Feeds:
Posts
Comments

লালন কবি শুধু বাংলাদেশের নন। তিনি আধ্যাত্ববাদ বা মারিফাতের একজন গুরু। তিনিই বলেছেন, ‘মানব জমিন রইলো পতিত’। এর মানে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন মানুষ নিজেকে আবিষ্কার করতে পারেনি। আমি বিগত দুই যুগ ধরে বলে আসছি বায়াদলিলের কথা। লোকে পড়ে আর শোনে, কিন্তু অন্তরে ধারণ করেনা। লোকে মুখে মুখে বলে বাংলাদেশে ১৫ কোটি মুসলমান আছে। আর আমি বলি আরবী নামধারী কিছু মানুষ। নাম আরবী হলেও একজন মানুষ মুসলমান নাও হতে পারে। আরবদেশ গুলোতে বহু অমুসলমান আছে যাদের নাম আরবী। আবার বহু মানুষ আছেন যারা আল্লাহ, রাসুল(সা),কোরআন মানেন। কিন্তু তাঁদের অন্তরে এই মানাটাকে গভীর ভাবে অনুধাবন করেন না। শুনেছি, আমেরিকান মুসলীম ধর্ম যাজক লুই ফারাহ খান বাংলাদেশে এসে বলেছিলেন, শুক্রবারে মসজিদে লোক উপচে পড়ে। মসজিদে জায়গা হয়না বিধায় লোকে রাস্তায় নামাজ পড়ে। বাংলাদেশকে লোকে মসজিদের দেশ বলে। আর রাজধানী ঢাকাকে মসজিদের নগরী বলে। প্রতিদন নতুন নতুন মসজিদ স্থাপিত হচ্ছে। অথচ এদেশের মানুষ সীমাহীন ভাবে গরীব ও নিরক্ষর। ইসলাম দারিদ্র ও অশিক্ষাকে ঘৃণা করে। দারিদ্র মানুষ কুফরির দিকে টেনে নেয়। মহাকবি আল্লামা ইকবাল বলেছেন,শেখ(ধনী) রাতারাতি মসজিদ বানিয়ে ফেলেছেন, কিন্তু কখনই নামাজী হতে পারেননি।


আমার শিক্ষক মুসা ভাই / এরশাদ মজুমদার
কথার কথা নয় বা সামাজিকতা নয়। মুসা ভাই সত্যিই আমার সাংবাদিকতার শিক্ষক ছিলেন। ১৯৬১ সালের অক্টোবর মাসে আমি পাকিস্তান অবজারে নবীশ ইকনমিক রিপোর্টার হিসাবে যোগ দেই। তখন মুসা ভাই লন্ডনে ছিলেন সাংবাদিকতায় উচ্চতর শিক্ষা গ্রহনের জন্যে। বার্তা সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন মাহবুব জামাল জাহেদী সাহেব। জাহেদী সাহেব প্রখ্যাত সিভিল সার্ভেন্ট মীজানুর রহমান সাহেবের ছেলে। মিজান সাহেব এক সময় ফেণীর মহকুমা হাকিম বা এসডিও ছিলেন।মিজান সাহেবের নামে ফেণীতে মিজান ময়দান নামে একটি ঈদগাহ আছে এখনও। মিজান সাহেবই ফেণীতে কামাল আতাতুর্ক হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
মুসা সাহেব লন্ডন থেকে ফিরে এলে জাহেদী সাহেব এডিটোরিয়ালে চলে যান। পরে তিনি করাচীর ডন পত্রিকায় যোগ দিয়েছিলেন। আমি তখনও শিক্ষানবীশ। অবজারভারের অর্থনৈতিক বা বাণিজ্য পাতার দায়িত্বে ছিলেন শামসুল হুদা সাহেব। ইনি ছিলেন অমায়িক মানুষ। একই সময়ে তিনি তুলারাম কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ছিলেন। হুদা সাহেবের আদর যত্নেই আমি কাজ শিখেছি। সে সময়ে অবজারভারে নামজাদা সাংবাদিকরা কাজ করতেন। বিদ্যাবুদ্ধিতে সবাই ছিলেন চৌকস। আমি ছিলাম সবচেয়ে কম পড়ালেখা জানা। সেজন্যে সব সময়ে আমি সব সময় ভীত থাকতাম। সে ভয় আমার আজও যায়নি। কিছু লিখলেই মনে হয় তেমন ভাল হয়নি। আমার কপি গুলো দেখে দিতেন বেবী ভাই। তাঁর পুরো নাম সৈয়দ মাহবুব আলম চৌধুরী। এ রকম মিষ্টি মানুষ আমাদের সমাজে এখন খুবই কম। প্রাসংগিক নাম গুলো উল্লেখ করলাম তখনকার সময়কে পাঠকদের কাছে তুলে ধরার জন্যে।
মুসা ভাইয়ের মতো ডাকসাইটে নিউজ এডিটর সারা পাকিস্তানে আর কেউ ছিলেন না। তাঁর হাতে যাঁরা পড়েছেন কাজ শিখতে তাঁরা বাধ্য। না হয় কাজ ছেড়ে চলে যেতে হতো। আগেই বলেছি আমি নবীশ ইকনমিক রিপোর্টার হিসাবে কাজ করতাম। তখন বাংলা কাগজে অর্থনৈতিক সাংবাদিকতা হতোনা বললেই চলে। মর্ণিং নিউজে আরশাদ সাহেব অর্থনৈতিক পাতার দায়িত্বে ছিলেন।আর আজাদ ছিলেন রিপোর্টার। দুজনই খুব ভাল মানুষ ছিলেন। আমি তাঁদের অনেক জুনিয়র। কিন্তু কাজ করতে হতো তাঁদের সাথে। মর্ণিং নিউজের অর্থনৈতিক রিপোর্টিং ছিল সরকার ঘেঁষা। ফলে ইকনমিক ডিসপ্যারিটি তারা কোন কথা বলতোনা। অবজারভার ছিল পূর্ব পশ্চিমের ইকনমিক ডিসপ্যারিটির মুখপাত্র। বাংলা কাগজ গুলো এ ব্যাপারে পিছিয়ে ছিল। বিলেত থেকে ফিরে এসে মুসা ভাই অবজারভারের ম্যাকআপ ও ফটো এডিটিংয়ে আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসলেন। কাগজের চেহারা বদলে গেল। এর আগে অন্যান্য কাগজের বার্তা সম্পাদকেরা ওই ট্রেনিং এসেছিলেন। মুসা ভাই ছাড়া আর কেউ ট্রেনিং কাজে লাগাননি বা লাগাতে পারেননি। মুসা ভাই ছিলেন খুবই ইনোভেটিভ ও ক্রিয়েটিভ। ফলে পাকিস্তান আমল থেকেই তিনি সাংবাদিক হিসাবে এ দেশের অনেক পরিবর্তনে তাঁর অবদান রয়েছে।
গাড়িতে বাংলা নাম্বার প্লেট চালু করিয়েছিলেন তিনি। যতদূর শুনেছি, ঘটনাটা এ রকম। জগত বীক্যাত সাঁতারু ব্রজেন দাস মুসা ভাইয়ের বন্ধু। সাঁতারু ব্রজেন দাসকে প্রমোট বা উত্‍সাহিত করেছেন মুসা ভাই। ইংলিশ চ্যানেল ক্রস করে দেশে ফিরার সময় ব্রজেন দাস একটি নতুন সিংগার গাড়ি নিয়ে এসেছিলেন। ঢাকার রাস্তায় সম্ভবত এটাই ছিল প্রথম সিংগার গাড়ি। মুসা ভাই ঘটনাটা অর্গেনাইজ করেছিলেন। বাংলায় নাম্বার প্লেট লাগিয়ে ব্রজেন দাস রাস্তায় নেমেছেন। তখনও বাংলায় নাম্বার প্লেট লাগানোর আইন চালু হয়নি। একজন ট্রাফিক সার্জেন্টকে ঠিক করা হয়েছিল ব্রজেন দাসের গাড়িকে তিনি আটকাবেন বাংলা নাম্বার প্লেট লাগাবার অপরাধে। আমার বাল্যবন্ধু মোয়াজ্জেম হোসেন বুলুকে বলা হয়েছিল ছবি তোলার জন্যে। স্থান কাল পাত্র সবই ঠিক। যথারীতি ঘটনা ঘটলো। পরেরদিন ছবি সহ খবরটি ছাপা হয়েছিল। সরকার সেদিনই প্রেসনোট দিয়ে জানালো যে, বাংলায় নাম্বার প্লেট লাগানো যাবে। একই ভাবে সাইনবোর্ডে বাংলা ব্যবহারের আন্দোলনও তিনি চালু করেছিলেন।
তাসখন্দে ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যুর খবরটি অবজারভার ছাড়া সারা পাকিস্তানের অন্য কোন কাগজ ছাপতে পারেনি। মুসা ভাইয়ের অভ্যাস ছিল কাগজ ছাপা শুরু হওয়ার খবর না জেনে শুতে যেতেন না। প্রাদেশিক রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকার হাল হকিকত পাঠকদের জানাবার জন্যে একটি সিরিজ চালু করেছিলেন। সে সিরিজের নাম ছিল ‘মিষ্টার অবজারভার ভিজিটস ইউর এরিয়া’। এর ফলে অবজারভারের সার্কুলেশন বেড়ে গিয়েছিল। কাগজের জনপ্রিয়তাও বেড়ে গিয়েছিল।
খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে পত্রিকার মালিক হামিদুল হক চৌধুরী ও সম্পাদক আবদুস সালাম বার্তা সম্পাদক হিসাবে হিসাবে মুসা ভাইকে যোলয়ানা স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। বার্তা বিভাগে সাংবাদিক নিয়োগের ক্ষেত্রেও মুসা সাহেবের কথাই শেষ কথা ছিল। মন্ত্রী বা সরকারী নেতাদের খবর বা ছবি ছাপা বা না ছাপার ব্যাপারে মুসা ভাইয়ের সিদ্ধান্তই ফাইনাল ছিল। বার্তা বিভাগে যাঁরা কাজ করতেন তাঁরা সবাই একটু বাম রাজনীতি ও চিন্তার ঘরানার লোক ছিলেন। মুসা ভাই নিজেও বাম ঘরাণার লোক ছিলেন। বংগবন্ধুর সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণেই তিনি ৭৩ সালে জাতীয় সংসদের সদস্য হয়েছিলেন। বংগবন্ধু চারজন সিনিয়ার সাংবাদিককে খুবই ভালবাসতেন। এনরা হলেন, মুসা ভাই, ফয়েজ ভাই, মুকুল ভাই(এম আর আখতার মুকুল) ও গাফফার ভাই। ৬০ সাল থেকেই এঁরা বংগবন্ধুকে সমর্থন করতে ছিলেন। পূর্ব পাকিস্তানের পক্ষে কথা বলার জন্যে তখন বংগবন্ধুই একমাত্র নেতায় পরিণত হয়েছিলেন। বাংলাদেশ হওয়ার পর চারজনই বংগবন্ধুর আনুকুল্য লাভ করেছেন।
মুসা ভাই সাংবাদিক হিসাবে সারা জীবন গণ মানুষের স্বার্থের পক্ষে ছিলেন। গণ বিরোধী কোন খবর তিনি প্রকাশ করতেন না। তিনি সময় প্রতিবাদী চরিত্রের মানুষ ছিলেন। এ কারণেই আমি সব সময় মুসা ভাইয়ের ভক্ত ছিলাম। মুসা ভাইয়ের লেখা ‘আমার মুজিব ভাই’ বইতি পড়ে আমি সমালোচনা করে একটি কলাম তৈরি করেছিলাম। যা নয়া দিগন্তে ছাপা হয়েছিল। প্রকাশিত হওয়ার পর আমি ভয়ে ভয়ে ছিলাম মুসা ভাইয়ের সামনে পড়লে আমার কি অবস্থা হবে। একদিন ক্লাবে তাঁর সাথে দেখা হয়ে গেলে আমি পালবার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তিনি ডাক দিলেন এবং বললেন,‘মন্দার তোঁয়ার লেখা পড়েছি’। আর কিছু বললেন না। তাঁর লেখার সমালোচনা করলে তিনি হাসতে হাসতে বলতেন,‘হড়স কা’। তিনি সব সময় আমার মুরুব্বী ছিলেন। ১৯৭৭ সালে সাপ্তাহিক নিউ নেশনের উপদেষ্টা হওয়ার পর আমাকে ডাক দিয়ে জানতে চাইলেন ,আমি নিউ নেশনে কাজ করবো কিনা। আমি না করতে পারিনি।
একদিন প্রেসক্লাবে দেখা হলে বললেন, মন্দার তুঁই সব সেমিনারেই আঁর কথা এত বেশী কিল্লে ক? আমি বললাম আমি আপনার কথা ভুলতে পারিনা। মুসা ভাই স্কুলে জীবনে ফেণীতে তাঁর ছোট মামা আবদুল অদুদ সাহেবের বাসায় থেকে পড়ালেখা করেছেন। অদুদ সাহেব ছিলেন একজন নামজাদা আইনজীবী। আমার বাল্যবন্ধু মোয়াজ্জেম হোসেন বুলুর বাবা। তিনি এশিয়ার দার্শনিক সম্পাদক আবদুস সালাম সাহেবের ছোট ভাই। মুসা ভাই স্কুল জীবনেই রাজনীতির সাথে জড়িত হন। তিনি ফেণীর প্রখ্যাত রাজনীতি্বিদ খাজা আহমদ সাহেবের সাথে কাজ করতেন।
এ দেশের ক্রীড়া জগতেও মুসা ভাইয়ের বড় অবদান রয়েছে। তিনি ব্রাদার্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। শুনেছি তিনি স্পোর্স রিপোর্টার হিসাবে সাংবাদিকতা শুরু করেছিলেন। অবজারভারে যোগ দেয়ার পর আমি মাঝে মাঝে সালাম সাহেবের নাসিরুদ্দিন লেনের বাড়িতে বুলুর সাথে থাকতাম।
পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের ডিসপ্যারিটি বা অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রধাম মুখপত্র ছিল অবজারভার। সোজা ভাষায় বলতে গেলে মুসা ভাই বার্তা সম্পাদক হিসাবে ডিসপ্যারিটি বিষয়ক রিপোর্ট গুলোকে প্রায়ই লীড ষ্টােরি করতেন। বংগবন্ধু অবজারভারের রিপোর্টকে তাঁর জনসভার ভাষণের প্রধান উপাত্ত মনে করতেন। অবজারভারের নীতিই ছিল পূর্ব পশ্চিমের ডিসপ্যারিটিকে জনগণের সামনে তুলে ধরা। এ কারণেই অবজারভার ছিল সারা পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান জনপ্রিয় কাগজ।
লেখক:কবি ও ঐতিহ্য গবেষক


বাংলাদেশ জিন্দাবাদ ও জয় সাহেবের জয়বাংলা শ্লোগাণ / এরশাদ মজুমদার

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে রাজনীতিতে যে ধরণের ভাষা ও অংগ ভংগী চালু হয়েছে তা নিয়ে আগামী দিনের গবেষকরা কি ভাবে বিচার বিশ্লেষণ করবেন তা এখন থেকেই কিছুটা আন্দাজ করা যায়। তবে রাজা বাদশাহ ও শাসকদের জীবিত কালে যে ইতিহাস বা সাহিত্য রচিত হয় তার ৮০/৯০ ভাগই তোষামোদী। যেমন ধরুণ, রামায়ন মহাভারতের কাহিনী। তখনকার দিনে কবি সাহিত্যিকরা সাধারন মানুষের কথা তেমন বলতেন না। রাজা বাদশাহ বা শাসকদের কাহিনীই ছিল দেশের কাহিনী। রাম একজন বিদেশী রাজা। তিনি ভুমিপুত্র বা স্বাদেশী রাজাকে পরাজিত করে এদেশ দখল করেছেন। কবিরা রামকে দেবতা বানিয়ে মহাকা্ব্য রচনা করেছেন। রাবণ বা মহিষাশূরকে বানিয়েছেন রাক্ষস বা গণশত্রু। তাই বিজয়ী দূর্গাকে বানানো হয়েছে দেবী। মহিষাশূরের স্থান হয়েছে দেবীর পদতলে।
বাংলাদেশের চলমান সময়ে শক্তিধর নেতাদের জীবনী বা তাঁদের কর্ম নিয়ে লিখতে গেছে তোষামোদী করা ছাড়া কোন উপায় নেই। কিছু মানুষ আছে জন্মগত ভাবেই তোষামোদী করে ভাগ্যের পরিবর্তন করে। রামায়ন মহাভারতও তেমনি দুটি মহাকাব্য। যা এখন ব্রাহ্মণদের কল্যাণে ধর্মগ্রন্থের রূপ ও মর্যাদা লাভ করেছে। তাই বলা হয় সমকাল নিয়ে তখনি ইতিহাস রচনা করা যায়না। তোষামোদরা যে সব বা ইতিহাস রচনা করেন তা হয়ত আগামী দিনে কেউ এগিয়ে এসে বলবে ইতিহাসকে পূণর্মূল্যায়ন বা পূণর্নির্মান করতে হবে। ইতিহাসকে শোধরানোও যেতে পারে।
অখন্ড ভারতের ইতিহাসে দুই মহানায়ক হচ্ছেন নবাব সিরাজ উদ দৌলা ও বাহাদুর শাহ জাফর। ষড়যন্ত্রের পলাশী যুদ্ধে নবাব সিরাজকে হারিয়ে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী অখন্ড বাংলাদেশ দখল করে শুধুমাত্র তাদের ব্যবসায়ী স্বার্থ রক্ষা করার জন্যে। শুল্কমুক্ত অবাধ ব্যবসা করার জন্যেই কোম্পানী নবাবের কিছু পারিষদ , বড় ব্যবসায়ী ও ব্যান্কারকে হাত করে নবাবকে যুদ্ধে পরাজিত করে ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন। শুরু হলো ভারতের পরাজয়ের দিন। ১৮৫৮ সালে তারা দিল্লী দখল করে। এই একশ’বছর ইংরেজ বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্যে দেশ প্রেমিক মুসলমানেরা। হিন্দুরা রাজা মহারাজা ও প্রভাবশালীরা মনে করতেন বিদেশী মুসলমানদের সরিয়ে বিদেশী খৃষ্টানরা ক্ষমতা দখল করেছে। এতে হিন্দুদের কিছুই করার নেই। হিন্দুদের এই মনোভাবের জন্যে ইংরেজরা ১৯০ বছর ভারতকে শোষণ করেছে। এদেশ থেকে বিদায় নেবার সময় হিন্দু নেতাদের সহযোগিতায় ভারতকে দ্বিখন্ডিত করে যায়। কিন্তু অখন্ড ভারতকে খন্ডিত করার দায়টা চাপিয়ে দেয় মুসলমানদের উপর।
হিন্দু ও ইংরেজ ঐতিহাসিক গণ দলিল দস্তাবেজ দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন যে, ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়েছে মুসলমানদের কারণে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভেংগে তৃতীয় খন্ড বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মোগলরা দিল্লীর মসনদে বসার পর ভারতকে ঐক্যবদ্ধ করে এক ভারতে পরিণত করে। এর আগে ভারত ছিল বহু রাজ্যে বিভক্ত একটি দেশ। ইংরেজরা দখল করার সময়েও ভারত আবার বহু রাজ্যে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল। বাংলাদেশের বহু ঐতিহাসিক ও বুদ্ধিজীবীও মনে করেন ভারত বিভক্তির জন্যে মুসলমানরাই দায়ী। এসব বুদ্ধিজীবী ও ঐতিহাসিকদের অনেকেই মনে করেন পাকিস্তান সৃষ্টি ভুল ছিল। যা দিল্লীও মনে করে। তাই দিল্লী ৪৭ সালেই পরিকল্পনা গ্রহন করে পাকিস্তান ধ্বংস করার জন্যে। দিল্লীর এই পরিকল্পনার প্রথমিক বাস্তবায়ন হয় ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। একমাত্র ভবিষ্যতই বলতে পারবে ভারত আগামী দিনে আর কত ভাগ হবে। এখন ভারতের বহু রাজ্যে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলছে। সম্প্রতি পীচ টিভিতে বিচারপতি হোসবেত সুরেশ বলেছেন, দিল্লীর ভুল নীতিই বিভিন্ন জাতির মুক্তি আন্দোলনকে জোরদার করেছে। তিনি বলেছেন, মানবাধিকার ও মুক্তি আন্দোলনকে সন্ত্রাসী আন্দোলন আখ্যা দিয়ে কঠোর ভাবে দমনের নামে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করছে ভারত সরকার।
আমার বদ অভ্যাস হলো কোন বিষয়ে লিখতে বা বলতে গেলে পেছনের কথা বেশী বলি। আমার মনে হয় পেছনের কথা বললে বিষয়টা বুঝতে পাঠকের সুবিধা হয়। আজকের বিষয়টা হলো জিন্দাবাদ আর জয় বাংলা শ্লোগান নিয়ে। আমরা জয় বাংলা শ্লোগানটা প্রথম শুনি ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের দলীয় শ্লোগান হিসাবে। ছাত্রলীগের কোন একটি অংশ এই শ্লোগানটি চালু করেছিল। বলা হয় এই শ্লোগানটি এসেছে দিল্লী থেকে। ৭ই মার্চের ভাষণের শেষে বংগবন্ধু জয় বাংলা ,জয় পাকিস্তান বলেছিলেন। এখন আওয়ামী লীগ জয় পাকিস্তান মুছে দিয়েছে। পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের নেতারা জিয়ো সিন্ধ শ্লোগান দিয়েছিলেন। ১৯৩৭/৩৮ সালের দিকে হিন্দু নেতারা জয় হিন্দ শ্লোগান দিলে মুসলমানেরা সে শ্লোগান গ্রহণ করেনি। বরং নতুন শ্লোগান ‘জয় হিন্দ,লুংগি খুলে ধুতি পিন্দ’ দিয়েছিল। এখানে লুংগি ছিল বাংলার সাধারন মুসলমানের পোষাকের প্রতীক। বিষয়টা কিন্তু অখন্ড ভারতের ছিলনা। ভারতের সর্বত্র সবাই ধুতি পরেনা। নেহেরুজী কখনই ধুতি পরেননি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মোদী সাহেবও নিয়মিত ধুতি পরেন না। ধুতি কখনই ভারতের জাতীয় পোষাক ছিলনা। পশ্চিম বাংলায়ও এখন সবাই ধুতি পরেনা।
সজীব ওয়াজেদ জয় সাহেবের নামের ওয়াজেদ শব্দটি তাঁর পিতার নামের একটি শব্দ। এটা বাংলা শব্দ নয়। সত্যি কথা হলো মুসলমানদের নামের মূল সুত্র হলো আল কোরআন। প্রত্যেকটা নামের একটা অর্থ আছে। নামের বাংলা আরবী নিয়ে সংসদে একবার কথা উঠেছিল। তখন মালেক উকিল সাহেব ছিলেন স্পিকার। যতদূর মনে পড়ে একজন সংসদ সদস্য বলেছিলেন বাংলা করলে মালেক সাহেবের নাম হবে ‘ভগবান দাস উকিল’। এখানেও উকিল শব্দটা বাংলা নয়। বাংলা ভাষায় এখন তেমন বাংলা শব্দ নেই। সবই বিদেশী শব্দ যা কালক্রমে বাংলা হয়ে গেছে। গ্রামে গঞ্জে, শহরে বন্দরে, শিক্ষিত অশিক্ষিত সবাই বিদেশী শব্দ গুলো ব্যবহার করেন। কেউ কখনও প্রশ্ন করেননি কোনটা বাংলা আর কোনটা বাংলা নয়। জয় সাহেব ভুলে গেছেন যে আওয়ামী লীগ শব্দ দুটো বাংলা নয়। তাঁর মায়ের নামের একটি শব্দও বাংলা নয়। তিনি হয়ত ভুলে গেছেন আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে মুসলীম শব্দ নিয়ে। জন্ম লগ্নে আওয়ামী লীগের আদর্শ উদ্দেশ্য কি ছিল তা তিনি চট করে বলতে পারবেন না। আওয়ামী লীগের সেদিনের ইতিহাসটাও বদলে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের হাবভাব দেখলে মনে হয় বংগবন্ধুই আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা। ৭১ সালেই এই দলের জন্ম হয়েছে।
১৫৬২ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল নাগাদ ভারতের মুসলীম ফ্রিডম ফাইটারদের নিয়ে একটি বই লিখেছেন জি আল্লানা। তাতে মোজাদ্দেদ আলফেসানী সহ একুশ জন বিখ্যাত মানুষের জীবনী লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এরা সকলেই ছিলেন সর্ব ভারতীয় মুসলমান নেতা। বাংলার মুসলমান নেতাদের তালিকায় রয়েছেন, নবাব সলিমুল্লা সহ কুড়িজন নেতা। এনরা সকলেই ছিলেন আমাদের ঐতিহ্য। সকলেই ভারতের স্বাধীনতার জন্যেই লড়াই করেছেন। সেখানে কোথাও বংগবন্ধুর নাম নেই। ৪৭ সালে তিনি ছিলেন ছাত্র। এমন কি ছাত্রনেতা হিসাবেো তিনি প্রথম কাতারে ছিলেন না। আওয়ামী মুসলীম লীগের প্রতিষ্ঠা কালে তিনি ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক। পূর্ব পাকিস্তান বা পূর্ব বাংলার রাজীতিতে তাঁর উত্থান শুরু হয়েছে ১৯৬৬ সালে ছয় দফা ঘোষণার মাধ্যমে। ছয় দফা ছিল মূলত: এক ধরণের কনফেডারেশনের প্রস্তাব। পাকিস্তানের সামরিক শাসকরা বিষয়টা অনুধাবন করতে না পেরে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিল। ফলে পাকিস্তান ভেংগে গেল, ভারতের স্বপ্ন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে আর স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। অর্থনৈতিক ও অন্যান্য খাতে বৈষম্য অব্যাহত থাকলে পাকিস্তান টিকবেনা একথা পাকিস্তানের জাতীয় সংসদেও আলোচিত হয়েছে। পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে বংগবন্ধুর ভাষণ পড়লেও আপনারা জানতে পারবেন তিনি পূর্ব পাকিস্তানের অধিকারের জন্যে খুবই কঠোর ভাষায় বক্তব্য রেখেছিলেন। অনেক সময় ছাত্র ও উগ্রবাদী রাজনৈতিক গোষ্ঠিকে সন্তুষ্ট করার জন্যে তিনি জয় বাংলা শ্লোগান দিয়েছেন। ২৫শে মার্চের পরেও পাকিস্তানের কারাগারে থেকে তিনি অখন্ড পাকিস্তানকে রক্ষা করতে চেয়েছিলেন।
আজ জয় সাহেব ইতিহাস ভাল করে না জেনেই বলে ফেলেছেন জয় বাংলা যারা বলেনা তারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনা। জিন্দাবাদ শব্দটা নাকি পাকিস্তানী শব্দ। ভারতের মানুষও জিন্দাবাদ বলে। জয় সাহেবের কথা শুনে সব কিছু বাংলা করতে বাংলা ভাষা আর থাকবেনা। বাংলা একটি জীবন্ত বহমান ভাষা। তাই প্রতি নিয়তই এই ভাষা বিকশিত হচ্ছে। সুপ্রাচীন কালে ভারতের রাস্ট্র ও ধর্মীয় ভাষা ছিল সংস্কৃতি। বিজেপির অতি ভক্ত কিছু মানুষ সংস্কৃতিকে জীবিত করার জন্যে চেষ্টা শুরু করেছে। কিন্তু তেমন অগ্রগতি হচ্ছে না। জনগণ গ্রহন করছেনা। একই ভাবে এক সময়ের বিখ্যাত ভাষা হিব্রু বা এ্যাসিরিয় ভাষা এখন মৃত। ইজরায়েল সে ভাষাকে জীবন দানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এমন কি উর্দুর কাঁধে চড়ে হিন্দীকে সর্ব ভারতীয় ভাষা হিসাবে জীবন দানের চেষ্টা চলছে। কিন্তু হিন্দীর নিজস্ব কোন লিপি বা স্ক্রিফট না থাকায় দেবনাগরী লিপি দিয়ে কাজ চেষ্টা চালাচ্ছে ভারতের ব্রাহ্মণ শাসক গণ। কিন্তু তারা উর্দু নির্ভরতা ত্যাগ করতে পারেন নি। কথা ছিল ভারতের লিংগুয়া ফ্রাংকা হবে উর্দু। কিন্তু প্যাটেল বললো উর্দু করা যাবেনা। কারণ উর্দু ভাষার লিপি হচ্ছে আরবী লিপির মতো ও নির্ভরশীল। বাংলাদেশেও আমরা পাকিস্তানকে ঘৃণা করতে গিয়ে আরবী ফার্সী ও উর্দু ভাষা ত্যাগ করতে চলেছি।
পোষাক, খাদ্য, বাসস্থান, সাহিত্য, সংগীত,আদব হচ্ছে একটা জাতির ঐতিহ্য ও ইতিহাসের উপাদান। বাংগালী হিন্দুরা কচ্ছপ বা কাঁকড়া খান, কিন্তু বাংগালী মুসলমানেরা খায়না। আমরা গরুর মাংস বা গোশত খাই হিন্দুরা খায়না। জিন্নাহ সাহেবের কাছে বিবিসি জানতে চেয়েছিল হিন্দু আর মুসলমানের ভিতর ফারাক কোথায়? তিনি উত্তরে বলেছিলেন, হিন্দুরা গরু পুজা করে, আর মুসলমানেরা খায়। হিন্দুরা মুর্তি পূজা করে আর মুসলমানেরা মুর্তি পূজার বিরোধিতা করে। বাংগালী হিন্দু মেয়েরা বিয়ে হয়ে গেলে সিঁতিতে সিঁদুর দেয়, মুসলমান মেয়েরা দেয়না। আবার হিন্দু মুসলমান নারীরা ঘোমটা দেয়। বাংগালী মুসলমান ও হিন্দুর ভাষা এক হলেও সংস্কৃতি এক নয়। এমন ভারতের সকল হিন্দুর ভাষা, সংস্কৃতি ও আচার অনুষ্ঠান এক নয়। একই ভাবে পৃথিবীর সকল মুসলমানের ভাষা, সভ্যতা, সংস্কৃতি, পোষাক,খাদ্য এক নয়।
সজীব ওয়াজেদ সাহেবের জয়বাংলা শ্লোগানটি বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের শ্লোগান নয়, সে কথা আগেই বলেছি। বিশেষ করে বর্তমান সরকার ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনে মাত্র পাঁচ ভাগ ভোট পেয়ে জোর করে দেশ চালাচ্ছে। সেই সরকারের একজন মুখপাত্র জয় সাহেব যদি বলেন জয়বাংলা বাংলাদেশের মানুষের একটি ঐক্যবদ্ধ শ্লোগান তা কেউ মানবেনা। জয় বাবু বা সাহেব এখন একজন আমেরিকান সাহেব। তিনি যদি মাঝে মাঝে নানার দেশে এসে জাতির উদ্দেশ্যে এমন বয়ান দিলে কে মানবে? তাঁর নানাজীতো সারা জীবনই জিন্দাবাদ শ্লোগান দিয়েছেন। যখন বাংলাদেশের ১০০ ভাগ মুসলমান আল্লাহু আকবর বলেন তখন জয় সাহেবেরা বলেন আল্লাহ সর্বশক্তিমান। আল্লাহু আকবর বিশ্ব মুসলমানের জিকির। প্রতি দমে বা শ্বাসে আল্লাহু আকবর বলতে হয়। প্রতিদিন বিশ্বব্যাপী আজানের সময় কয়েকশ’ কোটি বার মসজিদের মিনারে আজানের মাধ্যমে আল্লাহু আকবর শোনা যায়। কোন মুসলমানই অনুবাদ করে আল্লাহয় আকবর বলেনা। একই ভাবে জয় সাহেবেরা আল্লাহকে সার্বভৌম বলে স্বীকার করেন না। তাঁরা বলেন মানুষ বা জনগণ সার্বভৌম। বাংলাদেশের সংবিধান আল্লাহর সার্বভৌমত্ব স্বীকার করেনা। কেউ যদি আল্লাহ সার্বভৌম বলে তাহলে তাকে রাস্ট্রদ্রোহী বলা হবে।
আওয়ামী লীগ রাস্ট্র আর ধর্মকে আলাদা করে দেখে। তাঁরা বলেন রাস্ট্র সেক্যুলার( ধর্মহীন বা ধর্মমুক্ত) থাকবে। আওয়ামী লীগের শ্লোগান হচ্ছে রাস্ট্র সবার , ধর্ম যার। শ্লোগানটা খুবই আকর্যণীয়। বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমান। মাত্র ১০ ভাগ লোকের কথা শোনার জন্যে ৯০ ভাগ মুসলমানকে রাস্ট্রীয় ক্ষেত্রে বা বিষয়ে ধর্মহীন থাকতে হবে। আওয়ামী লীগ হচ্ছে একটি মাইনরিটি চিন্তাধারার রাজনৈতিক দল। আওয়ামী লীগ মনে করে রাস্ট্রীয় ব্যাপারে মুসলমান বা ইসলামের কিছুই করার নেই। ইসলাম থাকবে মসজিদে, ঘরে, মাদ্রাসা মক্তবে। সংসদে বা সরকারী অফিসে ইসলাম প্রবেশ করতে পারবেনা। কারণ ধর্ম ব্যক্তিগত ব্যাপার।
চলমান বাংলাদেশে এখন আপনি বাইবেল, গীতা, তৌরাত, জবুর নিয়ে ঘরোয়া আলোচনা বা বৈঠক করতে পারবেন। কিন্তু কোরআন বা ইসলাম নিয়ে কোন ধরণের আলোচনা করতে পারবেন না। করলে , আপনাকে জেহাদী বলে আদালতে চালান দিবে। আওয়ামী লীগ কখনই বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মানুষের চিন্তা চেতনার প্রতিনিধিত্ব করেনা। এই দলটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নানা ধরণের অন্যায্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী বিতর্ক সৃষ্টি করে রেখেছে। আমরা বাংলাদেশী কি বাংগালী তা আজও ঠিক হয়নি। আমরা কি ভাষা ভিত্তিক রাষ্ট্র না জাতি ভিত্তিক রাষ্ট্র তারও কোন সুরাহা হয়নি। যেমন আমরা মুসলমান বলেই অখন্ড ভারত থেকে আলাদা হয়েছি। একই ভাবে অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণে পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়েছি। একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছি। বাংলা বলে এখন কোন রাষ্ট্র বা দেশ নেই। আমাদের দেশের নাম বাংলাদেশ। পৃথিবীর সব বাংগালীর স্বাধীন দেশ বা রাষ্ট্র নেই। বাংলাদেশ নামক স্বাধীন সার্বভৌম ভৌগলিক এলাকায় যাঁরা বাস করেন তারাই একটি রাষ্ট্র গঠণ করে নিজেদের আলাদা জাতিসত্তা গঠণ করেছেন। তাই আমাদের পরিচয় হচ্ছে বাংলাদেশী। এই ভৌগলিক এলাকার বাইরে কোন বাংলাদেশী নেই। ভারতীয় পশ্চিম বাংলা রাজ্য বা প্রদেশের হিন্দুরা ভারতীয় হিন্দু, বাংলাদেশী হিন্দু নয়। ভাষা এক হলেও জাতি এক নয়। তাই বলছি, জয়বাংলা শ্লোগাণটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী একটি শ্লোগাণ। তবে এটা আওয়ামী লীগের দলীয় রাজনৈতিক শ্লোগাণ হতে পারে। তাহলেও জয় সাহেব বা বাবুকে ব্যাখ্যা করতে হবে কেন তিনি এই শ্লোগাণকে বাংলাদেশের জাতীয় শ্লোগাণে পরিণত করতে চান।
লেখক: কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
http://www.humannewspaper.wordpress.com


কালো টাকা নিয়ে ১৯৭৪ সালে আমি যখন লেখালেখি শুরু তখন এ বিষয়ে তেমন তথ্য উপাত্ত ছিলনা। বিষয়টি জানার জন্যে আমি প্রথমে গিয়েছিলাম বাংলাদেশ ব্যান্কে। ইকনমিক এডভাইজার বললেন,এ বিষয়ে তখনও কোন ধরণের ষ্টাডি হয়নি। তবে তিনি নিজের ধারণা থেকে বলেছিলেন,কালো টাকার পরিমাণ প্রতিদিনই বাড়ছে। বিষয়টি জানার জন্যে এরপর আমি গিয়েছিলাম বিআইডিএস-এ। সেখানেও তেমন কোন ষ্টাডি ছিলনা। তবে জানিয়েছিলেন, কিভাবে কালো টাকার সৃষ্টি হয়।
ওই সময়েই আমি সাদাকালো বা কালোধলো নামে একটি কলাম চালু করেছিলাম। আমাদের অর্থনীতিতে প্রতিনিয়তই ইচ্ছায় অনিচ্ছায় কালো অপ্রদর্শিত টাকার জন্ম হয়। কালো টাকা একটি জনপ্রিয় শব্দ। খবরের কাছে আরও বেশী প্রিয়। আসলে কালো বা সাদা বলে কোন টাকা নেই। সব টাকাই টাকা। তা দিয়ে সকল লেনদেন করা যায় এবং প্রতিদিন লেনদেন হচ্ছে। তরুণ বয়সেই মানে যখন কলেজে ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি তখনি ‘বেলেকি’ নামের একটি শব্দ শুনেছি। ইংরেজী শব্দ ব্ল্যাক থেকেই বেলেকি শব্দের উত্‍পত্তি। সীমান্তে যারা বেআইনি ব্যবসা করতো তাদের বেলেকি বলা হতো। সমাজ তাদের কিছুটা নিন্দার চোখে দেখতো। তখন কিছুটা গোপনেই সীমান্তে প্রয়োজনীয় পণ্যের বেআইনি ব্যবসা চলতো। বিশেষ করে বিড়ি তৈরির জন্যে টেন্ডুপাতা ভারত থেকে বেআইনি ভাবে নিয়মিত আসতো। তখন আমাদের এলাকায় প্রচুর বিড়ির কারখানা ছিল। ১৯৫০ থেকে ১৯৭০ সাল নাগাদ তত্‍কালীন পূর্ব পাকিস্তানে পুঁজির বিকাশে বিড়ি শিল্প বিরাট অবদান রেখেছিল। পরবর্তী পর্যায়ে টেন্ডু বা কুম্ভী পাতার ব্যবহার উঠে গিয়ে বিড়িতে কাগজের ব্যবহার শুরু হয়েছিল। বিড়ি শিল্পে মুনাফার প্রধান অংশ আসতো শুল্ক ফাঁকি দিয়ে। বিড়ি শিল্পের মালিকেরা পরবর্তী কালে ব্যান্ক বীমা সহ বিভিন্ন কল কারখানা মালিক হয়েছেন।
এক সময়ে পূর্ব পাকিস্তানে বাংগালীদের পূঁজির বিকাশের জন্যে রেহমান সোবহান সাহেবেরা অনেক চিল্লা ফাল্লা করেছেন। এ নিয়ে তখন অনেক লেখালেখি হয়েছে। এমন কি ১৯৮৩ সালে যখন বেসরকারী ব্যান্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হলো তখন বাংগালীদের হাতে তেমন পূঁজি ছিলনা। মাত্র তিন কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের জন্যে ২০/২৫ জন উদ্যোক্তাকে জড়ো করতে হয়েছে। অনেকেই শুধু ৫/১০ লাখ দিয়ে ব্যান্কের উদ্যোক্তা পরিচালক হয়েছেন। অনেকের আবার অপ্রদর্শিত বা আয়কর দেয়া হয়নি এমন এমন টাকা দিয়ে ব্যান্ক করতে হয়েছে। যারা ব্যান্ক করার জন্যে এগিয়ে এসেছেন তাদের বেশীর ভাগই ছিলেন ইন্ডেন্টর, পণ্য আমদানী কারক, ক্লিয়ারিং ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট। উচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হলো উদ্যোক্তাদের পূঁজির সূত্র বা সোর্স জিগ্যেস করা হবেনা।
এর আগে মানে ৭২/৭৫ সালের দিকে দেশে যখন রমরমা সমাজতান্ত্রিক ব্যবসা চলছিলো তখন রাজনৈতিক কর্মীরা কল কারখানা ও দোকান পাটের প্রশাসক ছিলেন। এমন কি শ্রমিক নেতারাও কারখানার প্রশাসক হয়ে পূঁজির মালিক হয়েছেন। ফেণীর দোস্ত মোহাম্মদ টেক্সটাইল মিলের প্রশাসক হয়েছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউনিয়ন কাউন্সিলের সদস্য। বেচারার কি দোষ? তিনিতো কল কারখানার কিছুই জানেন না বা বোঝেন না। ফলে তুলা সুতা বেচে মিল খালি করে দেয়া হলো। সে মিল এরপর আর কোনদিন চলেনি। এভাবেও ৭২ সালের পর বাংগালীদের পূঁজির বিকাশ হয়েছে। ৭৪ সালের দিকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সাহেব প্রথম বারের মতো শিল্পনীতি ঘোষণা করেছিলেন। তাতে বেসরকারী খাতে ব্যক্তি মালিকানায় ১০ লাখ টাকা মূলধনের কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। এর মানে ছিল তখন আওয়ামী কর্মী ও সমর্থকদের হাতে পুঁজি এসে গেছে। ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপনে কর পরিশোধিত অর্থের কোন প্রয়োজন ছিলনা।
অপ্রদর্শিত বা অনার্জিত বা কালো টাকার জন্ম দেয় রাস্ট্রীয় রাজস্ব ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক আনুকল্য। সরকার জমি বরাদ্দ দেয় সরকারী দামে, যার সাথে বাজার দামের কোন মিল নেই। যখন বাজার মূল্য এক কোটি টাকা তখন সরকারী দাম মাত্র পাঁচ লাখ টাকা। যিনি জমি বরাদ্দ পেলেন তিনি সে জমি বিক্রি করে কয়েক কাটি টাকার মালিক হতে পারেন। যেমন ধরুন, সংসদ সদস্যরা করমুক্ত গাড়ি আমদানীর সুযোগ পান। তারা ধনীদের কাছে পারমিট বিক্রি করে অনেক টাকা পান।
সম্প্রতি চলতি সরকারের আমলেই অনেক ব্যান্ক স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। উদ্যোক্তাদের মূলধন ছিল দুইশ’কোটি টাকা। যিনি ব্যান্ক স্থাপনের অনুমতি পেয়েছেন তিনি আদায় করেছেন চারশ’ কোটি টাকা। সরকার, বাংলাদেশ ব্যান্ক সবাই বিষয়টা জানেন। কিন্তু কি করা যাবে। বংগবন্ধুর আমলে বাংলাদেশ ব্যান্কের গবর্ণর ছিলেন একেএন আহমদ। তিনি নোট ডিমনিটাইজড করে নাম করেছিলেন। কালো টাকা ধরার জন্যে এখন সে ধরণের একটা ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। এখনকার গবর্ণরদের রাজনৈতিক বিবেচনায়। ফলে তাঁরা রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে কাজ করেন।
জমি বিক্রি বা ক্রয় করার সময় দলিলে পুরো টাক দেখানো হয়না। ক্রেতা যদি বলেন জমির দাম এক কোটি টাকা, কিন্তু দলিলে দেখাতে হবে দশ লাখ টাকা। ফলে যিনি বিক্রি করলেন তার কাছে ৯০ লাখ টাকা অপ্রদর্শিত হয়ে গেল। একই ভাবে আমদানী রফতানীতে কম দাম দেখিয়ে বেচাকেনাতেও অপ্রদর্শিত বা কালো টাকা তৈরি হয়। সীমান্ত ব্যবসাতেও নিয়মিত কালো টাকা তৈরি হচ্ছে। ঘুষের টাকা বেআইনী টাকা। বাংলাদেশে ঘুষ নেই এমন কোন অফিস আদালত নেই। এ টাকা দিয়ে সবাই ছেলে মেয়েদের বিদেশে লেখাপড়া করান, গাড়ি কিনেন, বাড়ি করেন,ছেলে মেয়েদের বিয়ে দেন। এমন কি কালো টাকা দিয়ে মসজিদ মন্দির বানানো হয়। কালো টাকা আমেরিকা বৃটেন ফ্রান্স সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আছে। তবে বেশী হচ্ছে আমাদের মত দেশ গুলোতে। বাংলাদেশ এখন জিডিপির পরিমাণ প্রায় দেড়শ’ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে কালো টাকার পরিমাণ প্রায় অর্ধেক মানে ৭৫ বিলিয়ন ডলার। যদি প্রশ্ন করি কালো টাকা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখে কিনা? আমি বলবো অবশ্যই রাখে। কালো টাকা দিয়ে কল কারখানা,ব্যান্ক বীমা সব কিছুই করা যায়। টাকা যারা আয় করেন তারা টাকার নেশায় থাকেন। সুযোগ পেলেই তারা টাকা কামান। টাকা আয় করা আর কামানো এক কথা নয়। সবচে বড় কথা হলো যে ভাবেই টাকা কামান সরকারকে তার পাওনা বুঝিয়ে দেন আপনার টাকা সাদা হয় যাবে। এখন প্রশ্ন হলো সরকার কিভাবে তার পাওনা বুঝে নিবে। চলমান রাজস্ব ব্যবস্থা তেমন আধুনিক নয়। এমন কি কল্যাণমুখী নয়। জোর করে ভয় দেখিয়ে কর আদায় করতে হয়। প্রশ্ন হলো, আপনি যদি সারা জীবন কর দিয়ে যান সরকারকে তাহলে সরকার আপনাকে কি দিবে? না বাংলাদেশে সরকার নাগরিকদের সরাসরি কিছুই দেয়না। ধরুন, ব্যক্তি হিসাবে আপনি সরকারকে কর্মক্ষম অবস্থায় ২০/৩০ বছরে পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছেন। যখন আপনি আর কর্মক্ষম থাকবেন না ,আপনার আয়ের তেমন কোন ব্যবস্থা নেই তখন সরকার আপনার জন্যে কি কিছু করবে? না করবেনা। ফলে আমাদের মতো দেশে রাস্ট্র বা সরকার শোষকে পরিণত হয়েছে। নাগরিকরাও কর ফাঁকি দিতে চায়। আমাদের সস্তায় বা কম মূল্যে চিকিত্‍সার কোন ব্যবস্থা নেই। চিকিত্‍সা সকল নাগারিকের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। রাজধানীতে বেশ কয়েকটি পাঁচ তারা হাসপাতাল আছে। যেখানে ডাক্তার দেখাতে হাজার টাকার উপরে ফি দিতে হয়। প্রথম দর্শনে বা সাক্ষাতে ডাক্তার সাহেব আপনাকে বেশ কতগুলো পরীক্ষা দিবেন, যা করাতে আপনার দশ বারো হাজার টাকা লেগে যাবে। এর মানে চিকিত্‍সা শুরু হবার আগেই আপনাকে চৌদ্দ পনেরো হাজার টাকা খরচ করতে হবে। ভাবুন এ রাজধানীতে কারা এমন ব্যয় করে চিকিত্‍সা করাতে পারেন। যাদের কাছে কালো বা অনার্জিত বা অপ্রদর্শিত টাকা আছে তারা অবশ্যই পারেন। শুনা যায় সরকারী অফিসের একজন পিয়নেরও দৈনিক হাজার বারোশ’টাকা বাড়তি বা উপ্রি আয় আছে। পাঁচ তারা হাসপাতালটাওতো কালো টাকায় তৈরি হয়েছে। এসব পাঁচ তারা হাসপাতালে বিশ্রাম বা চিকিত্‍সা নিতে যান আমাদের মন্ত্রী, সচীব,ঘুষখোর মাস্তানরা। ধনীরা বাংলাদেশে চিকিত্‍সা করান না। তারা ঈদের বাজার করার জন্যে বিদেশে যান। অনেক ব্যবসায়ী লাখ লাখ ডলারের গিফট কিনে নিয়ে আসেন মন্ত্রী শান্ত্রীদের মাঝে বিতরণের জন্যে। ঈদের সময় সাংবাদিকরা ও গিফট পান। আমাকে অনেকেই প্রশ্ন করেন, কবি সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবীদের কাছে অপ্রদর্শিত টাকা আছে কিনা। আমার উত্তর আছে। তাঁরা অনেকেই লেখার টাকা, টকশো’র টাকা আয় হিসাবে আয়কর রিটার্ণে দেখান না। যে টাকার কর দেয়া হয়না তা কালো বা অপ্রদর্শিত হয়ে যায়।
অনার্জিত, অপ্রদর্শিত বা কালো টাকা থেকে আয় কর আদায় করা নিয়ে নৈতিকতার প্রশ্ন উঠেছে। এটা নাকি অন্যায়। কারা বলছেন এসব কথা? সাংবাদিক বুদ্ধিজীবী,অর্থনীতিবিদ, শিক্ষকরা এসব নৈতিকতার কথা বলছেন। অর্থমন্ত্রী বার বার ওইসব নৈতিকতা জালে ধরা পড়ছেন। ফলে তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কথা বলছেন। আর সংবাদপত্র তাকে নিয়ে ব্যংগ করছে। আমিতো ১৯৭৪ সালেই লিখেছি জারজ সন্তান অবৈধ, কিন্তু সন্তানের দোষ কি? যারা অবৈধ সন্তানের জন্ম দেয় তাদের আইন ধরতে পারেনা। টানাটানি করে নবজাতককে নিয়ে। যারা জন্ম দেয় তারা ওই অবৈধ নবজাতককে রাস্তায় বা ডাস্টবিনে ফেলে চলে যায়। এটা খবরের কাগজের ছবি হয়। অনেক সময় এ ধরণের মানব সন্তানকে হত্যা করা হয়। ভ্রুণ হত্যা আমাদের দেশে বৈধ। ফলে বৈধ দম্পতিরা নিয়মিত ভ্রুণ হত্যা করছে। ভারতে কণ্যা ভ্রুণ হত্যার সংখ্যা শতকরা ৪০ শতাংশ।
প্রায়ই শুনি আমাদের দেশের বিত্তবান ও ক্ষমতাবানরা বিদেশে টাকা রাখেন, বাড়ি কিনেন, ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা করান, বিয়ের সাজ সরঞ্জাম কিনেন। এখন শুনা যাচ্ছে সুইস ব্যান্কে বাংলাদেশের রাজনীতিক ও ধনীদের হাজার কোটি জমা পড়েছে। এ নিয়ে রাজনীতিকরা হাস্য কৌতুক করছেন। এর মানে বিষয়টা হাস্য কৌতুক ছাড়া আর কিছু নয়। ধনী, আমলা ও রাজনীতিকরাই বিদেশে টাকা রাখেন। তারা টাকা কোথায় পান? সেটা জনগণের টাকা। রাস্ট্রকে নিজেদের দখলে রেখে কোষাগারকে ঠকিয়ে তারা বেআইনী ভাবে এই টাকা লুট করেন এবং বিদেশে পাচার করেন। সবই হলো কালো টাকার গুণ। যে দেশে একজন কনস্টেবল রাস্তায় একজন নাগরিকের পাছায় লাথি মারতে পারে আইনগত ভাবে সে দেশে সরকারের ক্ষমতা কি তা সহজেই অনুধাবন করা যায়। যদি প্রশ্ন করা যায় পুলিশের এ ক্ষমতার প্রয়োজন আছে কিনা / উত্তর হলো দরকার আছে। কারণ রাস্ট্রকে নাগরিকদের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। নাগরিকদের হাত থেকে রাস্ট্রকে রক্ষা করার জন্যেই সেনা বাহিনী, বিজিবি,কোষ্ট গার্ড, র‍্যাব,পুলিশ, আনসার সহ বিভিন্ন ধরণের বাহিনী রাখতে হয়। রাস্ট্র প্রতিষ্ঠার জনগণের রক্তের প্রয়োজন, কিন্তু রাস্ট্র প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর গণ নির্যাতন প্রয়োজন। এটাই নাকি রাষ্ট্রের ধর্ম। যদি প্রশ্ন করা রাষ্ট্র বড় না জনগণ বা নাগরিক বড় তখন উত্তর আসে রাষ্ট্র বড়।
আমাদের বার্ষিক বাজেট হচ্ছে আড়াই লক্ষ কোটি টাকা। এর মধ্যে উন্নয়ন বাজেট ৩৫ থেকে চল্লিশ ভাগ। বাকি টাকা ব্যয় হয় রাষ্ট্রীয় কাঠামো রক্ষার জন্যে। পুরো বাজেট থেকে চুরি হয় ৩০ ভাগ বরাদ্দ, যা কালো টাকায় পরিণত হয়। সংবিধান মোতাবেক আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা রাশিয়ার জার সম্রাটদের মতো। বাংলাদেশ নামক ‘পিপলস রিপাবলিকের সকল ক্ষমতার মালিক প্রধানমন্ত্রী। জনগণ নাকি তাঁকে এ ক্ষমতা দান করেছে। তিনি সংবিধান মোতাবেক পাঁচ ভাগ ভোট পেয়েই প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। সবই কিন্তু সংবিধানের কারিশমা। এ জগতে বহু সাংবিধানিক ডিক্টেটর ছিলেন। তারা এখন ইতিহাসের ডাষ্টবিনে আছেন।
মিশরের আলসিসি একজন তথাকথিত নির্বাচিত সাংবিধানিক প্রেসিডেন্ট, ফিলিপাইনের মার্কোস,ইন্দোনেশিয়ার সুহার্তো, পাকিস্তানের আইউব খানও নির্বাচিত সামরিক বা বেসামরিক ডিক্টেটর ছিলেন। আলসিসিকে সউদী বাদশাহ, ইজরায়েল ও আমেরিকা সমর্থন করে। এ ধরণের অবস্থা বা ব্যবস্থাকে আপনি কি বলবেন। কালো টাকা যেমন আছে তেমন কালো রাজনীতি, সমাজনীতি ও অর্থনীতি আছে। আপনি যদি শুধু কালো টাকার কথা বলেন তাহলে টাকা কি সাদা হবে? কখনই হবেনা, কারণ কালো রাজনীতি, রাস্ট্রনীতি কালো মানুষ ও কালো টাকার জন্ম দিবে। বাংলাদেশের পুরো রাষ্ট্র ব্যবস্থা, রাজনীতি কালো হয়ে গেছে।
রাষ্ট্র যখন কালো রাজনীতির কারণে পাঁচ ভাগ লোক দ্বারা পরিচালিত হয় তখন সে রাষ্ট্র অত্যাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হয়। সমাজে নানা ধরণের অত্যাচারী লোকের জন্ম হয়। নারায়নগঞ্জের সাত খুন, ফেনীর চেয়ারম্যানকে জীবন্ত জ্বালিয়ে দেয়া কালো রাজনীতির ফসল। বাংলাদেশে এখন এমন একটি জায়গা নেই যেখানে রাজনৈতিক মাস্তান নেই। মাস্তানরা অস্ত্র দিয়ে মানুষকে দমিয়ে রাখে। নির্বাচনের জন্যে এ মাস্তানদের প্রয়োজন হয়। এখন সারা দেশে প্রতিদিন প্রতিক্ষণ মানুষ খুন হচ্ছে, মেয়েরা নির্যাতিত হচ্ছে, কিন্তু কোথাও তেমন প্রতিক্রিয়া নেই। দেশের ৯০ ভাগ মানুষ মাইনরিটিতে পরিণত হয়েছে। কেউ কথা বলেনা। মিডিয়ার মালিকরাও অফুরন্ত কালো টাকার মালিক। তাই তারা মিডিয়ার আশ্রয় নিয়েছে।
সক্রেটিস, মনসুর হাল্লাজ, ইমামে আজম হজরত আবু হানিফার(রা) মৃত্যুদন্ড দিয়েছিলেন কারা। বাংলাদেশের সাধারন মানুষ অতি নিরীহ। তারা অভাবের সাথে লড়াই করেই ক্লান্ত। ফলে প্রতিবাদী হতে পারেনা। ওদের কারণে এখন এদেশে আল্লাহ দয়ার ছায়া আছে। তা না হলে আদ সামুদ, নূহের(আ)জাতি, লুতের(আ) জাতির ভাগ্য বরণের সময় এসে গেছে। আল্লাহ গজব এ দেশের জন্যে অবধারিত হয়ে গেছে।
লেখক: কবি ঐতিহ্য গবেষক
http://www.humannewspaper.wordpress.com


চলো ভাই ইন্তিকাল করি / এরশাদ মজুমদার
শিরোনাম দেখেই সবাই বলবেন, আমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। কেউ কি কখনও মৃত্যু কামনা করে? না করেনা। মৃত্যু কামনা গুণাহ বা পাপ বলে শুনেছি। ইন্তিকাল শব্দের অর্থ স্থান পরিবর্তন করা। দৃশ্যমান জগত থেকে অদৃশ্য জগতে চলে যাওয়া। এর অনুবাদ ডেথ বা মৃত্যু শব্দ দ্বারা ইন্তিকাল শব্দের দর্শন বুঝা যায়না। আল্লাহর রাসুল মুহম্মদ(সা) বলেছেন, ইন্তিকাল বা মউতের মাধ্যমে মানুষ জাগ্রত হয় নতুন পথ ও স্থানের জন্যে। আমি আসলে সবাইকে মৃত্যু/ডেথ/মউতের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। ইন্তিকালের এ পথ এড়িয়ে যাওয়ার কোন পথ কারো জন্যে নেই। বিজ্ঞান দীর্ঘ সুস্থ জীবনে জন্যে গবেষণা করছে। মৃত্যুকে জয় কোন সাধনা কোন বিজ্ঞানী এখনও শুরু করেননি। আমাদের জন্মের সাথে মৃত্যুর রশি বাঁধা রয়েছে। ধনী গরীব, রাজা বাদশা, জালেম আলেম কারো জন্যেই অন্যকোন ব্যবস্থা নেই। জগতের সকল ক্ষমতাধর শক্তিমান অত্যচারী জালেমরাও জগত ছেড়ে চলে গেছে। নবী রাসুল, অলি আল্লাহ, আউলিয়া দরবেশরাও চলে গেছেন।
আদম সৃষ্টির আগে আল্লাহপাক আদমের রূহ সৃষ্টি করেছেন। আদম বলতে আমি মানব জাতি বুঝাতে চাইছি। আমরা মানে সকল মানুষের রূহ আলমে আরওয়া্ঁতে ছিল এবং আছে। সেখান থেকে আল্লাহপাক তাঁর নিজের ইচ্ছা মতো রূহকে দেহের মাধ্যমে জগতে পাঠান। আল্লাহপাক নবীজীকে(সা) বলেছেন, মানুষ আপনাকে প্রশ্ন করবে রূহ কি? আপনি বলুন, এটা আমার মালিকের নির্দেশ। অর্ডার অব গড। রূহের জন্যেই দেহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেহ রুহের বাহন। আর দেহ তৈরি হয়েছে জগতের বস্তু দ্বারা, মানে মাটি, পানি, তাপ ও বাতাস। জগতটাও তৈরি হয়েছে ওই একই উপাদান দিয়ে। আল্লাহর হুকুমে রূহ যখন দেহ ও জগত ত্যাগ করে তখন দেহকে মাটির কাছে ফিরিয়ে দিতে হয়। যাকে আমরা দাফন বলি।
রূহের দেহ ত্যাগকে আমরা সহজে মেনে নিতে পারিনা। রূহও এই মায়ার জগত ত্যাগ করতে চায়না। যে রূহ জগতকে বেশী ভালবেসে ফেলেছে সেই রূহ সহজে জগতকে ত্যাগ করতে চায়না। হিন্দু বিশ্বাসে বলা হয়েছে, ব্রহ্মা মায়াধীশ অবস্থায় এ জগত সৃষ্টি করেছেন বলে জগতকে মায়ার জগত বলা হয়। মানুষ মায়ার বন্ধনে বন্দী হয়ে যায়। তাই জগত ছাড়তে চায়না। জগতে অনেক মানুষ আছেন যারা পরকাল বা অদৃশ্য জগত, শেষ বিচার ইত্যাদিতে বিশ্বাস করেন না। তাঁরা মনে করেন জগতেই মানুষের সমাপ্তি। আমার বক্তব্য গুলি তাদের জন্যে নয়। যারা ধর্মে বিশ্বাস করেন শুধু তাদের জন্যেই আমার এ বক্তব্য। এ জগতে যেমন মানুষের জবাবদিহিতা আছে পর জগতেও জবাবদিহিতা আছে।
আল্লাহপাক সুবহানুতায়ালা একবার রূহদের সম্মেলন করে জানতে চেয়েছিলেন,তারা তাদের মালিক বা স্রষ্টাকে চিনে কিনা। সকলেই এক বাক্যে উত্তর দিয়েছিল ‘নিশ্চয়ই আপনি আমাদের প্রভু’। এ স্বীকৃতি দিয়েই মানুষ জগতে এসেছে। এ জগতটা একটা মুসাফিরখানা। সকল ধর্মের বিশ্বাসী জানেন তাদের অবশ্যই ফিরে যেতে হবে অনন্তকালের জগতে। জগতে যারা আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলেছেন বা আন্তরিক ভাবে চলার চেষ্টা করেছেন তাঁরা ক্ষমা লাভ করবেন। আল্লাহপাক বলেছেন,হে বান্দাহরা তোমরা আমার দয়া বা রহমত থেকে নিরাশ হয়োনা। আমার শাস্তির চেয়ে দয়া বা রহমত কোটি কোটি গুণ বেশী। সমগ্র মানব মন্ডলীর গুণাহ বা পাপের পরিমাণ আমার দয়ার মহাসাগরের এক ফোটা মাত্র। আমার দয়া সম্পর্কে নিরাশ হলে তোমরা অবিশ্বাসী হয়ে যাবে।
দৃশ্যমান জগতের সাথে অদৃশ্যমান জগত একই সূত্রে গ্রথিত। একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। এ জগতটি আল্লাহপাক সৃষ্টি করেছেন মানুষের জন্যেই। বাকি সকল সৃষ্টিই মানুষের খেদমতের জন্যে। সকল সৃষ্টিই আল্লাহর সৃষ্টি। তন্মধ্যে মানুষ হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ বা আশরাফুল মাখলুকাত। পর জগতটা শুধু মানুষের জন্যে। জগতে দুই ধরনের বা দুই দল মানুষ আছে। একদল হিযবুল্লাহ বা আল্লার দল, আরেকদল হিযবুশ শায়তান মানে শয়তানের দল। শয়তান সকল মন্দের নেতা। তার কাজ হচ্ছে মানুষকে বিপথে পরিচালিত করা। শয়তানের কথা আল্লাহপাক বারবার মানুষকে বলেছেন, হুশিয়ার করে দিয়েছেন। সুতরাং শয়তানের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করা মানুষের কর্তব্য। এ কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হলেই মানুষের কপাল মন্দ। আল্লাহপাক বারবার ঘোষণা দিয়েছেন, তোমরা জগতে যা আয় করেছে আখেরাতে তাই ফেরত পাবে। ভাল কাজের ফল ভালো,মন্দ কাজের ফল মন্দ। দুনিয়াতে মানুষ যে শয়তানের তাবেদারী করেছে সেই শয়তানও আখেরাতে তাকে ছেড়ে চলে যাবে। সেও তখন আল্লাহপাকের করুণা ও রহমতের কাংগাল হবে।
আজকের এ লেখার উত্‍পত্তি হয়েছে আমার প্রিয় বন্ধু মাহবুব আলম তারার ইন্তিকালের কারণে। তারা আমার পরম বন্ধু। সম্পর্ক প্রায় ৫৫ বছরের। তার বড়ভাই মাহবুবুল হক সাহেবের সাথে পরিচয় ১৯৫৭ সাল থেকে। যতদূর মনে পড়ে তখন তিনি পল্লীনার্তা নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদনা করতেন। কবি বেলাল চৌধুরী তখন ওই কাগজে কাজ করতেন। পরে সেই সাপ্তাহিক ঢাকায় চলে আসে এবং কালক্রমে দৈনিক পূর্বদেশে পরিণত হয়। মাহবুবুল হক ছিলেন পূর্বদেশের সম্পাদক ও অবজার গ্রুপের ম্যানেজিং এডিটর। একই সময়ে তিনি পাকিস্তান জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের ডাক সাইটে সদস্য। তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর না হলে পাকিস্তান টিকবেনা। মাহবুবুল হক দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন ১৯৭৪ সালের ৫ই জুন। আর বন্ধু তারা মিয়া চলে গেলো ২রা জুন বেলা ১২টা ১০ মিনিটে সিংগাপুরের হাসপাতালে। ঢাকায় হাসপাতালে থাকতেই কথা হয়েছিল মাহবুব ভাইয়ের মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা নিয়ে। আমি মাহবুবুল হক স্মৃতি সংসদের সভাপতি। তাই আমি এখন দুই ভাইয়ের চলে যাওয়া নিয়ে কথা বলছি।
তারা মিয়া ছাত্র বয়স থেকেই অকল্পনীয় বন্ধু বত্‍সল ছিল। ওর বন্ধু ভালবাসার ভাষা নিয়ে কথা বলতে আমার চোখে জল আসছে। আমি এমনিতেই নরম মানুষ। অল্প বেদনায় আমার কান্না পায়। দু:খের বা বেদনার বলতে আমার কথা বন্ধ হয়ে আসে। মুরু্ব্বী বা অনুজদের স্মৃতি চারন করতে প্রায়ই আমার ডাক পড়ে। ফলে সকল স্মৃতি চারণেই আমার কথা বন্ধ হয়ে যায়। তারা ছিল পরোপকারী। মানুষের উপকার করার চেষ্টা জীবনে শেষদিন পর্যন্ত বহাল ছিল। বিশাল পরিবারের সেই ছিল পিতা ও মুরু্ব্বী।
আমি যে দেশে বাস করি সেখানে অন্ধকার যুগ নেমে এসেছে। এদেশের সংবিধানে মানুষকে সার্বভৌম বলা হয়েছে(নাউজুবিল্লাহ)। ফলে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব নিয়ে আদালতে মামলা হয় । আমাদের সমাজ বা রাস্ট্রে এখন কোন মুরুব্বী নেই। যেমন এক সময়ে ছিলেন, মাওলানা ভাসানী, শেরেবাংলা, সোহরাওয়ার্দী, বংগবন্ধু ও শহীদ জিয়া। এরা সকলেই ধর্মপ্রাণ মানুষ। আজ খামোশ বলার মতো কোন নেতা দেশে নেই। সংসারে যেমন মুরুব্বী থাকতে হয়, তেমনি সমাজ ও রাস্ট্রেও মুরুব্বী থাকতে হয়। আমার বন্ধু মানব দরদী মুরুব্বী ও রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। তিনি মাস্তানী, খুন খারাবী না করেও রাজনীতি করেছেন। এখন রাজনীতির প্রধান হাতিয়ার চোগলখুরী, মিথ্যাবাদীতা ও অশালীন ভাষায় কথা বলা। আল্লাহপাক বলেছে অহংকার আমার গায়ের চাদর। এ চাদর নিয়ে কেউ টানাটানি করেনা। শুধুমাত্র জালেমরাই অহংকারী হয়। নেতা নেত্রীদের ভাষায় বিনয় নেই।
এমনি সময়ে শুধু বলতে পারি, হে খোদা, তুমি আমার বন্ধু তারা মিয়া সহ সকল ভাল মানুষকে ক্ষমা করে দাও, তাদের জান্নাত বাসী করো। বাংলাদেশকে সকল প্রকার জুলুমাত থেকে রক্ষা করো। এ জাতিকে তুমি রহমত দ্বারা অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে আসো।


মোদীর হিন্দুস্তান ও প্রতিবেশী / এরশাদ মজুমদার

হিন্দুস্তানের বা ভারতের রাজনীতিতে ভারতীয় জনতা পার্টিকে একটি দক্ষিণপন্থী গোঁড়া হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল মনে করা হয়। গুজরাটের দাংগার পর সবাই মোদীকে দায়ী করেছে। শুনেছি তদন্তেও মোদীকে দায়ী করা হয়েছে। গুজরাটের ওই বিভত্‍স দাংগার পর সারা বিশ্ব মোদিকে গালমন্দ করেছে। আমেরিকার ওবামা সরকার মোদীর আমেরিকা সফর নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। ভারতের এ নির্বাচনে ভারত ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের বুদ্ধিজীবীরা মোদীর বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। অনেকেই বলেছেন, মোদীর দল জিতলে তাঁরা হিন্দুস্তান ছেড়ে চলে যাবেন। নোবেল বিজয়ী অমর্ত সেনতো মোদীর বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন করেছেন। সালমান রূশদীও বিশ্ব জনমত সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু হিব্দুস্তানের ভোটাররা ভাল মানুষদের কথা না শুনে নিজেদের মত প্রকাশ করেছেন। ১৯৩৭ সাল থেকেই কংগ্রেস হিন্দুস্তান শাসন করে আসছে। ইংরেজ সাহেবদের সহযোগিতায় সরকারের সাথে দর কষাকষি করার জন্যে এই দলটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৫ সালে । প্রথমে ছিল একটি সমিতি, পরে রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলীম গঠিত হয়েছে ঢাকায়। কিন্তু কেন মুসলীম লীগ গঠিত হয়েছে তার কারণ ও পিছনের ইতিহাস অবশ্যই জানা দরকার শিক্ষিত সমাজকে। কংগ্রেসের বিশ বছর পরে কেন মুসলীম গঠণ করতে হয়েছিল? মুসলমানরা কখনই কি খন্ডিত ভারত চেয়েছে? মুসলীম লীগ গঠিত হয়েছিল মুসলমান স্বার্থের কথা বলার জন্যে। কারণ কংগ্রেস ভারতের সকল মত পথ ও ধর্মের মানুষের কথা বলতে ব্যর্থ হয়েছিল। শাসক ইংরেজদের সাথে কথা বলার কংগ্রেস সব সময়েই অন্যদের স্বার্থকে অবজ্ঞা করেছে। শুরুতে মুসলীম লীগ নেতারা কংগ্রেসেই ছিলেন। এমন কি জিন্নাহ সাহেবও কংগ্রেস নেতা ছিলেন। তিনি সব সময় একজন ভারতীয় হিসাবে কথা বলতে চাইতেন। কিন্তু কংগ্রেস নেতারা নিজেদের হিন্দুদের নেতা মনে করতেন। তাঁরা বলতেন কংগ্রেসই ভারতবাসীর একমাত্র প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বাস্তবে বা কার্যত তাঁরা হিন্দু স্বার্থের কথাই বলতেন।
কংগ্রেস সব সময়ই হিন্দুস্তানের এলিট/ ক্ষমতাবান / ব্রাহ্মণদের দল ছিল। সেক্যুলারিজম বা ধর্ম নিরপেক্ষতা ছিল এই দলের ভন্ডামী। আর ভন্ডামীতে নেতৃত্ব দিয়েছেন গান্ধীজী, নেহেরু ও প্যাটেলের নেতৃত্বে হিন্দুস্তানের পুঁজির মালিকরা। কংগ্রেস বা তথাকথিত ভদ্রলোকদের ভন্ডামী না থাকলে ভারত বিভক্ত হতোনা। হাজার বছর ধরে সকল ধর্মের মানুষ হিন্দুস্তানে এক সাথে থাকতে পারলে বৃটিশমুক্ত হিন্দুস্তানে থাকতে পারবেনা কেন? কংগ্রেস এবং হিন্দু নেতাদের বড় সাফল্য হলো তারা ভারত বিভাগের সব দোষ চাপিয়ে দিয়েছে মুসলমানদের উপর। তাদের সে সাফল্য আজও জারী রয়েছে। এমন কি আমাদের তরুণ সমাজ ও একশ্রেণীর আরবী নামধারী বাংগালী মুসলমান যাঁরা নিজেদের জ্ঞানী গুণী মনে করেন তাঁরা জেনে শুনে হিন্দুস্তান বিভক্তির জন্যে মুসলমানদের বা বাপ দাদাদের দায়ী করেন। কিছুলোক আছে যাঁরা আরবী নামধারী খাঁটি বাংগালী বলে নিজেদের জাহির করেন তাঁরা বা তাঁদের বাপ দাদারা ৪৭এ হিন্দুস্তান ত্যাগ করে পাকিস্তান মানে পূর্ব বাংলায় এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাঁরা নিজেদের এখন সেক্যুলার বা ধর্মহীন বলে প্রচার করতে সম্মানিত বোধ করেন। এদের কোন বায়া দলিল নেই। এরা সুযোগ মতো নিজেদের মুসলমান বলে দাবী করেন আবার সুযোগ মতো মুসলমানদের বিরুদ্ধে লেগে যায়। এঁরা শিকড় বিহীন মানুষ। এঁদের কোন আত্মমর্যাদা নেই।
মোদী সাহেবকে কট্টর দক্ষিণপন্থী ধর্মবাদী নেতা মনে করা হয়। তিনি সারা বিশ্বে একজন হিন্দু নেতা হিসাবে পরিচিত। আমি মনে করি এদিক থেকে মোদী একজন সফল হিন্দু নেতা। কোন ধরণের কনফিউশন বা বিভ্রান্তি নেই। বাংলাদেশে এখন বিভ্রান্তি বা কনফিউশনের রাজনীতি চলছে। আওয়ামী মুসলীম লীগ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত এই দলটি এখন ধর্মকে বাদ দিয়ে রাজনীতি করতে চায়। মানে ইসলামকে বাদ দিয়ে রাজনীতি করতে চায়। বিশ্বের মোড়ল আমেরিকা ও তার বন্ধুরা ইসলামকে দেখতে পারেনা। মুসলমানদের টেররিষ্ট বা সন্ত্রাসী মনে করে এবং সন্ত্রাস দমনের নামে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্ষুদ্ধ শুরু করেছে। আমেরিকার নেতৃত্বে এই যুদ্ধকে বাংলাদেশ সহ এশিয়ার বহু দেশ সমর্থন জানিয়েছে। এ ব্যাপারে ভারত ও বাংলাদেশ একই নীতিতে বিশ্বাস করে। ভারতের ৬০ ভাগ মানুষ হিন্দু। বাকি ৪০ ভাগ মানুষ মুসলমান, অচ্যুত বা হরিজন, বৌদ্ধ, খৃষ্টান, শিখ। হরিজনরা ধর্মীয় ভাবেই অধিকার হারা। হিন্দু ভারতে মুসলমানরা নানা ভাবে নির্যাতিত।
বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমান হলেও সরকার সেক্যুলারিজমে(ধর্মহীনতা)বিশ্বাস করে ও সন্ত্রাস দমনের নামে মুসলমানদের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে। আওয়ামী লীগ নিজেদের আধুনিক, প্রগতিশীল,সেক্যুলার পরিচয় দিয়ে আমেরিকা ও ভারতের সমর্থন আদায় করে চলছে। সন্ত্রাস দমনের নামে মুসলমান দমনের জন্যে জগতে এখন টাকা পয়সার অভাব নেই। এমন কি মুসলমানদের দুই পবিত্র স্থান মক্কা ও মদিনার খাদেম সউদী বাদশাহও সন্ত্রাস দমনের নামে আমেরিকাকে টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য করছেন। এমন কি বাদশাহ মিশরের ইসলামিক সরকারকে উত্‍খাত করার জন্যে জেনারেল সিসিকে অর্থ ও বুদ্ধি দিয়ে সাহায্য করে যাচ্ছে।
ভারতের প্রখ্যাত বিচারপতি হুসবেত সুরেশ বলেছেন সন্ত্রাস দমনের নামে ভারতের রাস্ট্রীয় সন্ত্রাস লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করছে।কাশ্মীরিরা স্বাধীনতা চায় তাই তারা সন্ত্রাসী। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্যে যারা লড়াই করেছেন ও জীবন দিয়েছেন তাঁদের পাকিস্তানী দুষ্কৃতিকারী বলতো। ভারতের বহু রাজ্যে এখন স্বাধীনতা যুদ্ধ চলছে, আর সবখানের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চলছে। আসাম ও মণিপূরীরা আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে সহযোগিতা করেছে, কিন্তু আমরা তাঁদের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করছি। কারণ দিল্লীর সাথে আমাদের সরকার গুলোর বন্ধুত্ব আছে। ফলিস্তিনের ব্যাপারে ভারত সরকার ইজরায়েলকে সমর্থন করছে। এশিয়ায় ভারতই প্রথম ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছে। কারণ ইজরায়েল একটি মুসলীম বিরোধী রাস্ট্র। ইজরায়েল বিগত ৬০ বছরে ফিলিস্তিনের কয়েক লাখ নরনারী ও শিশুকে হত্যা করেছে। লাখ লাখ মানুষকে বাড়ি ঘর থেকে উচ্ছেদ করেছে। বিচারপতি হুসবেত বুশ এবং আমেরিকাকে বিশ্বের একনম্বর সন্ত্রাসী বলেছেন। তিনি আরও বলেছেন, রাস্ট্রীয় সন্ত্রাসের কারণেই দেশে দেশে মানুষ অস্ত্র হাতে তুলে নিচ্ছে। কাশ্মীরের কোন নাগরিককেই দিল্লী বিশ্বাস করেছেনা। ফলে কাশ্মীরের সব মুসলমানই আজ সন্ত্রাসী।
দিল্লী আজ নানা দিক থেকে বাংলাদেশকে আষ্টে পৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছে। আওয়ামী লীগ একেবারে অন্ধ ভাবেই সব কিছু দিয়ে যাচ্ছে। দিল্লী বাংলাদেশকে একটি অনুগত রাস্ট্র হিসাবে দেখতে চায়। আওয়ামী লীগের পক্ষেই দলীয় ও রাস্ট্রীয় আনুগত্য প্রকাশ করা সম্ভব। ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচন ছিল দিল্লীর পক্ষের সরকার স্থাপনের একটি নির্বাচন। একমাত্র দিল্লিই চোখ বন্ধ করে ৫ই জানুয়ারীর অবৈধ নির্বাচনকে সমর্থন দিয়ে সাহায্য করেছে আওয়ামী লীগকে। এ নির্বাচনকে ভারতের কংগ্রেস সরকার ছাড়া আর কেউ সমর্থন করেনি। রাশিয়া এ ক্ষেত্রে ভারতকে খুশী করার জন্যে লেজুড়বৃত্তি করেছে। ৭১ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে রাশিয়া ভারতকে সমর্থন করেছে। যুদ্ধ এড়াবার জন্যে চীন ও আমেরিকা পাকিস্তানকে কূটনৈতিক সমর্থন বা ‘লিপ সার্ভিস’দিয়েছে। বাংলাদেশ হওয়ার পর ভারত ও রাশিয়া বাংলাদেশকে লুটে পুটে খেয়েছে। আওয়ামী লীগের সাথে ঐতিহাসিক ভাবেই ভারতের একটা আত্মিক বন্ধন রয়েছে। সে বন্ধনের মূলমন্ত্র হলো দিল্লীর তাবেদারী বা অনুগত বন্ধু থাকা। দাস শব্দটি ব্যবহার করা যেতো,কিন্তু ব্যবহার করিনি শিষ্টাচারের জন্যে।
বাংলাদেশের প্রশ্নে মোদী সরকারের ভুমিকা কি হবে এ নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতি ও রাজনৈতিক নেতাদের ভিতর নানা ধরণের যোগ বিয়োগ চলছে। অনেকেই মনে করেন আওয়ামী লীগের সাথে মোদীর সম্পর্ক উষ্ণ হবেনা। মোদীও জানেন আওয়ামী লীগ কংগ্রেসেরই বাংলাদেশ শাখার মতো। মোদী সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ঢাকায় বলে গেছেন বাংলাদেশ ভারত সম্পর্কটা দলীয় ভিত্তিতে নয়,দুই দেশের জনগণের স্বার্থে দ্বিপাক্ষিক। শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীও এ কথা বলেছিলেন বংগবন্ধুর পতনের পরে। তিনি খোন্দকার মোশতাককে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। তবে তিনি এ কথাও বলেছিলেন যে দিল্লী ঢাকায় বন্ধুত্বপূর্ণ সরকার দেখতে চায়। তবে বংগবন্ধুর সরকারের সাথে ইন্দিরা সরকারের সম্পর্ক কখনই উষ্ণ বা মধুর ছিলনা। বংগবন্ধুকে অনুগত সরকার প্রধান বা রাষ্ট্রপতি বানানো ইন্দিরার পক্ষে সম্ভব ছিলনা। ৭১ সালে মুজিব নগর সরকারের সাথে দিল্লী সরকারের সম্পর্ককেও বংগবন্ধু সহজে গ্রহণ করেননি। ইন্দিরা বা দিল্লীর আপত্তি সত্তেও বংগবন্ধু পাকিস্তানের লাহোরে ওআইসি সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। সে সময়েই বাংলাদেশ পাকিস্তান কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। বংগবন্ধুর সময়ে দিল্লী ঢাকা সম্পর্ক কেমন ছিল তা নিয়ে গবেষণার সময় এসে গেছে। তাহলে জানা যাবে বংগবন্ধু হত্যার অজানা রহস্য কি এবং কোথায় লুকিয়ে আছে। শেখ হাসিনা এ কাজটি করবেন না, তাহলে কেঁচো খুড়তে সাপ বেরিয়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশের জ্ঞানী গুণী মানুষদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে দিল্লীর দক্ষিণ এশিয়া নীতি কি? ঢাকার সরকারকে খেয়াল রাখতে দিল্লী কি চায়। ১৮৮৫ সালে কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই হিন্দু নেতারা হিন্দু ভারত প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। এখনও ভারতের সকল নেতাই মনে করেন সংখ্যাতত্বের দিক থেকে হিন্দু নেতরাই স্বাধীন ভারতকে শাসন করবে। প্রশ্ন উঠেছিল অখন্ড ভারতে মুসলমান সহ অন্যান্য ধর্মীয় মাইনরিটির অবস্থা কি হবে। ইংরেজদের ভারত দখলের আগে মুসলমানেরা দীর্ঘ সাতশ’বছর ভারত শাসন করেছে। ইসলাম ধর্মের প্রচারকগন ভারতে আসতে শুরু করেছেন সপ্তম শাতাব্দীর শুরু থেকেই। মুহম্মদ বিন কাশিম সিন্ধু প্রদেশে এসেছেন ৭১১ সালে। মুসলমানেরা দিল্লীর রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করেছেন ১২০৪ সালের দিকে। একই সময়ে বাংলাদেশ মুসলমানদের শাসনে এসেছে। পিছিয়ে পড়া সমাজে কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ। ধর্মীয় ভাবেই এখন ভারতের ৩০ কোটি মানুষ অচ্যুত বা অর্ধ মানব। এই অর্ধ মানবদের ঈস্বর নাকি ব্রাহ্মণদের সেবার জন্যে সৃষ্টি করেছেন। তোমনি একটি সমাজ ব্যবস্থায় মুসলমানরা এসে সাম্যের বাণী শুনালো এবং সাম্য প্রতিষ্ঠা করলো। জনসংখ্যা বা ডেমোগ্রাফী তত্ব সমাজ বা রাষ্ট্রে খুবই গুরুত্পূর্ণ। স্পেনে সাতশ’বছর মুসলমান শাসন ছিল। ক্রুসেডে(ধর্মযুদ্ধ)লাখ লাখ মুসলমানকে হত্যা করার ফলে সেখানে এখন মুসলমান নেই চলে। ভারতে মুসলমানরা সাতশ’ বছর শাসন করলেও জনসংখ্যা পরিবর্তনের কোন চেষ্টাই করেনি। কারণ,তা ইসলামের নীতি নয়। মদিনা রাষ্ট্র যখন গঠিত হয় তখন মুসলমানরা ছিল মাইনরিটি। মেজরিটি নাগরিকরা আল্লাহর রাসুল(সা) হজরত মুহম্মদের নেতৃত্ব মেনে নিয়েছিলেন। ধর্ম গ্রহণের ব্যাপারে ইসলামে কখনই জবরদস্তি ছিলনা। মক্কা বিজয়ের দিনই আল্লাহর রাসুল(সা) এ ঘোষণা দিয়েছিলেন। ইসলাম বিরোধীরা এ ব্যাপারে সবচেয়ে বেশী অপপ্রচারণা চালায়। চলমান বাংলাদেশেও এ প্রচারণা এখনও জারী আছে। চলমান সরকারও ধর্মের রাষ্ট্রের ব্যাপারে রাষ্ট্রকে নিরপেক্ষ মনে করে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মেজরিটি মানে ৯০ ভাগ মানুষের অধিকারকে অস্বীকার করা হয়েছে। বাংলাদেশ সর্বদিক থেকেই একটি মাইনরিটি শাসিত একটি দেশ।
অতি আধুনিক, ধর্ম নিরপেক্ষতা(ধর্মহীনতা) ও প্রগতিশীলতার নামাবলী পরা ভারতের শাসকগণ সকলেই মনো জগতে সাম্প্রদায়িক। মোদী সাহেব নিজেও একজন পিছিয়ে পড়া সমাজের লোক এবং কট্টর হিন্দুত্ব বাদে বিশ্বাসী। এ ব্যাপারে তাঁর কোন রাখঢাক নেই। কংগ্রেসকে নির্বাচনে পরাজিত করার মূল কারণ হলো ধর্মের ব্যাপারে মোদী সাহেবের খুল্লাম খুল্লা নীতি। তবে দিল্লীর অদৃশ্য সরকারের চেয়ারে বসে তিনি তাঁর নীতি কতটুকু বাস্তাবায়িত করতে পারবেন সে ব্যাপারে আমার সন্দেহ আছে। ভারতের মূলনীতি হলো ভারতকে একটি পূর্ণাংগ হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করা। আমি এ ব্যাপারে ভারতের কোন দোষ দেখিনা। যে দেশের নেতা ও সরকার নিজ ধর্মের ৩০কোটি মানুষকে অর্ধ মানব মনে করে সেই দেশের নেতারা সরকার কেমন করে অন্য ধর্মের মানুষকে সম্মান ও মর্যাদা দান করবে। ভারতের সংবিধান প্রণেতা ও নেহেরুর বন্ধু ড. অম্বেদকার ছিলেন একজন দলিত। তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক বন্ধন অচ্যুতবাদকে পরিহার করার বিধান করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। ভারতের ৬৫ বছরের গণতন্ত্রে আজ পর্যন্ত কোন দলিত বা অচ্যুত প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি। কোন দলিত সচীব বা বিচারপতি হতে পারেননি। এর দ্বারা প্রমানিত হয় যে ভারত নামমাত্র জনগণের দেশ। এদেশে অচ্যুতদের পূড়িয়ে মারা হয়। এমন দেশে ভিন্ন ধর্মের মানুষকে পতিত মনে করা হয়। ভারতে এক সময়ে উত্তরের মানুষ দক্ষিণে গেলে প্রায়শ্চিত্ত করতে হতো। নেহেরু নিজেও বলেছেন, ভারতবাসী ইতিহাস লিখতে জানতোনা। রামায়ন মহাভারতের মতো কাব্যগ্রন্থকে তারা ধর্মীয় পুস্তকের সম্মান জানায়। মহাপন্ডিত আলবিরুণী বলেছেন, ভারতীয়রা বিজ্ঞানকে যাদু মনে করতো। পাগড়ী ও জুব্বা পরিহিত মুসলমানদের মামদো ভুত মনে করতো ।
দিল্লী তার প্রতিবেশী সকল দেশেই গোলযোগ লাগিয়ে রাখতে চায়। নেপালে গণতন্ত্রের নামে রাজ পরিবারকে হত্যা করিয়েছে। লেনদুপ দর্জিকে বশ করে তথাকথিত গণতন্ত্রের নামে সিকিম দখল করে নিয়েছে। কাশ্মীরে গণভোট দিবে বলে ওয়াদা করেও তা রক্ষা করেনি। ৬০ বছর ধরে সেখানে রক্ত ঝরছে। এ ব্যাপারে পশ্চিমা বিশ্ব মানবতা ও গণতন্ত্রের ঠিকাদারগণ টু শব্দটিও করেনা। জোর করে গোয়া দমন দিউ ও হায়দ্রাবাদ দখন করেছে। ৭১ সালে পাকিস্তানকে পরাজিত করে বাংলাদেশকে স্বাধীন করে দিয়েছে। ভারত নাকি বাংলাদেশের একমাত্র প্রাণের বন্ধু। বিগত ৪৩ বছরে ভারত বন্ধুত্বের নামে বাংলাদেশকে শোষণ করে চলেছে। আওয়ামী লীগ ও তার ঘরাণার লোকেরা এই শোষনকে ভালবাসা মনে করে।
একেবারেই ভিন্ন ঘরাণার রাজনীতিক মোদীর আগমনে বাংলাদেশের প্রশ্নে দিল্লীর বাংলাদেশ নীতির কোন পরিবর্তন হবে কিনা পাঠক সমাজ আপনারাই ভাবুন। আমিতো মনে করি, বিএনপি বা একই ঘরাণার রাজনীতিকদের মোদীর আগমনে খুশী হওয়ার মতো আমি কিছু দেখছিনা। দিল্লী জানে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখলে ভারতের সীমাহীন লাভ হবে। তাহলে কেন তাকে অন্ধ ভাবে সমর্থন করবেনা। তাছাড়া আওয়ামী লীগ কোন রাজনৈতিক দল নয়, এটা একটি বিশ্বাস। দল হিসাবে এটা একটি কবিলা বা কৌম। রাজনীতির প্রশ্নে তাদের কাছে ধর্মের চেয়ে দল বড়,বাংলাদেশের পতাকার চেয়ে দলীয় পতাকা বড়। এই দলের লক্ষ্য একটিই, আর তা হলো যে কোন উপায়ে ক্ষমতায় থেকে দিল্লী কাছে বাংলাদেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেয়া।
লেখক: কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
http://www.humannewspaper.wordpress.com


Amir Khusro (1253 – 1325 / Patiali / India)
poet Amir Khusro

Biography of Amir Khusro
Amir Khusro poet

Ab’ul Hasan Yamin al-Din Khusrow (Persian: / Urdu ابوالحسن یمین‌الدین خسرو‎; Hindi: अबुल हसन यमीनुद्दीन ख़ुसरौ), better known as Amir Khusrow (or Khusrau) Dehlawi was an Indian musician, scholar and poet. He was an iconic figure in the cultural history of the Indian subcontinent. A Sufi mystic and a spiritual disciple of Nizamuddin Auliya of Delhi, Amir Khusrow was not only a notable poet but also a prolific and seminal musician. He wrote poetry primarily in Persian, but also in Hindavi.

He is regarded as the “father of qawwali” (the devotional music of the Indian Sufis). He is also credited with enriching Hindustani classical music by introducing Persian and Arabic elements in it, and was the originator of the khayal and tarana styles of music.The invention of the tabla is also traditionally attributed to Amir Khusrow. Amir Khusrow used only 11 metrical schemes with 35 distinct divisions. He has written Ghazal, Masnavi, Qata, Rubai, Do-Beti and Tarkibhand.

A musician and a scholar, Amir Khusrow was as prolific in tender lyrics as in highly involved prose and could easily emulate all styles of Persian poetry which had developed in medieval Persia, from Khaqani’s forceful qasidas to Nezami’s khamsa. His contribution to the development of the ghazal, hitherto little used in India, is particularly significant.

Early Life and Background

Yaminuddin Abul Hasan Ameer Khusro was born in Patiali near Etah in northern India. His father, Amir Sayf ud-Din Mahmud, as a Turkic Officer and a member of the Lajin (Lachin) tribe of Transoxania, themselves belonging to the Kara-Khitais. His mother hailed from Delhi. Born of a Turkish Lajin (Lachin) later Saifuddin Shamsi, Amir Khusro eclipsed all his predecessors. His interests were kaleidoscopic and his genius versatile. But he enjoyed fame in the field of Persian poetry, in which his position is next to Saadi and can favorably be compared with Hafiz in lyrics.

The road to the well is much too difficult,
How to get my pot filled?
When I went to fill the water,
In the furore, I broke my pot.
Khusro has given his whole life to you, O Nizam.
Would you please take care of my veil (of self respect),
The road to the well is much too difficult.

Later Life

Amir Khusro served seven kings and three princes from the times of Sultan Balban to Mohammad Bin Tughlaq. His passion for his birthplace Delhi was ripped to the extent that when he was posted in Patiali, he not only lamented but completed a masanwi under the title ‘Shikayatnamah-e-Patiali’. Condemning Patiali and recalling the beauty and pleasure of his hometown Delhi, he compares himself with Joseph, who in separation from his home town Kan’an, feeling himself distressed, always pined for it.

“As Joseph, after having been taken away as a captive from his home town, Kan’an, used to sing the praise of his home town, so is the case with me. Though I happen to be faraway from my home town, yet I always sing of its beauty. My place was Quwat-ul-Islam (a title of Delhi) a qibla of the kings of seven climes (i.e. of the entire world). That place is Delhi, which is a twin sister of the holy paradise and true copy of Arsh (throne of God or a highest heaven) on the page of the earth.”

Literary Life

Poetry was inherent in Ameer Khusro. The day he was born, his father took him to a God absorbed darwesh, who said to his father, “You have brought one who would go two steps a head of khaqani (nightingale).”

In his early childhood, Khusro had developed a putting together in verse form worse of discordant meaning. Up to the age of sixteen, whichever book of verse he happened to lay his hand on, he tried to follow its author in the art of composition.

His adolescence ushered him under the guidance of both Mufti Muizzudin Gharifi and Hazrat Nizamuddin Aulia, his mentor. Both of them guided him to the path of following the style of Saddi and Kamal Isfahani. Even at that young age, he used to lambaste his contemporaries, including Hasan Dehlavi in qitah (quatrains).

“And occasionally I used to lambaste my contemporary poets, with the sword of my tongue in a qitah form.” Ameer Khusro was quite indifferent in politics, he never indulged himself in the intrigues of courtiers. He is considered as the pioneer figure of the Indo-Muslim music. In fact, it was he who started the process of synthesizing Turko-Persian music with Indian music. He has credited three books on music just as three diwans of poetry.

“My verses have so far been collected in three diwans, would you believe, that if there were a system of notation for registering musical compositions, my performance in the field of music too, would have been collected in three registers” He invented number of ragas and raginis which include such novelties as Qaul, Qulbanah, Taranah. He also composed verses in Persian and Hindwi.

Royal Poet

On the one hand Sultan Aalauddin, for the sake of righteousness and expediency of empire, stamped out all kinds of intoxicants, the prohibited things, the wherewithals of disobedience, debauchery and wickedness with the use of chastisement and and on the other side Ameer Khusro opened wide the gate of discipleship and accepted all kinds of men as his murids, be they high or low, wealthy or impecunious, noble or faqir, learned or ignorant, high born or low born, urbane or rustic, soldier or warrior.

They all abstained from improper acts and if anyone would commit a sin, he would come and confess his guilt before Khusro and would indeed renew his discipleship. Men and women, young and old, merchants and ordinary men, slaves and servants and even young children began offering prayers regularly including the late morning prayers. Even the royal ameers, the armed acquirers, secretaries, clerks, sepoys and royal slaves, were particular about offering these supererogatory prayers. Owing to Khusro’s barakah (blessings), most people of the area including the high and low and irrespective of cast and creed became involved in prayers, tasawwuf (mysticism) and tark (renunciation) and turned to piety. During the last few years of Sultan Alauddin’s reign no person would talk of liquor, of beloveds, of debauchery and gambling, of obscenities and indecent life and no one would commit usury or usurp others’ rights.

Out of the teachings of Khusro, the shop people gave up lying and cheating and underweighing. Scholars visiting Khusro would talk of books on tasawwuf such as Fawaid-ul-Fuwad, Qut-ul-Qulub, Ihya-ul-Uloom, Kashif-ul-Mahjub, Awarif and Malfuzat of Hazrat Nizamuddin Aulia. People visited the bookshops in search of the books on suluk (deportment and self-control). Owing to the increased demand among the Sufis for lota (water vessel used specially for ritual cleansing) and tasht (basin for washing hands), the prices of these articles had slightly gone up showing that most people bent towards spiritual Sufi lifestyle.

Ameer Khusro served as an ambassador of Hindu-Muslim unity in his time. His Hindu or Hindwi poetry for which he has been so popular among the school-going children as well as elderly generation. In his introduction to Ghurra-ul-Kamal, Khusro writes, “A few poems that I have composed in Hindwi, I have made a gift of them to my friends. I am a Hindustani Turk. I compose verses in Hindwi with the fluency of running water.”

Parrot of India

It was he, who himself called Tuti-e-Hind’ (parrot of India). ‘To speak the truth, I am an Indian Parrot. If you want to listen from me some subtle verses, ask me then to recite some of my Hindwi poems.” He himself did not collect and preserve his Hindwi poems but made a gift of them to his friends. His poem, Kaliq Bari is a lexicon composed of synonymous words, from four languages, Arabic, Persian, Turkish and Hindwi.

Religious Life

Ameer Khusro was a devout Muslim. He was a friend and disciple of Hazrat Nizamuddin Aulia. He was a profound expounder of ethics and strict observant of Sharia. Sharia acquires meaning when it maintains a close relation with reality partaking the essence of reality-love of God. If Sharia is lacking in that or in other words if it is without ain (the alphabet meaning the essence of God-love) it becomes shar (evil). Like Shah Waliullah of the subsequent year, his attitude towards the Sufis of hypocrisy was very critical.

“Ah! what a shameful scene this band of the ‘pretenders to abstinence. They wear short sleeves (pose as fakirs) but keep their hands stretched in begging. They pretend abstinence but they are always in pursuit of money. They have commercialized faqiri (begging). How can one love God at the same time? As God’s unity is without any shadow of duality, he does not like dualism in the path of His love.

Ameer Khusro’s spiritualism, in fact, consisted in his philosophy of love, which he shared with all the Sufis. The depth of humanism in his poetry springs from that source of ‘Divine love’. He has composed as many as 99 works and four lac lyrics, which cover almost every aspect of life. He was a living legend. He was more of a qalandar (a free soul), though not less of a Sufi, Khusro’s humanism transcended all barriers of cast, colour and creed. In an autocratic age, when the king’s wilful actions were unrestricted, Khusro had the courage and the intrepidity to speak before the king, of the value of the equality of the man.

“Though my value may be, a little less, than that of yours yet, if your veins were to be cut open, our blood will come out of the same colour.”

Death

Khusro not only upheld the values of equality and dignity of labour but also the principles of social justice. His love and respect for Hazrat Nizamuddin Aulia reached the apogee that when he heard about his death at Lakhnawati, he immediately arrived and went to his grave, where he blackened his face and rolled over in dust in utter grief, tearing his garments. Six months after that event, he died on Friday 29th Ziq’ad 725AH/1325. His death is not a death in the literal sense of the world for, he would always remain one of the very few unforgettable legends of literature.

Amir Khusro’s Works:

Tuhfa-tus-Sighr (Offering of a Minor) his first divan, contains poems composed between the age of 16 and 19
Wastul-Hayat (The Middle of Life) his second divan, contains poems composed at the peak of his poetic career
Ghurratul-Kamaal (The Prime of Perfection) poems composed between the age of 34 and 43
Baqia-Naqia (The Rest/The Miscellany) compiled at the age of 64
Qissa Chahar Darvesh The Tale of the Four Dervishes
Nihayatul-Kamaal (The Height of Wonders) compiled probably a few weeks before his death.
Qiran-us-Sa’dain (Meeting of the Two Auspicious Stars) Mathnavi about the historic meeting of Bughra Khan and his son Kyqbad after long enmity (1289)
Miftah-ul-Futooh (Key to the Victories) in praise of the victories of Jalaluddin Firuz Khilji (1291)
Ishqia/Mathnavi Duval Rani-Khizr Khan (Romance of Duval Rani and Khizr Khan) a tragic love poem about Gujarat’s princess Duval and Alauddin’s son Khizr (1316)
Noh Sepehr Mathnavi. (Mathnavi of the Nine Skies) Khusrau’s perceptions of India and its culture (1318)
Tarikh-i-Alai (‘Times of Alai’- Alauddin Khilji)
Tughluq Nama (Book of the Tughluqs) in prose (1320)
Khamsa-e-Nizami (Khamsa-e-Khusrau) five classical romances: Hasht-Bahisht, Matlaul-Anwar, Sheerin-Khusrau, Majnun-Laila and Aaina-Sikandari
Ejaaz-e-Khusrovi (The Miracles of Khusrau) an assortment of prose compiled by himself
Khazain-ul-Futooh (The Treasures of Victories) one of his more controversial books, in prose (1311–12)
Afzal-ul-Fawaid utterances of Nizamuddin Auliya
?haliq Bari a versified glossary of Persian, Arabic, and Hindawi words and phrases attributed to Amir Khusrau, but most probably written in 1622 in Gwalior by ?iya ud-Din ?husrau
Jawahar-e- Khusrovi often dubbed as the Hindawi divan of Khusrau

This page is based on the copyrighted Wikipedia Amir Khusro; it is used under the Creative Commons Attribution-ShareAlike 3.0 Unported License. You may redistribute it, verbatim or modified, providing that you comply with the terms of the CC-BY-SA.
Popular Poems

A News came
Beholding Your Appearance
Celebrate Spring Today
Couplet
Dear Father
Dye Me In Your Hue
Ecstatic Eyes
Every SectHas a Faith
I’ve Just Had an Affair
Just a glance
Master
My Youth
Persian Poem
Rains Have Come

More poems of Amir Khusro » Share your comments »
PoemHunter.com Updates

Ecstatic Eyes

O wondrous ecstatic eyes, o wondrous long locks,
O wondrous wine worshipper, o wondrous mischievous sweetheart.
As he draws the sword, I bow my head in prostration so as to be killed,
O wondrous is his beneficence, o wondrous my submission.
O wondrous amorous teasing, o wondrous beguiling,
O wondrous tilted cap, o wondrous tormentor.
Do not reveal the Truth; in this world blasphemy prevails, Khusrau;
O wondrous source of mystery, o wondrous knower of secrets.

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Join 287 other followers