Feeds:
Posts
Comments

সকালবেলা ৮৩

জগতের বয়স কত? সৃষ্টির বয়স কত? এ হিসাব সুস্পষ্ট করে এখনও মানব জাতি জানেনা। তবে জানার নিরন্তর চেষ্টা অব্যাহত আছে। মানুষের মনে অনেক জিজ্ঞাসা, অনেক প্রশ্ন। জানার আগ্রহ থেকেই মানুষ প্রশ্ন করে। এ ভাবেই মানুষ অজানাকে জানার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। জানার শেষ নেই তাই প্রশ্নেরও শেষ নেই। একদল মানুষ বস্তুর বা সৃষ্টির রহস্য আবিষ্কার করছে, আরেকদল কোদ স্রষ্টার রহস্যকে উন্মোচিত করার কাজে নিয়োজিত।
ধর্মের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই মানব জাতিকে সৃষ্টি করেই স্রষ্টা তার জীবন বিধি প্রেরণ করেছেন নবী রাসুল, অবতার ভগবান ঈশ্বর গডের মাধ্যমে। জগতের সকল ধর্মের একই বাণী , সত্যের পথে চলো। সত্য জীবন যাপন করো। ঋষি দরবেশরাও সত্য পথ দেখাবার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
অপরদিকে কিছু মানুষ সৃষ্টি বা বস্তুর রহস্য ভেদ করার জন্যে জীবন দান করে যাচ্ছেন।
ধর্ম মুলত: জ্ঞান সাধনার বিষয়। শুধু জ্ঞানীরাই ধর্ম বুঝতে পারে। শুধু জ্ঞানীরাই মানুষকে পথ দেখাতে পারে। বৈজ্ঞানিকের কাজ সৃষ্টি নিয়ে আর সত্যপথের জ্ঞানীরা মানুষকে পথ দেখায়। বিজ্ঞান বা বস্তু পরিবর্তনশীল। কিন্তু সত্য অপরিবর্তনীয়। সত্য এক। অনেকেই বলেন নিরেট সত্য বলে কিছু নেই। স্থান কাল পাত্র ভেদে সত্য নাকি রূপ বদলায়। এই শ্রেণীর মানুষ হচ্ছে কু তার্কিক। জগতে অনেকই অনেক পথ বা দর্শনের কথা বলেছেন। কিন্তু সত্যের কোন পরিবর্তন হয়নি।
আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যা দেখছি তা দৃশ্যমান বাস্তব, কিন্তু সত্য নয়। আমরা সবুজ গাছ দেখছি, এক সময় আর সবুজ থাকেনা, পাতা ঝরে যায় , নতুন পাতা গজায়। অথবা গাছটা মরে যায় বা বিলীন হয়ে যায়। কিন্তু গাছের পিছনে কি? কেমন করে এ গাছ জন্মাচ্ছে, বড় হচ্ছে, ফল দিচ্ছে, মানুষের কল্যাণ করছে।
একই ভাবে মানুষও আসছে আবার সীমাবদ্ধ সময়ের পরে চলে যাচ্ছে। তাহলে পিছনের রহস্যটা কি? এ প্রশ্ন বৈজ্ঞানিকের আছে, অদৃশ্য রহস্যের ধ্যানী, জ্ঞানী, ঋষি ,অলি আল্লাহদেরও আছে। এ ধারা চলে আসছে, চলছে ও চলবে। মরমীবাদ বা আধ্যাত্ববাদও এক ধরণের জ্ঞান অন্বেষণ। সুফী সাধক, ঋষি, দরবেশ, অলি আল্লাহরা খোদাকে খুঁজে চলেছেন। তেমনি মরমী কবি রুমী ,মনসুর হাল্লাজ, হাফিজ, শেখ সা’দী, খৈয়াম, গালিব আল্লাহ প্রেমে মশগুল হয়েই কাব্য রচনা করে জগতে অমর হয়ে আছেন। কিন্তু বিজ্ঞান সে অবস্থায় নেই। প্রতি নিয়ত এর পরিবর্তন হচ্ছে। প্রকৃতির অজানা ও অদৃশ্য রহস্য জানার জন্যে অবিরাম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তারা কেউই এক জায়গায় স্থির নেই।
সক্রেটিস বলেছিলেন, নো দাইসেল্ফ। মানে নিজেকে জানতে হবে। কেনো উপনিষদেও বলা হয়েছে নিজেকে জানো। প্রশ্ন করো, তুমি কে? কোথা থেকে এসেছো? কোথায় ফিরে যাবে? কেনই আসা আর কেনইবা ফিরে যাওয়া। অলি আল্লাহদেরও একই প্রশ্ন।
আল্লাহ রাসুল মোহাম্মদ (সা) বলেছেন, মান আরাফা নাফসা ফাক্বাদ আরাফা রাব্বা। মানে নিজেকে জানতে বা চিনতে পারলেই াপন রবকে জানা বা চিনা যাবে। আমরা ক’জন নিজেকে চিনতে পেরেছি? নিজেকে জানার বা চেনার চেষ্টা কি কখনও করেছি। না করিনি। জানতে পারলে আমরা পূর্ণাংগ মানবে পরণত হতে পারতাম। এখন আমরা শুধুমাত্র সুরতী মানুষ। মানে দেখতে মানুষের মতো, আসলে মানুষ নই। হে খোদা , আমাকে মানুষ হওয়ার যোগ্যতা দান করো। তোমাকে চেনার ক্ষমতা দাও। জগতের জঞ্জাল থেকে আমাকে উদ্ধার করো।


সকালবেলা ৮২
আজ পহেলা বৈশাখ ১৪২১ সাল। আমি খুব ভোরে উঠি। কখনও আজানের সাথে সাথে, কখনও বা একটু পরে। ডাক্তার বলেছেন অল্প ডোজের ঘুমের অষুধ খেতে। তাতে ঘুম ভাল হবে। আমার নাকি ঘুমের দরকার। আমার ঘুম পাতলা।
ঘুমের অষুধ খাওয়ার কারণে আজ ঘুম থেকে উঠেছি সকাল ৫টা ৫০ মিনিটে। ঘুমের অষূদের চাপটা ছিল। তবুও উঠে অজু করে নামাজ পড়ে ব্লাড প্রেসার ও সুগার লেবেল পরীক্ষা করলাম। রোজই করি। মাস খানেক ধরে আমার সুগার লেবেল ও প্রেসার উঠানামা করছে। ৩০ বছর ধরে এটা এক রকম ছিল। এখন কেন এমন হচ্ছে বুঝতে পারছিনা। ডাক্তারের কাছে যাই প্রিয়জনদের তাগিদে।
আমি জানি শরীরের বয়স বাড়ছে। প্রেসার, পালস রেট আর জোয়ানদের মতো থাকবেনা। থাকার কথাও নয়। আল্লাহপাক আদমের(আ) মাটির দেহে যে রূহ ফুঁকে দিয়েছিলেন আমিও ওয়ারিশানা সূত্রে সেই রূ্হ বয়ে চলেছি। শরীর যতই বুড়িয়ে যাক, তিনি হুকুম না করলে রূহ এ দেহ ত্যাগ করবেনা। শুনেছি, খোদা তাঁর প্রিয় বান্দাহদের বেশী হায়াত দিয়ে বেশী ইবাদত ও সত্‍কর্মের সুযোগ দেন। অথবা দুনিয়ায় বার্ধক্যের বেশী কষ্ট দিয়ে আখেরাতের কষ্ট কমিয়ে দেন। আমিতো শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করার মূহুর্ত পর্যন্ত সুস্থ থেকে আমি আমার প্রভুর কথা বলতে চাই।
আজ এই সকালবেলা আপনাদের কাউকে শুভেচ্ছা জানাতে চাইনা। তবে আপনারা সকলেই শান্তিতে থাকুন, আল্লাহপাকের সীমাহীন রহমত ও বরকত আপনাদের উপর বর্ষিত হোক। সবাই সুখে থাকুন। আপনাদের জন্যে এটা আমার প্রতিদিনের দোয়া।
আজ বাংলা বছরের প্রথম দিন বলে রাজনীতিতে অশ্লীল ভাষার কোন ছুটি হয়নি। টিভি স্ক্রলে দেখলাম, বহু খুনাখুনির খবর। কেউ বলেনি , আজ আমাদের নতুন বছরের নতুন দিন। অন্তত একটি দিন সবাই ভাল থাকুন, মন্দ কাজে জড়িত হবেন না, ভাইয়ের গলায় ছুরি চালাবেন না, বুকে গুলি মারবে না, পুলিশকে বলুন আজ আপনারা ঘুস খাবেন না।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের হাসপাতালে ১০ বছরের মাসুম পড়ে আছে। জঠরের জ্বালায়, দারিদ্রের কষাঘাতে তার বাবা তাকে ঢাকা পাঠিয়েছিল কারো বাসায় কাজ করে নিয়মিত দুমুঠো খেতে পাবে। যে বয়সে আপনার সন্তান অতি আদরে থাকে, আয়ার হাত ধরে বা গাড়িতে চড়ে স্কুলে যায়। হয়ত বা ঐশীর মতো গড়ে উঠছে। আপনি হয়ত ঘুষ খান, নয়ত রাস্ট্রের অর্থ লুট করেন ক্ষমতাবানদের ভালবাসায়। কিন্তু ১০ বছরের মাসুম না খেতে পেয়ে কি তার হাল হয়েছে তা আপনারা টিভি বা খবরের কাগজে দেখেছেন। শুধু ভুখা থাকা নয়, শিক্ষিত গৃহনেত্রী মাসুমের উপর সীমাহীন অত্যাচার করেছে। রাতে বাথরুমে রেখে তালাবন্দী করে রাখতেন। তাহলে বলুন, আমি কেমন করে আপনাদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাই। তার উপরে আপনাদের বছরে তিন বার নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাতে হয়। এমন জাতি জগতে আর নেই যার তিনটি নববর্ষ।
আজ বাঘ ভাল্লুক পশু পাখির মংগল শোভা্যাত্রা বেরিয়েছে। কোটি টাকা খরচ করে এমন শোভা্যাত্রা না করে সারা দেশে দরিদ্রদের কাপড়, খাবার ও চিকিত্‍সার ব্যবস্থা করেন। সারা দেশে তেমনি একটি আন্দোলন গড়ে তুলুন। তাহলে দেশের অতি সাধারন ভুখা নাংগা মানুষেরা ও আপনাদের সাথে থাকবে। আমি একটি সুখী সুন্দর মানুষের দেশ দেখার জন্যেই ৭১ সালে জীবন দিতে ঘর থেকে বেরিয়েছিলাম। কোথায় আছে সেই সুখী সুন্দর মানুষের দেশটি।


যে দেশের স্বপ্ন দেখেছি / এরশাদ মজুমদার

দেখো এরশাদ, আমার স্বপ্নের কথা তোমাকে বহুবার বলেছি। আমার স্বপ্নটা হলো দেশের মানুষকে নিয়ে। আমি একটা সুখী মানুষের দেশ দেখতে চাই। স্কুল জীবন থেকেই আমি এ স্বপ্ন দেখে আসছি। আমি একটা উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। আমার কোন অভাব ছিলনা এবং এখনও নেই । পাকিস্তান টিকে থাকলে আমার ব্যক্তিগত কোন অসুবিধা ছিলনা। তবুও আমি মুক্তিযুদ্ধে কেন গিয়েছিলাম? ভেবেছিলাম, পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেলে আমার দেশের সাধারন মানুষ এক কথায় যাদর গরিব বলা হয় তারা সুখে থাকবে। রাস্ট্র বা দেশ স্বাধীন হলেও মানুষ পরাধীন বা অধিকার হারা থাকতে পারে। আমার সে স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি। যে ধারায় বা নীতি পদ্ধতিতে দেশ বা রাস্ট্র চলছে তাতে এ জীবনে বাংলাদেশের মানুষকে সুখী দেখতে পাবোনা। তুমিতো নামজাদা ইকনমিক রিপোর্টার ছিলে। পূর্ব পশ্চিমের সামগ্রিক বৈষম্য বা ডিসপ্যারিটি নিয়ে কম লেখোনি। অবজারভার আর পুর্বদেশের ইকনমিক রিপোর্ট পড়েই বংগবন্ধু বক্তৃতা দিতেন। হাটে মাঠে মানুষকে সে তথ্য পরিবেশন করতেন। ইউনিভার্সিটিতে থাকতে পুর্বদেশে তোমার রিপোর্ট নিয়মিত পড়তাম। সচেতন ছাত্রদের সে রিপোর্ট দেখাতাম। পাকিস্তানের সাথে থেকে আমরা অধিকার হারা ছিলাম বলেইতো আমরা স্বাধীনতা চেয়েছি, স্বাধীনতা এনেছি। কিন্তু কই, স্বাধীনতার ৪৪ বছর পার হতে চলেছে। দেশে এখন কোটি কোটি লোক বেকার, সবার ঘরে শিক্ষা প্রবেশ করেনি, সবাই চিকিত্‍সা পায়না, সবার আশ্রয় নাই। ইতোমধ্যেই কয়েক হাজার লোক লুটপাট করে ধনী হয়ে গেছে। তারা এখন রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে। এইতো সেদিন ভিয়েতনাম আমেরিকার কাছ থেকে মুক্তি পেয়েছে। তার আগে দুই যুগ আমেরিকার বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। আজ তারা বাংলাদেশের চেয়েও ধনী । সেখানে আদর্শবান ত্যাগী নেতা আছেন। তাদের প্রধানতম আদর্শ দেশের মানুষের কল্যাণ। আজ আমেরিকা তাদের প্রধান বন্ধু। আশে পাশের সব দেশ এগিয়ে গেছে। আমিতো এমন বাংলাদেশ চাইনি। পাকিস্তান আমলে অবাংগালীরা শোষণ করতো, আর এখন ভারতীয় অবাংগালী আর দেশীয় বাংগালীরা শোষণ করছে। মাত্র ৪৪ বছরে কেমন করে একটা বিজনেস গ্রুপ ৪৪ হাজার কোটি টাকার মালিক হয়? কিছুলোকতো রাজনীতিকদের সহযোগিতায় ব্যান্কে আমানত রাখা জনগণের টাকা সরাসরি মেরে দিয়েছে।
আশি, তুমিতো অর্থনীতির কথা বলছো। আমি দেখছি বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতি ও ভাষার অবস্থা। বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমান। কিন্তু দেশটি দশ ভাগ লোকের চিন্তধারা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। তারা বলছে সবকিছুতেই বাংগালীয়ানা আনতে হবে। যদি প্রশ্ন করো কি ভাবে বাংগালীয়ানা আনতে হবে? তখন আমতা আমতা করতে থাকে। তারা বলে, পহেলা বৈশাখ, ভাষা দিবস, বসন্ত উত্‍সব, হোলি বা দোল খেলা, বাংলা মদ, পান্তা, ইলিশ, শুটকী খাওয়া বাংগালীদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। যারা এই সব করে তারা কারা? তারাতো কয়েক হাজার ছাত্র বা রাজধানীর কিছু লোক। দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠি কি এসব করে? করবেনা কেন? আস্তে আস্তে সবই করবে। বাংগালী হওয়ার জন্যেইতো পাকিস্তান থেকে বেরিয়েছি। তারা বলে ধর্ম একেবারেই ব্যক্তিগত ব্যাপার, এর সাথে সমাজ বা রাস্ট্রের কোন সম্পর্ক নেই।
তখন আমার মনে পড়ে গেল ভারতের এক মন্ত্রীর কথা। তিনি নাকি বাংলাদেশের হিতাকাংখী। এক সময় তিনি বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন। তিনি আমার কাছে জানতে চাইলেন, তোমরা ৭১ সালে যুদ্ধ করেছো বাংগালী হওয়ার জন্যে, এখন মুসলমান হতে চাও কেন? তোমরা মুসলমান হিসাবেতো পাকিস্তানের সাথেই ছিলে। যদি মুসলমান থাকতে চাও তাহলে আলাদা হওয়ার কি দরকার ছিল। আমি বললাম, আমিতো মুক্তিযুদ্ধে ছিলাম, তখন এমন কোন কথা শুনিনি। কেন? তোমাদের শ্লোগানতো ছিল ‘জয় বাংলা’।
দেখুন দাদা, ৪৭ সালে আপনারা স্বাধীন অখন্ড বাংলাদেশ চাননি। তাই আমরা বাধ্য হয়ে পাকিস্তানের সাথে গিয়েছি। বাংলার প্রতি আপনাদের যদি দরদ থাকতো তাহলে ৪৭এ ভাগ করতেন না। ১৯০৫ সালে আপনারা বংগভংগ রোধ করার করার জন্যে কি না করেছেন। এমন কি দাংগাও করেছেন। এখন আবার বলছেন ৪৭এর ভারত বিভাগ ভুল ছিল। আপনাদের কবিতায়, সাহিত্যে , নবেল নাটকে এখন আর পশ্চিম বাংলা বলেন না। বলেন বাংলাদেশ। আপনারা ভারতীয় বাংগালী। এই বাংগালীরা অবাংগালী দিল্লী দ্বারা শোষিত ও নির্যাতিত হচ্ছে। কই, আপনারাতো অখন্ড বাংলাদেশের দাবীকে সামনে নিয়ে আসছেন না। বরং, উল্টো বাংলাদেশের তরুণ সমাজের ভিতর বিভ্রান্তি তৈরি করছেন। আপনাদের লক্ষ্য কি?
আমরা চাই তোমরা ষোলয়ানা বাংগালী হিসাবে বিকশিত হও। দেখুন দাদা, আমরা বাংগালীও , আবার মুসলমানও। শুধু বাংগালী নই। দুটোই আমাদের আইডেন্টিটি। ভৌগলিক কারণে আমরা বাংগালী, আর ধর্মীয় কারণে আমরা মুসলমান। আমাদের বিশ্ব পরিচয় বাংলাদেশী। আর আপনাদের পরিচয় ভারতীয়। পাসপোর্টে লেখা থাকে বাংলাদেশী। আপনার পাসপোর্টে লেখা থাকে ইন্ডিয়ান। হিন্দু বা মুসলমান কিছুই লেখা থাকেনা। আমিতো শুনেছি তুমি বাম চিন্তাধারার লোক ছিলে। ঠিকই শুনেছেন। ইসলাম একটি বাম চিন্তাধারার ধর্মীয় বিশ্বাস। মাওলানা ভাসানী ছিলেন আমার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গুরু। আমি গণমানুষের মুক্তিতে বিশ্বাস করি, রাস্ট্র বা দেশের মুক্তি নয়। মানুষের মুক্তির জন্যে দেশের মুক্তি প্রথম ধাপ। বাংলাদশের জমিন মুক্তিলাভ করেছে, কিন্তু মানুষের মুক্তি আসেনি, মানূষ রাস্ট্রের দাস হয়ে গেছে। সংবিধান বলে মানুষ নাকি সার্বভৌম। আমি দেখি মানুষ রাস্ট্রের দাস। দাদা, আপনাদের দেশের বামপন্থীরা মন্দিরে যায়, আবার কমিউনিস্ট ও থাকে। হিন্দু কমিউনিস্টদের কথা জানতে হলে কমরেড মুজাফফর সাহেবের জীবনী পড়ুন। মুসলমান কমিউনিস্টরা মসজিদে গেলেই আপনাদের আপত্তি। আপনারা বলেন, ভারত সেক্যুলার দেশ। অথচ , ভারতে সারা বছর সাম্প্রদায়িক দাংগা লেগে থাকে। বাংলাদেশে কোন দাংগা হয়না। যা হয় তা রাজনীতি। দাংগা রাজনীতির একটা অংশ।বহুকাল ধরে চলে আসছে।
ভারতের ওই মন্ত্রী আমাকে বলেছিলেন, দেখো এরশাদ, আমরা তোমাদের স্বাধীন করেছি বিনা স্বার্থে নয়। এতে নিশ্চয়ই ভারতের স্বার্থ আছে। ভারতের সহযোগিতা না পেলে তোমরা কোন দিনও স্বাধীন হতে পারতেনা। কাশ্মীর আর ভারতের পুর্বাঞ্চলের অবস্থা দেখছোনা? আর তোমরা নয় মাসেই স্বাধীন হয়ে গেলে? এখন স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েছো, জাতিসংঘের সদস্য হয়েছো, জাতীয় পতাকা উড়াচ্ছো, জাতীয় সংগীত গাইছো। এসব কার অবদান? এখন ভারতের অবদান ভুলে গেলে চলবে কেন? ভারতের স্বার্থের প্রতি বুড়ো আংগুল দেখালেতো চলবেনা। ভুলে গেলে চলবেনা ভারত একটি শক্তিশালী দেশ। তোমরা তার প্রতিবেশী। আমাদের অনুরোধ অবহেলা করে চীন আমেরিকার কথা শুনবে আর পাকিস্তানের সাথে আবার গাঁটছড়া বাঁধবে তা কখনও হবেনা। পতাকা, জাতীয় সংগীত, ভৌগলিক এলাকা থাকলেই কোন দেশ সার্বভৌম হয়না। তোমাদের দেশের কিছু নেতা বা দল বাস্তবতা মানতে চায় না। আমাদের অমান্য করলে কোন দলই এদেশে রাজনীতি করতে পারবেনা। তুমি কি ভুলে গেছো শেখ মুজিব ভারতের অনুরোধকে অবহেলা করে ওআইসি সম্মেলনে পাকিস্তান গিয়েছিলেন। তার ফল তিনি ভোগ করেছেন। আওয়ামী লীগ বহু বছর ক্ষমতার বাইরে ছিল। এখন বার বার ক্ষমতায় আসতে শুরু করেছে। ভারতের কথা না শুনে জিয়া সাহেবকেও মর্মান্তিক ভাবে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। ১/১১ এর সরকার ক্ষমতায় এসে খালেদা জিয়ার রাজনীতিকে তচনচ করে দিয়েছে। অথচ সেই সেনাপতিকে খালেদা জিয়াই নিয়োগ দিয়েছিলেন নিজের আত্মীয় বলে। ফল কি হয়েছে তা বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে। নামমাত্র নির্বাচন করেও ক্ষমতায় থাকা যায় তা এখন বাংলাদশের মানুষ দেখছে। সবাই বিরুদ্ধে থেকেও শেখ হাসিনার ক্ষমতায় আসাটাকে কেউ রোধ করতে পারেনি। ভারতের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে কেউ ক্ষমতায় থাকতে পারবেনা।
সাথে আমার এক সিনিয়র সাংবাদিক বন্ধুও ছিলেন মন্ত্রীর সামনে। তিনি হঠাত্‍ ভারতীয় মন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন করে বলে ফেললেন, কিছু সাংবাদিক আছে দেশের স্বার্থে রাজনীতির বাস্তবতা বুঝতে চায়না। আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে বিশ্বের কোন ছোট দেশই সার্বভৌম নয়। ভারতের মন্ত্রী বললেন, দেখো এরশাদ , তোমার লেখা কলাম আমাদের লোকেরা নিয়মিত পড়ে। তোমার কথা আমার পছন্দ। এসব হলো নীতি আর আদর্শে কথা। বাস্তবতা নয়। বাংলাদেশ কখনই স্বাধীন পররাস্ট্র বা সামরিক নীতি অনুসরণ করতে পারবেনা। বিশ্ব ভু রাজনীতি কারণে এটা সম্ভব নয়।
ক’দিন আগে আমার এক সিনিয়র সাংবাদিক বন্ধু প্রেসক্লাবে দেখা হতেই বললেন, আপনাদের বিএনপির খবর কি? আমি বেশ কিছুক্ষণ বন্ধুর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। উত্তরে বললাম, খুব সুন্দর প্রশ্ন করেছেন। আমাদের বিএনপি! এইদল ক্ষমতায় এলে আপনি চাকুরী পান, আর দল হলো আমার। আমিতো জীবনেও কোন সরকারের চাকুরী বা তাবেদারী করিনি। উত্তরে বন্ধু বললেন, আরে না আমি ঠাট্টা করলাম। সিরিয়াসলি নিচ্ছেন কেন? তবুও বললাম আপনারাইতো জেনারেল মইনকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের একজন স্টাফের সাথে ক’দিন আগে কথা হচ্ছিল। তিনি বললেন, দেখুন আমি চাকুরী করি। কোন রাজনৈতিক দল করিনা। আমি জানতে চাইলাম, আপনিতো বিএনপির মঞ্চেও ভাষন দেন। তিনি উত্তর দিলেন, মেহমান হিসাবে উপস্থিত থাকি।এ ধরণের বহু লোক বিএনপি চেয়ার পারসনের চারিদিকে বেষ্টিত থাকেন।
আওয়ামী লীগে আমার বহু বন্ধু আছে। তারা বলেন, এটা বংগবন্ধুর দল তাই এ দলে আছি। ছত্রলীগে ছিলাম এখন আওয়ামী লীগে আছি। এটা একটা ধারাবাহিকতা। আওয়ামী রাজনীতির গভীরে কখনও যাইনি। এর আদর্শ বা দর্শন কি তা নিয়ে খুব একটা ভাবিনি। ভাবার প্রয়োজনও করিনি। যখন বলি দেশের ৯৯ ভাগ হিন্দু আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে কেন? উত্তরে তারা বলেন, তারা হয়ত মনে করে আওয়ামী লীগ ভারতপন্থী। হিন্দুদের সাথে ভারতের কি সম্পর্ক? পাকিস্তান আমলে না হয় ভারতপন্থী ছিল, এখন কেন? এদেশেতো তারা কম সুবিধা পায়না। সংখ্যার দিক থেকে আট ভাগ সুবিধা পাওয়ার কথা। তারা বিশ ভাগ সুবিধা ভোগ করছে। ভারতের মুসলমানেরা পঁচিশ ভাগ হয়েও মাত্র এক ভাগ সুবিধা পায়। এ বিষয়টা কি আপনারা কখনও চিন্তা করেছেন। ওভাবে চিন্তা করলে আমরা দলে থাকতে পারবোনা। আমাদের জ্ঞান গম্যি সাধনা সবই হলো আওয়ামী বিরোধী রাজনীতি ও দর্শনকে বিনাশ করা। আমরা মনে করি আমরা স্বাধীনতা এনেছি, আমরাই দেশ চালাবো। আমরাই একমাত্র দেশ প্রেমিক দল। আমরাই স্বাধীনতার স্বপক্ষের দল, বাকিরা সবাই স্বাধীনতা বিরোধি। এটাই আমাদের ধ্যান ধারণা। এর বাইরে আমরা চিন্তা করিনা। আমাদের নেতা নেত্রী যে ভাষায় কথা বলেন আমরা সে ভাষাতেই কথা বলি।আমাদের নেত্রী দূরদর্শী, তিনি জানেন ভারতের সাথে দ্বিমত করে ক্ষমতায় থাকা যাবেনা। তিনি মনে এটা ভারতের পক্ষে থাকা নয়, বরং সমঝোতার মধ্য দিয়ে নিজেদের স্বার্থ আদায় করে নেয়া। তিনি জানেন তা না হলে নেপালের অবস্থা হবে, যেমন হয়েছে বংগবন্ধুর অবস্থা। অমন জনপ্রিয় নেতা এ দেশে আর জন্ম গ্রহন করবেনা।
দেখো আশি, আমি দেশের পক্ষে কথা বলি বলে আমাকে বিএনপি বা জামাতপন্থি বলা হয়। আমি নাকি স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি নই। এখন শুধু মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলেই চলবেনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাও থাকতে হবে। তারা জিয়াউর রহমানকে পাকিস্তানের দালাল বলে। খালেদা জিয়াকে পাকিস্তান পাঠিয়ে দেয়ার কথা বলে। লন্ডনে তারেক জিয়া কি বলেছে তা নিয়ে এখন আওয়ামী নেতাদের ঘুম নাই। রাতদিন খিস্তি খেউর করে চলেছে। সব দেখে শুনে মনে হচ্ছে রাজনীতি থেকে সভ্যতা ভব্যতা চির বিদায় নিতে চলেছে।
এতো গেলো রাজনীতি ও সংস্কৃতির অবস্থা। ক’দিন আগে ‘বাংগালীর ধর্মচিন্তা’ নামক একটি বইয়ের আলোচনা বৈঠকে গিয়েছিলাম। বইয়ের প্রকাশক সাইদ বারী আমার খুবই প্রিয় মানুষ। বইটি সম্পাদনা করেছেন ডক্টর আবদুল হাই। তিনিও বিনীত ভদ্রলোক। আলোচনায় অনেক জ্ঞানী মানুষ ছিলেন। আমি শিক্ষক ও জ্ঞানীদের ঢংয়ে কথা বলতে পারিনা। আমার সে রকম প্রশিক্ষণ নেই। বইটির ভুমিকা আমার ভাল লেগেছে। আলোচকদের বক্তব্যও ভাল ছিল। বইটিতে যে সব লেখা সংকলিত হয়েছে তার বেশীর ভাগেরই ধর্মহীনতার দিকে ঝোঁক রয়েছে। সংকলক বা সম্পাদক বলেছেন, ধর্মের পক্ষে তেমন ভাল লেখা পাননি। আমি মনে করি ধর্ম না মানা বা ধর্মহীন থাকা কোন অপরাদ নয়। এটা একেবারেই ব্যক্তগত ব্যপার। কিন্তু ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলাটা ন্যায়সংগত বলে আমি মনে করিনা। ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলা মানে ধর্মচর্চা করা পক্ষে থেকে বা বিপক্ষে থেকে। একজন ধার্মিকেরও উচিত্‍ হবেনা অধার্মিকের বিরুদ্ধে কথা বলা। যারা ধর্ম মানেন না তাদের সংখ্যা জগতে অতি নগন্য। আবার এক ধর্মের লোক অন্য ধর্মের লোককে গালমন্দ করাও উচিত্‍ নয়। সকল ধর্মই এক আল্লাহ/খোদা/ ইশ্বর/ভগবান/ গড/ ইলাহাতে বিশ্বাস করেন। ইশ্বর নিরাকার একথাও সবাই স্বীকার করেন। তিনি সকল অবস্থায় সর্বত্র বিরাজমান। শুধু ধর্ম সম্পাদনর সময় বিভিন্ন জন ভিন্ন ভিন্ন পথ অবলম্বন করেন। শ্রী রামকৃষ্ণ বলেছেন , যতমত তত পথ। কিন্তু লক্ষ্য এক। সবাই স্বীকার করেন মানুষই স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। বইয়ের নামকরণ নিয়ে সবাই আপত্তি করেছেন। ভারতীয় বাংলায় বাংগালী বলতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীকেই বুঝায়। আর বাংলাদেশের নাগরিকদের অফিসিয়াল স্বীকৃতি হলো বাংলাদেশী। এখানে ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমান। বাকি ১০ ভাগ হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান ও অন্যান্য। বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে ভৌগলিক ও ৯০ ভাগ মানুষের ধর্মীয় আচারের প্রভাব রয়েছে। শুধু বাংগালী বলা হলেও ভারতীয় বাংগালীর সাথে চিন্তা চেতনায় বিশাল ব্যবধান রয়েছে। সম্প্রতি সেক্যুলারিজম শব্দটা আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়ার একটা প্রচেষ্টা দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে সেক্যুলারিজমের অর্থ ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার কুচেষ্টা চলছে। এটা এক ধরনের ভন্ডামী। সেক্যুলার সব্দের অর্থ ধর্মহীনতা। যিনি বা যারা ধর্মীয় শিক্ষা দীক্ষায় বিশ্বাস করেন না। পরকালেও বিশ্বাস করেন না। জগতই তাদের কাছে প্রধান। এ কথাটি তারা প্রকাশ্যে সরাসরি বলতে চান না। আরেক গ্রুপ বেরিয়েছে যারা ধর্মীয় ইসলাম আর রাজনৈতিক ইসলাম এক নয়। এরাও ইসলাম বিরোধী একটা গ্রুপ। আরও এক গ্রুপ আছে যারা বলেন, ধর্ম ব্যক্তিগত ও ঘরের ব্যপার। একে বাইরে আনা যাবেনা। এমন কি মসজিদও রাখা যাবেনা। এমন কি শুক্রবারের জুম্মার নামাজও পড়া যাবেনা। যদি পড়া হয় তাহলে খোত্‍বা কি হবে তা ঠিক করে দিবে সরকার
ভারতও চায় বাংলাদেশ একটি পূর্ণাংগ ধর্মহীন রাস্ট্রে পরিণত হোক। রাস্ট্রের সাথে ধর্মের কোন সম্পর্ক থাকবেনা। ধর্ম হবে একেবারেই ব্যক্তিগত ব্যাপার। তাই বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, সাহিত্য,সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রাকে ধর্মমুক্ত বা ধর্মহীন রাখার একটা চেষ্টা চলছে।
লেখক: ঐতিহ্য গবেষক
http://www.humannewspaper.wordpress.com


সকালবেলা ৮১

এবিএম মুসা ( আবুল বাশার মুহাম্মদ মুসার সাথে আমার সরাসরি পরিচয় হয় ১৯৬২ সালে পাকিস্তান অবজারভার অফিসে। তিনি তখন অবজারভারের বার্তা সম্পাদক। আমি ১৯৬১ সালের অক্টোবর মাসে আমি নবীশ অর্থনৈতিক রিপোর্টার হিসাবে অবজারভারে যোগ দিই। মাহবুব জামাল জাহেদী সাহেব তখন বার্তা সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।মুসা ভাই কমনওয়েলথ বৃত্তি লন্ডন গিয়েছেন সাংবাদিকতায় উচ্চতর শিক্ষার জন্যে। ফিরে এসেছেন ১৯৬২ সালে। তখনও আমি বিজনেস পেইজের রিপোর্টার ছিলাম। শহীদুল হক, এনায়েতউল্লাহ খান, তওফিক আজিজ খান, এটিএম মেহেদী, আবদুর রহীম, মতিউর রহমান স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন।
মুসা ভাইয়ের জন্ম ফেনী জেলার ধর্মপুর গ্রামে। বাবা আশরাফ আলী ছিলেন ডেপুটি ম্যজিস্ট্রেট। বল্যকালে তিনি ছিলেন ডানপিটে। ফলে বাবার সাথে বনিবনা হতোনা। লেখাপড়া করেছেন ছোট মামা আবদুল অদুদের ফেণী বাসায় থেকে।
যৌবনে বাম চিন্তাধারা বহন করতেন। তোহা সাহেব ,অলি আহাদ সাহেবদের সাথে যুবলীগ করতেন। এখনকার আওয়ামী পন্থী যুবলীগ নয়। পরবর্তী পর্যায়ে তিনি আওয়ামী চিন্তাধারা সাথে মিলিত হন। যদিও তিনি বলতেন, আমি শেখ সাহেবের ভক্ত। শেখ সাহেব বাংগালী মুসলমানের একচ্ছত্র নেতা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করলে মুসা ভাই একজন নামজাদা সাংবাদিক হিসাবে শেখ সাহেবের ভক্ত হয়ে উঠেন। ৭০ এর নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ সাহেব প্রমান করলেন তিনিই পাকিস্তানের একচ্ছত্র নেতা। মুসা ভাই ,ফয়েজ ভাই, মুকুল ভাই ও গাফফার ভাই বংগবন্ধুর অতি কাছে মানুষ ও সাংবাদিক ছিলেন।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এরা সবাই পুরস্কৃত হয়েছিলেন সরকারী সুযোগ সুবিধায়। মুসা ভাই ৭৩ এর নির্বাচনে জাতীয় সংসদের সদস্য হয়েছিলেন। তিনি বহু সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতাদের তিনি অন্যতম। বহু বার তিনি ক্লাবের সম্পাদক ও সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। সমালোচকদের ব্যাপারেও তিনি উদার ছিলেন। দেখা হলে বলতেন , ‘যা লিখছো ভালই লিখছো’। কেউ তাঁর লেখার সমালোচনা করলে তিনি বলতেন,‘হড়ছ কা’। মানে পড়িস কেন?
মুসা ভাই সাংবাদিকতার ক্যরিয়ার শুরু করেছিলেন চট্টগ্রামে সংবাদের প্রতিনিধি হিসাবে। প্রথম জীবনে স্পোর্টস রিপোর্টার ছিলেন। পূর্বা পাকিস্তান বা বাংলাদেশের ক্রীড়া জগতের সাথে তাঁর গভীর সম্পর্ক ছিল। ৫০ এর দিকে তিনি অবজারভারে যোগ দেন এবং কালক্রমে বার্তা সম্পাদক হন। তিনি সত্যিই একজন সৃজনশীল , ইনোভোটিভ বার্তা সম্পাদক ছিলেন। গাড়িতে বাংলা নম্বরপ্লেট ও বাংলায় বিলবোর্ড বা সাইন বোর্ড চালুর ব্যাপারে মুসা ভাইয়ের একক অবদান ছিল। মুসা ভাইয়ের সাথে আমি পরে জনপদ ও নিউনেশনে কাজ করেছি। ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও স্মৃতির কথা বলতে গেলে লেখাটি খুব বড় হয়ে যাবে। তবে শুধু এ টুকুই বলবো যে তিনি আমার শিক্ষক ছিলেন। এমন সাহসী লেখক সাংবাদিক আমি আর দেখিনি। বাইরের দিকে দেখলে মনে হবে তিনি খুব রাফ বা অপরিশীলিত। কিন্তু মনটা ছিল খুবই নরম। পছন্দের সহকর্মীদের খুবই ভালবাসতেন। কর্ম জীবনে তিনি সব সময় একটা নীতিতে বিশ্বাস করতেন। তবে তাঁর সমালোচনাও কম নয়। নিজের স্বার্থ রক্ষাতেও তিনি খুবই কঠোর ছিলেন।
শেষ জীবনে টকশোতে কথা বলে তিনি জাতির বিবেকে পরিণত হয়েছিলেন। পরম করুণাময়ের কাছে দরখাস্ত করি তিনি যেন মুসা ভাইয়ের আত্মার মুক্তি দান করেন।


সকালবেলা ৮০

সকাল সাতটায় মাছরাঙা টেলিভিশনের গাড়ি এসে আমায় নিয়ে গেল তাদের রাঙা সকাল প্রোগ্রামের এক ঘন্টার লাইভ শোতে অংস গ্রহণের জন্যে। অনেকদিন আমি টিভিতে যাইনা। কেমন যেন ভাল লাগেনা। সাতটায় যাওয়ার ফলে রাস্তার সময়সূচীতে পরিবর্তন হয়ে গেছে। নাস্তায় আগে ডায়াবেটিসের যে অষুধটা কেতে হয় তা খাওয়া হয়নি। মাছরাঙায় যাওয়ার পর তাঁরা আমার নাশতার ব্যবস্থা করেছিলেন। খুব ভাল নাস্তা। এর পরেই পকেটে নিয়ে যাওয়া অষুধ গুলো মুখে দিলাম। এর পরে হাজির হলো এক কাপ কফি। তাদের আতিথিয়তা আমার খুব ভাল লেগেছে। আটতা বাজার ক’ মিনিটা আগেই ষ্টুডিওতে ঢুকলাম। উপস্থাপক ও উপস্থাপিকা কিবরিয়া ও রুবাইয়াত প্রোগ্রামটা কি তা বুঝিয়ে দিলো। প্রথমে আমার মনে হয়েছিল এক ঘন্টা কেমন করে প্রাগ্রাম হয়। এত কথা কোত্থেকে বলবো। একঘন্টার মাঝে কয়েকবার বিজ্ঞাপণ বিরতি ছিল। জানিনা কত মিনিট বিরতি ছিল।
উপস্থাপক ও উপস্থাপিকা দুজনকেই আমার খুব ভাল লেগেছে। ওরা প্রোগ্রামটা কিভাবে চালাতে চেয়েছিল আমি জানিনা। কিন্তু আমি সীমার ভিতর থেকে কথা বলতে পারিনা। তাই একটা প্রশ্ন করলে আমি উত্তর দিতে গিয়ে নানা দিকে ছুটাছুটি শুরু করে দিই। এটা আমার অভ্যাস। সত্যি কথা হলো আমরাতো চারিদিক নিয়েি বেঁচে আছি।
রাঙা সকলালে যে অতিথিকে হাজির করা হয় বা আমন্ত্রণ জানানো হয় তাকে মুক্তভাবে কথা বলতে দেয়া হয়। সেদিক থেকে আমি মুক্ত স্বাধীন ছিলাম। শুরুতে মনে হয়েছিল লম্বা সময়। পরে দেখলাম সব কথা বলার আগেই সময় শেষ হয়ে গেছে। জানিনা ক’ঘন্টা হলে ভাল হতো। না বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। আমার শৈশব, কৈশোর , স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়। আমার মায়ের কথা বলতে গিয়ে আমার কান্না এসে গিয়েছিল। মা আমাকে কেন যেন আচ্ছন্ন করে রাখে। মা’তো আমাদের ছেড়ে চলে গেছে ১৯৫১ সালের অক্টোবর মাসে মাত্র ৩১/৩২ বছর বয়সে। ১৫ বছর বয়সে মা’র বিয়ে হয়েছিল ১৯৩৫ সালে। বাবার ইচ্ছা ছিল আমাকে চার্টার্ড একাউন্টেন্ট বানাবেন। কিন্তু আমি হয়ে গেলাম সাংবাদিক। কেন হয়েছি জানিনা। তবে আমি সব সময় বলতে ও লিখতে ভালবাসতাম। সাংবাদিকতা পেশাটা তখনও সমাজে তেমন স্বীকৃতি লাভ করেনি। কেউ এটাকে পেশা মনে করতোনা। ভাবতো সমাজকর্ম।
সবাই হয়ত জানেন, আমি পাকিস্তান অবজারভারে আমার ক্যরিয়ার শুরু করেছি। তখন আবদুস সালাম ছিলেন সম্পাদক আর এবিএম মুসা ছিলেন বার্তা সম্পাদক। সালাম সাহেব ছিলেন দার্শনিক আর মুসা ভাই ছিলেন ডাকসাইতে বার্তা সম্পাদক। সারা পাকিস্তানে নাম ছিল। তাঁর সময়ে তিনি ছিলেন সেরা বার্তা সম্পাদক। তাঁর সাহসও ছিল সবার চেয়ে বেশী। লন্ডন থেকে ফিরে এসে তিনি অবজারভারের মেকআপ ও ছবি এডিটিংয়ে পরিবর্তন আনলেন। এর পরে মুসা ভাইয়ের সাথে আমি কাজ করেছি দৈনিক জনপদ ও সাপ্তাহিক নিউনেশনে। মুসা ভাইকে নিয়ে পরে একটি আলাদা আর্টিকেল লিখবো আশা রাখছি।
আমার পোষাক নিয়ে উপস্থাপকদের কৌতুহল ছিল। আমার মাথায় ছিল রূমী টুপি পাগড়ী। গায়ে ছিল এক ধরণের ব্যতিক্রমী পাঞ্জাবী। পরণে ঢোলা সালোয়ার ও পায়ে ছিল কাবুলী স্যান্ডেল। বললাম এটা আমার ফরমাল পোষাক। আমি রূমী ভক্ত।
আমি এখন রূমী হাফিজ ও হাল্লাজের অনুবাদ করছি।


সকালবেলা ৭৯

ক’দিন পরেই বাংলা নববর্ষ। শুধুই নববর্ষ বলতে পারলে খুশী হতাম। কিন্তু বলা যচ্ছেনা। কারণ আমাদের অনেক গুলো নববর্ষ। আমাদের সরকার , ব্যবসা বাণিজ্য, বিদেশ যোগাযোগ চলে ইংরেজী সন মোতাবেক। ইংরেজরা এসে আমাদের এ সন দিয়ে গেছে। ইংরেজদের ভাল মন্দ অনেক কিছুই আমরা গ্রহন করেছি। তার আগে নবাব ও বাদশাহী আমলে ছিল হিজরী সন। বাংগালী মুসলমানদের ধর্ম কর্ম, উত্‍সব চলে হিজরী সন ও চাঁদ মোতাবেক। মোগল আমলেই ফসলী সন চালু হয়েছে সুবে বাংলার খাজনা আদায়ের জন্যে।
বাংলা বা বংগদেশ তখন ছিল সুজলা সুফলা একটি সমৃদ্ধ দেশ। সারা বিশ্বের মানুষ আসতো এখানে ব্যবসা করার জন্যে। ১৬শ’ সালে ঢাকা ছিল ইংল্যান্ডের চেয়েও অনেক আধুনিক একটি শহর। বাংলার সম্পদ লুঠ করে ইংল্যান্ড গড়ে তুলেছে। আর বাংলা দিন দিন গরীব হয়েছে।
দাদাভাই নওরোজীর ’ পোভার্টি ইন ইন্ডিয়া’ পড়লেই জানা যাবে পুরো ভারত কিভাবে শোষিত হয়েছে। বাংলার মুসলমানদের দুর্দশার কথা জানতে হলে পড়তে হবে উইলিয়াম হান্টারের ‘ ইন্ডিয়ান মুসলমানস’।
এক সময় বাংলা নববর্ষ পালিত হতো অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোন থেকে। গ্রামে গ্রামে মেলা বসতো। প্রচুর বিকি কিনি হতো। সবাই খুশী ছিল।
রাজধানী সহ প্রধান প্রধান শহর গুলোতে এখন নববর্ষ পালিত হয় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উদ্দেশ্য নিয়ে। অজানা সূত্রের অর্থ নিয়ে নানা রকম পশুর ছবি মুর্তি নিয়ে মিছিল আর নর্তন কুর্দন করা হয়। পুজোর ঢংয়ে ঢোলও বাজানো হয়। এই তরুণ বা প্রৌঢদের একাংশ ৩১শে ডিসেম্বর যাকে ওরা বলে থার্টি ফার্স্ট নাইট বলে থাকে। এজন্যে পুলিশকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়। কে বা আমাদের তরুণদের এ পথে ঠেলে দিচ্ছে তা ভাবার মতো মানুষ এখন বাংলাদেশে নেই।
বাংলা সনের ইতিহাস নিয়ে আমাদের তরুণরা তেমন কিছু ভাবে বলে মনে হয়না। আর তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা বিভ্রান্তিতে আছেন। তাঁরা যোলয়ানা বাংগালী হবার চেষ্টা করতে গিয়ে বাপদাদার ইতিহাস ভুলে গেছেন। পূর্ব বাংলা বা বর্তমান বাংলাদেশে যে বুদ্ধিজীবী সমাজের জন্ম হয়েছে তাঁদের ৮০ ভাগই নির্যাতিত মুসলমান কৃষকের সন্তান। মা বা হাজারো কষ্ট সহ্য করে এঁদের পড়ালেখা করিয়েছেন। ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এরা পড়ালেখা করতে পেরেছেন। এরা মা বাবার প্রচেষ্টা আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের কথা ভুলে যেতে যায়। বাংলা সংস্কৃতি, ইতিহাস ঐতিহ্যের কথা বলে এরা হিন্দু ঐতিহ্যের খপ্পরে পড়েছে। অপরদিকে বিদেশী ভাবধারা অনুকরণ করতে গিয়ে নতুন এক খিচুড়ী প্রজন্মে পরিণত হয়েছে।
আমাদের সরকারী বাজেট বাংলা সন ব্যবহার করেনা। সরকারী অফিসে এখনও যোলয়ানা বাংলা ব্যবহার করেনা। রাজনীতির স্বার্থে এরা বাংলা আর বাংগালীয়ানাকে ব্যবহার করে। যে আদর্শ বা উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করা হয়েছিল তা আজ আর মুখ্য বিষয় নয়।


সকালবেলা ৭৮

এক সকালে আমার সন্তান সানি বললো, বাবা তোমার বয়স হয়েছে একথা ভুলে যাও কেন? আমি প্রতিদিন প্রেসক্লাবে যাই। আড্ডা মারি। বন্ধুদের সাথে কথা হয়। বিশেষ করে কবি বন্ধুদের সাথে কবিতা সাহিত্য নিয়ে নানা আলোচনা। আমি জাতীয় প্রেসক্লাব কবিতাপত্র পরিষদের সভাপতি। পরিষদ থেকে প্রতি মাসে কবিতাপত্র নামে একটি ম্যগাজিন প্রকাশিত হয়। এটা সম্পাদনা করেন প্রখ্যাত গীতিকার ও কবি কেজি মোস্তফা।
ঘরে মানে বাসায় আমার কোন কাজ নেই। আমার বাসায় আড্ডা হয়না। প্রেসক্লাবে না গেলেও বন্ধু বান্ধবদের অফিসে গিয়ে আড্ডা দেই। তারাও খুশী হয়। ৬১ সালে অবজারভারের নবীশ রিপোর্টার হিসাবে কর্ম জীবন শুরু করার পর ঘরে শোয়া ছাড়া থাকা হয়নি। তখন আমার বয়স মাত্র ২১। শিক্ষা জীবন শেষ কাকরাইলে একটি ছোট্ট বাড়ি নিয়ে থাকতাম আমি। সকালে তালা দিয়ে বেরিয়ে যেতাম, রাত গভীরে ফিরতাম। সকাল দুপুর রাত্রি প্রেসক্লাবে খেতাম।
বুঝতে পারি আমার দেহের বয়স ৭৪ বছর চলছে। বেশী কি কম বুঝতে পারিনা। তবে প্রচুর অষুধ খেতে হয়। নানা ধরণের নিয়ম কানুন মানতে হয়। নিয়মিত ডাক্তারের কাছে যেতে হয়। ডাক্তারদের কাছে যাওয়া যে কি কঠীন তা কেবল ভুক্তভুগীরাই জানেন। মনে হচ্ছে শরীরের ভিতরে কোথাও বিশাল ঝড় বইছে। প্রেসার এই বাড়েতো এই কমে যায়। সুগার ঠিক থাকেনা। তাকে ইনসুলিন দিয়ে ম্যানেজ করতে হয়। খাওয়া দাওয়া নিয়ম মতো না হলে সুগার বেড়ে যায়, নয়তো কমে হাইপো হয়ে যাবার উপক্রম হয়। আবার সোডিয়াম পটাসিয়াম নিয়েও নানা বিড়ম্বনা। হাইপো হলে গা কাঁপে প্রচুর ঘাম দেয়, মনে হয় নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। আবার লবণ বা সোডিয়াম কমে গেলেও একই অবস্থা হয়। তবে স্মৃতির সমস্যা দেখা দেয়।
অবাক কান্ড হলো, আমাকে দেখে কারেই মনে হয়না আমার শরীরে এত অসুবিধা। আমি সব সময় হাসি খুশী থাকি। দুটি জিনিষ আমি কখনই অনুভব করিনা। দারিদ্র ও অসুখ। আপনি বা আপনারা যদি প্রশ্ন করেন, কেমন আছেন? আমি উত্তর দেই খুব ভালো, ফার্স্ট ক্লাস। অনেক বন্ধু বলেন, আপনাকেতো কেমন আছেন প্রশ্ন করা যাবেনা। আপনিতো সদাহাস্য, সদানন্দ, সদাসুখী। তবুও জানতে চাই এখন ফার্স্ট ক্লাসে আছেন, না সেলুনে আছেন।
আমি নিয়মিত কম্পিউতার ব্যবহার করি। সকাল বিকাল সময় করে নিয়মিত লিখি। এখন রূমী ও মনসুর হাল্লাজ অনুবাদ করছি। ইংরেজীতে হাইকু লিখছি। রূমী স্টাডি সার্কেল গঠন করেছি। স্মৃতিকথা লিখছি।
সবই করি শরীরের জন্যে। ব্যস্ত থাকলে সুখ আনন্দ আমার সাথে থাকে। একা থাকলেই অসুখেরা আমার সাথে ইয়ার্কি মারে। শুধু শরীরের জন্যেই রাত ৩/৪টা দিকে জায়নামাজে বসে জিকির করি। ২০/২৫ বছর আগেও করতাম। এতে হার্টের রক্ত চলাচল বাড়ে। আল্লার সাথে কিছুক্ষণ থাকা যায়।
বয়স হয়েছে একথা ভাবলে কি আমি সুস্থ থাকবো? বয়সতো রূহের হয়নি। দেহ পুরাণা হয়ে গেলে রূহ দেহ ছেড়ে চলে যায় যেখান থেকে এসেছে সেখানে। আমার সন্তান ও বিবির সমস্যা আমার শরীর নিয়ে। তারা আমার দেহের যৌবন চায় বা সুস্থতা চায়। আমি বুঝি শরীরটা অচল হলে ওদের কষ্ট বাড়বে। সংসারে অসুস্থ লোকের দেখা শোনা করা খুবই কঠীন। তখন সবাই মিলে দোয়া করে, ‘আল্লাহ তুমি ওনাকে সুস্থ করে দাও না হয় নিয়ে যাও’। ওনার কষ্ট ( আসলে আমাদের হবে) আমাদের আর সহ্য হয়না।

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Join 264 other followers