Feeds:
Posts
Comments

Archive for the ‘Political Column’ Category


তারেক জিয়ার মামলার রায় ও চলমান রাজনীতি / এরশাদ মজুমদার

বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি তারেক জিয়া  অনেক বছর বাধ্য হয়ে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন। এটা কোন স্বেচ্ছা নির্বাসন নয়। তিনি বাধ্য হয়ে বিদেশে অবস্থান করছেন। দেশে এলেই আইনি কায়দায় জেল জুলুম। এসব হলো তাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা।

 

বিদেশে টাকা পাচার বা মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় তারেক জিয়া বেকসুর খালাস পেয়েছেন। ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিনের সরকার তারেক জিয়াকে চিরদিনের জন্যে পংগু করার চেষ্টা করেছিল।এর একটা সুদূর প্রসারী লক্ষ্য ছিল। দেশবাসী ভাবতে শুরু করেছিল যে তারেক জিয়া আগামী দিনে বিএনপির নেতৃত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতে পারবেন। যদিও আওয়ামী লীগ সহ ওই ঘরাণার অনেকেই তারেক জিয়ার রাজনীতিতে আগমনটাকে ভাল চোখে দেখেনি।আমার নিজের কাছে বিষয়টা তখন তেমন ভাল লাগেনি। ভাবটা এমন যে ,কি দরকার ছিল। কিন্তু পরে  মনে হয়েছে রাজনীতিতে অাসার বয়স তারেক জিয়ার হয়েছে। নিদেনপক্ষে প্রশিক্ষনের জন্যে হলেও ওই সময়ে তাঁর রাজনীতিতে আসা সঠিক হয়েছে। এ ব্যাপারে শেখ হাসিনা পেছনে পড়ে গেছেন। এখন যদিও সজীব ওয়াজেদ রাজনীতিতে নিজেকে কিছুটা জড়িয়েছেন। যদিও দেশবাসী মনে করে সজীব রাজনীতি থাকবেন না। তিনি একজন বিদেশী নাগরিক। শেখ হাসিনা নিজেই বলেছেন,তাঁর পুত্রবধু একজন খৃষ্টান। মানে জগতের শেষনবী মুহম্মদকে (সা)ও শেষ কিতাব আলকোরাণে বিশ্বাস করেন না। এই খৃষ্টনরাই স্পেনে ক্রুসেড শুরু করে লাখ লাক মুসলমানকে হত্যা করেছিল। মুসলমানদের মসজিদে ঢুকিয়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল। ইতিহাসে উদ্বৃতি দিয়ে আমি বলছিনা যে সজীব ওয়াজেদের বউ এসবের জন্যে দায়ী। তবে তিনি এসব ঘটনার কখনও নিন্দাও করেননি।
বাংলাদেশকে রাজনীতি ও অর্থনীতি শূণ্য করাই ছিল ভারত সমর্থিত ১/১১র সরকারের লক্ষ্য।
দুই প্রধান দলের নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্যে ১।১১র সরকার আপ্রাণ চেস্টা করেছেন। ১/১১ ঘটানোর জন্যে তার আগে ২৮ অক্টোবর ঘটানো হয়েছে। ওই ঘটনার বীভত্‍স দৃশ্য টিভির বদৌলতে বিশ্ববাসী দেখেছে। শুধু দেখেনি ১/১১র সরকার। দুর্ণীতি দমনের নামে মঈন ইউ আহমদের সরকার সারা দেশে তুলকালাম কান্ড ঘটিয়েছে। গ্রামে গঞ্জে হাট বাজার চুরমার করে গ্রামীন অর্থনীতির কোমর ভেংগে দিয়েছে। যারা ওই সময়ে সারাদেশে জেলায় উপজেলায় যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন তারা মানুষের কাছ থেকে কোটি টাকা আদায় করেছেন ভয় ভীতি দেখিয়ে। কিন্তু মইনুদ্দিনের সরকার নতুন নেতৃত্বের কথা বলে বহুলোককে নেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। অনেককে টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য করেছেন। বিএনপির সাধারন সম্পাদক মান্নান ভুঁইয়াকে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী বানাবার স্বপ্ন দেখিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বেচারা মান্নান ভুঁইয়া মারা গেলেন। তাঁর সাথে তখন যারা সাপ লুডু খেলেছিলেন তারা সবাই ভোল পাল্টিয়ে আগের যায়গায় ফিরে গেছেন। তাদেরকে এখন আমাদের আশে পাশেই দেখতে পাই। তখন যারা টিভিতে টকশো করার জন্যে তালিকাভুক্ত ছিলেন তারাও ভোল পাল্টয়ে বেশ ভাল তবিয়তে আছেন। তখনকার মিডিয়া যারা ১/১১র সরকারকে সমর্থন দিয়েছিলেন তারাও আছেন দেশের মানুষের খেদমত করার জন্যে। আইউব ইয়াহিয়ার সময়েও বেশ কিছু মিডিয়া লীডারকে দেখেছি যারা জনগনের বিরুদ্ধে কথা বলতো। যদিও মইনুদ্দিনের সরকার শুরুতে দুই নেত্রীকে আটক করেছিলেন, শেষ অবধি দেখা গেল তাঁরা দিল্লী সরকারের পক্ষে থেকে দিল্লীর লক্ষ্য বাস্তবায়ন করেছেন। অদ্ভুত এক নির্বাচনের মাধ্যমে তাঁরা খালেদা জিয়াকে পরাজিত করে শেখ হাসিনার কাছে ক্ষমতা দিয়ে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। হয়ত গোপন কথা ফাঁস হয়ে যাবে তাই তাদের কাউকেই দেশে রাখা হলোনা। শেখ হাসিনাও খুব হাসতে হাসতে বলেছিলেন, তাঁর আন্দোলনের ফসল ১/১১র সরকার। ক্ষমতায় আসলে তাদের বৈধতা দিবেন। ক্ষমতায় এসে হাসিনা বিএনপিকে ধ্বংস করার খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে মামলার মামলা দিতে থাকেন। ১/১১র সরকারের দায়ের করা সকল মামলা জারী রেখেছেন। সেসব মামলা এখনও চলছে।

ওই সময়ে সবচেয়ে বেশী সাহসী মতামত প্রকাশ করেছিলেন ফরহাদ মজহার ও মাহমুদুর রহমান। দুজনের মধ্যে মাহমুদুর রহমান এখন জেলে আছেন কারন তিনি সত্যকথা বলতেন। আমাদের দেশে আইন সত্যের পক্ষে নয়, তথ্যের পক্ষে। আদালত তথ্য নিয়ে কাজ করে, সত্য নিয়ে নয়। ১/১১র সরকার কতৃক প্রতিস্ঠিত ও ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার মাহমুদুর রহমানকে সহ্য করতে পারেননি। তাই নানা রকম ঘটনা ঘটিয়েছেন।মাহমুদ একজন প্রখ্যাত ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ। ইতোমধ্যেই তিনি নিজের মেধার পরিচয় দিয়েছেন। আমাদের রাজনীতিতে তাঁর মতো একজন মেধাবী মানুষের অতীব প্রয়োজন। এরাই বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তন করে উচ্চ মর্যাদায় পৌঁছে দিতে পারবে। এ কারনেই পরিকল্পিত উপায়ে মাহমুদের উপর হামলা চলছে। এইতো ক’দিন আগে ফরহাদ মজাহারকে গ্রেফতার করার একটা জিকির তুলেছিল সরকার ও হালুা রুটির বরকন্দাজ তথাকথিত কিছু মিডিয়া নেতা ও কর্মী।বাংলাদেশের মিডিয়া জগত এমনিতেই সম্প্রসারনবাদী শক্তির তাবেদারের জীবন যাপন করছে। মিডিয়াতেও সিইওরা ঢুকে পড়েছে। শুনা যায় এদের মুজুরী নাকি লাখ লাখ টাকা। এরা আবার শ্রমিক নেতাও। এরাই ফরহাদ মজাহারের মতো একজন সাচ্চা দেশপ্রেমিককে হেনস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

১/১১র সরকার সবচে বেশী হামলা চালিয়েছে খালেদা জিয়া তার পরিবার আত্মীয় স্বজন ও বিএনপির উপর। তার কারন নির্বাচনের পর স্পস্ট হয়ে গেছে। এখন যারা ক্ষমতায় আছেন তারাও সমান ভাবে অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া তার দুই সন্তান ও দলের উপর। এই সরকারের সীমাহীন আক্রোশ হলো জিয়া এবং তার পরিবারের উপর। জিয়ার নাম মুছে ফেলার জন্যে চলছে নানা আয়োজন। আওয়ামী নেতারা বলে চলেছেন, জিয়া মুক্তিযুদ্ধ করেননি, তিনি পাকিস্তানের চর ছিলেন। একজন মন্ত্রী বলেছেন, বিএনপি কোন রাজনৈতিক দল নয়। এর জন্ম সেনা ছাউনীতে। আওয়ামী লীগ কেন যে সেনা ছাউনীকে ভয় পায় জানিনা। অথচ আমাদের সেনা অফিসার ও সৈনিকরাই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রাণপণ করে যুদ্ধ করেছে। আর মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ দিয়েছে এদেশের কৃষক শ্রমিক ছাত্র জনতা। আওয়ামী লীগ তৈরী করেছে প্রপাগান্ডা মেশিন।

এসব হলো প্রাসংগিক কথা। মূল কথা হলো আমাদের দেশের রাজনীতিতে আগামী দিনের নেতৃত্ব এখন কোথায়? মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক মহান মুক্তিযোদ্ধা সাবেক রাস্ট্রপতি শহীদ জিয়া ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড়ছেলে তারেক জিয়া রাজনীতিতে এসেছেন পারিবারক ঐতিহ্য নিয়েই। এটা উড়ে এসে জুড়ে বসা নয়। তারেক জিয়ার এখন যা বয়স তা ভারতের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য রাহুল গান্ধীর মতোই। রাজনীতিতে না হলেও সামাজিক ভাবে তারেকের পরিবারেরও শত বছরের ঐতিহ্য রয়েছে। পিতার দিক থেকে তারেক বগুড়ার আধ্যাত্বিক ঐতিহ্যের উচ্চ শিক্ষিত পরিবারের সন্তান। বাংলাদেশের বহু ঐতিহ্যবাহী পরিবার তাদের আত্মীয়। মায়ের দিক থেকে তারেকের শিকড় রয়েছে ফেণী জেলার ঐতিহ্যবাহী শ্রীপুর মজুমদার বাড়িতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম ভাইস চ্যান্সেলর স্যার এ এফ রহমান ওই বাড়ির সন্তান। এই উপমহাদেশের চা শিল্পের সাথে জড়িত বহু বিখ্যাত পরিবার এই পরিবারের সাথে আত্মীয়তার বন্ধনে যুক্ত। অবিভক্ত বাংলার শেরে বাংলার মন্ত্রীসভার সদস্য নবাব বাহাদুর মোশাররফ হোসেনও এই পরিবারের সাথে আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ। আপনাদের পরিচিত রাজনীতিক মির্জা গোলাম হাফিজ,কাজী জাফর, কর্ণেল জাফর, আহমদুল কবীর, শহীদ সাইদুল হাসান, ফরিদা হাসান,লায়লা রহমান কবীর এই বৃহত্‍ পরিবার গোস্ঠির অন্তর্ভুক্ত।ভাগ্যের অদৃশ্য নদী জিয়া পরিবারকে প্লাবনের মতো ভাসিয়ে নিয়ে এসেছে রাজনীতির মঞ্চে। ৭১ সালের ২৬/২৭ মার্চ ভাগ্য জিয়াউর রহমানকে টেনে নিয়ে গেছে কালুরঘাট রেডিও স্টেশনে। তিনিই পাঠ করেন স্বাধীনতার ঘোষণা। ঘোষণার পেছনে নানা জনের নানা কথা আছে। আমি এখন এখানে সেসব বিষয় নিয়ে কিছু বলবোনা। সময় সুযোগ হলে আরেক নিবন্ধে সেসব কথা লিখবো। সেই জিয়ার গলার আওয়াজ দেশবাসী আবার শুনতে পেলো ৭ নবেম্বর,১৯৭৫। প্রথমবার ছিলেন মেজর, দ্বিতীয়বার ছিলেন মেজর জেনারেল, আর শহীদ হওয়ার সময় ছিলেন দেশের রা্স্ট্রপতি। মা খালেদা জিয়া পারিবারিক ভাবে বিশাল ঐতিহ্যের অধিকারী হলেও সংসার জীবন শুরু করেছেন একজন সেনা অফিসারের স্ত্রী হিসাবে। জীবন যাপন চলেছে কঠোর নিয়মানুবর্তিতার ভিতর। তিনি কখনও ভাবেননি একদিন তাকে এদেশের বিশাল রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতৃত্বের হাল ধরতে হবে। এসবই হচ্ছে ভাগ্যের অদৃশ্য রশির টান। কিচেন থেকে বেরিয়ে এসে তিনি রাজনীতির বিশাল রাজপথে নেমেছেন এবং খ্যাতি লাভ করেছেন একজন আপোষহীন নেত্রী হিসাবে। সেই থেকে তিনি রাজপথেই আছেন।

ভারতীয় কংগ্রেসের বর্তমান সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীও সেভাবে রাজনীতিতে এসেছেন। তিনি একজন বিদেশী নারী।বৈবাহিক সূত্রে ভারতে এসেছেন। তাঁর স্বামী রাজীব গান্ধী একজন পেশাদার পাইলট ছিলেন। মা ইন্দিরা গান্ধী নিহত হওয়ার পর তিনি দল ও দেশের প্রয়োজনে রাজনীতিতে আসেন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন। রাজিব গান্ধী নিহত হওয়ার পর সোনিয়া গান্ধী রাজনীতিতে আসেন এবং কংগ্রেসের নেতৃত্বের হাল ধরেন। নির্বাচনে সংখ্যাগরিস্ঠ আসন পাওয়ার পর সোনিয়ারই প্রধান হওয়ার কথা ছিল। বিজেপি তাকে বিদেশী বলে সমালোচনা করায় তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে মনমোহন সিংয়ের নাম প্রস্তাব করেন। এখন সোনিয়া কংগ্রেস সভানেত্রী আর তার ছেলে রাহুল গান্ধী  সহ সভাপতি। এ নিয়ে ভারতে কোন সমালোচনা নেই। রাহুল ইতোমধ্যেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। ভারতের আগামীদিনের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে অভিহিত হচ্ছেন।

কিন্তু বাংলাদেশের হাওয়া অন্য রকম বইছে। মিডিয়া এবং বিএনপি বিরোধী শক্তি তারেক জিয়ার রাজনীতিতে আগমন কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি। সুতরাং তার চরিত্র হনন করতে হবে। ১/১১র সরকারই শুরু করেছিল চরিত্র হননের অভিযান। সেই অভিযান এখনও চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় প্রতিদিনই তারেককে দুর্ণীতিবাজ আখ্যায়িত করে বক্তৃতা দিচ্ছেন। পুরো আওয়ামী লীগই এখন তারেকের ইমেজ ধ্বংস করার স্থায়ী কর্মসুচী হাতে নিয়েছে। কেয়ারটেকার সরকারের সামরিক নেতা মইনুদ্দিন বলেছিলেন, তারেক বিদ্যুত খাতের বিশ হাজার কোটি মেরে দিয়েছে। কোন অভিযোগই এখনও প্রমানিত হয়নি। সরকারের নির্দেশে দুদক তারেকের বিরুদ্ধে এখনও দুর্ণীতির মামলা খুঁজে বেড়াচ্ছে। কিন্তু বিএনপি আওয়ামী লীগ আর সরকারের এই প্রপাগান্ডার সঠিক জবাব দিতে পারছেনা।কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সন্তান জয়ের দুর্ণীতির খবর ছেপে দৈনিক আমার দেশ এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান  জেলে গেছেন। তার উপর সরকারের আক্রোশ এখনও কমেনি। তারেককে রাজনীতি থেকে নির্বাসন দেয়ার সরকারী উদ্যোগ একেবারেই অমুলক নয়। তারেক নিশ্চিত ভাবেই আগামী দিনের দিনের একজন নেতা জেনেই সরকার ও আওয়ামী লীগ তাকে সরিয়ে দিতে চায়। অপরদিকে শেখ হাসিনার পরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব কে দিবে এখনও ঠিক হয়নি। জয় ওয়াজেদ আসবে আসবে করেও এখনও তার আসা হয়ে উঠছেনা। কেন যে সে আসতে পারছেনা তাও স্পস্ট নয়। আসেতো আবার ফিরে যায়। মাকে ক্ষমতায় রেখে সব রকম সরকারী প্রটোকল নিয়ে রাজনীতি করা খুবই সহজ। তারেক কিন্তু রাজনীতি শুরু করেছে তৃণমূল থেকে। তাঁর জন্যে কোন প্রটোকলের দরকার হয়নি।

রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও রাস্ট্রপতিদের সন্তানদের দুর্ণীতির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। এ অভিযোগ বিশ্বব্যাপী। ইন্দিরা গান্ধীর সন্তান রাজীব ও সন্জয়ের বিরুদ্ধে  দুর্ণীতির বহু অভিযোগ এসেছিল। রাজীবের বিরুদ্ধে বফোর্স কেলেংকারীর খবর বহুদিন মিডিয়াতে এসেছে। পশ্চিম বাংলার অবিসম্বাদিত নেতা জ্যোতি বাবুর ছেলের বিরুদ্ধেও দুর্ণীতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। জ্যোতি বাবুর ছেলে একজন প্রতিস্ঠিত ব্যবসায়ী। কোলকাতার পার্ক হোটেলের মালিক জ্যোতি বাবুর বেয়াই। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশাইর ছেলের বিরুদ্ধেও দুর্ণীতির অভিযোগ ছিল। পাকিস্তানের দিকে তাকালেও দেখতে পাবেন জুলফিকার আলী ভুট্টোর মেয়ে বেনজীরের বিরুদ্ধে সুইস ব্যান্কে টাকা রাখার তদন্ত এখনও চলছে। সেই বেনজীর দু’বার পাকিস্তানের প্রধান হয়েছে। এখন বেনজীরের ছেলে বিলাওয়াল রাজনীতিতে আসছে। পিপিপির আগামীদিনের নেতৃত্বে তার নাম ঘোষিত হয়েছে।নেওয়াজ শরীফ সওদী আরবে বেশ কয়েক বছর স্বপরিবারে নির্বাসিত জীবন যাপন করেছেন। জেনারেল মোশাররফ এই দু’জনকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিলেন। দীর্ঘকাল নির্বাসনে থেকে তিনি দেশে ফিরে এখন জেলে আছেন। জেনারেল এরশাদের আমলে বৃটেন থেকে এটিপি বিমান কেনার ব্যাপারে থ্যাচারের ছেলের বিরুদ্ধে দুর্ণীতির অভিযোগ উঠেছিল। মায়ের প্রভাব খাটিয়ে সে মধ্যপ্রাচ্যেও ব্যবসা করার চেস্টা করেছে বলেও বৃটিশ মিডিয়া অভিযোগ করেছে।রাজনীতিতে এসব নোংরামী থাকবেই।

তারেক আসলে রাজনৈতিক প্রপাগান্ডা ও মিডিয়ার বিরাট শিকার। এর পিছনে দেশী বিদেশী যড়যন্ত্রও থাকতে পারে। বিএনপি আসলেই বাংলাদেশের বেশীর ভাগ মানুষের দল। এই দলের মাধ্যমেই মানুষ নিজেদের আকাংখার প্রতিফলন দেখতে চায়। তারেক এখন তরুন ও যুব সমাজের নেতা। একটা বড় স্বপ্ন নিয়ে সে রাজনীতির মাঠে এসেছে। খুব পরিকল্পিতভাবেই সামনের দিকে যাচ্ছিল। সারাদেশ সফর করে তৃণমূলে বিরাট সাড়া ফেলে দিয়েছিল। ফলে দেশী ও বিদেশী বাংলাদেশের শত্রুরা শংকিত হয়ে পড়েছিল। ১/১১র সরকার বিদেশীদের পরামর্শেই তারেককে চিরদিনের জন্যে পংগু করে দিতে চেয়েছিল।আল্লাহতায়ালা রক্ষা করেছেন। কিন্তু ষড়যন্ত্র এখনও শেষ হয়নি। তবে তারেকের ভুলগুলোকেই তার শত্রুরা কাজে লাগিয়েছে। এবং এখনও লাগাচ্ছে। রাজনীতিতে ইমেজ বা ভাবমুর্তি রক্ষা করা একটা বড় কাজ। শত্রু কোন দিক থেকে আক্রমন করতে পারে সে ব্যাপারে সজাগ থাকাটাও গুরুত্বপূর্ণ কাজ। অল্প বয়সেই তারেকের অনেক মোসাহেব ও তোষামোদকারী জুটে গিয়েছিল। শহীদ জিয়ার সততা ও ইমেজ ছিল বিএনপির প্রধানতম মুলধন। সেই মুলধন কিছুটা হলেও কলংকিত হয়েছে তোষামোদকারীদের ভুল পরামর্শ কর্মের কারনে। আশা করছি< তারেক এখন তার ভুল গুলো বুঝতে শুরু করেছে। রাজনীতিতে নির্বাসিত জীবন নতুন কিছু নয়। বেনজীর ভুট্টো বহু বছর নির্বাসিত থেকে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী হয়েছে।ইরান বিপ্লবের মহান নেতা ইমাম খোমেনী বহু বছর নির্বাসনে ছিলে। বিদেশে থেকেই বিপ্লবের কাজ চালিয়ে গেছে। ইসলামী বিপ্লবের এই মহান নেতার দেশে আগমনের মাধ্যমেই রেজা শাহ পাহলবীর পতন হয়েছিল। তারেকের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। দেশের মানুষের জন্যে রাজনীতি করলে তারেককে আরও অনেক বেশী কস্ট স্বীকারের জন্যে প্রস্তুত থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে তারেক এ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়ার বড়ছেলে। দেখা যাক বাংলাদেশের রাজনীতি কোন দিকে যায়? ভারত সরাসরিই বাংলাদেশের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। হাই কমিশনার পংকজ শরণ বলেছেন বাংলাদেশে তাদের স্বার্থ আছে। তাই তারা আমেরিকার সাথে যৌথভাবে চলমান সংকট কাটাবার জন্যে কাজ করে যাচ্ছেন।
আমিতো মনে করি ভারতের পরামর্শে শখ হাসিনা এ সংকট তৈরি করেছেন। ১/১১র সরকারকেও ক্ষমতায় বসিয়েছিল ভারত। ঠিক পাঁচ বছর আবার সেই পুরাণো সংকট দেখা দিয়েছে। ২০০৬ সালে সংকট তৈরি করেছিলেন শেখ হাসিনা। এবারের সংকটও তিনিই সৃষ্টি করেছেন। তাই ভারত প্রকাশ্যে মোড়লীপনা শুরু করে দিয়েছে। তারেক এখনও নির্বাসনে আছেন। একটি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন। দেখা যাক, ভারত শেষ কি চাল দেয়? ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনে ১৫৪ জন লোক বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পরও সে সংসদ এখনও বহাল আছে। যে নির্বাচনে দেশের মাত্র পাঁচ ভাগ মানুষ  নির্বাচনে ভোট দিয়েছে বলে বলা হয়। কিন্তু ভারত অন্ধ ভাবে সে নির্বাচনকে সমর্থন দিয়েছে। কারণ ভারতের স্বার্থ আছে। কি স্বার্থ তা দেশবাসী ভাল করেই জানেন। এখন প্রশ্ন উঠেছে শেখ হাসিনা একটা স্বচ্ছ অবাধ দিতে চান না কেন? কেউ হয়ত তাঁকে বুঝিয়েছে  বিএনপিকে যদি নির্বাচনের বাইরে রাখা যায় তাহলে কালক্রমে দলটি আর টিকে থাকবেনা।

এরশাদ মজুমদার, কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
http://www.humannewspaper.wordpress.com

Read Full Post »


সংবাদপত্রের সাথে রাস্ট্রের বনিবনা কোন যুগেই ভাল ছিলনা। যেসব দেশ বা রাস্ট্র নিজেদের খুব গনতান্ত্রিক মনে করে সেসব দেশেও সরকারের সাথে সংবাদপত্রের মনকষাকষি চলতে থাকে বা চলছে। যদিও পশ্চিমারা যারা নিজেদের অতি ভদ্রলোক বলে মনে  করে তারাও সংবাদপত্রের একশ’ভাগ স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনা। ওসব দেশেও সরকার বা কায়েমী স্বার্থবাদীরা সুযোগ পেলেই সংবাদপত্রের গলা টিপে ধরতে চায়। প্রতিদিন পৃথিবীর কোথাও না কোথাও সংবাদপত্র বা সাংবাদিকদের উপর দলন বা নির্যাতন চলছে। অনেক স্বৈরশাসক আছে যারা কথা বলার উপরেও সেন্সরশীপ জারি করে। জেনারেল আইউব তত্‍কালীন পূর্বপাকিস্তানের অনেক নেতার উপর এই সেন্সরশীপ জারি করেছিল। সংবাদপত্রের উপর আইউব সরকারের হামলা ছিল প্রায় প্রতিদিন।  পূর্বপাকিস্তানে সরকার সমালোচক পত্রিকা ছিল তিনটি। পাকিস্তান অবজারভার, সংবাদ ও ইত্তেফাক। এই তিন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন আবদুস সালাম তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া ও জহুর হোসেন চৌধুরী। ৬৯ এর পর স্বৈরশাসকের বিরোধিতার কাতারে এসে সামিল হয়েছিল দৈনিক আজাদ ও দৈনিক পূর্বদেশ। এসব পত্রিকার মালিক সম্পদক ও কর্মরত সাংবাদিকরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে পূর্বপাকিস্তানের জনগনের স্বার্থের জন্যে কাজ করতেন। তখন সাংবাদিকদের ভিতর এত বিভাজন ছিলনা। এখন মালিক সম্পাদক সাংবাদিক সবার নিজস্ব এজেন্ডা আছে। কোথাও সাংবাদিক নির্যাতিত হলে একদল প্রতিবাদ করে আর অন্যদল চুপ করে থাকে।

আমার দেশ এর উপর হামলা হলে সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করতে পারেনি। পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের উপর নির্যাতন শুরু হওয়ার পরেও সাংবাদিকরা দ্বিধা বিভক্ত ছিলেন। বিশ্বের বহু সংগঠন মাহমুদুর রহমানের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদ করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি। এর চাইতে লজ্জার আর কি হতে পারে। এমন কি রিপোর্টার অলিউল্লাহ নোমানের শাস্তির ব্যাপারেও সাংবাদিকরা মুখ খোলেনি। যদি সাংবাদিক নেতাদের কাছে জানতে চান, তাহলে তারা বলবেন বিএনপির আমলেও এমন অনেক অত্যাচার হয়েছে। তখন আপনারা বিএনপি সাংবাদিকরাতো কোন কথা বলেননি। সারাদেশেই সাংবাদিকরা বিভক্ত। মাহমুদুর রহমান আর নোমানের ব্যাপরে বিচারকদের দৃস্টিভংগী ও পর্যবেক্ষন সম্পর্কে দেশে বিদেশে প্রচুর সমালোচনা হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে বিচারক ও রায়ের সমালোচনা করা যাবে কিনা? অনেকেই মত প্রকাশ করেছেন আদালত সমালোচনার উর্ধে। কিন্তু বিচার ও রায়? তার পক্ষে বিপক্ষেতো আলোচনা হতে পারে। সারা পৃথিবীতে তাই হচ্ছে। বিচারকতো আমাদের মতো মানুষ। তাঁরাতো ভুল করতে পারেন বা ভুল রায় দিতে পারেন। বিচারকতো ঘুষ খেতে পারেন। নিম্ন আদালতে দূর্ণীতি আছে একথা প্রায়ই শোনা যায়। ভারতের সাবেক আটজন প্রধান বিচারপতি ঘুষ নিয়েছেন বলে কাগজে বেরিয়েছে। বাবরী মসজিদ সংক্রান্ত বিচারকের রায় উভয়পক্ষের সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। তাহলে কি  বিচারকরা বলবেন, আদালতের অবমাননা হচ্ছে?

আমাদের দেশে যে প্রকাশনা আইন রয়েছে তা মুলত তৈরি হয়েছে বৃটিশ আমলে। চোখ বন্ধ করে কোন চিন্তা না করেই আপনি অনায়াসেই বুঝতে পারবেন সে আইন কেন তৈরি করা হয়েছিল এবং কি উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল। সেই আইনটার তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি। শুধু আমাদের এখানে নয় এই অঞ্চলের সব দেশেই গনবিরোধী এই আইনটি বলবত্‍ রয়েছে। কোন সরকারই এই আইনের পুরো পরিবর্তন করতে চায়না। সব সরকারই স্বাধীন মতামত প্রকাশকারী প্রকাশনাকে গলা টিপে ধরতে চায়। তাই আইনটা হাতে রাখতে চায়। একবার মনে করুন কি কারন দেখিয়ে আমার দেশ বন্ধ করা হয়েছিল।প্রকাশক নাই অভিযোগ করে কাগজ বন্ধ করা হয়েছিল। আবার মধ্য রাতে পুলিশ জোর করে ঢুকেছে। পরে বলা হোল মাহমুদুর রহমান পুলিশের গায়ে হাত তুলেছেন।বৃটেন বা আমেরিকায় প্রকাশনা আইনটা অনেক বেশী গনতান্ত্রিক ও উদার। মনে হয় সারা ইউরোপে আইনটা অনেক বেশী জনগনের কাছে। আমাদের দেশে এখনও সংবাদপত্রের কন্ঠরোধ করার জন্যে সরকার বিজ্ঞাপনকে ব্যবহার করে থাকে। পত্রিকার সারকুলেশন কত তা নির্ধারন করে সরকারী সরকারী অডিট ব্যুরো অব সার্কুলেশন। যদিও দাবী করা হয়েছিল সাধারন কোম্পানীর অডিটের নিয়মেই সংবাদপত্রের সার্কুলেশন অডিট করার জন্যে। কিন্তু সরকার নিজের স্বার্থেই এই দাবী মানেনি। আইনটা দেখলেই মনে হবে পত্রিকা প্রকাশনার ব্যাপারে ডেপুটি কমিশনারই ফাইনাল অথরিটি। কিন্তু একবার দরখাস্ত করে দেখুন। তখন দেখবেন অদৃশ্য কত অথরিটি আছে আর কত ঘাটে কত খরচ করতে হয়। মত প্রকাশের ক্ষেত্রে এত বাধা বপত্তি কেন? কারন রাস্ট্র মনে করে নিজেকে বাঁচাতে গেলে অন্যের মতামতকে হত্যা করতে হবে। আমার বন্ধুরা বলেন, রাস্ট্র না বলে সরকার বলুন। কিন্তু আমি তাতে নারাজ। এই রাস্ট্র পাওয়ার জন্যেইতো আমরা ৭১এ যুদ্ধ করেছি। রাস্ট্র আছে বলেই সরকার আছে। সরকার আসে আর যায়। নানা দল  দেশ জনগনের নামে পরিচালনা করে। কিন্তু জনগনের মতামত শুনবে কে? যহোক এটা একটা লম্বা আলোচনার বিষয়।

প্রসংগত, সাম্প্রতিক কালের জঘন্যতম ডিক্টেটর পর্তুগালের সালাজার। এই ভদ্রলোক জনগন আর গনতন্ত্রের কথা বলে ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু সালাজার তার দেশের জনগনের মত প্রকাশের সকল পথ বন্ধ করে দিয়েছিল। এমন কি পর্তুগালে বিদেশী কাগজ পড়া ও বিদেশী রেডিও শোনা বন্ধ করেছিল।ভিন্নমতকে সালাজার কখনও সহ্য করতোনা। বেশ কয়েক যুগ আগে একটি বই পড়েছিলাম। নাম ‘সালাজারের জেলে ১৯ মাস’। এই বইটি সেদেশ থেকে পালিয়ে এসে এক ভদ্রলোক লিখেছিলেন। বইটি ছিল সালাজারের অত্যাচারের করুন কাহিনী। আমাদের দেশেও রিমান্ডের নামে দিনের পর দিন এ ধরনের অত্যাচার চলে। আদালত নিষেধ করলেও অত্যাচার থামেনা। শুনেছি ৭১এ পাকিস্তানী সেনারা মুক্তিযোদ্ধাদের উপর ওই রকম অত্যাচার করেছে। তার আগে বৃটিশ আমলে স্বাধীনতাকামীদের উপর বৃটিশরাও এ ধরনের অত্যাচার চালিয়েছে। তখন অত্যাচার করেছে বৃটিশ আর পাকিস্তানীরা। এখন করছে আমাদের ভাই বেরাদর ও ছেলেরা। কারন অত্যাচারের আইনটি তৈরি করেছে বৃটিশরা।আইনটি স্বাধিন পরাধীন সকল সরকারের কাজে প্রয়োজনে লাগছে। প্রয়োজন হলো বিপক্ষ মতকে টুটি চেপে ধরা। রাস্ট্র যদি শোষনের হাতিয়ার হিসাবে কাজ করে বা রাস্ট্রের আদর্শ যদি শোষন আর অত্যাচার হয় তাহলে এমন সরকার চাই যারা রাস্ট্রকে ওই গনবিরোধী আদর্শ থেকে মুক্তি দিবে। আমরা সে ধরনের সরকার আজও পাইনি।

বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন বড় মাপের জননেতা ছিলেন। ৭০ এর নির্বাচনে নিরংকুশ বিজয় লাভ করে এদেশের জনগনের অবিসম্বাদিত নেতায় পরিণত হন। তারই নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে। তিনি স্বাধীনতার ঘোষনা দেন বা না দেন। অবাক এবং বিস্ময়ের ব্যাপার হলো সেই বংগবন্ধু শেষ পর্যন্ত বহু দলীয় গনতন্ত্রকে  কবর দিয়ে পরিনত হলেন এক সিভিল ডিক্টেটরে।তিনি একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করে  সকল রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত ঘোষণা করলেন। সকল কাগজ বন্ধ করে দিলেন। সরকারী কর্মচারীদের তার দলের সদস্য হতে বাধ্য করলেন। তিনি এসব কেন করলেন? হয়ত তাঁর মনে হয়েছে দেশের উন্নতি সাধন করতে হলে অন্য সকল মত প্রকাশের পথ বন্ধ করতে হবে। এমন কি এক সময় বাংলার বাণী’র সম্পাদক শেখ মনি বলেছিলেন, মুজিবের বিরুদ্ধে কথা বললে জিহ্ব কেটে ফেলা হবে। মুজিবের এই বাংলাদেশে শুধু মুজিবের শাসন চলবে, আইনের শাসন নয়। পৃথিবীর সকল ডিক্টেটরই বলে থাকে দেশের উন্নতির জন্যেই ভিন্নমত প্রকাশের সকল মত বন্ধ করতে হবে। মুজিব গবেষকরা মনে করেন ভারত ও রাশিয়ান ব্লকের সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর চাপে পড়ে বংবন্ধু ওই ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বংগবন্ধু মারা যাওয়ার পর ভারত কিন্তু মোশতাক সরকারকে স্বীকৃতি দিয়ে এক সাথে কাজ করার অংগীকার করেছিল।বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে জেনারেল জিয়া ক্ষমতায় এসে দেশকে বহুদলীয় গনতন্ত্রে ফিরিয়ে আনে এবং কাগজ প্রকাশনার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন।

এখন আমি আমার ব্যক্তিগত কিছু অভিজ্ঞতার কথা বলতে চাই। অবজারভার ও সংবাদে প্রায় পাঁচ বছর কাজ করে রাজনীতি করার জন্যে আমি ৬৪ সালের একদম শেষদিকে ফেণী চলে যাই। প্রথমে সিদ্ধান্ত নিই একটি সাপ্তাহিক কাগজ প্রকাশের। প্রথমে কাগজের নাম দিয়েছিলাম স্বদেশ। প্রকাশনার রেজিস্ট্রার অফিস ওই গ্রহণ করলোনা। তারপর নাম দিলাম ফসল। ভাবলাম সাধারন পাঠকরা যেন সহজে পত্রিকার নাম উচ্চারন করতে পারে। স্থানীয় গোয়েন্দা বিভাগের এক অফিসার জানালেন আমার নামে পত্রিকার ডিক্লারেশন পাওয়া যাবেনা। তখন আমি মাওলানা ভাসানীর ন্যাপকে সমর্থন করতাম। বাধ্য হয়ে আমি আমার এক চাচাতো ভাইয়ের নামে ডিক্লারেশন নিলাম। কিন্তু তার পারিবারিক টাইটেল বা পদবী মজুমদার শব্দটি বাদ দিয়েছিলাম। ফেণীতে থাকাকালীন সময়ে আমি অনেক গুলো মামলার মোকাবিলা করেছি। প্রায় সব মামলায় প্রথমে গ্রেফতার হই। সেই সময়ের  দুটো মামলার কথা এখানে উল্লেখ করবো। প্রথম মামলাটি ছিল কর্তব্যরত সরকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে বাধা দান করা। তখন ফেণী মহকুমা মেডিকেল অফিসার ছিলেন জনাব আবুল কাশেম। ডাক্তার সাহেব সামাজিক ভাবে খুবই প্রভাবশালী ছিলেন। সমাজের উপরতলার প্রায় সবলোকই তাঁকে পছন্দ করতেন। বিনিময়ে তিনি তাদের বিনে পয়সায় চিকিত্‍সা করতেন। তিনি উপরতলার সবার বাসায় আসা যাওয়া করতেন। আর এই সুযোগ নিয়ে ডাক্তার সাহেব সাধারন মানুষের উপর অত্যাচার করতেন। আমি সাপ্তাহিক ফসলে তার দূর্ণীতি ও অত্যাচারের কাহিনী ছাপতে শুরু করি। এক সময় ডাক্তার সাহেব আমার বিরুদ্ধে একটা মিথ্যা মামলা করেন। সে মামলায় আমাকে গ্রেফতার করা হয়। ফেণীর একজন উকিলও আমার পক্ষে মামলা চালাতে রাজী হননি। নোয়াখালীর বিখ্যাত উকিল রায় সাহেব নগেন সুর আমার মামলা নিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত দূর্ণীতির অভিযোগে ডাক্তার সাহেবের চাকুরী চলে গিয়েছিল। শুনেছি, প্রায় ১৯ বছর পর জেনারেল এরশাদের আমলে ডাক্তার সাহেবের ছেলে মন্ত্রী হওয়ার পর ডাক্তার সাহেব নাকি চাকুরী ফিরে পেয়েছিলেন এবং ১৯ বছরের পুরো বেতন আদায় করে অবসরে যান।

দ্বিতীয় মামলাটি ছিল পত্রিকায় প্রকাশিত একটি চিঠি নিয়ে। চিঠিটি ছিল এক পেশকারের ঘুষ খাওয়া নিয়ে। ভদ্রলোক ছিলেন মহকুমা হাকিমের প্রধান পেশকার। সমাজে তার খুব প্রভাব ছিল। তিনি পত্রিকার সম্পাদকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। আর সংগে সংগে গ্রেফতারী পরওয়ানা। এই মামলাতেও আমি ফেণীতে কোন উকিল পাইনি। সব উকিলই ছিলেন পেশকার সাহেবের পক্ষে। পরে সমঝোতা হলে পেশকার সাহেব মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।১৯৭৪ সালে আমি জনপদে ছিলাম। তখনকার দুটো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার কথা উল্লেখ করতে চাই। প্রথমটি হলো। চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে যাচ্ছে। চীনের একটি বাণিজ্য প্রতিনিধি মায়ানমার হয়ে বাংলাদেশে আসেন বাণিজ্য নিয়ে আলাপ করার জন্যে। খোন্দকার মোশতাক ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রী। বিষয়টা ছিল খুবই গোপনীয়। জনপদ এই খবরটি প্রকাশ করে। খবরটি সংগ্রহ করেছিলাম আমি। লিখেছিলেন গীতিকার কেজি মোস্তফা সাহেব।তিনি তখন জনপদের কূটনৈতিক সংবাদদাতা। পরেরদিন সরকারী গোয়েন্দা জনপদ অফিসে এসে হাজির। খবরটি কে লিখেছেন তা জানার জন্যে তারা রিপোর্টের মুল কপিটি সীজ করে নিয়ে যান। আমি দেখলাম কেজি ভাই ফেঁসে যাচ্ছেন। গোয়েন্দাদের জানালাম খবরটি আমিই রিপোর্ট করেছি। হাতের লেখাটি শুধু কেজি সাহেবের। আমার উপর হুকুম জারী হলো আমি যেন রাজধানীর বাইরে কোথাও না যাই।প্রতিদিন সকালে গোয়েন্দা অফিসে হাজিরা দিতাম। তাদের প্রশ্ন ছিল খবরটি আমি কোথায় পেয়েছি। সরকারের ধারনা ছিল আমি খবরটি ফাঁস করে দিয়ে  ভারতীয় স্বার্থে কাজ করেছি। জনপদের মালিক ছিলেন তত্‍কালীন শিল্পমন্ত্রী কামারুজ্জামান সাহেব। খুবই ভাল মানুষ ছিলেন। তিনিই আমাকে বংগবন্ধুর কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। আর আমি ক্ষমা চেয়ে রেহাই পাই।

পরের ঘটনাটি ছিল মাওলানা ভাসানীর গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে। বায়তুল মোকাররমের এলাকা থেকে মাওলানা সাহেবকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। সরকার বলছে মাওলানা সাহেবকে গ্রেফতার করা হয়নি। অথচ মাওলানা সাহেবের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছেনা। পরে জানা গেল মাওলানা সাহেব সন্তোষে গৃহবন্দী। কিন্তু কেউ তাঁর সাথে দেখা করতে পারছেনা। পুলিশ বেস্টনীর কারনে সবাই সন্তোষ গিয়ে ফিরে আসছে। ফয়েজ ভাই বললেন, এরশাদ তুমি হুজুরের সাথে দেখা করে এসে একটি রিপোর্ট করো। যদি পারো কন্টিনেন্টালে খাওয়াবো। তখন হুজুরের মুরিদরাই শুধু তাঁর সাথে দেখা করতে পারতেন। আমি আর সৈয়দ জাফর দেখা করার সিদ্ধান্ত নিলাম। দুজনেই মুরিদ সেজে দেখা করতে গেলাম। মাথায় টুপি,পরনে ছিল মনে হয় লম্বা কুর্তা। অনেক গুলো পুলিশ পোস্ট অতিক্রম করে আমরা মাওলানা সাহেবের দেখা পেয়েছিলাম।হুজুর আমাদের চিনতে পেরেছিলেন। তিনি আমাদের অনেক কথাই বললেন। ফিরে এসে সৈয়দ জাফর হুজুরের ইন্টারভিউ লিখেছিল।আমি লিখেছিলাম কিভাবে দেখা করেছিলাম। আর যায় কোথায়? পরেরদিন আমার চাকুরীটা চলে গেল।

শুরুতেই বলেছি সরকার ও রাস্ট্রের সাথে সংবাদপত্র মত প্রকাশের বনিবনা কখনই হয়না। সবচেয়ে বড় গনতান্ত্রিক সরকারও চায়না জনগণ স্বাধীনভাবে কথা বলুক বা মত প্রকাশ করুক।( প্রকাশিত ২৩ অক্টোবর, আমার দেশ )

ershadmz40@yahoo.com

Read Full Post »


বাবরী মসজিদ মামলার রায় সম্পর্কে ইতোমধ্যে আপনারা জানতে পেরেছেন। বাংলাদেশ পাকিস্তান ভারত সহ পৃথিবীর অন্যান্য জায়গায় এর প্রতিক্রিয়া কি হয়েছে তাও জানতে পেরেছেন। আমি পাকিস্তান আর বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়ার তেমন গুরুত্ব না দিয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া নিয়ে কিছু বলতে চাই। ভারতের নামী দামী বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিকরা বলেছেন, এটা একটা আপোষকামী রায়। এই রায়ে আইন কোন গুরুত্ব দেয়া হয়নি। এই রায়ে দলিল বা বায়া দলিলের কোন গুরুত্ব দেয়া হয়নি। অযোধ্যার ওই ৬৪ একর জমি মোঘল আমলেই মসজিদের নামে ওয়াকফ করা হয়েছে। মসজিদের জমির বিবরন সরকারী মহাফেজ এখনো আছে। প্রত্নতত্ববিদেরা বলেছেন ওই জমিতে রাম মন্দির ছিল এমন কোন প্রমান মিলেনি। সাম্প্রদায়িক কট্টরপন্থী জংগী হিন্দুরা কোন দলিল দস্তাবেজ আদালতে হাজির করতে পারেনি। তাহলে তাদের কাছে আছে কি? আছে, নিশ্চয়ই আছে।  তারা হলো ধর্মীয়ভাবে ভারতের সংখ্যাগুরু বা মেজরিটি। তাদের শক্তি সংখ্যালগু বা মাইনরিটির চেয়ে অনেক বেশী। এর মানে হলো আদালত রায় দিয়েছে সংখ্যার বিবেচনা করে। আমাদের দেশেও এখন এ ধরনের রায় হতে শুরু করেছে। জানিনা, আদালত কোনদিন বলে বসবে প্রকাশ্যে আজান দেয়া যাবেনা। প্রকাশ্যে গরু জবাই করা যাবেনা। কারন রাস্ট্র এখন ধর্ম নিরপেক্ষ বা সেকুলার। অথচ সংবিধানে রাস্ট্রীয় ধর্ম ইসলাম স্বীকৃত থাকবে। একেই সেকুলার রাজনীতি। সেকুলার ভারতে প্রতি মাসেই দাংগা হয়। শত শত নিরীহ মানুষ প্রাণ হারায়।ভারতে কট্টরপন্থী জংগী হিন্দু সংখ্যাও কম নয়। নরেন্দ্র মোদীর মতো আরও বহু দাংগাবাজ জংগী নেতা ভারতে আছে। এই মোদীই গুজরাতে দাংগা লাগিয়ে হাজার হাজার মুসলমানকে হত্যা করেছে, পুড়িয়ে মেরেছে। সেই মোদী এখনও গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী।কিন্তু বাংলাদেশে কখনই দাংগা হয়না। বাবরী মসজিদের রায়ের মাধ্যমে বেরিয়ে এলো রায় এবং বিচারকদের সমালোচনা করা যাবে। এতে আদালত অবমাননার কোন প্রশ্নই আসেনা। বাংলাদেশে রায় এবং বিচারক দেবতার আসন গ্রহণ করে বসে আছেন। তারা মানুষ নন এবং তাদের রায় মানুষের রায় নয়।

মসজিদের ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে চট্টগ্রামেও একটি মামলা হয়েছিল। মসজিদটি হলো চট্টগ্রামের বিখ্যাত শাহী মসজিদ। এই মসজিদটি প্রতিস্ঠিত হয়েছে মোঘল আমলে। বিষয়টি সম্পর্কে বিশদ ভাবে অবগত আছেন সাবেক সচিব ওমর ফারুক সাহেব। সাংবাদিক হিসাবে আমি বিষয়টি শুনেছি। শাহী মসজিদের বেশ কিছু ওয়াকফ সম্পত্তি বৃটিশ আমলে সরকারী নীতির কারনে বেহাত হয়ে যায়। বিষয়টা নিয়ে মসজিদ কমিটি ও মোতোয়াল্লীরা মামলা চালিয়ে আসছিলেন। ওই মামলা চলাকালে আমার কাছে এসেছিলেন এক বুড্ডিস্ট ভদ্রলোক। সম্ভবত আমার বন্ধু ডিপি বড়ুয়ার রেফারেন্সে এসেছিলেন। মাইনরিটি বলে ভদ্রলোকের প্রতি আমি একটু সহানুভুতিশীল হয়ে পড়ি। তখন চট্টগ্রামের ডিসি ছিলেন সম্ভবত ওমর ফারক সাহেব। পরে তিনি বোধ হয় চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনারও হয়েছিলেন। মসজিদের ওয়াকফ সম্পত্তিতে বেআইনী দলিলের মাধ্যমে যারা ভোগ দখল করেছিল তাদের বলা হয়েছিল,জমির বদলে জমি পাবে সাথে ক্ষতিপূরনও পাবে। কিন্তু কয়েকজন তাতে রাজী হয়নি। ফলে তাদের মামলা চলেছে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত। মসজিদের মূল দলিল ছিল ফারসী ভাষায় লিখিত তখনকার দাপ্তরিক ভাষা হিসাবে। শেষ পর্যন্ত মূল বায়া দলিলই আদালত গ্রহণ করেছে। একবার ভাবুন এটা যদি সেকুলার ভারত হতো তাহলে কি হতো?  মেজরিটি মানুষের ভোটে যেমন সরকার নির্বাচিত হয় তোমনি সরকারকেও মেজরিটি মানুষের কথা ভাবতে হয়। তা না হলে সমাজে অশান্তি সৃস্টি হয়। বাংলাদেশে এখন সরকার, সরকারী জোট ও আদালত যা করছেন তাতে মেজরিট বা সংখ্যাগুরু মানুষের মনে কস্ট লাগার ক্ষুব্দ হওয়ার যথেস্ট কারন দেখা দিয়েছে। আদালত ইতোমধ্যে অনেক গুলো রায় দিয়েছেন যেগুলো দলিল ভিত্তিক নয়। যেমন পর্দা বিষয়ক আদালতের রায়। এ বিষয়ে পবিত্র কোরাণের আইন বলবত রয়েছে। আদালত ধর্মনিরপেক্ষতা বা সেকুলারিজমের কথা বলে কোরাণের সেই আইন রহিত করতে পারেন না। যেমন আদালত বলতে পারেন না ধর্ম পালনে কাউকে বাধ্য করা যাবেনা। কারো যদি ধর্ম থাকে তাহলে তাকে তা মানতে হবে। ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে কোন শরীয়া কোর্ট নেই। যার ফালে কোরাণী আইন সংক্রান্ত বিষয়ে ফায়সালার জন্যে নির্ভর করতে হয় এমন বিচারকের উপর যার কোরাণ বা কোরানী আইন সম্পর্কে কোন ধারনাই নেই। বেশ ক’বছর আগে হাইকোর্টে তালাক খোরপোষ ও ফতোয়া নিয়ে বিচারক যে রায় দিয়েছিলেন তার বিরুদ্ধে সারাদেশ আন্দোলন হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট ওই রায় বাতিল করে কোরাণের আইন প্রতিস্ঠা করেন। আমাদের জীবনে বেশীর ভাগ কোরানী আইন বলবত রয়েছে। জমি জমা ও ওয়ারিশানার ক্ষেত্রেও কোরানী আইন বলবত। এসব আইন রদবদল করার এখতিয়ার কোন সরকার বা আদালতের নাই। শুধু বাংলাদেশে কেন, পৃথিবীর কোন দেশেই নাই।    দেখুন না নিউইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরোতে মুসলমানরা একটি ইসলামিক সেন্টার তৈরীর উদ্যোগ নেওয়াতে কট্টরপন্থী খৃস্টানরা নানা ধরনের বিপত্তি তৈরী করছে। কিন্তু আমেরিকার বেশী ভাগ মানুষ ওই সেন্টার তৈরীর পক্ষে। এমন কি নিউইয়র্কের লোকাল সরকারও ইসলামিক সেন্টার স্থাপনের পক্ষে। কারন প্রাস্তাবিত সেন্টারের জমির মালিক মুসলমানরা। সুতরাং নিজেদের জমিতে নিজেদের পছন্দমতো বাড়ি তৈরী করা তাদের মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। তাদের সেই মৌলিক অধিকার রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব।

প্রসংগত বাংলাদেশের আয়মা সন্পত্তির বিষয়টা উল্লেখ করতে চাই। মোঘল আমলে সুবেহ বাংলায় শিক্ষা ব্যয় বহনের জন্যে সরকার প্রায় পাঁচ লক্ষ একর বরাদ্দ করেছিল। সেসব জমি বৃটিশ আমলে হিন্দু জমিদারদের ভিতর বিতরন করে সরকার খাজনা আদায় করতো। ভারতেও একই অবস্থা হয়েছে। এখন সেসব সম্পত্তির কথা বাংলাদেশ সরকার জানে কি? না জানেনা। কারন সরকার গুলো ইতিহাস এতিহ্যের ব্যাপারে সজাগ নয়। চলমান সরকার অর্পিত বা দেশত্যাগী হিন্দুদের সম্পত্তি ফেরত দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু যেসব মুসলমান ভারত ত্যাগের কালে বাপ দাদার যে সম্পত্তি ফেলে এসেছে সে গুলোর কি হবে। এমন রেকর্ডও পাওয়া যাবে যে এক জমি পাঁচ জনের কাছে বিক্রি করে বন্ধুরা দেশত্যাগ করে চলে গেছেন।আমার লেখা পড়ে অনেকেই বলবেন, এসবতো কমিউনাল বা সাম্প্রদায়িক কথা। আপাত দৃস্টিতে এ রকম মনে হতে পারে বা ধারনা তৈরী হতে পারে। কিন্তু সত্যটা কি? সত্য হচ্ছে ৪৭ সাল বা ৭১ সালের কারণে আমাদের ইতিহাসে অনেক অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে গেছে। ৪৭ এ অনেক বেদনাদায়ক দাংগা হয়েছে। যা ভারতে এখনও হচ্ছে। ৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের সময়  অনেক হিন্দু বাড়ি লুট হয়েছে। শহর গুলোতে বিহারীরা লুট করেছে। কিন্তু গ্রামে মুসলমানেরাই হিন্দুদের সম্পদ লুট করেছে। ৭১এ ভারতে গিয়ে অনেকেই ফিরে আসেননি। যারা ফিরে এসেছেন তারা সবাই তাদের সম্পদ ফিরে পাননি।

গত কিছুদিন ধরে হঠাত্‍ নতুন করে একটা বিষয় সামনে এসেছে আলোচনার জন্যে। সেটা হলো ৭১ এ যুদ্ধ কার সাথে কার হয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানের দলিল দস্তাবেজ বলছে যুদ্ধ হয়েছে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে। রমনার মাঠে আত্মসমর্পনের দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে। সেখানে বাংলাদেশকে রাখা হয়নি। ৯৩ হাজার পাকিস্তানী সৈন্য ও ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাদীকে ছেড়ে দিয়েছে ভারত।কিন্তু মহাসত্য হচ্ছে ওই যুদ্ধে ভারতকে সব রকম সাহায্য ও সহযোগিতা দিয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিযোদ্ধাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে স্বাধীন করা। পাকিস্তানের পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসাবে প্রতিস্ঠিত হয়েছে। ভারতের লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানকে পরাজিত করা এবং সুদুর অতীতের সকল অপমানের প্রতিশোধ গ্রহন করা। তাই ভরতের প্রয়াত প্রধান মন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ভারতের পার্লামেন্টে বলেছিলেন,‘ হাজার সালকা বদলা লিয়া’। কিসের বদলা, কেন বদলা সেটা পাঠক সমাজ নিজেরা বুঝে নেয়ার চেস্টা করুন। সেই ইতিহাস অনেক লম্বা। সুযোগ হলে আরেকদিন এ বিষয়ে কথা যাবে। স্বাধীনতার ঘোষণা কে দিয়েছে সেই বিষয়টাও এই হতভাগ্য জাতি ঠিক করতে পারেনি। এই তর্ক চলছেতো চলছেই।

প্রসংগত আজ আপনাদের বলবো ১৮৫৮ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের ইতিহাস ভাল করে পড়ুন। কে বা কারা ওই স্বাধীনতা যুদ্ধকে সিপাহী বিদ্রোহ বলে আখ্যায়িত করেছে। ইংরাজ দখলদাররা যখন ওই স্বাধীনতা যুদ্ধকে বিদ্রোহ বলছে তখন আমরাও কি তাই বলবো? তাহলে ইংরেজ ও তাদের তাবেদারদের লিখিত ইতিহাসকে সত্য বলে মেনে নেবো? ১৭৫৭ সালে পলাশীতে ইংরেজদের দোসরদের যড়যন্ত্রের ফলে নবাব সিরাজ উদ দৌলার পরাজয় হয়। কিন্তু দালাল ঐতিহাসিকরা লিখলেন নবাব দুশ্চরিত্র ছিলেন। নবাবকে কারা হত্যা করেছিল? কারাই বা নবাবের লাশ দাফন ছাড়া মুর্শিবাদের রাস্তায় ফেলে রেখেছিল কেনইবা ইংরেজরা ৮০ বছরের বৃদ্ধ সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে একটা ভুয়া মামলা এনে বিচারের প্রহসন করেছিল। সেই প্রহসনের বিচারে মানবতাবাদী মরমী কবি বাদশাহ বাহাদুর শাহ জাফরকে ইয়াগুনে নির্বাসনে পাঠানো হয়।১৮৬২ সালের ৭ নভেম্বর শুক্রবার ভোর ৫টায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বিকেল ৪টায় তাঁকে বৃটিশ সৈন্যদের পাহারায় নির্জনে দাফন করা হয়। আজ ইংরেজদের কারো কথা আমাদের মনে পড়েনা। কিন্তু স্বাধীন ভারতের শেষ সম্রাট কবি বাহাদুর জাফরের কথা মনে পড়ে। কবি লিখেছিলেন:

দীর্ঘ জীবন চেয়েছিলাম পেয়েছি মাত্র চারদিন

দু’দিন কাটলো আশায় আর দু’দিন কাটলো প্রতীক্ষায়।

জীবন শেষ হলো সন্ধ্যা হলো

কবরের কোনায় পা ছড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়ব।

কত হতভাগ্য জাফর

দাফনের জন্যে

দু’গজ জমিও পেলনা স্বদেশে স্বজনের মাঝে।

পরম আবেগ থেকে আমার প্রিয় মাতৃভুমির কথা ভেবেই এসব কথা লিখছি। আমি অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করি এই দেশটিকে সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা করা কোন কঠিন কাজ নয়। আমাদের ভাগ্য বড়ই খারাপ। আমাদের আজ প্রয়োজন একজন ত্যাগী দেশ প্রেমিক নেতা। কিন্তু কখন আসবে সে নেতা বা পথ নির্দেশক জানিনা। এখনতো একদল শকুন দেশটাকে মরা গরুর মতো খাবলে খাচ্ছে। শুক তাড়াবার জন্যে কোন ওয়ারিশ আছে বলে মনে হয়না। এ ব্যাপারে আমি সবেক প্রধান বিচারপতি ও সাবেক প্রধান উপদেস্টা বিচারপতি হাবিবুর রহমান সম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতি আপনাদের দৃস্টি আকর্ষন করছি। তিনি বলেছেন, দেশটা বাজিকরদের হাতে পড়ে গেছে। হাবিবুর রহমান সাহেব আওয়ামী ঘরানার মানুষ। বিবেকের দংশনে তিনি আর চুপ থাকতে পারলেন না। ঠিক এমনি একটি ভাষন দিয়েছিলেন  বিশিস্ট শিক্ষাবিদ ড: মাযাহারুল হক ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমিতির বার্ষিক সভায়। সেই ভাষনও সারা দেশে আলোড়ন সৃস্টি করেছিল

ershadmz40@yahoo.com

Read Full Post »


আজ আলোর পুত্র সক্রেটিসকে নিয়ে লেখাটা শুরু করতে চাই। আমি সক্রেটিসের একজন পরম ভক্ত। শুধু ভাবি রাস্ট্র কেন এই হত দরিদ্র নিরী্ মানুষটাকে হত্যা করলো। রাস্ট্রের কি এমন ক্ষতি করেছে এই নিরী্ মানুষটা। কেন রাস্ট্র সক্রেটিসকে সহ্য করলোনা।আল্লাহর নবী যিশুর জন্মের চারশ’ বছর আগে এথেন্স পরাজিত হয় স্পার্টার কাছে। এথেন্স ছিল গনতান্ত্রিক নগর রাস্ট্র। পরাজয়ের পর সেখানে প্রতিস্ঠিত হয় তিরিশ সদস্যের এক স্বৈরতন্ত্র। এগার জনের এক গুপ্ত পুলিশ বাহিনী। এই পুলিশ বাহিনীর প্রধান ছিল সাতুরোস। সে ছিল কঠোর প্রকৃতির নিষ্ঠুর লোক। যেকোন সময় যেকোন নাগরিককে ধরে নিয়ে গোপনে হত্যা করতো। যারা জীবিত থাকতো তাদের উপর চলতো নির্যাতন। সময়টা ছিল ৪০৪ খৃস্টপূর্বের সেপ্টেম্বর  থেকে ৪০৩ সালের মে পর্যন্ত মোট আট মাস। ক্ষমতাকে স্থায়ী করার জন্যে ওই স্বৈরতন্ত্র মাত্র ২/৩ হাজার মানুষকে ভয় আর লোভ দেখিয়ে নিজেদের দলে টানতে পেরেছিল। স্বৈরাচারীরা নগরের বুদ্ধিজীবীদের সমর্থন আদায়ের চেস্টা করতে গিয়ে প্রথমেই তাদের মোকাবিলা করতে হয়েছে সত্যের বাণী বাহক মানব জাতির অহংকার সক্রেটিসকে। তারা সক্রেটিসকে দলে টানতে ব্যর্থ হয়ে তার বিরুদ্ধে প্রথমে রাস্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ ও পরে ধর্মদ্রোহিতার অভিযোগ আনে।তখন সক্রটিসের বয়স ৭০। শেষ পর্যন্ত ধর্মদ্রোহিতার অভিযোগে তার মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। জনাকীর্ণ আদালতে সরকার সমর্থকরা বার বার শ্লোগান দিয়ে সক্রেটিসের প্রাণদন্ডর দাবী করছিলো। বাদী ছিল একজন বাগ্মী ও স্বৈরতন্ত্রের কঠোর সমর্থক। নাম তার মেলেতুস। আদালতের বিচারকের সংখ্যা ছিল ৫০১ জন। এদের অনেকেরই আইন বিষয়ক কোন জ্ঞান ছিলনা। তাদের একমাত্র সার্টিফিকেট ছিল তারা সরকার সমর্থক। আড়াই হাজার বছর পরেও  সক্রেটিস আজ আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন। কারন তিনি সত্যের জন্যে প্রাণ দিয়েছেন। বিচারকরা তাঁকে লঘুদন্ড দিতে রাজী ছিলেন যদি তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। সক্রেটিস তাতে রাজী হননি। তিনি বলেছিলেন, আমি যদি বেঁচে থাকি তাহলে সত্যের মৃত্যুর হবে। আমার চেয়ে সত্য অনেক বড়। সক্রেটিসই বলেছিলেন, ‘নো দাইসেল্ফ’। তাঁর বাণী ছিল মানুষের অন্তর্ণিহিত সত্যকে অনুধাবন করার আবেদন। কিন্তু মানুষ নিজের কাছেই অজানা রয়ে গেছে।

ঠিক এ সময়ে আমার মনে পড়ছে, ইমামুল মুরসালিন হজরত মোহাম্মদ(সা:) এর কথা। মক্কার নেতারা নবীজীর সাথে দেখা করে প্রস্তাব দিয়েছিল নবীজী যদি সত্য প্রচার করেন তাহলে তারা তাঁকে নেতা মানবে, ধন সম্পদ দান করবে আর মক্কার সবচে সুন্দরী নারীর সাথে নবীজীর বিয়ে দিবেন। নবীজী তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তাঁর এক হাতে চন্দ্র আর অন্য হাতে সূর্য দিলেও তিনি সত্যের সাথে মিথ্যার মিশ্রণ করতে পারেননা। আোনারা শুধু একবার ভাবুন, জগতে মানুষ কি চায়?  চায় ক্ষমতা সম্পদ ও সুন্দরী নারী। কিন্তু নবীজী চেয়েছেন জগতে শুধু সত্য প্রতিস্ঠা করতে। সেই সত্য তিনি প্রতিস্ঠা করে গেছেন। তিনি জগতে মানব জাতির মুক্তির সনদ দান করে গেছেন। সত্য প্রতিস্ঠা করার জন্যে নবীজী জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন, শত্রুদের সাথে অনেক যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। আল্লাহর নবীও বলেছেন,‘ মান আরাফা নাফছা, ফাকাদ আরাফা রাব্বা’। মানে তুমি যদি নিজেকে জানতে পারো,তাহলেই তোমার প্রভুকে জানতে পারবে।

শুধু মুসলমানের স্বার্থের কথা বলে আমরা মানে আমাদের বাপ দাদারা ৪৭ সালে মুসলমানের দেশ পাকিস্তান প্রতিস্ঠা করেছিলম। মাত্র ২৩ বছর এই পাকিস্তান এই অঞ্চলে টিকে ছিল। কারণ আমরা ভাবতে শুরু করলাম আমরা শুধু মুসলমান নই, বাংগালীও। শুরু হলো দন্ধ। তারপরে ৭১ এ আমরা বহু প্রাণের বিনিময়ে প্রতিস্ঠা করলাম স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। ইতোমধ্যেই পার হয়ে গেছে ৪০ বছর। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি। এখনও ঠিক হয়নি আমরা মুসলমান না বাংগালী। আমরা বাংগালী না বাংলাদেশী। আমাদের সংস্কৃতির বায়া দলিল কি? আমাদের ভাষার উত্‍পত্তি কোথা থেকে?  এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের কোন সুরাহা হয়নি। যদি ধরে নেই যে আমরা বাংগালী। এখন পৃথিবীতে প্রাত ৩০ কোটি বাংগালী আছে। এরমধ্যে ১৫ কোটির কোন স্বাধীন দেশ নেই। এমন কি আমাদের ইতিহাসটাও ঠিক মতো লিখিত হচ্ছেনা। সবাই শুধু বলছে ইতিহাস বিকৃত হচ্ছে। যে দল ক্ষমতায় আসে সেই দলই নিজেদের মতো করে ইতিহাস লিখতে চায়। এইতো ক’দিন আগেই শুনা গেল স্বাধীনতার দলিলে লেখা আছে ৭১ সালে যুদ্ধহয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। পাকিস্তান আত্মসমর্পন করেছে ভারতের কাছে। ১৬ ডিসেম্বর ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশই  বিজয় দিবস পালন করে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে ঢাক ঢোল বাজিয়ে বিজয় দিবস পাল করে। আর বিএনপি ক্ষমতায় এলে জাঁক জমকের সাথে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস পাল করে।

চারিদিকের হাল হকিকত দেখে আমাদের ছাত্র বয়সের কথা মনে হচ্ছে। তখন সোভিয়েত দেশ, পিকিং রিভিও বা মাওয়ের লাল বই হাতে দেখলেই গোয়েন্দারা আমাদের পিছনে লেগে যেতো। ওরা ভাবতো যারা ওসব বই পড়ে তারা কমিউনিস্ট। তখন পাকিস্তানে কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ ছিল। পার্টির নেতাদের বেশীর ভাগই থাকতেন আন্ডার গ্রাউন্ড। পরে মাওলানা ভাসানীর সাথে আইউব খানের একটা সমঝোতা হওয়ার পর বামপন্থী ও কমিউনিস্ট নেতাদের সরকার মুক্তি দেয়। এখন ধর্মীয় রাজনৈতিক দলের বই দেখলেই গোয়েন্দারা পীছনে লেগে যায়। এমন কি কোরাণ হাদিস ও রাসুল(সা:) সম্পর্কিত বই দেখলেও গোয়েন্দারা তাড়া করছে। আরবী ফারসী ও উর্দুতে ছাপানো সিনেমার বই দেখলেও গোয়েন্দার জেএমবি বলে পাকড়াও করছে। এক সময়ের কমিউনিস্ট নেতা নাহিদ সাহেব ঘোষণা দিয়েছেন জংগীবাদ কি ও কেন তা এখন থেকে স্কুল কলেজে পড়ানো হবে। নাহিদ সাহেবের মুখে এই প্রথম শুনলাম ইসলাম শান্তির ধর্ম। জানিনা সেদিন কবে আসবে সরকার ফরমান জারী করবেন ‘সরকারী ইসলাম’ ছাড়া অন্যকোন ইসলামের চর্চা করা যাবেনা। সউদী আরবে সরকারী ইসলাম ছাড়া অন্য ইসলাম নিষিদ্ধ। সউদী আরবে সরকারী অনুমোদন ছাড়া  কোরাণের ভিন্ন কোন তাফসীর প্রকাশ করা যায়না।

২ অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন পালিত হয়েছে ভারতে এবং পৃথিবীর অন্যখানে যেখানে গান্ধীজীর ভক্ত আছে। ভারতে আবার গান্ধীজীর সমালোচকও আছে। যারা তাকে জনগনের নেতা মনে করেনা। বেশ কিছুদিন আগে টাইম ম্যাগাজিন রাম গডসের একটি সাক্ষাত্‍কার প্রকাশ করেছে। রাম গডসে হচ্ছে নাথুরাম গডসের বড় ভাই। গান্ধী হত্যার মামলায় যাবজ্জীবন কারাভোগ করে মুক্তি লাভের পর টাইম ম্যাগাজিন তার সাক্ষাত্‍কার নিয়েছে। তখনও রাম গডসে বলেছে গান্ধী কখনই ভাল মানুষ ছিলেননা। তিনি হিন্দু স্বার্থ বিরোধী কাজ করেছেন বলেই আমরা তাকে হত্যা করেছি। রাম মনে করে গান্ধী একজন ভন্ড ও প্রতারক। একজন নকল সন্যাসী। তাকে হত্যা করে আমি অনুতপ্ত নই। রাম সম্ভবত এখন পুণায় বাস করেন। রামকে প্রশ্ন করা হয়েছিল,এলাকার লোক আপনাকে কি দৃস্টিতে দেখে। রামের উত্তর ছিল তারা আমাকে ঘৃণা করে। মাঝে মাঝে গায়ে থুথু দেয়। এতে আমি কিছু মনে করিনা। ‘হে রাম’ সিনেমা সম্পর্কে গডসের মন্তব্য ছিল, সিনেমাটি একটি বানোয়াট গল্প। এর সাথে ইতিহাসের কোন সম্পর্ক নেই। কারন গান্ধী মারা যাওয়ার সময় হে রাম বলেননি। কারন সে সময় তার কাছে ছিলনা। তাকে দেবতা বানাবার জন্যেই ওই ছবিটি বানানো হয়েছে। মহাত্মা গান্ধীর আজীবনের ভক্ত কে কে বিড়লা তার আত্ম জীবনীতে বলেছেন, ‘বিড়লা’জ ইউজ টু স্পেন্ট মিলিয়নস তো কিপ বাপুজী পুয়র’। মানে বাপুজীকে গরীব রাখার জন্যে বিড়লাদের কোটি কোটি টাকা খরচ করতে হয়েছে। বাপুজী বা মহাত্মা সম্পর্কে ভারতের সাধারন মানুষের কি ধারনা তা আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। ৭৩ সালে আমি কিছুদিন রাজস্থানের জয়পুর ইউনিভার্সিটি গেস্ট হাউজে ছিলাম একটা ট্রেনিং কোর্সের কারনে। ওই গেস্ট হাউজের সামনেই ছিল বিরাট এক গান্ধী মুর্তি। আমি একদিন রিকসা করে ওই মুর্তির পাশ দিয়ে জয়পুর বাজারে যাচ্ছিলাম। মনে নেই, সম্ভবত গ্রীস্মকালের পড়ন্ত বেলা ছিল। প্রচন্ড গরম ছিল। আপনারা জানেন, রাজস্থান মরুভুমির দেশ। গরমের কোন শেষ নেই। ঘর্মাক্ত রিকসাওয়ালা ঘাম মুচতে মুচতে খুব বিরক্ত হয়ে বিড় বিড় করে কি যেন বললো মুর্তির দিকে তাকিয়ে। আমি জিগ্যেস করলাম, কেয়া হুয়া ভাই? রিকসাওয়ালা উত্তর দিলো, শালা জিন্দেগী ভর তোম ধুপ মে খাড়া রহেগা। ধোকাবাজ কাঁহেকা। নাংগুটি পহেনকে গরীবোকো ধোকা দেতা। বাংলা মানে হলো- শালা, আজীবন রৌদ্রে দাঁড়িয়ে থাক। ভন্ড প্রতারক। নেংটি পরে গরিবদের ধোকা দিচ্ছ। একবার আমি আহমেদাবাদ গিয়েছিলাম। উঠেছিলাম শবরমতি নদীর তীরে অবস্থিত সী ভিউ হোটেলে। তখন মনে হয় শীতকাল ছিল। নদী একেবারেই শুকনা ছিল। কিন্তু বালির নীচে পানি ছিল। সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার কারনে শহরে থমথমে ভাব বিরাজ করছিল। আমি জানলে ওই সময় আহমেদাবাদ যেতামনা। আমাদের বুড়িগংগার মতো শবরমতি নদী আহমেদাবাদ শহরকে দুই ভাগে ভাগ করে রেখেছিল। নদীর উপর আটটি ব্রীজ ছিল। একদিন বিকেলে আমি গান্ধী আশ্রম দেখার জন্যে নদীর অপর পারে গিয়েছিলাম রিকসা করে। রিকসাকে অপেক্ষা করতে বলে আমি আশ্রমের ভিতর ঘুরে ফিরে দেখলাম। ঘন্টাখানেক পর রিকসায় উঠে হোটেলের দিকে রওয়ানা দিলাম। কয়েক গজ সামনে এগোবার পর রিকসাওয়ালা জানতে চাইলো ভিতরে আমি কি কি জিনিষ দেখেছি। আমি বললাম বাপুজীর ব্যবহৃত অনেক জিনিস দেখেছি। সে আবার জানতে চাইলো আমি আর কিছু দেখেছি কিনা। অনেক চিন্তা করে আমি বললাম, না আর কিছু দেখিনি। কেঁউ, আপ বিধ্বা নেহি দেখা? পনরা ষোলা আওর বিশ সাল কি বিধ্বা নেহি দেখা? আমি বললাম, হাঁ হাঁ দেখেছি। সাব ওহাঁ বাবুলোগ যাতা হ্যায় বিধ্বা সে মোলাকাত করনে কি লিয়ে। কিন্তু এসব সাধারন মানুষের কথায় কি আসে যায়। সারা দুনিয়া জানে বাপুজী একজন সন্যাসী।

এতদিন শুনে এসেছি, পাকিস্তানের জাতির পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ সাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে দ্বিজাতি তত্ব দিয়ে ভারতকে দুভাগ করেছে। জিন্নাহ অবশ্য এক সময় আমাদেরও জাতির পিতা ছিলেন। আমরা এখন জিন্নাহকে দেখতে পারিনা। কিন্তু ইদানিং শুনতে পাচ্ছি জিন্নাহ সাম্প্রদায়িক ছিলেন না। তিনি ভারত বিভক্তি চাননি। ভারতকে দুভাগ করেছেন মহাত্মা গান্ধী, নেহেরু ও সরদার প্যাটেল। এসব কথা লিখছেন ভারতীয় গবেষক ও রাজনীতিকরা। প্রশ্ন উঠেছে হঠাত্‍ করে গবেষক ও রাজনীতিকরা এসব কথা বলছেন কেন? ভারতের হেরিটেজ ফাউন্ডেশন অখন্ড ভারত প্রতিস্ঠা করার বিষয় নিয়ে গবেষনা করছেন। অবশ্য রারা এতে কোন রাজনীতি নেই। শুধুমাত্র গবেষনার স্বার্থেই এ কাজ করা হয়েছে। অনেকেই বলছেন, ইতিহাস পুনর্নির্মান করার জন্যেই এ গবেষনা চালানো হচ্ছে।

আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা আসল ইতিহাসই তৈরি করতে পারছিনা। স্বাধীনতার ঘোষণা কে দিয়েছেন এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের বিতর্ক আমরা চালিয়ে যাচ্ছি বছরের পর বছর। আমরা বাংগালী না বাংলাদেশী তাও ঠিক হয়নি। আমরা বংগবন্ধু আদালত জাতীয় সংসদ জাতীয় সংগীত নিয়ে কোন কথাই বলতে পারবোনা। এসব নাকি খুবই পবিত্র। আলোচনা সমালোচনার উর্ধে।শুনেছি পশ্চিম বাংলার মানুষ বংগবন্ধুকে দেবতা বা অবতারের মতো সম্মান করেন। আওয়ামী লীগ ও তার সমর্থক বুদ্ধিজীবীদের উপর হয়ত ওই ধরনের একটা প্রভাব বিস্তার লাভ করেছে। ৭২-৭৫ এর দিকে বাংলার বাণীতে মরহুম শেখ মনি বলেছিলেন আইনের শাসন নয় মুজিবের শাসন চান চাই। তিনি আরও বলেছিলেন,বংগবন্ধুর বিরুদ্ধে কিছু বললে জিব কেটে ফেলা হবে।শুরু করেছিলাম সক্রেটিসকে দিয়ে আর  শেষ করতে চাই ওই সময়ের স্বৈরাচারী সরকার সম্পর্কে দুটো কথা বলে। ওই সরকারটি টিকে ছিল মাত্র আট মাস। তারপরেই মানুষ বিদ্রোহ করেছে। ওই সরকার গনতন্রের কথা বলেই মানুষের উপর অত্যাচার করতো।

এরশাদ মজুমদার, কবি লেখক ও সাংবাদিক, ( ershadmz40@yahoo.com)

Read Full Post »

বায়া দলিল ৩


মানব সভ্যতার বিকাশ ঘটেছে এশিয়ায়। এ ব্যাপারে এখনও কারো কোন দ্বিমত নেই। এক সময় বিশাল এশিয়াই ছিল পৃথিবী। আমেরিকা নামক দেশ বা রাস্ট্রটি মানচিত্রে এসেছে মাত্র কয়েকশ’বছর আগে। গবেষকরা বলেন, ১৪৯২ সালে কলম্বাস ভারতে আসার জন্যে   রওয়ানা দিয়ে ভুল পথে  আমেরিকায় গিয়ে হাজির হয়েছিলেন। আমেরিকানরা ক’বছর আগে কলম্বাসের আমেরিকা আবিস্কারের ৫০০ বছর পালন করেছে। এদিকে আবার ভারত দাবী করে এক সময় আর্যরা বিশ্ব ভ্রমনে গিয়ে কয়েক হাজার বছর আগে আমেরিকা আবিস্কার করেছে। আমেরিকার আদিবাসীরাই হচ্ছে আজকের রেড ইন্ডিয়ান। যাদের বর্তমান আমেরিকানরা ধীরে ধীরে মেরে ফেলছে। বলা হয় আজকের আমেরিকা হচ্ছে ইমিগ্র্যান্টদের দেশ। কয়েকশ’ বছর ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ভাগ্যের অন্বষনে মানুষ আমেরিকায় আবাস গড়েছে। বৃটিশরা আফ্রিকা থেকে কালো মানুষদের ধরে এনে আমেরিকায় দাস হিসাবে বিক্রি করেছে। দাসদের করুন কাহিনী আপনারা অনেকে পড়েছেন। আজকের আমেরিকা বহিরাগতদের গড়ে তোলা একটি দেশ। আজ আমেরিকানরা পৃথিবীর নেতা। গরীব দেশ গুলোকে ধার দেনা দিয়ে করতলগত করে রাখছে। যারা কথা শুনেনা তাদের উপর হামলা করছে। বিগত একশ’ বছর ধরে আমেরিকা আর তার মিত্ররা বিভিন্ন দেশ দখল করেছে। এক সময় এই শক্তিধর আমেরিকা ছিল বৃটিশদের কলোনী। আমেরিকানদের স্বাধীনতার ইতিহাসের কথা আপনারা জানেন। তারপর তাদের গৃহযুদ্ধের কথাও আপনারা জানেন। আমেরিকার বুদ্ধিজীবী ও ইতিহাসবিদ ও রাজনীতিকরা হয়ত সুদুর অতীতের বড় বড় সাম্রাজ্যের কথা ভুলে গেছেন।তারা ভুলে গেছেন এক সময় বৃটিশরা তাদের উপর অত্যাচার চালিয়েছে। কিন্তু আমেরিকার এমন দিন এক সময় থাকবেনা। সেই সময়টা মোটেই দূরে নয়। আজ আমাদের ছেলেমেয়েরা বিশ্বাস করতে চায়না এক সময় আমাদের এই দেশটা সুজলা সুফলা ছিল। ভাগ্যের অন্বেষনে বিদেশীরা এখানে আসতো। বেশীদিন আগের কথা নয় সোনার বা বাংলায় ব্যবসা করতে এসেছিল আরব বৃটিশ পর্তুগীজ ফ্রান্স ও ওলন্দাজরা। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীতো ষড়যন্ত্র করে দেশটা দখন করে ১৯০ বছর এদেশে শোষণ চালিয়েছে। ওই শোষণ থেকে মুক্তিলাভের জন্যেই কংগ্রেস ও মুসলীম লীগ গঠিত হয়েছিল।

এক সময় সভ্যতার পীঠস্থান ছিল ইরাক ইরান মিশর সিরিয়া চীন ও প্রাচীন ভারত। ইউরোপে ছিল রোম ও গ্রীস। এখন এরা কেউ ক্ষমতাধর নয়। চীন আর ইরান ছাড়া বাকিরা সবাই আমেরিকার তাবেদারি করে বেঁচে আছে। আমরা বাংগালীরা নিজেদের গৌরবের কথা বলতে গিয়ে মুখের ফেনা বের করে ফেলি। হাজার বছরে আমাদের নিজেদের কোন স্বধীন রাস্ট্র ছিলনা। ৭১ সালের আগে এখানে পাল সেন খিলজী মোঘল বৃটিশ আর পাকিস্তানীরা শাসন করেছে। পাকিস্তানী মুসলমানদের সাথে ছিলাম আমরা ২৩ বছর। তারপর থেকে একশ’ভাগ আমাদের নিজেদের স্বাধীন রাস্ট্র। এখন কোন বিদেশী আসন নেই।স্বাধীনতার ৪০ বছর পুর্তি হতে চললো। কিন্তু আমরা স্বপ্নের সেই সুখ পাইনি। এখন আমরা নিজেরাই নিজেদের শত্রু। কাল্পনিক শত্রু আমাদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনে করে তারা এবং তাদের বন্ধুরা ছাড়া আর কারো দেশ চালাবার অধিকার নেই। বাকি কারো দেশ চালাবার অধিকার নেই। আওয়ামী লীগ মনে করে একমাত্র তারাই রাজনৈতিক দল। বামপন্থী নেতা সেলিম সাহেবতো দাবী জানিয়েছেন যেসব দলের সাথে ইসলাম শব্দ আছে সেগুলো নিষিদ্ধ ঘোষণার জন্যে। আমি অবাক হচ্ছি যে একজন শিক্ষিত লোক কিভাবে এমন দাবী করতে পারেন। সেলিম সাহেব কখনও ভোটে দাঁড়ান না বা ভোট প্রার্থী হননা। তাঁর বামপন্থী বন্ধুরা ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগের নৌকায় উঠে করুন সুরে গান ধরেছেন, আগে জানলে তোর ভাংগা নৌকায় চড়তাম না। সেলিম সাহেবেরা আসলে একদলীয় গনতন্ত্রে বিশ্বাস করেন। সেলিম সাহেবের ধর্মহীন দল রাজনীতি করতে পারবে, কিন্তু ধর্মে বিশ্বাসীরা কেউ রাজনীতি করতে পারবেনা। পথিবীর কোথাও এমন ব্যবস্থা নেই । এমন কি চীন রাশিয়াতেও নেই। চীন রাশিয়ায় ধর্ম নিষিদ্ধ করার দিন চলে গেছে।

আওয়ামী লীগ ও তার দোসরদের কারনে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কখনই ঐকমত্য স্থাপিত হয়নি। কারন আওয়ামী লীগের কাছে দেশের উন্নতির চেয়ে দলের স্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকটা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। দলটি মুখে গনতন্ত্রের কথা বলে ফেনা জমিয়ে ফেলে। কিন্তু কাজে দেশের চেয়ে দল বড়। তারা মনে করে আওয়ামী লীগ আর বাংলাদেশ শব্দটি সমার্থক। তারা মনে করে দলের উন্নতি হলেই দেশের উন্নতি হবে। তাতেও তাদের মন ভরেনা। তারা চান  দেশের প্রশাসন ও সব ধরনের বাহিনী তাদের দলের হয়ে কাজ করবে। এমন কি আদালতও এই দলের জন্যে কাজ করবে। এই মানসিকতা থেকেই বংগবন্ধু বামপন্থীদের পাল্লায় পড়ে বাকশাল গঠন করেছিলেন। এখনও সেই সব আলামত দেখা যাচ্ছে। আমার লেখা পড়ে আপনাদের মনে হতে পারে আমি অন্ধভাবে আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করছি। না আমি তা মোটেই করছিনা। আমার রাজনৈতিক আদর্শ ও মতবাদ আছে। কিন্তু কোন দলীয় মতবাদ নেই।আমি অন্ধভাবে কোন দলকে সমর্থন করিনা। অনেকেই মনে করেন, বিশেষ করে আমার আওয়ামী বন্ধুরা মনে করেন আমি এক সময় বামপন্থী চিন্তাধারার লোক ছিলাম এখন ডানপন্থী হয়ে গেছি। আমার বন্ধু  সাবেক সচিব মহিউদ্দিন কাগজে লিখেই ফেলেছেন আমি মোল্লা হয়ে গেছি। আবার কেউ কেউ মনে করেন আমি বিএনপি বা জামাত সমর্থক হয়ে গেছি। কারো কথায় আমার কিছু আসে যায়না। সবাই নিজের মতো করে ভাবে। তবে একথা ঠিক যে আমি  দেশ ও দেশের মানুষের কথা ভাবি। আর ভাবি বলেই আমি নিজের পছন্দ ও ইচ্ছানুযায়ী সাংবাদিকতায় এসেছি। এই পেশায় এসে আমি আনন্দ পেয়েছি। আমার স্বপ্ন হলো একটি সম্মানিত দেশ ও রাস্ট্রের নাগরিক হওয়া। ৭১ সালে দেশের মানুষ যুদ্ধ করেছিল সেই স্বপ্ন নিয়েই। কিন্তু সে স্বপ্ন আজও বাস্তবায়িত হয়নি। স্বপ্ন ভংগের কারন দেশের রাজনীতি ও রাজনৈতিক দল। সিংগাপুর কোরিয়া তাইওয়ান ও মালয়েশিয়া আমাদের চোখের সামনেই সম্মানিত রাস্ট্রে পরিণত হয়েছে। কারো সময় লেগেছে ১৫ বছর আর সময় লেগেছে ২০ বছর। আমদের ৪০ বছর পার হতে চলেছে। দারিদ্র অশিক্ষা এখনও বিশাল ভাবে বিরাজ করছে। অথচ আমাদের রয়েছে বিশাল কৃষক ও শ্রমিক সমাজ। কৃষিতে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব বলে আমি মনে করি। এই বিশ্বাস থেকেই আমি ১৯৬৫ সালের ১৭ই মার্চ কৃষি পত্রিকা সাপ্তাহিক ফসল প্রকাশ করি। তখন প্রশাসন ও সমাজ মনে করতো আমি কমিউনিস্ট। আমি চিরদিনই একজন মানবতাবাদী। বহুকাল আমি সে পত্রিকা চালিয়েছি। এখন বন্ধ। বাংলাদেশের সরকারগুলো ধনী ও সংঘবদ্ধ মধ্যবিত্তের সরকার।এদেশে রাজনীতিকরাও কৃষক শ্রমিকের পক্ষে নয়। পত্রিকা গুলোও তাদের পক্ষে। সবাই মুখে শ্রমিক ও কৃষকদের পক্ষে কথা মন ভুলানো কথা বলে। গত ৪০ বছরে বাংলাদেশে কৃষকরাই সবচেয়ে বেশী শোষিত হয়েছে। ৪০ বছরে ধনীর সংখ্যাতো কম হলোনা। ৬০ থেকে ৭০ নাগাদ রাজনীতিকদের শ্লোগান ছিলো পাকিস্তানের বাইশ পরিবারের বিরুদ্ধে। ওরাই নাকি তখন পূর্ব পাকিস্তানকে চুষে খাচ্ছিল। আর এখন কয়েক’শ’ বাংগালী ধনীর জন্ম হয়েছে যারা যখন তখন সরকারকে প্রশাসনকে চোখ রাংগায়। এখন এসব ধনীর বিরুদ্ধে রাজনীতিকদের কোন আওয়াজ নেই। সব দলই এসব ধনীর কাছে থেকে মাসোয়ারা নেয়। ছাত্রনেতারা ধনীদের কথায় উঠে বসে। ধনীরা প্রায় সবাই কাগজ ও টিভির দোকান খুলে বসে আছে। সেখানে  সাংবাদিক নামের শ্রমিকরা কাজ করে। সবাই ভাল বেতন পায়। নানা ভাবে আরও অনেক আয় আছে সাংবাদিকদের। আমার এসব কথা কি কোন কাগজ ছাপবে? না ছাপবেনা। মহান স্বাধীন(?) মিডিয়ার বিরুদ্ধে সত্যকথাও নাকি বলা যাবেনা। আমি এমন একটি গনতান্ত্রিক দেশে বাস করি যেখানে সরকার সাংবাদিক মাস্তানদের বিরুদ্ধে কথা যায়না। আপনারা সবাই আমার অবস্থা বুঝতে পারছেন। তাহলে বলুন, এই এতিম দেশটির উন্নতি কে করবে?

আল্লাহর রাসুল ইমামুল মুরসালিন হজরত মোহাম্মদ(সা:) বলেছেন, তোমরা সব সময় সংঘবদ্ধ থাকবে। তোমাদের একতাই হবে তোমাদের শক্তি। বিচ্ছিন্ন হলেই তোমরা পদানত হবে। শত্রুরা তোমাদের উপর ঝাপিয়ে পড়বে। তোমাদের জন্যে আমি দুটি জিনিষ রেখে যাচ্ছি। একটি আল্লাহপাকের কিতাব আল কোরাণ,আর অপরটি আমার সুন্নত। এ দুটি জিনিষ যতদিন তোমাদের কাছে থাকবে ততদিন পৃথিবীর ইমামতি তোমাদের কাছে থাকবে। তোমরা সত্যের সাথে মিথ্যার মিশ্রণ করোনা। চলমান বিশ্বে মুসলমানদের অবস্থা কেন এমন হয়েছে তা নিশ্চয়ই আপনারা অনুধাবন করতে পেরেছেন।

ইসলামের চতুর্থ খলিফা ও মহানবীর(সা:) জামাতা হজরত আলী (রা:) বলেছেন, একটি দেশ বা সমাজ নস্ট হয়ে গেছে বুঝবে কেমন করে। যখন দেখবে, সে সমাজে গরীবরা ধৈর্যহারা হয়ে গেছে, ধনীরা কৃপন হয়ে গেছে।মুর্খরা মঞ্চে বসে থাকবে আর জ্ঞানীরা পালিয়ে থাকবে আর দেশের শাসক মিথ্যা কথা বলবে। তাহলে আপনারাই বলুন, বাংলাদেশ এখন কোন অবস্থায় আছে? যে কোন কারনেই হোক বাংলাদেশ আজ ঐক্যবদ্ধ নয়। জাতির বিভক্তি আজ সুস্পস্ট। আওয়ামী লীগ ধর্মহীন রাজনীতি করতে চায়। আর বিএনপি দাবী করে তারা জাতীয়তাবাদ ও ইসলামকে গুরুত্ব দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চায়। আমার মনে দেশের ৯০ ভাগ মানুষ ধর্মহীন রাজনীতি চায়না। তারপরেও বাংলাদেশের রাজনীতির আজ এই হালত কেন? কারন নেতারা বিভ্রান্ত ও স্বার্থপর।

শুরু করেছিলাম আমেরিকার বায়া দলিল নিয়ে কথা বলার জন্যে। আমেরিকার নিজস্ব কোন ইতিহাস বা ঐতিহ্য নেই। কারন তার ইতিহাস মাত্র কয়েক’শ’ বছরের। তাই সে পৃথিবীর বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী দেশগুলো আক্রমন চালাচ্ছে। ইরাকের প্রায় সব সম্পদ লুট করে নিয়ে গেছে। যেমন ময়ুর সিংহাসন ও কোহিনুর মুকুট ইংরেজরা ভারত থেকে লুট করে নিয়ে গেছে। প্রসংগত বাবরী মসজিদের কথা উল্লেখ করতে মন চাইছে। এটাও একটা বায়া দলিলের মামলা। এলাহাবাদ হাইকোর্টে ৬০ বছর ধরে এই মামলা চলছে। অযোধ্যায় বাবর এই মসজিদ প্রতিস্ঠা করেছিলেন। দলিল দস্তাবেজ সেইভাবেই আছে। কিন্তু কট্টর হিন্দুরা মনে করে অযোধ্যা রামের জন্মস্থান। এখানে রাম মন্দির ছিল। বাবর সেই মন্দির ভেংগে মসজিদ প্রতিস্ঠা করেছে। ইতিহাসবিদ,গবেষক, প্রত্নতত্ববিদরা বলেছেন হিন্দুদের দাবীর স্বপক্ষে কোন দালিলিক প্রমান নেই। এক সময় কট্টর হিন্দুরা বাবরী মসজিদকে গুড়িয়ে দেয়। ৬০ বছর পর এলাহাবাদ হাইকোর্ট জমির মালিকানার রায় ঘোষণা করেছেন। আসলে ওই রায় কোন রায় নয়। আদালত শান্তির আশায় আপোষ করেছেন। মেজরিটি হিন্দুর দেশ ভারতে হিন্দুদের বিরুদ্ধে কেমন করে সঠিক রায় দিবেন? তাই মসজিদের ওয়াকফ সম্পত্তি শান্তি ও নিরাপত্তার আশায় উভয় পক্ষের মাঝে বাটোয়ারা করে দিয়েছে। এটা কোন দালিলিক রায় নয়। সমঝোতার রায়।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এখন পরিবেশ পরিস্থিতির শিকার। তাঁকে বার বার ঘোষণা দিয়ে বলতে হচ্ছে তিনি এখন আর মুসলমান নন। একজন পূর্ণাংগ খ্রিস্টান। কারন আমেরিকানদের অনেকেই মনে করেন তিনি এখনও মুসলমান। বিষয়টা এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? কারন আমেরিকা একটি খ্রিস্টান প্রধান দেশ। তাই তারা সাধারন ভাবে মনে করে সেই দেশের নেতা হবেন একজন খাঁটি খ্রিস্টান। ম্যানহাটনের জিরো পয়েন্টের কাছে মুসলমানরা নিজেদের জায়গায় একটি ইসলামিক সেন্টার তৈরী করার পরিকল্পনা নিয়েছে। সেখানেও ক্রিস্টান বন্ধুরা আপত্তি তুলেছেন। আবার ফ্লোরিডায় এক ধর্মযাজক পবিত্র কোরাণ শরীফে আগুন লাগাবার ঘোষণা দিয়েছেন। এসব ঘটছে মহান সেকুলার দেশ খোদ আমেরিকায়। আর এসবই হলো বায়া দলিলের কথা। জাতি হিসাবে শুধু আমাদের কোন বায়া দলিল নাই।( নয়া দিগন্ত ১১ অক্টোবর )

ershadmz40@yahoo.com

Read Full Post »


টিভি অন করতেই সামনে এসে পড়লো আরটিভির রোড টু ডেমোক্রেসি নামের একটা প্রোগ্রাম। প্রোগ্রামটা যিনি পরিচালনা করেন তিনি খোলা মনের মানুষ নন বলে মনে হলো। এই অনুস্ঠানে দুয়েক জন সাংবাদিকও থাকেন। রাজনৈতিক দলের নেতারাও থাকেন। তবে বড় দুই দলের নেতারাই থাকেন বেশী। সালা্উদ্দিন কাদের চৌধুরী ছাড়া বিএনপির বাকি নেতাদের চোয়ালে তেমন জোর আছে বলে মনে হয়না। এসব টকশো/ঠগশো বা তেতুল শোতে গলা না ফাটালে বাজী মাত করা যায়না। টকশো দেখে দুই গ্রামের তার্কিকদের কথা মনে পড়ে গেল। প্রথম গ্রামের তার্কিক মঞ্চে উঠেই প্রশ্ন রাখলেন, বলুনতো ‘আই ডু নট নো’ মানে কি? দ্বিতীয় গ্রামের তার্কিক মঞ্চে উঠে হাসতে হাসতে বললেন, এটা কোন প্রশ্ন হলো। সবাই চিত্‍কার বললো উত্তর দিন। দ্বিতীয় গ্রামের তার্কিক বললেন, এর মানে হলো ‘আমি জানিনা’। আর যায় কোথা? সবাই দাঁড়িয়ে চিত্‍কার করে বললো,প্রথম গ্রাম হেরে গেছে। আমাদের জ্ঞানী গুণীদের টকশো অনেকটাই গ্রামের তার্কিকদের মতো। সেদিনের টকশোতে সিদ্দিকী সাহেব নামের এক মন্ত্রী ছিলেন। মন্ত্রী মহোদয় হজরত আবু বকর সিদ্দিকী(রা:) বংশধর কিনা জানিনা। শুনেছি ওই পদবীর সিলসিলা এসেছে হজরত আবু বকরের(রা:) বংশ থেকে। সিদ্দিকী মানে বিশ্বাসী । আল্লাহপাকের শ্রেষ্ঠতম রাসুল ইমামুল মুরসালীন মোহাম্মদ মোস্তফার(সা:) রেসালত ও নবুয়ত ঘোষণা প্রথমেই বিশ্বাস করেছিলেন প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর(রা:)।তিনিই প্রথম বয়স্ক পুরুষ যিনি নবীজীর নবুয়তকে বিশ্বাস করেছিলেন। সেই থেকেই তিনি সিদ্দিকী নামে পরিচিত হয়েছেন। আমাদের আলোচনার সিদ্দিকী সাহেব কোন সিলসিলা থেকে এই পদবী পেয়েছেন তা দেশের মানুষ জানেনা।

সেদিন টিভি টকশো’তে সিদ্দিকী যেভাবে কথা বলছিলেন তাতে নিশ্চিত ভাবে মনে হয়েছে তিনি ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকরের(রা:) বংশধর নন। তাহলে তিনি ওরকম ভাষায় কথা বলতে পারতেননা। পবিত্র কালামে পাকে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, তোমরা অন্যদের দেবতাদের কখনই মন্দ বলোনা, যদি বলো তারা ক্ষুব্দ হয়ে তোমার আল্লাহকে গালি দেবে। সিদ্দিকী সাহেবের উপর তার নামের বা পদবীর কোন প্রভাব বা তা’ছির পড়েনি। পড়লে তিনি টকশো’তে ওভাবে কথা বলতেন না। তিনি বলেছেন, বিএনপি বা জাতীয় পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়। সামরিক দর্জি ওসব দল তৈরী করেছে। অনুস্ঠানের পরিচলক বিএনপির ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে আলোচনায় অংশ গ্রহনের জন্যে ফোনে আহবান জানিয়েছিলেন। কিন্তু সিদ্দিকী সাহেব বললেন, উনি একজন ভুঁইফোড় রাজনীতিক। তার সাথে কি কথা বলবো। সিদ্দিকী সাহেব আরও বললেন, বিরোধী দল সংসদে আসলেই কি না আসলেই কি? জনগন আমাদের ভোট দিয়েছে সরকার চালাবের জন্যে। সংসদে বিরোধী দল থাকলে পত্রিকার জন্যে ভাল । তারা কিছু মুখরোচক খবর লিখতে পারবেন। এছাড়া সংসদে বিরোধী দলের কোন কাজ নেই। তিনি আরও বলেছেন, দেশর মানুষ স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিকে ভোট দিয়েছে দেশ চালাবের জন্যে। স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। মন্ত্রী মহোদয় হয়ত ভুলে গেছেন বিরোধী দল তিন কোটি ভোট পেয়েছে। আগামী নির্বাচনে সিদ্দিকী সাহেবের দল যদি হেরে যায় তাহলে কি বলা যাবে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি জিতে গেছে? এই প্রশ্নটার উত্তর সিদ্দিকী সাহেবের কাছে আছে কিনা জানিনা।

ঠিক এই সময়ে মনে পড়ছে সাহসী সাংবাদিক এনায়েত উল্লাহ খানের কথা। তিনিই তার বিখ্যাত সাপ্তাহিক হলিডেতে লিখেছিলেন ‘সিক্সটি ফাইভ মিলিয়ন কোলাবোরেটর।’ সময়টা ছিল ৭২-৭৫ সালের কথা। তখনও আওয়ামী লীগ গলা ফাটিয়ে প্রচার করছিলো তারা ছাড়া বাকিরা সব কোলাবোরেটর। তখন কান সাহেব ওই হেডিং দিয়ে একটা আর্টিকেল লিখতে বাধ্য হয়েছিলেন। আজও আওয়ামী নেতারা বলতে শুরু করেছেন তারা ছাড়া বাকি সব মানুষ স্বাধীনতা বিরোধী। এজন্যে দেশের মানুষ শংকিত। আওয়ামী লীগের বায়া দলিলটা মন্র্রী মহোদয়ের ভাল করে জানা নেই। তার দলের নামে কোথাও বাংগালিয়ানা নেই। আওয়াম শব্দটা উর্দু, আর লীগ শব্দটা ইংরাজী। শুরুতে এই দলের নাম ছিল আওয়ামী মুসলিম লীগ। মানে জনগনের মুসলিম লীগ। ১৯৪৯ সালে মুসলিম লীগের বাইরে নতুন নাম করণ করা খুবই কঠিন ছিল। মাওলানা ভাসানী বলতেন, আমাদের দল জনগনের মুসলিম লীগ। আর নুরুল আমিনেরটা সরকারী মুসলীম লীগ। এক সময় বংগবন্ধু নিজেই মুসলীম লীগের কর্মী ছিলেন। সেই সময়ে বংগবন্ধু কায়েদে আযম জিন্দাবাদ বলে শ্লোগান দিতেন।জিন্নাহ টুপি আর শেরওয়ানী পরে গৌরবান্বিত হতেন।এটা বোধ হয় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা ভাবতেও পারেন না।বংগবন্ধু জীবনের শুরুতে মুসলীম লীগ করতেন এটা কোন মন্দ ব্যাপার নয়। তখন মুসলীম লীগই ছিল মুসলমানদের একমাত্র রাজনৈতিক প্ল্যাটফরম। মেজরিটি হিন্দুদের রাজনৈতিক প্ল্যাটফরম ছিল কংগ্রেস। দুই দলের কোথাও সাধারন মানুষের তেমন কোন ভুমিকা ছিলনা।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ভারতের রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের প্রথম একশ’ বছর ছিল মুসলমানদের প্রতিরোধ সংগ্রামের ইতিহাস।তখন হিন্দুরা কোম্পানীকে সহযোগিতা করেছে। কথাটা আজ ভাল লাগুক বা না লাগুক এটাই হলো ইতিহাস। ১৮৮৫ সালে কংগ্রেস প্রতিস্ঠিত হয় একটা সমিতি হিসাবে। এর প্রধান ছিলেন একজন বৃটিশ। কংগ্রেসের কাজ ছিল বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের সাথে দর কষাকষি করা। বহু মুসলমান নেতা প্রথম দিকে কংগ্রেসের সাথেই ছিলেন। কিন্তু অধিকারের প্রশ্নে বনিবনা হয়নি। ১৯০৬ সালে সারা ভারতের মুসলমান নেতাদের উদ্যোগে ঢাকায় মুসলীম লীগ প্রতিস্ঠিত হয়। তখন এর নেতৃত্বে ছিলেন মুসলিম এলিট ক্লাশ। মুসলীম লীগের লক্ষ্য ছিল মুসলমানদের অধিকার ও সমস্যা নিয়ে বিদেশী সরকারের সাথে কথা বলা। সেই মুসলীম লীগই ১৯৪০ সালে লাহোরে পাকিস্তান প্রস্তাব উত্তাপন করে। তত্‍কালীন পূর্ববাংলার ৯০ ভাগ মানুষ পাকিস্তান প্রস্তাব সমর্থন করে।জিন্নাহ বলেছিলেন, পূর্ব বাংলার মানুষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির জন্যে পাকিস্তান প্রতিস্ঠা করা অপরিহার্য। সেই পূর্ব বাংলা বা পূর্ব পাকিস্তান আজ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।পাকিস্তানী শাসকদের অত্যাচার থেকে মুক্তির একমাত্র পথ ছিল স্বাধীনতা লাভ করা। বাংগালীদের লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতা। এ লক্ষ্যের যাত্রা শুরু হয়েছিল ভাষা আন্দোলন থেকেই। তারপরেতো আরও অনেক আন্দোলন। এক সময়ে সবচেয়ে বড় আন্দোলন ছিল অর্থনৈতিক শোষনের বিরুদ্ধে। পূর্ব পাকিস্তানের উপর পাকিস্তানী শাসক ও শোষকদের সকল ধরনের সীমা অরিক্রম করে গিয়েছিল। তারই প্রতিক্রিয়া ছিলো ৭০ এর নির্বাচনের ফলাফল। শোষনের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের জনগনের নিরন্কুশ রায়। এ রায়কেও পাকিস্তানের শামরিক জান্তা ও ভুট্টো বুঝতে পারেনি। তারা মনে করেছিল সামরিক শক্তি দিয়ে জনগণকে পরাজিত করবে। তারা ভাবেনি ভারত কি করতে পারে। ফলে যা হবার তাই হয়েছে। ১৬ই ডিসেম্বর রমনার মাঠে পরাজয়ের দলিলে স্বাক্ষর করেছে পাকিস্তানী জেনারেল নিয়াজী। বিজয়ী জেনারেল ছিলেন মিস্টার অরোরা। বাংলাদেশের প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। কেন তিনি বিজয়ের দলিল স্বাক্ষর অনুস্ঠানে  উপস্থিত ছিলেন না সে তথ্য আজও রহস্যাবৃত। সত্য মিথ্যা জানিনা, তবে শুনেছি পাকিস্তান বা ভারত  নাকি তাতে রাজী হয়নি। প্রশ্ন উঠেছে ৭১ সালের যুদ্ধটা কার সাথে কার হয়েছে। এটা কি বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের না ভারতের সাথে পাকিস্তানের? পাকিস্তানের পরাজয়ের দলিল স্বাক্ষরের পর ভারতের প্রয়াত প্রধান মন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী পার্লামেন্টে বলেছিলেন, ‘হাজার সাল কা বদলা লিয়া’। বাংলায় বলতে গেলে, হাজার বছরের প্রতিশোধ নিয়েছি। কিন্তু, কিসের প্রতিশোধ? কেন প্রতিশোধ? এখানেই আসে বায়া দলিল, লিন্ক টাইটেল বা ইতিহাস ইতিহ্যের কথা। ইন্দিরা গান্ধী, ভারতীয় গবেষক বা রাজনীতিকরা তাদের বায়া দলিল সম্পর্কে একশ’ভাগ সজাগ। সেই জাগরনের হিসাব থেকে ইন্দিরা গান্ধী বলেছেন হাজার বছরের ইতিহাসের কথা। তিনি ৭১১ সালের মুহম্মদ বিন কাশেমের সিন্ধু বিজয়ের কথা মনে রেখেই কথাটা বলেছেন। তিনি একশ’ভাগ ঠিক কথাটাই বলেছেন। এটাই হচ্ছে ভারতীয় নেতাদের জাতীয়তাবোধ।তারা সবাই জানেন তাদের ইতিহাস ঐতিহ্য হচ্ছে হিন্দিত্ববাদ এবং হিন্দুস্থান। কিন্তু আমাদের ঐতিহ্য এখনও নির্ণিত হয়নি। তাই আমাদের জাতীয়তাবোধ তৈরী হয়নি।

আমাদের এক শ্রেণীর নেতা শ্লোগান দেন, আল্লাহ সর্বশক্তিমান, পরম করুণাময় সর্বশক্তিমানের নামে শুরু করছি, জয় বাংলা। কারণ তারা মনে করেন আল্লাহ হু আকবর, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম আরবী শব্দ। এসব পবিত্র শব্দকে বাংলায় অনুবাদ করে বলতে হবে। বাংলা বললে তাদের রাজনীতি থাকেনা। মাননীয়া শেখ হাসিনা ওয়াজেদ নাকি নিয়মিত নামাজ পড়েন এবং কোরাআন তেলাওয়াত করেন। তখনও কি তিনি আল্লাহতায়ালার পবিত্র বাক্যগুলিকে বাংলা করে পড়েন? আমি এক হাজার ভাগ নিশ্চিত তিনি ওই পবিত্র বাক্য গুলো আরবীতেই পড়েন। আমার এক আওয়ামী বুদ্ধিজীবী বন্ধু বলেন, ধর্মের সাথে রাজনীতির মিশাল দিবেন না। রাজনীতির শ্লোগানের সাথে ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই। তাহলেতো বলতে হবে আপনাদের সকলের নাম বদলাতে হবে। আরবী নামের ভিতর সাম্প্রদায়িকতার গন্ধ থাকে।

৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের দলিল দস্তবেজ খুঁজতে গিয়েও আমাদের সরকারের কাছে কোন দলিল নাই। তারা বিচারের জন্যে খবরের কাগজ, জীবিত লোকের সাক্ষ্য নেয়ার চেস্টা করছেন। ওসব দলিল আছে পাকিস্তান আর ভারতের কাছে। ভারত সে সব তথ্য দিতে হয়ত রাজী হচ্ছেনা। কারণ পাকিস্তানের সাথে ভারতের বহু অমীমাংসিত বিষয় রয়ে গেছে। যেমন ভারত বাংলাদেশের সাথে আলাপ না করেই ১৯৫ জন যুদ্ধবন্দীকে ছেড়ে দিতে রাজী হয়েছে। যেমন ভারত বাংলাদেশ থেকে সৈন্য সরিয়ে নিয়েছে জাতিসংঘে চীনের ভেটোর কারনে। চীন বলেছিলো যতদিন বাংলাদেশের মাটিতে বিদেশী সৈন্য থাকবে ততদিন দেশটি স্বাধীন নয় এবং জাতিসংঘের সদস্য পদের জন্যে যোগ্য নয়। যেমন, বাংলাদেশের প্রথমবার ওআইসি সম্মেলনে অংশ গ্রহণ ভারত বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু বংগবন্ধু ভারতের অনুরোধকে উপেক্ষা করেই পাকিস্তানে গিয়েছিলেন অন্যান্য মুসলীম দেশের অনুরোধে। মুসলীম বিশ্বের অনুরোধেই পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তারপরেই ভুট্টো বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। যে তিনটি দেশ ৭১ সালে পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিল সেই তিনিটি দেশ হচ্ছে চীন আমেরিকা ও সউদী আরব। এখন তিনটি দেশই বাংলাদেশের পরম বন্ধু। যদিও অতি সম্প্রতি চীন মায়ানমার ও মুসলীম দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভাল যাচ্ছেনা। এটা বর্তমান সরকারের একটা বড় ব্যর্থতা।

বংগবন্ধু যদি আজ জীবিত থাকতেন তাহলে মুসলীম দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও আরও সুসংহত ও গভীর হতো। কারণ তিনি সব সময় নিজেকে একজন মুসলীম ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার মনে করতেন। আমরা যারা সাংবাদিকতা জীবনে তাঁর কাছাকাছি বা সান্নিধ্যে এসেছিলাম তারা জানি তিনি তিনি কত বেশী উদার এবং উষ্ণ হৃদয়ের মানুষ ছিলেন। তিনি কখনও কঠোর শাসক ছিলেননা। তাঁর উদারতার সবচেয়ে বেশী সুযোগ নিয়েছে বামপন্থী নেতা ও দলগুলো। তাঁকে ভুল বুঝিয়ে দেশের উন্নতির কথা বলে রাশিয়া ও ভারত গনতন্ত্রকে প্রত্যাখ্যান করে  এক দলীয় শাসন জারী করতে প্ররোচিত করেছিল। যা আওয়ামী লীগ পরবর্তিতে প্রত্যাখ্যান করেছে।

Ershad Mazumder, a poet writer & journalist

ershadmz40@yahoo.com

Read Full Post »


বায়া দলিল শব্দটার সাথে আমরা খুবই পরিচিত। এটা একটা ফারসী শব্দ। মোঘল আমলে থেকেই জমি জমার ব্যাপারে এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। জমি কিনতে গেলে জমির পিছনের ইতাহাস ভাল করে পরীক্ষা করতে হয়। সেই ইতিহাস শুদ্ধ হলেই জমি বেচাকেনা হয়। জমি বেচাকেনার ক্ষেত্রে এসব হলো আইনি বিষয়।এ গুলো মানতেই হবে। তাছাড়া এই সময়ে জমি জমার ক্ষেত্রে জাল জালিয়াতি বেড়ে গেছে। শুধু জমি জমার ক্ষেত্রেই নয়, এখন জাতির সবখানেই জাল জালিয়াতি চলছে।আমরা জানি বা না জানি সব সৃস্টির পেছনেই তার ইতিহাস বা দলিল আছে। সৃস্টির রহস্য জানার জন্যেই জিন রহস্য আবিস্কৃত হয়েছে। যেমন ধরুন আপনি বৈবাহিক আত্মীয়তা করবেন।তখন আপনি কি করেন? ছেলে হোক বা মেয়ে হোক তার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেস্টা করেন। কেন করেন? কারন আপনি জানতে চান যার সাথে আত্মীয়তা করছেন তার ভিত্তি কি রকম।

একটা জাতিরও বায়া দলিল থাকে। কারন চট করে একদিনে এক বছরে বা এক যুগে কোন জাতি গড়ে উঠেনা। জাতির একটা রাজনৈতিক সংজ্ঞা আছে। একটা জাতির নৃতাত্বিক ও সাংস্কৃতিক সংজ্ঞা আছে। যেমন আমরা বাংলাদেশীরা এখন একটা জাতি। আমাদের একটা ভৌগলিক সীমানা আছে, সেই সীমানায় একটা রাস্ট্র আছে। পৃথিবীর প্রায় সব রাস্ট্রই আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছে। আমাদের জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত আছে। আমাদের পাসপোর্টে জাতীয় পরিচিতিতে লেখা রয়েছে বাংলাদেশী। পৃথিবীতে বহু জাতি আছে যাদের কোন রাস্ট্র নেই। অনেক জাতি রাস্ট্র প্রতিস্ঠার জন্যে লড়াই করছে। শাসকদের কামান বন্দুকের গুলিতে প্রাণ হারাচ্ছে। সাম্প্রতিক ইতিহাস হলো আফগানিস্তান ও ইরাক। জাতিসংগের সকল নিয়ম নীতি ও সনদ লংগন করে আমেরিকা এই দুইদেশে সামরিক অভিযান চালিয়ে দখল করে নিয়েছে। সেখানে হাজার হাজার স্বাধীনতাকামী মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে।

সত্যি কথা বলতে কি আমাদের জাতীয় ইতিহাসের মুল দলিল এখনও বলা হয়নি লিখা হয়নি। তাই রাজনীতিবিদরা যার যেমন ইচ্ছা কথা বলে যাচ্ছেন। সবাই নিজেদের ইচ্ছামতো জাল দলিল বানাবার চেস্টা করে চলেছেন। এইসব ভুয়া দলিল আগামী দিনে আগামী প্রজন্ম মুছে দিবে। ৭১ সালে শুধু একটা মুক্তিযুদ্ধ দিয়েই আমাদের স্বাধীনতা আসেনি। এর পিছনে রয়েছে বহু বছরের রক্তাক্ত ইতিহাস। চলমান সময়ের দিকে তাকালে মনে হয় আওয়ামী লীগ আর বংগবন্ধু ছাড়া আমার স্বাধীনতার সুদীর্ঘ ইতিহাসে আর কিছু নেই। মনে হয় সবকিছু মুছে দিয়ে বলতে হবে বংবন্ধু ছাড়া এই হতভাগ্য জাতির আর কেউ নেই। নেই যেন নবাব সিরাজ উদ দৌলা, নবাব ওয়াজেদ আলী খান, বাদশাহ বাহাদুর শাহ জাফর, শের আলী খান, ক্ষুধিরাম, তিতুমীর, হাজী শরিয়ত উল্লাহ, পীর দুদু মিয়া, নবাব সলিম উল্লাহ,মাওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা ও সো্হরাওয়ার্দী। আমরা ভুলে গেছি ১৯০৬ সালের মুসলীম লীগ, ১৯৪৯ সালের আওয়ামী মুসলীম লীগ, ৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট আর ৭১ সালের জাতীয় কমিটি প্রতিস্ঠার কথা। আমরা যেন ১৭৫৭ থেকে সোজা ১৯৭১ সালে আসতে চাই। মাঝখানে আর কোন সময় নেই,কোন ইতিহাসও নেই। হাজার বছরের একমাত্র বাংগালী বংগবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। কোথায় গেল পাল সেন খিলজীরা? কোথায় গেল রবিন্দ্রনাথ আর নজরুলেরা।

আপনারা নিশ্চয়ই জানেন আমাদের বাংলা ভাষার দুই প্রধান কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ আর বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। কবি গুরু সম্পর্কে যা জানি তার সিকি ভাগও জানিনা বিদ্রোহী কবি সম্পর্কে। তার বিদ্রোহী কবিতা যারা পড়েছেন তারা সবাই জানেন ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে তিনি কি না করেছেন। জেলে গিয়েছেন। আর একটু পিছনের দিকে গেলেই জানতে পারবেন নজরুলের পূর্ব পুরুষ ছিলেন পাটনার প্রধান কাজী বা প্রধান বিচারক। ১৭৬৫ সালে ইংরেজ কোম্পানী পাটনা দখল করলে প্রধান বিচারপতি পাটনা থেকে পালিয়ে বর্ধমানের আসানসোলে এসে আত্ম গোপন করেন। সেই থেকেই কাজীদের পতন। ওই একই সালে কবিগুরুর পূর্ব পুরুষ নীলরতন ঠাকুর উড়িষ্যার দেওয়ানীতে আমিনগিরির চাকুরী পান। কবিগুরুর ব্যক্তিগত সচীব ও জীবনীকার প্রভাত কুমার বলেছেন, আমিনগিরির চাকুরী পেয়ে নীলরতন দু’পয়সা কামিয়ে নিলেন। কোম্পানী আমলে একজনের উত্থান আরেকজনের পতন। এটাই হলো ইতিহাসের বায়া দলিল।আমাদের গবেষকরা এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাননা। তারা মনে করেন এতে কবিগুরুকে ছোট করা হয়।

আমরা বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মানুষই জানিনা শের আলী খান লোকটা কে? আমরা জানি স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন কৃতী সন্তান ক্ষুদিরামের নাম। ভারতের বড়লাটকে মারা জন্যে বোমা মেরে ধরা পড়েছিলেন ক্ষুধিরাম। বৃটিশদের বিচারে তার ফাঁসী হয়েছিল। শের আলী খান একজন পাঠান স্বাধীনতার সৈনিক। তিনি ছিলেন আন্দামান দ্বীপের পোর্ট ব্লেয়ার কারাগারে বন্দী। বড়লাট লর্ড মেয়ো আন্দামান কারাগার সফরে গেলে শের আলী খান তাকে হত্যা করেন।দিনটি ছিল ৮ ফেব্রুয়ারী ১৮৭২ সাল। শের আলী খান তার জবানবন্দীতে বলেছিলেন তিনি এজন্যে অনুতপ্ত নন। কারণ তিনি কারাগারে বসেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সুযোগ পেলে একজন বিদেশীকে হত্যা করবেন। লর্ড মেয়োই একমাত্র বড়লাট যিনি নিহত হয়েছিলেন একজন স্বাধীনতা সৈনিকের কাছে। আমরা অনেকেই এ ঘটনা  জানিনা কারণ আমাদের কোন বায়া দলিল নেই।আমরা সঠিক ইতিহাসে বিশ্বাস করিনা। আমরা বলবো শের আলী খানতো আর বাংগালী নয়। মাঝে মাঝে শুনি নবাব সিরাজ উদ দৌলা বাংগালী ছিলেন না। তিনি কেমন করে স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা হন। পরলোকের বাসিন্দা, মরহুম বললাম না কারন তিনি তাতে বিশ্বাস করতেন না। মারা যাওয়ার পর তার শবযাত্রায় রবীন্দ্র সংগীত গাওয়া হয়। তিনি বলতেন, ইসলাম আরবের ধর্ম। এটা কেমন করে বাংগালীদের ধর্ম হয়।

আমরা আওয়ামী লীগের সঠিক ইতিহাসটাও রচনা করতে চাইনা। কারণ অনেকেই মনে করেন আসল ইতিহাস রচিত হলে  বংগবন্ধুকে বাংগালী জাতির হাজার বছরের নায়ক বলা যায়না। তাই বংগবন্ধুই আওয়ামী লীগের প্রতিস্ঠাতা। বংবন্ধু এক সময় মুসলীম লীগ কর্মী ছিলে একথা বললেও যেন গুণা্ হয়। আওয়ামী লীগের প্রতিস্ঠাতা সভাপতি মাওলানা ভাসানী আর প্রতিস্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হকের নাম আওয়ামী লীগ নিতে চায়না। নতুন প্রজন্মের আওয়ামী কর্মীদের এ ধরনের আরও বহু কথা জানানো হয়না। হয়ত বংবন্ধু জীবিত থাকলে এ অবস্থা হতোনা। আওয়ামী লীগের উপর শ্যামলী ঘোষ নামের একজন গবেষক একটি বই প্রকাশ করেছেন। এই গবেষণার জন্যে শ্যামলী ঘোষকে অর্থ যোগান দিয়েছে দিল্লীর জওহরলাল বিশ্ববিদ্যালয়। এই গবেষণা পুস্তকটিও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। পড়লে মনে হবে বংগবন্ধুই আওয়ামী লীগের প্রতিস্ঠাতা।

দেখুন না, স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে কত কেলেংকারীই চলছে।মেজর জিয়া যেন ওই ঘোষণা দিয়ে অপরাধ করে ফেলেছেন। আমরা যারা ওই সময়ে জীবিত ছিলাম প্রায় সকলেই মেজর জিয়ার ঘোষণার কথা ২৬/২৭ মার্চ শুনতে পেয়েছি। দিল্লী সরকারের বিভিন্ন দলিল দস্তাবেজে লেখা রয়েছে মেজর জিয়া বংগবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। বংগবন্ধু যতদিন জীবিত ছিলেন এ বিষয়ে কোন বিতর্ক হয়নি।ইদানিং শুনতে পাচ্ছি জিয়া পাকিস্তানের চর হিসাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছেন। বংগবন্ধু একজন মহান নেতা। তারই নামে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে।এ বিষয়ে কারো কোন দ্বিমত আছে বলে আমার মনে হয়না। কিন্তু কি কারণে জানিনা আওয়ামী লীগ জিয়াউর রহমানকে সহ্য করতে চায়না। জিয়াউর রহমান কখনই বংগবন্ধুর চেয়ে বড় নেতা নন। তিনি নিজে কখনই এমন কথা বলেননি। সময়ের প্রয়োজনে জিয়া সাহেব বার বার জাতির সামনে হাজির হয়েছেন। ঘটনা প্রবাহ তাকে টেনে জনতার সামনে নিয়ে এসেছে। ২৬।২৭ মার্চের আগে আমরাতো তার নামই শুনিনি। কিন্তু এই জাতির ইতিহাসে সাথে ভাগ্যই তাকে জড়িয়ে নিয়েছে। এখানে কোন জোর জবরদস্তি হয়নি। ৭৫ সালের ৭ নবেম্বর আমরা আবার রেডিওতে তার ভাষন শুনেছি। সময় ও পরিস্থিতি তখন তাকে ওই ভাষণ দিতে বাধ্য করেছে। এর পরে তিনি এ দেশের রাস্ট্রপতি হয়েছেন। রাজনীতিতে একটা নতুন চিন্তার জন্ম দিয়েছেন। তাহলো বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। কিন্তু আওয়ামী লীগ ও তাদের ঘরানার গবেষক ও বুদ্ধিজীবীরা মনে করেন আমাদের জাতীয়তা বাংগালী। এখন পৃথিবীতে প্রায় ৩০ কোটি বাংগালী আছেন। কিন্তু ১৫ কোটি বাংগালীর একটা স্বাধীন সার্বভৌম রাস্ট্র আছে। অন্য বাংগালীদের নিজস্ব কোন রাস্ট্র নেই। তারা কেউ ভারতীয় বাংগালী, কেউ পাকিস্তানী বাংগালী আর কেউ অন্যদেশী বাংগালী।পাকিস্তান আমলে আমরাও ছিলাম পাকিস্তানী বাংগালী। এখন  একমাত্র আমরাই হলাম বাংলাদেশী। আমাদের পাসপোর্টেও জাতীয়তার ঘরে লেখা রয়েছে বাংলাদেশী। এমন কি প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদের পাসপোর্টেও লেখা রয়েছে বাংলাদেশী। সবকিছু জেনে শুনে বুঝে আওয়ামী ঘরানার লোকেরা এ বিষয়ে তর্ক করতে ভালবাসে। ৪৭ সালেও পশ্চিম বাংলার জ্ঞানী গুণীরা অখন্ড স্বাধীন বাংলাদেশ চায়নি। ১৯০৫ সালে তারা পূর্ববংগ প্রদেশ গঠনের বিরোধীতা করেছেন। সে বিরোধিতায় আমাদের কবিগুরুও অংশ নিয়েছিলেন।কবিগুরু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিস্ঠারও বিরোধিতা করেছিলেন।

সময়ের ঘুর্ণিপাকে রবার্ট ক্লাইভ ও জগতশেঠ আমাদের বন্ধু হতে চলেছে। কোলকাতায় ক্লাইভ স্ট্রীটের নাম পরিবর্তন হয়নি। ঢাকায় মিন্টু রোডের নাম পরিবর্তন হয়নি। এমন কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লর্ড কার্জনের নাম জ্বল জ্বল করছে।মোম্বাইতে জিন্নাহর নাম পরিবর্তন হয়নি। তেমনি করাচীতে গান্ধীর নাম পরিবর্তন হয়নি। আমাদের এখানে নাম পরিবর্তনের কোন শেষ নেই।এইতো এই ক’দিন আগে বিজয় সরণীর একটি প্রতিস্ঠানে মাওলানা ভাসানীর নাম পরিবর্তন করে বংগবন্ধুর নাম জারী করা হয়েছে। অথচ মাওলানা সাহেব ছিলেন বংগবন্ধুর রাজনৈতিক গুরু বা ওস্তাদ।আমরা যদি আমাদের দেশ ও ইতিহাস নিয়ে এত হীনমন্যতা নিয়ে বাঁচতে চাই তাহলে দেখা যাবে দেশটার নাম পরিবর্তন হয়ে বংগভুমি হয়ে যাবে। যারা বংগভুমিতে বিশ্বাস করেন তাদেরও একটা যুক্তি আছে। মহাভারতকে যদি মহাকাব্য  ইতিহাস  ধর্মগ্রন্থ বা বায়া দলিল মনে করি   তাহলে দেশের নাম বংগভুমি হতে আপত্তি কোথায়? অখন্ড বাংলাদেশের নাম এক সময় বংগদেশ বা বংগভুমি ছিল। মহাভারতে বর্ণিত একজন রাজার নাম ছিল বলি। তার কোন সন্তান ছিলনা। তাই তিনি তত্‍কালীন রেওয়াজ অনুযায়ী সন্তান উত্‍পাদনের জন্যে একজন ঋষিকে প্রাসাদে আমন্ত্রন জানিয়েছিলেন। সেই ঋষির ঔরসেই পাঁচ রাজপুত্রের জন্ম হয়। তারাই হলেন অংগ বংগ কলিংগ সুম্ম ও ব্রম্ম। রাজপুত্র বংগ  আমাদের এই ভৌগলিক এলাকা শাসনের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তারই নামানুসারে দেশের নাম করা হয়েছে বংগদেশ। কিন্তু ঐতিহাসিকরা মহাভারতের এই তথ্যকে গ্রহন করেননি।এখন এই বাংলাদেশে কেউ যদি মনে করেন রাজপুত্র বংগই আমাদের বায়াদলিল তাহলে দেশের নাম বংগদেশ বা বংগবন্ধুদেশ হতে আপত্তি কোথায়?

Read Full Post »

আদালত অবমাননা


দৈনিক আমার দেশ এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে দেশের সর্বোচ্চ আদালত ছ’মাসের জেল দিয়েছেন। সাথে এক লাখ টাকা জরিমানাও করেছেন। ওই পত্রিকার সিনিয়ার রিপোর্টার নোমানকেও এক মাসের জেল দিয়েছেন। নোমানকে সরাসরি জেলারের কাছে সারেন্ডার করতে বলেছেন। ক’দিন আগে নোমানকে তার বন্ধুরা জেলগেটে পৌঁছে দিয়েছেন। এই দুইজন সাংবাদিক নাকি আদালত অবমাননা করেছেন। সর্বোচ্চ আদালতের মাননীয় বিচারকগন বিচারকালে বিষয়টাকে সেইভাবেই দেখেছেন। আদালতের ওই রায় নিয়ে দেশে বিদেশে নানা কথা উঠেছে। প্রতিদিন দেশে বিদেশে বহু সংগঠন মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবী করে চলেছেন। আদালত অবমাননার অভিযোগে এর আগে বাংলাদেশে কোন সাংবাদিককে এ ধরনের শাস্তি দেয়া হয়নি। আশে পাশের কোন দেশেও নাকি এমন রায় হয়নি।আমি বলবো,

‘বিচারক, তোমার বিচার করবে যারা

সেই জনতা আজ জেগেছে’

প্রশ্ন উঠেছে বিচারকের সমালোচনা বা রায়ের সমালোচনা আদালত অবমাননার পর্যায়ে পড়ে কিনা। আমার মনেও প্রশ্ন জেগেছে আদালত আর বিচারক সমার্থক কিনা। কিসে কেমন করে আদালত অবমাননা হয় তা আজও সুস্পস্ট হয়নি। সব সময় দেখা গেছে মাননীয় বিচারকগন মনে করেছেন আদালতের অবমাননা হয়েছে। অথবা কেউ অবমাননার বিষয়ে বিচারকদের দৃস্টি করেছেন। সাংবাদিকতা করতে গিয়ে আমি জীবনে বহুবার আদালত অবমাননার মামলায় পরেছিলাম। ৮০ সালে জুমাতুল বিদার দিন সকাল দশটায় পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করে আদালতে চালান দেয়। এটা ছিল মানহানির মামলা। যে পুলিশ অফিসার আমাকে গ্রেফতার করতে এসেছিলেন তাকে বললাম আজতো ছুটির দিন। এখন কোথায় নিয়ে যাবেন? তিনি বললেন, বিশেষ ব্যবস্থায় আদালত বসবে। ওইদিন আরও গ্রেফতার হয়েছিলেন সম্মানিত জহুর হোসেন চৌধুরী, অলি আহাদ। ইফতারের একটু আগে আদালত থেকে জামি পেয়েছিলাম। মানহানির মামলা করেছিলেন সে সময়ের শ্রম মন্ত্রী আতাখান সাহেব। তাঁরই তদবীরের কারনে জুমাতুল বিদার ছুটির দিনেও আমাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। মনে হয় ৬৬/৬৭ সাল হবে আমার বিরুদ্ধে সুয়োমোটো আদালত অবমাননার মামলা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল আমি আদালতের রায়ের ভুল ব্যাখ্যা করেছি। তখন আমার বয়স ২৬/২৭ এর বেশী নয়। অতসব কিছু বুঝতাম না। আমার বন্ধু ব্যারিস্টার মওদুদ সাহেবের কাছে এলে তিনি সাহস দিয়ে বললেন ঘাবড়াবার কিছু নেই।মাফ চাইলেই আদালত মাফ করে দিবেন। সেবার মাফ চেয়ে রেহাই পেয়েছিলাম।আমার এমনও সময় গেছে আমি মামলা চালাবার জন্যে কোন উকিল পাইনি। এসব হলো প্রাসংগিক কথা।

মাহমুদুর রহমান সাহেবকে আমি খুবই সম্মান করি। তিনি চলমান সময়ের একজন বীর কলম সৈনিক। তিনি আমার বা আমাদের মতো নন। আমরা যারা নিজেদের পেশাদার সাংবাদিক বলি সত্যি কথা বলতে আমাদের কোন স্বাধীনতা নেই। একদিকে সরকার,অন্যদিকে ডাল চাল তেল নুনের ব্যবসায়ী পত্রিকার মালিক সাহেবেরা। কিছুদিন আগে পূর্তমন্ত্রী আবদুল মান্নান সাহেব বলেছিলেন ভুমি দস্যুদের কাগজ বর্জন করুন। সত্যিই ইদানিং বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী পত্রিকা বের করেছেন নিজেদের কায়েমী স্বার্থ রক্ষা করার জন্যে। নামী দামী ডাকসাইটে  সাংবাদিকরা এসব কাগজে কাজ করেন এবং ওসব মালিকের জন্যে দেন দরবার করেন। পুরোনো জামানায় রাজনীতিক ও আইনজীবীরা আদর্শ প্রচারের জন্যে কাগজ বের করতেন। এখন পত্রিকা গুলোর তেমন কোন আদর্শ নেই। ধরুন, আমি একটা কলাম লিখতে চাই। কিন্তু কোথায় লিখবো? নয়া দিগন্ত আর আমার দেশ ছাড়া আমার লেখা আর কেউ ছাপতে চায়না। কারন জানিনা। এখন সাংবাদিকরা বিভক্ত। দুটো ইউনিয়ন। অনেক নেতা।

এমনি একটা সময়ে মাহমুদুর রহমান তার সাহসী লেখনীর জন্যে জেলে আছেন একজন সাধারন কয়েদীর মতো। তিনি আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেননি।আদালতে তিনি নিজেই নিজের কথা বলেছেন। আদালত তাঁর কথায় সন্তুস্ট হতে পারেননি। তাই তাঁর সাজা হয়েছে। আমাদের জাতীয় কবি নজরুলের  জবানবন্দীর কথা  আজ আমার বার বার মনে পড়ছে। সাংবাদিকতার জন্যেই তত্কালীন আদালত তাঁকে শাস্তি দিয়েছে। নজরুল আদালতের কাছে ক্ষমা চাননি। সে আদালত ছিল পরাধীন দেশের আদালত। এখন আমাদের একটা রাস্ট্র আছে, পতাকা আছে, জাতীয় সংগীত আছে। কিন্তু আইনটা রয়ে গেছে সেই পুরোণো আমলের। মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা হলেও এখন মত প্রকাশ করা যায়না।কথা বললেই মামলা হয়ে যায়। তবু বলতে হয় আদালত স্বাধীন, আমরা স্বাধীন। জাতীয় সংসদে বেশী সিট পেলেই একটা দল যা ইচ্ছে তাই করতে পারে। সেই একদলীয় সংসদের কথাই দেশের আইন। বিরোধী দল ভোট পেয়েছে তিন কোটির উপরে। কিন্তু সংসদে তেমন সিট পায়নি। এই তিনকোটি ভোটারের তেমন কোন দাম নেই। তিন কোটি মানুষের কথা শোনার কেউ নেই। এটাই হচ্ছে এখন বাংলাদেশের গনতন্ত্রের নমুনা।

রাস্ট্র ব্যবস্থার এমন হাল হকিকত দেখে আমার সক্রেটিসের বিচারের কথা মনে পড়ছে। মহাজ্ঞানী সক্রেটিসের জবানবন্দীও আমরা পড়েছি। সে সময়ের আদালত সক্রেটিসকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছিলো। সেই মৃত্যুদন্ডকে মেনে নিয়ে তিনি হ্যামলক পান করেছিলেন। তিনি ইচ্ছা করলে দেশত্যাগ করতে পারতেন । তার সে সুযোগ ও সুবিধা ছিল। তিনি বলেছিলেন তিনি যদি পালিয়ে যান তাহলে সত্যের পরাজয় হয়। সত্যের পালিয়ে যাওয়া হয়।সক্রেটিস একজন আদর্শবাদী অতি দরিদ্র ব্যক্তি ছিলেন।জ্ঞান ছাড়া তার আর কোন সম্পদ ছিলনা। এমন একজন দরবেশ মানুষকে রাস্ট্র সহ্য করতে পারেনি। তাকে মেরে ফেলতে হলো। আজ আড়াই হাজার বছর পরেও আমরা এই মহান পুরুষকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। কিন্তু সেই সকল বিচারক আর শাসকদের কথা কেউ মনেও রাখেনি।

মহান সুফী সাধক আল্লাহ প্রেমিক মনসুর হাল্লাজকেও শাসক ও শরিয়া আদালত মৃত্যুদন্ড দিয়েছিল।তখন শাসক এবং আদালত ও আলেম সমাজ হাল্লাজের মৃত্যুদন্ডকে সঠিক মনে করেছিলো। এখন সবাই মনে করেন সেই দন্ডাদেশ ভুল ছিল। তত্‍কালীন শাসক ও শরীয়া আদালত কেন এমন কঠোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। কারন তারা হাল্লজের কথা বুঝতে পারেনি। হাল্লাজ রাস্ট্রের বা খেলাফতের জন্যে কোন হুমকি ছিলেননা। হাল্লাজ বলেছিলেন ‘ আমিই সত্য ’। আনা আল হাক। তিনি কখনই বলেননি আমিই খোদা। তিনি খোদায়ী দাবী করেছেন বলে অভিযোগ এনে তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছিল।

কি অপরাধ ছিল ইমামে আজম হজরত আবু হানিফা (রহ)। তিনি আজও বিশ্ব মুসলিম হানাফী মজহাবের নেতা। এত বড় ফকী আজও জন্ম গ্রহণ করেননি। তাঁকেও প্রাণ দিতে হয়েছে ক্ষমতার রোষানলে পড়ে। তত্‍কালীন খলিফার সাথে মতবিরোধের কারনে ইমামে আজমকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি বিমা বিচারে জেলে ছিলেন আট বছরের চেয়েও বেশী সময়। এবং তিনি জেলেই ইন্তিকাল করেন। ইমামে আজমের শতশত ফতোয়া মুসলিম বিশ্বের সকল মজহাবের কাছে আজও সম্মানিত। এমন একজন মানুষের সাথে খলিফার কি বিরোধ ছিল? এই বিরোধ ছিল সত্য এবং মিথ্যার। ইমামে আজম সত্যের জন্যেই প্রাণ দিয়েছেন।আমি এ রেফারেন্স গুলো উল্লেখ করেছি ইতিহাসের পাতা থেকে। রাস্ট্র এবং শাসকগণ সব সময়ই সত্যের গলা টিপে হত্যা করতে চায়। সত্যের যে মরণ হয়না তা তারা জেনেও ক্ষমতার দম্ভে উন্মাদ থাকতো। বিশ্বের সবখানে সে অবস্থার তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি। গুয়ান্তনামে কারাগারের কথাই চিন্তা করুন। কার বিচার কে করছে?

মাহমুদুর রহমান সম্পর্কে বলতে গিয়ে আমি এ কথাগুলো বলেছি। অনেকে বলবেন মাহমুদুর রহমান তেমন কোন মহত্‍ ব্যক্তি নন তাঁর অবস্থার সাথে মহাণ ব্যক্তিদের তুলনা করা যায়। না, আমি তুলনা করিনি। শুধু সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছি যে দন্ড দিয়ে কোন কালেই সত্যকে হত্যা করা যায়না। সত্য কোন কাল বা সময়ের সাথে জড়িত নয়। সত্য কোন আইন নয় যাকে আদালত ব্যাখ্যা বিশ্লেশন করতে পারেন। সত্যকে পরিবর্তন পরিমার্জনও করা যায়না। আদালত বা বিচার ব্যবস্থা নিয়ে যুগ যুগ ধরে মানুষ আলোচনা করে আসছে। আগামীতেও করবে। সময় পরিবেশ আর প্রয়োজনে  রাস্ট্র ও শাসকরা  আইনের পরিবর্তন করে মানুষের কল্যানের নামে। সেই আইনের যাতাকলে সাধারন মানুষের শাস্তিও হয়।

এইতো ধরুন ক’দিন আগে মাননীয় রাস্ট্রপতি সরকারের অনুরোধে ফাঁসির আসামীকেও ক্ষমা করে দিয়েছেন। এর প্রতিক্রিয়াও ইতোমধ্যে দেশের সজ্জন ব্যক্তিরা প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেছেন রাস্ট্রপতির সিদ্ধান্ত আদালতের রায়ের সাংঘর্ষিক। এ প্রশ্নে আদালত ও রাস্ট্রপতি উভয় প্রতিস্ঠানই বিতর্কের কাছে চলে গেছেন। দেশী বিদেশী বহু ব্যক্তি ও প্রতিস্ঠান মাহমুদুর রহমান সাহেবের মুক্তি চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। অনেকেই আদালতকে অনুরোধ করেছেন রায় পুণর্বিবেচনা করতে। আমি এর কিছুই করবোনা। সরকার যেভাবে পুলিশ পাঠিয়ে মাঝরাতে ধস্তাধস্তি করে মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করেছেন তাতে সরকারের মনোভাব স্পস্ট হয়ে গেছে। এর পরেও সরকারের নির্দেশে পুলিশ আরও অনেক গুলো মামলা করেছে তার বিরুদ্ধে। মাহমুদুর রহমান সাহেব আদালতের কাছে ক্ষমা চাননি। তিনি তার চিন্তা ও লিখাকে সঠিক মনে করেছেন। কিন্তু আদালত মনে করেছেন মাহমুদুর রহমান ঠিক করেননি। এ ক্ষেত্রে আদালত আর সরকারের মনোভাব একই ছিলো। সরকারও চেয়েছিলেন মাহমুদুর রহমানের শাস্তি হোক। এমনও হতে পারে ছ’মাসের দন্ড শেষ হবার পরেও সরকার তার বিরুদ্ধে আরও অনেক মামলা রুজু করবে। তখনও হয়ত মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারের আক্রোশ কমবেনা।তাই আমি মাহমুদুর রহমানের মুক্তি চেয়ে সরকারের কাছে ভিক্ষা চাইবোনা। এইতো ক’দিন আগে মহামান্য রাস্ট্রপতি  আওয়ামী কর্মী বলে পরিচিত বেশ ক’জন ফাঁসীর আসামীকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।মুক্তি প্রাপ্ত ওই দলীয় কর্মীদের মন্ত্রী মহোদয় ফুলের মালা দিয়ে সম্বর্ধনা দিয়েছেন। তিনি ক্ষমা করতে পারেন বলেই খুঁজে বেছে ফাঁসীর আসামীকেই ক্ষমা করলেন। এমনি একটি রাস্ট্রে সত্যকথা লেখার জন্যে মাহমুদুর রহমান জেলের সাজা ভোগ করছেন।

আমার দেশ এ প্রকাশিত ১৪/০৯/১০

Read Full Post »


সেনা সমর্থিত ১/১১র ফকরুদ্দিন-মইনুদ্দিনের তথকথিত কেয়ারটেকার সরকারের আমলেই রাস্তা থেকে বলছি কলামটি লিখতে শুরু করেছিলাম। ২৫ বা ২৬টি কলাম লিখার পর কলামটি আর লিখিনি। প্রথম দিকে লিখার মতো তেমন কেউ ছিলনা। সেই সময়ে কঠোর সত্যকথা লিখে দেশবাসীর ভালবাসা পেয়েছিলেন প্রিয় কলামিস্ট ফরহাদ মজহার আর মাহমুদুর রহমান।  আমার মতে ১/১১র  অবৈধ সরকারের আমলে তাদেরই সহযোগিতায়  নির্বাচিত চলমান সরকারের সময়েও তাদের জনপ্রিয় কলাম গুলো অব্যাহত রেখেছেন। আমি নানা কারনে লেখা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। পত্রিকা থেকে অনুরোধ পাওয়ার পরেও লিখবো লিখবো করে লিখা হয়ে উঠেনি। কিন্তু এখন আর চুপ থাকতে পারছিনা। চারিদিকে যা ঘটছে তাতে কোন মানুষের পক্ষেই চুপ থাকা সম্ভব নয়। তথাকথিত নির্বাচিত সরকারের দেড় বছর পার হতে চলেছে। তারা ব্যস্ত আছেন মামলা আর হামলা নিয়ে। আদালত পড়ায় গেলে কিছু মানুষ পাওয়া যাবে যারা সারা জীবন মামলা মকদ্দমা করে সময় কাটিয়েছেন। এদের আর্থিক অবস্থা মোটামুটি ভাল। এসব মানুষকে আদালত পাড়ায় উকিল মুহুরী টাউট টন্নি দালাল ফড়িয়া সবাই চিনে। এসব মানুষ নিজের জমি জমা বিক্রি করে অন্য মানুষের ক্ষতি করার জন্যে জীবন কাটিয়ে দেয়।

সেনা সমর্থিত কেয়ার টেকার কর্তৃক নির্বাচিত চলমান সরকারের অবস্থাও মামলাবাজ ব্যক্তিদের মতো। মাথায় হাজারো রকমের মামলা। ছোট আদালত আর বড় আদালত যেখানেই যাবেন সবখানে শুধুই মামলা। লোকে বলে এটা একটা মামলাবাজ সরকার। এতো গেলো মামলা আর হামলার কথা। ছাত্রলীগ আর যুবলীগের সোনার ছেলেদের জ্বালায় সরকার একেবারেই কাহিল হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ একবার রেগে মেগে বললেন তিনি আর ছাত্রলীগের পৃষ্ঠপোষক বা উপসেস্টা থাকবেনা। তিনি ভেবেছিলেন এতে কাজ হবে। কিন্তু তা হয়নি। ছাত্রলীগ কর্মীরা ভেবেছে এটা তাদের নেত্রীর অভিমান। একদি সব ঠিক হয়ে যাবে। আর তাছড়া মা’তো ছেলেদের উপর অভিমান করতেই পারে। ছেলেরাতো খারাপ কোন কাজ করছেনা। তাদের কাজতো এক ধরনের ব্যবসা বাণিজ্য আর অর্থনেতিক কাজ কারবার। দেশের আইন হয়তো এ ধরনের কাজ এখনও অনুমোদন করেনা। ২০২১ সালের আগে মহাজোট ক্ষমতায় থাকলে ছিনতাই টেন্ডারবাজি নিশ্চয়ই আইন সিদ্ধ হয়ে যাবে। সোনার ছেলেদের হাতে যদি কিছু টাকা পয়সা না আসে তাহলে দলের জন্যে খরচ করবে কোথা থেকে। এখনকার দিনে ছোটখাট মিছিল বা মানব বন্ধন করতেই দশ বিশ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। প্রতিদিনতো নেতাদের কাছে টাকা চাওয়া যায়না। মহাজোট সরকার তাই অনেক চিন্তা ভাবনা করে ছেলেদের কল্যাণার্থে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাহলো ছোটখাট কাজের জন্যে এখন থেকে ঠিকাদার হিসাবে কোন ধরনের তালিকাভুক্তি লাগবেনা। পাবলিক নোটিশ বা কাগজে বিজ্ঞপ্তি দেয়া লাগবেনা। ছেলেরা কাজ ভাগ বাটোয়ারা করে নিতে পারবে। ছেলেদের আর টেন্ডার ছিনতাই করতে হবেনা। এপরেও ছেলেদের নিজেদের মধ্যে মারামারি গোলাগুলি চলতে থাকলো। যাদের কাছে অস্ত্র বেশী তারা একটু বেশী ভাগ চায়। অনেক সোনার ছেলে আছে যারা কাজ না করেই টাকা চায়।এ কারনেই ছাত্রলীগের ভিতর কোন্দল ও মারামারি লেগে আছে। এটা প্রধানমন্ত্রী থামাতে পারছেনা। এখন তিনি এ নিয়ে কোন কথা বলেননা।চলমান আওয়ামী রাজনীতির এটা হলো একটা চিত্র।

অপরদিকে দলের সিনিয়র নেতা বা মুরুব্বীরা বেকার বসে আছেন। সারা জীবনের অভিজ্ঞতা এখন তাদের কোন কাজে লাগছেনা। অনেকেই বলেছিলেন, ভোলার আসন পাওয়ার পর তোফায়েল সাহেবের ভাগ্য প্রসন্ন হবে। দুয়েকটা কাগজে কিছু আভাসও বেরিয়েছিল। তোফায়েল সাহেবও আনন্দে কয়েকদিন ফুরফুরে ছিলেন। এখ তাকে আর দেখা যাচ্ছেনা। আরেকজন প্রবীন নেতা সুরু বাবু। সাকা চৌধুরী যে ঢংয়ে কথা বলেন সুরু বাবুও সেই ঢংয়ে কথা বলেন। তিনি এখন গনতন্ত্রের মানসকন্যাকে খুশী করার জন্যে যখন যা ইচ্ছে তাই বলে যাচ্ছেন। রাজনীতির অভিনয়ে তিনি এখন বেগম মতিয়া চৌধুরী আর কামরুল ইসলামের অনেক পেছনে পড়া গেছেন। মনে হয়না তিনি এই খিস্তি খেউরের একশ’ মিটার দৌড়ে এই দুইজনকে আর পেছনে ফেলতে পারবেন। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে তিনি আর পারবেন না।এসবতো হলো আওয়ামী রাজনীতির ভিতরের ব্যাপার। নেত্রী নিশ্চয়ই এসব সামলিয়ে উঠতে পারবেন।

কিন্তু সম্প্রতি মিডিয়া নিয়ে সরকার যা করছেন তা শেষ পর্যন্ত সামাল দিতে পারবেন কিনা তা এখন দেখার বিষয়। দেশ বর্তমানে নব্বই ভাগ মিডিয়া সরকারের পক্ষে। তারপরেও সরকার কেমন যেন বেচায়েন হয়ে গেছেন। অনেক কিছুই সহ্য করতে পারছেননা। ইতোমধ্যে একটি টিবি চ্যানেল বন্ধ করে দিয়েছেন। ওই চ্যানেল সরকারের বিরোধিতা করতো বলে মনে হয়না। তবুও একটা ছুঁতা দাঁড় করিয়ে চ্যানেলটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।ফলে কয়েকশ’ মিডিয়া কর্মী বেকার হয়ে গেছে। চ্যানেল মালিক সাংবাদিকদের বেতন দিচ্ছেন বলে মনে হয়না। অপরদিকে সরকারের সমর্থক বা আওয়ামী রাজনীতিতে বিশ্বাসী যমুনা টিভি চলতে গিয়ে চলতে পারলোনা। হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলো।  যমুনা টিভির মিডিয়া কর্মীরাও বেকার বসে আছেন। জানিনা তারা বেতন পাচ্ছেন কিনা। হয়ত কোন কারনে যমুনার মালিকের উপর প্রধান মন্ত্রী নাখোশ হয়ে আছেন।

ক’দিন আগে সরকার আমাদের দেশ বন্ধ করে দিয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে জংগী কায়দায় গ্রেফতার করেছন। আমার দেশ এর প্রেসে তালা লাগিয়েছেন। রিমান্ডে নিয়ে মাহমুদের উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। নির্যাতনের বিশদ বিবরন মা্মুদ নিজেই আদালতে দিয়েছেন। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্বেও তাকে বারবার রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে।দেশে বিদেশে মাহমুদের মুক্তির দাবীকে সরকার অগ্রায্য করে চলেছে। কাগজ বন্ধের ডিসির নির্দেশ উচ্চ আদালত স্থগিত করেছেন। কিন্তু সেই নির্দেশ মানা হচ্ছেনা। সাংবাদিকরা কাগজ বের করার চেস্টা করছেন। সেখানেও বাধা দেয়া হচ্ছে। তেজগাঁ থানা এখনও প্রেসে তালা ঝুলিয়ে রেখেছে। ডিসি অফিস বলছে, তারা প্রেসে তালা লাগাননি। থানা বলছে,উপরের নির্দেশে তারা প্রেস খুলে দিতে পারছেননা। ইতোমধ্যে সকল শ্রেণীর মানুষ মাহমুদুর রহমানের মুক্তি চেয়েছে। বিরোধী দলীয় সংসদ নেত্রী খালেদা জিয়া মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তিনি এ ব্যাপারে সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন। কদিন  আগে বাংগালীদের স্বাধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তি আন্দোলনের একমাত্র ইংরেজী কাগজ বন্ধ হয়ে গেছে। বেকার হয়ে গেছে কয়েকশ’ সাংবাদিক কর্মচারী।

এর আগের বার ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ ট্রাস্টের পত্রিকা গুলো বন্ধ করে দিয়ে কয়েকশ’ সাংবাদিককে বেকার করে দিয়েছে। তাদের অনেকেই আজও বেকার। আওয়ামী লীগকে আমরা ছাত্র বয়স থেকে দেখে আসছি। বিরোধী দলে থাকলে লগী বৈঠার আন্দোলন করে। বাসে আগুন লাগায়। অবিরাম সংসদ বর্জন করে।নির্বাচনের আগে বলে দশ টাকা দরে চাল দিবো, গরে ঘরে চাকুরী দিবো, কৃষকদের বিনে পয়সায় সার দিবো। ক্ষমতায় গিয়েই সাফ বলে দিলেন, না আমরা এসব কথা বলিনি। এসব বিরোধী দলের মিথ্যাচার। হাজার বছরের একমাত্র বাংগালী বংগবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান সারাজীবন গনতন্ত্রের জন্যে লড়াই করেছেন। কিন্তু ক্ষমতা পেয়ে তিনি আর গনতন্ত্রী থাকতে পারলেন না। তিনি একদলীয় রাজনীতি চালু করলেন। সব কাগজ বন্ধ করে দিলেন। বংগবন্ধু বোধ হয় ভাবতেন তিনি যখন দেশকে ভালবাসেন তখন অত দলের কি প্রয়োজন। অত কথার কি প্রয়োজন। সিপিবিওয়ালরা তাঁকে দিয়ে একাজটি করিয়েছেন। ২৯৩ টি সংসদ সিট নিয়ে বংগবন্ধু নিজেকে নির্বাচিত ঘোষনা করেছিলেন। এরপরেও তিনি ভিন্নমতের দুয়েকটা কথা বা শব্দ সহ্য করতে পারেননি। ৭৩ সালেই তিনি তাঁরই ছেলেদের দ্বারা  প্রকাশিত কাগজ গণকন্ঠ প্রেস আইনের কথা বলে বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সরকারী ট্রাস্টের কাগজ দৈনিক বাংলা তখন সামান্য কি যেন একটা দোষ করেছিল তাতেই বংগবন্ধু ক্ষ্যাপে গিয়ে ওই কাগজের সম্পাদককে বরখাস্ত করে দিয়েছিলেন। অবশ্য পরে তিনি ওই সম্পাদককে চাকুরী দিয়েছিলেন। বংগবন্ধু হয়ত মনে করেছিলেন একদলীয় শাসন হলে বাংলাদেশ সোনার দেশে পরিণত হবে। কিন্তু খোদার ইচ্ছা ছিল অন্যরকম।

আওয়ামী লীগ এবার মহাজোটের ব্যানারে ক্ষমতায় এসেছে ২৬৩ সিট নিয়ে। এবারের সংসদে বিরোধী দল একেবারেই দূর্বল। সংসাদের তাদের কোন পাত্তাই নেই। তাই তারা বেশীর ভাগ সময় সংসদের বাইরেই থাকে। জনগন আশা করেছিল আওয়ামী লীগ বিরোধী মত আর বিরোধী দলকে একটু বেশী গুরুত্ব দিবে। না, জনগনের সে আশা পূর্ণ হয়নি। কারন আওয়ামী লীগ কখনই বিরোধী মতকে সহ্য করতে পারেনা। সরকারে গেলেই মনে করে দেশে আর কোন মত বা দল নেই। বিরোধী মতের একটি মাত্র কাগজ আমার দেশ সেটাকেও চলতে দিলনা। জবরদস্তি কাগজটা বন্ধ করে দিয়েছে। সম্পাদককে গ্রেফতার করে অকল্পনীয় নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে।

Read Full Post »


 

 

            সোজা সাফটা  ২ / এরশাদ মজুমদার

                                                                             

 

বিদ্যুত সাশ্রয় করার জন্যে সরকার এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে। তা হলো ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে দেয়া। ১৯শে জুন রাত এগারোটার সময় ঘড়ির কাঁটাকে এগিয়ে বারটা করে দেয়া হবে। এর মানে হচ্ছে বর্তমান সময় সকাল আটটার সময় ঘড়িতে সকাল ন’টা দেখা যাবে। বিকেল তিনটার সময় ঘড়িতে বিকেল চারটা দেখা যাবে। পৃথিবীতে বহুদেশ নাকি এধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে প্রয়োজনের সময়। এর বেশীর ভাগ দেশই হচ্ছে পশ্চিমের। যেখানে একশ’ ভাগ লোক শিক্ষিত। এসব বিষয়ে কথা বললে আওয়ামী ঘরানার বন্ধুরা বলেন বর্তমান সরকার ডিজিটাল সরকার। অত সহজে সবকিছু বুঝবেন না। এক বন্ধু কৌতুক করে বলছেন ডিজিটাল মানে হচ্ছে (digit + AL).ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে নেয়ার ব্যাপারেও সরকার একটা ঝামেলায় পড়বে। বিশেষ করে নামাজ রোজার সময় নিয়ে। অনেকেই বলছেন, অফিসের সময় এক ঘন্টা এগিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হতো।

উন্নয়ন ছাড়া বাকী সব বিষয়ে সরকারের আগ্রহ বেশী। যেমন, যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার, ২১শে আগস্টের বিচার, উদীচির বিচার,খালেদা জিয়ার দুই ছেলের বিচার, খালেদা জিয়ার বাড়ির বিচার, পঞ্চম সংশোধনী বিচার। এসবতো গেলো বিচারের কথা। সমস্যা আছে হাজারো। সেকুলার শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা, ধর্মীয় শিক্ষাকে আধুনিক করা, মাদ্রাসা ছাত্রদের জংগী সাব্যস্ত করা, টিপাইমুখ বাঁধ সমস্যা, ফারাক্কার পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়া, চীন ও মায়ানমারের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন না করা। সম্প্রতি দাউদ ইব্রাহিমের সাথেও জড়িয়ে পড়া। আওয়ামী লীগ মনে করে এগুলোই তাদের জন্যে আসল কাজ। সব গুলো কাজেই ভারত খুশী আছে বলেই মনে হয়। ৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার জন্যে আওয়ামী লীগ উঠে পড়ে লেগেছে। চলমান সংবিধানে তাদের কি অসুবিধা তা বুঝতে পারছিনা। বা তাদের লাভ কি তাও বুঝতে পারছিনা। ২৬৩ সিট পেয়ে মনে হয় তারা দেশের সবকিছুকে ওলট পালট করার ম্যান্ডেট পেয়ে গেছে। সরকার মনে করছে দেশে কোন বিরোধী দল নেই। থাকলেও তাদের কিছু করার ক্ষমতা নেই।  আওয়ামী লীগ হয়ত  ভুলে গেছে, , ২৯শে ডিসেম্বরের অগ্রহণীয় বির্বাচনে বিএনপিও তিন কোটির উপরে ভোট পেয়েছে। যে অবস্থা এখন চলছে তাতে গণতন্ত্রের ভবিষ্যত নিয়ে আশাবাদী হওয়ার কোন কারন দেখতে পাচ্ছিনা। বাজেট সংসদে বিরোধীদল উপস্থিত ছিলনা। সরকারী দলের ব্যবহার দেখে মনে হচ্ছে বিরোধীদল ছাড়াই সরকার মেয়াদ কাল পার করতে চায়। ভারতীয় কাগজে ছাপা হয়েছে বাংলাদেশ সরকার আসামের স্বাধীনতাকামী গ্রুপ

উলফার সামরিক শাখার প্রধান পরেশ বড়ুয়াকে গ্রেফতার করেছে। এর আগেই ভারতীয় কাগজেই ছাপা হয়েছিল বাংলাদেশে ভারতের মিত্র সরকার প্রতিস্ঠিত হওয়ায় পরেশ বড়ুয়া চীন পালিয়ে গেছে । ভারতের কাগজগুলো এসব সংবাদ পায় ভারতের সরকারের কাছ থেকেই। বাংলাদেশ সরকারও অনেক সময় ভারতকে এসব সংবাদ আগে ভাগেই সরবরাহ করে থাকে। পরেশ বড়ুয়ার গ্রেফতারের খবর বাংলাদেশ সরকার এখনও দেশী কাগজকে জানায়নি। দশ ট্রাক অস্ত্রের সাথে উলফা,দাউদ ইব্রাহিম,চীন ও মায়ানমারকে জড়িয়ে দেয়ার জন্যে ভারতে গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশের গোয়েন্দা বাহিনী গুলোকে ব্যবহার করার চেস্টা চালাচ্ছে বলেও গুজব রয়েছে। এ অন্চলে ভারতকে ঘিরে মায়ানমার ও চীনের ভিতর গভীর বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। পাকিস্তানের সাথেও চীনের গভীর বন্ধুত্ব রয়েছে। সম্প্রতি কাগজে ছাপা হয়েছে ভারত চীন সীমান্তে ৬০ হাজার সৈন্যের সমাবেশ করেছে। হঠাত্‍ ভারত কেন এই সমাবেশ করলো তা এখনও আমরা জানতে পারিনি। চীন বলেছে যুদ্ধ হলে ভারতের কি অবস্থা হবে ভারত হয়ত তা অনুধাবন করতে পারছেনা। ভারতের সাথে চীন ও মায়ানমারের তেমন সুসম্পর্ক নেই একথা বিশ্বব্যাপী সবাই জানে। শুধু বাংলাদেশ হয়ত জানেনা।

ভারত সব সময় চায় বাংলাদেশে তাদের মিত্র সরকার প্রতিস্ঠিত হোক। সেই মিত্র সরকার হলো আওয়ামী লীগ ও সেনা প্রধান। যেমন জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা দখলের আগে ভারতের সাথে আলাপ আলোচনা করেছেন বলে তিনি নিজেই স্বীকার করেছে। ইন্দিরা গান্ধীকে এরশাদ মা বলে ডাকতেন। জেনারেল মঈনও ক্ষমতা গ্রহনের আগে ভারতের সাথে আলাপ আলোচনা করেছে। ভারত সরকার তাকে লাল গালিচা সম্বর্ধনা দিয়েছে। ছয়টি ঘোড়া উপহার দিয়েছে। দশ ট্রাক অস্ত্র বিষয়টি রাস্ট্রীয়। এটা তত্‍কালীন সরকারের সব মহলে জানা থাকার কথা। এখন সরকারের নীতি পরিবর্তনের ফলে ওই মামলা শুরু হয়েছে। দিল্লীর সাথে মিত্রতা রাখতে গিয়ে বাংলাদেশ চীন ও মায়ানমারের সাথে মুখোমুখি দাঁড়াবার চেস্টা করছে। বিডিআর এর ঘটনা প্রমান করেছে যেকোন শক্তি যে কোন সময় বাংলাদেশের বুকের ভিতর আঘাত হানতে পারে এবং নিরাপদে চলেও যেতে পারে।

যুদ্ধ অপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে সরকার দেশের বাইরে নানা মহলের সহযোগিতা প্রার্থনা করছে। সম্প্রতি যুক্তরাস্ট্রের সহকারী পররাস্ট্র মন্ত্রী বলেছেন এমন সরকারের এমন কাজে হাত দেয়া ঠিক হবেনা যা গনতন্ত্রকে ব্যাহত করতে পারে। ৭১ সালে যুক্তরাস্ট্র পাকিস্তানকে সমর্থন করেছে। সেই যুক্তরাস্ট্রের কাছেই বাংলাদেশ যুদ্ধ অপরাধীদের বিচারের জন্যে সমর্থন ও সাহায্য প্রার্থনা করছে। সরকারের সামনে নতুন একটা সমস্যা এসে হাজির হয়েছে। তাহলো ভারতের বরাক নদীর উপর টিপাইমুখ বাঁধ। এই বাঁধের বিরুদ্ধে ভারতের মানুসও আন্দোলন করছে। বাংলাদেশের মানুসও আন্দোলন করছে। এমনকি সরকার সমর্থক বুদ্ধিজীবীরাও এর বিরুধিতা করছে। এখন সরকার বলছে সেখানে সরেজমিনে দেখার জন্যে পার্লামেন্টারি কমিটি ও বিশেষজ্ঞ দল পাঠাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবুও ভারত যা বলছে পার্লামেন্টারী কমিটি প্রধান  আবদুর রাজ্জাক সে কথাই বলছেন। পিনাকের কথাবার্তা অনেক সময় কূটনৈতিক সৌজন্যের সীমা পেরিয়ে গেলেও সরকার তেমন উচ্চ বাচ্য করেনা। টিপাইমুখ সম্পর্কে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যকে পিনাক রন্জন রাজনৈতিক বক্তব্য বলে মসকরা করেছেন। সম্প্রতি পিনাক বলেছেন,টিপাই মুখের কাজ শুরু হয়েছে ৭২ সালে এবং এই বাংলাদেশ সরকার সবই জানেন।

Read Full Post »

« Newer Posts - Older Posts »