Feeds:
Posts
Comments

Archive for March, 2014

সকালবেলা ৬৮


সকালবেলা ৬৮

গুন্ডে মুভি আর বাংলাদেশের স্বাধীনতা, কোনটা ইতিহাস? আমার কাছে দুটোই গল্প। এক গল্প দিয়ে ভারতীয়রা মুভি তৈরি করে ব্যবসা বাণিজ্য করছে। ওই মুভির গল্প নিয়ে আমাদের কিছু আপত্তি আছে।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বহু গল্প, নাটক, মুভিও আমরা তৈরি করেছি। অনেক গুলো হয়ত দামী পুরস্কার ও পেয়েছে। পাবলিক বা জনগন( জনতা) কি চায় তার উপর নির্ভর করে এসব তৈরি হয়। এর সাথে ইতিহাস, দলিল দস্তাবেজের কোন সম্পর্ক নাই। এমনিতেই বাংগালীরা ইতিহাসের চেয়ে আবেগের গুরুত্ব বেশী দেয়। যেমন,লাখে লাখে সৈন্য মরে কাতারে কাতার। শুমার করিয়া দেখ কয়েক হাজার।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধের দলিল কিছুটা তৈরি হয়েছে। কিন্তু জ্ঞানী গুণীরা সেসব দলিল দস্তাবেজ,তথ্য উপাত্ত ব্যবহার করতে চান না। ফলে যত সব সমস্যা দেখা দিয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধে দলমত বর্ণ নির্বিশেষে কতলোক মারা গেছে তার কোন অফিসিয়াল হিসাব তৈরি হয়নি। বাংলাদেশের প্রতি ইউনিয়ন বা গ্রামে কত লোক মারা/শহীদ মারা গেছে এ হিসাব এখনও তৈরি করা যায়। কিন্তু এ ব্যাপারে মুক্তিযুদ্ধের ধারক বাহক, লালক পালক কেউই রাজী নন। কারণ কি তা আপনারাও জানার চেস্টা করেন না।
ইতিহাসের দুইটি ধারা। যিনি লিখছেন বা রচনা করছেন তিনি যে দৃষ্টি থেকে বিষয়টা দেখছেন সেভাবেই ইতিহাস তৈরি হয়। যেমন পলাশীর যুদ্ধ নিয়ে দু রকম ইতিহাস আছে। একদল সিরাজের পক্ষে,আরেকদল সিরাজের বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত নিজেদের প্রয়োজনেই ইংরেজের বিরুদ্ধে সিরাজকে নেতা করে নাটক লিখতে হয়েছে। তখন বাংগালীদের কোন হিরো ছিলনা।
যেমন ঔরংজেব ও আকবর। হিন্দুরা ঔরংজেবের বিরুদ্ধে। যেমন, পাকিস্তান আমাদের শোষণ করেছে সেজন্যে পাকিস্তান মন্দ। কিন্তু ইংরেজরা ১৯০ বছর শোষণ করেছে, কোটি কোটি মানুষকে হত্যা করেছে, তবুও তারা পাকিস্তানের চেয়ে ভাল। ১৯০ বছরের শোষন নির্যাতনের কথা আমরা ভুলে গেছি।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস কখনই রচিত হবেনা। পপুলার ইতিহাস তৈরি হবে সরকারী উদ্যোগে। যার ভিতর ইতিহাস, তথ্য, উপাত্ত থাকবেনা।
পাকিস্তানীরা ৩০ লাখ মানুষ হত্যা করেছে। এর কোন দলিল বা প্রমাণ নেই। দলিল তৈরি করার চেষ্টাও করা হয়নি। বংগবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু এর কোন প্রমান বা দলিল নাই। রাজাকার বাহিনীতে কতলোক ছিল তারও কোন দলিল নাই।
পাকিস্তানের পরাজয়ের দলিল তৈরি হয়েছে দিল্লীতে। সেখান থেকে ঢাকায় এসেছে। ভারতীয় দলিল হলো ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ হয়েছে। পাকিস্তান আত্মসমর্পন করেছে ভারতের কাছে। যারা সারেন্ডার করেছে তাদের সবকিছু নিয়ে গেছে ভারত। এমন কি এ দলিলে বাংলাদেশের কোন স্বাক্ষরও নাই।
২৫শে মার্চের মধ্যরাতে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী আক্রমণ না করলে বংগবন্ধু কি করতেন? ২৬শে মার্চতো আওয়ামী লীগ হরতাল ডেকেছিল। ২৫শে মার্চ রাতে বংগবন্ধুকে আটক করা হয়েছে, সে কথা কি আওয়ামী লীগ নেতারা জানতেন।
প্রথমা প্রকাশিত বইয়ে সোজা সাফটা বলে দেয়া হয়েছে বংগবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন নি। এটা ভারতেরও বক্তব্য। ভারতীয় দলিলে সেভাবেই আছে। এখন বলা হয় ৭ই মার্চ বংগবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। এতদিন বলা হয়েছে বংগবন্ধু ২৬শে মার্চ ঘোষণা দিয়েছেন।
গুন্ডে মুভি আমাদের আবেগ ও অনুভুতিতে আঘাত করেছে কারণ আমরা ইতিহাস জানিনা। এই মূ্হুর্তে আমাদের কাছে স্বাধীনতার কোন ইতিহাসও নেই।

Read Full Post »

সকালবেলা ৬৭


সকালবেলা ৬৭

খবরের কাগজে দেখলাম গোপালগঞ্জের টুংগীপাড়ার ছয় শিক্ষিত বোন বেকারত্বের অভিশাপে অসহনীয় জীবন যাপন করছে। মেয়েদের কোন অভিবাবক বা মুরুব্বী নাই। ওদের মা বাবা মারা গেছে। কোন ভাই নেই।
এলাকাটা বোধ হয় আমাদের প্রধানমন্ত্রীর। নিজ এলাকার সব খবরই তাঁর কানে আসার কথা। এই খবরটি আসেনি। এলাকার চেয়ারম্যান জানেন কিনা জানিনা। এমপি সাহেবরাতো পার্লামেন্ট, মন্ত্রণালয়, তদবীর, শুল্কমুক্ত গাড়ি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। হয়ত গমের ভাগ বাটোয়ারার খবর রাখেন। থানার ওসি আর ইউেনও সাহেবরাতো চোর মাস্তান আর বিরোধী দল ঠ্যাংগাতে ব্যস্ত।
খবরটি আমার মনে দাগ কেটেছে। ইদানিং আমার মনে রাস্ট্র ব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী রাস্ট্রের কার্যকারিতা কি শেষ হয়ে গেছে? আমেরিকাতো বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত। নিজের দেশে লাখ লাখ মানুষ বেকার, লাখ লাখ মানুষ গৃহহীন। রাস্তায় ভিক্ষুক দেখা যায়।
রাশিয়া পাশের দখলে ব্যস্ত। ভারতের জ্বালায় আমরা অস্থির হয়ে গেছি। রাস্ট্র ব্যবস্থা কেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তা নিয়ে ভাবার সময় এসে গেছে। শুধু নিজের দেশের মানুষের কল্যাণ নিয়ে ভাবে এমন রাস্ট্র জগতে কয়টি আছে? যাদের কাছে যে রাস্ত্রের কাছে জগতের ধন সম্পদ পুঞ্জীভুত হয়ে গেছে তারা এদিক ওদিক কিছু ছিটে ফোটা দান সদকা করেন।
বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যে দেশবাসীর কল্যাণের কথা বলে স্বাধীন হয়েছিল। ৪৭ সাল থেকে ধরলে ৬৬ বছর পার হয়ে গেছে। দেশের মানুষের ভাগ্যের তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি। হ্যঁ, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, এনজিও নেতা,মাস্তান ও ঘুষখোরেরা ধনী হয়েছে। স্বাধীনতার এই অবদান স্বীকার করি।
গোপালগঞ্জের ছয়বোনের কথা ভাবলে বুঝা যায় রাস্ট্র অন্ধ। এর কোন চোখ কান নেই। যারা রাস্ট্রের পরিচালক/সেবক বলে পরিচিত তারা ১৬ কোটি মানুষের নামে শপথ নিয়ে দুই/চার লাখ মানুষের খবর রাখে। ওদের খারপোষ দেয়। বাংলাদেশে আবার খোদার নামে শপথ নেয়া নিষিদ্ধ। এদেশে নাকি মানুষই সার্বভৌম। খোদাকে সার্বভৌম বলা যাবেনা। বললে সংবিধান লংগন হবে।
খোদার নামে হোক, রাস্ট্রের নামে হোক, ধনীর নামে হোক দয়া করে গোপালগঞ্জের ছয় বোনের খবর নেয়ার জন্যে অনুরোধ রইলো। আশা করি সবাই সাড়া দিবেন।

Read Full Post »

সকালবেলা ৬৬


সকালবেলা ৬৬

১৭ই মার্চ বংগবন্ধুর জন্মদিন। একই তারিখে ১৯৬৫ সালে আমি ফেণী থেকে কৃষকদের কাগজ ফসল প্রকাশ করি। তখন জানতাম না ওই তারিখটা বংগবন্ধুর জন্মদিন। তখনও তিনি নেতা । ৫৪ সালেই তিনি মন্ত্রী হয়েছেন ৩৪ বছর বয়সে। সাংগঠনিক ক্ষমতা ছিল বলেই তিনি মাওলানা ভাসানীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
তাঁর আত্মজীবনী পড়লেই জানা যাবে তিনি কোন মন মানসিকতার মানুষ ছিলেন। তিনি মূলত: মুসলীম মানসিকতার মানুষ ছিলেন। বাংগালী মুসলমানের মুক্তির জন্যেই তিনি মুসলীম লীগের রাজনীতি করতেন। ৪৭ সাল পর্যন্ত মুসলীম লীগ মুসলমানদের রাজনীতি করেছে। যদিও নেতাদের সাথে সাধারন মুসলমানদের সম্পর্ক ছিলনা। সংকট শুরু হলো পাকিস্তান হওয়ার পর। মুসলীম লীগের কোন নেতাই গণ মানুষের রাজনীতি করতেন না। ফলে মাওলানা ভাসানী নতুন দল আওয়ামী মুসলীম লীগ গঠণ করলেন ১৯৪৯ সালের ২৩শে মার্চ। সেই দলের যুগ্ম সম্পাদক হয়েছিলেন। শেখ সাহেব কিন্তু রাজনীতি শুরু করেছিলেন সোহরাওয়ার্দী সাহেবের ছায়ায়। ৪৭ এর শেখ সাহেব কোলকাতা থেকে ঢাকা চলে এলেন। সোহরাওয়ার্দী সাহেব ভারতে রয়ে গেলেন নানা কারণে। বিশেষ করে মুসলীম লীগ নেতাদের সাথে তাঁর বনিবনা হচ্ছিলনা। মাওলানা সাহেব ছিলেন আসাম প্রদেশ মুসলীম লীগের সভাপতি। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তান মুসলীম লীগের নেতারা তাঁকে পছন্দ করতেন না। মাওলানা সাহেবের সাংগঠনিক শক্তি ছিল অপরিসীম। তরুণ নেতা হিসাবে শেখ সাহেবের সাংগঠনিক ক্ষমতা ছিল।
৫০ সালের দিকে সোহরাওয়ার্দী সাহেব করাচী এসে জিন্নাহ মুসলীম লীগ গঠণ করলেন। এটা ছিল তাঁর রাজনৈতিক কৌশল। পরে পূর্ব পাকিস্তানে এসে মাওলানা সাহেবের সাথে জোট বাঁধলেন। ৫৪ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই যুক্তফ্রন্ট গঠণ করে মুসলীম লীগের পতন ঘটানো হয়। শুরু হলো শেখ সাহেবের বিকাশের রাজনীতি। চিন্তার জগতে শেখ সাহেব সোহরাওয়ার্দী সাহেবের কাছাকাছি ছিলেন। সোহরাওয়ার্দী সাহেব ক্ষমতার রাজনীতি করতেন। শেখ সাহেবেরও রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিল ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের জন্যে কাজ করা। ফলে ধীরে ধীরে মাওলানা সাহেবের সাথে সোহরাওয়ার্দী সাহেব ও শেখ সাহেবের দূরত্ব বেড়ে গেল। মাওলানা সাহেব আওয়ামী লীগের রাজনীতি ছেড়ে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি(ন্যাপ ) গঠন করলেন। এক সময়ে বিনয় ও ভদ্রতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নেতারা দল ছেড়ে চলে গেলেন। বংগবন্ধু আওয়ামী লীগের সর্বেসর্বা হয়ে গেলেন। সাথে তরুন জাতের কিছু নেতা ও ছাত্রদের। যারা কথায় কথায় পাঞ্জাবী বা জামার হাতা গুটাতো। কথায় কথায় সিনিয়ারদের কটুকথা শুনাতে পারতো। নতুন আওয়ামী লিঘের যাত্রা শুরু। আমার বেশ কিছু বন্ধু যারা বংগবন্ধুর ভক্ত ছিল,যাদের ভদ্রতা ছিল, বিদ্যা ছিল তারা পরে আর দলে টিকতে পারেনি।
বংগবন্ধুর প্রধান গুন ও জ্ঞান ছিল সাহস। ভাল হোক আর মন্দ হোক যা পছন্দ করতেন তা বলার সাহস রাখতেন। আমাদের দেশে সাধারন মানুষের তেমন লেখাপড়া নেই। তারা তেমন বুঝেন না বা ভাবেন ও না। নেতা যা বলবেন তাই সত্য। রাজনৈতিক কর্মীরা লেখাপড়া করেন না। ফলে বংগবন্ধু তাঁর সাহসের কারণে জনগণের অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হলেন। সব শিক্ষিত মার্জিত ভদ্র লোকেরা রাজনীতি থেকে বিদায় নিলেন। প্রমানিত হয়ে গেল শিক্ষিত মার্জিত লোদের দ্বারা এদেশে রাজনীতি সম্ভব নয়। তবুও বলবো সভ্য ভব্য রাজনীতির শেষ পুরুষ ছিলেন শেখ মুজিব।

Read Full Post »

সকালবেলা ৬৫


সকালবেলা ৬৫

আমি আনন্দকে ভালবাসি। আমি সব সময় আনন্দে থাকি। আমার নিজের কোন দু:খ নেই। আমাকে যারা চিনেন তারা জানেন আমি আনন্দময় জীবন ভালবাসি। জীবনকে ফুলের বাগান, নদীর কুলু কুলু তান মনে করি। মনকে আকাশ মনে করে সারাদিন পাখির মতো উড়ে বেড়াই। বন্ধুদের বলি , আমি কেমন আছি জানতে চেওনা। আমি চির আনন্দময়, আনন্দের সরোবরে বাস করি।
নারী দিবস বন্ধুদের জানালাম আমি নারীদের ২০০ ভাগ অধিকারে বিশ্বাস করি। খোদা নিজেই বুঝতে পেরেছেন নারী ছাড়া তার জগত অচল। বিকশিত হবে। আদম একা খুবই বিষন্ন ছিলেন। তাই হাওয়াকে সৃষ্টি করতে হয়েছে। সৃষ্টির মূল রহস্যই হচ্ছে নারী। আমার সংসারের প্রধান নির্বাহী হচ্ছেন আমার বিবি। তিনিই সংসার রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি। আমি একজন সুখী নাগরিক। তিনি আমার সকল চাহিদা পুরণ করেন।
আমি যখন বলি আমি খুবই সুখী মানুষ তখন বন্ধুরা মনে করে আমি সব বাড়িয়ে বলি। জগতে কেউ কি এমন সুখী হতে পারে। সুখ দু:খই নাকি জীবন। হয়ত তাই। আমি সুখই দেখি। আমি ফুলের কাঁটা দেখিনা। নদীর ভাংগন দেখিনা।
প্রকৃতি হচ্ছে আমার সাথী। সারাক্ষণ প্রকৃতিকে দেখি। যেদিকে তাকাই সেদিকেই শুধু আনন্দ দেখি। জগতে সব সৃষ্টিই জীবনের জয়গাণ গাইছে। খোদা আনন্দেই মানুষ, প্রকৃতি ও জগত মহাজগত সৃষ্টি করেছেন। তিনি তাঁর সৃষ্টিকে আনন্দময় দেখতে চান। কিন্তু মানুষ আনন্দের চেয়ে বেদনাকে বেশী ভালবাসে।
সুখ নিয়ে গবেষণা করার জন্যে আন্তর্জাতিক ইন্সটিটিউট ফর হ্যাপিনেস স্টাডিজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু সুখ কি তা নির্ধারন করতে পারেননি। দারিদ্র কাকে বলে তা ইতোমধ্যে মোটামুটি নির্ধারিত হয়েছে। কারণ, দারিদ্রের সাথে অর্থনীতি জড়িত। কিন্তু সুখের সাথে অর্থনীতি জড়িত নয়।
তবে আমার দেশটা ভাল নেই। যে মাটিতে আমার জন্ম সে মাটির নীরব কান্না আমি শুনতে পাই। এখানে এখনও মানুষ শিক্ষা পায়না, অভাবে সন্তান বিক্রি করে দেয়, অসুখে চিকিত্‍সা পায়না। নারীরা পুরুষের হাতে নির্যাতিত। যে নারীকে মা ডাকে সেই নারীকেই অপমান করে। আমি এ ভুগোলের সন্তান। শুধু আমি কেন? আমার বাপদাদা সবাই এ মাটিরই সন্তান। এই ভুগোলের রাজনৈতিক নাম একটি রাস্ট্র। রাস্ট্রের নাম বাংলাদেশ। দেশটা নাকি স্বাধীন সার্বভৌম। এর জাতীয় পতাকা আছে, জাতীয় সংগীত আছে, জাতীয় ভাষা আছে , জাতিসংঘের সদস্যপদ আছে। মোট কথা, যা হলে রাস্ট্র হওয়া যায় সবই আছে। শুধু নাই এ রাস্ট্রে সুখ আর আনন্দ। মানুষের মুক্তি আর স্বাধীনতার কথা বলেই এ রাস্ট্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বৃটিশ আমলে মুসলমানরা ছিল নির্যাতিত ও নিষ্পেষিত। বৃটিশ এবং ধনী ও নেতা হিন্দুরা যৌথভাবে মুসলমানদের শোষণ করা হয়েছে। অথচ, ইংরেজদের এ দেশ থেকে বিতাড়নের জন্যে সবচেয়ে বেশী প্রাণ দিয়েছে মুসলমানেরা। ফলে ৪৭ সালে ভারত ভাগ হয়ে দুটি রাস্ট্র হয়ে গেল। হিন্দু নেতারা সহনশীল ও উদার হলে দুটি রাস্ট্রের কোন প্রয়োজন ছিলনা।
অখন্ড বাংলা একটি স্বাধীন রাস্ট্র হতে পারতো। কিন্তু হিন্দু নেতারা চাইলেন না। ফলে বাংলার মুসলমানেরা পাকিস্তানের সাথে যোগ দিয়ে পাকিস্তানের একটি রাজ্য বা প্রদেশের নাগরিক হলো। মুসলমান হলেও বাংগালীরা একটি আলাদা জাতি তা পাকিস্তানী শাসকরা বুঝতে চাইলোনা। রাস্ট্র ক্ষমতা বা শক্তি প্রয়োগ করে বাংগালী মুসলমানদের দমিয়ে রাখতে চেষ্টা করলো। ৭১ সালে বাংগালী মুসলমানেরা পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে গেলো।
ইতোমধ্যে ৪৩ বছর পার হতে চলেছে। কিন্তু সাধারন মানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি। নতুন স্বাধীনতা তাদের নতুন কিছু দেয়নি। স্বাধীন বাংলাদেশ হাজার হাজার ধনীর জন্ম দিয়েছে। দারিদ্র বাড়িয়েছে। রাজনীতিকরা ধনী হয়েছে। তাদের বন্ধুরাও ধনী হয়েছে। সাধারন মানুষের উপর রাস্ট্রের শোষন বেড়েছে।
রাস্ট্রের শোষণকে পাকাপোক্ত করার জন্যে রাস্ট্র ভয়ংকর অত্যাচারী হয়ে উঠেছে। এখন সর্বত্র রাস্ট্র শক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে জনগণের বিরুদ্ধে। আমি যখন শব নিয়ে ভাবি তখনি দু:খ বেদনায় কাতর হয়ে উঠি। এমন রাস্ট কি এ দেশের মানুষ চেয়েছিল?
আবার নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমরা মুসলমান না বাংগালী। এতদিন ধরে তর্ক চলছিল আমরা বাংলাদেশী না বাংগালী? এখন নতুন তর্ক বাংগালী না মুসলমান? এ ধরনের তর্ক রাস্ট্রের ভিতকে দুর্বল করে দিয়েছে

Read Full Post »

সকালবেলা ৬৪


সকালবেলা ৬৪

রাজনীতি নিয়ে আর লিখবোনা ঠিক করেছি। মানে দলীয় রাজনীতি। এদেশে যার একটি ভোটো নাই তিনি মন্ত্রী বা উপদেস্টা হন। রাজনীতিকরা সারাদিন মিথ্যা কথা বলেন। মুখে যা আসে তাই বলেন। রাজনীতিতে সভ্যতা ভব্যতা সব মুছে গেছে। এখন যার মুখ সবচেয়ে খারাপ তিনি মন্ত্রী বা এমপি হবেন। নমিনেশন পাওয়ার জন্যে টাকা লাগবে ,মাস্তান লাগবে, পিস্তল লাগবে আর লাগবে শ’খানেক মটর বাইক। চাঁদা তোলার জন্যে গোল্ডেন ফাইভ লাগবে।
এসবতো চলমান রাজনীতির কাহিনী। এজন্যে আমি কাউকে দোষ দিইনা। যেমন মানুষ তেমন রাজনীতি। এদেশে রাজনৈতিক দলগুলো একেকটি বিজনেস হাউজ। কোন পেশা নেই বা কাজ নেইতো রাজনৈতিক কর্মী হয়ে যান। নিয়মিত চাঁদা তুলুন। সুখে দিন যাপন করুন। পুলিশ যেমন টাকা কালেকশন করে দলমত নির্বিশেষে ভাগ করে খান তেমনি রাজনীতিতেও ভাগাভাগির বিষয় আছে।
ঘুষ? এ জগতের আদিম ব্যবসা। বাইবেলে, তৌরাতে ও আল কোরআনে ঘুষের কথা উল্লেখ রয়েছে। এমনকি বিচার ব্যবস্থায় ঘুষের কথা উল্লেখ আছে। তাই ঘুষ আছে থাকবে। বিশ্বের নামীদামী দেশ গুলো ঘুষ নিয়ন্ত্রণ বা সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে। বাংলাদেশে বিষয়টা একেবারেই উল্টো। এদেশ ঘুষ খায়না এমন খবর হাসির গল্প। ঘুষ খান না বা দুর্ণীতি করেন না এমন মানুষ শ’তে একজন নাই। হয়ত হাজারে দুয়েকজন থাকতে পারেন। সরকারী ও আধা সরকারী অফিসার ও কর্মচারীর সংখ্যা এখন ৬০ লাখ হতে পারে। ধরে নেন এটা একটা আন্দাজ/ অনুমান ভিত্তিক সংখ্যা। আপনারাই বলুন, এই ৬০ লাখের ভিতর কতজন ঘুষ খান না?
রাজনীতিকরা মন্ত্রী বা এমপি হলো ভাগ্যের পরিবর্তন করেন। এ ব্যাপারে সম্প্রতি কাগজে বিস্তারিত সংবাদ বেরিয়েছে। রাজনীতিকরা সম্পদের হিসাব দিতে চান না। ৪৭ সাল থেকে বংগবন্ধুর জামানা পর্যন্ত রাজনীতিকরা এত দুর্ণীতিবাজ ছিলেন। এখন মন্ত্রী এমপিরা কম দামে বাড়ি গাড়ি, জমিজমা পান। তারপরেও তাদের হাজার হাজার বিঘা জমি লাগে। জানিনা, যা লিখছি তা রাজনীতি কিনা?
প্রতিদিন শুনি, সাংবাদিকরাও নাকি এখন ঘুষ খায়। হয়ত খায়। আমিতো ১৯৬১ সালে সাংবাদিকতায় এসেছিলাম জনগণের পক্ষে কথা বলার জন্যে। সে সময়ে সাংবাদিকদের কেউ বাড়ি ভাড়া দিতোনা। মেয়ে বিয়ে দিতে চাইতোনা। এমন এক জামানায় আমি সাংবাদিকতায় এসেছিলাম। এখন সাংবাদিকতা একটি দামী পেশা। ৫/১০ বছর সাংবাদিকতা করলেই নাকি বাড়ি গাড়ি হয়ে যায়। সাংবাদিকের ছেলেমেয়েরাও বিদেশে পড়ালেখা করতে পারে। এটা কিন্তু খুবই সুখবর। প্রশ্ন হলো চলতি ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী এটা সম্ভব কিনা? আমার শ্লোগান হলো, সুখে থাকো, ভাল জীবন যাপন করো। এখন প্রশ্ন হলো কি ভাবে? তখনি নৈতিকতা ও ন্যায়ের বিষয়টা সামনে আসবে।
বন্ধুরা বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের বাইরে অন্য কোন জগত বা গ্রহের মানুষ নয়। তারাও রক্ত মাংসের মানুষ। তাদেরও সাধ আহ্লাদ আছে। তারাও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে এসেছে। সাংবাদিকরাও পুলিশ, মাস্তান ও রাজণীতিকদের মতো মানুষ। এখন নাকি শিক্ষা বিভাবে সবচেয়ে বেশী দুর্ণীতি। পুলিশের চেয়েও বেশী।
প্রশ্ন করলাম, এতলোক কাগজ, রেডিও, টিভি অনলাইন কাগজ করছে কেনো? উত্তর হলো, দুর্ণীতিকে ঢেকে রাখার জন্যে। একটা কথা বলা দরকার । তাহলো দূর্ণীতি পুরাণো হয়ে গেলে, মানে দূর্ণীতিবাজ পুরাণো হলে অভিজাত হয়ে যায়। তখন বলে আমরা ৩/৪ পুরুযের পয়সা ওয়ালা। আমাদের খানদান বহু পুরাণো। এখনতো খান সাহেব, খান বাহাদুর, নবাবদের যুগ শেষ হয়ে গেছে। তবুও তাদের বংশধরদের সমাজে ক্বদর কমেনি যারা অবস্থা বজায় রাখতে পেরেছেন। এখন বীর বিক্রম, বীর উত্তমের যুগ। তবে এটা এখনও তেমন পপুলার বা জনপ্রিয় হয়নি। কেউ কেউ ভারত থেকে পদ্মভূষণও নিয়ে আসছে।
পাকিস্তান নামক একটি দেশ ছিল। এখন নাম পরিবর্তন হয়ে বাংলাদেশ হয়েছে। পতাকা পরিবর্তন হয়েছে, জাতীয় সংগীত পরিবর্তন হয়েছে। শুধু পরিবর্তন হয়নি দূর্ণীতির। লাখো গুণে দূর্ণীতি বেড়ে গেছে। এখনও অশিক্ষা, দারিদ্র,অস্বাস্থ্য রয়ে গেছে। ভাষা বাংলা হয়েছে। কিন্তু কেউ বাংলা চর্চা করেনা। ভাষা দিবসে বিভিন্ন বস্তি, খাবার দোকানে হিন্দী গাণ বাজে। পহেলা বৈশাখে হিন্দী গাণ বাজে। সকলাবেলা বটতলায় পান্তা খায়,রাতে মদ খায়। পহেলা বৈশাখে মেয়েরা শাড়ী পরে। সারা বছর জিন্সের প্যান্ট, টি শার্ট পরে বুক ফুলিয়ে চলে। ইংরেজীতে কথা বলে। আদালত বাংলায় চলেনা, বাংলা চর্চার আদেশতাও নাকি ইংরেজীতে দেয়া হয়েছে। সরকারী অফিসেও বাংলা চলেনা। ঘর দুয়ারে এখন বাচ্চারাও হিন্দী শিখে ফেলেছে হিন্দী সিরিয়াল দেখে দেখে।

Read Full Post »

সকালবেলা ৬৩


সকালবেলা ৬৩

অনেক আগেই বলেছি বিশ্ব নারী দিবসে আমার জন্ম। তবে সে কথা পরে জানতে পেরেছি। আমি সব সময় নারীদের পক্ষে। আমার মা আমাকে নারীদের সম্মান করতে শিখিয়েছেন। ইসলাম বলেছে মায়ের পায়ের নীচে সন্তানের বেহেশত। রাসুল(সা) বলেছেন, মায়ের খেদমত করো, মায়ের খেদমত করো, মায়ের খেদমত করো। চতুর্থবার বলেছেন বাবার খেদমত করো। শুনেছি জগতে সেজদার হুকুম থাকলে মাকে সেজদা করার হুকুম হতো। একথা গুলো বলা হয়েছে দেড় হাজার বছর আগে। সে কথা আমাদের শিক্ষিত সমাজ জানেন না, জানলেও মানেন না। তাঁরাই নাকি নারী অধিকার চান। কারণ পশ্চিমারা চায়। ওদের কথা শুনলে ওরা সামাজিক মর্যাদা দেয়।
বাংলাদেশে গরীব ও ধনী পরিবারে নারীরা নির্যাতিত। মধ্যবিত্ত পরিবারে ৯০ ভাগ পুরুষ নির্যাতিত। সামাজিক সম্মানের ভয়ে পুরষেরা কথা বলেন না। রাজধানী ঢাকায় মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষিত তরুণী স্ত্রীরা ৯০ ভাগ তালাকের মামলা করছেন। আপনারা সিটি কর্পোরেশনে গিয়ে খবর নিন। অথবা ম্যারেজ এজেন্সী গুলোতে যান। ৯০ ভাগ নারী দ্বিতীয় বার বিয়ের চেস্টা করছেন। মা বা সাথে কথা বলুন, তাঁরা বলবেন, ছেলে খারাপ, মিথ্যা কথা বলে বিয়ে করেছে, মদ খায়, মেয়েকে মারধর করে।
আদালতে যান নারীরা ৯০ ভাগ মামলা করছেন। মিথা না বললে মামলা হয়না তাই শত শত মিথ্যা অভিযোগ এনে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। নারীদের পক্ষে আইন শক্ত। ছেলেরা মোহর দিয়ে মুক্তি লাভ করছে।
আমার কথা গুলো শুনে মনে হচ্ছে আমি মেয়েদের বা নারীদের বিপক্ষে বলছি। না, আধুনিক পারিবারিক কলহে ছেলেরা ১০ ভাগ দায়ী। মেয়েরা এখন সংসারে মা বাবার উপস্থিতি চান না। মানে শ্বশুর শ্বাশুড়ীকে ত্যাগ করে সংসার করতে হবে। আলাদা বাসা করে থাকতে হবে। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেদের পক্ষে এ কাজ কঠিন। তাই গোলযোগ।
এবার আসুন, শুধু স্বামী স্ত্রীর পরিবারে। দুজনই শিক্ষিত। দুজনই রোজগেরে। দুজনই ভাল বেতন পান। সন্তানকে নানীর কাছে বা দাদীর কাছে রেখে দুজন অফিসে যান। দুজন একসাথে ফিরে আসেন। সুখের সংসারইতো হওয়ার কথা ছিল। হয়নি। কারণ, চা বানানো নিয়ে দুজনের ভিতর ঝগড়া, তারপর তালাক।
নারীনেতা ও নারী সম অধিকার আন্দোলনের নেতাদের সাথে কথা বলুন। তাঁরা বলবেন, প্রথম প্রথম এ রকম হতে পারে। হঠাত্‍ স্বাধীনতা পেলে যেমন হয়। আইনের অসত্‍ ব্যবহার হচ্ছে। মহা সমান দুজন স্বামী স্ত্রীর সাথে কথা বলুন। দুজনই ব্যরিষ্টার। দুজন একই বাড়িতে থাকেন। একজন দুতলায়, আরেকজন এক তলায়। দুজনের ভিতর কথা হয়না। হলেও আনুষ্ঠানিক। ছেলে মেয়েরা বিদেশে হোস্টেলে থাকে।
ধনীদের মেয়েদের কথা বাদ দিন। তাদের একেক জনের চারবার করে বিয়ে হচ্ছে। বনিবনা নেই তাই তালাক। গরীবের মেয়েদের তালাক হচ্ছে অভাবের কারণে। অশিক্ষার কারণে। আইনী সহযোগিতার অভাবে।
কাবিন নামা, তালাকনামা বা মোহর নিয়ে আপনারা পড়া লেখা করেছেন কিনা জানিনা। ইসলাম তালাক অনুমোদন করে। তবে বলা হয়েছে এটা নিকৃষ্ট বৈধ বা হালাল কাজ। এ কাজ না করার জন্যে উত্‍সাহ দেয়া হয়েছে। সমঝোতার কথা বলা হয়েছে। তালাকনামা পুরোটাই ছেলের অংগীকার। ছেলে ওয়াদা করে সে বা তিনি ১০০ ভাগ স্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবে। স্ত্রী কোন ওয়াদা করেন না।
আমার প্রস্তাব, কাবিন নামা সংসোধন করা হোক। যে সব নারী সম অধিকারে বিশ্বাস করেন তাদেরকেও কিছু লিখিত দায়িত্ব নিতে হবে। আর যদি পুরো দায়িত্ব গ্রহণ করেন তাহলেতো কথাই নাই। কাবিনের সকল শর্ত মেয়েকে/নারীকে পালন করতে হবে। নারী ছেলের খোরপোষ, থাকা খাওয়া দায়িত্ব বহন করবে। মেয়ে/নারী বিয়ে করে ছেলেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাবে। ছেলে হাউজ হা্উজবেন্ড হিসাবে থাকবে। নারী ব্যরিষ্টার ও আইনজীবীগণ আশা করি বিষয়টা ভেবে দেখবেন।

Read Full Post »

সকালবেলা ৬২


সকালবেলা ৬২

আজ ৮ই মার্চ। বিশ্ব নারী দিবস। মানে নারীদের অধিকার দিবস। মানে নারীরা এ জগতে বা সমাজে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত। বাংলাদেশে নারী দিবসের অর্থ ভিন্ন। এখানে কয়েকশ’ শিক্ষিত ( সার্টিফিকেট ধারী), সুবিধাপ্রাপ্ত নারী এ দিবস নিয়ে মাতামাতি করেন। সরকারও বিশ্ববাসীকে ধোকা দেয়ার জন্যে নারী দিবস, শিশু দিবস, শিশু শ্রমিক দিবস ইত্যাদি হাবিজাবি দিবস পালন করে থাকে। এসব লোক দেখানো।
নারীদর অধিকারের ব্যাপারে পশ্চিমের যে ধারণা তার সাথে পূর্বের কোন মিল নেই। এক সময়ে পশ্চিমের নারীরা পূর্বের চেয়ে অনেক বেশী নিষ্পেষিত ও নির্যাতিত ছিল। অধিকার আর মর্যাদার নামে তারা আজ বর্তমান অবস্থায় এসেছে। জাতিসংঘ চলে পশ্চিমের শক্তিশালী দেশগুলোর নির্দেশেই। জাতিসংঘ বা পশ্চিমের দেশ গুলো টাকা দেয় বলে বাংলাদেশে তাদের নির্দেশ মোতাবেক বহু দিবস পালিত হয় তাদের মতো করে।
মানব সভ্যতা ও মানব জাতির বিকাশ হয়েছে পূর্বে। যত বেশী গবেযণা হচ্ছে ততই বিষয়টা পরিষ্কার হচ্ছে। শক্তি কারণে, শিক্ষার কারণে ও প্রাকৃতিক কারণে জাতি গুলোর উত্থান পতন হচ্ছে। আমেরিকার ইতিহাস মাত্র ৩/৪শ’ বছরের। রোম আর গ্রীস ছাড়া ইউরোপের বাকি দেশ গুলো সভ্যতার আলো দেখেছে মাত্র এক হাজার বছর আগে। এখন তারা শিক্ষা ও শক্তিতে অনেক বেশী এগিয়ে। তারা যা বলে আমরা তা শুনি। আমাদের ইতিহাস, সভ্যতা যে কয়েক হাজার বছরের পুরাণো তা আমরা ভুলে গেছি। তাই পশ্চিমাদের কাছ থেকে নারী অধিকার কি তা শিখতে হচ্ছে।
আল কোরআন নামে একটি পুস্তক/কিতাব/বই আছে যা পৃথিবীর বেশীর ভাগ মানুষই পড়েনি বা জানেনা। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের ১৫কোটি নামের মুসলমান। এদের নব্বই ভাগই ভাল করে কোরআন কি ও কেন তা ভাল করে জানেনা। ইংরেজী শিক্ষিত ক্ষমতাবান লোকদের এক ভাগ ও কোরআন কি তা জানেনা। হয়ত সবাই জানে এটা একটি ধর্মীয় পুস্তক। হয়ত জানে এটা মুসলমানদের ধর্মীয় পুস্তক।
কিন্তু কোরআন বলছে, এটা মান জাতির জন্যে। কোন গোষ্ঠির জন্যে নয়। যারা মানবে বা জানবে তাদের জন্যে। ক’দিন আগে আমেরিকায় গিয়ে বলেছি ,তোমরা কোরআন পড়ো আর জানো। মুসলমান হওয়ার বা ইসলাম গ্রহণ করবে কি পরে ঠিক করো। জগত বিখ্যাত মরমী কবি মাওলানা রুমীকে আমেরিকার কবিরা এখন পাগল। আমি বললাম, রুমীর কাব্যের মূল সুত্র হলো আল কোরআন। কোরআন না জানলে রুমীকে সঠিক ভাবে জানা হবেনা। কোর আনের কিছু কথা ওদের বলেছি।
আমাদের দেশের কবিরাও কোরআন সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না। কোরআন জানলে নাকি আধুনিক হওয়া যায়না । শুরু করেছি নারী অধিকার নিয়ে। কোরআনতো দেড় হাজার বছর আগে নারী অধিকার নিয়ে পূর্ণাংগ ব্যবস্থা জারী করেছে। কিন্তু কেউ পড়েনি, বা জানেনি। এমন কি যারা জানেন তারাও মানেন না।
নারী পুরুষ সবাই নারী অধিকার নিয়ে সচেতন নয়। বাংলাদেশে গরীব মানুষের সংখ্যা এখনও ৬০ ভাগের মতো। এরা লেখাপড়া জানেনা। প্রাচীন হিন্দু সমাজ ,প্রথা, রীতিনীতি থেকে প্রাপ্ত জীবন বিধি অনেকেই এখন ত্যাগ করতে পারেননি। যারা শিক্ষিত মানে কাগুজে শিক্ষিত তারা কিছুই মানেন না। তারাই নারী অধিকারের ব্যাখ্যা দেন।
বাংলাদেশের আদালতে খোদা সার্বভৌম না মানুষ সার্বভৌম তা নিয়ে মামলা হয়। এখানে কোরআন ও সুন্নাহ বিরোধী রায় দেয়া হয়। এদেশে শিক্ষিত নারীর অধিকার মানে বেপর্দা, বেয়াড়াপনা, অহংকারী হওয়া, অন্যকে মর্যাদা না দেয়া।
এদেশে কোরআন না জানলেও রাস্ট্রপতি , প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, প্রধান সেনাপতি, বিচারপতি ও মন্ত্রী বা সচীব হতে কোন বাধা নেই।

Read Full Post »

সকালবেলা ৬১


সকালবেলা ৬১

৭ই মার্চের জনসভায় আমি উপস্থিত ছিলাম। আমি ব্যক্তিগত ভাবে বংগবন্ধুকে ভালবাসি। তাঁর রাজনীতিকে সমর্থন করিনি। তাঁর সাথে আমার অনেক স্মৃতি আছে। তিনি খুবই ইমোশানাল ছিলেন। ব্যক্তিগত বিষয়কে রাস্ট্রের চেয়ে বেশী গুরুত্ব দিতেন। তবে তিনি দেশ আর দেশের খুবই ভালবাসতেন। রাস্ট্র পরিচালনার ব্যাপারে তাঁর প্রধান শক্তি ছিল ভালবাসা।
তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী আর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো ছিলেন অনেক মেধাবী।
আজ বংগবন্ধুকে নিয়ে বানিয়ে বানিয়ে অনেক গল্প লেখা হচ্ছে। যার সাথে ইতিহাস বা সত্যের কোন সম্পর্ক নেই। হাসিনা নিজে আর এক ধরনের রাজনৈতিক পরগাছারা সুযোগ বুঝে গল্প গুলো কাজে লাগাচ্ছে। সবচেয়ে বড় বেনিফিসিয়ারী হচ্ছে দিল্লী।
৭ই মার্চ বংগবন্ধু যে ভাষণ দিয়েছিলেন তা এখন এডিট করে প্রচার করা হয়। তিনি স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। তিনি সেদিন বলতে পারতেন আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। তা তিনি বলেন নি। তিনি অনেক কথাই বলেছেন। শুধু বলেন নি পূর্ব পাকিস্তান আর পাকিস্তানের সাথে নেই। তিনি আলোচনা চালিয়ে গেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্যে। তিনি চেয়েছিলেন কনফেডারেশন। একটি দূর্বল কেন্দ্রের অধীনে দুটি আলাদা স্বাধীন দেশ। তিনি চেয়েছিলেন ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের বাস্তবায়ন।
কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক সরকার ছিল ঠগবাজ সরকার। উন্মাদ বিভ্রান্ত সরকার। বংগবন্ধুর নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। শেখ সাহেব চেয়েছিলেন পাকিস্তানে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হোক। পাকিস্তানের সামরিক সরকার তা চায়নি। কেন চায়নি তা এখন গবেষণার বিষয়। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের উপর সামরিক শক্তি প্রয়োগ করলে ভারত ও বিশ্ববাসীর প্রতিক্রিয়া কি হবে তা কি পাকিস্তানের সামরিক জান্তা জানতোনা? এ বিষয়ে ও গবেষণা হওয়া দরকার।
বংগবন্ধু ও আওয়ামী লীগ ২৪শে মার্চ বিকেল পর্যন্ত ৬ দফার ভিত্তিতে আলোচনা চালিয়ে গেছেন। কিন্তু আলোচনার সিদ্ধান্ত কি হয়েছিল তা আজও প্রকাশ করা হয়নি। সেই আলোচনার একজন সাক্ষী এখনও জীবিত। তিনি ড. কামাল হোসেন। তিনি এ ব্যাপারে মুখ খোলেননি। সাংবাদিকরাও এ ব্যাপারে নীরব।
২৫শে মার্চ বিকেলে তাজউদ্দিন সাহেব স্বাধীনতার ঘোষণা রেকর্ড করতে গিয়েছিলেন। বংগবন্ধু রাজী হননি।
পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর হাতে আটক হয়ে বংগবন্ধু পাকিস্তানে চলে যান। তাঁর সাথে কামাল হোসেন সাহেবও ছিলেন। তিনিতো কারাগারে ছিলেন না। থাহলে কোথায় ছিলেন? এসব প্রশ্নের সুরাহা হয়নি। শুনেছি পাকিস্তান সরকার বংগবন্ধুর বিরুদ্ধে রাস্ট্রদ্রোহিতার মামলা শুরু করেছিলো। সে মামলার কি রায় হয়েছিল? গল্প হচ্ছে বংগবন্ধুর মৃত্যুদন্ড হয়েছিল এবং তাঁর জন্যে কবর খোঁড়া হয়েছিল। ওই মামলায় বংগবন্ধুর আইনজীবী কে ছিলেন? মামলার এফিডেবিটে বংগবন্ধু কি শপথ ঘোষণা করেছিলেন? সেই এফিডেবিটতা কি আমরা দেখতে পারিনা?
৭ই মার্চ যদি বংগবন্ধু স্বাধীনতার ডাক বা ঘোষণা দিয়ে থাকেন তাহলে পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ২৫শে মার্চ রাত ১২টায় আক্রমণ শুরু করলো কেন? গ্রেফতার হওয়ার আগে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন এমন কোন সহি দলিল কারো হাতে নেই
দেশের মানুষ জানে ২৬শে মেজর জিয়া নামের একজন অচেনা অজানা সেনা অফিসার কালুরঘাট রেডিও থেকে বংগবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন।

Read Full Post »

সকালবেলা ৬০


সকালবেলা ৬০

আজ ৫ই মার্চ। ১৯৬৮ সালে এইদিনে আমার বাবা আবদুল আজিজ মজুমদার এ জগত ছেড়ে চলে যান। তখন তাঁর বয়স ছিল ৫৮ বছর। বাবার জন্ম ১৯১০ সালে উকিলপাড়া মজুমদার বাড়িতে। বাবা লম্বায় ছিলেন পাঁচ ফুটের মতো। গায়ের রং ফর্সা ছিলনা। বাবার চেহারা ছিল খুবই সুন্দর ও মায়াময়। তিনি ছিলেন দয়ালু ও বন্ধু বত্‍সল। তাঁর পেশা ছিল সওদাগরী। এটা আমাদের পূর্ব পুরুষের পেশা।
আমার দাদা ইয়াকুব আলী মজুমদার ছিলেন খুবই ফর্সা ও লম্বা। তিনি জন্ম গ্রহণ করেন ১৮৬০ সালের দিকে। তিনি বাবা মাকে হারিয়ে এতিম হয়ে ১৮৭০ সালে ফেনীতে এসে ফুফুর বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেই থেকে ফেনী আমাদের বসতি।
দাদার বার বাবার নাম মনসুর আলী মজুমদার। এলাকার মানুষ তাঁদের আলীর গোষ্ঠি বলতে। তাঁদের গ্রামের নাম পেচিবাড়িয়া। আনন্দপুর ইউনিয়ন। ফেণী থেকে ৪/৫ মাইল উত্তরে। গ্রামের সে বাড়িতে আমি গিয়েছি। এখন তেমন কেউ সেখানে থাকেন না। তবুও এক আত্মীয়ের সাথে যোগাযোগ তৈরি করেছি। তার নাম খোরশেদ। সে ঢাকায় কাজ করে। সম্পর্কে আমার নাতি। এখন প্রতি সপ্তাহে সে আমাকে ফোন করে।
আমার মায়ের কথা না বলে পারছিনা। মায়ের নাম আশরাফ উন নেসা পাটোয়ারী। ১৯৫১ সালের অক্টোবরে মা আমাদের ছেড়ে চলে যান। তখন আমার বয়স ১১। ক্লাশ সিক্সে পড়ি। মা লেখাপড়া জানতেন কিছুটা। তিনি আমাকে অংক করাতেন সে কথা মনে আছে। মা ছিলেন বাবার চেয়ে লম্বা ও ফর্সা। মা ছিলেন কঠোর শাসক ও হিসেবী। আগেই বলেছি বাবা ছিলেন নরম ও দয়ালু। বাবা আমাদের শাসন করতেন না।
মায়ের বড়ি মানে তাঁর বাপের বড়ি ছিল আমাদের পাশেই। রামপুর পাটোয়ারী বাড়ি। রামপুর হলো ফেণী শহরের ভিতর সবচেয়ে প্রভাবশালী এলাকা। এই এলাকা থেকেই সংসদ সদস্য ও পৌরসভার চেয়ারম্যান ও কমিশনার হয়। এর মধ্যে পাটোয়ারী বাড়ির লোকেরা আরও বেশী প্রভাবশালী। আচার আচরণে মাও তেমন ছিলেন।
মা’র বিয়ে হয় ১৯৩৫ সালে। তখন তাঁর বয়স ১৫। বাবার বয়স ছিল ২৫। বাবা থাকতেন রেংগুণ। সেখানেই তাঁর ধানচালের ব্যবসা ছিল। আর জন্ম হয়েছে ৮ই মার্চ,১৯৪০ সাল। বাংলা ১৩৪৬ সাল,২৪শে ফাল্গুণ, রোজ মংগলবার। দেখতে পাচ্ছেন মায়ের বিয়ের ৫ বছর পর আমার জন্ম হয়। এ নিয়ে অনেক কথা ,অনেক কানাকানি,ফুসুর ফুসুর ,ঘুসুর ঘুসুর। সব দোষ মায়ের। আমাদের দেশে এখনও সন্তান না হলে মেয়েদের দায়ী করা হয় বা দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আমার মাও সে কারণে আসামী ছিলেন মুরুব্বীদের কাছে।
শুনেছি, শেষ পর্যন্ত নানারা মা কে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। আমার বাবা ও মুরুব্বীরা রাজী হননি। আগেই বলেছি নানারা ছিলেন খুবই প্রভাবশালী। মাও একটু স্বাধীনচেতা ছিলেন। এতসব কিছু যখন হচ্ছিলো তখন আমার বাবা ছিলেন রেংগুণে। এরপর রেংগুণ থেকে দেশে ফিরে আসেন।

Read Full Post »

সকালবেলা ৫৯


সকালবেলা ৫৯

৫৩ সালেই আমি প্রথম থানা ও পুলিশ দেখি। তখন আমি ফেণী হাইস্কুলে ৮ম শ্রেণীর ছাত্র। ফেণী মডেল স্কুল ছেড়েছি ৫২ সালে। তার আগের বছরই আমার মা দুনিয়া ছেড়ে ছলে গেছেন। আজকের সকালবেলার প্রসংগটা হলো পুলিশ। রাস্টভাষা আন্দোলনের সময় ফেণী মডেল স্কুলে ধর্মঘট করাণোর অভিযোগে পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল। এখন ভাল করে মনে নেই কত ঘন্টা আতক করে রেখেছিল। বিকেলে আমার বাবা থানায় গিয়ে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে এনেছিলেন। এরপর আমি বহুবার থানায় গিয়েছি,বহুবার গ্রেফতার হয়েছি। রাস্তাঘাটে বহুবার পুলিশের সাথে ঝগড়া করেছি।
আমাদের দেশে পুলিশ পরিচালিত হয় বৃটিশ আমলের আইনে। কোন সরকারই এ আইনের পরিবর্তন করেনি। পুলিশ মানে রাস্ট্র। পুলিশের গায়ে হাত দিলে রাস্ট্রের গায়ে হাত দেয়া। মানে আপনি রাস্ট্রদ্রোহী। বিচারে আপনার ফাঁসী হতে পারে। যেমন ধরুন,পুলিশ রাস্তায় একজনকে পিটাচ্ছে। আপনি জানতে চাইলেন,কেন পিটাচ্ছেন ভাই? উত্তর দিলো, আইন ভংগ করেছে তাই পিটাচ্ছি মানে সোজা করছি। আপনি যদি কিছু বলেন, আপনার গায়েও পুলিশ হাত দিতে পারে। আমার মনটা প্রতিবাদী। তাই এখানে সেখানে বহুবার হেনস্থা হয়েছি।
সাংবাদিক হিসাবে বহুবার গ্রেফতার হয়েছি,মামলার আসামী হয়েছি, হাজতে গিয়েছি। সে সব বিবরন এখন এখানে দিবোনা।
বৃটিশ ছিল বিদেশী শাসক। জোর করে ভারত দখল করেছিল। বাংলাদেশের ভিতর দিয়েই তারা শাসক হিসবে ভারতে প্রবেশ করে ১৭৫৭ সালে। বিদায় নিয়েছে ১৯৪৭ সালে। এই ১৯০ বছরে ভারত সবচেয়ে বেশী শোষিত হয়েছে। পুরো ভারত দখল করতে বৃটিশদের লেগেছিল ১০০ বছর। বাংলাদেশ তাদের দখলে ছিল ১৯০ বছর। আর দিল্লী ছিল ৯০ বছর। ভারতের শেষ সম্রাট কবি বাহাদুর শা্হ জাফরেকে পরাজিত করে তারা দিল্লী দখল করে। পুলিশী আইনগুলো তৈরি করে গেছে বৃটিশরা। উদ্দেশ্য জনগণকে দমন করা, সব সময় ভয়ের ভিতর রাখা। এই পুলিশরাই স্বাধীনতাকামীদের উপর সবচেয়ে বেশী অত্যাচার করেছে। পুলিশের নাম হলো আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনী। জনজীবনে শান্তি শৃংখলা রক্ষা করাই তাদের কাজ। শৃংখলা রক্ষার নামে পাকিস্তান আমলে তারা রাজনৈতিক কর্মী ও ছাত্রদের উপর অত্যাচার করেছে। বহু মানুষকে হত্যা করেছে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের ভুমিকা খুবই গৌরব জনক। বহু পুলিশ স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রাণ দিয়েছে। এজন্যে তাদের হাজারো সালাম জানাই। আমাদের পুলিশ কেন বৃটিশ বা আমেরিকার পুলিশের মতো হতে পারেনা? এর কারণ আইন। কোন সরকারই পুলিশের আইন পরিবর্তন করতে চায়না। সরকার মনে করে পুলিশী আইন থাকলে দমন নীতি কিভাবে চালাবো? পুলিশ আছে বলেইতো বিরোধী দলকে পিটানো যায়।
চোর ডাকাত, গুন্ডা বদমায়েশ আর মাস্তানরাতো রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করতে চায়না। তাই সরকার তাদের ভয় করেনা। তবে সমস্যা দেখা দিয়েছে, গুন্ডা বদমায়েশরা এখন রাজনৈতিক কর্মী হয়ে গেছে। ফলে গুন্ডামী এখন খুব বড় রাজনৈতিক কাজ ।
সুতরাং যারা মানবাধিকারের কথা বলেন তারা পুলিশী আইন বহাল রেখেই ছিটে ফোটা মানবাধিকার চান। পুলিশী আইন সব সময়েই নাগরিক বিরোধী আইন। পুলিশের ক্ষমতা নাগরিকের চেয়ে বেশী। এই গণবিরোধী আইন কখনই পরিবর্তন হবেনা।

Read Full Post »

« Newer Posts - Older Posts »