• Home
  • Who Am I ?

Writing From The Street ( রাস্তা থেকে বলছি )

Just another WordPress.com weblog

Feeds:
Posts
Comments
« রাস্ট্রপতির সংলাপ ও যুদ্ধাপরাধ বিচারের ট্রাইবুনাল
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও চলমান বাংলাদেশ »

জাতীয় পরিচয়পত্র ও চলমান ব্যবস্থা

January 17, 2012 by writerershad

আপনারা কেউ যদি কখনও আগার গাঁওয়ের পাসপোর্ট অফিসের দিকে যেয়ে থাকেন তাহলে দেখবেন মানুষের ভীড় কাকে বলে। ফাঁকে ফাঁকে সেনা বাহিনীর পোষাক পরা কিছু মানুষকেও দেখবেন। আমাদের সেনা বাহিনী এখন মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট(এমআরপি) ইস্যু করার কাজে সরকারকে সহযোগিতা করছে।  সেনা বাহিনী সরকারের অন্যান্য বাহিনী ও কর্মচারীদের চেয়ে অনেক বেশী কর্মদক্ষ এ ব্যাপারে আমার মনে কারো কোন সন্দেহ নেই। শুনতে পাই দালাল ছাড়াই  দেশের নাগরিকগণ খুব কম সময়ে দ্রুত গতিতে নতুন পাসপোর্ট নিতে পারেন  ও পুরাতন পাসপোর্ট রিনিউ করাতে পারছেন। ওই এলাকায় গেলে আগের মতো দালাল দেখা যায়না। কিন্তু ব্যবস্থাপনা আরও ভাল হলে লোক গিজ গিজ করা দেখা যেতো না। পাসপোর্ট অফিসের আশে পাশের রাস্তা গুলো তেমন ভাল নয়। এদিক ওদিক ঝুপড়ি দেখা যায়। আমার মনে হয় ইচ্ছা করলে এলাকাটা আরও সুন্দর করা যেতো। ময়লা ও অপরিচ্ছন্ন থাকাটা আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অপরিচ্ছনতার বিষয়টা শুধু এই অফিসে নয়। সব সরকারী অফিসেরই এই অবস্থা। কোন কোন অফিসের দেয়ালে লিখা রয়েছে পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অংগ। বেসরকারী কয়েকটি জমি উন্নয়নকারী  অফিসে দেখেছি সারা দেয়ালে কোরাণের আয়াত লিখা রয়েছে। এসব অফিসের মালিকরা অন্যের জমি জবর দখল করে মাটি ভরাট করে বা উন্নয়ন করে। পরে প্লট করে তা বিক্রি করে। ক্রেতার বিশ্বস্ততা অর্জনের জন্যে  দেয়ালের গায়ে পবিত্র কোরাণের আয়াত ঝুলিয়ে রাখে ।

ক’দিন আগে আমার পরিচিত এক ভদ্রলোক গিয়েছিলেন তাঁর পাসপোর্ট নবায়ন করতে।ভদ্রলোকের জাতীয় পরিচয়পত্র বা ন্যাশনাল আইডি নেই। তিনি একজন প্রবাসী। জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহের জন্যে  তিনি প্রথম গিয়েছিলেন  উপজেলা নির্বাচী অফিসে। তাঁরা বললেন, পাসপোর্ট নবায়ন করে নিয়ে আসুন, আমরা আপনাকে ভোটার করে নিবো এবং আইডি ইস্যু করার জন্যে অনুরোধ জানাবো। ভদ্রলোক আবার পাসপোর্ট অফিসে গেলেন। তাঁকে আবার বলা হলো আইডি আনতে । তিনি এবার গেলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সপ্তম তলায়। সেখানে বলা হলো, আপনি নির্বাচী অফিসে যান। আবার নির্বাচী অফিসে যাওয়া হলো। জেলা নির্বাচনী অফিসার ভালো মানুষ। তিনি বললেন, জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট নিয়ে আমরা আপনাকে ভোটার করে নেবো। এক সাথে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রও হয়ে যাবে। পাসপোর্ট নবায়ন করার ব্যাপারেও তাঁরা জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট চাইলেন। এবার জন্ম নিবন্ধন সনদের জন্যে নগর ভবনে দৌড়ঝাপ করো। আগে একজনকে পাঠিয়ে  রেকি করা হলো কোথায় কার কাছে গেলে কাজটা হবে। পরে একদিন ওই নগর ভবনে গিয়ে একজন কর্মচারীকে জিগ্যেস করা হলো  অমুক কোথায় বসেন। সেই কে্মচারী যে রুম নাম্বার দিলেন সেখানে কিছু যুবক, কর্মচারীও হতে পারে বা ক্ষমতাসীন দলকে ভালবাসে এমন যুবকও হতে পারে। তারা বিষয় না জেনেই উত্তর দিলো জন্ম তারিখ ও জন্মস্থান বদলানো যায়না। যুবকদের হাব ভাব দেখে মনে হলো তারা ওখানে কাজ করছেনা, নিজেদের সরকার বিধায় একটু আড্ডা বা আরাম আয়েশের জন্যে মিলিত হয়েছে। অথবা নিজেদের সরকার বিধায় ওখানে নাম তালিকা ভুক্ত করে কিছু তদবীর বা দেন দরবার করে।

আমাদের দেশে রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এলে কয়েক লাখ লোককে কোন ধরণের কাজ না করে জীবীকা নির্বাহ করতে হয়। যারা বেশী  শক্তিশালী  তারা বিভিন্ন অফিসে যায় এবং জোর করে কাজ আদায় করে  নেয়। অনেকেই টেন্ডার বাক্স ছিনতাই করে। যারা একটু কৌশলী তারা শান্তিপূর্ণ ভাবে কাজ ভাগ করে নেয়। কাজ ভাগ করা মানে টাকা ভাগ করে নেয়া। এরা হলো রাজনৈতিক কর্মী বা ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র যুবক ও স্বেচ্ছা সেবক। জন্ম নিবন্ধনতো তেমন কোন গুরুত্পূর্ণ কাজ নয় । তাই সেখানে হয়ত শুধু বেতন দেয়ার জন্যে কিছু দেশপ্রেমিক মুক্তিযুদ্ধের শক্তি বলে জাহির করা কিছু যুবককে  শক্তি চর্চার জন্যে বসিয়ে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশতো এখন কোটা দিয়ে চলে। মহিলা কোটা, পাহাড়ী কোটা, জেলার কোটা ও মুক্তিযোদ্ধা কোটা। মেধার কোটার কথা এখনও শুনিনি। থাকলেও তা হয়ত ১০/১২ পারসেন্ট হবে। বাংলাদেশে মেধার কোন গুরুত্ব নেই। এখনতো ছাত্র নেতা হতে গেলে কোন মেধা লাগেনা। এক দুটা ফার্স্ট ডিভিশন না হলে হলে বা ডাকসুতে নমিনেশন পাওয়া যেতোনা। এখন এসব লাগেনা। এখনতো ছাত্র নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতেই ঘর সংসার করেন। ছাত্র বয়সেই গাড়ি ঘোড়া চড়েন। মাসে লাখ লাখ টাকা আয় না করলে নেতৃত্ব থাকেনা। কিছুদিন আগে খবরের কাগজে ছাপা হয়েছে, ছাত্রীদের জোর করে রাতে নেতাদের কাছে পাঠানো হয়। যেতে না চাইলে হল থেকে বের করে দেয়া হয়। প্রসংগক্রমে এ বিষয়ের উল্লেখ করলাম। আজ আমার মূল বিষয় জাতীয় পরিচয়পত্র। একটা পরিচয়পত্র পেতে একজন উচ্চ শিক্ষিত নাগরিকের কি কস্ট হয়। পরিচয়পত্র পাওয়া একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার। যে কোন সময়ে যে কোন স্থানে এই আইডি কার্ড বা পরিচয়পত্র পাওয়া উচিত। এখন প্রশ্ন হলো বাংলাদেশে নাগরিকদের কি অধিকার আছে। কাগজে কলমে সংবিধানেতো নাগরিকদের অনেক অধিকার আছে। দেশের নাগরিক বা জনগণের নাম নিয়েইতো যত রকমের আইন তৈরী হচ্ছে। জনগণের নাম নিয়েইতো দেশ চালানো হয়। দেশ স্বাধীন হয়েছে ৪০ বছর পার হয়ে গেছে। এর মানে পাকিস্তান বা ভারত কেউই আমাদের আর শাসন করতে পারবেনা। আমরাই আমাদের দেশ চালাবো। আমাদের কেউই শোষন  নির্যাতন বা অত্যাচার করতে পারবেনা। আমাদের রাস্ট্র পাকিস্তান বা ভারতের মতো হবেনা। আমাদের রাস্ট্র ষোলয়ানাই হবে দেশের মানুষের  কল্যাণে নিবেদিত। কিন্তু আমাদের সংবিধান দেশের মানুষকে মানুষ বলেই মনে করেনা। যেমন বৃটিশ বা পাকিস্তানের শাসকরা মনে করতেন না। বাংলাদেশও কার্যত বৃটিশ বা পাকিস্তানী ধারায় চলছে। ইংরেজদের চলে যাবার কথা শুনেই ভারতবাসী হিন্দু মুসলমান দলাদলি শুরু করে দেয়। শুরুতে সবাই কংগ্রেসের পতাকা তলেই ছিল। কিন্তু কংগ্রেস নেতারা কংগ্রেসকে হিন্দুদের সংগঠন হিসাবে গড়ে তুলতে চাইলেন। তারা মুখে বললেন, কংগ্রেস হিন্দু মুসলমান সবার রাজনৈতিক দল। বাস্তবে দেখা গেল তারা শুধু হিন্দুদের কাজ করছে। কংগ্রেসের সাম্প্রদায়িক গোঁড়ামীর জন্যে  মুসলমানরা বাধ্য হলো নিজেদের আলাদা সংগঠন প্রতিস্ঠা করতে। ফলে জন্ম নিলো মুসলীম লীগ। মুসলীম লীগ মুসলমানদের সংগঠন হলেও এর নেতৃত্বে ছিলেন সাধারন মুসলমানদের চিন্তাধারা বিরোধী  বড় বড় মুসলমান নেতারা। ৪৭ সালে মুসলমানদের দেশ পাকিস্তান প্রতিস্ঠিত হলেও নেতারা দীর্ঘ ২৩ বছরেও সাধারন মুসলমানের কোন কল্যাণ হয়নি। এর মানে পাকিস্তানের স্বাধীনতা এসেছিল উপরতলার মুসলমানদের জন্যে।

মজলুমদের নেতা মাওলানা ভাসানী আওয়ামী মুসলীগ প্রতিস্ঠার সময় বলেছিলেন,  খাজা গজার মুসলীম লীগকে দিয়ে গরীব সাধারন মুসলমানের কোন উপকার হবেনা। তাই  জন সাধারনের মুসলীম লীগ প্রতিস্ঠা করা হয়েছে। নতুন মুসলীম লীগের সব নেতাই সাধারন মানুষের ছেলে। এখানে খাজা গজা, নবাব, রাজা মহারাজা কেউ নেই। ৪৯ সালে দল গঠণ করে ৫৪ সালেই  নির্বাচনী জোট যুক্তফ্রন্টের মাধ্যমে মাওলানা ভাসানীর দল আওয়ামী মুসলীম লীগ পূর্ব পাকিস্তানের  ক্ষমতায় যায়। ৫৬ সালে কেন্দ্রে সরকার গঠন করেন সোহরাওয়ার্দী সাহেব।ইতোমধ্যে দলটি মুসলীম শব্দ বাদ দিয়ে স্যেকুলারিজমের জোব্বা পরে। কিন্তু দলের অন্যান্য নেতাদের সাথে মাওলানা সাহেবের মত বিরোধ দিন দিন বাড়তেই থাকে। বনিবনা শূণ্যের কোঠায় চলে আসে। মাওলানা সাহেব  আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী নীতির বিরুদ্ধে। তিনি সকল সামরিক জোটের বিরুদ্ধে। কিন্তু তাঁর দলের নেতারা যাঁরা ক্ষমতায় আছেন তাঁরা আমেরিকার পক্ষে এবং তার সাম্রাজ্যবাদী নীতিকে সমর্থন করেন। ফলে দলের ভিতর  সোহরাওয়ার্দী সাহেবের দলে চলে গেলেন শেখ মুজিব, আতাউর রহমান ও অন্যান্য বড় বড় নেতারা। মাওলানা সাহেব তখনি চেয়েছিলেন পাকিস্তানের সাথে তৃতীয় বিশ্বের সমাজবাদী রাস্ট্রগুলোর সাথে পাকিস্তানের সুসম্পর্ক গড়ে উঠুক। বিদেশনীতি বা পরারাস্ট্র নীতির প্রশ্নে দলের সাথে মাওলানা সাহেবের দ্বিমত হয়ে যাওয়ায় তিনি দল ত্যাগ করে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গঠণ করেন সারা পাকিস্তানের বড় বড় নেতাদের নিয়ে। আওয়ামী লীগ রয়ে গেল একটি আমেরিকান তাবেদার ও সাম্রাজ্যবাদী দল হিসাবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে কথা বলতে শুরু করে মনে হয় আমি অনেক অপ্রাসংগিক কথা বলে ফেলেছি। এটা আমার একটি দোষ। কোন কথা বলতে গেলেই এর বায়াদলিল খুঁজতে শুরু করি। এ নিয়ে আমার আপন জন ও বন্ধু বান্ধবরাও কিছুটা বিরক্ত। শিক্ষকতা করতে গেলেও আমি মূল বিষয়ের আশে পাশে বা পেরিফেরিতে ঘুরতে থাকি। জাতীয় পরিচয়পত্র বিষয়টা এক ধরনের বায়াদলিল। এতে আপনার বিশদ তথ্য দিতে হয়। এটা আপনার নাগরিকত্বের বড় সনদ। এই সনদ বা আইডি কার্ড এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।  এই সনদ পাওয়া আপনার অধিকার। অধিকারতো আইন বা সংবিধানের ব্যাপার। কিতাবেতো কত কথাই লেখা থাকে। রাস্ট্র বানাতে গেলে ওই রকম কিতাব বানাতে হয়। যাঁরা এ কাজটা করেন তাঁদের কাছে এটা একটা ফর্মালিটিজ। একটা রাস্ট্রের কত কিছুই লাগে। যেমন জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত, জাতিসংঘের সদস্যপদ, জাতীয় ফুল, পাখি ফল ও পশু।একটি রাস্ট্র বানাতে গেলে কিছু মানুষও লাগে। সেই রাস্ট্রের  জমির সীমানা লাগে। যেমন আমাদের  দেশের একটা সীমানা আছে। সেই সীমানা ধরে আমরা একটা নকশা বা ম্যাপও বানিয়ে রেখেছি। সীমানা রক্ষা করার জন্যে সীমান্ত বাহিনী ও সেনা বাহিনী লাগে। সরকার নিজেকে রক্ষা করার জন্যে নানা রকম বাহিনীও পালন করে।

চলমান বিশ্বের শক্তি ও গণতন্ত্রের বড় নেতা আমেরিকার অধিবাসীরা বা নাগরিকরা গণতন্ত্র বা নাগরিক অধিকার নিয়ে বেশী ভাবেনা। ফলে ভোট কেন্দ্রে তেমন বেশী যায়না। আমেরিকার নাগরিকরা তেমন বেশী লেখাপড়াও করেনা। যে কোন ধরণের সাধারন কাজ করে জীবন নির্বাহ করার জন্যে যে টুকু পড়ালেখা দরকার তার বেশী পড়ালেখা তারা করেনা। এজন্যেই আমেরিকানদের ওয়ার্কার্স নেশন বলা হয়। দেশ কে চালায় এ নিয়ে তারা মাথা ঘামায়না। কাজ থাকলে আর মুজুরী থাকলেই তারা খুশী। তাই স্কুল পাশ করেই সবাই কাজ করতে শুরু করে। সেখানে ছেলেমেয়েরা ১৮ বছর বয়স হলেই মা বাপ আর তাদের দেখাশুনা করেনা। তখন থেকেই তারা নিজেদের আয় দিয়ে খায় আর পড়ালেখা করতে চাইলে করে। এমন কি আমেরিকান প্রেসিডেন্টরাও ভুগোল আর ইতিহাসের তেমন জ্ঞান রাখেন না। নিজ দেশের নাগরিকদের বোকা বানিয়ে রাখার জন্যে আমেরিকা সব সময় যুদ্ধ করে অথবা যুদ্ধাবস্থা সৃস্টি করে রাখে। বিগত ৬০ বছর ধরে আমেরিকা এ কাজটি করে যাচ্ছে। সেই আমেরিকাতে এখন অকুপাই আন্দোলন চলছে। আন্দোলনকারীরা বলছে, তারা ৯৯ ভাগ। তাদের শোষন করছে আমেরিকার  মাত্র এক পারসেন্ট লোক। এই এক পারসেন্ট লোকই আমেরিকাকে চালায়। আমেরিকার প্রশাসন ও নেতাদের আবার সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে ইউরোপের অন্যান্য দেশ। নিজেদের স্বার্থেই আমেরিকা বিশ্বের  বহু দেশের অগণতান্ত্রিক সরকারকে সমর্থন করে থাকে। এমন কি আমাদের দেশের অগণতান্ত্রিক সরকারকেও আমেরিকা সমর্থন ক্ষমতায় বসিয়ে রাখে জনগণকে শোষণ করার জন্যে।

শুরুতেই বলেছি, বাংলাদেশে নাগরিকদের তেমন কোন অধিকার নেই। তাই জাতীয় পরিচয়পত্র বা আইডি ও পাসপোর্ট পেতে নাগরিকদের নানা ধরণের হয়রানীর মুখোমুখি হয়ে হয়। এর মূল কারণ, নাগরিকরা সত্যিকার অর্থে অধিকার বিহীন। বাংলাদেশের মতো রাস্ট্রে নাগরিকদের কথা না শুনলে বা না মানলে রাস্ট্রের কিছুই আসে যায়না। তাই একজন নাগরিক হিসাবে আপনি, বিশেষ করে অতি গরীব যাঁদের কোন ক্ষমতা নেই বা তাঁরা রাস্ট্রের কাছে কিছুই পায়না। জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টতো অনেক দূরের কথা। নাগরিকরাতো জানেইনা তাদের কি অধিকার বা রাস্ট্রের কাছেইবা তাঁদের কি পাওনা আছে। জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার।  কিন্তু আমাদের প্রিয় দেশ বা রাস্ট্র তা মনে করেনা। আমাদের রাস্ট্র কি যেন অজানা কারণে নাগরিকদের ভয় করে। রাস্ট্র নিজেকে নাগরিকদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করার কাজে ব্যস্ত থাকে। বার বার অনেকবার বলেছি, রাস্ট্রের যত শাখা প্রশাখা আছে সবার প্রধান কাজ নাগরিক দলন। শান্তি শৃংখলার নামে পুলিশ রাস্তায় নাগরিকদের পেটায়।

চোর ডাকাত, খুনীদাগী, সাজাপ্রাপ্ত আসামী, দূর্ণীতিবাজ সরকারী কর্মচারী, দূর্ণীতিবাজ বুদ্ধিজীবী সবাই রাস্ট্রের নাগরিক। সবাই ভোটার। ভোটার করার সময় কাউকেই জিগ্যেস করা হয়না আপনি বা আপনারা কি করেন। যদি কেউ বলেন , আমি একজন মাস্তান বা আমি কালা জাহাংগীর, তাহলে তাকে তাড়াতাড়ি ভোটার করা হয় ভয়ে। এমন কি বেশ্যাদেরও ভোটার করা হয়। কিন্তু পেশা কি তা উল্লেখ করা হয়না। ভারতে এখন বেশ্যা বা যৌনকর্মীদের ব্যান্ক একাউন্টও খোলা হয়। বাংলাদেশেও বেশ্যা বা যৌনকর্মীদের লাইসেন্স ইস্যু করেন ডিসি সাহেবরা। প্রকাশ্য বেশ্যালয় গুলো সমাজ বা আইন তুলে দিচ্ছে। কিন্তু ডিসি সাহেবরা লাইসেন্সে ইস্যু করেন। ভারতে যৌনকর্মী বা সেক্স ওয়ার্কারদের শক্তিশালী সংগঠন আছে। তারা নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন করেন। বাংলাদেশেও যৌনকর্মী বা সেক্স ওয়ার্কাররা মাঝে মাঝে সংবাদ সম্মেলন করেন। তাদের সাহয্য বা সহযোগিতা দান করে এক শ্রেণীর এনজিও। ওই সব এনজিও বিশ্ব খৃস্টবাদের সাথে জড়িত। এসব হচ্ছে আমাদের দেশের আইনের দূর্বলতা। বৃটিশরা অনেক আইন করে গেছে তাদের নিজের প্রয়োজনে বা শাসন দমনের জন্যে। ছোটখাট বহু অজানা আইন এখনও বলবত্‍ রয়ে গেছে। জাতীয় পরিচয়পত্র, আইডি বা পাসপোর্ট ইস্যু করার সময় এত টালবাহানা কেন? যাদের আইডি বা পাসপোর্ট দেয়া হবেনা তারা কি নাগরিক থাকবেনা।? পুলিশ তদন্ত বা ভেরিফিকেশন কেন? পুলিশ কি কখনও ভেরিফাই করে বলেছে অমুক লোকটা চোর বা ডাকাত। বা অমুক বুদ্ধিজীবি বা সচিব দূর্ণীতিবাজ,তাই পাসপো্ট ইস্যু করা যাবেনা। বরং সবাই পুলিশকে তুস্ট করে ভাল রিপোর্ট লিখিয়ে নেয়। শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নয়, যেকোন ভেরিফিকেশনেই পুলিশ সহ যেকোন তদন্ত সংস্থাকে তুস্ট করতে হয়।

পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে এখন সেনাবাহিনী কাজ করছে। লোকে বলে এখন ঘুষ দিতে হয়না। সময় মতো পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। আমার প্রশ্ন হলো আইডি বা পাসপোর্ট পাওয়াটা কি নাগরিকের সাংবিধানিক অধীকার নয়? যাদের পাসপোর্ট বা আইডি দেয়া হবেনা তাদের কি কোন আলাদা তালিকা আছে? পুলিশ বা সংশ্লিশ্ট কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই বলতে হবে দেশের অত লক্ষ নাগরিককে কোন প্রকার সুযোগ দেয়া হবেনা। কারণ তারা মন্দলোক। সমাজ ও রাস্ট্রের জন্যে ক্ষতিকর। আমিতো ছাত্রাবস্থায় দেখেছি ছাত্ররা চোর বা ডাকাতের চেয়েও খারাপ। কারণ,ছাত্ররা রাজনীতি করে , সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলে, আন্দোলন করে। এরা সরকারী চাকুরী পায়না পুলিশ ভেরিফিকেশনের কারণে। কিন্তু মন্ত্রী এমপি হতে পারে। একজন ধনবতী যৌনকর্মীও সংসদ সদস্য হয়ে যেতে পারেন তাঁর ধনের জোরে। কারণ ধন হয়ে গেলে কেউ তাঁকে আর যৌনকর্মী বলবেনা। এর আগে বহুবার বলেছি, সরকারী কর ট্যাক্স ফঁকি দিয়ে ধনী হয়ে ব্যান্ক বানাতে পারে। এতে সরকারের কিছু আসে যায়না। যাঁরা কর শুল্ক ফাঁকি দিলে তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোন রিপোর্ট দেয়না। ইদানিং দুদক কর ফাঁকির জন্যে মামলা করছে বিভিন্ন নামীদামী মানুষের বিরুদ্ধে। কিন্তু দেশবাসী ওসব মামলাকে রাজনৈতিক মামলা বলে পরিহাস করছে।( নয়া দিগন্ত, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১২ )

লেখক: কবি ও সাংবাদিক

ershadmz40@yahoo.com

Advertisement

Like this:

Like
Be the first to like this post.

Posted in Articles | Leave a Comment

  • Archives

    • February 2012 (3)
    • January 2012 (7)
    • December 2011 (8)
    • November 2011 (1)
    • October 2011 (7)
    • September 2011 (4)
    • August 2011 (2)
    • July 2011 (4)
    • June 2011 (8)
    • May 2011 (9)
    • April 2011 (8)
    • March 2011 (5)
    • February 2011 (4)
    • January 2011 (4)
    • December 2010 (7)
    • November 2010 (2)
    • October 2010 (8)
    • September 2010 (5)
    • June 2010 (1)
    • May 2010 (1)
    • February 2010 (2)
    • June 2009 (5)
    • May 2009 (32)
  • Categories

    • Articles (91)
    • English Articles (1)
    • Political Column (45)
      • Free Thoughts (19)
  • Pages

    • Who Am I ?

Blog at WordPress.com.

Theme: MistyLook by Sadish.


Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Powered by WordPress.com