সাদা কালো
সাদা কালো / এরশাদ মজুমদার
সাদা কালো এই নামে একটি কলাম লিখেছিলাম আমি ১৯৭৩ সালে দৈনিক জনপদে। গাফফার ভাই ছিলে কাগজের সম্পাদক।আমি ছিলাম চীফ রিপোর্টার। কাগজের আসল মালিক ছিলেন তখনকার শিল্পমন্ত্রী কামারুজ্জামান সাহেব। রাজশাহীর বর্তমান মেয়রের বাবা।কিন্তু ডিক্লারেশন ছিল এক কালের ডাকসাইটে কাস্টমস কালেক্টর হাবিব উদ্দিন সাহেব।হাবিব সাহেব কাগজের প্রকাশক ও ম্যানেজিং ছিলেন।প্রখ্যাত সাংবাদিক ওয়াহাব সাহেবের ছেলে আজিজুল ওয়াহাব ছিলেন ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর। ৭৩ সালের ১লা জানুয়ারী কাগজের প্রকাশনা শুরু হয়েছিল।
সাদা কালো কলামের মূল বিষয় ছিলো অর্থনীতি। সব অর্থনীতিতে সাদা কালো চিরকালই ছিল। এখনও আছে। শুধু বাংলাদেশ নয় আশে পাশের সব দেশে আছে। ভারত পাকিস্তানে অনেক বেশী। সাদা কালো সব টাকাই বাজারে চলে। চোর দরবেশ,শিক্ষক সাংবাদিক সবার টাকাই ব্যান্ক জমা রাখে। কিছুদিন আগেও ভারতে
সেক্স ওয়ার্কারদের(বেশ্যা) ব্যান্ক একাউন্ট খোলা ও বীমা করার দাবী সরকার মেনে নিয়েছে। বাংলাদেশেও নিশ্চয়ই বেশ্যাদের ব্যান্ক একাউন্ট আছে। তবে পরিচয় দিয়ে নয়। ইদানিং বেশ্যারা বাংলাদেশ নিজেদের নানা ধরনের অধিকারের জন্য প্রকাশ্যে আন্দোলন করছে। তাদের ছবি খবরের কাগজে ছাপানো হয় এবং টিভিতে দেখানো হয়। বেশ কিছু নামীদামী এনজিও তাদের সহযোগিতা করছে। এসব এনজিওর আরো নানা ধরনের ব্যবসা বাণিজ্য আছে। তারা বিদেশ থেকে নানা ধরনের পুরস্কার পায়। ৭৩ সালে কালো টাকার খোঁজে আমি বাংলাদেশ ব্যান্ক ও বিআইডিএসে গিয়েছিলাম। এই বিষয়ে তখনও এসব প্রতিস্ঠানে তেমন কোন তথ্য ছিলনা। আজও তেমন কোন তথ্য নেই। যারা দিনরাত গোলটেবিল ও টকশোর বন্দোবস্ত করেন তারাও এসব কোন কাজ করেন নি। কেন করেন নি বা করছেন না তার কো সদুত্তর নেই। এইতো কদিন আগেই সাবেক যৌথবাহিনী সরকারের অর্থ উপদেস্টা মির্জা সাহেব বললেন, কালো বা সাদা সব টাকাই অর্থনীতিতে সচল রয়েছে। কোন টাকাই বসে নেই।অর্থনীতি কোন মসজিদ মন্দির বা গীর্জা নয়। বরং কালো টাকা দিয়ে স্কুল কলেজ মসজিদ মক্তব মাদ্রাসা মন্দির গীর্জা সবই করা যায়। এমন কি কালো দিয়ে পত্রিকা প্রকাশ করা যায়। টিভি ও রেডিও স্টেশন চালু করা যায়। একটি টিভির পারমিশন নিতে পারলে যেকোন লোক রাতারাতি কয়েক কোটি টাকার মালিক হতে পারে। ৮৩ সালে একটি ব্যান্ক স্থাপন করতে মাত্র তিনকোটি টাকা পেইডআপ ক্যাপিটাল লাগতো। তখন তিনকোটি টাকা সাদা পাওয়া কঠিন ছিল। শুধু পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে অনেকেই ডিরেক্টর হয়েছেন। পাঁচ লাখ টাকার শেয়ার পাঁচকোটি টাকা বিক্রি হয়েছে। এখন একটি ব্যান্ক স্থাপন করতে ২০০ কোটি টাকার পেইডআপ ক্যাপিটেল লাগবে। একজন লোকই এখন ২০০ কোটি টাকা দিতে পারে। বিতর্কিত রাস্ট্রপতি এরশাদ সাহেব যখন ব্যান্কের পারমিশন দিচ্ছিলেন তখন ট্যাক্সপেইড টাকার কথা উঠেছিল। বলা হয়েছিল ট্যাক্সের বললে ব্যান্ক হবেনা। আগে ব্যান্ক হোক পরে ট্যাক্স আদায় করা যাবে। তখন বাংলাদেশ ব্যান্কের গভর্ণর ছিলেন নুরুল ইসলাম সাহেব আর এনবিআর চেয়ারম্যান ছিলেন এস বি চৌধুরী। কালো আর সাদা টাকা মিলিয়েই তিন কোটি টাকা কোনমতে জোগাড় করে উদ্যোক্তার ব্যান্ক স্থাপন করেছিলেন। ৮৩ সালের উদ্যোক্তাদের বলা হয় ফার্স্ট জেনারেশন ব্যান্ক উদ্যোক্তা। এসব উদ্যোক্তদের বেশীর ভাগই ছিলেন ইন্ডেন্টর, ইম্পোর্টার। পাকিস্তান আমলে বাংগালীদের মাত্র দুটি ব্যান্ক ছিল। একটি ইস্টার্ণ মার্কেন্টাইল ব্যান্ক (পূবালী ব্যান্ক) ও অপরটি ইস্টার্ণ ব্যান্কিং কর্পোরেশন (উত্তরা ব্যান্ক)। প্রথমটির মালিক ছিলেন একে খান সাহেবরা ও দ্বিতীয়টির মালিক ছিলেন জহিরুল ইসলাম সাহেবেরা। এ দুটি ব্যান্কের উদ্যোক্তারা ছিলেন বাংগালী পূঁজির মালিক। পূর্ব পাকিস্তানের পূঁজির বিকাশের জন্যে যাঁরা কাজ করেছেন তাদের অনেকেই এখনও জীবিত আছেন। ঢালাও ভাবে ইম্পোর্ট, ইন্ডেন্টিং ও সিএন্ডএফ এর লাইসেন্স দেয়া হয়েছিল শুধুমাত্র পূঁজির বিকাশের জন্যে। ৬০-৬১ সালের দিকে মাত্র ২৫ লাখ টাকা দিয়ে বাংগালীরা ২৫০ লুমের জুট মিলের মালিক হয়েছিল। ২৫ লাখ টাকা জোগাড় করতেই তাদের জান বেরিয়ে গেছে। বাজেট ঘোষণার পর কালো টাকা নিয়ে সুশীল সমাজ, অর্থনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা নানা কথা বলছেন। সবাই নৈতিকতার আন্দোলনে নেমে গেছেন। এই বুদ্ধিজীবীরাই এক সময় বাংগালীদের পূঁজির বিকাশের দাবীতে কত কথাই না বলেছেন। এখন তাঁরা অব্যবহৃত ও অপ্রদর্শিত পুঁজিকে নানাভাবে গালাগাল দিচ্ছেন। যে দেশে এখনও একজন উদ্যোক্তা নিজের তহবিল থেকে এক হাজার কোটি টাকা দিয়ে একটা পাওয়ার প্লান্ট বসাতে পারেনা। এদেশে এখনও পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি গ্রুপ পাওয়া যায়না। ভারতে বা পাকিস্তানে বহু উদ্যোক্তা আছে যারা ১০ হাজার মেঘাওয়াট বিদ্যুত উত্পাদনের প্লান্ট বসাতে পারে। সোজা কথায় বলা যেতে পারে এখানে এখনও বড় পুঁজির বিকাশ ঘটেনি। বড় কাজের জন্যে বিদেশ থেকে বড় পুঁজির মালিকদের হাতে পায়ে ধরে আনতে হয়।
হাঁ, একথা মহাসত্যি যে, কেউ যদি দশ টাকা দিয়ে একশ টাকা বৈধ করতে পারে তাহলে অন্যরা ২৫ টাকা দিয়ে একশ টাকা বৈধ করবে কেন। এ ব্যাপারে আমিও একমত। কালো টাকা( অপ্রদর্শিত, ট্যাক্সের আওতা বহির্ভুত) জন্মাবার পথ বন্ধ করার দায়িত্ব সরকারের। সরকারগুলো তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে প্রতি নিয়তই কালো টাকার জন্ম হচ্ছে। সঠিক পথে আয় করা টাকাও সরকারের রাজস্ব না দিলে কালো হয়ে যায়। একজন ডাক্তার যদি তাঁর পুরো আয়ের টাকা আয়কর হিসাবে না দেখান তা অপ্রদর্শিত হয়ে যাবে। জমি বিক্রি করা টাকা আয়কর হিসাবে না দেখালে অপ্রদর্শিত হয়ে যাবে। একজন সাংবাদিক তাঁর বেতন বহির্ভুত আয় যা কলাম লিখে, টকশোতে অংশ গ্রহণ করে, কোথাও ক্লাশ নিয়ে পাওয়া যায় তা যদি আয়কর হিসাবে না দেখান তাহলে অপ্রদর্শিত হয়ে যাবে। ডেশর লাখ লাখ মানুষ সঠিক পথে আয় করেও আয়কর হিসাবে না দেখানোর ফলে তা অপ্রদর্শি হয়ে গেছে। এসব টাকা আয়কর আওতায় আনতে হলে ব্যাক্তি আয়ের করের সীমা ৫/৬ পারসেন্টে নামিয়ে আনতে হবে। বাংলাদেশে আয়করের চাপ অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশী। ব্যক্তি আয়কর দাতা বাড়াতে হলে আয়করকে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে। আমার এক ব্যবসায়ী বন্ধু বললেন, দেশে অপ্রদর্শিত, আনট্যাক্সড ও অবৈধ কয়েক হাজার কোটি টাকা আছে। যা আয়করের বাইরে থাকে এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। দিন দিন ফুলে ফেঁপে মোটা হচ্ছে।
যেমন ঘুষের টাকা। এটাকা একেবারেই বেআইনী ও অবৈধ। কিন্তু প্রতিদিন কয়েকশ’কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন হচ্ছে। সরকারের উপর তলা থেকে নিচু তলার চৌকিদার পর্যন্ত ঘুষ খায়। এটাকে খায় বলা হয়, কারণ এটা আয় নয়। সবচেয়ে বেশী ঘুষ খাচ্ছে পুলিশ, এনবিআর স্টাফ, শিক্ষা বিভাগের স্টাফ। এসব টাকা কোথায় যাবে।
ব্যবসায়ীরা টাকার পাহাড় তৈরী করেন সরকারী কর না দিয়ে। কর ফাঁকি দেওয়ার জন্যে তারা আমদানী রফতানীতে ভুল ডিক্লারেশন দেন। তারা নিয়মিত আন্ডার ইনভয়েসিং ও ওভার ইনভয়েসিং করেন। বিদেশীরা বড় বড় কাজ পাওয়ার জন্যে সরকারের মন্ত্রী সচিব এমপিদের ঘুষ দিয়ে থাকে। এসব ক্ষেত্রে লেনদেন হয় হাজার হাজার কোট টাকা।
সীমান্তের অবৈধ ব্যবসায়( স্মাগলিং বা ইনফরমাল ট্রেড)প্রতি বছর কয়েক হাজার কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। এই অবৈধ ব্যবসার বড় বেনিফিসিয়ারী ভারত। বাংলাদেশে যেকোন মালের ঘাটতি পড়লেই তা সংগে সংগে ভারত থেকে চলে আসে। এর জন্যে কোন ফরমালিটি নাই। একটা ফোনই যথেস্ট। বাংলাদেশের বর্তমান জিডিপি হচ্ছে ১০০ বিলিয়ন ডলারের মতো। এর ভিতর ২০ পারসেন্ট বা ২০ বিলিয়ন ডলার( ১ লাখ ৪০ হাজার কোট টাকা) অবৈধ থাকা অস্বাভাবিক নয়। বর্ণিত সংখ্যাগুলো ইন্ডিকেটিভ বা গেস্টিমেটেড।কি পরিমাণ অর্থ কালো কাপড়ে মুখ ঢেকে আছে তা বুঝাবার জন্যে সংখ্যাগুলো উল্লেখ করলাম। এই অবৈধ বা অপ্রদর্শিত টাকা অর্থনীতিকে সব সময় অস্থির করে রাখবে। এর আগে বলেছি পূর্ব পাকিস্তানে পূঁজির গঠণ বা বিকাশের জন্যে সাংবাদিক বুদ্ধিজীবি ও রাজনীতিকরা অনেক অনৈতিক প্রস্তাব তখন রেখেছিলেন। ৬দফা ছিল সেই সব প্রস্তাবের রাজনৈতিক রূপ।
সাংবাদিক আনিসুল হক তাঁর কাগজে লিখেছেন ফ্ল্যাট বা বাড়ি কেনার জন্যে অপ্রদর্শিত আয় ব্যবহারের সুযোগ প্রত্যাহারের জন্যে। তিনি এটাকে অনৈতিক বলেছেন। কারণ এটা নাকি অনুত্পাদনশীল। তাঁর এ তথ্যটা একশ ভাগ ভুল। দেশের নির্মাণ বা হাউজিং শিল্প জিডিপিতে ২০ ভাগ অবদান রাখে। এই খাতের সাথে ২০ লাখ শ্রমি জড়িত রয়েছে।হাজার ইন্জিনিয়ার এই শিল্পে কাজ করেন। দেশে নির্মাণ শিল্পে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করে অনেক নির্মাণ শ্রমি বিদেশে যান।এই খাতের সাথে সিমেন্ট, রড, গ্লাস, উড, টাইলস, ইট বালু আরও নানা ধরনের লিংকেজ ইন্ডাস্টিজ রয়েছে।এসব ইন্ডাস্ট্রিতেও কয়েক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে।
আনিসুল হক সাহেব বলেছেন, ফ্ল্যাটের দাম মধ্যবিত্তের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। কথাটা সত্যি। একথাও সত্যি যে গত ১৫ বছরে রাজধানী ঢাকাতে ডেভেলপাররা ৭০ হাজার নির্মাণ করেছে। এর বেশীর ভাগই কিনেছেন মধ্যবিত্তরা। আশ্রয় বাংলাদেশের মানুষের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার বাস্তবায়নে আমাদের সকলকে কাজ করতে হবে। রাজধানীতে জমির দাম এখন সবচেয়ে বেশী। ধানমন্ডি, বনানী,গুলশান, বারিধারা, উত্তরা ছাড়া অন্য যেকোন এলাকায় এক কাঠা জমির দাম ২০ লাখ টকা থেকে ৫০ লাখ টাকা। রাজুক এখনও বিক্রি করে এক থেকে সাত লাখ টাকায়। গুলশানে এক কাঠা জমির বাজার দাম এক কোটি থেকে দুই কোটি টাকা। রাজুক বিক্রি করছে মাত্র সাত লাখ টাকায়। আমিতো মনে করি রাজুকের জমি বিক্রি করা অনৈতিক। রাজধানীতে তাই জমি বরাদ্দ বন্ধ করা দরকার। পাঁচ কাঠা জমিতে ছোট সাইজের ১৫টা ফ্ল্যাট হতে পারে। ১৫ পরিবারের আশ্রয়ের ব্যবস্থা হতে পারে।অপ্রদর্শিত বা অবৈধ টাকা দিয়ে ভাত কাপড়ের ব্যবস্থা নিয়মিত হচ্ছে। আনিস সাহেব কিছুই বলছেন না। শুধু আশ্রয়ের ক্ষেত্রে তাঁর আপত্তি।
মধ্যবিত্তরা দুই কোটি টাকা দিয়ে বাড়ি কখনই কিনেন না। এই কথাটি সঠিক নয়। বরং তাঁর বলা দরকার ছিল, ছোট ফ্ল্যাটের জন্য, ছোট গাড়ির জন্যে সকল প্রকার ট্যাক্স মওকুফ করা হোক। বড় ফ্ল্যাট ও দামী গাড়ীর ট্যাক্স কয়েকশ’ গুণ করা দরকার। আমি মনে করি বাংলাদেশে দামী গাড়ি আমদানী বন্ধ করে দেওয়া হোক।
তা না করে মূহিত সাহেব টুথব্রাশ,টুথপোস্ট বিস্কুটের উপর ট্যাক্স বসিয়ে দিয়েছে। আমিতো মনে করি ১৫ কোটি লোকেই দাঁত ব্রাশ করা দরকার। একটা ব্রাশের দাম পাঁচ টাকা হওয়া দরকার।
অনেকে বলছেন, যৌথ বাহিনীর সরকারের আমলে যে পরিমান কালো টাকার জন্ম হয়েছে তাকে বৈধতা দেয়ার জন্যই বর্তমান নির্বাচিত সরকার কালো টাকা সাদা করার এই প্রস্তাব রেখেছে। আমার কথা হলো সরকারের দায়িত্ব কালো টাকাকে লাগাতার মনিটরিং করা। কালো টাকার বিষয় স্টাডি করার জন্যে বাংলাদেশ ব্যান্কে একটি বিশেষ সেল চালু করা।
যদি ২০ বিলিয়ন ডলার বা এক লাখ চল্লিশ হাজার টাকা কালো টাকা আমাদের অর্থনীতিতে থাকে তাহলে তা অবিলম্বেই উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগের জন্য নিয়ে আসতে হবে। প্রধান মন্ত্রী এ ই ব্যাপারে যে বক্তব্য দিয়েছেন তাকে আমি স্বাগত জানাই। নিজের দেশ যদি এত টাকা পাওয়া যায় তাহলে বিদ্যুত, মাওয়া ব্রীজ, ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লাইন মহাসড়ক সহ আরও বড় বড় প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্যে বিদেশ থেকে টাকা ধার করতে হবেনা। তবে সরকারকে অবশ্যই ঘোষণা দিতে হবে নির্ধারিত খাতে বিনিয়োগ করলে কোন প্রশ্ন করা হবেনা। কালো টাকা সাদা করার ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী মুহিত সাহেব বলেছেন, যাদের টাকা সাদা হয়ে গেছে তারাই এখন এর বিরোধিতা করছেন।
Published in Jugantar on june 30,2009
Add comment June 24, 2009
writerershad
সোজা সাফটা ২
সোজা সাফটা ২ / এরশাদ মজুমদার
বিদ্যুত সাশ্রয় করার জন্যে সরকার এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে। তা হলো ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে দেয়া। ১৯শে জুন রাত এগারোটার সময় ঘড়ির কাঁটাকে এগিয়ে বারটা করে দেয়া হবে। এর মানে হচ্ছে বর্তমান সময় সকাল আটটার সময় ঘড়িতে সকাল ন’টা দেখা যাবে। বিকেল তিনটার সময় ঘড়িতে বিকেল চারটা দেখা যাবে। পৃথিবীতে বহুদেশ নাকি এধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে প্রয়োজনের সময়। এর বেশীর ভাগ দেশই হচ্ছে পশ্চিমের। যেখানে একশ’ ভাগ লোক শিক্ষিত। এসব বিষয়ে কথা বললে আওয়ামী ঘরানার বন্ধুরা বলেন বর্তমান সরকার ডিজিটাল সরকার। অত সহজে সবকিছু বুঝবেন না। এক বন্ধু কৌতুক করে বলছেন ডিজিটাল মানে হচ্ছে (digit + AL).ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে নেয়ার ব্যাপারেও সরকার একটা ঝামেলায় পড়বে। বিশেষ করে নামাজ রোজার সময় নিয়ে। অনেকেই বলছেন, অফিসের সময় এক ঘন্টা এগিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হতো।
উন্নয়ন ছাড়া বাকী সব বিষয়ে সরকারের আগ্রহ বেশী। যেমন, যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার, ২১শে আগস্টের বিচার, উদীচির বিচার,খালেদা জিয়ার দুই ছেলের বিচার, খালেদা জিয়ার বাড়ির বিচার, পঞ্চম সংশোধনী বিচার। এসবতো গেলো বিচারের কথা। সমস্যা আছে হাজারো। সেকুলার শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা, ধর্মীয় শিক্ষাকে আধুনিক করা, মাদ্রাসা ছাত্রদের জংগী সাব্যস্ত করা, টিপাইমুখ বাঁধ সমস্যা, ফারাক্কার পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়া, চীন ও মায়ানমারের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন না করা। সম্প্রতি দাউদ ইব্রাহিমের সাথেও জড়িয়ে পড়া। আওয়ামী লীগ মনে করে এগুলোই তাদের জন্যে আসল কাজ। সব গুলো কাজেই ভারত খুশী আছে বলেই মনে হয়। ৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার জন্যে আওয়ামী লীগ উঠে পড়ে লেগেছে। চলমান সংবিধানে তাদের কি অসুবিধা তা বুঝতে পারছিনা। বা তাদের লাভ কি তাও বুঝতে পারছিনা। ২৬৩ সিট পেয়ে মনে হয় তারা দেশের সবকিছুকে ওলট পালট করার ম্যান্ডেট পেয়ে গেছে। সরকার মনে করছে দেশে কোন বিরোধী দল নেই। থাকলেও তাদের কিছু করার ক্ষমতা নেই। আওয়ামী লীগ হয়ত ভুলে গেছে, , ২৯শে ডিসেম্বরের অগ্রহণীয় বির্বাচনে বিএনপিও তিন কোটির উপরে ভোট পেয়েছে। যে অবস্থা এখন চলছে তাতে গণতন্ত্রের ভবিষ্যত নিয়ে আশাবাদী হওয়ার কোন কারন দেখতে পাচ্ছিনা। বাজেট সংসদে বিরোধীদল উপস্থিত ছিলনা। সরকারী দলের ব্যবহার দেখে মনে হচ্ছে বিরোধীদল ছাড়াই সরকার মেয়াদ কাল পার করতে চায়। ভারতীয় কাগজে ছাপা হয়েছে বাংলাদেশ সরকার আসামের স্বাধীনতাকামী গ্রুপ
উলফার সামরিক শাখার প্রধান পরেশ বড়ুয়াকে গ্রেফতার করেছে। এর আগেই ভারতীয় কাগজেই ছাপা হয়েছিল বাংলাদেশে ভারতের মিত্র সরকার প্রতিস্ঠিত হওয়ায় পরেশ বড়ুয়া চীন পালিয়ে গেছে । ভারতের কাগজগুলো এসব সংবাদ পায় ভারতের সরকারের কাছ থেকেই। বাংলাদেশ সরকারও অনেক সময় ভারতকে এসব সংবাদ আগে ভাগেই সরবরাহ করে থাকে। পরেশ বড়ুয়ার গ্রেফতারের খবর বাংলাদেশ সরকার এখনও দেশী কাগজকে জানায়নি। দশ ট্রাক অস্ত্রের সাথে উলফা,দাউদ ইব্রাহিম,চীন ও মায়ানমারকে জড়িয়ে দেয়ার জন্যে ভারতে গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশের গোয়েন্দা বাহিনী গুলোকে ব্যবহার করার চেস্টা চালাচ্ছে বলেও গুজব রয়েছে। এ অন্চলে ভারতকে ঘিরে মায়ানমার ও চীনের ভিতর গভীর বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। পাকিস্তানের সাথেও চীনের গভীর বন্ধুত্ব রয়েছে। সম্প্রতি কাগজে ছাপা হয়েছে ভারত চীন সীমান্তে ৬০ হাজার সৈন্যের সমাবেশ করেছে। হঠাত্ ভারত কেন এই সমাবেশ করলো তা এখনও আমরা জানতে পারিনি। চীন বলেছে যুদ্ধ হলে ভারতের কি অবস্থা হবে ভারত হয়ত তা অনুধাবন করতে পারছেনা। ভারতের সাথে চীন ও মায়ানমারের তেমন সুসম্পর্ক নেই একথা বিশ্বব্যাপী সবাই জানে। শুধু বাংলাদেশ হয়ত জানেনা।
ভারত সব সময় চায় বাংলাদেশে তাদের মিত্র সরকার প্রতিস্ঠিত হোক। সেই মিত্র সরকার হলো আওয়ামী লীগ ও সেনা প্রধান। যেমন জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা দখলের আগে ভারতের সাথে আলাপ আলোচনা করেছেন বলে তিনি নিজেই স্বীকার করেছে। ইন্দিরা গান্ধীকে এরশাদ মা বলে ডাকতেন। জেনারেল মঈনও ক্ষমতা গ্রহনের আগে ভারতের সাথে আলাপ আলোচনা করেছে। ভারত সরকার তাকে লাল গালিচা সম্বর্ধনা দিয়েছে। ছয়টি ঘোড়া উপহার দিয়েছে। দশ ট্রাক অস্ত্র বিষয়টি রাস্ট্রীয়। এটা তত্কালীন সরকারের সব মহলে জানা থাকার কথা। এখন সরকারের নীতি পরিবর্তনের ফলে ওই মামলা শুরু হয়েছে। দিল্লীর সাথে মিত্রতা রাখতে গিয়ে বাংলাদেশ চীন ও মায়ানমারের সাথে মুখোমুখি দাঁড়াবার চেস্টা করছে। বিডিআর এর ঘটনা প্রমান করেছে যেকোন শক্তি যে কোন সময় বাংলাদেশের বুকের ভিতর আঘাত হানতে পারে এবং নিরাপদে চলেও যেতে পারে।
যুদ্ধ অপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে সরকার দেশের বাইরে নানা মহলের সহযোগিতা প্রার্থনা করছে। সম্প্রতি যুক্তরাস্ট্রের সহকারী পররাস্ট্র মন্ত্রী বলেছেন এমন সরকারের এমন কাজে হাত দেয়া ঠিক হবেনা যা গনতন্ত্রকে ব্যাহত করতে পারে। ৭১ সালে যুক্তরাস্ট্র পাকিস্তানকে সমর্থন করেছে। সেই যুক্তরাস্ট্রের কাছেই বাংলাদেশ যুদ্ধ অপরাধীদের বিচারের জন্যে সমর্থন ও সাহায্য প্রার্থনা করছে। সরকারের সামনে নতুন একটা সমস্যা এসে হাজির হয়েছে। তাহলো ভারতের বরাক নদীর উপর টিপাইমুখ বাঁধ। এই বাঁধের বিরুদ্ধে ভারতের মানুসও আন্দোলন করছে। বাংলাদেশের মানুসও আন্দোলন করছে। এমনকি সরকার সমর্থক বুদ্ধিজীবীরাও এর বিরুধিতা করছে। এখন সরকার বলছে সেখানে সরেজমিনে দেখার জন্যে পার্লামেন্টারি কমিটি ও বিশেষজ্ঞ দল পাঠাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবুও ভারত যা বলছে পার্লামেন্টারী কমিটি প্রধান আবদুর রাজ্জাক সে কথাই বলছেন। পিনাকের কথাবার্তা অনেক সময় কূটনৈতিক সৌজন্যের সীমা পেরিয়ে গেলেও সরকার তেমন উচ্চ বাচ্য করেনা। টিপাইমুখ সম্পর্কে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যকে পিনাক রন্জন রাজনৈতিক বক্তব্য বলে মসকরা করেছেন। সম্প্রতি পিনাক বলেছেন,টিপাই মুখের কাজ শুরু হয়েছে ৭২ সালে এবং এই বাংলাদেশ সরকার সবই জানেন।
Add comment June 22, 2009
writerershad
সোজা সাফটা ১
সোজা সাফটা / এরশাদ মজুমদার
এক এগারোর পর পরিস্থিতির কারনে মানসিক চাপে একটা কলাম লিখতে শুরু করেছিলাম নয়া দিগন্তে। কলামটির নাম ছিল রাস্তা থেকে বলছি। পঁচিশট সিরিয়াল লেখার পর আর লিখিনি। কেন লিখিনি তা বলতে পারবোনা। বন্ধুরা অনেকেই জানতে চেয়েছিল কোন ধরনের চাপ ছিল কিনা। আমি বলেছিলাম, না কোন চাপ নেই। এখন আবার মানসিক চাপেই লিখতে শুরু করলাম। কয়েক যুগ ধরে আমি সাংবাদিকতা করছি। কোন ধরনের চাপের মুখে আমি নতি স্বীকার করিনি। জেনারেল আইউবের আমল থেকে ধরলে আমি বহুবার হাজতে গিয়েছি। বহু মামলা মোকাবিলা করেছি। অনেক সময় উকিল পাওয়াও আমার জন্যে কঠিন হয়ে পড়েছিল। যে কথা চাকুরী করে দৈনিক কাগজে লিখতে পারিনি তা প্রকাশ করার জন্যে সাপ্তাহিক কাজ প্রকাশ করেছি।
১৯৬১ সালে যখন পাকিস্তান অবজাভারে কাজ শুরু করি তখন কাজটাকে চাকুরী মনে করিনি। ভেবেছি মানুষের জন্যে কথা বলার একটা বিরাট সুযোগ। তখন খবরের কাগজে মাত্র ওয়েজবোর্ড চালু হয়েছে। ৬০ পূর্ব সময়ে সাংবাদিকতা ছিল
আদর্শের জন্যে কাজ করা। নিপীড়িত মানুষের জন্যে কথা বলা। তারপর ধীরেধীরে সংবাদপত্র শল্প হয়ে উঠতে লাগলো। পুঁজির স্বার্থ রক্ষা আর সেই সাথে পুঁজিবাদী রাজনীতির স্বার্থরক্ষা সংবাদপত্রের প্রধান কাজ হয়ে উঠলো। অবজারের মালিক হামিদুল হক চৌধুরী সাহেব ছিলেন রক্ষণশীল গনতান্ত্রিক চিন্তাধারার লোক। কিন্তু পত্রিকার কাজে তিনি হস্তক্ষেপ করতেন না। তিনি চাইতেন তাঁর কাগজ জনপ্রিয় হোক। গনতন্ত্রের লড়াইয়ে তিনি কখনও সমঝোতা করেন নি। তাঁর কাগজে যাঁরা
কাজ করতেন তাঁরা প্রায় সবাই ছিলেন বাম চিন্তাধারার লোক।
কিন্তু এক জায়গায় মালিক শ্রমিকের মিল ছিল। তা হলো পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বিরাজিত অর্থনৈতিক বৈষম্য। পূর্বের উপর পশ্চিমের শোষণের বিরুদ্ধে অবজারভার হাউজের সকল কাগজ সোচ্চার ছিল। তখনকার অন্যান্য কাগজ পূর্ব পাকিস্তানের স্বার্থের ব্যাপারে সোচ্চার থাকলেও অবজারভার বা পূর্বদেশের সমকক্ষ হতে পারেনি। ৭০ এর নির্বাচনের প্রধান বিষয়ই ছিল পূর্ব ও পশ্চিমের বৈষম্য। বংগবন্ধু বিষয়টা বুঝতে পেরে তাকে পশিমাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রধান হাতিয়ার করেছিলেন। তাঁর সাথে যোগ দিয়েছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের উঠতি পূজিপতি ও বাংগালী সিনিয়র আমলারা। নির্বাচনের ফলাফল ছিল আওয়ামী লীগের নিরন্কুশ বিজয়। বাংগালী ও অবাংগালীর মধ্যে প্রথম ভোটের লড়াই। অন্যান্য পার্টি এখানে গৌণ হয়ে গিয়েছিল। ৫৪ সালেও নির্বাচনে এ রকম একটি ফলাফল আমরা দেখেছি।
শাসক গোস্ঠি মুসলীম লীগ রাজনীতি থেকে চিরতরে বিদায় নিয়েছে। নির্বাচনে দুটি প্রধান প্রতিদ্বন্ধী দল ছিল। একদিকে মুসলীম লীগ আর অন্যদিকে সকল বিরোধীদলের মোর্চা যুক্তফ্রন্ট। যুক্তফ্রন্টের নেতা ছিলেন মাওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা ও সোহরাওয়ার্দী। বিশ্লেষণ করলে বুঝা যাবে ৫৪ ও ৭০ এর নির্বাচন আওয়ামী লীগের একার বিজয় ছিলনা। ৫৪র নির্বাচন ছিল মুসলীম লীগের কবর দেয়ার নির্বাচন। ৭০ এর নির্বাচন ছিলো বাংগালী অবাংগালীর নির্বাচন। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পার্লামেন্টের নির্বাচন অনুস্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালে। ৭৩ এর নির্বাচনও ছিল এক রকম একদলীয় নির্বাচন। শেখ সাহেব ছোট খাট অন্য দলের কাউকে নির্বাচিত হতে দেন নি। এতেও শেখ সাহেব নিরাপদ বোধ করতে পারেন নি। ৭৫ সালের জুন মাসে এসে তিনি একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করলেন যখন সংসদে তাঁর ২৯১ জন সদস্য ছিল।যা ছিল কল্পনারও অতীত। তিনি সারা জীবন গণতন্ত্রের জন্যে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করলেন।
যে কারণে এখন আবার লিখতে ইচ্ছে হচ্ছে তাহলো দেশের অবস্থা। আমার আশা ও বিশ্বাস ছিল ২৬৩ সিট পেয়ে আওয়ামী লিগ এবার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে একশ’ভাগ মনোনিবেশ করবে। তারা যদি তা করতো তাহলে এই ছোট্ট বিরোধী দলের আন্দোলনের তেমন কোন বিষয় থাকতোনা। কিন্তু না, আওয়ামী লীগের কাছে দেশের উন্নয়নের চেয়ে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। তার মাথায় সব সময় ঘুরছে ২৬৩ সিট। যা দিয়ে সে সবকিছু ওলট-পালট করে দিতে পারে। শেখ সাহেবও তা করেছিলেন। ২৯১ সিট নিয়ে সরকারী কাগজ ছাড়া বাকী সব কাগজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করে সকল কর্মচারীকে দলের সদস্য করেছিলেন। সেই সময়ের অনেক বাকশালী আমলা এখন প্রধান মন্ত্রীর উপদেস্টা। লোকে বলে এই বুড়ো আমলারাই নাকি দেশ চালায়। ওই আমলারাই নাকি বুদ্ধি দিয়েছে বর্তমান প্রশাসন ব্যবস্থা পরিবর্তন করে নতুন প্রশাসন ব্যবস্থা চালু করার জন্যে। নতুন ব্যবস্থায় সচিবরা চুক্তি ভিত্তিতে ক্যাডার সার্ভিসের বাইরে থেকে আসবেন। ক্যাডার সার্ভিসের সদস্যদের সর্বোচ্চ পদ হবে যুগ্ম সচিব। সরকারের বয়স এখনও ছয় মাস পার হয়নি। ইতোমধ্যে দেশে অনেক ঘটনা ঘটে গেছে। সবচেয়ে বড় ঘটনা হচ্ছে পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ। এ ঘটনার পেছনে কারা তদন্ত করে সরকার এখনও দেশবাসীকে জানাতে পারেনি। বরং এ ঘটনাকে ব্যবহার করে সরকার রাজনৈতিক ফায়দা লুটার চেস্টা করছে। জনগণ সরকারের তদন্ত রিপোর্টকে বিশ্বাস করতে পারছেনা। সেনা বাহিনীর তদন্ত রিপোর্ট এখনও প্রকাশিত হয়নি।কাস্টডিতে বেশ কয়েক জন বিডিআর সদস্য মারা গেছে। তাদের মৃত্যুতেও জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় সরকার যেভাবে এগুবার চেস্টা করছে তাতে দেশর নিরাপত্তা জনিত নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকার তা জেনেও বিগত সরকারকে এর সাথে জড়িত প্রমাণ করার জন্যে উঠে পড়ে লেগেছে। আসলে এর সাথে রাস্ট্রের নিরাপত্তা নিরাপত্তা যে জড়িত তা বুঝেও সরকার কোন এক অদৃশ্য শক্তির ইংগিতে পুতুলের ভুমিকা পালন করছে। এছাড়াও সরকার শুধু রাজনৈতিক কারনে ও দলীয় দৃষ্টিকোন থেকে আরও অনেক গুলো কাজ হাতে নিয়েছে যা একেবারেই জরুরী নয়। সত্যিকথা বলতে কি একাজ গুলো সরকারের জন্য কোন কল্যাণ বয়ে আনবেনা। চারিদিকের অবস্থা দেখে দেশবাসী এখন খুবই চিন্তিত ও শংকিত।
৭/৬/০৯
Add comment June 7, 2009
writerershad
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্ব অর্থনীতি / এরশাদ মজুমদার
সারা বিশ্বের অর্থনীতিবিদ,গবেষক ও চেম্বার নেতারা একমত , আমেরিকার বর্তমান সংকট থেকে বিশ্ববাসীর শিক্ষা নেয়ার সময় এসে গেছে। পুঁজিবাদী সমাজ ও অর্থ ব্যবস্থা পরিবর্তন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। নতুন বিশ্ব এবং নতুন অর্থনীতি গড়ে তোলার যাত্রা এখনি শুরু করতে হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ এখনও বলছেন মুক্ত বাজার অর্থনীতি সবচেয়ে পরীক্ষিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। অপরদিকে খোদ আমেরিকান অর্থনীতিবিদরাই বলছেন,চলমান মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে পরিবর্তন আনা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে। রাস্ট্র জনগনের
কল্যাণের দায়িত্ব মুক্ত বাজার অর্থনীতির নামে বড় বড় কিছু কোম্পানীর হাতে তুলে দিতে পারেনা। এটাই এখন অর্থনীতিবিদদের সোজা সাফটা বক্তব্য। চলমান বিশ্ব সংকট নিয়ে কথা বলার জন্যে এখনি অর্থনীতিবিদদের ভিতর আলোচন শুরু হওয়ার দরকার। শুধু রাস্ট্রনেতারা বসলেই সমস্যার সমধান পাওয়া যাবেনা। মার্কিন অর্থনীতিতে এবার যে ঘটনা ঘটেছে বা ঘটে চলেছে তা মানুষের সৃস্টি, এ ব্যাপারে এখন আর কারো সন্দেহ নেই।
বিশ্বের ৭০০ কোটি মানুষের প্রায় ৬০০ কোটি মানুষই নানা ভাবে নিপীড়িত বা শোষিত হচ্ছে। কয়েকশ কোট মানুষ একেবারেই হতদরিদ্র ও নিরক্ষর।প্রায় ১০০ কোটি মানুষ প্রতিদিনই অনাহারে থাকে। শুধু মুক্ত বাজার অর্থনীতি এই দরিদ্র ও নিরক্ষর মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন করতে পারবেননা একথা এখন প্রমানিত। মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের অর্থনৈতিক ধ্বসকে বিশ্ব অর্থনীতির ধ্বস বলে চালাবার চেস্টা করা হচ্ছে।৭০০ বিলিয়ন ডলারের জামিন তহবিল যারা মানুষকে প্রতারিত করেছে তাদের জামিনের ব্যবস্থা করেছে।এতে আমেরিকার সাধারন মানুষের তেমন কোন উপকারে আসবেনা। হাজার হাজার মধ্যবিত্ত ঘরবাড়ি ফেলে রাস্তায় নেমেছে।
আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে নিন্দিত ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট বুশ ভুয়া তথ্য পেশ দেশের মানুষকে প্রতিরিত করে ইরাক ও আফগানিস্তান আক্রমন করেছে।দেশের মানুষের রক্ত শোষণ করে সে টাকা ব্যয় করছে মানবতা বিরোধী যুদ্ধে। ফলে আজকের ধ্বস নেমেছে মার্কিন অর্থনীতিতে।
এখন দলবেঁধে সবাই মাঠে নেমেছে বিশ্ব অর্থনীতিকে বাঁচাবার শ্লোগান নিয়ে। সমাজতন্রী শিবিরের অনেকেই মনে করছেন,পুঁজিবাদের মরন শুরু হয়ে গেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে তা মনে করিনা। তবে একথা সত্যি যে,প্রচলিত পুঁজিবাদ ব্যবস্থার যন্ত্রপাতি এতই পুরাণো হয়ে গেছে যে এট বাতিল না করে আর উপায় নেই। নতুন চিন্তা ভাবনা নিয়ে আগামী দিনের পথ রচনা করতে হবে।পৃথিবী ধনী হবে আর পৃথিবীর সাধারন মানুষ দরিদ্র হতে থাকবে এমন নীতি আর চলতে পারেনা। একশ বছর আগের সমাজ চেতনা এখন আর নেই। একজন অতিগরীব মানুষও বুঝতে পারে জগতে সম্পদের অভাব নেই,কিন্তু অভাব আছে বন্টন ব্যবস্থায়।শুধু পুঁজির বিকাশ চাইলেই হবেনা, মানুষেরও বিকাশ চাই। মানুষের অন্ন বস্ত্র গৃহ চিকিত্সা থাকবেনা এটা কোন সমাজ বা রাস্ট্র ব্যবস্থা হতে পারেনা।আমেরিকা শক্তি ও অর্থে পৃথিবীর এক নম্বর দেশ। সেই দেশের মানুষ ফুটপাতে থাকে,খেতে পায়না। শুনতে কেমন বেখাপ্পা লাগে। অথচ সেই আমেরিকা দেশে মানুষকে না খাইয়ে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ করে বেড়াচ্ছে। আমেরিকার রাস্ট্র ব্যবস্থাই এ রকম। এবারের অর্থনৈতিক ধাক্কায় এ কথা প্রমানিত হয়েছে যে, আমেরিকার রাস্ট্র ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনয়ন জরুরী হয়ে পড়েছে।
আমাদের বাংলাদেশও বিগত ৩৬ বছরে কম উন্নতি করেনি। তবে যে পরিমান উন্নতির প্রয়োজন ছিল তা হয়নি। ৩৬ বছরে সাধারন মানুষের উন্নতির হার এক/দুই পারসেন্ট হারে। উন্নতির মডেল গুলি আমাদের সামনে থাকা সত্ত্বেও আমরা পারিনি।এটা আমাদের রাজনীতিবিদদের ব্যর্থতা। দেশে যে দুটি বড় রাজনৈতিক দল রয়েছে তাদের যে ধ্যান ধারনা রয়েছে তা দিয়ে দেশের উন্নতি আর হবেনা। এরা ভোটের পাগল, দেশের পাগল নয়। এদের ভাল মন্দের বিচার হলো, দুই দল।আওয়ামী লীগের চেয়ে বিএনপি ভাল, অথবা বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগ ভাল।
চলমান জরুরী সরকার রাজনীতিতে পরিবর্তন আনার ওয়াদা করলেও তা করার মত বুদ্ধি বা কৌশল তাদের জানা ছিলনা। তারা শক্তি প্রয়োগ করে বা শাস্তি দিয়ে পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলেন। যা কার্যকর হয়নি।মাঝখানে দুটি বছর নস্ট হলো। অর্থনীতির বিরাট ক্ষতি হয়ে গেল। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরাট পরিবর্তন হওয়া দরকার এটা সবাই অনুভব করে। কিন্তু কিভাবে এ পরিবর্তন হবে।শুরু থেকেই চলমান জরুরী সরকারকে যারা বুদ্ধি দিয়েছিলেন তারা শুধু শক্তি প্রয়োগের কথাই বলেছিলেন। টিভির টকশোতে অনেকেই ব্রাশ ফায়ারের কথাও বলেছেন।দুই নেত্রীকে বাদ দেওয়ার কথাও অনেকে বলেছেন।
বিশ্ব অর্থনীতি ও আমেরিকার কথায় আবার ফিরে আসি। আমেরিকার সাবেক সহকারী অর্থমন্ত্রী পল ক্রেইগ বলেছেন, মার্কিন জনগনের জীবনে কি ঘটে গেছে তা তারা কখনই জানতে পারবেনা। কারন বর্তমানে যুক্তরাস্ট্রে জনগনের কথা বলার মতো কোন গনমাধ্যম নেই। এদেশর মিডিয়া জনগনের উপর দাদাগিরি করে। এই মিডিয়াই ইরাক যুদ্ধে বুশের তাবেদারি করেছে। মার্কিন অর্থনীতি সম্পর্কে নোবেল বিজয়ী প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগলিজের কথা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সারাবিশ্ব জেনে গেছে।স্টিগলিজ ছাড়াও বিশ্বের অনেক অর্থনীতিবিদ বর্তমান অবস্থার জন্যে মার্কিন প্রশাসনকে দায়ী করেছেন।
যে কারন গুলো তারা চিহ্নিত করেছেন তা মোটা দাগে এ রকম।
১) ব্যান্ক ও আর্থিক প্রতিস্ঠানের উপর থেকে রাস্ট্রীয় নিয়ন্ত্রন তুলে নেয়া। অর্থাত্ প্রতিস্ঠান গুলোকে যা ইচ্ছা তা করার সুযোগ করে দেয়া।
২) প্রতিস্ঠান গুলো অতি মুনাফার লোভ,ফটকাবাজারি ও সিইওদের সীমাহীন দুর্ণীতি।
৩) রিয়েল স্টেট খাতে বেহিসেবী লগ্নী।
৪) বুশ প্রশাসনের ব্যর্থতা। যুদ্ধবাদী বিদেশনীতি
৫) ভোগবাদী অর্থ ব্যবস্থা। বাকিতে খাও,বাকিতে মর।
সোজা কথা হলো বাজার কখনই নিজের ইচ্ছায় নিজের মতো করে চলতে পারেনা। বাজারের একজন মুরুব্বী থাকতে হবে।যিনি তদারকি করবেন,বাজারে কোন চোর ডাকাত ঢুকে পড়ছে কিনা। রাস্ট্র যদি নিজেই চোর ডাকাত হয়ে যায় সেখানে জনগনের দূর্গতি রোধ বা ঠেকাবার কেউ থাকেনা। বুশদের মতো লোকদের হাতে পড়ে মার্কিনী জনগন আজ এই মহাবিপদে পড়েছে। যারা চুরি ডাকাতি করেছে তাদের মুক্ত করার জন্যে ৭০০ বিলিয়ন ডলারের জামিন বাজেট তৈরী করা হয়েছে।
এ পর্যন্ত কোনও সিইওর শাস্তি হয়নি। অথচ তারা ১৪/১৫ মিলিয়ন ডলার চুরি করে নিয়ে গেছে।পল ক্রেইগ বলেছেন, আমেরিকায় মুক্ত বাজার নয়, মুক্ত লোভ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
মার্কিন কলামিস্ট জ্যাসন মিলার বলেছেন, মার্কিনীরা ডলারকেই দেবতা মনে করতো। ডলারের পুজা করতে করতেই মার্কিন অর্থ ব্যবস্থার আজকের এ অবস্থা।
চলমান অর্থ ব্যবস্থাই মার্কিনীদের ভোগবাদী করে তুলেছে। এটার নাম প্লাস্টিক মানি বা ক্রেডিট কার্ড সভ্যতা।কোথাও ডলার থাকার দরকার নেই। কার্ড থাকলেই হলো।১৫ নভেম্বর ওয়াশিংটনে বিশ্ব অর্থনীতি সম্মেলন হতে যাচ্ছে। বুশের বক্তব্য, চলমান মন্দা সারা বিশ্বকে গ্রাস করেছে।সুতরাং সবাই মিলে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। বুশের কথাটা কি আসলে সত্য? বিশ্বের কোটি কোটি দরিদ্র মানুষ কি এ সমস্যার সৃস্টি করেছে? বরং বিশ্বের দরিদ্র জনগন আমেরিকার জরিমানার কথা বলতে পারে। মার্কিন গরীব জনগনকে এখন রুখে দাঁড়াতে হবে। তাদের রাজনীতি ও অর্থনৈতিক বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। তাদের বুঝতে হবে আমেরিকা এ ভাবে চলতে পারেনা।এ সময়ে অর্থনীতিবিদদের একটা বিশ্ব সম্মেলন অনুস্ঠান জরুরী হয়ে পড়েছে।
ঢাকায় এখন প্রায় প্রতিদিনই চলমান সংকট নিয়ে কথা হচ্ছে। রাজনীতিবিদরা কেউ এখনও কিছু বলেননি। আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের এ অভ্যাসটা নেই। তাদের কিছু বলা উচিত ছিল। কয়েকদিন আগে ইকনমিক রিপোর্টার্স ফোরামে ডঃ ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, সাউথ-সাউথ বাণিজ্য বাড়ানো দরকার। সিপিডির ডঃ মোস্তাফিজ বলেছেন,পশ্চিমা দেশগুলো চলমান সংকট মোকাবিলার জন্যে চট করে ২৪০০ বিলিয়ন ডলার জোগাড় করতে দ্বিধা করেনি। কিন্তু বাংলাদেশকে ২০০ মিলিয়ন ডলার সাহায্য সিদ্ধান্তে বছর কাটিয়ে দেয়। ওই আলোচনায় বুঝা গেছে যে, চলমান সংকট বাংলাদেশে তেমন ধাক্কা লাগাতে পারবেনা। বরং সুযোগ সৃস্টি হলে তা কাজে লাগাবার জন্যে প্রস্তুত থাকতে হবে।
Add comment June 1, 2009
writerershad
সিমেন্ট শিল্প: বর্তমান ও ভবিষ্যত
সিমেন্ট শিল্পের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যত
পৃথিবী নামক গ্রহটি স্রষ্টা সৃষ্টি করেছেন মানুষের জন্য। সভ্যতার আদি
লগ্নে মানুষ গৃহ নির্মাণ জানতোনা। মানুষ বনে জংগলে ঘুরে বেড়াতো।
ভয়ংকর পশুদের অত্যাচারে মানুষ এক সময়ে সমতলে নেমে আসে। তখন
মানুষের প্রধান জীবন সংগ্রাম ছিল খাদ্য সংগ্রহ করা। খাদ্যের আশায় মানুষ
নদীর তীর ধরে ঘুরে বেড়াতো এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়।
মানববিদ্যা বিজ্ঞানীরা এসব কথা বলেছেন। ধর্মপুস্তক অবশ্য অন্য কথা
বলে। শিকারের পেশা থেকে আস্তে আস্তে মানুষ সরে আসে এবং কৃষিকাজ
শিখে। এর আগে অবশ্য মানুষ কিছুকাল গুহায় বাস করেছে।
কৃষিকাজ শিখতে এবং যুথবদ্ধ হয়ে বসবাস করতে মানুষের অনেক কাল
সময় লেগেছিল। এ সময় থেকে মানুষ গৃহ নির্মাণ করতে শিখে। গুহাজীবন
থেকে মানুষ ধীরে ধীরে পরিকল্পিত জীবন ব্যবস্থায় এসেছে। প্রথমে খড় ও
মাটি দিয়ে ঘর নির্মাণ করেছে। পোড়ানো ইট দিয়ে গৃহ নির্মান শুরু হয়েছে
ফোরাত নদীর তীরে মেসোপটেমিয়ায়,যা এখন ইরাক বলে পরিচিত। ইরাকে
সভ্যতার যাত্রা শুরু হয়েছে সাত হাজার বছর আগে। মানব সভ্যতার অগ্রগতি
সাধন করেছে নির্মাণ ব্যবস্থা। আর সিমেন্ট এই ব্যবস্থাকে বহুদূর এগিয়ে
নিয়েছে। সিমেন্ট আবিষ্কার না হলে মানব সভ্যতা আজকের এ অবস্থায়
আসতে পারতোনা।
নির্মাণ শিল্প যে কোন দেশের অগ্রগতির প্রধান প্রতীক। নির্মাণ
কর্মের সাথে আরও বহু শিল্প জড়িত। এর সাথে লাখো লাখো মানুষের
জীবন ও জীবিকা নির্ভর করে।
বাংলাদেরশও এই নিয়ম নীতির বাইরে নয়। প্রতি বছর জাতীয় আয়ের
হিসাবে নির্মাণ শিল্পের অবদান ১০ ভাগের উপরে। নির্মাণ শিল্পের অন্যতম
প্রধান সহযোগী হচ্ছে সিমেন্ট শিল্প। গত এক দশকে সিমেন্ট শিল্পে
আশাতীত অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। দেশের মোট চাহিদার তূলনায় বর্তমানে
উত্পাদন ক্ষমতা অনেক বেশী। এক্ষেত্রে বিনিয়োগ নীতি ও তথ্য সুস্পস্ট
না থাকায় দেশের উত্তরান্চলে বহু ছোট ছোট সিমেন্ট কারখানা গড়ে
উঠেছে। যার প্রায় সব গুলোই বর্তমানে বন্ধ। আর এতে বিনিয়োগের
পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। এ টাকা গিয়েছে ব্যাংকিং
খাত থেকে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ সজাগ থাকলে এ
অবস্থার সৃষ্টি হতোনা। ছোট মিল গুলো চালু থাকলেও প্রতিযোগিতায়
টিকতে পারবেনা। কারন তাদের উত্পাদন ক্ষমতা খুবই কম। কারো ক্ষমতাই
মাসে তিন হাজার টনের বেশী নয়। প্রতিটি বড় মিলের উত্পাদন ক্ষমতা মাসে
৫০হাজার টন থেকে একলাখ টন। অসম প্রতিযোগিতায় ছোট মিলগুলো
কখনও টিকতে পারবেনা। এ পরিস্থিতির জন্য সরকারের নীতিকে অবশ্যই
দায়ী করা যায়।
সরকার এ খাত থেকে প্রতি অর্থ বছরে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা
রাজস্ব পেয়ে থাকে। বর্তমানে ৭০টি মিল চালু আছে। এর উত্পাদন ক্ষমতা
প্রায় ১৮ মিলিয়ন টন। বন্ধ হয়ে যাওয়া ৫০টি মিল চালু থাকলে দেশের
উত্পাদন ক্ষমতা হতো প্রায় দু কোটি টন। স্বাধীনতার পর দেশের সিমেন্ট
উত্পাদন ক্ষমতা ছিলো তিন লাখ টনের মতো, চাহিদা ছিলো প্রায় সাত
লাখ টন। চার থোকে পাঁচ লাখ টন আমদানী হতো। এদিক থেকে বিবেচনা
করলে সিমেন্ট শিল্পে বিরাট বিপ্লব সাধিত হয়েছে। বেসরকারী উদ্যোক্তারা
এ জন্য ধন্যবাদ পাওয়ার অধিকার রাখেন।
আরও সুখবর হলো বাংলাদেশের সিমেন্ট এখন মানের ক্ষেত্রে বিদেশী সিমেন্টের
সাথে প্রতিযোগিতার ক্ষমতা রাখে। বিশ্বের বাজারও খোলা রয়েছে। এখন শুধু
সরকারী নীতি ও সহযোগিতা। যেটা এখনও হয়নি।
বাংলাদেশে সিমেন্টের দাম বিশ্ব বাজারের চেয়ে অনেক কম। এমন কি ভারত
পাকিস্তানের চেয়েও দাম কম। ইইউ ও যুক্তরাস্ট্রে এক ব্যাগ সিমেন্টের দাম
১০ থেকে ১২ ডলার। দুবাইতে ৮ ডলার, ভারত-পাকিস্তানে সাড়ে চার
থেকে পাঁচ ডলার। বাংলাদেশে পৌনে চার ডলার। প্রতি ব্যাগে সরকারী রাজস্ব
রয়ছে প্রায় এক ডলার।
বাংলাদেশ দুবাই, আফগানিস্তান ও ভারতের দক্ষিন-পুর্বান্চলের রাজ্যগুলোতে
সিমেন্ট রফতানী করতে পারে। শুধু প্রয়োজন সরকারী সহযোগিতা। বাংলাদেশের
আভ্যন্তরীন চাহিদা বছরে গড়ে পাঁচ শতাংশ করে বাড়ছে। বর্তমানে
বাংলাদেশে মাথাপিছু সিমেন্ট চাহিদা বিশ্বের সর্বনিম্ন। মাথাপিছু মাত্র ৫০ কেজি।
ইইউতে ২০০ কেজি, যুক্তরাস্ট্রে ৫০০ কেজি, ভারতে ১০০ কেজি।
Add comment June 1, 2009
writerershad
God and Me ( খোদা ও আমি )
1.
I am not a performing religious person in truest sense. But I am not a God fearing person. I am a God loving person. Really I am in love with my creator. I know God has not created me out of anger. He created me out of love. He created me after everything He crteated on this planet. One day He had a look on a miracle mirror and fell in love with His own image. So finally He decided to create me out of His own image. So I am here. I shall return to Him when my time on this planet will be over. One day a messanger ( feresta) of God will come to me to take back THE RUH God has given me. RUH belogs to God. This body clay belogs to the earth. I am no where and I am no body. The RUH will be stored in the world of RUH( Alme Arwan) till the day of judgement.
২।
আমি খোদাকে ভয় করিনা। কারণ আমি খোদাকে খুবই ভালবাসি। আমি জানি খোদা রাগ করে বা ক্ষেপে গিয়ে আমাকে সৃস্টি করেন নি। দুনিয়া খুবই বাজে জায়গা। এখানে ভুল ভ্রান্তি হতেই পারে। মানুষের ভুল হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তার উপরে লেগে রয়েছে এক মহা শয়তান। দিনরাত তার জ্বালা। দিনরাত তার ফুসলানি। সংসার আরেক মায়াময় জিনিস। যা মানুষকে দুনিয়া পাগল করে রাখে। যদিও খোদা বলেছেন যে, আমাকে বেশী ভালবাস। কিন্তু পারি কই। খোদার নিয় কানুন খুবই সহজ তবুও সেই নিয়ম পালন করতে পারিনা। তাইতো সব সময় খোদার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। বলি তুমি ছাড়াতো আমার কেউ নেই।তুমিতো ভাল করেই জানো আমার মন ও হৃদয়ের কথা। তুমি ক্ষমা না করলে আমাকে আর কে ক্ষমা করবে? তুমি আমাকে আগুন থেকে রক্ষা করো। যাকে তুমি ভালবেসে সৃস্টি করেছো তাকে শাস্তি দিয়ে তোমার কি লাভ? ক্ষমা করো , ক্ষমা করো।
Add comment May 31, 2009
writerershad
পে কমিশন, বাজেট ও চলতি অর্থনীতি
____________________________
পে কমিশন নিয়ে বিশ্বব্যান্ক ও আইএমএফ ইতোমধ্যে অনেক কথা বলেছে। যা বলা
তাদের উচিত কিনা এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন আছে। সম্প্রতি বিশ্বব্যান্ক দেশের
আভ্যন্তরীন বিষয়ে নানা সময়ে নানা কথা গায়ে পড়ে বলে যাচ্ছে। এসব কথা
অনেক সময় বিরক্তি উত্পাদন করে। অর্থমন্ত্রী অবশ্য মাঝে মাঝে এসব কথার
প্রতিবাদও করে থাকেন। যদিও অনেকেই মনে করেন তিনি বিশ্বব্যান্কেরই লোক এবং
তাদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী কাজ করেন।
সরকারী ও আধা সরকারী কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি একটি অপরিহার্য কাজ। দ্রব্যমূল্য
ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার সাথে সামন্জস্য রেখে সরকারকে এ কাজ করতে হয়।
সরকারের সামর্থের সাথে সংগতি রেখেই এ কাজ করা জরুরী। অর্থমন্ত্রী অবশ্য বলেছেন
রাজস্ব আয় বাড়িয়ে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন সম্ভব। বিশ্বব্যান্ক পরে অবশ্য অর্থমন্রীর
এ বক্তব্য সমর্থন করেছে। দেশের রাজস্ব আদায় ব্যবস্থায় ব্যাপক ফাঁক ফোকর ও
ব্যাপক দূর্ণীতি রয়েছে, এ অভিযোগ বহুদিনের। রাজস্ব আদায় ব্যবস্থার সংস্কার ও
উন্নতি হলে এখনি ৫০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব। রাজস্ব ব্যবস্থায়
আমূল সংস্কার প্রয়োজন এ কথা বহুদিন ধরে বলা হচ্ছে। কিন্তু হয়নি। সংস্কার সাধিত
হলে বিদেশী সাহায্য বা ঋণের প্রয়োজন হবেনা। বিশ্বব্যান্কের বকবকানিও শুনতে
হবেনা। কথা ছিল সরকারের সাইজ ছোট করা হবে। তা করা হয়নি।বরং দিন দিন
সরকারের সাইজ বড় হচ্ছে, ব্যয়ও বাড়ছে। ই_গভার্ণেস প্রতিষ্ঠা করার কথাও ছিল।
তাও হয়নি। এ ব্যপারে সরকারের কোন আগ্রহ আছে বলে মনে হচ্ছেনা। বে সরকারী
ব্যবস্থাপনা এক্সপার্টদের আরও বেশী গুরুত্ব দিয়ে সুফল পাওয়ার জন্যে সরকারী কাজে
নিয়োগ করতে হবে। বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিবেশ পরিবর্তনের ফলে
বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে বহুলাংশে। বিওআইতে ই_গভার্ণেস চালু হয়েছে। আমলা
বা সাবেক আমলা দিয়ে বর্তমান বিশ্ব পরিবেশে বাংলাদেশের উন্নয়নে পরিবর্তন আনা
যাবেনা। আমলা বলতে কোন ব্যক্তির কথা বলা হচ্ছেনা। পুরো আমলাতন্রের কথা
বলা হচ্ছে। পুরণো জং ধরা আমলাতন্রের মাধ্যমে উন্নয়নের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন
করা যাবেনা। রাজনীতিকরা কিন্তু আমলাদের ঘাটাতে চান না।
পে স্কেল বাস্তবায়নের সাথে সাথে সরকারকে অবশ্যই বাজার দরের দিকে নজর রাখতে
হবে। ব্যবসায়ীরা অকারণে বেশী লাভ ও লোভের বশবর্তী জিনিষপত্রের দাম বাড়িয়ে
দিতে পারে। অতীতে সব সময় তাই হয়েছে। ইতোমধ্যে সংসদে বিরোধী দলের নেত্রী সহ
আরো অনেকেই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির আশংকা করেছেন। অবশ্য বিরোধী দলের নেত্রীর
বক্তব্য ছিলো পুরোপুরি রাজনৈতিক। ওই বক্তব্যকে আওয়ামী লীগের বক্তব্য বললেই
বেশী শোভন হয়।
মুদ্রাবাজার ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় ব্যান্কের ভূমিকাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যেই
ব্যান্কের সুদের হার বেড়েছে। অনেক বেশী আমদানী হওয়ায় বাজারে ডলারের চাহিদা
বেড়েছে। ডলারের মূল্যও বেড়েছে। ফলে আমদানীকৃত পণ্যের দাম বেড়েছে। ডলারের
তূলনায় টাকা দূর্বল হয়ে পড়েছে। গত আট মাসে বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ২৭৮ কোটি
ডলার। অস্বাভাবিক হারে অপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানী বৃদ্ধি পেয়েছে। মুক্ত বাজার
অর্থনীতির নামে যে কোন পণ্য আমদানীর ব্যাপারে এখনি হুঁশিয়ার হওয়া দরকার।
ভোগ্যপণ্য প্রস্তুতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন অনেক বেশী স্বাবলম্বী। এ ব্যাপারে সরকারের
চোখকান খোলা রাখার সময় এসে গেছে। বিদেশী মুদ্রার বাজারে বর্তমান অস্থিরতার
কারণ খুঁজে বের করা দরকার। ডলারের দাম ৫৮ থেকে ৬০ টাকার ভিতর রাখা
দরকার।বিদেশী মুদ্রার রিজার্ব ভাল থাকার পরও বিদেশী মুদ্রার বাজারে এই অস্থিরতা
কেন? অনেকে বলছেন, দেশে ইনফরমাল ট্রেড বা অনানুষ্ঠানিক ব্যবসা বেড়ে গেছে।
শুধুমাত্র শুল্ক ফাঁকি দিয়ে টাকার মালিক হওয়ার জন্যে ব্যবসায়ীরা ইনফরমাল ট্রেডের
আশ্রয় নিচ্ছে।
বাংলাদেশের চলতি জীবনযাত্রার মান কিছুটা উন্নত হয়েছে। দূর্ণীতি মান বাড়ার ক্ষেত্রে
বড় ভূমিকা পান করেছে। যার আয় মাসে তিন হাজার টাকা সে ছ’হাজার টাকার
জীবন যাপন করে। বাড়তি তিন হাজার টাকা সে সত্ উপায়ে আয় করেনা। যে কোন
উপায়ে ভাল জীবন যাপন করা বাংলাদেশের মানুষের রক্তে প্রবেশ করে গেছে। তবে
অতি সাধারন মানুষ এর আওতায় আসেনা। যেমন একজন কৃষক ও দিনমুজুর বা
একজন রিকশাশ্রমিক। দেশের ৮০ ভাগ রাজনীতিকের আয়ের প্রকাশিত সূত্র নেই। এরা
আয়কর দেন কিনা দেশবাসী জানেনা। রাজনীতিকদের আশ্রয়ে ব্যবসায়ীরাও ঠিকমতো
কর সহ অন্যান্য শুল্ক পরিশোধ করেন না। তাই কালো টাকা সাদা করার দাবী সব
সময় জারী থাকে। যদিও অর্থমন্রী বলেছেন, এ সুযোগ আর জারী থাকবেনা। কর ও
শুল্ক ফাঁকি দেওয়া ব্যবসায়ীদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে রাতারাতি ধনী
হওয়ার এটা একটা বিরাট পথ। একই কারণে শুল্ক ও কর কর্তারা দিন দিন বিত্তবান
হচ্ছে। এসব ঘটছে কিন্তু সবার জানামতে। যেহেতু রাজনীতিকরা সত্ জীবন যাপন
করেন না সেহেতু এ ব্যাপারে তাঁরা চুপচাপ থাকেন। এটা পরিস্কার যে বাংলাদেশে
দূর্ণীতির মূল প্রোথিত রয়েছে রাজনীতি ও রাজনীতিকদের মাঝে। এরা যতদিন দূর্ণীতির
সাথে জড়িত থাকবে ততদিন দেশ থেকে দূর্ণীতি যাবেনা।
Add comment May 30, 2009
writerershad
দুই সৈনিক, নজরুল ও জিয়া
বিশ্ব মানবতার কবি নজরুল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অনেক কিছুই
আমাদের অজান্তেই ভাগ্য একই সুত্রে গ্রথিত করে রেখেছে। দুজনই সৈনিক।দুজনেই
করাচীতে বেংগল রেজিমেন্টের মাধ্যমে সৈনিক জীবনের যাত্রা শুরু করেছেন।
একজন শুরু করেছেন ১৯১৭ সালে, আরেকজন শুরু করেছেন ১৯৫৩ সালে।
দুজনেরই প্রথম কর্মস্থল করাচী। আর দুজনই শেষ জীবনে ঢাকায় ছিলেন।
দুজনেরই পূর্বপূরুষ ছিলেন সম্ভ্রান্ত ও সম্মানিত।
১৮৯৯ সালের ২৪শে মে (১৩০৬ বাংলা সালের ১১ই জ্যৈষ্ঠ) নজরুল বর্ধমান
জেলার আসানসোল মহকুমার জামুরিয়া থানার চুরুলিয়া গ্রামের পীরপুকুর পাড়ে
জন্মগ্রহন করেন। কাজীবাড়ীর পূর্বপার্শ্বে ছিল নরোত্তম সিংহের গড়।পশ্চিমপার্শে
ছিলো হাজী পাহলোয়ান শাহের পুকুর। পীরের মাজার ছিলো পশ্চিম পাড়ে।
১৭৬৫ সালে পাটনার পতন হলে কাজী কেফায়েত উল্লাহ,যিনি নবাবের প্রধানকাজী
ছিলেন পীরপুকুর পাড়ে বসতি স্থাপন করেন। তখন থেকেই কাজী পরিবার মসজিদ
ও মক্তবের খাদেম হিসাবে জীবন যাপন করতে শুরু করেন। তাঁরা কখনই
নিজদের পূর্ব পরিচয় জনসাধারণের কাছে প্রকাশ করেননি। রাজনৈতিক কারণেই
আত্মগোপন করেছিলেন।
কাজী পরিবারে আধ্যাত্ববাদ ও পীরাকী ধারার শুরু হয়েছে হজরত গোলাম
নকশবন্দ থেকে। জন্মসূত্রেই নজরুল আরবী ফার্শী উর্দু চর্চার সুযোগ লাভ করেছেন।
কবি এই ভাষাগুলো সাবলীল ভাবে লিখতে ও পড়তে পারতেন। তাঁর নিজ হাতের
হিন্দি লেখাও আমরা দেখেছি।
জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯শে জানুয়ারী বগুড়ার বাগবাড়ী গ্রামে একটি
শিক্ষিত সংস্কৃতিবান পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর বাবা মনসুর রহমান ছিলেন
সরকারে সিনিয়র কেমিস্ট। মা জাহানারা খাতুন রাণী ছিলেন জলপাইগুড়ির
বিখ্যাত চা বাগানের মালিক আবুল কাশেমের কন্যা। তিনি একজন সুকন্ঠী
নজরুল সংগীত শিল্পী। করাচী বেতারে তিনি নিয়মিত গাণ পরিবেশন করতেন।
জিয়ার দাদা ছিলেন মৌলভী কামাল উদ্দীন। তিনি একজন আধ্যাত্ববাদী পুরুষ
ছিলেন। তিনি খুবই সাদাসিধে পীরের জীবন যাপন করতেন। দাদার এই জীবনযাত্রা
ছিল জিয়ার ব্যাক্তিগত জীবনের আদর্শ।
জিয়ার ডাকনাম ছিল কমল। শিশু কমলের হাতেখড়ি হয়েছিল কোলকাতার হেয়ার
স্কুলে। বিশ্বযুদ্ধের সময় তাঁদের পরিবার বগুড়ার গ্রামের বাড়ী চলে আসে। প্রায়
দু’বছর তাঁরা গ্রামে ছিলেন। এ সময় জিয়া গ্রামের স্কুলেই লেখাপড়া করেন।
পাকিস্তান হওয়ার পর ১৯৪৮ সালে মনসুর রহমান করাচীতে কেন্দ্রীয় সরকারের
অধীনে সিনিয়র কেমিস্ট হিসাবে যোগদেন। ওই বছরই জিয়া করাচী একাডেমী
স্কুলে ভর্তি হন। এই স্কুলটি বর্তমানে তৈয়ব আলী আলভী একাডেমী নামে পরিচিত।
এই স্কুল থেকেই ম্যাট্রিক পাশ করেন এবং করাচীর ডি জে কলেজে ভর্তি হন।
১৯৫৫ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন।
কে বলে বাংগালী যোদ্ধা নয়? কে বলে বাংগালী ভীতু? প্রশ্নগুলো ছিল দেয়ালের
লিখন। সতেরো বছরের তরুন নজরুলের রক্তে আগুন জ্বলে উঠলো দেয়ালের
লেখা দেখে। ৪৯ নম্বর বাংগালী পল্টনে সৈনিক নিয়োগের পোস্টার ছিল ওই
দেয়ালের লিখন। সালটি ছিল ১৯১৭।প্রথম বিশ্বযুদ্ধের তৃতীয় বছর। নজরুল
নবগঠিত বেংগল যোগ দিয়ে চলে গেলেন নৌশেরা। তিনমাস ট্রেনিংয়ের পর
করাচী বন্দরে এলেন গানজা লাইনের ব্যারাকে। সাত হাজার বাংগালী যুবক
নিয়ে গঠিত হলো বেংগল রেজিমেন্ট। অল্প সময়ের মধ্যেই নজরুল সৈনিক হিসাবে
যোগ্যতার পরিচয় দিলেন। হয়ে গেলেন কোয়ার্টার মাস্টার হাবিলদার। করাচীতেই
নজরুলের পূর্ণাংগ কবি জীবনে প্রবেশ ঘটে। এখনেই বাংলার বিপ্লবী বিদ্রোহী
কবির সাথে পরিচয় ঘটে জগত বিখ্যাত সুফী কবি রুমী হাফিজ সা’দীর সৃস্টির
সাথে। মানুষের অধিকার প্রতিস্ঠা আর খোদার প্রেমের নতুন সবক নিয়ে কবি
ফিরে আসেন বাংলার মানুষের কাছে ১৯২০ সালে। বাংলার মানুষ দেখলো সম্পূর্ণ
এক নতুন নজরুলকে। কোলকাতায় দেখা হলো শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের
সাথে। কবি দায়িত্ব নিলেন দৈনিক নবযুগের। পত্রিকার সম্পাদকীয় নীতি নিয়ে
হক সাহেবের সাথে দ্বিমত হলে নজরুল পদত্যাগ করেন।
দেশের স্বাধীনতা আর মানুষের মুক্তির জন্যে তখন কবির মনেপ্রাণেদেহে বিদ্রোহের
আগুন জ্বলছে। কোথাও কবি স্থিতু হতে পারছিলেন না। ১৯২২ সালের ১১ই
আগস্ট তিনি ধুমকেতু প্রকাশ করলেন। ধুমকেতুর ২২শে সেপ্টেম্বর সংখ্যায়
প্রকাশিত ‘আনন্দময়ী’কবিতার জন্যে রাজরোষে পড়েন এবং ২৩শে নবেম্বর
গ্রেফতার হন। বিচারে কবির এক বছর সশ্রম কারাদন্ড হয়। রাজবন্দীদের
সাথে দূর্ব্যবহারের প্রতিবাদে কবি জেলখানায় ৩৯ দিন অনশন করেন। এ বছরই
রবীন্দ্রনাথ তাঁর বসন্ত নাটকটি নজরুলকে উত্সর্গ করেন। ১৯২৪ সালে কবির
‘ভাংগার গাণ’ ও ‘বিষের বাঁশী’ প্রকাশিত হয় এবং ১১ই নবেম্বর বই দুটি
সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
১৯৩০ সালের আগস্ট মাসে ‘প্রলয়শিখা’ প্রকাশিত হলে দখলদার সরকার তা
বাজেয়াপ্ত করে কবিকে ছ’মাসের কারাদন্ড দেয়। গান্ধী-আরউইন চুক্তির ফলে
কবি মুক্তি পান। আবার ৬ই নবেম্বর কবি গ্রেফতার হন।
স্বাধীনতার মহান কবি দারিদ্র ও সরকারের অত্যাচারে মানসিকভাবে ভেংগে
পড়েন এবং ১৯৪২ সালের ১০ই জুলাই কঠিনরোগে আক্রান্ত হন। তিনি স্মৃতিশক্তি
হারিয়ে ফেলেন। কবি আর সুস্থ হয়ে উঠেন নি। ওই অবস্থায় ১৯৬০ সালে
ভারত সরকার কবিকে পদ্মভূষণ উপাধি প্রদান করেন। পদ্মভূষণ উপাধিতে
সম্মানিত হলেও কবির থাকা খাওয়া ও চিকিত্সার তেমন কোন সুব্যবস্থা সেখানে
হয়নি।
১৯৭৩ সালের ২৪শে মে কবিকে তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন জন্মভুমি বাংলাদেশে নিয়ে
আসা হয় সরকারী উদ্যোগে। ১৯৭৫ সালে কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচক
ডি লিট ডিগ্রী প্রদান করে।
১৯৭৬ সালে স্বাধীন বাংলার মাটিতে মিলন হয় স্বাধীনতা ও মুক্তির দুই মহান
সৈনিকের। একজন রাস্ট্রনায়ক আর অপরজন বিপ্লবী কবি ও সৈনিক। পিজি
হাসপাতালে চিকিত্সাধীন থাকা কালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও মহান
সৈনিক জিয়াউর রহমান কবিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্রেস্ট প্রদান করেন।
১৭৫৭ সালে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হলে এদেশের সাধারণ মানুষের
নেমে আসে সীমাহীন শোষণ ও অত্যাচার। এ শোষণের প্রধানতম শিকার বাংলার
মুসলমান। এ দেশে বিদেশী শাসন কখনই মেনে নেয়নি ধনীগরীব মুসলমান
সমাজ। শুরু থাকেই তারা বিদেশী শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ করে এসেছে।
সে বিদ্রোহ অবিরাম একশ বছর ধরে ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত চলেছে।
সুফীবাদ ও গজলের একচ্ছত্র সম্রাট গালিব তাঁর ডায়েরীতে বলেছেন, মহানগরী
দিল্লীর পতনের সময় রাজধানীতে একজন সম্ভ্রান্ত মুসলমানও জীবিত ছিলেন না।
রাতের অন্ধকারে বাড়ী বাড়ী ঘেরাও করে তাঁদের আটক করে নিয়ে ফাঁসী
দেয়া হয়। সকালবেলা নগরবাসী গাছে গাছে নামীদামী মুসলমানদের লাশ দেখতে
পেতো।
এহেন দুর্দিনেই চারিদিক আলো করে,নতুনের জয়কেতন উড়িয়ে ,আকাশ কাঁপিয়ে
নিষ্পেষিত নির্যাতিত পরাধীন জাতির মুক্তির জন্যে খোদায়ী নকীব হিসাবে
উল্কার মতো আবির্ভুত হন বিদ্রোহী বিপ্লবী কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
আকাশ পাতাল কাঁপিয়ে গাইলেন,
বল ভাই মাভৈ মাভৈ
নবযুগ ঐ এলো ঐ
এলো ঐ রক্ত-যুগান্তর-রে।
কালজয়ী সাহিত্যিক আবুল মনসুর আহমদ বলেছেন, এটা অবধারিত সত্য যে,
নজরুলের আবির্ভাব না হলে বাংলাভাষা একশ বছর পিছিয়ে থাকতো। নজরুল
একদিন বিনা নোটিশেই ‘আল্লাহু আকবর’ তকবীরের হায়দরী হাঁক মেরে আকাশ
কাঁপিয়ে ঝড়ের বেগে এসে বাংলা সাহিত্যের দুর্গ জয় করে নিলেন। পরাধীন
বাংলার ভাংগা কিল্লায় বিজয় নিশান উড়িয়ে দিলেন। বাংলা ভাষার ভাব ও
প্রকাশের হীনমন্যতাকে তাড়িয়ে দূর করলেন এক পলকে। বাংলা সাহিত্যের
ইতিহাসে এটা ছিল এক মহাবিপ্লব।
প্রখ্যাত ভাষা বিজ্ঞানী ড: এনামুল হক বলেছেন, নজরুলের আবির্ভাব বাংলা
রাবিন্দ্রক যুগের অবসান ঘোষনা করিল।
সত্যিই বাংলা সাহিত্যে নজরুল এক নতুন যুগের সুচনা করেছেন, যা এখনও
জারী আছে। বাংলা সাহিত্য ও কাব্যে বিদ্রোহ ও আধ্যাত্ববাদের বিকাশ ঘটিয়েছেন
বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
‘ দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার
লংগিতে হবে রাত্রি নিশীতে যাত্রীরা হুঁশিয়ার’
১৯২৬ সালে কোলকাতার হিন্দু-মুসলিম মিলন সভায় নেতাজী সুভাস বসুর
অনুরোধে নজরুল এ গাণটি রচনা করেন ও সুর দেন। নজরুল সম্পর্কে নেতাজী
বলেন, কারাগারে আমরা অনেকেই যাই, কিন্তু সাহিত্যের মধ্যে সেই জেল জীবনের
প্রভাব খুব কমই দেখতে পাই। এর কারণ অনুভুতি কম। কিন্তু নজরুলের লেখায়
বন্দী জীবনের ছবি পাওয়া যায়। এতে বুঝা যায় তিনি একজন জ্যান্ত মানুষ।
তাঁর লেখার প্রভাব অসাধারন। তাঁর গাণ শুনে আমার মতো বেরসিক লোকেরও
জেলে বসে গাইবার ইচ্ছে হতো। আমাদের প্রাণ নেই, তাই প্রাণময় কবিতা
লিখতে পারিনা।
রক্তে স্বাধীনতা ও বিদ্রোহের বীজ ছিল বলেই ১৯৭১ সালে সৈনিক জিয়াউর
রহমান পাকিস্তান সেনা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীনতার ডাক
দিয়েছিলেন। একাজটি তাঁর করার কথা ছিলনা, তবুও তিনি করেছেন।
এটাই ছিল তাঁর নিয়তি ও ভাগ্য। পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালা তাঁকে দিয়ে
বাংগালী জাতির মুক্তি ও স্বাধীনতার পথ সুগম করেছিলেন। ঠিক সময়ে ঠিক
কাজটি করার মাঝেই সাফল্য লুকিয়ে থাকে। সমগ্র জাতির চিন্তা ও কল্পনার
জিয়া সে কাজটিই করেছিলেন।
৭১ সালেই জিয়া নামটি বাংলাদেশ ও বাংগালী ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে
জড়িত হয়ে গেছে। জাতির ক্রান্তিলগ্নে সময় তাঁকে বার বার সামনে টেনে
এনেছে। এমনি করেই একদিন তিনি জাতি ও দেশের হাল ধরেছেন এবং দেশের
প্রাণ দিয়েছেন। বাংলার এই দুই মহান পুরুষ রাজধানী ঢাকার মাটিতেই শায়িত
আছেন। একজন শেরে বাংলা নগরের ক্রিসেন্ট লেকে, আরেকজন ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে। নজরুলের শেষ ইচ্ছা অনুসারেই তাঁকে মসজিদের
পাশে সমাহিত করা হয়েছে।
কবি তাঁর কবিতায় তিনি বলেছিলেন:
‘ মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই
যেন গোরে থেকেও মোয়াজ্বিনের আজান শুনতে পাই।’
শহীদ জিয়া সম্পর্কে দেশের মানুষ বলে:
‘এক জিয়া লোকান্তরে
লক্ষ জিয়া ঘরে ঘরে।’
Add comment May 30, 2009
writerershad
What Is Poetry
___________________________________
Poetry is uncreated.No greatest man on earth can compose or create poetry.
Poetry is just like a fountain flowing from the peak of mountain.A line of poetry or a couplet of poetry comes to the mind of a poet but when compose is complete poet himself could not explain or interpret what exactly he or she wrote.
There is no clear defination what exactly the poetry is. It is not explainable. Poetry is a kind of fever for a poet or shayer. When he or she feels it poetry flows automatically or naturally from the unseen sources.
One of the greatest of the earth Rumi says, `the meaning poetry does not travel in one direction.Its like a slingshot over which you have no control`.
He further says, `I am burning with the love of God.Does anyone need a light? You can set your rubbish ablaze from the fire within me.`
The great english poet Francios Villon says, poetry is the innermost feeling of humanbeing. Only a poet can compose it.But if a reader ask him to explain
what it is the poet will feel annoyed.
Francios writes,
Where is echo,beheld of no man
Only heard on river and mere,-
She whose4 beauty was more than human?
But where are the snows of yester-year?
Regarding the beauty and bravery Lord Byron says in his poetry `She walks in beauty`
`She walks in beauty,like the light
Of cloudless climes and starry skies…`
If my dearest readers permits me I can go back to Imam Gazzali and Rumi
to quote them and to say something more about poetry.
Those never recites or read Quran but indulge in preaching quran Rumi composes a couplet for them.
Rumi says`
The Quran they call the best of texts
Yet ofttimes they do not read it with application
Around the goblet is engraved a verse
Which every where is read incessently.
Those who do not read or recite Quran they just quote one or two verses from the Quran and feel proud of their knowledge and priesthood. Rumi says they are really goat.They eat grass but think it is knowledge or wisdom.
Poetry is also like that.Composing some verses good or sweet in recitation may be poetry.Let the history of literature decide their fate.
Add comment May 30, 2009
writerershad
ভেজাল দ্রব্য ও ভেজাল মূল্য
কাঁচাপাকা হলুদসবুজ সকল খাবারেই এখন ভেজাল । শিশুর খাবারে ভেজাল
বুড়োর খাবারেও ভেজাল। হাসপাতালে রুগীরা বাসি ভেজাল খাবার খায়।
পুলিশ হাসপাতালের খাবারেও ভেজাল। দামী দামী কোম্পানীর খাবারেও
ভেজাল। বাসি পঁচা ভেজাল দ্রব্য বা খাবার বিক্রি করার মূল কারণ বেশী
বেশী মুনাফা করা। সমাজে মুনাফার লোভটা খুব বেশী বেড়ে গেছে। ফলে
কারো পৌষমাস,কারো সর্বনাশ।
খাবার বা দ্রব্যে ভেজালের কথাটি সংবাদপত্র চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে।
হাজারো ব্যর্থতার মাঝে সংবাদপত্র বহুদিন পরে একটি দায়িত্বশীল কাজ
করেছে। সংবাদপত্রকে হাজারো সালাম। কতৃপক্ষকেও হাজারো ধন্যবাদ
গভীর ঘুম থেকে জেগে উঠার জন্যে।
এ ধরনের ভাল কাজ করাই সংবাদপত্রের কাজ। যেকোন কারণেই হোক
তারা ভাল কাজটি করতে পারছেন না। এমনটি এক সময় ছিলনা। হয়ত
সংবাদপত্র এখন বড় ধরণের ব্যবসা। বড় মুনাফার সোজা পথ, প্রভাব বিস্তারের
সোজা রাস্তা। যিনি মিডিয়ার মালিক তিনিই ভোগ্যপন্য, হাসপাতাল ও অষুধ
কোম্পানীর মালিক। এমনও হতে পারে তিনি সংসদের একজন সদস্য। এমনও
হতে পারে যে তিনি সাংবাদিকদের নকল খবর পরিবেশনের জন্য উত্সাহিত
করেন,পুরস্কৃত করেন।
আমাদের প্রিয়দেশ বাংলাদেশের চিত্রটি আজকাল এ রকমই হয়ে গেছে।
পরীক্ষায় নকল জাতীয় ব্যধিতে পরিণত হয়েছিল। শিক্ষা ব্যবস্থাকে নকল মুক্ত
করার জন্যে বর্তমান সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশবাসী এ ব্যাপারে সফল্যের
মুখ দেখতে শুরু করেছে। এ অভিযান সকল সরকারের আমলেই অব্যাহত থাকা
দরকার। নকলের ব্যাপারেতো সরকারী দল আর বিরোধী দল নেই। বাসি পঁচা
ভেজাল খাবারের ব্যাপারেও নিশ্চয়ই সরকারী দল বিরোধী দল নেই। বিরোধী দল
অবশ্য নকল ও ভেজালের বিরুদ্ধে কোন বিবৃতি এখনও দেয়নি।
ভেজাল নকল দুষিত পরিবেশ জাতীয় সমস্যা।
নকল মানুষ, নকল পুলিশ, নকল সেনা অফিসার, নকল টাকা, নকল আসামী
আমাদের জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। পুলিশ আসল আসামীকে ছেড়ে দিয়ে
নকল আসামীকে জেলে পাঠিয়ে দিচ্ছে। সে আসামী বছরের পর বছর জেল খাটছে।
ভেজাল অষুধ বানিয়ে যিনি শিল্পপতি হয়েছেন তিনি আসল স্বাস্থ্যমন্রীও হয়ে যেতে
পারেন। সেই একই ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েরও মালিক হতে পারেন।
এমন ধরনের মানুষকে এখন সুশীল সমাজের সদস্য হিসাবেও দেখা যায়। বিভিন্ন
সেমিনারে বক্তৃতা দিয়ে বেড়ান। বলিউডের সিনেমায় ইদানিং এ ধরনের চরিত্র দেখা
যায়।
নীতি আদর্শ ও মূল্যবোধের ক্ষেত্রে বিরাট বিপর্যয়ের পরেও দেশের অর্থনৈতিক
থেমে যায়নি। জাতীয় প্রবৃদ্ধি বেড়েই চলেছে। মাথাপিছু আয়ের পরিমাণও বাড়ছে।
রাজধানীর সাথে গ্রামের যোগাযোগ দিন দিন বাড়ছে। ভেজাল আয়ও নিয়মিত
অপ্রতিরোধ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে। ফলে কালো বা ভেজাল টাকার দাপট সীমাহীন
ভাবে বিস্তারলাভ করেছে।
আর এরই প্রভাব সুস্পষ্ট হয়ে দেখা দিয়েছে রাজনীতি,সমাজনীতি শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে।
কালোটাকা সংসদ, কেবিনেট, আদালত সহ সর্বত্র ঢুকে পড়েছে। সমগ্র অর্থনীতি
সাদা আর কালোতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। তবে সাদা আস্তে আস্তে অস্পস্ট হয়ে
যাচ্ছে।
দেশের ক্রেতা বা ভোক্তারা অসম্ভব ভাবে অসহায় হয়ে পড়েছে। ভোক্তার অধিকার
রক্ষার ব্যাপারে কতৃপক্ষ আজও তেমন সজাগ নন। তেমন শক্তিশালী আইনও
দেশে তেমন নেই। বড় বড় কথা কথা প্রায়শই শুনা যায়। ভোক্তা অধিকার রক্ষায়
শক্তিশালী তেমন সংগঠণও নাই। বর্তমান বাজারমূল্য ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় শিকার
এখন অসহায় ক্রেতা। মুক্তবাজার ও ডিমান্ড এন্ড সাপ্লাইয়ের কথা বলে কতৃপক্ষ
নৈতিক দায়িত্ব এড়িয়ে চলেছেন। যার যেমন ইচ্ছা দাম হাঁকিয়ে চলেছে। দাম সঠিক ও
ন্যায্য কিনা তা দেখার কোন সরকারী সংগঠণ নেই।
দশ পনের বছর আগেও পণ্যমূল্য যাচাই বাছাই করার জন্য একটি সরকারী
সংগঠণ ছিল। বাণিজ্য মন্রণালয়ের অধিনস্ত এ সংগঠনের নাম ছিল পণ্যমূল্য
নির্ধারণ অধিদপ্তর। এ অধিদপ্তরের কাজ ছিল যে কোন পণ্যের উত্পাদন ব্যয়
পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মূল্য নির্ধারণ করা। এরশাদ সরকার এ দপ্তরটি তুলে দিয়েছে।
মনে করুন, টুথপেস্টের একটি টিউবের গায়ে দাম লেখা আছে ৫০ টাকা। দামটি
কিভাবে নির্ধারিত হলো জানার কোন উপায় নেই। পরীক্ষা করে দেখা গেল ওই
টিউবে পেস্ট আছে মাত্র ৫ টাকার। বাকী ৪৫ টাকা বাজারজাত করন খরচ।
এক কেজি সবজী/শাকের দাম ঢাকার বাজারে ২০ টাকা। গ্রামের আড়ত থেকে
ওই এক কেজি শাক কেনা হয়েছে ২ টাকায়। বাকী আঠার টাকা যাতায়াত খরচ
ও মুনাফা।
নাইজেরিয়ার দুই সেন্টের কলা আমেরিকায় বিক্রি হতো এক ডলারে। বাকী ৯৮ সেন্ট
জাহাজভাড়া, প্রচার ও মুনাফা খাতে আদায় করা হয়েছে। এ নিয়ে আমেরিকার
ভোক্তারা তোলপাড় করেছে। বিষয়টি আমেরিকার কংগ্রেসে আলোচিত হয়েছে।
এটি ছিল ভোক্তা শোষণ ও ঠকানোর বিরুদ্ধে আমেরিকাবাসীর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন।
আমেরিকার ভোক্তা সংগঠনগুলো এখন পৃথিবীর সবচাইতে শক্তিশালী।
বাংলাদেশের বাজারে এখন ভোক্তা শোষণ চরম আকার ধারণ করেছে। বড় বড়
কোম্পানীগুলো ১২ পয়সার মুড়ি আকর্ষণীয় প্যাকেটে ১২ টাকা বিক্রি করছে। এর
প্রচার খরচ পাঁচটাকা,মুনাফা পাঁচটাকা, আর বাকীটা মুড়ি ও যাতায়াত খরচ।
দেশবাসী এখন ভেজাল,পঁচা,বাসি পণ্য/খাবার, ভেজাল/কালো টাকা আর ভেজাল
মানুষের হাতে বন্দী হয়ে পড়ে আছে।
শিল্প মন্রণলয়ের অধীনে বিএসটিআই(বাংলাদেশ মান নিয়ন্রণ ও পরীক্ষা ইন্সটিটিউট)
উত্পাদিত শিল্পপণ্যের মান নিয়ন্রণ পরীক্ষা করে থাকে। তবে প্রচলিত আইন দূর্বল
থাকায় এই প্রতিস্ঠান তেমন ফলপ্রসু ভূমিকা পালন করতে পারছেনা।
শিল্পপণ্যের ভেজাল ছাড়া অন্য পণ্যের ভেজাল পরীক্ষা করার ব্যবস্থা বিএসটিআই
পরীক্ষাগারে নেই। অথবা এই প্রতিস্ঠানের এখতিয়ারে নেই।
ব্যাপক ভেজাল প্রবণতা রোধের জন্য আরও কঠিন আইনের প্রয়োজন।ভেজাল ,পঁচা
বাসি খাবার পরীক্ষা করার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। পত্রিকায় লেখালেখির আগে
এ ব্যাপারে কর্পোরেশনের ঘুম ভাংগেনি।
জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে এই অবনতির আইনী মোকাবিলার চেয়ে চিকিত্সার
প্রয়োজন খুব বেশী। কেন অবস্থার এত ব্যাপক অবনতি হয়েছে তাও খতিয়ে
দেখার সময় এসে গেছে। এ ব্যাপারে সমাজ বিজ্ঞানী ও গবেষকদের এগিয়ে আসতে
হবে। এ বিষয়ে সরকার একটি জাতীয় কমিটিও গঠণ করতে পারেন।
Add comment May 30, 2009
writerershad
| Previous Posts |