ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে দেশের মানুষ খুবই শংকিত হয়ে পড়েছে। দেশের মানুষ বুঝতে পারছেনা ভারত বাংলাদেশকে নিয়ে কি করতে চায়? আওয়ামী লীগও দেশকে কোন পথে নিয়ে যেতে চায়? সীমান্তে বাংলাদেশী( আওয়ামী লীগের জন্যে বাসংগালী) হত্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। শুনেছি , মুজিব নগর সরকারের সাথে ভারতের যে গোপন চুক্তি হয়েছিল তাতে ভারত চেয়েছিল বাংলাদেশের নিজস্ব কোন সেনা বাহিনী থাকবেনা। বাংলাদেশের বিদেশনীতিও ভারত দেখাশুনা করবে। বংগবন্ধু দেশে ফিরে এসে এই গোপন চুক্তি বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি জানান। এমন কি ভারতের অনুরোধকে প্রত্যাখ্যান করে বংবন্ধু লাহোরে ওআইসি সম্মেলনে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। ফলে বংগবন্ধুর সাথে ভারতের স্পর্ক কখনই উষ্ণ হয়নি। একটি ঘটনা আমি নিজেই জানি। তা হলো ভারত সরকারের প্রভাবশালী সচিব ডিপি ধর তখন কোন ধরণের নিয়ম নীতি ও প্রটোকলের তোয়াক্কা না করে যখন তখন ঢাকায় চলে আসতেন বংবন্ধুর সাথে দেখা করতে। এতে বংগবন্ধু বিরক্ত হতেন এবং বলতেন, কিরে তাজউদ্দিন তোরা হিন্দুস্তানের সাথে কি চুক্তি করেছিস? ধর কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ঢায় চলে আসে। এই জ্বালা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যে বংগবন্ধু মাওলানা ভাসানীকে অনুরোধ করেছিলেন কিছু একটা করার জন্যে। ওই সময়ে মাওলানা সাহেবের হককথা বাংলাদেশকে রক্ষা করেছে ভারতীয় আগ্রাসন থেকে। বংগবন্ধুর ব্যক্তিত্বের কাছে ভারত সরকার বা ইন্দিরা গান্ধী বেহায়ার মতো তেমন কিছু করতে সাহস করেননি।
যে ভৌগলিক এলাকায় আমার পূর্ব পুরুষ জন্ম গ্রহন করেছেন সেই এলাকার নাম এখন বাংলাদেশ। এর আগে এই ভৌগলিক এলাকার নানা নাম ছিল। শাসক ছিলেন নানা রাজা মহারাজা ও নবাব বাদশাহ। মাটির বয়স বিবেচনা করলে এই অঞ্চলের বয়স দশ হাজার বছরের কম নয়। যেখানে লাল মাটি আছে তার বয়স আরও বেশী। ওয়ারিশয়ানা সূত্রে আমি এদেশের মানুষ। রাজা বাদশাহর আমলে ছিলাম অধিকার হীন প্রজা। অধিকার নিয়ে আমরা তেমন সজাগও ছিলাম না। মানুষ হিসাবে আমাদের অবস্থান ও মর্যাদা সম্পর্কে আমরা শুরুতে জানতে পারি বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ, ঋষি , পয়গম্বর ও রাসুলদের কাছে থেকে।পীর আউলিয়া ও ধর্ম প্রচারকরা দেশে দেশে গিয়ে মানুষকে তার জন্মগত মৌলিক মানবাধিকার সম্পর্কে সজাগ উদ্বুদ্ধ করেছেন। কোন শাসক তার নিজের প্রজাদের কখনই অধিকার সচেতন করেননি। আধুনিক সমাজ ও রাস্ট্রে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সজাগ ও উদ্বুদ্ধ করেন মানব দরদী ও প্রেমী এক শ্রেণীর দেশ মানুষ। স্বাধীন চিন্তাধারার কবি সাহিত্যিক ও সাংবাদিকরাও জনসাধারনকে নিজেদের মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সজাগ করে থাকেন। এ ভাবেই সমাজে জাগরন এসেছে। রাজা মহারাজা, বাদশাহ ও সম্রাটদের যুগ পেরিয়ে মানুষ গণতন্ত্রের যুগে এসেছে। মানুষ নিজের মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সজাগ হয়েছে। গণতান্ত্রিক সমাজ রাস্ট্রের ধারনা মানুষের ভিতর এসেছে। আধুনিক রাস্ট্র প্রতিস্ঠিত হয়েছে।এই উপমহাদেশে গণতান্ত্রিক সমাজের ধারণা শুরু হয়েছে ইংরেজ আমলে। এদেশ বাসী ইংরেজদের বিদায় করে নিজেদের রাস্ট্র ও শাসন ব্যবস্থা প্রতিস্ঠার জন্যে সমাজের জাগ্রত শ্রেণী কথা বলতে শুরু করেন। সারা পৃথিবীতে আধুনিক রাস্ট্র ব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের সূচনা শুরু হয়। চীনে রাজ ব্যবস্থা থেকে সরাসরি বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। সমাজতান্ত্রিক নতুন গণচীন প্রতিস্ঠিত হয়েছে। উপ মহাদেশে ইংরেজ শাসনের কারণে আমরা পশ্চিমা ধ্যান ধারণা, গণতন্ত্র ও সরকার ব্যবস্থার উত্তরাধিকার পেয়েছি। আমরা এখনও মনে করি পশ্চিমা গণতন্ত্রই উচ্চতর। তা এখনও জারী আছে। আমাদের বাংলাদেশে সেই গণতন্ত্রই কার্যকর রয়েছে।
আধুনিক রাস্ট্রের জন্ম হয়েছে মানুষের কল্যাণের জন্যে। জাতিসংঘের ভুমিকা ও দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা। কিন্তু রাস্ট্রগুলো নিজ নিজ নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। জাতিসংঘও ক্ষমতাবান রাস্ট্রগুলোর সীমাহীন প্রভাবের কারণে সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেনা। জাতিসংঘ এখন অপ্রয়োজনীয় কথামালার ক্লাবে পরিণত হয়েছে। ক্ষমতাবান রাস্ট্র গুলোর কারণে জাতিসংঘ স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারছেনা। সোভিয়েত রাশিয়ার পতনের কারণে বিশ্ব এককেন্দ্রিক বা এক মাত্রিক হয়ে পড়েছে। ফলে আমেরিকা এখন সারা পৃথিবীকে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে এবং বিশ্ব অশান্ত হয়ে উঠেছে। টুইন টাওয়ার পতনের পর আমেরিকার মথা একেবারেই খারাপ হয়ে গেছে। যখন যেখানে ইচ্ছা ঢুকে পড়ছে, হামলা চালাচ্ছে। পাকিস্তান তার জ্বলন্ত উদাহরণ। এই পাকিস্তান ৬০ বছর ধরে আমেরিকার তাবেদারী করে আসছে। আমেরিকার কারণে আজ পাকিস্তানের অস্তিত্ব বিপন্ন। রাজনৈতিক ভাবে পাকিস্তানের অবস্থা এখন টালমাটাল। পাকিস্তানের বন্ধুত্বকে ত্যাগ করে আমেরিকা এখন ভারতের সাথে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছে। ভারত ও এই হাতকে টেনে বুকে নিয়েছে। ঊভয়ের লক্ষ্য চীনকে মোকাবিলা করা।
বাংলাদেশ নামক রাস্ট্রটি জন্ম নিয়েছে রাগ বিরাগ অভিমান ও শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ ও বহু ধ্বংসের মাধ্যমে। পূর্ব পাকিস্তানের বাংগালীরা কখনই যুদ্ধ চায়নি। তবুও তাকে অস্ত্র হাতে তুলে নিতে হয়েছে পাকিস্তানীদের কারণে। ২৫শে মার্চ রাতে পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র জনগণের উপর আক্রমণ করে পাকিস্তানীরা ভুল করেছে। ৪৭ সালে পূর্ববংগ পাকিস্তানের সাথে ছিল শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে। নিখিল বংগদেশকে স্বাধীন দেশ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করতে দিতে চায়নি কংগ্রেস নেতারা। ফলে বাংলা দুই ভাগ হয়ে গেল। পশ্চিম বাংলার হিন্দুরাও শুধুমাত্র ধর্মীয় কারণে দিল্লীর অধীনে চলে গেল। মুসলমান বাংগালীদের সাথে পাকিস্তানের অবাংগালী মুসলমানদের শুরু থেকেই নানা কারণে বনিবনা হয়নি। হিন্দী ভারতবাসীর ভাষা না হওয়া সত্বেও তারা এই ভাষাকে লিংগুয়াফ্রাংকা হিসাবে মেনে নেয়। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের বাংগালীরা উর্দূকে সার্বজনীন ভাষা বা লিংগুয়াফ্রাংকা হিসাবে মেনে নিয়েছে। সারা ভারতে বহু জাতি আছে। ভাষা ভিত্তিক বাংগালীরা সেখানে পাঁচ পারসেন্টের বেশী নয়। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানে বাংগালী মুসলমানরা ছিল ৫৬ ভাগ। কিন্তু দেশটা চালাতো অবাংগালী মুসলমানরা। ফলে সর্বদিক থেকে বৈষম্য বেড়ে চলে উভয় অঞ্চলের মাঝে। আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের সুযোগ থাকা সত্বেও পাকিস্তানীরা শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নেয়। ভারতের মতো বৈরী প্রতিনেশী ভারতের কথা চিন্তা না করেই পাকিস্তানের সামরিক জান্তা নিজ দেশের এক অঞ্চলের নিরস্ত্র জনগনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করে। ফলে যা হবার তাই হলো। ভারত বাংগালী মুসলমানদের বন্ধু হিসাবে আবির্ভুত হলো। পাকিস্তান ভেংগে গেলো। বাংলাদেশ স্বাধীন হলো। শুরু হলো বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে বন্ধুত্বের টানাটানি। ভারত চায় বাংলাদেশের সাথে গভীর বন্ধুত্ব। বাংলাদেশ আস্তে আস্তে ভারতের বাজারে পরিণত হলো। কিন্তু ভারত শুধু বাজারে সন্তুস্ট নয়। চায় বন্ধুত্বে একাকার হয়ে যেতে। ভারতের কথা একেবারেই সোজা সাফটা।‘তোমরা চেয়েছিলে বাংগালী হতে। আমরা তোমাদের স্বাধীন করে দিয়েছি যোলয়ানা বাংগালী হতে। বাংগালীপনা বা বাংগালয়ানায় কোন ধরনের ভেজাল বা খাদ থাকতে পারবেনা। তোমাদের স্বাধীন করে দিয়েছি মুসলমান বা বাংগালী মুসলমান হওয়ার জন্যে নয়। শুরু হলো বন্ধুত্বের মাঝে টানাপোড়েন। ভারতের শাসক গোষ্ঠি চায় আমাদের ভাষা সংস্কৃতি ইতিহাস ঐতিহ্যকে পরিবর্তন করে দিতে। আজ থেকে ৫০ বা ১০০ বছর পরে যেন বাংলাদেশের মানুষ বলে আমাদের সীমান্ত বা সীমানার কোন প্রয়োজন নেই। সিকিমের প্রধানমন্ত্রী লেন্দুপ দর্জি নিজের দেশের পার্লামেন্টে আইন পাশ করিয়েছিলেন ভারতের সাথে সংযুক্তির জন্যে। তাই সিকিম আজ ভারতের একটি রাজ্য। তবে সেখানে একটি সুবিধা ছিল সিকিমের নাগরিকরা ছিলেন সবাই হিন্দু। সংস্কৃতি ও ধর্ম, ইতিহাস ঐতিহ্যগত ভাবে সিকিমবাসী ভারতীয় হিন্দু সংস্কৃতিরই ধারক বাহক। তাদের কাছে স্বাধীনতার চেয়ে ধর্মীয় চেতনা বেশী কাজ করেছে। সা্বাধীনতার তেমন দাম তাদের কাছে ছিলনা।তাই লেন্দুপ দর্জি গণতান্ত্রিক ভাবেই ভোটাভোটি করেই স্বাধীনতা ত্যাগ করেছিলেন।
কিছুদিন ধরে ভারত প্রায় প্রতিদিনই সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যা করছে। ফেলানীর ঘটনা বাংলাদেশের সকল মানুষের মনকে নাড়া দিয়েছে। এইতো ক’দিন আগে বাংলাদেশী এক নাগরিককে ভারতের বিএসএফ পেটাতে পেটাতে উলংগ করে ফেলে। সারা পৃথিবীর মানুষ ওই অত্যাচারের দৃশ্য টিভিতে দেখেছে। ভারতের মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিএসএফ এর এই কর্মকান্ডের নিন্দা করেছে। বাংলাদেশের বিরোধী দলগুলো ভারতের আগ্রাসী নীতির নিন্দা জানিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের মুখপাত্র সৈয়দ আশরাফ বলেছেন, সীমান্তের ঘটনা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। এ রকম অতীতে হয়েছে, এখনও হচ্ছে, আগামীতেও হবে। ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জী বলেছেন, মিডিয়া ঘটনাটিকে ফুলিয়ে ফাঁফিয়ে দেখিয়েছে। বিএসএফের মুখপাত্র বলেছেন, সবক দেওয়ার জন্যেই ওই বাংলাদেশীর উপর একটু বল প্রয়োগ করা হয়েছে। বাংলাদেশী হাবিলদারকে ধরে নিয়ে অত্যাচার করার ব্যাপারে এখন ক্ষমা চাওয়া হয়নি। ভারতীয় দূতাবাস বলেছেন, সীমান্তে যাদের উপর এ্যাকশান নেয়া হয় তারা সবাই ক্রিমিনাল। দিল্লী বলেছে, ঘটনাটা বড় নয়, কিন্তু কারা ছবি তুলে প্রচার করেছে। নিশ্চয়ই এর পেছনে পাকিস্তানের আইএসআই ও বাংলাদেশের ধর্মীয় দলগুলোর হাত রয়েছে।
ইতোমধ্যে রাজনীতির মাঠে নতুন এক মাত্রা যোগ হয়েছে। সেই মাত্রা হলো কথিত সেনা অভ্যুত্থানের খবর। সেনা বাহিনীর পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে জাতিকে বা দেশবাসীকে বলা হয়েছে অভ্যুত্থান করার ষড়যন্ত্রকে নস্যাত করা হয়েছে। রাজধানীতে শক্তিশালী গুজব বিরাজ করছে যে, অনেক সেনা অফিসারকে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।পত্র পত্রিকাতেও গ্রেফতারের খবর ছাপা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ধর্মান্ধ কিছু অফিসার ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত। কোলকাতার দক্ষিণপন্থী রক্ষণশীল সাম্প্রদায়িক আনন্দ বাজার পত্রিকার জয়ন্ত ঘোষাল বলেছেন, মৌলবাদীরা হাসিনা সরকারকে আঘাত করেছে। ঘোষাল বাবু পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর কথা উল্লেখ করে বলেছেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে পাকিস্তানপন্থী মৌলবাদীরা হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তারা গণতান্ত্রিক স্যেকুলার উন্নয়নমুখী বাংলাদেশের অগ্রগতিকে রুখে দিতে চায়। ঘোষাল বাবুর লেখাটি ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর মনগড়া একটি ব্যাখ্যা। ভারত সরকার বলেছেন, সকল প্রকার ষড়যন্ত্র রুখে দিতে তাঁরা হাসিনার পাশে থাকবেন। এসব হচ্ছে কূটনৈতিক ভব্যতা ও সংস্কৃতি। বন্ধুত্ব দেখাবার জন্যে বলতে হয়। বংবন্ধুর সরকারের পতনের পর খোন্দকার মোশতাক রাস্ট্রপতি বা প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ইন্দিরা গান্ধী তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে বাণী পাঠিয়েছিলেন। শ্রীমতি গান্ধী বলেছিলেন, তাঁরা বাংলাদেশে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সরকার দেখতে চান। বংগবন্ধুর সরকারের সাথে ভারত সরকারের সম্পর্ক খুব উষ্ণ ছিল বলা যাবেনা বংগবন্ধু নিজেই বলেছিলেন তিনি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলীম রাস্ট্রের রাস্ট্র প্রধান। তাই অনেকেই মনে করেন বংগবন্ধুর সরকারের পতনের পেছনে ভারতের হাত ছিল। জেনারেল এরশাদ নির্বাচিত রাস্ট্রপতি বিচারপতি সাত্তারকে অপসারণ করে ক্ষমতা দখল করলে ভারত তাঁকে অভিনন্দিত করেছিলো। জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা দখলের পর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তিনি দিল্লীর সাথে আলাপ করেই ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন। কোলকাতার আনন্দ বাজার গ্রুপের ম্যাগাজিন দেশ এর মন্তব্য ছিল বন্দুকের নলে প্রজাপতি। ঢাকার বাংলার বাণী বলেছিল, একটি গুলিও ফুটেনি। জিয়া ও খালেদা জিয়ার সরকার গুলোর সাথেও ভারতের সম্পর্ক খারাপ ছিল বলা যাবেনা। তবে কখনই উষ্ণ ছিলনা। হাসিনার সরকারকে ভারত সব সময় হৃদয় দিয়ে ভালবেসেছে।বিপদের সময় দিল্লী হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে বহু বছর দেখাশুনা করেছে। দিল্লীর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের মানুষ অবাক হয়নি। হাসিনার সাথে দিল্লীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক মধুর এটা সবাই জানেন। দিল্লীর একজন মন্ত্রীতো বলেই ফেলেছেন, ভারতের সাথে বাংলাদেশের এত মধুর সম্পর্ক এর আগে কখনই ছিলনা। একজনতো আবেগের তাড়নায় বলেই ফেলেছেন, বিগত একশ’ বছরেও ভারতের সাথে বাংলাদেশ এত ভাল সম্পর্ক ছিলনা। সত্যি কথা বলতে কি, ভারত বাংলাদেশে যুগের পর যুগ আওয়ামী লীগকে( বংগবন্ধুর বংশধরদের ) ক্ষমতায় দেখতে চায়। যেমন নেহেরুর পরিবার থেকে ভারত মুক্তি পাচ্ছেনা। লোকে বলে নেহেরু পরিবার ও কংগ্রেসের সাথে শেখ হাসিনার প্রায় আত্মীয়তার সম্পর্ক। তাই ভারতের স্বার্থ আর হাসিনার স্বার্থ প্রায় একই।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিডিআর এ সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা আর কথিত ক্যু একই সূত্রে গ্রথিত। একই উদ্দেশ্যে ঘটানো হয়েছে। বিডআরএ ৫০ এর বেশী সেনা অফিসারকে হত্যা আর এবারে ক্যুর অভিযোগ এনে বেশ কিছু অফিসারকে ধ্বংস করার নীল নকশা একই লক্ষ্যে পরিচালিত। উদ্দেশ্য, বাংলাদেশের সেনা বাহিনীকে মানসিক ভাবে পরাভূত করে রাখা। ৭১ সালে ভারত মুজিব নগর সরকারকে অনুরোধ করেছিল সেনাবাহিনী গঠণ না করার জন্যে। সম্প্রতি আমরা লক্ষ্য করছি, ভারতের হেরিটেজ ফাউন্ডেশন গবেষণা করছে কিভাবে ইতিহাসের ভুল গুলোকে শোধরানো বা মেরামত করা যায়। তাই সেখানকার গবেষকরা বলছেন, ৪৭ সালে ভারত বিভাগ ভুল ছিল। ভাগের জন্যে তাঁরা দায়ী করেছেন গান্ধী, নেহেরু ও প্যাটেলকে। তাঁরা বলছেন, জিন্নাহ ভারত ভাগ চাননি। এই ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য অখন্ড বা নিখিল ভারত প্রতিস্ঠা করা। হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের পক্ষে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে বেশ কিছু বুদ্ধিজীবী কাজ করছেন বলে জানা গেছে। ফাউন্ডেশনকে অর্থ যোগান দিচ্ছে আমেরিকা ও বৃটেনের বেশ কিছু থিন্কট্যান্ক।
শেখ হাসিনার এবারে ক্ষমতায় আসার পটভূমি বিশ্লেশন করলে দেখা যাবে তথকথিত নির্বাচন দেয়ার আগে সেনা বাহিনীর প্রধানকে দিয়ে ১/১১র সরকার প্রতিস্ঠা করা হয়। ষে সরকার দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে। গ্রাম গঞ্জের হাট বাজারকে তচনচ করে দিয়েছে। বহু রাজনীতিক ও শিল্পপতিকে দেশছাড়া করেছে। সেনা প্রধান মইন উ আহমদ নিজেকে ফোর স্টার জেনারেল পদে নিয়োগ দিলেন এবং নিজেকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় আসীন করে ভারত সফরে গিয়ে ছয়টি ঘোড়া এনেছিলেন। ১/১১র সরকারটি প্রতিস্ঠা করেছিল ইইউ, ভারত ও বৃটেন।সেই সরকারের আদর্শ উদ্দেশ্য নিয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। তখন থেকেই আোয়ামী লীগ ভারত সরকারের এজেন্ড বাস্তবায়ন করে চলেছে। ভারত বহুবার বলেছে তারা বাংলাদেশে ধর্মমুক্ত স্যেকুলার সরকার চায়। দেশকে সন্ত্রাসমুক্ত করার আমেরিকা ও ভারতের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। ভারত ও আমেরিকা মনে করে সন্ত্রাস হচ্ছে ইসলাম। ২০০৮ সালেই ফরহাদ মজহার লিখেছিলেন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে ইসলাম মুক্ত করার জন্যে বিদেশীরা কর্মসূচী নিয়েছে। বেশ কিছুদিন আগে বৃটেন এদেশের মাদ্রাসা গুলোর উপর এক জরীপ চালিয়ে তাদের নিজেদের মন মতো প্রতিবেদন তৈরী করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় কিছুদিন আগে নিবন্ধ লিখে বলেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে মাদ্রাসার ছাত্র রিক্রুট করা হচ্ছে।
সেনাবাহিনী ক’দিন আগে সংবাদ সম্মেলন করেছে বলেছে, কিছু ধর্মান্ধ সেনা অফিসার ব্যর্থ অভ্যুত্থানের চেস্টা করেছে। তাদের সেই চেস্টাকে ব্যর্থ করে দেয়াস হয়েছে। এই ব্যর্থ চেস্টার সাথে ১৫/১৬ জন অফিসার জড়িত। সেনা বাহিনী যা বলেছে তা হয়ত সত্য, কিন্তু দেশবাসী তা বিশ্বাস করেনি চলমান সময় ও রাজনীতির কারণে। তবে দেশবাসী বুঝতে পারছে, বাংলাদেশকে ইসলাম মুক্ত করার জন্যে আওয়ামী লীগ, ভারত, আমেরিকা ও পশ্চিমা দেশগুলো একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। আমেরিকার লস এন্জেলেস টাইমস দিল্লীর বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে, সেনা বাহিনী থেকে কিছু ধর্মপ্রাণ অফিসারকে বাদ দেয়ার জন্যেই এই সেনা অভ্যুত্থানের খবর প্রচার করা হয়েছে। এসব কর্মকান্ডের লক্ষ্য হচ্ছে আগামী নির্বাচন। ভারত শেখ হাসিনাকে আবারও ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে চায়। তাই সরকার বিরোধী সকল দলকে কথিত অভ্যুত্থানের সাথে জড়াবার চেস্টা করা হচ্ছে।
লেখক: কবি ও সাংবাদিক