , মান জাতির গৌরব, আরবের অধিবাসী শয়তান ও শয়তানী শক্তিকে ধ্বংস করার জন্যে শক্তি সংগ্রহকারী, ম্লেচ্ছ দুশমন থেকে রক্ষাপ্রাপ্ত, হে পবিত্র সত্তা, সকল দিক থেকে পাক পবিত্র সত্তা, পুর্ণাংগ নেতার বাস্তব প্রতিমূর্তি! আমি আপনার অধম এক সেবক। আমাকে আশ্রয় দিন এবং আপনার পদরলে লুটিয়ে পড়া এক ব্যক্তি হিসাবে জেনে নিন।’(বিষ্ণুপুরাণ, প্রকাশক: ভেকটিশোর প্রেস, বোম্বে,প্রতিমগবর, ৩য়খন্ড, শ্লোক ৫-২৭)। এছাড়া যবুর, তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাবেও রাসুলু্ল্লাহর(সা) আগমণ বাণী ঘোষিত হয়েছে। আল্লাপাক অতীতের সকল বিকৃত কিতাবকে শুদ্ধ করে শেষ নবী ও রাসুলের(সা) মাধ্যমে জগতবাসীর জন্যে শেষ কিতাব হিসাবে প্রেরণ করেছেন। বিতাড়িত ধর্মত্যাগী মন্ত্রী জগতের আলো নবীজীকে কোন প্রকার সম্মান না দেখিয়ে বলেছেন, আরবের আবদুল্লাহ পুত্র মুহাম্মদ। একই সাথে এই বিতাড়িত মন্ত্রী পবিত্র হজ্ব নিয়ে কটুক্ত করেছেন। নবীজীকে আল্লাহপাকের নির্দেশ মোতাবেক সম্মান না করলে সেই লোকের মুসলমান থাকার কোন অধিকার আছে কিনা?
বাইশ নম্বর সুরা আল হাজ্বের ২৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহপাক বলেন,‘ হে নবী, স্মরণ করো,যখন আমি ইব্রাহীমকে এ ঘর(কাবা) নির্মানের জন্যে স্থান ঠিক করে দিয়েছিলাম(তখন তাকে নির্দেশ দিয়েছিলাম), আমার সাথে অন্য কিছুকে শরীক করোনা, আমার এ ঘর তাদের জন্যে পবিত্র রেখো যারা এর তাওয়াফ করবে,যারা এখানে নামাজের জন্যে দাঁড়াবে রুকু করবে ও সাজদা করবে। আয়াত ২৭শে আল্লাহপাক বলেন, তাকে মানে (হজরত ইবরাহীমকে ) আদেশ দিয়েছিলাম তুমি মানুষদের মাঝে হজ্বের ঘোষণা করে দাও। কালামে পাকে পবিত্র কাবা ঘর ও হাজ্ব সম্পর্কে আরও অনেক আয়াতে বর্ণনা রয়েছে। এখন আপনারাই বিবেচনা করুন কাবা, হাজ্ব, কোরবাণী, তাওয়াফ না বিশ্বাস করলে কারো পক্ষে মুসলমান থাকা যায় কিনা?
নিন্দিত ও বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন ইসলাম ও মুসলমানদের সম্পর্কে কটুক্তি করে শেষ পর্যন্ত সনাতন মুর্তপুজক ভারতে আশ্রিতা হিসাবে বসবাস করছেন। ইসলামের বিরুদ্ধ কথা বলে তিনি ভারত সহ পশ্চিমা দেশ গুলোতে আদর যত্ন পেয়েছেন। এখন সবাই তাঁকে পরিহার করতে শুরু করেছেন। এই তাসলিমা বিতাড়িত মন্ত্রীকে সমর্থন করেছেন। তথাকথিত উদার গণতন্ত্রী ভারত কয়েক মাস আগে সনাতন ধর্ম সম্পর্কে লিখিত একটি গবেষণা পুস্তক নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। কিন্তু তসলিমার বই লাখ লাখ কপি ছাপিয়ে বিলি করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বিতাড়িত মন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছেন এখন দেশে ফিরে না আসার জন্যে। আসলে নাকি ইসলামিষ্টরা নাকি নিরাপত্তা সৃষ্টি করতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় মনে হচ্ছে বিতাড়িত মন্ত্রীর কটুক্তিতে শুধুমাত্র ইসলামিষ্টরাই ক্ষুব্দ হয়েছে। সারা দেশবাসী মানে মুসলমানেরা এতে ক্ষুব্দ হয়নি। তিনি হয়ত আওয়ামী রাজনীতির দৃষ্টিতে বিষয়টি দেখছেন। শুরুতেই বলেছি বাংলাদেশের রাজনীতি এখন সুবিধাবাদ। ভোটার যদি চায় তাহলে হিজাব পরে চলতে হবে। ভোটার যদি চায় তাহলে দূর্গাকে প্রণাম করা যাবে। ধর্মহীনরা যদি বলে সংবিধান থেকে আল্লাহর নাম বাদ দিন, ভোটারের সন্তুষ্টির জন্যে তাও করা যাবে। সব কথার আসল কথা হলো ভোটার হলো দেবতা। যে ফুলে দেবতা তুষ্ট হয় সেই ফুল দিয়ে বন্দনা করতে হবে। যারা ভোটারদের তুষ্ট করতে জানেনা বা বহুরূপী হতে পারেনা তাদের বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার থাকবেনা। এমন একটি হৃদয় বিদারক ঘটনার পরও ওই ধর্মত্যাগীকে কোন রকম শাস্তি দেওয়া হয়নি। দল বা সরকার জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়নি। এমন হৃদয় বিদারক ঘটনা না করেও একজন মন্ত্রী কেবিনেট থেকে বাদ পড়তে পারেন। মন্ত্রীত্ব থেকে বরখাস্ত হওয়া কোন ধরণের শাস্তি হতে পারেনা।
লেখক: কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
http://www.humannewspaper.wordpress.com


বাংলাদেশের জনসংখ্যা যদি ১৬ কোটি হয় তাহলে নারীর সংখ্যা হয়ত ৮কোটি। শিক্ষিত নাগরিকের সংখ্যা হয়ত এখন চার কোটির মতো। দস্তখত করতে পারেন এমন নাগরিকের সংখ্যা হয়ত ছয়কোটি। এর ভিতর নারীর সংখ্যা দুই কোটি হবে। শিক্ষিত বা উচ্চ শিক্ষিত নারীর সংখ্যা হয়ত এক কোটির মতো। এর মানে হচ্ছে মোট জনসংখ্যার ষোল ভাগের এক ভাগ।


যিনি বা যাঁরা বিজয়ী তাঁর বা তাঁদের ইতিহাস বা গৌরব গাঁথা লেখেন কবি সাহিত্যিক ও ইতিহাস বিদগণ। রাজা বাদশাহরা যা বলেন বা নির্দেশ দেন তাই রচনা করেন তাঁরা। যেমন ধরুন, আর্যরা ভারতের মূল বাসিন্দা নন। আমরা জানি তাঁরা বহিরাগত। যদিও প্রখ্যাত বিজেপি ঐতিহাসিক ভগবান গিদওয়ানী মনে করেন আর্যরা ভারতীয়। আজ থেকে ৫ হাজার বছর আগে বিশ্ব বিজয়ে তাঁরা বাইরে গিয়েছিলেন। আবার তিন হাজার বছর আগে স্বদেশে ফিরে এসেছেন। ভারতীয় ধর্মের মূল স্রষ্টা হলেন আর্য ঋষিগণ। তাঁরাই রচনা করেছেন বেদ উপনিষদ। তাঁরাই রচনা করেছেন রামায়ন মহাভারত। কিন্তু বিশ্ব ইতিহাস বলে আর্যরা বিদেশী। তারা ভারতে এসেছেন বিজয়ী হিসাবে দেশ শাসন ও ধর্ম প্রচারের জন্যে। তখন আর্যদের চেয়ে ভারতবাসী অনেক অগ্রসরমান ছিলেন। তাঁরা কৃষিকাজ ও গো পালন জানতেন। তাঁরা যুথবদ্ধ হয়ে গৃহ নির্মাণ করে বসবাস করতেন। কৃষি ও গো পালনই ছিল তাঁদের প্রধান পেশা।
দেবতা ও রাজা রাম ছিলেন আর্য প্রতিনিধি। তিনি ভুমিপুত্র রাবণ সহ আরও অনেক দেশীয় দেশপ্রেমিক রাজাকে অসুর আখ্যায়িত করে পরাজিত করে হত্যা করেন। বিজয়ী রাম ও তাঁর সহযোগীদের কাহিনীই হলো রামায়ন। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন রামের জন্ম কবির মনোভুমিতে। এমন কোন মানুষ ভারতে কখনই ছিলনা। এই কল্পমানবকে নিয়েই ভারতবাসী আজ গর্বিত ও গৌরবান্বিত। কিন্তু চিন্তার জগতে ভারত আজও দ্বিধা বিভক্ত। ভারতের দক্ষিণে ও শ্রীলংকায় রাবণকে বীর হিসাবে পূজা করা হয়। রামায়ন ও মহাভারত বিজয়ীদের প্রশমসায় রচিত মহাকাব্য। এসব হচ্ছে মূল ভারতবাসীকে হেয় করার কাহিণী। কালক্রমে আর্যদের ঋষিদের প্রভাবে ও প্রচারণায় প্রায়ই ধর্মগ্রন্থের মর্যাদা লাভ করেছে। ভারত বহু ভাষা ও জাতির দেশ। আর্যদের ভাষা ছিল সংস্কৃত। তাঁদের ধর্মীয় পুস্তক ও কাব্য গুলো রচিত হয়েছে সংস্কৃত ভাষায়। এই আর্য ঋষিরাই ভারতে ধর্মীয় ও সামাজিক বর্ণবাদ তৈরি করেছে নিজেদের শাসন ও প্রভাবকে চিরস্থায়ী করার জন্যে। তাঁরাই অর্ধমানব নামের অচ্যুত বা অস্পৃশ্য মানুষ তৈরি করেছে, যা আজই ভারতে বহাল রয়েছে। বলা হয় ভারতে এখন ৩০ কোটি অচ্যুত মানুষ রয়েছে। মানবিক,আধুনিক,বিজ্ঞানমনস্ক ভারত গ্রহে যাচ্ছে কিন্তু ৩০ কোটি মানুষকে মানুষ হিসাবে স্বীকার করেনা।
আধুনিক ভারত বলে কথিত দেশের নেতারা বিদেশী আর্যদের নিজেদের নেতা, ধর্মনেতা ও পূজনীয় হিসাবে গ্রহণ করেছেন। তাঁদের দর্শণকে নিজেদের দর্শণ বলে প্রচার করছেন। কিন্তু এক হাজার বছর আগে ধর্ম প্রচারের জন্যে ভারতে আসা ও এখানে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী মুসলমানদের নিজেদের আপনজন ভাবতে পারেনা। এর কারণ কিন্তু ভারতের সাধারণ মানুষ নয়। আর্য ঋষিরা আসলেই নিজেদের প্রভুত্বকে চিরস্থায়ী ভাবে জারি রাখার জন্যেই নতুন মানবিক সকল ধর্মকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ভারতেই জন্ম অন্যান্য ধর্ম বা দর্শনকে আর্যরা গ্রহন করেনি এবং নানা ধরণের অত্যাচার করে প্রতিহত করেছে। তাঁরা বৌদ্ধ, জৈণ, শিখ, কবির নানক সবাইকে প্রতহত করেছে। বৌদ্ধদের নির্মুল করার জন্যে লাখ লাখ বৌদ্ধকে হত্যা করেছে। হাজার বছর পরেও ভারতের নেতারা ইসলাম ও মুসলমানদের ভারত থেকে বিতাড়িত করতে চায়। মুসলমানরা নাকি বিদেশী। তাহলে আর্য বা আর্য ধর্মের কি হবে? আর্য ধর্মপুস্তকের কি হবে? আপনাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে হিন্দু ধর্ম নামে জগতে কোন ধর্ম নেই, অতীতেও ছিলনা। ভারতে এখনও এক ধর্ম নেই, এক জাতিও নেই। হিন্দু একটি ভৌগলিক অঞ্চল বা এলাকার নাম। বিদেশীরা এই এলাকাকে হিন্দুস্তান বলে অভিহিত করতো। হয়ত সিন্ধুনদী বা হিন্দুকুশ পর্বতের কারণে এই অঞ্চলকে হিন্দুস্তান বলতো। ইংরেজরা বা ইউরোপের লোকরা ইন্ডিয়া বলে অভিহিত করেছে। আবার অনেকেই মনে করেন রাজা ভরতের নামানুসারে অযোধ্যাকে ভারত নামে অভিহিত করা হয়েছে। ভারতের মূল ইতিহাসেই গলদ রয়েছে। আর্য রাজা, মহারাজা ও ঋষিরা মূল ভারতীয়দের ইতিহাসকে মুছে দিয়েছে।
ইসলাম ভারতে এসে ধর্মীয় ভেদ আর বর্ণবাদের কারণে যারা হাজার হাজার বছর ধরে নির্যাতিত ও অবহেলিত ছিল তাদের মানুষের মর্যাদা দিয়েছে। দাসকে বাদশাহ ও সেনাপতি বানিয়েছে।মুসলমান ঋষি, দরবেশ, সুফী ও বিজ্ঞানীরা ভারতকে আধুনিক হতে সাহায্য করেছে। আজ যে আধুনিক ভারত আপনারা দেখছেন তার ভিত্তি তৈরি করেছেন মুসলমান বাদশাহ ও জ্ঞানীরা। আর্য ঋষি ও জ্ঞানীরা ছিলেন রাজাদের অনুগত। তাঁদের সব জ্ঞানই ছিল রাজার জন্যে। কেমন করে রাজারা সাধারন মানুষকে শোষণ তার মন্ত্র শিক্ষা দিতেন ঋষিরা। ইসলাম এসেই সব মানুষকে জানিয়ে দিল মানুষ আল্লাহ বা স্রষ্টার প্রতিনিধি। আল্লাহর চোখে সব মানুষই সমান। সবার সমান অধিকার। সবাই শুধু আল্লাহকে সেজদা করবে। আল্লাহর আইন মেনে চলবে।
গুরু নানক বলেছেন,“বেদ পুরাণের যুগ চলে গেছে। এখন দুনিয়াকে পরিচালিত করবে একমাত্র কুরআন। মানুষ ্যে অবিরত অস্থির এবং নরকে যায় তার একমাত্র কারণ এই যে , ইসলামের নবীর প্রতি তাদের কোন শ্রদ্ধা নেই।”
নেহেরুজী বলেছেন, “হজরত মুহম্মদের(সা) প্রচারিত ধর্ম এর সততা, সরলতা, ন্যায়নিষ্ঠা এবং বৈপ্লবিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, সমতা ও ন্যায়নীতি পার্শবর্তী রাজ্যের লোকদের অনুপ্রাণিত করে। কারণ ঐ সমস্ত রাজ্যের জনসাধারন দীর্ঘদিন যাবত একদিকে শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক নিপীড়িত, শোষিতও নির্যাতিত হচ্ছিল। তাদের কাছে ইসলাম বা মুহম্মদের নতুন ব্যবস্থা ছিল মুক্তির দিশারী।”
গান্ধীজী বলেছেন, “প্রতীচ্য যখন অন্ধকারে নিমজ্জিত ,প্রাচ্যের আকাশে তখন উদিত হলো উজ্জ্বল নযত্র এবং আর্ত পৃথিবীকে তা দিল আলো ও স্বস্তি ইসলাম একটি মিথ্যা ধর্ম নয়। শ্রদ্ধার সংগে হিন্দুরা হিন্দুরা তা অধ্যয়ন করুক তাহলে আমার মতোই তারা একে ভালবাসবে।” রাজনীতির কারণেই হোক আর অনুভুতির কারণেই হোক তাঁরা ভারতের রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতাকে মুছে ফেলতে পারেননি। এমন কি অচ্যুতদের মুক্তির জন্যেও তাঁরা কিছু করেননি। এমন কি বাংলাদেশের এক শ্রেণীর শিক্ষিত মানুষের দেবতা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ অচ্যুতদের মুক্তির জন্যে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি। বরং তাঁরা সবাই নিজেদের আর্য ভাবতে পছন্দ করতেন। মহাশক্তিশালী প্রচার ও প্রোপাগান্ডার ফলে ভারত বা বাংলাদেশে সবাই নিজেদের আর্য ভাবতে গৌরববোধ করে। কারণ তাঁরা মনে করেন আর্য মানে পরিশীলিত বা কালচার্ড। অনার্য মানে আনকালচার্ড। অসুর সমান। তাইতো রাবণের মতো সকল ভুমিপুত্রই অসুর বা অমানব। আর্য নেতা রামকে বানানো হয়েছে রাজা ও দেবতা। তাই অনার্যদের শাসন করার একমাত্র আর্যদের। তাঁরাই আইন বানাবেন, ধর্ম তৈরি করে অনার্যদের পরিচালনা করবেন। অপরদিকে অনার্যদের ধর্ম শিক্ষার সকল পথ ও মত নিষিদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
ডা: রাধাকৃষ্ণ বলেছেন, “এ ধর্মের মধ্যে সংমিশ্রণ প্রবনতা এত বেশী যে ,এর মধ্যে একত্ববাদী ও নাস্তিক সহ সকল শ্রেণীর মানুষ একসাথে সহ অবস্থান করতে পারে। এ ধর্মে জীবন যাপনের সমন্বিত কোন বাস্তব ব্যবস্থা নেই।এ ধর্মে আছে শুধু আভিজাত্যের দম্ভভরা এক ইজারাদারী মনোভাব। এর লক্ষ্য মানুষকে পদানত রাখা।” “আরও সরাসরি ভাবে বলা যায় যে, এ ধর্ম মানুষের মধ্যে ব্রাহ্মণ্যবাদ বা ব্রাহ্মণদের শ্রেষ্ঠত্ব কায়েমের লক্ষ্যে পৌত্যলিকতার সংস্কৃতি চালু করেছে। ফলে মানুষে মানুষে ভেদাভেদের দুর্ভেদ্য প্রচীর গড়ে তুলেছে। যেখানে নেই কোন মানবিকতা, নেই কোন যুক্তি, নেই বিবেকের কোন স্থান।
বেদ ও পৌত্বলিক ধ্যান ধারণা, শ্রেণী বিদ্বেষ এবং ধর্মান্ধতার ভিত্তিতে আজও হিন্দু সমাজ টিকে আছে বিরাট এক মানবগোষ্ঠির যুক্তিহীন আবেগের কারণে। এখন শুধু সময়ের ব্যাপার। সনাতন ধর্মীয় আবরনে সহস্র বছর ব্যাপী শোষিত বঞ্চিত শ্রেণীর উত্থান অবশ্যম্ভাবী।
আলকোরআনের সুরা বাকারার ২১৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহপাক বলেন,আর গোটা মানবমন্ডলীতো একটিমাত্র উম্মত ছিল, কিন্তু তারপর মতভেদ করলো। ঋকবেদে বলা হয়েছে,‘ আমরা সর্বপ্রথম বিশ্বপতির ইবাদত করি এবং তাঁরই নিরংকুশ ও নি:শর্ত আনুগত্য করি যিনি সর্বপ্রথম প্রভু মনিব ও মালিক’। বিশ্ব জগতের মালিক একজনই(ঋকবেদ ৩-১২-১০)। আমরা শুধু আপনারই আনুগত্য প্রকাশ করি ও অবিরত আপনারই জয়গাণ করি(যজুর্বেদ ১৬-৪০)।
আলকোরআনের মতে আসমানী কোন বাণীই আল্লাহপাক বাতিল করে দেননি। মুসলমান বা আলকোরআনে বিশ্বাসীদের বলা হয়েছে, তোমরা অতীতের সকল কিতাব ও নবীদের মান্য করো। এটা তোমাদের ঈমানের অংগ। সকল নবী রাসুলের নাম বা তাঁদের আনীত কিতাবের নাম আমরা জানিনা। ভারতেও নিশ্চয়ই নবী ও কিতাব এসেছে মানুষের জন্যে। বেদ বা উপনিষদের অনেক বাণীর মর্মার্থের সাথে আলকোরআনের মিল রয়েছে, যা মুসলমানেরা বিশ্বাস করে। এক সময়ে স্বার্থান্বেষীরা আসল কিতাবকে বিকৃত করেছে , মুছে দিয়েছে। এরাই হচ্ছে আর্য মুনি ঋষিরা।
শ্রীমত ভগবত পুরাণে(৯-২৪-৫৬) বলা হয়েছে, যখনই কল্যাণকর কাজ ও সদগুণাবলী কমে যায় এবং পাপাচারের প্রসার ঘটে তখন অবশ্যই সকল দেবতাদের বড় দেবতা পথ প্রদর্শনের জন্য একজন অবতার প্রেরণ করেন বা একজন কৃতী পুরুষকে সৃষ্টি করেন। জগত পাপে পূর্ণ হয়ে গেলে আল্লাহপাক মহাপ্লবান সৃষ্টি করেন নূহনবীর জামানায়(আ)। আল্লাহপাক তাঁকে একটি জাহাজ তৈরি করার নির্দেশ দেন এবং বলেন জীবিত সকল প্রাণীকে জাহাজে তোলার জন্যে। মত্‍স পুরাণের(২৫-৩৫) শ্লোকে জাহাজের উল্লেখ রয়েছে। আল্লাহপাক নবী মনুকে(নুহ) নির্দেশ দেন সকল প্রাণীকে জাহাজে তোলার জন্যে।
প্রাচীন ইরাণে একটি ধর্মের বিকৃত রূপে বলা হয়েছে দুই খোদার দাবী করা হয়েছে। এক খোদা ন্যায় ও সত্যের খোদা অপর খোদা মন্দ ও অন্যায়ের খোদা। এক সময়ে দুই খোদার ভক্তদের মাঝে মহাযুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয় যাতে অন্যায়কারীরা পরাজিত হয়ে জগতের বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যায়। তাদেরই একটি অংশ ভারতে আসে আর্য হিসাবে এবং তাদের ধর্ম প্রতিষ্ঠা করে। তাদেরই তৈরি কাহিনী হচ্ছে কুরু পান্ডবের যুদ্ধ বা কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ। কুরু আর পান্ডবেরা একই গোত্রের এবং পরম আত্মীয়। অর্জুন হচ্ছে এই যুদ্ধের উসকানী দাতা। যেমন কারবালার যুদ্ধ। ন্যায়ের সাথে অন্যায়ের যুদ্ধ। ন্যায় পরাজিত হয়েছিল। ভারতেও আর্য আর অনার্য(ভুমিপত্র ও ন্যায়ের প্রতীক)যুদ্ধে দেশপ্রেমিকরা পরাজিত হন এবং ভারতে অন্যায়কারী আর্যদের বিজয় কেতন উড়তে থাকে। আর্যদের মিথ্যা ইতিহাস আজও জারী আছে। দিল্লীর সিংহাসনে দীর্ঘ ৬৫ বছরে অনার্যরা দুয়েকবার ক্ষমতায় আসীন হলেও আর্য ষড়যন্ত্রের কারণে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। কংগ্রেসের সকল নেতাই ছিলেন আর্য ধারণা ও বিশ্বাসের প্রতিনিধি। মোদী নিম্নবর্ণের সনাতন বিকৃত ধর্মের প্রতিনিধি হলেও আর্য বিশ্বাস থেকে মুক্ত নন। ভারতে বর্তমানে আর্য ধারণা ও বিশ্বাসের প্রতিনিধির সংখ্যা ১০ ভাগের বেশী নয়। সোজা কথায় বলতে গেলে ভারতের মুল বা আসল অধিবাসীরা আজ ঐতিহ্য হারা। কারণ, আর্যরা তাদের ইতিহাসকে মুছে দিয়েছে। প্রাচীন ভারতে মানে তিন/চার হাজার বছর আগে জনগণ ছিল একেশ্বরবাদী। এক ইশ্বরই ছিল বিশ্বাসের মূল। মনুই ছিলেন তাঁদের প্রথম নবী/অবতার। তিনিই ইশ্বরের কাছে থেকে বাণী লাভ করেছেন। তাঁর বাণী ছিল অলিখিত। পরে আর্যরা তাকে বিকৃত করে নিজেদের কথাগুলো প্রচার করেছে। যারাই এর প্রতিবাদ করেছে তাকেই আর্যরা হত্যা করেছে না অচ্যুত বানিয়েছে। প্রচার করেছে ব্রহ্মার মস্তক থেকে ব্রাহ্মণের জন্ম আর ব্রাহ্মণের পদযুগল থেকে অচ্যুত বা হরিজনদের সৃষ্টি করা হয়েছে। সকল ব্রাহ্মণই আর্য। আর্য ব্যতীত কারোরই ব্রাহ্মণ হওয়ার সুযোগ নেই। এই প্রথা আজও আধুনিক ভারতে প্রচলিত। বিকৃতির কারণেই আল্লাহপাক অতীতের স্থগিত কিতাবের পরিবর্তে নতুন কিতাব ও নবী/রাসুল মানুষের মুক্তির জন্যে পাঠিয়েছেন। আগেই বলেছি, আর্যরা মূল ভারতবাসীর সনাতন ধর্ম ও কিতাবকে ধ্বংশ করেছে। জগতে আল্লাহপাক ১০০টি সহীফা(পুস্তিকা) ও কিতাব পাঠিয়েছেন। বহু নবী ও রাসুল পাঠিয়েছেন। ভারতেও নবীরা এসেছেন। যাদের ইতিহাস বা রেফারেন্স হারিয়ে গেছে।
অতি পুরাতন সনাতন ধর্মের উল্লেখ করেছি এ কারণে যে, অখন্ড ভারত বিভক্ত হয়েছে আর্যদের বিদ্বেষ সৃষ্টির কারণে। মুসলমানরা যদি বহু শতাব্দী ধরে ভারত শাসন করতে পারে তাহলে অখন্ড ভারতে তারা থাকতে পারলোনা কেন? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নেয়ার দায়িত্ আধুনিক ভারতের অসাম্প্রদায়িক জ্ঞানী মানুষদের। ইতিহাস ও গবেষণা প্রমান করেছে যে অখন্ড ভারতকে খন্ড করেছে আর্য কংগ্রেস নেতারা। তাঁরা মহা সাম্প্রদায়িক। তাঁদের কারণেই ভারতে হাজার দাংগা হয়েছে। গুজরাটের মহা দাংগার পরেও আরও বহু দাংগা হয়েছে। সে তুলনায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে তেমন কোন দাংগা হয়নি।
চলমান বাংলাদেশে নাগরিকদের ৯০ ভাগ মুসলমান হলেও এটা মুসলীম বা ইসলামিক রাষ্ট্র নয়। তথাকথিত সেক্যুলারিজমের( ধর্মহীনতার ) নামে রাষ্ট্র নিজেকে ৯০ভাগ মানুষের ধর্মের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছে। এর একমাত্র উদ্দেশ্য অদৃশ্য শক্তিকে সন্তুষ্ট রাখার জন্যে। ইসলাম বা মুসলমানদের সন্ত্রাসী হিসাবে চিহ্নিত করার জন্যে পশ্চিমারা যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশও পশ্চিমাদের ইংগিতে উঠছে আর বসছে। আমাদের সংসদ ১০ ভাগ নাগরিককে সন্তুষ্ট করার জন্যে সংবিধানকে আল্লাহ মুক্ত করেছে। রাজনীতিতে, নাগরিকত্বে, অধিকারে আপনি কখনই নিজধর্মের গুণগাণ করতে পারবেনা। এসব হচ্ছে কেন? আপনারা কি কখনই ভেবেছেন? কারণ , ১৫কোটি মুসলমানের দেশে রাষ্ট্র আপনাকে মুসলমান মনে করেনা। রাষ্ট্রের কাছে আপনি শুধু একজন নাগরিক মাত্র। মসজিদ আর কোথাও আপনার অস্তিত্ব নেই। কোরাণের সাথে রাষ্ট্রের কোন সম্পর্ক নেই। রাষ্ট্র নিজের তৈরি আইনের দ্বারাই পরিচালিত হয়। কোরাণ আপনার জীবনের ব্যক্তিগত কিতাব। ঘরে আর মসজিদের এই কিতাবের চর্চা করবেন।
১৯০ বছরের ইরেজ শাসনে আমাদের আধুনিক শিক্ষিত মানুষ গুলো ধর্ম থেকে দূরে সরে গেছে। যেন ধর্ম পালন করলে আপনি আর আধুনিক থাকতে পারবেন না। কোরাণকে আল্লাহপাক হেফাজত, রক্ষা ও অবিকৃত রাখলেও আপনাকে অবিকৃত রাখতে পারেননি। আপনার বিশ্বাসে বহু অনাচার প্রবেশ করিয়ে দিয়েছে সমাজ ও রাষ্ট্র। আপনি দেশের আলেম সমাজকে অশিক্ষিত মনে করেন। কোরাণ জানা বা চর্চা করা আপনার জীবনে ব্রত নয়। ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে রাস্ট্রে আপনি কোরাণ না জানলেও প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতি, প্রধান সেনাপতি, মন্ত্রী ,সচিব সবকিছুই হতে পারেন। অমুসলীমরা ইসলামের কোন ক্ষতি করতে পারেনি যা করেছে বা করছে মুসলমান নামের শাসকগণ। মুসলমান জ্ঞানী গুণীজনকে সবচেয়ে বেশী অপমানিত ও লাঞ্ছিত করেছে মুসলমান শাসকগণই। ভারতের একেশ্বরবাদী সনাতন ধর্মের সবচেয়ে বেশী ক্ষতি করেছে আর্য শাসক ও মুনী ঋষিরা।
লেখক: কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
http://www.humannewspaper.wordpress.com

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Join 307 other followers