• Home
  • Who Am I ?

Writing From The Street ( রাস্তা থেকে বলছি )

Just another WordPress.com weblog

Feeds:
Posts
Comments
« কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ও আজকের বাংলাদেশ
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের কি হবে ? »

ফাইভ স্টার হাসপাতালে নিহত মানুষদের খবর

January 7, 2012 by writerershad

রাজধানীর ফাইভস্টার হাসপাতাল ও দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পর্কে নয় দিগন্তে আমার  একটি লেখা ছাপা হয়েছে ২রা নবেম্বর,২০১১ তারিখে। পরে সেই লেখাটি  আবার ছাপা হয়েছে দৈনিক দিনকালে। লেখাটি ছাপা হওয়ার পর থেকে আমি অনেক গুলো মেইল ও ফোন পেয়েছি। বিশেষ করে রাজধানীর ফাইভ স্টার হাসপাতাল গুলোর অব্যবস্থাপনা, কর্মচারীদের দুর্ব্যবহার ও ভুল চিকিত্‍সার অনেক অভিযোগ এসেছে আমার কাছে। বিশেষ করে যাদের প্রিয়জন এসব হাসপাতালের অবহেলার কারণে মারা গেছেন তাঁরা অনেকেই আমার সাথে যোগাযোগ করেছেন। লেখক হিসাবে আমার কলমের তেমন ক্ষমতা নেই আমি তাদের বেদনার ক্ষতে কিছুটা উপশম করতে পারি। এছাড়া হাসপাতালের মালিকরা হলেন অনেক টাকার মালিক। এর আগের লেখায় বলেছি, ফকিরাপুলে নোংরা পরিবশে প্যাথলজির দোকান খুলে এখন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মালিক। কেউ যদি ধনী হওয়ার সহজ উপায় বই লিখতে চান তাদের জন্যে বাংলাদেশ খুবই উপযুক্ত জায়গা। আমিতো দেখছি ব্যান্কের ক্লার্ক ব্যান্কের চেয়ার ম্যান। ৮৩ সালের ব্যান্ক প্রতিস্ঠা করার জন্যে যাঁরা  দশ লাখ টাকা জোগাড় করতে পারেননি তাঁরা এখন এক হাজার কোটি টাকার মালিক। বাংলাদেশে এখন মহা বড় গ্রুপ হিসাবে পরিচিত ও মুল্যায়িত এক কর্পোরেট হাউজের মালিককে আমি নিয়ে গিয়েছিলাম আমার প্রিয় ব্যান্কার মুজিবুল হায়দার চৌধুরীর কাছে ১৯৮৫/৮৬ সালের দিকে মাত্র তিন কোটি টাকার জন্যে। সেই ভদ্রলোক এখন কয়েক হাজার কোটি টাকার মালিক।। চৌধুরী সাহেব হলেন এদেশের প্রথম বেসরকারী ব্যান্ক ন্যাশনাল ব্যান্কের প্রতিস্ঠাতা। এর পরে তিনি প্রতিস্ঠা করেন এনসিসি ব্যান্ক। তিনি ওই ভদ্রলোককে টাকা দিতে রাজী হয়েছিলেন। চৌধুরী সাহেব হলেন এদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ উন্নয়ন ব্যান্কার। হাজার হাজার যুবককে চাকুরী দিয়েছেন। হাজার হাজার যুবককে ব্যবসা বাণিজ্যে প্রতিস্ঠিত করেছেন। এসবতো হলো প্রাসংগিক কথা।

এইতো ক’দিন আগে পরলোকে চলে গেছেন আমাদের দেশের একজন বিখ্যাত শিল্পপতি স্যামসন এইচ চৌধুরী। তিনি বিখ্যাত স্কয়ার গ্রুপের প্রতিস্ঠাতা। তাঁর তিরোধানে শোক প্রকাশ করেছেন, রাস্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতা। এতেই বুঝা যায় তিনি কত বড় মাপের শিল্পপতি ছিলেন। তিনিও শুরু করেছিলেন ছোট্ট একটি অষুধের দোকান দিয়ে। তিনি হাটি হাটি পা পা করে সামনের দিকে এগিয়ে গেছেন। তিনি ম্যারাথন দৌড়ের প্রতিযোগী ছিলেন। তাই বর্তমান পর্যায়ে আসতে তাঁর লেগেছে ৫০ বছরেরও অধিক সময়। কিন্তু যাঁরা হান্ড্রেড মিটারে বিশ্বাস করেন তাঁরাতো অত লম্বা সময় অপেক্ষা করতে পারেন না। বাংলাদেশের ধনীদের বেশীর ভাগই সরকারী কর শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ধনী হয়েছেন। শুরুর দিকে গার্মেন্টসের মালিকরা ডিউটি ফ্রি কাপড় খোলা বাজারে বিক্রী করে টাকা কামিয়েছেন। ম্যান পাওয়ারের ব্যবসায়ীরা মানুষকে ঠকিয়ে বিত্তবান হয়েছেন। আবাসন শিল্প নিয়ে লিখতে গেলে মহাভারত হয়ে যাবে। রিহ্যাবের ১৫০০ সদস্যের ভিতর মাত্র ১৫/২০ জন নীতিবান লোক রয়েছেন। বিশেষ করে যাঁরা জমির ব্যবসা করেন তাঁরা কেউই আইনের ভিতর থেকে ন্যায় ব্যবসা করেন না। তার উপর রয়েছে অল্প সময়ে অধিক পরিমানে অর্থ আয় করা। কিস্তির টাকা সব শোধ করার পরও বহু মানুষ জমি বুঝে পাননি। সেদিক থেকে বিচার করলে স্যামসন চৌধুরী তূলনামূলক ভাবে  একজন পরিচ্ছন্ন ব্যবসায়ী ছিলেন। অনেকেই বলেন তিনি খৃস্ট ধর্ম গ্রহন করে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন। বিষয়টা কতটুকু সত্য আমি জানিনা। চৌধুরী সাহেব উন্নততর চিকিত্‍সার জন্যে সিংগাপুর গিয়েছিলেন। এর মানে শেষ জীবনে নিজের হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও চিকিত্‍সকদের উপর তাঁর আস্থা ছিলনা এবং সেখানেই তিনি শেষ নি:শেষ ত্যাগ করেন। তাহলে আমরা ধরে নিতে পারি যে, স্কয়ার হাসপাতাল স্যামসন চৌধুরীর মতো মানুষের রোগ বা মর্যাদা অনুযায়ী তেমন উচ্চমানের নয়।

এতদিন আমাদের বিশ্বাস ও আস্থা ছিল যে, স্কয়ার হাসপাতাল আন্তর্জাতিক মানের চিকিত্‍সা দিয়ে থাকে। এখানকার ডাক্তারগণও বিশ্বমানের। কিন্তু চৌধুরী সাহেব এবং তাঁর পরিবার পরিজন নিজেরাই প্রমান করেছেন যে, তাঁদের হাসপাতাল  ধনীদের জন্যে নয়। তাহলে কারা এই হাসপাতালের চিকিত্‍সা গ্রহণ করবেন। আমিতো নিয়মিত এই হাসপাতালে আসা যাওয়া করি। জরুরী কারণে  হাসপাতালে ভর্তিও হই। রুগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। নিজের প্রিয়জনের জীবন বাঁচাতে অনেক গরীব মানুষও জমি জমা বিক্রি করে এই হাসপাতালে চিকিত্‍সার জন্যে আসেন। আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নানা অজুহাত দেখিয়ে গরীব রুগীদের কেবিনে ভর্তি হতে বাধ্য করেন। যাতে করে প্রতিদিন রুগীর আত্মীয় স্বজনের কাঁধে ১৭/১৮ হাজার টাকার বিলের বোঝা আসে। স্কয়ারের রুগীরা স্কয়ারের অষুধ কিনতে বাধ্য। শুনেছি এ ব্যাপারে ডাক্তারদের কাছে কোন অপশান নেই। এমন কি ডাক্তার সাহেবেরা প্রেসক্রিপশনটা রুগীদের হাতে না দিয়ে সরাসরি নিজেদের ফার্মেসীতে পাঠিয়ে দেন কম্পিউটারের মাধ্যমে।

রাজধানীর ফাইভ স্টার হাসপাতাল গুলোর উপর সরকারের নজরদারী কেমন আছে জানিনা। এসব হাসপাতালের মান সম্পর্কেও দেশবাসী অবহিত নয়। এখানেতো সবকিছুই টাকার বিনিময়ে হচ্ছে। তাহলে কোয়ালিটি কন্ট্রোল হচ্ছে কিনা রুগীরা জানবে কেমন করে। এই হাসপাতাল গুলো আয়কর দিচ্ছে কিনা তাও দেশবাসী জানেনা। না, মানবতার সেবার কথা বলে আয়কর রেয়াত নিচ্ছে? শুনেছি , স্কয়ার ইতোমধ্যেই নিজেদের মূলধন তুলে নিয়েছে। এর মানে হচ্ছে মুনাফা শতকরা একশ’ ভাগের চেয়েও বেশী। আমাদের দেশে এমন ডাক্তারও আছেন, যাঁদের মাসিক আয় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা। এঁরা কি পরিমাণ আয়কর দেন তাও দেশবাসী জানেনা। আমার জানতে ইচ্ছা করে বিদেশী  হাসপাতাল গুলো বাংলাদেশে অফিস খুলে বসে আছে কেন? নিশ্চয়ই তারা এখানে ভাল রুগী পায়। বেশ ক’বছর আগে আমি কয়েকদিন কোলকাতার বিড়লা হাসপাতালে ছিলাম। তখন ঢাকায় এনজিওগ্রাম হতোনা। হাসপাতালে থাকার সময় সবচেয়ে ভাল দেখেছি নার্সদের ব্যবহার। তারা ছিল সদা হাস্য। না ডাকতেই এসে হাজির। না চাইতেই চা নাশতা। এসবতো তারা বিনে পয়সায় করেনা। পয়সা গেলেও রুগীরা খুব খুশী। কিন্তু আমাদের ফাইভ হাসপাতাল গুলো টাকা নিচ্ছে ভারত বা ব্যান্ককের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। আমাদের হাসপাতাল গুলোর সেবার মান খুব উঁচু দরের নয়। যদি হতো তাহলে স্যামসন চৌধুরী সাহেব নিজ হাসপাতালেই চিকিত্‍সা নিতেন। ধনীদের ব্যাপার স্যাপার না হয় একটু আলাদা। কিন্তু মধ্যবিত্তরা কি করবে। তারাতো বিদেশ যেতে চায়না বা যেতে পারেনা। আশাতো ছিল ফাইভ স্টার হাসপাতাল গুলো মধ্যও উচ্চ বিত্তদের সেবা দিবে। এর আগে আমি লিখেছিলাম, স্কয়ারের কর্মচারীদের কিছু বললেই তাঁরা বলেন অভিযোগ বইতে লিখুন। এর মানে অভিযোগে কিছু হয়না। আমি স্কয়ারের ওয়েব সাইটে যেয়ে মেইল করে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোন প্রতিক্রিয়া বা উত্তর পাইনি। স্কয়ারের জনসংযোগ বিভাগও খুবই দূর্বল। মিডিয়ার সাথে এর কোন সম্পর্কই নেই।

বিভিন্ন ফাইভ স্টার হাসপাতাল সম্পর্কে আমার কাছে অনেক গুলো মেইল এসেছে। তন্মধ্যে যাদের প্রিয়জন নিহত বা মারা গেছেন তাঁরা অনেকেই খুবই বেদনা ভারাক্রান্ত মন ও হৃদয় নিয়ে আমার সাথে দেখা করেছেন। অনেকেই প্রচুর কাগজপত্র নিয়ে এসেছেন। তাঁরা বলেছেন প্রতিকারের আশা করিনা। শুধু অভিযোগ গুলো, দু:খ ও বেদনা গুলো আপনাকে শুনিয়ে মনকে কিছুটা হালকা করতে চাই। আপনারাই বলুন, এমন বেদনার কথা না শুনে বা না লিখে কি পারা যায়? আজ মরহুম সেরাজুল ইসলাম সাহেবের ঘটনাটা পাঠক সমাজের কাছে তুলে ধরতে চাই। ইসলাম সাহেব একজন বড় সরকারী কর্মচারী ছিলেন। ২০১১ সালে পবিত্র হজ্বে গিয়েছিলেন। পায়ের অসুখ নিয়ে দেশে ফিরেছেন ২৩শে ডিসেম্বর। বারডেম হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ২৪শে ডিসেম্বর।বলা হলো সেরাজুল ইসলাম সাহেব সেলুলাইটিস ইনফেকশানে আক্রান্ত। অপারেশন করতে হবে।২৫শে ডিসেম্বরেই জরুরী ভিত্তিতে তাঁর পায়ে অপারেশন করা হয় বারডেমে। ড্রেসিংয়ের অসুবিধার কারণে তাঁকে স্কয়ার হাসপাতালে  স্থানান্তর করার উদ্যোগ নেয়া হয়। মরহুমের কন্যা শারমিন জানিয়েছেন, ৫ই ডিসেম্বর তাঁরা স্কয়ারের এ্যাডমিশন যোগাযোগ শাখায় করেন। কিন্তু হাসপাতালের সংশ্লিস্ট কর্মকর্তারা বেড বা কেবিন নেই বলে জানান। পরের দিন মানে ৬ই ডিসেম্বর তাঁরা আবার স্কয়ারে যান। তখন তাঁদের বলা হলো, দৈনিক ১৭ হাজার টাকা ভাড়ায় সুইট পাওয়া যাবে। কোন উপায় না দেখে বাধ্য হয়ে শারমিন ও তাঁর আত্মীয়রা সেরাজ সাহেবকে সুইটে ভর্তি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কথা ছিল কেবিন খালি হলে তাঁকে সেখানে শিফট করা হবে। সুইট ভাড়া ১৭ হাজার টাকার কথা চিন্তা করে শারমিন তাঁর চাচার পরিচিত একজনের সহযোগিতা কামনা করেন। সে ভদ্রলোক কেবিনের ব্যবস্থা করে দেন। কিন্তু এতে এ্যাডমিশন শাখার মৌসুমী নামের এক  স্টাফ শারমিনদের সাথে খারাপ ব্যবহার করতে শুরু করে। যাক, শেষ পর্যন্ত কেবিন পাওয়া যায় এবং সেরাজ সাহেব  ডা: রুহুল আমিন জোয়ারদারের তত্বাবধানে ভর্তি হন। সেরাজ সাহেব ১০/১২ দিন স্কয়ার হাসপাতালে ছিলেন। মরহুমের কন্যার অভিযোগ এ সময়ে তাঁর বাবার ডা: জোয়ারদার কখনই ভাল ব্যবহার করেননি। বরং আচরনটা কিছুটা রূঢ ছিল। জানিনা, শারমিন বাবার মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে আবেগে এই অভিযোগগুলো করেছেন।

১৭ই ডিসেম্বর ডা:  জোয়ারদার  জানালেন রুগীর প্লাস্টিক সার্জারী করতে হবে এবং শমরিতা হাসপাতালের ডা: কালামের কাছে রেফার করেন। শারমিন জানালেন সেদিন তাঁর বাবা সুস্থই ছিলেন এবং সবার সাথে স্বাভাবিক কথা বার্তা বলছিলেন। ঐদিন বিকেল চারটার দিকে ডা; ইমতিয়াজ নামের একজন  ডাক্তার দুদিজন নার্স নিয়ে সেরাজ সাহেবকে ড্রেসিং করতে যান। রুগীর আত্মীয় স্বজনকে রুমের বাইরে অবস্থান করতে বলেন। শারমিনরা বাইরে অবস্থান করছিলেন। মিনিট দশেক পর একজন নার্স একটি নরমাল স্যালাইন আনতে অনুরোধ জানান।স্যালাইন আনার জন্যে সেরাজ সাহেবের একজন আত্মীয় ১২ তলা থেকে এক তলায় যান। ফিরে আসতে সময় লেঘেছে মাত্র ৮ মিনিট। নার্সকে স্যালাইন দেয়ার জন্যে কেবিনে গিয়ে দেখেন রুগীর মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছে এবং তিনি শ্বাস নিতে পারছেন না। শারমিন তখন চিত্‍কার করে অক্সিজেন দিতে ডাক্তারকে অনুরোধ জানান। রুগীর বিচানার কাছেই অক্সিজেন ট্যাপ থাকলেও তা বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। পরে দেখা গেলো তা অকেজো ছিল। পাঁচ মিনিট পর অক্সিজেন সিলিন্ডার এনে লাগানো হয়। কিন্তু রুগী অক্সিজেন নিতে পারছিলেন না। এ সময়ে শারমিনকে কেবিনে থাকতে দেয়া হয়নি। আরও ৭ মিনিট পরে সিপিআর টীম এসে রুগীকে ইলেক্ট্রিক শক দেয়ার চেস্টা করা হয়। ১০ মিনিট ডা: ইমতিয়াজ কেবিন থেকে বের হয়ে জানালেন রুগীর হার্টবিট পাওয়া যাচ্ছেনা। এর পরে জানানো হলো রুগীর হার্র্টবিট পাওয়া গেলেও তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন। ডা: ইমতিয়াজ রুগীর আত্মীয় স্বজনকে জানালেন, তাঁরা অনুমতি দিলে রুগীকে আইসিইউতে নেয়া যেতে পারে। আইসিইউতে নেয়ার পাঁচ মিনিট পর ডা: ইমতিয়াজ জানালেন রুগীর ব্রেনে রক্ত চলাচল বন্ধ থাকার কারণে তাঁর ব্রেন ডেমেজ হয়ে গেছে।

হাসপাতালের একজন নার্স শারমিনকে জানিয়েছিল যে, সেরাজ সাহেব ড্রেসিংয়ের সময়  বার বার তাঁর কস্ট ও খারাপ লাগার কথা বলেছিলেন। কিন্তু ডাক্তার বা নার্স কেউ তা ভ্রুক্ষেপ করেননি। সেরাজ সাহেবের কন্যা শারমিন তাঁর বাবার মৃত্যুর জন্যে ডা: ইমতিয়াজ ও তাঁর টীমকে দায়ী করেছেন। এ ব্যাপারে রুগীর আত্মীয় স্বজন হাসপাতালের ডিরেক্টর মেডিসিন ডা: সানোয়ার হোসেনের সাথে দেখা করে তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। ডা: সানোয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তাঁর ওয়াদা পালন করেননি। যদি তদন্ত করা হতোও তাহলেও তেমন কিছু হতোনা। আমরা অতীতে এ রকম তদন্তের ফলাফল বহু দেখেছি। আমাদের দেশে ডাক্তারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে তাঁরা ধর্মঘটের ধমক দেন। মেডিকেল কলেজ গুলোতে এমন ঘটনা অহরহ হচ্ছে। এইতো দেখুন আমাদের দেশের পুলিশী ব্যবস্থা হলো, পুলিশ অভিযোগ আনবে, পুলিশই গ্রেফতার করবে, পুলিশই সাক্ষী দিবে। ফৌজদারী আইন ব্যবস্থা আমাদের দেশে এ রকমই। এখানে দারোগা সাহেব নিজেই বাদী নিজেই সাক্ষী। তিনিই রাস্ট্র পক্ষ। সুতরাং রাস্ট্রের বিরুদ্ধে কে লড়াই করবে। হাজারো চেস্টা করেও আমাদের দেশে পুলিশের ইমেজ বা ভাবমুর্তি প্রতিস্ঠা করা যায়নি। কোনদিন হবে কিনা তার কোন লক্ষণ দেখতে পাচ্ছিনা। ডাক্তারদের ইমেজও দিন দিন খারাপ বা অবনতির দিকে যাচ্ছে। উচ্চ আদালতের  বিচার ব্যবস্থার ভাবমুর্তিও দ্রুত অবনতির দিকে ধেয়ে চলেছে। নিম্ন আদালতের উপর জনগণের আস্থা বহু আগেই নস্ট হয়ে গেছে। রাস্ট্রের কোন প্রতিস্ঠান নাই যার উপর জনগণের আস্থা আছে। ফলে সমস্যা সমাধানের পথ হিসাবে এখন রাস্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিণত হয়েছে। বিরোধীদলএর সংসদ সদস্যরা  সংসদে যায়না , কারণ তাঁদের নাকি কথা বলতে দেয়া হয়না। তাই তাঁরা কথা বলার জন্যে রাস্তাকে বেছে নিয়েছেন। সরকারী দলের জন্যে সংসদ আর বিরোধী দলের জন্যে রাস্তা এখন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। সংসদের এমন হাল হকিকত দেখে সবাই এখন রাস্তাকে গন্তব্য বলে নির্ধারিত করেছে।

তাই আমরা দেখতে পাই রুগী মারা গেলে রুগীর স্বজনরা হাসপাতালে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেন। ছাত্র হলেতো আর কথাই নেই। মা বাবা সন্তানকে শাসন করলে বা বকা দিলে তারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। পরমত সহিষ্ণুতা , যা গনতন্ত্র ও সভ্য সমাজের উপাদান তা এখন বাংলাদেশে নেই বললেই চলে। সমাজের কোন স্তরেই এই সহিষ্ণুতা নেই। এই কারণেই আসিফ নজরুল সাহেবের উপর ছাত্ররা হামলা করে। বিপরীত মত কিছুতেই প্রকাশ করা যাবেনা। সরকারও বিপরীত মত সহ্য করতে চাননা। তাই নানা কৌশলে মুখ চেপে ধরতে চেস্টা করছে। টভি চ্যানেলে কারা কথা বলতে পারবেন আর কারা বলতে পারবেন তা নির্ধারন করে দিচ্ছেন সরকার।

ডাক্তারী পেশা একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ  মানবিক পেশা। মানুষকে চিকিথসা দেয়াই তাঁর ধর্ম। রুগীদের সাথে সু ব্যবহার করাই ডাক্তারের ব্রত হওয়া উচিত। হয়ত তাঁরা তা করছেন। হয়ত রুগীর সংখ্যা দিনদিন বেড়ে চলেছে, সে হিসাবে ডাক্তার বাড়েনি। সব কথার উর্ধে হলো রুগীর চিকিত্‍সা।  ভাল চিকিত্‍সা দিতে না পারলেও হাসিমুখে ভাল ব্যবহার করতে অসুবিধা কোথায়? সরাকারের প্রতিও দেশবাসীর আশা তাঁরা বেসরকারী ফাইভ স্টার হাসপাতাল গুলোর উপর নজরদারী আরও বাড়িয়ে দিবেন। প্রত্যেক হাসপাতালে ৩০ ভাগ গরীব রুগীকে কম মূল্যে বা বিনা পয়সায় চিকিত্‍সা দেয়ার বিধান জারী করা মানবিক কর্তব্য বলে আমরা মনে করি।

লেখক: কবি ও সাংবাদিক

ershadmz40@yahoo.com

Advertisement

Like this:

Like
Be the first to like this post.

Posted in Articles | Leave a Comment

  • Archives

    • February 2012 (3)
    • January 2012 (7)
    • December 2011 (8)
    • November 2011 (1)
    • October 2011 (7)
    • September 2011 (4)
    • August 2011 (2)
    • July 2011 (4)
    • June 2011 (8)
    • May 2011 (9)
    • April 2011 (8)
    • March 2011 (5)
    • February 2011 (4)
    • January 2011 (4)
    • December 2010 (7)
    • November 2010 (2)
    • October 2010 (8)
    • September 2010 (5)
    • June 2010 (1)
    • May 2010 (1)
    • February 2010 (2)
    • June 2009 (5)
    • May 2009 (32)
  • Categories

    • Articles (91)
    • English Articles (1)
    • Political Column (45)
      • Free Thoughts (19)
  • Pages

    • Who Am I ?

Blog at WordPress.com.

Theme: MistyLook by Sadish.


Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Powered by WordPress.com