Feeds:
Posts
Comments

ক’দিন আগে ‘নো ওয়ান কিল্ড জেসিকা’ নামের একটি ভারতীয় ছবি দেখেছি। এ রকম ছবি বাংলাদেশে তৈরি হয়না বা লোকে দেখেনা। ছবিটার বিষয় ছিল মানুষ বড় না আইন বা আদালত বড়? সত্য বড় না আইন বড়? এ কথা গুলোর উত্তর আমি বুদ্ধি হওয়ার পড় থেকে খুঁজে আসছি। এখনও পাইনি। স্কুল কলেজের পড়ালেখা শেষ করেই মূল্যবান সমাজের পছন্দনীয় চাকুরী না করে খবরের কাগজে চাকুরী নিয়েছিলাম বাবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে। বিয়ের বাজার ,বাড়ি ভাড়ার বাজার কোথাও সাংবাদিকের দাম ছিলনা। সাংবাদিক শুনলেই কেউ বাড়ি ভাড়া দিতে চাইতোনা। পাড়ার দোকানীরা বাকি দিতে চাইতোনা। আমার ব্যাপারটা একটু আলাদা ছিল।
আমি প্রথমে নবীশ হিসাবে চাকুরী নিয়েছিলাম পাকিস্তান অবজারভারে মাত্র একশ’ টাকা পকেট এলাউন্স হিসাবে। বাকি টাকা বাবার কাছ থেকে নিতাম না দিলে গোস্বা করতাম। বাবার বড়ছেলে হিসাবে সীমাহীন আদর করতেন। কারণ, আমার মা ছিলনা। বাবা শুধু একবার বলেছিলেন তুমি বড়ছেলে, বুঝে শুনে কাজ করো।
৪৭ সালে আমি দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আনন্দে মানুষ বিভোর। কারণ,পাকিস্তান অবহেলিত ও নির্যাতিত মুসলমানদের মুক্তি ও কল্যাণের জন্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যখন পাকিস্তান ভেংগে যায় তখন আমার বয়স ৩১। বাংগালী মুসলমানের মুক্তির জন্যে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন বিদেশী শোষক শাসকরা আর নেই। এখন আমাদের সম্পদ আর কেউ লুট করবেনা। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি অতি কাছে থেকে ভিতরে ও বাইরে থেকে। ২৫শে মার্চের রাত দেখেছি অবজারভার হাউজে থেকে। আবার ১৬ই ডিসেম্বর আনন্দে নেচেছি ঢাকার রাস্তায় মাতালের মতো। আমি বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে মানুষের মুক্তি চেয়েছি। শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্ন দেখেছি। স্কুল কলেজে এবং সাংবাদিকতা জীবনের শুরুতে লোকে আমাকে নাস্তিক বলতো। আমি নাকি বাম চিন্তাধারার লোক ছিলাম। সরকারী গোয়েন্দারা নিয়মিত জ্বালাতন করতো। ৭১ সালে ফেণী নদীতে আমার লাশ অনেকেই দেখেছেন বলে আমি নিজেও শুনেছি।
এখন বন্ধুরা বলেন আমি নাকি মৌলবাদী। আমি ইসলামিস্ট,মনে হয় ইসলাম নিয়ে চিন্তা ভাবনা খুবই নিন্দনীয় কাজ। ইসলাম আর মুসলমান যেন বিশ্ববাসীর জন্যে পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবাই যেন দূর দূর করে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। একই অবস্থা বিরাজ করেছে ৬০ সালের দিকে। এবার মূল কথায় ফিরে আসি। ‘নো ওয়ান কিল্ড জেসিকা’ফিল্মটি জনমত, আইন ও মিডিয়ার ভুমিকা নিয়ে তৈরি। জেসিকা মধ্যবিত্ত পরিবারের একটি মেয়ে। একটি পার্টিতে এক মন্ত্রীর ছেলে সবার সামনে জেসিকাকে গুলি করে হত্যা করে। কিন্তু কোন সাক্ষী পাওয়া গেলনা। কেউ নাকি দেখেনি। তাই আদালত জেসিকা হত্যার অভিযোগে কাউকে দায়ী করতে পারেননি। জেসিকা নিহত হয়েছে একথা সত্য, কারণ লাশটি পাওয়া গেছে। আদালত নিজে অন্ধ। নিজে কিছু দেখেনা, নিজে কিছু বলেনা। আদালতকে পরিচালনা করে দেশের আইন। আইন যদি মন্দ থাকে তাহলে আদালতের কিছুই করার থাকেনা। আইন পরিবর্তন করবে দেশের জনগণ ও তাদের প্রতিনিধি। জনপ্রতিনিধিরা যে আইন(ভাল হোক আর মন্দ হোক) তৈরি করবেন সে আইনের ভিত্তিতেই আদালত বিচার করবেন। তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠবে জনপ্রতিনিধি কারা হবেন। ৩৭ সাল থেকে এসেম্বলী বা সংসদে আইন তৈরি করেছেন আইনজ্ঞরা। এ ধারা অব্যাহত ছিল ৫৬ সাল পর্যন্ত। জেনারেল আইউবের ক্ষমতা দখলের পর থেকে সংসদ সদস্য হচ্ছেন ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারগণ। জেনারেল আইউব চালু করেছিলেন বেসিক ডেমোক্রেসী বা মৌলিক গণতন্ত্র। জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতেন ইউনিয়ন কাউন্সিলের সদস্যদের দ্বারা। সারা পাকিস্তানে ৮০ হাজার মৌলিক গণতন্ত্রী ছিলেন। ধনীরা ভোট কিনেই সংসদ সদস্য হয়ে যেতেন।


মানুষের রাজনীতি কি এমন প্রশ্নের উত্তরে সাদামাটা ভাবে বলা যেতে পারে মানুষের জন্যে রাজনীতি। তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে রাজনীতিটা কি? আমি রাজনীতিকে যেভাবে দেখেছিলাম বা ভেবেছিলাম তা বাস্তবে কখনই দেখিনি। ছাত্রকাল থেকেই নিপীড়িত নির্যাতিত অবহেলিত মানুষের মুক্তির স্বপ্ন দেখেছি। কিন্তু এখনও আসেনি বা মুক্তিকে আমি এখনও দেখিনি। জীবনের অর্ধেক সময় বিশ্বাস করেছি মাও জে দং বা লেনিনের পথই মানুষের মুক্তির পথ। তবে ওই ধারার চেতনায় আমি কখনই সমাজতন্ত্রী বা কমিউনিষ্ট হতে পারিনি। রাজনীতিতে আমি মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানীর অনুসারী ছিলেন। মাওলানা সাহেব কখনই কমিউনিষ্ট ছিলেন না। অবজারভার ছেড়ে দিয়ে আমি সংবাদে চাকুরী নিয়েছিলাম রাজনীতিক কারণে। তখন জহুর হোসেন চৌধুরী সংবাদের সম্পাদক ছিলেন আর শহীদুল্লাহ কায়সার ছিলেন নির্বাহী সম্পাদক। সংবাদ ছিল কমিউনিষ্ট বা বাম চিন্তাধারার মানুষদের একমাত্র মুখপাত্র। জহুর হোসেন চৌধুরী সাহেব কখনই কমিউনিষ্ট ছিলেন না। তিনি নাকি এম এন রায়ের অনুসারী ছিলেন। কিন্তু শহীদুল্লাহ কায়সার ছিলেন কমিউনিষ্ট। সংবাদে চার বছরের মতো কাজ করে আমি আমার নিজ শহর ফেণীতে চলে যাই সরাসরি গণমানুষ আর কৃষকের রাজনীতি করার জন্যে।তখন আমার বাবা ক্যান্সারে আক্রান্ত। ওই অবস্থাতেও আমি রাজনীতি করার সিদ্ধান্ত নিই। ফসল নামে একটি কৃষক আন্দোলনের কাগজের সম্পাদনা শুরু করি। সে সময়ে কৃষক শ্রমিকের কথা বললেই লোকে কমিউনিষ্ট মনে করতো। সরকারও তাই মনে করতো। ফলে সরকারী গোয়েন্দারা সব সময় পীচনে লেগে থাকতো। সমাজের ক্ষমতাবান ও প্রভাবশালীরাতো বিরুদ্ধে ছিলেনই। সরকারী কর্মচারী কর্মকর্তাদের জোট ছিল ক্ষমতাবানদের সাথে। আমি প্রায় পাঁচ বছর গ্রামে গঞ্জে কৃষকদের নিয়ে রাজনীতি করেছি। এক সময় আমার মনে হলো রাজনীতি একটি কৌশলের ব্যাপার। সত্য আর রাজনীতি এ বিষয় নয়। রাজনীতি হলো জনগণ যে কথা শুনতে চায় তা বলতে হবে এবং সে ভাবেই চলতে হবে। যা আমার চরিত্র ও নীতি বিরোধী ছিল। রাজনীতি হলো ‘ আপনি কি তা গুরুত্বপূর্ণ নয়,লোকে বা জনগণ আপনাকে কি ভাবে দেখে তা গুরুত্বপূর্ণ’। ব্যক্তিগত জীবনে আপনি হয়ত একজন চোর বদমাশ, কিন্তু জনগণ মনে করে আপনি একজন দরবেশ। এটাই আপনার সাফল্য। আমি তাই আবার ফিরে আসি রাজধানীতে সাংবাদিকতা করার জন্যে। পূর্বদেশে যোগ দেই ১৯৬৯ সালে। দলীয় রাজনীতিতে আর কখনও অংশ গ্রহণ করিনি।কিন্তু রাজনীতি ছাড়া রাষ্ট্র ও সমাজ কখনই চলতে পারেনা। তাই খুবই প্রবল ভাবেই রাজনীতির জয় জয়কার চলছে।
একজন রাজনীতিক, সমাজকর্মী, ব্যাবসায়ী, ব্যান্কার নিয়ে কিছু লিখবো বলেই কম্পিউটারের সামনে বসেছি। বলতে পারতাম কাগজ কলম হাতে নিয়ে বসেছি। কিন্তু তা বলিনি , কারণ বহুদিন ধরেই আমি হাতে লিখতে পারিনা। ভাগ্য ভাল কম্পিউটার ব্যবহার করা শিখতে পেরেছিলাম আমার সন্তানদের ছাত্র হয়ে। এই ভদ্রলোক হলেন মিষ্টি মানুষ মোশাররফ হোসেন। ডাক নাম পেয়ারা। জন্ম ফেণী শহরে। বাবা বেলায়েত হোসেন ছিলেন একজন রাজনীতিক ও নামজাদা আইনজীবী। মোশাররফ সাহেব বিশাল ঐতিহ্যের অধিকারী এক পরিবারের সন্তান। ফেণী জিলার সোনাগাজী উপজিলার আহমদপুর মুন্সীবাড়ীই হলো তাঁর মূল ঠিকানা। বৃটিশ আগমণের আগে থেকেই শিক্ষিত একটি পরিবার। এই বাড়ীর পূর্বপুরুষেরা ছিলেন ফার্সী জানা উকিল। এক নামে, এক ডাকে সবাই চিনেন আহমদপুর আমিরউদ্দিন মুন্সীবাড়ি। একই নামেই হাট বাজার, স্কুল কলেজ মাদ্রাসা,পোষ্টাফিস ও ব্যান্ক।


মৌলবাদের অর্থনীতির প্রবক্তা কারা ? এরশাদ মজুমদার

বাংলাদেশ কি ধরণের রাস্ট্র বা এ দেশের অর্থনীতির রূপ কি? এ প্রশ্নের উত্তর কি একটি না বহু? আমি ১৯৬১ সালে নবীশ অর্থনৈতিক রিপোরটার হিসাবে পাকিস্তান অবজারভারে আমার সাংবাদিকতা জীবন শুরু করি। পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে কথা বলার রাজনীতি মাত্র শুরু হয়েছে। পূর্ব পাকিস্তানের বাংগালী অর্থনীতিবিদরা বৈষম্য নিয়েই কাজ করছিলেন। কালক্রমে বৈষম্য বিষয়টিই রাজনীতিতে প্রধান বিষয় হিসাবে আলোচিত হতে থাকে। আমার দায়িত্ব ছিল বৈষম্য নিয়ে রিপোর্ট করা। তখন অবজারভার গ্রুপের সকল কাগজের দায়িত্ব ছিল বৈষম্য নিয়ে লেখা। বংগবন্ধুর রাজনীতির তথ্য উপাত্ত সংগৃহীত হতো অবজারভার ও পূর্বদেশ থেকে। ষে বিষয়কে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ভেংগে গেছে তা একটি বিশাল মহাভারতের মতো। অন্ধের হাতি দেখার মতো। চক্ষষ্মানও পুরো বিষয়টা দেখতে পারেন না। যতটুকু বুঝেছেন ততটুকুই বলতে পারেন বা লিখতে পারেন। তবে সবাই একমত ছিলেন যে বিশাল বৈষম্য বিরাজ করছে। পূর্বদেশের সম্পাদক মাহবুবুল হকের জাতীয় সংসদের ভাষণ পড়লেই জানা যাবে হিমালয় প্রমাণ বৈষম্য ছিল। যা শুরু থেকেই পাকিস্তানের ভিতকে দূর্বল করে ফেলেছিল। ৭১ সালে যুদ্ধের মাধ্যমেই পাকিস্তানের ভিত ভেংগে গেল। এটা অবশ্যম্ভাবী ছিল। পাকিস্তানের সামরিক শাসকগণ ৬দফা মানলেও পাকিস্তান কনফেডারেশন হিসাবে হয়ত টিকে থাকতে পারতো। মাহবুবুল হক বলেছিলেন, চলমান গতিতে বৈষম্য অব্যাহত থাকে তাহলে একদিন পাকিস্তান আর টিকবেনা। মাহবুবুল হকে সেই ভাষণের পর বংগবন্ধু তাঁকে বিমান বন্দরে গিয়ে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন। জাতীয় সংসদে মাহবুবুল হকের সেই ঐতিহাসিক ভাষন পুরোটাই ইত্তেফাকে প্রকাশিত হয়েছিল।
ক’দিন আগে এম এম আকাশ( মন মোহন আকাশ বা অন্যকোন নাম)নামের এক ভদ্রলোক মৌলবাদের অর্থনীতি নিয়ে একটি উপ সম্পাদকীয় লিখেছেন একটি ধর্মমুক্ত কাগজে। মৌলবাদের অর্থনীতি নিয়ে লেখালেখি করে আবুল বারাকাত নামের আরেকজন অর্থনীতিবিদ নাম কামিয়েছেন। মৌলবাদের অর্থনীতি কি সে বিষয়ে গবেষণা মূলক কোন বই এখনও তাঁরা লেখেননি। আমরা এতদিন গরীবের অর্থনীতি বা ধনীর অর্থনীতির কথা শুনেছি। শোষণের অর্থনীতির কথাও শুনেছি। গরিবী হটাবার জন্যে আমাদের দেশেও নানা কর্মসূচী নিয়েছে সরকার। গরীবের ব্যান্ক নামে গ্রামীণ ব্যান্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সমবায় ও এনজিও গুলোও অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এনজিও করে বহু ভদ্রলোক ধনী হয়ে গেছেন। পাকিস্তান আমলে ২২ পরিবারের কথা বলে রাজনীতিবিদরা মাঠে ময়দানে গলা ফাটাতেন। পাকিস্তান ২৩ বছরে ২২ পরিবার বানিয়েছিল। বাংলাদেশ ৪৩ বছরে ২২ হাজার পরিবার বানিয়েছে। বাংলাদেশে যে হারে কিছু মানুষ ধনী হয়েছে সে হারে দারিদ্র দূর হয়নি। এদেশে রাজনীতিকদের ধনী হওয়া খুবই সহজ। একবার চেষ্টা তদবীর করে এমপি/মন্ত্রী হতে পারলেই পুঁজির বিকাশ ঘটে যায়। ৬০ থেকে ৭০ সাল পর্যন্ত ছিল পূর্ব পাকিস্তানে পুঁজির বিকাশের আন্দোলন। বড় বড় বাম ধারার অর্থনীতিবিদরা পূঁজির বিকাশের জন্যে লেখালেখি করেছিলেন। তাঁদের অনেকেই এখনও জীবিত। ৬দফার জন্ম হয়েছে পূর্ব পাকিস্তানে পুঁজির বিকাশের আন্দোলন থেকে। আসলে আন্দোলনটি ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের বড় পুঁজির সাথে পূর্ব পাকিস্তানের ছোট পুঁজি টকতে পারছিলনা। ছোট পুঁজির আকাংখা ছিল বড় পুঁজি হওয়া। তাই বাংগালী মুসলমান আমলা, অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ, শিক্ষক ও ছোট পুঁজির মালিক সবাই একই কাতারে সামিল হলেন পূর্ব পাকিস্তানে পুঁজির বিকাশের স্বার্থে। তখন সকল পত্রিকাই এর পক্ষে ছিল। এমন কি বাম রাজনীতিতে বিশ্বাসী কাগজ গুলোও। পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক স্বার্থ, চাকুরী ও ব্যবসা বাণিজ্যে ন্যায্য হিস্যা আন্দোলনের রাজনৈতিক দল হিসাবে জন স্বীকৃতি লাভ করে শেখ সাহেবের আওয়ামী লীগ। এমন একটি জনপ্রিয় আন্দোলন শেখ সাহেবকে পূর্ব পাকিস্তান বা বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত করে। ফলে ৭০ এর নির্বাচনে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের পক্ষে কথা বলা ও দেন দরবার করার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেলেন। এ সময়ে বাংগালীর অর্থনীতি, অবাংগালীর অর্থনীতি, মুসলমানের অর্থনীতি, হিন্দুর অর্থনীতি বা মাড়ােয়ারী অর্থনীতি নামে কোন ধরণের কথা শুনা যায়নি। বড় পুঁজি, ছোট পুঁজি,শিল্প পুঁজি, বাণিজ্য পুঁজি,ফড়িয়া দালাল পুঁজির কথা শুনেছি। আকাশ সাহেবদের মতে যদি মৌলবাদের অর্থনীতি থেকে থাকে তাহলে অমৌলবাদের অর্নীতিও আছে। মুসলমান অর্থনীতি থাকলে অমুসলমান অর্থনীতিও আছে।আসলে বারাকাত ও আকাশগংয়ের মনো জগতে রয়ে্ছে সাম্প্রদায়িকতা। ৭০ সালে আকাশ সাহেব বা বাবুদের পূর্বসুরীরা ছোট পুঁজির বিকাশের জন্যে আন্দোলন করেছেন। আর এখন আকাশ বাবু ও বারাকাত সাহেব অমৌলবাদী অর্থনীতির জন্যে কাজ করছেন।
বাংলাদেশের সকলকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে বংগবন্ধু কখনই সমাজতন্ত্রী ছিলেন না। সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতেও বিশ্বাস করতেন না। তিনি খুব সাদামাটা ভাবে পূর্ব পাকিস্তানের সাধারন মানুষের কল্যাণ চাইতেন। সে জন্যেই তিনি ৬দফা দিয়েছিলেন পাকিস্তানের কাঠামোতে থেকে পূর্ব পাকিস্তানের স্বার্থ আদায় করার জন্যে। কিন্তু বেকুব পাকিস্তানী সামরিক জান্তা তা বুঝতে পারেনি। আর ভুট্টোর( জওহর লাল নেহেরুর সন্তান বলে বহুল পরিচিত বা প্রচারিত) সীমাহীন ক্ষমতার লোভ পাকিস্তানকে বিভক্ত করে ফেলেছে। নেহেরু গং ভারত ভেংগেছে আর সেই পরিবারের মিত্র ভুট্টো পাকিস্তান ভেংগেছে। ইন্দিরা গান্ধী ভুট্টোকে সহযোগিতা করেছেন ভারতের রাজনৈতিক স্বার্থে। ভুট্টো নিজে কম মুসলমান ছিলেন আর অধিকতর ধর্মমুক্ত তথাকথিত প্রগতিশীল ছিলেন। নেহেরু পরিবারও ধর্মমুক্ত আধুনিক ছিলেন।
পাকিস্তান কেন হয়েছিল তা আমাদের বর্তমান তরুণ সমাজ ও রাজনীতিকরা জানেন না। জানলেও পাকিস্তান সৃষ্টির কারণকে তারা সাম্প্রদায়িকতা বলে চিহ্নিত করেছেন। ঐতিহাসিক দলিল দস্তাবেজ পরীক্ষা করলে দেখা যাবে ভারতকে বিভক্ত করার জন্যে কংগ্রেস ও বৃটিশ শাসক গণ দায়ী। মুসলমান বা মুসলীম লীগ ১৯৪০ সালে এসে পাকিস্তান প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। কংগ্রেস যদি সনাতনপন্থীদের দল না হয়ে দলমত ধর্ম নির্বিশেষে সর্ব ভারতীয় রাজনৈতিক দল হতো তাহলে মুসলীম লীগের জন্ম হতোনা। মুসলীম লীগ গঠিত হয়েছিল কংগ্রেস নেতাদের হীনমন্যতা ও সাম্প্রদায়িকতার কারণে। কিন্তু সু কৌশলে ভারত ভাংগার দোষটা চাপিয়ে দিয়েছে মুসলমানদের উপর। এটা সবাই জানে বৃটিশ দখলদারিত্বের আমলে সবচেয়ে বেশী শোষিত হয়েছে মুসলমানেরা( হান্টারের ‘দি ইন্ডয়ান মুসলমানস পড়ুন)।
একই ভাবে পাকিস্তানকে খন্ডিত করার জন্যে বাংগালী মুসলমানদের দায়ী করা হয়। কারণ বাংগালী মুসলমানেরাই শোষিত ছিল। যে সমস্যা আলাপ আলোচনা করেই সমাধা করা যেতো তার সমাধান হয়েছে দেশ ভেংগে, সম্পদ নষ্ট করে ও লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করে। বংগবন্ধুতো ৬দফার মাধ্যমেই সমাধান চেয়েছিলেন। সকল দলিলই এ কথা প্রমান করে।
আকাশ বাবুরা মনে করেন,৭১এর যুদ্ধ ছিল বাংগালী আর অবাংগালীদের ভিতর। যদিও অবাংগালী ভারতীয়রা রাজনৈতিক কারণে পূর্ব পাকিস্তানের বাংগালী মুসলমানদের সমর্থনে এগিয়ে এসেছিল। এখন আকাশবাবু স্বাধীন বাংলাদেশে মৌলবাদের অর্থনীতির গবেষণা করছেন। যদি ইসলাম আর মুসলমানিত্ব মৌলবাদ হয়ে থাকে তাহলে বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মানুষই মৌলবাদী। আকাশবাবুরা নিজেদের অধিকতর বাংগালী আর কম মুসলমান মনে করেন। এটাই দন্ধের মূল কারণ। তাঁরা মনে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার সাথে সাথে দেশের সকল মানুষ পশ্চিম বাংলার সনাতনপন্থীদের মতো হয়ে গেছে। বাধ্য হয়েই উল্লেখ করছি যে অখন্ড বংগদেশকেও খন্ডিত করেছে সনাতনপন্থীরা। ৪৭ সালে মুসলমান নেতারা অখন্ড বাংলাদেশের প্রস্তাব করেছিলেন। সনাতনপন্থীরা তার বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু দোষ চাপিয়ে দেয়া হলো বাংগালী মুসলমানদের উপর।
পাঠকবন্ধুগণ,ধর্মহীন আরবী বা বাংলা নামধারীরা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মৌলবাদের( ইসলাম বা মুসলমানিত্ব) গন্ধ পান। পূর্ব পাকিস্তানের পুঁজির বিকাশের কথা বলে তখন প্রগতিশীল অর্থনীতিবিদগণ আইনী বেআইনী পথে নানা ধরণের সুপারিশ করেছেন। সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি বিকাশের কথা বলে দলীয় লোকদের লুটপাটের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এর ফলে বেশ কিছু লোক রাতারাতি পুঁজির মালিক হয়ে গেলেন। আর কিছুলোক ব্যান্ক গুদামের মাল লুট করে নিজেদের পুঁজির ব্যবস্থা করেছিল। শেষ পর্যন্ত ১৯৮৩ সালে মানে স্বাধীনতার ১২ বছরের মধ্যেই লুটেরা পুঁজির মালিকেরা ব্যান্ক বীমা প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করে। ৮৩ সালে ব্যান্ক প্রতিষ্ঠা করতে মাত্র তিন কোটি টাকা লাগতো। এখন লাগে নানা ধরণের অদৃশ্য ব্যয় সহ এক হাজার কোটা টাকা। ৮৩ সালে ১০ লাখ টাকা দিয়ে ব্যান্কের পরিচালক হওয়া যেতো। এখন এক হাজার কোটি টাকা দিতেও অনেকেই রাজী। কালো বা লুটেরা পুঁজি সবচেয়ে বেশী বিনিয়োগ হয়েছে মিডিয়াতে। এ ব্যাপারে নীতিবান সাংবাদিকদেরও কোন আপত্তি নেই। পুঁজির মালিক চোর ডাকাত লুটেরা হলেও সাংবাদিক বা বুদ্ধিজীবীদের কিছু আসে যায়না। এখনতো সাংবাদিকরা এক সাথে তিন চারটে পদের দায়িত্ব পালন করেন। একজন সম্পাদক ইউনিয়ন নেতা, পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী হতে পারেন। ইউনিয়ন নেতা হিসাবে শ্রমিক সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা করেন, আর অফিসে গিয়ে সাংবাদিক কর্মচারীদের চাকুরী থেকে বরখাস্ত করেন।
আকাশ বাবু ও বারাকাত বাবুরা অশ্লীল লুটেরা পুঁজির বিকাশের ব্যাপারে তেমন কিছু বলেন। এই পুঁজিইতো তাদের মৌলবাদের অর্থ বা পুঁজি লিখতে উত্‍সাহ দান করে। বাংগালীদের পুঁজি চাই বলে গলা ফাটিয়ে পাকিস্তান আমলেই কিছুলোক পাটকল বা সুতাকল স্থাপন করেছিল। তার আগে বৃটিশের তাবেদারী করে পুঁজির মালিক হয়ে চা বাগানের মালিক হয়েছে। তখন তাবেদারী তগমা হিসাবে নবাব, খান বাহাদুর ও খান সাহেব হয়েছেন। যেমন আমাদের সওদাগর কবির বাপদাদা বৃটিশদের সেবা করে জমিদারী পেয়েছিলেন । পুঁজি সংগ্রহের জন্যে ঠাকুর পরিবারকে বহু আজে বাজে কাজ করতে হয়েছে। কাজী নজরুলের পুঁজির দরকার নেই তাই তিনি সাদা সিধে গরিবী জীবন যাপন করতেন। ইংরেজ আসার ফলে এই খানদানী পরিবারের পতন হয়। ১৭৬৫ সালে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী উড়িষ্যা দখল করলে নীলরতন ঠাকুর দেওয়ানীতে চাকুরী পান। ঠিক ওই সময়ে নজরুলের পীরদাদারা ছিলেন প্রধান বিচারপতি( কাজীউল কুজ্জাত)। আকাশবাবুর পরম আত্মীয় চৌধুরী সাহেবদের দাদাও আমিনের চাকুরী করতেন। আমিনরা কেমন ঘুষখোর তা আপনারা সবাই জানেন।
আকাশ বাবুরা লুটেরা অর্থনীতির বিরুদ্ধে কোন কথা বলেন না। ব্যান্ক গুলোতে বর্তমানে ৫০ হাজার কোটিরও অধিক খেলাপী ঋণ রয়েছে, যা আদায় হলে দুটি পদ্মাসেতু তৈরি করা যায়। তাঁরা দেখেন মৌলবাদের অর্থনীতি। আমি একজন মৌলবাদী,মানে আমি আমার ঐতিহ্যকে অস্বীকার করিনা। আমার রক্তে আমার পূর্ব পুরুষের রক্ত বইছে। আমি তাই তাঁদের অস্বীকার করতে পারিনা। তাঁরাই আমার বায়া দলিল। আমি তাঁদের সম্পদ ও সম্মানের ওয়ারিশ। আর আকাশ বাবুরা পূর্ব পুরুষদের ঐতিহ্যকে অস্বীকার করেন। তাই আজ বিতর্ক উঠেছে মারা গেলে লাশ(শবদেহ) কোথায় নেয়া হবে, ও্ঁসৌধে( শহীদ মিনার) না শ্মশান বা গোরস্তানে। লাশ (শবদেহ) সমুখে রেখে দোয়া দরুদ পড়বেন না রবীন্দ্র সংগীত শুনবেন। বাপের বা দাদা নানার নাম গোপন রেখে অনেকেই নাম রাখেন পুরোহিত,এম এম আকাশ, সীমান্ত খোকন,সমুদ্র গুপ্ত,পার্থ সারথী। সমাজ এদের নিয়ে বিভ্রান্ত। এরা কারা।
এইতো ক’দিন আগেই মোদী সাহেব বলেছে ধর্মের সাথে সন্ত্রাসের কোন সম্পর্ক নেই। ধার্মিক হলেই সন্ত্রাসী হবে এ ধারণা ভুল এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত, রাজনৈতিক স্বর্থ হাসিলের কূটবুদ্ধি। ধর্মীয় গোঁড়ামী অশিক্ষিত( শিক্ষা যাদের অন্তরে আলো জ্বালাতে পারেনি) মানুষের কাজ। বাংলাদেশে তথাকথিত শিক্ষিত প্রভাবশালী লোকদের ৮০ জনই ইসলাম কি তা জানেন না। তাই তাঁদের অনেকেই ইসলামকে মৌলবাদী(গোঁড়া) প্রগতিবিরোধী ধর্ম হিসাবে গালাগাল দেয়। জগতে যে কোন মানুষই ধর্মহীন, ধর্মমুক্ত হতে পারেন। এটা তাঁর ব্যক্তিগত অধিকার। কিন্তু অন্য ধর্মের মানুষকে গালাগাল অধিকার কারো নেই। ভারতের অর্থনীতি মাড়োয়ারীদের অধিকারে বা নিয়ন্ত্রণে। সেখানে অর্থনীতিবিদরা সে অর্থনীতিকে মৌলবাদের অর্থনীতি বলে গালাগাল দেয়না। ৭১ সালে যারা ভিন্নভাষী ব্যবসায়ীদের সম্পদ লুট করেছে এখন তারাই বা তাদের অনুসারীরা মৌলবাদের অর্থনীতির কথা বলে শরীয়া ভিত্তিক ব্যবসা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান গুলো দখলের পায়তারা করছে। এদের পুর্ব পুরুষরাই ইংরেজদের সাথে হাত মিলিয়ে মুসলমানদের সম্পদ লুটে নিয়েছে আর তাদের সহযোগী ছিল সনাতনপন্থী ক্ষমতাবান লোকেরা।
মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে পন্ডিত বা আল্লামা আহমদ শরীফের একটি বই আছে। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোন থেকে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করেছেন। মৌলবাদ বা ফান্ডামেন্টালিজম শব্দের জন্ম হয়েছে ফরাসী দেশে। বৃটেন এর লালন পালন করেছে। আমেরিকা এখন তার প্রয়োগ করছে। শব্দটির উত্‍পত্তি হয়েছে খৃষ্টধর্মের ক্যাথলিক ও প্রটেস্ট্যান্ট চিন্তাধারাকে কেন্দ্র করে। বৃটেনের রাষ্টধর্ম হচ্ছে প্রটেস্ট্যান্টবাদ। ক্যাথলিকরা এদেশ থেকে বিতাড়িত। মতবিরোধের কারণে রাজা কয়েকবার গীর্জা প্রধানকে হত্যা করেছেন। ব্লেয়ার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্যে নিজ ধর্ম ক্যাথলিকবাদ ত্যাগ করে প্রটেস্ট্যান্টবাদ গ্রহণ করেছিলেন। ওরা নিজেদের বিরোধ মিটিয়ে মৌলবাদ শব্দটিকে ইসলাম ও মুসলমানদের কাধে তুলে দিয়েছে। এখন আমেরিক, বৃটেন, ফ্রান্স ও পশ্চিমা দেশগুলো সুকৌশলে ইসলামেকে মৌলবাদী বলে প্রচার করতে থাকে। সেই প্রচারে বিভ্রান্ত হয়েছেন পন্ডিত আহমদ শরীফের মতো কিছু জ্ঞানী ব্যক্তি। কোরআন, ইসলাম ও রাসুলের(সা) জীবনী যাঁরা অনুধাবন করেছেন বা পড়েছেন তাঁরা কখনই ইসলামকে মৌলবাদী ধর্ম বা জীবন ব্যবস্থা বলতে পারেন না। তথাকথিত কমিউনিজম বা প্রগতিবাদীতা জগতের কিছু মানুষকে কিছুদিনের আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। সত্যিকারের প্রগতিবাদিতাই হলো ইসলাম। দু:খ ও বেদনার বিষয় হলো পশ্চিমাদের ইসলাম নিয়ে মিথ্যা প্রচারণাকে বেশ কিছু মুসলমান দেশ ও জ্ঞানী ব্যাক্তি গ্রহণ করেছে। বেশ কিছুদিন হলো শুনতে পাচ্ছি পলিটিকেল ইসলাম শব্দটি। এটারও প্রচারক পশ্চিমারা ও তাঁদের এদেশীয় তাবেদারগণ। মদীনা রাষ্ট্রই হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম গণমানুষের রাষ্ট্র। মুহম্মদ(সা) ছিলেন এই রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা। আমি সবাইকে বলবো মদীনা সনদ পাঠ করার জন্যে। এই সনদেরও অপব্যাখ্যা দিচ্ছেন আকাশ বাবুদের মতো এক শ্রেণীর রাজনীতিক ও বুদ্ধিজীবী। এরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, তথাকথিত প্রগতিবাদীতার দেশের এক্যকে বিনষ্ট করছে। এখন অর্থনীতিকে ধ্বংশ করার অভিযান চালাচ্ছে।


সকালবেলা ৯৪

আমার দাদার দাদা(Great great grand father) আতাউল্লাহ মাজমুয়েদার ছিলেন হয়ত ত্রিপুরা মহারাজার রেভিনিউ কালেক্টর। শব্দটি ফার্সী। উচ্চারন মাজমুয়েদার। মোঘলদের রাজস্ব আদায়কারীদের পদবী ছিল মাজমুয়েদার। মানে রাজস্ব জমাকারী। মাজমা মানে একত্রিত করা। কিন্তু আমার দাদা ইয়াকুব আলী মজুমদার সাহেব ছিলেন সওদাগর। তিনি কাপড়ের ব্যবসা করতেন। তিনি বলতেন, আল্লাহর রাসুল(সা) সত্‍ ব্যবসায়ীদের অলিআল্লাহর কাতারে স্থান দিয়েছেন। রাসুলেপাকের(সা) সাহাবীদের অনেকেই কাপড়ের ব্যবসা করতেন। দাদাজানের বাবার নাম মনসুর আলী মজুমদার ও ব্যবসা করতেন। আমাদের বাড়িতে ইংরেজী শিক্ষা প্রবেশ করে ১৯০০ সালে।আমার দাদাজানের এতে আপত্তি ছিল। তিনি বলতেন ,নাসারার বিদ্যায় ঈমান নষ্ট হয়। আমার বড় ও মেজজেঠা ছিলেন আরবী শিক্ষিত। বড়জেঠা কাপড়ের ব্যবসা করতেন আর মেজজেঠা জমিজমা দেখাশুনা করতেন। সেজজেঠা ফজলে আলী সাহেব সরকারী চাকুরী করতেন। আমার বাবা আবদুল আজিজ মজুমদার ব্যবসা করতেন রেংগুনে। আমার চাচা আবদুল মজিদ ঢাকার ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল থেকে পাশ করে সরকারী চাকুরীতে যোগ দেন। ছোট চাচা মুলকুতের রহমান ও কাপড়ের ব্যবসা করতেন। তিনি ১৯৪৬ সালে মারা যান। রেংগুনে বাবা ধানচালের ব্যবসা করতেন। তখনকার শ্যামদেশ, এখন থাইল্যান্ডেও বাবার ব্যবসা ছিল। পরে তিনি কিছুদিন নির্মান ব্যবসাও করেছেন মেদিনীপুরে। জীবনে শেষ সময়ে তিনি ফেণীতে ছিলেন।
এবার আমার মায়ের কথা একটি বলি। তিনি আশরাফ উন নেছা( সম্ভ্রান্ত নারী)। আমার নানার বাড়ি রামপুর পাটোয়ারী বাড়ি। নানার নাম কলিম উদ্দিন পাটোয়ারী। নানীর নাম সৈয়দা নওয়াবজান বিবি। আর আমার দাদার বাড়ি উকিলপাড়া( এক সময়ে দাউদপুর নামে পরিচিত ছিল। এলাকাটা রামপুর মৌজার ভিতর। ১৮৭০ সালে দাদা এখানে বাড়ি করেছেন। দাদা পিতৃমাতৃহীন হয়ে ফেণীতে এসে ফুফুর কাছে পালিত হন। ১৮৭৬ সালে ফেণী মহকুমা হয়। তখন কবি নবীন সেন প্রথম এসডিও হয়ে ফেণীতে আসেন। ১৮৮৬ সালে ফেণী হাইস্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়।
আমার নানার নাম কলিম উদ্দিন পাটোয়ারী। আমার দুই মামা ও পাঁচ খালা। প্রতি বছর স্কুল ছুটির সময় আমরা খালাদের বাড়ি যেতাম। মা’র নানার বাড়ি রামপুর সৈয়দ বাড়ি। মা কিছু লেখাপড়া জানতেন। শিশুকালে তিনি আমাকে অংক করাতেন সে কথা মনে আছে। আমার বাবা নরম মানুষ ছিলেন,অতি দয়ালু ছিলেন। মা ছিলেন দৃঢ়চেতা । শক্ত প্রশাসনিক ক্ষমতা ছিল। মাকে আমরা বেশী দিন পাইনি। ১৯৫১ সালে তিনি জগত ছেড়ে চলে গেছেন। তখন আমি ক্লাস সিক্সে পড়ি। মা’র বিয়ে হয়েছে ১৯৩৫ সালে। আমরা ছিলাম চার ভাই দুই বোন। দুই বোন মারা গেছে বাল্যকালেই।
আমার দুই ফুফু ছিলেন। একজন আছিয়া খাতুন, আর ছোট জন ফাতিমা খাতুন। ছোটজনের বিয়ে হয়েছে হাজারী বাড়িতে। বড় ফুফুর বিয়ে হয়েছে গোবিন্দপুর বৈদ্য বাড়িতে।


জন মানসিকতা ও আদালতের রায় / এরশাদ মজুমদার

আমি সারা জীবন স্বাধীন ও মুক্তচিন্তার মানুষ। কিছু বলার জন্যে বা লিখার জন্যে একুশ বছর বয়সে খবরের কাগজের কাজকে পেশা হিসাবে নিয়েছি। রাস্ট্র ও সমাজের কারণে অনেক কথা মন খুলে বলতে পারিনি। পত্রিকা ও মন খুলে কিছু লিখতে দেয়না। পত্রিকাও সরকারকে ভয় করে। পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেলে, যা বলা যাচ্ছে তাও বলা যাবেনা। তাই আধা বা সিকি স্বাধীনতা নিয়েই কথা বলতে হয়। আমি নিজেও কাগজ বের করে স্বাধীন ভাবে লিখতে পারিনি। মানুষের নানা রকম বন্ধন। জীবনের বন্ধন, আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতা,সংসারের বন্ধন, রাষ্ট্রের বন্ধন। তাই মানুষ কখনই তেমন স্বাধীন ছিলনা, এখনও নেই। আল্লাহপাক বলেন, জালেমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, কিন্তু রাষ্ট্র বলে বিদ্রোহ বা বিপ্লব করলে ফাঁসী হবে। আমার মনে বহুদিনের প্রশ্ন, মানুষ বড় না রাষ্ট্র বড়? আমার মন বলে মানুষ বড়,কিন্তু রাষ্ট্র বলে আমি বড়। তবুও রাষ্ট্র মানুষকে ভয় করে। আর তাই রাষ্ট্র নিজেকে রক্ষা করার জন্যে বিভিন্ন রকম বাহিনী রাখে, অস্ত্র রাখে, আইন রাখে। সংবিধান বলে তুমিই সার্বভৌম। আল্লাহ সার্বভৌম নন। তোমার অধিকার রক্ষা করার জন্যে অনেক আইন করে দিয়েছি। সরকার বলে আমাকে মান্য করো, দেখবে তুমি পূর্ণাংগ স্বাধীন। অদৃশ্যকে না দেখেও কত বেশী ভয় করো। আর আমি দৃশ্যমান মহাশক্তিশালী রাষ্ট্র,আমাকে একটু মান্য করো। তা না হয় আমি তোমাকে হত্যা করতে পারি। খুব ভাল ভাবে মনে রাখবে তুমি আমার স্রষ্টা হলেও আমি তোমার চেয়ে অনেক বড় ও শক্তিশালী। আর আমার কাজ ও দর্শণ হলো সত্যকে হত্যা করা। সত্য নয় ,বাস্তবতা শিখো। ইতিহাসের পাতা মেলে দেখো আমি কত ভালো ভালো মানুষকে হত্যা করেছি। চলমান বিশ্বে আমেরিকা এখন মহাশক্তিধর দেশ ও রাষ্ট্র। কবি লেখক ও বুদ্ধিজীবীরা মনে করেন আমেরিকা জগতের এক নম্বর সন্ত্রাসী। তাতে আমেরিকার কিছু আসে যায়না । সন্ত্রাসী আমেরিকার দখলে হাজার হাজার আনবিক বোমা, সম্পদ ও মিথ্যা বলার জন্যে রেডিও, টেলিভিশন ও ইন্টারনেট আছে। বিশ্বব্যাপী তার রয়েছে লাখ লাখ তাবেদার। অথচ তার রয়েছে গণতন্ত্রের মুখোশ। বাংলাদেশ এখন আমেরিকার বড় তাবেদার। এদেশ প্রতিনিয়ত গণতন্ত্রের নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে। আমেরিকা ৬০এর দশকে বিশ্বব্যাপী সামরিক নেতাদের উসকানী দিয়ে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। আমেরিকাই কমিউনিষ্ট গেরিলা নেতা চে গুয়েভারাকে হত্যা করে তাঁর লাশ বা কবর লুকিয়ে রেখেছিল। ইসলামিক গেরিলা নেতা লাদেনকে হত্যা করে তার লাশ সাগরে ফেলে দিয়েছে বলে প্রচার করেছে। ৬০ এর দশকে আমেরিকা কমিউনিষ্ট ধ্বংসের জন্যে ইসলামকে ব্যবহার করেছে। এখন ইসলামকে ধ্বংস করার জন্যে গণতন্ত্র ও কমিউনিষ্টদের ব্যবহার করছে। তথাকথিত গণতন্ত্রের উত্থানের পূর্বে জগতে সীমাহীন ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন রোম, পারশ্য ও গ্রীক সম্রাটগণ। আজ তারা নেই। আমেরিকা নিশ্চয়ই এ ইতিহাস জানে। আমেরিকাকে মোকাবিলা করার জন্যে এখন চীনের উত্থান হচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত শক্তি হলো আমেরিকা, ইউরোপ,ফ্রান্স। আমরা বাধ্য হয়ে বৃটেনকে সমর্থন করেছি। কারণ আমরা ছিলাম পরাধীন। দেশপ্রেমিক হিটলার পরাজিত ও মানবজাতির শত্রু। আজও তাঁর বন্ধুদের বিচারের জন্যে বিজয়ী শক্তি চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। হাজার বছর পূর্বে বিদেশী আর্যপুত্র রামের কাছে পরাজিত হয়ে ভুমিপুত্র রাবণ রাক্ষসে পরিণত হয়েছে। রাম রাজা ও অবতারে পরিণত হয়েছেন। তিনি আজ পুজিত।
সত্যের সাথে মিথ্যার লড়াই শুরু হয়েছে সৃষ্টির শুরু থেকে। শয়তানেরও যাত্রা শুরু হয়েছে একই সময়ে। শয়তানের কাজই হলো মানুষকে বিভ্রান্ত করে অন্যায় ও মিথ্যার পথে পরিচালিত করা। শয়তানের ব্যাপারে হুঁশিয়ার থাকার জন্যে আল্লাহপাক বারবার মানুষকে নির্দেশ দিয়েছেন। সে নির্দেশ সহজে মানুষ মানতে চায়না। এক শ্রেণীর শাসক আছেন মুসলমান হলেও জালেম। নিজদেশের মানুষকে হত্যা করে, অত্যাচার করে ভীত ও বোবা করে রাখতে চায়।
মান জাতির পিতা হজরত আদমের(আ) দুই পুত্র। যিনি খোদা ভক্ত বা সত্যপন্থী তাঁকে হত্যা করেছেন যিনি শক্তিশালী। তাহলে শক্তির সাথে ন্যায় ও সত্যের লড়াই শুরু হয়েছে মানব জাতির জন্মলগ্নে। সে লড়াই আজও চলছে। তবে সত্য ও ন্যায়ের পরাজয় বা মৃত্যু কখনই হবেনা। সত্য হলো চিরঞ্জীব। কেয়ামত পর্যন্ত সত্যের মরণ নেই। তবে সব মানুষ সত্যকে চিনতে ও বুঝতে পারেনা। এথেন্সের সাধু সন্ত সত্যপ্রেমী সক্রেটিস বলেছিলেন, নিজেকে জানো বা চিনো। নো দাইসেল্ফ(Know thyself).আল্লাহর রাসুল(সা) বলেছেন, ‘মান আরাফা নাফসা, ফাক্বাদ আরাফা রাব্বা’। নিজেকে জানতে বা চিনতে পারলেই প্রভু বা খোদা/রবকে চিনতে পারবে। যে অন্তরে আলো নেই সে অন্তর নিজেকে চিনতে পারেনা। ফলে খোদাকেও চিনতে পারেনা। জগতের প্রথম শহীদ কবি হাল্লাজ বলেছিলেন,‘ আনা আল হাক্ব’। আমিই সত্য বা (I am the truth)। সিংহাসন ত্যাগী রাজপুত্র গৌতম বুদ্ধ বলেছিলেন, তোমরা আমাকে অনুসরণ করো,তাহলেই হবে। ইব্রাহীম বিন আদহাম সিংহাসন ত্যাগ করেছিলেন সত্যের সন্ধানে।
সক্রেটিসকে জীবন দিতে হয়েছিল সত্যকে রক্ষা করার জন্যে। আদালত জালেম রাষ্ট্রকে রক্ষা করার জন্যে সক্রেটিসকে হত্যা করেছিলেন। আদালত তাঁকে বলেছিলেন আপনি যদি এথেন্স ত্যাগ করেন তাহলে আমরা আপনাকে মুক্ত করে দেব। জেলার তাঁকে পালিয়ে যেতে বলেছিলেন, তিনি রাজী হননি। তিনি বলেছিলেন, আমার মৃত্যুর মাধ্যমে সত্যের মরণ হবেনা। সুতরাং আমার থাকা না থাকায় সত্যের কিছু আসে যায়না। এইতো মাত্র ক’দিন আগে আড়াই হাজার বছর পর সেই রায়কে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বলা হয়েছে,ওই রায় সত্য বিরোধী ও ন্যায়ভ্রষ্ট। মনসুর হাল্লাজকে শরিয়ত বরখেলাফের অভিযোগে মৃত্যু দন্ড দেয়া হয়েছিল। বড়ই করুণ ছিল হাল্লাজের মৃত্যুদন্ড কার্যকরের দৃশ্য। শরীরের অংগ গুলো আগে কেটে ফেলা হয়। তারপর গলায় ছুরি চালানো হয়, কারো মতে ফাঁসি দেয়া হয়। এর পরে তেল ঢেলে দেহকে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। সে খলিফার আজ আর কারো মনে নেই। কিন্তু হাল্লাজের নাম এখন বিশ্ববাসী জানে। ইরাকে হাল্লাজের বিরাট রাজ প্রাসাদের মতো মাজার আছে। ইমামে আজম হজরত আবু হানিফাকে তখনকার খলিফা দীর্ঘ আট বছর জেলে আটক রেখে হত্যা করেছেন।
আপনারা সবাই বিপ্লবী কবি কাজী নজরুলের রাজবন্দীর জবানবন্দী পড়ুন। বৃটিশের বিরুদ্ধে লড়াই করে নজরুলই প্রথম কবি ও সাংবাদিক জেলে গিয়েছিলেন। কবি নজরুল আজও আমাদের কাছে অবহেলিত। কারণ আমরা রাজশক্তির পূজারী। নোবেল বিজয়ী কবি ,জমিদার ও সওদাগর আজও মহা সম্মানিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারন কর্মচারীদের আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে বংগবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। ৬৫ বছর পর সেই বহিষ্কার আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বংগবন্ধুকে বার বার মৃত্যুদন্ডের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তিনি রাষ্ট্রদ্রোহী বা সরকার দ্রোহী হিসাবে বহু বছর জেল খেটেছেন। বৃটিশ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে যাঁরা স্বাধীনতার জন্যে লড়াই করে রাষ্ট্র বা সরকারদ্রোহী হিসাবে ফাঁসিতে জীবন দিয়েছেন তাঁরা আজ স্বাধীনতার বীর হিসাবে সম্মানিত। সে সময়েও আদালত ছিল, বিচারকও ছিলেন। তখনও আইন ছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে আইনের নতুন ব্যাখ্যা হয় এবং বিচারকেরা নতুন পরিস্থিতিতে নতুন বিচার করেন যা জনগণ অভিনন্দিত করে।। ইতিহাসেরও পরিবর্তন হয় ও নতুন ব্যাখ্যা হয়। ইংরেজরা বা ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী বাংলা দখল করেছিল ষড়যন্ত্র করে। সনাতনধর্মীরা তাদের সমর্থন দিয়েছিল। নবাব সিরাজ উদ দৌলাকে তাঁরা দেশদ্রোহী বানিয়ে হত্যা করে পুতুল নবাবকে ক্ষমতায় বসিয়ে তারা সোনার বাংলাকে দরিদ্র বাংলায় পরিণত করেছে( হান্টার ও দাদাভাই নওরোজীর বই পড়ুন)। সনাতনধর্মীদের সহযোগিতায় ইংরেজরা সারা ভারত দখল করেছিল। জালেম দুর্বৃত্ত ক্লাইভ আত্মহত্যা করে ইতিহাসের কাঠগড়ায় এখনও দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তী কালে সনাতনধর্মীরাই মুক্তিযোদ্ধা সেজেছিল, আর ইতিহাস রচিত হয়েছিল মুসলমানদের খলনায়ক বানিয়ে। বাংলাদেশেও বহু আরবী নামধারী শিক্ষিত লোক মুসলীম লীগকে ইংরেজের তাবেদার বানিয়েছে। চলমান ক্ষমতাশীন সরকার নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি বলে প্রচার করে। এখন প্রতিদিন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার নাম প্রকাশিত হচ্ছে।

ইসলামের ইতিহাসে আমরা দেখতে পাই গণমানুষের মুক্তির কথা বলার কারণে রাসুলের(সা) পরম আত্মীয়রা তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করেছে বার বার। মহাসত্যকে রক্ষা করার জন্যে তিনি মাতৃভুমি ত্যাগ বা হিজরত করে মদীনা চলে যান। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি লড়াই চালিয়ে গেছেন। আল্লাহপাকের নবী রাসুলরা সবাই মিথ্যাপন্থীদের হাতে নির্যাতিত হয়েছেন, দেশত্যাগ করেছেন।ইসলামের চার খলিফার মধ্যে তিনজনকে সত্যের শত্রুরা হত্যা করেছে। হত্যাকারীদের নাম কেউ জানেনা বা মনে রাখেনা। কিন্তু তিন খলিফাকে জগতবাসী সম্মান করে। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তির কারণে হজরত আলীর(রা) কবর ৯০ বছর গোপনে ছিল। এখন সেই কবরে লাখ লাখ ভক্ত জিয়ারত করে থাকেন। আর হত্যাকারী বিপক্ষ শক্তির কথা কেউ জানেনা। মাত্র ৪৪ বছর আগে আমাদের মাতৃভুমি স্বাধীন হয়েছে লাখ লাখ মানুষের জীবনের বিনিময়ে। এখনও শোষক, জালেম ও অত্যাচারী গণতন্ত্রের লেবাসধারীরা মানুষের উপর জুলুম চালিয়ে যাচ্ছে। তথাকথিত আধুনিক রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাতেও সিভিল ডিক্টেটর আছেন। জগত বিখ্যাত সিভিল ও মিলিটারী ডিক্টেটরদের কথা আপনারা জানেন। শক্তি ও দমনই হলো আসকদের দর্শণ। জুলুমবাজরাই নিজেদের পক্ষে ইতিহাস রচনা করায়। ইতোমধ্যেই আমাদের ইতিহাস বিকৃত হয়ে গেছে। আমাদের দেশে এখন হাজার হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। এমন কি ভুয়া সনদ দেখিয়ে অনেকেই সচীব হয়ে গেছেন। এখন দেখা যাচ্ছে ,কিছু মুক্তিযোদ্ধার দাবীদার লোক মুজিব নগরের প্রবাসী সরকারকে স্বীকৃতি দেয়না। তাঁরা বলেন মুজিবনগর সরকার কোন মুক্তিযুদ্ধই করেনি। মুক্তিযুদ্ধের উপ অধিনায়ক এ কে খোন্দকার একটা বই লিখে এখন নিন্দিত। অনেকে বলছেন,তিনি মুক্তিযুদ্ধই করেননি। এমন কি মুক্তিযুদ্ধের একজন অধিনায়ক জেনারেল জিয়াকে একদল লোক পাকিস্তানী চর বলে প্রচারনা চালাচ্ছে। মুজিব বাহিনী নামক একটি বাহিনী ছিল যাঁদের সাথে বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের কোন সম্পর্ক ছিলনা। এঁরা দিল্লী সরকারের অধীনে ছিলেন। দিল্লীর ভয় ছিল বংগবন্ধু যদি পাকিস্তানের কারাগার থেকে না আসেন তাহলে বামপন্থীরা বাংলাদেশের ক্ষমতা দখল করতে পারে।
মুক্তিযুদ্ধে দেশের কত সম্পদের ক্ষতি হয়েছে, কতলোক মারা গেছে, কত নারী নির্যাতিত হয়েছেন আজ পর্যন্ত তা কোন সরকারই নির্ণয় করেনি বা নির্ণয় করতে চায়নি। যেদেশে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য হয়না সেদেশের ইতিহাসতো বিকৃত থাকবেই। স্বাধীনতার ঘোষক নিয়েই বিতর্ক শেষ হয়না। আওয়ামী বুদ্ধিজীবী ও এক ধরনের দলদাসরা মনে করেন তাঁরা ছাড়া আর কেউ মুক্তিযুদ্ধ করেনি। চোখের দেখা মুক্তিযুদ্ধই এখন অচেনা হয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সীমাহীন মিথ্যাচার হচ্ছে। এখনতো মুক্তিযুদ্ধ তেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। এখন হলো চেতনার যুগ। আর চেতনা মানে আপনি ধর্মমুক্ত থাকবেন, আওয়ামী লীগের পক্ষে থাকবেন, গণজাগরণ মঞ্চ করবেন, ব্লগার হয়ে ইসলাম, রাসুল(সা) ও আল্লাহপাকের বিরুদ্ধে লিখবেন। আপনি মহাশক্তিশালী লতিফ সিদ্দিকীর মতো ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলে ভারতে আশ্রয় নিবেন, যেমন আশ্রয় নিয়েছেন তসলিমা নাসরিন। বাংলাদেশের গুন্ডা পান্ডারাও ভারতে আশ্রয় পায়। বহু অপরাধী রাষ্ট্রপতির ক্ষমা লাভ করেছে। তারা গুন্ডা হলেও দলদাস। তাই তারা ক্ষমা পায়।
আমাদের দেশের আদালত সম্পর্কে জনসাধারন বা ভুক্তভোগীদের মত হলো, আদালত গরীব ও ক্ষমতাহীনদের জন্যে নয়। আদালত মানে বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা। আদালত মানে বছরের পর বছর টাকা ব্যয় করার জায়গা। আদালত মানে কালো টাকার লেনদেন। আদালত মানে হাট বাজারের মতো লোকে গিজগিজ করা। এ আদালতে বহুবার গিয়েছি। কখনও মানহানির মামলায়, কখনও সরকারী কর্মচারীর কর্তব্যকর্মে বাধা দেওয়া,কখনও রাষ্ট্রের ক্ষতি করার জন্যে। এমন কি জুমাতুল বিদা’র দিন গ্রেফতার হয়ে আদালতে গিয়েছি। ছুটির দিন আদালত নেই। পরে জানতে পারলাম,একজন বিচারক আসবেন। ইফতারীর কয়েক মিনিট আগে জামিন পেয়েছিলাম।
বেশ কিছুকাল আগে, আদালত নিয়ে লিখেছিলাম যখন খায়রুল হক সাহেব প্রধান বিচারপতি ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে হক সাহেব একজন সজ্জন ব্যক্তি। কিন্তু বিচারপতি হিসাবে সুনাম কামাবার সৌভাগ্য তাঁর হয়নি। যেমন সুনাম ও সম্মান হয়েছিল, বিচারপতি বিএ সিদ্দিকী, বিচারপতি মোর্শেদ, বিচারপতি সাহাবুদ্দিন ও বিচারপতি বদরুল হায়দার সাহেবের। এখন তেমন বিচারপতি আর নেই। পাকিস্তান আমলে কায়ানী সাহেব সুনাম কামিয়েছিলেন। একবার খবরের কাগজের মাধ্যমে জানতে পারলাম, খায়রুল হক সাহেব ইয়া আদলু, ইয়া আদলু বলতে বলতে আদালতে উঠেন। অথচ তিনি যে আদালতে বসেন তা আল্লাহর আদালত নয়। বিচার ব্যবস্থাও আল্লাহ নির্দেশিত পথে নয়। একটি আইনও আল্লাহর নয়। সব আইন হচ্ছে লর্ড ক্লাইভদের।
আদলু আল্লাহপাকের একটি গুণবাচক নাম। মানে তিনি বিচারকও। আল্লাহপাক মানব জাতিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তোমরা যে অপরাধ করেছো তার হিসাব তোমাদের দেয়া হবে। দেখবে এতে এক জররাও ভুল থাকবেনা। ফেরেশতারা ছাড়াও তোমাদের অংগ প্রত্যংগই সাক্ষী দিবে তোমাদের কৃত কর্মের। তোমার অপরাধের কিতাব দেখেই নিজেই নিজের বিচার করতে পারবে। তোমাদের প্রতি এক বিন্দুও অবিচার করা হবেনা। জগতে বিচার ব্যবস্থা কি রকম হবে আর বিচারক কারা হবেন তার বর্ণনাও আলকোরাণে বর্ণিত আছে। আদল মানে ন্যায় বিচার। আল্লাহপাক বলেন, তোমরা যখন মানুষের মধ্যে বিচারকার্য পরিচালনা করবে তখন ন্যায়পরায়নতার সাথে বিচার করবে। আল্লাহ তোমাদের যে উপদেশ দেন তা কত উত্‍কৃষ্ট ( সুরা নিসা ৪:৫৮)।
হে মুমিনগণ! তোমরা ন্যায় বিচারে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত থাকবে আল্লাহর সাক্ষী স্বরূপ, যদিও তা তোমাদের নিজেদের অথবা পিতামাতা এবং আত্মীয় স্বজনের বিরুদ্ধে হয়, সে বিত্তবান হোক বা বিত্তহীন হোক আল্লাহ উভয়েরই ঘনিষ্ঠতর। সুতরাং তোমরা ন্যায় বিচার করতে প্রবৃত্তির অনুগামী হবে না। যদি তোমরা প্যাঁচালো কথা বলো অথবা পাশ কেটে যাও তবে তোমরা যা কর আল্লাহতো তার সম্যক খবর রাখেন(সুরা নিসা ৪:১৩৫)। আল্লাহর রাসুল(সা) বলেন,বিচারক তিন প্রকার। এক প্রকার বিচারক জান্নাতী হবেন। আর দুই প্রকার বিচারক জাহান্নামী হবেন। জান্নাতী বিচারক হচ্ছেন ঐ ব্যক্তি যিনি হক(সত্য) জেনে সেই মুতাবিক ফায়সালা করেন।যে ব্যক্তি হক জানা সত্বেও আদেশ দানের ক্ষেত্রে অন্যায়ের আশ্রয় গ্রহণ করেন তিনিও জাহান্নামী হবেন। যে ব্যক্তি অজ্ঞতা অবস্থায় বিচার কার্য সম্পাদন করেন তিনিও জাহান্নামী হবেন। নবীজী(সা) আরও বলেন,বিচারক অন্যায় না করা পর্যন্ত আল্লাহপাক তাঁকে সাহায্য করেন। যখন বিচারক জালেম হয়ে যান তখন তাঁকে আল্লাহ সাহায্য করেন না।
আইন কানুন যতই শক্তিশালী হোক না কেন উপযুক্ত বিচারকের উপরই এর ন্যায় কার্যকারিতা নির্ভর করে। নবীজী(সা) হজরত আলীকে(রা) ইয়ামেনের বিচারক নিযুক্ত করলে হজরত আলী(রা) বলেছিলেন,হে আল্লাহর রাসুল! আপনি আমাকে পাঠাচ্ছেন। অথচ আমার বয়স কম। বিচার সম্পর্কে আমার পূর্ব কোন অভিজ্ঞতা নেই। তখন আল্লাহর রাসুল(সা) বললেন, আল্লাহতায়ালা অচিরেই তোমার অন্তরে হিদায়েতের নুর পয়দা করে দিবেন এবং তোমার যবানকে বিচারের বিষয়ে সুদৃঢ় করে দিবেন। হজরত আলী(রা) বলেন, এর পর থেকে কখনো আমি বিচার নিষ্পত্তির ব্যাপারে দ্বিধা সংশয়ে পড়িনি।
প্রিয় পাঠকগণ, আমাদের বিচার ব্যবস্থা ও বিচারক ও বিচারক নিয়োগকারীদের সম্পর্কে একবার ভাবুন। আল্লাহ, রাসুল(সা) ও কোরআনের পথে বা ন্যায়ের পথে আমরা কতটুকু আছি। এখানে বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে। আমাদের শাসক ও বিচারকরা বলবেন, আমাদের আদালত নয়। আইন ও আদালত তৈরি করেছে দখলদার বৃটিশরা তাদের দখলদারীত্বকে শক্তিশালী করার জন্যে। সে আইন আজও জারী আছে। শাসক আর রাজার হুকুমই আইন। ইংল্যান্ডর রাজা গীর্জায় প্রবেশ করে বহু যাজককে হত্যা করেছেন। আমাদের দেশেও আদালত আক্রান্ত হয়। এসেম্বলীতে স্পীকারকে হত্যা করা হয়। ইংল্যান্ডের রাজাও স্পীকারকে হত্যা করেছেন।
আমরা দাবী করি বাংলাদেশ মুসলমানের দেশ। কারণ অধিবাসীদের ৯০ ভাগ মুসলমান। এদেশে কোন আইনই কোরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক নয়। ভারতে খোরপোষের ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্ট কোরাণের নির্দেশ মোতাবেক রায় দিয়েছেন। আর বাংলাদেশে খোরপোষ ও ফতোয়ার মামলায় আদালত কোরআন ও সুন্নাহর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। বাংলাদেশে আদালত ও বিচারকগণ সংবিধান মোতাবেক রায় দেন। আর সংবিধান মানুষকে সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী করেছে, আল্লাহকে নয়। এদেশের একজন কবি আজানের বিরুদ্ধে কবিতা লেখেন, সরকার তাঁকে পুরস্কৃত করেন। আখেরাতেই দেখা যাবে কে আল্লাহর পথে আছেন, আর কে আল্লাহ ও রাসুলের(সা) বিরুদ্ধে আছেন। হে মজলুমগণ, তোমরা ধৈর্য ধারন করো। মজলুমের আহাজারিতে খোদার আরশ কেঁপে উঠে।
লেখক: কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
ershadmz@gmail.com


সকালবেলা ৯৩

আগামী মার্চের ৮ আরিখে আমি ৭৫ বছরে পড়বো। ১৯৪০ সালের মার্চ মাসে আমি জগতে এসেছি। তার আগে কয়েক মাস আমি মায়ের গর্ভে ছিলাম। তারও আগে আমি ছিলাম রূহের জগতে । সেটা ছিল নুরের জগত। তারপর মায়ের অন্ধকার গর্ভে। আর এখন আলোহীন এ জগতে। কখন ফিরে যাবো এ ভাবনায় বিভোর আমি।
শুধু ভাবি এখানে আমার কি কাজ? বড়ই একাকী। A lone walker on a busy street.চারিদিকে এক বিকট চিত্‍কার। আর আমি শব্দহীনতায় নির্জনে বাঁচি। আমি এক গৃহহিন গৃহী। ঘর আছে, তবু ঘর নেই। জন আছে তবু জন নেই। আমার যখন ১১ বছর তখন আমার মা জগতের মায়া ছেড়ে চলে যান। ২৮ বছরে বাবা চলে যান। আমার জন্যে রেখে যান ৫ ভাই ৪ বোন। সবার ছোট ছিল নুর আহমদ। মা যখন মারা যান তখন নুরু ছিল এক দেড় বছরের। সেই নুরুই আমাকে পেছনে ফেলে চলে গেল ১৯৯৬ সালে। তার একমাত্র ছেলে নিয়াজ, বুয়েটের শ্রেষ্ঠতম ছাত্র নিয়াজ আহমদ সেও চলে গেল ২০০০ সালের এপ্রিলে।
আমি এখন একা হলেই ভাবি এখন এখানে আমার কি কাজ? এ লম্বা জীবনে মানে কি? আমার নবীজী ইমামুল মোরসালীন জগতের রহমত দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন ৬৩ বছর বয়সে আদিষ্ট সকল কাজ শেষ করে। আর আমি ৭৫ হতে চলেছি। ২০০৮ সালে হজ্ব করতে গেলে কোন এক মধ্যরাতে কে যেন আমায় ডেকে বললো ‘সীমা অতিক্রম কর’। আকাশ থেকে একটি সাদা কাপড় নেমে এসেছিল। আমি তা ধরতে পারিনি। সাদা কাপড় আবার কখন নেমে আসবে তার আশায় বসে আছি।
আমি কখনই তেমন করে দারিদ্র দেখিনি। সব সময় মনে হতো এখন যা নেই তা একটু পরেই হয়ে যাবে। যা আজ নেই তা কাল হয়ে যাবে। কোন কিছু করার জন্যে আমি কখনই হণ্যে হয়ে চেষ্টা করিনি। তবু হয়ে যেতো। বাপের বড়ছেলে তাই আদর পেয়েছি সীমাহীন। পরের ভাই বোনেরা তেমন আদর পায়নি বলেই মনে হয়েছে। ছাত্র ভাল ছিলাম, কিন্তু পড়ালেখা করতাম না। তবুই শিক্ষকরা আমায় খুবই ভালবাসতেন।
আমি প্রাইমারী বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি ১৯৪৬ সালে ফেণী মডেল স্কুলে। তখন এটাকে বারিক মিয়া সাহেবের স্কুল বলা হতো। তিনি একজন শিক্ষানুরাগী ছিলেন। ফেণী শহরের হাজারী পাড়ার মুন্সীবাড়ি ছিল তাঁর বাড়ি। পুরো পরিবারটিই ছিল শিক্ষিত পরিবার। গোবিন্দপুরের কাজী আবদুল গফুর ছিলেন স্কুলের মূল প্রাণ। তিনিই স্কুল চালাতেন। খুবই ভাল মানুষ ছিলেন। গোবিন্দপুরের বৈদ্য বাড়ি ছিল আমার বড়ফুফু আছিয়া খাতুনের শ্বশুর বাড়ি। আমার ফুফার নাম ছিল মাওলানা ইউসুফ আলী।
আমার বড় জেঠার নাম ইউসুফ আলী মজুমদার। দাদার নাম ইয়াকুব আলী মজুমদার। পিজার নাম (দাদার বাপের নাম) মনসুর আলী। দাদার দাদার নাম আতাউল্লাহ মজুমদার। দাদার গ্রামের বাড়ি ছিল বন্দুয়া ইউনিয়নের পেঁচিবাড়িয়া গ্রামের ননু মন্দার(আমজাদ আলী মজুমদার বাড়ি।


আল্লাহপাকই মানব জাতির জন্যে দিন ক্ষণ মাস বছর ও রাতদিন তৈরি করেছেন। মানুষকে দিন রাত্রির জ্ঞান দান করেছেন। এই জ্ঞান দ্বারাই মানুষ দিনক্ষণ গণনা শিখেছে। ইতিহাস রচনা করা শিখেছে। মুসলমান জ্ঞাণী গুণী ও ইতিহাসবিদগণ মানব জাতিকে ইতিহাস বিজ্ঞানের জ্ঞান দান করেছেন। ভারতে ইতিহাস বিজ্ঞানের জ্ঞান ও চর্চা নিয়ে এসেছেন মুসলমানেরা। বিশেষ করে মোঘল যুগে বিজ্ঞান সম্মত ইতিহাস রচনা শুরু হয়েছে। স্বয়ং জওহারলাল নেহেরু এ কথা বলেছেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ উদ্বোধন করার সময় প্রিন্স চার্লস বলেছিলেন, মুসলমানেরাই বৃটেন সহ ইউরোপে জ্ঞানের আলো নিয়ে গেছে। দিন বা তারিখের নিজস্ব কোন গুণ নেই। ঘটনা প্রবাহ দিন বা রাত্রিকে স্মরণীয় করে রাখে। তাই এসব দিন ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হয়। পবিত্র কোরআন নাজিলের দিনক্ষণ স্মরণীয় হয়ে আছে কোরআনের কারণে।
আমরা বিখ্যাত ব্যক্তিদের জন্ম ও মৃত্যুদিবস পালন করি। কারণ তাঁরা নিজেদের জাতিকে গৌরবান্বিত করেছেন। এক সময় মুসলমানদের মুক্তির জন্যে মুসলীম লীগ সংগ্রাম করেছে। তাই ইতিহাসে মুসলীম লীগ স্থান করে নিয়েছে। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে বিশেষ অবদান রাখার কারণে ইতিহাসে দলটি দৃঢ অবস্থান করে নিয়েছে। তাই বংগবন্ধুর জন্মও মৃত্যু দিবস পালন করা হয়। একই ভাবে আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে বা পাঠ করে বাংলাদেশের ইতিহাসে নিজেকে অমর করে করে রেখেছেন। একই ভাবে জিন্নাহ সাহেব ও গান্ধীজী ভারতের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। ইতিহাসে নিন্দিত ব্যক্তিও আছেন, যেমন জেনারেল মীরজাফর আলী খান ও ক্লাইভ। লর্ড ক্লাইভ নবাবের কোষাগার লুন্ঠন করে দোষী সাব্যস্ত হয়ে আত্মহত্যা করেন। কারবালার যুদ্ধের কারণে খলিফা ইয়াজিদ একজন মহানিন্দিত ব্যক্তি হিসাবে স্থান পেয়েছে।
ইতিহাসের এইদিনে ১৯৪০ সালে হিটলার ও মুসোলিনী ফ্লোরেন্সে এক সভায় মিলিত হয়েছিলেন। এই দুজনই ছিলেন জগত বিখ্যাত স্বেচ্ছাচারী শাসক। ১৯৪৮ সালের এইদিনে ইজরাইল তার রাষ্ট্রীয় পতাকা ডিজাইন অনুমোদন দেয়। এই তারিখেই ১৯৪৯ সালে ইহুদীবাদী নেতা নেতানিয়াহুর জন্ম হয়েছে। ১৯৪৫ সালের এইদিনে ফরাসী দেশের নারীরা ভোটাধিকার লাভ করেছেন।
ইতিহাসের কারণেই আমরা অতীতের কথা জানতে পারি। তবে আমরা যে ইতিহাস জানি তা হলো বিজয়ীর ইতিহাস। রাজার ধর্মই জনগণের ধর্মে পরিণত হয়েছে। রাজারাই কবি শিল্পী সাহিত্যিক ও ইতিহাসবিদদের রাজার পক্ষে ইতিহাস রচনা করতে বাধ্য করে থাকে। যেমন মোঘল সম্রাট আওরংজেব নাকি হিন্দু বিদ্বেষী ছিলেন বলে একশ্রেণীর ঐতিহাসিক লিখে গেছেন। অথচ তিনি ছিলেন একজন দরবেশ সম্রাট। সেলাই করে আর হাতে লিখে কোরআনের কপি করতেন এবং তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি সারা ভারতে বহু মন্দির প্রতিষ্ঠা করার জন্যে টাকা বরাদ্দ করেছেন। অপরদিকে বাদশাহ আকবর দ্বীনে ইলাহী চালু করে সনাতনধর্মীদের কাছে প্রিয় হয়েছে আর মুসলমানদের কাছে নিন্দিত হয়েছেন। ইসলামের ইতিহাসে আবু জেহেল ও আবু লাহাব দুজন মহানিন্দিত ব্যক্তি।
অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে যে, ইতিহাস কখনই নিরপেক্ষ হয়না। ত্যাগী ইতিহাসবিদ, কবি শিল্পী, সাহিত্যিকরা নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে বিদেশে অবস্থান করে সত্য ইতিহাস তৈরি করে রেখে যান আগামী দিনের সত্যান্বেষীদের জন্যে। আবার অনেকেই বলেন, সমকালে নিরপেক্ষ ইতিহাস রচনা করা যায়না। যেমন, নবাব সিরাজ উদ দৌলার ইতিহাস। বেশ কয়েকজন সনাতনধর্মী ইতিহাসবিদ ও ইংরেজ সিরাজকে কলংকিত করে ইতিহাস রচনা করেছেন। অনেক কবি সাহিত্যিকও নবাবের বিরুদ্ধে কবিতা ও সাহিত্য রচনা করেছে। কিন্তু সত্য ইতিহাস চাপা পড়েনি। মুসলমান খলিফাদের(কার্যত: বাদশাহ) আমলে বহু ইসলামিক পন্ডিত, আলেম ও স্কলারদের নির্যাতন সহ্য করে শহীদ হতে হয়েছে। এমন কি প্রতিপক্ষের আক্রোশ থেকে রক্ষা করার জন্যে জ্ঞানের দুয়ার হজরত আলীর(রা) কবর বা মকবরাকে ৯০ বছর লুকিয়ে রাখতে হয়েছে। আপনারা আসাদুল্লাহ হজরত আলীর(রা) ভাষন গ্রন্থ নাহজুল বালাগা পড়তে পারেন তাঁর জ্ঞানের গভীরতা জানার জন্যে। আমাদের মানে হানাফী মজহাবের ইমামে আজম হজরত আবু হানিফার জীবনী পড়ুন। তখনকার মুসলমান খলিফা তাঁকে নির্যাতন হত্যা করেছেন। ইতিহাসের প্রথম মরমী কবি মনসুর হাল্লাজকেও হত্যা করেছেন তখনকার খলিফা। যদিও খলিফার মা হাল্লাজের পক্ষ হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। বলা হয় শুধুমাত্র শরিয়ত রক্ষা করার জন্যে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে ইংল্যান্ডের রাজা অনেক ধর্মযাজককে হত্যা করেছেন। একই কারণে মহাজ্ঞানী সক্রেটিসকেও হত্যা করা হয়েছে। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কারণে কোটি কোটি মানুষকে জগতের ক্ষমতাবানরা। মানবজাতির ইতিহাস এভাবেই কলংকিত হয়ে আছে।
যে ভারত মুসলমান শাসকগণ শাসন করেছেন এক হাজার বছরের মতো, সেই ভারতকে মুসলমান নেতারা কখনই খন্ডিত করতে চায়নি। চেয়েছেন গান্ধীজী, গোখলে,প্যাটেল ও নেহেরুজী। আর তাঁদের সহযোগিতা করেছেন ইংরেজ শাসকগণ। মুসলমান নেতারা বাধ্য হয়ে পাকিস্তান নাম একটি আলাদা রাষ্ট্রের দাবী করেছেন। কংগ্রেস নেতারা যদি একটু সহনশীল হতেন তাহলে ভারত বিভক্ত হতোনা। কিন্তু বিভক্ত ভারতের জন্যে দায়ী করা হলো মুসলমানদের। এমন কি বাংলাদেশে এখনও মুসলমান স্বার্থ বিরোধী কিছু আরবী নামধারী রাজনীতিক ও দলদাস বুদ্ধিজীবী আছেন যাঁরা ভারত ও বংগদেশ বিভক্তির জন্যে মুসলমানদের দায়ী করে থাকেন। বাংলাদেশে মুসলমান মেজরিটি বাস্তবতায় যাঁরা বিশ্বাস করেন না, তাঁরা মনে করেন বাংলাদেশ বাংগালীদের দেশ। এদেশে ধর্মীয় মেজরিটির স্বার্থ রক্ষাকে তাঁরা সাম্প্রদায়িকতা মনে করেন। এর মানে তাঁরা ৯০ ভাগ মুসলমান আর ১০ ভাগ ভিন্নধর্মীকে এক মনে করেন। তাঁরা বলেন, বাংগালিত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। ফলে তাঁদের কাছে বাংলাদেশ মুসলমানের দেশ নয়। ভারতের দর্শনই তাঁদের দর্শন। ভারত বাংলাদেশকে শুধুমাত্র বাংগালীর দেশ হিসাবে দেখতে চায়। এর মানে মেজরিটি হিসাবে মুসলমানদের কোন গুরুত্ব থাকবেনা। আমাদের বাপদাদারা মুসলমানদের এগিয়ে নেয়ার জন্যে রাজনীতি করেছেন আর এখন তাঁদের নাতিপুতিরা ধর্মমুক্ত বা ধর্ম বিরোধী অবস্থানে থাকতে পছন্দ করেন। মেজরিটি মানুষের স্বার্থ ত্যাগ করে মাইনরিটির স্বার্থ রক্ষার জন্যে উঠে পড়ে লেগেছেন। চলমান সরকার রাষ্ট্রকে ধর্মমুক্ত রাখার জন্যে কাজ করে যাচ্ছেন। সংবিধানকে আল্লাহ মুক্ত করেছেন। আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসুলকে(সা) গালি দিলে সরকারের তেমন শক্তিশালী কোন প্রতিক্রিয়া হয়না। ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের সমালোচনা বা ব্যংগ করলে শাস্তি হয়। আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলের(সা) বিরুদ্ধে ব্লগ লিখে রাজীব নামের এক যুবক নিহত হলে সরকারের মন্ত্রী বলেছেন,দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রথম শহীদ। মন্ত্রীর কাছে শহীদ মানে হলো রাজনৈতিক গুন্ডা পান্ডা ও দলদাস হলেই শহীদ হবে। ইসলামে শহীদ মানে ধর্ম রক্ষায়,আল্লাহ নির্ধারিত পথে চলতে গিয়ে জীবন দান করলে শহীদ হওয়া যায়। রাজনীতিতে ধর্মদ্রোহীদেরও মর্যাদা থাকতে পারেন। জগতে ৭শ কোটি মানুষ থাকলে তার ৯৯ ভাগ মানুষই ধর্মে বিশ্বাস করেন। হয়ত অনেকেই পূর্ণাংগ চর্চা করেন না। কিন্তু খোদা বা তাঁর নবী রাসুলদের অমান্য বা অস্বীকার করেন না। তবে মোনাফেক থাকতে পারেন। আমি সব সময় বলে আসছি, বাংলাদেশে ইংরেজী শিক্ষিত ও অর্ধ শিক্ষিত কিছু মানুষ ধর্ম নিয়ে বিতর্ক করেন। বাংলাদেশের রাজনীতিকদের বেশীর ভাগই সুবিধাবাদী। তাঁদের আদর্শ দর্শন হলো যেভাবেই হোক ভোট আদায় করে ক্ষমতায় যাওয়া। ফলে বাংলাদেশ একটি আদর্শবিহীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। বংগবন্ধুর প্রথম জীবনে রাজনীতি শুরু করেছিলেন একজন মুসলমান হিসাবে। সনাতনধর্মীদের অত্যাচার তিনি এবং তাঁর পরিবার প্রত্যক্ষ করেছেন। রমাপদের মিথ্যা মামলায় তিনি জীবনে প্রথম জেলে যান। পাকিস্তান সৃষ্টির পর তিনি দেখলেন, সাধারন মুসলমানের স্বার্থ রক্ষা হচ্ছেনা তখন তিনি মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে আওয়ামী মুসলীম গঠন করেন। জীবনে শেষদিন পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার সংগ্রাম করে গেছেন। ফলে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের একচ্ছত্র নেতায় পরিণত হয়েছিলেন।

বাংলাদেশের রাজনীতি, সংস্কৃতি, আদব কায়দা, চলন বলন, ইতিহাস আজ খোলাখুলি ভাবেই দুই ভাগে বিভক্ত। এক ভাগ ধর্মমুক্ত রাষ্ট্রের পক্ষে, অপর ভাগ ধর্মযুক্ত রাষ্ট্র ও রাজনীতির পক্ষে। এক ভাগ সংবিধানকে ধর্ম ও আল্লাহমুক্ত রাখতে চায় যারা নিজেকে শুধুই বাংগালী মনে করে। এঁরা মনে করেন ধর্ম ব্যক্তিগত, রাষ্ট্র সবার। আরেক ভাগ নিজেদের বাংগালী মুসলমান করেন। তাঁরা ভৌগলিক ও ধর্মীয় কারণে নিজেদের বাংলাদেশী মনে করেন। ধর্মীয় কারণে নয়,শোষিত ও নির্যাতিত মাইনরিটির(মুসলমান) স্বার্থ রক্ষার জন্যে পাকিস্তান সৃষ্টি ।আর ৭১ সালে অর্থনৈতিক শোষণের কারণে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে। যদিও দৃশ্যত মনে হয় ভারত খন্ডিত হয়েছে ধর্মের ভিত্তিতে। এখানে ইসলাম বা মুসলমানের কোন বিষয় ছিলনা। ইসলাম বা মুসলমানিত্ব কাউকে বা দূর্বলকে শোষণের অধিকার দেয়না। রাষ্ট্রের ক্ষমতা ব্যবহার করে যখন ক্ষমতাবানরা মানুষের অধিকার হরণ করে ও অত্যাচার করে তখন জনসাধারন কি করে? ভারত পাকিস্তান ও বাংলাদেশে এখনও শোষণ ও অত্যাচার অব্যাহত আছে। কখনও ধর্মের নামে, আর কখনও গণতন্ত্র রক্ষার নামে। ক্ষমতাসীন জোট বা দল নিজেদের ভাষা ভিত্তিক জাতি ও নাগরিক মনে করেন। এঁরা আরবী নামের নাগরিক। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা ধর্মীয় মেজরিটির রাজনীতিতে এঁরা বিশ্বাস করেন না। ধর্মমুক্ত রাজনীতিতে বিশ্বাস না করলেই আপনি জেহাদী, সন্ত্রাসী,মৌলবাদী, গোঁড়া বলে চিহ্ণিত হবেন আর সরকার(বৈধ বা অবৈধ)যাই হোক, রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার নামে আপনার উপর অত্যাচার চালাবে। আপনাকে রাষ্ট্রদ্রোহী বলে আখ্যায়িত করবে। ধর্ম চর্চার স্বাধীনতা ও অধিকার বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। তবুও ইসলাম আজ বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত। মুসলমানেরাই টেররিষ্ট। ধর্মমুক্তরা রাজনীতির কারণে আল্লাহু আকবর না বলে আল্লাহ সর্বশক্তিমান বলে থাকেন। এঁরা আল্লাহর সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস না করে মানুষের সার্বভৌমত্ব বিশ্বাস করেন। যাঁদের কোরআন ও রাসুলে(সা) বিশ্বাস তেমন দৃঢ় নয় তাঁরাই আল্লাহর সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করেন না। এসব মৌলিক বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য না থাকায় রাজনৈতিক দ্বন্ধ দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। ক্ষমতাশীন সরকার ও নেতারা ব্যক্তিগত জীবনে ও পারিবারিক জীবনে ধর্ম চর্চা করেন বলে বহুল প্রচারিত, কিন্তু সরকার ও রাষ্ট্রীয় জীবনে তাঁরা ধর্মমুক্ত। ক্ষমতাশীনরা তাঁদের রাজনৈতিক দর্শনকে স্থায়ী রূপ দান করার জন্যেই ক্ষমতায় থাকতে চান। তাও আবার গণতন্ত্রের নামাবলী গায়ে দিয়ে। তাঁদের এই দর্শনকে শক্তিশালী সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে দিল্লী সরকার। ধর্মীয় রাজনৈতিক দল বিজেপি তাঁদের রাষ্ট্রীয় দর্শনের কারণেই ক্ষমতাশীনদের জোর করে, ব্ল্যাকমেইল করে ক্ষমতায় রাখতে চায়। ক্ষমতাশীনরা ওদের সেবাদাসের ভুমিকা পালন করছে।
ধর্মমুক্ত রাজনীতিতে বিশ্বাসীরা ১৯৯৬ সালে কেয়াটেকার সরকার প্রতিষ্ঠা করার জন্যে বাসে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে, চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধ করেছে, বিমান অফিস ধ্বংস করেছে , চট্টগ্রাম রেল ষ্টেশনে আগুন দিয়েছে,নির্বাচনের দিন কারফিউ ঘোষণা দিয়েছে তাঁরা আজ সাধু হয়ে গেছে। সেই একই গ্রুপ বা দল ও গোষ্ঠি ২০০৬ সালে খুন খারাবী করে অন্যায় ভাবে শক্তি প্রয়োগ করে বাংলাদেশে নৈরাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিল। ২০০৬ সালের ২৮শে অক্টোবরে ধর্মমুক্ত রাজনীতির নেতা ও গুরুদের আহ্বানে তাঁর দলীয় কর্মীরা সকাল ১১টায় লগী বৈঠা নিয়ে প্রতিপক্ষ দলের রাজনৈতিক কর্মীদের সশস্ত্র হামলা চালিয়ে অনেক কর্মীকে হত্যা করে ও বহু মানুষকে জখম করে পংগু করে দেয়। তার বিচার আজও হয়নি। কেন হয়নি বা হচ্ছেনা দেশবাসী ভাল করেই জানেন। সারা বিশ্ব এমন নৃশংস হত্যাকান্ডের দৃশ্য টিভির মাধ্যমে দেখতে পেয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিপক্ষ দল বা মতকে হত্যা করার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে ২৮শে অক্টোবর। ধর্মহীন আরবী নামধারী আর সনাতনীরা মনে করেন শক্তিই আসল ক্ষমতার উত্‍স। শক্তি ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মেজরিটিকে দমন করে রাখা যায়। ষড়যন্ত্রের কারণেই ক্লাইভ নবাবের ৫০ হাজার সৈন্যকে পরাজিত করতে পেরেছিলেন। কারণ, ক্লাইভ অখন্ড জাতিকে হিন্দু মুসলমানে বিভক্ত করতে পেরেছিল।
ক্ষমতাশীন দল বা জোটের সৃষ্ট সেই নৈরাজ্যকর অবস্থার অদৃশ্য ও পিছনের শক্তিরা পরে ভারতের সহযোগিতায় রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতিকে ধ্বংস করে। আজ তারা পরবাসী। তখন দিল্লীর খাস প্রতিনিধি পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী বাংলাদেশের আভ্যন্তরীন বিষয় দেখাশুনা করতেন। জেনারেল মইন তখন নানা ধরণের নাটক করে শেষ পর্য্ন্ত ২০০৮ সালের তথাকথিত নির্বাচন করেন আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসাবার জন্যে। যেমন লর্ড ক্লাইভ দৃশ্যত কিছু বেঈমান মুসলমান ও সনাতন ধর্মীদের হাত করে পলাশীর যুদ্ধের নাটক বানিয়েছিল। সেই নাটকে জেনারেল মীরজাফর আলী খানকে গদিতে বসানো হয়। লর্ড ক্লাইভ কোম্পানীর সদর দফতরের অনুমতি ছাড়া রাজনৈতিক খেলা খেলেছিল। ফলে ক্লাইভের শাস্তি হয়েছিল। তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে জেনারেল মঈন দিল্লীর পরামর্শ ও সহযোগিতায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেছিলেন। জেনারেল মঈনকে স্থানীয়ভাবে সমর্থন করেছিলেন দিল্লীর অনুগত ও সেবাদাস কিছু দল ও গোষ্ঠি। ভারতের সেবাদাস জেনারেল মঈনের মূল লক্ষ্য ছিল জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করা ভারতের অনুগত রাজনৈতিক দল ও নেতাদের চিরস্থায়ী ভাবে ক্ষমতায় বাসানো। সে সময়ে মঈন নিজেই তাঁর অবৈধ অধিকৃত ক্ষমতা বলে নিজেকে প্রতিমন্ত্রী বানিয়ে দিল্লীতে লাল গালিচার সম্বর্ধনা ও ৬টি ঘোড়া উপহার পেয়েছিলেন। জেনারেল আইউবও নিজেকে ফিল্ড মার্শাল প্রেসিডেন্ট ঘোণা করেছিলেন। ৮২ সালে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে উচ্ছেদ করে ক্ষমতায় এসে জেনারেল এরশাদ বলেছিলেন তিনি দিল্লীর সাথে কথা বলেই ক্ষমতা দখল করেছিলেন। আওয়ামী লীগ বলেছিলো তাঁরা অসন্তুষ্ট নন। ভারতের কাগজ লিখেছিল ‘বন্দুকের নলে প্রজাপতি’। ২০০৮ সালে দিল্লীর সেবাদাসরা ক্ষমতা দখল করে জেনারেল মইনকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন।
আবার ভারতের পরামর্শেই সেবাদাসরা ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারী বশংবদ নির্বাচন কমিশন দিয়ে ভোটার বিহীন নির্বাচন করেন। সে সময়ে সরকারী হিসাব মোতাবেক ৮০ ভাগ ভোটার নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেননি। ১৫৪ জন বিনা ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ধর্মমুক্ত দল ও জোট এখন ক্ষমতায় আছে সেই ভাটার বিহীন নির্বাচনের জোরে। আমাদের মহা পবিত্র ধর্মমুক্ত সংবিধান বিনা ভোট নির্বাচিত হওয়ার সে তাঁদের সে অধিকার দিয়েছে। ভোট লাগবেনা, শুধু গণতন্ত্রের নামাবলী থাকলেই চলবে। যে কোন উপায়েই হোক,প্রধানমন্ত্রীর পদটা পেলেইতো সাংবিধানিক ভাবেই একজন মোঘল/ রোমান / পারস্য বা রাশিয়ার জার সম্রাট। ২০১৩ সালে গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমনের নামে রাষ্ট্র কয়েকশ’নাগরিককে হত্যা করেছে। এখন বলা হচ্ছে রাষ্ট্র ও জনগণকে রক্ষা করার জন্যেই তা করা হয়েছে। বাংলাদেশের ধর্মমুক্ত/ধর্মহীন দল ও জোট নেতারা হলেন বৈদিক যুগের আর্যঋষিদের মতো। তাঁরাই ভুমিপুত্র দেশপ্রেমিকদের রাক্ষস বানিয়েছেন। তাঁদের বিপক্ষ শক্তিকে শুদ্র বা অর্ধ মানবে পরিণত করেছে। আর্য ক্ষত্রিয় নেতা রাজা দশরথের পুত্র রামকে রাজা ও দেবতায় পরিণত করেছে। বাংলাদেশে এখন সেই রাজনীতির ধারা চালু হয়েছে।
লেখক:কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
ershadmz@gmail.com

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Join 317 other followers