Feeds:
Posts
Comments

Archive for May, 2009


  

            
           

            সোনার বাংলা তুমি কেমন আছো? তোমার শরীর মন
            কেমন আছে জানতে আমার খুব ইচ্ছে করে। কিন্তু কেমন করে
            কোথায় জানবো।
            তেমার জন্যে ৭১ সালে আমরা কি না করেছি। লাখো লাখো মানুষ
            প্রাণ দিয়েছে, হাজার হাজার জনপদ ধ্বংস হয়েছে। পাকিস্তানীদের
            অত্যাচারের কারাগার থেকে তোমাকে মুক্তি এনে দিয়েছি। ৭১ এর
            পূর্বপাকিস্তান আজ স্বাধীন বাংলাদেশ। আমাদের নতুন পরিচয় আমরা
            একটি নতুন জাতি, আমাদের নতুন পতাকা নতুন জাতীয় সংগীত
            আছে। আমরা জাতিসংঘের সদস্য। আমাদের লাল সবুজ পতাকা
            পৃথীবীর সর্বত্র আকাশে উড়ছে। পৃথীবীর ৭০০ কোটি মানুষ আমাদের
            চিনে। আমরা সত্যিই আজ এক গৌরবান্বিত জাতি।
            স্বাধীনতার ৩৪ বছর পার হয়ে গেছে। আমরা অনেক দূর পথ এগিয়ে
            এসেছি। হে, আমরা সোনার বাংলা এখনও তোমার শরীরে এতো রক্তের
            দাগ কেনো।যেই সুযোগ পায় সেই তেমার শরীরে নখ বসিয়ে দেয়। এ
            নখওয়ালারা মানুষ না দানব বুঝতে কস্ট হয়।
            ২২ পরিবারের ভয়ে আমরা থরহরি কম্পমান ছিলাম।ওরা আমাদের সব
            খেয়ে ফেললো।এই শ্লোগানের  ভিত্তিতেই স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু
            হয়েছিল এবং স্বাধীনতা লাভ করেছি। সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিকাশের
            সুযোগ আমরা পেয়েছি। পুঁজির বিকাশ চাই বলেই আমরা স্বাধীনতা চেয়েছি। 
            স্বাধীন ভাবে নিজেদের ভাগ্য গড়ার সুযোগ চেয়েছি। এখন
            সে ভাগ্য গড়ে তোলার অফুরন্ত সুযোগ আমদের হাতে। স্বাধীনতার ফল ও
            সুযোগে বর্তমানে আমরা প্রায় প্রত্যেক জেলায়
            কমপক্ষে ১০০ জন করে কোটিপতি পেয়েছি। পৃথীবীর যে কোনো স্বাধীন
            দেশে নতুন অবস্থায় লুটেরা পুঁজি গঠনের সুযোগ দিতে হয়। সে সুযোগ             
            উদ্যোক্তারা পেয়েছেন। এদের উদ্যোগেই ১৯৮৩ সালে বেসরকারী ব্যাংক
            প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে উদ্যোক্তারা প্রচুর পুঁজির মালিক হন।
            তারপর তারা ইন্সুরেন্স সহ অনেক বড় বড় কল কারখানা স্থাপন করেছেন।
            অনেকেই অভিযোগ করেন নতুন পুঁজির মালিকরা অনেকে দেশের বাইরে
            অর্থ পাচার করে দিয়েছেন। আইনি বা বেআইনি পথে  পুঁজির                
            অবাধ বিকাশ ছাড়া পুঁজির পলায়নী মনোবৃত্তি বন্ধ করা সম্ভব নয়।
            দেশের অর্থনীতির বিকাশ হচ্ছে।পুঁজিকে কোলে তুলে লালন পালন করা
            সরকারের অবশ্য কর্তব্য। তবে একথা সত্যি যে আমাদের পুঁজি অতি বেশী
            লোভী ও মুনাফাখোর। স্বাধীনতার পরবর্তী সরকার    
            আওয়ামী আমলেই বেসরকারী পুঁজি বিনিয়োগের সীমা ৩ কোটি টাকা
            দশ কোটি টাকা করা হয়েছে। বেসরকারী পুঁজির বিকাশের উত্সাহ
            আওয়ামী আমলেই দেয়া শুরু হয়েছে। না দিয়ে উপায় ছিলোনা। বস্তাভরা
            কালো টাকাকে উত্পাদনে আনার ব্যাপারে এর কোনো বিকল্প ছিলোনা।সে
            কাজটা আওয়ামী লীগ যোগ্যতার সাথে করেছে।
            বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পতনের পর সামরিক আইন জারী হলেও
            উন্নয়নের ধারা অব্যাহত ছিলো। প্রসিডেন্ট জিয়ার দেশ গড়ার একটা
            বিরাট স্বপ্ন ছিলো। দেশের সেরা সেরা জ্ঞানীব্যক্তিদের নিয়ে তিনি
            কেবিনেট গঠন করেছিলেন।সোজা কথায় বলা যায় দেশের অগ্রগতি
            অব্যাহত রয়েছে। এখন প্রবৃদ্ধি সাত পারসেন্টের কাছাকাছি।
            যারা দিনের আলোতেও অন্ধকার দেখেন তাদের ব্যাপারে কার কি বলার
            থাকতে পারে। তারা অন্ধকারকেই ভালোবাসেন। যে মাটিতে তারা থাকেন
            যে মাটিতে তাদের দেহ গঠিত,যে মাটিতে তারা মিশে যাবেন সে মাটিকেই
            তারা ভালোবাসেন না। এরা নাকি দেশপ্রেমিক।
            বিগত ৩৪ বছরে বাংলাদেশের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো। প্রবৃদ্ধি কোনো
            বছর তিন হয়েছে, কোনো বছর ছয়ের কাছাকাছি হয়েছে। জিরো প্রবৃদ্ধি
            কোনো বছরই হয়নি।
          
           
            সারাদেশ এখন পাকা রাস্তায় সংযুক্ত। অতি আধুনিক বাসে করে দেশের
            যে কোনো জিলায় বা উপজিলায় যাওয়া যায়। উন্নয়নের প্রতীক হিসাবে
            রাস্তায় ষোল চাকার গাড়ী ও কনটেইনার দেখা যায়।
            টেলিফোন নেটওয়ার্ক দিন দিন বাড়ছে। তিরিশ লাখের মতো মোবাইল ফোন
            সারাদেশে কাজ করছে। অজপাড়া গাঁ থেকে বিদেশে ফোনে কথা বলা যায়।
            এসব কিন্তু কোনো দলের ক্রেডিট নয়। এটা দেশের গৌরব। অবাক লাগে
            বেশ কিছু শিক্ষিত লোক দেশের গৌরবে খুশী হতে চান না। বুঝতে পারিনা
            তারা এমন কেনো।
            ১৯৭০ সালে আমাদের খাদ্য উত্পাদন ছিলো ৯০ লাখ টন। এখন দু কোটি
            সত্তুর লাখ টন। অথচ লোক সংখ্যা দ্বিগুন হয়ে প্রায় ১৫ কোটির মতো হয়ে
            গেছে।গোল সহ সকল ধরনের শবজী উত্পাদন বেড়েছে। কোন অর্থনীতিবিদই
            বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন না দেশের অগ্রগতি হয়নি।

Read Full Post »


 

                                   

       ভারতের বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী জয়রাম রমেশ বলেছেন তাঁর দেশ একটি সেক্যুলার 
       বাংলাদেশ দেখতে চায়।তিনি আরও বলেছেন বাংলাদেশের রাজনীতি কোন পথে
       যাবে তা ভারত ঠিক করে দিতে চায়না।কিন্তু রমেশ বাবু গ্যারান্টি চান
       বাংলাদেশের মাটিতে যেন সন্ত্রাস বিরোধী ঘাঁটি না থাকে।বাংলাদেশ একটি
       মুসলমান প্রধান দেশ।দেশের ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমান।আর মুসলমান বলেই
       দেশটি ৪৭ সালে স্বাধীন হয়ে গেছে বিদেশী শাসন থেকে। পাকিস্তানের সাথে
       বাংলাদেশের মানুষের মুল বিরোধ ছিল অর্থনৈতিক।হাজারো বলেও পাকিস্তানী
       শাসকদের বুঝানো যায়নি দেশের পুর্বাঞ্চল পুর্ববাংলা শোষিত হচ্ছে।ইসলাম বা
       মুসলমানিত্বের বিরুদ্ধে পুর্ববাংলার মানুষের কোন রাগ বা বিদ্বেষ ছিলনা।
       মুসলিম মেজরিটি না হলে ৭১ সালেই আমাদের ভারতের সাথে মিশে যাওয়া
       উচিত ছিল।
       সেক্যুলার শব্দটি নিয়ে দুটো কথা বলতে চাই। এই শব্দটির উত্পত্তি ইংরেজী
       ভাষা থেকে। জাগতিক বিষয়ে যারা বেশী গুরুত্ব দেয় তাদের সেক্যুলার বলা
       হয় পশ্চিমাদেশে। সেক্যুলারিস্টরা ধর্মকে গুরুত্ব দেয়না এবং পরজগতে বিশ্বাস
       করেনা। কোন কোন অভিধানে বলা হয়েছে সেক্যুলারিস্টরা ধর্মের ব্যাপারে
       অনাগ্রহী। অথবা যারা ধর্মে বিশ্বাস করেনা তারাই সেক্যুলারিস্ট। রমেশ বাবুর
       দেশ ভারত কাগজে কলমে সেক্যুলার হলেও বাস্তবে ধর্মান্ধ একটি দেশ। সেখানে
       বছরে হাজার খানেক ছোট বড় রায়ট বা ধর্মদাংগা হয়ে থাকে। এসব দাংগার
       পেছনে রাস্ট্র বা রাজনৈতিক দল গুলোর সমর্থন থাকে। গুজরাটের কথা বিশ্ববাসী
       এখনও ভুলতে পারেনি। রাজনীতির নামে কাশ্মীরে প্রতিদিন রাস্ট্র মানুষ হত্যা
       করছে। ভারতের পুর্বাঞ্চলেও বিদ্রোহী দমনের নামে রাস্ট্র নিয়মিত মানুষ মারছে।
       ভারতের ২৫ কোটি হরিজন না মানুষ না হিন্দু। মাঝে মাঝে হরিজনদের পুড়িয়ে
       মারা হয়। খবরের কাগজে এসব খবর আমরা প্রায়ই পেয়ে থাকি। সেই ভারতের
       প্রতিমন্ত্রী রমেশ বাবু বাংলাদেশকে সেক্যুলার হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। রমেশ বাবুর
       কথায় দুঃখ পেয়ে এতগুলো কথা বললাম। রমেশ বাবু বাণিজ্য বিষয়ে কথা বলতে
       এসে সেক্যুলারিজমের ভাষন দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের সংবিধানের মুলমন্ত্র          

      পরিহার করার পরামর্শ দিয়েছেন। দুদেশের মধ্যে বিরাজমান বাণিজ্য বৈষম্য দুর
       করার জন্য ভারতকে রাস্তা ও বন্দর ব্যবহার করার সু্যোগ দেয়ার দাবী           

    জানিয়েছেন। চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করার ইচ্ছা ভারতের বহু দিনের। শুনেছি,
       ১৯৪৮ সালে নেহেরুজী জিন্নাহ সাহেবকে লিখেছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করার
       সুযোগ দেয়ার জন্য। জিন্নাহ সাহেব নাকি এক কথায় রাজী হয়ে গিয়েছিলেন।
       তবে শর্ত ছিল পাকিস্তানকে ভারতের উপর দিয়ে ট্রান্জিট দিতে হবে পুর্ব
       পাকিস্তান আসা যাওয়ার জন্য। নেহেরুজী জিন্নাহ সাহেবের সে চিঠির আর কোন
       উত্তর দেন নি। এখন ভারত বাংলাদেশের কাছে বন্দরও চাইছে , রাস্তাও চাইছে।
       অথচ ভারত বাংলাদেশকে নেপাল ও ভুটানের সাথে ব্যবসা করার জন্য আজও          

      রাস্তা দিতে পারেনি।
       ভারতের অতীত ও বর্তমান সরকার গুলোতে যদি সাদা দিলের মানুস থাকতো      

     তাহলে প্রতিবেশীদের সাথে তার হরহামেশা খিটমিট লেগে থাকতোনা। সত্যিকথা
       হলো ভারত কখনই প্রতিবেশীদের সাথে খাসদিলে সম্পর্ক উন্নয়ন চায়নি।
       ১৯৪৭ সাল থেকেই ভারত তার প্রতিবেশী দেশগুলোর উপর নানা ধরণের চাপ        

    অব্যাহত রেখেছে। একদিক থেকে বলবো জয়রামজী খাঁটি কথা বলেছেন। তিনি
       দিল্লীর দিলের কথা স্পস্ট করে বলে দিয়েছেন। এত খোলামেলা করে এর আগে    

       দিল্লীর কথা কেউ বলেনি। বাংলাদেশও জানতে পারলো দিল্লীর দিলে কি আছে।
       আমরা গর্বিত হয়েছি আমাদের পররাস্ট্র মন্ত্রনালয়ের তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখে।
       অত আস্থা আমাদের সরকারের উপর আমার ছিলনা। কিন্তু দেখলাম আমার
       ধারনা ভুল। পররাস্ট্র মন্ত্রণালয় কড়া ভাষায় রমেশ বাবুর কথার প্রতিবাদ
       করেছেন। দেশবাসীর পক্ষ থেকে ইফতেখার চৌধুরীকে লাখো ধন্যবাদ।
       অনির্বাচিত সরকার বলে দেশে-বিদেশে নানাজন নানা ভাবে সরকারের উপর চাপ
       বা প্রভাব খাটাবার প্রচেস্টা রাখতে পারে।
       ভারতের এমন মনোভাব বিরাজমান কালে মায়ামারের সাথে সংযোগ সড়ক        

      নির্মানের চুক্তি খুবই উল্লেখযোগ্য ঘটনা। জরুরী সরকার এই চুক্তিটি সম্পন্ন করায়
       ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে এই চুক্তি বিরাট অবদান রাখবে।
       পরিকল্পিত ২৫ কিলোমিটারের রাস্তাটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে চীনের সাথেও     

      বাংলাদেশের সড়ক যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। দেশ এবং এর
       অর্থনীতি এখন খুবই সংকটের ভিতর দিয়ে অতিক্রম করছে। মুল্যস্পীতির হার
       বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারন সম্পাদক ডঃ আবুল বারাকাতের মতে ১৬       

   শতাংশের মতো। যদিও ডঃ বারাকাতের তথ্যগুলো সব সময় নির্ভরযোগ্য নয়।
       তবে একথা একশ ভাগ সত্য যে দ্রব্যমুল্য সীমাহীন ভাবে বেড়ে চলেছে। শত চেস্টা       

  করেও সরকার কিছু করতে পারছেন না। দ্রব্যমুল্য সহনীয় ও গ্রহণীয় পর্যায়ে
       রাখতে ব্যর্থ সরকার ব্যর্থ হয়েছেন একথা এখন বলার অপেক্ষা রাখেনা। কিন্তু
       অবাক লাগছে দ্রব্যমুল্য বাড়ার কারণ কি তা সরকার বুঝতে পারছেন না বা          

  বুঝতে চাইছেন না। চাহিদা ও সরবরাহের মাঝে সমন্বয় না হলেই বাজারে

       অস্থিরতা দেখা দিবে এবং পণ্যের দাম বাড়বে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম
       বাড়লেও আমদানীকৃত পণ্যের দাম বাড়বে। চলমান সরকার বিষয়টা ভাল
       ভাবেই অবগত আছেন। তবুও কোথাও কোন মজুতদারি  আছে কিনা তাও
       খতিয়ে দেখা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। কিছু সংবাদপত্র আর বুদ্ধিজীবীর
       কথায় নাচলেও চলবেনা। বেশ কয়েক বছর ধরে আমরা অদৃশ্য সিন্ডিকেটের
       কথা শুনে আসছি। এ যেন অন্ধকারে কালো বিড়াল খুঁজে বেড়ানো।। সরকারকে
       বিভ্রান্ত করাও মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবীদের কাজ হতে পারে।
       ১/১১র ঘটনা দেশের অর্থনীতিকে স্থবির করে দিয়েছে। একথা সবাই বুঝতে
       পারলেও সরকার বুঝতে পারছেন না। সরকারের উপদেস্টারা নানাকথা বলছেন,
       কারো কথার সাথে কারো মিল নাই। আইন উপদেস্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন
       বলছেন সরকার ব্যর্থ হতে চলেছে। যদি তাঁরা ব্যর্থ হন তাহলে দেশ গভীর
       সংকটে নিপতিত হবে। দেশবাসীর দায়িত্ব সরকারকে ব্যর্থ হতে না দেওয়া।
       ব্যারিস্টার সাহেব আরও বলেছেন, তাঁদের গণসংযোগের একমাত্র মাধ্যম মিডিয়া।    

       সেখানেও তাঁরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছেন না। জেনারেল মতিন ব্যারিস্টার
       মইনুল হোসেনের সাথে একমত হতে পারেন নি। জেনারেল সাহেব বলেছেন,
       সরকারের ব্যর্থ হওয়ার প্রশ্নই উঠেনা। তিনি বলেছেন ছ’মাস সময়ের মধ্যে
       অতীতের কোন সরকার এত কাজ করতে পারেনি।
       এসব কথা চালাচালির মাঝেই দেশে মহাবন্যা এসে গেল। এখন চারিদিকে বন্যার্ত
       মানুষের হাহাকার। কয়েকশ’ নারী ও শিশু মারা গেছে বন্যার কারেণে। খোদ
       রাজধানীতেই কয়েক হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত। সেখানেও নিয়মিত কোন
       সাহায্য যাচ্ছেনা। শুরুতে ক’দিন সরকার বন্যার বিষয়টাকে আমলেই আনেন নি।
       বরং দলমত নির্বিশেষে বন্যার্তদের সাহায্যে এগিয়ে আসার ব্যাপারে শুরু হয়ে গেল
       তর্কবিতর্ক। সাহায্যের চাইতে গুরুত্বপুর্ণ হয়ে গেল কে ব্যানার নিয়ে যাবে আর কে     

     যাবেনা। সে বিতর্ক চললো দু’তিন দিন। এবং এখনও চলছে। প্রধান উপদেস্টা
       বললেন রিলিফ বা সাহায্য বিতরনের ব্যাপারে সমন্বয় করতে হবে। আওয়ামী
       সংস্কারপন্থী নেতা তোফায়েল সাহেব বললেন, ডিসির অধীনে রাজনৈতিক দলগুলো     

     ত্রাণের করবে এ প্রস্তাব অবান্তর অবাস্তব। সত্যিকথা হলো সরকার নানা রকম
       মানসিক অস্থিরতায় ভুগছেন। ক্ষমতা গ্রহণের শুরুতেই যদি জনগণকে বুঝাতে
       পারতেন তাঁরা কেন ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন তাহলে এত ভুল বুঝাবুঝি হতোনা।
       ১/১১র দিন জনগণ মনে করেছিল দুই দলের রক্তক্ষয়ী মারামারি থেকে দেশবাসী
       বাঁচলো। সেদিন দেশের সব মানুষ জরুরী অবস্থা জারীকে সমর্থন করেছে। দুই দলের
       অরাজনৈতিক কার্যক্রমকে মানুষ নিন্দা করেছে। কিন্তু নিরপেক্ষ জরুরী সরকারের      

  মনে কি ছিল তা তখন জনগণ জানতোনা। আস্তে আস্তে দেশবাসী দেখলো নির্বাচনের
     চেয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা সরকারের হাতে আছে। সেসব এজেন্ডা বাস্তবায়নের
     জন্য অনেক সময় লাগবে। ৫/১০/১৫ বছর। সরাকারের উপদেস্টারা অবশ্য বলেছেন,
     শুধু নির্বাচন তাঁদের লক্ষ্য নয়। তাঁরা ভাল মানুষ দিয়ে ভাল নির্বাচন করতে চান। সে    

  লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। এমন কি কেউ কেউ বলেছেন ভাল মানুষ কি তা        

   ভোটাদের বুঝিয়ে দিতে হবে। এসব কথা থেকে দেশবাসী বুঝতে পারলো আগামী
     নির্বাচন শুধু ভাল প্রার্থীর নির্বাচন নয় ,ভাল ভোটারেরও। ১৯১৯,১৯৩৫ সালের দিকে
     ভারতের জনগণের সরকার প্রতিস্ঠার লগ্নে কথা উঠেছিল কারা ভোটার হবে।
     শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হলো যারা চৌকিদারি ট্যাক্স দিবেন তারাই ভোটার হবেন। মার্কাও
     চালু করা হয়েছিল ভোটারদের সুবিধার জন্য। মার্কা দেখে ভোট দেয়া ভোটারদের জন্য
     সহজতর। কারণ তারা পড়তে পারেন না। মার্কা দেখে সীল দিলেই চলবে।
     এখন প্রশ্ন উঠেছে ভাল মানুষ বা প্রার্থী কারা। অথবা সত্ মানুষ কারা। প্রস্তাবিত
     ফেরদৌস কোরেশী সাহেব বলেছেন ১০০ ভাগ সত্ মানুষ পাওয়া যাবেনা। তিনি
     নিজেও একশ ভাগ সত্ কিনা হলফ করে বলতে পারবেন না। কোরেশী সাহেব ১০০
     ভাগ খাঁটি কথা বলেছেন। তাঁকে ধন্যবাদ। অন্যদিকে সংস্কারপন্থী সময়ের পাহলোয়ান
     হুজরাখানায় যাঁরা আসা যাওয়া করছেন তাঁরাও ১০০ ভাগ খাঁটি একথাও কেউ বুকে
     হাত দিয়ে বলতে পারবেন না।
     তবে আমরা খবর পাচ্ছি যে অদৃশ্য পাহারাদার আগামী নির্বাচনের ছক এঁকে দিয়েছেন।
     সে অনুযায়ী কারা নির্বাচিত হবেন তারও তালিকা তৈরী হচ্ছে। কারা মন্ত্রী হবেন
     তাঁরাও তৈরী হচ্ছেন। আমরা বন্ধুদের কাছ থেকেই এসব কথা শুনতে পাই। কোরেশী
     সাহেব ৭৫/১০০ জন সাবেক এমপিকে জাতীয় কমিটি করতে চান। এখন তাঁর বালাম
     নৌকায় যাঁরা সওদা করতে এসেছেন তাঁদের বেশীর ভাগ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা।
     কোরেশী সাহেব এক সময় ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। জাতীয় পার্টির কিছু নেতাও
     দরাদরি করছেন। কিন্তু কোরেশী সাহেবের ভরসা ধানের শীষ মার্কার সাবেক
     এমপিদের উপর। ব্যাটে-বলে লাগছেনা। খালেদা জিয়ার ভাগ্য এখনও নির্ধারিত হয়নি।
   
     সরকার বা নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনের
     নতুন সুর্য উঠবে কেমন করে। যে দুজন নেতা নতুন কিছু করার উদ্যোগ
     নিয়েছেন তাঁরা দুজনই বিএনপি ঘরানার মানুষ। সময়ের পাহলোয়ান ‘ছুপা হুয়া রুস্তম’
     মান্না ভুঁইয়া ছাত্র ইউনিয়ন, ন্যাপ,ইউপিপি, পার হয়ে বিএনপিতে এসে নেতা
     হয়েছেন। এর আগে তিনি চার-পাঁচশ’ ভোট পেতেন। খালেদা জিয়া এই রুস্তমকে
     কি গুণ দেখে দলের মহাসচিব করেছিলেন তা বোধগম্য নয়। তিনি যে বিএনপি
     ঘরানার লোক নন তা খালেদা জিয়াকে বহুবার বুঝানো হয়েছে।
     কোরেশী সাহেব ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। বাংলা ছাত্রলীগের প্রতিস্ঠাতা। আতাউর     

 রহমান সাহেবের জাতীয় লীগে ছিলেন। স্বাধীনতার পর ওসমানী সাহেবের পার্টিতে
     ছিলেন। বিএনপি গঠিত হলে দলের যুগ্ম মহাসচিব মনোনীত হন। কোরেশী সাহেব       

   একজন মেধাবী মানুষ। রাজনীতিতে তাঁ আরও ভাল করা উচিত ছিল। কেন       

  পারেন নি তা কোরেশী সাহেব নিজেই ভাল জানেন। তিনি ৯১ সালে বিএনপির
     ধানের শীষ মার্কায় নির্বাচন করেছিলেন। জিতেছিলেন বলেও খবর প্রচারিত
     হয়েছিল। কিন্তু পরে তাঁ বিজয়কে ডাকাতি করে নিয়ে গেছে আওয়ামী লীগ।২০০১
     সালে তিনি ধানের শীষের নমিনেশন পান নি। সেই থেকে বিএনপির সাথে তাঁর দুরত্ব
     বাড়তে থাকে। জরুরী সরকারের আমলে দুরত্বের গোপনীয়তা আর গোপন থাকেনি।অদৃশ্য    

  পাহারাদার যাঁরা রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের গায়েবী ভাবে পাহারা দেন তাঁরা
     জানেন কার মনে কি কস্ট আছে। কস্ট লাঘবের জন্য তাঁরা বেছে নিয়েছেন
    কোরেশী সাহেব, মান্নান ভুঁইয়া ও সুরন্জিত বাবুদের। সেই থেকে জিগির উঠে গেল
    ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলার। দেশের রাজনীতিতে সংস্কারবাদী নামে নতুন একদল রাজনীতিকের
    উত্থান হলো। যদিও দেশবাসীর কাছে বহু পুরাণো। আনেক চেসটা তদবীর হচ্ছে তাঁদের
    বাদ দেওয়ার জন্য। শেখ হাসিনার গ্রেফতারের সাথে সাথে তোফায়েল সাহেবরা চুপচাপ
    হয়ে গেছেন। বলছেন নেত্রীকে জেলে রেখে কোন সংস্কার হবেনা।
    মান্নান ভুঁইয়ারা এখনও থামেন নি।
    কাগজে বেরিয়েছে বাংলাদেশ ব্যান্ক ১৯৮ জন তথাকথিত দুর্নীতিবাজের হিসাব সংগ্রহের    

 কাজ স্থগিত করেছেন। কার নির্দেশে কেন এ অভিযান বাংলাদেশ ব্যান্ক স্থগিত
    করলো তার কোন ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। নির্বাচন কমিশন শক্ত ভাষায় বলেছেন তাঁরা
    সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপ শুরু করবেন। কোন কিছুই ২০০৮ সালের
    নির্বাচনকে পিছাতে পারবেনা। নির্বাচন কমিশন এখন স্বাধীন। তাঁরা ঘোষিত রোডম্যাপ
    মতোই চলবেন। ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেছেন, ঘরোয়া রাজনীতি চালু হওয়ার
    আগে রাজনীতিবিদদের বলতে হবে আগামী দিনে তাঁরা কি ধরণের রাজনীতি করবেন।
    আর রাজনীতিবিদরা বলছেন রাজনীতি আর নির্বাচনের সংস্কারের জন্যই সংলাপের 

    প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা না করেতো নির্বাচন করা যাবেনা।
    বিশেষ করে বিএনপি আর আওয়ামী লীগের সাথেতো আলোচনা করতেই হবে।
    জাতীয় দুর্যোগ বন্যা মোকাবিলাতেও সরকার খোলামনে সমগ্র জাতিকে এক্যবদ্ধ করতে
    বিলম্ব করেছেন। নানা শর্ত জুড়ে দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে আহবান করেছেন।
    দেশবাসী এখন বুঝতে পারে বড় দুটি রাজনৈতিক দল সম্পর্কে সরকারের মনে নানা
    দ্বিধাদ্বন্ধ বিরাজ করছে। বড় দুটি দল যাঁদের চারকোটি ভোটার রয়েছে তাঁদের আস্থায়
    না নিয়েই সরকার নানা কাজে হাত দিয়েছেন। ভালকথা সরকার রাজনীতিবিদদের
    বাদ দিয়েই ভাল কাজ শুরু করেছেন। কিন্তু অল্প সময়ে এত বেশী কাজ করা যায়না
    তা সরকার বুঝতে পারেন নি।ফলে দেখা দিয়েছে নানা জটিলতা।
    একদিকে নির্বাচন অন্যদিকে দুর্ণীতি। সরকার যদি শুরু থেকেই বলতেন দুর্ণিতি দমনই
    তাঁদের কাছে প্রধান ও একমাত্র কাজ। তাহলে সবকিছু সেভাবেই চলতো।দেশবাসীও
    মেনে নিতো। দুর্ণিতি দমনের সুনামীতে দেশের অর্থনীতি আজ একেবারেই স্থবির।
    বিনিয়োগ নেই, বেচাকেনা নেই, সর্বস্তরের মানুষের মনে শংকা বিরাজ করছে।
    এ অবস্থা চলতে থাকলে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পতন অনিবার্য। দুর্ণিতির অন্ধকারে
    ডুবেও প্রবৃদ্ধি ৭ ভাগে পৌঁছে গিয়েছে। আমরা আশা করছিলাম আগামীদিনে এই প্রবৃদ্ধি
    ১০ ভাগে পৌঁছাবে। যে ১/১১কে আমরা সৌভাগ্য মনে করেছিলাম তা দুর্ভাগ্য নিয়ে
    এসেছে মাত্র সাত মাসে। কয়েক হাজার দুর্ণীতিবাজকে শাস্তি দিতে গিয়ে ১৪ কোটি লোক
    কস্ট পাচ্ছে। বন্য মহামারীতে সে কস্ট লক্ষগুণ বেড়ে গেছে। আমরা এর আগেও বলেছি    ,এখন আবার বলছি সংস্কার কোন বিপ্লব নয়। এটা চলমান প্রক্রিয়া,অব্যাহত গতিতে     চলতে থাকবে। আগামী সরকারও চালিয়ে যাবে। আমার মতে সরকারের এখন প্রধান
    কাজ নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া এবং ব্যাপক সংস্কারের জন্য আইন তেরী করা। সকল     রাজনৈতিক দলকে সংস্কারের সাথে জড়িত করা। বিলম্বে দেশের অর্থনীতির আরও
    ক্ষতি হয়ে যাবে।

Read Full Post »


 

                                 
        খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের মাধ্যমে সরকার বা অদৃশ্য সরকারের     

    ‘মাইনাস টু’ কর্মসুচী বাস্তবায়িত হতে চলেছে। চলমান জরুরী সরকারের প্রধান       

     লক্ষ্য বাস্তবায়নে আট মাস সময় নিয়ে ফেলেছেন। মাঝখানে দুর্ণীতির কথা বলে
        দেশে একটা টালমাটাল অবস্থার সৃষ্টি করেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে
        এক অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে সরকার প্রধানগণ ব্যবসায়ী নেতাদের
        সাথে খোলাখুলি কথা বলেছেন এবং মত বিনিময় করেছেন। তাতে পরিস্কার হয়েছে
        অর্থনীতির অচল অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সরকারের কি করা দরকার      

   বা উচিত। সর্বশেষ প্রধান উপদেস্টা জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে বন্ধী ঘরোয়া
        রাজনীতিকে শর্তাধীনে মুক্ত করে দিয়েছেন।
        আইন উপদেস্টা বলেছেন,এসব কোন শর্ত নয়। আমরা দেখছি রাজনীতিকরা
        কিভাবে আচরন ব্যবহার করেন। তিনি আরও বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো
        কোন লিমিটেড কোম্পানী নয়। এখানে সত্‍ ও ত্যাগী লোকদের আসতে হবে।
        আইন উপদেস্টা কি ভুলে গেছেন , তিনি, তাঁর পরিবার ও সংগঠণ রাজনীতির
        ফসল। রাজনৈতিক সহযোগিতায় ইত্তেফাক প্রতিস্ঠিত হয়েছে। রাজনীতিকরা
        আজ চলমান সরকারের ছাত্রে পরিণত হয়েছেন।
        দেশের চলমান অবস্থা সম্পর্কে সম্প্রতি প্রকাশিত তালুকদার মনিরুজ্জমান সাহেব
        ও ফরহাদ মজাহার সাহেবের লেখার সাথে একমত প্রকাশ করে বলতে চাই,
        রাজনীতি সম্পর্কে ইতোমধ্যে অরাজনৈতিকরা যেসব কথা বলেছেন তা দেশ ও
        রাজনীতির জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক। সময়ের কারণে আজ সাবেক সামরিক
        ও বেসামরিক আমলারা কথা বলছেন এবং উপদেশ বিতরন করতে শুরু করেছেন।
        অথচ রাজনীতিবিদরাই দেশটা স্বাধীন করেছেন। রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে ঘৃণা
        কার উপকার করতে চাইছেন উপদেস্টা এবং তাঁদের অদৃশ্য পরামর্শকরা। দেশকে
        রাজনীতি শুন্য করার চেস্টা করাটাও একটা ষড়যন্ত্র। এই ষড়যন্ত্র বাংলাদেশকে
        গভীর সংকটে ফেলে দেয়ার ইংগিত বহন করছে।
        দুর্ণীতি দমন ও রাজনৈতিক সংস্কারের নামে দশ উপদেস্টার সরকার এবং অদৃশ্য
        পরামর্শকরা রাজনীতি করছেন তাও দেশবাসীর কাছে পরিস্কার। জোর বা ষড়যন্ত্র
        করে একটা তাবেদার সরকার প্রতিষ্ঠা করা কোন কঠিন কাজ নয়। কিন্তু ওই
        সরকারকে পাহারা দেবে কে ? একথা দশ উপদেস্টার সরকারকে মনে রাখতে
        হবে। অতীতের বহু অনির্বাচিত সরকার জোর করে বা ভাওতাবাজি করে
        তথাকথিত নির্বাচিত সরকার প্রতিস্ঠিত করেছিল। আইউব খান ও এরশাদ সাহেব
        রাজনীতির নামে বহু খেলা মানুষকে দেখিয়েছিলেন। উভয় ডিক্টেটর গণরোষের
        ক্ষমতা ত্যাগ করেছেন। আইউব খান বলেছিলেন দেশের মানুষ গণতন্ত্র বুঝেনা।
        তাই তিনি মৌলিক গণতন্ত্র চালু করেছিলেন। সেই মৌলিক গণতন্ত্র এখন ইতিহাসের
        পাতায়। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে ধিকৃত ব্যক্তি এরশাদ সাহেব
        এখন খুশীতে ডগমগ। কারন যাঁরা তাঁকে জেলে পাঠিয়েছিলেন তাঁরাও এখন জেলে।
        সেনাপ্রধান মুইন বলেছেন, দেশের ভোটারদের সচেতন করতে হবে। তাঁরা যেন
        মন ভুলানো কথায় আর ভোট না দেন। আবেগের বশবর্তী হয়ে                  

    সম্মানত ভোটারগণ যেন কোন বিশেষ মার্কায় ভোট না দিয়ে দেন। বাংলাদেশের
        রাজনীতিতে বর্তমানে ধানের শীষ ও নৌকা প্রধান মার্কা। দুই মার্কার ভোটের
        পরিমান চার কোটির মতো। বাজারে গুজব দুই মার্কা বাতিল করা হবে এবং
        দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে বহিস্কার করা হবে।
        প্রখ্যাত রাস্ট্রবিজ্ঞানী তালুকদার মনিরুজ্জামান বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে
        খালেদা ও হাসিনা হচ্ছে ফিনিক্স পাখির মতো। যতই ধ্বংস করার চেস্টা করো
        ভস্ম থেকে ওরা আবার জেগে উঠবে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুটি প্রধান ধারা।
        একটি ধারার প্রতিনিধিত্ব করে আওয়ামী লীগ, অপরটি বিএনপি।
        আওয়ামী লীগ বাংগালি জাতীয়তাবাদ সহ ধর্ম নিরপেক্ষ রাজনীতিতে বিশ্বাস
        করে। বিএনপি ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করে।
        জনগণ এ দুটি দলকে তাদের নিজেদের দল মনে করে। দুটি দলের ভোটের           

   পরিমান চার কোটির মতো। রাজনীতি হচ্ছে জনগণের বিশ্বাসের ব্যাপার। এটা
        জ্ঞানী, বিজ্ঞানী বা দার্শনিকদের ব্যাপার নয়। মেধাবী আমলাদের ব্যাপারও নয়।
        প্রখ্যাত কবি ও লেখক ফরহাদ মজাহার বলেছেন, খালেদা ও হাসিনা সাদা
        কাগজে পেন্সিলে লেখা দুটি নাম নয় যে রাবার দিয়ে মুছে ফেলা যাবে। যাঁরা
        দশ উপদেস্টার সরকার বা অদৃশ্য পরামর্শকদের ‘মাইনাস টু’র শলা দিয়েছেন
        তাঁরা দেশবাসী ও দেশের কল্যাণ কামনা করেনা।
        সময়ের সাথে সাথে সংস্কার অপরিহার্য। প্রয়োজনের তাগিদে যাঁরা সংস্কার করেনা
        তাঁরা বাঁচতে পারেনা। সমাজ দেশ রাস্ট্রে সংস্কার নদীর মতো অবিরাম ধারা।
        ১৯৪৯ সালে মাওলানা ভাসানী প্রতিস্ঠিত আওয়ামী লীগ এখন আর নেই।
        ১৯৭৮ সালে জেনারেল জিয়া প্রতিস্ঠিত বিএনপিও নেই। যে মুসলীম লীগ
        পুর্ব পাকিস্তান স্বাধীন করেছিল সে মুসলীম লীগ এখন আর বাংলাদেশে নেই।
        জনগণ মুসলীম লীগকে প্রত্যাখ্যান করেছে। মুসলীগের মুখপাত্র দৈনিক আজাদও
        নেই। যে সংবাদ প্রতিস্ঠা করেছিলো মুসলীম লীগ সে সংবাদও নেই। দৈনিক
        ইত্তেফাক ছিলো আওয়ামী লীগের কাগজ, এখন তা পারিবারিক কাগজ। এসবই
        সংস্কারের ইতিহাস। সংস্কার প্রয়োজনের আগেও করা যায়না পরেও করা যায়না।
        ইতিহাস খ্যাত পাগলা তোগলক একজন মেধাবী শাসক ছিলেন। কিন্তু সময় তাঁকে
        প্রত্যাখ্যান করেছে।
        চলমান সময়ে সংস্কার শব্দটি স্যাটায়ারে পরিণত হয়েছে। কারণ জরুরী অবস্থায়
        সরকার বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। আমি ব্যক্তিগত ভাবে সংস্কার করি। আমি
        মনে করি রাজনৈতিক দলগুলোর চলন-বলন আরও স্পস্ট ও স্বচ্ছ হওয়া দরকার।
        সরকার পরিচালনা ব্যবস্থারও সংস্কার প্রয়োজন। তবে মনে রাখতে হবে সংস্কার
        কোন ধরণের বিপ্লব নয়। চাপিয়ে দিলে এটা চলেনা। সংস্কারের জন্য জনগণকে
        মানসিক ভাবে প্রস্তুত করতে হবে। জেনারেল আইউবের মুসলীম পরিবার আইন
        ছিল একটি কঠিন বিপ্লবী পদক্ষেপ। মাওলানা সাহেবদের বিরোধিতা স্বত্তেও
        সাধারন মানুষ তা গ্রহন করেছে। নোয়াখালীতে একটা প্রবাদ আছে, তাহলো-
        ‘চৈত্ মাসের ওয়াজ মাঘ মাসে চলেনা’। তবুও আশা করি আমাদের রাজনীতিতে
        ব্যাপক সংস্কার হওয়া দরকার। যেমন কথায় কথায় হরতাল-মিছিল-ভাংচুর
        বন্ধ করতে হবে। এখন চারিদিকে সংস্কারের হাওয়া বইছে তা অদৃশ্য মহল
        চাপিয়ে দিয়েছে বলেই জনগণ মনে করে। সংস্কারপন্থীদের অবস্থা ক’দিন পরেই
        বুঝা যাবে। আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনাই তার প্রমান।
        আট মাস পার হবার পর সরকার বুঝতে পেরেছেন অর্থনীতির অবস্থা দিনদিন
        খারাপের দিকে যাচ্ছে। তাই সরকার তার মত ও পথ বদলাতে শুরু করেছেন।
        মানে তারা বাস্তবতা বুঝতে পেরেছেন। ডঃ রহমান জিল্লুর খুবই স্পস্ট ভাষায়        

    বলেছেন, সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেই শত বছরের পুরাণো গ্রামের হাট বাজার
        উচ্ছেদ করেছেন। অনেক সে বাজার এখনও প্রতিস্ঠিত হয়নি। বাজার কেন
        তুলে দেয়া হয়েছে সে ব্যাখ্যা সরকার আজও দিতে পারেন নি। রাজধানীর
        হকার ব্যবস্থা তুলে দিয়ে সরকারের কি লাভ হয়েছে তা আজও জানা হলোনা।
        হকারদের সাথে লাখো লাখো মানুষের জীবিকা জড়িত। একথা গুলো আমরা
        থেকেই বলে আসছি। রাজনৈতিক সরকার গুলো ওই কাজ কখনই করেনি,           

    করতোনা। কারণ তাঁরা জনগণের সমস্যা বুঝতে পারে।
        ঘরোয়া রাজনীতি শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে
        কথা বলা শুরু করেছেন। শুনতে খুবই ভাল লাগছে। আমরা খুবই আন্তরিকভাবে
        চাইছি দেশে শান্তিপূর্ণ ভাবে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন অনুস্ঠিত হোক। দেশে
        নির্বাচিত সরকার প্রতিস্ঠিত হোক। অরাজনৈতিক সরকার কখনই দেশের জন্য         কল্যাণকর নয়। পাকিস্তানে সামরিক শাসন সেই দেশটাকে ধ্বংসের পথে নিয়ে
        গেছে। সামরিক নেতাদের ক্ষমার অযোগ্য ব্যর্থতার কারণেই ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ
        অনুস্ঠিত হয়েছে। পাকিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কখনও যায়নি। হয়ত
        কোনদিন যাবেওনা। পাকিস্তানের কারণেই আফগানিস্তানের আজ এই অবস্থা।
        সেনাবাহিনী প্রধান শুরুতে নানা কথা বলেছেন। তিনিই বলেছিলেন ৩৬ বছরে
        দেশে কিছুই হয়নি। থিনি দুর্ণীতির বিরুদ্ধে মহাযুদ্ধ শুরু করেছিলেন। এখন বলছেন
        ৩৬ বছরে দেশের অনেক উন্নতি হয়েছে। দুর্ণীতিকে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে
        হবে। তিনি যদি পূর্বপাকিস্তান বা বাংলাদেশের পূঁজি বিকাশের ইতিহাস ভাল করে
        জানতেন তাহলে কর্পোরেট দুর্ণীতি এতকথা বলতেন না। সরকারি দুর্ণীতির
        বিরুদ্ধে তিনি বা তাঁর সরকার তেমন কঠোর মনোভাব গ্রহণ করেন নি।
        টিআইবি সবসময় সরকারী দুর্ণীতির কথাই বলে এসেছে। সরকারই দুর্ণীতিতে
        বহু বছর প্রথম স্থান অর্জন করেছে। কিন্তু বদনাম হয়েছে বাংলাদেশের।
        শুরুতে সেনাপ্রধানের কথা শুনে মনে হয়েছে তিনি রাজনীতির বিরুদ্ধে জেহাদ
        ঘোষণা করেছেন। দেশে একটি অরাজনৈতিক অবস্থা সৃষ্টির জন্য দেশী-বিদেশী
        কিছু ব্যক্তি বা সংগঠন উঠে পড়ে লেগেছে। অদৃশ্য একটা শক্তি বহুদিন ধরে
        বাংলাদেশের বিরুদ্ধে লেগে রয়েছে। তাঁরা চায়না বাংলাদেশ উন্নত স্থিতিশীল
        দেশ হিসাবে প্রতিস্ঠিত হোক। সেই অদৃশ্য শক্তিই ১/১১র পূর্বের এবং পরের
        ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দেশের মানুষ মনে করে।
        দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি সরকারকে একেবারেই দূর্বল করে ফেলেছে। তারসাথে চলছে
        জনগণের মনে এক নিদারুণ অনিশ্চয়তা। দেশের বড় বড় শিল্পগ্রুপের মালিকগণ
        দুর্ণীতির অভিযোগে দেশছাড়া অথবা জেলের ভিতরে। রাজনীতিতেও চলছে
        অকল্পনীয় অস্থিরতা। সবকিছু মিলিয়ে দেশের অবস্থা মোটেই ভাল নয়। এমনি
        এক পরিস্থিতিতে আইএমএফ ঘুরঘুর করছে চাপ দিয়ে অধীনতামূলক মিত্রতার
        চুক্তি স্বাক্ষর করাবার জন্য। অর্থ উপদেস্টা বলেছেন তিনি দেশের স্বার্থ বিরোধী
        কোন চুক্তি করবেন না। আইএমএফ প্রতিনিধিরাও বলেছেন তাঁরা জনমতের
        বিরুদ্ধে কোন চুক্তি করবেন না। কিন্তু তাঁরা পরামর্শক হিসাবে যে কোন চুক্তি
        করতে চান।
        আমরা যারা পত্রিকায় কলাম লিখে সরকারকে পরামর্শ দিই বা সমালোচনা করি
        কোনভাবেই সরকারের প্রতিদ্বন্ধী নই, শত্রুও নই। আমরা সরকারকে কেউ
        উত্‍খাত করতে চায় একথাও বিশ্বাস করিনা। আমাদের কোন পরামর্শ শুনা             

 বা না শুনা একশ’ভাগ সরকারের এখতিয়ারে। আমরা দেশকে ভালবাসি, গভীর
        ভাবে ভালবাসি। দেশটা আবার গরিবী বা দারিদ্রের দিকে ফিরে যাক এটা আমরা
        চাইনা। দেশবাসীও চায়না। আমাদের বিশ্বাস চলমান জরুরী সরকারও চান না।
        বাংলাদেশ অফুরন্ত সম্ভাবনার দেশ, একথাটা দেশের শত্রুরা বুঝতে পেরেছে।
        এখন দেশের নেতারা বুঝতে পারলেই হয়। আর বুঝার জন্য চাই রাজনৈতিক
        বোধ। অনির্বাচিত অরাজনৈতিক সরকারের সেই বোধ থাকার কথা নয়।
        বর্তমান বিশ্বে একটি দেশ বা রাস্ট্র নেই যার সুস্পস্ট রাজনীতি নেই। এই
        রাজনীতির মানে হচ্ছে ফিলসফী বা দর্শণ। এই দর্শণই রাস্ট্রের ভিত্তি বা
        ফাউন্ডেশন। পাকিস্তান থেকে আলাদা হওয়ার মুল কারণ ছিল অর্থনৈতিক ও
        সাংস্কৃতিক মুক্তি। রাজনৈতিক দলগুলো নিজ নিজ কর্মসুচী দ্বারা জনগণের
        সেই মুক্তির পথকে তরান্বিত করবে। চলমান জরুরী সরকার কোনভাবেই রাস্ট্রের
        মুল ভিত্তির বিরুদ্ধে যেতে পারেনা। চলমান অর্থনীতির অগ্রযাত্রার বিরুদ্ধে
        যেতে পারেনা। আমরা খুবই আনন্দিত হতাম যদি দেখতাম সরকার অর্থনীতির
        চাকাকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার বাস্তব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।
        না, তাঁরা তা গ্রহণ করেন নি। বরং দুর্ণীতি উচ্ছেদের নামে অবাস্তব কর্মকান্ড
        দিয়ে অর্থনীতিকে স্থবির করে দিয়েছেন। সংস্কারের নামে রাজনীতিতে অস্থিরতা
        তৈরী করেছেন। ফলে সরকারের লক্ষ্য ও এজেন্ডা নিয়ে জনমনে নানা সংশয়
        ঘুরপাক খাচ্ছে। সংশয় দূর করার জন্য সরকার আট মাসেও কোন ব্যবস্থা
        গ্রহণ করতে পারেন নি। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ জানতেই
        সরকারের আট মাস পার হয়ে গেছে। কিন্তু কারণ এখনও জানা যায়নি।
        একপাল সুশীলের সাথে সুর মিলিয়ে প্রথম দিকে বলেছিলেন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির
        জন্য সিন্ডিকেট দায়ী। এখন বলছেন আন্তর্জাতিক বাজার দায়ী। ক’দিন আগে
        অর্থ উপদেস্টা বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে যে পরিমাণ দাম বেড়েছে
        বাংলাদেশে সে পরিমাণ বাড়েনি। গত এক বছরে নাকি জনগণের আয়ও
        বেড়েছে ১১ ভাগ। ভাগ্য ভাল  দেশে রাজনীতি নেই, মৌলিক অধিকারও নেই।
        থাকলে কোন অর্থমন্ত্রী একথা বললে তাঁর গদি থাকতোনা।
        আমরা মনে করি জরুরী সরকারের খুব বড় বড় বেশী বেশী কাজ করার দরকার     

    নেই। সরকারী দুর্ণীতি বন্ধের জন্য কঠোর আইন তৈরী করুন। নির্বাচনী আইনের
        সংস্কার করুন। তাহলেই বড় কাজ হবে। আপনারা যেহেতু ক্ষমতায় থাকতে চান না
        সেহেতু দুর্গার মতো দশভুজা বা রাবণের মতো দশানন হওয়ার প্রয়োজন কি।
        আগামীদিনের নির্বাচিত সরকারের জন্য কিছু কাজ রেখে দিন।

Read Full Post »


 

                               

      নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ আলাদা করার সকল ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়েছে
      বলে আইন উপদেস্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন,
      এ ব্যাপারে সরকারের দায়িত্ব প্রায় শেষ হওয়ার পথে। স্বাধীন বিচার বিভাগ
      প্রতিস্ঠা করার কর্মসূচী বাস্তবায়নের সকল দায়িত্ব এখন প্রধান বিচারপতির।
      জাতি ও রাস্ট্রের জন্য এটা সত্যিই একটা বড় সুসংবাদ। নির্বাহী বিভাগের
      অধীনে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকেনা বলেই জনগণের বহুদিনের দাবী ছিল
      বিচার বিভাগকে স্বাধীন করা। প্রতিস্ঠানের স্বাধীনতা থাকলেও ব্যক্তি মানসিকতা
      স্বাধীন না হলে প্রতিস্ঠানের স্বাধীনতা অর্থহীন হয়ে পড়ে।
      বিচার বিভাগ সংবিধানের রক্ষা ও ব্যাখ্যাকারী। কাগজে কলমে এখানে সবার সমান
      অধিকার। তবে অধিকার আদায় করা আর প্রয়োগ করা এক কথা নয়। আইনের 

 কাছে সরকারও একজন ব্যক্তি , সাধারন একজন মানুষও ব্যক্তি। কিন্তু সরকারের    

   ক্ষমতা ও ব্যক্তির ক্ষমতা সমান নয়। নির্বাচন বা ভোটের ক্ষেত্রে সব নাগরিকের
      সমান অধিকার। নির্বাচনের নাগরিকরা সে অধিকার প্রয়োগ করেন। আইনের ক্ষেত্রে
      কিন্তু তা নয়। আইনের অধিকার নাগরিককে কিনে নিতে হয়। এর দামও বেশী।
      এক কেজি চাল ২০/৩০ টাকায় পাওয়া গেলেও আইনের অধিকার অত সহজে
      অত সস্তায় পাওয়া যায়না। গরীব বা বিত্তহীনদের আইনী অধিকার সংরক্ষন
      বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের জন্য রাস্ট্র এখনও তেমন মজবুত কোন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে
      পারেনি।
      প্রধান বিচারপতির সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে মিডিয়ায় নানা কথা উঠে এসেছে। অনেকে
      প্রধান বিচারপতিকে নানা কথা বলেছেন। সুশীল সমাজ(?) ইতোমধ্যে বহুকথা
      বলে ফেলেছেন। বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম বলেছেন, যাঁদের জ্ঞান বুদ্ধি
      সাহস নেই তাঁদের বিচারপতি হওয়া উচিত নয়। বিচারপতির পদ থেকে তাঁদের সরে     

   দাড়ানো উচিত হবে। সৈয়দ সাহেবের কথাগুলো একশ’ভাগ সত্য। কিন্তু তিনি এতদিন      

 কথাগুলো বলেন নি কেন। অবসর গ্রহণের পর এখন সেমিনার, গোলটেবিল ও
      কর্মশালায় এসব কথা বলছেন। প্রধান বিচারপতি রুহুল আমিন সাহেব বলেছেন,
      জাতির সংকট কালে বিচার বিভাগ তার দায়িত্ব পালন করবে। জাতির জীবনে
      এখন সংকট। ঠিক এ সময়ে প্রধান বিচারপতির বক্তব্য মানুষের মনে আশার সঞ্চার
      করেছে। সরকার যদি জুলুমবাজ স্বেচ্ছাচারী হয় তাঁকে থামাবার দায়িত্ব আইন
      বিভাগের। তাই বিচার বিভাগ হচ্ছে মানুষের আসা ভরসার এষ ঠিকানা। বিচার
      বিভাগের দায়িত্ব অপরিসীম। সুশীল সমাজ নামে পরিচিত একধরনের পরগাছা
      বাংলাদেশে বেড়ে গেছে। এরা বিদেশী পয়সায় বিদেশীদের শিখিয়ে দেয়া কথা বলে।
      তারা বলে বাংলাদেশে দুর্ণীতি বেশী, বাংলাদেশ ব্যর্থরাস্ট্র, বাংলাদেশে সেনা বাহিনীর
      প্রয়োজন নাই। ওই সুশীল সমাজ(?)সিন্দাবাদের দৈত্যের মতো কিভাবে জরুরী         

  সরকারের কাঁধে উঠে বসলো তা আমরা বুঝতে পারছিনা। তাই জরুরী 
      সরকারের ব্যাপারে নানা চিন্তা মাথায় আসে। একশ্রেণীর মিডিয়া আছে যাদের
      এজেন্ডা এদেশের মানুষের এজেন্ডা নয়। সুতরাং সরকারের ও সে এজেন্ডা থাকতে        

  পারেনা। সরকারের মুখপাত্ররা বলছেন, জনগণ তাঁদের সাথে আছেন। যদি তাই হয়     

  তাহলে সুশীলদের উপর সরকারের নির্ভর করার কোন প্রয়োজন নেই। কারন দেশের
      জনগন সুশীল বা বিদেশপন্থী মিডিয়ার সাথে নেই।
      দুর্ণীতি দমন ও আয়কর মামলা ছাড়া আর কোন খাতে সরকারের কোন সাফল্য
      আছে কিনা আমার জানা নেই। অর্থনীতির সকল চাকাই প্রায় বন্ধের পথে।
      হঠাত্‍ মহাবন্যার প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে এসেছে। বন্যা মোকাবিলার চাইতে সরকার
      কথা বলেছেন বেশী। প্রথমেই কে বন্যা দিতে পারবে আর কে দিতে পারবেনা।
      ব্যানার নিয়েও অনেক কথা হয়েছে। সেনাপ্রধান নিয়মিত বলে যাচ্ছেন বন্যা নিয়ে
      রাজনীতি করা যাবেনা। এবারের বন্যায় সাহায্য বা রিলিফ বিতরনে কোন চুরি         

  হচ্ছেনা । তিনি মনে করে দিয়েছেন যে রাজনৈতিক সরকারের আমলে রিলিফ
      হতো। কথাটা সত্যি। কিন্তু তখন খুব দ্রুত রিলিফ বা সাহায্য বিতরনের কাজ
      শুরু হয়েছে। তবু ভাল যে শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক দল বা রাজনীতিকরা রিলিফ        

   বিতরন করতে পেরেছেন বা পারছেন। অর্থনৈতিক দুর্যোগ, বন্যার দুর্যোগের
      কঠিন অবস্থার মাঝেই ঘটে গেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দঃখজনক ঘটনা। আগুনের
      মতো দাউ দাউ করে ঘটনার প্রতিক্রিয়া সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লো। ছাত্রদের
      আক্রোশ জনরোষে পরিণত হলো। ফরহাদ মজহার সাহেব নয়া দিগন্তের প্রথম পাতায়
      একটি তাত্‍ক্ষনিক মন্তব্য প্রতিবেদন লিখেছেন। তাঁর বিশ্লেষনের সাথে আমি একমত।
      ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ঘটনা ঘটেছে তার জন্য সরকার দুঃখ প্রকাশ করে ক্যাম্পাস
      থেকে সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। সেনা সদস্যদের বিদায়ের কালে ছাত্ররা
      তাঁদের হাততালি দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। কিন্তু ইতোমধ্যেই প্রতিক্রিয়া সারাদেশে        

  ছড়িয়ে পড়েছে। উপায় না দেখে সরকার বাধ্য হয়ে কারফিউ জারী করেছেন।এতে
      স্বাভাবিক জীবনধারা ব্যাহত হয়েছে। মানুষের কষ্ট বেড়েছে। আমার প্রশ্ন হলো
      সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কি আগে থেকে এ ব্যাপারে কিছুই জানতে পারেনি?
      সারাদেশে হঠাত্‍ করে অদৃশ্য কোন শক্তি এত দ্রুতগতিতে ঘটনাটি ঘটালো তাতো     

  জানতেই হবে। তথ্য উপদেস্টা মইনুল হোসেন বলেছেন, ছাত্রদের ব্যবহার করা হয়েছে।
      এটা একটা সহজতম ব্যাখ্যা। অতীতের সরকার গুলোও এমন কথা বলতো।
      বলতে হবে কারা ব্যবহার করেছে। পরে অবশ্য তিনি বলেছেন রাজনৈতিক দলগুলো
      ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাকে ব্যবহার করে অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টির চেসটা করেছে।
      প্রধান উপদেস্টা তাঁ ভাষণে বলেছেন, অপশক্তি ওই ধ্বংসাত্মক কাজ করেছে।
      রাজনৈতিক দল ও অপশক্তিকে তাঁরা একই অর্থে ব্যবহার করেছেন কিনা জানিনা।

      যে অদৃশ্য শক্তি সেনাবাহিনীর গাড়ীতে আগুন দিতে পারে, সেনা সদস্যের পিঠে লাথি
      মারতে মারে তাদের দুর্বল ভাবলে চলবেনা। বাংলাদেশ হওয়ার পর এ ধরনের ঘটনা
      এটাই প্রথম। আমরা এর আগে বহুবার বলেছি একটি মহল সেনাবাহিনীকে জনগনের    

   মুখোমুখি দাড় করাবার চেস্টা করছে একটি মহল। যে ইংরেজী দৈনিকের শেষপাতায়
      লাথি মারার দৃশ্যটি ছাপা হয়েছে তাকে আমরা সরকার সমর্থক কাগজ হিসাবে চিনি।
      ওই ছবিটির বিষয়ে তদন্ত হওয়া দরকার। তৈরী বা অর্গেনাইজ করা ছবির ঘটনা
      সারা পৃথিবীতে ঘটছে। অনেকেই এ ধরণের ছবি তৈরী করে পুরস্কার ও পেয়েছেন।
      ৭৪ এর দুর্ভিক্ষের সময় তোলা মাছধরার জাল পরা বাসন্তীর ছবিটি ব্যাপক
      আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। পরে জানা গেছে ওই ছবিটি জাল ছিল। ছবিটি তৈরী করা
      হয়েছিল। ছবিটি দেখে আমরা ব্যথিত হয়েছি।
      চলমান সরকারের অনেক ব্যর্থতা সত্ত্বেও দেশের মানুষ এবং রাজনৈতিক দল গুলো
      আগামী নির্বাচন পর্যন্ত সরকারের উপর আস্থা রাখতে চায় একথা বলার অপেক্ষা
      রাখেনা। জনগণের সম্পদ নস্ট করে দেশকে অস্থিতিশীল করে সরকারকে নাজেহাল
      করতে চায় রাজনৈতিক দলগুলো একথা আমি ব্যক্তিগত ভাবে বিশ্বাস করিনা।
      যারা বাংলাদেশকে ব্যর্থ বা অকার্যকর রাস্ট্র বানাতে চায় তাদেরকে যদি প্রধান     

      উপদেস্টা অপশক্তি বলে থাকেন তাঁর সাথে আমি একমত। বাংলাদেশের যে
      অগ্রগতি হয়েছে তাকে বিশ্বব্যান্ক ও এডিবি প্রশংসা করেছে। যে দুর্ণীতির কথা
      তাঁরা এবং তাঁদের সহযোগীরা বলছেন তা হলো সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রনালয়
      দফতর ও অধি দফতরের। কোথাও কোন কর্পোরেট দুর্ণীতির কথা বলা হয়নি।
      সরকারী দুর্ণীতিতে বাংলাদেশ একনম্বর হয়েছে বলেই টিআইবি বলেছে। যদিও
      টিআইবির ওইসব রিপোর্টের সাথে আমি একমত নই। ওইসব রিপোর্টের
      বেশীরভাগই বানোয়াট,নির্ভরযোগ্য কোন তথ্য বা উপাত্ত নেই। আমাদের দেশ এখন
      বিশ্বব্যান্ক,এডিবি ও আইএমএফ-এর কাছ থেকে তেমন ঋন বা সাহায্য
      পায়না। দিনদিন সাহায্য গ্রহণের পরিমাণ কমে আসছে। যখনই আমরা স্বনির্ভর
      হতে চলেছি তখনই আমাদের উপর নানা ধরণের চাপ আসতে শুরু করেছে। শেষ
      পর্যন্ত ১/১১ তারিখের ঘঠনা সংঘটিত হয়। সংবিধানের অনেক ধারা স্থগিত
      করে জরুরী অবস্থা জারী করা হয়। আওয়ামী লীগের লগিবৈঠার খুনাখুনির
      আন্দোলনের পর ১/১১ জারী হয়। সেই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য
      দেশবাসী ১/১১কে সমর্থন করেছে ষোলয়ানা। কিন্তু সেই সমর্থন এখন আর       ষোলয়ানা নেই।
      সরকার নিজেদের লক্ষ্য কি তা পরিস্কার করে জনগণকে বুঝাতে সক্ষম হন নি।
      সরকার পরিচালনা ও রাজনীতিতে দেশের মানুষ কি ভাবছে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ
      বিষয়। রাজনীতিবিদরা সেজন্যই জনগণের আস্থার কথা ভেবেই কথা বলেন আর
      কাজ করেন। যাঁরা রাজনীতি করেন না তাঁরা জনগনের আস্থার বিষয়টি তেমন
      যেমন ধরূন, সাবেক মন্ত্রী আলতাফ চৌধুরী বলেছিলেন ‘আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়ে
      গেছেন’।কথাটা তিনি মিথ্যা বলেন নি। কিন্তু সময়টা সঠিক ছিলনা। তাই জনগন
      তাঁর সরল বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। বর্তমান অর্থ উপদেস্টা মির্জা আজিজ
      বলেছেন, ‘মৃত্যু আর কর অবধারিত’। জনগন তাঁর এ বক্তব্যকে পছন্দ করেনি।
      যদিও তিনি বিদেশী একটি কোটেশন উল্লেখ করেছেন। রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায়
      অর্থমন্ত্রীকে মাফ চাইতে হতো।
      সাবেক প্রধান উপদেস্টা বিচারপতি হাবিবুর রহমান নিজেকে সেক্যুলার প্রমান করার
      জন্য বিসমিল্লাহ্ শব্দ উচ্চারন না করে তা অনুবাদ করে বলতেন ‘ পরম করুণাময়
      স্রষ্টার নামে’, আল্লাহু আকবার না বলে বলতেন, ‘স্রষ্টা মহান’। দেশের মানুষ তাঁর
      এসব অনুবাদ গ্রহণ করেনি। তাতে তাঁ কিছু আসে যায়না। কারণ তিনি রাজনীতি
      করেন না। তিনি কোরাণেরও অনুবাদ করেছেন। যদিও তিনি নিজেকে সেক্যুলার
      বলে প্রচার করতে ভালবাসেন। আমাদের দেশে সেক্যুলার শব্দটাকে একশ্রেণীর      

  বুদ্ধিজীবী ধর্মনিরপেক্ষতা বলে চালাবার চেস্টায় রত আছেন। যদিও
      শব্দটির অর্থ যাঁরা পার্থিব বিষয়কে গুরুত্ব দেন। ধর্মকে ব্যক্তিগত বা প্রাইভেট বিষয়
      মনে করেন। তাঁরা রাস্ট্র আর ধর্মকে আলাদা করে দেখেন। সেক্যুলার বুদ্ধিজীবীদের
      মতের প্রতিও আমার সম্মানবোধ রয়েছে। কিন্তু তাঁরা তাঁদের মতকে হরহামেশা
      রাস্ট্রের উপর চাপিয়ে দিতে চান। বিশেষ করে ভারত চায় বাংলাদেশ সেক্যুলার
      রাস্ট্রে পরিণত হোক। বাংলাদেশের সেক্যুলারিস্টদের বিদেশীরা মালপানি দিয়ে সাহায্য
      করে। সম্প্রতি প্রধান উপদেস্টা জাতির উদ্দেশ্যে যে ভাষণ দিয়েছেন তাতে তিনি
      শুরুতে দেশবাসীকে সালাম দিয়েছেন এবং শেষে আল্লাহ হাফেজ বলেছেন। দেশবাসীর
      সেন্টিমেন্টকে তিনি সম্মান দেখিয়েছেন। কিন্তু শেষে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলেন নি।
      কারণ জিন্দাবাদ বললে যদি কেউ মনে করেন তিনি বিএনপি ঘেঁষা। আওয়ামী
      লীগ জিন্দাবাদ বলেনা, বলে ‘জয় বাংলা’। এসব হচ্ছে রাজনীতির ভাষা বা বিষয়।
      রাজনীতি ভাল হোক বা মন্দ হোক সমাজে দেশে রাস্ট্রে রাজনীতি থাকবেই।
      রাজনীতির নিজস্ব একটা ভাষা আছে, কৌশল আছে। সেটা ভাল হতে পারে, ভাল
      নাও হতে পারে। বিশ্বব্যাপী এটাই ধারা। ইরাকে মার্কিন আক্রমন ছিল অমানবিক,
      অগনতান্ত্রিক। তবুও বেশ কিছু দেশ ও সরকার বেহায়ার মতো মার্কিন আগ্রাসনকে
      সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের দমন করার জন্য পশ্চিমের কিছু দেশ একজোট হয়েছে।
      সারা পৃথিবীতে আবু গারিব , গুয়ান্তানামো ছাড়াও মার্কিনীদের বহু গোপন কারাগার
      আছে। এইসব বেহায়া বেশরম দেশ পৃথিবীর অন্য সকল দেশকে গনতন্ত্র ও মানবতা
      শেখায়। যেমন চলমান জরুরী সরকারের কাঁধে মার্কিন যুক্তরাস্ট্র, বৃটেন, ভারত ও
      তাদের সহযোগীরা সিন্দাবাদের দৈত্যের মতো চেপে বসে আছে। তাদের এজেন্ট
      হিসাবে কাজ করছে বিশ্বব্যান্ক, এডিবি, আইএমএফ এবং তাদের দেশীয় চরেরা।
      আমার কথাগুলো কড়া কঠোর বা অমার্জিত মনে হতে পারে। আমি আমার দেশকে
      ভালবাসি। তাই আবেগ বেশী। কোন ভাবেই আবেগ বা ইমোশনকে নিয়ন্ত্রন করতে
      পারনি না। একট বেশী আবেগী বলেই আপন জনেরা আমাকে ব্যর্থ মানুষ মনে করে।
      মনের কথা, দেশের কথা,কস্টের কথা বলার জন্যই আমি কলম হাতে নিয়েছিলাম।
      ১৯৬১ সালের দিকে যখন বলতাম সাংবাদিকতা করি তখন চেনাজন বলতেন আর    

    কি করেন। পেশা হিসাবে সাংবাদিকতা তখনও সমাজে গৃহিত হয়ে উঠেনি।
      আমাদের দেশটি এখন এক কঠিনতম অবস্থার ভিতর দিয়ে চলছে। সামনে যাচ্ছে
      না পিছনে যাচ্ছে বুঝতে পারছিনা। সবার মনে একটা অনিশ্চয়তা, কাজ কমে
      যাচ্ছে, চালডালের দাম বাড়ছে, বেকারত্ব বাড়ছে। সুযোগ বুঝে বিদেশীরা নানা
      ধরণের চাপ দিচ্ছে।
      এমনি এক সময়ে ঘটেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা। ঘটনার জন্য সরকার দুঃখ
      করেছেন, ক্যাম্পাস থেকে সেনাক্যাম্প তুলে নিয়েছেন। কিন্তু তাতে পরিস্থিতির সামাল
      হয়নি। সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে জ্বালাও পোড়াও। সরকার বাধ্য হয়ে কারফিউ জারী
      করে দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকার ঘটনাকে ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছেন।
      ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও ছাত্রনেতাকে গ্রেফতার করেছেন।
      আশি হাজার অজানা মানুষের বিরুদ্ধে থানা মামলা দায়ের করেছে। ছাত্ররা
      আতংকে আছে কখন কার নাম মামলায় জড়িয়ে দেয়া হয়। একই কারনে
      অভিবাবকরাও আতংকে আছেন। ছুটির কারণে ছাত্ররা গ্রাম-গন্জে ছড়িয়ে পড়েছে।
      গ্রামের মানুষ তাদের কাছ থেকে নানা ধরনের খবর বা গল্প শুনতে পাচ্ছে।
      অতীতের অনির্বাচিত সরকারগুলোও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বিরুদ্ধে একই ধরণের
      ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তাতে কোন সুরাহা হয়নি। সরকারকে অনুধাবন বা
      বুঝতে হবে এবং প্রয়োজনে তাদের সাথে আলোচনায় বসতে হবে কেন তারা
      অমন একটা পরিস্থিতি ঘটিয়েছে। মারধর বা জবরদস্তি করে ছাত্র অসন্তোষ দমন
      করা যায়না। অতীতে কোন সরকারই তা পারেনি। ২৮ অক্টোবর থেকেই দেশে
      নির্বাচিত গনতান্ত্রিক সরকার নেই। জরুরী অবস্থার কারণে মিডিয়াও সবকথা
      বলতে পারছেনা। যদিও সরকার বলছেন মিডিয়ার উপর কোন নিয়ন্ত্রন নেই।
      চলমান জরুরী সরকারের লক্ষ্য যদি নির্বাচন হয় তাহলে তাঁদেরকে রাজনৈতিক
      সমস্যা গুলোকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে। জোর জবরদস্তি, হুমকি-
      ধামকি দিয়ে রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান হয়না। অতীতের কোন সরকারই তা
      পারেনি। রাস্ট্র পরিচালনায় সরকারের প্রধানতম কাজ হচ্ছে সংঘাত পরিহার করে
      সকল প্রকার রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানের পথ অনুসরন করা। ব্যারিস্টার
      মইনুল হোসেন সাহেবের কথায় আমরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি। তিনি বিভিন্ন সময়ে
      একই বিষয়ে বিভিন্ন কথা বলেন। একবার বলেছেন, ‘সরকারকে ব্যর্থ হতে দেয়া
      যাবেনা। সরকার ব্যর্থ হলে দেশ মহাবিপদে পড়ে যাবে।’ এখন বলছেন, আমরা
      গণতন্ত্র পুণরুদ্ধারের জন্য কাজ করছি। আমাদের লক্ষ্য রোডম্যাপ টু ডেমোক্রেসি,
      নট ইলেকশন। আমরা সত্‍ মানুষের সরকার প্রতিস্ঠার জন্য কাজ করছি। 
      এবার বলছেন, আমাদের সরকার জাতীয় সরকার । ব্যারিস্টার সাহেব সাদাদিলের
      মানুষ। রাজনীতি করতে গিয়েও করতে পারেন নি। তিনি ভালকথা বলতে পছন্দ    

   করেন। তিনি তাঁর কথার প্রতিক্রিয়া কি হবে না ভেবেই কথা বলেন। তিনি হয়ত
      বুঝতে পারেন না সরকারে থেকে অনেক কথা বলা যায়না।
      ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাকে ষড়যন্ত্র বা অপশক্তির কাজ বলে শক্তি ও আইন
      প্রয়োগ করা সরকারের জন্য ভুল হবে। এজন্যে সরকারকে কাল বিলম্ব না করে
      রাজনৈতিক সংলাপ শুরু করে দ্রুত নির্বাচনের দিকে গিয়ে যেতে হবে।
      বাংলাদেশের কয়েকজন নাগরিক দিল্লীতে প্রণব মুখার্জির সাথে দেখা করে বাংলাদেশের    

   রাজনীতির অবস্থা ব্যাখ্যা করে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টির আহবান জানিয়েছেন।
      নিউইয়র্কেও একই বিষয়ে দিল্লীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনুস্ঠান করা হয়েছে।বিদেশী
      শক্তি বাংলাদেশের রাজনীতিতে গোপনে ও প্রকাশ্যে জড়িয়ে পড়ছে। এ বিষয়টা
      সরকারকে মনে রাখতে হবে।

Read Full Post »


 

    
                                 

      সপ্তা খানেক ধরে ২০০৮ ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে সাধারন নির্বাচন অনুস্ঠিত
      হবে একথাটা জোর দিয়ে বলেছেন প্রধান উপদেস্টা ফখরুদ্দিন সাহেব ও প্রধান
      নির্বাচন কমিশনার শামসুল হুদা সাহেব। অপরদিকে সেনা প্রধান মইন সাহেব
      বলেছেন, সেনা বাহিনীর ক্ষমতা গ্রহনের কোন সম্ভাবনা নেই। রাস্ট্রপতি ডঃ
      ইয়াজ উদ্দিন সাহেব বলেছেন, রাজনৈতিক অভিলাষ বিহীন দক্ষ সেনা বাহিনী
      গড়ে তুলতে হবে। জেনারেল মইন খুবই জোরের সাথে কথাটা বলেছে। সন্দেহ
      প্রবন মিডিয়া তবুও বারবার জেনারেল সাহেবের প্রশ্নটা উত্থাপন করে তাঁকে
      বিব্রত করে চলেছে। তিনি বাধ্য হয়ে বলেছেন,কাদম্বিনীকে মরিয়া প্রমাণ
      করিতে হলো সে মরে নাই। সত্যিইতো একই কথা কতোবার বলা যায়।জেনারেল
      মইনের কথায় আমার একশ’ভাগ আস্থা আছে।
      চলমান সময়ের কারনে আমাদের বারবার ১/১১র আগের বা পরের অবস্থার কাছে
      ফিরে যেতে হচ্ছে। তখন সংবিধানের বিধি মোতাবেক তত্বাবধায়ক সরকার
      ক্ষমতায় ছিল। খালেদা জিয়ার জোট সরকার ক্ষমতা ক্ষমতা ছেড়ে দেয় মেয়াদ
      শেষ হওয়ার পর। ক্ষমতা ছাড়ার দিন আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী বন্ধুরা
      সারাদেশে তুলকালাম কান্ড ঘটায়। সবচেয়ে দুঃখজনক মারাত্বক ঘটানা ঘটে
      ঢাকার পুরাণা পল্টনে। আওয়ামী লীগ ঘোষণা দিয়েই ওই ঘটনাটা ঘটিয়েছিল।
      সরকারের সকল বাহিনী সেদিন চুপ ছিল। সেদিনই যদি ওই দাংগা কঠোর হস্তে
      দমন হতো তাহলে পরের ঘটনাগুলো আর ঘটতোনা। তাই মানুষের মনে প্রশ্ন রয়ে         

     গেছে ১/১১র পুর্ব পর্যন্ত রাস্ট্রের নিরাপত্তা বিরোধী কাজগুলো সংঘটিত করার জন্য
      আওয়ামী লীগ তার বন্ধুদের অদৃশ্য কোন শক্তি উত্‍সাহিত করেছিল কিনা। ওই অদৃশ্য
      শক্তির নিশ্চয়ই একটা টার্গেট বা লক্ষ্য ছিল। বিদেশী নটনটিরাতো প্রকাশ্যেই সবকিছু
      করেছেন। আমাদের গোয়েন্দা বাহিনীও নিশ্চিতভাবেই জানেন কেন এবং              

   কাদের প্ররোচনা বা উত্‍সাহে আওয়ামী জোট ওই ধ্বংসাত্বক কাজ করেছে। গোপন
      এসব কথা একদিন নিশ্চয়ই দেশের মানুষ জানতে পারবে। খোলা চোখে দেখলে
      সেদিন জরুরী অবস্থার প্রয়োজনীয়তা ছিল ১০০ ভাগ জরুরী। কিন্তু চোখের বাইরের
      ঘটনা কি ছিল,যা আমরা জানিনা। ১/১১র ব্যাপারে কি কোন মহলের আগে থেকেই
      সার্বিক প্রস্তুতি ছিল? এ প্রশ্নটা আমি দেশবাসীর কাছে রাখলাম। জরুরী অবস্থা
      জারীর পুর্বে আমাদের মিডিয়ার ভুমিকা কি ছিল? তারা কি জেনেশুনেই ওই
      ভুমিকা পালন করেছিলেন?
      এসব প্রশ্ন এখন সবার । কারণ দেশের অবস্থা এখন সবদিক থেকেই খারাপ। বন্যা
      রোগ-বালাই অর্থনৈতিক অবস্থার আরো অবনতি ঘটিয়েছে। এ কলাম লেখার শুরু
      থেকেই বারবার বলেছি সরকারের প্রায়োরিটি কি। সত্যিকথা বলতে কি আমার মনে
      হয়েছে সরকার জনসাধারনের কাছে তার প্রথম ও প্রধান এজেন্ডা স্পস্টভাবে বা
      দৃঢভাবে উপস্থাপন করতে পারেন নি। জনসাধারন জানেনা সরকার আসলে কি
      করতে চাচ্ছেন। সরকারের নানা মুখপাত্র । একেকজন একেক কথা বলেন। দুদক
      চেয়ারম্যান বলেন এক কথা আবার রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন আরেক কথা।
      ছোটখাট সহজ বিষয়গুলোও জটিল হয়ে যায়। ফলে জনসাধারনের মাঝে নানা রকম
      ভুল বুঝাবুঝি সৃস্টি হয়।
      আমি এর আগে বহুবার বলেছি,আজ আবারও বলছি দুর্ণীতি আদমের আমল থেকে      

   আছে এবং কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে। অন্যায় অবিচার করা মানুষের ফিতরাত।
      সেজন্যই মানুষের জন্য তওবা , ক্ষমা বা অনুতাপের রাস্তা খোলা রাখা হয়েছে।
      তওবাকারীকে তার স্রস্টা ভালবাসেন এবং ক্ষমা করে দিবেন। ক্ষমার গ্যারান্টিও
      দেয়া হয়েছে। বরং বলা হয়েছে,স্রস্টার দয়া, ক্ষমা ,রহমত নিরাশ হলে কাফের
      বলে গন্য হবে। সমাজকে দুর্ণীতি মুক্ত রাখা সরকারের কাজ। এবং দুর্ণীতি দমন বা
      রোধ একটা চলমান কাজ। প্রতিটি নাগরিককে বিশ্বাস করতে হবে দুর্ণীতি করলে
      ছোটবড় কারো কোন মুক্তি নাই। তাহলে সমাজে দুর্ণীতি কমবে।
      সুপ্রাচীন কাল থেকে রাজা মহারাজা বাদশাহ সম্রাটগণ রাজ্য শাসন করতেন মানুষ
      বা প্রজাদের ভয় দেখিয়ে। হাজার বছরের সংগ্রামের মাধ্যমে মানুষ তার মানবিক
      অধিকার প্রতিস্ঠা করেছে কোটি মানুষের জীবনের বিনিময়ে। দয়ালু অথবা হিংস্র
      রাজারা প্রায় বিদায় নিয়েছে। এখন দেশ বা রাস্ট্র চলে মানুষের মতামতের উপর
      নির্ভর করে। সারা পৃথিবীতে এখন ভাল আর মন্দের গণতন্ত্র জারী রয়েছে।
      এখন পর্যন্ত ডেমোক্রেসী বা গণতন্ত্রই সেরা রাস্ট্র ব্যবস্থা বলে বিবেচিত হয়ে আসছে।
      গণতন্ত্রেরও নানা দোষত্রুটি ইতোমধ্যেই নজরে এসেছে। গণতন্ত্রের দোসর হচ্ছে
      ধনবাদী বা মুক্তবাজার ব্যবস্থা। মাঝখানে মানুষের মহাকল্যানের কথা বলে বিকাশ
      লাভ করেছিল মাই বা লেনিনের সমাজতন্ত্র। আমরাও আমাদের স্কুল-কলেজ জীবনে
      সমাজতন্ত্রকেই মানব মুক্তির সনদ মনে করতাম। গণতন্ত্র আর মুক্তবাজার অর্থনীতিতে
      মানুষের ষোলয়ানা মুক্তি সম্ভব নয় সেকথাও সমাজের কাজে পরিস্কার হয়ে গেছে।
      যে গণতন্ত্রে প্রাপ্ত বয়স্ক প্রত্যেক নাগরিকের একটি ভোট সে গণতন্ত্রে মৌলিক
      অধিকারের গ্যারান্টি থাকলেও তা বাস্তবে প্রয়োগ হয়না। বিশেষ করে আমাদের
      বাংলাদেশে রাস্ট্র সকল নাগরিকের আশ্রয়,শিক্ষা,খাদ্য,চিকিত্‍সা,বস্ত্রের গ্যারান্টি দিতে
      পারে নাই। জমি-জিরাত নাই ফুটপাতে থাকে এমন নাগরিকের কাছ থেকেও রাস্ট্র
      ভ্যাট আদায় করে। কাজ থাকলে দুবেলা খেতে পায়,কাজ না থাকলে উপোষ করে।
      এমন কি যাদের কাছ থেকে রাস্ট্র আয়কর আদায় করে তাদের বার্ধক্যে দেখশুনা
      করার কোন দায়িত্ব রাস্ট্রের নাই। আমাদের রাস্ট্রের বিরাট একটা সরকার আছে
      যা চালাতে বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোট টাকা খরচ হয়। এই অর্থের যোগান
      দেয় দেশের সাধারন মানুষ। ভারতের গণতন্ত্র নাকি বিশ্বের বৃহত্‍ গণতন্ত্র। সেদেশে
      প্রতিদিন ২০ কোটি লোক রাতে না খেয়ে ঘুমায়। ২০ কোটি লোক হরিজন,যাদের
      ধর্মীয়ভাবে মানুষ মনে করা হয়না। কোন হরিজন দেশের প্রধান মন্ত্রী বা রাস্ট্রপতি
      হতে পারেনা। তবুও ভারত পৃথিবীর শ্রেষ্ট গণতন্ত্র। পৃথিবীর মোড়ল ‘আসল গণতন্ত্রের’
      যাজক মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে কয়েক মিলিয়ন নাগরিক ফুটপাতে ঘুমায়। কয়েক মিলিয়নের
      চাকুরী নাই। ধনবাদী বা মুক্তবাজারী গণতন্ত্রের রুপ এ রকমই।
      বাংলাদেশে কোটি কোটি ভোটার আছে যাদের সাথে সংসদ বা সরকারের কোন
      সম্পর্ক নেই। এই ভোটারদের একমাত্র চাওয়া দুবেলা খাবার আর খাবারের জন্য
      কাজ। তারা যে বাংলাদেশের নাগরিক সেকথাটাও তারা ভাল করে জানেনা।
      নাগরিকরাতো নেতা-শাসকদের নির্দেশ মতো সারাজীবন সব কাজ করেছে। কিন্তু
      নেতা-শাসকরা তাঁদের কথা রাখেন নি।
      রাজীতিকরা খারাপ, চোর-বদমায়েশ বলে  আইউব খান, ইয়াহিয়া খান, জিয়াউর
      রহমান ও এরশাদ সাহেব দেশ চালাবার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এর মধ্যে জনপ্রিয়তার
      শীর্ষে উঠেছিলেন একমাত্র জিয়া সাহেব। আমরা সিভিল ডিক্টেটর বংগবন্ধু শেখ 

      মুজিবর রহমানকেও দেখেছি। তিনিই
      একদলীয় শাসন কায়েম করে গণতন্ত্রের কবর ইয়েছিলেন। তাঁর আমলেই ৭৪ সালে
      দুর্ভিক্ষে কয়েক লাখ লোক মারা গিয়েছিল। সবচেয়ে মন্দ রাজনীতিকদের দ্বারাই বিগত
      ১৫ বছরে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি হয়েছে। যদিও ইদানিং একটা নতুন শ্লোগান
      শুনা যাচ্ছে, তাহলো বিগত ৩৬ বছরে বাংলাদেশে কিছুই হয়নি। এমন কথা যাঁরা         

 বলেন তাঁদের ডাহা মিথ্যুক ছাড়া আর কি বলবো। এখন দেশের অর্থনীতির অবস্থা
      খুবই খারাপ। সকল অর্থনৈতিক কর্মকান্ড স্থবির হয়ে গেছে। দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের
      ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজারে জিনিষপত্র থাকলেও ক’দিন পর ক্রেতা
      পাওয়া যাবেনা। দুর্ণীতি দমনের নামে সরকার সকল শ্রেণীর নাগরিকের মনে ভীতি
      ও আতংক সৃস্টি করেছেন। এর আগে এসব কথা বহুবার বলেছি। কিন্তু জরুরী
      কানে তা যায়নি। আমদের লেখালেখি দেখে সরকারের মনে হতে পারে আমরা
      তাঁদের বিরোধিতা করছি। না, মোটেই তা নয়।
      গত ক’মাসে সরকারের দুর্ণীতি বিরোধী অভিযানে প্রমাণিত হয়ে গেছে যে, সরকার
      চলমান দৈনন্দিন বিষয় গুলোর ব্যাপারে গুরুত্ব দেন নি। শুরুতেই বলেছি,দুর্ণীতি
      সৃস্টির শুরু থেকেই আছে।  সরকারের কাজ হচ্ছে দুর্ণীতিকে কঠোর হস্তে দমন
      করা। দুর্ণীতি আমাদের সমাজ ও সরকার ব্যবস্থার অতি গভীরে প্রোথিত হয়ে
      গেছে। হঠাত্‍ হেঁচকা টান দিয়ে তুলতে গেলে সমাজ-সরকার দুটোই ভেংগে চুরমার হয়ে
      যাবে। আমরা নিশ্চিত যে, দেশবাসী তা চায়না। আশা করি চলমান জরুরী সরকারও
      তা চান না। ঠিক এই মূ্হুর্তে সরকারের প্রধান কাজ হচ্ছে অর্থনীতিকে রেল লাইনের      

  উপর তুলে দেয়া যেন তা সঠিক গতিতে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। দেরি হয়ে
      গেলে দেশের বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে। সরকারের দ্বিতীয় প্রধান কাজ হচ্ছে সবচেয়ে
      বেশী গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচনের কাজ এগিয়ে নেয়া। কোন অবস্থাতেই নির্বাচন পিছানো
      যাবেনা। নির্বাচনের জন্য কঠোরতম সংস্কার সম্পন্ন করা জরুরী সরকারেরই কাজ।
      দেশবাসীও চায় কালোটাকা ও পেশীশক্তি মুক্ত শান্তিপূর্ণ একটি সাধারণ নির্বাচন।
      নতুন রাজনৈতিক গঠণ বা পুরাণো দলকে ভাংগা সরকার বা অদৃশ্য কারো দায়িত্ব
      নয়। অথবা পুরাণো বড় দুটি দলকে দুর্বল করে নতুন দলকে ক্ষমতায় আনাও
      চলতি সরকারের দায়িত্ব নয়। অথবা আমেরিকা,বৃটেন,ইউরোপ,ভারত যে ধরণের      

     সরকার বাংলাদেশে চায় সে ধরণের প্রতিস্ঠা করাও সরকারের কাজ নয়।
      কিছুদিন আগে ভারতের একজন প্রতিমন্ত্রী বলেছেন তাঁরা বাংলাদেশকে একটি
      সেক্যুলার/ধর্মবিহীন/ধর্ম নিরপেক্ষ রাস্ট্র হিসাবে দেখতে চান। ভারতের এই বক্তব্যের
      সাথে আমেরিকা,বৃটেন ও ইউরোপীয় দেশগুলোও একমত। বাংলাদেশের ৯০ ভাগ
      মানুষ মুসলমান। এদেশের সংস্কৃতি সাহিত্য জীবনাচার ধর্ম বিরোধী নয়। বাংলাদেশে
      ধর্মীয় দাংগা হয়না। সেক্যুলার ভারতে যা নিয়মিত হয়ে থাকে। ধর্মদাংগা করার
      মানসিকতা এখানকার মানূষের নেই। বাংলাদেশ সৃষ্টির পেছনে স্বপ্ন ছিল অর্থনৈতিক
      মুক্তি। পাকিস্তানীদের অর্থনৈতিক শোষণের ফলেই ওই স্বপ্নের জন্ম হয়েছিল।
      পাকিস্তানীদের সাথে বাংলাদেশের মানুষের কোন ধরণের ধর্ম বিরোধ ছিলনা। তাই
      বাংলাদেশের মানুষ এখন অর্থনেতিক মুক্তির লড়াইয়ে নিয়োজিত। তাদের স্বপ্ন
      সমৃদ্ধশালী সুখী বাংলাদেশ। শান্তি বিনস্টকারী দাংগা করার মতো সময় এ দেশের
      মানুষের নেই। ভারতে যা সরকারের উসকানীতেই সংঘটিত হয়। গুজরাট তার
      প্রমাণ।
      বাংলাদেশকে বিদেশীদের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একশ্রেণীর এনজিও আর
      সুশীল সমাজ বিগত এক দশক ধরে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের হাতে মিডিয়া আছে,
      সংগঠন আছে। সরকার গুলো নানা চাপে পড়ে তাদের সমর্থন দিয়ে গেছে এবং
      চলমান জরুরী সরকারও দিচ্ছে। সুশীল সমাজ ও এনজিওদের কোন জন সমর্থন
      নেই। কিন্তু আন্তর্জাতিক সমর্থন আছে। এরাই বলে বাংলাদেশে জংগীবাদের উত্থান
      হয়েছে। মৌলবাদে সারাদেশ ছেয়ে গেছে। এসব কথা বললে এরা বিদেশীদের কাছ
      থেকে প্রচুর অর্থ পায়। এদের অদৃশ্য উসকানীতেই পোষাক শিল্পে জ্বালাও পোড়াও
      হয়, ফুলবাড়ীয়াতে বিদ্রাহ হয়, বন্দর বন্ধ হয়ে যায়। এরাই বাংলাদেশকে এক
      নম্বরের দুর্ণীতিবাজ দেশ হিসাবে প্রচার করে। এরাই ১/১১র পুর্বাস্থাকে সমর্থন করেছে।
      অনেকেই বলেন, তথাকথিত সুশীল সমাজ এবং সেক্যুলারিস্টরা আওয়ামী লীগকে
      সমর্থন করে। কথাটা ডাহা মিথ্যা। এরা আওয়ামী লীগকে তাদের বাহন হিসাবে
      ব্যবহার করে বা করতে চায়। আর আওয়ামী তাদের ঢোল হিসাবে ব্যবহার করতে
      চায়। ১/১১র ঘটনা প্রমাণ করেছে তারা আওয়ামী লীগকেও চায়না। তাদের
      টার্গেট বাংলাদেশ রাস্ট্রটা। যেকোন ভাবেই হোক বাংলাদেশকে তাবেদার রাস্ট্রে
      পরিণত করা।
      আমরা গভীরভাবে আস্থাশীল যে চলমান জরুরী সরকার বিদেশী শক্তির তাবেদারদের
      খপ্পরে পড়বেনা। আর আমাদের লেখার উদ্দেশ্য সরকারের বিরোধিতা করা নয়।
      আমাদের উদ্দেশ্য সরকারকে সজাগ করা। আমরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর কথা ভুলে
      যাইনি। ক্লাইভরা বাংলাদেশে এসেছিল নিজেদের শর্তে ব্যবসা করার জন্য। কিন্তু
      নবাবের সাথে তাদের বনিবনা হয়নি। তখনি তারা তাবেদার সরকার প্রতিস্ঠা
      করার ষড়যন্ত্র করে নবাবকে পরাজিত করে হত্যা করে। ক্লাইভদের কৌশল এখন
      পরিবর্তিত হয়েছে। তারা এখন তাবেদার সরকার নির্বাচিত করতে চায়। তাদের
      হাতের নাট বোল্ট হলো সুশীল সমাজ ও এনজিওরা। যখন যেখানে ফিট হওয়া          

  দরকার সেখানেই তারা ফিট হয়ে যায়। এই সুশীল সমাজ ও এনজিওদের দেশের         

  মানুষ চিনেনা। এদের কোন নির্বাচনী এলাকা নেই। নমিনেশন পেলেও নির্বাচিত
      হতে পারেনা। এরাই যোগ্যপ্রার্থী আন্দোলন করে। সুশীল সমাজের যোগ্য প্রার্থীদের
      দেশের মানুষ চিনেনা।
      চলমান জরুরী সরকারের নেতাদের কথা শুনে মনে হয় তাঁরাও সত্‍ ও যোগ্য প্রার্থী
      নির্বাচিত করতে চান। তাঁদের এই সত্‍ ইচ্ছোকে আমরা হাজারবার সালাম জানাই।
      আমরাও চাই সত্‍ এবং যোগ্য প্রার্থীরা নির্বাচিত হোক। নতুন দল পিডিপির
      আহবায়ক কোরেশী সাহেব বলেরছেন, একশ ভাগ সত্‍ মানুষ পাওয়া যাবেনা। তাই
      তিনি পুরাণো কিছু চেনা রাজনীতিককে নিয়ে দল গঠণ করার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।
      বেশীর ভাগ বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সাবেক কিছু এমপিকে তিনি দলে নেওয়ার      

   চেস্টা করছেন। সেজন্য তিনি আলাদিনের চেরাগ ব্যবহার করছেন। আশা করি এই
      চেরাগ কোরেশী সাহেবকে তাঁর গন্তব্যে পৌঁছে দেবে। কিন্তু আমাদের আইন উপদেস্টা
      মইনুল হোসেন সাহেব বলেছেন, সত্‍ নেতা সত্‍ ব্যবসায়ী পাওয়া যাবে। ব্যারিস্টার
      সাহেব নিশ্চয়ই জানেন রাস্ট্র ব্যবস্থা বা সরকার পরিচালনা মসজিদের ইমাম,গীর্জার
      ফাদার বা সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাজ নয়। যদি তাই হতো তাহলে
      সক্রেটিস বা ইমামে আজম আবু হানিফা দেশ চালাবার দায়িত্ব নিতেন। জ্ঞানী বা
      সত্‍ মানুষেরা জীবনে নিজেদের স্বার্থের কথা না ভেবেই সত্যকথা বলেন। সত্যকথা
      বলার জন্যে সক্রেটিস এবং আবু হানিফা দুজনেই শাস্তি ভোগ করেছেন। বাংলাদেশে
      এখন যাঁরা দেশ চালাচ্ছেন এবং অতীতে যাঁরা চালিয়েছেন তাঁরা কেউ বুকে হাত
      দিয়ে বলতে পারবেন না ১০০ ভাগ সত্‍ আছেন বা ছিলেন।রাজনীতি সততার
      কোন বিষয় নয়। ব্যক্তিগত সততা রাজনীতির বিষয় নয়। রাজনীতিতে যাঁরা
      মানুষের মন জয় করতে পারবেন তাঁরাই জনপ্রতিনিধি হবেন। তাঁরাই মানুষের জন্য
      কাজ করবেন। চাকুরীজীবি কোনদিনই জনপ্রতিনিধি হতে পারেন না।
      এখন প্রশ্ন হলো চলমান সমাজ ব্যবস্থায় আমাদের দেশে যাঁরা রাজনীতি করেন তাঁরা
      সত্‍ কিনা? যদি সত্‍ হন তাহলে কতটুকু সত্‍? আবার কোরেশী সাহেবের কথায়
      ফিরে যেতে হয়। রাজনীতি করার জন্য বর্তমান অবস্থায় ১০০ ভাগ সত্‍ লোক
      পাওয়া যাবেনা। সমাজের বাস্তব অবস্থাটা কোরেশী জানেন বলেই সরাসরি কথাটা
      বলে ফেলেছেন। বর্তমান অবস্থায় শুধু সত্‍ মানুষ দিয়ে যাঁরা সরকার গঠণের কথা
      বলছেন তাঁরা সত্যকথা বলছেন না। রাজনীতিতে এক সময় শুধু আইনজীবীরা
      আসতেন। তাঁদের পেশা ছিল। সেদিন বাসি হয়ে গেছে। এখন জাতীয় সংসদে যাঁরা
      নির্বাচিত তাঁদের বেশীর ভাগের কোন পেশ নাই। অন্যদের পেশা ব্যবসা-বাণিজ্য।
      আইনজীবীর সংখ্যা ১০ ভাগের বেশী নয়। এই অবস্থা শুরু হয়েছে আইউব খানের
      আমল থেকে।আইন করেও বলা যাবেনা যে ব্যবসায়ী বা শিল্পপতিরা রাজনীতি করতে     

  পারবেন না। শুধু আইনজীবীরা রাজনীতি করবেন সে আইনও করা যাবেনা।
      আগেই বলেছি নিয়োগ দিয়ে রাজনীতিক তৈরী করা যায়না। কে ভোটার হবেন
      আর কে রাজনীতি করবেন তাও আইন করে বলা যাবেনা। জেনারেল মইন
      বলেছেন, ভালো মানুষকে ভোট দেয়ার জন্য ভোটারদের সচেতন করতে হবে। আমি
      জেনারেল মইনের সাথে ১০০ ভাগ একমত। এটা আমার ইচ্ছা বা স্বপ্ন।
      দুর্ণীতি শুধু রাজনীতি নয় সমাজের সকল স্তরে স্থায়ী বসবাস তৈরী করেছে।
      সবচেয়ে বেশী দুর্ণীতি আছে সরকারের সকল অবকাঠামোতে। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া
      সকল সরকারী কর্মচারী দুর্ণীতির সাথে জড়িত। পিয়ন-চাপরাশীরা দুর্ণীতি করেন
      অভাবের কারণে আর সচিব মর্যাদার লোকেরা দুর্ণীতি করেন আরও বেশী সুখের          জন্য। লেখাটি পড়ে পাঠক মনে করতে পারেন আমি উলংগভাবে দুর্ণীতির পক্ষে
      ওকালতি করছি। না, আপনাদের মনে করার সাথে আমি একশ’ভাগ দ্বিমত
      পোষন করছি। আমিও চাই আমাদের দেশে দুর্ণীতি কমে যাক। জাতীয় প্রবৃদ্ধির
      হার ১০ ভাগ অতিক্রম করুক। কিন্তু দেশকে ১০০ ভাগ দুর্ণীতি মুক্ত করা একটা
      স্বপ্ন মাত্র। এটা বাস্তব নয়। রাতারাতি একশ’ভাগ দুর্ণীতি দূর করার কথা বলেন
      তাঁরা স্বপ্নালোকে বাস করেন। স্বপ্নের ভিতর বাস করে রাস্ট্র আর সরকার
      পরিচালনা করা যায়না। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি সরকার ১০০ ভাগ সততা    

   নিয়ে দেশ পরিচালনার চেস্টা করছেন। কিন্তু এই সততার সাথে বাস্তবের কোন মিল      

 নেই বা সম্পর্ক নেই। বিগত সাত মাসের সরল প্রচেস্টা সে কথাই প্রমান করেছে।

Read Full Post »


 
                                      

          মার্কিন যুক্তরাস্ট্র বলেছে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার ভাগ্য নির্ধারন করবে
       বাংলাদেশের জনগণ। কথাটা একশ ভাগ সত্য। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সহকারি    

     বিদেশমন্ত্রী বাউচারের বক্তব্যটা আরেকটু খোলাসা হলে খুবই ভাল হতো। এই দুই
       প্রধান নেত্রীর ভাগ্য জনগণ কিভাবে নির্ধারন করবে তা আমরা বুঝতে পারছিনা।
       নির্বাচনে দুই নেত্রীই নির্বাচিত হবেন এ ব্যাপারে বাংলাদেশের কোন নাগরিকের সন্দেহ   নেই।

প্রশ্ন হচ্ছে এই দুই নেত্রী নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতে পারবেন কিনা।              

সরকারতো শুরু থেকেই ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলা চালু করে জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি
       সৃষ্টি করেছেন। তারপরেই ওই ফর্মুলা বাস্তবায়নের জন্য দলের ভিতর সংস্কারের         

  নামে বিভক্তি বা দলভাংগা শুরু হয়ে গেছে। সুতরাং দুই নেত্রীর ব্যাপারে জনগণের
       মত প্রকাশের কোন সুযোগ থাকবে বলে মনে হয়না। দেশের প্রখ্যাত আইনজীবী
       যাঁরা শেখ হাসিনার পক্ষে মামলা পরিচালনা করতে চান তাঁরা সন্দেহ প্রকাশ       

 করেছেন আদৌ সুযোগ পাবেন কিনা। আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বর্ষীয়ান
       নেতা জিল্লুর রহমান বলেছেন ‘সরকার মাইনাস টু’ ফর্মুলা বাস্তবায়নের জন্যই শেখ      

  হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জনাব জিল্লুর শেখ হাসিনার মুক্তির জন্য
       আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। ইতোমধ্যে অনেকেই বলেছেন,মাইনাস টু ফর্মুলা দেশের
       রাজনীতিতে সর্বনাশ ডেকে আনবে। দেশের মানুষের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় এই
       দুই নেত্রীকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে গেলে তা আদৌ গ্রহণযোগ্য হবে কিনা তা
       নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
       এর আগে বহুবার বলেছি দুর্ণীতি মানব সমাজের বহু প্রাচীন রোগ। এ বড় কঠিন        

  রোগ। বাংলাদেশে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এই মহারোগ বাসা বেঁধে বসেছে । এ রোগ
       সারতে বেশ সময় লাগবে। ওঝা দিয়ে এ রোগ কখনই সারবেনা। তবে সরকার
       যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা সত্যিই খুবই প্রশংসনীয়। এ রকম একটা বড় ধাক্কা
       বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন ছিল। বাংলাদেশের উপরতলার মানুষগুলো বুঝতে
       পেরেছে অন্যায় করে সব সময় পার পাওয়া যায়না। পার না পাওয়ার দিন এসে
       গেছে। এ সময়কে অর্থাত আমাদের সমাজে আর্থিক রাজনৈতিক দুর্ণীতিকে স্থায়ীভাবে     

   বিদায় করার স্থায়ী ব্যবস্থা এখনি নিতে হবে। কাজটা এলোমেলো ও আগ্রাসীভাবে
       হলেও চলমান সরকার শুরু করেছে। এজন্যে তাঁরা নিশ্চয়ই ধন্যবাদ পাবেন। তবে
       সরকারকে মনে রাখতে হবে তাঁরা কোন বিপ্লবী সরকার নন।বিপ্লবী সরকারের পক্ষে      

  যে সংস্কার সম্ভব তা চলমান জরুরী সরকার দ্বারা সম্ভব নয় একথা মনে রেখেই
       তাঁদের কাজ করতে হবে।
       সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী নেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের পর দেশের             

 রাজনীতি যে দিকে মোড় নিবে বা নিতে যাচ্ছে তা সামাল দেয়া সরকারের পক্ষে        

  সম্ভব নাও হতে পারে। ইতোমধ্যে তার আলামত দেশে-বিদেশে দেখা দিতে           

    শুরু করেছে। ভারপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ সভাপতি জিল্লুর সাহেব ঘোষণা দিয়েছেন
       হাসিনার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সংস্কার বা কাউন্সিল অধিবেশন
       কোনটাই হবেনা। আওয়ামী সংস্কারপন্থীরাও জিল্লুর রহমান সাহেবের ঘোষণাকে সমর্থন
       দিয়েছেন। বিএনপি চেয়ার পারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শেখ
       মুক্তি দাবী করেছেন। কালেদা জিয়ার বিবৃতিকে আওয়ামী মহল প্রশংসা করেছে।
       নয়া দিগন্ত একটি প্রধান প্রতিবেদনে বলেছে খালেদা জিয়ার বিবৃতি উভয় দলের          

 কর্মীদের ভিতর মাঠ পর্যায়ে সমঝোতা ও ঐক্যের দুয়ার খুলে দিয়েছে। জাতীয়
       প্রেসক্লাবের এক সেমিনারে ডঃ আকবর আলী বলেছেন সংস্কার চাপিয়ে দিয়ে লাভ
       হবেনা। কারণ সংস্কার চাপিয়ে দেয়ার বিষয় নয়। দল ভাংগাভাংগি দেশের             

  রাজনীতিকে দুর্বল করে ফেলবে। দুটি বৃহত রাজনৈতিক দল দেশের রাজনীতিকে
       সুদৃঢ় ভিত্তিতে প্রসারিত করবে এটাই দেশবাসীর ধারনা ছিল। কিন্তু জরুরী
       সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে রাজনীতিকদের গালাগাল করতে শুরু করলেন।
       সকল অপরাধ গিয়ে পড়লো দুই প্রধান দলের নেতাদের কাঁধে। সাথে সাথে সুযোগ
       সন্ধানীরা সংস্কারের জেয়াফত শুরু করে দিল। সময়ের পাহলোয়ানরা নিশ্চিত হয়ে
       গেছে যে সরকার তাঁদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে। তাই চারিদিকে তাঁদের দৌড়ঝাপ
       টিভির মাধ্যমে দেশবাসী দেখতে পাচ্ছে। মাঠে গেলে এদের অবস্থা কি হবে একমাত্র
       গায়েবের মালীক জানেন। শহীদ মিনারে মরহুম মিজান চৌধুরীর কথা দেশবাসী
       ভুলে যায়নি। এরশাদ সাহেবের আমলে আমাদের বহুনেতা প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।
       এরশাদ সাহেব নয় বছর ক্ষমতায় থেকেও একটি শক্তিশালী দল করতে পারেন নি।
       দল গঠণ অত সোজা কাজ নয়। গত ৩৬ বছরে তা প্রমানিত হয়ে গেছে।
       মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানী প্রতিস্ঠা করেছিলেন আওয়ামী লীগ।স্বাধীনতার
       ঘোষক জিয়াউর রহমান প্রতিস্ঠা করেছেন বিএনপি। আওয়ামী লীগকে সুপ্রতিস্ঠিত
       করেছেন বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর কন্যা  শেখ হাসিনা। বিএনপিকে
       সুপ্রতিস্ঠিত করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। বাংলাদেশের রাজনীতির ধারাকে
       বিশ্লেষন করা হয় দুটি শব্দ দিয়ে। একটি বাংগালী এবং অপরটি বাংলাদেশী।
       আওয়ামী লীগ বাংগালী শব্দটির প্রতিনিধিত্ব করে আর বিএনপি প্রতিনিধিত্ব করে        

  বাংলাদেশী শব্দের। শব্দ দুটির আর ব্যাখ্যা এখন করতে চাইনা।
       এরশাদ সাহেব জাতীয় পার্টি গঠণ করে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির দাবীদার হতে
       চেয়েছিলেন। জনগণ তা গ্রহণ করেনি। ৯১ সাল থেকে এ যাবত যে সাধারন
       নির্বাচন হয়েছে তাতে দেখা গেছে মধ্য ডানপন্থী দলগুলো শতকরা ৬০ ভাগ ভোট
       পেয়েছে। এই ফলাফলের মাধ্যমে ভোটারদের মনোভাব বুঝার একটা সুযোগ পাওয়া       

  যায়। ১/১১র পর থেকেই আমরা শুনে আসছি শুধু একটা নির্বাচনের জন্য জরুরী
       সরকার প্রতিস্ঠিত হয়নি। তাঁরা গণতন্ত্র প্রতিস্ঠা করতে চান। তাঁরা দুর্ণীতিমুক্ত       

  সত্ মানুষের গণতন্ত্র চান। জামায়াতে ইসলাম এই শ্লোগান দিয়েই রাজনীতি করে।
       কিন্তু জামায়াতের ভোটের হিস্যা ১০/১২ পারসেন্টের বেশী নয়। জোট না করে         

   জামায়াত একা নির্বাচন করলে খুব কম সিট পায়। একবার তাঁরা একা ভোট করে        

দশের নীচে সিট পেয়েছিলেন। এরশাদ সাহেবের অবস্থাও ওই রকম। তাঁর দলের
       ভোটের পরিমান দশ পারসেন্টেরও নীচে। আগামীতে তা থাকবে কিনা সন্দেহ আছে।
       মেনে নিলাম দুই দলের নেত্রিদের উপর জনগণ ক্ষেপে আছে। কিন্তু তাঁদের বাদ      

  দেয়ার উপায় কি?জোর করে বাদ দেয়ার প্রচেস্টা বা প্রক্রিয়া কি শুভ হবে?
       সরকার যতই অস্বীকার করছেন বা ব্যাখ্যা দিচ্ছেন যে তাঁরা কিছু চাপিয়ে দিচ্ছেন       

 না জনগণ বা মিডিয়া বিশ্বাস করছেনা। সরকার যদি মনে করেন বা বিশ্বাস করেন
       দুই নেত্রীকে বাদ দিলে দেশের উপকার হবে তাহলে তাঁদের এ বিষয়টা জনগণকে      

  স্পস্ট করে প্রকাশ্যে বলতে অসুবিধা কোথায়?কিন্তু আমরা দেখছি লুকোচুরি। এমন
       কি সংস্কারবাদী(অদৃশ্য ইংগিতে যাঁরা চলছেন) তাঁরাও খোলাসা করে কিছু বলছেন      

  না। বুঝতে পারছিনা এমন ভাল কাজে লজ্জা বা দোমনা হওয়ার কি আছে?যাঁদের
      দেশের মানুষ কোটি কোটি ভোট দেয় তাঁদের জোর করে বাদ দেয়ার এমন হাস্যকর
      প্রচেস্টা দেশের মানুষ এর আগে কখনও দেখেনি।
      যদিও সেনাপ্রধান বলেছেন ভোটারদের বুঝাতে হবে তাঁরা যেন দুর্ণীতিবাজ ভোট না     

  দেয়। এটা ভালো কথা। ভোটারদের সচেতন বা এডুকেট করার জন্য নির্বাচন কমিশন
      প্রচার কর্মসুচী নিতে পারেন। কিন্তু একথাতো নিশ্চয়ই বলা যাবেনা যে অমুক মার্কায়
      অমুককে ভোট দেবেন না। গনতান্ত্রিক রীতিনীতিতে কাউকে ভোট না দেয়ার জন্য
      বলার কোন বিধান করা যায় কিনা আমাদের জানা নেই। সকল দুর্ণীতি স্বত্তেও
      বাংলাদেশ বিশ্বের ৫৬তম অর্থনীতির মর্যাদা লাভ করেছে। দক্ষিণ এশিয়ায়            

 বাংলাদেশের অবস্থানও বেশ সম্মানজনক । গনতান্ত্রিক দেশ হিসাবে ইতোমধ্যেই স্বীকৃতি      

 লাভ করেছে। কিন্তু ১৫ বছরের বেশী গণতন্ত্র টিকলোনা। বিদেশীরা কিছু স্বদেশীর
      সহযোগিতায় গনতন্ত্রের যাত্রাকে থামিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সাধারনভাবে খোলা চোখে          

 দেশবাসী দেখলো হাসিনা-খালেদার ব্যর্থতার জন্যই গনতন্ত্রের যাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
      ১/১১র পর থেকেই আমরা শুনতে লাগলাম দুই বড়দলের ব্যর্থতার কথা। অদৃশ্য
      শক্তির কোরাসের সাথে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কিছু নেতা সুর মিলিয়ে বলতে
      লাগলেন ‘যত দোষ নন্দঘোষ’। ৩৬ বছরে দেশের যত ক্ষতি করেছে রাজনীতিকরা।
      ট্রান্সপারেন্সী ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশকে ৫ বার দুর্ণীতিবাজ বানিয়েছে। এখন বুঝা     

  যাচ্ছে টিআইবির মুজাফফর সাহেবের একটা লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য ছিল। ১/১১র মাধ্যমে
      তাঁর সে লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাস্ট্র বলে যাঁরা চিত্কার করে
      গলা ফাটিয়েছেন তাঁদের লক্ষ্যও অর্জিত হয়েছে
      রাজনীতিবিদরাই ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীন করেছেন।
সেই
      রাজনীতিবিদদের নেতৃত্বেই ৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন     

  সার্বভৌম রাস্ট্র হিসাবে বিশ্বের দরবারে মাথা তুলে দাড়িয়েছে। সকল শ্রেণীর বাংগালী
      সৈনিক, শ্রমিক,কৃষক ছাত্র মেহনতি মানুষ ছিল সহযোগী যোদ্ধা। রাজনীতিকদের        

   দৃশ্যপট থেকে বার বার আড়াল করার চেস্টা করা হয়েছে। ৯১ থেকে ২০০৬ সাল
      পর্যন্ত ১৫ বছর ধরে আমরা বহু কষ্ট করে গণতান্ত্রিক ধারাকে অব্যাহত রেখেছিলাম।
      কিন্তু আমাদের কপালে গণতন্ত্রের গৌরবময় ধারা আবারও হোঁচট খেয়ে পড়লো।
      যখনি দেশে অগনতান্ত্রিক সরকার প্রতিস্ঠিত হয়েছে তখনি বলা হয়েছে 
      রাজনীতিকদের সীমাহীন দুর্ণীতি, অযোগ্যতা,দুর্বৃত্তায়নের ফলেই সামরিক শাসন বা     

  জরুরী অবস্থা জারী হয়েছে। ১/১১র জরুরী অবস্থা জারীর সময় মহামান্য রাস্ট্রপতি
      যে ভাষণ দিয়েছেন তাতে তিনি রাজনীতিকদের কর্মকান্ডকেই দায়ী করেছেন।
      একথা সত্যি যে তখন রাস্ট্রপতির কাছে আর কোন উপায় ছিলনা।পরিস্থিতি
      মোকাবিলার জন্য জরুরী অবস্থা ঘোষণা,সেনাবাহিনী তলব করা ও নতুন উপদেস্টা    

     পরিষদ গঠণ করা ছাড়া ওই সময় রাস্ট্রপতির আর কি করার ছিল? দেশবাসী
      স্বতস্ফুর্ত ভাবে সরকারী পদক্ষেপকে সমর্থন করেছে। কিন্তু বিগত ছয় মাসে দেশে
      যা ঘটেছে এবং আগামীতে যা ঘটতে যাচ্ছে তাতে দেশবাসী কিছুই বুঝতে পারছেনা।
      সরকার যদি মনে করেন তাঁরা যা করছেন তা সঠিক এবং দেশের জন্য কল্যাণকর
      তাহলে জনগণকে খোলাসা করে বুঝাতে অসুবিধা কোথায়?আইন উপদেস্টা বলেছেন
      সব দুর্ণীতি দূর করতে ৫ বছর সময় লাগবে। লে জে মাসুদ চৌধুরী বলেছেন ,
      পর্যায়ক্রমে সব দুর্ণীতিবাজকে ধরা হবে। স্বাভাবিকভাবেই দেশবাসীর মনে জাগতে
      পারে চলমান সরকার কি তাহলে ৫ বছর ক্ষমতায় থাকবে? মে জে মতিন
      বলেছেন, সরকারের কোন রাজনৈতিক লক্ষ্য নেই। সরকারের লক্ষ্য দুর্ণীতি দমন
      করা। অন্যদিকে জেনারেল মইন রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন। তিনি সংবিধান
      সংশোধন,জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, প্রধানমন্ত্রী ও রাস্ট্রপতির ক্ষমতার সমন্বয়
      ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে কথা বলছেন। বিষয় গুলো একেবারেই রাজনৈতিক।
      আপর দিকে সরকারের প্রধান উপদেস্টা রুটিন কথা ছাড়া কিছুই বলছেন না।
      রাস্ট্রপতিও রুটিন বক্তৃতা ছাড়া কোন কথা বলছেন না। ফলে দেশবাসীর মনে
      প্রশ্ন জেগেছে সরকারের চরিত্র কি।
      দুই নেত্রীকে বাদ দেয়ার ব্যাপার নিয়ে আবার নানা খথা শুরু হয়েছে। বিচারপতি
      টিএইচ খান বলেছেন, সংস্কারবাদীরা ধোয়া তুলসীপাতা নয়। তাঁদের সবাইকে
      দেশবাসী ভাল করেই চিনে।শেখ হাসিনা গ্রেফতার হওয়ার পর আওয়ামী লীগের
      সংস্কার থেমে গেছে বলে হচ্ছে। সাথে আওয়ামী লীগের ভাংগনও থেমে গেছে।
      কিন্তু বিএনপির সাংগঠনিক দৃশ্য সম্পুর্ণ আলাদা। এখানে সংস্কারবাদীদের লম্পজম্প
      একটু বেশী। সময়ের পাহলোয়ান মান্নান ভুঁইয়ার বাসায় যাদের দেখা যাচ্ছে তাঁদের
      প্রায় সবাই সাবেক সামরিক ও বেসামরিক আমলা । বেগম খালেদা জিয়া এদের           

 সম্মান করে দলের ভিতর গুরুত্বপুর্ণ জায়গা দিয়েছেন। এখন মনে খালেদা জিয়া
      সত্যিই বিরাট ভুল করেছেন। চাকুরী জীবনে এসব আমলা ২০/৩০ বছর সরকারের
      হালুয়া-রুটি খেয়েছে। তারপর খালেদা জিয়ার আনুকুল্যে বিএনপির হালুয়া খেয়েছে।
      এখন তাঁরা পুরো বিএনপিটাকে খেয়ে ফেলার কাজে নেমে পড়েছে। এনাম চৌধুরী ও
      মোফাজ্জল করিম নামক দুই ব্যক্তিতো বলেই ফেলেছেন বিএনপি বললে খালেদা জিয়া
      আর আওয়ামী লীগ বললে শেখ হাসিনা মনে করার দিন শেষ হয়ে গেছে।
      দেশবাসী মনে করে অদৃশ্য শক্তির আসকারা পেয়ে লোকগুলো এসব করছে। এদের
      নিজেদের কোন নির্বাচনী এলাকা নেই। ধানের শীষ বা নৌকা মার্কা ছাড়া ভোটে
      দাঁড়ালে এদের কারো জামানত থাকবেনা। সময়ের কারণে এখন এরা সবাই
      পাহলোয়ান। এসব পাহলোয়ান খালেদাকে গ্রেফতার করাবার জন্য জোর তদবীর
      চালাচ্ছে বলে বাজারে জোর গুজব। কারণ খালেদা জিয়া এখন তাঁদের চোখের কাঁটা।
      কোনদিক থেকেই দেশ এখন ভালো নেই। নির্বাচনের রোড ম্যাপ পাওয়া গেলেও          

  নির্বাচন আদৌ হবে কিনা এ নিয়ে জনমনে সন্দেহ একেবারে নেই বলা যায়না।
      এটা আস্থা সংক্রান্ত বিষয়। কেন আস্থা অর্জিত হয়নি তা সরকার ভাল বলতে        

    পারবেন। তবে আমরা বলতে পারি আস্থা না থাকা দেশের নিরাপত্তার জন্য শুভ
      নয়। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাও ভাল নয়। বিদেশী মুদ্রার রিজার্ভ বাড়কেই অর্থর্নীতি
      ভাল আছে বলা যাবেনা। গ্রামের অর্থনীতিও দিন দিন দূর্বল হয়ে পড়ছে। শহরে
      হকার ও বাজার সমস্যার সমাধান হয়নি। সরকার ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক
      অনেক গুলো সমস্যায় জড়িয়ে পড়েছেন। এবং নিজেরাই সমস্যা গুলোর জন্ম দিয়েছেন।
      এটা অবশ্যই আমার নিজের ধারণা বা অবজারভেশন। আমার ভুলও হতে পারে।
      প্রথম সমস্যা রাজনৈতিক, দ্বিতীয় অর্থনৈতিক ও তৃতীয় সামাজিক আইনগত।
      জনসাধারন অভিনন্দন জানিয়েছিল ১/১১র পূর্ববর্তী বিশৃংখল অবস্থা থামিয়ে
      শান্তিপূর্ণ পরিবেশে একটি নির্বাচন অনুস্ঠানের জন্য। সরকার তা নাকরে আরও
      অনেক গুলো দীর্ঘ মেয়াদী কাজ হাতে নিয়ে ফেলেছেন। যা অল্প সময়ে করা সম্ভব
      নয়। ফলে দেশের সার্বিক অবস্থা নাজুক পরিস্থিতির দিকে ঝুঁকে পড়ছে
      সরকারে যাঁরা আছেন তাঁরা কেউই রাজনৈতিক ব্যক্তি নন। রাজনৈতিক সমস্যা গুলো
      রাজনৈতিক ভাবেই মোকাবিলা করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নিতে
      পারতেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। কিন্তু তা করেন নি।কিছু সমসা ছিল যে গুলো
      নির্বাহী আইন দ্বারা পরিবর্তন করা যেতো। সেগুলো হচ্ছে আর্থিক অপরাধ জনিত।ঘুষ   

    খাওয়া ,চুরি করা,চাঁদাবাজি করা ও সন্ত্রাসী করা চলমান ফৌজদারী আইনের
      আওতায় পড়ে। রাজস্ব সংক্রান্ত আইন গুলো এনবিআরের আওতায় পড়ে। এখানে
      আইন না থাকলে আইন করা যেতে পারে। আর্থিক অপরাধ দমন করার জন্য আরও
      কঠিন আইন করা দরকার। নির্বাচনী আইনেও ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। এসব বিষয়ে
      আন্তরিক উদ্যোগ নিলে সরকার ব্যাপক সমর্থন ও প্রশংসা লাভ করবেন।

Read Full Post »


 
                                       

         বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমদ ভারত ও পাকিস্তান  যাবেন
         চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে। পাকিস্তান যাওয়ার খবর পরে যোগ হয়েছে।
         এ খবরটি প্রথম প্রচার করেছে ভারতের পত্রিকাগুলো। এবং তারা
         বলেছে বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সবচে শক্তিমান ব্যক্তি জেনারেল মইন।সুতরাং
         ভারত সরকারের উচিত হবে এই বিষয়টা মনে রাখা। জেনারেল মইন মুক্তিযুদ্ধের
         সময়ের বড় বড় ভারতীয় সমরনায়কদের সাথে দেখা করবেন বলে পত্রিকা গুলো
         জানিয়েছে। এছাড়াও তিনি ভারতের বাঘা বাঘা সরকারী নেতাদের সাথেও দেখা
         করবেন। জেনারেল মইন এখন আমাদের দেশের সবচে বেশি ক্ষমতাবান ব্যক্তি সে
         কথাও আমরা জানতে পারলাম ভারতীয় মিডিয়ার মাধ্যমে। বেশ কিছুদিন আগেও
         আমরা শুনেছিলাম জেনরেল মইন ভারত সফরে যাবেন। দিল্লীতে তোড়জোড়
         চলছিলো কিভাবে মইনকে যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করা হবে। আমরা শুনেছিলাম
         তাঁকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দান করা হবে। ইতোমধ্যে মইনের সামরিক মর্যাদাও
         বাড়ানো হয়েছে। তিনি এখন চার তারকার পুর্ণ জেনারেল। এর আগ পর্যন্ত
         বাংলাদেশের সেনা প্রধানের মর্যাদা ছিল তিন তারকা।
         এ কথা ঠিক যে জেনারেল মইন এখন সরকারীভাবেই এজন ক্ষমতাবান ব্যক্তি।
         তাঁর নেতৃত্বেই সেনা বাহিনীর সমর্থন নিয়েই বর্তমান সিভিল সরকার চলছে।
         একথা এখন কারো অজানা নয়। ভারতীয় মিডিয়া হয়ত সেদেশের জনগণকে
         জানাবার জন্যই মইনের মর্যাদার কথা খোলাসা করে বলেছে।
         জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের(ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের) কথাও আমরা
         আবার শুনতে পাচ্ছি। সংবিধানের মুল কাঠামো পরিবর্তনের কথাও শুনা যাচ্ছে।
         বিচারপতিদের নিয়ে সংবিধান পরিষদ গঠনের খবরও কাগজে ছাপা হয়েছে।শুধু
         রাজনীতিবিদদের হাতে নাকি এখন আর দেশের নিরাপত্তা নিরাপদ নয়। তাই
         নিরাপত্তা রক্ষার জন্য সেনাবাহিনী ও রাজনীতিবিদদের নিয়ে একটা পরিষদ গঠন
         করা দরকার। ১/১১র আগে রাজনীতিবিদরা যা করেছেন তাতে তাঁদের উপর
         নাকি আর নির্ভর করা যায়না। একথা সত্যি যে বর্তমান সরকারের বদৌলতে
         আমরা বস্ত্রহীন রাজনীতিকদের চেহারা দেখতে পাচ্ছি। তাঁদের একেক জনের
         ১৩/১৪ বছর করে জেল খাটার শাস্তি হচ্ছে। আইউব খান এবডো করে
         রাজনীতিবিদদের ঘরে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। চলমান জরুরী সরকার তাঁদের কাপড়
         খুলে ডোরাকাটা কাপড় পরিয়ে জেলে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। এখন এটা সুস্পষ্ট যে
         আগামীদিনে বাংলাদেশে নতুন রাজনীতি শুরু হতে যাচ্ছে। তারই আলামত আমরা
         দেখতে পাচ্ছি। সব দলে সংস্কারের মহা উত্সব চলছে। যাদের দল নেই তাঁরা
         পুরান মানুষ নিয়ে নতুন গঠণের কাজে দিনরাত কাজ করছেন।
         রাস্ট্র রাজনীতি ছাড়া চলতে পারেনা। রাজনীতিবিহীন রাস্ট্রের নিরাপত্তা থাকেনা।
         বাংলাদেশে এখন অনির্বাচিত রাজনীতিবিহীন জরুরী সরকার বহাল রয়েছে।এ
         অবস্থায় একটু চিন্তিত না হয়ে পারা যায়না। সরকারের রাজনৈতিক লক্ষ্য ও
         আদর্শ সম্পর্কে আমরা ওয়াকিফহাল নই। সরকারও জনগনকে স্পস্ট করে বুঝাতে
         সক্ষম হননি। অথবা বুঝাতে চেস্টা করেননি।
         দুর্ণীতির নামে রাজনীতিকদের বস্ত্রহরণ, শহর সুন্দরের নামে রাস্তার হকার উচ্ছেদ
       সরকারী জায়গা উদ্ধারের নামে গ্রামের হাটবাজার ভেংগে দেয়া কোন কর্মসুচী হতে
         পারেনা। এটা কোন সরকারের আদর্শ হতে পারেনা। আদর্শ হচ্ছে সরকারের রাস্ট্র
         পরিচালনার মুলমন্ত্র। এই মুলমন্ত্রই হচ্ছে সরকারের রাজনীতি।
         সংস্কারপন্থীরা এখন রাস্ট্র ও সরকার কাঠামোর সংস্কার নিয়ে কথা বলা শুরু
         করেছেন। নানা রং ও ঢংয়ের প্লেয়ার সুরন্জিত বাবু বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা
         কমিয়ে রাস্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়াতে বলেছেন। তিনি বলেছেন সরকার চালাবে
         সংসদ। সুরন্জিত বাবুরাই মাত্র কয়েক বছর আগে রাস্ট্রপতি সরকার থেকে
         সংসদীয় সরকারে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা বাড়িয়েছেন। এখন আবার                   বলছেন,রাস্ট্রপতির
         ক্ষমতা বাড়াতে হবে। বাবুর নেতা বংগবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছরে রাস্ট্রপতি
         থেকে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন এবং আবার রাস্ট্রপতি হয়েছেন। সকল দল উচ্ছেদ করে
         একদল করেছিলেন। সুরন্জিত বাবু ওই নীতি সমর্থন করেছিলেন।
         চলতি সরকারের মায়া মহব্বতে পড়ে এখন আবার রাস্ট্রপতি সরকারের কথা
         বলছেন। সেনাপ্রধান মইন কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী ও রাস্ট্রপতির ক্ষমতার
         সমন্বয়ের কথা বলেছিলেন। পলাশী যুদ্ধের সময় নবাবের চরিত্র হননের জন্য
         তত্কালীন প্রাসাদ ষড়যন্ত্রকারীরা তাঁর বিরুদ্ধে নানা কুত্সা রটনা করেছিল।          জনমনে
         নবাব সম্পর্কে নেতিবাচক ধারনা তৈরি করেছিল। প্রকাশ্যে বা পর্দার অন্তরালে
         ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী দেশি ষড়যন্ত্রকারীদের মদদ দিয়েছিল। কোম্পানীর লক্ষ্য          ছিল
         অর্থনৈতিক। ষড়যন্ত্রকারীদের লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক। দেশীবিদেশী দুইদল
         ষড়যন্ত্রকারী এক হয়ে নাটকের পলাশী যুদ্ধে নবাবকে পরাজিত করে। এখন
         রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে কুত্সা রটনা চলছে। দেশের প্রাণশক্তি
         জনগনের মনে রাজনীতির বিরুদ্ধে ঘৃণা তৈরী হচ্ছে। রাজনীতিকরা ধোয়া          তুলসীপাতা
         একথা কেউ বলছেনা। তাঁদের অনেক দোষত্রুটি কলংক আছে। তাঁরা ক্ষমতা ও
         অর্থলোভী। রাস্ট্রের অর্থ আত্মসাত করেছে। কম আর বেশী সারা পৃথিবীতেই
         রাজনীতিকরা নৈতিক ও আর্থিক অপরাধ করছেন। রাস্ট্রের সামরিক-বেসামরিক
         প্রশাসনও কম যায়না। বছরে ৮০ হাজার কোটি টাকার বাজেটে প্রশাসন বা
         আমলারা ১০ পারসেন্ট খেয়ে ফেলে। অনেকে বলেন ২০ পারসেন্ট খেয়ে ফেলে।
         মানে ১৬ হাজার কোটি টাকা ঘুষ প্রশাসনের পকেটে যায়। যদি বলি রাজনীতিক
         ও প্রশাসন যৌথভাবে ১৬ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা হজম করে।
         রাজনীতিকরা ছাড়া সেই ঘুষখোর প্রশাসন এখনও বহাল আছে। থাকাটাই          স্বাভাবিক।
         এতবড় একটা প্রশাসনকে রাতারাতি বদলানো বা উচ্ছেদ করা যাবেনা। যদি
         কেউ এমন করতে চান তাহলে সরকার আর থাকবেনা। এসব কথা এর আগে
         বহুবার বলেছি। কেউ কেউ মনে করেন আমরা চলমান জরুরী সরকারের
         বিরোধীতা করছি। না, আমরা সরকারের বিরোধীতা করছিনা। আমরা সরকারকে
         অদৃশ্য ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সজাগ বা হুশিয়ার করার চেস্টা করছি। মুক্তিযুদ্ধের
         মাধ্যমে আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের সেনাবাহিনীর
         অপরিসীম ত্যাগ রয়েছে। রাজনৈতিক নেতারা স্বাধীনতার পক্ষে দেশে বিদেশে
         জনমত তৈরী করেছেন। রাজনীতিকদের ব্যর্থতার কারণে ভিতরে বাহিরে দেশের
         ইমেজ নস্ট হয়েছে। খোদা না করুক দেশে যদি আজ বড় কোন ক্রাইসিস দেখা
         দেয় তখন জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে জাতীয় সংকট মোকাবিলা করতে হবে।
         একমাত্র জনগণের নেতা রাজনীতিকরাই জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে। তাঁরা
         যতই চোর-বদমাশ হোক। শুধু ফখরুদ্দিন-মইন-ইয়াজুদ্দিন কোন জাতীয় সংকটের
         মোকাবিলা করতে পারবেন বলে মনে হয়না। তখন তাঁদের রাজনীতিক সহ দেশের
         সকল স্তরের মানুষের আবদান রাখতে হবে। একথাগুলো চলমান জরুরী সরকারকে
         মনে রাখতে হবে।
         চলমান পরিস্থিতির কারনে রাজনৈতিক সংস্কারে বিদেশী দুতরাও জড়িত হতে
         শুরু করেছেন। ভারতীয় দুত ইতোমধ্যেই আওয়ামী সভানেত্রীর সাথে সংস্কারবাদী
         নেতাদের যে দুরত্ব সৃস্টি হয়েছে তা কমাবার জন্যে কাজ করছেন বলে খবরের
         কাগজে প্রকাশিত হয়েছে। ভারতীয় দুতের কর্মের আওতায় এটা পড়ে কিনা তা
         নিয়ে জনগণের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভারতের বিদেশ সচিব মিঃ মেনন ঢাকা
         সফরকালে সরকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দুই নেত্রীর সাথে দেখা করেছেন। এক নেত্রীর
         সাথে প্রটোকল ভংগ করে ১৫ মিনিটের একান্ত আলাপ করেছেন। ভারত বর্তমানে
         নানা বিষয়ে সরকারের উপর চাপ সৃস্টি করে যাচ্ছে এ ধরণের খবরও পত্রিকায়
         ছাপা হয়েছে।
         ইতোমধ্যে দেশের রাজনীতিতে অনেকগুলো নতুন বিষয় দৃশ্যমান হয়েছে। শেখ          হাসিনা বলেছেন গোয়েন্দা বিভাগ দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোতে ভাংগা গড়ার          কাজ চলছে। বিষয়টি এতদিনজনগণের মনে মনে ছিল। মানে জনগণ আন্দাজ
         করছিল নতুন দল গড়া এবং পুরাতন দল ভাংগার কাজটি সরকার করাচ্ছেন।
         কারণ,রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ করতে হলে সবকিছু নতুন করে সাজাতে
         হবে। রাজনীতিকরা নিজেরা করুন বা কেউ তাঁদের উত্সাহিত করেছেন তাতে            তেমন কোন ফারাক বা হেরফের নেই। আসল কথা হোল নতুন রাজনীতির জন্য
         সংস্কার চাই। পুরাতন কিছু রাজনীতিক রাজনীতির নতুন ফরমুলা বা সংস্কার
         লেবেনচুষের মতো চুষতে শুরু করেছেন। শেখ হাসিনার খোলামেলা কথায়                সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে চটজলদি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যে সরকার বা
             সরকারী গোয়েন্দা সংস্থা এসব কাজ করছেনা। এমনকি সেনাপ্রধান নিজেই          বলেছেন গোয়েন্দা সংস্থা দল ভাংগার কাজে জড়িত নয়। হোটেল রেডিসনের
         বক্তৃতায় তিনি অনেক জরুরী ও মৌলিক বিষয়ে কথা বলেছেন।
         দেশের বর্তমান অবস্থায় নীরব দর্শকের ভুমিকা পালন করা তাঁর পক্ষে উচিত
         হবেনা বলেই তিনি মনে করেছেন। জেনারেল মইন আরও বলেছেন দেশে গত ১৫          বছর কোন গণতন্র ছিলনা। একথা বলে তিনি কি বুঝাতে চেয়েছেন তা স্পস্ট
         নয়। আইউব খান নয়া গণতন্র বেসিক ডেমোক্রেসি চালু করেছিলেন। বৃটিশ
         আমলে ছিল যিনি খাজনা দিবেন তিনি ভোটার হবেন। অর্থাত্ যাঁর জমি আছে           তিনিই ভোটার হবেন। রাজনীতিতে সংস্কার হতে হতেই সকল নাগরিকের
         ভোটাধিকার প্রতিস্ঠিত হয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রাণপুরুষ মহাথির মোহাম্মদ
         ঢাকায় এসে বলেছিলেন পশ্চিমা গণতন্ত্র এশিয়ার জন্য সঠিক নয়। কারণ এশিয়ার          সংস্কৃতি ও জনগণের মন মানসিকতা পশ্চিমের মতো নয়। এশিয়ার নিজস্ব
         একটা সংস্কৃতি-ঐতিহ্য রয়েছে। যেমন,যুক্তরাজ্য এখনও রাজারাণী ব্যবস্থা রেখেছে।
        এটা তাদের ঐতিহ্যের সাথে মিলে। কিন্তু যুক্তরাস্ট্রের গণতন্ত্র যুক্তরাজ্যের চেয়ে            আলাদা। ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রেক্ষিত থেকে ভিন্ন ভিন্ন দেশে গণতন্ত্র              বিকশিত হয়েছে। সেনাপ্রধান ও জরুরী সরকার বাংলাদেশের জন্য কি ধরণের
        গণতন্ত্রের কথা ভাবছেন তা দেশবাসী এখনও জানতে পারেনি। তাঁরা বারবার
        বলছেন, গণতন্ত্রে শুধু নির্বাচনই বড় কথা নয়। ভাল নির্বাচন হতে হবে। ভাল
        মানুষকে নির্বাচিত করতে হবে। ভাল মানুষের খোঁজে ইতোমধ্যেই ফেরদৌস কোরেশী
        সাহেব কাজ শুরু করেছেন
        তিনশো সিটে নির্বাচন করার কথাও ঘোষণা দিয়েছেন।
       তবে তিনি বলেছেন রাজনীতির জন্যে এই মূহুর্তে ফেরেশতা খুঁজে পাওয়া যাবেনা।
       ইতোমধ্যে কোরেশী সাহেবের আশেপাশে যাঁরা জড়ো হয়েছেন তাঁদের সবাইকে আমরা        চিনি। অন্যদিকে সংস্কারের নামে সময়ের পাহলোয়ান মান্নান ভুঁইয়াকে যাঁরা বাতাস       দিচ্ছেন তাঁদেরকেও আমরা চিনি। যদি ধরে নিই যে সংস্কারপন্থীরা আগামীদিনে
     সরকার গঠন করবেন তাহলে আমরা এখনি বুঝতে পারি সে সরকার কেমন হবে।
     মুল কথা হলো সমাজ পরিবর্তন। দুর্ণীতিমুক্ত প্রগতিশীল উন্নয়নমুখী একটা দেশ চাই।
     তার জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। চলমান জরুরী সরকারের সমর্থকরাও বলছেন
       বড় দুটি রাজনৈতিক দল ভেংগে কোন লাভ হবেনা। দল দুটি অনেক চড়াই-উতরাই
      পার হয়ে বর্তমান অবস্থানে এসছে। অতীতে বহু ঘাত প্রতিঘাত দল দুটি সহ্য করেছে।
      ধরে নেয়া যাক তাদের আরেকটি বড় ধাক্কা সহ্য করতে হবে। এখন দেষের মানুষ
      বুঝতে পেরেছে সংস্কার মানে দলভাংগা। শুধু পর্দার অন্তরালে যাঁরা কারিগর বা মিস্ত্রী
      হিসাবে কাজ করছেন তাঁরা বুঝতে পারছেন না।বরং তাঁরা বড় গলায় বলছেন,
      দল ভাংগার সাথে সরকারের কেউ জড়িত নন। দলগুলো এমনিতেই ভেংগে যাচ্ছে।
      যোগাযোগ উপদেস্টা জেনারেল মতিন বলেছেন, ভালোর জন্য ভাংগা কোন খারাপ       কাজ নয়। বরং ভাল। ভারত ভেংগে পাকিস্তান হয়েছে, পাকিস্তান ভেংগে বাংলাদেশ       হয়েছে। এসবতো ভাল কাজ। সাংবাদিকরা জেনারেল মতিনকে জিগ্যেস করেননি
      এবার কোন দেশ ভাংবে।
      সম্প্রতি নয়া দিগন্তে জনাব ফরহাদ মজাহার ও জনাব মাহমুদুর রহমান যে বক্তব্য         পেশ করেছেন তার সাথে আমি একমত। সেনা সমর্থিত জরুরী সরকার যেসব       কাজে হাত দিয়েছেন তা তাদের কাজ নয়। তবে তাঁরা আগামী সরকারের জন্য কিছু
      দিক নির্দেশনা দিয়ে যেতে পারেন। দুর্ণীতি কঠোর হস্তে দমন করা দরকার। সেজন্যে
      কঠোর আইনের প্রয়োজন। এসব কথা আমি এর আগেও অনেক বার বলেছি।
      নয়া দিগন্তে সাদেক খান সাহেবের লেখা পড়ে বুঝলাম তিনি এখনও ‘পুরানো দাদের       মলম’ ফেরি করার কাজে ব্যস্ত। জরুরী সরকার প্রতিস্ঠিত হওয়ার আগে তিনি
      জোট সরকারের সমর্থক ছিলেন। তাঁ বহু লেখায় তার প্রমান আছে। এখন তিনি শুরু
      থেকেই জরুরী সরকারের সমর্থক। তিনি ‘মাইনাস টু’ সহ নানাবিধ সংস্কারের সমর্থক।
      শুরু থেকেই তিনি সরকারের ‘দাদের মলম’ ফেরি করার কাজে নেমেছেন।
      লেখাটা শেষ করবো এমন সময়ে আওয়ামী নেত্রী শেখ হাসিনা গ্রেফতার হয়েছেন       আপাতত চাঁদাবাজির মামলায়। দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সুচনা হলো।
      এখন খালেদা জিয়াও গ্রেফতার হতে পারেন এনিয়ে কারো কোন সন্দেহ নাই।
      আইন উপদেস্টা মইনুল হোসেন সাহেব বলেছেন, সরকার কারো বিরুদ্ধে কোন মামলা
      করছেনা। তবে কেউ যদি মামলা করেন তাতে সরকার বাধা দিবেনা। কথাটা শুনে
      মানুষের হাসি পেয়েছে। রাজনীতিতে সত্য কি তা বড় কথা নয়। সত্য হচ্ছে জনগণ       কি ভাবছে বা কি বিশ্বাস করছে। চলমান সরকারের সব কর্মকান্ড জনগণ বিশ্বাস
      করছে কিনা সরকার জানেনা। তবে এট যে অস্বাভাবিক সরকার সেকথা আইন
      উপদেস্টা বারবার বলেছেন।কারণ সরকারটি প্রতিস্ঠিত হয়েছে এক অস্বাভাবিক
      সময়ে। আমরা আশা করেছিলাম সরকার সোজা-সাফটা ভাবে তাঁর নির্ধারিত লক্ষ্যে
      পৌঁছাতে পারবেন। তাঁদের মুল লক্ষ্য নির্বাচন। এখন মনে হচ্ছে তাঁদের পথ আর
      সোজা নেই। তাঁরা দিনদিন লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পড়ছেন। সরকার হয়ত আমাদের মতো
      ভাবছেন না। যেদিন শেখ হাসিনা গ্রেফতার হলেন সেদিনই প্রধান উপদেস্টা ফখরুদ্দিন
      বললেন কেউ আইনের উর্ধে নয়।কথাটা শিশুপাঠ্য। সবাই জানে। তবুও তিনি
      পুরাণো কথাটা আবৃত্তি করেছেন হাসিনাকে গ্রেফতার প্রসংগে। অর্থ উপদেস্টা
      বলেছেন কাউকে গ্রেফতার করলে অর্থনীতিতে কোন প্রতিক্রিয়া হয়না।
      আমরা কয়েকজন লেখক শুরু থেকেই বলে আসছি জরুরী সরকারের প্রধান এবং
      একমাত্র কাজ হচ্ছে নির্বাচন যা আগের তত্বাবধায়ক সরকার করে যেতে পারেন নি।
      কিন্তু সরকার নানা ধরণের কাজ হাতে নিয়ে নিজেদের চলার পথই পিচ্ছিল করে       ফেলছেন। এখন দেখা যাক এই পিচ্ছিল পথে কিভাবে তাঁরা পদচারণা করেন। আমরা
      মনে প্রাণে চাই তাঁরা সাফল্য অর্জন করুন।

Read Full Post »


 

                               

       বিশ্ব ব্যান্কের উদ্যোগে ‘রাজধানীর গরীবদের জন্য আবাসন’ শিরোনামে একটি
       কর্মশালা অনুস্ঠিত হয়েছে আগারগাঁওয়ের এলজিইডি অডিটোরিয়ামে ২৮জুন বেলা
       দুটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রচলিত ধারায় আবাসন
       উপদেস্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। সাধারণ ভাবে তিনি আইন উপদেস্টা হিসাবে
       পরিচিত। তিনি তথ্য উপদেস্টাও বটেন। মিডিয়ার বাইরে অনুস্ঠানে বিশ্ব ব্যান্কের
       তালিকাভুক্ত পরিচিত জন ও বস্তিবাসীদের দু’জন প্রতিনিধি ছিলেন।একজন ফাতেমা।
       ফাতেমা বললেন,আমরা কোন দয়া চাইনা। আমরা ন্যায্যদামেই স্থায়ী আবাসন চাই।
       আবাসন উপদেস্টা মইনুল হোসেন সাহেব বললেন, সরকারী জমির মালিক হচ্ছে
       জনগণের জমি। বস্তিবাসীদের পর্যায়ক্রমে পূনর্বাসনের জন্য সরকার কর্মসুচী গ্রহণ
       করেছে। এ ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। এটা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব
       নয়। সরকার একটিভ পার্টনারশীপ চায় গরীবের আবাসনের জন্যে। আবাসন
       উপদেস্টা সুস্পস্ট করে বলেছেন গরীবের আবাসনের জন্য সরকার জমি দিবে।
       কর্মশালা বা ওয়ার্কশপে রিহ্যাব ও প্লানার্স এসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা থাকলে ভাল
       হতো। গরীবের জন্য আবাসন পরিকল্পনা বা ব্যবস্থায় রিহ্যাব নিশ্চয়ই ভালো পরামর্শ
       দিতে পারতো। উদ্যোক্তারা কেন তাঁদের ডাকেননি তা বোধগম্য নয়। বাজারে একটা
       ধারণা আছে রিহ্যাব গরীবের জন্য বাড়ী বানায়না। সে ধারণার কারণেও হয়ত
       রিহ্যাবকে আমন্ত্রন করা হয়নি।রিহ্যাব সদস্যরা ইতোমধ্যেই ৬০ হাজার ফ্ল্যাট
       ও পাঁচ হাজারের মতো প্লট ডেলিভারী দিয়েছে। এই বিশাল কাজটা ইতিবাচক
       ভুমিকা হিসাবে সকল মহলে প্রসংশিত হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু হয়নি। রিহ্যাব এবং
       এর সদস্যরা এখন ইমেজ ক্রাইসিসে ভুগছেন।
       বাংলাদেশের সংবিধান সকল নাগরিকের আশ্রয় অধিকারের গ্যারান্টি দিয়েছে। কিন্তু
       সরকার সেই ওয়াদা বা গ্যারান্টি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। অথচ ধনীদের আবাসন
       ব্যবস্থায় সরকার পিছিয়ে নেই। রাজউক সাধারন মানুষের জমি হুকুম দখল করে
       প্লট বানিয়ে খুবই কম দামে নির্ধারিত শ্রেণীর মানুষের কাছে বিক্রি করছে।অপরদিকে
       বেসরকারী বাণিজ্যিক প্রতিস্ঠান গুলো রাজধানী আশেপাশে জমি কিনে ডেভেলপ
       করে বিজ্ঞাপন দিয়ে বাজারে বিক্রি করছে কিস্তিতে। রাজউক ছাড়াও সরকারী
       নানা সংস্থা হুকুম দখল করে জমি বিক্রি করছে। রাস্ট্র এ ধরণের অনৈতিক কাজ
       করতে পারেনা। কিন্তু বহুকাল ধরেই করছে।
       বিশ্বব্যান্কের কর্মশালায় সুপারিশ এসেছে রাজধানীতে জমি বরাদ্দ বন্ধ করে
       শুধুমাত্র ফ্ল্যাট বরাদ্দ করার জন্য। সুপারিশ এসেছে অতি অল্প সুদে দরিদ্রদের জন্য
       দীর্ঘমেয়াদী ঋণদেয়ার জন্য। আয়ভেদে ঋণের সুদ নির্ধারনের জন্য। বিশ্বব্যান্ক
       রাজধানীর গরীব মানুষের নানা সমস্যার কথা বলেছে। বলেছে প্রতি বছর
       রাজধানীতে ৩/৪ লাখ নতুন মানুষ কর্মের অন্বেষনে আসছে।তারা অর্থনৈতিক
       কর্মকান্ডে বিশেষ অবদান রাখছে।দেশের জিডিপি বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করছে। কিন্তু
       সমস্যা সমাধানে কোন পথ দেখায়নি বা দেখাতে পারেনি। গ্রামে যদি কাজ ও সঠিক
       মজুরী পাওয়া যায় তাহলে গ্রামের মানুষ আর শহরে আসবেনা। সত্যি কথা বলতে
       কি বাপদাদার ভিটেমাটি কেউ শহরে আসতে চায়না। এ বিষটি বিশ্বব্যান্কের রিপোর্টে
       নেই। যে গ্রাম উন্নত হলে বাংলাদেশ উন্নত হবে সে গ্রাম উন্নয়নের ব্যাপারে
       বিশ্বব্যান্ক কিছুই বলেনি। বাংলাদেশে ১৪/১৫ কোটি মানুষের বাস। সবাই যদি
       শিল্প পণ্যের ভোক্তা হয় তাহলে শিল্পের বিকাশ দ্রুত হবে। প্রয়োজন গ্রামীন মানুষের
       ক্রয় ক্ষমতা বাড়ানো। বিশ্বব্যান্কের রিপোর্টকে কেন্দ্র করেই স্বাভাবিক সময়ের
       কথাগুলো বললাম। চলতি সময় স্বাভাবিক নয়,এ উপদেস্টারা বারবার বহুবার
       বলেছেন।বিশেষ করে আমাদের প্রিয়মানুষ ব্যারিস্টার সাহেব হরহামেশাই বলছেন।
       এ কঠিন সময় কে বা কারা সৃষ্টি করেছেন সে কথা আগে আমি বহুবার বলেছি।
       আজ নিজে কিছু না বলে ফরহাদ মজহার সাহেবের ৩০ জুনের নয়াদিগন্তে প্রকাশিত
       লেখার প্রতি প্রিয় পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। দেশের চলমান অবস্থার উপর
       এত স্পস্ট করে এর আগে কেউ কিছু বলেননি বা লেখেননি।
       ১/১১র পরপরই দেশের অবস্থা সম্পর্কে সেনাপ্রধান এবং উপদেস্টা পরিষদের প্রায়
       সবাই বলেছেন ৩৬ বছরে দেশে কিছু হয়নি,রাজনীতিবিদ ও দুর্বৃত্তরা সব খেয়ে
       ফেলেছে। দুর্নীতিতে দেশ ধ্বংশ হয়ে গেছে। জরুরী সরকার দেশকে রক্ষা করার জন্য
       ক্ষমতা গ্রহন করেছেন। আমরা দেখলাম শুরুতেই সরকার গ্রামের পুরাণো
       হাটবাজার ভেংগে দিয়েছে। যা ছিল গ্রামীন অর্থনীতির প্রাণ। সে বাজারগুলো এখনও
       ভাংগা অবস্থায় পড়ে আছে। রাস্তার পাশের দোকানগুলো তুলে দিয়েছে। নগর ও
       শহর গুলোর ফুটপাত থেকে হকারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। গরীব মানুষগুলোর
       সরকারের রাগের কারণ আজও জানা হয়নি। বাজারে জিনিষপত্রের দাম বেড়েই
       চলেছে। সরকারী ধাক্কায় স্বাভাবিক ব্যবসা প্রবাহ অস্বাভাবিক অবস্থায় পতিত হয়েছে।
       বাজারে চাহিদা ও সরবরাহ এখনও স্বাভাবিক হয়ে আসেনি। বিদেশী মুদ্রার রিজার্ভ
       বেড়ে পাঁচ বিলিয়ন ছেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যান্কের গভর্নর বেশ হাসতে হাসতেই
       বললেন অর্থনীতির অবস্থা স্বাভাবিক হয়ে আসার কারণেই রিজার্ভ বেড়েছে। রিজার্ভ
       বেড়েছে এ কথা সত্যি। কিন্তু গভর্নর সাহেবের ব্যাখ্যাটা মেনে নিতে পারলাম না।
       একজন সরকারী আমলা বা কর্তা হিসাবে তাঁর ব্যাখ্যা হয়ত একশ ভাগ সত্যি।
       দুর্নীতির দৃশ্য বা সিনেমা দেখে দেখে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। এর মাঝেই হতভাগা
       দেশের কটি খবর খুবই আশান্বিত করেছে। খবরগুলো সরকারই রিলিজ করেছে।
      (১) দারিদ্র বিমোচনে বাংলাদেশ বিশ্বের মডেল নির্বাচিত (২)দেশবাসীর মাথাপিছু
       আয় বৃদ্ধি পেয়েছে (৩)শহর ও গ্রামের দারিদ্রের হার কমেছে। এই সুখবর গুলো
       সৃষ্টি হয়েছে দুর্ণীতিবাজ দুর্বৃত্ত রাজনীতিবিদদের আমলে। ফল প্রকাশিত হয়েছে। এখন।
       হাবভাবে মনে হচ্ছে জরুরী সরকারই এ মহান কাজ গুলো করেছে। তাই বলি
       কমবেশী দুর্ণীতি নিয়ে গণতান্রিক বাংলাদেশ ভালোই চলছিলো।এর ভিতর দিয়েই
       দারিদ্র কমেছে,শিক্ষার হার বেড়েছে। পর্দার অন্তরালে কার যেন বাংলাদেশের অগ্রগতি
       সহ্য হয়নি। তাই গণতন্ত্র থেমে গেল। রাজনীতিতে এখন সংস্কার চলছে। ভালো ও
       সত লোকের বাছাই চলছে।পুরাণো দলগুলো ভেংগে নতুন দল ও রাজনীতি চালু
       করার কাজ চলছে। আগামীদিনে একটি তাবেদার সরকার গঠনের কাজ চলছে।
       আমার প্রিয় মানুষ জেনারেল আমিন সুপারিশ করেছেন সারাদেশে পুরাণো পাঁচ
       হাজার রাজনীতিককে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার জন্যে। তাহলে রাজনীতিতে নতুন
       মুখ আসবে। বর্তমানে নতুন দল গঠনের যে প্রক্রিয়া চলছে তাকে আমিন সমর্থন
       করেন নি। জেনারেল আইউব এবডো-প্রোডা দিয়ে বেশ কিছু রাজনীতিবিদকে
       নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। এ সরকার ভিন্নপথ গ্রহণ করেছেন।
       আইউব খান বাংলাদেশের মাহবুবুর রহমানকে দিয়ে পাকিস্তান ইয়থ কাউন্সিল গঠন
       করিয়েছিলেন তার সমর্থনে কাজ করার জন্য। মাহবুব সাহেব এখন বাতেনীভাবে
       সরকারকে সহযোগিতা করছেন। আইউব খান থেকে শুরু করে তিনি সকল সামরিক
       নেতাকে সহযোগিতা করেছেন। এখন  তাঁর অবস্থান সম্পর্কে
       পাঠক সমাজ জানেন। ন্যাশনাল ইয়থ ফোরাম নামে নতুন একটি সংগঠন জাতীয়
       প্রেসক্লাবে একটি গোলটেবিল বৈঠক করেছে।  সংস্কার এগিয়ে নেয়ার জন্য কাজ
       শুরু করেছে ইয়থ ফোরাম। তাঁরা প্রথমে দাবী করেছেন দলগুলোর জাতীয় মার্কা উচ্ছেদ করার
       জন্য। পুরাণো দলীয় মার্কা থাকলে নাকি ভোটাররা আবেগতাড়িত হয়ে ভোট দিয়ে
       দিবে। সারা পৃথিবীতে রাজনীতি ও গণতন্ত্র চলছে দল ও মার্কার ভিত্তিতে। কোথাও
       কোন অসুবিধা হচ্ছেনা। যুবকদের ওই ফোরামে বক্তব্য রেখেছেন বেশকিছু চেনা মুখ।
       হুকুমের সংস্কার বা জরুরী সরকার পরিচালিত রাজনৈতিক দলের সংস্কারে জনগণ
       সত্যিই ভাল কিছু আশা করেছিল।কিন্তু সেই ভালকিছু এখনও দেখা যাচ্ছেনা।
       চারিদিকে শুধু দল ভাংগার খবর পাওয়া যাচ্ছে। দল ভাংগার মহামারী শুরু হয়ে
       গেছে। ছোট বড় সবদলেই ভাংগার মধ্যরাত্রির যাত্রা শুরু গেছে। যাত্রার নটনটিরা
       সাধারণত দিনের বেলা ঘুমান আর রাতের বেলা অভিনয় করেন অধিকারিকের
       নির্দেশে। সময়ের পাহলোয়ান মান্নান ভুঁইয়া যিনি জীবনের বেশীর ভাগ সময় শুইয়া
       কাটিয়েছেন তিনি এখন দমদেয়া পুতুলের নাচ দেখাচ্ছেন। বেচারা মান্নান নাকি
       আগামীদিনে বাংলার মসনদে বসতে চান। এর আগেও বলেছি ‘ খোদা মেহেরবানতো
       গাধাভি পাহলোয়ান’। সে হিসাবে মান্নান সাহেব বহু আগেই পাহলোয়ান খেতাব পেয়ে
       গেছেন। যাঁরা বুঝে গেছেন যে খালেদা জিয়ার আর কোন ভবিষ্যত নেই তাঁরা এখন
       কি করবেন।অদৃশ্য রোবট যদি খালেদা জিয়া না চান তাঁরা কি করতে পারেন।
       দেশের ও দশের জন্যেতো তাঁদের কাজ করতেই হবে। কিন্তু তাঁদের সমস্যা হলো
       দলের নাম ও মার্কা নিয়ে। তাঁদের কে ধানেশীষ মার্কা ও বিএনপি নাম ব্যবহার
       করতে দিতে হবে। যদি তা না হয় তাহলে কেউ যেন এই মার্কা ও দলের নাম
       ব্যবহার না করতে পারে।একেই বলা হয় সমান মাঠে সমান সুযোগ দিয়ে সবাইকে
       খেলার সুযোগ করে দেয়া। প্রসংগত একটা কৌতুক মনে পড়লো। ঝাঁকা মাথায়
       আমের ফেরিঅলা ডাকছে ল্যাংড়া আম নিবেন, ল্যাংড়া আম। ক্রেতা বাড়ীর দোতলা
       থেকে বলছেন আসল ল্যাংড়াতো? জী স্যার, একশ ভাগ খাঁটি ল্যাংড়া,তাইতো মাথায়
       নিয়ে ঘুরছি। আমাদের পাহলোয়ান মান্নান ভুঁইয়া সত্যিই সময়ের পাহলোয়ান, তাইতো
       অন্যের কাঁধে চলতে ভালবাসেন। তাঁর যোগ দিয়েছেন বড় বড় সাবেক জেনারেল।
       জেনারেলরা সবাই দাঁত কেলিয়ে হাসছেন। পাশে বসে থাকেন পাহলোয়ান।দেখা যাক
       মান্নানের যাত্রাগাণ কোথায় গিয়ে থামে।
       এজেন্সীর কাগজ বলে বহুল প্রচারিত ‘সাপ্তাহিক প্রোব’ জাতীয় প্রেসক্লাবে দুর্ণীতি
       বিরোধী একটি সেমিনার করেছে কয়েকদিন আগে।মঞ্চে দেখা গেছে পন্ডিতজন ডঃ শমশের আলী,
       ডঃ মাহবুব উল্লাহ, ডঃ রহমান জিল্লুর, সেনা ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ব্রিগেডিয়ার
       ইব্রাহিম,পাকিস্তানী কলাম লেখক ইকরাম সিগাল। মঞ্চের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন
       ল্যাফটেনান্ট জেনারেল মাসুদ চৌধুরী। কাগজে মাসুদ সাহেবের কথাই বড় করে
       ছাপা হয়েছে। সাংবাদিকরা জানেন এখন কার কথার দাম বেশী। জেনারেল সাহেব
       কি বিষয়ে কথা বলেছেন তা এখন আর বিস্তারিত করলামনা। আমি এর আগেও
       বলেছি সমাজে বহু রকম দুর্ণীতি আছে তন্মধ্যে আর্থিক দুর্ণীতি অন্যতম প্রধান।
       বেআইনী সম্পদ অর্জন করা আর সরকারের পাওনা কর পরিশোধ না করা আর্থিক
       দুর্ণীতির আওতায় পড়ে। সমাজে দুর্ণীতি আছে বলেই দুর্ণীতি দমন কমিশন আছে।
       সুতরাং দুর্ণীতি নতুন কিছু নয়। কমবেশী সারা পৃথিবীতে দুর্ণীতি আছে। যেখানে
       সরকার দুর্ণীতি দমনে শক্তিশালী সেখানে দুর্ণীতি কম হয়। প্রোবের অনুস্ঠানে
       জ্ঞানীজন সবাই বলেছেন রাতারাতি দুর্ণীতি দমন করা যাবেনা। এর জন্য প্রয়োজন
       দীর্ঘমেয়াদী কর্মসুচী। বর্তমান দুর্ণীতি বিরোধী ধাক্কায় সমাজ ও বাজারে টালমাটাল
       অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আর্থিক অপরাধের জন্য আর্থিক শাস্তিই বড় শাস্তি। ব্যবসায়ীরা
       অপরাধ করেছেন সম্পদের গড়ে তোলার জন্য। তাই তারা রাস্ট্রকে হাত করে রাখে।
       রাজনীতিবিদরা অপরাধ করেন দলবাজি ও ক্ষমতা দখলের জন্য।
       আর্থিক অপরাধ নিরোধ সংক্রান্ত কর্মশালায় বাংলাদেশ ব্যান্কের গভর্ণর সালেহ
       উদ্দিন আহমদ বলেছেন,এখন থেকে কোম্পানিগুলোর হিসাব নিকাশেও স্বচ্ছতা আনতে
       হবে। শুধু মানি লন্ডারিং আইনই যথেস্ট নয়। সেক্ষেত্রে কোম্পানী অডিট আইনেও
       স্বচ্ছতা আনতে হবে। গভর্ণর সাহেবের বক্তব্যকে সাধুবাদ জানাই। সাধারণত তিনি
       সরকারের তাবেদারী করে থাকেন। অর্থ উপদেস্টা মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেছেন,
       কোন প্রতিস্ঠানের প্রাপ্ত স্বাধীনতা ভোগ করা নির্ভর করে সে প্রতিস্ঠানের প্রধান
       নির্বাহীর উপর। তিনি যদি দায়িত্ব পালন না করে অন্যের উপর নির্ভর করতে চান
       তাহলেতো স্বাধীনতা পেলেও তাঁর কোন কাজে লাগবেনা। বাংলাদেশ ব্যান্কে এ যাবত
       যত গভর্ণর এসেছেন তন্মধ্যে সালেহ উদ্দিন সাহেব সবচে বেশী প্রচারমুখী।
       আজ আমার প্রস্তাব হচ্ছে কোম্পানী অডিট আইন, জাতীয় রাজস্ব আইন ও আর্থিক
       অপরাধ আইনে আরও বেশী স্বচ্ছতা ও কঠোরতা ভিত্তিক সংস্কার আনয়ন করা
       হোক।পুরাণো সব আইনে বহু ফাঁক ফোকর আছে।যার ভিতর দিয়ে অপরাধীরা
       বেরিয়ে যাবার সুযোগ পেয়েছে। এখনি সে আইন গুলোতে পরিবর্তন বা সংস্কার আনা
       দরকার। যুদ্ধ শুরু করে দিয়ে যুদ্ধ করতে করতে আইন পরিবর্তন করতে সফলতা
       খুব বেশী আসবেনা। সরকারের পেছনে এখন সেনাবাহিনী আছে বা সেনাবাহিনী
       সরকারকে সমর্থন করছে। সমাজ জীবনে এখন নানা ধরনের ভয় ভীতি কাজ
       করছে। সাধারন মানুষও মনে করে যেকোন সময় যেকোন কিছু ঘটে যেতে পারে।
       সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠাতেই সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছেন সংস্কারের সাথে
       সংশ্লিস্ট দুর্ণীতিবাজদের কি হবে। দুই উপদেস্টা একসাথেই বলে উঠলেন কাউকে
       ছাড়া হবেনা। আইন উপদেস্টা অবশ্য বলেছেন, আমরা দুর্ণীতি মুক্ত রাজনীতি চাচ্ছি
       ঠিকই। কিন্তু এই মূহুর্তেই কক্ষ্য অর্জন নাও হতে পারে। সরকারের অদৃশ্য
       পৃষ্ঠপোষকতায় ফেরদৌস কোরেশী সাহেব নতুন দল গঠনের কাজে হাত দিয়ে
       বলেছেন দল করার জন্যেতো ফেরেশতা খুঁজে পাওয়া যাবেনা। পৃথিবীর সকল
       সরকারকেই জনগণের স্বার্থেই অসত্য ভাষন দিতে হয় বা করতে হয়। আমাদের
       প্রিয় সরকার গুলোও তা থেকে মুক্ত নয়। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র পড়লে জানা যাবে
       সরকার বা রাজার চরিত্র কেমন হতে হয়। সম্প্রতি সিআইয়ের দলিলে মার্কিন
       সরকারের অনেক দলিল প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্ববাসী মার্কিনীদের অনেক ষড়যন্ত্রের
       কথা জানতে পেরেছে। ১/১১র ফসল বর্তমান সরকারের জাহেরী লক্ষ্য আমরা
       দেখতে পাচ্ছি। বাতেনী লক্ষ্যও একদিন জানা যাবে। আমি এর আগেও বলেছি
       রাজনীতি,ব্যবসাবানিজ্য, প্রশাসন সর্বত্র দুর্ণীতি, অনৈতিকতা,মাস্তানী সীমাহীন ভাবে
       বিস্তৃতি লাভ করেছে। চলমান জরুরী সরকারের হাতে বিশাল সু্যোগ এসেছে এই
       ক্যান্সারের চিকিত্সা করার জন্য। যদি তাঁরা এ কাজ করেন তাহলে দেশবাসী
       চিরদিন স্মরণ করবে। দেশের কোন মানুষই তাঁদের এই উদ্যোগের বিরোধিতা
       করবেনা। তাঁরা যদি শুধুমাত্র গুটি কয়েক মানুষকে শাস্তি দিয়ে তাঁদের পছন্দমতো
       সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে চলে যান তাহলে ১/১১র কোন প্রয়োজন
       ছিলনা।

Read Full Post »


 
                                    

      সংস্কার শব্দটার সাথে আমরা কমবেশী দীর্ঘকাল থেকে পরিচিত। যুগের সাথে তাল
      মিলিয়ে চলার জন্য দেশের সমাজের এবং পরিবারের সংস্কার প্রয়োজন হয়। সেভাবেই
      সবাই যার যার সংস্কার করে যান। যেমন ধরুন বাংলাদেশের শুরুতে সরকার
      সমাজতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতা চেয়েছিলে। তখন হয়ত সেটাই জনগনের চাহিদা ছিল।
      পরবর্তী কালে আমরা যুগের চাহিদা মোতাবেক সমাজতন্ত্র ছেড়ে মুক্তবাজার
      অর্থনীতিতে সংযুক্ত হয়েছি। ধর্মনিরপেক্ষতা ছেড়ে রাস্ট্রধর্ম ইসলাম করেছি। ১৯০৬
      সালে পাকিস্তানের ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলীম লীগ প্রতিস্ঠিত হয় মুসলমানদের
      স্বার্থরক্ষার জন্য। মুসলমানরা ভারতে মাইনরিটি হওয়াতে কংগ্রেস তাদের স্বার্থরক্ষা
      করতে পারছিলনা।অথবা মুসলীম লীগ নেতারা মনে করেছিলেন কংগ্রেসকে দিয়ে
      তাদের স্বার্থরক্ষা হবেনা। একারনেই মুসলীগের জন্ম হয়েছিল ভারতের মুসলমানদের
      স্বার্থরক্ষার জন্য। মুসলমানদের স্বার্থরক্ষার আন্দোলনেই ১৯৪০সালে লাহোরে পাকিস্তান
      প্রস্তাব গৃহিত হয়। প্রস্তাবক ছিলেন বাংলার অবিসংবাদিত নেতা শেরে বাংলা এ কে
      ফজলুল হক। ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে পাকিস্তান প্রতিস্ঠিত হয়। আমাদের
      আজকের বাংলাদেশ পাকিস্তানের পুর্বাঞ্চল প্রদেশ পুর্ববাংলা বা পুর্বপাকিস্তান ছিলো।
      পাকিস্তান প্রতিস্ঠার পরপরই পুর্ববাংলায় ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে যুবকরা নানা
      আন্দোলনে জড়িয়ে পড়লো। যা পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শাসকরা পছন্দ করেন নি।
      এক্ষেত্রে পাকিস্তানের নেতারা দূরদর্শিতার পরিচয় দেননি।পুর্বপাকিস্তানের যুব
      মানসিকতাকে তাঁরা শক্তি দিয়ে দমন করতে চেয়েছিলেন যা ছিলো একেবারেই
      মারাত্বক ভুল।ফলে পাকিস্তান প্রতিস্ঠার মুল দর্শনই নড়বড়ে হয়ে গেল। পুর্বপাকিস্তানে
      ভাষাভিত্তিক স্যেকুলার আন্দোলন শুরু হয়ে গেল।সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায়
      ১৯৫৪ সালে পুর্বপাকিস্তানে মুসলীম লীগের কবর রচিত হলো। ১৯৭১ সালে
      পুর্বপাকিস্তানের কবর রচনা করে বাংলাদেশের জন্ম হলো। শুরুতেই বলেছি জন্মলগ্নে
      বাংলাদেশের রাস্ট্রীয় নীতি ছিল সমাজতন্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। আওয়ামী লীগের
      দলীয় নীতিও ছিল তাই। এবং ১৯৭৫ সালে সরকার সংবিধান পরিবর্তন করে
      এক দলীয় রাজনীতি চালু করেন। এ পরিবর্তন ছিল রাজনৈতিক লক্ষ্য থেকে।
      বংগবন্ধু মনে করেছিলেন এক দলীয় রাজনীতি চালু হলে তিনি তাঁর স্বপ্ন সোনার
      বাংলা প্রতিস্ঠা করতে পারবেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটাও ছিল এক ধরণের
      বিরাট সংস্কার। ওই অবস্থা থেকে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে বহুদলীয় রাজনীতি ও
      মু্ক্তবাজার অর্থনীতিতে ফিরে এসেছে। স্বাধীনতার উষালগ্নে বাংলাদেশের ‘জানী
      জিগরী দোস্ত’ ছিলো ভারত ও রাশিয়া। এখন সে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে।
      সংস্কারের ভিতর দিয়েই এসব পরিবর্তন ঘটেছে। সময় ও সংস্কারের প্রয়োজনে রাস্ট্র
      ও সরকারী নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন আসতে পারে। ৭৫এর আগস্টের পরিবর্তনের
      প্রক্রিয়া ছিল খুবই বেদানাদায়ক। হয়ত ওই বেদনা ছিল অত্যন্ত জরূরী ও অবশ্যম্ভাবী।
     
            সংস্কার ও সময়ের দাবীর কাছে আত্ম সমর্পন করেছে রাশিয়ান ফেডারেশন।
      মহাশক্তিধর রাশিয়ান ফেডারেশন এখন আর নেই। আমেরিকা এখন পৃথিবীর একমাত্র
      মহাশক্তিধর দেশ। পৃথিবীতে ক্ষমতার ভারসাম্য নস্ট হয়ে গেছে। বিশ্ববাসী এখন
      অনুভব করছে আমেরিকার একাধিপত্য পৃথিবীর অকল্যান ডেকে আনবে।চীন ও
      ভারত ভৌগলিক ও রাজনৈতিক কারণে নীতির পরিবর্তন করেছে। ভারত
      আমেরিকার সাথে গাঁটছড়া বেঁধেছে।চীন মুক্তবাজার অর্থনীতির ফল ভোগ করছে।
      ১/১১র পর বাংলাদেশেও কঠিন সংস্কারের লু হাওয়া বইতে শুরু করেছে। আওয়ামী
      নেতা তোফায়েল সাহেবের ভাষায় ডঃ ফখরুদ্দিন জীবনে স্বপ্নেও দেখেন নি তিনি
      প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদায় সরকারের প্রধান উপদেস্টা হবেন। সব কিছুই হয়েছে
      রাজনীতিকদের ব্যর্থতার কারণে। তোফায়েল সাহেব রাজনীতিকদের ব্যর্থতার কথা
      স্বীকার করলেও কারণ নিয়ে এখনও মুখ খোলেন নি। কিন্তু একদিন মুখ খুলতে
      হবে। দেশবাসী নিশ্চয়ই একদিন জানতে পারবে ১/১১র জরুরী অবস্থা জারীর
      পেছনে কারা কাজ করেছেন। সেনাবাহিনী প্রধান বলেছেন ১/১১ দেশকে গৃহযুদ্ধের
      হাত থেকে রক্ষা করেছে।কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে গৃহযুদ্ধের পরিবেশ ও পরিস্থিতি কারা
      সৃষ্টি করেছে। সরকারের মুখপাত্র ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ও জেনারেল মতিন
      বলেছেন দেশ এখন কঠিন অবস্থার ভিতর দিয়ে সময় অতিবাহিত করছে। জরুরী
      অবস্থা সাংবিধানিক অবস্থা। গনতান্ত্রিক স্বাভাবিক সরকার ও জরুরী অবস্থা ঘোষনা
      করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্র ও নেই স্বাভাবিক অবস্থাও নেই।
      সামরিক ব্যবস্থার অধীনে সিভিল সরকারের কার্যক্রম চলছে। কারণ এ সরকার
      নির্বাচিত সরকার নয়। অস্বাভাবিকতার কারণে তিন মাসের তত্বাবধায়ক সরকারের
      মেয়াদ ২৪ মাসে হয়ে যাচ্ছে। ২৮শে অক্টোবর থেকে হিসাব করলে আরও বেশী হবে।
      অনির্বাচিত সরকার বেশীদিন ক্ষমতায় থাকা দেশের জন্য মংগলকর নয়।আমাদের
      অবস্থা পাকিস্তানের মতো হয়ে যাবে এটা আমরা কখনই ভাবিনি। পাকিস্তানে কখনই
      গণতন্ত্র অব্যাহত ছিলনা।শেষ পর্যন্ত সামরিক শাসনের ভিতরই পাকিস্তান ভেংগে গেল।
      বাংলাদেশেও ৭৫ সালে সামরিক শাসন জারী হয়েছে। আবার ৮২ সালে জেনারেল
      এরশাদ নির্বাচিত সরকারকে উচ্ছেদ করে সামরিক শাসন জারী করেন। ভারত ও
      আওয়ামী লীগ এরশাদকে সমর্থন দিয়েছিল রাজনৈতিক কারণে।৯০ এর গণ অভ্যুত্থানে
      এরশাদের পতনের পর দেশে প্রথম অবাধ নির্বাচন অনুস্ঠিত হয় বিচারপতি
      সাহাবুদ্দিনের সরকারের অধীনে। ওই নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করে। পরপর
      তিনটি সাধারন নির্বাচন অনুস্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগ একবার এবং বিএনপি
      দুইবার সরকার গঠণ করে। চতুর্থ সাধারন নির্বাচন অনুস্ঠিত হওয়ার কথা ছিল
      ২০০৬ সালের জানুয়ারীতে। কিন্তু আওয়ামী লীগের লগি বৈঠার আন্দোলনে সে
      নির্বাচন হতে পারেনি। নির্বাচন থামাবার জন্য আওয়ামী জোটকে বহু নিরীহ মানুষকে
      হত্যা করতে হয়েছে।
      আওয়ামী জোটের আন্দোলনে সংবিধান ভিত্তিক ৯০ দিনের কেয়ার টেকার সরকার
      ২২শে জানুয়ারীর নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারেনি।আওয়ামী লীগ স্বাভাবিক জীবন
      যাত্রাকে অচল করে দিয়েছিল। যেমন করেছিল তারা ৯৬ সালে বিএনপি সরকারের
      বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে। তারা কথায় কথায় বলে আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ করবে।
      দেশী ও বিদেশী গোয়েন্দা রিপোর্ট ছিল নির্বাচনে গেলে আওয়ামী লীগ জিতবেনা।
      এমন কি একশ’ভাগ ফেয়ার ইলেকশন হলেও। সুতরাং ২২শে জানুয়ারীর নির্বাচন
      ঠেকানো ছাড়া আওয়ামী লীগের আর কোন উপায় ছিলনা। নির্বাচন থামিয়ে দেয়ার
      বিষয়টি বিবেচনা করলে সহজে বলা যায় যে সে রাউন্ডে আওয়ামী লীগের জয়
      হয়েছে। ১/১১র ঘটনায় আওয়ামী ঘরানার মিডিয়া, চিন্তাকুয়া,বুদ্ধিসওদাগররা সবাই
      খুশী হয়েছিলেন। তাঁরা প্রকাশ্যেই খুশীর কথা জনসাধারনকে জানিয়েছিলেন।
      আওয়ামী জোটনেত্রী খোলামেলা ভাবেই বলেছেন জরূরী সরকার তাঁদের আন্দোলনের
      ফসল। দিল্লী বা ঢাকা স্টার বলে খ্যাত পত্রিকার সম্পাদকতো জোর দিয়েই বলেছেন
      এটা তাঁদের সরকার। ভারতীয় কাগজগুলোও শুরূতে আমাদের জানান দিয়েছিলেন
      জরুরী সরকারকে দিল্লী সরকার সহযোগিতা করবে। ভারতীয় দূত পিনাকী বাবুও
      শুরুতে কদিন বেশ দৌড়ঝাপ করেছিলেন। ভারতের বিদেশমন্ত্রী প্রনব বাবুও চটজলদি
      ঢাকা সফর করে গেছেন। আমদের সরকারের উপদেস্টা সওদাগর তপন বাবুও শুরুতে
      ভারতের সাথে অধিকতর সহযোগিতার কথা বলেছিলেন। সেনাপ্রধানও কিছু
      রাজনৈতিক বিষয়ে ইংগিত দিয়েছিলেন। আওয়ামী নেত্রী খুশীতে ডগমগ হয়ে বলেই
      জরুরী সরকারের সব কাজকে তাঁরা বৈধতা দিবেন। আইন উপদেস্টা ব্যারিস্টার
      মইনুল হোসেন বললেন তাঁদের সরকারের কোন বৈধতা লাগবেনা।তাঁরা জনগনের
      ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছেন। ভোটের রাজনীতিতে একশ’ব্যর্থ আইনের ডাক্তার কামাল
      সাহেব বলেছেন চলমান জরুরী সরকারের বৈধতা লাগবেনা। কারণ এটা সাংবিধানিক
      সরকার। বেশ কিছু নামীদামী আইন ব্যবসায়ীও সরকারের বৈধতা নিয়ে শুরু কথা
      বলে মাঠ গরম করেছিলেন। এখন তাঁরা চুপচাপ।
      সংস্কার নিয়ে কথা শুরু করেছিলাম। এখন সর্বত্র সংস্কার নিয়ে ঘরেবাইরে কথা চলছে।
      মাত্র ক’মাস আগে হাটে বাজারে সংবিধান নিয়ে হাজার কথা হয়েছে। বিদেশীরা
      বলছেন সংস্কার চাপিয়ে দেয়া যাবেনা।সরকারের উপদেসটারা বলছেন সংস্কার চাপিয়ে
      দেয়া হচ্ছেনা। অথচ চারিদিকে সংস্কারের মাতম চলছে। প্রথমে শুনেছিলাম ‘মাইনাস টু’
      থিওরীর কথা। আমাদের কিছু খাম্বালেখক ‘মাইনাস টু’ বিষয়ে থিসিস লেখার জন্যে
      মসলার দোকান খুলে বসেছিলেন।শুধু মালের অপেক্ষায় ছিলেন। মনে হয় ‘মাইনাস টু’
      এখন ‘মাইনাস তু’তে পরিণত হয়েছে। এখানে তু মানে আপনি। উর্দু বা হিন্দী গানে
      নিশ্চয়ই শুনেছেন-‘সনম তু মেরা জান,
                  তু মেরা মান
                  স্বপ্নোমে তু
                  তুহি তু
                  তুহি মেরা জান’।
      আপনারা বলবেন তু কে বা কারা।কবিতায় বা গানে সবকথা খোলাসা করা যায়না।
      কবিতা হচ্ছে মারিফাত। আপনারা দয়া করে নিজ গুনে বুঝে নিবেন। আগে গানটা
      গাইতে থাকুন,তারপর বুঝবেন তু আপনার কি হয়। জরুরী সরকারের একশ’ভাগ
      সাফল্য হচ্ছে তাঁরা দলগুলোকে সংস্কার নাটকে একশ’ভাগ ব্যস্ত রাখতে সফল হয়েছেন।
      ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন এর আগে বলেছিলেন তাঁরা কাউকে নির্বাচিত করার জন্য
      কাজ করছেন না।শুধু নির্বাচন তাঁদের লক্ষ্য নয়। জরুরী সরকার দেশে খাঁটি গণতন্ত্র
      দেখতে চায়। সে লক্ষ্যে তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন। ব্যারিস্টার বারবার বলছেন দেশ
      কঠিন সময়ের ভিতর দিয়ে চলছে। সকলকে তা বুঝতে হবে। সেনাপ্রধান বলেছেন,
      তাঁরা দেশকে গৃহযুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। এজন্যে আমরা সেনাপ্রধান ও
      সেনাবাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।যেদিন কঠিন সময় থাকবেনা সেদিন নিশ্চয়ই
      জানতে পারবো কারা দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছিলো।
      এখন ঘরে বাইরে হাটে বাজারে সংস্কার নিয়ে কথা শুরু হয়েছে।সবাই সংস্কার চায়।
      যেন মরণচাঁদের মিস্টি।খেতেই হবে,ডায়াবেটিসে কোন সমস্যা নেই। হাসিনাও চান,
      খালেদাও চান।বিদেশীরাও চান,বিশ্বব্যান্ক চায়,এডিবি চায়,ইউরোপীয় ইউনিয়ন চায়।
      এখন রিফর্ম বা সংস্কারের যুগ। এতদিন শুনেছি সংস্কার না হলে দাতারা টাকা দিবে
      না। গরীবের বউ সবার ভাবী,যেমন ইচ্ছা তেমন সাজো। এখন শুনছি সংস্কার না হলে
      রাজনীতি থাকবেনা। সোজা কথা হলো আমাদের কথা মতো চলুন,নতুন রাজনীতি
      করুন আল্লাহ আপনার ভালো করবেন।
      সময়ের পাহলোয়ান মান্নান ভুঁইয়া তাঁর সংস্কারনামা জাহির করেছেন। সাংবাদিকরা
      জানতে চেয়েছেন কারো চাপে পড়ে সংস্কার করছেন কিনা। বাসর ঘরের কথা
      সাংবাদিকদের জানা কি উচিত? সময় হলে বউ নিজেই একদিন ননদ ও ভাবীদের
      সবকথা চুপিচুপি বলে দিবে। জেড এ খান, মাহবুবুর রহমান সবাই একন পাহলোয়ান।
      রাজনীতির ঝড়ো হাওয়ায় এক ধাক্কাতেই কাত। চার্চিল নাকি বলেছিলেন যুদ্ধের
      সিদ্ধান্ত গ্রহনের দায়িত্ব জেনারেলদের হাতে ছেড়ে দেয়া যায়না। আমাদের অনেক
      জেনারেল যুদ্ধ না করতে করতেই জেনারেল হয়ে অবসর গ্রহণ করেছেন। তারপরে
      রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার শিষ্যত্ব গ্রহণ করে চটজলদি এমপি ও মন্ত্রী হয়েছেন।
      তাঁদের কখনই কর্মী হতে হয়নি। তাঁরা এখন বলছেন খালেদা আর রাজনীতি করতে
      পারবেন না। তিনি ফেল করেছেন। এসব  গুণীজনদের প্রশংসা করে বোরকার ভিতরে
      লুকিয়ে থাকা পাহলোয়ানরা নিশ্চয়ই হাততালি দিচ্ছেন। বাপের বেটা জব্বর আলী,
      যেমন বলেছি তেমন করেছিস।
      ঘরোয়া রাজনীতি চালু হলে বা অনুমতি পাওয়া গেলে সবাই ঘরে বসে রাজনীতির
      কথা খোলামেলা বলতে পারবেন বলে মনে হচ্ছে।তবে হলফ করে বলা যায়না।
      তবে ঘরোয়া রাজনীতি পর্দার অন্তরালে সরকারি প্রেসক্রিপশন মোতাবেক এখনও
      চলছে। মান্নান ভুঁইয়া,তোফায়েল সুরন্জিতরাতো বাঘের মতো হাসতে হাসতে
      রাজনীতি করছেন। লোকে বলে করাপশনতো একানি-দুয়ানি-ষোলানি সবাই করেছেন।
      ষোলানি ঘরানার কয়েকজন ধরা পড়েছেন। অনেকে পড়েন নি। অনেকে পড়ছেন না।
      এর মারিফাত জনসাধারন বুঝতে পারছেনা। ফলে সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে
      নানা কথা চলছে। এখানে নিরপেক্ষতা বলতে নির্দল বুঝানো হচ্ছে। কিন্তু অরাজনৈতিক
      নয়। সরকারেরও একটা রাজনীতি আছে।সে রাজনীতি বাস্তবায়নের জন্য সরকার
      দয়া করে ক্ষমতা গ্রহনে নৈতিক কারণে বাধ্য হয়েছেন। সরকারী রাজনীতির
      বাস্তবায়ন চলছে এখন। ক্ষমতা গ্রহনের জাহেরী কারনগুলো ইতোমধ্যে রাস্ট্রপতি,
      প্রধান উপদেস্টা ও সেনাপ্রধান দেশবাসির কাছে ব্যাখ্যা করেছেন।কিন্তু বাতেনী বা
      অদৃশ্য কারনগুলো এখনও পরিস্কার নয়।
      কিছু বন্ধুদেশ আছে যারা মনে করছেন বাংলাদেশের সাথে বন্ধুত্ব আরও গভীর করার
      এখনি সময়। সে দেশের কাগজগুলো নানা ধরনের প্রস্তাব নিয়ে লেখালেখি করছে।
      জরুরী সরকারকে বাগে আনার মোক্ষম অস্ত্র হচ্ছে জংগনামা। কথায় কথায় বলা
      বাংলাদেশে তালেবানীয় জংগীদের ঘাঁটি আছে। বুশের নেতৃত্বে পশ্চিমা দেশগুলো এখন
      অদৃশ্য জংগী সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। সেই অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে তারা মহাযুদ্ধ শুরু
      করেছে। বাংলাদেশ জংগীদের ঘাঁটি এই মর্মে আওয়ামী নেত্রী শেখ হাসিনাও কিছুদিন
      চিল্লাফাল্লা করেছেন। তিনি কিছুদিন বাংলাদেশকে ব্যর্থরাস্ট্র বলেও প্রচার করেছেন।
      শেখ হাসিনার কথাগুলোই এখন বিদেশীরা ব্যবহার করছেন। জংগনামা নিয়ে বিদেশীরা
      এখন জরুরী সরকারের উপর চাপ সৃস্টি করছেন। তাদের কুটনীতি হচ্ছে আমাদের
      কথা শুনো,নইলে তোমাদের জংগী বলে প্রমাণ করে দেবো। তোমাদের দেশে জংগী
      আছে স্বীকার করলে টনটন ডলার সাহায্য পাবে। বিদেশীরা জানে জরুরী সরকারের
      গণভিত্তি(নির্বাচন অর্থে) নেই। চাপদিয়ে দাবী বা সুযোগ আদায় করে নেয়া এখনি
      সময়। জরুরী সরকার জরুরী কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা দেশের স্বার্থেই এই সরকারকে
      ইগনোর বা উপেক্ষা করতে পারিনা। তাই পেশাগত কারনেই মনের তাগিদে সরকারকে
      কলাম লিখে নানাকথা বলি। সরকার বলেছেন সাধারণ নির্বাচন অনুস্ঠিত হবে
      ২০০৮ সালের মধ্যেই। আমরা বিশ্বাস করেছি। আমরা অপেক্ষা করছি। দেশবাসী
      অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে একটি নির্বাচিত সরকারের জন্য।আমরা মনে করি
      নির্বাচন সম্পন্ন করাই সরকারের প্রধান এবং এক নম্বর কাজ। বাকী সব কাজ
      রুটিন মোতাবেক। নতুন পার্টি অথবা মোর্চা বানিয়ে কাউকে ক্ষমতায় বসানো এই
      সরকারের কাজ নয়। সংস্কারের নামে রাজনীতিকে লন্ডভন্ড করা কোন কাজ হতে
      পারেনা। এসবতো পুরাণো কৌশল মাত্র। এসব আইউব-ইয়াহিয়া-এরশাদ করেছেন।
      ফল ভালো হয়নি। আপনারা ভাবছেন আমি জিয়ার কথা বললাম না কেন।জিয়াই
      একমাত্র সেনাপতি যিনি পজিটিভ রাজনীতি করে দেশে একটি বিশাল দল গঠণ
      করেছিলেন। জিয়ার মৃত্যুর পর প্রমানিত হয়েছে তিনি জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। তাঁর
      জানাজায় লক্ষ লক্ষ লোক হয়েছিল। যা এশিয়ার কোন নেতার জানাজায় হয়নি।আমার
      কথাগুলো হয়ত অনেকের পছন্দ হয়নি।

Read Full Post »


 

                                        

       দেশের মানুষের প্রত্যাশা জরুরী সরকার খুব জরুরি ভিত্তিতে নির্বাচনের দিনতারিখ
       ক্ষন ঘোষনা করবেন। কিনটু তা হয়নি। কেন হয়নি বা হচ্ছেনা তাও পরিস্কার নয়।
       অতীব গুরুত্বপূর্ন এবং জরুরী এ ঘোষনা করতে সরকারের দেরী হচ্ছে কেন সরকার
       জনগনের খোলাসা করে বলতে পারেন নি। ফলে জনমনে নানা ধরনের সন্দেহ বা
       অবিশ্বাস জন্মাতে পারে। এমনকি সরকার ঘরোয়া রাজনীতি শুরু করার অনুমতিও
       দিতে পারছেন না। কিন্তু কেন? কিসের ভয়?রাজনীতিকরা কি তাহলে বিধি বিধান মেনে
       মেনে চলবেনা?সরকারের নেতাদের মনে এমন সন্দেহ জন্মাবার কারন কি। আমিতো
       মনে করি রাজনীতিকদের আস্থায় নিয়েই জরুরী সরকারকে এগুতে হবে। নির্বাচনতো
       করবেন রাজনীতিকরা। যুক্তির খাতিরে ধরে নিলাম প্রস্তাবিত নতুন রাজনৈতিক
       দলের অবস্থান দেখার বা বুঝার জন্য হয়ত সরকারের কোন মহল অপেক্ষা
       করছেন। সেটাওতো ভাল কথা। তাদের সাথে কথা বলেও দিনক্ষন ঠিক করা যেতে
       পারে। কিন্তু যতক্ষন দিনক্ষন ঘোষিত হচ্ছেনা ততক্ষন জনমনে সন্দেহ থেকে যাবে
       নির্বাচন আদৌ হবে কিনা। মাইলাম সাহেবতো সকলের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছেন।
       তিনি বলেছেন, সেনাবাহিনীর মাঝারি ও জুনিয়র অফিসারগন আরও বেশী
       কঠোর হতে চান। তিনি অবশ্য বলেছেন যদি চলমান প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়। জরুরী
       সরকারের কাছে আবেদন কালবিলম্ব না করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষনা করুন দেশের
       স্বার্থে।আপনারা দু বছর ক্ষমতায় থাকবেন এ ব্যাপারে কেউ কোন আপত্তি তোলেননি।
       যদিও কেউ কেউ বলেছেন নির্বাচনের জন্য ১৮ মাস সময়ের প্রয়োজন নেই।যদি
       রাজনীতিবিদদের সাথে সংস্কার নিয়ে আলাপ না করতে চান তাও পরিস্কার করে
       বলুন এবং কি সংস্কারের কথা ভাবছেন তা প্রকাশ করুন। সংস্কার নিয়ে আলাপ
       আলোচনা শুরু হোক। সুশীল বালকরাতো বিভিন্ন বিষয়ে হরহামেশাই কথা বলছেন।
       নতুন দল গঠনের পেছনে সরকার বা সরকারের এজেন্সী জড়িত নাই একথা তাঁরা
       বুকে হাত দিয়েও বলতে পারবেন না।
       উপরে বসে দল গঠন করেছেন আইউব জিয়া এরশাদ। বাংলাদেশে আইউবের
       দলের হাঁড়গোড় আছে। এরশাদের দলও দম মেশিন লাগিয়ে বেঁচে আছে। শুধুমাত্র
       জিয়ার দলটি ডালপালা গজিয়ে সারা দেশে প্রোথিত হয়ে গেছে। সেনাপতি জিয়ার
       দলই বাংলাদেশে জনগনের দলে পরিনত হয়েছে।নতুন গঠন করার ব্যাপারে নানা
       উদ্যোগের কথা শুনা যাচ্ছে।পর্দার অন্তরাল থেকে সরকারী এজেন্সীগুলো নানাজনের
       সাথে যোগাযোগ করছেন। পুরানো রাজনীতিক এবং রাজনৈতিক দলের বস্রহরন
       চলছে। কতদিন চলবে কে জানে। রাজনীতির ভিতরের কথা বেরিয়ে আসছে।
       অন্ধকারে উলংগ মানুষগুলোর অবয়ব আমরা আন্দাজ করতে পারছি।নতুন দল
       করার উদ্যোগ যাঁরা নিয়েছেন তাঁদেরও আমরা চিনি। চিনি মানে খুব ভালো
       করে চিনি। এখন তাঁরা ফোনে মেইলে লোক মারফত বাতেনি ও জাহেরি ভাবে
       বন্ধু বান্ধবদের ডাকাডাকি করছেন। বলছেন আসুন ভাইসব আমাদের গাইমার্কা
       জগতের শ্রেস্ঠ মার্কা। এখানে এক গাইতেই একটন দুধ পাবেন।ধৈর্য ধরলে টনটন
       ঘি-ও পেতে পারেন।নৌকা মার্কা ও ধানেরশীষ মার্কার কাপড়ের নীচে কি আছে
       তাতো আপনারা বহুকাল দেখেছেন। এবার আমদের গাইয়ের ওলানের নীচে একটু
       দয়া করে দেখে যান। বিনে পয়সায় দুধ খেয়ে যান। ভাল লাগলে নিয়মিত খাবেন।
       নতুন দল করার উদ্যোগ যাঁরা নিয়েছেন তাঁদের সবাইকে আমরা চিনি। তাঁদের
       সততা অসততা ও দুর্নীতি করা না করার বিষয়েও আমরা জানি। দুর্নীতি মুক্ত
       সমাজতো আর হুট করে একদিনে হবেনা। জরুরী সরকার শুরু করেছেন। দেশবাসী
       খুবই খুশী। এখন দুর্নীতি বিরোধী অভিযানকে কঠোরভাবে অব্যাহত রাখতে হবে।
       প্রধান উপদেস্টা বলেছেন পুরানো অবস্থায় আর ফিরে যাওয়া যাবেনা। দেশকে
       দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। আমদের প্রধান উপদেস্টা এই দুর্নীতিবাজ সমাজ ব্যবস্থার
       মাঝেই বড় হয়েছেন।
       ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা বলেছেন সরকারের এজেন্ডাগুলো পরিস্কার হওয়া
       দরকার। তাঁরা দ্রুত নির্বাচন চেয়েছেন। সরকার কি কারনে নির্বাচন দিতে দেরী
       করছেন তা পরিস্কার নয়। এমন কি সরকার ঘরোয়া রাজনীতির অনুমতি দিতেও
       দ্বিধায় আছেন। কেন এই দ্বিধা তাও তাঁরা খোলাসা করে বলতে পারছেন না।
       ধানের শীষ ও নৌকার প্রভাব কোটি কোটি মানুষের উপর। রাতারাতি এ প্রভাব
       বিলুপ্ত করার কথা কেউ যদি ভেবে থাকেন তাঁ বোকার স্বর্গে বাস করেন।নতুন
       দলের প্রধান কে হবেন তা এখনও জানা যায়নি। কেউ বলছেন ডঃ কামাল কেউ
       বলছেন বি চৌধুরী। ডঃ কামাল দেশ-বিদেশে খ্যাত একজন আইনজীবী, বি চৌধুরী
       একজন নানকরা ডাক্তার। বংগবন্ধু পশ্চিম পাকিস্তানী বন্ধুদের পরামর্শে কামালকে
       রাজীনীতিতে তুলে এনে এমপি ও মন্ত্রী বানিয়েছেন।একাত্তুর সালে ডঃ কামাল কোথায়
       ছিলেন তা আজও দেশবাসীর কাছে পরিস্কার নয়। দীর্ঘ ছত্রিশ পরেও দেশবাসীর মনে
       এ প্রশ্ন রয়ে গেছে। বংবন্ধু পাকিস্তানের কারাগারে ছিলেন। কিন্তু ডঃ কামাল কোথায়
       ছিলেন? পাকিস্তান থেকে এসেই তিনি বিদেশ ও তেলমন্ত্রী হলেন। তাঁরই স্নেহে ও
       আদরে আজকের লিটুর বিকাশ ঘটেছে।সেই থেকে লিটুর যাত্রা আর থামেনি। ডঃ
       কামাল এখন এনজিও আর সুশীল বালকদের গুরু। কারন বিদেশীরা এদের ভালবাসে।
       মহাজোটে যোগদান করে ডঃ কামাল ভুল করেছেন বলে স্বীকার করে দেশবাসীর
       কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। ২২শে জানুয়ারীর নির্বাচনকে থামিয়ে দিতে দেশে যে ষড়যন্ত্র
       হয়েছে তার হিসাব কে দিবে ডঃ কামাল সাহেব?
       বি চৌধুরীর টকশো বা টিভি
       প্রোগ্রাম দেখে রাজনীতিতে দেকে এনেছিলেন। নিজেরা একাকী উদ্যোগ নিয়ে তেমন
       কোন সাফল্য অর্জন করতে পারেন নি। বি চৌধুরী পার্টির সেক্রেটারী জেনারেল
       এমপি মন্ত্রী এবং শেষ নাগাদ রাস্ট্রপতি হয়েছেন। বি চৌধুরীকে বলবো বুকে হাত
       দিয়ে হলপ করে বলুন বিএনপি ছাড়া আপনি কি হতে পারতেন। ডঃ কামালের
       কাছে প্রশ্ন বলুন আওয়ামী ছেড়ে দিয়ে আপনি কি একবারের জন্য সংসদের সদস্য
       হতে পেরেছেন? না, পারেন নি। আপনি জীবনে কোন দল গঠন করতে পারেন নি।
       জরুরী অবস্থা জারীর পর আপনি আবার পরামর্শকের ভুমিকায় নেমেছেন।লোকে বলে
       আপনি নাকি সেনাবাহিনীর মাসোয়ারা ভিত্তিক আইনি পরামর্শক।সেদিক থেকে আপনি
       নিরাপদ। আপনার মক্কেলকেতো মালের বিনিময়ে সুকুপরামর্শ দিতে পারেন।ইতোমধ্যে
       আপনিতো বলেছেন সরকার যা করছে সবই সংবিধান মোতাবেক। সরকারের চিন্তার
       কোন কারন নেই। আমাদের এক বয়সী সাংবাদিক টক (তেতুল অর্থে) শোতে
       বলেছেন বার্মার মতো চলতি জরুরী সরকারের ২৫ বছর ক্ষমতায় থাকা দরকার।
       ফায়ারিং স্কোয়াডে কিছু লোককে মেরে ফেললে দেশে শান্তি নেমে আসবে।ভাগ্য ভালো
       সরকার ওই বয়সী সাংবাদিকের কথা সিরিয়াসলি এখনও গ্রহন করেন নি।
       রাজনীতি বা সরকার ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসলেই কিছুলোক সাজগোজ করে বসে
       থাকে।যদি কোন কাজে লেগে যায়। আমাদের রাজনীতিতে বিবৃতিবাজ কিছু
       রাজনীতিক আছেন যাদের কোন নির্বাচনী এলাকা নেই। এরা কালেভদ্রে যদি ভোটে
       দাঁড়ালে চার-পাঁচশ’ ভোট পায়। তাঁরাও এখন বড় বড় কথা বলতে শুরু করেছেন।
       নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন,যিনি সমরবিশারদ বলে পরিচিত তিনি
       বলেছেন নতুন রাজনৈতিক দল গঠন বা নতুন ভাবে রাজনীতিতে যোগদানের
       ব্যাপারে শুরুতে তিন বছরের বাধা থাকবেনা। এর মানে দল গঠন করে নিবন্ধন
       করেই নির্বাচনে যাওয়া যাবে। নতুন দল যাঁরা গঠন করছেন তাঁদের জন্য এটা
       একটা বিরাট সুখবর।আশা করা যাচ্ছে যে যারা কখনই রাজনীতি করেন নি
       তাঁদের জন্যও এ সুযোগ আসবে। উর্দুতে একটা কথা আছে, তাহলো ‘খোদা
       মেহেরবানতো গাধাভি পাহলোয়ান’। ইংরেজীতেও এর কাছাকাছি একটা বাক্য আছে।
      ‘চেয়ার মেক্স এ মেন’। আমাদের বন্ধুরা যাঁরা চেয়ার পেলে মানুষ হতে পারবেন
      তাঁদের জন্য এখন বড়ই সুসময়। আল্লাহ তাঁদের কল্যান করুন। পত্র-পত্রিকার কথা
      আর তাবেদার খাম্বা লেখকদের লেখা বিশ্বাস করলে মনে হয় জরুরী সরকার জবরদস্তি
      একটা নতুন রাজনৈতিক দল চায়।
      এদিকে নতুন দলের উদ্যোক্তা ডঃ কোরেশি বলেছেন ফেরেশতাদের নিয়েতো দল গঠন
      করা যাবেনা। এখন আপাতত যাঁরা ‘মাইনাস টু’তে বিশ্বাস করেন তাঁদের নিয়ে
      কোরেশি সাহেব যাত্রা শুরু করতে চান। ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের কথায় এটা
      পরিস্কার যে সরকারও তাই চায়। মইনুলের কথার মাধ্যমে জাতি জানতে পারলো
      সরকারের রাজনীতি কি। এতটুকু পাওয়াও কম কি। সরকারের রাজনীতি
      দেশের মানুষের কাছে খোলাসা হওয়া খুবই জরুরী। সরকার নির্বাচিত বা অনির্বাচিত
      যাই হোকনা কেন তার রাজনীতি কি তা দেশবাসীর জানার অধিকার আছে।
      যদিও সরকারের তা জানাবার দরকার নেই। কারন তাদের জবাবদিহিতার কোন
      ব্যবস্থা নেই। ইতোমধ্যে সংবিধান বহুবার লংঘন করা হয়েছে এবং তা অব্যাহত
      রয়েছে।
      পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে মান্নান ভুঁইয়া বিএনপির সংস্কারবাদীদের নিয়ে নতুন দল
      করতে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে তিনি নাকি অনেক দূর এগিয়ে গেছেন। যাঁরা রাজনীতির
      ভিতরের খবর রাখেন তাঁরা জানেন ভুঁইয়া সাহেব সাবেক ন্যাপপন্থী(ভাসানীপন্থী নন)।
      সাবেক সেক্রেটারী জেনারেল সালাম তালুকদার ছিলেন মুসলীম লীগপন্থী বা ডানপন্থী।
      দলের চেয়ার পারসন খালেদা জিয়া মান্নান ভুঁইয়াকে মহাসচিব মনোনীত করেছিলেন
      তাঁর গোবেচারা হাবভাব দেখে। ন্যাপ বা ছাত্র ইউনিয়ন রাজনীতিতে মান্নান ভুঁইয়া
      ছিলেন একশ নম্বর সিরিয়ালের নেতা বা কর্মী।সেই মান্নান ভুঁইয়াকে খালেদা জিয়া
      দলের মহাসচিব মনোনীত করেছিলেন ।দেশে যখন রাজনৈতিক সংকট বা ক্রাইসিস
      চলছে তখন তিনি সব অপরাধ বা দোষ দলের চেয়ার পারসনের কাঁধে চাপিয়ে
      সটকে পড়ার রাস্তা খুঁজছেন। তিনি নাকি নতুন বিএনপি গঠন করবেন। সহজ সরল
      দলের ত্যাগী কর্মীরা হয়ত বলবেন মান্নান ভুঁইয়া বেঈমানী করছেন। না রাজনীতিতে
      বেঈমানী বলে কোন কিছু নেই। বরং ঈমানদারী হলো ছলেবলে কৌশলে ক্ষমতায়
      টিকে থাকা। রাজার আমলেও এই নীতি ছিলো , এখনও আছে। মান্নান ভুঁইয়া সাচ্চা
      বিএনপির লোক নন একথা খালেদা জিয়াকে বহুবার বুঝানো হয়েছে। কিন্তু খালেদা
      জিয়া চেয়েছিলেন দলের ভিতর বিভিন্ন গ্রুপের সমন্বয়। সেই সমন্বয় সাধনের প্রক্রিয়ায়
      মান্নান ভুঁইয়া দলের মহাসচিব হিসাবে বহাল ছিলেন।
      চলমান জরুরী সরকার দুই প্রধান দলের নেত্রীদের বাদ দিয়ে নতুন রাজনীতি চালু
      করার জন্য কিছু পুরানো কিছু নতুন মানুষকে মাঠে নামিয়েছেন সরকারের সংস্কার
      কল্পনাকে বাস্তবায়িত করার জন্য। বিদেশী যাঁরা ১/১১ ঘটিয়েছেন বা ১/১১কে সমর্থন
      দিয়েছেন তাঁরা এখন দ্রুত নির্বাচনের দাবী করেছেন। বিশেষ করে পশ্চিমা জগত
      এখন নির্বাচনের তাগিদ দিচ্ছেন। এদিকে সরকার ঘরোয়া রাজনীতি চালু করতেই ভয়
      পাচ্ছেন। কারন আমাদের জানা নেই। হয়ত তাঁরা যা চাইছেন তা এখনও গুটিয়ে
      আনতে পারেননি। হয়ত সরকার একশ ভাগ নিশ্চিত হতে পারছেন না তাঁদের
      অনুগতরা আগামী সংসদে মেজরিটি পাবেন কিনা। তাঁদের এ চাওয়াটাকে আমি
      কোন আবদার মনে করিনা। দুই মহাদলের উপর অনেকেই বিরক্ত হয়ে আছেন। সেদিক
      থেকে তৃতীয় কোন দল বা শক্তি পাহলোয়ান হয়ে যায় ক্ষতি কি।আর তৃতীয় দল
      যাঁরা করবেন তাঁরাতো দেশবাসীর পরিচিতজন।
      আওয়ামী লীগের সুরন্জিত বাবু(খাঁটি রংয়ে রন্জিত)সংস্কারের ব্যাপারে বেশ খোলা
      মেলা কথা বলছেন বেশ কিছুদিন ধরে। তিনি বলেছেন তাঁরা নতুন দল করবেন না।
      আওয়ামী লীগেই থাকবেন এবং সংস্কার সাধন করবেন। এমন কি শেখ হাসিনাকে
      বাদ দিয়ে হলেও তাঁরা দলের সংস্কারে যাবেন। সুরন্জিত বাবু বামধারার রাজনীতির
      লোক। পপুলার রাজনীতির ধারায় এসেছেন সংসদে থাকার জন্য। তিনি জিয়া সাহেবের
      আমলেই তিনি সংসদে সদস্য হয়েছেন। তারপরে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে
      যোগ দিয়েছেন। সেই থেকে তিনি আওয়ামী লীগে আছেন এবং নানা রংয়ের খেলা
      খেলছেন। নতুন দলে যাওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেছেন-পুরান পাগলে ভাত পায়না
      নতুন পাগলের আনাগোনা। ঘরোয়া রাজনীতি নেই বলে এখন যা কিছু হচ্ছে সবই
      পর্দার পেছনে। তাও নাকি আবার কর্তাভজাদের নিয়ে। গত কিস্তিতে বলেছিলাম
      রাজনীতিছাড়া কোন রাস্ট্র চলতে পারেন বা টিকতে পারেনা। রাজনীতিই রাস্ট্র
      তৈরী করে এবং রাজনীতির ভিতরেই রাস্ট্র টিকে থাকে। বাংলাদেশে এখন সে
      রাজনীতি পর্দার পৈছনে কসাই ঘরে। রাজনীতিকরা সবাই এখন চোর ডাকাত
      হারমাদ। সমাজে এর চেয়ে খারাপ লোক আর নেই। বিশেষ করে দুই দলের নেতারা।
      মনে হয় দুই দল না থাকলে দেশ শুদ্ধ হয়ে সরকার যেমন চায় তেমন হয়ে যাবে।
      নাটের গুরু মার্কিন দূত মিস বিউটেনিস বলেছেন জরুরী অবস্থা জারীর ব্যাপারে
      যুক্তরাস্ট্রের কোন হাত ছিলনা। যাওয়ার বেলায় বলে গেলেন,‘খায়াপিয়া কুছ্ নেহী
      গ্লাস তোড়া ছে আনা’। লোকে বলে বিউটি আপা। এর আগের মার্কিন দূতকে বলা
      হতো ‘কালা জাহাংগীর’। যুক্তরাস্ট্র বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচনের
      কথা বলে যাচ্ছেন। কিন্তু তারাই নানা অজুহাতে ২২শে জানুয়ারীর নির্বাচন বন্ধের
      চাপ দিয়েছিলেন। মাঝখানে বলেছেন বাংলাদেশে গনতন্র প্রতিস্ঠার জন্য ভারত ও
      যুক্তরাস্ট্র একযোগে কাজ করবে। ভারতীয় দূত পিনাকী বাবুও বেশ কিছুদিন
      ঘোলাজলের শিকারী ছিলেন। মিস বিউটেনিস এখন বলছেন রাজনীতিক এবং
      রাজনীতিক দল বাদ দিয়ে কোন সংস্কার করা যাবেনা। খারাপ ভালো যাই হোক
      রাজনৈতিক দলই হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতির নিয়ন্তা। তাঁদের বাদ দিয়ে কোন কাজ
      হবেনা। ঘরোয়া রাজনীতির জন্য রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুত। শুধু প্রস্তুত নয় সরকার।
      কেন তাঁরা প্রস্তুত নন তাও পরিস্কার করে জনগনকে বুঝাতে পারছেন না।
      ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেছেন, শুধু নির্বাচন নয়,তাঁরা চান একটা ভাল গনতন্র।
      যে গনতন্রে ভাল মানুষরা দেশ পরিচালনা করবে। ওদিকে ডঃ কোরেশী বলেছেন,
      রাজনীতির জন্যেতো আর ফেরেশতা খুঁজে পাওয়া যাবেনা। জেনারেল আমিন আহমদ
      টিভিকে বলেছেন,আমরা এর আগে কোন দল করিনি। সুতরাং আমরা সাচ্চা। জেনারেল
      মাহবুব যিনি বিএনপির টিকেটে সংসদ সদস্য হয়েছেন তিনি বলেছেন দলের বর্তমান
      অবস্থার দায়ভার নেত্রী এড়াতে পারেন না। দেখা যাক জরুরী সরকার দেশের
      রাজনীতিকে কোন পথে নিয়ে যান।

Read Full Post »

« Newer Posts - Older Posts »